সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
সাধারণকাল
• সাধারণকালের প্রথম সপ্তাহ প্রভুর বাপ্তিস্ম থেকে শুরু হয়।
• পরমপবিত্র ত্রিত্ব পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• খ্রিষ্টের পরমপবিত্র দেহরক্ত পরমপবিত্র ত্রিত্বের পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• পরমারাধ্য যিশুহৃদয় পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী দ্বিতীয় রবিবারের পরবর্তী শুক্রবারে পালিত হয়।
• বিশ্বরাজ আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট সাধারণকালের শেষ রবিবারে পালিত হয়।

রবিবার: ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ৩১ | ৩২ | ৩৩
সাধারণকালের মহাপর্বচতুষ্টয়: ত্রিত্ব | খ্রিষ্টের দেহরক্ত | যিশুহৃদয় | খ্রিষ্টরাজা

২য় রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, তুমিই স্বর্গমর্তের সকল প্রাণীর নিয়ন্তা!
প্রসন্ন হয়ে তোমার জনগণের মিনতি কান পেতে শোন:
আমাদের জীবনকালে তোমার শান্তি মঞ্জুর কর।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
সামুয়েলের প্রথম পুস্তক থেকে পাঠ (৩:৩খ-১০,১৯)

সামুয়েল প্রভুর মন্দিরের মধ্যে সেইখানে শুয়ে ছিলেন যেখানে পরমেশ্বরের মঞ্জুষা ছিল, এমন সময় প্রভু ডাকলেন, ‘সামুয়েল!’ সে উত্তর দিল, ‘এই যে আমি;’ এবং এলির কাছে দৌড়ে গিয়ে বলল, ‘আপনি আমাকে ডেকেছেন, এই যে আমি!’ তিনি বললেন, ‘আমি তো ডাকিনি, তুমি গিয়ে আবার শুয়ে পড়।’ আর সে আবার গিয়ে শুয়ে পড়ল।
কিন্তু প্রভু আবার ডাকলেন, ‘সামুয়েল!’ আর সামুয়েল উঠে এলির কাছে গিয়ে বলল, ‘আপনি আমাকে ডেকেছেন, এই যে আমি!’ তিনি বললেন, ‘বৎস, আমি তো ডাকিনি, তুমি গিয়ে আবার শুয়ে পড়।’ আসলে সামুয়েল তখনও প্রভুর পরিচয় পায়নি, প্রভুর বাণীও তখনও তার কাছে প্রকাশিত হয়নি।
প্রভু তৃতীয়বারের মত আবার ডাকলেন, ‘সামুয়েল!’ আর সে উঠে এলির কাছে গিয়ে বলল, ‘আপনি আমাকে ডেকেছেন, এই যে আমি!’ তখন এলি বুঝলেন, প্রভুই বালকটিকে ডাকছেন। তাই এলি সামুয়েলকে বললেন, ‘তুমি গিয়ে শুয়ে পড়; আর কেউ যদি আবার তোমাকে ডাকে, তুমি বল: বল, প্রভু! কারণ তোমার এই দাস শুনছে।’ তাই সামুয়েল নিজের জায়গায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।
তখন প্রভু এসে সেখানে দাঁড়ালেন, এবং আগেকার মত আবার ডাকলেন, ‘সামুয়েল, সামুয়েল!’ সামুয়েল উত্তর দিল, ‘বল, কারণ তোমার এই দাস শুনছে।’
সামুয়েল বড় হলেন। প্রভু তাঁর সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন, আর তাঁর নিজের কোন বাণী মাটিতে পড়তে দিতেন না।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৪০
ধুয়ো:
তোমার ইচ্ছা পূর্ণ করতে
এই যে আমি আসছি, প্রভু।

আমি প্রভুর ব্যাকুল প্রতীক্ষায় ছিলাম,
আমার উপর আনত হয়ে তিনি আমার চিৎকার শুনলেন;
আমার মুখে তিনি দিলেন একটি নতুন গান,
আমাদের পরমেশ্বরের প্রশংসাগান।   [ধুয়ো]

যজ্ঞ ও নৈবেদ্যে তুমি প্রীত নও,
বরং উন্মুক্ত করেছ আমার কান;
আহুতি ও পাপার্থে বলিদান চাওনি তুমি,
তখন আমি বললাম, ‘এই যে আমি আসছি।’   [ধুয়ো]

শাস্ত্রগ্রন্থে আমার বিষয়ে লেখা আছে,
আমি যেন তোমার ইচ্ছা পূর্ণ করি;
হে আমার পরমেশ্বর, এতে আমি প্রীত,
আমার অন্ত্ররাজি-গভীরেই তোমার বিধান বিরাজিত।   [ধুয়ো]

আমি মহা জনসমাবেশে
ধর্মময়তার কথা প্রচার করলাম,
দেখ, রুদ্ধ করি না কো আমার ওষ্ঠ,
তুমি তো জান, প্রভু।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৬:১৩-১৫ক,১৭-২০)

প্রিয়জনেরা, দেহ যৌন অনাচারের উদ্দেশ্যে নয়, কিন্তু প্রভুর উদ্দেশ্যে, এবং প্রভু দেহের উদ্দেশ্যে। আর ঈশ্বর প্রভুকে পুনরুত্থিত করেছেন, নিজ পরাক্রম দ্বারা আমাদেরও পুনরুত্থিত করবেন।
তোমরা কি একথা জান না যে, তোমাদের দেহ খ্রিষ্টের অঙ্গ? প্রভুর সঙ্গে যে মিলিত হয়, সে প্রভুর সঙ্গে একাত্মা হয়। যৌন অনাচার এড়িয়ে চল: মানুষ আর যে কোন পাপ করে না কেন, তা তার দেহের বাইরে ঘটে; কিন্তু যৌন-ক্ষেত্রে দুশ্চরিত্র যে মানুষ, সে তার নিজের দেহের বিরুদ্ধেই পাপ করে।
নাকি তোমরা জান না যে, তোমাদের দেহ হল পবিত্র আত্মারই মন্দির, যিনি তোমাদের অন্তরে বিদ্যমান ও যাঁকে তোমরা ঈশ্বর থেকেই পেয়েছ? আর তোমরা নিজেদের নও, মহামূল্য দিয়েই তো তোমাদের কিনে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং তোমাদের দেহে ঈশ্বরকে গৌরবান্বিত কর!
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমরা মসীহের সন্ধান পেয়েছি!
অনুগ্রহ ও সত্য তাঁরই দ্বারা এসেছে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:৩৫-৪২)

সেসময়ে, যোহন ও তাঁর দু’জন শিষ্য যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যিশু সেখান দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছিলেন; তাঁর দিকে তাকিয়ে যোহন বললেন, ‘ওই দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক!’ তিনি এই যে কথা বললেন, সেই দু’জন শিষ্য তা শুনে তাঁর অনুসরণ করলেন।
যিশু ফিরে দাঁড়ালেন, এবং সেই দু’জনকে তাঁর অনুসরণ করতে দেখে বললেন, ‘তোমরা কী অনুসন্ধান করছ?’ তাঁরা তাঁকে বললেন, ‘রাব্বি (অর্থাৎ, গুরু), আপনি কোথায় বাস করেন?’ তিনি তাঁদের বললেন, ‘এসো, দেখে যাবে।’ তাই তাঁরা গেলেন, ও দেখলেন, তিনি কোথায় বাস করেন, এবং সেই দিন তাঁর সঙ্গে থাকলেন। তখন প্রায় বিকাল চারটে।
যে দু’জন শিষ্য যোহনের সেই কথা শুনে যিশুর অনুসরণ করেছিলেন, তাঁদের একজন ছিলেন সিমোন পিতরের ভাই আন্দ্রিয়। তিনি প্রথমে তাঁর ভাই সিমোনকে খুঁজে পেলেন; তাঁকে বললেন, ‘আমরা মসীহের সন্ধান পেয়েছি!’ মসীহ কথাটার অর্থ হল খ্রিষ্ট। তিনি তাঁকে যিশুর কাছে নিয়ে গেলেন। যিশু তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুমি তো যোহনের ছেলে সিমোন; তুমি কেফাস নামে অভিহিত হবে।’ কেফাস কথাটার অর্থ শৈল।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
১১৮ নং সামসঙ্গীতে বিশপ সাধু আম্ব্রোজের ব্যাখ্যা

প্রজ্ঞা বলে, বিদ্রূপকারী প্রজ্ঞার অন্বেষণ করে, তবু তা বৃথা কাজ (প্রবচন ১৪:৬)। এর কারণ এই নয় যে, প্রভু মানুষ দ্বারা নিজেকে খুঁজে পেতে দিতে চান না—আসলে তিনি সকলের কাছেই নিজেকে অর্পণ করেন, যারা তাঁর অন্বেষণ করে না তাদেরও কাছে; বিদ্রূপকারী কিন্তু এমন কর্ম দ্বারা ঈশ্বরের অন্বেষণ করে যা তাঁর সন্ধান পেতে তাকে অযোগ্যই করে। প্রমাণস্বরূপ রয়েছেন সেই সিমেয়োন, যিনি সরল অন্তরেই তাঁর অন্বেষণ করছিলেন বিধায় তাঁর সন্ধান পেয়েছিলেন।
আন্দ্রিয় তাঁর সন্ধান পেয়ে সিমোনকে বললেন, আমরা মসীহের সন্ধান পেয়েছি (যোহন ১:৪১)। ফিলিপও নাথানায়েলকে বলেন, মোশি বিধান-পুস্তকে যাঁর কথা লিখেছিলেন, নবীরাও যাঁর কথা লিখেছিলেন, আমরা তাঁর সন্ধান পেয়েছি: তিনি যোসেফের ছেলে নাজারেথের সেই যিশু (যোহন ১:৪৫)। আর তাঁকে দেখাবার জন্য যে তিনি সত্যিই খ্রিষ্টের সন্ধান পেয়েছিলেন, তাঁকে বললেন, এসো, দেখে যাও (যোহন ১:৪৬)। সুতরাং, যে কেউ খ্রিষ্টের অন্বেষণ করে, সে জাগতিক পদক্ষেপে নয়, বরং আধ্যাত্মিক ভাবেই তাঁর কাছে এগিয়ে আসুক; চোখ দিয়ে নয়, বরং মনশ্চক্ষুতেই তাঁকে দেখতে চেষ্টা করুক। বস্তুত যিনি সনাতন, তিনি দৈহিক চোখ দ্বারা দৃষ্টিগোচর নন, কেননা যা দৃশ্য, তা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু যা অদৃশ্য, তা চিরস্থায়ী (২ করি ৪:১৮)।
অতএব খ্রিষ্ট কালসাপেক্ষ নন, তিনি বরং কালের আগেই পিতা দ্বারা জাত; ঈশ্বর বলে তিনি ঈশ্বরের প্রকৃত পুত্র, আর সনাতন নিখুঁত ব্যক্তিত্ব বলে তিনি কালের বাইরে রয়েছেন, কালের সীমা তাঁকে সীমাবদ্ধ করে না; জীবন বলে তিনি কালের ঊর্ধ্বে রয়েছেন, আর তাই বলে তিনি সম্পূর্ণরূপেই মৃত্যু-দিনের নাগালের বাইরে।
তিনি যে মৃত্যু ভোগ করেছেন, তাতে একবার চিরকালের মত পাপেরই কাছে মরলেন; কিন্তু যে জীবন ভোগ করছেন, তাতে তিনি ঈশ্বরের উদ্দেশেই জীবিত আছেন (রো ৬:১০)। তুমি কি প্রেরিতদূতের কথা বুঝতে পার? তিনি একবার চিরকালের মত পাপেরই কাছে মরলেন; অর্থাৎ খ্রিষ্ট একবার চিরকালের মত পাপী তোমারই জন্য মরলেন; তাই তুমি বাপ্তিস্ম গ্রহণ করার পর আর পাপ করো না। তিনি সকলের জন্য একবার মরলেন, আবার তিনি এক একজনের জন্য বহুবার নয়, একবারই মরেন। হে মানুষ, তুমি তো পাপ, এজন্যই সর্বশক্তিমান পিতা আপন খ্রিষ্টকে পাপ করে তুললেন; তিনি তাঁকে মানুষ করলেন তিনি যেন আমাদের পাপ হরণ করেন। সুতরাং আমারই জন্য প্রভু যিশু পাপের কাছে মরলেন যেন আমরা তাঁর মধ্যে ঈশ্বরের ধর্মময়তা হয়ে উঠি (২ করি ৫:২১)। তিনি আমার জন্য মরলেন যেন আমার জন্য পুনরুত্থান করতে পারেন। তিনি একবারই মরলেন, আবার একবারই পুনরুত্থান করলেন।
আর তুমি যে বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে তাঁর সঙ্গে মরেছ, ও সমাহিত ও পুনরুত্থিত হয়েছ, সাবধান থাক, যাতে একবার মরে আর পুনরায় না মর, কেননা পুনরায় মরলে তুমি আর পাপের কাছে নয়, ক্ষমারই কাছে মরবে। তুমি বরং পুনরুত্থানই করেছ, তাই দ্বিতীয়বারের মত মরো না, কেননা মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করেছেন বলে খ্রিষ্টের আর মৃত্যু নেই, তাঁর উপর মৃত্যুর আর কোন কর্তৃত্ব নেই (রো ৬:৯)। তখন মৃত্যু কি তাঁকে নিজের কর্তৃত্বে বশীভূত করেছিল? অবশ্যই, কারণ যখন লেখা আছে তাঁর উপর মৃত্যুর আর কোন কর্তৃত্ব নেই, তখন এর অর্থ হল যে, আগে মৃত্যু এ কর্তৃত্বের অধিকারী ছিল।
হে মানুষ, তেমন মহাদান নষ্ট করো না! তোমারই জন্য খ্রিষ্ট মৃত্যুর কর্তৃত্বের অধীন হলেন, যাতে তার জোয়াল থেকে তোমাকে মুক্ত করতে পারেন। তিনি মৃত্যুর বন্দিদশা গ্রহণ করলেন যেন তোমার কাছে অনন্ত জীবনের স্বাধীনতা দান করতে পারেন। এজন্য যে কেউ খ্রিষ্টের অন্বেষণ করে, সে তাঁর দুঃখযন্ত্রণারও অন্বেষণ করে ও কষ্টভোগ এড়াতে চেষ্টা করে না। আমার যন্ত্রণায় আমি প্রভুকে ডাকলাম, প্রভু সাড়া দিয়ে আমাকে আনলেন উন্মুক্ত স্থানে (সাম ১১৮:৫)। ফলে উত্তম সেই কষ্ট, যা প্রভুর সাড়া পেতে আমাদের যোগ্য করে তোলে, কারণ তাঁর সাড়া পাওয়া মহান একটি অনুগ্রহ। এজন্য যে কেউ খ্রিষ্টের অন্বেষণ করে, সে যন্ত্রণা এড়ায় না, আর যে কেউ যন্ত্রণা এড়ায় না, প্রভু তাঁর সন্ধান পাবেন। যন্ত্রণা সেই এড়ায় না, ঈশ্বরের আদেশগুলি হৃদয়ে ও কাজকর্মেই যে গ্রহণ করে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৩
ধুয়ো:
আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট;
কেমন গৌরবময় সেই পানপাত্র, যা আমার তৃষ্ণা মেটায়।

