সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
সাধারণকাল
• সাধারণকালের প্রথম সপ্তাহ প্রভুর বাপ্তিস্ম থেকে শুরু হয়।
• পরমপবিত্র ত্রিত্ব পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• খ্রিষ্টের পরমপবিত্র দেহরক্ত পরমপবিত্র ত্রিত্বের পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• পরমারাধ্য যিশুহৃদয় পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী দ্বিতীয় রবিবারের পরবর্তী শুক্রবারে পালিত হয়।
• বিশ্বরাজ আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট সাধারণকালের শেষ রবিবারে পালিত হয়।

রবিবার: ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ৩১ | ৩২ | ৩৩
সাধারণকালের মহাপর্বচতুষ্টয়: ত্রিত্ব | খ্রিষ্টের দেহরক্ত | যিশুহৃদয় | খ্রিষ্টরাজা

২য় রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, তুমিই স্বর্গমর্তের সকল প্রাণীর নিয়ন্তা!
প্রসন্ন হয়ে তোমার জনগণের মিনতি কান পেতে শোন:
আমাদের জীবনকালে তোমার শান্তি মঞ্জুর কর।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৬২:১-৫)

সিয়োনের খাতিরে আমি নীরব থাকব না,
যেরুসালেমের খাতিরে আমি শান্ত থাকব না,
যতক্ষণ না তার ধর্মময়তা উদিত হয় জাজ্বল্যমান তারার মত,
মশালের মতই না জ্বলে ওঠে তার পরিত্রাণ।
তখন দেশগুলি তোমার ধর্মময়তা দেখতে পাবে,
সকল রাজা দেখতে পাবে তোমার গৌরব,
তোমায় এক নতুন নামে ডাকা হবে,
যে নাম প্রভুর নিজের মুখই মঞ্জুর করবে।
তুমি হবে প্রভুর হাতে যেন কান্তির মুকুট,
তোমার পরমেশ্বরের করতলে রাজকিরীট যেন।
কেউ তোমায় আর ‘পরিত্যক্তা’ বলে ডাকবে না,
তোমার দেশকেও কেউ আর ‘ধ্বংসিতা’ বলবে না;
বরং তোমায় ডাকা হবে ‘তার মধ্যে আমার প্রীতি’,
আর তোমার দেশকে ‘বিবাহিতা’,
কারণ প্রভু তোমাতে প্রীত হবেন
আর তোমার দেশের বিবাহ হবে।
হ্যাঁ, যুবক যেমন কুমারী কন্যাকে বিবাহ করে,
তোমার নির্মাতা তেমনি তোমায় বিবাহ করবেন;
বর যেমন কনেকে নিয়ে পুলকিত হয়,
তোমার পরমেশ্বর তেমনি তোমাকে নিয়ে পুলকিত হবেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯৬
ধুয়ো:
সর্বজাতির মাঝে বর্ণনা কর
প্রভুর সমস্ত আশ্চর্য কাজ।

প্রভুর উদ্দেশে গাও নতুন গান,
প্রভুর উদ্দেশে গান গাও, সমগ্র পৃথিবী;
প্রভুর উদ্দেশে গান গাও,
ধন্য কর তাঁর নাম,   [ধুয়ো]

দিনের পর দিন প্রচার করে যাও তাঁর পরিত্রাণ।
জাতি-বিজাতির মাঝে বর্ণনা কর তাঁর গৌরব,
সর্বজাতির মাঝে
তাঁর সমস্ত আশ্চর্য কাজ।   [ধুয়ো]

প্রভুতে আরোপ কর, হে জাতিগুলির গোত্রসকল,
প্রভুতে আরোপ কর গৌরব ও শক্তি,
প্রভুতে আরোপ কর
তাঁর নামের গৌরব।   [ধুয়ো]

তাঁর পবিত্রতার আবির্ভাবে প্রভুর সম্মুখে কর প্রণিপাত।
সমগ্র পৃথিবী, তাঁর উদ্দেশে কম্পিত হও।
জাতি-বিজাতির মাঝে বল, ‘প্রভু রাজত্ব করেন।’
তিনি সততার সঙ্গে জাতিসকলকে বিচার করবেন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১২:৪-১১)

প্রিয়জনেরা, বহুবিধ অনুগ্রহদান আছে, আত্মা কিন্তু এক; বহুবিধ সেবাকর্ম আছে, প্রভু কিন্তু এক; বহুবিধ কর্মক্রিয়া আছে, কিন্তু সকলের মধ্যে যিনি সেই সবকিছু সাধন করে থাকেন, সেই ঈশ্বর এক।
কিন্তু প্রত্যেককে দেওয়া আত্মার সেই বিশেষ অভিব্যক্তি সার্বিক উপকারিতার উদ্দেশ্যেই দেওয়া। সেই আত্মা দ্বারা একজনকে দেওয়া হয় প্রজ্ঞার ভাষা, অন্য একজনকে—সেই আত্মা অনুসারে—দেওয়া হয় জ্ঞানের ভাষা, অন্য একজনকে সেই আত্মা থেকে দেওয়া হয় বিশ্বাস, অন্য একজনকে—সেই এক আত্মা থেকে—দেওয়া হয় আরোগ্যদানের ক্ষমতা, অন্য একজনকে পরাক্রম-কর্ম সাধন করার ক্ষমতা, অন্য একজনকে নবীর ভাষা, অন্য একজনকে আত্মাগুলোকে নির্ণয় করার ক্ষমতা, অন্য একজনকে নানা ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা, এবং অন্য একজনকে সেই সব ভাষার অর্থ বুঝিয়ে দেবার ক্ষমতা।
কিন্তু এই সকল কর্মক্রিয়া সেই একমাত্র ও একই আত্মাই সাধন করেন, আর তিনি ভাগ ভাগ ক’রে যাকে ইচ্ছা করেন তাকে দান করেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের গৌরবলাভের উদ্দেশ্যে
ঈশ্বর সুসমাচারের মাধ্যমে আমাদের আহ্বান করেছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:১-১১)

সেসময়ে, গালিলেয়ার কানা গ্রামে এক বিবাহোৎসব হল। যিশুর মা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যিশু ও তাঁর শিষ্যেরাও উৎসবে নিমন্ত্রিত হয়েছিলেন।
আঙুররস ফুরিয়ে যাওয়ায় যিশুর মা তাঁকে বললেন, ‘ওদের আঙুররস নেই।’ যিশু তাঁকে বললেন, ‘নারী, তুমি আমার কাছে কী চাও? আমার ক্ষণ এখনও আসেনি।’ তাঁর মা চাকরদের বললেন, ‘উনি তোমাদের যা কিছু বলেন, তোমরা তা-ই কর।’
ইহুদীদের প্রথা অনুসারে শুচীকরণের জন্য সেখানে পাথরের ছ’টা জালা রাখা ছিল, প্রত্যেকটিতে দু’ তিন মণ জল ধরত। যিশু চাকরদের বললেন, ‘জালাগুলো জলে ভর্তি কর।’ তারা সেগুলোকে কানায় কানায় ভর্তি করে দিল। পরে তিনি তাদের বললেন, ‘এখন তোমরা কিছুটা তুলে ভোজকর্তার কাছে নিয়ে যাও।’ তারা তাই করল।
কিন্তু যখন ভোজকর্তা আঙুররসে পরিণত সেই জল আস্বাদ করল—সে তো জানত না, তা কোথা থেকে এসেছে, কিন্তু যে চাকরেরা জল তুলেছিল তারাই জানত—তখন বরকে ডেকে বলল, ‘সবাই প্রথমে ভাল আঙুররস পরিবেশন করে, আর অতিথিরা বেশ কিছু খাওয়ার পরে কম ভালটা দেয়; আপনি কিন্তু ভাল আঙুররস এখন পর্যন্তই রেখেছেন।’
এ হল যিশুর চিহ্নকর্মগুলির প্রথম চিহ্নকর্ম: তা তিনি গালিলেয়ার কানা গ্রামে সাধন করলেন: এতে নিজের গৌরব প্রকাশ করলেন, ও তাঁর শিষ্যেরা তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে আলেক্সান্দ্রিয়ার বিশপ সাধু সিরিলের ব্যাখ্যা

যদিও মনে হতে পারে সাধারণ একটি অবস্থা-বিশেষেই অলৌকিক কাজ ঘটেছে, তবু খ্রিষ্ট উপযুক্ত ক্ষণেই অলৌকিক কাজ সাধন করতে শুরু করেন। বস্তুতপক্ষে মর্যাদাপূর্ণ ও বিধান সম্মত বিয়ের উৎসব চলছে; উৎসবে ত্রাণকর্তার মাতাও নিমন্ত্রিত, ও নিমন্ত্রিত হয়ে খ্রিষ্টও আপন শিষ্যদের সঙ্গে উপস্থিত। তিনি কিন্তু এমনি ভোজে যোগ দেওয়ার জন্য নয়, বরং এমন একটি অলৌকিক কাজ সাধন করার জন্য উপস্থিত, যাতে মানবজন্মের উৎস তথা বিবাহ-ব্যবস্থায় পবিত্রতাদায়ী অনুগ্রহের স্রোত সঞ্চার করতে পারেন, যে অনুগ্রহ তার প্রকৃতির সাধারণ পর্যায়ে উন্নীত করতে পারে।
এ সত্যিই সমীচীন ছিল যে, উচ্চতর পর্যায়ে মানবস্বরূপকে ফিরিয়ে নেবার জন্য যখন তিনি গোটা মানবস্বরূপকেই নবায়ন করতে এসেছিলেন, তখন তিনি কেবল তাদেরই আশীর্বাদ করবেন যারা ইতিমধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিল শুধু নয়, বরং তাদেরও জন্য অনুগ্রহ প্রস্তুত করবেন ও তাদেরও পবিত্রিত করবেন যাদের আগামী কালে জন্ম নেবার কথা। যিনি সকলের সুখ ও আনন্দ, তিনি আপন উপস্থিতিতে বিবাহ-ব্যবস্থায় এমন মর্যাদা আরোপ করলেন, যার ফলে প্রসবের সঙ্গে আদিকাল থেকে যুক্ত শোক মুছিয়ে দিলেন। সাধু পল বলেন, কেউ যদি খ্রিষ্টে থাকে, সে নতুন সৃষ্টি; প্রাক্তন সবকিছু কেটে গেছে, দেখ, সবকিছু নতুন হয়ে উঠেছে (২ করি ৫:১৭)।
তাই তিনি আপন শিষ্যদের সঙ্গে সেই বিয়ের উৎসবে যোগ দিতে গেলেন। এও সমীচীন ছিল যে, তিনি অলৌকিক কাজ সাধন করার সময়ে শিষ্যেরাও উপস্থিত থাকবেন, যাতে যাঁরা আশ্চর্য ঘটনাগুলোর মায়ায় আকর্ষিত ছিলেন, এবার তাঁরা খ্রিষ্টের অলৌকিক কাজটাই যেন বিশ্বাসের পুষ্টি বলে সংগ্রহ করেন।
অতিথিদের জন্য আঙুররস ফুরিয়ে যাওয়ায় তাঁর মাতা তাঁকে অনুরোধ করেন তিনি যেন তাঁর সাধারণ মঙ্গলময়তা ও প্রসন্নতা দেখান: তাদের আঙুররস নেই (যোহন ২:৩)। যিনি ইচ্ছা করলে সবকিছু সাধন করতে সক্ষম, মাতা তাঁকে অলৌকিক কাজ করতে অনুরোধ করছেন। নারী, তুমি আমার কাছে কী চাও? আমার ক্ষণ এখনও আসেনি (যোহন ২:৪)। প্রভু উত্তমরূপেই নিজের মনের কথা ব্যক্ত করলেন, কেননা তিনি যে অলৌকিক কাজ করার জন্য ত্বরা করবেন বা নিজে থেকে এগিয়ে আসবেন তা প্রয়োজন ছিল না; তিনি মানুষের অনুরোধে সাড়া দেবার জন্যই অলৌকিক কাজ সাধন করবেন, আর উপস্থিত সকলের কৌতূহল মেটাবার জন্য নয়, তাদের উপকার করার জন্যই বরং তেমন অনুগ্রহ দান করবেন।
তাছাড়া আকাঙ্ক্ষিত বস্তু তখনই অধিক গ্রহণীয় হয়ে ওঠে যখন সঙ্গে সঙ্গে মঞ্জুর করা হয় না, কেননা তা পাবার জন্য মানুষ যখন দীর্ঘ প্রত্যাশা রাখে, সেই প্রত্যাশায় তখন বস্তুটা অধিক মূল্যবান হয়ে ওঠে। পরিশেষে খ্রিষ্ট যা করতে অসম্মত ছিলেন, তা মাতৃভক্তির খাতিরেই সাধন করতে সম্মত হওয়ায় আমাদের কাছে মাতাপিতার প্রতি দেয় মর্যাদা দেখাতে চাইলেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৩
ধুয়ো:
আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট;
কেমন গৌরবময় সেই পানপাত্র, যা আমার তৃষ্ণা মেটায়।

প্রভু আমার পালক;
অভাব নেই তো আমার;
আমায় তিনি শুইয়ে রাখেন নবীন ঘাসের চারণমাঠে,
আমায় নিয়ে যান শান্ত জলের কূলে;   [ধুয়ো]

তিনি সঞ্জীবিত করেন আমার প্রাণ,
তাঁর নামের খাতিরে আমায় চালনা করেন ধর্মপথে।
মৃত্যু-ছায়ার উপত্যকাও যদি পেরিয়ে যাই,
আমি কোন অনিষ্টের ভয় করি না, তুমি যে আমার সঙ্গে আছ।   [ধুয়ো]

তোমার যষ্টি, তোমার পাচনি আমাকে সান্ত্বনা দেয়।
আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট আমার শত্রুদের সামনে;
আমার মাথা তুমি তৈলসিক্ত কর;
আমার পানপাত্র উচ্ছলিত।   [ধুয়ো]

মঙ্গল ও কৃপাই হবে আমার সহচর
আমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে,
আমি প্রভুর গৃহে ফিরব—চিরদিনের মত!
ত্রিত্বের গৌরব হোক চিরকালের মত। আমেন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার ভালবাসার আত্মাকে আমাদের অন্তরে সঞ্চার কর:
স্বর্গীয় রুটি দানে যাদের পরিতৃপ্ত করেছ,
তাদের একমন একপ্রাণ করে তোল।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩য় রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর,
তোমার মঙ্গল-ইচ্ছার পথে আমাদের পদক্ষেপ চালিত কর,
আমরা যেন তোমার প্রিয় পুত্রের নামে শুভকর্ম সাধনে ফলশালী হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নেহেমিয়া পুস্তক থেকে পাঠ (৮:২-৪ক,৫-৬,৮-১০)

