সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
সাধারণকাল
• সাধারণকালের প্রথম সপ্তাহ প্রভুর বাপ্তিস্ম থেকে শুরু হয়।
• পরমপবিত্র ত্রিত্ব পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• খ্রিষ্টের পরমপবিত্র দেহরক্ত পরমপবিত্র ত্রিত্বের পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• পরমারাধ্য যিশুহৃদয় পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী দ্বিতীয় রবিবারের পরবর্তী শুক্রবারে পালিত হয়।
• বিশ্বরাজ আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট সাধারণকালের শেষ রবিবারে পালিত হয়।

রবিবার: ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ৩১ | ৩২ | ৩৩
সাধারণকালের মহাপর্বচতুষ্টয়: ত্রিত্ব | খ্রিষ্টের দেহরক্ত | যিশুহৃদয় | খ্রিষ্টরাজা

পরমপবিত্র ত্রিত্ব
image ত্রিত্বের দূতগণ
(সাধু বেনেডিক্ট মঠ - উপাসনালয়)
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে পিতা ঈশ্বর,
তুমি সত্যের ঐশবাণীকে ও পবিত্রতাদানকারী আত্মাকে এজগতে প্রেরণ ক’রে
মানবজাতির কাছে তোমার ঈশ্বরত্বের অপরূপ রহস্য ব্যক্ত করেছ।
অনুনয় করি: সত্য বিশ্বাস স্বীকৃতিতে আমরা যেন
সনাতন ত্রিত্বের গৌরব ঘোষণা করি
ও মহিমময় প্রতাপশালী ঐক্যকে আরাধনা করি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রবচনমালা থেকে পাঠ (৮:২২-৩১)

ঐশ প্রজ্ঞা একথা বলে:
আপন সৃষ্টিকর্মের সূচনা থেকেই প্রভু আমাকে সৃষ্টি করেছেন,
তাঁর কর্মসাধনের প্রারম্ভে—সেসময় থেকেই!
অনাদিকাল থেকে আমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছি,
আদি থেকেই, পৃথিবীর উদ্ভবের সময় থেকেই।
অতল গহ্বর তখনও হয়নি যখন আমার জন্ম হয়েছিল,
জলপূর্ণ উৎসধারাও তখনও হয়নি।
পর্বতমালার ভিত স্থাপিত হওয়ার আগে,
উপপর্বতের উদ্ভবের আগে আমার জন্ম হয়েছিল;
তিনি তখনও স্থলভূমি বা কোন মাঠও নির্মাণ করেননি,
জগতের প্রথম ধূলিকণাও তখনও গড়েননি।
যখন তিনি আকাশ দৃঢ়স্থাপিত করেন, তখন আমি সেখানে ছিলাম;
যখন তিনি অতল গহ্বরের বুকে বৃত্ত-রেখা খোদাই করেন,
যখন তিনি ঊর্ধ্বে মেঘমালা পুঞ্জিভূত করেন,
যখন অতল গহ্বরের উৎসধারা প্রবল হয়ে ওঠে,
যখন তিনি সমুদ্রের সীমারেখা স্থির করেন,
—জলরাশি তাঁর সেই আদেশ লঙ্ঘন না করুক!—
যখন তিনি পৃথিবীর ভিত্তিমূল নিরূপণ করেন,
তখন আমি দক্ষ কারিগরের মত তাঁর পাশে ছিলাম,
আমি ছিলাম তাঁর দৈনন্দিনের পুলক,
ক্ষণে ক্ষণে তাঁর সম্মুখে আমোদপ্রমোদ করতাম;
আমোদপ্রমোদ করে বেড়াতাম তাঁর পৃথিবীর সকল স্থানে,
মানবসন্তানদের মধ্যে থাকতাম পুলকিত প্রাণে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৮
ধুয়ো:
হে প্রভু, আমাদের পরমেশ্বর,
সারা পৃথিবী জুড়ে কী মহিমময় তোমার নাম।

আমি যদি তাকাই তোমার আঙুলের কারুকার্য তোমার সেই আকাশের দিকে,
সেই চন্দ্র ও তারকারাজির দিকে যা তুমি নিজেই বসিয়েছ,
তবে, মানুষ কী যে তুমি তার কথা মনে রাখ,
কীইবা আদমসন্তান যে তুমি তার যত্ন নাও?   [ধুয়ো]

অথচ ঐশজীবদের চেয়ে তাকে সামান্যই শুধু ছোট করেছ তুমি,
তাকে পরিয়েছ গৌরব ও সম্মানের মুকুট:
তাকে দিয়েছ তোমার হাতের কারুকার্যের শাসনভার,
সবকিছু রেখেছ তার পদতলে:   [ধুয়ো]

মেষ ও বৃষের পাল,
বন্য সমস্ত জন্তু,
আকাশের পাখি ও সাগরের মাছ,
সমুদ্রের পথে পথে চরে যত প্রাণী।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
রোমীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৫:১-৫)

প্রিয়জনেরা, বিশ্বাসগুণে ধর্মময় বলে সাব্যস্ত হয়ে উঠে, আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট দ্বারা আমরা এখন ঈশ্বরের সঙ্গে শান্তি ভোগ করি; তাঁর দ্বারা আমরা বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে এই অনুগ্রহেই প্রবেশাধিকার লাভ করেছি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, এবং ঈশ্বরের গৌরবলাভের প্রত্যাশায় গর্ববোধ করি। শুধু তা নয়, কিন্তু নানা রকম ক্লেশের মধ্যেও গর্ববোধ করে থাকি, কারণ আমরা জানি, ক্লেশ নিষ্ঠাকে, আর নিষ্ঠা যাচাইকৃত চরিত্রকে, ও যাচাইকৃত চরিত্র প্রত্যাশাকে উৎপন্ন করে; আর এই প্রত্যাশা তো ছলনা করে না, কেননা ঈশ্বরের ভালবাসা আমাদের হৃদয়ে সঞ্চারিত হয়েছে সেই পবিত্র আত্মা দ্বারা যাঁকে আমাদের দেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার গৌরব হোক,
যিনি আছেন, যিনি ছিলেন, যিনি আসছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৬:১২-১৫)

সেসময়ে যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন, ‘তোমাদের কাছে আমার আরও অনেক কিছু বলার আছে, কিন্তু তোমরা এখন তা সহ্য করতে পার না।
তবে তিনি যখন আসবেন, সেই সত্যময় আত্মা, তিনিই পূর্ণ সত্যের মধ্যে তোমাদের চালনা করবেন, কারণ তিনি নিজে থেকে কিছুই বলবেন না, কিন্তু যে সমস্ত কথা শোনেন, তিনি তা-ই বলবেন; যা যা ঘটবার, তাও তিনি তোমাদের বলে দেবেন।
তিনি আমাকে গৌরবান্বিত করবেন, কারণ যা আমার, তা-ই তুলে নিয়ে তিনি তা তোমাদের বলে দেবেন। যা কিছু পিতার, তা সবই আমার; এজন্যই আমি বললাম যে, যা আমার, তা-ই তুলে নিয়ে তিনি তা তোমাদের বলে দেবেন।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু হিলারি-লিখিত ‘ত্রিত্ব’