প্রভু আমার পালক;
অভাব নেই তো আমার;
আমায় তিনি শুইয়ে রাখেন নবীন ঘাসের চারণমাঠে,
আমায় নিয়ে যান শান্ত জলের কূলে;   [ধুয়ো]

তিনি সঞ্জীবিত করেন আমার প্রাণ,
তাঁর নামের খাতিরে আমায় চালনা করেন ধর্মপথে।
মৃত্যু-ছায়ার উপত্যকাও যদি পেরিয়ে যাই,
আমি কোন অনিষ্টের ভয় করি না, তুমি যে আমার সঙ্গে আছ।   [ধুয়ো]

তোমার যষ্টি, তোমার পাচনি আমাকে সান্ত্বনা দেয়।
আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট আমার শত্রুদের সামনে;
আমার মাথা তুমি তৈলসিক্ত কর;
আমার পানপাত্র উচ্ছলিত।   [ধুয়ো]

মঙ্গল ও কৃপাই হবে আমার সহচর
আমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে,
আমি প্রভুর গৃহে ফিরব—চিরদিনের মত!
ত্রিত্বের গৌরব হোক চিরকালের মত। আমেন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার ভালবাসার আত্মাকে আমাদের অন্তরে সঞ্চার কর:
স্বর্গীয় রুটি দানে যাদের পরিতৃপ্ত করেছ,
তাদের একমন একপ্রাণ করে তোল।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩য় রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর,
তোমার মঙ্গল-ইচ্ছার পথে আমাদের পদক্ষেপ চালিত কর,
আমরা যেন তোমার প্রিয় পুত্রের নামে শুভকর্ম সাধনে ফলশালী হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী যোনার পুস্তক থেকে পাঠ (৩:১-৫,১০)

প্রভুর বাণী যোনার কাছে এসে উপস্থিত হয়ে বলল: ‘ওঠ, ওই মহানগরী নিনেভেতে যাও, আর আমি তোমাকে যা ঘোষণা করতে বলব, তা সেই নগরীর কাছে ঘোষণা কর।’ যোনা উঠে প্রভুর বাণীমত নিনেভের দিকে রওনা হলেন।
সেই নিনেভে তুলনার অতীত এক বিরাট নগরী ছিল, নগরীকে পায়ে হেঁটে পার হতে তিন দিন লাগত! যোনা নগরীর মধ্যে প্রবেশ করে এক দিনের পথ এগিয়ে গেলেন; পরে একথা ঘোষণা করলেন, ‘এখনও চল্লিশ দিন, তারপর নিনেভে উৎপাটিত হবে।’
নিনেভের লোকেরা পরমেশ্বরে বিশ্বাস করল; তারা উপবাস ঘোষণা করল, এবং মহামান্য ব্যক্তি থেকে সাধারণ লোক পর্যন্ত সকলেই চটের কাপড় পরল।
পরমেশ্বর তাদের প্রচেষ্টা দেখলেন, হ্যাঁ, তিনি দেখলেন যে, তারা তাদের কুপথ ত্যাগ করছিল; তাই তিনি তাদের প্রতি যে অমঙ্গল ঘটাবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে দয়াবোধ করে সেই অমঙ্গল ঘটালেন না।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ২৫
ধুয়ো:
আমাকে চিনিয়ে দাও
তোমার পথসকল, প্রভু।

আমাকে চিনিয়ে দাও তোমার পথসকল, প্রভু,
আমাকে শিখিয়ে দাও তোমার পন্থাসকল।
তোমার সত্যে আমাকে চালনা কর, আমাকে শিক্ষা দাও,
তুমিই তো আমার ত্রাণেশ্বর।   [ধুয়ো]

তোমার স্নেহ, তোমার কৃপা মনে রেখ, প্রভু,
অনাদিকাল থেকেই সেই স্নেহ, সেই কৃপা।
তোমার কৃপায় আমায় মনে রেখ
তোমার মঙ্গলময়তার খাতিরে, প্রভু।   [ধুয়ো]

প্রভু মঙ্গলময়, ন্যায়শীল,
তাই পাপীদের তিনি শেখান তাঁর আপন পথ।
ন্যায়মার্গে বিনম্রদের চালনা করেন,
বিনম্রদের শিখিয়ে দেন তাঁর আপন পথ।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৭:২৯-৩১)

ভাই, তোমাদের আমি যা বলতে চাচ্ছি, তা এ: সময় আর বেশি নেই; এখন থেকে, যাদের স্ত্রী আছে, তারা এমনভাবে চলুক তাদের যেন স্ত্রী নেই; এবং যারা শোকার্ত, তারা যেন শোকার্ত নয়; যারা আনন্দিত, তারা যেন আনন্দিত নয়; যারা কেনে, তারা যেন কিছুর মালিক নয়; যারা এসংসারের কোন কাজে আবদ্ধ, তারা যেন তার সঙ্গে সম্পূর্ণ জড়িত নয়, কেননা এই সংসারের চেহারা লোপ পেতে চলেছে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
ঈশ্বরের রাজ্য কাছে এসে গেছে:
মনপরিবর্তন কর, সুসমাচারে বিশ্বাস কর।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:১৪-২০)

যোহনকে ধরিয়ে দেওয়া হলে পর যিশু ঈশ্বরের সুসমাচার প্রচার করতে করতে গালিলেয়ায় গেলেন; তিনি বলছিলেন, ‘কাল পূর্ণ হল, ও ঈশ্বরের রাজ্য কাছে এসে গেছে: মনপরিবর্তন কর ও সুসমাচারে বিশ্বাস কর।’
তিনি গালিলেয়া সাগরের তীর দিয়ে চলতে চলতে দেখতে পেলেন, সিমোন ও তাঁর ভাই আন্দ্রিয় সমুদ্রে জাল ফেলছেন, কারণ তাঁরা জেলে ছিলেন। যিশু তাঁদের বললেন, ‘আমার পিছনে এসো; আমি তোমাদের করে তুলব মানুষ-ধরা জেলে।’ আর তখনই তাঁরা জাল ফেলে রেখে তাঁর অনুসরণ করলেন।
কিছু দূরে এগিয়ে গিয়ে তিনি জেবেদের ছেলে যাকোব ও তাঁর ভাই যোহনকে দেখতে পেলেন: তাঁরাও নৌকায় ছিলেন, জাল সারাচ্ছিলেন। তিনি তখনই তাঁদের ডাকলেন, আর তাঁরা নিজেদের পিতা জেবেদকে মজুরদের সঙ্গে নৌকায় ফেলে রেখে তাঁর পিছনে গেলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
পুরোহিত তের্তুল্লিয়ানুস-লিখিত ‘কাথলিক রচনাবলি’

আদমের বিদ্রোহ নিয়ে শুরু করা মানবগর্বের এত বহু ও গুরুতম অপরাধের পর, মানুষকে ও তার পাপ-উত্তরাধিকারকে শাস্তিদানের পর, পরমদেশ থেকে বিতাড়ন ও মৃত্যুর হাতে অধীনতার পর, ঈশ্বর একপ্রকারে দয়ারই পুনর্জয় পরিকল্পনা করলেন ও কেমন যেন অনুতাপ করলেন, যার ফলে আপন প্রতিমূর্তিতে গড়া সৃষ্টজীবকে ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতিতে নিজেকে আবদ্ধ করে তিনি প্রথম ক্রোধজনিত দণ্ড বাতিল করলেন।
তখন তিনি নিজের জন্য এক জনগণ গঠন করলেন ও আপন ভালবাসার অনির্বচনীয় মঙ্গলদানগুলিতে তাকে পরিপূর্ণ করলেন; তবু সেই জনগণের জেদি অকৃতজ্ঞতা সম্বন্ধে বহুবার অভিজ্ঞতা করেও তিনি সকল নবীর মুখ দিয়ে প্রায়শ্চিত্তের দিকে তাদের আহ্বান করায় কখনও ক্ষান্ত হননি। আর যখন তিনি সেই অনুগ্রহ দানের প্রতিশ্রুতি দিলেন—যে অনুগ্রহ দ্বারা তিনি চরমকালে আপন আত্মার আলোয় সারা বিশ্বকে আলোকিত করার কথা—তখন তিনি চাইলেন, এ অনুগ্রহের আগে মানুষ বাপ্তিস্মের জলে ডুব দেবে, যাতে করে আব্রাহামের বংশধরদের প্রতি অঙ্গীকৃত সমস্ত অঙ্গীকারের উত্তরাধিকারী হতে যাদের তিনি একদিন অনুগ্রহের খাতিরে আহ্বান করবেন, প্রায়শ্চিত্তের সেই চিহ্ন যেন তাদের মনের পূর্বপ্রস্তুতি সাধন করে।
যোহন নীরব থাকেন না, তিনি বরং বলে চলেন, মনপরিবর্তন কর (মথি ৩:২), কেননা সর্বজাতির জন্য পরিত্রাণ আসন্নই ছিল; ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রভুরই তো সেই পরিত্রাণ আনবার কথা। সুতরাং তেমন পরিত্রাণ আসবার আগে যোহন এমন প্রায়শ্চিত্তের কথা প্রচার করছিলেন, যা মানব-হৃদয় থেকে আদিপাপের সমস্ত কলুষ মুছিয়ে দিয়ে ও অজ্ঞতাজনিত সমস্ত কলঙ্ক দূর করে দিয়ে মানবাত্মাকে নির্মল করে তুলবে, যার ফলে পবিত্র আত্মার আগমনের জন্য এমন শুচিশুভ্র আবাস তৈরী হবে যেখানে তিনি ও তাঁর সমস্ত ঐশদানগুলি বাস করতে পারেন। এ সমস্ত মঙ্গলদানের একমাত্র উদ্দেশ্য হল, প্রাচীনকালের যত পাপ মুছিয়ে দেওয়ার পর মানুষকে পরিত্রাণ দেওয়া; এই তো প্রায়শ্চিত্তের লক্ষ্য, এই তো তার সেই কর্তব্য যা ঐশদয়ার পরিকল্পনা সহজসাধ্য ক’রে মানুষের উপকারী ও ঈশ্বরের গ্রহণযোগ্য হয়।
যিনি দেহ, আত্মা, কাজ ও মনের সমস্ত অপরাধের বিচার ও দণ্ড নির্ধারণ করলেন, ‘মনপরিবর্তন কর, তবেই আমি তোমাকে ত্রাণ করব,’ জনগণকে একথা বলায় তিনি প্রায়শ্চিত্তের মাধ্যমে ক্ষমা দানেও প্রতিশ্রুত হলেন। তিনি আরও বললেন, আমার জীবনের দিব্যি—প্রভু পরমেশ্বরের উক্তি—দুর্জনের মৃত্যুতে আমি প্রীত নই; বরং এতেই আমি প্রীত, সে যদি আপন পথ থেকে ফিরে বাঁচে (এজে ৩৩:১১)।
অতএব, প্রায়শ্চিত্ত এমন পথ, যা মৃত্যুর পরিবর্তেই তোমাকে অর্পণ করা হয়। তাই তুমি যে আমার মত পাপী, এমনকি আমার চেয়ে কম পাপী—আমি তো জানি, তোমার চেয়ে আমিই বড় পাপী—তাই তুমি প্রায়শ্চিত্ত আলিঙ্গন কর, জাহাজডুবির সময়ে জলে নিক্ষিপ্ত মানুষ যেমন যথাশক্তিতে ও ভরসার সঙ্গে একটা তক্তা ধরে রাখে, তুমি তেমনি প্রায়শ্চিত্ত আঁকড়ে ধর! তুমি পাপের তরঙ্গমালায় নিমজ্জিত হলে প্রায়শ্চিত্তই তোমাকে ভাসিয়ে রাখবে ও ঐশপ্রসন্নতার বন্দরে তোমাকে নিয়ে যাবে। আশাতীত সুযোগ আঁকড়ে ধর, যাতে তুমি যে ঈশ্বরের সামনে শূন্যতাই ছিলে, তুমি যে বালতিতে জলের এক বিন্দুই মাত্র, বাজারের ধুলাই মাত্র, কুমোরের মাটিই মাত্র, সেই তুমি যেন গাছ হতে পার—সেই যে গাছ জলস্রোতের কূলে রোপিত, যার পাতা সর্বদাই সবুজ-সতেজ, যা যথাসময় ফল দান করে (সাম ১:৩), যা আগুনও চেনে না, কুড়ালও নয়।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
প্রভুর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর:
তোমার জীবনদায়ী অনুগ্রহে সঞ্জীবিত হয়ে উঠে
আমরা যেন অনুক্ষণ তোমার সহায়তা লাভে ধন্য হতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৪র্থ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের পরমেশ্বর, আশীর্বাদ কর,
আমরা যেন সমস্ত মন দিয়ে তোমাকে ভক্তি করতে পারি,
সকল মানুষকেও সত্যকার প্রেমে ভালবাসতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
দ্বিতীয় বিবরণ থেকে পাঠ (১৮:১৫-২০)

