সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
সাধারণকাল
• সাধারণকালের প্রথম সপ্তাহ প্রভুর বাপ্তিস্ম থেকে শুরু হয়।
• পরমপবিত্র ত্রিত্ব পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• খ্রিষ্টের পরমপবিত্র দেহরক্ত পরমপবিত্র ত্রিত্বের পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• পরমারাধ্য যিশুহৃদয় পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী দ্বিতীয় রবিবারের পরবর্তী শুক্রবারে পালিত হয়।
• বিশ্বরাজ আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট সাধারণকালের শেষ রবিবারে পালিত হয়।

রবিবার: ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ৩১ | ৩২ | ৩৩
সাধারণকালের মহাপর্বচতুষ্টয়: ত্রিত্ব | খ্রিষ্টের দেহরক্ত | যিশুহৃদয় | খ্রিষ্টরাজা

পরমপবিত্র ত্রিত্ব
image ত্রিত্বের দূতগণ
(সাধু বেনেডিক্ট মঠ - উপাসনালয়)
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে পিতা ঈশ্বর,
তুমি সত্যের ঐশবাণীকে ও পবিত্রতাদানকারী আত্মাকে এজগতে প্রেরণ ক’রে
মানবজাতির কাছে তোমার ঈশ্বরত্বের অপরূপ রহস্য ব্যক্ত করেছ।
অনুনয় করি: সত্য বিশ্বাস স্বীকৃতিতে আমরা যেন
সনাতন ত্রিত্বের গৌরব ঘোষণা করি
ও মহিমময় প্রতাপশালী ঐক্যকে আরাধনা করি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
দ্বিতীয় বিবরণ থেকে পাঠ (৪:৩২-৩৪,৩৯-৪০)

একদিন মোশি জনগণকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘পরমেশ্বর যেদিন পৃথিবীর বুকে মানুষকে সৃষ্টি করলেন, সেদিন থেকে যত যুগ কেটেছে, তোমার পূর্ববর্তী সেই যুগগুলিকে জিজ্ঞাসা কর, আকাশমণ্ডলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত এর মত মহান কিছু কি কখনও ঘটেছে? এর মত কোন কথা কি কখনও শোনা হয়েছে? তোমার মত কি আর কোন জাতি পরমেশ্বরের কণ্ঠস্বর আগুনের মধ্য থেকে কথা বলতে শুনেছে আর তবুও প্রাণে বেঁচেছে?
তোমার পরমেশ্বর প্রভু যেমন মিশরে তোমাদের চোখের সামনে মহা মহা কাজ সাধন করেছেন, কোন দেবতা তেমনি কি নানা কঠোর পরীক্ষা, চিহ্ন ও অলৌকিক লক্ষণে, যুদ্ধ-সংগ্রামে, শক্তিশালী হাতে ও প্রসারিত বাহুতে, নানা ভয়ঙ্কর বিভীষিকার মধ্য দিয়ে অন্য জাতির মধ্য থেকে নিজের জন্য এক জাতিকে তুলে আনতে নিজেই কখনও গিয়েছে?
সুতরাং আজ জেনে নাও, হৃদয়ে এই কথা গেঁথে রাখ যে, ঊর্ধ্বে সেই স্বর্গে ও নিম্নে এই মর্তে প্রভুই তো পরমেশ্বর, অন্য কেউ নয়।
তাই আমি আজ তাঁর যে সকল বিধি ও আজ্ঞা তোমাকে দিলাম, তা পালন কর, যেন তোমার মঙ্গল হয়, তোমার পরে তোমার সন্তানদেরও মঙ্গল হয়, এবং তোমার পরমেশ্বর প্রভু যে দেশভূমি চিরকালের মত তোমাকে দিচ্ছেন, সেখানে যেন তুমি দীর্ঘজীবী হয়ে বাস করতে পার।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩৩
ধুয়ো:
সুখী সেই জাতি,
যাকে প্রভু বেছে নিলেন আপন উত্তরাধিকার রূপে।

ন্যায়সঙ্গতই তো প্রভুর বাণী,
বিশ্বস্ততায় সাধিত তাঁর প্রতিটি কাজ।
তিনি ধর্মময়তা ও ন্যায় ভালবাসেন;
পৃথিবী প্রভুর কৃপায় পরিপূর্ণ।   [ধুয়ো]

প্রভুর বাণীতেই গড়ে উঠল আকাশমণ্ডল,
তাঁর মুখের ফুৎকারেই তার যত বাহিনীর আবির্ভাব।
তিনি কথা বলতেই সবই আবির্ভূত হয়,
তিনি আজ্ঞা দিতেই সবই উপস্থিত হয়।   [ধুয়ো]

কিন্তু দেখ, প্রভুর চোখ নিবদ্ধ তাদেরই প্রতি,
যারা তাঁকে ভয় করে, যারা তাঁর কৃপার প্রত্যাশায় থাকে,
তিনি মৃত্যু থেকে তাদের প্রাণ উদ্ধার করবেন,
তাদের বাঁচিয়ে রাখবেন দুর্ভিক্ষের দিনে।   [ধুয়ো]

আমাদের প্রাণ প্রভুর প্রতীক্ষায় আছে,
তিনিই আমাদের সহায়, আমাদের ঢাল।
আমাদের উপর বিরাজ করুক তোমার কৃপা, প্রভু,
আমরা যে তোমার প্রত্যাশায় আছি।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
রোমীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৮:১৪-১৭)

প্রিয়জনেরা, যারা ঈশ্বরের আত্মা দ্বারা চালিত হয়, তারা সকলেই ঈশ্বরের পুত্র। বস্তুত তোমরা তো দাসত্বের আত্মা পাওনি যে আবার ভয়ে পড়বে, তোমরা বরং দত্তকপুত্রত্বেরই আত্মা পেয়েছ, যে আত্মায় আমরা ‘আব্বা, পিতা!’ বলে ডেকে উঠি।
স্বয়ং ঐশ আত্মা আমাদের মানবাত্মার সঙ্গে এই সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আমরা ঈশ্বরের সন্তান। আর আমরা যখন সন্তান, তখন উত্তরাধিকারীও বটে: ঈশ্বরের উত্তরাধিকারী, খ্রিষ্টের সহউত্তরাধিকারী—অবশ্য, যদি তাঁর দুঃখভোগের অংশীদার হই যেন তাঁর গৌরবেরও অংশীদার হই।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার গৌরব হোক,
যিনি আছেন, যিনি ছিলেন, যিনি আসছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২৮:১৬-২০)

সেসময়ে সেই এগারোজন শিষ্য গালিলেয়ার দিকে, সেই পর্বতেরই দিকে রওনা হলেন, যে স্থান যিশু তাঁদের জন্য স্থির করেছিলেন। তাঁকে দেখে তাঁরা তাঁর সামনে প্রণিপাত করলেন, কিন্তু কেউ কেউ সন্দেহ করছিলেন।
যিশু কাছে এসে তাঁদের বললেন, ‘স্বর্গে ও মর্তে সমস্ত অধিকার আমাকে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা যাও, সকল জাতিকে আমার শিষ্য কর; পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা-নামের উদ্দেশে তাদের বাপ্তিস্ম দাও। আমি তোমাদের যা যা আজ্ঞা করেছি, সেই সমস্ত তাদের পালন করতে শেখাও।
আর দেখ, আমি প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি—যুগান্ত পর্যন্ত।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু হিলারি-লিখিত ‘ত্রিত্ব’

