সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
পাস্কাকাল

প্রভু যিশুর পুনরুত্থান (সাধু বেনেডিক্ট মঠ - উপাসনালয়)
* বাংলাদেশে প্রভুর স্বর্গারোহণ মহাপর্ব ৭ম রবিবারে পালিত হয়।    
অনুষ্ঠানসমূহ: পাস্কা-নিশিজাগরণী | পাস্কা-রবিবার | ২য় রবিবার | ৩য় রবিবার | ৪র্থ রবিবার | ৫ম রবিবার | ৬ষ্ঠ রবিবার | স্বর্গারোহণ | ৭ম রবিবার | পঞ্চাশত্তমী

পবিত্র রাত্রিতে পাস্কা-জাগরণী
১। প্রাচীনতম ঐতিহ্য অনুসারে, এটি হল প্রভুর পক্ষে সেই জাগরণ-রাত্রি (যাত্রা ১২:৪২), যে রাত্রিতে সুসমাচারের সতর্ক-বাণী (লুক ১২:৩৫-৩৭) অনুসরণ করে জ্বলন্ত বাতি হাতে খ্রিষ্টবিশ্বাসী তাদেরই মত হতে চেষ্টা করবে যারা প্রভু কবে ফিরবেন সেই অপেক্ষায় থাকে, যাতে আগমন করলে তিনি তাদের জাগ্রত পেয়ে আপন ভোজে তাদের আসন নিতে দেন।
২। রাত্রি-জাগরণীই সকল মহা অনুষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে মহান ও গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানটি এমনভাবে বিন্যস্ত যাতে আলোর অনুষ্ঠান ও পাস্কা-ঘোষণার পর (এ দু’টো অনুষ্ঠানই এই জাগরণীর প্রথম ভাগ), মণ্ডলী সেই সকল অপরূপ কাজ অনুধ্যান করে যা প্রভু ঈশ্বর আদি থেকে আপন জনগণের জন্য সাধন করেছেন; মণ্ডলী তাঁর বাণী ও প্রতিজ্ঞাগুলোতেও আস্থা রাখে (দ্বিতীয় ভাগ তথা বাণী উপাসনা) যে পর্যন্ত দিন ঘনিয়ে এলে বাপ্তিস্মে নবজীবন-প্রাপ্ত নব-সদস্যের সঙ্গে (তৃতীয় ভাগ) মণ্ডলী সেই ভোজনপাটের ধারে আহূত হয় যা প্রভু আপন জনগণের জন্য সাজিয়ে রেখেছেন, তথা প্রভুর মৃত্যু ও পুনরুত্থানের স্মরণার্থে সেই অনুষ্ঠানে আহূত, যতদিন তিনি না পুনরাগমন করেন (চতুর্থ ভাগ)।
৩। পুরো পাস্কা-জাগরণী অনুষ্ঠান রাত্রিতেই সম্পাদিত হওয়া চাই, যাতে রাত নামার পরেই তা শুরু হয় ও রবিবার ভোরের আগে শেষ হয়।
৪। মধ্যরাতের আগেও সম্পাদিত হলেও জাগরণীর মিসা পুনরুত্থান-রবিবারের একটি পাস্কা-মিসা বলে গণ্য।

প্রথম ভাগ
জাগরণীর মহা উদ্বোধন অনুষ্ঠান বা ‘আলোর অনুষ্ঠান’
অগ্নি আশীর্বাদ ও মোমবাতি প্রতিষ্ঠা

৫। ঘরের বাইরে কোন উপযুক্ত স্থানে আগুন জ্বালানো হয়। ঘরের সকলে সেখানে সমবেত থাকবেন; একজনের হাতে থাকবে পাস্কা-মোমবাতি।
৬। অনুষ্ঠাতা ‘পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে’ বলার সময়ে সকলে ক্রুশের চিহ্ন করেন; তারপর অনুষ্ঠাতা যথারীতি সমবেত সকলকে উদ্দেশ করে সম্ভাষণ-বাণী উচ্চারণ করেন এবং নিচের কথায় রাত্রি-জাগরণীর তাৎপর্য সংক্ষেপে বুঝিয়ে দেন:
প্রিয়জনেরা, এ পবিত্রতম রাত্রিতে আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট
মৃত্যু থেকে জীবনে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।
তাই এ রাত্রিতে মণ্ডলী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া তার সন্তানদের
আহ্বান জানাচ্ছে তারা যেন জাগরণ পালন করতে
ও প্রার্থনা করতে সম্মিলিত হয়।
সুতরাং, আমরা যদি প্রভুর বাণী-শ্রবণে ও তাঁর রহস্যগুলো উদ্‌যাপনে
প্রভুর পাস্কার স্মরণার্থ এ অনুষ্ঠান সম্পাদন করি,
তাহলে এ আশা রাখতে পারব যে,
আমরাও মৃত্যুর উপরে প্রভুর বিজয়ের সহভাগী হব
ও তাঁর সঙ্গে ঈশ্বরে জীবনযাপন করব।

৭। এসময় অনুষ্ঠাতা প্রসারিত বাহুতে এ বলে আগুন আশীর্বাদ করেন:
এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তোমার পুত্রের মধ্য দিয়ে
তুমি তোমার ভক্তগণকে তোমার গৌরবের অগ্নিশিখার অংশী করেছ:
এ নতুন আগুন পবিত্রিত কর।
আশীর্বাদ কর:
এই পাস্কা-উৎসব আমাদের সকলকে
স্বর্গীয় কামনায় প্রজ্বলিত করুক যেন শোধিত অন্তরে
চিরন্তন দীপ্তির উৎসবে উপনীত হতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৮। নতুন আগুন আশীর্বাদের পর, উপস্থিতদের একজন অনুষ্ঠাতার সামনে পাস্কা-মোমবাতি আনলে অনুষ্ঠাতা একটি ছুরি দিয়ে বাতির গায়ে ক্রুশ চিহ্ন এঁকে দেন। পরে, ক্রুশের উপরে এঁকে দেন আল্ফা গ্রীক অক্ষর, নিচে ওমেগা অক্ষর, এবং ক্রুশের চার বাহুর মাঝখানে চলতি সনের চার সংখ্যা। তা করার সময় তিনি বলেন:
image ১। খ্রিষ্ট ছিলেন, খ্রিষ্ট আছেন।
(তিনি উপর থেকে নিচের দিকে একটা রেখা টেনে নেন)
২। তিনিই আদি, তিনিই অন্ত।
(তিনি বাঁ থেকে ডানের দিকে একটা রেখা টেনে নেন)
৩। তিনিই আল্ফা।
(তিনি লম্বা রেখার উপরে আল্ফা অক্ষরটি এঁকে দেন)
৪। তিনিই ওমেগা।
(তিনি লম্বা রেখার নিচে ওমেগা অক্ষরটি এঁকে দেন)
৫। তাঁরই হাতে কাল-চক্র।
(তিনি চলতি সনের প্রথম সংখ্যা ক্রুশের উপরের বাঁ কোণে এPঁক দেন)
৬। তাঁরই হাতে অনন্ত কাল।
(তিনি চলতি সনের দ্বিতীয় সংখ্যা ক্রুশের উপরের ডান কোণে এঁকে দেন)
৭। গৌরব ও পরাক্রম তাঁরই।
(তিনি চলতি সনের তৃতীয় সংখ্যা ক্রুশের নিচের বাঁ কোণে এঁকে দেন)
৮। যুগ যুগান্তরে। আমেন।
(তিনি চলতি সনের চতুর্থ সংখ্যা ক্রুশের নিচের ডান কোণে এঁকে দেন)

৯। ক্রুশের গায়ে ক্রুশ ও অন্য সকল চিহ্ন এঁকে দেওয়ার পর, ধূপ-কাঠী থাকলে, অনুষ্ঠাতা বাতির গায়ে পাঁচটি ধূপ-কাঠি ক্রুশ আকারে ঢোকান। ঢোকানোর সময় তিনি বলেন:
image ১। তাঁর পবিত্র
২। ও গৌরবময় পঞ্চক্ষতের গুণে
৩। খ্রিষ্ট প্রভু
৪। আমাদের রক্ষা করুন
৫। ও প্রতিপালন করুন। আমেন।

১০। অনুষ্ঠাতা নতুন আগুন থেকে এ বলে পাস্কা-মোমবাতি জ্বালান:
মহাগৌরবে পুনরুত্থিত খ্রিষ্টের আলো
মনপ্রাণের সমস্ত অন্ধকার দূর করে দিক।

১১। পাস্কা-মোমবাতি জ্বালানো হওয়ার পর উপস্থিতদের মধ্যে একজন আগুন থেকে কয়লা তুলে তা ধূপপাত্রে রাখেন, এবং অনুষ্ঠাতা তাতে যথারীতি ধূপ দেন। সেই একজন পাস্কা-মোমবাতি ধরেন আর এভাবে শোভাযাত্রা গঠিত হয়। ধূপবাহক সেবাকর্মী ধূমায়মান ধূপপাত্র নিয়ে তাঁরই আগে আগে চলেন যিনি পাস্কা-মোমবাতি বহন করেন। এঁদের পরে অনুষ্ঠাতা ও বাকি সকলে: সকলের হাতে থাকবে একটা করে মোমবাতি যা জ্বলন্ত নয়।
ঘরের প্রবেশদ্বারে পাস্কা-বাতিবাহক থেমে বাতিটি উচ্চ করতে করতে গান করেন:
খ্রিষ্টের আলো।
তাতে সকলে উত্তরে গান করেন:
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।
এসময় অনুষ্ঠাতা পাস্কা-মোমবাতির অগ্নিশিখা থেকে নিজের বাতি জ্বালান।

১২। তারপর পাস্কা-বাতিবাহক ঘরের মাঝখানের দিকে এগিয়ে যান, এবং সেখানে থেমে বাতিটি উচ্চ করতে করতে দ্বিতীয় বারের মত গান করেন:
খ্রিষ্টের আলো।
তাতে সকলে উত্তরে গান করেন:
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।
এসময় সকলে পাস্কা-মোমবাতির অগ্নিশিখা থেকে নিজ নিজ বাতি জ্বালান এবং শোভাযাত্রা করে অগ্রসর হন।

১৩। বেদির বা আসনের সামনে এলে পাস্কা-বাতিবাহক থামেন এবং সকলের দিকে ফিরে বাতিটি উচ্চ করতে করতে তৃতীয় বারের মত গান করেন:
খ্রিষ্টের আলো।
তাতে সকলে উত্তরে গান করেন:
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।
এবার তিনি পাস্কা-মোমবাতিটি বেদির বা আসনের পাশে প্রস্তুত করা এক দীপাধারে রাখেন।
এসময় বেদির বা আসনের বাতিগুলো বাদে গির্জার সকল বাতি জ্বালানো হয়।

পাস্কা-ঘোষণা
১৪। বেদিতে বা আসন এসে অনুষ্ঠাতা নিজের আসনে যান, গায়ক নিজের বাতি দেন, ধূপপাত্রে ধূপ দেন এবং যেমন মিসায় সুসমাচার-পাঠের সময় করা হয়, সেইভাবে ধূপপাত্রে ধূপ দেন।
১৫। বাতির প্রতি ধূপ অর্পণ করে গায়ক বাণীমঞ্চে বা অন্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে পাস্কা-ঘোষণা গান করেন। এসময় সকলে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ জ্বলন্ত বাতি তুলে ধরেন।
উপযুক্ত গায়ক না থাকলে অনুষ্ঠাতা নিজে পাস্কা-ঘোষণা গাইতে পারেন।
উল্লসিত হোক এই শুভক্ষণে স্বর্গলোকের দূতবাহিনী,
উল্লসিত হোক ঈশ্বরের সেবক-মণ্ডলী,
তেমন রাজার বিজয়ের জন্য
বেজে উঠুক মুক্তি-বার্তার তুরিধ্বনি।

তেমন আলোয় বিভাসিত হয়ে পৃথিবীও আনন্দ করুক,
অন্ধকার ঘুচে গেছে দেখে বিশ্বজগৎ সনাতন রাজার গৌরবে উদ্ভাসিত হোক।
তেমন দীপ্তিময় রশ্মিমালায় ভূষিত হয়ে মাতা মণ্ডলীও পুলকিত হোক;
বহুজাতির জয়ধ্বনিতে এ গৃহও পরিপূর্ণ হোক।

মুক্তকণ্ঠে মনপ্রাণের উদ্দীপ্ত ভক্তির সঙ্গে
সর্বশক্তিমান পিতা অদৃশ্য সেই ঈশ্বরের
ও তাঁর একমাত্র পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের গুণকীর্তন করা
সত্যিই সঙ্গত ও ন্যায্য।

তিনি আমাদের হয়ে
সনাতন পিতার কাছে শোধ করেছেন আদমের ঋণ,
এবং আপন ধন্য রক্তধারায়
বিধৌত করেছেন প্রাচীন অপরাধের দণ্ড।

এটিই প্রকৃত পাস্কাপর্বের উৎসব,
যে উৎসবে বলীকৃত হলেন প্রকৃত মেষশাবক,
যাঁর রক্তে পবিত্রীকৃত হয়
বিশ্বাসীদের গৃহদ্বার।

এটিই সেই রাত্রি, যে রাত্রিতে তুমি, প্রভু,
আমাদের পিতৃপুরুষ ইস্রায়েল-সন্তানদের
মিশর থেকে বের করে এনে
লোহিত সাগরকে পার করিয়ে দিয়েছিলে শুষ্ক পথে।

এটিই সেই রাত্রি,
যে রাত্রি অগ্নিস্তম্ভের দীপ্তিতে পাপকর্মের তমসা দূর করে দিল।

এটিই সেই রাত্রি,
যে রাত্রি জগতের কলুষ থেকে ও পাপকর্মের তমসা থেকে
সারা বিশ্ব জুড়ে খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের ত্রাণ ক’রে
অনুগ্রহে তাদের ফিরিয়ে এনে পবিত্রজনদের সঙ্গে মিলিত করে।

এটিই সেই রাত্রি,
যে রাত্রিতে মৃত্যুর শৃঙ্খল ধ্বংস ক’রে
পাতাল থেকে খ্রিষ্ট বিজয়ী হয়ে
আরোহণ করেন।

জন্ম নেওয়ায় আমাদের কী উপকার,
তিনি যদি মুক্ত না করতেন আমাদের।
আহা, আমাদের প্রতি তোমার ভালবাসা সত্যি অপরূপ!
আহা, তোমার প্রেম সত্যি বর্ণনার অতীত!