মোশি জনগণকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘তোমার পরমেশ্বর প্রভু তোমার জন্য তোমার মধ্য থেকে, তোমার ভাইদেরই মধ্য থেকে আমার মত এক নবীর উদ্ভব ঘটাবেন; তাঁরই কথায় তোমরা কান দেবে; কেননা হোরেবে জনসমাবেশের দিনে তুমি তোমার পরমেশ্বর প্রভুর কাছে ঠিক তাই যাচনা করেছিলে; তখন বলেছিলে, আমাকে যেন আমার পরমেশ্বর প্রভুর কণ্ঠস্বর আবার শুনতে না হয়, যেন এই প্রচণ্ড আগুন আর দেখতে না হয়, নইলে আমি মারা পড়ব।
তখন প্রভু আমাকে বললেন, ওরা ঠিক কথাই বলেছে। আমি ওদের জন্য ওদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার মত এক নবীর উদ্ভব ঘটাব, ও তার মুখে আমার বাণী রেখে দেব; আমি তাকে যা কিছু আজ্ঞা করব, তা সে তাদের বলবে। আর আমার নামে সে আমার যে সকল বাণী বলবে, সেই বাণীতে কেউ যদি কান না দেয়, তবে তার কাছ থেকে আমি জবাবদিহি চাইব। কিন্তু আমি যে বাণী দিতে আজ্ঞা করিনি, যদি কোন নবী দুঃসাহসের সঙ্গে তা আমার নামে বলে, বা যদি কেউ অন্য দেবতাদের নামে কথা বলে, তবে সেই নবীকে মরতেই হবে।’।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯৫
ধুয়ো:
তোমরা যদি আজ তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে!
‘হৃদয় কঠিন করো না।’

এসো, প্রভুর উদ্দেশে সানন্দে চিৎকার করি,
আমাদের ত্রাণশৈলের উদ্দেশে তুলি জয়ধ্বনি।
চল, ধন্যবাদগীতি গেয়ে তাঁর সম্মুখে যাই,
বাদ্যের ঝঙ্কারে তাঁর উদ্দেশে তুলি জয়ধ্বনি।   [ধুয়ো]

এসো, প্রণত হই; এসো, প্রণিপাত করি,
আমাদের নির্মাণকর্তা প্রভুর সম্মুখে করি জানুপাত,
তিনি যে আমাদের পরমেশ্বর,
আর আমরা তাঁর চারণভূমির জনগণ, তাঁর হাতের মেষপাল।   [ধুয়ো]

তোমরা যদি আজ তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে! ‘হৃদয় কঠিন করো না,
যেমনটি ঘটল মেরিবায় ও সেইদিন মাস্সায় সেই মরুদেশে;
সেখানে তোমাদের পিতৃপুরুষেরা আমায় যাচাই করল,
আমার কাজ দেখেও আমায় পরীক্ষা করল।’   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৭:৩২-৩৫)

প্রিয়জনেরা, আমি ইচ্ছা করি, তোমরা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকবে। যে অবিবাহিত, সে চিন্তা করে প্রভুরই কাজের কথা, কি ক’রে সে প্রভুকে তুষ্ট করতে পারে। কিন্তু যে বিবাহিত, সে চিন্তা করে এসংসারেরই কাজের কথা, কি ক’রে সে স্ত্রীকে তুষ্ট করতে পারে; এতে সে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
তেমনিভাবে অবিবাহিতা নারী কিংবা কুমারীও চিন্তা করে প্রভুর কাজের কথা, সে যেন দেহে ও আত্মায় নিজেকে পবিত্র রাখতে পারে; কিন্তু বিবাহিতা নারী চিন্তা করে এসংসারেরই কাজের কথা, কি ক’রে সে স্বামীকে তুষ্ট করতে পারে।
তোমাদের ভালোর জন্যই আমি এই কথা বলছি; গলায় দড়ি দিয়ে তোমাদের বেঁধে রাখবার জন্য নয়, কিন্তু যা সমীচীন, তোমরা যেন তাই করে একাগ্র মনে প্রভুর প্রতি আকৃষ্ট থাক।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যে জাতি অন্ধকারে বসে ছিল,
তারা মহান এক আলো দেখতে পেল;
যারা মৃত্যু-ছায়ার দেশে বসে ছিল,
তাদের উপর এক আলো উদিত হল।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:২১-২৮)

একদিন, সাব্বাৎ দিনে, যিশু [কাফার্নাউমের] সমাজগৃহে প্রবেশ করে উপদেশ দিতে লাগলেন; তাঁর এই উপদেশে লোকে বিস্ময়মগ্ন হল, কারণ তিনি অধিকারসম্পন্ন ব্যক্তির মতই তাদের উপদেশ দিতেন—শাস্ত্রীদের মত নয়।
আর তখনই তাদের সমাজগৃহে অশুচি আত্মাগ্রস্ত একজন লোক উপস্থিত হল; সে চিৎকার করে বলে উঠল: ‘হে নাজারেথের যিশু, আমাদের সঙ্গে আপনার আবার কী? আপনি কি আমাদের বিনাশ করতে এসেছেন? আমি জানি, আপনি কে: আপনি ঈশ্বরের সেই পবিত্রজন।’ কিন্তু যিশু তাকে ধমক দিয়ে বললেন: ‘চুপ কর, ওর মধ্য থেকে বের হও।’ আর সেই অশুচি আত্মা তাকে ঝাঁকুনি দিয়ে জোর গলায় চিৎকার করে তার মধ্য থেকে বেরিয়ে গেল।
সকলে বিস্মিত হল, এমনকি একে অপরকে জিজ্ঞাসা করতে লাগল, ‘এ আবার কী! এ যে অধিকারে পূর্ণ নতুন শিক্ষা! উনি অশুচি আত্মাগুলোকেও আদেশ দিচ্ছেন, আর তারা তাঁর কথা মেনে নিচ্ছে!’
আর তখনই তাঁর নাম সমগ্র গালিলেয়া প্রদেশের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
মথি-রচিত সুসমাচারে বিশপ সাধু জন খ্রিসোস্তমের উপদেশ

তাঁরা কাফার্নাউম পর্যন্ত গেলেন, এবং তখনই, সাব্বাৎ দিনে, তিনি সমাজগৃহে প্রবেশ করে উপদেশ দিতে লাগলেন; তাঁর এই উপদেশে লোকে বিস্ময়মগ্ন হল (মার্ক ১:২১-২২)। তাঁর উপদেশে যে তারা মুগ্ধ হবে ও তাঁর আদেশগুলির শ্রেষ্ঠতায় যে বিস্মিত হবে তা যুক্তিসঙ্গত; তবু সদ্‌গুরুর অধিকারে এত প্রভাব ছিল, যা তাদের অনেককে এমনই মুগ্ধ করছিল যে তাঁর বাণী শুনে গভীর আনন্দ উপভোগ করার ফলে তারা উপদেশ শেষে তাঁকে ছেড়ে না দিতে উদ্দীপিত ছিলেন। বস্তুতপক্ষে তিনি পর্বত থেকে নেমে এলে শ্রোতারা চলে যায়নি, বরং লোকের সমস্ত ভিড় তাঁর অনুসরণ করল—তাঁর উপদেশ এত মহা বিস্ময়ই না জাগিয়ে তুলেছিল!
তারা কিন্তু তাঁর পরাক্রমেই বিশেষভাবে আকৃষ্ট ছিল; কেননা তিনি পরের কথা, তথা নবীদের বা মোশির কথা তত উল্লেখ করতেন না, বরং তাঁর প্রতিটি বাণীতে প্রকাশ পেত যে তাঁর নিজের একটি অধিকার ছিল। বিধানের কথা বারবার উল্লেখ করার পর তিনি বলে চলতেন, আমি কিন্তু তোমাদের বলছি… (মথি ৫:২২); এবং বিচারের দিন মনে করিয়ে দিয়ে তিনি দণ্ড কি পুরস্কারের বিচারকর্তা বলে নিজেকেই নির্দেশ করতেন। এজন্য তারা যে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়বে তা যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে। তাঁর কর্মকীর্তিতে তাঁর প্রভাব দেখা সত্ত্বেও শাস্ত্রীরা যখন তাঁকে পাথর ছুড়ে মারল ও দূর করে দিল, তখন তাঁর আন্তর প্রভাব যেখানে কেবল বাণীতেই প্রকাশ পেত, সেখানে সেই বাণী যে তাদের মধ্যে নানা উদ্বেগ সৃষ্টি করবে না, তা কি করে সম্ভব হত? এমনকি সেই বাণী তাঁর প্রচারকাজের সূচনায়ই, অর্থাৎ তিনি নিজ প্রভাব বাস্তবরূপে প্রকাশ করার আগেই উচ্চারিত হয়েছিল! তাঁর অলৌকিক কাজ তাঁর প্রভাব ঘোষণা করা সত্ত্বেও ফরিসিরা নিজেদের মনঃক্ষুণ্ণ মনে করছিল; কিন্তু এ লোকের ভিড় তাঁর বাণী শোনামাত্র তাঁর অধীন হয়ে তাঁর অনুসরণ করছিল। রচয়িতা স্পষ্টই বলেন, বহু লোকের ভিড় তাঁর অনুসরণ করছিল (মথি ৮:১); তাই প্রধান বা শাস্ত্রীদের কয়েকজন শুধু নয়, বরং তারা সকলেই তাঁর অনুসরণ করছিল যাদের অন্তরে শঠতা ছিল না ও যাদের হৃদয় সরল ছিল। গোটা সুসমাচারে তুমি এ ধরনের অনুসারী সবসময় দেখতে পাও। তিনি কথা বললে তারা নীরব হয়ে শুনত, উপদেশের ধারাবাহিকতা ভাঙত না, বাধাও সৃষ্টি করত না, পরীক্ষামূলক প্রশ্ন রাখত না, ও ফরিসিদের মত এমন কোন অবকাশ খুঁজত না তিনি যেন তাতে ধরা পড়েন; আর তাঁর বাণী শেষে মুগ্ধ অন্তরেই তাঁর অনুসরণ করত। আমার ইচ্ছে, তুমি আমার সঙ্গে প্রভুর সদ্বিবেচনার কথা ভাববে, কেমন করে তিনি শ্রোতাদের উপকারিতা অনুসারেই ভিন্ন ভিন্ন উপায় অবলম্বন করছিলেন, অলৌকিক কাজের পরে উপদেশ দিচ্ছিলেন, আবার উপদেশের পর অলৌকিক কাজ সাধন করছিলেন। বস্তুত পর্বতে আরোহণ করার আগে তিনি বহু লোককে সারিয়ে তুলেছিলেন, যাতে করে যা যা বলতে উদ্যত ছিলেন তা উপলব্ধি করার পথ প্রস্তুত করতে পারেন। এবং এ দীর্ঘ উপদেশ শেষ করে তিনি আবার অলৌকিক কাজ সাধন করতে লাগলেন, যাতে তাঁর বাণী কাজেই প্রমাণিত হতে পারে। আর যেহেতু তিনি অধিকারসম্পন্ন ব্যক্তির মতই উপদেশ দিতেন (মার্ক ১:২২), সেজন্য তাঁর শিক্ষাদানের কায়দায় যেন আত্মপ্রশংসা বা আড়ম্বরের মত কিছুই না দেখা দেয়, তিনি কথা সঙ্গে সঙ্গে কাজেই পরিণত করতেন: অধিকারসম্পন্ন ব্যক্তির মত তিনি রোগও সারিয়ে তুলতেন, যেন এমনভাবে সাধিত অলৌকিক কাজ দেখে লোকে তাঁর উপদেশ শুনে উদ্বিগ্ন হয়ে না পড়ে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩১
ধুয়ো:
তোমার দাসের উপর শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তোল,
তোমার কৃপায় ত্রাণ কর আমায়।

কতই না মহান তোমার সেই মঙ্গলময়তা, প্রভু,
যা তাদের জন্য তুমি সঞ্চিত রাখ যারা ভয় করে তোমায়,
যা আদমসন্তানদের দৃষ্টিগোচরে
তুমি তোমার আশ্রিতজনকে মঞ্জুর কর।   [ধুয়ো]