ঈশ্বরের বাণী তার সত্যের পূর্ণ পরাক্রমে তখনই আমাদের কানে সঞ্চারিত, যখন স্বয়ং প্রভু সুসমাচার-রচয়িতার সাক্ষ্যদানে আমাদের বলেন: তোমরা যাও, সকল জাতিকে আমার শিষ্য কর; পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা-নামের উদ্দেশে তাদের বাপ্তিস্ম দাও। আমি তোমাদের যা যা আজ্ঞা করেছি, সেই সমস্ত তাদের পালন করতে শেখাও। আর দেখ, আমি প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি—যুগান্ত পর্যন্ত (মথি ২৮:১৯-২০)। মানব-পরিত্রাণের সাক্রামেন্ত সংক্রান্ত সমস্ত কথা কি এই বচনে অন্তর্ভুক্ত নয়? বাকি বা গুপ্ত আর কী থাকতে পারে? ঈশ্বর যেরূপে স্বয়ংসম্পূর্ণ, বচনটিও সেরূপে স্বয়ংসম্পূর্ণ; ঈশ্বর যেরূপে সিদ্ধতামণ্ডিত, বচনটিও সেরূপে সিদ্ধতামণ্ডিত। বাস্তবিকই এ বচনে শব্দগুলোর প্রকৃত অর্থ, ব্যাপারটার কর্মশক্তি, বিষয়গুলোর নির্ভুল বিন্যাস ও তার স্বরূপের অভিব্যক্তি সবই উপস্থিত। তিনি তো পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে, অর্থাৎ স্রষ্টা, ও একমাত্র পুত্র ও দানের স্বীকারোক্তিতে মানুষকে বাপ্তিস্ম দিতে আদেশ দিলেন।
সর্বস্রষ্টা এক। কেননা সেই পিতা ঈশ্বর যাঁর কাছ থেকে সবকিছু উদ্গত হয়, তিনি এক; আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট সেই একমাত্র পুত্র যাঁর দ্বারা সবকিছু হয়েছিল, তিনিও এক; আর সেই আত্মা যাঁকে সকলের অন্তরে দানরূপে দেওয়া হয়েছে, তিনিও এক। অতএব সবকিছু যার যার শক্তি ও গুণ অনুসারেই নিরূপিত: এক অধিকার তথা এক পিতা যাঁর কাছ থেকে সবকিছু উদ্গত হয়; এক সন্তান যাঁর দ্বারা সবকিছু হয়েছে; এক দান তথা এক আত্মা যাঁতে পূর্ণ প্রত্যাশা অবস্থিত। তেমন সিদ্ধির মধ্যে অভাবের মত কিছুও পাওয়া যাবে না; কেননা পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা পরম সিদ্ধতামণ্ডিত: সেই সনাতন জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলতে কিছু নেই; প্রতিমূর্তিতে রয়েছে সত্যপ্রকাশ; ও সেই দানে রয়েছে উপভোগ।
আমি অটল বিশ্বাস স্বীকৃতিতে নিষ্ঠাবান হতে চাই। ভিক্ষা রাখি, প্রভু: আমার বিশ্বাসের এ ধর্মভাব অক্ষুণ্ণ রক্ষা কর, ও প্রাণত্যাগ পর্যন্ত আমার বিবেকের এই কণ্ঠ আমাকে শুনতে দাও, যাতে পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মায় বাপ্তিস্ম নেওয়ার সময়ে আমি আমার নবজন্মের পুণ্য প্রতীক উচ্চারণে যা স্বীকার করেছি, তার প্রতি যেন সর্বদাই বিশ্বস্ত থাকতে পারি: অর্থাৎ আমি যেন তোমাকে, হে আমাদের পিতা, ও তোমার সঙ্গে তোমার পুত্রকেও আরাধনা করি; আর যিনি তোমা থেকে তোমার একমাত্র পুত্রের মধ্য দিয়ে নির্গত, আমি যেন সেই পবিত্র আত্মার যোগ্য হতে পারি। আসলে আমার বিশ্বাসের জন্য আমার এমন উপযুক্ত সহায় আছেন যিনি বলেন: পিতা, যা কিছু আমার, সমস্তই তোমার; যা তোমার, সমস্তই আমার (যোহন ১৭:১০): তিনি হলেন আমার প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্ট যিনি তোমাতেই থেকে, তোমা থেকে উদ্গত হয়ে, ও তোমার সান্নিধ্যে থেকে নিত্যকালীন ঈশ্বর, যিনি যুগযুগ ধরে বন্দিত। আমেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৩
ধুয়ো:
ঈশ্বর আমাদের হৃদয়ে তাঁর পুত্রের আত্মাকে প্রেরণ করেছেন,
যিনি ডাকতে থাকেন, ‘আব্বা, পিতা!’

প্রভুতে আনন্দধ্বনি তোল, ধার্মিকজন সকল,
ন্যায়নিষ্ঠদের মুখেই প্রশংসাগান সমীচীন।
সেতারের সুরে প্রভুকে জানাও ধন্যবাদ,
দশতন্ত্রী বীণা বাজিয়ে তাঁর উদ্দেশে কর স্তবগান।   [ধুয়ো]

ন্যায়সঙ্গতই তো প্রভুর বাণী,
বিশ্বস্ততায় সাধিত তাঁর প্রতিটি কাজ।
তিনি ধর্মময়তা ও ন্যায় ভালবাসেন;
পৃথিবী প্রভুর কৃপায় পরিপূর্ণ।   [ধুয়ো]

প্রভুর বাণীতেই গড়ে উঠল আকাশমণ্ডল,
তাঁর মুখের ফুৎকারেই তার যত বাহিনীর আবির্ভাব।
তিনি যেন চর্মপুটেই সংগ্রহ করেন সাগরের জল,
ভাণ্ডারে রাখেন অতলের জল।   [ধুয়ো]

প্রভুকে ভয় করুক সমগ্র পৃথিবী,
তাঁকে শ্রদ্ধা করুক সকল জগদ্বাসী।
কারণ তিনি কথা বলতেই সবই আবির্ভূত হয়,
তিনি আজ্ঞা দিতেই সবই উপস্থিত হয়।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের পরমেশ্বর, এই সাক্রামেন্ত গ্রহণের ফলে,
এবং তুমি যে তিন ব্যক্তিত্বে এক ঈশ্বর তাও স্বীকারের ফলে
আমরা যেন দেহমনে তোমার পরিত্রাণ লাভ করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


খ্রিষ্টের পরমপবিত্র দেহরক্ত
জনতাকে রুটি ও মাছ অলৌকিক ভাবে খাওয়াবার পর
যিশু তাদের বললেন,
আমিই সেই জীবনময় রুটি,
যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে:
যদি কেউ এই রুটি খায়,
তবে সে অনন্তকাল জীবিত থাকবে,
আর আমি যে রুটি দান করব,
তা আমার নিজের মাংস,
জগতের জীবনের জন্য।
(যোহন ৬:৫১)
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে খ্রিষ্ট ঈশ্বর, তুমি এক অপূর্ব সাক্রামেন্তের আড়ালে
আমাদের কাছে তোমার যন্ত্রণাভোগের স্মারক চিহ্ন রেখে গেছ।
আশীর্বাদ কর: তোমার দেহরক্তের পবিত্র মহারহস্যের প্রতি
আমরা যেন এমন শ্রদ্ধা জানাই,
যাতে তোমার মুক্তিকর্মের শুভফল উত্তরোত্তর উপলব্ধি করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, পিতার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তুমি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
যাত্রাপুস্তক থেকে পাঠ (২৪:৩-৮)