দাস যেন মুক্তি পায়,
তুমি নিজ পুত্রকে সঁপে দিলে।
সত্যিই প্রয়োজন ছিল আদমের সেই পাপ,
যা খ্রিষ্টের মৃত্যুতে বিলুপ্ত হল।

সত্যিই ধন্য সেই অপরাধ,
যা তেমন মুক্তিদাতা অর্জন করেছে আমাদের জন্য।
সত্যিই ধন্য সেই রাত্রি, যা একাই জানল সেই সময় সেই ক্ষণ,
যে ক্ষণে পাতাল থেকে খ্রিষ্ট পুনরুত্থান করেছেন।

এটিই সেই রাত্রি,
যে রাত্রির বিষয়ে লেখা ছিল:
রাত দিনের মত হবে দীপ্তিময়,
রাত হবে আমার আনন্দ, আমার জন্য হবে আলোর উৎস।

এ রাত্রির পবিত্রতা অপরাধ দূর করে দেয়, দণ্ড মোচন করে,
পতিতকে নির্মলতায়, দুঃখীকে আনন্দে ফিরিয়ে আনে;
হিংসা-বিদ্বেষ বিদূরিত করে,
মিলন-শান্তি বয়ে আনে, গর্ব নমিত করে।

তাই তোমার অনুগ্রহের এ রাত্রিতে, হে পবিত্র পিতা,
এ সান্ধ্য স্তুতি-যজ্ঞ গ্রহণ কর,
যা মউমাছির শ্রমফল এ বাতিকে তোমার উদ্দেশে উৎসর্গ ক’রে
পবিত্র মণ্ডলী তার সেবকদের হাতে তোমাকে নিবেদন করে।

এখন আমরা যাত্রাকালের সেই অগ্নি-স্তম্ভের মধ্যে
এই পাস্কা-মোমবাতিরই পূর্বচ্ছবি চিনতে পারি,
যে-বাতিকে দীপ্তিময় এক অগ্নি
ঈশ্বরের সম্মানার্থে জ্বালিয়ে দিল।

এ অগ্নি নানা শিখায় বিভক্ত হয়েও
নিজের উজ্জ্বলতা দানেও কোন ক্ষতি জানে না,
বরং ততখানি পুষ্টি পায় যতখানি গলে যায় সেই মোম,
যা মাতা-মাছি তৈরি করেছে এই অমূল্য বাতি সরবরাহের জন্য।

সত্যিই ধন্য সেই রাত্রি,
যে রাত্রিতে ঘটল মর্তের সঙ্গে স্বর্গের, মানুষের সঙ্গে ঈশ্বরের মিলন।

তাই, প্রভু, অনুনয় করি:
তোমার নামের উদ্দেশে পবিত্রীকৃত এ মোমবাতি
এ রাতের অন্ধকার দূর করার জন্য
যেন অনির্বাণ আলো ছড়াতে ক্ষান্ত না হয়।

এ মোমবাতি মধুর নৈবেদ্য রূপে
তোমার গ্রহণীয় হোক,
স্বর্গের জ্যোতিষ্করাজির সঙ্গে
এক হয়ে মিশে যাক;

প্রভাতী তারা এ বাতিকে প্রজ্বলিতই পায় যেন!
সেই তারা যার অস্তগমন হয় না কোন দিন: তোমার পুত্র খ্রিষ্টই সেই তারা,
যিনি পাতাল থেকে ফিরে মানবজাতিকে শান্তি-আলোয় বিভাসিত করলেন,
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে যিনি যুগে যুগে বিরাজমান। [সকলেও:] আমেন।

দ্বিতীয় ভাগ
বাণী উপাসনা
১৬। সকল নিশিজাগরণীর মাতা এই জাগরণীতে নয়টা পাঠ দেওয়া হয়ে থাকে: পুরাতন নিয়ম থেকে সাতটা ও নূতন নিয়ম থেকে দু’টো (পত্র ও সুসমাচার)। সম্ভব হলে এ সকল পাঠ পড়া চাই, যাতে করে জাগরণীর ভাব (অর্থাৎ দীর্ঘ সময়) রক্ষা করা হয়।
১৭। তবুও জরুরী কারণবশত পুরাতন নিয়মের পাঠগুলোর সংখ্যা কমানো যেতে পারে, কিন্তু মনে রাখা উচিত যে ঈশ্বরের বাণী পাঠই হল পাস্কা-জাগরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অংশ। পুরাতন নিয়ম থেকে (বিধান ও নবীপুস্তক থেকে) কমপক্ষে তিনটি পাঠ পড়া চাই, আর সেগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ধুয়োবিশিষ্ট সামসঙ্গীতও গান করা চাই। তাছাড়া, যাত্রাপুস্তক ১৪ অধ্যায়ের পাঠ্যাংশ কখনও বাদ দেওয়া চলবে না।
১৮। মোমবাতিগুলো সরিয়ে দিয়ে সকলে বসেন। পাঠগুলো শুরু করার আগে অনুষ্ঠাতা নিচের কথায় সকলকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বলেন:
প্রিয়জনেরা, জাগরনী মহতী অনুষ্ঠানে প্রবেশ করে এবার এসো,
শান্ত মনে ঈশ্বরের বাণী শুনি।
কীভাবে ঈশ্বর প্রাচীন কালে তাঁর আপন জনগণকে ত্রাণ করেছিলেন,
এবং শেষ কালে আমাদের কাছে তাঁর আপন পুত্রকে
মুক্তিদাতা রূপে প্রেরণ করেছেন,
এসো, এবিষয় অনুধ্যান করি।
এবং প্রার্থনা করি, যেন আমাদের ঈশ্বর
এই পাস্কা-ত্রাণকর্মকে সম্পূর্ণরূপে সার্থক করে তোলেন।

১৯। এসময় পাঠগুলো পড়া শুরু হয়। পাঠক (বাণীমঞ্চে গিয়ে) পাঠ্যাংশ পড়ে শোনান। পরে গায়ক সামসঙ্গীতটা গান করেন, আর অন্যান্য সকলে ধুয়োটা গান করেন। তারপর সকলে উঠে দাঁড়ালে অনুষ্ঠাতা ‘এসো, প্রার্থনা করি’ বলেন, এবং সকলে কিছুক্ষণ নীরব প্রার্থনা করার পর পাঠের জন্য নির্দিষ্ট প্রার্থনাটি উচ্চারণ করেন। সামসঙ্গীতের স্থানে পবিত্র নীরবতা-কাল রাখা যেতে পারে, তবে এক্ষেত্রে ‘এসো, প্রার্থনা করি’ এর পরবর্তী বিরামকাল বাদ দেওয়া হয়।
প্রথম পাঠ
আদিপুস্তক থেকে পাঠ (১:১–২:২)

আদিতে, যখন পরমেশ্বর আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকাজ শুরু করলেন, যখন পৃথিবী নিরাকার ও শূন্যময় ছিল, অতল গহ্বরের উপর অন্ধকার বিরাজ করত, এবং ঐশ্বরিক এক বায়ু জলরাশির উপরে বইত, তখন পরমেশ্বর বললেন, ‘আলো হোক;’ আর আলো হল। পরমেশ্বর দেখলেন, আলো মঙ্গলময়; পরমেশ্বর অন্ধকার থেকে আলো পৃথক করে দিলেন; আর পরমেশ্বর আলোর নাম দিন রাখলেন, ও অন্ধকারের নাম রাখলেন রাত। সন্ধ্যা হল, প্রভাত এল—প্রথম দিন।
পরমেশ্বর বললেন, ‘জলরাশি দু’ভাগে পৃথক করার জন্য জলরাশির মাঝখানে একটা ফাঁপা শক্ত পরদা হোক।’ তেমন পরদা তৈরি করে পরমেশ্বর পরদার নিচের জলরাশি থেকে পরদার উপরের জলরাশি পৃথক করে দিলেন; আর সেইমতই হল। পরমেশ্বর পরদার নাম আকাশ রাখলেন। সন্ধ্যা হল, প্রভাত এল—দ্বিতীয় দিন।
পরমেশ্বর বললেন, ‘আকাশের নিচের জলরাশি একস্থানেই মিলিত হোক, ও স্থল দেখা দিক।’ আর সেইমতই হল। পরমেশ্বর স্থলের নাম ভূমি রাখলেন, ও জলরাশির নাম রাখলেন সমুদ্র; আর পরমেশ্বর দেখলেন, তা মঙ্গলময়।
পরমেশ্বর বললেন, ‘ভূমি সবুজ ঘাস উৎপন্ন করুক, এমন উদ্ভিদও উৎপন্ন করুক যা বীজ বহন করে, এবং পৃথিবী জুড়ে এমন ফল-উৎপাদক গাছও উৎপন্ন করুক যাদের ফলের মধ্যে থাকবে নিজ নিজ জাত অনুযায়ী বীজ।’ আর সেইমতই হল। ভূমি ঘাস উৎপন্ন করল, এমন উদ্ভিদও উৎপন্ন করল যা নিজ নিজ জাত অনুযায়ী বীজ বহন করে, এবং এমন ফল-উৎপাদক গাছও উৎপন্ন করল যাদের ফলের মধ্যে রয়েছে নিজ নিজ জাত অনুযায়ী বীজ। পরমেশ্বর দেখলেন, তা মঙ্গলময়। সন্ধ্যা হল, প্রভাত এল—তৃতীয় দিন।
পরমেশ্বর বললেন, ‘রাত্রি ও দিন পৃথক করার জন্য আকাশপরদায় নানা বাতি হোক; সেগুলি ঋতু, দিন ও বছর নির্দেশ করুক, এবং পৃথিবীর উপরে আলো ছড়াবার জন্য বাতি হিসাবেই আকাশপরদায় থাকুক।’ আর সেইমতই হল: পরমেশ্বর বড় সেই দু’টো বাতি তৈরি করলেন: বড়টা দিন নিয়ন্ত্রণের জন্য, আর তার চেয়ে ছোটটা রাত্রি নিয়ন্ত্রণের জন্য; তিনি তারানক্ষত্রও তৈরি করলেন। পরমেশ্বর সেগুলোকে আকাশপরদায় বসালেন, যেন পৃথিবীর উপরে আলো ছড়ায়, দিন ও রাত্রি নিয়ন্ত্রণ করে, এবং অন্ধকার থেকে আলো পৃথক করে। পরমেশ্বর দেখলেন, তা মঙ্গলময়। সন্ধ্যা হল, প্রভাত এল—চতুর্থ দিন।
পরমেশ্বর বললেন, ‘জলরাশি অসংখ্য প্রাণীতে ভরে উঠুক, এবং পৃথিবীর উপরে আকাশপরদা জুড়ে পাখি উড়ুক।’ পরমেশ্বর সেই বিরাট বিরাট সমুদ্র-দানব ও সেই সমস্ত অসংখ্য প্রাণী নিজ নিজ জাত অনুসারে সৃষ্টি করলেন যেগুলো জলরাশিতে চলাফেরা করে; তিনি নিজ নিজ জাত অনুসারে সমস্ত উড়ন্ত পাখিও সৃষ্টি করলেন। পরমেশ্বর দেখলেন, তা মঙ্গলময়। সেই সমস্ত কিছু পরমেশ্বর এই বলে আশীর্বাদ করলেন: ‘তোমরা ফলবান হও, বংশবৃদ্ধি কর, সমুদ্রের জলরাশি ভরিয়ে তোল; পাখিরা স্থলভূমিতে বংশবৃদ্ধি করুক।’ সন্ধ্যা হল, প্রভাত এল—পঞ্চম দিন।
পরমেশ্বর বললেন, ‘পৃথিবী নিজ নিজ জাত অনুযায়ী গবাদি পশু, সরিসৃপ ও বন্যজন্তু—নিজ নিজ জাত অনুযায়ী সমস্ত প্রাণী উৎপন্ন করুক।’ আর সেইমতই হল। পরমেশ্বর নিজ নিজ জাত অনুযায়ী বন্যজন্তু, নিজ নিজ জাত অনুযায়ী গবাদি পশু, ও নিজ নিজ জাত অনুযায়ী ভূমির সমস্ত সরিসৃপও তৈরি করলেন। পরমেশ্বর দেখলেন, তা মঙ্গলময়।
পরমেশ্বর বললেন, ‘এসো, আমরা আমাদের আপন প্রতিমূর্তিতে, আমাদের আপন সাদৃশ্য অনুসারে মানুষ নির্মাণ করি: তারা সমুদ্রের মাছের উপরে, আকাশের পাখিদের উপরে, গবাদি পশুদের উপরে, গোটা পৃথিবীর উপরে, ও মাটির বুকে চরে যত সরিসৃপের উপরে প্রভুত্ব করুক।’
পরমেশ্বর তাঁর নিজের প্রতিমূর্তিতে মানুষকে সৃষ্টি করলেন; পরমেশ্বরেরই প্রতিমূর্তিতে তাকে সৃষ্টি করলেন: পুরুষ ও নারী করে তাদের সৃষ্টি করলেন। পরমেশ্বর তাদের আশীর্বাদ করলেন; পরমেশ্বর তাদের বললেন, ‘ফলবান হও, বংশবৃদ্ধি কর, পৃথিবী ভরিয়ে তোল, তা বশীভূত কর; সমুদ্রের মাছের উপরে, আকাশের পাখিদের উপরে, ও ভূমির যত সরিসৃপের উপরে প্রভুত্ব কর।’
পরমেশ্বর বললেন, ‘দেখ, সারা পৃথিবী জুড়ে যত উদ্ভিদ বীজ বহন করে, ও ফল-উৎপাদক যত গাছ ফলের মধ্যে বীজ বহন করে, তা সবই আমি তোমাদের দিচ্ছি; তা হবে তোমাদের খাদ্য। সমস্ত বন্যজন্তু, আকাশের সমস্ত পাখি ও মাটির বুকে চলাচল করে সমস্ত জীব—এই সকল প্রাণীকে আমি খাদ্যরূপে সবুজ যত উদ্ভিদ দিচ্ছি।’ আর সেইমতই হল। পরমেশ্বর তাঁর তৈরি করা সমস্ত কিছুর দিকে তাকিয়ে দেখলেন; আর সত্যি, সেই সমস্ত কিছু খুবই মঙ্গলময়। সন্ধ্যা হল, প্রভাত এল—ষষ্ঠ দিন।
এইভাবে আকাশ ও পৃথিবী এবং তাদের যত বাহিনীর সৃষ্টিকাজ শেষ হল। পরমেশ্বর যে সমস্ত কাজ সাধন করে আসছিলেন, তা সপ্তম দিনে শেষ করলেন; যে সমস্ত কাজ সাধন করে আসছিলেন, তা তিনি সপ্তম দিনে শেষ করে বিশ্রাম নিলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

সামসঙ্গীত ১০৪
ধুয়ো:
তোমার আত্মাকে পাঠাও, প্রভু;
ধরণীর মুখ নবীন করে তোল।

প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য!
প্রভু, পরমেশ্বর আমার, তুমি সুমহান—
তুমি প্রভা ও মহিমায় সুসজ্জিত,
উত্তরীয়ের মত আলোতে বিভূষিত।   [ধুয়ো]

তুমি পৃথিবী ভিত্তির উপরে স্থাপন করলে,
তা টলবে না, কখনও না।
অতল সাগর তা ঢাকত বসনের মত,
জলরাশি গিরিমালার উপর বিরাজ করত।   [ধুয়ো]

