সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
পর্ব ও মহাপর্ব
জানুয়ারীফোব্রুয়ারীমার্চএপ্রিলমেজুন
২৫ - সাধু পলের বিশ্বাস জাগরণ
  
  
  ২ - প্রভুকে উপস্থাপন
২২ - সাধু পিতরের ধর্মাসন
  
১৯ - সাধু যোসেফ
২৫ - প্রভুর আগমন সংবাদ
  
২৫ - সাধু মার্ক
  
  
  ৩ - সাধু ফিলিপ ও যাকোব
১৪ - সাধু মাথিয়াস
৩১ - শুভসাক্ষাৎ
২৪ - বাপ্তিস্মদাতার জন্মতিথি
২৯ - সাধু পিতর ও পল
  
জুলাইআগষ্টসেপ্টেম্বরঅক্টোবরসভেম্বরডিসেম্বর
  ৩ - সাধু টমাস
১১ - সাধু বেনেডিক্ট
২২ - সাধী মারীয় মাগদালেনা
২৫ - সাধু যাকোব
  ৬ - প্রভুর রূপান্তর
১০ - সাধু লরেন্স
১৫ - মারীয়ার স্বর্গোন্নয়ন
২৪ - সাধু বার্থলমেয়
  ৮ - মারীয়ার জন্মতিথি
১৪ - ক্রুশের বিজয়োৎসব
২১ - সাধু মথি
২৯ - মহাদূত মিখায়েল
১৮ - সাধু লুক
২৮ - সাধু সিমোন ও যুদা
  
  
  ১ - নিখিল সাধুসাধ্বী
  ২ - পরলোকগত ভক্তবৃন্দ
  ৯ - লাতেরান মহাগির্জা
৩০ - সাধু আন্দ্রীয়
  ৮ - অমলোদ্ভবা মারীয়া
২৬ - সাধু স্তেফান
২৭ - সাধু যোহন
২৮ - নিরপরাধী শিশুগণ
সাধু বেনেডিক্ট বাদে উপরোল্লিখিত অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি রোমীয় সাধারণ পঞ্জিকায় পর্ব ও মহাপর্ব বলে চিহ্নিত।     


২৫ জানুয়ারী - সাধু পলের বিশ্বাস জাগরণ
আমি যিশু,
যাঁকে তুমি নির্যাতন করছ।
এরপর সৌলকে
যুদার বাড়িতে চালনা করা হল
(প্রেরিত ৯:৬-১১)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, প্রেরিতদূত সাধু পলের বাণীপ্রচারে তুমি সারা জগৎকে আলোকিত করেছ।
আশীর্বাদ কর: আজ যাঁর খ্রিষ্টবিশ্বাস গ্রহণের কথা স্মরণ করি,
তাঁর আদর্শ অনুকরণে তোমার অধিকতর নিকটে অগ্রসর হয়ে
আমরা যেন জগতের সামনে তোমার সত্যের সাক্ষী হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (২২:৩-১৬)

সেসময়ে পল জনতাকে বললেন, ‘আমি ইহুদী, কিলিকিয়া প্রদেশের তার্সসে আমার জন্ম, কিন্তু এই নগরীতেই মানুষ হয়েছি; গামালিয়েলের পায়ের কাছে বসে আমি পিতৃবিধানের সূক্ষ্মতম নিয়ম অনুসারেই শিক্ষা পেয়েছি; ঈশ্বরের প্রতি আমারও গভীর আগ্রহ ছিল, যেমন আপনাদের সকলের আজ রয়েছে। আমি প্রাণনাশ পর্যন্তই এই পথ নির্যাতন করতাম, পুরুষ-মহিলাদের বেঁধে কারাগারে তুলে দিতাম। এবিষয়ে স্বয়ং মহাযাজক ও সমস্ত প্রবীণবর্গও আমার সাক্ষী। তাঁদের কাছ থেকে ভাইদের জন্য পত্র নিয়ে আমি দামাস্কে যাত্রা করছিলাম, যারা সেখানে ছিল, দণ্ডিত হবার জন্য তাদেরও যেন বেঁধে যেরুসালেমে নিয়ে আসতে পারি।
তখন এমনটি ঘটল যে, যেতে যেতে আমি দামাস্কের কাছাকাছি এসে পৌঁছেছি, এমন সময় হঠাৎ দুপুর বারোটায় আকাশ থেকে একটা তীব্র আলো আমার চারদিকে জ্বলতে লাগল। আমি মাটিতে পড়ে গেলাম, এবং শুনতে পেলাম, এক কণ্ঠস্বর আমাকে বলছে, সৌল, সৌল, কেন আমাকে নির্যাতন করছ? আমি উত্তর দিলাম, প্রভু, আপনি কে? তিনি আমাকে বললেন, আমি নাজারেথীয় যিশু, যাঁকে তুমি নির্যাতন করছ। আমার সঙ্গীরা সেই আলো দেখতে পেল বটে, অথচ যে কণ্ঠস্বর আমার সঙ্গে কথা বলছিল, তা তারা শুনতে পেল না। পরে আমি বললাম, প্রভু, আমি কী করব? প্রভু আমাকে বললেন, ওঠ, দামাস্কে যাও; আর তোমাকে কী করতে হবে বলে নিরূপিত আছে, সেই সমস্ত তোমাকে বলা হবে। আর যেহেতু সেই আলোর তেজে আমি আর কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না, সেজন্য আমার সঙ্গীরা আমাকে হাত ধরে চালিত করতে করতেই আমি দামাস্কে এসে পৌঁছলাম।
আনানিয়াস নামে কোন একজন লোক, যিনি ভক্তপ্রাণ বিধান-পরায়ণ ও সেখানকার অধিবাসী সকল ইহুদী যাঁর সুখ্যাতি করত, তিনি আমার কাছে এসে পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, ভাই সৌল, দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাও! আর সেই ক্ষণেই আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলাম। পরে তিনি বললেন, আমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর তাঁর ইচ্ছা জানবার জন্য এবং সেই ধর্মাত্মাকে দেখবার ও তাঁর মুখের কণ্ঠস্বর শুনবার জন্য আগে থেকে তোমাকে নিযুক্ত করেছেন; কারণ তুমি যা দেখতে ও শুনতে পেয়েছ, সকল মানুষের কাছে সেই সমস্ত বিষয়ে তোমাকে তাঁর সাক্ষী হতে হবে। আর এখন তুমি কেন দেরি করছ? ওঠ, তাঁর নাম করে বাপ্তিস্ম গ্রহণ কর ও তোমার সমস্ত পাপ ধুয়ে ফেল।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১১৭
ধুয়ো:
তোমরা বিশ্বজগতে বেরিয়ে পড়,
সুসমাচার প্রচার কর।

