সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
তপস্যাকাল

গেথসেমানি বাগানে প্রার্থনারত প্রভু যিশু
   
অনুষ্ঠানসমূহ: ভস্ম বুধবার | ১ম রবিবার | ২য় রবিবার | ৩য় রবিবার | ৪র্থ রবিবার | ৫ম রবিবার | তালপত্র রবিবার | পুণ্য বৃহস্পতিবার | পুণ্য শুক্রবার | পুণ্য শনিবার

ভস্ম বুধবার
ভস্ম বিগত বছরের আশীর্বাদ করা জলপাই (বা খেজুর বা তাল) গাছের পাতাগুলো পুড়িয়ে তৈরি।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আশীর্বাদ কর: আমরা যেন এ উপবাসের মধ্য দিয়ে
এমন প্রকৃত মনপরিবর্তনের যাত্রা শুরু করতে পারি,
যেন আত্মসংযম হাতিয়ার ক’রে
অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের এ সংগ্রামে সফল হয়ে উঠি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী যোয়েলের পুস্তক থেকে পাঠ (২:১২-১৮)

প্রভু একথা বলছেন: ‘তোমরা সমস্ত হৃদয় দিয়ে,
এবং উপবাস, কান্না ও বিলাপ—তেমন সাধনা করেই
আমার কাছে ফিরে এসো।’
তোমাদের পোশাক নয়, হৃদয়ই ছিঁড়ে ফেল,
তোমাদের পরমেশ্বর প্রভুর কাছে ফিরে এসো,
তিনি যে দয়াবান, স্নেহশীল, ক্রোধে ধীর, কৃপায় ধনবান;
অমঙ্গল সাধন করে তিনি দুঃখ পান।
কে জানে, হয় তো তিনি এবারও দুঃখ পেয়ে
পিছনে রেখে যাবেন একটা আশীর্বাদ,
অর্থাৎ আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর উদ্দেশে
একটা শস্য-নৈবেদ্য ও পানীয়-নৈবেদ্য।
সিয়োনে তুরি বাজাও, উপবাস পালনে নিজেদের পবিত্র কর,
মহাসভা আহ্বান কর।
গোটা জনগণকে সমবেত কর, জনসমাবেশ আহ্বান কর,
বৃদ্ধদের একত্রে ডাক, বালক ও দুধের শিশু সকলকেই জড় কর,
বর বাসর থেকে, কনেও মিলন-কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসুক।
বারান্দার ও বেদির মাঝখানে দাঁড়িয়ে
প্রভুর পরিচারক যাজকেরা কাঁদতে কাঁদতে বলুক,
‘হে প্রভু, তোমার জনগণকে রেহাই দাও।
তোমার উত্তরাধিকার বিজাতীয়দের টিটকারি ও উপহাসের পাত্র হবে,
তেমন লজ্জায় তাকে ফেলে দিয়ো না।’
জাতিসকলের মধ্যে কেনই বা বলা হবে: ‘কোথায় ওদের পরমেশ্বর?’
তখন প্রভু নিজের দেশের বিষয়ে উত্তপ্ত প্রেমের জ্বালায় জ্বলে উঠে
তাঁর আপন জনগণের প্রতি দয়ায় বিগলিত হলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৫১
ধুয়ো:
দয়া কর, প্রভু;
আমরা করেছি পাপ।

আমাকে দয়া কর গো পরমেশ্বর, তোমার কৃপা অনুসারে,
তোমার অপার স্নেহে মুছে দাও আমার অপরাধ।
আমার অন্যায় থেকে আমাকে নিঃশেষে ধৌত কর,
আমার পাপ থেকে শোধন কর আমায়।   [ধুয়ো]

আমার অপরাধ আমি তো জানি;
আমার সামনেই অনুক্ষণ আমার পাপ;
তোমার বিরুদ্ধে, কেবল তোমারই বিরুদ্ধে করেছি পাপ।
তোমার চোখে যা কুৎসিত, তাই করেছি আমি।   [ধুয়ো]

আমার মধ্যে এক শুদ্ধ হৃদয় সৃষ্টি কর গো পরমেশ্বর,
আমার মধ্যে এক সুস্থির আত্মা নবীন করে তোল।
তোমার শ্রীমুখ থেকে আমাকে সরিয়ে দিয়ো না কো দূরে,
আমা থেকে তোমার পবিত্র আত্মাকে করো না হরণ।   [ধুয়ো]

আমাকে ফিরিয়ে দাও তোমার ত্রাণের পুলক,
আমার মধ্যে এক উদার আত্মা ধরে রাখ।
হে প্রভু, খুলে দাও আমার ওষ্ঠাধর,
আর আমার মুখ প্রচার করবে তোমার প্রশংসাবাদ।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৫:২০–৬:২)

প্রিয়জনেরা, আমরা খ্রিষ্টের পক্ষে বাণীদূত—ঠিক যেন স্বয়ং ঈশ্বরই আমাদের মধ্য দিয়ে আহ্বান জানাচ্ছেন। খ্রিষ্টের খাতিরে আমরা মিনতি করছি: ঈশ্বরের সঙ্গে নিজেদের পুনর্মিলিত হতে দাও। যিনি পাপ জানেননি, তাঁকে তিনি আমাদের পক্ষে পাপ করে তুলেছেন, যেন আমরা তাঁর মধ্যে ঈশ্বরের ধর্মময়তা হয়ে উঠি।
আর যেহেতু আমরা তাঁর সহকর্মী, সেজন্য আমরা তোমাদের অনুরোধ করছি: তোমরা যে ঈশ্বরের অনুগ্রহ গ্রহণ করেছ, তোমাদের সেই গ্রহণটা যেন বৃথাই না হয়ে যায়। কারণ তিনি একথা বলছেন, তোমাকে সাড়া দিয়েছি প্রসন্নতার সময়ে; তোমার সহায়তা করেছি পরিত্রাণের দিনে।
আর এখন তো সেই প্রসন্নতার সময়, এখন তো সেই পরিত্রাণের দিন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
হে শাশ্বত গৌরবের রাজা খ্রিষ্ট, মহাপ্রশংসার যোগ্য তুমি।
আজ হৃদয় কঠিন করো না,
শোন বরং প্রভুর কণ্ঠস্বর।
হে শাশ্বত গৌরবের রাজা খ্রিষ্ট, মহাপ্রশংসার যোগ্য তুমি।

৮। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:১-৬,১৬-১৮)

একদিন যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন, ‘সাবধান, দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য লোকদের সামনে তোমাদের ধর্মকর্ম করো না, করলে তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার কাছে তোমাদের কোন মজুরি থাকবে না।
তাই তুমি যখন ভিক্ষা দাও, তখন তোমার সামনে তুরি বাজাবে না, যেমনটি ভণ্ডরা লোকদের কাছে গৌরব পাবার জন্য সমাজগৃহে ও রাস্তা-ঘাটে করে থাকে; আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তারা নিজেদের মজুরি পেয়েই গেছে। কিন্তু তুমি যখন ভিক্ষা দাও, তখন তোমার ডান হাত যে কী করছে, তোমার বাঁ হাত যেন তা জানতে না পারে, যাতে তোমার ভিক্ষাদান গোপন থাকে; তবে যিনি গোপন সবকিছু দেখেন, তোমার সেই পিতা তোমাকে প্রতিদান দেবেন।
আর তোমরা যখন প্রার্থনা কর, তখন ভণ্ডদের মত হয়ো না; কারণ তারা সমাজগৃহে ও চৌরাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতে ভালবাসে, যেন লোকে তাদের দেখতে পায়; আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তারা নিজেদের মজুরি পেয়েই গেছে। কিন্তু তুমি যখন প্রার্থনা কর, তখন তোমার নিজের কক্ষে প্রবেশ কর, আর দরজা বন্ধ করে তোমার পিতা, যিনি সেই গোপন স্থানে বিদ্যমান, তাঁর কাছে প্রার্থনা কর; তবে যিনি গোপন সবকিছু দেখেন, তোমার সেই পিতা তোমাকে প্রতিদান দেবেন।
আর তোমরা যখন উপবাস কর, তখন ভণ্ডদের মত বিষণ্ণ ভাব দেখিয়ো না; কেননা তারা যে উপবাস করছে, তা লোকদের দেখাবার জন্যই নিজেদের মুখ মলিন করে; আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তারা নিজেদের মজুরি পেয়েই গেছে। কিন্তু তুমি যখন উপবাস কর, তখন মাথায় তেল মাখ ও মুখ ধুয়ো, যেন কেউই তোমার উপবাস না দেখতে পায়, কিন্তু তোমার পিতা, যিনি সেই গোপন স্থানে বিদ্যমান, কেবল তিনিই যেন তা দেখতে পান; তবে যিনি গোপন সবকিছু দেখেন, তোমার সেই পিতা তোমাকে প্রতিদান দেবেন।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
পোপ মহাপ্রাণ সাধু লিওর উপদেশ

মণ্ডলীর গোটা দেহকে সমস্ত কলঙ্ক থেকে পরিশুদ্ধ হতে হবে
প্রিয়জনেরা, যে সকল দিন খ্রিষ্টীয় ভক্তি সম্মানের সঙ্গে বহুরূপে উদ্‌যাপন করে, সেগুলির মধ্যে এমন কোন দিন নেই যা পাস্কাপর্বের চেয়ে শ্রেষ্ঠ—পাস্কাপর্ব থেকেই তো ঈশ্বরমণ্ডলীর অন্যান্য পর্বগুলি পুণ্য মর্যাদা লাভ করে। খ্রিষ্টের জন্মোৎসবও পাস্কা রহস্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, কেননা ঈশ্বরের পুত্রের জন্মগ্রহণের একমাত্র কারণ ছিল তিনি যেন একদিন ক্রুশে বিদ্ধ হতে পারেন। বস্তুতপক্ষে কুমারীর গর্ভে মরণশীল মাংস ধারণ করা হল, সেই মরণশীল মাংসে যন্ত্রণাভোগ-ব্যবস্থা সিদ্ধি লাভ করল,—ঈশ্বরের দয়ার পরম সঙ্কল্প অনুসারে এমনটি ঘটল যাতে সেই যন্ত্রণাভোগ আমাদের জন্য হয়ে উঠতে পারত মুক্তির বলিদান, পাপমোচন ও অনন্ত জীবনের উদ্দেশে পুনরুত্থানের সূত্রপাত। তাছাড়া আমরা যদি চিন্তা করি যে প্রভুর ক্রুশ দ্বারাই সমগ্র জগৎ মুক্তি পেল, তাহলে বুঝতে পারব, পাস্কাপর্ব উদ্‌যাপন করার জন্য চল্লিশ দিনের উপবাস দ্বারা নিজেদের প্রস্তুত করা সত্যিই বাঞ্ছনীয়, যাতে করে আমরা যোগ্যরূপে দিব্য রহস্যগুলিতে যোগ দিতে পারি। আর কেবল আর্চবিশপ, বা সাধারণ যাজক ও পরিসেবক নয়, বরং মণ্ডলীর গোটা দেহ ও সকল ভক্তজনকেও সমস্ত কলঙ্ক থেকে পরিশুদ্ধ হতে হবে, যেন ঈশ্বরের সেই মন্দির, যার স্বয়ং স্থাপনকর্তাই হলেন তার ভিত, সমস্ত প্রস্তরগুলিতে সুন্দর ও সব দিক দিয়ে উজ্জ্বল হতে পারে। কেননা যখন রাজাদের প্রাসাদ ও শাসকদের আবাস যুক্তিসঙ্গত ভাবেই যত ধরনের অলঙ্কারে অলঙ্কৃত হয় যাতে তাদের বাসস্থান ততই শ্রেষ্ঠতম হয় যত মহত্তম তাদের গুণ, তখন স্বয়ং ঈশ্বরের গৃহ কত যত্ন ও সম্মানের সঙ্গেই না নির্মাণ ও অলঙ্কৃত করা উচিত!
এই যে গৃহ তাঁর নিজের স্রষ্টা ছাড়া শুরু ও শেষ করা যায় না, তা কিন্তু নির্মাণকারীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করে, যাতে তার পরিশ্রম দ্বারাও তার বৃদ্ধি হতে পারে; কেননা এ মন্দির নির্মাণকাজের জন্য জীবন্ত ও বুদ্ধিসম্পন্ন মালামাল ব্যবহৃত হয়, যে মালামাল আত্মার অনুগ্রহ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়, একমন হয়ে একদেহে সুসংবদ্ধ হয়ে ওঠে। তেমন মণ্ডলীকে ঈশ্বর ভালবাসেন ও অনুসন্ধান করেন; সুতরাং মণ্ডলীও: তাকে যে ভালবাসে না, মণ্ডলী যেন তাকে ভালবাসে, ও যে তার অনুসন্ধান করে না, মণ্ডলী যেন তার অনুসন্ধান করে, যেমনটি ধন্য প্রেরিতদূত যোহন বলেন, আমরা ভালবাসি কারণ ঈশ্বরই প্রথম আমাদের ভালবেসেছেন (১ যোহন ৪:১১,১৯)। সুতরাং যেহেতু ভক্তরা সকলে মিলে ও এক একজন ক’রে হল ঈশ্বরের এক-ই ও একমাত্র মন্দির, সেজন্য মন্দিরটা যেমন সমষ্টিগত ভাবে নিখুঁত তেমনি ব্যক্তি-বিশেষের বেলায়ও নিখুঁত হওয়া চাই; কেননা যদিও সকল অঙ্গের সৌন্দর্য একই নয়, ও তেমন বৈচিত্রময় অংশগুলির মধ্যে সদ্‌গুণাবলির সামঞ্জস্যও থাকার কথা নয়, তথাপি ভ্রাতৃপ্রেমের সুসংবদ্ধতা সৌন্দর্যের একতা সাধন করে। এভাবে সমস্ত অঙ্গগুলি পুণ্য প্রেমে একত্রিত হয়, আর অনুগ্রহের মঙ্গলদানগুলির সমান পাত্র না হয়েও, তবু সকলে পরস্পরের মঙ্গলের জন্য আনন্দ ভোগ করে; এমনকি তারা যা ভালবাসে সেই সবকিছু থেকে কেউই বঞ্চিত নয়, কেননা যে কেউ পরের কল্যাণে আনন্দিত, সে নিজের বৃদ্ধি সাধন করে।