হে পিতা, আমার ঈশ্বর ও তোমার একমাত্র পুত্র সেই প্রভু যিশুখ্রিষ্ট যে সাধারণ সৃষ্টজীব নন, একথা আমার বিশ্বাস ও কণ্ঠের মধ্য দিয়েই স্বীকার করা আমার পক্ষে যথেষ্ট নয়; আর যিনি তোমা হতে উদ্গত ও খ্রিষ্টের মধ্য দিয়ে প্রেরিত, সেই পবিত্র আত্মা ক্ষেত্রেও আমি সেই প্রকার ভাষা সহ্য করতে সম্মত নই; কেননা যা কিছু তোমার সম্পর্কযুক্ত, তার প্রতি আমার ধর্মভাব অত্যন্ত গভীর। উপরন্তু, কেবল তুমিই স্বয়ংজনিত, ও তোমার একমাত্র পুত্র তোমা থেকেই জনিত, একথা জেনেও তবু আমি এমন কথা কখনও বলব না যে, পবিত্র আত্মা জনিত, এ কথাও কখনও বলব না যে, তিনি সৃষ্ট। আমার ভয় যে তেমন কথা উচ্চারণ করলে তোমার দুর্নাম হয়।
প্রেরিতদূতের বাণী অনুসারে, তোমার পবিত্র আত্মা তোমার গভীর বিষয় অনুসন্ধান করেন ও জানেন, ও আমার পক্ষে যা বলার অতীত, তিনি আমার পক্ষসমর্থক রূপে আমার হয়ে তা তোমার কাছে ব্যক্ত করেন (রো ৮:২৬ দ্রঃ): আর আমি কি তোমা থেকে তোমার একমাত্র পুত্রের মধ্য দিয়ে নির্গত তাঁর পরাক্রমের স্বরূপকে ‘সৃষ্টি’ নামে অভিহিত করব? আর শুধু তা নয়, তেমন শব্দ উচ্চারণে আমি কি তার অপমানও করব? তোমার নিজের বিষয় ছাড়া অন্য কিছুই তোমার মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না; তোমার সীমাহীন ঐশমহিমার গভীরতাও তোমা থেকে ভিন্ন ও বাহ্যিক শক্তি দ্বারা পরিগণিত হতে পারে না। যা কিছু তোমাতে প্রবেশ করে, তা তোমারই; তোমাকে যিনি অনুসন্ধান করতে সক্ষম, তাঁর শক্তিও তোমা থেকে বাহ্যিক নয়।
তাছাড়া, আমার পক্ষে যা বলার অতীত, যিনি আমার হয়ে তা বলে থাকেন, তিনিও আমার পক্ষে বর্ণনার অতীত; কেননা তোমা থেকে তোমার একমাত্র পুত্রের অনাদিকালীন প্রজননের বিষয়ে যেমন সমস্ত দ্ব্যর্থক ভাষা ও দুর্জ্ঞেয় উপলব্ধি শেষে কেবল তাঁরই কথা থেকে যায় যিনি তোমা থেকে জাত, তেমনি পবিত্র আত্মা কীভাবে তোমা থেকে তোমার একমাত্র পুত্রের মধ্য দিয়ে উপস্থিত, একথা আমার বুদ্ধি দ্বারা ধারণ করতে না পেরেও তথাপি আমি যে তাঁর অধিকারী এবিষয়ে আমার চেতনা আছে। কেননা তোমার আধ্যাত্মিক সমস্ত বিষয়ে আমি বুদ্ধিহীন, তোমার একমাত্র পুত্র যেভাবে বলেছেন: আমি যে তোমাকে বললাম, ঊর্ধ্বলোক থেকে তোমাদের জন্ম নিতে হবে, তাতে তুমি আশ্চর্য হবে না। বাতাস যেদিকে ইচ্ছে সেদিকেই বয়ে যায়; তুমি তার শব্দ শুনতে পাও, কিন্তু কোথা থেকে আসছে আর কোথায়ই বা যায়, তা তুমি জান না। তেমনি প্রত্যেকে যে আত্মা থেকে জনিত, তার ক্ষেত্রে ঠিক তা-ই (যোহন ৩:৭-৮)। হ্যাঁ, আমার নবজন্মের বিশ্বাস গ্রহণ করা সত্ত্বেও আমি তা বুঝি না; আর যা বুঝি না, আমি কিন্তু তার অধিকারী। বাস্তবিকই আমি আমার জ্ঞানের সাহায্যে ছাড়াই নবজন্ম নিয়েছি, নবজন্মের নিজ কর্মশক্তি দ্বারাই আমার নবজন্ম সাধিত হয়েছে।
তাছাড়া আত্মা কোন বিশেষ নিয়ম মানেন না, তিনি যখন ইচ্ছা করেন তখনই কথা বলেন, যা ইচ্ছা করেন তাই বলেন, ও যেখানে ইচ্ছা করেন সেইখানে কথা বলেন। তাই তাঁর উপস্থিতি সম্বন্ধে সচেতন হয়েও আমি যখন তাঁর আগমন বা প্রস্থানের কারণ জানি না, তখন কেমন করে তাঁর স্বরূপকে সৃষ্টবস্তুর মধ্যে রাখব ও তাঁর উৎপত্তিকে ভাষায় বর্ণনা করায় তাঁর সেই স্বরূপ গণ্ডিবদ্ধ করব? কেননা, যোহনের কথা অনুসারে, সমস্ত কিছু সেই পুত্রের মধ্য দিয়েই করা হয়েছে যিনি, হে ঈশ্বর, আদিতে বাণীরূপে তোমার কাছে ছিলেন ঈশ্বর; এবং পল আকাশে ও পৃথিবীতে সেই সমস্ত দৃশ্য ও অদৃশ্য বিষয়ের বর্ণনা দেন যা তাঁর মধ্যে সৃষ্ট হয়েছিল; আর যখন তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে সমস্ত কিছুই খ্রিষ্টে ও খ্রিষ্টের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট হয়েছে, তখন তাঁর বিবেচনায় পবিত্র আত্মা সম্বন্ধে ‘তোমার আত্মা’ বলে ঘোষণা করা যথেষ্টই মনে করেন।
তাই তুমি বিশেষ সঙ্কল্প অনুসারে যাঁদের মনোনীত করেছিলে, আমি এ সমস্ত বিষয়ে তাঁদেরই সঙ্গে একমত হব, ফলত, একমাত্র পুত্র বিষয়ে: তিনি যে জন্ম নিয়েছেন, একথা ছাড়া আমি আর এমন কিছু বলব না যা তাঁদের বিবেচনায় আমার বোধশক্তির ঊর্ধ্বে; একই প্রকারে, পবিত্র আত্মা বিষয়ে তিনি যে ‘তোমার আত্মা’, একথা ছাড়া আমি আর এমন কিছু বলব না যা তাঁদের বিবেচনায় মানব জ্ঞানের ঊর্ধ্বে। কিন্তু আমি কথার অনর্থক তর্কাতর্কিতে সময় অপব্যয় করতে চাই না; বরং অটল বিশ্বাস স্বীকৃতিতে নিষ্ঠাবান হতে চাই।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৩
ধুয়ো:
ঈশ্বর আমাদের হৃদয়ে তাঁর পুত্রের আত্মাকে প্রেরণ করেছেন,
যিনি ডাকতে থাকেন, ‘আব্বা, পিতা!’