সেসময়ে এজরা যাজক জনসমাবেশের সামনে—স্ত্রী-পুরুষ এবং বুঝবার মত যাদের বুদ্ধি হয়েছিল—তাদের সকলের সামনে সেই বিধান-পুস্তক নিয়ে এলেন। সেখানে, সলিলদ্বারের সামনের সেই খোলা জায়গায়, স্ত্রী-পুরুষ ও বুঝবার মত যাদের বুদ্ধি হয়েছিল, তাদের সকলের সামনে এজরা ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত তা থেকে পাঠ করে শোনালেন; সমগ্র জনগণ গভীর মনোযোগের সঙ্গে বিধান-পুস্তক শুনল।
এজরা শাস্ত্রী এই উদ্দেশ্যেই তৈরী একটা কাঠের মঞ্চের উপরে দাঁড়িয়ে ছিলেন; তিনি গোটা জনগণের দৃষ্টিগোচরে—তিনি তো সকলের চেয়ে উঁচুতেই দাঁড়িয়ে ছিলেন—পুস্তকটা খুলে দিলেন; তিনি পুস্তকটা খোলামাত্র সমগ্র জনগণ উঠে দাঁড়াল।
এজরা তখন মহেশ্বর প্রভুকে ধন্য বললেন, আর গোটা জনগণ দু’হাত তুলে উত্তরে বলে উঠল, ‘আমেন, আমেন!’ এবং নিচু হয়ে মাটিতে মাথা নত করে প্রভুর উদ্দেশে প্রণিপাত করল। লেবীয়েরা পরমেশ্বরের বিধান থেকে পাঠ করে শোনাচ্ছিল, অনুবাদ করে তার তাৎপর্য বুঝিয়ে দিচ্ছিল; তাই জনগণ পাঠের অর্থ বুঝতে পারল।
পরে প্রদেশপাল নেহেমিয়া, শাস্ত্রী এজরা যাজক আর সেই লেবীয়েরা যারা জনগণকে শিক্ষা দান করছিল, তাঁরা গোটা জনগণকে বললেন, ‘আজকের দিন তোমাদের পরমেশ্বর প্রভুর উদ্দেশে পবিত্র; শোক করো না, চোখের জল ফেলো না!’ কারণ বিধানবাণী শুনতে শুনতে সমগ্র জনগণ চোখের জল ফেলছিল।
নেহেমিয়া বলে চললেন, ‘এখন যাও, চর্বিওয়ালা খাবার খাও, মিষ্টি আঙুররস পান কর, এবং যাদের তৈরী কিছু নেই, নিজেদের খাবার থেকে তাদের কাছে কিছুটা পাঠিয়ে দাও; কারণ আজকের দিন আমাদের প্রভুর উদ্দেশে পবিত্র; বিষণ্ণ হয়ো না, কেননা প্রভুর আনন্দই তোমাদের শক্তি।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৯
ধুয়ো:
প্রভু, তোমার সমস্ত কথাই আত্মা,
তোমার সমস্ত কথাই জীবন।

প্রভুর বিধান নিখুঁত,
প্রাণকে পুনরুজ্জীবিত করে;
প্রভুর সাক্ষ্য বিশ্বাসযোগ্য,
সরলমনাকে প্রজ্ঞাবান করে।   [ধুয়ো]

প্রভুর আদেশমালা ন্যায্য, হৃদয়ে আনন্দ সঞ্চার করে;
প্রভুর আজ্ঞা নির্মল, চোখে আলো দান করে।
প্রভুভয় শুদ্ধ, চিরস্থায়ী,
প্রভুর বিচারগুলি সত্যাশ্রয়ী, সব ক’টি ধর্মময়।   [ধুয়ো]

তোমার গ্রহণযোগ্য হোক আমার মুখের কথা,
তোমার সম্মুখীন হোক আমার হৃদয়ের জপন,
ওগো প্রভু, আমার শৈল,
আমার মুক্তিসাধক।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১২:১২-৩০)

প্রিয়জনেরা, দেহ যেমন এক, অথচ তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনেক এবং দেহের অঙ্গগুলি অনেক হয়েও সব ক’টি মিলে একদেহ হয়, খ্রিষ্টও সেইরূপ। প্রকৃতপক্ষে আমাদের সকলেরই এক আত্মায় বাপ্তিস্ম হয়েছে একদেহ হবার জন্য—তা আমরা ইহুদী বা গ্রীক, ক্রীতদাস বা স্বাধীন মানুষ যাই হই না কেন; এবং পান করার মত আমাদের সকলকে এক আত্মাকে দেওয়া হয়েছে।
আর বাস্তবিক দেহ একটা অঙ্গ নয়, অনেক। পা যদি বলত, আমি তো হাত নই, তাই দেহের অঙ্গ নই, তবে কি পা দেহের অঙ্গ আর হত না? আর কান যদি বলত, আমি তো চোখ নই, তাই দেহের অঙ্গ নই, তবে কি কান দেহের অঙ্গ আর হত না? গোটা দেহটা যদি চোখ হত, তবে শ্রবণশক্তি কোথায় থাকত? আবার সমস্তই যদি শ্রবণশক্তি হত, তবে ঘ্রাণশক্তি কোথায় থাকত?
কিন্তু ঈশ্বর আসলে অঙ্গগুলোকে এক একটা করে যেমন ইচ্ছা করেছেন, সেভাবেই বসিয়েছেন। নইলে সমস্তই যদি একটা অঙ্গ হত, তবে দেহ কোথায় থাকত? কিন্তু অঙ্গ আসলে অনেকগুলো, দেহ কিন্তু এক। চোখ হাতকে বলতে পারে না, তোমাকে আমার দরকার নেই; আবার মাথাও পা দু’টোকে বলতে পারে না, তোমাদের আমার দরকার নেই; আরও, দেহের যে সকল অঙ্গকে দেখতে বেশি দুর্বল, সেগুলোই নিতান্ত দরকারী। আর আমরা দেহের যে সকল অঙ্গকে কম সম্মানের বলে মনে করি, সেগুলোকেই বিশেষ সম্মান দিয়ে ঘিরে রাখি, এবং আমাদের যে অঙ্গগুলোকে দেখানো শোভা পায় না, সেগুলো বিশেষ যত্ন পেয়ে থাকে; কিন্তু যে সকল অঙ্গকে দেখানো শোভা পায়, সেগুলোর তত যত্ন দরকার হয় না। বাস্তবিকই ঈশ্বর নিজেই মানবদেহ সংগঠিত করেছেন; যে অঙ্গের মর্যাদা কম, তিনি সেটাকে বেশি মর্যাদা দিয়েছেন, যেন দেহের মধ্যে কোন অনৈক্য না থাকে, বরং সকল অঙ্গ যেন একে অন্যের প্রতি সমান যত্নবান হয়। তাই একটা অঙ্গ ব্যথা পেলে সকল অঙ্গই তার সঙ্গে ব্যথা পায়, এবং একটা অঙ্গ সমাদর পেলে সকল অঙ্গই তার সঙ্গে আনন্দ করে।
এখন, তোমরা নিজেরাই খ্রিষ্টের দেহ ও এক একজন নিজ নিজ ভূমিকা অনুসারে তাঁর অঙ্গগুলো। এজন্য ঈশ্বর মণ্ডলীতে যাঁদের বিশেষ পদে বসিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রথমত আছেন প্রেরিতদূতেরা, দ্বিতীয়ত নবীরা, তৃতীয়ত শিক্ষাগুরুরা; তারপরে আসে পরাক্রম-কর্ম, তারপর আরোগ্যদানের অনুগ্রহদান, এবং উপকারিতার, শাসনের, ও নানা ভাষায় কথা বলার অনুগ্রহদান। তবে এরা সকলেই কি প্রেরিতদূত? সকলেই কি নবী? সকলেই কি শিক্ষাগুরু? সকলেই কি পরাক্রম-কর্মের সাধক? সকলেই কি আরোগ্যদানের অনুগ্রহদান পেয়েছে? সকলেই কি নানা ধরনের ভাষায় কথা বলে? সকলেই কি সেই ভাষাগুলোর অর্থ বুঝিয়ে দেয়?
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
প্রভু দীনদুঃখীদের কাছে শুভসংবাদ দিতে
ও বন্দিদের কাছে মুক্তিলাভের কথা প্রচার করতে প্রেরণ করেছেন আমায়।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:১-৪; ৪:১৪-২১)

যেহেতু আমাদের মধ্যে যে সমস্ত ঘটনা পূর্ণতা লাভ করেছে অনেকেই তার বিবরণ রচনা-কাজে হাত দিয়েছেন—ঠিক সেইভাবে, যাঁরা প্রথম থেকে প্রত্যক্ষদর্শী ও বাণীর সেবাকর্মী ছিলেন তাঁরা যেভাবে তা আমাদের কাছে সম্প্রদান করেছেন—সেজন্য, হে মহামান্য থেওফিল, আমিও প্রথম থেকে সকল বিষয় তন্ন তন্ন করে অনুসন্ধান করার পর, আপনার জন্য তার একটি সূক্ষ্ম বৃত্তান্ত লিখব বলে স্থির করেছি; আপনি যে ধর্মশিক্ষা পেয়েছেন, তা যে নিশ্চিত, একথা যেন অবগত হতে পারেন।
একদিন যিশু পবিত্র আত্মার পরাক্রমে গালিলেয়ায় ফিরে গেলেন, ও তাঁর নাম চারপাশের সারা অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। তিনি তাদের সমাজগৃহে উপদেশ দিতেন, ও সকলে তাঁর গৌরবকীর্তন করত।
তিনি যেখানে মানুষ হয়েছিলেন, সেই নাজারায় গেলেন, এবং তাঁর অভ্যাসমত সাব্বাৎ দিনে সমাজগৃহে প্রবেশ করলেন। শাস্ত্র পাঠ করার জন্য তিনি উঠে দাঁড়ালেন, আর তাঁর হাতে নবী ইসাইয়ার পাকানো পুঁথি তুলে দেওয়া হল; পুঁথিটা খুলে তিনি সেই স্থান পেলেন, যেখানে লেখা আছে:
প্রভুর আত্মা আমার উপর অধিষ্ঠিত,
কেননা তিনি দীনদুঃখীদের কাছে শুভসংবাদ দেবার জন্য
আমাকে তৈলাভিষিক্ত করেছেন।
বন্দিদের কাছে মুক্তি ও অন্ধদের কাছে দৃষ্টিলাভের কথা প্রচার করতে,
পদদলিতদের নিস্তার করে বিদায় করতে,
প্রভুর প্রসন্নতা-বর্ষ ঘোষণা করতে আমাকে প্রেরণ করেছেন।
পুঁথিটা গুটিয়ে নিয়ে তিনি তা সেবকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে আসন নিলেন। সমাজগৃহে সকলের চোখ তাঁর উপর নিবদ্ধ হয়ে রইল; তখন তিনি তাদের কাছে কথা বলতে লাগলেন, ‘আজই, তোমরা একথা শুনতে শুনতেই, শাস্ত্রের এই বচন পূর্ণতা লাভ করেছে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
লুক-রচিত সুসমাচারে পুরোহিত অরিজেনের উপদেশ

যিশু পবিত্র আত্মার পরাক্রমে গালিলেয়ায় ফিরে গেলেন, ও তাঁর নাম চারপাশের সারা অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। তিনি তাদের সমাজগৃহে উপদেশ দিতেন, ও সকলে তাঁর গৌরবকীর্তন করত (লুক ৪:১৪-১৫)। তুমি যখন পড়, তিনি তাদের সমাজগৃহে উপদেশ দিতেন আর সকলে তাঁর গৌরবকীর্তন করত, তখন তাদেরই শুধু ভাগ্যবান মনে করো না, তাঁর উপদেশ থেকেও নিজেকে বঞ্চিত মনে করো না। শাস্ত্র সত্যাশ্রয়ী হলে, তবে প্রভু সেকালের ইহুদীদের সমাবেশেই শুধু কথা বলেননি, তিনি বরং এখনও আমাদের এ সমাবেশেও কথা বলছেন; আর শুধু এ সমাবেশে নয়, বরং এমন মাধ্যম খোঁজ ক’রে যার মধ্য দিয়ে উপদেশ দিতে পারেন, অন্য সমাবেশে ও সারা বিশ্বেও যিশু উপদেশ দিতে থাকেন।
তিনি যেখানে মানুষ হয়েছিলেন, সেই নাজারায় গেলেন, এবং তাঁর অভ্যাসমত সাব্বাৎ দিনে সমাজগৃহে প্রবেশ করলেন। শাস্ত্র পাঠ করার জন্য তিনি উঠে দাঁড়ালেন, আর তাঁর হাতে নবী ইসাইয়ার পাকানো পুঁথি তুলে দেওয়া হল; পুঁথিটা খুলে তিনি সেই স্থান পেলেন, যেখানে লেখা আছে: প্রভুর আত্মা আমার উপর অধিষ্ঠিত, কেননা তিনি আমাকে তৈলাভিষিক্ত করেছেন (লুক ৪:১৬-১৮)।
তিনি যে সেই স্থান পেলেন যেখানে তাঁর বিষয়ে ভাববাণী উল্লিখিত, তা এমনি ভাগ্যক্রমে ঘটেনি, তা বরং ঈশ্বর দ্বারাই নিরূপিত হয়েছিল। যেমন লেখা আছে, তোমাদের পিতার অনুমতি বিনা চড়ুই পাখিও ভূমিতে পড়ে না (মথি ১০:২৯), এবং তোমাদের মাথার চুলের হিসাবও রাখা আছে (লুক ১২:৭), তেমনি এমনটি ঘটল যে, ঠিক নবী ইসাইয়ার পুঁথিই তাঁর হাতে দেওয়া হল; এমনকি, অন্য কোন পদ নয়, বরং খ্রিষ্ট-রহস্য সংক্রান্ত পদেই তিনি পুঁথিটা খুললেন: প্রভুর আত্মা আমার উপর অধিষ্ঠিত, কেননা প্রভুই আমাকে তৈলাভিষিক্ত করেছেন (ইসা ৬১:১)।
এ পদ পাঠ করে যিশু পুঁথিটা গুটিয়ে নিয়ে তিনি তা সেবকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে আসন নিলেন। সমাজগৃহে সকলের চোখ তাঁর উপর নিবদ্ধ হয়ে রইল (লুক ৪:২০)। আর তোমরা ইচ্ছা করলে, এ সমাবেশে তোমাদের চোখ ত্রাণকর্তাকে বের করতে পারে। যখন তুমি হৃদয়ের সমস্ত মনোযোগ ঈশ্বরের একমাত্র পুত্রের প্রজ্ঞা ও সত্য দর্শনে আকর্ষণ করবে, তখনই তোমার চোখ যিশুকে দেখতে পাবে—ধন্য শাস্ত্রে উল্লিখিত সেই সমাবেশ, যেখানে সকলের চোখ তাঁর প্রতি নিবদ্ধ! আহা, আমার কতই না ইচ্ছা, এ সমাবেশের বেলায়ও যদি একই কথা বলা যেতে পারত! আহা, যদি আমাদের সকলেরই চোখ, দীক্ষাপ্রার্থী ও ভক্তদের, মহিলা, পুরুষ ও ছেলে-মেয়েদের চোখ—দেহের চোখ নয়, আত্মারই চোখ যিশুকে দেখতে পেত! তোমরা তাঁর দিকে চেয়ে দেখলে, তাহলে তোমাদের মুখ তাঁর আলো ও দৃষ্টি দ্বারা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, ও তোমরা বলতে পারবে, তোমার শ্রীমুখের আলো, প্রভু, আমাদের উপর উদ্ভাসিত (সাম ৪:৭)। তাঁর গৌরব ও মহিমা হোক যুগে যুগান্তরে। আমেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
প্রভুর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর:
তোমার জীবনদায়ী অনুগ্রহে সঞ্জীবিত হয়ে উঠে
আমরা যেন অনুক্ষণ তোমার সহায়তা লাভে ধন্য হতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৪র্থ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের পরমেশ্বর, আশীর্বাদ কর,
আমরা যেন সমস্ত মন দিয়ে তোমাকে ভক্তি করতে পারি,
সকল মানুষকেও সত্যকার প্রেমে ভালবাসতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী যেরেমিয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (১:৪-৫,১৭-১৯)