১০। ভস্ম আশীর্বাদ ও বিতরণ
অনুষ্ঠাতা দাঁড়িয়ে করজোড়ে বলেন:
প্রিয়জনেরা, এসো, বিনীত অন্তরে পিতা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি:
তপস্যার চিহ্নস্বরূপ যে ভস্ম-টিকা আমরা কপালে ধারণ করতে যাচ্ছি,
সেই ভস্ম তিনি যেন আশীর্বাদমণ্ডিত করেন।

কিছুক্ষণ নীরব প্রার্থনা করার পর তিনি প্রসারিত বাহুতে বলে চলেন:
হে ঈশ্বর, বিনম্রতা দেখে তুমি তো বিগলিত হও,
ও প্রায়শ্চিত্ত দেখে প্রশমিত হও।
কৃপা করে আমাদের মিনতি কান পেতে শোন:
যারা কপালে ভস্ম ধারণ করতে যাচ্ছে,
প্রসন্ন হয়ে তাদের উপর তোমার আশীর্বাদের অনুগ্রহ বর্ষণ কর,
তারা যেন তপস্যাকালীন যাত্রায় অগ্রসর হতে হতে
শোধিত অন্তরে তোমার পুত্রের পাস্কা-রহস্য উদ্‌যাপন করতে যোগ্য হয়ে ওঠে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

এরপর ভক্তগণ এগিয়ে এলে অনুষ্ঠাতা এই বলে তাদের এক একজনের কপালে ভস্ম দান করেন:
মনপরিবর্তন কর, সুসমাচারে বিশ্বাস কর।

১১। সার্বজনীন প্রার্থনা
তপস্যাকাল শুরু করতে গিয়ে, আসুন, আমরা এই অনুগ্রহকালের জন্য পিতা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর চরণে এই ভিক্ষা রাখি, তিনি যেন পবিত্র আত্মায় আমাদের পরিপূর্ণ করেন, আমাদের হৃদয় পরিশুদ্ধ করেন, ভ্রাতৃপ্রেমে আমাদের বলবান করে তোলেন:
      সকলে: হে প্রভু, তোমার পবিত্র আত্মাকে আমাদের দান কর।
-তোমার বাণীই আমাদের জীবন; তাই আমাদের জীবন যেন তোমার প্রতিটি বাণীতেই পরিপূর্ণ ও পরিপুষ্ট হয়ে ওঠে।
      সকলে: হে প্রভু, তোমার পবিত্র আত্মাকে আমাদের দান কর।
-যিশুর জীবনে তুমি প্রেমের পথ দেখিয়েছ। আমাদের দীক্ষিত কর, যেন জীবনের ছোট-বড় সকল ঘটনায়ই সেই পথ ধরে চলতে পারি।
      সকলে: হে প্রভু, তোমার পবিত্র আত্মাকে আমাদের দান কর।
-আত্মত্যাগের মনোভাব আমাদের অন্তরে সঞ্চার কর। যত অভাবগ্রস্ত ভাইবোনকে সাহায্য করতে আমাদের অনুপ্রাণিত কর।
      সকলে: হে প্রভু, তোমার পবিত্র আত্মাকে আমাদের দান কর।
-কৃপা কর, আমরা যেন আমাদের দেহে তোমার পুত্রের যন্ত্রণাভোগের সাক্ষ্য বহন করতে পারি, যেন আমাদের মধ্যে তাঁর অনন্ত জীবন প্রকাশ পায়।
      সকলে: হে প্রভু, তোমার পবিত্র আত্মাকে আমাদের দান কর।
-আমাদের পুণ্য পিতা বেনেডিক্ট বলেছিলেন, তপস্যাকালে সন্ন্যাসীরা সকল কু-অভ্যাস পরিত্যাগ করবেন, এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রার্থনা, ঐশপাঠ, হৃদয়বিদারণ ও আত্মসংযমে রত হয়ে সাধনা করবেন। আশীর্বাদ কর, আমরা যেন তাঁর নির্দেশ উত্তমরূপে পালন করতে পারি।
      সকলে: হে প্রভু, তোমার পবিত্র আত্মাকে আমাদের দান কর।
-আমাদের পুণ্য পিতা আরও বলেছিলেন, পবিত্র আত্মার আনন্দের সঙ্গে এক একজন সন্ন্যাসী স্বেচ্ছায়ই নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে খাদ্য, পানীয়, নিদ্রা, কথন, পরিহাসের অতিরিক্ত যা কিছু বাতিল করেই ঈশ্বরের কাছে নিজেকে নিবেদন করবেন। এই সাধনায় তুমি আমাদের বল দাও।       সকলে: হে প্রভু, তোমার পবিত্র আত্মাকে আমাদের দান কর।

১২। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর:
আমাদের মনপরিবর্তনের সাক্রামেন্তীয় চিহ্নস্বরূপ এই তপস্যাকাল পালন ক’রে আমরা যেন খ্রিষ্টে নিহিত মহা ধন-ঐশ্বর্য
আরও গভীরতরভাবে উপলব্ধি করতে পারি
ও যোগ্যতর জীবনযাপনে সেই বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
দ্বিতীয় বিবরণ থেকে পাঠ (২৬:৪-১০)

মোশি জনগণকে বললেন: ‘যাজক তোমার হাত থেকে সেই ঝুড়ি তুলে নিয়ে তোমার পরমেশ্বর প্রভুর যজ্ঞবেদির সামনে রাখবে, আর তুমি তোমার পরমেশ্বর প্রভুর সাক্ষাতে এই কথা বলবে: আমার পিতা একজন ভবঘুরে আরামীয় ছিলেন; তিনি মিশরে গিয়ে সেখানে স্বল্প লোকদের সঙ্গে প্রবাসী হয়ে থাকলেন, এবং সেখানে মহৎ, পরাক্রমী ও বহুসংখ্যক জাতি হয়ে উঠলেন। মিশরীয়েরা আমাদের প্রতি দুর্ব্যবহার করল, আমাদের অবনমিত করল ও আমাদের মাথায় কঠোর দাসত্বের ভার চেপে দিল; তখন আমরা চিৎকার করে আমাদের পিতৃপুরুষদের পরমেশ্বর প্রভুকে ডাকলাম, আর প্রভু আমাদের ডাক শুনলেন, তিনি দেখলেন আমাদের কষ্ট, আমাদের পরিশ্রম ও আমাদের অত্যাচার।
প্রভু শক্তিশালী হাতে, প্রসারিত বাহুতে ও ভয়ঙ্কর বিভীষিকা দেখিয়ে এবং নানা চিহ্ন ও অলৌকিক লক্ষণ দেখিয়ে মিশর থেকে আমাদের বের করে আনলেন। তিনি আমাদের এই স্থানে নিয়ে এসেছেন, এবং এই দেশ, দুধ ও মধু-প্রবাহী এই দেশ আমাদের দিয়েছেন। আর এখন, প্রভু, দেখ, তুমি আমাকে যে ভূমি দিয়েছ, তার ফলের প্রথমাংশ আমি আনছি। পরে তুমি তোমার পরমেশ্বর প্রভুর সামনে তা রেখে তোমার পরমেশ্বর প্রভুর সাক্ষাতে প্রণিপাত করবে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯১
ধুয়ো:
সঙ্কটের দিনে
আমার সঙ্গে থাক, প্রভু।

তুমি যে বাস কর পরাৎপরের গোপন আশ্রয়ে,
তুমি যে সর্বশক্তিমানের ছায়ায় কর রাত্রিযাপন,
প্রভুকে বল: ‘আমার আশ্রয়, আমার গিরিদুর্গ,
আমার পরমেশ্বর, তোমাতেই ভরসা রাখি।’   [ধুয়ো]

তোমার উপর কোন অনিষ্ট এসে পড়বে না,
আসবে না কো তোমার তাঁবুপ্রান্তে কোন দুর্বিপাক।
কারণ তোমার জন্যই আপন দূতদের তিনি আজ্ঞা দিলেন,
তাঁরা যেন পদে পদে তোমায় রক্ষা করেন।   [ধুয়ো]

তাঁরা তোমায় দু’হাতে তুলে বহন করবেন,
পাথরে তোমার পায়ে যেন কোন আঘাত না লাগে।
সিংহ ও কেউটের উপর তুমি পা দেবে,
তুমি মাড়িয়ে যাবে যুবসিংহ ও দানব।   [ধুয়ো]

আমাতে আসক্ত বলে আমি তাকে রেহাই দেব,
আমার নাম জানে বলে আমি তাকে নিরাপদে রাখব।
সে আমাকে ডাকবে আর আমি দেব সাড়া,
সঙ্কটে আমি থাকব তার সঙ্গে, তাকে নিস্তার করব, গৌরবান্বিত করব।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
রোমীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১০:৮-১৩)

প্রিয়জনেরা, শাস্ত্র একথা বলে: সেই বাণী তোমার অতি নিকটবর্তী, তা তোমার মুখে ও তোমার হৃদয়েই রয়েছে। অর্থাৎ, এ হলো বিশ্বাসের বাণী, যে বিশ্বাস আমরা প্রচার করি; কেননা মুখে তুমি যদি যিশুকে প্রভু বলে স্বীকার কর এবং হৃদয়ে যদি বিশ্বাস কর যে ঈশ্বর তাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করেছেন, তাহলে তুমি পরিত্রাণ পাবে। কেননা হৃদয়ে বিশ্বাস করেই তো মানুষ লাভ করে ধর্মময়তা, আর মুখে তা স্বীকার করেই তো সে লাভ করে পরিত্রাণ।
কেননা শাস্ত্র বলে, যে কেউ তাঁর উপর বিশ্বাস রাখে, সে আশাভ্রষ্ট হবে না, কারণ ইহুদী ও গ্রীকের মধ্যে কোন প্রভেদ নেই, যেহেতু তিনিই সকলের প্রভু, আর যারা তাঁকে ডাকে, তাদের সকলের পক্ষে তিনি ধনবান। বাস্তবিকই যে কেউ প্রভুর নাম করে, সে পরিত্রাণ পাবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
হে শাশ্বত গৌরবের রাজা খ্রিষ্ট, মহাপ্রশংসার যোগ্য তুমি।
মানুষ কেবল রুটিতে বাঁচবে না,
ঈশ্বরের মুখ থেকে যে প্রতিটি উক্তি নির্গত হয়, তাতেই বাঁচবে।
হে শাশ্বত গৌরবের রাজা খ্রিষ্ট, মহাপ্রশংসার যোগ্য তুমি।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৪:১-১৩)