মানুষের চক্রান্ত থেকে তুমি আপন শ্রীমুখের নিভৃতে তাদের লুকিয়ে রাখ,
জিভের আক্রমণ থেকে তুমি আপন কুটিরেই তাদের নিরাপদে রাখ।
ধন্য প্রভু! সুরক্ষিত নগরে আমার জন্য
তিনি সাধন করলেন তাঁর কৃপার আশ্চর্য কীর্তি।   [ধুয়ো]

প্রভুকে ভালবাস, তাঁর ভক্তজন সবাই, প্রভু আপন বিশ্বস্তদের রক্ষা করেন,
কিন্তু অহঙ্কারীর উপর অপর্যাপ্ত প্রতিফল দেন।
শক্ত হও, অন্তর দৃঢ় করে তোল তোমরা,
তোমরা সকলে, যারা প্রভুর প্রত্যাশায় আছ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এ মুক্তিপ্রদ অন্নে পরিপুষ্ট হয়ে উঠে আমরা অনুনয় করি:
এই সাক্রামেন্ত যেমন শাশ্বত পরিত্রাণ লাভের জন্য সহায়তা দান করে,
তেমনি যেন আমাদের বিশ্বাস দৃঢ়তর করে তোলে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৫ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, অনুনয় করি: যারা কেবল তোমার দিব্য অনুগ্রহের উপর নির্ভরশীল,
তোমার সেই পরিবার-মণ্ডলীকে তুমি তোমার অবিরত পিতৃস্নেহে প্রতিপালন কর, তারা যেন তোমার নিত্য সহায়তা লাভে রক্ষা পেতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
যোব পুস্তক থেকে পাঠ (৭:১-৪,৬-৭)

যোব একথা বললেন:
পৃথিবীতে কি মানুষ কঠোর পরিশ্রমের অধীন নয়?
তার দিনগুলি কি দিনমজুরের দিনগুলির মত নয়?
দাস যেমন ছায়ার আকাঙ্ক্ষা করে,
দিনমজুর যেমন তার মজুরির অপেক্ষায় থাকে,
মাসের পর মাসের শূন্যতাই তেমনি হল আমার প্রাপ্য,
দুর্দশাপূর্ণ রাত্রিই হল আমার ভাগ্য।
শুয়ে পড়ে আমি ভাবি, আবার কখন উঠব?
কিন্তু রাত আর শেষ হয় না,
আর আমি ভোর পর্যন্ত শুধু ছট্‌ফট্‌ করতে থাকি।
আমার আয়ু তাঁতীর মাকুর চেয়েও দ্রুত চলে গেল,
আশাবিহীন হয়ে ফুরিয়ে গেল।
স্মরণে রেখ, আমার জীবন শ্বাসমাত্র,
আমার চোখ আর মঙ্গল দেখতে পাবে না।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৪৭
ধুয়ো:
প্রভুর প্রশংসা কর:
তিনি ভগ্নহৃদয় মানুষকে নিরাময় করেন।

আমাদের পরমেশ্বরের স্তবগান করা সুন্দর,
তাঁর প্রশংসাগান কত মধুর, কত সমীচীন।
প্রভু যেরুসালেমকে পুনর্নির্মাণ করেন,
ইস্রায়েলের নির্বাসিতদের সংগ্রহ করেন।   [ধুয়ো]

তিনি ভগ্নহৃদয় মানুষকে নিরাময় করেন,
বেঁধে দেন তাদের ক্ষতস্থান।
তিনি তারকারাজির সংখ্যা গুনে রাখেন,
এক একটাকে নাম ধরে ডাকেন।   [ধুয়ো]

আমাদের প্রভু মহান, সর্বশক্তিমান,
তাঁর সুবুদ্ধি সীমার অতীত।
প্রভু বিনম্রকে সুস্থির রাখেন,
কিন্তু দুর্জনকে পথের ধুলায় অবনমিত করেন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৯:১৬-১৯,২২-২৩)

প্রিয়জনেরা, আমি যদিও সুসমাচার প্রচার করি, তবু আমার পক্ষে তাতে গর্ব করার কিছু নেই, কারণ তা করতে আমি নিজেকে বাধ্যই মনে করি; ধিক্‌ আমাকে, যদি সুসমাচার প্রচার না করতাম!
বস্তুত আমি যদি নিজে থেকেই তা করতাম, তবে আমার মজুরি পাবার অধিকার থাকত; কিন্তু যদি নিজে থেকেই না করি, তবে তা এমন কর্তব্য যা আমার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তাহলে আমার মজুরি কী? মজুরি এই যে, সুসমাচার প্রচার কাজে আমার যা পাবার অধিকার আছে, তা অনুশীলন না করে আমি কোন মজুরিই প্রত্যাশা না রেখে সুসমাচার প্রচার করে চলি।
কারণ কারও অধীন না হয়েও আমি সকলের কাছে দাসত্ব স্বীকার করেছি, যেন বহু মানুষকে জয় করতে পারি। দুর্বলদের কাছে হয়েছি দুর্বল, যেন দুর্বলদের জয় করতে পারি; সকলের কাছে সবকিছু হয়েছি, যেন যে কোন উপায়ে কয়েকজনকে পরিত্রাণ করতে পারি। সুসমাচারের জন্য আমি সবই করি, যেন তাদের সঙ্গে তার সহভাগী হতে পারি।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
খ্রিষ্ট আমাদের অসুস্থতা তুলে বহন করলেন;
বরণ করে নিলেন আমাদের রোগ-ব্যাধি।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:২৯-৩৯)

সমাজগৃহ থেকে বেরিয়ে এসে যিশু যাকোব ও যোহনের সঙ্গে সিমোন ও আন্দ্রিয়ের বাড়িতে গেলেন; সিমোনের শাশুড়ী তখন জ্বরে পড়ে শুয়ে ছিলেন, আর তাঁরা তখনই তাঁকে তাঁর কথা বললেন; তিনি কাছে গিয়ে তাঁর হাত ধরে তাঁকে ওঠালেন; তখন তাঁর জ্বর ছেড়ে গেল আর তিনি তাঁদের সেবাযত্ন করতে লাগলেন।
সন্ধ্যা হলে, সূর্য অস্ত গেলে লোকেরা সমস্ত পীড়িত ও অপদূতগ্রস্ত মানুষকে তাঁর কাছে আনল; আর সমস্ত শহর দরজার সামনে জড় হয়ে ভিড় করল। তিনি নানা প্রকার রোগে পীড়িত বহু মানুষকে নিরাময় করলেন ও অনেক অপদূত তাড়িয়ে দিলেন, কিন্তু অপদূতদের কথা বলতে দিতেন না, কারণ তারা তাঁর পরিচয় জানত।
পরে, ভোরে, বেশ অন্ধকার থাকতে থাকতে উঠে তিনি বেরিয়ে গেলেন ও নির্জন এক স্থানে গিয়ে সেখানে প্রার্থনা করতে লাগলেন; তবে সিমোন ও তাঁর সঙ্গীরা তাঁর খোঁজাখুঁজি করতে লাগলেন, এবং তাঁকে খুঁজে পেয়ে তাঁকে বললেন, ‘সকলে আপনার সন্ধান করছে।’ তিনি তাঁদের বললেন, ‘চল, আমরা অন্য কোথাও, আশেপাশের সকল গ্রামে যাই, যেন আমি সেখানেও প্রচার করতে পারি, কেননা সেজন্যই আমি বেরিয়েছি।’
আর তিনি সমস্ত গালিলেয়ায় ঘুরে ঘুরে তাদের সমাজগৃহে গিয়ে প্রচার করতে ও অপদূত তাড়াতে লাগলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু পিতর খ্রিসোলগের উপদেশ

যে কেউ আজকের সুসমাচার মনোযোগ দিয়ে শুনবে, সে শিখতে পারবে কেন বিশ্বের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা সেই স্বর্গের প্রভু আপন দাসদের দীন আবাসে প্রবেশ করলেন। তিনি যে স্নেহভরে সকলেরই কাছাকাছি এলেন, এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ তিনি সকলকে সাহায্য করার জন্যই এত মঙ্গলময়তার সঙ্গে এসেছিলেন।
একথা ভাব: পিতরের ঘরে কীবা খ্রিষ্টকে আকর্ষণ করল? বিশ্রাম করার ইচ্ছা অবশ্যই নয়, বরং সেই অসুস্থার দুর্বলতা; আহারের তাগিদও নয়, বরং ত্রাণ করার সুযোগ; আড়ম্বরের সঙ্গে মানুষের সেবা পাবার বাসনাও নয়, বরং নিজ ঐশপ্রভাব মানুষের সেবায় প্রয়োগ করার ব্যাকুলতা। পিতরের ঘরে আঙুররস নয়, অশ্রুজলই গড়িয়ে পড়ছিল। এজন্যই খ্রিষ্ট সেখানে ঢুকলেন: ভোজে অংশ নেবার জন্য নয়, জীবন ফিরিয়ে দেবার জন্যই ঢুকলেন। ঈশ্বর তো জিনিসের নয়, মানুষেরই অন্বেষণ করেন; পার্থিব মঙ্গলদান পেতে নয়, স্বর্গীয় মঙ্গলদান দিতেই আকাঙ্ক্ষা করেন; আমাদের জিনিস আদায় করতে নয়, আমাদের উদ্ধার করতেই খ্রিষ্ট আসেন।
পিতরের বাড়িতে ঢুকে যিশু দেখলেন, তাঁর শাশুড়ী বিছানায় শুয়ে আছেন, তাঁর জ্বর হয়েছে (মথি ৮:১৪)। পিতরের বাড়িতে ঢুকে যিশু যে উদ্দেশ্যে এসেছিলেন, সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়েই ব্যস্ত: তিনি তো ঘরের চেহারা বা তাঁর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের জন্য আগত লোকদের ভিড় বা যারা তাঁকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে তাদের সম্মানের দিকে তাকান না; পরিজনেরা যে ছুটে আসছে, তাও দেখেন না; আতিথেয়তা যে কত উজ্জ্বল, এদিকেও তাঁর চিন্তাটুকু নেই; অসুস্থার হাহাকারের দিকে, যাঁর জ্বর হয়েছে তাঁর উষ্ণতার দিকেই তাঁর একমাত্র দৃষ্টি। তিনি দেখছেন, তাঁর অবস্থা গুরুতর, মানব প্রত্যাশার অতীত, আর সঙ্গে সঙ্গে ঐশকাজের জন্য হাত বাড়ান: তিনি তাঁর যন্ত্রণাময় মানবতার দিকে আনত হতে না হতেই সেই ব্যক্তি রোগ-শয্যা ছেড়ে তাঁর ঈশ্বরত্বের দিকেই উঠছেন! তিনি তাঁর হাত স্পর্শ করলেন, আর জ্বর ছেড়ে গেল (মথি ৮:২৫)। দেখ কী করে জ্বর তাদেরই ছেড়ে যায় যিশু যাদের সঙ্গে হাত মেলান: অসুস্থতা স্বাস্থ্যের প্রণেতার সামনে দাঁড়াতে পারে না; জীবনদাতা যেখানে প্রবেশ করেছেন, মৃত্যুর পক্ষে সেখানে প্রবেশপথ নেই।
সন্ধ্যা হলে লোকেরা অপদূতগ্রস্ত বহু মানুষকে তাঁর কাছে আনল, আর তিনি বাণী দ্বারাই সেই অপদূতদের তাড়িয়ে দিলেন (মথি ৮:১৬)। তখনই সন্ধ্যা হয়, যখন পার্থিব দিনের অস্ত হয়, যখন জগৎ সর্বযুগের আলো থেকে দূরে চলে যায়। যিনি আলো ফিরিয়ে দেন, তিনি সন্ধ্যাবেলায় আসেন, যেন সর্বযুগের রাত্রিতে যাত্রী এ বিধর্মী আমাদেরই কাছে তিনি সূর্যাস্তহীন দিন ফিরিয়ে দিতে পারেন। সন্ধ্যাবেলায়, অর্থাৎ চরমকালে প্রেরিতদূতদের ভক্তিময় ও গাম্ভীর্যপূর্ণ যজ্ঞ বিধর্মী এ আমাদেরই ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করে, আর সেই যে অপদূতেরা প্রতিমা-পূজা দ্বারা আমাদের বশীভূত করে রাখছিল, সেই অপদূতদের আমাদের অন্তর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। কেননা অনন্য ঈশ্বরকে না জানায় আমরা জঘন্য ও নিকৃষ্ট বন্দিদশায় অসংখ্য দেবতাদের সেবা করছিলাম।
আমাদের কাছে খ্রিষ্ট মাংসগত ভাবে নয়, বাণীর মধ্য দিয়েই আসছেন: তবু বিশ্বাস যখন শ্রবণের উপর নির্ভর করে ও শ্রবণ বাণীপ্রচারের উপর নির্ভর করে (রো ১০:১৭ দ্রঃ), তখন তিনি অপদূতদের বন্দিদশা থেকে আমাদের মুক্ত করলেন, অপরদিকে যারা ছিল হিংস্র স্বৈরশাসক, সেই অপদূতেরা বন্দি হয়ে গেল। যারা আমাদের উপর প্রভুত্ব চালাচ্ছিল, এ সময় থেকে সেই অপদূতেরা আমাদের হাতেই পড়েছে, আমাদেরই বশীভূত হয়েছে: ভাই, আমাদের অবিশ্বস্ততা যেন এখন তাদের ক্রীতদাস অবস্থায় ফিরিয়ে না আনে! এসো, আমাদের নিজেদের ও আমাদের কাজকর্মের কথা প্রভুর কাছে স্মরণ করিয়ে দিই, পিতার কাছে নিজেদের সঁপে দিই, ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখি, কেননা মানবজীবন সেই ঈশ্বরের হাতে, যিনি পিতা হওয়ায় সন্তানদের কাজকর্ম চালিত করেন, ও প্রভু হওয়ায় কোন অবহেলা না করে নিজের পরিবারের সেবাযত্ন করেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১০৭
ধুয়ো:
তারা প্রভুকে ধন্যবাদ দিক তাঁর কৃপার জন্য,
তিনি যে পরিতৃপ্ত করলেন তৃষাতুরের প্রাণ,