প্রভুর প্রশংসা কর, সকল দেশ,
তাঁর মহিমাকীর্তন কর, সকল জাতি।
দৃঢ়ই যে আমাদের প্রতি তাঁর কৃপা,
প্রভুর বিশ্বস্ততা চিরস্থায়ী।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমিই তোমাদের বেছে নিয়েছি
—একথা বলছেন প্রভু—
যেন তোমরা গিয়ে ফলশালী হও,
তোমাদের ফলও যেন স্থায়ী হয়।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৬:১৫-১৮)

[সেসময়ে সেই এগারোজনকে দেখা দিয়ে] যিশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা বিশ্বজগতে বেরিয়ে পড়, সমস্ত সৃষ্টির কাছে সুসমাচার প্রচার কর।
যে বিশ্বাস করবে ও বাপ্তিস্ম গ্রহণ করবে, সে পরিত্রাণ পাবে; যে বিশ্বাস করবে না, তাকে বিচারাধীন করা হবে: যারা বিশ্বাস করবে, তাদের পাশেপাশে এই চিহ্নগুলো থাকবে: তারা আমার নামে অপদূত তাড়াবে, নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে, হাতে করে সাপ তুলবে, ও মারাত্মক বিষ খেলেও তাদের কোন ক্ষতি হবে না; তারা পীড়িতদের উপর হাত রাখবে আর তারা সুস্থ হবে।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
নিসার বিশপ সাধু গ্রেগরির পত্রাবলি

এসো, একথা স্বীকার করি যে, আপন শিষ্যদের কাছে ভালবাসার রহস্য সম্প্রদান করায় খ্রিষ্ট যে শিক্ষা তাঁদের দিয়েছেন, তা হল স্থিতমূল ও পরিত্রাণদায়ী বিশ্বাসের শিকড় ও ভিত্তিমূল; এ কথাও বিশ্বাস করি যে, পরম্পরাগত শিক্ষার চেয়ে উৎকৃষ্ট, শক্তিদায়ী ও সুনিশ্চিত বলতে কিছু নেই। প্রভুর শিক্ষা এ: তোমরা যাও, সকল জাতিকে আমার শিষ্য কর; পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা-নামের উদ্দেশে তাদের বাপ্তিস্ম দাও (মথি ২৮:১৯)।
যারা মৃত্যু থেকে অনন্ত জীবনের উদ্দেশে নবজন্ম নিয়েছে ও বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে তেমন অনুগ্রহলাভের যোগ্য হয়ে উঠেছে, যেহেতু তারা পবিত্র ত্রিত্বেরই দানের ফলে জীবনদায়ী শক্তির সহভাগী হয়ে ওঠে, সেজন্য পরিত্রাণদায়ী বাপ্তিস্মে ত্রিত্বের একটা নাম মাত্রও উচ্চারিত না হলে অনুগ্রহটি পূর্ণাঙ্গ নয়; কেননা নবজন্ম-রহস্য পবিত্র আত্মায় ছাড়া কেবল পিতা ও পুত্রে সাধিত নয়; একই প্রকারে পুত্রের নাম উচ্চারণ না করলে কেবল পিতা ও পবিত্র আত্মার নামে পূর্ণাঙ্গ ঐশজীবন-দায়ী বাপ্তিস্ম কার্যকর নয়; আবার আত্মাকে বাতিল করলে কেবল পিতা ও পুত্রে আমাদের পুনরুত্থানের অনুগ্রহ সাধিত নয়। এজন্য যে তিন ব্যক্তিত্ব এ নাম দ্বারা নিজেদের জ্ঞাত করেছেন, আমরা আমাদের আত্মা ত্রাণ করার সমস্ত প্রত্যাশা ও প্রত্যয় সেই তিন ব্যক্তিত্বেই রাখি; এবং আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের সেই পিতায় বিশ্বাস করি যিনি জীবনের উৎস, পিতার সেই একমাত্র পুত্রে বিশ্বাস করি যিনি—প্রেরিতদূতের কথা অনুসারে—হলেন জীবন-প্রণেতা (প্রেনিত ৩:৫), ও সেই পবিত্র আত্মায় বিশ্বাস করি যাঁর বিষয়ে প্রভু বলেন, আত্মাই জীবনদায়ী (যোহন ৬:৬৩)।
আর যেমনটি বলেছি, যেহেতু মৃত্যু থেকে মুক্ত এই আমাদের কাছে পবিত্র বাপ্তিস্মে পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মায় বিশ্বাস দ্বারাই অমরত্বের অনুগ্রহ দান করা হয়, সেজন্য এই বিশেষ কারণ দ্বারা উদ্দীপিত হয়ে আমরা একথা সমর্থন করি যে, হীন কিবা সৃষ্ট কিবা পিতার ঐশমর্যাদার অযোগ্য প্রকার কোন কিছুই পবিত্র ত্রিত্বকে আরোপণীয় নয়; এর কারণ হল এ যে, পবিত্র ত্রিত্বে বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে যে জীবন প্রাপ্য, আমাদের সেই জীবন একটিমাত্র; আর তেমন জীবন বিশ্বজগতের ঈশ্বর থেকেই ঠিক যেন এক উৎস থেকেই নির্গত হয়ে ও পুত্রের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে পবিত্র আত্মায় সিদ্ধি লাভ করে।
তেমন স্পষ্ট নিশ্চয়তায় দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত হয়ে ও দেওয়া আদেশ অনুসারেই আমরা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করি, ও যেভাবে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছি সেভাবে বিশ্বাসও করি, ও যেভাবে বিশ্বাস করি সেভাবে উপলব্ধিও করি; যার ফলে বাপ্তিস্ম, বিশ্বাস ও আমাদের উপলব্ধি পূর্ণ ঐক্য অনুসারেই পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মায় বিরাজিত।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ১২৬
ধুয়ো:
সেই ঈশ্বরপুত্রের প্রতি বিশ্বাসেই আমি জীবন যাপন করি,
যিনি আমাকে ভালবেসেছেন ও আমার জন্য নিজেকে বিসর্জন দিয়েছেন।