সেসময়ে মোশি গিয়ে জনগণের কাছে প্রভুর সমস্ত বাণী ও সমস্ত বিধিনিয়ম জানিয়ে দিলেন; সমস্ত লোক একসুরে উত্তরে বলল, ‘প্রভু যা কিছু বলেছেন, আমরা তা সবই পালন করব।’
তাই মোশি প্রভুর সমস্ত বাণী লিখে রাখলেন, এবং খুব সকালে উঠে পর্বতের পাদদেশে একটি যজ্ঞবেদি ও ইস্রায়েলের বারোটি গোষ্ঠী অনুসারে বারোটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করলেন। তিনি ইস্রায়েল সন্তানদের কয়েকজন যুবককে নির্দেশ দিলেন, যেন তারা প্রভুর উদ্দেশে আহুতির ও মিলন-যজ্ঞের বলিরূপে বৃষ উৎসর্গ করে।
মোশি সেগুলোর অর্ধেকটা রক্ত নিয়ে কয়েকটা পাত্রে রাখলেন, বাকি অর্ধেক রক্ত বেদির উপরে ছিটিয়ে দিলেন। পরে সন্ধির পুস্তকটি নিয়ে জনগণের সামনে পাঠ করে শোনালেন; তারা বলল, ‘প্রভু যা কিছু বলেছেন, আমরা তা সবই পালন করব, সবই মেনে চলব।’
তখন মোশি সেই রক্ত নিয়ে জনগণের উপরে এই বলে তা ছিটিয়ে দিলেন, ‘দেখ, এ সেই সন্ধির রক্ত, যা প্রভু তোমাদের সঙ্গে এই সকল বাণীর ভিত্তিতে সম্পাদন করেছেন।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১১৬
ধুয়ো:
পরিত্রাণের পানপাত্র তুলে ধরে
আমি করব প্রভুর নাম।

আমার প্রতি প্রভুর সমস্ত উপকারের জন্য
প্রতিদানে আমি তাঁকে কী দিতে পারব?
পরিত্রাণের পানপাত্র তুলে ধরে
আমি করব প্রভুর নাম।   [ধুয়ো]

প্রভুর দৃষ্টিতে মূল্যবান
তাঁর ভক্তদের মৃত্যু।
আমি তো তোমার দাস, তোমার দাসীর পুত্র,
তুমি খুলে দিয়েছ আমার শৃঙ্খল।   [ধুয়ো]

তোমার উদ্দেশে ধন্যবাদ-বলি উৎসর্গ ক’রে
আমি করব প্রভুর নাম।
প্রভুর উদ্দেশে আমার ব্রতসকল উদ্‌যাপন করব
তাঁর সমস্ত জনগণের সামনে।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (৯:১১-১৫)

প্রিয়জনেরা, খ্রিষ্ট আসন্ন মঙ্গলদানগুলির মহাযাজকরূপেই আবির্ভূত হয়ে, মহত্তর ও সিদ্ধতর তাঁবুটির মধ্য দিয়ে—যা মানুষের হাতে গড়া নয়, অর্থাৎ যা এই পার্থিব সৃষ্টির অঙ্গ নয়—ছাগ বা বাছুরের রক্তের মধ্য দিয়েও নয়, বরং নিজেরই রক্তের মধ্য দিয়ে, একবারই, চিরকালের মত, পবিত্রধামে প্রবেশ করেছেন, যেহেতু তিনি [আমাদের জন্য] চিরকালীন মুক্তির সন্ধান পেলেন।
কেননা ছাগ ও ষাঁড়ের রক্ত কিংবা বকনা বাছুরের দেহভস্ম যদি কলুষিতদের উপরে ছিটানো হলে দেহের শুচিতার জন্য পবিত্রতা এনে দেয়, তাহলে যিনি সনাতন আত্মার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের কাছে নিজেকেই নিষ্কলঙ্ক রূপে উৎসর্গ করেছেন, সেই খ্রিষ্টের রক্ত আমাদের বিবেককে মৃত কাজকর্ম থেকে আরও কত বিশুদ্ধই না করবে, যেন আমরা জীবনময় ঈশ্বরের উপাসনা করতে পারি।
এজন্যই তিনি এক নতুন সন্ধি-উইলপত্রের মধ্যস্থ, যেন, প্রথম সন্ধিকালে সাধিত যত অপরাধ থেকে মুক্তি দেবার জন্য তাঁর মৃত্যু ঘটেছে বিধায়, যারা আহূত হয়েছে, তারা এখন প্রতিশ্রুত সেই অনন্তকালীন উত্তরাধিকার গ্রহণ করে নিতে পারে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। গীতিগাথা
এই দেখ! স্বর্গদূতদের খাদ্য,
যা পথিক আমাদের জন্য জীবন-পাথেয়;
সন্তানদেরই প্রকৃত খাদ্য,
যা পশুদের দেওয়ার নয়।

তা ছিল নানা চিহ্নে পূর্বঘোষিত:
ইসায়াকে বলীকৃত,
পাস্কা-মেষশিশুতে প্রদর্শিত,
সেই মান্না-খাদ্যে পূর্বপুরুষদের কাছে নিবেদিত।

হে উত্তম পালক, হে প্রকৃত রুটি যিশু,
আমাদের প্রতি সদয় হও;
আমাদের পালন কর, আমাদের রক্ষা কর,
জীবিতের দেশে একদিন আমাদের দেখাও তোমার সকল মঙ্গলদান।

তুমি যে সবই জান, তুমি যে সবই পার,
তুমি যে খাদ্যরূপে নিজেকে দান করে মর্তবাসী এই আমাদের পরিতৃপ্ত কর,
তোমার নিখিল সাধুসাধ্বীর সাহচর্যে
তোমার এই ভাইবোনদের স্বর্গীয় ভোজে চালনা কর।

৮। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমিই সেই জীবনময় রুটি, যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে
—প্রভুর উক্তি;
যদি কেউ এই রুটি খায়,
তবে সে অনন্তকাল জীবিত থাকবে।
আল্লেলুইয়া।

৯। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৪:১২-১৬,২২-২৬)