প্রভুতে আনন্দধ্বনি তোল, ধার্মিকজন সকল,
ন্যায়নিষ্ঠদের মুখেই প্রশংসাগান সমীচীন।
সেতারের সুরে প্রভুকে জানাও ধন্যবাদ,
দশতন্ত্রী বীণা বাজিয়ে তাঁর উদ্দেশে কর স্তবগান।   [ধুয়ো]

ন্যায়সঙ্গতই তো প্রভুর বাণী,
বিশ্বস্ততায় সাধিত তাঁর প্রতিটি কাজ।
তিনি ধর্মময়তা ও ন্যায় ভালবাসেন;
পৃথিবী প্রভুর কৃপায় পরিপূর্ণ।   [ধুয়ো]

প্রভুর বাণীতেই গড়ে উঠল আকাশমণ্ডল,
তাঁর মুখের ফুৎকারেই তার যত বাহিনীর আবির্ভাব।
তিনি যেন চর্মপুটেই সংগ্রহ করেন সাগরের জল,
ভাণ্ডারে রাখেন অতলের জল।   [ধুয়ো]

প্রভুকে ভয় করুক সমগ্র পৃথিবী,
তাঁকে শ্রদ্ধা করুক সকল জগদ্বাসী।
কারণ তিনি কথা বলতেই সবই আবির্ভূত হয়,
তিনি আজ্ঞা দিতেই সবই উপস্থিত হয়।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের পরমেশ্বর, এই সাক্রামেন্ত গ্রহণের ফলে,
এবং তুমি যে তিন ব্যক্তিত্বে এক ঈশ্বর তাও স্বীকারের ফলে
আমরা যেন দেহমনে তোমার পরিত্রাণ লাভ করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


খ্রিষ্টের পরমপবিত্র দেহরক্ত
জনতাকে রুটি ও মাছ অলৌকিক ভাবে খাওয়াবার পর
যিশু তাদের বললেন,
আমিই সেই জীবনময় রুটি,
যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে:
যদি কেউ এই রুটি খায়,
তবে সে অনন্তকাল জীবিত থাকবে,
আর আমি যে রুটি দান করব,
তা আমার নিজের মাংস,
জগতের জীবনের জন্য।
(যোহন ৬:৫১)
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে খ্রিষ্ট ঈশ্বর, তুমি এক অপূর্ব সাক্রামেন্তের আড়ালে
আমাদের কাছে তোমার যন্ত্রণাভোগের স্মারক চিহ্ন রেখে গেছ।
আশীর্বাদ কর: তোমার দেহরক্তের পবিত্র মহারহস্যের প্রতি
আমরা যেন এমন শ্রদ্ধা জানাই,
যাতে তোমার মুক্তিকর্মের শুভফল উত্তরোত্তর উপলব্ধি করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, পিতার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তুমি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
আদিপুস্তক থেকে পাঠ (১৪:১৮-২০)

সালেম-রাজ মেল্কিসেদেক রুটি ও আঙুররস উৎসর্গ করলেন: তিনি ছিলেন পরাৎপর ঈশ্বরের যাজক। তিনি এই বলে আব্রামকে আশীর্বাদ করলেন:
‘আব্রাম স্বর্গমর্তের জনক পরাৎপর ঈশ্বর দ্বারা আশিসধন্য হোন!
আর ধন্য সেই পরাৎপর ঈশ্বর,
যিনি তোমার শত্রুদের তোমার হাতে তুলে দিয়েছেন!’
আর আব্রাম সমস্ত কিছুর দশমাংশ তাঁর হাতে তুলে দিলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১১০
ধুয়ো:
মেল্কিসেদেকের রীতি অনুসারে
তুমি চিরকালের মত যাজক।

আমার প্রভুর প্রতি প্রভুর উক্তি,
‘আমার ডান পাশেই আসন গ্রহণ কর,
যতক্ষণ না তোমার শত্রুদের
আমি করি তোমার পাদপীঠ।’   [ধুয়ো]

প্রভু তোমার প্রতাপের রাজদণ্ড সিয়োন থেকে ব্যাপ্ত করেন,
প্রভুত্ব কর তোমার শত্রুদের মাঝে।
তোমার পরাক্রমের দিনে—পবিত্রতার মহিমায়—রাজ-অধিকার তোমার,
উষার গর্ভ থেকে শিশিরের মত জন্ম দিয়েছি তোমায়।   [ধুয়ো]

প্রভু শপথ করেছেন
আর তার অন্যথা করবেন না—
‘মেল্কিসেদেকের রীতি অনুসারে
তুমি চিরকালের মত যাজক।’   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১১:২৩-২৬)

প্রিয়জনেরা, আমি প্রভুর কাছ থেকে এই শিক্ষা পেয়েছি, এই শিক্ষা তোমাদের কাছে সম্প্রদানও করেছি যে: যে রাত্রিতে প্রভু যিশুর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছিল, সেই রাত্রিতে তিনি একখানা রুটি গ্রহণ করে নিলেন; এবং ধন্যবাদ-স্তুতি উচ্চারণ করে তা ছিঁড়ে বললেন: ‘এ আমার দেহ, যা তোমাদেরই জন্য; তোমরা আমার স্মরণার্থে তেমনটি কর।’
ভোজনের শেষে তিনি তেমনটি করেই পানপাত্রটি তাঁদের দিয়ে বললেন: ‘এই পানপাত্র আমার রক্তে স্থাপিত নবসন্ধি। যতবার এই পানপাত্র থেকে পান কর, ততবার তোমরা আমার স্মরণার্থে তেমনটি কর।’
কারণ যতবার তোমরা এই রুটি খাও ও এই পানপাত্র থেকে পান কর, ততবার তোমরা তো প্রভুর মৃত্যু ঘোষণা কর, যতদিন না তিনি আসেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। গীতিগাথা
এই দেখ! স্বর্গদূতদের খাদ্য,
যা পথিক আমাদের জন্য জীবন-পাথেয়;
সন্তানদেরই প্রকৃত খাদ্য,
যা পশুদের দেওয়ার নয়।

তা ছিল নানা চিহ্নে পূর্বঘোষিত:
ইসায়াকে বলীকৃত,
পাস্কা-মেষশিশুতে প্রদর্শিত,
সেই মান্না-খাদ্যে পূর্বপুরুষদের কাছে নিবেদিত।

হে উত্তম পালক, হে প্রকৃত রুটি যিশু,
আমাদের প্রতি সদয় হও;
আমাদের পালন কর, আমাদের রক্ষা কর,
জীবিতের দেশে একদিন আমাদের দেখাও তোমার সকল মঙ্গলদান।

তুমি যে সবই জান, তুমি যে সবই পার,
তুমি যে খাদ্যরূপে নিজেকে দান করে মর্তবাসী এই আমাদের পরিতৃপ্ত কর,
তোমার নিখিল সাধুসাধ্বীর সাহচর্যে
তোমার এই ভাইবোনদের স্বর্গীয় ভোজে চালনা কর।

৮। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমিই সেই জীবনময় রুটি, যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে—প্রভুর উক্তি;
যদি কেউ এই রুটি খায়, তবে সে অনন্তকাল জীবিত থাকবে।
আল্লেলুইয়া।

৯। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৯:১১খ-১৭)

সেসময়ে যিশু লোকদের কাছে ঈশ্বরের রাজ্যের কথা বলতে লাগলেন, এবং যাদের সুস্থ হওয়ার প্রয়োজন ছিল তাদের সুস্থ করলেন।
পরে, যখন বেলা প্রায় পড়ে আসছে, তখন সেই বারোজন কাছে এসে তাঁকে বললেন, ‘লোকদের বিদায় দিন, যেন তারা আশেপাশের গ্রামে ও পল্লিতে পল্লিতে গিয়ে রাত কাটাবার জন্য স্থান পেতে পারে ও কিছু খাবারও পেতে পারে, কেননা এখানে আমরা নির্জন জায়গায় রয়েছি।’
তিনি তাঁদের বললেন, ‘তোমরাই এদের খেতে দাও।’ তাঁরা বললেন, ‘পাঁচখানা রুটি ও দু’টো মাছের বেশি কিছু আমাদের কাছে নেই; তবে কি আমরা নিজেরাই এই সমস্ত লোকের জন্য খাবার কিনতে যাব?’ বাস্তবিকই তারা আনুমানিক পাঁচ হাজার পুরুষ ছিল।
কিন্তু তিনি নিজ শিষ্যদের বললেন, ‘পঞ্চাশ পঞ্চাশজন করে এদের সারি সারি বসিয়ে দাও।’ তাঁরা সেইমত করলেন, সকলকে বসিয়ে দিলেন।
পরে তিনি সেই পাঁচখানা রুটি ও দু’টো মাছ হাতে নিয়ে স্বর্গের দিকে চোখ তুলে সেগুলোর উপর ‘ধন্য’ স্তুতিবাদ উচ্চারণ করলেন, সেগুলো ছিঁড়লেন, এবং লোকদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য তা শিষ্যদের দিলেন।
সকলে তৃপ্তির সঙ্গেই খেল; এবং যতগুলো টুকরো পড়ে রইল, তাঁরা তা কুড়িয়ে নিলে বারোখানা ডালা হল।
প্রভুর বাণী।