প্রভুকে ধন্যবাদ জানাও, তিনি যে মঙ্গলময়,
তাঁর কৃপা যে চিরস্থায়ী।
একথা তারাই বলুক,
প্রভু যাদের মুক্তিকর্ম সাধন করলেন,   [ধুয়ো]

তারা ঘুরছিল প্রান্তরে, মরুদেশে,
পাচ্ছিল না বাস করার মত কোন নগরের পথ;
তারা ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত ছিল,
মূর্ছা যাচ্ছিল তাদের প্রাণ।   [ধুয়ো]

সেই সঙ্কটে তারা প্রভুকে চিৎকার করে ডাকল,
সমস্ত ক্লেশ থেকে তিনি তাদের উদ্ধার করলেন:
সরল পথে তাদের নিয়ে চললেন,
বাস করার মত একটি নগরে তারা যেন যেতে পারে।   [ধুয়ো]

তারা প্রভুকে ধন্যবাদ দিক তাঁর কৃপার জন্য,
আদমসন্তানদের প্রতি তাঁর আশ্চর্য কর্মকীর্তির জন্য;
তিনি যে পরিতৃপ্ত করলেন তৃষাতুরের প্রাণ,
ক্ষুধিতের প্রাণ পরিপূর্ণ করলেন মঙ্গলদানে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি আমাদের
একরুটি এক-পানপাত্রের সহভাগী করতে ইচ্ছা করেছ।
অনুনয় করি: খ্রিষ্টে এক হয়ে উঠে আমরা যেন
মনের আনন্দে জগতের পরিত্রাণের জন্য ফলশালী হতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৬ষ্ঠ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি কথা দিয়েছ,
ন্যায়শীল সৎমানুষ যারা, তাদেরই হৃদয়ে তুমি বসবাস কর।
তোমার অনুগ্রহ গুণে আমাদের এমনভাবেই গড়ে তোল
যাতে তোমার যোগ্য বাসস্থান হয়ে উঠতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
লেবীয় পুস্তক থেকে পাঠ (১৩:১-২,৪৫-৪৬)

প্রভু মোশি ও আরোনকে বললেন, ‘যদি কোন মানুষের শরীরের চামড়ায় এমন ফোলা বা মামড়ি বা চিক্কণ চিহ্ন পড়ে, যা সংক্রামক চর্মরোগের ঘায়ে পরিণত হতে পারে, তবে তাকে আরোন যাজকের কাছে বা তার বংশীয় যাজকদের মধ্যে কারও কাছে আনা হবে।
যার সংক্রামক চর্মরোগের ঘা হয়েছে, তার পোশাক ছেঁড়া থাকবে, তার মাথার চুল উষ্কখুষ্ক থাকবে, সে চিবুক কাপড় দিয়ে ঢেকে “অশুচি, অশুচি” বলে চিৎকার করে বেড়াবে। যতদিন তার গায়ে ঘা থাকবে, ততদিন সে অশুচি থাকবে; সে অশুচি, সে একাকী বাস করবে, তার বাসস্থান শিবিরের বাইরেই হবে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩২
ধুয়ো:
তুমিই আমার গোপন আশ্রয়,
মুক্তির আনন্দগানের মধ্যে আমায় ঘিরে রাখ।

সুখী সেই জন, যার অন্যায় হরণ করা হল,
আবৃত হল যার পাপ।
সুখী সেই মানুষ, যাকে প্রভু দোষ আরোপ করেন না,
যার আত্মায় ছলনা নেই।   [ধুয়ো]

কিন্তু যখন আমার পাপ জানালাম তোমায়,
যখন আর আবৃত রাখিনি আমার অপরাধ,
যখন বললাম, ‘প্রভুর কাছে আমার যত অন্যায় স্বীকার করব,’
তখনই তুমি হরণ করলে আমার পাপের দণ্ড।   [ধুয়ো]

প্রভুতে আনন্দ কর,
মেতে ওঠ, ধার্মিকজন সকল,
সানন্দে চিৎকার কর তোমরা সবাই,
সরলহৃদয় যারা।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১০:৩১–১১:১)

প্রিয়জনেরা, তোমরা আহার কর, পান কর বা যাই কর, সবই কর ঈশ্বরের গৌরবের জন্য।
ইহুদী হোক, গ্রীক হোক, বা ঈশ্বরের মণ্ডলী হোক, তোমরা কারও বিঘ্ন ঘটিয়ো না, যেমন আমিও সবকিছুতে সকলের প্রীতিকর হতে চেষ্টা করি, ও নিজের নয়, অনেকেরই মঙ্গলের জন্য সচেষ্ট থাকি তারা যেন পরিত্রাণ পায়।
তোমরা আমার অনুকারী হও, আমিও যেমন খ্রিষ্টের।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমাদের মধ্যে এক মহানবীর উদ্ভব হয়েছে;
ঈশ্বর তাঁর আপন জনগণকে দেখতে এসেছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:৪০-৪৫)

একদিন সংক্রামক চর্মরোগে আক্রান্ত একজন লোক এসে যিশুর সামনে হাঁটু পেতে মিনতি ক’রে বলল, ‘আপনি ইচ্ছা করলে আমাকে শুচীকৃত করতে পারেন।’ দয়ায় বিগলিত হয়ে তিনি হাত বাড়িয়ে তাকে স্পর্শ করে বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি ইচ্ছা করি। শুচীকৃত হও।’ আর তখনই চর্মরোগ তাকে ছেড়ে গেল আর সে শুচীকৃত হল।
আর তিনি তখনই কঠোরভাবে সতর্ক করে তাকে বিদায় দিয়ে বললেন, ‘দেখ, একথা কাউকেই বলো না; কিন্তু গিয়ে যাজকের কাছে নিজেকে দেখাও, ও তোমার শুচিতা-লাভের জন্য মোশির নির্দেশ অনুসারে নৈবেদ্য উৎসর্গ কর যেন তাদের কাছে তা সাক্ষ্যস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়।’
কিন্তু সে বেরিয়ে গিয়ে কথাটা প্রচার করে চারদিকে বলে দিল, যার ফলে যিশু কোন শহরে প্রকাশ্যে প্রবেশ করতে পারলেন না, কিন্তু বাইরে নির্জন নির্জন স্থানে থাকতে লাগলেন; তা সত্ত্বেও লোকেরা সবদিক থেকে তাঁর কাছে আসতে থাকল।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
মথি-রচিত সুসমাচারে বিশপ সাধু জন খ্রিসোস্তমের উপদেশ

প্রভু, ইচ্ছা করলে আপনি আমাকে শুচীকৃত করতে পারেন (মার্ক ১:৪০)। এই যে কুষ্ঠরোগী খ্রিষ্টের কাছে আসছে, তার সুবুদ্ধি ও বিশ্বাস সত্যি মহান। সে তো খ্রিষ্টের উপদেশ বন্ধ করে না, শ্রোতাদের মধ্যেও জোর করে নিজের জন্য পথ করে না, সে বরং উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করে: খ্রিষ্ট যখন পর্বত থেকে নেমে আসেন, তখনই সে তাঁর কাছে এগিয়ে যায়। তার অনুরোধও সাধারণ নয়, বরং ভক্তিপূর্ণ—সরল বিশ্বাস ও তাঁর বিষয়ে সঠিক ধারণা নিয়েই সে তাঁর সামনে প্রণত হয়। সে তো বলে না, ‘আপনি ঈশ্বরকে অনুরোধ করলে, তবে…; কিংবা আপনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলে, তবে…,’ বরং বলে, ইচ্ছা করলে আপনি আমাকে শুচীকৃত করতে পারেন (মার্ক ১:৪০)। সে আবার বলেনি, ‘প্রভু, আমাকে শুচীকৃত করুন;’ বরং সম্পূর্ণভাবে তাঁর উপরেই নিজেকে সঁপে দিয়ে সাক্ষ্য দান করে যে, তাকে শুচীকৃত করা বা নাও করার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে।
প্রভু কিন্তু বিনম্রতার খাতিরে নিজ গৌরবের বিষয়ে বারবার অপূর্ণাঙ্গভাবেই কথা বলেছিলেন; যারা মুগ্ধ হয়ে তাঁর পরাক্রমের দিকে তাকাচ্ছিল, তাদের এ ধারণা সুস্থির করার জন্য তিনি এবার কী বলেন? হ্যাঁ, আমি ইচ্ছা করি। শুচীকৃত হও (মার্ক ১:৪১)। বহু ও আশ্চর্যজনক অলৌকিক কাজ সাধন করা সত্ত্বেও তিনি এবারের কথার মত আর কোন কথা কখনও উচ্চারণ করেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি বলেন, আমার ইচ্ছা, তাতে সেই জনতা ও সেই কুষ্ঠরোগীর মধ্যে নিজ পরাক্রমের ধারণা স্থির করতে অভিপ্রেত হন। কাজ সাধন না করে তিনি সে কথা এমনি বলেননি, বরং কথার পর পরেই কাজ সাধিত হল। আমি ইচ্ছা করি। শুচীকৃত হও কথা বলায় তিনি ক্ষান্ত হননি, বরং সঙ্গে সঙ্গে হাত বাড়িয়ে তাকে স্পর্শ করলেন (মার্ক ১:৪১)। ব্যাপারটা গভীরতর চিন্তা-ভাবনার যোগ্য! কেনই বা তিনি ইচ্ছা ও বাণী দ্বারা শুচীকৃত করতে করতে তাকে হাত দিয়ে স্পর্শও করেন? আমি মনে করি, তিনি তাই করলেন যেন এবারও দেখাতে পারেন, তিনি বিধানের অধীন নন, তার ঊর্ধ্বেই; তিনি আবার দেখাতে চাচ্ছিলেন, এসময় থেকে শুচিদের পক্ষে অশুচি বলতে আর কিছু থাকবে না।
কেননা প্রভু শরীরের শুচিতা নিরাময় করতে শুধু নয়, মানবাত্মাকে প্রজ্ঞাপ্রেমে চালিত করতেও এসেছিলেন। সুতরাং, যেমন এক স্থানে তিনি বললেন, হাত না ধুয়ে খাওয়া আর নিষেধ নয়, যেমন সেই উত্তম বিধান দিয়েছিলেন যা অনুসারে সমস্ত খাদ্য বিধেয়, তেমনি এবার তিনি শেখাতে চান, বাহ্যিক শুচীকরণ-রীতির দিকে না তাকিয়ে, বরং আধ্যাত্মিক কুষ্ঠরোগ-স্বরূপ সেই পাপ ভয় করেই আত্মাকে শুচি রেখে যত্ন করা দরকার।
অতএব যিশু প্রথমে সেই কুষ্ঠরোগীকে স্পর্শ করেন, আর কেউই তাঁকে ভর্ৎসনা করে না: সেই বিচারালয় অন্যায় বিচারালয় নয়, যে জনতা এ সমস্ত কিছুর বিষয়ে সাক্ষী রূপে দাঁড়াচ্ছিল, সেই জনতাও হিংসা-পীড়িত নয়; এজন্য তারা তাঁর সমালোচনা করে না, এমনকি, সেই অলৌকিক কাজে মুগ্ধ হয়ে তারা নিশ্চুপ নির্বাক্‌ হয়ে তাঁর অগণিত পরাক্রম আরাধনা করে—সেই পরাক্রম এমন, যা কথা ও কাজে প্রকাশ পাচ্ছিল। এভাবে যিশু শরীর শুচীকৃত করে তুলে সেই মানুষকে বললেন, সে যেন একথা কাউকে না বলে, সে বরং যেন যাজকের কাছে গিয়ে নিজেকে দেখায় ও নিরূপিত অর্ঘ্য নিবেদন করে। সেই সুস্থতা সম্বন্ধে তাঁর যে কিছুটা সন্দেহ ছিল, এজন্য তিনি একথা কাউকে বলতে নিষেধ করলেন এমন নয়, তাঁর উদ্দেশ্য বরং এ ছিল, আমরা যেন দম্ভ ও অসার গৌরব থেকে দূরে থাকতে শিখি। তিনি অবশ্যই জানতেন, সেই কুষ্ঠরোগী চুপ করে না থেকে বরং সকলের কাছে নিজ উপকর্তা সম্বন্ধে কথা বলবে; তথাপি তাতে বাধা দেওয়া তাঁর যতখানি সম্ভব ছিল তিনি করলেন। অন্য সময় যিশু নিজের প্রশংসা করতে নয়, ঈশ্বরেরই গুণকীর্তন করতে আজ্ঞা করেছিলেন; ফলে এই কুষ্ঠরোগীর ব্যাপারে তিনি নিজেদের দেখাতে ও অসার প্রশংসা থেকে দূরে থাকতে শিক্ষা দিলেন, অন্য সময় কৃতজ্ঞ হতে ও উপকারের কথা স্মরণ করতে শিক্ষা দিলেন। তবু উভয় শিক্ষার মূল বিষয় একই: প্রশংসা সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরকেই আরোপণীয়।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৭৮
ধুয়ো:
তারা খুব তৃপ্তির সঙ্গেই খেল,
প্রভু যে তাদের সেই বাসনা করেছিলেন মঞ্জুর।