যোসিয়া রাজার আমলে প্রভুর বাণী আমার কাছে এসে উপস্থিত হয়ে বলল:
‘মাতৃগর্ভে তোমাকে গড়ার আগেই আমি তোমাকে জানতাম;
তুমি জন্ম নেবার আগেই
আমি তোমাকে আমার উদ্দেশে পবিত্রীকৃত করে রেখেছি।
আমি তোমাকে দেশগুলোর কাছে নবীরূপে নিযুক্ত করেছি।
তাই তুমি কোমর বেঁধে নাও;
উঠে দাঁড়াও, আর আমি তোমাকে যা কিছু বলতে আজ্ঞা করি,
সবই তাদের বল; তাদের দেখে ভীত হয়ো না,
পাছে আমিই তাদের সামনে তোমাকে ভীত করি।
আর দেখ, আমি আজ সমগ্র দেশের বিরুদ্ধে,
যুদার রাজাদের ও তার নেতাদের বিরুদ্ধে,
তার যাজকদের ও দেশের লোকদের বিরুদ্ধে
তোমাকে করলাম সুরক্ষিত নগরস্বরূপ,
লোহার স্তম্ভ ও ব্রঞ্জের প্রাচীরস্বরূপ।
তারা তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে,
কিন্তু তোমার সঙ্গে পারবে না,
কারণ তোমাকে উদ্ধার করার জন্য
আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে আছি।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৭১
ধুয়ো:
প্রভু, আমার মুখ প্রচার করে যাবে
তোমার পরিত্রাণের কথা।

প্রভু, তোমাতেই নিয়েছি আশ্রয়,
আমাকে যেন কখনও লজ্জা না পেতে হয়।
তোমার ধর্মময়তায় আমাকে উদ্ধার কর, রেহাই দাও,
কান দাও, কর গো পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

হও তুমি আমার জন্য একটি শৈলাশ্রয়, যেখানে আমাকে ত্রাণ করার জন্য
তুমি আমাকে চিরকালের মত ঢুকতে আজ্ঞা কর,
তুমিই যে আমার শৈল, তুমিই যে আমার গিরিদুর্গ।
হে আমার পরমেশ্বর, দুর্জনের হাত থেকে আমাকে রেহাই দাও।   [ধুয়ো]

তুমিই তো আমার আশা, প্রভু,
যৌবনকাল থেকে তুমিই তো আমার ভরসা, প্রভু।
জন্ম থেকেই আমি তোমার উপর নির্ভরশীল,
মাতৃগর্ভ থেকে তুমিই আমার সহায়।   [ধুয়ো]

আমার মুখ প্রচার করে যাবে তোমার ধর্মময়তা,
সারাদিন তোমার পরিত্রাণের কথা,
যৌবনকাল থেকে তুমি, পরমেশ্বর, উদ্বুদ্ধ করেছ আমায়,
আর আমি আজও প্রচার করে চলি তোমার আশ্চর্য কর্মকীর্তির কথা।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১২:৩১–১৩:১৩)

প্রিয়জনেরা, তোমরা সবচেয়ে মহত্তর দানগুলির জন্যই আগ্রহী হও! আর আমি তোমাদের এমন পথ দেখাব, যা সবগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
আমি মানুষের ও স্বর্গদূতের ভাষায় কথা বলতে পারলেও আমার যদি ভালবাসা না থাকে, তবে আমি ঢংঢঙানো কাঁসর বা ঝনঝনে করতালমাত্র।
আমি নবীয় বাণীর অধিকারী হলেও, ও সমস্ত রহস্য ও সমস্ত ধর্মজ্ঞান উপলব্ধি করতে পারলেও, আমার পর্বত সরিয়ে দেবার মত পূর্ণ বিশ্বাস থাকলেও আমার যদি ভালবাসা না থাকে, তবে আমি কিছুই নই। আর আমি আমার সমস্ত সম্পদ ক্ষুধার্তদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেও, এবং নিজের দেহকে পোড়াবার জন্যও নিবেদন করলেও আমার যদি ভালবাসা না থাকে, তবে তা আমার কোন উপকারে আসে না।
ভালবাসা সহিষ্ণু, মধুর তো ভালবাসা; ভালবাসা ঈর্ষা করে না, বড়াই করে না, গর্বে স্ফীত হয় না, রুক্ষ হয় না, স্বার্থপর নয়, বদমেজাজী নয়, পরের অপকার ধরে না, অধর্মে আনন্দ পায় না, বরং সত্যকে নিয়েই তার আনন্দ; ভালবাসা সবই ক্ষমার চোখে দেখে, সবই বিশ্বাস করে, সবই আশা করে, সবই ধৈর্যের সঙ্গে সহ্য করে।
ভালবাসার কখনও শেষ হবে না। নবীয় বাণীর কথা ধরি, তা লোপ পাবে; নানা ভাষার কথা ধরি, তা শেষ হয়ে যাবে; জ্ঞানের কথা ধরি, তা লোপ পাবে। কারণ আমাদের জানাটা অসম্পূর্ণ, আমাদের নবীয় বাণী দেওয়াটাও অসম্পূর্ণ; কিন্তু যা পূর্ণ তা এলে, যা অসম্পূর্ণ তা লোপ পাবে। আমি যখন শিশু ছিলাম, তখন শিশুর মত কথা বলতাম, শিশুর মত চিন্তা করতাম, শিশুর মত বিচার করতাম; এখন যে মানুষ হয়েছি, শিশুর সেই সবকিছু বাদ দিয়েছি।
এখন আমরা কেমন যেন আয়নায়, ঝাপসা ঝাপসাই দেখছি, কিন্তু তখন মুখোমুখি হয়ে দেখতে পাব। এখন আমার জানাটা অসম্পূর্ণ, কিন্তু তখন সম্পূর্ণ হবে—আমি নিজেও যেভাবে এখন পরিচিত। তবে এখন তিনটে জিনিস থেকে যাচ্ছে—বিশ্বাস, আশা ও ভালবাসা; এগুলির মধ্যে ভালবাসাই শ্রেষ্ঠ।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
প্রভু দীনদুঃখীদের কাছে শুভসংবাদ দিতে
ও বন্দিদের কাছে মুক্তিলাভের কথা প্রচার করতে প্রেরণ করেছেন আমায়।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৪:২১-৩০)

একদিন যিশু সমাজগৃহে সমবেত লোকদের কাছে একথা বললেন, ‘আজই, তোমরা একথা শুনতে শুনতেই, শাস্ত্রের এই বচন পূর্ণতা লাভ করেছে।’
তিনি সকলের মন জয় করলেন, ও তাঁর মুখ থেকে তেমন মধুর কথা শুনে সকলে আশ্চর্য হয়ে গেল; তারা বলছিল, ‘এ কি যোসেফের ছেলে নয়?’
তিনি তাদের বললেন, ‘তোমরা নিশ্চয়ই আমাকে এই প্রবাদ শুনিয়ে বলবে, চিকিৎসক, নিজেকেই নিরাময় কর; কাফার্নাউমে যা যা সাধন করা হয়েছে বলে শুনেছি, এখানে, নিজের দেশেও তা সাধন কর।’ আরও বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি, কোন নবী নিজের দেশে স্বীকৃতি পান না।
আমি তোমাদের সত্যি বলছি, এলিয়ের সময় যখন তিন বছর ছয় মাস ধরে আকাশ রুদ্ধ থাকল, ও সারা দেশ জুড়ে মহাদুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, তখন ইস্রায়েলের মধ্যে অনেক বিধবা ছিল, কিন্তু এলিয় তাদের কারও কাছে নয়, কেবল সিদোন অঞ্চলের সারেপ্তায় একজন বিধবার কাছেই প্রেরিত হয়েছিলেন।
এবং নবী এলিসেয়ের সময়ে ইস্রায়েলের মধ্যে অনেক চর্মরোগী ছিল, কিন্তু তাদের কেউই শুচীকৃত হয়নি, কেবল সিরিয়ার সেই নামান-ই হয়েছিল।’
একথা শুনে সমাজগৃহে সকলেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল: তারা উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে শহরের বাইরে ঠেলে দিল; তাদের শহরটা যে পর্বতের উপরে গড়া ছিল, তারা তার খাড়া ধার পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে তাঁকে নিচে ফেলে দিতে চাচ্ছিল। কিন্তু তিনি তাদের মধ্য দিয়ে নিজ পথে এগিয়ে চলে গেলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
ইসাইয়ার পুস্তকে আলেক্সান্দ্রিয়ার বিশপ সাধু সিরিলের ব্যাখ্যা

জগৎকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা, পিতার কাছে সকল মানুষকে ফিরিয়ে আনা, সবকিছু উন্নতিশীল পর্যায়ে রূপান্তরিত করা ও পৃথিবীর মুখ নবায়ন করার অভিপ্রায়ে খ্রিষ্ট দাসের স্বরূপ ধারণ করলেন—তিনি যে বিশ্বপ্রভু!—এবং দীনহীনদের কাছে সুসমাচার প্রচার করে ঘোষণা করলেন, তিনি এ উদ্দেশ্যেই প্রেরিত হয়েছিলেন। দীনহীন বলতে সম্পূর্ণ অভাবগ্রস্তদের কথা ধরে নেওয়া যেতে পারে, তবু শাস্ত্রের কথা অনুসারে তারা সকলেও দীনহীন যারা আশাহীন ও জগতে ঈশ্বরবিহীন।
বিধর্মী পরিবেশ থেকে খ্রিষ্টের কাছে এসে ও খ্রিষ্টবিশ্বাসে ধনবান হয়ে উঠে তারা স্বর্গ থেকে আগত একটা দিব্য ধন তথা পরিত্রাণদায়ী সুসমাচার-ঘোষণা লাভ করল; এভাবে তারা হয়ে উঠল স্বর্গরাজ্যের অংশীদার, পুণ্যজনদের সহভাগী ও সেই সমস্ত মঙ্গলদানের উত্তরাধিকারী, যা মানুষের কল্পনা বা যাচনার অতীত: কোন চোখ যা যা দেখেনি ও কোন কান যা যা শোনেনি, কোন মানুষের মনে যা যা কখনও ভেসে ওঠেনি, যারা তাঁকে ভালবাসে, প্রভু তাদেরই জন্য এসব কিছু প্রস্তুত করেছেন (১ করি ২:৯)।
আবার এখানে ধরে নেওয়া যেতে পারে, আত্মায় যারা দীনহীন, খ্রিষ্টে তাদের কাছে সেবাকর্ম সংক্রান্ত অনুগ্রহদানের প্রাচুর্য দেওয়া হয়েছে। যাদের অন্তর দিশেহারা, যাদের প্রাণ দুর্বল ও শিথিল, যারা ক্রীতদাসের মত দৈহিক ভাবাবেগের এত অধীনস্থ যে প্রলোভনের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে অক্ষম, তাদেরই তিনি আহ্বান করেন; তাদেরই সুস্থতা ও সহায়তা দানের প্রতিশ্রুতি দেন যেভাবে অন্ধদের দৃষ্টিশক্তি দান করেন (ইসা ৩৫:৩-৫; ৬১:১-৩)। কেননা যারা সৃষ্টজীব পূজা করে ও এক টুকরো কাঠকে বলে, তুমি আমার পিতা; ও একটা পাথরকে বলে, তুমি আমার জননী (যেরে ২:২৭), তারা কোন মতেই ঈশ্বরকে চেনেনি; জ্ঞানদায়ী দিব্য আলোর অভাবী হয়ে তারা অন্তরে অন্ধ ছাড়া কী? তাদেরই অন্তরে পিতা এমন আলো সঞ্চার করেন যাতে তারা প্রকৃত ঈশ্বরজ্ঞান লাভ করতে পারে।
বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে আহূত হয়ে তারা তাঁকে জানতে পেরেছে; এমনকি তারা তাঁরই দ্বারা জ্ঞাত হয়েছে। রাত ও অন্ধকারের সন্তান হওয়ার সময়েই তারা আলোর সন্তান হয়ে উঠেছে। এমন দিনের বিকিরণ হয়েছে যা তাদের আলোকিত করেছে; তাদের জন্য ধর্মময়তার সূর্যের উদয় হয়েছে; তাদের জন্য উজ্জ্বল প্রভাতী তারা উদিত হয়েছে (২ পি ১:১৯ দ্রঃ)। এসব কিছু ইহুদী ধর্ম থেকে আগত ভাইদের বেলায়ও আরোপ করায় কোন বাধা নেই। তারাও দীনহীন, ভগ্নহৃদয় ছিল, তারাও ক্রীতদাসের মত ও অন্ধকারে ছিল। কিন্তু খ্রিষ্ট এলেন, আর সকলের আগে ইস্রায়েলের কাছেই নিজ প্রভাবের উপকারী ও উজ্জ্বল অভিব্যক্তির মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করলেন, প্রভুর প্রসন্নতা-বর্ষ ও পরিত্রাণের দিন (ইসা ৪৯:৮; ৬১:১-২ দ্রঃ) ঘোষণা করলেন। সেটাই প্রসন্নতা-বর্ষ, যে বর্ষে খ্রিষ্ট আমাদের জন্য ক্রুশবিদ্ধ হলেন; তখনই আমরা সত্যিই পিতা ঈশ্বরের প্রীতির পাত্র হয়ে উঠেছি, ও খ্রিষ্টের মধ্য দিয়ে ফলশালী হয়ে উঠেছি। তিনি নিজেই তো এ শিক্ষা দিয়েছিলেন: আমি তোমাদের সত্যি সত্যি বলছি, গমের দানা যদি মাটিতে পড়ে মরে না যায়, তবে তা মাত্র একটাই হয়ে থাকে; কিন্তু যদি মরে যায়, তবে বহু ফল উৎপন্ন করে (যোহন ১২:২৪)।
যাঁরা সিয়োনের জন্য কাঁদছিলেন, খ্রিষ্টে তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়া হল, ছাইয়ের পরিবর্তে গৌরবই দেওয়া হল (ইসা ৬১:৩ দ্রঃ)। হ্যাঁ, শোকে তাঁরা সিয়োনের উপর আর চোখের জল ফেলেননি, বরং আনন্দের শুভসংবাদ প্রচার ও ঘোষণা করতে লাগলেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩১
ধুয়ো:
তোমার দাসের উপর শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তোল,
তোমার কৃপায় ত্রাণ কর আমায়।