১০। উপদেশ
করিন্থীয়দের কাছে প্রথম পত্রে বিশপ সাধু জন খ্রিসোস্তমের উপদেশ

আমাদের ক্ষুধা মেটাবার জন্য খ্রিষ্ট নিজ দেহ আমাদের দান করলেন, তাতে সদা-মহত্তর বন্ধুত্বের বন্ধনে আমাদের নিজের কাছে আকর্ষণ করলেন। তাই এসো, ভক্তিভরে ও উদ্দীপ্ত ভালবাসার সঙ্গেই তাঁর কাছে এগিয়ে যাই, পাছে শাস্তির অধীন হই। কেননা আমরা যত মহত্তর অনুগ্রহ লাভ করব, নিজেদের তেমন উপকারের অযোগ্য দেখালে তত মহত্তর শাস্তি ভোগ করব।
সেই তিন পণ্ডিতেরাও জাবপাত্রে শায়িত এ দেহ আরাধনা করেছিলেন—এমন বিধর্মী মানুষ যাঁরা প্রকৃত ঈশ্বরকে জানতেন না, তাঁরা দেশ ও গৃহ ত্যাগ করে সুদীর্ঘ যাত্রা করে সভয়ে ও সকম্পে তাঁকে পূজা করতে এসেছিলেন। আমরা স্বর্গের নাগরিক যারা, এ বিধর্মীদের দৃষ্টান্তই কমপক্ষে যেন অনুকরণ করি। তাঁরা একটা জাবপাত্র ও একটা গুহার কাছে সভয়ে এগিয়ে গেছিলেন, আর তুমি এখন যা দেখতে পাচ্ছ তাঁরা তা দেখতে পাচ্ছিলেন না; কিন্তু তুমি তো একটা জাবপাত্রের দিকে নয়, একটি যজ্ঞবেদির দিকেই তাকাচ্ছ; তাঁকে বরণ করছেন এমন একটি নারীকেও দেখছ না, কিন্তু তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক যাজককেই দেখছ; সমস্ত উর্বরতার উৎস সেই আত্মাকেও দেখছ যিনি অর্ঘ্যের উপরে উড়তে থাকেন। তুমি তো কেবল সেই একই দেহটিকে দেখছ না, তাঁরা তা যেভাবে দেখেছিলেন, বরং তাঁর পরাক্রম ও তাঁর সমস্ত পরিকল্পনাও তুমি জানতে পেরেছ, আর তিনি যা যা করেছেন, এ সমস্ত বিষয় তুমি অবগতই আছ, যেহেতু দীক্ষিত হওয়ায় সমস্ত কিছুই মনোযোগের সঙ্গে শিখেছিলে। সুতরাং এসো, পবিত্র ভয়ে নিজেদেরই উদ্দীপিত করি, ও সেই বিধর্মীদের চেয়ে মহত্তর ভক্তি দেখাই, পাছে দুঃসাহসের সঙ্গে ও অন্যমনস্ক ভাবে তাঁর কাছে এগিয়ে গেলে নিজেদের উপরে আকাশের আগুন আকর্ষণ করি!
আমরা যেন তাঁর কাছে না যাই, এজন্য তো আমি একথা বলছি না বটে; আমার কথার উদ্দেশ্যই বরং আমরা উচিত ভয় অনুভব না করে যেন তাঁর কাছে না যাই। কেননা দুঃসাহসের সঙ্গে তাঁর কাছে যাওয়া যেমন বিপজ্জনক, তেমনি এ রহস্যময় ভোজে অংশ না নেওয়ার ফলে আমরা ক্ষুধা ও মৃত্যুতেই চালিত হব। কারণ এ ভোজ আমাদের প্রাণের শক্তি, আমাদের সমস্ত চিন্তা-ভাবনার ঐক্যের উৎস, আমাদের ভরসার আসল কারণ: এ ভোজ হল প্রত্যাশা, পরিত্রাণ, আলো, জীবন। যদি এ সমস্ত কিছু গ্রহণ করেই পরমপবিত্র যজ্ঞ থেকে বিদায় নিই, তাহলে সোনার রণসজ্জায়ই যেন সজ্জিত হয়ে আমরা তাঁর পুণ্য প্রাঙ্গণের দিকে ভরসার সঙ্গে যাত্রা করব।
আমি কি হয় তো ভাবী বিষয়েরই কথা বলছি? ইহলোকে থেকে, এখন থেকেই তোমার পক্ষে এ রহস্যটি হচ্ছে স্বর্গ ও পৃথিবী! তাই স্বর্গের দ্বার খুলে দিয়ে চেয়ে দেখ; এমনকি স্বর্গের দ্বার কেন? স্বর্গের স্বর্গেরই দ্বার খুলে চেয়ে দেখ, তবেই আমি যা যা বলে এসেছি তুমি তার দর্শন পাবে। সেখানে যা রয়েছে, তা সমস্ত বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়; আর আমি সেই বিষয়টি পৃথিবীতে উপস্থিত দেখাব। রাজপ্রাসাদে যেমন সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় দেওয়াল নয়, সোনার ছাদও নয়, কিন্তু সিংহাসনে আসীন রাজা, তেমনি স্বর্গের বিস্ময়ের বিষয় হলেন রাজা নিজেই।
অথচ তোমার পক্ষে এ পৃথিবীতেও এ সমস্ত কিছু দেখা সম্ভব; বাস্তবিকই আমি তোমাকে কোন দূত বা মহাদূত দেখাচ্ছি না, স্বর্গ বা স্বর্গের স্বর্গও নয়; এ সমস্ত কিছুর প্রভুকেই বরং আমি তোমাকে অর্পণ করছি। তাহলে তুমি কি দেখতে পাচ্ছ কেমন করে এই মর্তলোকেও সবচেয়ে মূল্যবান বিষয় দেখতে পাও? তুমি তাঁকে দেখতে পাও, আর শুধু তাই নয়, তাঁকে স্পর্শও করতে পার; আর শুধু তাই নয়, স্পর্শ করা ছাড়া তাঁকে খেতেও পার; আর তাঁকে গ্রহণ করার পর বাড়ি ফিরে যেতে পার। অতএব, তেমন মহারহস্য বরণ করার জন্য আত্মা পরিশুদ্ধ কর, অন্তর প্রস্তুত কর।

১১। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১২। অর্থদান

১৩। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৪। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৫। ধ্যান-গীতি: সাম ২৩
ধুয়ো:
প্রভু একথা বলছেন:
যে কেউ আমার মাংস খায় ও আমার রক্ত পান করে,
সে আমাতে বসবাস করে
আর আমি তার অন্তরে বসবাস করি। আল্লেলুইয়া।