প্রভু যখন সিয়োনের বন্দিদের ফিরিয়ে আনলেন,
আমরা তখন যেন স্বপ্নই দেখি!
তখন আমাদের মুখ হাসিতে মুখর,
আমাদের জিহ্বা আনন্দচিৎকারে পূর্ণ।   [ধুয়ো]

তখন বিজাতিদের মধ্যে একথা চলত,
‘তাদের জন্য কী মহা মহা কাজ না করেছেন প্রভু!’
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু,
আমরা আনন্দিত।   [ধুয়ো]

আমাদের বন্দিদের ফিরিয়ে আন, প্রভু,
তাদের ফিরিয়ে আন নেগেব প্রান্তরে খরস্রোতের মত।
যে অশ্রুর মধ্যে বীজ বোনে,
সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফসল সংগ্রহ করবে।   [ধুয়ো]

সে যায়, কাঁদতে কাঁদতে সে চলে যায়,
সঙ্গে নিয়ে যায় বপনের বীজ;
সে আসে, সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফিরে আসে,
সঙ্গে নিয়ে আসে ফসলের আঁটি।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের পরমেশ্বর, যে সাক্রামেন্ত আমরা গ্রহণ করেছি,
তা আমাদের অন্তরে সেই ভক্তির উদ্দীপনা জ্বালিয়ে তুলুক,
যে উদ্দীপনায় জ্বলে উঠে প্রেরিতদূত সাধু পল
সকল মণ্ডলীর কল্যাণ সাধনের ভার আপন করে নিলেন।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২ ফেব্রুয়ারী - মন্দিরে প্রভুকে উপস্থাপন
আমার চোখ দেখেছে তোমার সেই পরিত্রাণ
যা তুমি প্রস্তুত করেছ সকল জাতির সামনে:
ঐশপ্রকাশে বিজাতীয়দের উদ্বুদ্ধ করার আলো
ও তোমার আপন জনগণ ইস্রায়েলের গৌরব (লুক ২:২৯-৩২)।
মোমবাতি আশীর্বাদ ও শোভাযাত্রা
১।ঘরের বাইরে উপযুক্ত স্থানে সকলে সম্মিলিত হয়। হাতে থাকবে মোমবাতি, কিন্তু তা জ্বালানো নয়।

২। বাতিগুলো জ্বালানোর সময় নিচের ধুয়ো গাওয়া হয়।
ধুয়ো: দেখ, আমাদের প্রভু মহাপরাক্রমে আসবেন;
আপন দাসদের চোখ আলোকিত করবেন। আল্লেলুইয়া।

৩। তারপর অনতুষ্ঠাতা বলেন:
‘পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে’।
এরপর তিনি নিচের কথা ব্যবহার করতে পারেন:
প্রিয়জনেরা,
চল্লিশ দিন আগে আমরা সানন্দে প্রভুর জন্মোৎসব পালন করেছিলাম।
আজ সেই শুভদিন,
যে দিনে মারীয়া ও যোসেফ যিশুকে মন্দিরে উপস্থাপন করেছিলেন।
আপাত দৃষ্টিতে তিনি বিধান পূরণ করছিলেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে
তাঁর আপন বিশ্বাসী জনগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসছিলেন।
পবিত্র আত্মায় উদ্দীপিত হয়ে সেই ধন্য প্রাচীন ব্যক্তি সিমেয়োন ও আন্না
মন্দিরে এসে সেই একই আত্মা দ্বারা আলোকিত হয়ে
প্রভুকে চিনতে পেরেছিলেন
ও মহা উল্লাসে উল্লসিত হয়ে তাঁকে স্বীকারও করেছিলেন।
তাই এসো, পবিত্র আত্মা দ্বারা একত্রে সম্মিলিত হয়ে
আমরাও খ্রিষ্টকে বরণ করার জন্য ঈশ্বরের গৃহ অভিমুখে এগিয়ে চলি।
আমরা রুটি-ছেঁড়ার ক্ষণেই তাঁকে পাব ও চিনতে পারব যতদিন না তিনি
আপন গৌরবে প্রকাশ্যে আসেন।

৪। এরপর তিনি বাতিগুলো আশীর্বাদ করেন; প্রসারিত বাহুতে বলবেন:
হে ঈশ্বর, সকল আলোর একমাত্র উৎস তুমি!
তুমিই আজ ধার্মিক সিমেয়োনকে দেখিয়েছিলে সেই আলো
যা ঐশপ্রকাশে বিজাতীয়দের উদ্বুদ্ধ করার জন্য নিরূপিত।
তোমার জনগণের বিনীত প্রার্থনা গ্রহণ কর:
তোমার নাম বন্দনার জন্য যে বাতি আমরা বহন করতে উৎসুক,
প্রসন্ন হয়ে, তোমার আশীর্বাদে তা পবিত্র কর,
যেন তোমার পুণ্য পথে চলে
আমরা অনির্বাণ অলো-রাজ্যে গিয়ে পৌঁছতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৫। এবং নিচের বাণী বলতে বলতে শোভাযাত্রা শুরু হয়:
এসো, চলি প্রভুকে শান্তিতে বরণ করতে।