কতই না মহান তোমার সেই মঙ্গলময়তা, প্রভু,
যা তাদের জন্য তুমি সঞ্চিত রাখ যারা ভয় করে তোমায়,
যা আদমসন্তানদের দৃষ্টিগোচরে
তুমি তোমার আশ্রিতজনকে মঞ্জুর কর।   [ধুয়ো]

মানুষের চক্রান্ত থেকে তুমি আপন শ্রীমুখের নিভৃতে তাদের লুকিয়ে রাখ,
জিভের আক্রমণ থেকে তুমি আপন কুটিরেই তাদের নিরাপদে রাখ।
ধন্য প্রভু! সুরক্ষিত নগরে আমার জন্য
তিনি সাধন করলেন তাঁর কৃপার আশ্চর্য কীর্তি।   [ধুয়ো]

প্রভুকে ভালবাস, তাঁর ভক্তজন সবাই, প্রভু আপন বিশ্বস্তদের রক্ষা করেন,
কিন্তু অহঙ্কারীর উপর অপর্যাপ্ত প্রতিফল দেন।
শক্ত হও, অন্তর দৃঢ় করে তোল তোমরা,
তোমরা সকলে, যারা প্রভুর প্রত্যাশায় আছ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এ মুক্তিপ্রদ অন্নে পরিপুষ্ট হয়ে উঠে আমরা অনুনয় করি:
এই সাক্রামেন্ত যেমন শাশ্বত পরিত্রাণ লাভের জন্য সহায়তা দান করে,
তেমনি যেন আমাদের বিশ্বাস দৃঢ়তর করে তোলে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৫ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, অনুনয় করি: যারা কেবল তোমার দিব্য অনুগ্রহের উপর নির্ভরশীল,
তোমার সেই পরিবার-মণ্ডলীকে তুমি তোমার অবিরত পিতৃস্নেহে প্রতিপালন কর, তারা যেন তোমার নিত্য সহায়তা লাভে রক্ষা পেতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৬:১২ক,৩-৮)

যে বছর উজ্জিয়া রাজার মৃত্যু হয়, সেই বছরে আমি দেখতে পেলাম, উচ্চ ও উন্নত এক সিংহাসনে প্রভু সমাসীন। মন্দির তাঁর বসনের প্রান্তভাগে পরিপূর্ণ। তাঁর ঊর্ধ্বে রয়েছে এক দল সেরাফ, তাঁদের প্রত্যেকের ছ’টা করে ডানা। তাঁরা উচ্চকণ্ঠে একে অন্যকে বলছিলেন,
‘পবিত্র, পবিত্র, পবিত্র সেনাবাহিনীর প্রভু।
সমগ্র পৃথিবী তাঁর গৌরবে পরিপূর্ণ।’
তাঁদের উচ্চকণ্ঠের স্বরধ্বনিতে প্রবেশদ্বারের কবাট কাঁপছিল, একইসময়ে গৃহ ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠল। আমি তখন বলে উঠলাম,
‘হায়, এবার আমার বিনাশ উপস্থিত!
আমি যে অশুচি ওষ্ঠ-মানুষ,
আমি যে অশুচি ওষ্ঠ-জাতির মাঝে বাস করছি;
অথচ আমার চোখ রাজাকে, সেনাবাহিনীর সেই প্রভুকে দেখল।’
তখন সেরাফদের একজন আমার কাছে উড়ে এলেন, তাঁর হাতে এক টুকরো জ্বলন্ত অঙ্গার, তা তিনি চিমটে দিয়ে বেদির উপর থেকে নিয়েছিলেন। তা দিয়ে তিনি আমার মুখ স্পর্শ করে বললেন,
‘দেখ, এ তোমার ওষ্ঠ স্পর্শ করেছে,
তোমার শঠতা ঘুচে গেল,
তোমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত হল।’
পরে আমি প্রভুর কণ্ঠ শুনতে পেলাম, তিনি বলছিলেন, ‘কাকে আমি প্রেরণ করব? আমাদের হয়ে কেইবা যাবে?’ আমি উত্তর দিয়ে বললাম, ‘এই যে আমি, আমাকে প্রেরণ কর।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৩৮
ধুয়ো:
ঐশজীবদের সামনে
আমি করি তোমার স্তবগান, প্রভু।

সমস্ত হৃদয় দিয়ে আমি তোমায় জানাই ধন্যবাদ,
তুমি যে শুনেছ আমার মুখের কথা।
ঐশজীবদের সামনে করি তোমার স্তবগান,
তোমার পবিত্র মন্দির পানে করি প্রণিপাত।   [ধুয়ো]

তোমার কৃপা, তোমার বিশ্বস্ততার জন্য করি তোমার নামের স্তুতি,
তুমি যে তোমার সমস্ত নাম দ্বারা তোমার বচন করেছ মহান।
যেদিন তোমাকে ডেকেছি তুমি আমায় দিয়েছ সাড়া,
শক্তি উদ্দীপিত করেছ আমার প্রাণে।   [ধুয়ো]

প্রভু, তোমার মুখের সমস্ত কথা শুনে
পৃথিবীর সকল রাজা করেন তোমার স্তুতি।
তাঁরা গান করেন প্রভুর সমস্ত পথের কথা,
কারণ প্রভুর গৌরব মহান।   [ধুয়ো]

আমায় ত্রাণ করে তোমার ডান হাত।
প্রভু আমার জন্য সবকিছুই করবেন;
প্রভু, তোমার কৃপা চিরস্থায়ী;
নিজ হাতের কর্মকীর্তি করো না গো পরিত্যাগ।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১৫:১-১১)

ভাই, আমি যে সুসমাচার তোমাদের কাছে প্রচার করেছি, যা তোমরা গ্রহণ করে নিয়েছ, যার উপর সুস্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছ, তারই কথা আমি তোমাদের মনে করিয়ে দিতে চাই। আমি তোমাদের কাছে সেই সুসমাচার যে রূপে প্রচার করেছি, সেই রূপে তা যদি আঁকড়ে ধরে থাক, তবে তা দ্বারা তোমরা পরিত্রাণও পাচ্ছ, অন্যথা, তোমরা বৃথাই বিশ্বাসী হয়েছ!
তোমাদের কাছে আমি সর্বপ্রথমে তা-ই সম্প্রদান করেছি, যা আমার নিজেরই কাছে সম্প্রদান করা হয়েছিল, তথা: খ্রিষ্ট আমাদের পাপের জন্য, শাস্ত্র অনুযায়ী, মৃত্যুবরণ করলেন, তাঁকে সমাধি দেওয়া হল; এবং শাস্ত্র অনুযায়ী তিনি তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হলেন; এবং তিনি কেফাসকে এবং পরে সেই বারোজনকে দেখা দিলেন; পরে তিনি একইসময়ে পাঁচশ’র বেশি ভাইকেও দেখা দিলেন: এদের অধিকাংশ এখনও আছে, কেউ কেউ কিন্তু এর মধ্যে নিদ্রাগত হয়েছে; তারপর তিনি যাকোবকে এবং পরে সকল প্রেরিতদূতকে দেখা দিলেন। সবার শেষে তিনি আমাকেও—যেন এক অকালজাতককেই—দেখা দিলেন।
সত্যিই প্রেরিতদূতদের মধ্যে আমি সবচেয়ে নগণ্য; এমনকি প্রেরিতদূত নামেরও যোগ্য নই, কারণ আমি ঈশ্বরের মণ্ডলীকে নির্যাতন করেছি। কিন্তু আমি যা আছি, তা ঈশ্বরের অনুগ্রহেই আছি; আমার প্রতি তাঁর সেই অনুগ্রহ ব্যর্থ হয়নি, বরং তাঁদের সকলের চেয়ে আমি বেশি পরিশ্রম করেছি—আসলে আমি নয়, বরং ঈশ্বরের সেই অনুগ্রহ যা আমার সঙ্গে আছে।
যাই হোক, আমিই হই বা তাঁরাই হোন, আমরা এভাবেই প্রচার করেছি আর তোমরা এভাবেই বিশ্বাস করেছ।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমার পিছনে এসো—একথা বলছেন প্রভু;
আমি তোমাদের করে তুলব মানুষ-ধরা জেলে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৫:১-১১)

একদিন বহু লোকের ভিড় ঈশ্বরের বাণী শুনবার জন্য যিশুর উপর চাপাচাপি করছিল ও যিশু নিজে গেন্নেসারেৎ হ্রদের ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এমন সময়ে দেখলেন, তীরের কাছাকাছি দু’টো নৌকা রয়েছে; জেলেরা নৌকা থেকে নেমে গিয়ে জাল ধুচ্ছিল। তখন তিনি ওই দু’টোর মধ্যে একটায়, সিমোনের নৌকায়ই, উঠে ডাঙা থেকে একটু দূরে যেতে তাঁকে অনুরোধ করলেন, এবং সেখানে আসন নিয়ে নৌকা থেকে লোকদের উপদেশ দিতে লাগলেন।
কথা শেষ করে তিনি সিমোনকে বললেন, ‘গভীর জলে নৌকা নিয়ে যাও ও মাছ ধরবার জন্য তোমাদের জাল ফেল।’ সিমোন উত্তর দিলেন, ‘গুরুদেব, আমরা সারারাত ধরে পরিশ্রম করে কিছুই পাইনি, কিন্তু আপনার কথায় আমি জাল ফেলব।’ তাঁরা তেমনটি করলে মাছের এত বড় ঝাঁক ধরা পড়ল যে, তাঁদের জাল ছিঁড়ে যেতে লাগল; তাই তাঁদের যে ভাগীদারেরা অন্য নৌকায় ছিলেন, তাঁদের তাঁরা সঙ্কেত করলেন তাঁরা যেন তাঁদের সাহায্য করতে আসেন। ওঁরা এলে তাঁরা দু’টো নৌকা এমনভাবে ভরে দিলেন যে, নৌকা দু’টো প্রায় ডুবে যাচ্ছিল।
তা দেখে সিমোন পিতর যিশুর হাঁটুতে পড়ে বললেন, ‘প্রভু, আমার কাছ থেকে চলে যান, আমি যে পাপী!’ কেননা জালে এত মাছ ধরা পড়েছিল বিধায় তিনি ও তাঁর সকল সঙ্গী স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিলেন; আর সিমোনের ভাগীদারেরা, জেবেদের ছেলে সেই যাকোব ও যোহনও স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু যিশু সিমোনকে বললেন, ‘ভয় করো না, এখন থেকে তুমি মানুষই ধরবে।’
পরে, নৌকা কিনারায় এনে তাঁরা সবকিছু ত্যাগ করে তাঁর অনুসরণ করলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

ধন্য প্রেরিতদূত পিতর প্রভুর সঙ্গে ও খ্রিষ্টের অন্য দু’জন শিষ্য সেই যাকোব ও যোহনের সঙ্গে পর্বতে আছেন, এমন সময় তিনি স্বর্গ থেকে আগত কার যেন কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন: ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, এঁতে আমি প্রসন্ন; তাঁর কথা শোন (মথি ১৭:৫)।
প্রেরিতদূত এ ঘটনার কথা নিজের পত্রে স্মরণ করিয়ে তার বিষয়ে এ সাক্ষ্য দান করেন: স্বর্গ থেকে নেমে আসা সেই কণ্ঠ আমরাই শুনেছিলাম, যখন তাঁর সঙ্গে সেই পবিত্র পর্বতে ছিলাম; তারপর তিনি বলে চলেন, তাতে নবীদের বাণী আমাদের কাছে এখন আরও সুনিশ্চিত (২ পি ১:১৮-১৯)।
এই যে পিতর তেমন কথা বলছেন, তিনি তো জেলেই ছিলেন: এখন তিনি প্রচারক বলে মহাপ্রশংসার যোগ্য, এমনকি তাঁর মধ্যে সেই জেলেকে আর চেনা যায় না। সেজন্য প্রেরিতদূত পল আদি খ্রিষ্টিয়ানদের উদ্দেশ করে বললেন, ভাই, একটু বিচার-বিবেচনা কর, তোমরা নিজেরা কেমন ভাবে আহূত হয়েছ: আসলে—জাগতিক বিচার অনুসারে—তোমাদের মধ্যে প্রজ্ঞাবান বলতে বেশি কেউ নেই, ক্ষমতাশালী বলতে বেশি কেউ নেই, সম্ভ্রান্ত বংশীয় বলতে বেশি কেউ নেই; কিন্তু জগতের যা মূর্খ, ঈশ্বর তা-ই বেছে নিয়েছেন প্রজ্ঞাবানদের লজ্জা দেবার জন্য; এবং জগতের যা দুর্বল, ঈশ্বর তা-ই বেছে নিয়েছেন, যা শক্তিশালী, তা লজ্জা দেবার জন্য; এবং জগতের যা হীন, অবজ্ঞাত, যার কোন অস্তিত্ব নেই, ঈশ্বর তা-ই বেছে নিয়েছেন, যার অস্তিত্ব আছে, তা নস্যাৎ করে দেবার জন্য, যেন কোন মর্তমানুষ ঈশ্বরের সামনে গর্ববোধ করতে না পারে (১ করি ১:২৬-২৯)।
যদি খ্রিষ্ট নিজ কাজ শুরু করার জন্য একটা সুবক্তাকে বেছে নিতেন, তিনি বলতেন, আমার বাক্‌পটুতার জন্যই আমাকে বেছে নেওয়া হয়েছে; যদি একটা মন্ত্রীকে বেছে নিতেন, তিনি বলতেন, আমার পদমর্যাদার জন্যই আমাকে বেছে নেওয়া হয়েছে; যদি একটা সম্রাটকে বেছে নিতেন, তিনি বলতেন, আমার পরাক্রমের জন্যই আমাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এঁরা নিশ্চুপ থাকুন, একটু অপেক্ষা করুন, একটু শান্ত থাকুন। এঁদের ত্যাগ করতে নেই, অবজ্ঞাও করতে নেই, কিন্তু যারা নিজেদের নিয়ে গর্ব করতে পারে, তাদের সকলকে একটু পাশে রাখা হোক।
তিনি বলেন, আমাকে সেই জেলেকে দাও; অশিক্ষিত সেই মানুষকে দাও; অপ্রস্তুত সেই মানুষকে দাও; আমাকে তাকেই দাও, মন্ত্রী মাছ কেনার সময় যার সঙ্গে কথাও বলা পর্যন্ত সাহস করেন না: আমাকে তাকেই দাও। আমি তাকে রূপান্তরিত করলে পর স্পষ্ট হয়ে উঠবে, আমিই তার মধ্যে কাজ সাধন করছি। অবশ্য, মন্ত্রী, সুবক্তা ও সম্রাটের মধ্যেও আমিই কাজ সাধন করি; তথাপি যদিও মন্ত্রীর মধ্যে আমি ক্রিয়াশীল, তবু জেলের মধ্যে তা আরও নিশ্চিত হবে।
মন্ত্রী নিজেকে নিয়ে গর্ব করতে পারেন, তেমনি সুবক্তা ও সম্রাটও; কিন্তু এ জেলে খ্রিষ্টে ছাড়া অন্য কিছুতে গর্ব করতে পারেন না। আসুন, প্রথম আসুন সেই জেলে যিনি মন্ত্রীকে বিনম্রতা শেখাবেন; জেলের পরে সম্রাটও আরও সহজে এগিয়ে আসতে পারবেন।
তাই তোমরা সেই পুণ্যবান, ন্যায়বান, মঙ্গলময় ও খ্রিষ্টে পরিপূর্ণ সেই জেলেকে স্মরণ কর যিনি সারা বিশ্বে ছড়ানো নিজের জালের মধ্যে অন্য জাতির সঙ্গে এ জাতিকেও ধরবার দায়িত্ব পেলেন। তাঁর সেই বাণী স্মরণে রাখ: নবীদের বাণী আমাদের কাছে এখন আরও সুনিশ্চিত (২ পি ১:১৯)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১০৭
ধুয়ো:
তারা প্রভুকে ধন্যবাদ দিক তাঁর কৃপার জন্য,
তিনি যে পরিতৃপ্ত করলেন তৃষাতুরের প্রাণ,