প্রভু আমার পালক;
অভাব নেই তো আমার;
আমায় তিনি শুইয়ে রাখেন নবীন ঘাসের চারণমাঠে,
আমায় নিয়ে যান শান্ত জলের কূলে;

তিনি সঞ্জীবিত করেন আমার প্রাণ,
তাঁর নামের খাতিরে আমায় চালনা করেন ধর্মপথে।
মৃত্যু-ছায়ার উপত্যকাও যদি পেরিয়ে যাই,
আমি কোন অনিষ্টের ভয় করি না, তুমি যে আমার সঙ্গে আছ।

তোমার যষ্টি, তোমার পাচনি আমাকে সান্ত্বনা দেয়।
আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট আমার শত্রুদের সামনে;
আমার মাথা তুমি তৈলসিক্ত কর;
আমার পানপাত্র উচ্ছলিত।

মঙ্গল ও কৃপাই হবে আমার সহচর
আমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে,
আমি প্রভুর গৃহে ফিরব,
চিরদিনের মত।

১৬। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে খ্রিষ্ট প্রভু, তোমার অমূল্য দেহরক্ত গ্রহণে যে ঐশজীবনের আস্বাদ পেলাম, তোমার আশীর্বাদে যেন চিরকালের মতই
সেই ঐশজীবনের পূর্ণতা ভোগ করতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তুমি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৭। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


পরমারাধ্য যিশুহৃদয়
যিশুর হৃদয়
যা মানুষের প্রতি তাঁর ভালবাসার চিহ্ন।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আমাদের মিনতিতে সাড়া দিয়ে আশীর্বাদ কর:
আমরা যারা তোমার প্রিয় পুত্রের হৃদয়-মাহাত্ম্য বন্দনা ক’রে
আমাদের প্রতি তাঁর ভালবাসার শুভদান-সকল স্মরণ করি,
সেই আমরা যেন
স্বর্গীয় মঙ্গলদানের সেই উৎস থেকে উচ্ছ্বসিত অনুগ্রহধারায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী এজেকিয়েলের পুস্তক থেকে পাঠ (৩৪:১১-১৬)

প্রভু পরমেশ্বর একথা বলছেন: দেখ, আমি নিজেই আমার মেষপাল খোঁজ করব, তার উপর দৃষ্টি রাখব। বিক্ষিপ্ত পালের মধ্যে থাকার সময়ে পালক যেমন মেষগুলির উপর দৃষ্টি রাখে, তেমনি আমি আমার মেষগুলির উপর দৃষ্টি রাখব। মেঘাচ্ছন্ন ও অন্ধকারময় দিনে তারা যেখানে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছিল, সেই সমস্ত জায়গা থেকে আমি তাদের উদ্ধার করব।
আমি জাতিসকলের মধ্য থেকে তাদের বের করে আনব, সমস্ত দেশ থেকে তাদের সংগ্রহ করব, ও আমি তাদের নিজেদের দেশভূমিতে ফিরিয়ে আনব। আমি ইস্রায়েলের পর্বতে পর্বতে ও যত উপত্যকায় ও অঞ্চলের সকল চারণভূমিতে তাদের চরাব।
আমি সেরা চারণমাঠে তাদের চালনা করব, এবং তাদের ঘেরি হবে ইস্রায়েলের উচ্চ উচ্চ পর্বতের উপর; সেখানে তারা উত্তম ঘেরিতে শুয়ে বিশ্রাম করবে, এবং ইস্রায়েলের পর্বতমালায় উর্বরতম চারণমাঠে চরে বেড়াবে। আমি নিজেই আমার মেষগুলিকে চরাব, আমি নিজেই তাদের শুইয়ে রাখব—প্রভু পরমেশ্বরের উক্তি।
যে মেষ পথহারা আমি তাকে খোঁজ করব, যেটা পথভ্রষ্ট তাকে ফিরিয়ে আনব, যেটা ক্ষতবিক্ষত তার ক্ষতস্থান বেঁধে দেব, যেটা দুর্বল তাকে বলবান করব, যেটা হৃষ্টপুষ্ট ও বলবান তাকে প্রতিপালন করব। আমি ন্যায়ের সঙ্গেই তাদের চরাব।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ২৩
ধুয়ো:
প্রভু আমার পালক;
অভাব নেই তো আমার।

প্রভু আমার পালক;
অভাব নেই তো আমার।
আমায় তিনি শুইয়ে রাখেন নবীন ঘাসের চারণমাঠে,
আমায় নিয়ে যান শান্ত জলের কূলে;   [ধুয়ো]

তিনি সঞ্জীবিত করেন আমার প্রাণ,
তাঁর নামের খাতিরে আমায় চালনা করেন ধর্মপথে।
মৃত্যু-ছায়ার উপত্যকাও যদি পেরিয়ে যাই,
আমি কোন অনিষ্টের ভয় করি না, তুমি যে আমার সঙ্গে আছ।   [ধুয়ো]

তোমার যষ্টি, তোমার পাচনি আমাকে সান্ত্বনা দেয়।
আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট আমার শত্রুদের সামনে;
আমার মাথা তুমি তৈলসিক্ত কর;
আমার পানপাত্র উচ্ছলিত।   [ধুয়ো]

মঙ্গল ও কৃপাই হবে আমার সহচর
আমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে,
আমি প্রভুর গৃহে বাস করব
চিরদিনের মত!   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
রোমীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৫:৫-১১)

প্রিয়জনেরা, ঈশ্বরের ভালবাসা আমাদের হৃদয়ে সঞ্চারিত হয়েছে সেই পবিত্র আত্মা দ্বারা যাঁকে আমাদের দেওয়া হয়েছে।
কেননা আমরা যখন শক্তিহীন ছিলাম, তখনই খ্রিষ্ট উপযুক্ত সময়ে ভক্তিহীনদের জন্য মরলেন। বস্তুত ধার্মিকের জন্য প্রায় কেউই মরতে সম্মত নয়, হয় তো এমন কেউ থাকতে পারে, যে সৎমানুষের জন্যই মরতে সাহস করে। কিন্তু ঈশ্বর আমাদের প্রতি তাঁর ভালবাসা প্রমাণ করছেন, কেননা আমরা যখন পাপী ছিলাম, তখনই খ্রিষ্ট আমাদের জন্য মরলেন।
সুতরাং এখন তাঁর রক্তে আমাদের যখন ধর্মময় বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে, তখন ঐশক্রোধ থেকে যে আমরা তাঁরই দ্বারা পরিত্রাণ পাব, তা আরও কতই না সুনিশ্চিত। কেননা আমরা যখন শত্রু ছিলাম, তখন যদি তাঁর পুত্রের মৃত্যু দ্বারা ঈশ্বরের সঙ্গে পুনর্মিলিত হলাম, তবে পুনর্মিলিত হয়ে আমরা যে তাঁর জীবনের মধ্য দিয়ে পরিত্রাণ পাব, তা আরও কতই না সুনিশ্চিত! শুধু তাই নয়: যাঁর দ্বারা পুনর্মিলন পেয়ে গেছি, আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের মাধ্যমে আমরা এখন ঈশ্বরে গর্ববোধও করে থাকি।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমার জোয়াল কাঁধে তুলে নাও—একথা বলছেন প্রভু;
আমার কাছ থেকে শিখে নাও, কারণ আমি কোমল ও নম্রহৃদয়।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৫:৩-৭)