খামিরবিহীন রুটি পর্বের প্রথম দিন, যেদিন পাস্কা-মেষশাবক বলি দেওয়া হত, সেদিন শিষ্যেরা যিশুকে বললেন, ‘আমরা কোথায় গিয়ে আপনার পাস্কাভোজের ব্যবস্থা করব? আপনার ইচ্ছা কী?’
তাই তিনি নিজের শিষ্যদের মধ্য থেকে দু’জনকে পাঠিয়ে দিলেন; তাঁদের বললেন, ‘তোমরা শহরে গেলে এমন একজন লোক তোমাদের সামনে পড়বে, যে এক কলসি জল বয়ে নিয়ে আসছে; তোমরা তার অনুসরণ কর; আর সে যে বাড়িতে প্রবেশ করে, সেই বাড়ির মালিককে গিয়ে বল, গুরু একথা বলছেন, আমি যেখানে আমার শিষ্যদের সঙ্গে পাস্কাভোজ পালন করব, আমার সেই ঘর কোথায়? তখন সেই লোক উপরতলায় একটা বড় সাজানো ঘর তোমাদের দেখিয়ে দেবে—ঘরটা প্রস্তুত; তোমরা সেইখানে আমাদের জন্য ব্যবস্থা কর।’
শিষ্যেরা রওনা হলেন, ও শহরে গিয়ে, তাঁর কথামত সবকিছু পেলেন, ও পাস্কাভোজের ব্যবস্থা করলেন।
পরে, তাঁদের ভোজ চলছে, এমন সময়ে তিনি রুটি গ্রহণ করে নিয়ে ‘ধন্য’ স্তুতিবাদ উচ্চারণ করে তা ছিঁড়ে তাঁদের দিলেন, এবং বললেন, ‘গ্রহণ করে নাও, এ আমার দেহ।’ পরে তিনি একটা পানপাত্র গ্রহণ করে নিয়ে ধন্যবাদ-স্তুতি উচ্চারণ করে তা তাঁদের দিলেন, আর তাঁরা সকলেই তা থেকে পান করলেন; আর তিনি তাঁদের বললেন, ‘এ আমার রক্ত, সন্ধিরই রক্ত, যা অনেকের জন্য পাতিত। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যে দিনে ঈশ্বরের রাজ্যে এই রস নতুন পান করব, সেইদিন পর্যন্ত আমি আঙুরফলের রস আর কখনও পান করব না।’
এবং সামসঙ্গীত গান করে তাঁরা জৈতুন পর্বতের দিকে বেরিয়ে পড়লেন।
প্রভুর বাণী।

১০। উপদেশ
মথি-রচিত সুসমাচারে বিশপ সাধু জন খ্রিসোস্তমের উপদেশ

তাঁদের ভোজ চলছে, এমন সময়ে যিশু রুটি গ্রহণ করে নিয়ে তা ছিঁড়লেন (মথি ২৬:২৬)। তিনি কেন এ রহস্যটি পাস্কাকালে প্রতিষ্ঠা করলেন? কারণ তাঁর সমস্ত কর্ম দ্বারা আমাদের দেখাতে চাচ্ছিলেন, তিনি নিজেই প্রাক্তন সন্ধির বিধানকর্তা, এবং সেই সন্ধিতে যা কিছু ছিল, তা নবসন্ধি-সম্বন্ধীয় পূর্বাভাস রূপে ঘটেছিল। যেখানে প্রতীক ছিল, সেখানে খ্রিষ্ট বাস্তব সত্য স্থাপন করেন। এখানে সন্ধ্যা বলতে সেই কালের পূর্ণতা বোঝায় যখন সমস্ত বিষয় সিদ্ধি লাভ করতে যাচ্ছে। যিশু ‘ধন্য’ স্তুতিবাদ উচ্চারণ করেন কারণ আমাদের শেখাতে চান, আমরা কেমন করে এ রহস্যটি উদ্‌যাপন করব; উপরন্তু তিনি আমাদের বোঝাতে চান যে, তিনি যন্ত্রণাভোগের দিকে স্বেচ্ছায় অগ্রসর হচ্ছেন যাতে আমরাও ধন্যবাদসূচক মনোভাবেই সমস্ত কিছু সহ্য করতে শিখি; তাতে তিনি আমাদের অন্তরে ধন্য প্রত্যাশা সঞ্চার করেন।
কেননা প্রতীক যখন তত বড় দাসত্ব থেকে মুক্তি সাধন করতে পারল, তখন প্রতীকের বাস্তব সত্য আর কতই না উৎকৃষ্ট মুক্তি সাধনে গোটা পৃথিবী মুক্ত করবে ও মানবজাতির উপর অশেষ উপকার বর্ষণ করবে! এ কারণেই যিশু এ রহস্যটি পূর্বকালে প্রতিষ্ঠা করেননি, কিন্তু বিধানের নিয়ম-কানুনের যখন শেষ হওয়ার কথা তখনই তা প্রবর্তন করেন। এভাবে তিনি নিজ শিষ্যদের অধিক পবিত্রতম ভোজে স্থানান্তর করায় ইহুদী পর্বগুলোর মধ্যে সর্বপ্রধান পর্ব বাতিল করেন, এবং বলেন, গ্রহণ করে নাও, খাও; এ আমার দেহ, যা তোমাদের জন্য নিবেদিত (মথি ২৬:২৬; লুক ২২:১৯)।
তেমন বাণী শুনে শিষ্যেরা কেমন করেই না উদ্বিগ্ন হলেন? বস্তুতপক্ষে এ সাক্রামেন্ত প্রসঙ্গে তিনি আগেই অনেক মহা মহা কথা বলেছিলেন; ফলে তিনি এখন আর অতিরিক্ত কথা বলেন না, যেহেতু তাঁরা যথেষ্ট শিক্ষা পেয়েছেন। তবু তিনি যন্ত্রণাভোগের উদ্দেশ্য তথা পাপমোচনের কথা প্রকাশ করেন। এবং পানপাত্রটিকে আমার রক্তে নবসন্ধি (১ করি ১১:২৫) বলে অভিহিত করেন, অর্থাৎ প্রতিশ্রুতির রক্ত, ও নতুন বিধানেরও রক্ত।
প্রকৃতপক্ষে তিনি প্রাচীনকালেও এ প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছিলেন, আর ঠিক এই রক্তই এখন নবসন্ধি স্থাপন করে; কেননা প্রাক্তন সন্ধি যেমন মেষ ও বৃষ উৎসর্গ করত, তেমনি নবসন্ধি প্রভুর রক্ত উৎসর্গ করে। উপরন্তু তেমন কথা দ্বারা যিশু এ ইঙ্গিত দিতে চান যে, তাঁর পরিণাম সন্নিকট, আর এজন্য সন্ধি [অর্থাৎ ‘উইলপত্র’] শব্দটা ব্যবহার করেন, এবং প্রাক্তন সন্ধির কথাও উল্লেখ করেন, কারণ সেটাও রক্ত দ্বারাই স্থাপিত হয়েছিল। তাছাড়া তিনি নিজ মৃত্যুর উদ্দেশ্যও ব্যক্ত করেন: তাঁর রক্ত যা পাপমোচনের উদ্দেশ্যে অনেকের জন্য পাতিত (মথি ২৬:২৮); এবং অবশেষে বলেন: তোমরা আমার স্মরণার্থে তেমনটি কর (লুক ২২:১৯)। তোমরা লক্ষ কর, তিনি কেমন করে প্রেরিতদূতদের ইহুদী নিয়ম-কানুন থেকে বিচ্ছিন্ন করে সরিয়ে দেন; তিনি ঠিক যেন বলছেন: তোমরা মিশরে সাধিত ঈশ্বরের আশ্চর্য কাজের স্মরণেই পাস্কাপর্ব উদ্‌যাপন করছিলে, এবার কিন্তু আমারই স্মরণে এ কর। সেই রক্ত প্রথমজাতদের পরিত্রাণের জন্যই পাতিত হয়েছিল; এ রক্ত গোটা মানবজাতির পাপমোচনের জন্যই পাতিত হবে।
এ আমার রক্ত, সন্ধিরই রক্ত, যা পাপমোচনের উদ্দেশ্যে অনেকের জন্য পাতিত (মথি ১৬:২৮)। তিনি এজন্যও একথা বললেন, যাতে দেখাতে পারেন যে যন্ত্রণাভোগ ও ক্রুশ একটা রহস্য; উপরন্তু তিনি শিষ্যদের পুনরায় সান্ত্বনাও দিতে অভিপ্রেত ছিলেন। আর মোশি যেমন একসময়ে বলেছিলেন, তোমরা চিরকালের মত নিরূপিত বিধিরূপেই তেমনটি পালন করবে (যাত্রা ১২:২৪), তেমনি এখন প্রভু বলেন: তোমরা আমার স্মরণার্থে তেমনটি কর, যতদিন আমি না আসি (১ করি ১১:২৪, ২৫ দ্রঃ)। এজন্যই তিনি এ কথাও বললেন: আমি একান্তই বাসনা করেছি, আমার যন্ত্রণাভোগের আগে তোমাদের সঙ্গে এই পাস্কাভোজে বসব (লুক ২২:১৫), অর্থাৎ আমি এ সমস্ত নতুন বিষয় তোমাদের দান করতে, ও এমন পাস্কা-ভোজ তোমাদের দান করতে একান্ত ভাবেই বাসনা করেছি, যার মধ্য দিয়ে তোমাদের আধ্যাত্মিক করে তুলব।
তিনিও পান করলেন। সেই বাণী শুনে তাঁরা পাছে বলেন, এ কেমন কথা? আমরা কি রক্ত পান করছি? আমরা কি মাংস খাচ্ছি? তাই পাছে তাঁরাও সেভাবে অস্থির হয়ে ওঠে যেভাবে একসময়ে এ রহস্যগুলোর কথা শুনে শ্রোতাদের মধ্যে অনেকে সরে পড়েছিল, সেজন্য পাত্র থেকে পান করায় তিনিই প্রথম আদর্শ দেখান, আর এভাবে শিষ্যদের আমন্ত্রণ জানান তাঁরা যেন শান্ত মনে এ রহস্যগুলোর সহভাগিতা করেন। তাই এ কারণেই তিনি নিজেই নিজ রক্ত পান করলেন।