৬। সকলের হাতে জ্বালানো বাতি থাকবে। শোভাযাত্রা এগোতে এগোতে নিচে দেওয়া ধুয়ো গাওয়া হয়।
ধুয়ো: ঐশপ্রকাশে বিজাতীয়দের উদ্বুদ্ধ করার আলো,
ও তোমার আপন জনগণ ইস্রায়েলের গৌরব।

হে মহাপ্রভু, তোমার কথামত
এখন তোমার এই দাসকে শান্তিতে বিদায় দাও।   [ধুয়ো]

কারণ আমার চোখ দেখেছে তোমার সেই পরিত্রাণ
যা তুমি প্রস্তুত করেছ সকল জাতির সামনে।   [ধুয়ো]

৭। শোভাযাত্রা ঘরে প্রবেশ করলে জয় পরমেশ্বর গাওয়া হয়।

৮। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, বিনীত কণ্ঠে তোমাকে অনুনয় করি:
তোমার একমাত্র পুত্রকে যেমন এইদিনে আমাদের মানবস্বরূপ নিয়েই
মন্দিরে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তেমনি আমরাও যেন তোমার অনুগ্রহগুণে
শোধিত অন্তরে তোমার সাক্ষাতে উপস্থাপিত হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৯। প্রথম পাঠ
নবী মালাখির পুস্তক থেকে পাঠ (৩:১-৪)

প্রভু পরমেশ্বর একথা বলছেন: দেখ! আমি আমার দূত প্রেরণ করব, তিনি আমার সম্মুখে পথ প্রস্তুত করবেন। তখন সেই যে প্রভুকে তোমরা অন্বেষণ করছ, তিনি হঠাৎ আপন মন্দিরে আসবেন; সেই যে সন্ধির দূতকে তোমরা আকাঙ্ক্ষা করছ, দেখ! তিনি আসছেন—একথা বলছেন সেনাবাহিনীর প্রভু।
কিন্তু তাঁর আগমনের দিন কে সহ্য করতে পারবে? তিনি দেখা দিলে কে দাঁড়াতে পারবে? কারণ তিনি ধাতুশোধকের আগুনের মত, রজকের ক্ষারের মত।
তিনি নিখাদ করতে ও শোধন করতে আসন নেবেন: তিনি লেবি-সন্তানদের পরিশুদ্ধ করবেন, এবং সোনা ও রুপোর মত তাদের বিশুদ্ধ করবেন, যেন তারা প্রভুর উদ্দেশে ধর্মিষ্ঠতার সঙ্গেই অর্ঘ্য নিবেদন করতে পারে। তখন যুদার ও যেরুসালেমের অর্ঘ্য প্রভুর গ্রহণীয় হবে, যেমনটি পুরাকালে, প্রাচীনকালের বছরগুলিতে ছিল।
ঈশ্বরের বাণী।

১০। সামসঙ্গীত ২৪
ধুয়ো:
সেনাবাহিনীর প্রভু,
তিনিই গৌরবের রাজা।

হে তোরণ, উত্তোলন কর শির! উত্তোলিত হও, সনাতন সিংহদ্বার!
প্রবেশ করুন গৌরবের রাজা।
কে এই গৌরবের রাজা?
শক্তিমান পরাক্রমী প্রভু, যুদ্ধে পরাক্রমী প্রভু।   [ধুয়ো]

হে তোরণ, উত্তোলন কর শির! উত্তোলিত হও, সনাতন সিংহদ্বার!
প্রবেশ করুন গৌরবের রাজা।
এই গৌরবের রাজা, তিনি কে?
সেনাবাহিনীর প্রভু, তিনিই গৌরবের রাজা।   [ধুয়ো]

১১। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমার চোখ দেখেছে
তোমার পরিত্রাণ:
ঐশপ্রকাশে বিজাতীয়দের উদ্বুদ্ধ করার আলো
ও তোমার আপন জনগণ ইস্রায়েলের গৌরব।
আল্লেলুইয়া।

১২। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:২২-৩২)

যখন মোশির বিধান অনুসারে তাঁদের শুচীকরণ-কাল পূর্ণ হল, তখন যিশুর পিতা-মাতা তাঁকে যেরুসালেমে নিয়ে গেলেন যেন প্রভুর সামনে তাঁকে হাজির করেন,—যেমনটি প্রভুর বিধানে লেখা আছে, প্রথমজাত প্রত্যেক পুত্রসন্তানকে প্রভুর উদ্দেশে পবিত্রীকৃত করা হবে;—আর যেন প্রভুর বিধানের নির্দেশমত একজোড়া ঘুঘু কিংবা দু’টো পায়রার ছানা বলিরূপে উৎসর্গ করেন।
সেসময়ে যেরুসালেমে সিমেয়োন নামে একজন ছিলেন, যিনি ধার্মিক ও ভক্তপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন; তিনি ইস্রায়েলের সান্ত্বনার প্রতীক্ষায় থাকতেন, ও পবিত্র আত্মা তাঁর উপরে ছিলেন। পবিত্র আত্মা তাঁকে একথা জানিয়েছিলেন যে, প্রভুর সেই খ্রিষ্টকে না দেখা পর্যন্ত তিনি মৃত্যু দেখবেন না।
সেই আত্মার আবেশে তিনি মন্দিরে এলেন, এবং যিশুর পিতামাতা যখন বিধানের নিয়ম-বিধি সম্পাদন করার জন্য শিশুটিকে ভিতরে নিয়ে আসছিলেন, তখন তিনি তাঁকে কোলে নিলেন, ও ঈশ্বরের স্তুতিবাদ করে বলে উঠলেন:
‘হে মহাপ্রভু, তোমার কথামত
এখন তোমার এই দাসকে শান্তিতে বিদায় দাও;
কারণ আমার চোখ দেখেছে তোমার সেই পরিত্রাণ
যা তুমি প্রস্তুত করেছ সকল জাতির সামনে:
ঐশপ্রকাশে বিজাতীয়দের উদ্বুদ্ধ করার আলো
ও তোমার আপন জনগণ ইস্রায়েলের গৌরব।’
প্রভুর বাণী।