সেসময়ে, যিশু পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে যর্দন থেকে সরে গেলেন, এবং সেই আত্মার আবেশে প্রান্তরে চালিত হলেন; সেখানে চল্লিশদিন ধরে দিয়াবল দ্বারা পরীক্ষিত হলেন। সেই সমস্ত দিন ধরে তিনি কিছুই খেলেন না; পরে, সেই দিনগুলি অতিবাহিত হলে ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লেন। তখন দিয়াবল তাঁকে বলল, ‘তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তবে এই পাথরগুলোকে বল, তা যেন রুটি হয়ে যায়।’ উত্তরে যিশু তাকে বললেন, ‘লেখা আছে, মানুষ কেবল রুটিতে বাঁচবে না।’
তাঁকে একটা উচ্চ জায়গায় নিয়ে গিয়ে দিয়াবল মুহূর্তকালের মধ্যে জগতের সকল রাজ্য দেখিয়ে তাঁকে বলল, ‘আমি তোমাকে এই সমস্ত অধিকার ও এই সবকিছুর গৌরব দেব, কারণ তা আমার হাতে সঁপে দেওয়া হয়েছে, আর আমার যাকে ইচ্ছা তাকে দান করি; তাই তুমি যদি আমার সামনে প্রণিপাত কর, তবে এই সব তোমারই হবে।’ যিশু উত্তরে তাকে বললেন, ‘লেখা আছে, তোমার ঈশ্বর প্রভুকেই প্রণাম করবে, কেবল তাঁকেই উপাসনা করবে।’
সে তাঁকে যেরুসালেমে নিয়ে গেল, ও মন্দিরের চূড়ার উপরে দাঁড় করিয়ে তাঁকে বলল, ‘তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তবে এখান থেকে নিচে ঝাঁপ দিয়ে পড়, কেননা লেখা আছে, তোমার জন্যই আপন দূতদের তিনি আজ্ঞা দিলেন, তাঁরা যেন তোমায় রক্ষা করেন; আরও [লেখা আছে], তাঁরা তোমায় দু’হাতে তুলে বহন করবেন, পাথরে তোমার পায়ে যেন কোন আঘাত না লাগে।’ যিশু উত্তরে তাকে বললেন, ‘লেখা আছে: তুমি তোমার ঈশ্বর প্রভুকে পরীক্ষা করো না।’
সব ধরনের পরীক্ষা শেষ করে দিয়াবল উপযুক্ত সময় না আসা পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে চলে গেল।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
পুরোহিত অরিজেন-লিখিত ‘পরম গীতে উপদেশাবলি’ (উপদেশ ৩)

মরমানুষের জীবন বহু ছলনার ফাঁসে পূর্ণ। সেই জীবন এমন প্রবঞ্চনাপূর্ণ ফাঁদ যা প্রভুর বিরুদ্ধে হিংসা-হেতু নেম্ব্রোথ নামক সেই বৃহৎ শিকারী মানবজাতির সামনে পেতে থাকে। কেননা শয়তান ছাড়া আর কোন্‌ প্রকৃত বৃহৎ প্রাণী ঈশ্বরের বিরুদ্ধেও বিপ্লব করে? এজন্যই তো প্রলোভনের ফাঁস ও ছলনার ফন্দিফিকিরকে শয়তানের ফাঁদ বলে। আর যেহেতু শত্রু সর্বত্রই এ ফাঁদগুলি পেতে দিয়েছিল ও তার মধ্যে প্রায় সকলকেই ফেলেছিল, এজন্য এ প্রয়োজন হল যে, সেগুলোকে ধ্বংস করতে এমন একজন আসবেন যিনি শয়তানের চেয়ে শক্তিশালী ও পরাক্রমী, তিনি যেন আপন অনুগামীদের জন্য পথ খুলে দিতে পারেন। প্রলোভনের উপর আপন বিজয় গুণে মণ্ডলীকে প্রস্তুত ক’রে নিজের কাছে আহ্বান করার জন্য ত্রাণকর্তাও মণ্ডলীর সঙ্গে বিবাহ-মিলনে পৌঁছবার আগে শয়তান দ্বারা পরীক্ষিত হলেন, এবং নিজ আদর্শের মাধ্যমে তাকে এ স্পষ্ট শিক্ষা দিলেন যে, নিষ্ক্রিয়তা ও আমোদ-প্রমোদ নয়, বরং বহু যন্ত্রণা ও প্রলোভনের মধ্য দিয়েই খ্রিষ্টের কাছে তাকে আসতে হবে। তাঁর আগে কেউই এ সমস্ত ফাঁদ অতিক্রম করতে পারেনি, যেইভাবে লেখা রয়েছে, সকলেই পাপ করেছে (রো ৩:২৩)। শাস্ত্র একথাও বলে, পৃথিবীতে এমন ধার্মিক মানুষ নেই যে কেবল সৎকর্ম করে, পাপ কখনও করে না (উপ ৭:২০); একথাও রয়েছে, নিষ্পাপ বলতে কেউই নেই, যদিও তার জীবন একটিমাত্র দিনেরই জীবন (সাম ৫১:৭; যোব ১৫:১৪ দ্রঃ)। সুতরাং আমাদের ত্রাণকর্তা ও মুক্তিসাধক যিশুই সেই একমাত্র ব্যক্তি যিনি কোন পাপ করেননি, অথচ পিতা আমাদের পক্ষে তাঁকে পাপস্বরূপ করলেন (২ করি ৫:২১), এবং এর ফলে তিনি পাপময় মাংসের সাদৃশ্যে পাপার্থে বলিরূপে আপন পুত্রকে প্রেরণ ক’রে মাংসে পাপকে দণ্ডিত করেছেন (রো ৮:৩)।
তবে তিনি এ ফাঁদগুলির কাছে এলেন, তবু তিনিই মাত্র তাতে আবদ্ধ হয়ে পড়েননি; এমনকি সেগুলিকে ছিন্ন ও ধ্বংস করে তিনি আপন মণ্ডলীকে সাহস দিলেন যাতে সেও সেগুলিকে মাড়িয়ে দিয়ে ও অতিক্রম করে উদ্দীপিত অন্তরে বলতে পারে, ব্যাধের ফাঁদ থেকে পাখির মতই পালিয়েছে আমাদের প্রাণ, ফাঁদ ভেঙেছে—পালিয়েছি আমরা (সাম ১২৪:৭)।
কিন্তু কেইবা সেই ফাঁদ ভেঙে দিয়েছেন, সেই তিনি ছাড়া যাঁকে ফাঁদ আবদ্ধ করতে পারত না? কেননা তিনি মরেছেন বটে, কিন্তু স্বেচ্ছায়, আমাদের মত পাপের ফলে নয়। অতএব মৃতদের মধ্যে মুক্ত হওয়ায় তিনি মৃত্যুর উপরে যার অধিকার ছিল তাকে বিনাশ করে তাদেরও মুক্ত করে দিলেন যারা মৃত্যুর বন্দি ছিল। আর তিনি যে কেবল নিজেকেই পুনরুত্থিত করলেন তেমন নয়, বরং তাদেরও জাগিয়ে তুললেন ও নিজের সঙ্গে স্বর্গধামে আসন দিলেন। কেননা স্বর্গারোহণ করে তিনি আত্মাগুলিকে মুক্ত করে দিয়ে শুধু নয়, বরং দেহগুলিকেও পুনরুত্থিত করে সেই বন্দিদশাকে বন্দি করে সঙ্গে নিয়ে গেলেন—যেমনটি সুসমাচারের এ বাণীও সাক্ষ্যদান করে বলে, অনেক নিদ্রাগত লোকের দেহ পুনরুত্থিত হল, তাঁরা অনেক লোককে দেখা দিলেন ও জীবনময় ঈশ্বরের পবিত্র নগরী যেরুসালেমে প্রবেশ করলেন (মথি ২৭:৫২, ৫৩)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৯১
ধুয়ো:
আপন পালক দিয়ে প্রভু তোমাকে ঢেকে রাখবেন,
তাঁর ডানার নিচে তুমি পাবে আশ্রয়।

তুমি যে বাস কর পরাৎপরের গোপন আশ্রয়ে,
তুমি যে সর্বশক্তিমানের ছায়ায় কর রাত্রিযাপন,
প্রভুকে বল: ‘আমার আশ্রয়, আমার গিরিদুর্গ,
আমার পরমেশ্বর, তোমাতেই ভরসা রাখি।’   [ধুয়ো]

ব্যাধের ফাঁদ ও সর্বনাশা মড়ক থেকে
তিনি তোমাকে উদ্ধার করবেন।
তাঁর পালক দিয়ে তিনি তোমাকে ঢেকে রাখবেন,
তাঁর ডানার নিচে তুমি পাবে আশ্রয়।   [ধুয়ো]

স্বয়ং প্রভুই তোমার আশ্রয়,
সেই পরাৎপরকে তুমি করেছ তোমার আবাস,
তাই তোমার উপর কোন অনিষ্ট এসে পড়বে না,
আসবে না কো তোমার তাঁবুপ্রান্তে কোন দুর্বিপাক।   [ধুয়ো]

কারণ তোমার জন্যই আপন দূতদের তিনি আজ্ঞা দিলেন,
তাঁরা যেন পদে পদে তোমায় রক্ষা করেন;
তাঁরা তোমায় দু’হাতে তুলে বহন করবেন,
পাথরে তোমার পায়ে যেন কোন আঘাত না লাগে।   [ধুয়ো]

সে আমাকে ডাকবে আর আমি দেব সাড়া, সঙ্কটে আমি থাকব তার সঙ্গে,
তাকে নিস্তার করব, গৌরবান্বিত করব;
দীর্ঘায়ু দিয়ে তৃপ্তি দেব তাকে,
তাকে দেখাব আমার পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু,
যে রুটিতে বিশ্বাস পুষ্টি লাভ করে, আশা বেড়ে ওঠে ও ভক্তি বলবান হয়,
সেই স্বর্গীয় রুটিতে পরিতৃপ্ত হয়ে
আমরা যেন তাঁরই জন্য ক্ষুধিত হই যিনি জীবনময় ও সত্যকার রুটি;
তোমার মুখ থেকে যে প্রতিটি উক্তি নির্গত হয়,
আমরা যেন তাতেই বাঁচি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২য় রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি তোমার প্রিয়তম পুত্রের কথা শুনতে আমাদের আদেশ দিয়েছ।
প্রসন্ন হয়ে তুমি নিজেই তোমার বাণীদানে আমাদের অন্তর পরিপুষ্ট কর,
আমরা যেন শোধিত মনশ্চক্ষু দিয়ে
তোমার গৌরবের দর্শন পেয়ে আনন্দিত হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
আদিপুস্তক থেকে পাঠ (১৫:৫-১২,১৭-১৮)

একদিন, আব্রাহামকে বাইরে নিয়ে গিয়ে ঈশ্বর বললেন, ‘আকাশের দিকে তাকাও, আর যদি পার, তারানক্ষত্রের সংখ্যা গুনে নাও।’ তিনি বলে চললেন, ‘তোমার বংশ সেইমত হবে!’ তিনি প্রভুতে বিশ্বাস রাখলেন, আর প্রভু তাঁর পক্ষে তা ধর্মময়তা বলে পরিগণিত করলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, ‘আমিই সেই প্রভু, যিনি এই দেশ তোমার অধিকারে দেবার জন্য কাল্দীয়দের উর্‌ থেকে তোমাকে বের করে এনেছি।’ তিনি বললেন, ‘হে আমার প্রভু পরমেশ্বর, আমি যে তার অধিকারী হব, তা কেমন করে জানব?’ তিনি তাঁকে বললেন, ‘তুমি তিন বছরের একটা বকনা, তিন বছরের একটা মাদী ছাগল, তিন বছরের একটা ভেড়া এবং একটা ঘুঘু ও একটা পায়রা আমার কাছে নিয়ে এসো।’ তিনি ওইসব তাঁর কাছে নিয়ে এলেন, এবং সেগুলিকে কেটে দু’টুকরো করে এক একটা ভাগ অন্য অন্য ভাগের সামনাসামনি রাখলেন, কিন্তু পাখিদের দু’টুকরো করলেন না। শিকারী পাখিরা সেই মৃত পশুদের উপরে নেমে পড়ছিল, কিন্তু আব্রাম তাদের তাড়িয়ে দিচ্ছিলেন।
সূর্য অস্তগমন করছে, এমন সময় আব্রামের উপর গভীর নিদ্রা নেমে এল, আর দেখ, তিনি অন্ধকারময় আতঙ্কে আক্রান্ত হলেন। সূর্য অস্তগমন করেছিল ও অন্ধকার নেমে এসেছিল এমন সময় দেখা গেল, ধূমায়মান এক চুল্লি ও জ্বলন্ত এক মশাল সেই সারি-বাঁধা টুকরোগুলির মাঝখান দিয়ে চলে গেল। সেদিন প্রভু আব্রামের সঙ্গে এক সন্ধি স্থাপন করে বললেন,
‘আমি মিশরের নদী থেকে
ইউফ্রেটিস মহানদী পর্যন্ত
এই দেশ তোমার বংশকে দিচ্ছি।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ২৭
ধুয়ো:
প্রভুই আমার আলো,
আমার পরিত্রাণ।