মরুপ্রান্তরে শৈলশিলা বিদীর্ণ ক’রে
তিনি তাদের প্রচুর জল পান করালেন যেন সমুদ্রের অতল থেকে;
শৈল থেকে বের করে আনলেন কত জলস্রোত,
নদনদীর মতই বইয়ে দিলেন জল।   [ধুয়ো]

অথচ মরুদেশে পরাৎপরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ক’রে
তারা তাঁর বিরুদ্ধে পাপ করে চলল;
মনোমত খাদ্য চেয়ে
অন্তরে ঈশ্বরকে যাচাই করল।   [ধুয়ো]

তারা পরমেশ্বরের বিরুদ্ধে গজগজ করে একথা বলল,
‘ঈশ্বর কি মরুপ্রান্তরে ভোজনপাট সাজাতে পারবেন?’
এই যে! তিনি শৈলে আঘাত হানলেই বইতে লাগল জল,
উছলে পড়ল যত খরস্রোত।   [ধুয়ো]

‘তিনি কি রুটিও দিতে পারবেন,
আপন জনগণের জন্য কি মাংস যোগাতে পারবেন?’
তারা যে পরমেশ্বরে বিশ্বাস রাখল না,
ভরসা রাখল না তাঁর পরিত্রাণে।   [ধুয়ো]

তবুও তিনি ঊর্ধ্বের মেঘপুঞ্জকে আজ্ঞা দিলেন,
খুলে দিলেন আকাশের যত দ্বার,
তাদের উপর খাদ্যরূপে বর্ষণ করলেন মান্না,
তাদের দিলেন স্বর্গের গোধুম।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, অনুনয় করি: স্বর্গীয় অন্নগ্রহণে পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে আমরা যেন অনুক্ষণ
সেই বিষয়ের অন্বেষণ করি যা মানুষকে প্রকৃত জীবনে সঞ্জীবিত করে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৭ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর: স্বর্গের বিষয়ে অনুক্ষণ মন দিয়ে
আমরা যেন কথাকর্মে তোমার মঙ্গল ইচ্ছা পূর্ণ করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৪৩:১৮-১৯,২১-২২,২৪খ-২৫)

প্রভু একথা বলছেন:
তোমরা অতীতের কথা আর মনে করো না,
প্রাচীন যত ঘটনা আর চিন্তা করো না!
এই দেখ, আমি নতুন কিছু করতে যাচ্ছি:
ঠিক এখনই তা গজিয়ে উঠছে,
তোমরা কি এবিষয়ে সচেতন নও?
আমি প্রান্তরেও একটা পথ প্রস্তুত করছি,
মরুভূমিতে নানা রাস্তা করে দিচ্ছি।
যে জনগণকে আমি নিজের জন্য গড়েছি,
তারা যেন প্রচার করে আমার প্রশংসাবাদ।
কিন্তু তুমি, যাকোব, তুমি তো আমাকে ডাকনি,
এমনকি আমার বিষয়ে তুমি ক্ষান্তই হয়েছ, হে ইস্রায়েল।
বরং তোমার পাপ দ্বারা আমাকে শ্রান্ত করেছ,
তোমার শঠতা দ্বারা আমাকে ক্লান্ত করেছ।
আমি, আমিই তোমার যত বিদ্রোহ কর্ম
আমার নিজের খাতিরে মুছে দিই,
এবং তোমার সমস্ত পাপ আর স্মরণে রাখি না!
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৪১
ধুয়ো:
প্রভু, নিরাময় কর আমার প্রাণ,
তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।

সুখী সেই মানুষ, যে চিন্তা করে দীনজনের কথা;
বিপদের দিনে প্রভু তাকে নিষ্কৃতি দেন।
প্রভু তাকে রক্ষা করে বাঁচিয়ে রাখবেন, দেশে সে সুখ ভোগ করবে।
তুমি শত্রুদের ইচ্ছার হাতে তাকে সঁপে দেবে না।   [ধুয়ো]

ব্যাধি-শয্যায় প্রভু হবেন তার অবলম্বন,
হ্যাঁ, তার রোগ-শয্যা তুমি উল্টিয়েই দেবে।
আমি বলেছি, ‘প্রভু, আমাকে দয়া কর;
নিরাময় কর আমার প্রাণ—তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।’   [ধুয়ো]

আমার সততার জন্য তুমি আমায় ধরে রাখ,
তোমার সম্মুখেই আমায় সংস্থিত কর চিরকাল।
ধন্য প্রভু, ইস্রায়েলের পরমেশ্বর,
অনাদিকাল থেকে চিরকাল ধরে। আমেন, আমেন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (১:১৮-২২)

প্রিয়জনেরা, বিশ্বাসযোগ্য ঈশ্বর সাক্ষ্য দিন যে, তোমাদের প্রতি আমাদের কথা একই সময়ে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ হয় না। ঈশ্বরের পুত্র যিশুখ্রিষ্ট, যাঁর কথা আমরা, অর্থাৎ আমি নিজে, সিল্ভানুস ও তিমথি তোমাদের কাছে প্রচার করেছি, তিনি ‘হ্যাঁ’ আবার ‘না’ হননি, কিন্তু তাঁর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ হয়েছে; বস্তুত ঈশ্বরের সমস্ত প্রতিশ্রুতি তাঁর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ হয়েছে, আর এজন্য আমাদের ‘আমেন’ তাঁরই মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের গৌরবার্থে ধ্বনিত।
স্বয়ং ঈশ্বরই খ্রিষ্টে তোমাদের সঙ্গে আমাদের সুদৃঢ় করে রাখেন; তৈলাভিষেকে আমাদের অভিষিক্ত করেছেন, আমাদের চিহ্নিতও করেছেন তাঁর আপন মুদ্রাঙ্কনে এবং অগ্রিম হিসাবে আমাদের হৃদয়ে আত্মাকে দিয়েছেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
প্রভু দীনদুঃখীদের কাছে শুভসংবাদ দিতে
ও বন্দিদের কাছে মুক্তিলাভের কথা প্রচার করতে প্রেরণ করেছেন আমায়।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:১-১২)

যিশু আবার কাফার্নাউমে চলে এলে শোনা গেল যে, তিনি বাড়িতে আছেন; আর এত লোক এসে জমা হল যে, দরজার সামনেও আর জায়গা রইল না।
তিনি তাদের কাছে বাণী প্রচার করছিলেন, সেসময়ে কয়েকজন লোক এসে উপস্থিত হল; তারা চারজন লোকের সাহায্যে তাঁর কাছে একজন পক্ষাঘাতগ্রস্তকে বহন করে নিয়ে এল; কিন্তু ভিড়ের কারণে তাঁর কাছে আসতে না পারায়, তিনি যেখানে ছিলেন, সেই জায়গার ছাদ খুলে ফেলে ছিদ্র করে মাদুরটা নামিয়ে দিল যার উপরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত লোকটি শুয়ে ছিল। তাদের বিশ্বাস দেখে যিশু সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত লোককে বললেন, ‘বৎস, তোমার পাপ ক্ষমা করা হল।’
সেসময়ে সেখানে কয়েকজন শাস্ত্রী বসে ছিলেন; তাঁরা মনে মনে ভাবতে লাগলেন, ‘এ এমন কথা কেন বলছে? ঈশ্বরনিন্দাই করছে। একমাত্র ঈশ্বর ছাড়া আর কেইবা পাপ ক্ষমা করতে পারে?’ তাঁরা মনে মনে একথা ভাবছেন, যিশু তখনই এবিষয়ে আত্মায় সচেতন হয়ে তাঁদের বললেন, ‘আপনারা কেন মনে মনে এমন কথা ভাবছেন? পক্ষাঘাতগ্রস্তকে কোন্‌টা বলা সহজ, “তোমার পাপ ক্ষমা করা হল”, না “ওঠ, তোমার মাদুর তুলে নিয়ে হেঁটে বেড়াও”? আচ্ছা, মানবপুত্রের যে পৃথিবীতে পাপ ক্ষমা করার অধিকার আছে, তা যেন আপনারা জানতে পারেন, এইজন্য—তিনি সেই পক্ষাঘাতগ্রস্তকে বললেন—তোমাকে বলছি, ওঠ, তোমার মাদুর তুলে নাও আর বাড়ি যাও।’
আর সে উঠে দাঁড়িয়ে তখনই মাদুর তুলে নিয়ে সকলের সামনে বাইরে চলে গেল; এতে সকলে খুবই স্তম্ভিত হল, এবং এই বলে ঈশ্বরের গৌরবকীর্তন করল, ‘এমন কিছু আমরা কখনও দেখিনি।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু জন খ্রিসোস্তম-লিখিত ‘যাজকত্ব প্রসঙ্গ’

আমরা যদি মনে মনে ভাবি কতই না মহান ব্যাপার যে রক্তমাংসের একটা সাধারণ মানুষ সেই পুণ্য ও অমর ঐশস্বরূপে সহভাগিতা করতে উন্নীত হয়, তখন অবশ্যই উপলব্ধি করব পবিত্র আত্মার অনুগ্রহ কেমন সম্মানে যাজকদের ভূষিত করেছে। বস্তুত তাঁরা আমাদের মর্যাদা ও পরিত্রাণে ছাড়া অন্য কিছুতে প্রবৃত্ত থাকেন না। এবং পৃথিবীতে বাস করেও তাঁরা স্বর্গীয় বাস্তবতা বিতরণ করতে নিযুক্ত, ও এমন অধিকার লাভ করেছেন যা ঈশ্বর দূত বা মহাদূতদেরও দেননি, কারণ তাঁদের কখনও বলা হয়নি, পৃথিবীতে তোমরা যা কিছু বেঁধে দেবে, স্বর্গে তা বাঁধা হবে, এবং পৃথিবীতে তোমরা যা কিছু মুক্ত করবে, তা স্বর্গে মুক্ত হবে (মথি ১৮:১৮)।
পৃথিবীর নেতাদেরও বেঁধে দেবার অধিকার রয়েছে বটে, তবু তাঁরা দেহ মাত্র বাঁধতে পারেন; অন্যদিকে যাজকদের অধিকার আত্মাকেই স্পর্শ করে ও স্বর্গের ঊর্ধ্বেও যায়, এবং একইসময় ঊর্ধ্ব থেকে ঈশ্বর সেই সবকিছুতে সম্মতি জানান, পৃথিবীতে যাজকেরা যা করে থাকেন: স্বয়ং প্রভু আপন দাসদের রায় কার্যকারী করেন।
তিনি তখনই স্বর্গীয় বাস্তবতার উপর তাঁদের অধিকার দিলেন যখন বললেন, তোমরা যদি কারও পাপ ক্ষমা কর, তা ক্ষমা করা হবে; যদি কারও পাপ ধরে রাখ, তা ধরে রাখা থাকবে (যোহন ২০:২৩)। এ অধিকারের চেয়ে মহা অধিকার কী? পিতা সমস্ত বিচার পুত্রের হাতে তুলে দিলেন (যোহন ৫:২২), আর আমি দেখছি যে পুত্র দ্বারা সমস্ত বিচার যাজকদের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে। তাঁরা এমন অধিকারে উন্নীত হয়েছেন, তাঁরা ঠিক যেন স্বর্গেই উপনীত হয়ে আমাদের ভাবাবেগ থেকে মুক্তি পেয়ে ইতিমধ্যে মানবস্বরূপের অতীত। জল ও পবিত্র আত্মা দ্বারা নবজন্ম না নিয়ে কেউই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারে না (যোহন ৩:৩:৫ দ্রঃ), এবং প্রভুর মাংস না খেয়ে ও তাঁর রক্ত পান না করে মানুষ অনন্ত জীবন থেকে বঞ্চিত (যোহন ৬:৫৩ দ্রঃ)—যখন এসব কিছু কেবল যাজকদের তৈলাভিষিক্ত হাত দ্বারাই সাধিত হতে পারে, তখন তাঁদের সহযোগিতা এড়িয়ে কেইবা নরকের আগুন এড়াতে পারবে বা মনোনীতদের জন্য সংরক্ষিত বিজয়মালা পেতে পারবে?
তাঁদের কাছে, হ্যাঁ, তাঁদেরই কাছে আত্মিক জন্মদানের দায়িত্ব, তথা বাপ্তিস্ম দ্বারা আত্মাদের নবজন্ম দেওয়ার দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে; তাঁদেরই মধ্য দিয়ে আমরা খ্রিষ্টকে পরিধান করেছি ও ঈশ্বরের পুত্রের সঙ্গে সমাহিত হয়ে সেই ধন্য মাথার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হয়ে উঠি। তাঁরাই আমাদের ঐশ্বরিক জন্মের সাধক—সেই যে সত্যকার ধন্য নবজন্ম যা আমাদের সত্যকার স্বাধীনতা, অর্থাৎ অনুগ্রহ অনুসারে দত্তকপুত্রত্ব দান করে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৯
ধুয়ো:
প্রচার করব তোমার সকল আশ্চর্য কাজের কথা।
করব তোমার নামগান, হে পরাৎপর।