একদিন যিশু ফরিসি ও শাস্ত্রীদের এই উপমা-কাহিনী শোনালেন: ‘আপনাদের মধ্যে কোন্‌ লোক, যার একশ’টা মেষ আছে, তাদের মধ্যে একটা হারিয়ে গেলে সে বাকি নিরানব্বইটাকে প্রান্তরে ফেলে রেখে যায় না, ও হারানোটাকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তার খোঁজে বেড়ায় না?
খুঁজে পেলে সে মনের আনন্দে তা কাঁধে তুলে নেয়, এবং বাড়ি গিয়ে বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের ডেকে বলে, আমার সঙ্গে আনন্দ কর, কারণ আমার যে মেষ হারানো ছিল, তা খুঁজে পেয়েছি।
আমি তোমাদের বলছি, তেমনি ভাবে, যাদের মনপরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই, এমন নিরানব্বইজন ধার্মিককে নিয়ে স্বর্গে যত আনন্দ হয়, তার চেয়ে বেশি আনন্দ হবে যখন একজন পাপী মনপরিবর্তন করে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
১১৮ নং সামসঙ্গীতে বিশপ সাধু আম্ব্রোজের ব্যাখ্যা

সুসমাচারে স্বয়ং প্রভু যিশু বলেন যে হারানো একটিমাত্র মেষের সন্ধান করতে তিনি বাকি নিরানব্বইটাকে ফেলে রেখেছিলেন। যে মেষ হারিয়ে গেছিল, আমরা সেটিকে একশততম বলে থাকি: নিখুঁত সংখ্যাটির পরিপূর্ণতা ব্যাপারটা উপলব্ধি করার জন্য তোমাকে উদ্বুদ্ধ করুক। এ মেষটি প্রীতির পাত্র, আর এ যুক্তিসঙ্গত বটে, কেননা চেতনাহীন সান্নিধ্যের তুলনায় অমঙ্গল থেকে চেতনাপূর্ণ পুনরাগমন অধিক মূল্যবান। রিপুতে ভরা আত্মার সংস্কার করা, ও বিশৃঙ্খল দুর্মতির বন্ধন থেকে আত্মাকে মুক্ত করা কেবল উত্তম সদ্‌গুণেরই প্রমাণ নয়, কিন্তু ঐশঅনুগ্রহের কার্যকর সান্নিধ্যেরও প্রমাণ। কেননা ভাবী জীবন সংস্কার করা মানুষের সঙ্কল্পের অধীন, কিন্তু অতীত জীবনের অপরাধ ক্ষমা করা ঈশ্বরের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।
মেষটিকে অবশেষে খুঁজে পেয়ে পালক তা কাঁধে তুলে নিলেন। রহস্যটিই বিশেষভাবে লক্ষ কর, অর্থাৎ লক্ষ কর মেষটিকে কেমন আরাম দেওয়া হয়: পরিশ্রান্ত সৃষ্টজীব নতুন শক্তি পেতে পারে না, যদি তা না পায় সেই প্রভুর যন্ত্রণাভোগে ও সেই যিশুখ্রিষ্টের রক্তে যাঁর কাঁধে আধিপত্য-ভার (ইসা ৯:৫): হ্যাঁ, সেই ক্রুশের উপরে তিনি আমাদেরই যন্ত্রণা তুলে বহন করেছেন (ইসা ৫৩:৪) যাতে সেই ক্রুশেই সকলের পাপ নিঃশেষ করতে পারেন। স্বর্গদূতেরা আনন্দ করেন, তাও সমীচীন, কেননা যে ন্যায়পথ থেকে সরে গেছিল, সে এখন আর পথভ্রষ্ট নয়—তার ভ্রান্তি নিঃশেষেই বিস্মৃত!
আমি হারানো মেষের মত ঘুরে ঘুরে চলি, তোমার দাসের সন্ধান কর, আমি তো ভুলিনি তোমার আজ্ঞাবলি (সাম ১১৯:১৭৬)। তোমার দাসের সন্ধান কর, কেননা পালক হারানো মেষের সন্ধান না করলে মেষটা মরবেই। কিন্তু যে দূরে চলে গেছিল, সে ন্যায়পথে আবার ফিরে আসতে পারে, তাকে আবার ডাকা যেতে পারে। তাই প্রভু যিশু, এসো, সেই যোসেফের মত তোমার মেষগুলির সন্ধান কর। তুমি দেরি করছিলে, তুমি পর্বতে পর্বতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলে, এমন সময় তোমার মেষ হারিয়ে গেল। তোমার এই একমাত্র মেষ যা পথে হারিয়ে গেছে, তোমার বাকি নিরানব্বইটাকে ফেলে রেখে তার সন্ধান করতে এসো। এসো, কিন্তু দণ্ড নিয়ে নয়, তোমার আত্মার প্রেম ও মমতা নিয়ে। আমার সন্ধান কর, আমি তো তোমার বাসনা করি। আমার সন্ধান কর, আমাকে খুঁজে পাও, আমাকে গ্রহণ কর, আমাকে তুলে বহন কর। যার সন্ধান কর, তাকে তুমি খুঁজে পেতে সক্ষম; যার সন্ধান পেয়েছ, তাকে তুমি তো প্রসন্ন হয়ে গ্রহণ কর; আর যাকে গ্রহণ করেছ, তাকে তুমি মমতাপূর্ণ হয়ে কাঁধে তুলে ফিরিয়ে আন। এই ভক্তের বোঝা তোমাকে ক্লান্ত করে না, যাকে ধর্মময় করে তুলেছ সে তোমার পক্ষে বোঝা নয়। তাই প্রভু, এসো, কেননা হারিয়ে গিয়েও তবু আমি তো ভুলিনি তোমার আজ্ঞাবলি: আমি প্রত্যাশা রাখি, সুস্থ হয়ে উঠব। এসো, প্রভু, কেননা কেবল তুমিই পথভ্রষ্ট মেষ ডাকতে পার; আর যাদের তুমি একা ফেলে রেখেছ তাদের শোকার্ত করবে না, আর শুধু তা নয়, তারা নিজেরাই পাপীদের কাছে নিজেদের প্রত্যাগমনের আনন্দ প্রকাশ করবে। এসো, পৃথিবীতে পরিত্রাণ ও স্বর্গে আনন্দ এনে দাও। তাই এসো, তোমার মেষের সন্ধান কর: দাস বা বেতনভোগী পাঠিয়ো না, তুমি নিজেই এসো। আদমে বিকৃত আমার এই মাংসে আমাকে গ্রহণ কর। সেই সারার সন্তানের মত নয়, কিন্তু সেই অক্ষুণ্ণ কুমারী, পাপের কালিমা থেকে মুক্তা সেই অনুগ্রহধন্যা কুমারীর সন্তানেরই মত আমাকে গ্রহণ কর। সেই যে ক্রুশ পথভ্রষ্টদের পরিত্রাণ, তার উপরে নিজের সঙ্গে আমাকেও তুলে আন: পরিশ্রান্ত মানুষ কেবল সেই ক্রুশেই বিশ্রাম পায়, মৃত সমস্ত মানুষ কেবল সেই ক্রুশেই জীবন পায়।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
সৈন্যদের একজন তাঁর বুকের পাশটিতে বর্শা বিঁধিয়ে দিল
আর তখনই নিঃসৃত হল রক্ত আর জল।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু,
ভালবাসার এ সাক্রামেন্ত আমাদের সকলকে পবিত্র ভক্তিতে উদ্দীপিত করুক,
তোমার পুত্রের প্রতি সর্বদাই আকর্ষিত হয়ে
আমরা যেন ভাইবোনদের মধ্যে তাঁকে চিনতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