প্রভুই আমার আলো, আমার পরিত্রাণ,
কাকে ভয় করব আমি?
প্রভুই আমার জীবনের আশ্রয়দুর্গ,
কার্‌ ভয়ে কম্পিত হব আমি?   [ধুয়ো]

শোন, প্রভু, আমার কণ্ঠ—ডাকছি তো আমি:
আমাকে দয়া কর, আমাকে সাড়া দাও।
তোমার বিষয়ে আমার অন্তর বলে: ‘তাঁর শ্রীমুখ অন্বেষণ কর তোমরা।’
আমি তোমার শ্রীমুখ অন্বেষণ করি, প্রভু।   [ধুয়ো]

আমা থেকে লুকিয়ে রেখো না তোমার শ্রীমুখ,
ক্রুদ্ধ হয়ে তোমার দাসকে সরিয়ে দিয়ো না, তুমিই যে আমার সহায়।
আমায় দূরে ঠেলে দিয়ো না,
আমায় পরিত্যাগ করো না, ত্রাণেশ আমার।   [ধুয়ো]

আমার দৃঢ় বিশ্বাস আছে—
প্রভুর মঙ্গলময়তা দেখবই আমি জীবিতের দেশে।
প্রভুর প্রতীক্ষায় থাক, শক্ত হও,
তোমার অন্তর দৃঢ় হোক, প্রভুর প্রতীক্ষায় থাক।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
ফিলিপ্পীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৩:১৭–৪:১)

ভাই, সকলে মিলে তোমরা আমার অনুকারী হও, এবং আমাতে তোমাদের যে আদর্শ আছে, যারা সেইমত চলে, তাদেরই দিকে তোমাদের চোখ নিবদ্ধ রাখ; কেননা অনেকে আছে—তাদের বিষয়ে তোমাদের বারবার বলেছি, এখনও চোখের জল ফেলতে ফেলতে বলছি—যারা খ্রিষ্টের ক্রুশের শত্রুর মত চলছে: তাদের শেষ পরিণাম কিন্তু বিনাশ, কেননা পেটকেই নিজেদের ঈশ্বর ব’লে মেনে তারা যা তাদের লজ্জা পাবার বিষয় তা-ই নিয়ে গর্ব করে; তারা পার্থিব চিন্তায়ই ব্যস্ত।
কিন্তু আমাদের মাতৃভূমি স্বর্গেই রয়েছে, এবং সেই স্বর্গ থেকেই পরিত্রাতারূপে প্রভু যিশুখ্রিষ্টেরই প্রতীক্ষায় রয়েছি আমরা। যে পরাক্রম গুণে তিনি সমস্ত কিছুই নিজের অধীনে বশীভূত করতে পারেন, তিনি সেই পরাক্রম দ্বারাই আমাদের হীনাবস্থার এই দেহটি রূপান্তরিত ক’রে তাঁর আপন গৌরবময় দেহের সমরূপ করবেন।
তাই, হে আমার প্রিয় ভাই যাদের দেখতে আমি একান্ত বাসনা করছি, তোমরাই যে আমার আনন্দ ও আমার মুকুট, তোমরা এইভাবেই প্রভুতে স্থিতমূল থাক।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।
সেই উজ্জ্বল মেঘ থেকে এক কণ্ঠস্বর বলে উঠল:
‘ইনি আমার প্রিয়তম পুত্র, এঁতে আমি প্রসন্ন; তাঁর কথা শোন।’
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৯:২৮খ-৩৬)

একদিন, পিতর, যাকোব ও যোহনকে সঙ্গে করে যিশু প্রার্থনা করতে পর্বতে গিয়ে উঠলেন। তিনি প্রার্থনা করছেন, এমন সময়ে তাঁর মুখের চেহারার অন্য রূপ হল, ও তাঁর পোশাক অধিক নির্মল-উজ্জ্বল হয়ে উঠল। আর দেখ, দু’জন পুরুষ তাঁর সঙ্গে কথা বলছিলেন—তাঁরা ছিলেন মোশি ও এলিয়। গৌরবে আবির্ভূত হয়ে তাঁরা তাঁর সেই প্রস্থানের বিষয়ে কথা বলছিলেন, যা তিনি যেরুসালেমে সমাধা করতে যাচ্ছিলেন।
পিতর ও তাঁর সঙ্গীরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু জেগে উঠে তাঁর গৌরব ও সেই দু’জনকে দেখলেন, যাঁরা তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
তাঁরা তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছেন, সেসময়ে পিতর যিশুকে বললেন, ‘গুরুদেব, এখানে আমাদের থাকা উত্তম; আসুন, তিনটে কুটির তৈরি করি, আপনার জন্য একটা, মোশির জন্য একটা ও এলিয়ের জন্য একটা।’
তিনি কী বলছিলেন, তা তো জানতেন না; তিনি একথা বলছেন, সেসময়ে একটি মেঘ এসে নিজ ছায়ায় তাঁদের ঘিরে রাখল, আর সেই মেঘের মধ্যে প্রবেশ করার সময়ে তাঁরা ভয় পেলেন। আর সেই মেঘ থেকে এক কণ্ঠস্বর বলে উঠল: ‘ইনি আমার পুত্র, সেই মনোনীতজন; তাঁর কথা শোন।’
এই কণ্ঠ ধ্বনিত হওয়ামাত্র দেখা গেল, যিশু একাই আছেন। তাঁরা নীরব রইলেন; এবং যা দেখেছিলেন, সেবিষয়ে তাঁরা তখন কাউকে কিছুই বললেন না।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
সামসঙ্গীত-মালায় বিশপ সাধু আম্ব্রোজের ব্যাখ্যা

স্বয়ং প্রভু যিশুই চেয়েছিলেন, বিধান গ্রহণের জন্য মোশি একাই পর্বতে গিয়ে উঠবেন, তবু যিশু বিনা তা ঘটল না। সুসমাচারেও আমরা পড়ি যে, তাঁর শিষ্যদের মধ্যে তিনি আপন পুনরুত্থানের গৌরব কেবল পিতর, যোহন ও যাকোবের কাছে প্রকাশ করলেন। এভাবে তিনি চাচ্ছিলেন, তাঁর রহস্য আবৃত থাকবে, এমনকি তিনি বারবার তাঁদের সতর্ক করছিলেন তাঁরা যা দেখেছিলেন সেই বিষয়ে যেন কারও সঙ্গে কথা না বলেন, পাছে দুর্বল কেউ, অস্থির স্বভাববশত পবিত্র বিষয়গুলির শক্তি উপলব্ধি করতে সক্ষম না হওয়ায় সরে পড়ে।
অন্যদিকে পিতর নিজেও প্রভু ও তাঁর সেবকদের জন্য তিনটে তাঁবু প্রস্তুত করার কথা উপস্থাপন করায় জানতেন না তিনি যে কী বলছিলেন; সেজন্য রূপান্তরিত প্রভুর গৌরবের বিভা সহ্য করতে না পারাতে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়লেন; বজ্র-সন্তানেরা সেই যোহন ও যাকোবও মাটিতে উপুড় হয়ে পড়লেন, আর একটি মেঘ তাঁদের ঢেকে ফেলল; এমনকি, তাঁরা আর উঠতে পারেননি যতক্ষণ না যিশু এসে তাঁদের স্পর্শ করে উঠতে আদেশ দিলেন ও যত ভয় ছাড়বার জন্য সাহস দিলেন।
তাঁরা আবৃত ও রহস্যময় বিষয় জানবার জন্য মেঘে প্রবেশ করলেন, ও ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন; তিনি বললেন, ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, এঁতে আমি প্রসন্ন: তাঁর কথা শোন (মথি ১৭:৫)। ‘ইনিই আমার প্রিয় পুত্র’ বাক্যটির অর্থ কী? এর অর্থ হল, “সিমোন, খ্রিষ্টের মত তাঁর দাসেরাও যে ঈশ্বরপুত্র নামটি গ্রহণের যোগ্য, এমন কথা বিশ্বাস করে তুমি ভুল করো না। ইনিই আমার পুত্র; মোশি ‘পুত্র’ নামটির যোগ্য নয়, এলিয়ও নয়, যদিও একজন সমুদ্রকে দু’ভাগে বিভক্ত করেছিল ও আর একজন আকাশের দ্বার বন্ধ করে দিয়েছিল। তারা তো প্রভুর বাণীকে হাতিয়ার করেই প্রকৃতির শক্তিগুলি জয় করেছিল, তবু তারা ছিল মধ্যস্থ-মাত্র; বরং ইনিই জলরাশি জমাট করলেন, অনাবৃষ্টিতে আকাশের দ্বার বন্ধ করে দিলেন, আর যখন মনে করলেন তখন বর্ষা দানে তা আবার খুলে দিলেন।
যখন পুনরুত্থান বিষয়ে সাক্ষ্য দরকার, তখন দাসদের সেবা অনুমোদিত, কিন্তু যখন পুনরুত্থিত প্রভুর গৌরব প্রকাশ পায়, তখন দাসদের বিভা আবৃত হয়ে থাকে। কেননা উদীয়মান সূর্য তারকারাজিকে ঢেকে দেয়, সূর্য জগৎকে উজ্জ্বল করলে সেগুলোর আলো মিলিয়ে যায়। ফলত, সনাতন ন্যায়-সূর্যের নিচে ও তেমন দিব্য জ্যোতিতে কেমন করে মানবীয় তারকারাজি আবার দৃশ্য হতে পারত? যে আলোগুলো অলৌকিক ভাবে আমাদের চোখের সামনে উজ্জ্বল প্রভা ছড়িয়ে দিত, সেগুলো এবার কোথায় গেল? সনাতন আলোর তুলনায় সবই তো অন্ধকার। অন্য কেউই আপন সেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে প্রসন্ন করুক: কেবল তিনিই সেই সত্যকার ও সনাতন আলো যেটায় পিতা প্রীত। আর আমিও তাঁকে নিয়ে প্রীত, কেননা তিনি যা কিছু সাধন করেছেন তা ঠিক যেন আমারই কাজ, আর আমি যা কিছু সাধন করেছি তা যেন ন্যায়সঙ্গত ভাবে আমার পুত্রের কাজ বলে গণ্য হয়। শোন তিনি কী কথা বলেছিলেন, আমি এবং পিতা, আমরা এক (যোহন ১০:৩০)। তিনি তো বলেননি, আমি এবং মোশি এক; বলেননি, তিনি ও এলিয় একই গৌরবের অংশীদার।
তাহলে কী দরকার আছে যে তিনটে তাঁবু প্রস্তুত করা হবে? তাঁর তাঁবু পৃথিবীতে নয়, স্বর্গেই তো রয়েছে।” তা শুনে প্রেরিতদূতেরা ভয়ে অভিভূত হয়ে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়েছিলেন। কাছে এসে প্রভু তাঁদের উঠতে বললেন, ও তাঁদের আদেশ দিলেন, তাঁরা যা কিছু দেখেছিলেন, সে কথা যেন কাউকে না বলেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১১৯
ধুয়ো:
ইনি আমার প্রিয়তম পুত্র, এঁতে আমি প্রসন্ন;
তাঁর কথা শোন।