১৩। উপদেশ
বিশপ সাধু সফ্রনিওসের উপদেশ

আমরা সকলে যারা প্রভুর সাক্ষাৎ-রহস্য আন্তর ভক্তি ভরে উদ্‌যাপন ও পূজা করি, এসো, আমরা সবাই গভীর আগ্রহের সঙ্গে একমন একপ্রাণ হয়ে এগিয়ে যাই। কেউই যেন বসে না থাকে, যেন নিজ মশাল বরণ করতে অসম্মত না হয়; বরং এসো, মোমবাতিগুলির দীপ্তি আরও দীপ্তিময় করে তুলি: সেগুলিতে রয়েছে তাঁরই দিব্য বিভার প্রতীক, যিনি এগিয়ে আসছেন, যিনি সনাতন আলোর ধারায় অন্ধকারময় ছায়া নিঃশেষ করে সবকিছু উজ্জ্বল করে তুলছেন। তাছাড়া আমাদের এ বাতিগুলো নির্দেশ করুক আমাদের আত্মার সেই দীপ্তিময়তা যার প্রভায় আমাদের খ্রিষ্টকে বরণ করতে যেতে হবে। যেমন ঈশ্বরজননী সেই অক্ষুণ্ণ কুমারী সত্যকার আলোকে কোলে বহন করেছিলেন ও মৃত্যু-শায়িত সমস্ত মানবের কাছে কাছে গিয়েছিলেন, তেমনি সেই আলোতে আলোকিত হয়ে ও সকলের সামনে উজ্জ্বল সেই আলো হাতে ধরে, সত্যকার আলো যিনি, তাঁর দিকে আমাদেরও ছুটে যেতে হবে।
আলো জগতে এল ও জগৎগ্রাসী অন্ধকার নিঃশেষ ক’রে জগৎকে আলোকিত করে দিল। যিনি ঊর্ধ্ব থেকে উদীয়মান, তিনি আমাদের দেখতে এলেন; যারা অন্ধকারে শুয়ে ছিল, তিনি তাদের উপর আলো বিকিরণ করলেন। এজন্যই এখন আমাদেরও মশাল হাতে করে চলতে হবে, বাতি নিয়ে ছুটতে হবে। তাতে আমরা দেখাতে পারব যে আমাদের উপর আলোর উদ্ভাস হল, ও আমরা যার দূত, সেই দিব্য আলোর প্রতীক হয়ে উঠব। এটি আজকের দিনের মর্মসত্যের অর্থ।
যে সত্যকার আলো এ জগতে আগত প্রত্যেক মানুষকে উদ্ভাসিত করে, সেই আলো তো এসেছে। তবে ভাই, এসো, আমরা সকলে তা দ্বারা আলোকিত ও উদ্ভাসিত হই। কেউই যেন এ বিভা থেকে বঞ্চিত না হয়ে পড়ে, জেদি মানুষেরই মত কেউই যেন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে না থাকে। সকলেই বরং এসো, উদ্ভাসিত ও আলোকিত হয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে চলি। এসো, প্রাচীন সিমেয়োনের সঙ্গে আমরাও পুলকিত অন্তরে সেই উজ্জ্বল সনাতন আলো গ্রহণ করি। যিনি সত্যকার আলো প্রেরণ করে সমস্ত অন্ধকার নিঃশেষ করে আমাদের সকলকে আলোময় করে তুলেছেন, এসো, আমরা সেই আলোর পিতার উদ্দেশে স্তুতিগান জাগিয়ে তুলি। কেননা যে ঐশপরিত্রাণ সকল জাতির সামনে প্রস্তুত ছিল ও নব-ইস্রায়েল রূপে এই আমাদেরই গৌরবের জন্য প্রকাশিত হয়েছিল, তাঁর দয়ায় আমরাও তা দেখতে পেয়েছি, যার ফলে যেমন সিমেয়োন খ্রিষ্টকে দেখে বর্তমান জীবনের বন্ধন থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন, তেমনি আমরাও সেই প্রাচীন অন্ধকারময় অপরাধ থেকে মুক্তি পেয়েছি। বেথলেহেম থেকে আগত খ্রিষ্টকে বিশ্বাসেরই আলিঙ্গনে আলিঙ্গন করায় আমরাও বিজাতি অবস্থা থেকে ঈশ্বরেরই আপন জাতি হলাম—কেননা তিনিই পিতা ঈশ্বরের পরিত্রাণ। আমরা চোখ দিয়ে মাংসধারী ঈশ্বরকে দেখতে পেয়েছি, আর ঠিক যেহেতু আমাদের মাঝে উপস্থিত ঈশ্বরকে দেখতে পেয়েছি ও আত্মারই হাত দিয়ে তাঁকে বরণ করেছি, সেহেতুই আমরা নব-ইস্রায়েল বলে অভিহিত। আমরা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি শ্রদ্ধা করি; এখন থেকে তা ভুলে যাওয়া আর সম্ভব হবে না।

১৪। অর্থদান

১৫। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৬। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৭। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
আমার চোখ দেখেছে তোমার সেই পরিত্রাণ
যা তুমি প্রস্তুত করেছ সকল জাতির সামনে।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৮। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এ পবিত্র খাদ্য গ্রহণের ফলে
আমাদের অন্তরে তোমার অনুগ্রহ সার্থক করে তোল।
তুমি সিমেয়োনের প্রত্যাশা পূরণ করায়
তিনি যেমন খ্রিষ্টকে কোলে বরণ না করা পর্যন্ত মৃত্যুকে দেখেননি,
তেমনি আমরা যেন প্রভুকে বরণ করার জন্য এগিয়ে যেতে যেতে
অনন্ত জীবন পেতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৯। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২২ ফোব্রুয়ারী - সাধু পিতরের ধর্মাসন
তুমি পিতর,
আর এই শৈলের উপরে আমি আমার মণ্ডলী গেঁথে তুলব,
আর পাতালের দ্বার তার উপরে জয়ী হবে না (মথি ১৬:১৮)।