সমস্ত হৃদয় দিয়ে আমি করব প্রভুর স্তুতিবাদ,
প্রচার করব তোমার সকল আশ্চর্য কাজের কথা।
তোমাতে আনন্দ করব, করব উল্লাস,
করব তোমার নামগান, হে পরাৎপর।   [ধুয়ো]

অত্যাচারিতের জন্য প্রভু হবেন দুর্গ,
সঙ্কটকালেই দুর্গ তিনি।
যারা তোমার নাম জানে, তারা তোমাতেই ভরসা রাখবে,
কারণ তোমার অন্বেষীদের তুমি ত্যাগ কর না কো প্রভু।   [ধুয়ো]

সিয়োনে সমাসীন প্রভুর উদ্দেশে তোমরা স্তবগান কর,
জাতিসকলের কাছে প্রচার কর তাঁর কর্মকীর্তির কথা,
কারণ রক্তপাতের সেই প্রতিফলদাতা সবই মনে রাখেন,
তিনি দীনদুঃখীদের চিৎকার ভোলেন না।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, এ মহারহস্যে যোগদানের ফলে
আমরা অগ্রিম দান হিসাবে যা পেয়েছি,
তোমার আশীর্বাদে যেন তার পরিত্রাণদায়ী ফলের অভিজ্ঞতা করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৮ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের মিনতিতে সাড়া দিয়ে আশীর্বাদ কর:
বিশ্বজগৎ যেন তোমার পরিচালনায় শান্তির পথে এগিয়ে চলে,
তোমার মণ্ডলীও যেন নির্ভয়ে তোমার সেবায় নিবিষ্ট থেকে
আনন্দ অনুভব করতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী হোসেয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (২:১৬খ-১৭খ,২১-২২)

প্রভু একথা বলছেন:
দেখ, আমি তাকে প্রান্তরে আনব
ও তার হৃদয়ের উপরেই কথা বলব।
সেখানে সে সাড়া দেবে,
যেমন সাড়া দিত তার তরুণ বয়সের দিনগুলিতে,
মিশর থেকে বেরিয়ে আসার দিনগুলিতে।
আমি তোমাকে চিরকালের মত আমার বাগ্‌দত্তা কনে করব,
ধর্মময়তা, ন্যায়, কৃপা ও স্নেহেই তোমাকে আমার বাগ্‌দত্তা কনে করব;
আমি বিশ্বস্ততায়ই তোমাকে আমার বাগ্‌দত্তা কনে করব,
তখন তুমি প্রভুকে জানবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১০৩
ধুয়ো:
প্রভু শ্নেহশীল,
প্রভু দয়াবান।

প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
আমার অন্তরে যা কিছু আছে, ধন্য কর তাঁর পবিত্র নাম।
প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
ভুলে যেয়ো না তাঁর সমস্ত উপকার:   [ধুয়ো]

তিনিই তো তোমার সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করেন,
তোমার সমস্ত রোগ-ব্যাধি নিরাময় করেন,
গহ্বর থেকে মুক্ত করেন তোমার জীবন,
তোমাকে কৃপা ও স্নেহে করেন মুকুট-ভূষিত।   [ধুয়ো]

প্রভু স্নেহশীল, দয়াবান,
ক্রোধে ধীর, কৃপায় ধনবান।
আমাদের প্রতি তাঁর আচরণ আমাদের পাপরাশির অনুপাতে নয়,
আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিদান আমাদের যত অপরাধের অনুপাতে নয়।   [ধুয়ো]

পশ্চিম থেকে পুব যত দূরবর্তী,
তিনি আমাদের কাছ থেকে তত দূরে ফেলে দেন আমাদের যত অপরাধ।
পিতা যেমন সন্তানদের স্নেহ করেন,
যারা তাঁকে ভয় করে, প্রভুও তাদের প্রতি তত স্নেহশীল।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৩:১খ-৬)

প্রিয়জনেরা, কারও কারও মত আমাদেরও কি তোমাদের জন্য কিংবা তোমাদের পক্ষ থেকে সুপারিশ-পত্রের প্রয়োজন আছে? তোমরাই আমাদের সুপারিশ-পত্র, এমন পত্র যা আমাদের হৃদয়ে লেখা, যা সকলে পড়তে ও বুঝতে পারে; তাই একথা স্পষ্ট যে, তোমরা খ্রিষ্টের একটি পত্র যা আমাদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে; আর এই পত্রের লেখা কালির নয়, জীবনময় ঈশ্বরের আত্মারই লেখা, পাথরফলকে নয়, মাংসময় হৃদয়-ফলকেই লেখা।
ঈশ্বরের সামনে খ্রিষ্টের মধ্য দিয়ে আমাদের তেমন ভরসা আছে! আমরা যে নিজেরাই কিছু ধারণা করতে নিজেদেরই গুণে উপযুক্ত, তা নয়; কিন্তু আমাদের যোগ্যতা ঈশ্বর থেকেই আসে; তিনিই আমাদের এক নতুন সন্ধির সেবাকর্মী করে তুলেছেন—অক্ষরের নয়, আত্মারই এক সন্ধি, কারণ অক্ষর মৃত্যু ঘটায়, কিন্তু আত্মা জীবন দান করেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
নিজের ইচ্ছায় পিতা বাণী দ্বারা আমাদের জন্ম দিয়েছেন,
যেন তাঁর সমস্ত সৃষ্টবস্তুর প্রথমফসল হতে পারি।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:১৮-২২)

সেসময় যোহনের শিষ্যেরা ও ফরিসিরা উপবাস করছিলেন; তাঁরা তাঁকে এসে বললেন, ‘যোহনের শিষ্যেরা ও ফরিসিদের শিষ্যেরা উপবাস পালন করে, কিন্তু আপনার শিষ্যেরা তা করে না, এর কারণ কী?’
যিশু তাঁদের বললেন, ‘বর সঙ্গে থাকতে কি বরযাত্রীরা উপবাস করতে পারে? বর যতদিন তাদের সঙ্গে থাকেন, তারা ততদিন উপবাস করতে পারে না। কিন্তু এমন দিনগুলি আসবে, যখন বরকে তাদের কাছ থেকে তুলে নেওয়া হবে; তখন, সেই দিনেই, তারা উপবাস করবে।
পুরাতন পোশাকে কেউ কোরা কাপড়ের তালি দেয় না; দিলে সেই নতুন তালিতে ওই পুরাতন পোশাক ছিঁড়ে যায় ও ছেঁড়াটা আরও বড় হয়। আরও, কেউ পুরাতন চামড়ার ভিস্তিতে নতুন আঙুররস রাখে না; রাখলে আঙুররসে ভিস্তিগুলো ফেটে যায়, ফলে আঙুররসও নষ্ট হয়, ভিস্তিগুলোও নষ্ট হয়; নতুন আঙুররস বরং নতুন চামড়ার ভিস্তিতেই রাখা চাই।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু ইরেনেউস-লিখিত ‘ভ্রান্তমতের বিরুদ্ধে’

প্রেরিতদূতদের দ্বারা হস্তান্তরিত সেই সুসমাচার আরও মনোযোগের সঙ্গে পাঠ কর, ভবিষ্যদ্বাণীগুলোও আরও মনোযোগের সঙ্গে পাঠ কর, তবে দেখতে পাবে যে সেগুলোতে আমাদের প্রভুর প্রতিটি কাজ, প্রতিটি উপদেশ ও তাঁর যন্ত্রণাভোগের কথা পূর্বপ্রচারিত হয়েছিল। আর তখন যদি এধরনের চিন্তার উদয় হয় যে, বেশ, তাহলে আপন আগমনে প্রভু নতুন কী এনে দিয়েছেন? তখন একথা জেনে নাও যে, যাঁর কথা পূর্বপ্রচারিত হয়েছিল, আপন আগমনে তিনি সবকিছুর নবায়ন সাধন করলেন। হ্যাঁ, এ কথাই প্রচারিত ছিল যে, মানুষকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও সঞ্জীবিত করার জন্য আমি নতুন কিছু করতে যাচ্ছি (ইসা ৪৩:১৯)। সুতরাং রাজার জন্মসংবাদ এ দাসদের কাছে পূর্বঘোষিত হল, তাদেরই প্রস্তুত করতে প্রেরিত হলেন যারা একদিন রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ও তাঁকে গ্রহণ করার কথা।
এবার রাজা এসেছেন ও যারা তাঁর অধীনে থাকে, তারা পূর্বপ্রচারিত সেই আনন্দে পরিপূর্ণ, তাঁর দেওয়া মুক্তি-প্রাপ্ত, তাঁর দর্শনের সহভাগী; সুতরাং, তারা যখন তাঁর শিক্ষাবাণী শুনেছে ও তাঁর মঙ্গলদানগুলি পেয়ে গেছে, তখন যাঁরা তাঁর আগমনের কথা পূর্বঘোষণা করেছিলেন, তাঁদের কাছে আর জিজ্ঞাসা করতে নেই, রাজা নতুন বলে কী এনে দিলেন। অবশ্যই, তারাই এ জিজ্ঞাসা করবে না, যারা তাঁকে চিনতে পেরেছে। তিনি সত্যিই নিজেকে ও প্রতিশ্রুত যত মঙ্গলদান এনে দিয়েছেন, মানুষের কাছে এমন কিছু দান করেছেন যার উপর স্বর্গদূতেরাও দৃষ্টি রাখবার জন্য আকাঙ্ক্ষী (১ পি ১:১২)।
এসে তিনি সবকিছু সম্পন্ন করেছেন; আজও, ও জগৎশেষ পর্যন্ত তিনি বিধানের পূর্বদৃষ্টান্ত সেই নতুন সন্ধি মণ্ডলীতে সিদ্ধ করে থাকেন। এমন কেউ আছে যারা বলে, নবীরা এমন অন্য দেবতা দ্বারাই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যে দেবতা চরমকালে পৃথিবীতে আগত ঈশ্বরপুত্রের সাধিত কাজ তথা অবর্ণনীয় পিতার পরিচয়দান, তাঁর রাজ্যপ্রচার ও তাঁর সুব্যবস্থা-ঘোষণা জানত না। তাহলে নবীরা কী করেই বা রাজার আগমনের সংবাদ পূর্বপ্রচার করতে পারলেন? কী করেই বা সেই মুক্তির কথা পূর্বপ্রচার করতে পারলেন, যে মুক্তি খ্রিষ্ট এসেই দান করলেন? কী করেই বা খ্রিষ্ট কথায় ও কাজে যা কিছু সাধন করেছেন তাঁরা তার পূর্বঘোষণা করতে পারলেন? কী করেই বা তাঁর যন্ত্রণাভোগের বর্ণনা ও নবসন্ধির কথা পূর্বপ্রচার করতে পারলেন? সকল নবী এই একই কথার ভাববাণী দিয়েছিলেন, তবু তাঁদের আমলে একটাও পূর্ণতা লাভ করেনি।
এসব কিছু যদি কোন নবীর সময় ঘটতে থাকত, তাহলে সেই নবীর পরে যে নবীরা এলেন তাঁরা তা ভাবী ঘটনা বলে তার ভাববাণী দিতেন না। আর একথা নিশ্চিত যে, কুলপতি কি নবী কি প্রাচীন রাজার মধ্যে এমন কেউই নেই যাঁর বেলায় এ সমস্ত ভাববাণীর একটাও প্রত্যক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে সিদ্ধি লাভ করল। তাঁরা সকলে খ্রিষ্টের দুঃখযন্ত্রণার বিষয়ে ভাববাণী দিলেন, তাঁরা নিজেরা কিন্তু সেই প্রচারিত দুঃখযন্ত্রণা ভোগ করেননি; প্রভুর যন্ত্রণাভোগের ভাববাণী কারও জীবনে বাস্তব রূপ পায়নি। সুতরাং, কেবল প্রভুই ছিলেন নবীদের প্রচারের লক্ষ্য, আর কেবল প্রভুর বেলায়ই সমস্ত ভাববাণী সঠিক পূর্ণতা লাভ করল।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৩
ধুয়ো:
প্রভুর উদ্দেশে গাইব গান, তিনি যে করেছেন আমার উপকার।
পরাৎপর প্রভুর করব নামগান।

চেয়ে দেখ! আমাকে সাড়া দাও গো প্রভু, পরমেশ্বর আমার;
দাও আলো আমার চোখে, পাছে মৃত্যুঘুমে ঘুমিয়ে পড়ি,
পাছে আমার শত্রু বলে, ‘তার সঙ্গে পেরেছি এবার,’
আমি টলমল হলে পাছে আমার বিপক্ষরা মেতে ওঠে।   [ধুয়ো]

আমি কিন্তু তোমার কৃপায় ভরসা রাখি,
তোমার পরিত্রাণে মেতে ওঠে আমার অন্তর,
প্রভুর উদ্দেশে গাইব গান, তিনি যে করেছেন আমার উপকার।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার পরিত্রাণদায়ী অন্নগ্রহণে পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে
আমরা তোমার দয়া প্রার্থনা করি: যে সাক্রামেন্ত গুণে
তুমি এ পার্থিব জীবনে আমাদের পুষ্টি সাধন কর,
সেই একই সাক্রামেন্ত গুণে আমাদের অনন্ত জীবনেরও সহভাগী করে তোল।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৯ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, মানবজাতির মঙ্গল সাধনে তুমি চিরতৎপর। মিনতি জানাই:
ক্ষতিকর যত কিছু দূরে রাখ, মঙ্গলকর সমস্ত কিছু আমাদের মঞ্জুর কর।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
দ্বিতীয় বিবরণ থেকে পাঠ (৫:১২-১৫)