প্রভুকে ধন্যবাদ জানাও, তিনি যে মঙ্গলময়,
তাঁর কৃপা যে চিরস্থায়ী।
একথা তারাই বলুক,
প্রভু যাদের মুক্তিকর্ম সাধন করলেন,   [ধুয়ো]

তারা ঘুরছিল প্রান্তরে, মরুদেশে,
পাচ্ছিল না বাস করার মত কোন নগরের পথ;
তারা ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত ছিল,
মূর্ছা যাচ্ছিল তাদের প্রাণ।   [ধুয়ো]

সেই সঙ্কটে তারা প্রভুকে চিৎকার করে ডাকল,
সমস্ত ক্লেশ থেকে তিনি তাদের উদ্ধার করলেন:
সরল পথে তাদের নিয়ে চললেন,
বাস করার মত একটি নগরে তারা যেন যেতে পারে।   [ধুয়ো]

তারা প্রভুকে ধন্যবাদ দিক তাঁর কৃপার জন্য,
আদমসন্তানদের প্রতি তাঁর আশ্চর্য কর্মকীর্তির জন্য;
তিনি যে পরিতৃপ্ত করলেন তৃষাতুরের প্রাণ,
ক্ষুধিতের প্রাণ পরিপূর্ণ করলেন মঙ্গলদানে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি আমাদের
একরুটি এক-পানপাত্রের সহভাগী করতে ইচ্ছা করেছ।
অনুনয় করি: খ্রিষ্টে এক হয়ে উঠে আমরা যেন
মনের আনন্দে জগতের পরিত্রাণের জন্য ফলশালী হতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৬ষ্ঠ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি কথা দিয়েছ,
ন্যায়শীল সৎমানুষ যারা, তাদেরই হৃদয়ে তুমি বসবাস কর।
তোমার অনুগ্রহ গুণে আমাদের এমনভাবেই গড়ে তোল
যাতে তোমার যোগ্য বাসস্থান হয়ে উঠতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী যেরেমিয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (১৭:৫-৮)

প্রভু একথা বলছেন:
‘অভিশপ্ত সেই মানুষ, যে মানুষে ভরসা রাখে,
যে নিজের বাহুতে ভর করে,
যে প্রভু থেকে নিজের হৃদয় সরিয়ে দেয়!
সে যেন প্রান্তরে একটা ঝাউগাছের মত,
মঙ্গল এলে সে পায় না তার দর্শন;
সে মরুভূমির দগ্ধ স্থানে বাস করবে,
এমন লবণ-ভূমিতেই, যেখানে কেউ বাস করতে পারে না।
আহা, কেমন আশিসে ধন্য সেই মানুষ যে প্রভুতে ভরসা রাখে,
যার ভরসা স্বয়ং প্রভু।
সে যেন জলাশয়ের ধারে এমন গাছের মত,
যা নদীর দিকে বাড়ায় শিকড়।
উত্তাপ এলেও সে ভয় পায় না,
তার পাতা হয়ে থাকে সবুজ-সতেজ;
অনাবৃষ্টির সময়েও তার কোন দুশ্চিন্তা নেই,
তেমন গাছ ফল ধরায় বিরত থাকে না।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩২
ধুয়ো:
সুখী সেই মানুষ,
যে প্রভুতে ভরসা রাখে।

সুখী সেই মানুষ, দুর্জনদের মন্ত্রণায় যে চলে না,
পাপীদের পথেও দাঁড়ায় না, বিদ্রূপকারীদের আসরেও যে বসে না,
বরং প্রভুর বিধানে যার প্রীতি,
তাঁর বিধান যে জপ করে নিশিদিন।   [ধুয়ো]

সে যেন জলস্রোতের তীরে রোপিত বৃক্ষের মত,
যথাসময় যা হবে ফলবান,
যার পাতা হবে না ম্লান,
সে যা করে, সেই সবই সার্থক হবে।   [ধুয়ো]

দুর্জনেরা কিন্তু তেমন নয়, তেমন নয়!
তারা যেন বাতাসে তাড়িত তুষ।
কেননা প্রভু দৃষ্টি রাখেন ধার্মিকদের পথে,
কিন্তু দুর্জনদের পথের হবে বিলোপ।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১৫:১২,১৬-২০)

প্রিয়জনেরা, খ্রিষ্ট বিষয়ে যখন একথা প্রচার করা হয় যে, তিনি মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করেছেন, তখন তোমাদের কেউ কেউ কেমন করে বলতে পারে, মৃতদের পুনরুত্থান বলে কিছু নেই? কেননা মৃতদের পুনরুত্থান যদি না হয়, খ্রিষ্টও পুনরুত্থিত হননি। আর খ্রিষ্ট যদি পুনরুত্থিত না হয়ে থাকেন, তাহলে তোমাদের বিশ্বাস অসার, এখনও তোমরা তোমাদের সেই পাপ-অবস্থায় রয়েছ। আর যারা খ্রিষ্টে নিদ্রা গেছে, তারাও একেবারে বিলুপ্ত। আমরা যদি কেবল এজীবনেই খ্রিষ্টে প্রত্যাশা করে থাকি, তাহলে সকল মানুষের মধ্যে আমরাই সবচেয়ে দুর্ভাগা। আসলে খ্রিষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করেছেন—নিদ্রাগতদের প্রথমফসল রূপে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আনন্দ কর ও নেচে ওঠ—একথা বলছেন প্রভু,
কেননা দেখ, স্বর্গে তোমাদের মজুরি প্রচুর।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:১৭,২০-২৬)

একদিন যিশু সেই বারোজনের সঙ্গে নেমে গিয়ে একটা সমতল জায়গায় দাঁড়ালেন; সেখানে তাঁর অনেক শিষ্য উপস্থিত ছিলেন এবং সমস্ত যুদেয়া ও যেরুসালেম থেকে ও তুরস ও সিদোনের উপকূল-অঞ্চল থেকে আসা বহু লোকও উপস্থিত ছিল; তারা তাঁর বাণী শুনবার জন্য ও নিজেদের রোগ-ব্যাধি থেকে নিরাময় হবার জন্য তাঁর কাছে এসেছিল।
তখন তিনি নিজ শিষ্যদের উপরে চোখ নিবদ্ধ রেখে বললেন,
‘দীনহীন যারা, তোমরাই সুখী, কারণ ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদেরই।
এখন ক্ষুধার্ত যারা, তোমরাই সুখী, কারণ পরিতৃপ্ত হবে।
এখন কাঁদছ যারা, তোমরাই সুখী, কারণ হাসবে।
তোমরাই সুখী, লোকে যখন মানবপুত্রের জন্য তোমাদের ঘৃণা করে, যখন তোমাদের সমাজচ্যুত করে ও অপমান করে, এবং তোমাদের নাম জঘন্য বলে অগ্রাহ্য করে। সেসময়েই আনন্দ কর ও নেচে ওঠ, কেননা দেখ, স্বর্গে তোমাদের মজুরি প্রচুর হবে। বাস্তবিকই তাদের পিতৃপুরুষেরা নবীদের প্রতি এইভাবেই ব্যবহার করছিল। কিন্তু,
ধনী যারা, তোমাদের ধিক্‌,
কারণ তোমাদের সান্ত্বনা তোমরা এর মধ্যেই পেয়ে গেছ।
এখন পরিতৃপ্ত যারা, তোমাদের ধিক্‌, কারণ ক্ষুধার্ত হবে।
এখন হাসছ যারা, তোমাদের ধিক্‌, কারণ বিলাপ করবে ও কাঁদবে।
তোমাদের ধিক্‌, লোকে যখন তোমাদের বিষয়ে ভাল বলে। বাস্তবিকই তাদের পিতৃপুরুষেরা ভণ্ড নবীদের প্রতি এইভাবেই ব্যবহার করছিল।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
পুরোহিত তের্তুল্লিয়ানুস-লিখিত ‘মার্কিওনের বিপক্ষে’

আমি সকলের কাছে জানা সেই খ্রিষ্টের উক্তিগুলি, ও সেগুলির মধ্য দিয়ে তাঁর শিক্ষা, অর্থাৎ কিনা তাঁর সংবাদের বিষয়বস্তুও ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছি: ভিক্ষুক যারা, তারাই সুখী—কারণ এই তো গ্রীক শব্দের প্রকৃত অর্থ!—কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই (লুক ৬:২০)। তিনি যে ‘সুখী’ শব্দটা নিয়ে শুরু করছেন, একথাও সেই স্রষ্টারই উপযুক্ত, যিনি—শাস্ত্রে যেমন নিজেই বলেছিলেন—সবকিছু কেবল সুখময় বলেই সৃষ্টি করেছিলেন। মধুর বাণী ফুটে ওঠে আমার হৃদয়ে (সাম ৪৫:১): তেমন মধুর বাণী অবশ্যই হল সেই সুখ-তালিকা, যা থেকে তাঁকেই চেনা যেতে পারে যিনি প্রাচীন সন্ধির সাদৃশ্যে নবসন্ধির প্রবর্তন করতে যাচ্ছেন। তবে আশ্চর্যের কীবা থাকতে পারে, তাঁর উপদেশ যদি সৃষ্টির প্রতি ভালবাসারই উক্তি উচ্চারণে শুরু হয়, যে ভালবাসায় তিনি ভিক্ষুকদের, গরিবদের, বিনম্রদের ও বিধবাদের নিত্যই ভালবাসেন, সান্ত্বনা দান করেন ও সুস্থির করেন? তুমি কি মনে কর না, খ্রিষ্টের এ ব্যক্তিময় মঙ্গলময়তা হল সেই জল যা পরিত্রাতার উৎসধারা থেকে উৎসারিত? (ইসা ৪৯:১০ দ্রঃ)।
এখন ক্ষুধার্ত যারা, তোমরাই সুখী, কারণ পরিতৃপ্ত হবে (লুক ৬:২১)। যেহেতু সেই গরিব ও ভিক্ষুক ছাড়া এই ক্ষুধার্তরা অন্য কেউ নয়, সেজন্য, স্রষ্টা নিজেই যদি নিজ সুসমাচারের সূত্রপাত হিসাবে সেই প্রতিশ্রুতি নির্ধারণ না করতেন, আমি আগের শিরনামের পরিবর্তে এই উক্তিই দিতে পারতাম। যাদের তিনি একদিন পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে ডাকবেন, সেই বিজাতীয়দের বিষয়ে ইসাইয়ার মুখ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, তারা দ্রুতপদে ও চট্‌পট করে আসবে: তারা দ্রুতপদে আসবে কারণ চরমকালের দিকেই অগ্রসর হবে; চট্‌পট করে আসবে কারণ প্রাচীন বিধানের বোঝা আর থাকবে না; এর পরে তিনি বলেছিলেন, তারা ক্ষুধার্ত কি তৃষ্ণার্ত হবে না (ইসা ৪৯:১০)। এখন, ক্ষুধার্তদের কাছে তৃপ্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া স্রষ্টারই পরিচয়।
এখন কাঁদছ যারা, তোমরাই সুখী, কারণ হাসবে (লুক ৬:২১)। ইসাইয়ার বাণী একটু দেখ: দেখ, আমার আপন দাসেরা আনন্দিত হবে, কিন্তু তোমরা লজ্জার বস্তু হবে; দেখ, আমার আপন দাসেরা মনের আনন্দে চিৎকার করতে করতে ফেটে পড়বে, কিন্তু তোমরা মনের দুঃখে চিৎকার করবে (ইসা ৬৫:১৩-১৪)।
আমরা তেমন দ্বন্দ্ব খ্রিষ্টের বেলায়ও লক্ষ করব: উল্লাস ও আনন্দ তাদেরই কাছে প্রতিশ্রুত, যারা বিপরীত অবস্থায় রয়েছে, অর্থাৎ কিনা শোকার্ত, দুঃখিত ও সঙ্কটাপন্নদের কাছেই প্রতিশ্রুত। এ কারণে সামসঙ্গীত-রচয়িতাও এবিষয়ে বলেন, যারা অশ্রুজলে বীজ বোনে, তারা আনন্দোল্লাসেই ফসল সংগ্রহ করবে (সাম ১২৬:৫)। প্রকৃতপক্ষে খ্রিষ্ট দীনহীন, বিনম্র, ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্তদের সান্ত্বনাদানের সংবাদ দিয়ে শুরু করলেন কারণ শুরু থেকে দেখাতে চাচ্ছিলেন, তিনিই সেই ব্যক্তি যাঁর বিষয়ে ইসাইয়া বলেছিলেন, প্রভু পরমেশ্বরের আত্মা আমার উপর অধিষ্ঠিত, কেননা প্রভুই আমাকে তৈলাভিষিক্ত করেছেন। তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন দীনদুঃখীদের কাছে শুভসংবাদ দিতে—দীনহীন যারা, তোমরাই সুখী, কারণ ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদেরই।
তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন ভগ্নহৃদয় মানুষকে সারিয়ে তুলতে—এখন ক্ষুধার্ত যারা, তোমরাই সুখী, কারণ পরিতৃপ্ত হবে।
তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন শোকার্তদের সান্ত্বনা দিতে—এখন কাঁদছ যারা, তোমরাই সুখী, কারণ হাসবে। তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন সিয়োনে যারা শোকার্ত তাদের আনন্দ দিতে, ছাইয়ের পরিবর্তে মালা, শোকের পোশাকের পরিবর্তে আনন্দ-বসন, অবসন্ন হৃদয়ের পরিবর্তে আনন্দগান (ইসা ৬১:১-৩; লুক ৪:১৮-১৯; ৬:২০-২১)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৭৮
ধুয়ো:
তারা খুব তৃপ্তির সঙ্গেই খেল,
প্রভু যে তাদের সেই বাসনা করেছিলেন মঞ্জুর।