গিরিখাতে তুমি জলের উৎসধারা উচ্ছলিত করলে,
গিরিমালার মাঝখান দিয়ে সেই ধারা করে চলাচল;
সেই ধারে আকাশের পাখি বাসা বাঁধে,
শাখায় শাখায় ব’সে তারা করে গান।   [ধুয়ো]

তোমার সুউঁচু কক্ষগুলো থেকে তুমি গিরিমালা জলসিক্ত কর,
তোমার কর্মের ফলভারে পৃথিবী পরিতৃপ্ত হয়।
পশুপালের জন্য তুমি অঙ্কুরিত কর নবীন ঘাস,
মানুষের প্রয়োজনে নানা উদ্ভিদ, সে যেন ভূমি থেকে খাদ্য উৎপাদন করতে পারে।   [ধুয়ো]

হে প্রভু, কী অগণন তোমার কর্মকীর্তি!
প্রজ্ঞার সঙ্গেই নির্মাণ করেছ এ সবকিছু,
তোমার কর্মরচনায় পৃথিবী পরিপূর্ণ।
প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য।   [ধুয়ো]

প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর,
তোমার সমস্ত কর্মরচনায় তুমি অপরূপ।
আশীর্বাদ কর: যাদের তুমি বিমুক্ত করেছ,
তারা যেন উপলব্ধি করতে পারে যে, আদিকালের জগৎ-সৃষ্টি
চরমকালে খ্রিষ্টের পাস্কা-আত্মবলিদানের তুলনায় বেশি আশ্চর্যের নয়।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

দ্বিতীয় পাঠ
আদিপুস্তক থেকে পাঠ (২২:১-১৮)

একদিন পরমেশ্বর আব্রাহামকে যাচাই করলেন। তিনি তাঁকে বললেন, ‘আব্রাহাম, আব্রাহাম!’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘এই যে আমি।’ তিনি বলে চললেন, ‘তোমার সন্তানকে, তোমার সেই একমাত্র সন্তানকে যাকে তুমি ভালবাস, সেই ইসায়াককে নাও ও মোরিয়া দেশে যাও, আর সেখানে যে এক পর্বতের কথা আমি তোমাকে বলব, তার উপরে তাকে আহুতিরূপে বলিদান কর।’
আব্রাহাম খুব সকালে উঠে গাধা সাজিয়ে দু’জন দাস ও তাঁর ছেলে ইসায়াককে সঙ্গে নিলেন, আহুতির জন্য কাঠ কাটলেন, এবং সেই জায়গার দিকে যাত্রা করলেন, যার কথা পরমেশ্বর তাঁকে বলেছিলেন। তৃতীয় দিনে আব্রাহাম চোখ তুলে দূর থেকে জায়গাটা দেখতে পেলেন। তখন আব্রাহাম দাসদের বললেন, ‘তোমরা গাধার সঙ্গে এইখানে দাঁড়াও; আমি ও ছেলেটি, আমরা ওখানে গিয়ে পূজা করে আসি; তারপর তোমাদের কাছে ফিরে আসব।’ আব্রাহাম আহুতির জন্য কাঠ তুলে তাঁর ছেলে ইসায়াকের মাথায় দিলেন, এবং নিজে আগুন ও খড়্গ হাতে নিলেন; পরে দু’জনে একসঙ্গে এগিয়ে গেলেন।
তখন ইসায়াক তাঁর পিতা আব্রাহামকে বললেন, ‘পিতা আমার!’ তিনি বললেন, ‘এই যে আমি, সন্তান আমার!’ ইসায়াক বলে চললেন, ‘আগুন ও কাঠ তো এখানে রয়েছে, কিন্তু আহুতির জন্য মেষশাবক কোথায়?’ আব্রাহাম বললেন, ‘সন্তান আমার, আহুতির জন্য মেষশাবকের ব্যাপারে পরমেশ্বর নিজেই দেখবেন।’ তাঁরা একসঙ্গে আরও এগিয়ে চললেন। আর যখন সেই জায়গায় এসে পৌঁছলেন, যার কথা পরমেশ্বর তাঁকে বলেছিলেন, তখন আব্রাহাম একটি যজ্ঞবেদি গাঁথলেন, কাঠ সাজালেন, এবং তাঁর ছেলে ইসায়াককে বেঁধে বেদিতে কাঠের উপরে রাখলেন। পরে আব্রাহাম হাত বাড়িয়ে নিজের ছেলেকে বধ করার জন্য খড়্গ তুলে নিলেন, কিন্তু স্বর্গ থেকে প্রভুর দূত তাঁকে ডাকলেন, বললেন, ‘আব্রাহাম, আব্রাহাম!’
তিনি উত্তর দিলেন, ‘এই যে আমি!’ দূত বললেন, ‘ছেলেটির উপর হাত বাড়িয়ো না, তার কোন ক্ষতি করো না, কেননা এখন আমি জানি, তুমি পরমেশ্বরকে ভয় কর; তুমি আমাকে তোমার সন্তানকে, তোমার একমাত্র সন্তানকে দিতেও অস্বীকার করনি।’
তখন আব্রাহাম চোখ তুলে দেখতে পেলেন, পাশে একটা ভেড়া, তার শিং একটা ঝোপের মধ্যে জড়ানো। আব্রাহাম গিয়ে সেই ভেড়াটা নিলেন ও নিজের ছেলের বদলে আহুতি রূপে তা বলিদান করলেন। আব্রাহাম সেই জায়গার নাম রাখলেন ‘প্রভু নিজেই দেখেন’, এজন্য আজ লোকে বলে, ‘পর্বতে প্রভু নিজেই দেখেন।’
প্রভুর দূত দ্বিতীয়বারের মত স্বর্গ থেকে আব্রাহামকে ডাকলেন, বললেন, ‘প্রভুর উক্তি! নিজের দিব্যি দিয়েই বলছি, তুমি এই কাজ করেছ বলে—তোমার সন্তানকে, তোমার একমাত্র সন্তানকেও আমাকে দিতে অস্বীকার করনি বলে আমি তোমাকে অশেষ আশীর্বাদে ধন্য করব, এবং তোমার বংশের সংখ্যা আকাশের তারানক্ষত্রের মত ও সমুদ্রতীরের বালুকণার মত করব; তোমার বংশধরেরা শত্রুদের নগরদ্বার দখল করবে। তোমার বংশে পৃথিবীর সকল জাতি আশিসপ্রাপ্ত হবে, কারণ তুমি আমার প্রতি বাধ্যতা দেখিয়েছ।’
ঈশ্বরের বাণী।

সামসঙ্গীত ১৬
ধুয়ো:
আমাকে রক্ষা কর গো ঈশ্বর,
তোমাতেই নিয়েছি আশ্রয়।

প্রভুই আমার স্বত্বাংশ, আমার পানপাত্র,
তোমার হাতেই আমার নিয়তির ভার।
আমার সামনে প্রভুকে অনুক্ষণ রাখি,
তিনি আমার ডান পাশে বলে আমি টলব না।   [ধুয়ো]

তাই আমার অন্তর আনন্দ করে, মেতে ওঠে আমার প্রাণ,
আমার দেহও ভরসাভরে করে বিশ্রাম,
তুমি যে আমাকে বিসর্জন দেবে না পাতালের হাতে,
না, তোমার ভক্তজনকে তুমি সেই গহ্বর দেখতে দেবে না।   [ধুয়ো]

তুমি আমাকে জানিয়ে দেবে জীবনের পথ,
তোমার সম্মুখেই আনন্দের পূর্ণতা,
তোমার ডান পাশেই
চিরন্তন সুখ।   [ধুয়ো]

প্রার্থনা: এসো, প্রাথর্না করি।
হে ঈশ্বর, হে সকল বিশ্বাসীর পরম পিতা,
তুমি দত্তকপুত্রত্বের অনুগ্রহ গুণে সারা পৃথিবীতে
তোমার প্রতিশ্রুতির সন্তানদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে থাক,
ও তোমার শপথ অনুসারে পাস্কা-সাক্রামেন্ত
তথা বাপ্তিস্ম সাক্রামেন্তের মধ্য দিয়ে
তোমার সেবক আব্রাহামকে সকল জাতির পিতা করে তোল।
আশীর্বাদ কর: তোমার সৃষ্ট সকল জাতির মানুষ
যেন তোমার আহ্বানে যোগ্যরূপে সাড়া দিয়ে
ঐশঅনুগ্রহ লাভে ধন্য হতে পারে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

তৃতীয় পাঠ
যাত্রাপুস্তক থেকে পাঠ (১৪:১৫–১৫:১)

সেসময়ে প্রভু মোশিকে বললেন, ‘আমার কাছে কেন চিৎকার করছ? ইস্রায়েল সন্তানদের এগিয়ে যেতে বল। আর তুমি লাঠি তুলে সমুদ্রের উপরে হাত বাড়াও, সমুদ্রকে দু’ভাগ করে ফেল, যেন ইস্রায়েল সন্তানেরা শুকনা মাটির উপর দিয়েই সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করে। এদিকে আমি মিশরীয়দের হৃদয় কঠিন করব, যেন তারা এদের পিছনে ধাওয়া করে, আর এইভাবে আমি ফারাও, তার সকল সৈন্য, তার সমস্ত রথ ও তার অশ্বারোহীদের উপরে গৌরবান্বিত হব। হ্যাঁ, ফারাও ও তার সমস্ত রথ ও তার অশ্বারোহীদের উপরে আমি যখন আমার গৌরব প্রকাশ করব, তখন মিশরীয়েরা জানতে পারবে যে, আমিই প্রভু!’
তখন পরমেশ্বরের যে দূত ইস্রায়েল-বাহিনীর পুরোভাগে চলছিলেন, তিনি সরে গিয়ে তাদের পশ্চাদ্ভাগে গেলেন, মেঘস্তম্ভটিও তাদের পুরোভাগ থেকে সরে গিয়ে তাদের পশ্চাদ্ভাগে স্থান নিল; স্তম্ভটি মিশরের শিবির ও ইস্রায়েলের শিবিরের মাঝখানেই চলে এল। সেই মেঘও ছিল, সেই অন্ধকারও ছিল, অথচ তাতে রাত্রি আলোকিত হল, কিন্তু সারারাত ধরে এক দল অন্য দলের কাছে এল না।
তখন মোশি সমুদ্রের উপরে হাত বাড়ালেন, এবং প্রভু সারারাত ধরে প্রবল পুববাতাস দ্বারা সমুদ্রকে সরিয়ে দিয়ে তা শুষ্ক ভূমি করলেন; তাতে জল দু’ভাগ হল, এবং ইস্রায়েল সন্তানেরা শুকনা মাটির উপর দিয়ে সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করল—তাদের ডান ও বাঁ পাশে জলরাশি দেওয়ালস্বরূপ ছিল। ফারাওর সকল অশ্ব ও রথ এবং অশ্বারোহী, মিশরীয়েরা সকলেই ধাওয়া করে তাদের পিছু পিছু সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করল।
রাত্রির শেষ প্রহরে প্রভু সেই অগ্নিময় মেঘস্তম্ভ থেকে মিশরীয়দের সৈন্যদলের উপর দৃষ্টিপাত করে তাদের বিভ্রান্ত করে দিলেন। তিনি তাদের রথের চাকা আটকে দিলেন, ফলে তাদের পক্ষে রথ চালানোটা কষ্টকর হল। তখন মিশরীয়েরা বলল, ‘চল, আমরা ইস্রায়েলের সামনে থেকে পালাই, কারণ প্রভু তাদের পক্ষেই মিশরীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন।’
প্রভু তখনই মোশিকে বললেন, ‘সমুদ্রের উপরে হাত বাড়াও: জলরাশি ফিরে মিশরীয়দের উপরে ও তাদের রথের উপরে ও অশ্বারোহীদের উপরে এসে পড়ুক।’ তাই মোশি সমুদ্রের উপরে হাত বাড়ালেন, আর সকাল হতে না হতেই সমুদ্র আবার তার সাধারণ গতিপথে ফিরে এল, আর মিশরীয়েরা ঠিক তার আগে আগে পালাতে পালাতেই প্রভু সমুদ্রের মধ্যেই তাদের উল্টিয়ে দিলেন। ফারাওর সমস্ত সৈন্যদলের যত রথ ও অশ্বারোহী, যারা ইস্রায়েল সন্তানদের পিছু পিছু সমুদ্রে প্রবেশ করেছিল, জলরাশি ফিরে এসে তাদের নিমজ্জিত করল: তাদের একজনও রক্ষা পেল না। কিন্তু ইস্রায়েল সন্তানেরা শুকনা মাটিতেই সমুদ্রের মধ্য দিয়ে চলল—তাদের ডান ও বাঁ পাশে জলরাশি দেওয়ালস্বরূপ ছিল।
এইভাবেই প্রভু সেদিন মিশরীয়দের হাত থেকে ইস্রায়েলকে ত্রাণ করলেন, ও ইস্রায়েল সমুদ্রের ধারে মিশরীয়দের মৃতদেহ দেখল; মিশরীয়দের বিরুদ্ধে প্রভু যে মহাকর্ম সাধন করেছিলেন, ইস্রায়েল যখন তা দেখতে পেল, তখন জনগণ প্রভুকে ভয় করল এবং প্রভুতে ও তাঁর দাস মোশিতে বিশ্বাস রাখল।
তখন মোশি ও ইস্রায়েল সন্তানেরা প্রভুর উদ্দেশে এই সঙ্গীত গান করলেন:

সামসঙ্গীত যাত্রা ১৫:১-১৮
ধুয়ো: এসো, প্রভুর উদ্দেশে গান গাই,
তিনি মহাবিজয়ী হলেন!