ুখী তারা, নিখুঁত যাদের পথ,
প্রভুর বিধানে যারা চলে।
সুখী তারা, যারা তাঁর নির্দেশমালা পালন করে,
সমস্ত হৃদয় দিয়ে যারা তাঁর অন্বেষণ করে।   [ধুয়ো]

তারা কোন অন্যায় করে না,
তারা তাঁর সমস্ত পথে চলে।
তুমি জারি করেছ তোমার আদেশমালা,
তারা যেন তা সযত্নেই মেনে চলে।   [ধুয়ো]

আহা! তোমার বিধিকলাপ মেনে চলায়
আমার পথসকল সুস্থির হোক।
তবে তোমার সকল আজ্ঞার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকলে
আমি লজ্জায় পড়ব না।   [ধুয়ো]

আমি যখন শিখব তোমার ন্যায়বিচার সকল,
তখন সরল অন্তরে তোমাকে জানাব ধন্যবাদ।
তোমার বিধিকলাপ মেনে চলব,
আমায় কখনও পরিত্যাগ করো না।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এ গৌরবময় রহস্যময় খাদ্য গ্রহণ ক’রে
আমরা তোমাকে ধন্যবাদ জানাই: কেননা এ পৃথিবীতে থাকতেও
আমরা তোমার কৃপায় স্বর্গীয় বিষয়ের সহভাগী হয়েছি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩য় রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
সমস্ত দয়া ও মঙ্গলকর কর্মের সাধক হে পরমেশ্বর,
তুমি শিখিয়েছ, উপবাস, প্রার্থনা ও অর্থদানেই পাপের প্রতিকার।
আমাদের নিম্নাবস্থার কথা স্বীকার করে আমরা নম্রচিত্তে মিনতি জানাই:
আমাদের দিকে মুখ তুলে চাও,
পাপের বোঝা যখন আমাদের ভূলুণ্ঠিত করে,
তখন তোমার দয়াই যেন আমাদের উন্নতশির করে তোলে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
যাত্রাপুস্তক থেকে পাঠ (৩:১-৮ক,১৩-১৫)

একদিন মোশি মিদিয়ানের যাজক তাঁর শ্বশুর যেথ্রোর মেষপাল চরাচ্ছিলেন; তিনি মেষপাল মরুপ্রান্তরের ওপারে নিয়ে গিয়ে পরমেশ্বরের পর্বত সেই হোরেবে এসে পৌঁছলেন।
প্রভুর দূত একটা ঝোপের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসা অগ্নিশিখায় তাঁকে দেখা দিলেন; তিনি তাকালেন, আর দেখ, ঝোপটা আগুনের মধ্যে জ্বলছে, অথচ পুড়ে যাচ্ছে না। মোশি ভাবলেন, ‘আমি এক পাশ দিয়ে এই অসাধারণ দৃশ্য দেখতে চাই; আবার দেখতে চাই ঝোপটা পুড়ে যাচ্ছে না কেন।’
প্রভু যখন দেখলেন যে, তিনি দেখবার জন্য পথ ছেড়ে এগিয়ে আসছেন, তখন ঝোপের মধ্য থেকে পরমেশ্বর এই বলে তাঁকে ডাকলেন, ‘মোশি, মোশি!’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘এই যে আমি।’ তিনি বললেন, ‘আর এগিয়ো না, পা থেকে জুতো খুলে ফেল, কারণ যে স্থানে তুমি দাঁড়িয়ে আছ, তা পবিত্র ভূমি।’ তিনি বলে চললেন, ‘আমি তোমার পিতার পরমেশ্বর, আব্রাহামের পরমেশ্বর, ইসায়াকের পরমেশ্বর, যাকোবের পরমেশ্বর।’ তখন মোশি নিজের মুখ ঢেকে নিলেন, কেননা পরমেশ্বরের দিকে তাকাতে তাঁর ভয় হচ্ছিল।
প্রভু বললেন, ‘মিশরে আমার জনগণের দুর্দশা আমি দেখেইছি; তাদের মেহনতি কাজের সরদারদের কারণে তাদের হাহাকারও শুনেছি; তাদের দুঃখকষ্টের কথা আমি সত্যিই জানি! মিশরীয়দের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করার জন্য, এবং সেই দেশ থেকে উত্তম ও বিশাল এক দেশে, দুধ ও মধু-প্রবাহী এক দেশেই তাদের আনার জন্য আমি নেমে এসেছি।’
তখন মোশি পরমেশ্বরকে বললেন, ‘দেখ, আমি যদি ইস্রায়েল সন্তানদের গিয়ে বলি, তোমাদের পিতৃপুরুষদের পরমেশ্বর তোমাদের কাছে আমাকে প্রেরণ করেছেন, আর তারা জিজ্ঞাসা করে, তাঁর নাম কী, তবে তাদের কী উত্তর দেব?’
পরমেশ্বর মোশিকে বললেন, ‘আমি সেই আছি যিনি আছেন।’ তিনি বলে চললেন, ‘তুমি ইস্রায়েল সন্তানদের একথা বলবে: আমি আছি আমাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করেছেন।’ পরমেশ্বর মোশিকে আরও বললেন, ‘তুমি ইস্রায়েল সন্তানদের একথা বলবে: যিনি তোমাদের পিতৃপুরুষদের পরমেশ্বর, আব্রাহামের পরমেশ্বর, ইসায়াকের পরমেশ্বর ও যাকোবের পরমেশ্বর, সেই প্রভু তোমাদের কাছে আমাকে প্রেরণ করেছেন। এ আমার নাম চিরকালের মত; এই নামেই যুগ যুগ ধরে আমার স্মৃতি উদ্‌যাপন করা হবে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১০৩
ধুয়ো:
প্রভু স্নেহশীল,
প্রভু দয়াবান।

প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
আমার অন্তরে যা কিছু আছে, ধন্য কর তাঁর পবিত্র নাম।
প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
ভুলে যেয়ো না তাঁর সমস্ত উপকার:   [ধুয়ো]

তিনিই তো তোমার সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করেন,
তোমার সমস্ত রোগ-ব্যাধি নিরাময় করেন,
গহ্বর থেকে মুক্ত করেন তোমার জীবন,
তোমাকে কৃপা ও স্নেহে করেন মুকুট-ভূষিত।   [ধুয়ো]

সকল অত্যাচারিতের প্রতি
ধর্মময়তা ও ন্যায়ই প্রভুর আচরণ।
তিনি মোশিকে জানালেন তাঁর পথসকল,
ইস্রায়েল সন্তানদের কাছে তাঁর কর্মকীর্তি।   [ধুয়ো]

প্রভু স্নেহশীল, দয়াবান,
ক্রোধে ধীর, কৃপায় ধনবান।
পৃথিবীর ঊর্ধ্বে যতখানি উঁচু আকাশমণ্ডল,
যারা তাঁকে ভয় করে, তাদের প্রতি ততখানি দৃঢ় তাঁর কৃপা।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১০:১-৬,১০-১২)

ভাই, আমি চাই না, একথা তোমাদের অজানা থাকবে যে, আমাদের পিতৃপুরুষেরা সকলে সেই মেঘের নিচে ছিলেন, সকলে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, মোশির উদ্দেশে মেঘে ও সমুদ্রে সকলের বাপ্তিস্ম হয়েছিল, সকলে একই আত্মিক খাদ্য খেয়েছিলেন, সকলে একই আত্মিক পানীয় পান করেছিলেন; বাস্তবিকই তাঁরা এমন এক আত্মিক শৈল থেকে পান করছিলেন, যা তাঁদের পিছু পিছু চলছিল—আর শৈলটা সেই খ্রিষ্ট! কিন্তু তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ লোকের প্রতি প্রভু প্রসন্ন হননি, ফলে তাঁদের মৃতদেহ প্রান্তরে এদিক ওদিক ছড়িয়ে দেওয়া হল।
এই সমস্ত কিছু আমাদের খাতিরেই দৃষ্টান্ত হিসাবে ঘটেছিল, আমরা যেন মন্দ কিছু বাসনা না করি, তাঁরাই যেভাবে করেছিলেন।
অবশেষে তোমরা যেন গজগজ না কর, তাঁদের কেউ কেউ যেভাবে করেছিলেন, যার ফলে সংহারক দূতের হাতে তাঁদের বিনাশ হয়েছিল। এই সমস্ত কিছু তাঁদের প্রতি ঘটেছিল দৃষ্টান্ত হিসাবেই, এবং আমাদেরই চেতনার জন্য তা লিখে রাখা হল—এই আমাদের, যাদের পক্ষে যুগের সমাপ্তি লগ্ন কাছে এসে পড়েছে। সুতরাং, যে মনে করে, সে সোজা দাঁড়িয়ে আছে, সে সাবধান থাকুক, পাছে তার পতন হয়।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।
মনপরিবর্তন কর—একথা বলছেন প্রভু;
স্বর্গরাজ্য যে কাছে এসে গেছে।
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৩:১-৯)

সেসময়েই কয়েকজন লোক এসে যিশুকে সেই গালিলেয়দের কথা জানাল যাদের রক্ত পিলাত তাদের বলির রক্তের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি এই বলে তাদের উত্তর দিলেন, ‘তোমরা কি মনে করছ, সেই গালিলেয়দের তেমন দুর্গতি হয়েছে বিধায় তারা অন্য সকল গালিলেয়দের চেয়ে বেশি পাপী ছিল? আমি তোমাদের বলছি, তা নয়; বরং মনপরিবর্তন না করলে তোমরা সকলেই সেভাবে বিনষ্ট হবে। অথবা, সেই আঠারোজন লোক, যাদের উপরে সিলোয়ামের মিনার পড়ে গিয়ে তাদের মৃত্যু ঘটিয়েছিল, তোমরা কি তাদের বিষয়ে মনে করছ যে, তারা যেরুসালেম-বাসী অন্য সকল লোকের চেয়ে বেশি অপরাধী ছিল? আমি তোমাদের বলছি, তা নয়; বরং মনপরিবর্তন না করলে তোমরা সকলেই সেভাবে বিনষ্ট হবে।’
তিনি এই উপমা-কাহিনী শোনালেন: ‘একজন লোকের আঙুরখেতে একটা ডুমুরগাছ পোঁতা ছিল; তিনি এসে সেই গাছে ফল খোঁজ করলেন, কিন্তু পেলেন না। তিনি আঙুরখেতের মালীকে বললেন, দেখ, তিন বছর ধরেই আমি ডুমুরগাছে ফল খোঁজ করছি, কিন্তু কিছুই পাচ্ছি না; গাছটা কেটে ফেল, এটা কেন মাটির রস এমনি খাবে? সে উত্তরে তাঁকে বলল, প্রভু, এই বছরের মতও ওটা থাকতে দিন, আমি ওটার চারদিকে মাটি খুঁড়ে সার দেব, আগামী বছর গাছে ফল ধরলে ভাল, না হলে ওটা কেটে ফেলবেন।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
পোপ সাধু ষষ্ঠ পলের প্রৈরিতিক নির্দেশনামা ‘মন পরিবর্তন কর’