১১। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১২। অর্থদান

১৩। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৪। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৫। ধ্যান-গীতি: সাম ২৩
ধুয়ো:
প্রভু একথা বলছেন:
যে কেউ আমার মাংস খায় ও আমার রক্ত পান করে,
সে আমাতে বসবাস করে
আর আমি তার অন্তরে বসবাস করি। আল্লেলুইয়া।

প্রভু আমার পালক;
অভাব নেই তো আমার;
আমায় তিনি শুইয়ে রাখেন নবীন ঘাসের চারণমাঠে,
আমায় নিয়ে যান শান্ত জলের কূলে;

তিনি সঞ্জীবিত করেন আমার প্রাণ,
তাঁর নামের খাতিরে আমায় চালনা করেন ধর্মপথে।
মৃত্যু-ছায়ার উপত্যকাও যদি পেরিয়ে যাই,
আমি কোন অনিষ্টের ভয় করি না, তুমি যে আমার সঙ্গে আছ।

তোমার যষ্টি, তোমার পাচনি আমাকে সান্ত্বনা দেয়।
আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট আমার শত্রুদের সামনে;
আমার মাথা তুমি তৈলসিক্ত কর;
আমার পানপাত্র উচ্ছলিত।

মঙ্গল ও কৃপাই হবে আমার সহচর
আমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে,
আমি প্রভুর গৃহে ফিরব,
চিরদিনের মত।

১৬। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে খ্রিষ্ট প্রভু, তোমার অমূল্য দেহরক্ত গ্রহণে যে ঐশজীবনের আস্বাদ পেলাম, তোমার আশীর্বাদে যেন চিরকালের মতই
সেই ঐশজীবনের পূর্ণতা ভোগ করতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তুমি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৭। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


পরমারাধ্য যিশুহৃদয়
যিশুর হৃদয়
যা মানুষের প্রতি তাঁর ভালবাসার চিহ্ন।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আমাদের মিনতিতে সাড়া দিয়ে আশীর্বাদ কর:
আমরা যারা তোমার প্রিয় পুত্রের হৃদয়-মাহাত্ম্য বন্দনা ক’রে
আমাদের প্রতি তাঁর ভালবাসার শুভদান-সকল স্মরণ করি,
সেই আমরা যেন
স্বর্গীয় মঙ্গলদানের সেই উৎস থেকে উচ্ছ্বসিত অনুগ্রহধারায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী হোসেয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (১১:১,৩-৪,৮গ-৯)

ইস্রায়েল যখন তরুণ ছিল, আমি তখন তাকে ভালবাসলাম,
মিশর থেকে আমার সন্তানকে ডেকে আনলাম।
এফ্রাইমকে আমিই হাঁটতে শিখিয়েছিলাম,
নিজেই তাদের হাত ধরে রাখতাম,
কিন্তু আমি যে তাদের যত্ন করছিলাম, তা তারা বুঝল না।
আমি মানবতা-বন্ধন দিয়ে,
প্রেম-বাঁধন দিয়েই তাদের আকর্ষণ করতাম;
তাদের পক্ষে আমি এমন একজনেরই মত ছিলাম,
যে আপন শিশুকে মুখের কাছে তুলে নেয়;
তার দিকে হাত বাড়িয়ে আমি তার খাদ্য দিতাম।
আমার মধ্যে হৃদয় উৎপাটিত হচ্ছে,
আমার অন্ত্ররাজি করুণায় দগ্ধ হচ্ছে।
আমি আমার উত্তপ্ত ক্রোধ জ্বলে উঠতে দেব না,
এফ্রাইমের সর্বনাশ আর ঘটাব না,
কারণ আমি ঈশ্বর, মানুষ নই;
আমি তোমার মধ্যে সেই পবিত্রজন,
তোমার কাছে রোষভরে আসব না।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত (ইসাইয়া ১২:২-৬)
ধুয়ো: তোমরা আনন্দের সঙ্গে জল তুলে আনবে
পরিত্রাণের উৎসধারা থেকে।

সত্যি, ঈশ্বরই আমার পরিত্রাণ,
আমি ভরসা রাখব, ভীত হব না;
কারণ প্রভুই আমার শক্তি, আমার স্তবগান,
তিনি হলেন আমার পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

তোমরা আনন্দের সঙ্গে জল তুলে আনবে পরিত্রাণের উৎসধারা থেকে।
প্রভুর স্তুতিবাদ কর, কর তাঁর নাম;
জাতিসকলের মাঝে তাঁর কর্মকীর্তির কথা জ্ঞাত কর,
ঘোষণা কর: তাঁর নাম মহীয়ান।   [ধুয়ো]

প্রভুর স্তবগান কর, তিনি যে সাধন করেছেন মহিমময় কাজ,
সারা পৃথিবী জুড়ে একথা জ্ঞাত হোক।
সানন্দে চিৎকার কর, জাগাও হর্ষধ্বনি, সিয়োন অধিবাসী,
কারণ তোমাদের মধ্যে মহানই ইস্রায়েলের সেই পবিত্রজন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৩:৮-১২,১৪-১৯)