আমি প্রভুর উদ্দেশে গান গাইব, কারণ তিনি মহাবিজয়ী হলেন—
তিনি অশ্ব অশ্বারোহীকে সমুদ্রে ফেলে দিলেন।
প্রভুই আমার শক্তি, আমার স্তবগান,
তিনি হলেন আমার পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

তিনি আমার ঈশ্বর, আমি তাঁর গুণগান করব;
তিনি আমার পিতার পরমেশ্বর, আমি তাঁর বন্দনা করব।
প্রভু মহাযোদ্ধা,
প্রভুই তো তাঁর নাম;   [ধুয়ো]

তিনি ফারাওর সমস্ত রথ ও সেনাদল সমুদ্রে ঠেলে দিলেন,
তার যত সেরা বীরযোদ্ধা লোহিত সাগরে নিমজ্জিত হল।
অতলদেশ তাদের ঢেকে দিল,
তলিয়ে গেল তারা পাথরের মত।   [ধুয়ো]

প্রভু, তোমার ডান হাত প্রতাপে মহীয়ান,
প্রভু, তোমার ডান হাত শত্রুদের করে চূর্ণ।
তোমার জনগণকে চালিত করে
তুমি তোমার উত্তরাধিকার-পর্বতে রোপণ করবে,   [ধুয়ো]

সেই স্থান, প্রভু, যা তুমি করলে তোমার আপন আবাস,
সেই পবিত্রধাম, প্রভু, যা তোমার দু’হাতই স্থাপন করল।
প্রভু রাজত্ব করবেন
চিরদিন চিরকাল।   [ধুয়ো]

প্রার্থনা: এসো, প্রাথর্না করি।
হে ঈশ্বর, প্রাচীনকালে তোমার সাধিত আশ্চর্য কাজের অম্লান বিভা আমরা আজকালেও দেখতে পাই,
কেননা তোমার ডান হাতের পরাক্রম দ্বারা ফারাওর নির্যাতন থেকে
মুক্তি দেওয়ায় তুমি একটিমাত্র জাতির জন্য যা কিছু করেছিলে,
তা আজ নবজন্মদানকারী জলের মধ্য দিয়ে
সর্বজাতির পরিত্রাণ করায়ই পুনঃসাধন করে থাক।
আশীর্বাদ কর: সমগ্র মানবজাতি যেন আব্রাহাম-সন্তানদের সংখ্যায়
ও ইস্রায়েলের মর্যাদায় উত্তীর্ণ হতে পারে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

চতুর্থ পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৫৪:৫-১৪)

তোমার নির্মাতাই তোমার পতি,
তাঁর নাম সেনাবাহিনীর প্রভু;
ইস্রায়েলের সেই পবিত্রজনই তোমার মুক্তিসাধক,
তিনি সমস্ত পৃথিবীর পরমেশ্বর বলে অভিহিত।
হ্যাঁ, প্রভু তোমাকে পরিত্যক্তা ও আত্মায় দুঃখিনী পত্নীর মত,
যৌবনকালের বিচ্যুতা বধূর মত ডেকে ফিরিয়েছেন;
—এই কথা বলছেন তোমার আপন পরমেশ্বর!
আমি ক্ষুদ্রই এক মুহূর্তের জন্য তোমাকে ত্যাগ করেছি,
কিন্তু মহাস্নেহে তোমাকে ফিরিয়ে নেব।
আমি ক্রোধের আবেশে
এক মুহূর্তের জন্য তোমা থেকে শ্রীমুখ লুকিয়েছিলাম,
কিন্তু চিরকালীন কৃপায় তোমাকে স্নেহ করেছি;
—এই কথা বলছেন প্রভু, তোমার মুক্তিসাধক।
আমার কাছে এখন এমনটি হবে নোয়ার সেই দিনগুলির মত,
যখন আমি শপথ করেছিলাম যে,
নোয়ার জলরাশি পৃথিবীকে আর প্লাবিত করবে না;
তেমনি এখন আমি শপথ করছি যে,
তোমার উপর আর কখনও ক্রুদ্ধ হব না,
তোমাকে আর কোন ধমক দেব না।
পর্বতমালা সরে যাক, উপপর্বতও টলে যাক,
কিন্তু আমার কৃপা তোমা থেকে সরে যাবে না,
আমার শান্তি-সন্ধিও টলবে না;
—এই কথা বলছেন প্রভু, তোমাকে যিনি স্নেহ করেন।
হে দুঃখিনী, হে ঝঞ্ঝা-আলোড়িতা, হে সান্ত্বনা-বঞ্চিতা,
দেখ, আমি রসাঞ্জনের উপরে তোমার পাথর বসাব,
নীলকান্তমণির উপরে তোমার ভিত স্থাপন করব;
পদ্মরাগমণি দিয়ে তোমার আলিসা,
সূর্যকান্তমণি দিয়ে তোমার সমস্ত তোরণদ্বার,
ও বহুমূল্য মণিমুক্তা দিয়ে তোমার সমস্ত প্রাচীরবেষ্টনী নির্মাণ করব।
তোমার সকল সন্তান প্রভুর কাছেই শিক্ষা পাবে,
তোমার সন্তানদের মহা সমৃদ্ধি হবে।
তোমাকে ধর্মময়তায় দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত করা হবে,
তুমি অত্যাচার থেকে মুক্তা হবে:
না, তোমাকে আর কোন বিভীষিকায় ভীত হতে হবে না,
কারণ তা তোমার কাছে আসবে না।
ঈশ্বরের বাণী।

সামসঙ্গীত ৩০
ধুয়ো:
তোমার বন্দনা করব, প্রভু:
তুমি যে তুলে নিয়েছ আমায়।

তোমার বন্দনা করব, প্রভু: তুমি যে তুলে নিয়েছ আমায়,
আমার শত্রুদের দাওনি আমার উপর আনন্দ করতে।
পাতাল থেকেই তুমি আমার প্রাণ তুলে এনেছ, প্রভু,
আমি সেই গর্তে নেমে যাচ্ছিলাম আর তুমি আমায় করেছ সঞ্জীবিত।   [ধুয়ো]

প্রভুর উদ্দেশে স্তবগান কর, তাঁর ভক্তজন সকল,
তাঁর পবিত্রতা স্মরণ ক’রে কর তাঁর স্তুতিগান।
কিছুক্ষণ ধরেই মাত্র তাঁর ক্রোধ, কিন্তু তাঁর প্রসন্নতা জীবনপ্রসারী।
সন্ধ্যায় বিলাপের আগমন, কিন্তু প্রভাতে আনন্দোচ্ছ্বাস।   [ধুয়ো]

প্রভু, শোন, আমাকে দয়া কর,
প্রভু, হও তুমি আমার সহায়।
তুমি নৃত্যেই পরিণত করেছ আমার বিলাপ,
প্রভু, পরমেশ্বর আমার, চিরকাল করব তোমার স্তুতিগান।   [ধুয়ো]

প্রার্থনা: এসো, প্রাথর্না করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, যা তুমি কুলপতিদের কাছে
তাঁদের বিশ্বাস গুণে দেবে বলে প্রতিশ্রুত হয়েছিলে,
তোমার নামের গৌরবার্থে তা অধিক বৃদ্ধি কর,
ও পবিত্র দত্তকপুত্রত্বের মধ্য দিয়ে
তোমার অঙ্গীকারের সন্তান-সংখ্যা বাড়িয়ে তোল।
প্রাচীনকালের সাধু ব্যক্তিগণ ভাবীকালে ঘটবে বলে
যা কখনও সন্দেহ করেননি,
তোমার আশীর্বাদে তোমার মণ্ডলী যেন আজকালে দেখতে পায় যে,
সেই সমস্ত কিছু সত্যিই সিদ্ধিলাভ করতে চলেছে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

পঞ্চম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৫৫:১-১১)

প্রভু একথা বলছেন: ওহে, তৃষিত লোকসকল, জলের কাছে এসো;
যার অর্থ নেই, তুমিও এসো।
এসো, খাদ্য কিনে নিয়ে খাও;
এসো, বিনা অর্থে খাদ্য, বিনা মূল্যে আঙুররস ও দুধ কিনে নাও।
তোমরা কেন অখাদ্যের জন্য অর্থব্যয় করবে?
কেন অতৃপ্তিকর খাদ্যের জন্য তোমাদের মজুরি নষ্ট করবে?
আমার কথা কান পেতে শোন, তবেই উৎকৃষ্ট খাদ্য খাবে,
রসাল শাঁসাল খাদ্য ভোগ করবে।
কান দাও, আমার কাছে এসো;
শোন, তবেই তোমাদের প্রাণ সঞ্জীবিত হবে।
আমি তোমাদের সঙ্গে চিরস্থায়ী এক সন্ধি স্থাপন করব;
দাউদের প্রতি আমার সেই মহাকৃপা স্থির রাখব।
দেখ, আমি তাকে জাতিগুলির জন্য সাক্ষীরূপে,
দেশগুলির উপরে জননায়ক ও বিধানকর্তা রূপে নিযুক্ত করেছি।
দেখ, তুমি তোমার অচেনা এক জাতিকে আহ্বান করবে;
তোমাকে জানে না এমন এক জাতি তোমার কাছে ছুটে আসবে;
এমনটি ঘটবে তোমার পরমেশ্বর প্রভুর খাতিরে,
ইস্রায়েলের সেই পবিত্রজনেরই খাতিরে,
যিনি তোমাকে গৌরবান্বিত করেছেন।
প্রভুর অন্বেষণ কর, যেহেতু তিনি নিজের উদ্দেশ পেতে দেন;
তাঁকে ডাক, যেহেতু তিনি কাছে আছেন।
দুর্জন নিজের পথ, শঠতার মানুষ নিজের যত প্রকল্প ত্যাগ করুক;
সে প্রভুর কাছে ফিরে আসুক, তিনি তাকে স্নেহ করবেন;
সে আমাদের পরমেশ্বরের কাছে ফিরে আসুক,
কারণ তিনি ক্ষমাদানে মহান।
কারণ আমার সঙ্কল্পসকল ও তোমাদের সঙ্কল্পসকল এক নয়,
তোমাদের পথসকল ও আমার পথসকল এক নয়—প্রভুর উক্তি।
পৃথিবী থেকে আকাশমণ্ডল যত উঁচু, তোমাদের পথ থেকে আমার পথ,
তোমাদের সঙ্কল্প থেকে আমার সঙ্কল্প তত উঁচু।
বৃষ্টি ও তুষার যেমন আকাশ থেকে নেমে আসে, এবং মাটি জলসিক্ত না করে, ও সেই মাটি যেন বীজবুনিয়েকে বীজ ও মানুষকে খাদ্য দান করে তা উর্বর ও অঙ্কুরিত না করে সেখানে ফিরে যায় না, তেমনি ঘটে আমার মুখনিঃসৃত বাণীর বেলায়: আমি যা ইচ্ছা করি, তা সম্পন্ন না করে, এবং যে উদ্দেশ্যে আমি তা প্রেরণ করেছি, তা সাফল্যমণ্ডিত না করে আমার বাণী নিষ্ফল হয়ে আমার কাছে ফিরে আসবে না।
ঈশ্বরের বাণী।

সামসঙ্গীত ইসাইয়া ১২:২-৬
ধুয়ো: তোমরা আনন্দের সঙ্গে জল তুলে আনবে
পরিত্রাণের উৎসধারা থেকে।

সত্যি, ঈশ্বরই আমার পরিত্রাণ,
আমি ভরসা রাখব, ভীত হব না;
কারণ প্রভুই আমার শক্তি, আমার স্তবগান,
তিনি হলেন আমার পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

তোমরা আনন্দের সঙ্গে জল তুলে আনবে পরিত্রাণের উৎসধারা থেকে;
প্রভুর স্তুতিবাদ কর, কর তাঁর নাম;
জাতিসকলের মাঝে তাঁর কর্মকীর্তির কথা জ্ঞাত কর,
ঘোষণা কর: তাঁর নাম মহীয়ান।   [ধুয়ো]

প্রভুর স্তবগান কর, তিনি যে সাধন করেছেন মহিমময় কাজ,
সারা পৃথিবী জুড়ে একথা জ্ঞাত হোক।
সানন্দে চিৎকার কর, জাগাও হর্ষধ্বনি, সিয়োন অধিবাসী,
কারণ তোমাদের মধ্যে মহানই ইস্রায়েলের সেই পবিত্রজন।   [ধুয়ো]

প্রার্থনা: এসো, প্রাথর্না করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, তুমি জগতের একমাত্র আশা! আজকালের রহস্যগুলো তুমি তোমার নবীদের বাণীর মধ্য দিয়েই পূর্বঘোষণা করেছিলে।
প্রসন্ন হয়ে তোমার জনগণের প্রত্যাশা বৃদ্ধি কর,
কেননা শুধু তোমার অনুগ্রহের প্রেরণা গুণেই
তোমার বিশ্বাসী এই আমরা সদ্‌গুণাবলির পথে এগিয়ে চলতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

ষষ্ঠ পাঠ
নবী বারুকের পুস্তক থেকে পাঠ (৩:৯-১৫,৩২–৪:৪)

শোন, ইস্রায়েল, জীবনের আজ্ঞাবলি,
কান পেতে শোন, যেন বুঝতে পার, সদ্বিবেচনা কী।
কেন, ইস্রায়েল, কেন তুমি শত্রুদেশে আছ,
কেন বৃদ্ধ হচ্ছ ভিনদেশের বুকে?
কেন মৃতদের সঙ্গে তোমার এই কলুষ,
কেনই বা তুমি তাদের মধ্যে পরিগণিত যারা পাতালে নেমে যায়?
কারণ তুমি তা-ই পরিত্যাগ করেছ, যা প্রজ্ঞার উৎস!
তুমি যদি ঈশ্বরের পথে চলতে,
তবে চিরকালের মতই শান্তিতে জীবনযাপন করতে।
শিখে নাও সদ্বিবেচনা কোথায়,
কোথায় শক্তি, কোথায় সুবুদ্ধি,
যেন এও জানতে পার: কোথায় দীর্ঘায়ু ও জীবন,
কোথায় চোখের আলো ও শান্তি।
কিন্তু কেইবা আবিষ্কার করেছে কোথায় প্রজ্ঞার আবাস?
কে প্রবেশ করেছে তার গুপ্তধনাধারে?
কিন্তু সর্বজ্ঞ যিনি, তাকে জানেন যিনি,
নিজের সুবুদ্ধি দ্বারা তাকে তলিয়ে দেখলেন যিনি,
চিরকালের জন্য যিনি পৃথিবী প্রস্তুত করলেন,
ও চতুষ্পদ জীবজন্তুতে তা পরিপূর্ণ করলেন;
যিনি আলো প্রেরণ করলেই আলো এগিয়ে যায়,
যিনি ডাকলেই আলো সকম্পে তাঁর প্রতি বাধ্য হয়,
—নিজ নিজ প্রহরা-স্থান থেকে হয় তারানক্ষত্রের উদ্ভাস,
সবগুলিই আনন্দিত—
যিনি ডাকলে তারা উত্তর দেয়: ‘এই যে আমরা!’
সেই যে নির্মাতার জন্য তারা সানন্দে উদ্ভাসিত,
তিনিই আমাদের ঈশ্বর,
তাঁর সঙ্গে কারও তুলনা হয় না;
তিনিই সদ্‌জ্ঞানের সমস্ত পথ অনাবৃত করলেন,
ও তাঁর আপন দাস যাকোবকে,
তাঁর প্রীতিভাজন সেই ইস্রায়েলকে তা প্রদান করলেন।
এরপর পৃথিবীতে দৃশ্যমান হল,
ও মানুষদের মাঝে জীবন কাটাল।
প্রজ্ঞাই ঈশ্বরের বিধিনিয়ম-পুস্তক,
প্রজ্ঞাই যুগযুগস্থায়ী বিধান;
যারা তাকে আঁকড়ে থাকে, তারা জীবন পাবে,
যারা তাকে ত্যাগ করে, তাদের মৃত্যু হবে।
ফিরে এসো, যাকোব, তাকে গ্রহণ করে নাও,
তার আলোর প্রভায় পথ চল;
যা তোমার আপন গৌরব, তা অন্যকে দিয়ো না,
যা তোমার আপন অধিকার, তাও পরজাতীয় মানুষকে নয়।
হে ইস্রায়েল, আমরাই সুখী,
কারণ ঈশ্বরের যা গ্রহণীয়, তা আমাদের কাছে প্রকাশিত হল।
ঈশ্বরের বাণী।