মরুপ্রান্তরে শৈলশিলা বিদীর্ণ ক’রে
তিনি তাদের প্রচুর জল পান করালেন যেন সমুদ্রের অতল থেকে;
শৈল থেকে বের করে আনলেন কত জলস্রোত,
নদনদীর মতই বইয়ে দিলেন জল।   [ধুয়ো]

অথচ মরুদেশে পরাৎপরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ক’রে
তারা তাঁর বিরুদ্ধে পাপ করে চলল;
মনোমত খাদ্য চেয়ে
অন্তরে ঈশ্বরকে যাচাই করল।   [ধুয়ো]

তারা পরমেশ্বরের বিরুদ্ধে গজগজ করে একথা বলল,
‘ঈশ্বর কি মরুপ্রান্তরে ভোজনপাট সাজাতে পারবেন?’
এই যে! তিনি শৈলে আঘাত হানলেই বইতে লাগল জল,
উছলে পড়ল যত খরস্রোত।   [ধুয়ো]

‘তিনি কি রুটিও দিতে পারবেন,
আপন জনগণের জন্য কি মাংস যোগাতে পারবেন?’
তারা যে পরমেশ্বরে বিশ্বাস রাখল না,
ভরসা রাখল না তাঁর পরিত্রাণে।   [ধুয়ো]

তবুও তিনি ঊর্ধ্বের মেঘপুঞ্জকে আজ্ঞা দিলেন,
খুলে দিলেন আকাশের যত দ্বার,
তাদের উপর খাদ্যরূপে বর্ষণ করলেন মান্না,
তাদের দিলেন স্বর্গের গোধুম।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, অনুনয় করি: স্বর্গীয় অন্নগ্রহণে পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে আমরা যেন অনুক্ষণ
সেই বিষয়ের অন্বেষণ করি যা মানুষকে প্রকৃত জীবনে সঞ্জীবিত করে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৭ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর: স্বর্গের বিষয়ে অনুক্ষণ মন দিয়ে
আমরা যেন কথাকর্মে তোমার মঙ্গল ইচ্ছা পূর্ণ করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
সামুয়েলের প্রথম পুস্তক থেকে পাঠ (২৬:২,৭-৯,১২-১৩,২২-২৩)

সেসময়ে সৌল রওনা দিয়ে জিফ মরুপ্রান্তরে দাউদের খোঁজ করতে ইস্রায়েলের তিন হাজার বাছাই করা লোককে সঙ্গে নিয়ে জিফ মরুপ্রান্তরে নেমে গেলেন।
এদিকে দাউদ ও আবিশাই রাত্রিবেলায় লোকদের মধ্যে গিয়ে দেখতে পেলেন যে, সৌল ঘেরা জায়গাটার ভিতরে ঘুমিয়ে আছেন; তাঁর মাথার পাশে তাঁর বর্শা মাটিতে পোঁতা, এবং চারপাশে আব্নের ও তাঁর সৈন্যদল শুয়ে আছে। আবিশাই দাউদকে বললেন, ‘আজ পরমেশ্বর আপনার শত্রুকে আপনার হাতে তুলে দিয়েছেন। আমাকে অনুমতি দিন, আমি বর্শা দিয়ে তাঁকে এক আঘাতে মাটিতে গেঁথে ফেলি; তাঁকে আমার দু’বার আঘাত করারও দরকার হবে না!’ কিন্তু দাউদ আবিশাইকে বললেন, ‘না, তাঁকে মেরে ফেলো না! কেননা প্রভুর তৈলাভিষিক্তজনের বিরুদ্ধে হাত বাড়িয়ে কে শাস্তি এড়াল?’
দাউদ সৌলের মাথার পাশ থেকে তাঁর বর্শা ও জলের কুঁজোটি তুলে নিলেন, তারপর তাঁরা দু’জনে চলে গেলেন; কেউই কিছু দেখতে পেল না, কেউই কিছু জানতে পারল না, কেউ জেগেও উঠল না; সকলে ঘুমিয়ে ছিল, কারণ প্রভু তাদের উপরে গভীর ঘুমের ঘোর নামিয়ে এনেছিলেন।
দাউদ উপত্যকার ওপারে পার হয়ে, বেশ কিছু দূরে, পাহাড়ের চূড়ায় এসে দাঁড়ালেন; তাঁদের মধ্যে অনেকটা পথের ব্যবধান। পরে দাউদ জোর গলায় বললেন, ‘এই যে রাজার বর্শা; একটি লোক পার হয়ে এসে এটি নিয়ে যাক! প্রভু প্রত্যেককে যে যার ধর্মময়তা ও বিশ্বস্ততা অনুযায়ী প্রতিফল দিন। আজ প্রভু আপনাকে আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি প্রভুর তৈলাভিষিক্তজনের বিরুদ্ধে হাত বাড়াতে রাজি হলাম না।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১০৩
ধুয়ো:
প্রভু স্নেহশীল,
প্রভু দয়াবান।

প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
আমার অন্তরে যা কিছু আছে, ধন্য কর তাঁর পবিত্র নাম।
প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
ভুলে যেয়ো না তাঁর সমস্ত উপকার:   [ধুয়ো]

তিনিই তো তোমার সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করেন,
তোমার সমস্ত রোগ-ব্যাধি নিরাময় করেন,
গহ্বর থেকে মুক্ত করেন তোমার জীবন,
তোমাকে কৃপা ও স্নেহে করেন মুকুট-ভূষিত।   [ধুয়ো]

প্রভু স্নেহশীল, দয়াবান,
ক্রোধে ধীর, কৃপায় ধনবান।
আমাদের প্রতি তাঁর আচরণ আমাদের পাপরাশির অনুপাতে নয়,
আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিদান আমাদের যত অপরাধের অনুপাতে নয়।   [ধুয়ো]

পশ্চিম থেকে পুব যত দূরবর্তী,
তিনি আমাদের কাছ থেকে তত দূরে ফেলে দেন আমাদের যত অপরাধ।
পিতা যেমন সন্তানদের স্নেহ করেন,
যারা তাঁকে ভয় করে, প্রভুও তাদের প্রতি তত স্নেহশীল।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১৫:৪৫-৪৯)

প্রিয়জনেরা, প্রথম মানুষ সেই আদম সজীব এক প্রাণী হয়ে উঠল; কিন্তু শেষ আদম জীবনদায়ী আত্মা হয়ে উঠলেন। যা আত্মিক, তা প্রথম নয়, বরং যা প্রাণিক, তা-ই প্রথম; যা আত্মিক, তা পরেই এল।
প্রথম মানুষ মাটি থেকে আগত, মৃন্ময়; দ্বিতীয় মানুষ স্বর্গ থেকে আগত। মৃন্ময় যারা, তারা সেই মৃন্ময়জনের মত, এবং স্বর্গীয় যারা, তারা সেই স্বর্গীয়জনের মত।
আর আমরা যেমন সেই মৃন্ময়জনের প্রতিমূর্তি ধারণ করেছি, তেমনি সেই স্বর্গীয়জনের প্রতিমূর্তিও ধারণ করব।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমি এক নতুন আজ্ঞা তোমাদের দিচ্ছি
—একথা বলছেন প্রভু;
আমি যেমন তোমাদের ভালবেসেছি,
তেমনি তোমরাও পরস্পরকে ভালবাস।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:২৭-৩৮)

একদিন যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন, ‘তোমরা যারা শুনছ, আমি তোমাদের বলছি, তোমরা তোমাদের শত্রুদের ভালবাস; যারা তোমাদের ঘৃণা করে, তাদের উপকার কর; যারা তোমাদের অভিশাপ দেয়, তাদের আশীর্বাদ কর; যারা তোমাদের প্রতি দুর্ব্যবহার করে, তাদের মঙ্গল প্রার্থনা কর। যে তোমার এক গালে চড় মারে, অন্য গালও তার দিকে পেতে দাও; যে তোমার চাদর কেড়ে নেয়, তাকে জামাও নিতে বারণ করো না। যে কেউ তোমার কাছে যাচনা করে, তাকে দাও; আর তোমার নিজের জিনিস যে কেড়ে নেয়, তার কাছে তা আর ফিরিয়ে চেয়ো না।
তোমরা লোকদের কাছ থেকে যেমন ব্যবহার প্রত্যাশা কর, তোমরা তাদের প্রতি সেইমত ব্যবহার কর। যারা তোমাদের ভালবাসে, তাদেরই ভালবাসলে তোমরা কী অনুগ্রহ পাবে? পাপীরাও তাদের ভালবাসে যারা তাদের ভালবাসে। আর যারা তোমাদের উপকার করে, তাদেরই উপকার করলে তোমরা কী অনুগ্রহ পাবে? পাপীরাও সেইমত করে। আর যাদের কাছ থেকে পাবার আশা থাকে, তাদেরই ধার দিলে তোমরা কী অনুগ্রহ পাবে? পাপীরাও পাপীদের ধার দেয় যেন সেই পরিমাণে আবার পেতে পারে। তোমরা কিন্তু তোমাদের শত্রুদের ভালবাস, তাদের উপকার কর, ও ফেরত পাবার কোন আশা না রেখেই ধার দাও, তাহলেই তোমাদের মজুরি প্রচুর হবে, ও তোমরা পরাৎপরের সন্তান হবে, কেননা তিনি অকৃতজ্ঞ ও দুর্জনদের প্রতিও কৃপাময়। তোমাদের পিতা যেমন দয়াবান, তোমরাও তেমনি দয়াবান হও।
তোমরা বিচার করো না, তবে বিচারাধীন হবে না; কাউকে দোষী করো না, তবে তোমাদের দোষী করা হবে না; ক্ষমা কর, তবে তোমাদের ক্ষমা করা হবে; দাও, তবে তোমাদের দেওয়া হবে—উত্তম পরিমাপে, ঠাসা, ঝেঁকে-নেওয়া, উপচে-পড়া পরিমাপেই তোমাদের কোলে ফেলে দেওয়া হবে; কারণ যে মাপকাঠিতে তোমরা পরিমাপ কর, ঠিক সেই মাপকাঠিতে তোমাদের জন্য পরিমাপ করা হবে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
মহাপ্রাণ সাধু লিওর উপদেশ

প্রিয়জনেরা, সুসমাচার অনুসারে জীবনযাপন করার জন্য প্রাচীন বিধান জানা অত্যন্ত উপযুক্ত, কেননা তার কয়েকটা নিয়ম নতুন নিয়মনীতিতে স্থান পেয়েছে; তাছাড়া মণ্ডলীর ধর্মীয় পরম্পরা দেখায় যে, প্রভু যিশু বিধান বাতিল করতে নয়, তার পূর্ণতা দিতেই এসেছেন (মথি ৫:১৭)।
বস্তুতপক্ষে আমাদের ত্রাণকর্তার আগমন সংক্রান্ত সমস্ত প্রতীক অর্থশূন্য হয়ে পড়লে ও বাস্তবতার আবির্ভাবে সমস্ত পূর্বদৃষ্টান্ত পূর্ণতালাভের পর নিঃশেষিত হলে তবু সেই সমস্ত বিধিনিয়ম—যা জীবনাচরণের নিয়ম রূপে বা ঐশউপাসনার পবিত্রতা রক্ষার জন্য ধর্মভক্তি দ্বারা উপস্থাপিত হয়েছিল—আমাদের জন্য এখনও একই আকারে বলবৎ থাকে: এক কথায়, প্রাক্তন ও নব সন্ধির জন্য যা কিছু সমুচিত ছিল, তার কোন প্রকার পরিবর্তন ঘটেনি।
সুতরাং দয়াধর্মে যুক্ত প্রার্থনা ঈশ্বরের কাছে অত্যন্ত কার্যকারী, কারণ গরিব থেকে যে দৃষ্টি ফেরায় না সে সঙ্গে সঙ্গে নিজের উপর ঈশ্বরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যেভাবে প্রভু বলেছিলেন, তোমাদের পিতা যেমন দয়াবান, তোমরা তেমনি দয়াবান হও; ক্ষমা কর, তবে তোমাদের ক্ষমা করা হবে (লুক ৬:৩৬, ৩৭)। তেমন ধর্মময়তার চেয়ে মঙ্গলকর কী আছে? বিচারের রায় যে বিচারিতের হাতে দেওয়া হয়, তেমন উক্তির চেয়ে কি ক্ষমাশীল উক্তি আছে? তোমরা দাও, তবে তোমাদের দেওয়া হবে (লুক ৬:৩৮)। আহা, কতই না শীঘ্রই পড়ে যায় সন্দেহের যত দুশ্চিন্তা ও কৃপণতার যত দ্বিধা, যাতে স্বয়ং সত্য যা ফেরত দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন, মানুষ মনের শান্তিতেই তা দান করতে পারে! হে খ্রিষ্টিয়ান, তুমি যে অর্থদান কর, দানশীল হও। দাও, তুমি পাবেই; বীজ বোন, ফসল সংগ্রহ করবেই; ছড়িয়ে দাও, তোমার লাভ হবেই। খরচ করতে ভীত হয়ো না; দুশ্চিন্তায় থেকো না, ঠিক যেন ফসল অনিশ্চিত! ভাল মত বিতরণ করলে তোমার ধন বাড়বেই। তুমি দয়ার ন্যায্য লাভের আকাঙ্ক্ষা কর, অনন্ত জীবনের উদ্দেশে অবিরত ব্যবসা কর।
যিনি তোমার প্রতিদান দেবেন, তিনি চান তুমি দানশীল হবে; তুমি যেন সম্পদশালী হও, যিনি দান করেন, তিনি দান করতে তোমাকে আজ্ঞা দেন: দাও, তোমাদের দেওয়া হবে।
তেমন প্রতিশ্রুতির শর্ত আঁকড়ে ধর, সানন্দেই তা আলিঙ্গন কর, কারণ তোমার এমন কীবা আছে যা পাওনি (১ করি ৪:৭) এ বচন যতই সত্য, তবু এমনটি হতে পারে না যে, যা তুমি দান করেছ, আবার তা পাবে না। সুতরাং যে কেউ অর্থ ভালবাসে ও নিজ সম্পদ অতিমাত্রায় বৃদ্ধি করতে ইচ্ছা করে, সে এ পুণ্য সুদ কারবারের অনুশীলন করুক এবং এ চালাকিতে অর্জিত লাভের ফলে নিজেকে ধনবান করুক। সে যেন অভাবগ্রস্তের প্রয়োজন নিজের স্বার্থে ব্যবহার না করে, পাছে মিথ্যা সহায়তায় নিহিত চালাকি তাকে অশোধনীয় ঋণের জালে জড়িয়ে দেয়; সে বরং তাঁরই পাওনাদার ও সুদখোর হোক যিনি বলেছেন, দাও, তবে তোমাদের দেওয়া হবে, কারণ যে মাপকাঠিতে তোমরা পরিমাপ কর, ঠিক সেই মাপকাঠিতে তোমাদের জন্য পরিমাপ করা হবে (লুক ৬:৩৮)।
তাই প্রিয়জনেরা, তোমরা যারা সমস্ত অন্তর দিয়ে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করেছ, কৃপণতার ঘৃণ্য কুষ্ঠরোগ থেকে দূরে পালাও, ও ঈশ্বরের দানগুলি ভালবাসা ও সুবুদ্ধির সঙ্গে কাজে প্রয়োগ কর। আর যেহেতু তোমরা তাঁর দানশীলতা ভোগ করছ, সেজন্য এমনটি কর যাতে পরকেও তোমাদের আনন্দের সহভাগী করতে পার।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৯
ধুয়ো:
প্রচার করব তোমার সকল আশ্চর্য কাজের কথা।
করব তোমার নামগান, হে পরাৎপর।