প্রভু একথা বলছেন: ‘তোমার পরমেশ্বর প্রভুর আজ্ঞামত সাব্বাৎ দিন এমনভাবে পালন করবে, যেন তার পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখ। পরিশ্রম করার জন্য ও তোমার যাবতীয় কাজ করার জন্য তোমার ছ’ দিন আছে; কিন্তু সপ্তম দিনটি তোমার পরমেশ্বর প্রভুর উদ্দেশে সাব্বাৎ: সেদিন তুমি কোন কাজ করবে না—তুমিও নয়, তোমার ছেলেমেয়েও নয়, তোমার দাসদাসীও নয়, তোমার বলদ-গাধাও নয়, অন্য কোন পশুও নয়, তোমার সঙ্গে বাস করে এমন প্রবাসী মানুষও নয়; যেন তোমার দাসদাসী তোমার মত বিশ্রাম পেতে পারে।
মনে রেখ, মিশর দেশে তুমি দাস ছিলে, এবং তোমার পরমেশ্বর প্রভু শক্তিশালী হাতে ও প্রসারিত বাহুতে সেখান থেকে তোমাকে বের করে আনলেন; এজন্য তোমার পরমেশ্বর প্রভু সাব্বাৎ দিন পালন করতে তোমাকে আজ্ঞা করেছেন।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৮১
ধুয়ো:
আমাদের শক্তি-পরমেশ্বরের উদ্দেশে
সানন্দে চিৎকার কর তোমরা।

গান ধর, বাজাও খঞ্জনি,
বীণার সঙ্গে মধুর সেতার,
বাজাও তুরি অমাবস্যায়,
পূর্ণিমার রাতে, আমাদের পর্বদিনে।   [ধুয়ো]

এ তো ইস্রায়েলের বিধি,
যাকোবের পরমেশ্বরের আদেশ।
যখন তিনি মিশর দেশের বিরুদ্ধে বেরিয়ে গেলেন,
তখনই তিনি তা সাক্ষ্যরূপে যোসেফকে দিলেন।   [ধুয়ো]

আমি শুনেছি অজানা কণ্ঠের এক বাণী:
‘তার কাঁধ থেকে আমি সরিয়ে দিয়েছি বোঝা,
তার হাত ছেড়ে দিয়েছে ঝুড়ি।
সঙ্কটে তুমি ডাকলে আর আমি তোমাকে নিস্তার করলাম।   [ধুয়ো]

তোমার মধ্যে যেন কোন বিদেশী দেবতা না থাকে,
বিজাতীয় কোন দেবতার উদ্দেশে তুমি যেন না কর প্রণিপাত।
আমিই প্রভু, তোমার পরমেশ্বর!
আমিই মিশর দেশ থেকে বের করে এনেছি তোমায়।’   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৪:৬-১১)

প্রিয়জনেরা, যিনি বলেছেন, অন্ধকারের মধ্য থেকে আলো উদ্ভাসিত হোক, সেই ঈশ্বর আমাদের হৃদয়ে উদ্ভাসিত হয়েছেন সেই ঐশগৌরবেরই জ্ঞান উজ্জ্বল করার জন্য, যে গৌরবে খ্রিষ্টের নিজের শ্রীমুখ উদ্ভাসিত।
কিন্তু এই ধন আমরা মাটির পাত্রেই যেন বহন করছি; ফলে এই অসাধারণ পরাক্রম আমাদের নয়, ঈশ্বরেরই পরাক্রম। পদে পদে আমাদের ক্লেশ ভোগ করতে হচ্ছে, কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন হই না; আমরা দিশেহারা বোধ করছি, কিন্তু নিরাশ হই না; নির্যাতিত হচ্ছি, কিন্তু পরিত্যক্ত হই না; আমাদের আঘাত করা হচ্ছে, কিন্তু আমরা বিনষ্ট হই না। আমরা সর্বদা সর্বস্থানে নিজেদের দেহে যিশুর মৃত্যু বহন করে চলি, যেন যিশুর জীবনও আমাদের এই দেহে প্রকাশিত হয়।
কেননা আমরা জীবিত হয়েও যিশুর খাতিরে সর্বদাই মৃত্যুর হাতে সমর্পিত হয়ে চলেছি, যেন যিশুর জীবনও আমাদের এই মরদেহে প্রকাশিত হয়।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
হে প্রভু, তোমার বাণী সত্যস্বরূপ;
সত্যে আমাদের পবিত্রীকৃত কর।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:২৩–৩:৬)

যিশু একদিন, সাব্বাৎ দিনেই, শস্যখেতের মাঝখান দিয়ে যাচ্ছিলেন, ও তাঁর শিষ্যেরা চলতে চলতে শিষ ছিঁড়তে লাগলেন। এতে ফরিসিরা তাঁকে বললেন, ‘দেখুন, সাব্বাৎ দিনে যা বিধেয় নয়, ওরা তা কেন করছে?’
তিনি তাঁদের বললেন, ‘দাউদ ও তাঁর সঙ্গীরা খাদ্যের অভাবে ক্ষুধার্ত হলে তিনি যা করেছিলেন, আপনারা কি তা কখনও পড়েননি? তিনি তো মহাযাজক আবিয়াথারের সময়ে ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশ করলেন, আর যে ভোগ-রুটি যাজকেরাই ছাড়া আর কারও পক্ষে খাওয়া বিধেয় নয়, তিনি তা খেয়েছিলেন ও তাঁর সঙ্গীদেরও দিয়েছিলেন।’ তিনি তাঁদের আরও বললেন, ‘সাব্বাৎ মানুষের জন্যই সৃষ্ট হয়েছে, মানুষ সাব্বাতের জন্য সৃষ্ট হয়নি; তাই মানবপুত্র সাব্বাতেরও প্রভু।’
তিনি আবার সমাজগৃহে প্রবেশ করলেন; সেখানে একজন লোক ছিল যার একটা হাত নুলো। তিনি সাব্বাৎ দিনে তাকে নিরাময় করেন কিনা, তা দেখবার জন্য তাঁরা তাঁর দিকে লক্ষ রাখছিলেন, যেন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে পারেন। তিনি নুলো লোকটিকে বললেন, ‘মাঝখানে এসে দাঁড়াও।’ পরে তাঁদের বললেন, ‘সাব্বাৎ দিনে কী করা বিধেয়? উপকার করা না অপকার করা? প্রাণ রক্ষা করা না হত্যা করা?’ কিন্তু তাঁরা চুপ করে রইলেন। তখন তিনি তাঁদের হৃদয় কঠিন দেখে দুঃখিত হয়ে চারদিকে তাঁদের প্রতি ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে লোকটিকে বললেন, ‘হাত বাড়িয়ে দাও!’ সে তা বাড়িয়ে দিল, আর তার হাত সুস্থ হয়ে উঠল।
এতে ফরিসিরা বাইরে গিয়ে তখনই হেরোদের লোকদের দলের সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে লাগলেন কি ভাবে তাঁর বিনাশ ঘটানো যায়।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিন-লিখিত ‘সামসঙ্গীত-মালায় উপদেশাবলি’ (সাম ৯১, ১-২)

ঈশ্বর কেবল বিশ্বাস ও আশা ও ভালবাসারই সঙ্গীত আমাদের শেখান, যেন আমাদের বিশ্বাস সেই দিন পর্যন্ত তাঁর মধ্যে দৃঢ় থাকে, যেদিন আমরা তাঁকে দেখতে পাব—যাঁকে আপাতত দেখতে পাই না তাঁকে বিশ্বাস করে আমরা যেন যখন তাঁকে দেখতে পাব তখন আনন্দ পেতে পারি; এবং যখন আমাদের আর বলা হবে না, ‘যা দেখতে পাও না তা বিশ্বাস কর,’ কিন্তু ‘দেখতে পাচ্ছ বলে আনন্দ কর,’ তখন যেন তাঁর জ্যোতির দর্শনই আমাদের বিশ্বাসের স্থান নিতে পারে। কেননা তাঁকে না দেখা সত্ত্বেও যখন আমরা তাঁকে ভালবাসি, তখন তাঁকে দেখতে পেয়ে তাঁকে আর কতই না ভালবাসব? সুতরাং, আমাদের বাসনা যেন বৃদ্ধি পায়। আমরা ভাবী জগতের উদ্দেশ্যেই তো খ্রিষ্টান: খ্রিষ্টান বলে কেউ যেন বর্তমান মঙ্গলের প্রত্যাশা না করে, সংসারের আনন্দও লক্ষ না করে। যদি পারে, যেভাবে পারে, যখন পারে ও যতটুকু পারে সে বর্তমান আনন্দ ভোগ করুক; এ আনন্দ থাকলে, ঈশ্বর তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন বলে তাঁকে ধন্যবাদ জানাক; আর এ আনন্দ না থাকলে, ঈশ্বরের ন্যায়ের জন্য সে তখনও তাঁকে ধন্যবাদ জানাক: প্রভুর স্তুতিগান গাওয়া কত সুন্দর; হে পরাৎপর, তোমার নামগান করা কতই না সুন্দর (সাম ৯২:২)।
এ সামসঙ্গীতের শিরনাম হল, ‘বিশ্রামবারের জন্য’। দেখ, আজই তো বিশ্রামবার: হিব্রুরা শারীরিক দিক দিয়েও বিশ্রাম করে এ দিন উদ্‌যাপন করলেও তবু যথেষ্ট অলস ও শিথিল ছিল। বস্তুতপক্ষে তারা কথাবার্তায় সময় ব্যয় করত; আর ঈশ্বর বিশ্রামবার সংক্রান্ত কর্মবিরতি আদেশ দেওয়া সত্ত্বেও তারা নিষিদ্ধ কাজকর্মে এদিন কাটাত। আমাদের কর্মবিরতি কিন্তু দুষ্কর্ম থেকে বিরতিতেই প্রকাশ পায়। আমাদের কাছেও ঈশ্বর বিশ্রামবারের আদেশ দেন। কোন্‌ বিশ্রামবার? প্রথমে তোমরা ভেবে দেখ সেই বিশ্রামবার কোথায়: আমাদের বিশ্রামবার অভ্যন্তরীণ, আমাদের বিশ্রামবার আমাদের হৃদয়েই অবস্থিত। আসলে অনেকে রয়েছে যারা দেহকে বিশ্রাম দেয়, কিন্তু তাদের অন্তর আলোড়িত। অসৎ মানুষ বিশ্রামবার ভোগ করতে পারে না, কারণ তার বিবেক তাকে বিশ্রাম দেয় না; ফলে সে আলোড়নে জীবন যাপন করতে বাধ্য।
কিন্তু যার বিবেক পরিষ্কার, সে শান্তশিষ্ট—আর তেমন শান্তিই হৃদয়ের বিশ্রামবার। কেননা সে প্রভুর ও তাঁর প্রতিশ্রুতির দিকে চেয়ে থাকে; আর যদিও বর্তমান কালে সে পরিশ্রম করে, তবু ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় প্রাণ উজাড় করে দেয়, এবং দুঃখের যত মেঘ উবে যায়, প্রেরিতদূত যেমনটি বলেন, তোমরা আশায় আনন্দিত হও (রো ১২:১২)। এমনকি, প্রত্যাশার শান্তিতে যে আনন্দ, সেই তো আমাদের বিশ্রামবার। যার প্রশংসা করছি, এ সামসঙ্গীতের কথা ধ্যান করতে করতে যা গান করছি তা হল: খ্রিষ্টান কিভাবে নিজের হৃদয়ে এ বিশ্রামবার উদ্‌যাপন করবে? বিশ্রামে তথা বিবেকের শান্তশিষ্ট আনন্দেই সে বিশ্রামবার উদ্‌যাপন করবে। সুতরাং এ সামসঙ্গীত তোমাকে বোঝায় কিসের দ্বারা মানুষ সাধারণত আলোড়িত, আবার তোমাকে হৃদয়ের বিশ্রামবার পালন করতে শেখায়।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১১
ধুয়ো:
তুমি আমাকে সাড়া দেবে বলে তোমাকে ডাকি, ঈশ্বর,
কান দাও, আমার কথা শোন।

আমি প্রভুতেই নিয়েছি আশ্রয়;
কী করে তোমরা আমাকে বল:
‘হে পাখি, পালিয়ে যাও
তোমার পর্বতের দিকে?’   [ধুয়ো]

প্রভু তাঁর পবিত্র মন্দিরে বিরাজিত,
প্রভু তাঁর স্বর্গীয় সিংহাসনে সমাসীন।
তাঁর চোখ লক্ষ রাখে,
তাঁর দৃষ্টি আদমসন্তানদের পরীক্ষা করে।   [ধুয়ো]

ধার্মিক কি দুর্জন সকলকেই প্রভু পরীক্ষা করেন,
কিন্তু যারা হিংসা ভালবাসে, তাঁর প্রাণ তাদের ঘৃণা করে;
কারণ প্রভু ধর্মময়, তিনি ধর্মময়তা ভালবাসেন,
ন্যায়নিষ্ঠ মানুষই পাবে তাঁর শ্রীমুখের দর্শন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার পুত্রের দেহরক্ত দানে যাদের পুষ্ট কর,
তোমার পবিত্র আত্মার প্রেরণা গুণেই এই আমাদের চালনা কর,
যেন শুধু মুখে ও কথায় নয় বরং কাজে কর্মে তোমার নাম স্বীকার ক’রে
আমরা স্বর্গরাজ্যে প্রবেশের যোগ্য হয়ে উঠি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]