সামসঙ্গীত ১৯
ধুয়ো:
অনন্ত জীবনের কথা
তোমার কাছেই রয়েছে, প্রভু।

প্রভুর বিধান নিখুঁত,
প্রাণকে পুনরুজ্জীবিত করে;
প্রভুর সাক্ষ্য বিশ্বাসযোগ্য,
সরলমনাকে প্রজ্ঞাবান করে।   [ধুয়ো]

প্রভুর আদেশমালা ন্যায্য,
হৃদয়ে আনন্দ সঞ্চার করে;
প্রভুর আজ্ঞা নির্মল,
চোখে আলো দান করে।   [ধুয়ো]

প্রভুভয় শুদ্ধ, চিরস্থায়ী,
প্রভুর বিচারগুলি সত্যাশ্রয়ী, সব ক’টি ধর্মময়,
সোনার চেয়ে, অজস্র খাঁটি সোনার চেয়েও মূল্যবান,
মধুর চেয়ে, মৌচাকের ঝরে পড়া মধুর চেয়েও সুমধুর।   [ধুয়ো]

প্রার্থনা: এসো, প্রাথর্না করি।
হে ঈশ্বর, সকল জাতি থেকে নতুন নতুন সন্তান আহ্বান করায়
তুমি তো তোমার মণ্ডলীর বৃদ্ধি সাধন কর।
প্রসন্ন হয়ে আশীর্বাদ কর: বাপ্তিস্মের জলে যাদের ধৌত কর,
তোমার অবিরত রক্ষায় তাদের প্রতিপালন কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

সপ্তম পাঠ
নবী এজেকিয়েলের পুস্তক থেকে পাঠ (৩৬:১৬-১৭ক,১৮-২৮)

প্রভুর বাণী আমার কাছে এসে উপস্থিত হয়ে বলল: ‘হে আদমসন্তান, ইস্রায়েলকুল যখন তার নিজের দেশভূমিতে বাস করত, তখন তার আচরণ ও কাজকর্ম দ্বারা তা কলুষিত করেছিল। তাই সেই দেশে তারা যে রক্তপাত করেছিল, এবং তাদের পুতুলগুলো দ্বারা তারা দেশ যে কলুষিত করেছিল, এসব কিছুর জন্য আমি তাদের উপরে আমার রোষ বর্ষণ করেছিলাম। আমি জাতিসকলের মধ্যে তাদের বিক্ষিপ্ত করেছিলাম, এবং তারা নানা দেশে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছিল; তাদের আচরণ ও কাজকর্ম অনুসারেই আমি তাদের বিচার করেছিলাম।
তারা যে দিকে চালিত হল, সেই জাতিসকলের মাঝে গিয়ে পৌঁছে আমার পবিত্র নাম অপবিত্র করল, ফলে লোকে তাদের বিষয়ে এখন বলে: এরা প্রভুর আপন জনগণ, তা সত্ত্বেও দেশ থেকে তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি আমার সেই পবিত্র নামের খাতিরেই উদ্বিগ্ন ছিলাম, যা ইস্রায়েলকুল জাতিসকলের মধ্যে যেখানে গিয়েছে, সেখানে অপবিত্র করেছে।
তাই তুমি ইস্রায়েলকুলকে বল: প্রভু পরমেশ্বর একথা বলছেন: হে ইস্রায়েলকুল, আমি তোমাদের খাতিরে নয়, আমার সেই পবিত্র নামের খাতিরেই কাজ করছি, যা তোমরা যেখানে গিয়েছ, সেখানে জাতিসকলের মধ্যে অপবিত্র করেছ! আমি আমার সেই মহা নামের পবিত্রতা দেখাতে যাচ্ছি, যা জাতিসকলের মধ্যে অপবিত্রতার বস্তু হয়েছে, যা তোমরা নিজেরাই তাদের মধ্যে অপবিত্র করেছ। তখনই জাতিসকল জানবে যে, আমিই প্রভু,—প্রভু পরমেশ্বরের উক্তি—যখন আমি তাদের চোখের সামনে তোমাদের মধ্যে আমার পবিত্রতা দেখাব; কারণ আমি জাতিসকলের মধ্য থেকে তোমাদের নেব, সকল দেশ থেকে তোমাদের সংগ্রহ করব, তোমাদের নিজেদের দেশভূমিতে তোমাদের নিয়ে আসব। তোমাদের উপর ছিটিয়ে দেব শুদ্ধ জল আর তোমরা শুদ্ধ হবে; তোমাদের সমস্ত মলিনতা থেকে, তোমাদের সকল পুতুল থেকে তোমাদের শোধন করব। তোমাদের দেব এক নতুন হৃদয়, তোমাদের অন্তরে রাখব এক নতুন আত্মা। তোমাদের বুক থেকে সরিয়ে দেব সেই পাথরময় হৃদয়, মাংসময়ই এক হৃদয় তোমাদের দেব।
তোমাদের অন্তরে রাখব আমার আত্মা, আমার বিধিপথে তোমাদের চালনা করব, আমার নিয়মনীতি পালনে তোমাদের নিষ্ঠাবান করব। আমি তোমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে যে দেশ দিয়েছিলাম, তোমরা সেই দেশেই বাস করবে; তোমরা হবে আমার আপন জনগণ আর আমি হব তোমাদের আপন পরমেশ্বর।’
ঈশ্বরের বাণী।

সামসঙ্গীত ৪২-৪৩
ধুয়ো:
হরিণী যেমন জলস্রোতের আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল,
তেমনি, পরমেশ্বর, তোমারই আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল আমার প্রাণ।

পরমেশ্বরের জন্য,
জীবনময় ঈশ্বরের জন্য আমার প্রাণ তৃষাতুর,
কবে যাব,
কবে দেখতে পাব পরমেশ্বরের শ্রীমুখ?   [ধুয়ো]

একথা স্মরণ করে আমি প্রাণ উজাড় করে দিই—
জনতার সঙ্গে আমি শোভাযাত্রা ক’রে
তাদের নিয়ে যেতাম পরমেশ্বরের গৃহের দিকে,
উৎসব-মুখর ভিড়ের মাঝে হর্ষধ্বনি তুলে, ধন্যবাদগীতি গেয়ে।   [ধুয়ো]

তোমার আলো, তোমার সত্য প্রেরণ কর,
তারাই আমাকে চালনা করুক;
আমাকে নিয়ে যাক তোমার পবিত্র পর্বতে,
তোমার আবাসগৃহে।   [ধুয়ো]

তখন আমি যাব পরমেশ্বরের বেদির কাছে,
আমার আনন্দের, আমার পুলকের ঈশ্বরের কাছে;
সেতারের সুরে গাইব তোমার স্তুতি,
হে পরমেশ্বর, আমার পরমেশ্বর।   [ধুয়ো]

প্রার্থনা: এসো, প্রাথর্না করি।
হে ঈশ্বর, অপরিবর্তনশীল শক্তি তুমি! অন্তহীন জ্যোতি তুমি!
পরিত্রাণের সাক্রামেন্ত-স্বরূপ তোমার সেই মণ্ডলীর প্রতি
সদয় দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মঙ্গলবিধানের পরিকল্পনা সম্পন্ন কর,
যেন সমগ্র জগৎ দেখতে ও স্বীকার করতে পারে যে,
যা কিছু পতিত ছিল তা উত্তোলিত হচ্ছে,
যা কিছু জরাজীর্ণ হয়েছিল তা নবীন হয়ে উঠছে,
এবং সমস্ত কিছুর আদি যিনি, সেই খ্রিষ্টেরই দ্বারা
সমস্ত কিছু তার আদি-মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

২০। পুরাতন নিয়মের শেষ পাঠ ও সেটির জন্য নির্দিষ্ট সামসঙ্গীত ও প্রার্থনার পরে বেদিতে বা আসনে মোমবাতি জ্বালানো হয়, এবং অনুষ্ঠাতা জয় ঈশ্বরের স্তোত্রটি শুরু করলে সকলে গানে যোগ দেন; এসময় ঘণ্টা বাজানো যেতে পারে।
২১। জয় ঈশ্বরের শেষে অনুষ্ঠাতা যথারীতি সমাবেশ প্রার্থনাটি উচ্চারণ করেন।
এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি এ পবিত্রতম রাত্রিকে
বিভাসিত কর প্রভুর পুনরুত্থানের গৌরবে।
তোমার মণ্ডলীতে দত্তকপুত্রত্বের আত্মা জাগিয়ে তোল,
যেন দেহমনে নবায়িত হয়ে আমরা নির্মল অন্তরে
তোমার সেবা করে যেতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।

২২। এসময় পাঠক প্রেরিতদূতের পত্র পাঠ করেন।
সুসমাচারের আগের পাঠ
রোমীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৬:৩-১১)

প্রিয়জনেরা, তোমরা কি জান না যে, আমরা যারা খ্রিষ্টযিশুর উদ্দেশে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছি, সকলে তাঁর মৃত্যুর উদ্দেশেই বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছি? সুতরাং মৃত্যুর উদ্দেশে সাধিত বাপ্তিস্মের মাধ্যমে আমরা তাঁর সঙ্গে সমাহিত হয়েছি, মৃতদের মধ্য থেকে খ্রিষ্টকে যেমন পিতার গৌরব দ্বারা পুনরুত্থিত করা হয়েছে, তেমনি আমরাও যেন জীবনের নবীনতায় চলতে পারি। কেননা আমাদের যখন তাঁর মৃত্যুর সাদৃশ্যে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে, তখন একথা নিশ্চিত যে, তাঁর পুনরুত্থানের সাদৃশ্যেও আমাদের তেমনি হবে।
আমরা তো ভালই জানি যে, আমাদের পুরাতন মানুষ তাঁর সঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছে যেন পাপদেহ বিনষ্ট হয় ও আমরা পাপের সেবায় আর না থাকি। কেননা যার মৃত্যু হয়েছে, সে পাপ থেকে মুক্ত হয়ে ধর্মময়তা-প্রাপ্ত হয়েছে।
কিন্তু খ্রিষ্টের সঙ্গে আমাদের যখন মৃত্যু হয়েছে, তখন আমরা বিশ্বাস করি যে তাঁর সঙ্গে জীবিতও থাকব। কারণ আমরা জানি, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করেছেন বলে খ্রিষ্টের আর মৃত্যু নেই, তাঁর উপর মৃত্যুর আর কোন কর্তৃত্ব নেই। বস্তুত তিনি যে মৃত্যু ভোগ করেছেন, তাতে একবার চিরকালের মত পাপেরই কাছে মরলেন; কিন্তু যে জীবন ভোগ করছেন, তাতে তিনি ঈশ্বরের উদ্দেশেই জীবিত আছেন। একই প্রকারে, নিজেদের সম্বন্ধে সচেতন হও যে, তোমরাও পাপের কাছে মৃত, কিন্তু খ্রিষ্টযিশুতে ঈশ্বরের উদ্দেশে জীবিত।
ঈশ্বরের বাণী।

২৩। পত্র পাঠ শেষে সকলে উঠে দাঁড়ালে অনুষ্ঠাতা তিনবার, এক একবার উচ্চতর সুরে, ‘আল্লেলুইয়া’ গান ধরেন, আর সকলে তাতে যোগ দেন।
২৪। তারপর গায়ক ১১৮ নং সামসঙ্গীত পরিবেশন করেন; সকলে ‘আল্লেলুইয়া’ ধুয়ো গানে যোগ দেন।

সামসঙ্গীত ১১৮
ধুয়ো:
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।

প্রভুকে ধন্যবাদ জানাও, তিনি যে মঙ্গলময়,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।
বলুক ইস্রায়েল,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।   [ধুয়ো]

প্রভুর ডান হাত এবার উত্তোলিত,
প্রভুর ডান হাত পরাক্রম সাধন করল;
আমি মরব না, জীবিতই থাকব,
প্রভুর কর্মকাহিনী বর্ণনা করে যাব।   [ধুয়ো]

গৃহনির্মাতারা যে প্রস্তরটি প্রত্যাখ্যান করল,
তা তো হয়ে উঠেছে সংযোগপ্রস্তর;
এ কাজ স্বয়ং প্রভুরই কাজ,
আমাদের দৃষ্টিতে তা আশ্চর্যময়।   [ধুয়ো]

সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৬:১-৭)
অনুষ্ঠাতা যথারীতি ধূপপাত্রে ধূপ দিয়ে সুসমাচার পুস্তকের সম্মানার্থে আরতি দেন।
সাব্বাৎ অতিবাহিত হলে মাগদালার মারীয়া, যাকোবের মা মারীয়া ও সালোমে তাঁকে লেপন করার জন্য গন্ধদ্রব্য-সামগ্রী কিনলেন। এবং সপ্তাহের প্রথম দিন তাঁরা খুব সকালে, সূর্য উঠতেই, সমাধিগুহায় এলেন।
তাঁরা এই বলে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলেন, ‘কে আমাদের জন্য সমাধিগুহার মুখ থেকে পাথরখানা গড়িয়ে সরিয়ে দেবে?’ এমন সময়ে তাঁরা তাকিয়ে দেখলেন, পাথরখানা গড়িয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ পাথরটা খুবই বড় ছিল।
সমাধিগুহার ভিতরে গিয়ে তাঁরা দেখলেন, শুভ্র পোশাক-পরা একটি যুবক ডান পাশে বসে আছেন; এতে তাঁরা বিহ্বল হয়ে পড়লেন। কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, ‘বিহ্বল হয়ো না। তোমরা নাজারেথীয় সেই যিশুকে খুঁজছ, যাঁকে ক্রুশে দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে পুনরুত্থিত করা হয়েছে, তিনি এখানে নেই; দেখ, তাঁকে এইখানে রাখা হয়েছিল; কিন্তু তোমরা গিয়ে তাঁর শিষ্যদের ও পিতরকে বল যে, তিনি তোমাদের আগে আগে গালিলেয়ায় যাচ্ছেন, যেমনটি তিনি তোমাদের বলেছিলেন; সেইখানে তাঁকে দেখতে পাবে।’
প্রভুর বাণী।