১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, অনুনয় করি: যখন তুমি
প্রৈরিতিক বিশ্বাস-স্বীকারোক্তির শৈলের উপরে আমাদের দৃঢ়মূল করেছ,
তখন তোমার আশীর্বাদে আমরা যেন কোন ঝড়ঝঞ্ঝা দ্বারা আলোড়িত না হই।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু পিতরের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৫:১-৪)


প্রিয়জনেরা, তোমাদের মধ্যে যারা প্রবীণবর্গ, তাদের আমি অনুরোধ করছি—যেহেতু আমি নিজে একজন প্রবীণ, ও খ্রিষ্টের যন্ত্রণাভোগের একজন সাক্ষী এবং সেই গৌরবের সহভাগী যা প্রকাশিত হওয়ার কথা: ঈশ্বরের যে মেষপাল তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, তাদের পালন কর; তাদের উপরে লক্ষ রাখ, বাধ্য হয়ে নয়, স্ব-ইচ্ছায়, ঈশ্বরের মন অনুসারে; হীন লাভের জন্যও নয়, বরং আগ্রহের সঙ্গে, তোমাদের দায়িত্বে ন্যস্ত লোকদের উপর প্রভুত্ব চালিয়েও নয়, কিন্তু পালের আদর্শবান হয়ে দাঁড়িয়ে। তাহলে প্রধান মেষপালক আবির্ভূত হলে তোমরা অম্লান গৌরবমুকুট পাবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ২৩
ধুয়ো:
প্রভু আমার পালক;
অভাব নেই তো আমার।

আমায় তিনি শুইয়ে রাখেন নবীন ঘাসের চারণমাঠে,
আমায় নিয়ে যান শান্ত জলের কূলে;
তিনি সঞ্জীবিত করেন আমার প্রাণ,
তাঁর নামের খাতিরে আমায় চালনা করেন ধর্মপথে।   [ধুয়ো]

মৃত্যু-ছায়ার উপত্যকাও যদি পেরিয়ে যাই,
আমি কোন অনিষ্টের ভয় করি না,
তুমি যে আমার সঙ্গে আছ।
তোমার যষ্টি, তোমার পাচনি আমাকে সান্ত্বনা দেয়।   [ধুয়ো]

আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট
আমার শত্রুদের সামনে;
আমার মাথা তুমি তৈলসিক্ত কর;
আমার পানপাত্র উচ্ছলিত।   [ধুয়ো]

মঙ্গল ও কৃপাই হবে আমার সহচর
আমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে,
আমি প্রভুর গৃহে বাস করব
চিরদিনের মত!   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
সাধারণকালে
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তুমি পিতর, আর এই শৈলের উপরে আমি আমার মণ্ডলী গেঁথে তুলব,
আর পাতালের দ্বার তার উপরে জয়ী হবে না।
আল্লেলুইয়া।
তপস্যাকালে
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।
তুমি পিতর, আর এই শৈলের উপরে আমি আমার মণ্ডলী গেঁথে তুলব,
আর পাতালের দ্বার তার উপরে জয়ী হবে না।
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।

৭। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৬:১৩-১৯)

সেসময়ে, ফিলিপ-সীজারিয়া অঞ্চলে এসে যিশু নিজের শিষ্যদের কাছে এই প্রশ্ন রাখলেন, ‘মানবপুত্র কে, এবিষয়ে লোকে কী বলে?’ তাঁরা বললেন, ‘কেউ কেউ বলে: বাপ্তিস্মদাতা যোহন; কেউ কেউ বলে: এলিয়; আবার কেউ কেউ বলে: যেরেমিয়া বা নবীদের কোন একজন।’
তিনি তাঁদের বললেন, ‘কিন্তু তোমরা, আমি কে, এবিষয়ে তোমরাই কী বল?’ সিমোন পিতর এ বলে উত্তর দিলেন, ‘আপনি সেই খ্রিষ্ট, জীবনময় ঈশ্বরের পুত্র।’
প্রত্যুত্তরে যিশু তাঁকে বললেন, ‘যোহনের ছেলে সিমোন, তুমি সুখী! কেননা রক্তমাংস নয়, আমার স্বর্গস্থ পিতাই তোমার কাছে একথা প্রকাশ করেছেন। তাই আমি তোমাকে বলছি: তুমি পিতর, আর এই শৈলের উপরে আমি আমার মণ্ডলী গেঁথে তুলব, আর পাতালের দ্বার তার উপরে জয়ী হবে না। স্বর্গরাজ্যের চাবিকাঠি আমি তোমাকে দেব: পৃথিবীতে তুমি যা বেঁধে দেবে, স্বর্গে তা বাঁধা হবে; পৃথিবীতে তুমি যা মুক্ত করবে, স্বর্গে তা মুক্ত হবে।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
পরিসেবক পলের উপদেশ