খ্রিষ্ট, যিনি যা শেখাতেন তা আপন জীবনে সর্বদাই বাস্তবায়িত করতেন, আপন প্রচারকর্ম শুরু করার আগে চল্লিশ দিন চল্লিশ রাত প্রার্থনা ও উপবাসে অতিবাহিত করে তিনি আপন প্রকাশ্য প্রেরণকর্ম এ আনন্দবার্তা নিয়েই আরম্ভ করে দিলেন: ঈশ্বরের রাজ্য কাছে এসে গেছে, আর সঙ্গে সঙ্গে এ আদেশও যোগ করে দিলেন, মন পরিবর্তন কর ও সুসমাচারে বিশ্বাস কর (মার্ক ১:১৫)। বলা যেতে পারে, এবাণী একপ্রকারে গোটা খ্রিষ্টীয় জীবনের সার। খ্রিষ্ট দ্বারা প্রচারিত রাজ্যে কেবল মন পরিবর্তন করা অর্থাৎ গোটা মানুষের তথা মানুষের সমস্ত উপলব্ধি, বিচারমান ও সিদ্ধান্তের আন্তরিক ও সম্পূর্ণ পরিবর্তন ও নবায়নের মধ্য দিয়েই প্রবেশ করা যেতে পারে; এমন পরিবর্তন ও নবায়ন যা মানুষের অন্তরে ঈশ্বরের পবিত্রতা ও ভালবাসার আলোতেই ঘটে—সেই যে পবিত্রতা ও ভালবাসা পুত্রের মধ্যে আমাদের কাছে পূর্ণ মাত্রায়ই প্রকাশিত ও অর্পিত হয়েছে।
মনপরিবর্তনের জন্য পুত্রের আমন্ত্রণ আরও জরুরী হয়ে ওঠে, কারণ তিনি সে কথা শুধু প্রচার করেন না, বরং নিজের মধ্যেই তার একটা দৃষ্টান্ত অর্পণ করেন। বস্তুতপক্ষে খ্রিষ্টই অনুতপ্তদের সর্বোত্তম আদর্শ: তিনি তো নিজের নয়, পরের পাপকর্মের দণ্ড বহন করতে চাইলেন।
খ্রিষ্টের সামনে মানুষ নতুন আলোতে আলোকিত হয়, ফলে ঈশ্বরের পবিত্রতা ও পাপের গুরুত্বও মেনে নেয়; খ্রিষ্টের মুখ দিয়ে সেই বাণী প্রচারিত হয় যা মনপরিবর্তনের জন্য আমন্ত্রণ করে ও পাপের ক্ষমা মঞ্জুর করে—এ দানগুলি এমন যেগুলি মানুষ বাপ্তিস্ম সাক্রামেন্তে পূর্ণ মাত্রায় লাভ করে। কেননা তেমন সাক্রামেন্ত মানুষকে প্রভুর যন্ত্রণাভোগ, মৃত্যু ও পুনরুত্থানের অনুরূপ করে তোলে, এবং বাপ্তিস্মপ্রাপ্ত ব্যক্তির গোটা জীবনকে এ রহস্যের মুদ্রাঙ্কনের অধীনেই প্রতিষ্ঠিত করে।
সুতরাং গুরুর অনুসরণ করে প্রত্যেক খ্রিষ্টভক্তের পক্ষে আত্মত্যাগ করা, আপন ক্রুশ তুলে নেওয়া, খ্রিষ্টের দুঃখযন্ত্রণার সহভাগী হওয়া প্রয়োজন; এভাবে তাঁর মৃত্যুর দৃষ্টান্তে রূপান্তরিত হয়ে সে পুনরুত্থানের গৌরবের যোগ্য হতে সক্ষম হয়ে ওঠে।
উপরন্তু, গুরুর অনুসরণ করে তার পক্ষে এও প্রয়োজন হবে, সে যেন নিজের জন্য আর জীবনযাপন না করে, বরং তাঁরই জন্য যিনি তাকে ভালবেসেছেন ও তার জন্য নিজেকে দান করেছেন, এবং যে দুঃখযন্ত্রণার অংশ খ্রিষ্টের এখনও অপূর্ণাঙ্গ রয়েছে, তাঁর দেহের জন্য (কল ১:২৪) তথা স্বয়ং মণ্ডলীর জন্য তার নিজের মাংসে তা পূরণ ক’রে সে যেন ভাইদের জন্যও জীবন যাপন করে। আর শুধু তা নয়, মণ্ডলী খ্রিষ্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত হওয়ায় প্রত্যেক খ্রিষ্টভক্তের তপস্যা মণ্ডলীর গোটা সদস্যদের সঙ্গে স্বকীয় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেও চিহ্নিত: কেননা সে মণ্ডলীর ক্রোড়ে বাপ্তিস্মে মনপরিবর্তনের মৌলিক দান যে গ্রহণ করে, তা শুধু নয়, বরং তেমন দান পুনর্মিলন সাক্রামেন্তের মাধ্যমে খ্রিষ্টদেহের সেই সমস্ত অঙ্গগুলিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও পুনর্দৃঢ়ীকৃত হয়ে ওঠে যারা পাপে পতিত। ‘যারা পুনর্মিলন সাক্রামেন্ত গ্রহণ করে, তারা ঈশ্বরের করুণা দ্বারা তাঁর প্রতি করা-অপমানের ক্ষমা গ্রহণ করে ও সেই মণ্ডলীর সঙ্গেও পুনর্মিলিত হয়, যে মণ্ডলীকে তারা পাপের দরুন আঘাত করেছে ও যে মণ্ডলী ভালবাসা, আদর্শদান ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে তাদের নিজেদের মনপরিবর্তনে সহযোগিতা করে।’ পরিশেষে, সাক্রামেন্ত গ্রহণের সময়ে প্রায়শ্চিত্তমূলক যে ক্ষুদ্র কাজ ব্যক্তিগত ভাবে দেওয়া হয়, মণ্ডলীতেই তা বিশেষ এক প্রকারে খ্রিষ্টের অসীম প্রায়শ্চিত্তের সহভাগিতা লাভ করে; এবং একইসময়, মণ্ডলীর সাধারণ ব্যবস্থা গুণে, অনুতপ্ত ব্যক্তি সাক্রামেন্তগত প্রায়শ্চিত্তের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যত কাজ, যত যন্ত্রণা ও যত দুঃখ-কষ্ট ঘনিষ্ঠভাবে যোগ করতে পারে।
এভাবে নিজ দেহে ও আত্মায় প্রভুর মৃত্যু বহন করার কর্তব্য বাপ্তিস্মপ্রাপ্ত ব্যক্তির গোটা জীবনকে প্রতিটি মুহূর্তে ও তার প্রতিটি বহিঃপ্রকাশে আলিঙ্গন করে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৮৪
ধুয়ো:
সুখী তারা, যারা বাস করে তোমার গৃহে,
তারা তোমার প্রশংসা নিত্যই করে থাকে।

তোমার আবাসগৃহগুলো কতই না মনোরম, হে সেনাবাহিনীর প্রভু;
প্রভুর প্রাঙ্গণের জন্য আমার প্রাণ ব্যাকুল, আহা মূর্ছাতুর;
জীবনময় ঈশ্বরের জন্য আনন্দচিৎকারে ফেটে পড়ে
আমার হৃদয়, আমার দেহ।   [ধুয়ো]

চড়ুই পাখিও খুঁজে পায় বাসা,
দোয়েলও পায় শাবকদের রেখে যাওয়ার নীড়—
সেই তো তোমার বেদি, হে সেনাবাহিনীর প্রভু,
হে আমার রাজা, হে আমার পরমেশ্বর।   [ধুয়ো]

সুখী তারা, যারা বাস করে তোমার গৃহে,
তারা তোমার প্রশংসা নিত্যই করে থাকে।
সুখী তারা, তোমাতেই যাদের শক্তি,
যাদের অন্তরে বিরাজিত তোমার যত পথ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এ পৃথিবীতে স্বর্গীয় গৌরবের পণ সেই দিব্য রুটি গ্রহণ ক’রে
আমরা তোমাকে অনুনয় করি:
যা কিছু রহস্যের আড়ালে উদ্‌যাপন করছি,
তা যেন আমাদের অন্তরে পূর্ণ সার্থকতা অর্জন করে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৪র্থ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, মানবসমাজের যে পুনর্মিলন তোমার ঐশবাণী সাধন করেছেন,
তা সত্যি তোমার এক অপূর্ব কীর্তি।
আশীর্বাদ কর:
গোটা খ্রিষ্টমণ্ডলী যেন উদ্দীপ্ত ভক্তি ও জ্বলন্ত বিশ্বাসের সঙ্গে
আসন্ন পাস্কাপর্বের দিকে দ্রুতপদে এগিয়ে চলতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
যোশুয়া পুস্তক থেকে পাঠ (৫:৯ক,১০-১২)

একদিন প্রভু যোশুয়াকে বললেন, ‘আজ আমি তোমাদের কাছ থেকে মিশরের দুর্নাম দূর করে দিলাম।’
ইস্রায়েল সন্তানেরা গিল্গালে শিবির বসাল, আর সেই মাসের চতুর্দশ দিনের সন্ধ্যাবেলায় যেরিখোর নিম্নভূমিতে পাস্কা পালন করল।
পাস্কার পরদিনে তারা সেই অঞ্চলের উৎপন্ন ফল খেতে লাগল; ঠিক সেদিনেই খামিরবিহীন রুটি ও গম ঝলসে খেল।
পরদিনেই, তারা সেই অঞ্চলের উৎপন্ন ফল খাবার পরেই, মান্না আর নেমে এল না; তখন থেকেই ইস্রায়েল সন্তানেরা আর মান্না পেল না। সেই বছরেই তারা কানান দেশের ফল খেতে লাগল।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩৪
ধুয়ো:
আস্বাদন কর,
দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৫:১৭-২১)

প্রিয়জনেরা, কেউ যদি খ্রিষ্টে থাকে, সে নতুন সৃষ্টি; প্রাক্তন সবকিছু কেটে গেছে, দেখ, সবকিছু নতুন হয়ে উঠেছে!
তবু এসব কিছু সেই ঈশ্বর থেকেই আগত, যিনি খ্রিষ্টের মধ্য দিয়ে নিজের সঙ্গে আমাদের পুনর্মিলিত করেছেন, এবং পুনর্মিলনের সেবাদায়িত্ব আমাদের দিয়েছেন। হ্যাঁ, ঈশ্বরই খ্রিষ্টে নিজের সঙ্গে জগতের পুনর্মিলন সাধন করলেন: তিনি মানুষদের অন্যায়-অপরাধ তাদেরই বলে গণ্য করলেন না, এবং সেই পুনর্মিলনের বাণী আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
তাই আমরা খ্রিষ্টের পক্ষে বাণীদূত—ঠিক যেন স্বয়ং ঈশ্বরই আমাদের মধ্য দিয়ে আহ্বান জানাচ্ছেন। খ্রিষ্টের খাতিরে আমরা মিনতি করছি: ঈশ্বরের সঙ্গে নিজেদের পুনর্মিলিত হতে দাও।
যিনি পাপ জানেননি, তাঁকে তিনি আমাদের পক্ষে পাপ করে তুলেছেন, যেন আমরা তাঁর মধ্যে ঈশ্বরের ধর্মময়তা হয়ে উঠি।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।
আমি উঠে আমার পিতার কাছে যাব, তাঁকে বলব,
‘পিতা, আমি স্বর্গের বিরুদ্ধে ও তোমার সামনে পাপ করেছি।’
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৫:১-৩,১১-৩২)