২৫। উপদেশ
পুরোহিত সাধু হিপলিতুসেরই বলে ধরে নেওয়া উপদেশ

এবার খ্রিষ্টের জ্যোতির পুণ্য রশ্মিমালা বিকিরণ করছে, নির্মল আত্মার নির্মল জ্যোতিষ্করাজি উদীয়মান হয়ে স্বর্গীয় গৌরব ও রাজকীয় ঈশ্বরত্বের ঐশ্বর্য প্রকাশিত করছে। ঘন ও অন্ধকারময় রাত্রি এবার কবলিত, ও সেই ভয়ঙ্কর মৃত্যু ছায়ায় দণ্ডিত; জীবনই জগতে এসে পড়ছে, সারাবিশ্ব সনাতন জ্যোতিতে উচ্ছ্বসিত; নবজাত সকলেই নব জগৎ লাভ করে: প্রভাতী তারার পূর্বে জনিত, অমর ও সূর্যের চেয়েও মহান সেই খ্রিষ্ট সকল সৃষ্টজীবদের জন্য উদ্ভাসিত। ফলে তাঁর বিশ্বাসী এ আমাদের জন্য জ্যোতির্ময় হয়ে সেই অস্তহীন দিন এগিয়ে আসছে, এগিয়ে আসছে সেই রহস্যময় পাস্কা যা বিধান দ্বারা পূর্ব প্রদর্শিত ও উদ্‌যাপিত হয়েছিল ও খ্রিষ্টের দ্বারা এবার বাস্তব রূপে সাধিত হয়েছে। ঐশসর্বশক্তির আশ্চর্য কাজ এ পাস্কাই হল সত্যকার পর্ব ও বিধিসম্মত সনাতন স্মরণানুষ্ঠান: পাস্কাই হল যন্ত্রণাভোগের পর আগত যন্ত্রণামুক্তি, মৃত্যু থেকে আগত অমরত্ব, বীজ থেকে আগত জীবন, ক্ষত থেকে আগত ঔষধ, পতন থেকে আগত পুনরুত্থান, অবরোহণ থেকে আগত আরোহণ।
এভাবেই তো ঈশ্বর মহা মহা কাজ সাধন করেন, অসম্ভব থেকে আশ্চর্য কিছু সৃষ্টি করেন, যাতে প্রকাশ পায় যে তিনিই মাত্র যা ইচ্ছা করেন তা সাধন করতে সক্ষম। তাঁর রাজকীয় ক্ষমতা গুণে তিনি মৃত্যুর বাঁধন খুলে দেন, যেইভাবে তিনি আপন ক্ষমতার কার্যকারিতা দেখাবার জন্য একদিন বলেছিলেন, লাজার, বেরিয়ে এসো (যোহন ১১:৪৩); কিংবা, খুকি, উঠে দাঁড়াও (মার্ক ৫:৪১)। একই উদ্দেশ্যে তিনি মৃত্যুর হাতে নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে সঁপে দিয়েছিলেন, যাতে তাঁর মধ্যে সেই হিংস্র পশু তার সেই নিত্যতৃপ্তিহীন ক্ষুধার সঙ্গে মরতে পারে।
যেহেতু পাপই তো মৃত্যুর হুল (১ করি ১৫:৫৬), সেহেতু সেই পশু অর্থাৎ মৃত্যু খ্রিষ্টের পাপশূন্য দেহের মধ্যে সর্বত্রই তার সাধারণ খাদ্যের মত সেই সবকিছু অর্থাৎ লালসা, গর্ব, অবাধ্যতা, বা কমপক্ষে সেই প্রাচীন পাপকেই খোঁজ করেছিল যা হয়েছিল তার প্রথম টোপ। কিন্তু তাঁর মধ্যে খাদ্যরূপে কিছুই খুঁজে না পাওয়ায় কেবল নিজের উপর অবলম্বন ক’রে খাদ্যের অভাবে নিঃশেষিত হয়ে মৃত্যু নিজেই হল নিজ মৃত্যুর সাধক, ঠিক যেইভাবে ধার্মিকদের অনেকেই প্রচার ও ভাববাণী দিয়ে বলে আসছিলেন তাই একদিন ঘটবার কথা, যখন সেই প্রথমজাত মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করবেন। তিনি তিন দিন মাটির বুকে থাকলেন, যাতে সমস্ত মানবজাতিকে, এমনকি যারা বিধানের আগে জীবনযাপন করেছিল, তাদেরও তিনি নিজের মধ্য দিয়ে পরিত্রাণ করতে পারেন।
তিনি পুনরুত্থান করলে নারীরাই প্রথম তাঁকে দেখেন, কেননা যেমন একটি নারীই প্রথম এজগতে পাপ প্রবেশ করিয়েছিলেন, তেমনি একটি নারীই প্রথম জগৎকে জীবনের সংবাদ দেন। এজন্য নারীরা এ পুণ্য অভিবাদন শোনেন, ‘আনন্দ কর!’ যাতে আগের দুঃখ পুনরুত্থানের আনন্দে কবলিত হয় ও যারা অবিশ্বাসী তারা যেন বিশ্বাস করে, তিনি সশরীরেই মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করেছেন।
যখন খ্রিষ্ট ঈশ্বরের সাদৃশ্যে সৃষ্ট সেই মানবস্বরূপকে পরিধান ক’রে পরিধান করা সেই পুরাতন মানবকে স্বর্গীয় মানবে রূপান্তরিত করলেন, তখন সেই রূপান্তরিত সাদৃশ্যকে সঙ্গে করে স্বর্গারোহণ করলেন। মানুষ যে ঈশ্বরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে স্বর্গারোহণ করছে, তেমন মহারহস্য দর্শনে স্বর্গদূতেরা স্বর্গবাহিনীকে আদেশ দিয়ে বললেন, হে নেতৃবৃন্দ, তোরণ উত্তোলন কর; উত্তোলিত হও, সনাতন সিংহদ্বার, প্রবেশ করুন গৌরবের রাজা (সাম ২৪:৭ লাতিন পাঠ)। মানুষ যে ঈশ্বরের সঙ্গে সংযুক্ত, তেমন নব আশ্চর্য কাজ দেখে স্বর্গবাহিনীও তখন উদাত্ত কণ্ঠে বলে উঠলেন, কে এ গৌরবের রাজা? (সাম ২৪:৮)। প্রত্যুত্তর এল, সেনাবাহিনীর প্রভু, তিনিই গৌরবের রাজা; শক্তিমান, পরাক্রমী, যুদ্ধে পরাক্রমী রাজা (সাম ২৪:১০, ৮)।
হে অনুগ্রহের রহস্যময় আতিশয্য; হে আত্মিক মহোৎসব; হে দিব্য পাস্কা, তুমি যে স্বর্গ থেকে মর্তে অবরোহণ ক’রে মর্ত থেকে স্বর্গে আরোহণ কর! হে পাস্কা, তুমি যে নব বাতির আলো ও নির্মল প্রদীপের জ্যোতি! খ্রিষ্টের তেলে পরিপূর্ণ বলে মানবাত্মার প্রদীপ আর কখনও নিভবে না, কেননা এখন সকলের অন্তরেই অনুগ্রহের সেই আত্মিক ও দিব্য আগুন জাজ্বল্যমান, যা খ্রিষ্টের দেহ ও আত্মা দ্বারা নিবেদিত।
হে প্রভু পরমেশ্বর, হে আধ্যাত্মিক ও সনাতন রাজা খ্রিষ্ট, অনুনয় করি: তোমার শক্তিশালী হাত তোমার পবিত্র মণ্ডলী ও তোমার পুণ্য জনগণের উপর অর্পণ ক’রে তাকে রক্ষা, পালন ও প্রতিপালন কর চিরকাল ধরে। আমাদের জন্য তোমার জয়চিহ্ন উত্তোলন কর। মোশির সঙ্গে আমাদেরও সেই জয়গান গাইতে দাও, কেননা তোমারই তো গৌরব ও শক্তি যুগে যুগান্তরে। আমেন।

তৃতীয় ভাগ
বাপ্তিস্ম-প্রতিজ্ঞাসমূহ পুনর্গ্রহণ
২৬। জ্বলন্ত বাতি হাতে সকলে দাঁড়িয়ে বিশ্বাস সংক্রান্ত বাপ্তিস্ম-প্রতিজ্ঞাসমূহ পুনর্গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠাতা নিচের কথায় সকলকে আহ্বান করেন:
প্রিয়জনেরা, পাস্কা-রহস্যের মধ্য দিয়ে
আমরা বাপ্তিস্মে খ্রিষ্টের সঙ্গে সমাহিত হয়েছি
যাতে তাঁর সঙ্গে জীবনের নবীনতায় চলতে পারি।
অতএব এসো, তপস্যাকালীন সাধনা শেষ ক’রে
আমরা পবিত্র বাপ্তিস্ম গ্রহণের সময় যে যে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছিলাম
তা পুনর্গ্রহণ করি।
সেসময় আমরা শয়তানকে ও তার সমস্ত কর্মকাণ্ড অস্বীকার করেছিলাম,
এবং পবিত্র বিশ্বজনীন মণ্ডলীর কাছে
ঈশ্বরের সেবা করব বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম।

অতএব:
তোমরা কি শয়তানকে প্রত্যাখ্যান কর?
   সকলে: হ্যাঁ, প্রত্যাখ্যান করি।

অনুষ্ঠাতা: তোমরা কি তার সমস্ত কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান কর?
   সকলে: হ্যাঁ, প্রত্যাখ্যান করি।

অনুষ্ঠাতা: তোমরা কি তার সমস্ত প্রলোভন প্রত্যাখ্যান কর?
   সকলে: হ্যাঁ, প্রত্যাখ্যান করি।


তারপর অনুষ্ঠাতা বলে চলেন:
স্বর্গমর্তের স্রষ্টা সর্বশক্তিমান পিতা ঈশ্বরে
তোমরা কি বিশ্বাস কর?
   সকলে: হ্যাঁ, বিশ্বাস করি।

অনুষ্ঠাতা: তাঁর একমাত্র পুত্র,
কুমারী মারীয়ার গর্ভে যিনি জন্মগ্রহণ ক’রে
মৃত্যুবরণ করেছেন ও সমাহিত হয়েছেন,
মৃতদের মধ্য থেকে যিনি পুনরুত্থান করেছেন
ও পিতার ডান পাশে উপবিষ্ট আছেন,
আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টে তোমরা কি বিশ্বাস কর?
   সকলে: হ্যাঁ, বিশ্বাস করি।

অনুষ্ঠাতা: পবিত্র আত্মায়, পবিত্র সার্বজনীন মণ্ডলী,
পবিত্রজনদের পুণ্যসংযোগ, পাপের ক্ষমা,
শরীরের পুনরুত্থান ও অনন্ত জীবন তোমরা কি বিশ্বাস কর?
   সকলে: হ্যাঁ, বিশ্বাস করি।

উপসংহারে অনুষ্ঠাতা বলেন:
আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের পিতা সেই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর,
পাপের ক্ষমা মঞ্জুর করে যিনি জল ও পবিত্র আত্মায়
আমাদের নবজন্ম দান করেছেন,
তিনি আপন অনুগ্রহ দানে
আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের আশ্রয়ে
অনন্ত জীবনের উদ্দেশ্যে আমাদের প্রতিপালন করুন।
   সকলে: আমেন।

চতুর্থ ভাগ
কমুনিয়ন
২৭। অর্থদান

২৮। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

২৯। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

৩০। ধ্যান-গীতি: সাম ১১৮
ধুয়ো:
আমাদের পাস্কা সেই খ্রিষ্ট বলীকৃত হয়েছেন।
সুতরাং এসো, আন্তরিকতা ও সত্য নিয়ে এই উৎসব উদ্‌যাপন করি, আল্লেলুইয়া।

প্রভুকে ধন্যবাদ জানাও, তিনি যে মঙ্গলময়,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।

বলুক ইস্রায়েল,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।
বলুক আরোনকুল,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।
বলুক প্রভুভীরু সকল,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।

আমার যন্ত্রণায় আমি প্রভুকে ডাকলাম,
প্রভু সাড়া দিয়ে আমাকে আনলেন উন্মুক্ত স্থানে।
প্রভু আমার পক্ষে, আমার নেই কোন ভয়,
মানুষ আমাকে কীবা করতে পারে?
প্রভু আমার পক্ষে, তিনি আমার সহায়,
তাই আমি শত্রুদের উপর তাকাতে পারব।

মানুষের উপর ভরসা রাখার চেয়ে
প্রভুতে আশ্রয় নেওয়া শ্রেয়।
ক্ষমতাশালীদের উপর ভরসা রাখার চেয়ে
প্রভুতে আশ্রয় নেওয়া শ্রেয়।

সকল দেশ ঘিরে ফেলেছিল আমায়,
প্রভুর নামেই আমি তাদের টুকরো টুকরো করলাম।
তারা ছেকে ধরেছিল, ঘিরে ফেলেছিল আমায়,
প্রভুর নামেই আমি তাদের টুকরো টুকরো করলাম।
তারা মৌমাছির মত ছেকে ধরেছিল আমায়, কাঁটাঝোপে আগুনেরই মত জ্বলছিল তারা,
প্রভুর নামেই আমি তাদের টুকরো টুকরো করলাম।

তারা আমাকে জোরেই ঠেলা দিয়েছিল আমি যেন লুটিয়ে পড়ি,
প্রভু কিন্তু হলেন আমার সহায়।
প্রভুই আমার শক্তি, আমার স্তবগান,
তিনি হলেন আমার পরিত্রাণ।

ধার্মিকদের তাঁবুতে তাঁবুতে জাগে আনন্দচিৎকার জয়ধ্বনি—
প্রভুর ডান হাত পরাক্রম সাধন করল,
প্রভুর ডান হাত এবার উত্তোলিত,
প্রভুর ডান হাত পরাক্রম সাধন করল।

আমি মরব না, জীবিতই থাকব,
প্রভুর কর্মকাহিনী বর্ণনা করে যাব।
প্রভু কঠোর শাস্তি দিয়েছিলেন আমায়,
তবুও আমায় সঁপে দেননি মৃত্যুর হাতে।

আমার জন্য খুলে দাও তোমরা ধর্মময়তার তোরণদ্বার,
প্রবেশ করে আমি প্রভুকে জানাব ধন্যবাদ।
এই তো প্রভুর তোরণদ্বার,
এর মধ্য দিয়ে ধার্মিকেরাই প্রবেশ করবে।
আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই, তুমি যে আমাকে দিয়েছ সাড়া,
তুমি যে হলে আমার পরিত্রাণ।

গৃহনির্মাতারা যে প্রস্তরটি প্রত্যাখ্যান করল,
তা তো হয়ে উঠেছে সংযোগপ্রস্তর;
এ কাজ স্বয়ং প্রভুরই কাজ,
আমাদের দৃষ্টিতে তা আশ্চর্যময়।
এই তো সেই দিন, যা স্বয়ং প্রভুই গড়লেন,
এদিনে, এসো, মেতে উঠি; এসো, আনন্দ করি।

দোহাই প্রভু, কর গো ত্রাণ!
দোহাই প্রভু, কর গো জয়দান!
যিনি প্রভুর নামে আসছেন, তিনি আশিসধন্য;
প্রভুর গৃহ থেকে আমরা তোমাদের আশীর্বাদ করি।
প্রভুই ঈশ্বর, তিনিই আমাদের আলো দান করেন।
শাখাপল্লব হাতে নিয়ে বেদির দুই শিং পর্যন্ত শোভাযাত্রায় সার বেঁধে চল।