বিশ্বরাজ আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট
খ্রিষ্ট এমন রাজা
যাঁর রাজদণ্ড হলো ক্রুশ,
যিনি আত্মবলিদান করে রাজত্ব করেন।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, বিশ্বরাজ তোমার সেই প্রিয় পুত্রেই
তুমি সমস্ত কিছু নবপ্রতিষ্ঠিত করতে ইচ্ছা করেছ।
প্রসন্ন হয়ে আশীর্বাদ কর: দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে
নিখিল সৃষ্টি যেন তোমার ঐশমহিমার সেবায় রত হয়ে
তোমার অবিরত গুণকীর্তন করতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
সামুয়েলের দ্বিতীয় পুস্তক থেকে পাঠ (৫:১-৩)

সেসময়ে ইস্রায়েলের সমস্ত গোষ্ঠী হেব্রোনে দাউদের কাছে এসে বলল, ‘দেখুন, আমরা আপনার নিজের হাড় ও আপনার নিজের মাংস! আগে যখন সৌল আমাদের রাজা ছিলেন, তখনও আপনিই ইস্রায়েলকে রণ-অভিযানে নিয়ে যেতেন ও ফিরিয়ে আনতেন। প্রভু আপনাকেই বলেছেন: তুমিই আমার জনগণ ইস্রায়েলকে চরাবে, তুমিই ইস্রায়েলের জননায়ক হবে।’
তাই ইস্রায়েলের প্রবীণেরা সকলে মিলে হেব্রোনে রাজার কাছে এলেন, আর দাউদ রাজা হেব্রোনে প্রভুর সাক্ষাতে তাঁদের সঙ্গে একটা সন্ধি স্থির করলেন, এবং তাঁরা দাউদকে ইস্রায়েলের উপরে রাজপদে তৈলাভিষিক্ত করলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১২২
ধুয়ো:
আমরা আনন্দের সঙ্গে
যাব প্রভুর গৃহে।

আমি আনন্দ পেলাম ওরা যখন আমাকে বলল,
‘এসো, চলি প্রভুর গৃহে!’
এখন এসে থেমেছে আমাদের চরণ
তোমার তোরণদ্বারে, হে যেরুসালেম।   [ধুয়ো]

সেইখানে উঠে আসে গোষ্ঠীসকল, প্রভুরই গোষ্ঠীসকল—
ইস্রায়েলের বিধি তো তারা করবে প্রভুর নামের স্তুতি,
সেইখানে যে অধিষ্ঠিত আছে বিচারাসনগুলি,
দাউদকুলের সিংহাসনগুলি।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
কলসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১:১১-২০)

প্রিয়জনেরা, যিনি আলোয় তাঁর পবিত্রজনদের স্বত্বাংশে অংশীদার হবার যোগ্যতা আমাদের দান করেছেন, আনন্দের সঙ্গে সেই পিতাকে ধন্যবাদ জানাও।
তিনি অন্ধকারের কর্তৃত্ব থেকে আমাদের নিস্তার করে তাঁর সেই প্রিয়তম পুত্রের রাজ্যে স্থানান্তর করেছেন, যাঁর দ্বারা আমরা ভোগ করি মুক্তি, অর্থাৎ পাপমোচন।
তিনি তো অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি,
তিনি তো নিখিল সৃষ্টির প্রথমজাত,
কারণ স্বর্গলোকে ও পৃথিবীতে দৃশ্য-অদৃশ্য যা কিছু আছে
—ঊর্ধ্বলোকের যত সিংহাসন,
যত প্রভুত্ব, আধিপত্য ও কর্তৃত্ব—
সবই তাঁরই মধ্যে সৃষ্ট হয়েছে।
সমস্ত কিছু সৃষ্ট হয়েছে তাঁরই দ্বারা এবং তাঁকেই উদ্দেশ্য ক’রে;
সমস্ত কিছুর আগেই তিনি আছেন,
সমস্ত কিছু তাঁরই মধ্যে একতাবদ্ধ।
তিনি তো দেহের, অর্থাৎ মণ্ডলীর মাথা;
তিনি তো আদি, তিনি তো মৃতদের মধ্য থেকে প্রথমজাত,
সবকিছুতে তিনিই যেন শীর্ষপদের অধিকারী হতে পারেন।
এটি ছিল ঈশ্বরের মঙ্গল-ইচ্ছা:
তাঁর আপন পরিপূর্ণতা তাঁর মধ্যে বসবাস করবে,
এবং তাঁর ক্রুশীয় রক্তের মধ্য দিয়ে শান্তি আনায়
তাঁরই দ্বারা পৃথিবীতে ও স্বর্গলোকে
সমস্তই তিনি নিজের সঙ্গে পুনর্মিলিত করবেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যিনি প্রভুর নামে আসছেন, তিনি ধন্য!
ধন্য আমাদের পিতা দাউদের আসন্ন রাজ্য!
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২৩:৩৫-৪৩)

[যিশুকে ক্রুশে দেওয়া হয়েছিল, আর] জনগণ সেখানে দাঁড়িয়ে দেখছিল। সমাজনেতারাও যিশুকে উপহাস করে বলতে লাগলেন, ‘ও অপরকে ত্রাণ করেছে; ও যদি ঈশ্বরের সেই খ্রিষ্ট, যদি তাঁর সেই মনোনীতজন হয়, নিজেকেই ত্রাণ করুক।’
সৈন্যেরাও তাঁকে বিদ্রূপ করছিল, তাঁকে সির্কা দেবার জন্য কাছে গিয়ে বলছিল, ‘তুমি যদি ইহুদীদের রাজা হও, তবে নিজেকে ত্রাণ কর।’ তাঁর মাথার উপরে একটা লিপিফলক ছিল: এ ইহুদীদের রাজা।
যে দু’জন অপকর্মা ক্রুশে ঝুলে ছিল, তাদের একজন তাঁকে এই বলে টিটকারি দিচ্ছিল, ‘তুমি কি সেই খ্রিষ্ট নও? নিজেকে ও আমাদের ত্রাণ কর।’ কিন্তু অপর একজন ভর্ৎসনা করে তাকে বলল, ‘তুমি কি ঈশ্বরকেও ভয় কর না? তুমিও তো একই দণ্ড ভোগ করছ; কিন্তু আমরা ন্যায়সঙ্গতই দণ্ড পাচ্ছি, কারণ আমরা যা যা করেছি, তার যোগ্য প্রতিফল পাচ্ছি, কিন্তু এ কোন দোষ করেনি।’
পরে সে বলল, ‘যিশু, তুমি যখন রাজমহিমায় আসবে, তখন আমার কথা মনে রেখ।’ তিনি তাকে বললেন, ‘আমি তোমাকে সত্যি বলছি, আজই তুমি পরমদেশে আমার সঙ্গে স্থান পাবে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু জন খ্রিসোস্তমের উপদেশ