প্রিয়জনেরা, আমি পল, সমস্ত পবিত্রজনদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম হয়েও আমাকেই এই অনুগ্রহ দেওয়া হয়েছে, যেন বিজাতীয়দের কাছে খ্রিষ্টের সন্ধানাতীত ঐশ্বর্যের কথা প্রচার করি, এবং আদি থেকে নিখিলের স্রষ্টা ঈশ্বরে যা গুপ্ত ছিল, সেই রহস্য-ব্যবস্থা যে কি, তাও যেন তাদের চোখের সামনে উদ্ভাসিত করি, এর ফলে যেন মণ্ডলীর মধ্য দিয়ে এখন ঊর্ধ্বলোকের যত আধিপত্য ও কর্তৃত্বের কাছে ঈশ্বরের বহুবিচিত্র প্রজ্ঞা প্রকাশিত হয়, সেই অনাদিকালীন সঙ্কল্প অনুসারে যা তিনি আমাদের প্রভু খ্রিষ্টযিশুতে কল্পনা করেছিলেন: সেই খ্রিষ্টেই আমরা সৎসাহস এবং, তাঁর প্রতি বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে, পূর্ণ ভরসার সঙ্গে ঈশ্বরের কাছে প্রবেশাধিকার পেয়ে গেছি।
এজন্য স্বর্গ ও মর্তের সমস্ত পিতৃকুল যাঁর নাম অনুসারে পিতৃকুল বলে অভিহিত, সেই পিতার সামনে আমি জানু পাতছি, তাঁর ঐশ্বর্যময় গৌরব অনুসারে তিনি এমনটি হতে দিন, যেন তোমরা তাঁর আত্মা দ্বারা তোমাদের আন্তরিক মানুষে পরাক্রমে বলীয়ান হয়ে ওঠ, যেন বিশ্বাস দ্বারা খ্রিষ্ট তোমাদের হৃদয়ে বসবাস করতে পারেন, যার ফলে ভালবাসায় দৃঢ়রোপিত ও দৃঢ়স্থাপিত হয়ে তোমরা যেন সকল পবিত্রজনের সঙ্গে সেই বিস্তার, দৈর্ঘ্য, উচ্চতা ও গভীরতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়ে ওঠ; এবং খ্রিষ্টের জ্ঞানাতীত ভালবাসাও জানতে পার, ফলে ঈশ্বরের সমস্ত পূর্ণতায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠ।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমার জোয়াল কাঁধে তুলে নাও—একথা বলছেন প্রভু;
আমার কাছ থেকে শিখে নাও, কারণ আমি কোমল ও নম্রহৃদয়।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৯:৩১-৩৭)

সেই দিনটি প্রস্তুতি-দিবস ছিল বিধায়, যেন দেহগুলি সাব্বাৎ দিনে ক্রুশে না থেকে যায়,—সেই সাব্বাৎ তো মহা একটা দিবস ছিল,—ইহুদীরা পিলাতের কাছে আবেদন জানাল, তিনজনের পা ভেঙে দিয়ে তাদের যেন তুলে নেওয়া হয়।
তাই সৈন্যেরা এল, এবং যিশুর সঙ্গে যাদের ক্রুশে দেওয়া হয়েছিল, প্রথম আর দ্বিতীয়জনের পা ভেঙে দিল। কিন্তু যিশুর কাছে এসে যখন দেখল, ইতিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তখন তারা তাঁর পা আর ভাঙল না। কিন্তু সৈন্যদের একজন তাঁর বুকের পাশটিতে বর্শা বিঁধিয়ে দিল আর তখনই নিঃসৃত হল রক্ত আর জল।
এবিষয়ে, স্বচক্ষে যিনি দেখেছেন, তিনিই সাক্ষ্য দিয়েছেন, আর তাঁর সাক্ষ্য যথার্থ, এবং তিনি জানেন, তাঁর কথা সত্য, যেন তোমরাও বিশ্বাস করতে পার। কেননা এ সমস্ত ঘটেছিল যেন শাস্ত্রবাণী পূর্ণতা লাভ করে: তাঁর একটা হাড়ও ভগ্ন হবে না। আর একটি শাস্ত্রবচন আছে, যাঁকে তারা বিঁধিয়ে দিয়েছে, তাঁরই দিকে তারা চেয়ে থাকবে!
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

‘সর্বশক্তিমান পিতা ঈশ্বরে আমি বিশ্বাস করি।’ চিন্তা কর, উচ্চারণে এ বচনটি কত ক্ষুদ্র, অথচ তার অর্থ কতই না গভীর। তিনি ঈশ্বর, তিনি আবার পিতা: প্রভাবে ঈশ্বর, মঙ্গলময়তায় পিতা। আহা, আমরা যারা ঈশ্বরে আমাদের পিতাকে পেয়েছি, কেমন ভাগ্যবান! তাই এসো, পিতা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি ও তাঁর দয়ার কাছ থেকে সব কিছুই প্রত্যাশা করি, কারণ তিনি সর্বশক্তিমান—এজন্যই তো আমরা সর্বশক্তিমান পিতা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। এমন কেউই যেন না বলে: তিনি পাপমোচন করতে অক্ষম। তিনি যখন সর্বশক্তিমান, তখন কেমন করে পারবেন না? তুমি তো বল: কিন্তু আমি বহু পাপ করেছি। আর আমি আবার বলছি: কিন্তু তিনি সর্বশক্তিমান। তুমি তো আবার বল: এমন পাপ করেছি যে, আমি কখনও ধৌত ও মুক্ত হতে পারব না। আমি তোমাকে উত্তর দিয়ে বলছি: তিনি কিন্তু সর্বশক্তিমান। বিশ্বাস-প্রতীকসূত্রে এ কথাও আছে: ‘আমি পাপমোচন বিশ্বাস করি।’
তেমন কিছু যদি মণ্ডলীতে না ঘটত, তবে কোন আশাই থাকত না: মণ্ডলীতে যদি পাপমোচন না থাকত, আমাদের ভাবী জীবন ও শাশ্বত মুক্তির কোন আশাই থাকত না। অতএব এসো, মণ্ডলীর কাছে তাঁর এ দানের জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই।
দেখ, বাপ্তিস্ম দ্বারা ধৌত হবার জন্য তোমরা পুণ্য জলকুণ্ডের ধারে আসছ, নবজন্মের পরিত্রাণদায়ী অবগাহনে নবায়িত হয়ে উঠবে: সেই জল থেকে বেরিয়ে উঠে তোমাদের আর কোন পাপ থাকবে না। সেই সমস্ত অতীতকাল যা তোমাদের অত্যাচার করছিল, তা ওখানে বিলুপ্ত হবে। তোমাদের পাপগুলো সেই মিশরীয়দের মত ছিল যারা হিব্রুদের ধাওয়া করছিল: তারা তাদের তাড়া দিয়েছিল, কিন্তু লোহিত সাগর পর্যন্ত। ‘লোহিত সাগর পর্যন্ত’ এর অর্থ কী? সেই জলকুণ্ড পর্যন্ত যা খ্রিষ্টের ক্রুশ ও রক্ত দ্বারাই পবিত্রিত; কেননা যা লোহিত তা রক্তলাল: তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না, খ্রিষ্টের দেহ কেমন রক্তলাল হচ্ছে? বিশ্বাসের চোখেই তা চেয়ে দেখ: ক্রুশ দেখলে তবে রক্তও দেখবে; যিনি ক্রুশে ঝুলছেন তাঁকে দেখলে, তবে চেয়ে দেখ তাঁর দেহ থেকে কত রক্ত ঝরে পড়ছে। খ্রিষ্টের বুক বর্শার আঘাতে বিদ্ধ হয়েছে, আর সেই বুক থেকে আমাদের মুক্তিমূল্য নির্গত হল। এজন্য বাপ্তিস্ম খ্রিষ্টের চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত, কারণ যে জলে তোমরা ডুব দিয়েছ, সেই জল হচ্ছে লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে তোমাদের উত্তরণের প্রতীক। তোমাদের পাপগুলো হল তোমাদের শত্রু: সেগুলো তোমাদের তাড়া দিচ্ছে, কিন্তু সাগর পর্যন্ত। একবার প্রবেশ করে তোমরা আবার বেরিয়ে আসবে, কিন্তু সেগুলো নিঃশেষিত হবে, ঠিক যেভাবে হিব্রুদের বেলায় ঘটেছিল: তারা শুষ্ক ভূমিতে এসে পৌঁছলেই জল মিশরীয়দের ডুবিয়ে দিল। শাস্ত্রে কী বলে? তাদের কেউই বাঁচল না (সাম ১০৭:১১)। তোমার পাপ বহু হোক বা স্বল্প হোক না কেন, গুরু হোক বা লঘু হোক না কেন, সেগুলোর ক্ষুদ্রতমও বাকি থাকল না। কিন্তু তবুও, যেহেতু এই বাস্তব জগতে এমন কেউ নেই যে নিষ্পাপ, আর ঠিক এই বাস্তব জগতেই আমাদের বিজয় বাস্তবায়িত করা দরকার, সেজন্য পাপমোচন কেবল পবিত্র বাপ্তিস্মের শুচীকরণে নয়, কিন্তু প্রভুর শেখানো সেই দৈনন্দিন প্রার্থনাতেও সাধিত। প্রভুর প্রার্থনা আবৃত্তি করায় তোমরা ঠিক যেন দৈনন্দিন বাপ্তিস্ম গ্রহণ করছ, যাতে দৈনন্দিন সেই ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে পার, যিনি মণ্ডলীর হাতে তেমন দান মঞ্জুর করেছেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
সৈন্যদের একজন তাঁর বুকের পাশটিতে বর্শা বিঁধিয়ে দিল
আর তখনই নিঃসৃত হল রক্ত আর জল।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু,
ভালবাসার এ সাক্রামেন্ত আমাদের সকলকে পবিত্র ভক্তিতে উদ্দীপিত করুক,
তোমার পুত্রের প্রতি সর্বদাই আকর্ষিত হয়ে
আমরা যেন ভাইবোনদের মধ্যে তাঁকে চিনতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