তুমিই আমার ঈশ্বর, আমি তোমায় জানাই ধন্যবাদ;
হে আমার পরমেশ্বর, আমি তোমার বন্দনা করি।
প্রভুকে ধন্যবাদ জানাও, তিনি যে মঙ্গলময়,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।
পিতা ও পুত্র এ পবিত্র আত্মার গৌরব হোক,
যিনি আছেন, যিনি ছিলেন, যিনি আসছেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। আমেন।   [ধুয়ো]

২১। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার ভালবাসার আত্মাকে আমাদের অন্তরে সঞ্চার কর: পাস্কা-সাক্রামেন্ত দানে যাদের পরিতৃপ্ত করেছ,
তোমার পিতৃস্নেহে তাদের একমন একপ্রাণ করে তোল।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

২২। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর। আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।

[সূচী]    


পাস্কা-রবিবার - সকাল
পাস্কা-পর্বের প্রকৃত মিসা নিশিজাগরণীরই মিসা। তাই যদিও এ অনুষ্ঠান বিশেষভাবে তাঁদেরই জন্য যাঁরা নিশিজাতরণীতে যোগ দিতে পারেননি, তবু অবশ্যই এতে সকলে যোগ দিতে পারেন।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, আজকেই তোমার একমাত্র পুত্রের দ্বারা
তুমি মৃত্যুর উপরে বিজয়ী হয়ে
আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছ অনন্তধামের প্রবেশদ্বার।
আশীর্বাদ কর: প্রভুর পুনরুত্থান-মহোৎসব পালন ক’রে
আমরা যেন পবিত্র আত্মার নবীকরণে নবীন হয়ে
জীবনের আলোতে পুনরুত্থিত হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (১০:৩৪ক,৩৭-৪৩)

সেসময়ে পিতর একথা বললেন, ‘যোহন-প্রচারিত বাপ্তিস্মের পর থেকে গালিলেয়াতে আরম্ভ ক’রে সমস্ত যুদেয়ায় সম্প্রতি কী ঘটেছে, আপনারা তা জানেন: অর্থাৎ, কেমন করে ঈশ্বর নাজারেথের সেই যিশুকে পবিত্র আত্মায় ও পরাক্রমে তৈলাভিষিক্ত করেছিলেন। তিনি মানুষের মঙ্গল সাধন করতে করতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন এবং দিয়াবলের শক্তির অধীনে থাকা যত মানুষকে সুস্থ করে তুলছিলেন, কারণ ঈশ্বর তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
আর তিনি ইহুদীদের সারা দেশে ও যেরুসালেমে যা করেছেন, আমরা নিজেরাই সেই সবকিছুর সাক্ষী; আবার, তারা তাঁকে এক গাছে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে, কিন্তু তৃতীয় দিনে ঈশ্বর তাঁকে পুনরুত্থিত করলেন ও এমনটি দিলেন তিনি যেন আত্মপ্রকাশ করতে পারেন—জাতির সকলের কাছে কিন্তু নয়, বরং ঈশ্বর আগে যাদের নিযুক্ত করেছিলেন, সেই সাক্ষীদেরই কাছে, অর্থাৎ এ আমাদেরই কাছে যারা, মৃতদের মধ্য থেকে তাঁর পুনরুত্থানের পর, তাঁর সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেছি।
আর তিনি আদেশ করলেন, আমরা যেন জনগণের কাছে প্রচার করি ও সাক্ষ্য দিই যে, তাঁকেই ঈশ্বর জীবিত ও মৃতদের বিচারকর্তা নিযুক্ত করেছেন। তাঁর বিষয়ে সকল নবী এ সাক্ষ্য দেন যে, তাঁর প্রতি যে কেউ বিশ্বাস রাখে, তাঁর নাম দ্বারা সে পাপমোচন লাভ করবে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১১৮
ধুয়ো:
এই তো সেই দিন, যা স্বয়ং প্রভুই গড়লেন,
এদিনে, এসো, মেতে উঠি; এসো, আনন্দ করি।

প্রভুকে ধন্যবাদ জানাও, তিনি যে মঙ্গলময়,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।
বলুক ইস্রায়েল,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।   [ধুয়ো]

প্রভুর ডান হাত এবার উত্তোলিত,
প্রভুর ডান হাত পরাক্রম সাধন করল;
আমি মরব না, জীবিতই থাকব,
প্রভুর কর্মকাহিনী বর্ণনা করে যাব।   [ধুয়ো]

গৃহনির্মাতারা যে প্রস্তরটি প্রত্যাখ্যান করল,
তা তো হয়ে উঠেছে সংযোগপ্রস্তর;
এ কাজ স্বয়ং প্রভুরই কাজ,
আমাদের দৃষ্টিতে তা আশ্চর্যময়।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
কলসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৩:১-৪)

প্রিয়জনেরা, তোমরা যখন খ্রিষ্টের সঙ্গে পুনরুত্থিত হয়েছ, তখন সেই ঊর্ধ্বলোকের বিষয়ের অন্বেষণ কর, যেখানে ঈশ্বরের ডান পাশে সমাসীন হয়ে খ্রিষ্ট রয়েছেন। ঊর্ধ্বলোকেরই বিষয়গুলো ভাব, মর্তলোকের বিষয়গুলো নয়।
কেননা তোমাদের তো মৃত্যুই হয়েছে, আর তোমাদের জীবন খ্রিষ্টের সঙ্গে ঈশ্বরে নিহিত হয়ে আছে। কিন্তু খ্রিষ্ট যখন আবির্ভূত হবেন—তিনিই তো তোমাদের জীবন—তখন তোমরাও তাঁর সঙ্গে গৌরবে আবির্ভূত হবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। গীতিগাথা
পাস্কা-বলির গৌরবকীর্তন
এসো, করি সমস্বরে:
মেষশিশু ত্রাণ করলেন পালকে,
নিষ্পাপ পাপীকে।

জীবন-মৃত্যুর কেমন সংগ্রাম!
জীবনদাতা ছিলেন মৃত,
এখন হয়ে সঞ্জীবিত
করেন জয়লাভ।

মারীয়া, কী দেখলে পথে?
‘জীবন্ত খ্রিষ্টের সেই কবর,
পুনরুত্থিতজন যিনি,
তাঁর অমর গৌরব।

সাক্ষী ছিলেন স্বর্গদূতগণ,
ছিল রুমাল, ফালিগুলো।
প্রাণের আশা মম খ্রিষ্ট
জেগে উঠেছেন।’

বিশ্বাসভরে মোরাও বলি:
‘পুনরুত্থান করলেন খ্রিষ্ট!’
মোদের প্রতি দয়া কর,
হে বিজয়ী রাজন!

৮। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমাদের পাস্কা সেই খ্রিষ্ট বলীকৃত হয়েছেন;
এসো, প্রভুতেই এই উৎসব উদ্‌যাপন করি।
আল্লেলুইয়া।

৯। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২০:১-৯)

সপ্তাহের প্রথম দিন সকালের দিকে, অন্ধকার থাকতেই মাগদালার মারীয়া যিশুর সমাধিগুহায় এলেন। তিনি দেখতে পেলেন, সমাধিগুহা থেকে পাথরখানা সরানো হয়েছে। তাই তিনি দৌড়ে গেলেন সিমোন পিতর আর সেই অন্য শিষ্যের কাছে যাঁকে যিশু ভালবাসতেন। তাঁদের তিনি বললেন, ‘তারা প্রভুকে কবর থেকে নিয়ে গেছে, আর আমরা জানি না, তাঁকে কোথায় রেখেছে।’
তাই পিতর ও অন্য শিষ্যটি বেরিয়ে পড়ে সমাধিগুহার দিকে রওনা হলেন। দু’জনে একসঙ্গে দৌড়তে লাগলেন, কিন্তু দ্বিতীয় শিষ্যটি পিতরের চেয়ে দ্রুত ছুটে তাঁকে ছাড়িয়ে গেলেন আর সমাধিগুহায় আগে পৌঁছলেন; নিচু হয়ে তিনি ভিতরের দিকে চেয়ে দেখলেন, ক্ষোম-কাপড়ের সেই ফালিগুলো সেখানে পড়ে রয়েছে, তবুও তিনি ভিতরে ঢুকলেন না।
তাঁর পিছু পিছু সিমোন পিতরও তখন সেখানে এসে উপস্থিত হলেন, এবং সমাধিগুহার মধ্যে প্রবেশ করে দেখলেন, ফালিগুলো পড়ে রয়েছে, আর যে রুমালটা যিশুর মাথার উপর ছিল, সেটা ফালিগুলির সঙ্গে নয়, আলাদা ভাবে অন্য এক স্থানে রয়েছে, গোটানো অবস্থায়।
তখন যে অন্য শিষ্যটি সমাধিগুহায় প্রথম এসেছিলেন, তিনিও ভিতরে গেলেন: তিনি দেখলেন ও বিশ্বাস করলেন। কেননা মৃতদের মধ্য থেকে তাঁকে যে পুনরুত্থান করতে হবে, শাস্ত্রের এই বচনটি তাঁরা তখনও জানতেন না।
প্রভুর বাণী।

১০। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে বিশপ সাধু আগস্তিনের ব্যাখ্যা

শনিবারের পরবর্তী দিন হল সেই দিন যা প্রভুর পুনরুত্থানের স্মরণে খ্রিষ্টানেরা প্রভুর দিন বলে, যে দিনটি সুসমাচার-রচয়িতাদের মধ্যে মথি একাই সপ্তাহের প্রথম দিন বললেন (মথি ২৮:১ দ্রঃ)। মাগদালার মারীয়া দৌড়ে গেলেন সিমোন পিতর আর সেই অন্য শিষ্যের কাছে যাঁকে যিশু ভালবাসতেন। তাঁদের তিনি বললেন, তারা প্রভুকে কবর থেকে নিয়ে গেছে, আর আমরা জানি না, তাঁকে কোথায় রেখেছে (যোহন ২০:২)। কয়েকটা পাণ্ডুলিপিতে, গ্রীক পাণ্ডুলিপিতেও, লেখা আছে: তারা ‘আমার’ প্রভুকে তুলে নিয়ে গেল। ব্যাপারটা অর্থহীন নয়, কেননা মাগদালার মারীয়ার অনুরাগ ও ভক্তি আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
তাই পিতর ও অন্য শিষ্যটি বেরিয়ে পড়ে সমাধিগুহার দিকে রওনা হলেন। দু’জনে একসঙ্গে দৌড়তে লাগলেন, কিন্তু দ্বিতীয় শিষ্যটি পিতরের চেয়ে দ্রুত ছুটে তাঁকে ছাড়িয়ে গেলেন আর সমাধিগুহায় আগে পৌঁছলেন (যোহন ২০:৩-৪)। এ সংক্ষিপ্ত বর্ণনা বিশেষভাবে লক্ষণীয়, আবার লক্ষণীয় বিষয় হল কেমন করে রচয়িতা একটা বিশেষ কথা, যা বাদ পড়ে গেছিল, তা এখানে যোগ দিলেন তা যেন পরপরেই ঘটে। বস্তুত তিনি আগে বলেছিলেন, তাঁরা সমাধিগুহার দিকে রওনা হলেন, তারপর তিনি সঠিক বর্ণনায় বলেন তাঁরা কীভাবেই সমাধিগুহায় গেলেন: তাঁরা দু’জনে একসঙ্গে দৌড়তে লাগলেন। এভাবে তিনি আমাদের একথা জানান, আগে দৌড়ে সমাধিগুহায় প্রথম পৌঁছলেন সেই অন্য শিষ্যই, যিনি প্রকৃতপক্ষে রচয়িতা নিজেই, যদিও তিনি নিজের কথা তৃতীয় ব্যক্তিতে ব্যক্ত করেন।
তিনি দেখলেন ও বিশ্বাস করলেন (যোহন ২০:৮)। কয়েকজন পাঠক তত চিন্তা না করে অনুমান করল, এখানে প্রমাণ আছে, যোহন বিশ্বাস করলেন যিশু পুনরুত্থান করেছেন; পরবর্তী কথা কিন্তু তেমন অনুমান অস্বীকার করে। রচয়িতা নিজে যখন বলে চলেন, মৃতদের মধ্য থেকে তাঁকে যে পুনরুত্থান করতে হবে, শাস্ত্রের এই বচনটি তাঁরা তখনও জানতেন না (যোহন ২০:৯), তখন তিনি আসলে কী বলতে চান? যেহেতু তখনও তিনি জানতেন না যে প্রভুকে পুনরুত্থান করতে হবে, সেজন্য তিনি বিশ্বাস করতে পারতেন না যে, খ্রিষ্ট পুনরুত্থান করেছেন। তবে তিনি কী দেখলেন ও কী বিশ্বাস করলেন? তিনি সমাধি শূন্য দেখলেন, এবং স্ত্রীলোকটি যা বলেছিলেন, তাই বিশ্বাস করলেন, তথা লোকে প্রভুকে তুলে নিয়ে গেছিল। প্রভু তাঁদের কাছে বারবার, এমনকি খুবই স্পষ্টভাবে আপন পুনরুত্থানের কথা বলেছিলেন, একথা সত্য; কিন্তু যেহেতু তাঁরা তাঁর বাণী উপমার ছলেই শুনতে অভ্যস্ত ছিলেন, সেজন্য তাঁরা বুঝতে পারেননি, বা মনে করছিলেন তিনি অন্য কিছুই ইঙ্গিত করছিলেন।
মাগদালার মারীয়া পিতর ও যোহনকে গিয়ে বলেছিলেন, লোকে প্রভুকে সমাধি থেকে তুলে নিয়ে গেছিল। সমাধিস্থানে গিয়ে তাঁরা সেই ফালিগুলোই মাত্র খুঁজে পেয়েছিলেন যেগুলির মধ্যে যিশুর দেহ জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল; সুতরাং মারীয়া যা বলেছিলেন ও নিজেই বিশ্বাস করেছিলেন, তাছাড়া তাঁরা আর কীসেতে বিশ্বাস করতে পারতেন?