আদি খ্রিষ্টমণ্ডলী আজকের পর্ব সাধু পিতরের ধর্মাসন বলে অভিহিত করল, কারণ কথিত আছে, প্রেরিতদূতদের প্রধান সেই পিতর এ দিনেই বিশপ রূপে আসন গ্রহণ করেছেন। সুতরাং এ সত্যিই সমীচীন যে, সমগ্র জগৎ জুড়ে সকল মণ্ডলী সেই আসনের বার্ষিকী পালন করবে, যে আসন প্রেরিতদূতটি মণ্ডলীরই পরিত্রাণের জন্য তখনই গ্রহণ করেছিলেন যখন প্রভু বলেছিলেন, তুমি পিতর, আর এই শৈলের উপরে আমি আমার মণ্ডলী গেঁথে তুলব (মথি ১৬:১৮)। ‘এই প্রস্তরের উপর’ বলতে সংযোগপ্রস্তর আমাদের সেই প্রভু ও ত্রাণকর্তাকে বোঝায় যিনি নিজ বিশ্বস্ত সাক্ষীকে নিজ নামটির অংশী করে তুলেছেন।
আর পাতালের দ্বার তার উপরে জয়ী হবে না (মথি ১৬:১৮)। পাতালের দ্বার হল নির্যাতকদের সেই সমস্ত নিপীড়ন ও তোষামোদ যা কাউকে এমন ভয়ে অভিভূত করে যে, তারা বিশ্বাস হারায়; তাতে চিরন্তন মৃত্যুর দ্বার উন্মুক্ত হয়। পাতালের দ্বার বহু বটে, তবু সেগুলোর একটাও প্রস্তরে স্থাপিত মণ্ডলীকে পরাভূত করতে পারে না।
অতএব এ সমীচীন যে, সকল মণ্ডলীগুলো পিতরকে সম্মান করবে, কেননা শক্ততম প্রস্তরের মত দৃঢ় হয়ে মণ্ডলীর মাথারূপে তিনি অক্লান্তিকর সহিষ্ণুতার শক্তি দ্বারা জয়ী হয়ে পবিত্র আত্মার অধিকার গুণে খ্রিষ্টের শত্রুদের লজ্জায় নিমজ্জিত করেছেন। গৌরবের রাজাকে স্বীকার করায় যাঁর জন্য সনাতন সিংহদ্বার উন্মুক্ত করা হল, ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে পাতালের দ্বার তাঁকে পরাভূত করল না, কেননা জীবন-দ্বার বন্ধ হয়ে থাকতে পারতই না তাঁর জন্য, যিনি পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে ঈশ্বরের একক ঐশমর্যাদার দুর্জ্ঞেয় রহস্য ঘোষণা করেছিলেন; হ্যাঁ, তিনি ঘোষণা করেছিলেন, পিতা ও পুত্র এক ঐশমর্যাদায় ঐক্যবদ্ধ; তিনি এ শিক্ষাও দিলেন ও প্রচার করলেন যে, সেই একমাত্র ও একই ঈশ্বরপুত্রে সেই মানবতাও বিরাজিত যা তিনি ধারণ করেছিলেন ও একইসময়ে সেই ঈশ্বরত্বও বিরাজিত যা অধিকারসূত্রেই তাঁর। তিনি প্রকৃতপক্ষে ত্রাণকর্তাকে একথা বলতে শুনেছিলেন: আমি এবং পিতা, আমরা এক (যোহন ১০:৩০); তাঁর এ বাণীও শুনেছিলেন: যে কেউ আমাকে দেখে, সে পিতাকেও দেখে (যোহন ১৪:৯)।
পিতরের স্বীকারোক্তি তাঁকে পৃথিবীতে সম্মানের ও স্বর্গে গৌরবের যোগ্য করে তুলেছে; এ কারণেই প্রভু তাঁকে মণ্ডলীর ভিত্তি বলে অভিহিত করলেন। ফলে বিশ্বমণ্ডলী তার সেই ভিত্তিকে যথাযোগ্য সম্মান দেখায় যার উপরে তার গাঁথনি উচ্চতম পর্যায়ে উত্তোলিত। সামসঙ্গীত-রচয়িতা উপযুক্ত ভাবেই বলেন: তারা জনমণ্ডলীতেই তাঁর বন্দনা করুক, তাঁর প্রশংসাগান করুক প্রবীণদের সভায় (সাম ১০৭:৩২)। তাই যে ভিত্তির উপরে স্থাপিত হয়ে মণ্ডলী স্বর্গ পর্যন্ত উত্তোলিত, সেই ভিত্তিকে সম্মান দেখানো মণ্ডলীর পক্ষে একান্ত সমীচীন।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
পিতর যিশুকে বললেন:
আপনি সেই খ্রিষ্ট, জীবনময় ঈশ্বরের পুত্র।
যিশু উত্তর দিলেন: তুমি পিতর,
আর এই শৈলের উপরে আমি আমার মণ্ডলী গেঁথে তুলব।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর,
আমরা যারা প্রেরিতদূত সাধু পিতরের পর্বদিবস উদ্‌যাপন করছি,
খ্রিষ্টের দেহ ও রক্তের সহভাগিতা গুণে তুমি এই আমাদের পরিপুষ্ট করেছ।
আশীর্বাদ কর: মুক্তিপ্রদ এ বিনিময় আমাদের জন্য হয়ে উঠুক
ঐক্য ও শান্তির সাক্রামেন্ত।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৯ মার্চ - সাধু যোসেফ, ধন্যা কুমারী মারীয়ার স্বামী
দাউদসন্তান যোসেফ,
তোমার স্ত্রী মারীয়াকে গ্রহণ করে নিতে ভয় করো না,
কেননা তার গর্ভে যা জন্মেছে,
তা পবিত্র আত্মার প্রভাবেই হয়েছে;
সে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবে
আর তুমি তাঁর নাম যিশু রাখবে,
কারণ তিনিই নিজ জনগণকে
তাদের পাপ থেকে ত্রাণ করবেন। (মথি ১:২০-২১)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, মানবপরিত্রাণ-রহস্যের সূচনা
তুমি সাধু যোসেফের বিশ্বস্ত প্রতিপালনেই ন্যস্ত করেছিলে।
আশীর্বাদ কর, তাঁর প্রার্থনার পুণ্যফলে
তোমার মণ্ডলী যেন সেই মানবপরিত্রাণ সাধনে নিত্য নিয়োজিত থাকে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
সামুয়েলের দ্বিতীয় পুস্তক থেকে পাঠ (৭:৪-৫ক,১২-১৪ক,১৬)