সমস্ত হৃদয় দিয়ে আমি করব প্রভুর স্তুতিবাদ,
প্রচার করব তোমার সকল আশ্চর্য কাজের কথা।
তোমাতে আনন্দ করব, করব উল্লাস,
করব তোমার নামগান, হে পরাৎপর।   [ধুয়ো]

অত্যাচারিতের জন্য প্রভু হবেন দুর্গ,
সঙ্কটকালেই দুর্গ তিনি।
যারা তোমার নাম জানে, তারা তোমাতেই ভরসা রাখবে,
কারণ তোমার অন্বেষীদের তুমি ত্যাগ কর না কো প্রভু।   [ধুয়ো]

সিয়োনে সমাসীন প্রভুর উদ্দেশে তোমরা স্তবগান কর,
জাতিসকলের কাছে প্রচার কর তাঁর কর্মকীর্তির কথা,
কারণ রক্তপাতের সেই প্রতিফলদাতা সবই মনে রাখেন,
তিনি দীনদুঃখীদের চিৎকার ভোলেন না।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, এ মহারহস্যে যোগদানের ফলে
আমরা অগ্রিম দান হিসাবে যা পেয়েছি,
তোমার আশীর্বাদে যেন তার পরিত্রাণদায়ী ফলের অভিজ্ঞতা করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৮ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের মিনতিতে সাড়া দিয়ে আশীর্বাদ কর:
বিশ্বজগৎ যেন তোমার পরিচালনায় শান্তির পথে এগিয়ে চলে,
তোমার মণ্ডলীও যেন নির্ভয়ে তোমার সেবায় নিবিষ্ট থেকে
আনন্দ অনুভব করতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
বেন-সিরা পুস্তক থেকে পাঠ লাতিন (২৭:৪-৭)

[গ্রীক ২৭:৫-৮]
চালনিতে চাললে আবর্জনা থেকে যায়,
তেমনি মানুষের ত্রুটি তার কথনেই ভেসে ওঠে।
হাপর কুমোরের পাত্র যাচাই করে,
মানুষের পরীক্ষা তার কথাবার্তায় সাধিত।
ফল দেখায় গাছ কেমনভাবে চাষ করা হয়েছে,
তেমনি কথন প্রকাশ করে মানুষের ভাব।
মানুষ কথা বলার আগে তার প্রশংসা করো না,
এ-ই মানুষকে পরীক্ষা।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯২
ধুয়ো:
তোমার স্তুতিগান গাওয়া, প্রভু,
কতই না সুন্দর।

প্রভুর স্তুতিগান গাওয়া কত সুন্দর,
হে পরাৎপর, তোমার নামগান করা,
প্রভাতে তোমার কৃপা,
রাতে তোমার বিশ্বস্ততা ঘোষণা করা কতই না সুন্দর।   [ধুয়ো]

ধার্মিক মানুষ বিকশিত হবে খেজুরগাছের মত,
বেড়ে উঠবে লেবাননের এরসগাছের মত,
প্রভুর গৃহে রোপিত হয়ে
তারা আমাদের পরমেশ্বরের প্রাঙ্গণে বিকশিত হবে।   [ধুয়ো]

প্রাচীন বয়সেও তারা হবে ফলবান,
থাকবে সরস সতেজ,
তারা যেন ঘোষণা করতে পারে যে প্রভু ন্যায়শীল—
তিনি আমার শৈল, তাঁর মধ্যে অধর্ম নেই।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১৫:৫৪-৫৮)

প্রিয়জনেরা, এই ক্ষয়শীল দেহ অক্ষয়শীলতাকে পরিধান করার পর, এবং এই মরণশীল দেহ অমরতাকে পরিধান করার পর, তখনই শাস্ত্রের এই বাণী সার্থক হবে: মৃত্যু কবলিত হয়েছে বিজয়ের উদ্দেশে। ওহে মৃত্যু, তোমার বিজয় কোথায়? কোথায়, মৃত্যু, তোমার হুল? পাপই তো মৃত্যুর হুল, এবং বিধান পাপের শক্তি। তবে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তিনি যে আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট দ্বারা আমাদের বিজয় দান করেন! তাই, হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা, সুস্থির হও, অটল হয়ে থাক, সর্বদাই সক্রিয় হয়েই প্রভুর কাজ করে চল, একথা জেনে যে, প্রভুতে তোমাদের পরিশ্রম বৃথা নয়।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
জীবনের বাণী উচ্চ করে ধরে রেখে
জগতে জ্যোতিষ্কেরই মত উজ্জ্বল আলোতে উদ্ভাসিত হও।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:৩৯-৪৫)

একদিন যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের একটা উপমা-কাহিনী শোনালেন, ‘অন্ধ কি অন্ধকে পথ দেখাতে পারে? দু’জনেই কি গর্তে পড়বে না? শিষ্য গুরুর চেয়ে বড় নয়, কিন্তু যে কেউ পরিপক্ব, সে-ই নিজের গুরুর মত হবে।
তোমার ভাইয়ের চোখে যে কুটোটুকু রয়েছে, তুমি কেন তা লক্ষ কর, কিন্তু তোমার নিজের চোখে যে কড়িকাঠ রয়েছে, কেন তা তুমি দেখ না? কেমন করে তুমি তোমার নিজের ভাইকে বলতে পার, ভাই, এসো, তোমার চোখে যে কুটোটুকু রয়েছে, তা আমি বের করে দিই, যখন তোমার নিজের চোখে যে কড়িকাঠ রয়েছে তা দেখছ না? ভণ্ড, আগে নিজের চোখ থেকে কড়িকাঠটা বের করে ফেল, আর তখনই তোমার ভাইয়ের চোখ থেকে কুটোটুকুটা বের করার জন্য স্পষ্ট দেখতে পাবে।
কেননা এমন ভাল গাছ নেই যাতে মন্দ ফল ধরে, এবং এমন মন্দ গাছও নেই যাতে ভাল ফল ধরে; নিজ নিজ ফল দ্বারাই প্রতিটি গাছ চেনা যায়। লোকে তো কাঁটাগাছ থেকে ডুমুরফল পাড়ে না, শেয়ালকাঁটা থেকেও আঙুর তোলে না। ভাল মানুষ নিজের হৃদয়ের ভাল ভাণ্ডার থেকে ভাল জিনিস বের করে, ও মন্দ মানুষ মন্দ ভাণ্ডার থেকে মন্দ জিনিস বের করে; কেননা হৃদয় থেকে যা ছেপে ওঠে, তার মুখ তা-ই বলে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
লুক-রচিত সুসমাচারে আলেক্সান্দ্রিয়ার বিশপ সাধু সিরিলের ব্যাখ্যা

শিষ্য গুরুর চেয়ে বড় নয়, কিন্তু যে কেউ পরিপক্ব হয়, সে-ই নিজের গুরুর মত হবে (লুক ৬:৪০)। শিষ্যেরা সমগ্র বিশ্বের দিশারী ও গুরু হতে আহূত হয়েছিলেন বিধায় তাঁদের পক্ষে এ প্রয়োজন ছিল, তাঁরা ধর্ম বিষয়ে নিজেদের অধিক প্রস্তুত করবেন: তাঁদের সুসমাচারের পথ সম্বন্ধে সুদক্ষ ও যে কোন সৎকাজের অনুশীলনে আদর্শবান হওয়ার কথা, যেন শিষ্যদের কাছে সত্যের সম্পূর্ণরূপে অনুরূপ, স্পষ্ট ও নিশ্চিত ধর্মশিক্ষা উপস্থাপন করতে পারেন। অন্যথা যাঁরা স্বয়ং সত্যকে দেখতে পেয়েছিলেন ও তাঁর দিব্য আলোতে উদ্ভাসিত হয়েছিলেন, ঠিক তাঁরাই অন্ধ ও অন্ধদের চালক হবেন। কেননা অজ্ঞতার অন্ধকারে যে আবিষ্ট, যারা তার একই শোচনীয় অবস্থায় ভুগছে, সে তাদের সত্যজ্ঞানে চালিত করতে পারে না। চেষ্টা করলে, চালক ও চালিত দু’জনেই বিশৃঙ্খল ভাবাবেগের গর্তে পড়ে যাবে।
গর্ব, তেমন বিস্তারিত রিপুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার জন্য ও তাঁরা যেন নিজেদের গুরুদের চেয়ে অধিক সম্মানের পাত্র হবার দাবি না করেন, সেজন্য প্রভু বললেন, শিষ্য গুরুর চেয়ে বড় নয়। আর যখন কোন শিষ্য এত পরিপক্ব হয় যে গুরুর মত হয়ে ওঠে, তখনও বিনম্রতার মাত্রা বজায় রেখে তার পক্ষে গুরুর অনুকরণ করা উচিত। প্রভুর পরে পলও একদিন বললেন, তোমরা আমার অনুকারী হও, যেমন আমি প্রভুর (১ করি ১১:১)। গুরু যখন এখনও বিচার করেন না, তখন তুমি কোন্‌ স্পর্ধার জোরে দণ্ড দিতে যাচ্ছ? যিনি জগতের বিচার করতে নয়, জগতের প্রতি দয়া দেখাতেই এসেছেন, তিনি তোমাকেও বলেন, আমি যখন বিচার করি না, আমার শিষ্য যে তুমিও বিচার করো না। এমনটি হতে পারে, যাকে তুমি দণ্ডিত করছ, তার চেয়ে তুমিই অপরাধী। তখন কি তোমার লজ্জা হবে না?
এ ধারণা প্রভু অন্য উদাহরণ দিয়েও ব্যক্ত করেছিলেন: তোমার ভাইয়ের চোখে যে কুটোটুকু রয়েছে, তুমি কেন তা লক্ষ কর? (লুক ৬:৪১)। তেমন কথার মধ্য দিয়ে তিনি আরও স্পষ্টতর ভাবে আমাদের চেতনা দেন আমরা যেন পরের বিচার করা থেকে দূরে থেকে বরং নিজেদের হৃদয় যাচাই করি, ও যত বিশৃঙ্খল ভাবাবেগ হৃদয় জড়িয়ে রাখছে ঈশ্বরের সহায়তা প্রার্থনা ক’রে যেন সেই সমস্ত বিশৃঙ্খল ভাবাবেগ বের করে দিতে সচেষ্ট থাকি। কেননা তিনিই তো ভগ্নহৃদয় সুস্থ করে তোলেন ও আত্মার যত রোগ থেকে আমাদের মুক্ত করেন। যখন অন্যের চেয়ে তুমিই অধিক ও গুরুতর অপরাধে অপরাধী, তখন কি নিজের পাপ ভুলে গিয়ে তাদের তিরস্কার করতে যাচ্ছ? অতএব, প্রভুর এ আজ্ঞা তাদের সকলেরই পক্ষে প্রয়োজন যারা ভাল হতে চায়, কিন্তু বিশেষভাবে তাঁদেরই পক্ষে একান্ত প্রয়োজন যাঁরা ধর্মশিক্ষা দানের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
নিজেদের আচরণে সুসমাচারের আদর্শ অনুযায়ী সাক্ষ্য দান ক’রে তাঁরা ভাল ও তৎপর হলে, তবে যারা তাঁদের মত আচরণ করতে বা গুরুদের উজ্জ্বল জীবনদৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে অসম্মত, তাঁরা আরও ন্যায়সঙ্গত ভাবে তাদের ভর্ৎসনা করতে পারবেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৩
ধুয়ো:
প্রভুর উদ্দেশে গাইব গান, তিনি যে করেছেন আমার উপকার।
পরাৎপর প্রভুর করব নামগান।

চেয়ে দেখ! আমাকে সাড়া দাও গো প্রভু, পরমেশ্বর আমার;
দাও আলো আমার চোখে, পাছে মৃত্যুঘুমে ঘুমিয়ে পড়ি,
পাছে আমার শত্রু বলে, ‘তার সঙ্গে পেরেছি এবার,’
আমি টলমল হলে পাছে আমার বিপক্ষরা মেতে ওঠে।   [ধুয়ো]

আমি কিন্তু তোমার কৃপায় ভরসা রাখি,
তোমার পরিত্রাণে মেতে ওঠে আমার অন্তর,
প্রভুর উদ্দেশে গাইব গান, তিনি যে করেছেন আমার উপকার।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার পরিত্রাণদায়ী অন্নগ্রহণে পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে
আমরা তোমার দয়া প্রার্থনা করি: যে সাক্রামেন্ত গুণে
তুমি এ পার্থিব জীবনে আমাদের পুষ্টি সাধন কর,
সেই একই সাক্রামেন্ত গুণে আমাদের অনন্ত জীবনেরও সহভাগী করে তোল।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৯ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, মানবজাতির মঙ্গল সাধনে তুমি চিরতৎপর। মিনতি জানাই:
ক্ষতিকর যত কিছু দূরে রাখ, মঙ্গলকর সমস্ত কিছু আমাদের মঞ্জুর কর।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
রাজাবলির প্রথম পুস্তক থেকে পাঠ (৮:৪১-৪৩)