১১। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১২। অর্থদান

১৩। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৪। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৫। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
আমাদের পাস্কা সেই খ্রিষ্ট বলীকৃত হয়েছেন। আল্লেলুইয়া।
সুতরাং এসো, পবিত্রতা ও সত্যের শরণে এই উৎসব উদ্‌যাপন করি। আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৬। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
কমুনিয়ন শেষে প্রার্থনা
হে প্রভু, তোমার স্নেহপূর্ণ সহায়তা দানে
তোমার মণ্ডলীকে অনুক্ষণ রক্ষা কর,
সে যেন পাস্কাভোজে নবায়িত হয়ে
পুনরুত্থানের উজ্জ্বল আলোতে উপনীত হতে পারে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৭। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর। আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।

[সূচী]    


২য় পাস্কা-রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে চিরকৃপাময় ঈশ্বর, পাস্কার এই বার্ষিক উৎসব পালনে
তুমি তোমার পবিত্র জনগণের বিশ্বাস উদ্দীপ্ত করে তোল।
অনুনয় করি: তোমার সেই দেওয়া অনুগ্রহ বৃদ্ধি কর, তারা যেন
যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে পারে শুদ্ধতাদানকারী বাপ্তিস্মের মর্যাদা, নবজীবনদানকারী পবিত্র আত্মার প্রভাব, ও মুক্তিদানকারী খ্রিষ্টরক্তের মহাশক্তি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (৪:৩২-৩৫)

যে বহুসংখ্যক লোক বিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল, তারা ছিল একমন একপ্রাণ; তাদের কেউই নিজের সম্পত্তির মধ্যে কিছু নিজেরই বলত না, বরং সবকিছুতে সকলের সমান অধিকার ছিল। প্রেরিতদূতেরা মহাপরাক্রমে প্রভু যিশুর পুনরুত্থান বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে থাকতেন, এবং তাঁদের সকলের উপরে মহা অনুগ্রহ বিরাজ করত।
তাদের মধ্যে কেউই অভাবে ভুগছিল না, কারণ যারা জমি বা বাড়ির মালিক ছিল, তারা তা বিক্রি করে দিত, ও বিক্রি করে যে টাকা পেত, তা প্রেরিতদূতদের পায়ের কাছে এনে রাখত; পরে তা প্রত্যেকের প্রয়োজন অনুসারে ভাগ করে দেওয়া হত।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১১৮
ধুয়ো:
প্রভুকে ধন্যবাদ জানাও, তিনি যে মঙ্গলময়,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।

বলুক ইস্রায়েল,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।
বলুক আরোনকুল,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।   [ধুয়ো]

বলুক প্রভুভীরু সকল,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।
তারা আমাকে জোরেই ঠেলা দিয়েছিল আমি যেন লুটিয়ে পড়ি,
প্রভু কিন্তু হলেন আমার সহায়।   [ধুয়ো]

প্রভুই আমার শক্তি, আমার স্তবগান,
তিনি হলেন আমার পরিত্রাণ।
ধার্মিকদের তাঁবুতে তাঁবুতে জাগে আনন্দচিৎকার জয়ধ্বনি—
প্রভুর ডান হাত পরাক্রম সাধন করল।   [ধুয়ো]

গৃহনির্মাতারা যে প্রস্তরটি প্রত্যাখ্যান করল,
তা তো হয়ে উঠেছে সংযোগপ্রস্তর;
এ কাজ স্বয়ং প্রভুরই কাজ,
আমাদের দৃষ্টিতে তা আশ্চর্যময়।   [ধুয়ো]

এই তো সেই দিন,
যা স্বয়ং প্রভুই গড়লেন,
এদিনে, এসো, মেতে উঠি;
এসো, আনন্দ করি।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যোহনের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৫:১-৬)

প্রিয়জনেরা, যে কেউ বিশ্বাস করে যে যিশুই সেই খ্রিষ্ট, সে ঈশ্বর থেকে সঞ্জাত;
আর যে কেউ জন্মদাতাকে ভালবাসে, তাঁর কাছ থেকে যে সঞ্জাত,
সে তাকেও ভালবাসে।
এতেই আমরা জানতে পারি যে, ঈশ্বরের সন্তানদের ভালবাসি:
যখন ঈশ্বরকে ভালবাসি ও তাঁর আজ্ঞাগুলি পালন করি।
কেননা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এ: আমরা তাঁর আজ্ঞাগুলি পালন করি।
আর তাঁর আজ্ঞাগুলি দুর্বহ নয়।
কারণ ঈশ্বর থেকে যা সঞ্জাত, তা-ই জগৎকে জয় করে।
আর যে বিজয় জগৎকে জয় করে, তা এ: আমাদের বিশ্বাস।
বস্তুত, কেবা জগৎকে জয় করতে পারে,
সে-ই ছাড়া যে বিশ্বাস করে, যিশু ঈশ্বরের পুত্র?
তিনিই জল ও রক্তের মধ্য দিয়ে এসেছেন: সেই যিশুখ্রিষ্ট!
শুধু জলে নয়, জলে ও রক্তে।
আর আত্মা হলেন এর সাক্ষী, কারণ আত্মাই তো সত্য।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
টমাস, আমাকে দেখেছ বলেই তুমি বিশ্বাস করছ।
না দেখেও বিশ্বাস করে যারা, তারাই সুখী—প্রভুর উক্তি।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২০:১৯-৩১)

সেই দিন, সপ্তাহের প্রথম দিন, সন্ধ্যাবেলায়, শিষ্যেরা যেখানে ছিলেন, ইহুদীদের ভয়ে সেখানকার সমস্ত দরজা বন্ধ থাকতেই যিশু এলেন ও তাঁদের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালেন। তিনি তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক!’ এবং এই কথা বলে তিনি নিজের দু’হাত আর নিজের পাশটি তাঁদের দেখালেন। প্রভুকে দেখে শিষ্যেরা আনন্দিত হলেন।
যিশু তাঁদের আবার বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক! পিতা যেমন আমাকে প্রেরণ করেছেন, আমিও তেমনি তোমাদের পাঠাচ্ছি।’ এবং একথা বলার পর তিনি তাঁদের উপরে ফুঁ দিলেন, ও তাঁদের বললেন, ‘পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ কর। তোমরা যদি কারও পাপ ক্ষমা কর, তা ক্ষমা করা হবে; যদি কারও পাপ ধরে রাখ, তা ধরে রাখা থাকবে।’
যিশু যখন এসেছিলেন, বারোজনের অন্যতম টমাস—যমজ বলে যিনি পরিচিত—তিনি তখন তাঁদের সঙ্গে ছিলেন না। তাই অন্য শিষ্যেরা তাঁকে বললেন, ‘আমরা প্রভুকে দেখেছি।’ কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, ‘তাঁর দু’টো হাতে যদি পেরেকের দাগ না দেখি, ও পেরেকের স্থানে যদি আমার আঙুল না রাখি, আর তাঁর বুকের পাশটিতে যদি আমার হাত দিতে না পারি, তবে আমি বিশ্বাস করব না।’
আট দিন পর তাঁর শিষ্যেরা আবার ঘরে ছিলেন, টমাসও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। সমস্ত দরজা বন্ধ ছিল, কিন্তু যিশু এলেন ও তাঁদের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক!’ পরে টমাসকে বললেন, ‘তোমার আঙুলটা এখানে রাখ, আর আমার হাত দু’টো দেখ; তোমার হাত বাড়াও, আমার বুকের পাশটিতে তা দাও। অবিশ্বাসী হয়ো না, বিশ্বাসীই হও।’ টমাস তাঁকে উত্তর দিলেন, ‘প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার!’ যিশু তাঁকে বললেন, ‘আমাকে দেখেছ বলেই তুমি বিশ্বাস করছ। না দেখেও বিশ্বাস করে যারা, তারাই সুখী।’ যিশু শিষ্যদের সাক্ষাতে আরও বহু চিহ্নকর্ম সাধন করেছিলেন এই পুস্তকে যেগুলোর উল্লেখ নেই। তবে এগুলো লেখা হয়েছে যেন তোমরা বিশ্বাস করতে পার যে, যিশুই খ্রিষ্ট, ঈশ্বরের পুত্র, এবং বিশ্বাস করে যেন তোমরা তাঁর নামে জীবন পেতে পার।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে আলেক্সান্দ্রিয়ার বিশপ সাধু সিরিলের ব্যাখ্যা

লক্ষ কর কী করে যিশু রুদ্ধ দরজার ভিতর দিয়ে প্রবেশ করায় শিষ্যদের কাছে প্রমাণ করলেন, তিনি স্বরূপে ঈশ্বর; এও প্রমাণ করলেন যে, যিনি আগে তাঁদের সঙ্গে বাস করেছিলেন, তিনি সেই ব্যক্তির চেয়ে ভিন্ন নন: বস্তুতপক্ষে আপন পাশ ও পেরেকের চিহ্ন দেখিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করলেন, যে দেহ ক্রুশে দেওয়া হয়েছিল তিনি নিজেই মাংসের মৃত্যুকে বিনাশ ক’রে তাঁর সেই আপন দেহ-মন্দিরকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলেছিলেন। সুতরাং তিনি স্বরূপেই জীবন, অর্থাৎ ঈশ্বর।
যিশু মাংসের ভাবী পুনরুত্থানের কথা এতই স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে চান যে, আপন দেহকে সেই অনির্বচনীয় দিব্য গৌরবে উপনীত করার সময় এলেই তিনি তবুও আপন প্রসন্নতায় সেইভাবে দেখা দিতে ইচ্ছা করলেন যেভাবে তিনি আগে ছিলেন; তাই করলেন যাতে কেউই না মনে করে, এখন তাঁর অন্য দেহ আছে যা ক্রুশবিদ্ধ সেই মৃতদেহের চেয়ে ভিন্ন।
আমাদের চোখ তাঁর পুণ্য দেহের গৌরব সহ্য করতে যে অক্ষম ছিল—যদিও তিনি পিতার কাছে আরোহণ করার আগেও আপন দেহের গৌরব প্রকাশ করতে ইচ্ছা করতেন—তা তুমি সহজে বুঝতে পারবে যদি ধন্য শিষ্যদের সামনে পর্বতচূড়ায় তাঁর সেই দিনের রূপান্তরের কথা স্মরণ কর। এ প্রসঙ্গে ধন্য রচয়িতা মথি লেখেন যে, পিতর, যাকোব ও যোহনকে সঙ্গে করে খ্রিষ্ট পর্বতের উপরে তাঁদের নিয়ে গেলেন ও তাঁদের সামনে রূপান্তরিত হলেন: তাঁর মুখ ছিল বিদ্যুতের মতই উজ্জ্বল ও তাঁর পোশাক তুষারের মত শুভ্র, ফলে তাঁরা এমন দর্শন সহ্য করতে না পারায় মাটির উপর উপুড় হয়ে পড়লেন।
আপন অপরূপ পরিকল্পনা অনুসারে আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট, যেহেতু তাঁরই দেয় ও আপন রূপান্তরিত মন্দিরের উপযুক্ত তেমন গৌরবেই তখনও পৌঁছেননি, সেজন্য এখন তাঁর আগের চেহারা অনুসারেই দেখা দিচ্ছিলেন; কেননা তিনি চাচ্ছিলেন না, পুনরুত্থানে বিশ্বাস কোন দেহেরই সঙ্গে সম্পর্কিত থাকবে যা, কুমারী মারীয়া থেকে ধারণ করা যে দেহ শাস্ত্র অনুসারে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মরেছিল, সেই দেহেরই চেয়ে ভিন্ন। বস্তুতপক্ষে মৃত্যুর প্রভুত্ব কেবল মাংসের উপরেই ছিল, এমনকি মাংস থেকেও মৃত্যু বঞ্চিত হয়েছিল: যে দেহ মরেছিল, ঠিক সেই দেহ যদি পুনরুত্থান না করত, তাহলে কী করে মৃত্যু পরাজিত হত? আবার, মৃত্যুর অধীন একটা মানুষের মাধ্যমে ছাড়া, কী করে ক্ষয়শীলতার রাজত্ব শেষ হতে পারত? মানবাত্মার মাধ্যমে নয়, স্বর্গদূতের মাধ্যমেও নয়, এমনকি ঈশ্বরের স্বয়ং বাণীর মাধ্যমেও নয়। অতএব, যেহেতু মৃত্যু এমন কর্তৃত্ব পেয়েছিল যার ফলে, স্বরূপ অনুসারে যা কিছু ধ্বংসনীয়, সে তাঁর মধ্যে সেই সবকিছুই ধ্বংস করতে পারবে, সেজন্য এ ন্যায্যই ছিল যে, পুনরুত্থানের শক্তি সর্বপ্রথমে তাঁরই বেলায় প্রযোজ্য হবে, যাতে স্বয়ং মৃত্যুরই নিমর্ম কর্তৃত্ব নিঃশেষিত হতে পারে।
প্রভু যে রুদ্ধ দরজার ভিতর দিয়ে প্রবেশ করলেন, এ ঘটনা তাঁর সাধিত বহু অলৌকিক কাজের মধ্যে অন্যতম। তিনি শিষ্যদের সম্ভাষণ করে বলেন, তোমাদের শান্তি হোক (যোহন ২০:১৯), কেননা দেখাতে চান, তিনি নিজেই শান্তি। বস্তুতপক্ষে যে কেউ খ্রিষ্টকে অন্তরে পেয়ে গেছে, সে আত্মার শান্তি ও আনন্দও পেয়ে গেছে। ঠিক তাই পল আপন ভক্তদের জন্য বাসনা করছিলেন যখন বলছিলেন, ঈশ্বরের সেই শান্তি, যা সমস্ত ধারণার অতীত, তোমাদের হৃদয় ও মন খ্রিষ্টযিশুতে রক্ষা করবে (ফিলি ৪:৭)। সমস্ত চিন্তার অতীত যে খ্রিষ্টের শান্তি, তা তাঁর সেই আত্মাই ছাড়া অন্য কিছু নয়, কেননা আত্মা সকলকেই সমস্ত মঙ্গলদানে পরিপূর্ণ করেন যারা তাঁর অংশীদার।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৩
ধুয়ো:
তোমার হাত আমার বুকের পাশটিতে দাও, পেরেকের দাগ স্পর্শ কর।
অবিশ্বাসী হয়ো না, বিশ্বাসীই হও। আল্লেলুইয়া।

প্রভু আমার পালক;
অভাব নেই তো আমার;
আমায় তিনি শুইয়ে রাখেন নবীন ঘাসের চারণমাঠে,
আমায় নিয়ে যান শান্ত জলের কূলে;   [ধুয়ো]

তিনি সঞ্জীবিত করেন আমার প্রাণ,
তাঁর নামের খাতিরে আমায় চালনা করেন ধর্মপথে।
মৃত্যু-ছায়ার উপত্যকাও যদি পেরিয়ে যাই,
আমি কোন অনিষ্টের ভয় করি না, তুমি যে আমার সঙ্গে আছ।   [ধুয়ো]

তোমার যষ্টি, তোমার পাচনি আমাকে সান্ত্বনা দেয়।
আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট আমার শত্রুদের সামনে;
আমার মাথা তুমি তৈলসিক্ত কর;
আমার পানপাত্র উচ্ছলিত।   [ধুয়ো]

মঙ্গল ও কৃপাই হবে আমার সহচর
আমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে,
আমি প্রভুর গৃহে ফিরব—চিরদিনের মত!
ত্রিত্বের গৌরব হোক চিরকালের মত। আমেন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর:
এই পাস্কাভোজে আমরা তোমার পুত্রকে আধ্যাত্মিক ভাবে গ্রহণ করেছি।
আমাদের অন্তরে তাঁর দিব্য উপস্থিতি যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সক্রিয় হয়ে থাকে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর। আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।

[সূচী]