বিশ্বরাজ আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট
খ্রিষ্ট এমন রাজা
যাঁর রাজদণ্ড হলো ক্রুশ,
যিনি আত্মবলিদান করে রাজত্ব করেন।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, বিশ্বরাজ তোমার সেই প্রিয় পুত্রেই
তুমি সমস্ত কিছু নবপ্রতিষ্ঠিত করতে ইচ্ছা করেছ।
প্রসন্ন হয়ে আশীর্বাদ কর: দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে
নিখিল সৃষ্টি যেন তোমার ঐশমহিমার সেবায় রত হয়ে
তোমার অবিরত গুণকীর্তন করতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী দানিয়েলের পুস্তক থেকে পাঠ (৭:১৩-১৪)

আমি রাত্রিবেলায় আবার দর্শনে দেখছিলাম,
এমন সময়ে আকাশের মেঘের সঙ্গে
মানবপুত্রের মত কে যেন একজন এগিয়ে আসছেন:
সেই প্রাচীনজনের কাছে এসে উপস্থিত হলে
তাঁকে তাঁর সাক্ষাতে আনা হল;
তাঁকে আরোপ করা হল
কর্তৃত্ব, মহিমা ও রাজ-অধিকার;
সকল জাতি, দেশ ও ভাষার মানুষ
তাঁর সেবায় নিবদ্ধ হল।
তাঁর কর্তৃত্ব সনাতন কর্তৃত্ব
যা কখনও লোপ পাবে না,
এবং তাঁর রাজ্য কখনও বিলুপ্ত হবে না।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯৩
ধুয়ো:
প্রভু রাজত্ব করেন,
তিনি মহিমায় পরিবৃত।

প্রভু রাজত্ব করেন, তিনি মহিমায় পরিবৃত,
প্রভু শক্তিতে পরিবৃত সুসজ্জিত;
জগৎ সত্যিই দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত,
তা কখনও টলবে না;   [ধুয়ো]

তোমার রাজাসন আদি থেকেই দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত,
অনাদিকাল থেকেই তুমি বিরাজিত।
তোমার নির্দেশগুলি অতি বিশ্বাসযোগ্য;
তোমার গৃহে পবিত্রতাই শোভা পায়, প্রভু, চিরদিন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
ঐশপ্রকাশ পুস্তক থেকে পাঠ (১:৫-৮)

বিশ্বস্ত সাক্ষ্যদাতা যিনি, মৃতদের মধ্য থেকে প্রথমজাত ও পৃথিবীর রাজাদের অধিরাজ, তিনি স্বয়ং যিশুখ্রিষ্ট!
যিনি আমাদের ভালবাসেন, যিনি নিজের রক্তে আমাদের পাপ থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন, এবং আমাদের করে তুলেছেন রাজ্য, তাঁর আপন ঈশ্বর ও পিতার উদ্দেশে যাজক, তাঁরই গৌরব ও প্রতাপ চিরদিন চিরকাল। আমেন।
দেখ, তিনি মেঘবাহনে আসছেন, আর প্রতিটি চোখ তাঁকে দেখতে পাবে; তারাও তাঁকে দেখতে পাবে, যারা তাঁকে বিঁধিয়ে দিয়েছিল; আর পৃথিবীর সকল জাতি তাঁর জন্য নিজেদের বুক চাপড়াবে। হ্যাঁ, আমেন!
আমি আল্ফা ও ওমেগা, একথা প্রভু ঈশ্বর বলছেন, যিনি আছেন, যিনি ছিলেন, যিনি আসছেন, যিনি সর্বশক্তিমান।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যিনি প্রভুর নামে আসছেন, তিনি ধন্য!
ধন্য আমাদের পিতা দাউদের আসন্ন রাজ্য!
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৮:৩৩খ-৩৭)

সেসময়ে পিলাত যিশুকে বললেন, ‘তুমি কি ইহুদীদের রাজা?’ যিশু উত্তর দিলেন, ‘আপনি কি নিজে থেকেই একথা বলছেন, না অন্যেরা আমার বিষয়ে আপনাকে বলেছে?’ পিলাত উত্তর দিলেন, ‘আমি কি ইহুদী? তোমার স্বজাতিরা ও প্রধান যাজকেরাই তোমাকে আমার হাতে তুলে দিয়েছেন—তুমি কী করেছ?’
যিশু উত্তর দিলেন, ‘আমার রাজ্য ইহলোকের নয়। যদি আমার রাজ্য ইহলোকের হত, তাহলে ইহুদীদের হাতে আমাকে যেন তুলে দেওয়া না হয়, তার জন্য আমার লোকজন লড়াই করত; কিন্তু, না, আমার রাজ্য ইহলোকের নয়।’
পিলাত তাঁকে বললেন, ‘তাহলে তুমি কি একজন রাজা?’ যিশু উত্তর দিলেন, ‘আপনিই তো বলছেন, আমি রাজা। সত্যের বিষয়ে যেন সাক্ষ্য দিতে পারি, এজন্যই আমি জন্মেছি, এজন্যই জগতে এসেছি। যে কেউ সত্যের মানুষ, সে আমার কথায় কান দেয়।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