সেসময়ে সলোমন মন্দিরে দাঁড়িয়ে এই বলে প্রার্থনা করলেন: ‘[প্রভু,] তোমার আপন জনগণ ইস্রায়েল গোষ্ঠীর মানুষ নয়, এমন কোন বিদেশী যখন তোমার নামের খাতিরে দূর দেশ থেকে আসবে,—কারণ তারা তোমার মহানাম, তোমার বলীয়ান হাত ও তোমার প্রসারিত বাহুর কথা শুনবেই—যখন সে এসে এই গৃহ অভিমুখে প্রার্থনা নিবেদন করবে, তখন, ওগো, তুমি স্বর্গলোকের তোমার সেই বাসস্থান থেকে শোন, এবং সেই বিদেশী তোমার কাছে যা কিছু প্রার্থনা করবে, তা মঞ্জুর কর, যেন পৃথিবীর সমস্ত জাতি তোমার নাম জানতে পারে, তোমার আপন জনগণ ইস্রায়েলের মত তোমাকে ভয় করে এবং তারাও যেন জানতে পারে যে, আমার গেঁথে তোলা এই গৃহ তোমার আপন নাম বহন করে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১১৭
ধুয়ো:
তোমরা বিশ্বজগতে বেরিয়ে পড়,
সমস্ত সৃষ্টির কাছে সুসমাচার প্রচার কর।

প্রভুর প্রশংসা কর, সকল দেশ,
তাঁর মহিমাকীর্তন কর, সকল জাতি।
দৃঢ়ই যে আমাদের প্রতি তাঁর কৃপা,
প্রভুর বিশ্বস্ততা চিরস্থায়ী।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
গালাতীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১:১-২,৬-১০)

আমি পল—মানুষের পক্ষ থেকে নয়, মানুষ দ্বারাও নয়, কিন্তু যিশুখ্রিষ্ট দ্বারা, এবং যিনি মৃতদের মধ্য থেকে তাঁকে পুনরুত্থিত করেছেন, সেই পিতা ঈশ্বর দ্বারা নিযুক্ত প্রেরিতদূত—সেই পল, এবং যে সকল ভাই আমার সঙ্গে রয়েছে, তারাও, গালাতিয়ার মণ্ডলীগুলোর সমীপে।
আমি এতে আশ্চর্যান্বিত যে, খ্রিষ্টের অনুগ্রহে যিনি তোমাদের আহ্বান করেছেন, তোমরা এত শীঘ্রই তাঁকে ছেড়ে অন্য এক সুসমাচারের দিকে ফিরে যাচ্ছ। আসলে অন্য সুসমাচার বলতে কিছু নেই; শুধু এমন কয়েকজন আছে, যারা তোমাদের অস্থির করছে, এবং খ্রিষ্টের সুসমাচার বিকৃত করতে অভিপ্রেত।
আচ্ছা, আমরা তোমাদের কাছে যে সুসমাচার প্রচার করেছি, সেটি ছাড়া অন্য সুসমাচার যদি কেউ প্রচার করে—আমরা নিজেরাই করি, কিংবা স্বর্গ থেকে আগত কোন দূতই করুন—তবে সে বিনাশ-মানতের বস্তু হোক! আমরা আগে বলেছিলাম, আমি এখনও আবার বলছি, তোমরা যা গ্রহণ করেছ, তা ছাড়া আর কোন সুসমাচার যদি কেউ তোমাদের কাছে প্রচার করে, সে বিনাশ-মানতের বস্তু হোক! আমি কি মানুষের প্রসন্নতা জয় করতে সচেষ্ট, না ঈশ্বরের? আমি কি মানুষকে তুষ্ট করতে চেষ্টা করছি? যদি এখনও মানুষকে তুষ্ট করতে চাইতাম, তবে খ্রিষ্টের দাস হতাম না।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
ঈশ্বর জগৎকে এতই ভালবেসেছেন যে,
তাঁর একমাত্র পুত্রকে দান করেছেন;
তাঁর প্রতি যে কেউ বিশ্বাস রাখে,
সে অনন্ত জীবন পেয়ে গেছে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৭:১-১০)

সেসময়ে, যিশু যা চাচ্ছিলেন জনগণ শুনবে, সেই সমস্ত কথা বলা শেষ করে তিনি কাফার্নাউমে প্রবেশ করলেন।
একজন শতপতির একটি দাস পীড়িত হয়ে প্রায় মৃত অবস্থায় ছিল; দাসটি শতপতির খুবই প্রিয় ছিল। যিশুর কথা শুনে তিনি ইহুদীদের কয়েকজন প্রবীণকে পাঠিয়ে তাঁর কাছে মিনতি জানালেন যেন তিনি এসে তাঁর দাসকে ত্রাণ করেন। যিশুর কাছে এসে তাঁরা ব্যাকুল মিনতি জানাতে লাগলেন, বললেন, ‘আপনি যে তাঁর উপকার করবেন, লোকটি তার যোগ্য, কেননা তিনি আমাদের জাতিকে ভালবাসেন; আমাদের সমাজগৃহ নিজেই নির্মাণ করে দিয়েছেন।’
তাই যিশু তাঁদের সঙ্গে রওনা হলেন। তিনি বাড়ি থেকে আর তত দূরে নন, সেসময়ে শতপতি কয়েকজন বন্ধুর মধ্য দিয়ে তাঁকে বলে পাঠালেন, ‘প্রভু, কষ্ট করবেন না; আপনি যে আমার গৃহে পদধূলি দেবেন, আমি তার যোগ্য নই; এজন্যই আপনার কাছে আসব তেমন যোগ্যও নিজেকে মনে করলাম না। কিন্তু আপনি একটা বাণী দিন আর আমার দাস সুস্থ হয়ে উঠুক। কেননা আমিও কর্তৃপক্ষের অধীনে নিযুক্ত লোক, আবার আমার সৈন্যরাও আমার অধীন; আমি একজনকে “যাও” বললে সে যায়, আর অন্যজনকে “এসো” বললে সে আসে, আর আমার দাসকে “একাজ কর” বললে সে তা করে।’
এই সকল কথা শুনে, লোকটির বিষয়ে যিশুর আশ্চর্য লাগল, এবং যে লোকের ভিড় তাঁর অনুসরণ করছিল তাদের দিকে ফিরে বললেন, ‘আমি তোমাদের বলছি, ইস্রায়েলের মধ্যে এত গভীর বিশ্বাস দেখতে পাইনি।’ পরে যাঁদের পাঠানো হয়েছিল, তাঁরা বাড়ি ফিরে গিয়ে দাসকে সুস্থ অবস্থায় পেলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

যে সুসমাচারের কথা আমরা এইমাত্র শুনেছি, তাতে বিনম্র বিশ্বাস প্রশংসিত। কারণ যখন প্রভু যিশু সেই দাসকে সুস্থ করতে শতপতির বাড়িতে যাবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তখন শতপতি বলেছিলেন, আপনি যে আমার গৃহে পদধূলি দেবেন, আমি তার যোগ্য নই (লুক ৭:৬)। নিজেকে অযোগ্য বলে ঘোষণা করে তিনি এমন যোগ্যতা লাভ করলেন যাতে যিশু তাঁর বাড়িতে শুধু নয়, তাঁর হৃদয়েই বিশেষভাবে প্রবেশ করেন। এমনকি, তাঁর অন্তরে যদি ইতিমধ্যে সেই তিনি না থাকতেন যাঁকে নিজের বাড়িতে গ্রহণ করতে সাহস করছিলেন না, তবে তিনি এত বিশ্বাস ও বিনম্রতার সঙ্গে সেই কথাও বলতে পারতেন না। কেননা প্রভুকে হৃদয়ে না রেখে তাঁকে এমনিই ঘরে গ্রহণ করা তত আনন্দের ব্যাপার নয়।
যিনি কথায় ও কাজে বিনম্রতার গুরু, সেই যিশু সিমোন নামক একটা গর্বিত ফরিসির ভোজেও বসেছিলেন। তার বাড়িতে বিশ্রাম করা সত্ত্বেও মানবপুত্র কিন্তু তার হৃদয়ে মাথা রাখার মত স্থান পাচ্ছিলেন না; সুতরাং প্রভু সেই গর্বিত ফরিসির ভোজে বসে ছিলেন বটে, তার বাড়িতে ছিলেন বটে, কিন্তু তার হৃদয়ে ছিলেন না। অথচ শতপতির বাড়িতে না ঢুকেও তিনি তাঁর হৃদয়ের মালিক হয়েছিলেন। এজন্যই তাঁর বিনম্রতাপূর্ণ বিশ্বাস প্রশংসিত: আপনি যে আমার গৃহে পদধূলি দেবেন, আমি তার যোগ্য নই। কিন্তু আপনি একটা বাণী দিন আর আমার দাস সুস্থ হয়ে উঠুক (লুক ৭:৬, ৭)। তখন প্রভু বললেন, আমি তোমাদের বলছি, ইস্রায়েলের মধ্যে এত গভীর বিশ্বাস দেখতে পাইনি (লুক ৭:৯); অর্থাৎ: মাংস অনুসারে যে ইস্রায়েল, তারই মধ্যে তেমন বিশ্বাস পাইনি। কিন্তু এ শতপতি আধ্যাত্মিক দিক থেকে ইস্রায়েলীয় হয়ে উঠেছিলেন। প্রভু যারা মাংস অনুসারে ইস্রায়েল তথা ইহুদীদের কাছে সেই জাতিরই হারানো মেষের সন্ধান করতে এসেছিলেন—সেই ইস্রায়েল জাতি যা থেকে তিনি দেহ ধারণ করেছিলেন; অথচ তিনি নিজে বলছেন, ইস্রায়েলের মধ্যে এত গভীর বিশ্বাস দেখতে পাইনি। মানুষ হিসাবে আমরা মানুষের মতই মানুষের বিশ্বাস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারি; কিন্তু যিনি মানুষের অন্তর তলিয়ে দেখেন, যাঁকে কেউই প্রতারণা করতে পারে না, তিনি সেই শতপতির বিনম্রতাপূর্ণ বাণী শুনে ও পরিত্রাণের বিচারাদেশ উচ্চারণ করে তাঁর হৃদয় বিষয়ে সাক্ষ্যদান করলেন। তেমন সাক্ষ্যদানের উদ্দেশ্য তিনি কোথায় পেলেন? শতপতি যা বলেছিলেন তাই: আমিও কর্তৃপক্ষের অধীনে নিযুক্ত লোক, আবার আমার সৈন্যরাও আমার অধীন; আমি একজনকে “যাও” বললে সে যায়, আর অন্যজনকে “এসো” বললে সে আসে, আর আমার দাসকে “একাজ কর” বললে সে তা করে (লুক ৭:৮)।
অর্থাৎ কিনা, যারা আমার অধীন তাদের পক্ষে আমি কর্তৃপক্ষ, তবু আমার উপরে যে কর্তৃপক্ষ আমি তার অধীন। তাই আমি পরের অধীনস্থ মানুষ হয়েও যখন আদেশ দেওয়ার অধিকারী, তখন সমস্ত কর্তৃত্ব যাঁর অধীন, সেই আপনি কীবা না করতে পারেন? আর তিনি ছিলেন বিজাতি, আর শুধু তা নয়, শতপতিও ছিলেন! শতপতি হওয়ায় তিনি সকল সৈন্যের মত ভাবছিলেন: কর্তৃত্বের অধীন, আবার কর্তৃত্বের অধিকারী; অধীনস্থ বলে বাধ্য ছিলেন, আবার অধীনস্থদের প্রতি আদেশ দিতেন।
কিন্তু প্রভু ইহুদী জাতির মানুষ হয়েও ঘোষণা করলেন, মণ্ডলী সারা বিশ্ব জুড়েই বিস্তার লাভ করবে; এ উদ্দেশ্যে তিনি একদিন প্রেরিতদূত প্রেরণ করবেন: বিজাতীয়রা যাঁকে না দেখে বিশ্বাস করবে, ইহুদীরা তাঁকে দেখেও হত্যা করল।
আর যেমন সেই বাড়িতে না ঢুকেও—দেহে অনুপস্থিত কিন্তু পরাক্রমে উপস্থিত হয়ে—প্রভু বিশ্বাসের পুরস্কার দিয়ে গোটা পরিবার নিরাময় করলেন, তেমনি সেই একই প্রভু দেহগত ভাবে কেবল হিব্রু জাতির মধ্যেই জীবনযাপন করলেন: বিজাতীয়দের মধ্যে তিনি তো কুমারী থেকে জন্ম নেননি, যন্ত্রণাভোগও করেননি, চলাচলও করেননি, মানবদশাও বরণ করেননি, ঐশকর্মকীর্তিও সাধন করেননি। অন্য কোন জাতির মধ্যে তেমন কিছু ঘটেনি; তথাপি তাঁর বিষয়ে যা বলা হয়েছিল তা পূর্ণতা লাভ করল: যে জাতি আমাকে জানত না, সেই জাতি আমার সেবা করল। তাঁকে না জেনে সেই জাতি কী করেই বা তাঁর সেবা করল? তারা আমার বাণী শোনামাত্র আমার প্রতি বাধ্য হল (সাম ১৮:৪৪, ৪৫): সারা বিশ্ব শুনল ও বিশ্বাস করল।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১১
ধুয়ো:
তুমি আমাকে সাড়া দেবে বলে তোমাকে ডাকি, ঈশ্বর,
কান দাও, আমার কথা শোন।

আমি প্রভুতেই নিয়েছি আশ্রয়;
কী করে তোমরা আমাকে বল:
‘হে পাখি, পালিয়ে যাও
তোমার পর্বতের দিকে?’   [ধুয়ো]

প্রভু তাঁর পবিত্র মন্দিরে বিরাজিত,
প্রভু তাঁর স্বর্গীয় সিংহাসনে সমাসীন।
তাঁর চোখ লক্ষ রাখে,
তাঁর দৃষ্টি আদমসন্তানদের পরীক্ষা করে।   [ধুয়ো]

ধার্মিক কি দুর্জন সকলকেই প্রভু পরীক্ষা করেন,
কিন্তু যারা হিংসা ভালবাসে, তাঁর প্রাণ তাদের ঘৃণা করে;
কারণ প্রভু ধর্মময়, তিনি ধর্মময়তা ভালবাসেন,
ন্যায়নিষ্ঠ মানুষই পাবে তাঁর শ্রীমুখের দর্শন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার পুত্রের দেহরক্ত দানে যাদের পুষ্ট কর,
তোমার পবিত্র আত্মার প্রেরণা গুণেই এই আমাদের চালনা কর,
যেন শুধু মুখে ও কথায় নয় বরং কাজে কর্মে তোমার নাম স্বীকার ক’রে
আমরা স্বর্গরাজ্যে প্রবেশের যোগ্য হয়ে উঠি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]