যিশু, তুমি যখন রাজ-মহিমায় আসবে, তখন আমার কথা মনে রেখ (লুক ২৩:৪২)। নিজেকে দস্যু বলে স্বীকার করায় নিজ পাপের বোঝা ঝেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত দস্যুটা এ উক্তি উচ্চারণ করার সাহস পায়নি। তবে তুমি কি দেখতে পাচ্ছ পাপস্বীকার কেমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার? সে স্বীকার করল, আর পরমদেশ উন্মুক্ত হল: সে স্বীকার করল, আর এমন আস্থা পেল যে, দস্যু হয়েও রাজ্যই যাচনা করল। তুমি কি দেখতে পাচ্ছ, ক্রুশ আমাদের পক্ষে কতগুলো মঙ্গলদানের কারণ হল? তুমি কি রাজ্য যাচনা করছ? তবে সামনে কী দেখতে পাচ্ছ? সামনে রয়েছে পেরেক, সামনে রয়েছে ক্রুশ! কিন্তু ঠিক এই ক্রুশই তো রাজ্যের প্রতীক; আর তাঁকে ক্রুশে বিদ্ধ দেখতে পাচ্ছি বিধায় আমি স্বয়ং রাজাকে ডাকছি, কেননা প্রজাদের হয়ে মৃত্যুবরণ করাই রাজার ভূমিকা। তিনি নিজেও বলেছিলেন: উত্তম পালক মেষগুলোর জন্য নিজের প্রাণ বিসর্জন দেয় (যোহন ১০:১১), ফলে উত্তম রাজাও প্রজাদের জন্য নিজ প্রাণ বিসর্জন দেন। সুতরাং তিনি নিজ প্রাণ বিসর্জন দিলেন বিধায়ই আমি সেই রাজাকে ডাকি: প্রভু, তোমার রাজ-মহিমায় আমার কথা মনে রেখ।
তুমি কি দেখতে পাচ্ছ কেমন করে ক্রুশ রাজ্যের প্রতীক? এবিষয়ে কি অন্য প্রমাণ চাও? ক্রুশটিকে তিনি এ পৃথিবীতে রেখে যাননি, কিন্তু তা নিজের সঙ্গে টেনে নিয়ে স্বর্গে গেলেন। তেমন কথা কিসের উপর নির্ভর করে? কেননা তাঁর সেই দ্বিতীয় ও গৌরবময় আগমনের সময়ে তাঁর সঙ্গে ক্রুশও থাকবে, যাতে তুমি জানতে পার, ক্রুশ কেমন সম্মানের যোগ্য, এও জানতে পার, কেনই বা তিনি তা গৌরব বলে অভিহিত করলেন।
এখন কিন্তু এসো, দেখি কেমন করে ক্রুশ নিয়ে তিনি আসেন; কেননা একথা সূক্ষ্মরূপে ব্যাখ্যা করা একান্ত প্রয়োজন। লোকে যদি বলে, দেখ, তিনি প্রান্তরে, তোমরা বেরিয়ে পড়ো না; দেখ, তিনি বাড়ির ভিতরে, তোমরা তা বিশ্বাস করো না (মথি ২৪:২৬)। তিনি এরূপে নিজ দ্বিতীয় গৌরবময় আগমনের কথাই ইঙ্গিত করছিলেন, যাতে কেউই নকল খ্রিষ্ট বা খ্রিষ্টবৈরীর ফাঁদে ও প্রবঞ্চনায় না পড়ে। আর যেহেতু খ্রিষ্টের আগে সেই খ্রিষ্টবৈরী আসবে, সেজন্য পালকের খোঁজ করতে করতে কেউই যেন নেকড়ের দাঁতে না পড়ে, আমি তোমাকে পালকের আগমনের পূর্বলক্ষণ দিলাম; উপরন্তু, যেহেতু তাঁর প্রথম আগমন গুপ্ত অবস্থায় ঘটেছিল, সেজন্য তুমি যেন তাঁর ভাবী আগমনও তেমনি গুপ্ত বলে মনে না কর, তিনি তোমাকে একটা চিহ্ন দিলেন। প্রথম আগমন ন্যায়সঙ্গতভাবেই গুপ্ত অবস্থায় ঘটেছিল: কেননা যা হারানো ছিল, তিনি তা খোঁজ করতে এসেছিলেন; কিন্তু এই দ্বিতীয় আগমনের বেলায় তেমনি হবে না। তাহলে তা কেমন হবে? বিদ্যুৎ-ঝলক যেমন পুবদিক থেকে নির্গত হয়ে পশ্চিমদিক পর্যন্ত প্রকাশ পায়, মানবপুত্রের আগমন ঠিক তেমনি হবে (মথি ২৪:২৭)। তিনি হঠাৎ সকলের সামনে আবির্ভূত হবেন, আর দরকার হবে না যে কেউ জিজ্ঞাসা করবে তিনি এখানে না ওখানে; কেননা বিদ্যুৎ-ঝলক আবির্ভূত হলে যেমন আর দরকার হয় না যে কেউ জিজ্ঞাসা করবে তা আবির্ভূত হয়েছে কিনা, তেমনি খ্রিষ্টের আগমনেও আর দরকার হবে না যে কেউ জিজ্ঞাসা করবে, খ্রিষ্ট এসেছেন কিনা।
আগে প্রশ্ন রেখেছিলাম, ক্রুশ নিয়ে তিনি আসবেন কিনা; এপ্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দেব বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা ভুলে যাইনি; তবে পরবর্তী কথা মনোযোগ দিয়ে শোন। তিনি বললেন, ‘তখনই।’ কিন্তু আমি জিজ্ঞাসা করি, ‘কোন্‌ সময়ে?’ যখন মানবপুত্র আসবেন, তখন সূর্য অন্ধকারময় হবে, চাঁদও নিজের জ্যোৎস্না আর ছড়িয়ে দেবে না (মথি ২৪:২৯)। সেসময়ে এমন উজ্জ্বল আলো দেখা দেবে, যা তারকারাজির উজ্জ্বলতাকেও অন্ধকারময় করবে। তখন আকাশ থেকে তারাগুলোর পতন হবে; তখন মানবপুত্রের চিহ্নটা আকাশে দেখা দেবে (মথি ২৪:৩০)। তুমি কি দেখতে পাচ্ছ, ক্রুশচিহ্নের কেমন শক্তি? রাজা নগরীতে প্রবেশ করলে যেমন সৈন্যরা তাঁর আগমনের সংবাদ দেবার উদ্দেশ্যে তাঁর নানা চিহ্ন ও পতাকা বহন করে তাঁর আগে আগে পথ চলে, তেমনি প্রভু স্বর্গ থেকে নেমে এলে দূত-মহাদূতবাহিনী তাঁর এই চিহ্ন উচ্চ করে বহন করে আমাদের কাছে এই সংবাদ দেবেন যে, রাজা আগমন করছেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৯
ধুয়ো:
প্রভু রাজারূপে চিরসমাসীন।
প্রভু তাঁর আপন জাতিকে ধন্য করবেন শান্তিদানে।

প্রভুতে আরোপ কর তোমরা, হে ঈশ্বরের সন্তান,
প্রভুতে আরোপ কর গৌরব ও শক্তি।
প্রভুতে আরোপ কর তাঁর নামের গৌরব,
তাঁর পবিত্রতার আবির্ভাবে প্রভুর সম্মুখে কর প্রণিপাত।   [ধুয়ো]

প্রভুর কণ্ঠস্বর এরসগাছ ভেঙে ফেলে,
প্রভু লেবাননের এরসগাছ ভেঙে ফেলেন।
তাঁর কণ্ঠস্বরে লেবানন লাফিয়ে ওঠে বাছুরের মত,
সিরিয়োন মহিষশাবকের মত।   [ধুয়ো]

প্রভু জলপ্লাবনের উপরে সমাসীন,
প্রভু রাজারূপে চিরসমাসীন।
প্রভু তাঁর আপন জাতিকে শক্তি দেন,
প্রভু তাঁর আপন জাতিকে ধন্য করেন শান্তিদানে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, অমরত্বদানকারী খাদ্য গ্রহণ করে আমরা তোমাকে অনুনয় করি:
আমরা যেমন বিশ্বরাজ খ্রিষ্টের আজ্ঞা পালনে গর্ববোধ করি,
তেমনি যেন তোমার স্বর্গীয় রাজ্যে
তাঁর সঙ্গে চিরকালের মত বাস করতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।(br>) সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]