সেসময়ে কর-আদায়কারী ও পাপীরা সকলেই যিশুর বাণী শুনবার জন্য দলে দলে তাঁর কাছে আসছিল; এতে ফরিসিরা ও শাস্ত্রীরা গজগজ করে বলতে লাগলেন, ‘লোকটা পাপীদের গ্রহণ করে নেয়, তাদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়াও করে!’
তাই তিনি তাঁদের এই উপমা-কাহিনী শোনালেন: ‘একজন লোকের দু’টি ছেলে ছিল। ছোটজন পিতাকে বলল, পিতা, আমার ভাগের সম্পত্তি আমাকে দিয়ে দাও। তাই তিনি তাদের মধ্যে ধন-সম্পত্তি ভাগ করে দিলেন। অল্প দিন পর ছোট ছেলেটি নিজের সবকিছু সংগ্রহ করে নিয়ে দূরদেশে চলে গেল, আর সেখানে উচ্ছৃঙ্খলের মত নিজ সম্পত্তি উড়িয়ে দিল।সে সবকিছু ব্যয় করে ফেললে পর সেই দেশে করাল দুর্ভিক্ষ দেখা দিল, তাতে সে কষ্টে পড়তে লাগল। তাই সে গিয়ে সেই দেশের এক অধিবাসীর কাছে চাকরের কাজ নিল, আর সে তাকে শূকর চরাতে নিজের মাঠে পাঠিয়ে দিল। তার খুবই ইচ্ছে হত, শূকরে যে শুঁটি খায়, তা খেয়ে সে পেট ভরাবে, কিন্তু কেউই তা তাকে দিত না।
তখন তার চেতনা হল, বলল, আমার পিতার কত মজুর প্রচুর খাবার পাচ্ছে, কিন্তু আমি এখানে ক্ষুধায় মরছি। আমি উঠে আমার পিতার কাছে যাব, তাঁকে বলব, পিতা, আমি স্বর্গের বিরুদ্ধে ও তোমার সামনে পাপ করেছি; আমি তোমার ছেলে নামের আর যোগ্য নই। তোমার একজন মজুরের মত আমার প্রতি ব্যবহার কর। তখন সে উঠে নিজের পিতার কাছে যাবার জন্য রওনা হল।
সে বহুদূরে থাকতেই তার পিতা তাকে দেখতে পেলেন, ও দয়ায় বিগলিত হয়ে ছুটে গিয়ে তার গলা জড়িয়ে ধরে তাকে চুম্বন করতে লাগলেন। তখন ছেলেটি তাঁকে বলল, পিতা, আমি স্বর্গের বিরুদ্ধে ও তোমার সামনে পাপ করেছি, আমি তোমার ছেলে নামের আর যোগ্য নই। কিন্তু পিতা নিজ দাসদের বললেন, শীঘ্র যাও, সবচেয়ে ভাল পোশাক এনে একে পরিয়ে দাও, এর আঙুলে আঙটি পরাও ও পায়ে জুতো দাও; এবং নধর বাছুরটা এনে কাট; আর এসো, ভোজ করে ফুর্তি করি, কারণ আমার এই ছেলে মৃতই ছিল, আর এখন বেঁচে উঠেছে; হারানোই ছিল, আর এখন তাকে পাওয়া গেছে। তাই তারা ফুর্তি করতে লাগল।
তাঁর বড় ছেলে তখন মাঠে ছিল; ফেরার পথে সে যখন বাড়ির কাছে পৌঁছল, তখন গানবাজনা ও নাচের শব্দ শুনতে পেল। সে একজন দাসকে ডেকে জিজ্ঞাসা করল, এসব কি? সে তাকে বলল, আপনার ভাই ফিরে এসেছে, এবং আপনার পিতা নধর বাছুরটা কেটে দিয়েছেন, কারণ তিনি তাকে সুস্থ শরীরে ফিরে পেয়েছেন। তখন সে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠল, ভিতরে যেতে রাজি হল না; এতে তার পিতা বাইরে এসে তাকে সাধাসাধি করতে লাগলেন, কিন্তু সে পিতাকে বলল, দেখ, এত বছর ধরে আমি তোমার সেবা করে আসছি, কখনও তোমার কোন আজ্ঞায় অবাধ্য হইনি, অথচ আমার বন্ধুদের সঙ্গে ফুর্তি করার জন্য তুমি আমাকে একটা ছাগছানাও কখনও দাওনি; কিন্তু তোমার এই যে ছেলে বেশ্যাদের সঙ্গে তোমার ধন-সম্পত্তি গ্রাস করেছে, সে এলেই তুমি তার জন্য নধর বাছুরটা কাটলে।
তিনি তাকে বললেন, বৎস, তুমি সবসময়েই আমার সঙ্গে আছ, আর যা কিছু আমার, তা সবই তোমার। কিন্তু আমাদের ফুর্তি ও আনন্দ করা সমীচীন হয়েছে, কারণ তোমার এই ভাই মৃতই ছিল, আর এখন বেঁচে উঠেছে; হারানোই ছিল, আর এখন তাকে পাওয়া গেছে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিন-লিখিত ‘সামসঙ্গীত-মালায় উপদেশাবলি’ (সাম ১৩৮, ৩-৬)

দূর থেকেই তুমি বুঝতে পার আমার চিন্তা সকল, তুমি তো লক্ষ রাখ আমি কখন হাঁটি, কখন শুই। আমার সকল পথ তোমার কাছে পরিচিত (সাম ১৩৯:২-৩)। দূর থেকে কেন? মাতৃভূমি সেই ঊর্ধ্বলোকে আমি পৌঁছবার আগেও, আমি পথ চলতেই তুমি আমার চিন্তা জেনে থাক। তুমি একান্ত ব্যগ্রতার সঙ্গে ছোট ছেলের অপেক্ষায় আছ, কেননা সেও খ্রিষ্টদেহ হয়েছে—সেই যে মণ্ডলী সর্বজাতি থেকে তোমার কাছে আসছে। বস্তুত, ছোট ছেলে দূরে চলে গেছিল। এক পিতার দু’টো ছেলে ছিল: বড়জন কখনও দূরে যায়নি, সে মাঠে কাজ করত: সে হল সেই পবিত্রজনদের প্রতীক যাঁরা বিধানের সময়ে বিধানের বিধিনিয়ম পালন করতেন।
কিন্তু পরবর্তীকালে মানবজাতি প্রতিমা পূজার দিকে ফিরে দূর দেশে চলে গেছিল। কেননা তোমার স্রষ্টা থেকে তত দূরবর্তী কী থাকতে পারে, যত দূরবর্তী হয় স্রষ্টার সেই ছবি যা তুমি নিজে থেকে কল্পনা কর? তবে সেই ছোট ছেলে দূর দেশে গেছিল, সঙ্গে করে নিয়েছিল তার যত সম্পদ, আর সুসমাচারের বর্ণনা থেকে আমরা জানি, সে সেই সম্পদ অপব্যয় করে উড়িয়ে দিয়েছিল; ক্ষুধার জ্বালায় সে সেই দেশের একটা জমিদারের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল, আর সে তাকে শূকর চরানোর দায়িত্ব দিয়েছিল; তার খুবই ইচ্ছে হত, সে শূকরদের শুঁটি খেয়েই পেট ভরাবে, কিন্তু পারত না।
তখন, তত পরিশ্রম, ক্লান্তি, দুর্দশা, নিঃস্বতার পরে পিতার কথা তার মনে পড়ল, সিদ্ধান্ত নিল, সে ফিরে যাবে; সে বলল: আমি উঠে আমার পিতার কাছে যাব (লুক ১৫:১৮)। এখন তুমি তার কণ্ঠস্বর চিনে নাও, সে বলছে: তুমি তো জান আমি কখন বসি, কখন উঠি (সাম ১৩৯:২)। আমি নিঃস্বতায় বসেছি, তোমার রুটির বাসনায় আবার উঠলাম। দূর থেকেই তুমি বুঝতে পার আমার চিন্তা সকল: এজন্যই প্রভু সুসমাচারে বলেন, পিতা তার দিকে ছুটে গেলেন (লুক ১৫:২০)। এ যুক্তিসঙ্গত, কেননা পিতা দূর থেকেই তার চিন্তা সকল বুঝতে পেরেছিলেন: তুমি তো লক্ষ রাখ আমি কখন হাঁটি, কখন শুই।
তাই তোমার কাছে আমার পথ পরিচিত; কোন্‌ পথ, সেই যে কুপথ ছাড়া যে পথ সে চলেছিল পিতা থেকে দূরে যাবার জন্য—সেই যে পথ সে মনে করছিল, যিনি তাঁকে শাস্তি দিতে পারতেন তাঁরই চোখের আড়ালে থাকবে! অথচ তাকে আবার কাছে পাবার উদ্দেশ্যে পিতা যদি দূরে তাকে শাস্তি না দিতেন, তাহলে ছেলেটা সেই নিঃস্বতায় নিঃশেষিত হতে পারত না, শূকরদেরও চরাতে পারত না। ফলে, ঈশ্বরের ন্যায্য শাস্তি অবিরতই তার পিছে পিছে থাকতে, বিপদের মুখে পলাতকের মত সে বলে: তুমি তো লক্ষ রাখ আমি কখন হাঁটি, কখন শুই। আমার সকল পথ তোমার কাছে পরিচিত। কেননা আমরা যেইখানে যাই বা যেইখানে পৌঁছই না কেন, ঈশ্বর আমাদের আন্তর অনুভূতিতেই আমাদের শাস্তি দেন। আমার সকল পথ তোমার কাছে পরিচিত। আমি পথে পা বাড়াবার আগে, আমি পথ চলবার আগেও তুমি আমার সকল পথ জান; আর শুধু তা নয়: তুমি এ হতে দিয়েছ যে, আমি কষ্ট করেই আমার সকল পথে চলব যাতে সেই কষ্ট এড়াবার জন্য তোমার কাছে ফিরে যাই।
সামসঙ্গীতের রচয়িতা বলেন, আমার জিহ্বায় ছলনা নেই (সাম ১৩৯:৪ সত্তরী)। কেন? দেখ, আমি স্বীকার করছি: আমি আমার নিজের পথ অনুসরণ করেছি, তোমার কাছে নিজেকে বিদেশী করেছি, তোমার কাছ থেকে দূরে চলে গেছি সেসব কিছু নিয়ে যা আমি মনে করছিলাম মঙ্গল, অথচ তুমি না থাকায় হল আমার অমঙ্গল। কেননা তোমাকে ছাড়া আমি যদি ভালই থাকতাম, হয় তো তোমার কাছে ফিরে যাবার ইচ্ছা হত না। এজন্য নিজের পাপ স্বীকার ক’রে সামগীতির রচয়িতা ধর্মময়তাপ্রাপ্ত খ্রিষ্টদেহের হয়ে নিজের জন্য নয় বরং তার অনুগ্রহ গুণে বললেন, আমার জিহ্বায় ছলনা নেই।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
প্রভু আমার চোখে প্রলেপ দিলেন:
আমি গেলাম, নিজেকে ধৌত করলাম,
আমি এখন চোখে দেখতে পাচ্ছি,
আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, যত মানুষ এজগতে আসে, তুমিই যখন তাদের আলোকিত কর,
তখন অনুনয় করি: তোমার অনুগ্রহের বিভায় আমাদের অন্তর আলোকিত কর,
আমরা যেন সর্বদা তা-ই ভাবি যা তোমার মাহাত্ম্যের গ্রহণযোগ্য,
আর অকপট অন্তরে যেন তোমাকে ভালবাসতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৫ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর: জগতের প্রতি যে ভালবাসার খাতিরে
তোমার পুত্র মৃত্যুর হাতে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন,
তোমার সহায়তায় আমরাও যেন একাগ্রতার সঙ্গে
সেই ভালবাসার পথে চলতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৪৩:১৬-২১)

একথা বলছেন সেই প্রভু,
যিনি সমুদ্রে পথ করে দিলেন
ও প্রচণ্ড জলরাশির মাঝে রাস্তা উন্মুক্ত করলেন,
যিনি রথ, অশ্ব, সৈন্য ও বীরযোদ্ধাকে একসঙ্গে বের করে আনলেন;
এখন তারা শুয়ে আছে, আর কখনও উঠতে পারবে না;
তারা সলতের মত নিঃশেষিত হয়ে নিভে গেল।
তোমরা অতীতের কথা আর মনে করো না,
প্রাচীন যত ঘটনা আর চিন্তা করো না!
এই দেখ, আমি নতুন কিছু করতে যাচ্ছি:
ঠিক এখনই তা গজিয়ে উঠছে, তোমরা কি এবিষয়ে সচেতন নও?
আমি প্রান্তরেও একটা পথ প্রস্তুত করছি,
মরুভূমিতে নানা রাস্তা করে দিচ্ছি।
বন্যজন্তু, শিয়াল ও উটপাখি আমার গৌরবকীর্তন করবে,
কারণ আমি প্রান্তরে জল দিই,
মরুভূমিতে নদনদী যোগাই,
আমার জনগণের, আমার মনোনীতদেরই পিপাসা মিটিয়ে দেবার জন্য,
যে জনগণকে আমি নিজের জন্য গড়েছি,
তারা যেন প্রচার করে আমার প্রশংসাবাদ।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১২৬
ধুয়ো:
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু;
আমরা আনন্দিত।

প্রভু যখন সিয়োনের বন্দিদের ফিরিয়ে আনলেন,
আমরা তখন যেন স্বপ্নই দেখি!
তখন আমাদের মুখ হাসিতে মুখর,
আমাদের জিহ্বা আনন্দচিৎকারে পূর্ণ।   [ধুয়ো]

তখন বিজাতিদের মধ্যে একথা চলত,
‘তাদের জন্য কী মহা মহা কাজ না করেছেন প্রভু!’
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু,
আমরা আনন্দিত।   [ধুয়ো]

আমাদের বন্দিদের ফিরিয়ে আন, প্রভু,
তাদের ফিরিয়ে আন নেগেব প্রান্তরে খরস্রোতের মত।
যে অশ্রুর মধ্যে বীজ বোনে,
সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফসল সংগ্রহ করবে।   [ধুয়ো]