আমার রাজ্য এ জগতের নয় (যোহন ১৮:৩৬)। খ্রিষ্টরাজ্য এইখানে রয়েছে ও জগতের শেষ পর্যন্ত থাকবে; কেননা শস্যকাটা হল জগতের শেষ, যখন শস্যকাটিয়েরা তথা স্বর্গদূতেরা এসে তাঁর রাজ্য থেকে সমস্ত বাধাবিঘ্ন বের করে দেবেন: তেমনটি হত না, যদি না তাঁর রাজ্য এখানে না থাকত। কিন্তু তবুও তাঁর রাজ্য এখানকার নয়, কারণ রাজ্যটি জগতে প্রবাসীর মত; আর ঠিক তাঁর এই রাজ্যকে তিনি বলেন: তোমরা জগতের নও, বরং আমি জগতের মধ্য থেকে তোমাদের বেছে নিয়েছি (যোহন ১৫:১৯)।
তাই যখন তারা তাঁর রাজ্য ছিল না, কিন্তু জগতের অধিপতির অধিকার ছিল, তখন তারা জগতেরই ছিল। ফলে তারা সকলেও জগতেরই, যারা সত্যকার ঈশ্বর দ্বারা সৃষ্ট হয়েও তবু সেই বংশ থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যা আদমে কলুষিত ও অভিশপ্ত হয়েছিল; কিন্তু যারা খ্রিষ্টে নবজন্ম নিয়েছে, তারাই এমন রাজ্য যা এ জগতের নয়। কেননা ঈশ্বর এভাবেই অন্ধকারের কর্তৃত্ব থেকে আমাদের নিস্তার করে তাঁর প্রিয়তম পুত্রের রাজ্যে স্থানান্তর করেছেন (কল ১:১৩); তেমন রাজ্য সম্বন্ধেই তিনি বলেন: আমার রাজ্য এ জগতের নয়, কিংবা, আমার রাজ্য ইহলোকের নয় (যোহন ১৮:৩৬)।
তখন পিলাত তাঁকে বললেন: তাহলে তুমি কি একজন রাজা? যিশু উত্তর দিলেন, আপনিই তো বলছেন, আমি রাজা। আর সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলে চললেন: সত্যের বিষয়ে যেন সাক্ষ্য দিতে পারি, এজন্যই আমি জন্মেছি, এজন্যই জগতে এসেছি (যোহন ১৮:৩৭)। এখানে স্পষ্টই দাঁড়াচ্ছে, তিনি তাঁর সেই মানবজন্মেরই কথা ইঙ্গিত করেন, যা অনুসারে তিনি দেহধারণ করে জগতে এসেছিলেন; সেই অনাদিকালীন জন্মের কথা ইঙ্গিত করেন না, যা অনুসারে তিনি সেই ঈশ্বর ছিলেন, যাঁর দ্বারা পিতা জগৎ স্থাপন করলেন। সুতরাং, তিনি বললেন: কুমারী থেকে জন্মগ্রহণ করে যাতে সত্যের বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারেন, এজন্যই তিনি জন্মেছিলেন ও এজন্যই জগতে এসেছিলেন। কিন্তু যেহেতু বিশ্বাস সকলেরই নয়, সেজন্য তিনি বলে চললেন: যে কেউ সত্যের মানুষ, সে আমার কথায় কান দেয় (যোহন ১৮:৩৭)। সে ব্যক্তি আন্তরিক কান দ্বারাই শোনে, অর্থাৎ আমার কণ্ঠের প্রতি মনোযোগ দেয়, যার অর্থ এক কথায় এরূপ: সে আমাকে বিশ্বাস করে।
তাই খ্রিষ্ট যখন সত্যের বিষয়ে সাক্ষ্য দেন, তখন নিজেরই বিষয়ে সাক্ষ্য দেন, কারণ এই উক্তিও তাঁর: আমিই সত্য (যোহন ১৪:৬); আর অন্যত্র তিনি বললেন: আমি নিজের বিষয়ে সাক্ষ্য দিই (যোহন ৫:৩১)। এবং যখন তিনি বলেছিলেন, যে কেউ সত্যের মানুষ, সে আমার কথায় কান দেয় (যোহন ১৮:৩৭), তখন সেই অনুগ্রহেরই দিকে অঙুলি নির্দেশ করছিলেন, যে অনুগ্রহ দ্বারা তিনি তাদেরই আহ্বান করেন যারা পরিত্রাণের উদ্দেশে আগে থেকে নিরূপিত।
পিলাত তাঁকে বললেন, সত্য! তা আবার কী? আর তা বলে উত্তরের জন্যও অপেক্ষা করলেন না; কিন্তু একথা বলার পর তিনি আবার ইহুদীদের কাছে বেরিয়ে গিয়ে বললেন, ওর মধ্যে কোন অপরাধ আমি খুঁজে পাচ্ছি না (যোহন ১৮:৩৮)। আমি মনে করি যে, যখন পিলাত জিজ্ঞাসা করলেন ‘সত্য! তা আবার কী?’ তখন হঠাৎ তাঁর মনে পড়ল ইহুদীদের সেই প্রথা, যা অনুসারে পাস্কা উপলক্ষে একজনকে মুক্ত করে দেওয়া হত; ফলে তিনি সত্যের বিষয়ে যিশুর উত্তরের জন্য অপেক্ষা করলেন না, কারণ যখন তাঁর মনে পড়ল সেই প্রথা যা অনুসারে পাস্কা উপলক্ষে যিশুকে মুক্ত করে দেওয়া যেতে পারত, তখন আর দেরি করতে চাইলেন না—আসলে একথা সুস্পষ্ট যে, তিনি যিশুকে মুক্তি দিতে ইচ্ছাই করছিলেন।
তথাপি তিনি নিজের মন থেকে সেই কথা অপসারণ করতে পারলেন না যে, যিশু ইহুদীদের রাজা; হ্যাঁ, এমনটি মনে হচ্ছে যে, যা সম্বন্ধে যিশুকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, সেই সত্য যেমন ক্রুশের বিজ্ঞপ্তিতে তেমনি তাঁর অন্তরেও স্থিতমূল ছিল।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৯
ধুয়ো:
প্রভু রাজারূপে চিরসমাসীন।
প্রভু তাঁর আপন জাতিকে ধন্য করবেন শান্তিদানে।

প্রভুতে আরোপ কর তোমরা, হে ঈশ্বরের সন্তান,
প্রভুতে আরোপ কর গৌরব ও শক্তি।
প্রভুতে আরোপ কর তাঁর নামের গৌরব,
তাঁর পবিত্রতার আবির্ভাবে প্রভুর সম্মুখে কর প্রণিপাত।   [ধুয়ো]

প্রভুর কণ্ঠস্বর এরসগাছ ভেঙে ফেলে,
প্রভু লেবাননের এরসগাছ ভেঙে ফেলেন।
তাঁর কণ্ঠস্বরে লেবানন লাফিয়ে ওঠে বাছুরের মত,
সিরিয়োন মহিষশাবকের মত।   [ধুয়ো]

প্রভু জলপ্লাবনের উপরে সমাসীন,
প্রভু রাজারূপে চিরসমাসীন।
প্রভু তাঁর আপন জাতিকে শক্তি দেন,
প্রভু তাঁর আপন জাতিকে ধন্য করেন শান্তিদানে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, অমরত্বদানকারী খাদ্য গ্রহণ করে আমরা তোমাকে অনুনয় করি:
আমরা যেমন বিশ্বরাজ খ্রিষ্টের আজ্ঞা পালনে গর্ববোধ করি,
তেমনি যেন তোমার স্বর্গীয় রাজ্যে
তাঁর সঙ্গে চিরকালের মত বাস করতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।(br>) সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]