সে যায়, কাঁদতে কাঁদতে সে চলে যায়,
সঙ্গে নিয়ে যায় বপনের বীজ;
সে আসে, সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফিরে আসে,
সঙ্গে নিয়ে আসে ফসলের আঁটি।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
ফিলিপ্পীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৩:৮-১৪)

প্রিয়জনেরা, আমার প্রভু খ্রিষ্টযিশুকে জানা আমার কাছে এমনই উৎকৃষ্ট বিষয় যে, আমি অন্য সবকিছু লোকসান বলে গণ্য করছি। তাঁরই খাতিরে আমি ওই সবকিছু ছেড়ে দিতে সহ্য করেছি, আবর্জনা বলেই তা গণ্য করছি, খ্রিষ্টকেই যেন লাভ করতে পারি, ও শেষে তাঁরই মধ্যে একটা স্থান পেতে পারি—কিন্তু আমার নিজের ধর্মময়তার ফলে যা বিধান থেকে আগত, তা নয়, বরং এমন ধর্মময়তার ফলে, যা খ্রিষ্টে বিশ্বাস দ্বারা পাওয়া, বিশ্বাসমূলক সেই ধর্মময়তা যা ঈশ্বরেরই দেওয়া। ফলে আমি যেন তাঁকে, তাঁর পুনরুত্থানের পরাক্রম ও তাঁর যন্ত্রণাভোগের সহভাগিতা জানতে পারি, এভাবে যেন তাঁর মৃত্যুর সমরূপ হতে পারি, এই প্রত্যাশায় যে, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানের নাগাল পেতে পারব।
আমি যে ইতিমধ্যে তেমন পুরস্কার জয় করেছি কিংবা ইতিমধ্যে শেষ লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি, তা নয়; কিন্তু তা জয় করার জন্য দৌড়তে আপ্রাণ চেষ্টা করি, কারণ আমাকেও খ্রিষ্টযিশু দ্বারা জয় করা হয়েছে। ভাই, আমি নিজের বেলায় মনে করি না, ইতিমধ্যে তা জয় করেছি; কিন্তু এটুকু জানি, পিছনে যা কিছু আছে সবই ভুলে গিয়ে, সামনে যা রয়েছে সেইদিকে প্রাণপণে ধাবিত হয়ে শেষ-সীমানার দিকে ছুটে দৌড়তে থাকি যেন খ্রিষ্টযিশুতে ঈশ্বরের সেই স্বর্গীয় আহ্বানের পুরস্কার জয় করতে পারি।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।
সমস্ত হৃদয় দিয়ে আমার কাছে ফিরে এসো—একথা বলছেন প্রভু;
আমি যে দয়াবান, স্নেহশীল।
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৮:১-১১)

সেসময়ে যিশু জৈতুন পর্বতে গেলেন। ভোরবেলায় তিনি আবার মন্দিরে এসে উপস্থিত হলেন, আর সমস্ত জনগণ তাঁর কাছে আসতে লাগল; তিনি সেখানে আসন নিয়ে তাঁদের উপদেশ দিতেন।
শাস্ত্রীরা ও ফরিসিরা একজন স্ত্রীলোককে তাঁর কাছে নিয়ে এলেন, যাকে ব্যভিচারের ব্যাপারে ধরা হয়েছিল। তাকে মাঝখানে দাঁড় করিয়ে তাঁরা তাঁকে বললেন, ‘গুরু, এই স্ত্রীলোকটি ব্যভিচার করার সময়ে ধরা পড়েছে; এবং বিধানে মোশি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, এই ধরনের মেয়েদের পাথর ছুড়ে মারা হবে। তবে আপনি কী বলেন?’ তাঁকে যাচাই করার জন্যই তো তাঁরা একথা বলেছিলেন, যেন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার মত কোন একটা সূত্র পেতে পারেন।
কিন্তু যিশু নিচু হয়ে মাটিতে আঙুল দিয়ে লিখতে লাগলেন। আর যেহেতু তাঁরা কথাটা বারবার জিজ্ঞাসা করছিলেন, সেজন্য তিনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তাঁদের বললেন, ‘আপনাদের মধ্যে যিনি নিষ্পাপ, তিনি-ই প্রথমে একে পাথর ছুড়ে মারুন।’ আবার নিচু হয়ে তিনি আঙুল দিয়ে মাটিতে লিখতে লাগলেন। তাঁর একথা শুনে তাঁরা বৃদ্ধ থেকে শুরু করে শেষজন পর্যন্ত একে একে চলে গেলেন।
তখন মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির সঙ্গে কেবল যিশু একা রইলেন। যিশু মাথা তুলে তাকে বললেন, ‘নারী, ওঁরা কোথায়? কেউ কি তোমাকে দণ্ডিত করেনি?’ সে বলল, ‘না, প্রভু, কেউ করেনি।’ আর যিশু বললেন, ‘আমিও তোমাকে দণ্ডিত করব না। এবার যাও; এখন থেকে আর পাপ করো না।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আম্ব্রোজের পত্র

শাস্ত্রীরা ও ফরিসিরা ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে প্রভু যিশুর সামনে একটি ব্যভিচারিণী স্ত্রীলোককে উপস্থিত করেছিল: তিনি তাকে ক্ষমা করলে তবে মনে হত, তিনি বিধান তুচ্ছ করতেন; তাকে দণ্ডিত করলে, তবে আপন উদ্দেশ্যের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করতেন, কেননা তিনি নাকি সকলের পাপ মোচন করতেই এসেছিলেন। এজন্য তারা তাকে তাঁর সামনে দাঁড় করিয়ে বলল: গুরু, এই স্ত্রীলোকটি ব্যভিচার করার সময়ে ধরা পড়েছে; এবং বিধানে মোশি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, এই ধরনের মেয়েদের পাথর ছুড়ে মারা হবে। তবে আপনি কী বলেন? (যোহন ৮:৪)।
তারা একথা বলছে, এমন সময় যিশু আনত হয়ে আঙুল দিয়ে মাটিতে লিখতে লাগলেন। আর যেহেতু তারা তাঁর উত্তরের অপেক্ষায় ছিল, সেজন্য তিনি মাথা তুলে বললেন: আপনাদের মধ্যে যিনি নিষ্পাপ, তিনি-ই প্রথমে একে পাথর ছুড়ে মারুন (যোহন ৮:৭)। যে নিষ্পাপ, সে-ই মাত্র পাপের শাস্তি দেবে, এ উক্তির চেয়ে দিব্য উক্তি কি থাকতে পারে? তুমি কি করে সহ্য করতে পারতে, যে নিজের পাপের পক্ষসমর্থন করে, সেই পরের পাপের শাস্তি দেবে? যে পরের বেলায় তা দণ্ডিত করে যা সে নিজেও করে, সে কি নিজে থেকে নিজেকে দণ্ডিত করে না?
যিশু একথা বলতে বলতে মাটিতে লিখছিলেন। কী লিখছিলেন? হয় তো একথা: তোমার ভাইয়ের চোখে যে কুটোটুকু রয়েছে, তুমি তো তা লক্ষ কর, কিন্তু তোমার নিজের চোখে যে কড়িকাঠ রয়েছে, তা তুমি দেখ না (মথি ৭:৩)। তিনি মাটিতে সেই আঙুল দিয়ে লিখছিলেন যা দিয়ে বিধান লিখেছিলেন: পাপীরা ধুলায় লিপিবদ্ধ হবে (যেরে ৭:১৩), ধার্মিকেরা স্বর্গে, যেমন তিনি শিষ্যদের বলেছিলেন: আনন্দ কর, কারণ তোমাদের নাম স্বর্গে লেখা আছে (লুক ১০:২০)।
একথা শুনে তারা বৃদ্ধ থেকে শুরু করে শেষজন পর্যন্ত একে একে ভাবতে ভাবতে চলে গেল। যিশু একা রইলেন, আর সেই স্ত্রীলোক, ওখানে মাঝখানে। যুক্তিসঙ্গত ভাবেই তো লেখা আছে, যারা খ্রিষ্টের সঙ্গে থাকতে পারল না, তারা বাইরে চলে গেল, কেননা বাইরে বাহ্যিক অক্ষর, কিন্তু ভিতরে রহস্যটি রয়েছে। ধর্মময়তার সূর্য দেখতে অক্ষম হয়ে যারা বিধানের ছায়ায় বাস করত, তারা পবিত্র শাস্ত্রে এমন কিছুর পিছনে যেত যা ফলের চেয়ে গাছের পাতারই সঙ্গে তুলনীয়।
পরিশেষে তারা চলে গেলে যিশু একা রইলেন, আর সেই স্ত্রীলোক, ওখানে মাঝখানে। যিশু পাপ ক্ষমা করার জন্য একা রইলেন, যেমনটি বলেছিলেন, দেখ, সেই ক্ষণ আসছে, এমনকি তা এসেই গেছে, যখন তোমরা প্রত্যেকে যে যার পথে ছড়িয়ে পড়বে আর আমাকে একাই রেখে যাবে (যোহন ১৬:৩২): কোন মধ্যস্থ, বা কোন স্বর্গদূত আসেননি, প্রভু নিজেই আপন জনগণের পরিত্রাণ সাধন করেন। তিনি একা রইলেন, কেননা কোন মানুষই পাপমোচনের অধিকারে খ্রিষ্টের সঙ্গে সম-অধিকারী হতে পারে না। তেমন অধিকার কেবল খ্রিষ্টেরই যিনি জগতের পাপ হরণ করলেন। আর সেই স্ত্রীলোকটি ক্ষমা পেল, যে স্ত্রীলোক ইহুদীরা চলে যেতে যিশুর সঙ্গে একা রইলেন।
মাথা তুলে যিশু স্ত্রীলোকটিকে বললেন: ওঁরা কোথায়? কেউ কি তোমাকে দণ্ডিত করেনি? সে বলল, না, প্রভু, কেউ করেনি। আর যিশু বললেন, আমিও তোমাকে দণ্ডিত করব না। এবার যাও; এখন থেকে আর পাপ করো না (যোহন ৮:১০-১১)।
ঐশরহস্যগুলি ও খ্রিষ্টের দয়া লক্ষ কর। স্ত্রীলোকটি অভিযুক্ত হলে খ্রিষ্ট মাথা আনত করেন, তখনই মাথা তোলেন যখন অভিযোক্তা মিলিয়ে যায়। কেননা তিনি কাউকে দণ্ডিত করতে চান না, তিনি বরং সকলকে ক্ষমাই করতে ইচ্ছা করেন। তবে, এবার যাও, এখন থেকে আর পাপ করো না এর অর্থ কী? অর্থ এ: যেহেতু খ্রিষ্ট তোমার মুক্তি সাধন করলেন, সেজন্য দণ্ড যা মোচন করতে অক্ষম কিন্তু কেবল বোঝাতেই সক্ষম, অনুগ্রহই তার সংস্কার করুক।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১২১
ধুয়ো:
জীবিত যে কেউ আমার প্রতি বিশ্বাস রাখে,
সে কখনও মরবে না—প্রভুর উক্তি।

আমি চোখ তুলি গিরিমালার দিকে,
আমার সাহায্য কোথা থেকে আসবে?
আমার সাহায্য সেই প্রভু থেকেই আসবে,
আকাশ ও পৃথিবীর নির্মাতা যিনি।   [ধুয়ো]

তিনি তোমার পা দেবেন না টলমল হতে,
ঘুমিয়ে পড়বেন না কো তোমার রক্ষক।
দেখ, ঘুমিয়ে পড়বেন না, হবেন না নিদ্রামগ্ন
ইস্রায়েলের রক্ষক।   [ধুয়ো]

প্রভুই তোমার রক্ষক, প্রভুই তোমার ছায়া,
তিনি তোমার ডান পাশে দাঁড়ান।
দিনমানের সূর্য কি রাত্রিবেলার চাঁদ,
কিছুই তোমায় আঘাত করবে না।   [ধুয়ো]

প্রভু যত অনিষ্ট থেকে তোমাকে রক্ষা করবেন,
রক্ষা করবেন তোমার প্রাণ।
প্রভু তোমার গমনাগমন রক্ষা করবেন
এখন থেকে চিরকাল ধরে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, অনুনয় করি:
পুণ্যসংযোগের ফলে আমরা যখন খ্রিষ্টের দেহরক্তের অংশী হয়েছি,
তখন যেন সর্বদাই তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বলে পরিগণিত হতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]