একদিন প্রভুর বাণী নাথানের কাছে এসে উপস্থিত হয়ে বলল: ‘আমার দাস দাউদকে গিয়ে বল: প্রভু একথা বলছেন, তোমার দিনগুলো ফুরিয়ে গেলে যখন তুমি তোমার পূর্বপুরুষদের সঙ্গে শয়ন করবে, তখন আমি তোমার স্থানে তোমার একজন বংশধরের, তোমার ঔরসজাতই একজনের উদ্ভব ঘটাব ও তার রাজ্য দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত করব।
আমার নামের উদ্দেশে সে-ই একটা গৃহ গেঁথে তুলবে, এবং আমি তার রাজাসন দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত করব চিরকালের মত। তার জন্য আমি হব পিতা, আর আমার জন্য সে হবে পুত্র।
তোমার কুল ও তোমার রাজ্য আমার সামনে চিরস্থায়ী হবে; তোমার সিংহাসন দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত থাকবে চিরকাল ধরে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৮৯
ধুয়ো:
তোমার বংশধারা
হবে চিরস্থায়ী।

আমি প্রভুর কৃপাধারার কথা গাইব চিরকাল,
নিজ মুখেই তোমার বিশ্বস্ততার কথা প্রচার করব যুগে যুগান্তরে;
হ্যাঁ, আমি বলেছি, ‘তোমার কৃপা চিরস্থায়ী,
তোমার বিশ্বস্ততা স্বর্গে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত।’   [ধুয়ো]

‘আমার মনোনীতজনের সঙ্গে আমি সন্ধি করেছি স্থাপন,
আমার দাস দাউদের কাছে করেছি শপথ;
তোমার বংশ আমি করব চিরপ্রতিষ্ঠিত,
তোমার সিংহাসন করব যুগযুগস্থায়ী।’   [ধুয়ো]

সে আমাকে ডাক দিয়ে বলবে, “তুমিই আমার পিতা,
আমার ঈশ্বর, আমার ত্রাণশৈল তুমি।”
আমার কৃপা আমি তার জন্য রক্ষা করব চিরকাল,
আমার সন্ধি তার জন্য থাকবে অবিচল।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
রোমীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৪:১৩,১৬-১৮,২২)

প্রিয়জনেরা, বিধান গুণে নয়, কিন্তু বিশ্বাসজনিত ধর্মময়তা গুণেই আব্রাহামের বা তাঁর বংশের প্রতি জগতের উত্তরাধিকারী হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এজন্য প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস দ্বারা সাধিত, যেন সেই প্রতিশ্রুতি অনুগ্রহ রূপেই উপস্থিত হয় এবং এর ফলে যেন সেই প্রতিশ্রুতি সমস্ত বংশের পক্ষে অটল হয়, যারা বিধান অবলম্বন করে কেবল তাদেরই পক্ষে নয়, কিন্তু যে বংশ আব্রাহামের বিশ্বাস থেকে নির্গত, তাদেরও পক্ষে অটল থাকে।
হ্যাঁ, তিনি আমাদের সকলের পিতা,—যেমন লেখা আছে, আমি তোমাকে বহুজাতির পিতা করেছি—সেই ঈশ্বরেরই দৃষ্টিতে পিতা, যাঁর উপর তিনি বিশ্বাস রাখলেন, যিনি মৃতদের জীবন দান করেন, এবং যা অস্তিত্ববিহীন তা অস্তিত্বেই ডেকে আনেন।
আশা না থাকলেও আশা রেখে আব্রাহাম বিশ্বাস করলেন যে, তিনি বহুজাতির পিতা হবেন—যেমনটি তাঁকে বলা হয়েছিল: ‘তোমার বংশ এরূপ হবে।’ এজন্যই তা তাঁর পক্ষে ধর্মময়তা বলে পরিগণিত হল।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
(পাস্কাকালে নয়)
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।
সুখী সেই জন, যে বাস করে তোমার গৃহে,
সে তোমার প্রশংসা নিত্যই করে থাকে।
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।
(পাস্কাকালে)
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
সুখী সেই জন, যে বাস করে তোমার গৃহে,
সে তোমার প্রশংসা নিত্যই করে থাকে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:১৬,১৮-২১,২৪ক)

যাকোব মারীয়ার স্বামী যোসেফের পিতা। এই মারীয়ার গর্ভে খ্রিষ্ট বলে অভিহিত যিশুর জন্ম হয়।
যিশুখ্রিষ্টের জন্ম এভাবে হয়: তাঁর মা মারীয়া যোসেফের প্রতি বাগ্‌দত্তা হলে তাঁরা একসঙ্গে থাকার আগে দেখা গেল, তিনি গর্ভবতী—পবিত্র আত্মার প্রভাবে। তাঁর স্বামী যোসেফ যেহেতু ধর্মনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন, আবার তাঁকে প্রকাশ্যে নিন্দার পাত্র করতে অনিচ্ছুক ছিলেন বিধায় তাঁকে গোপনেই ত্যাগ করার সঙ্কল্প নিলেন।
তিনি এ সমস্ত ভাবছেন, এমন সময় দেখ, প্রভুর দূত স্বপ্নে তাঁকে দেখা দিয়ে বললেন, ‘দাউদসন্তান যোসেফ, তোমার স্ত্রী মারীয়াকে গ্রহণ করে নিতে ভয় করো না, কেননা তার গর্ভে যা জন্মেছে, তা পবিত্র আত্মার প্রভাবেই হয়েছে; সে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবে আর তুমি তাঁর নাম যিশু রাখবে, কারণ তিনিই নিজ জনগণকে তাদের পাপ থেকে ত্রাণ করবেন।’
যোসেফ ঘুম থেকে জেগে উঠে, প্রভুর দূত তাঁকে যেমন আদেশ করেছিলেন, সেইমত করলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
মঠাধ্যক্ষ সাধু বার্নার্ডের উপদেশ

হিব্রুদের এ প্রথা ছিল যে, বাগ্‌দানের দিন থেকে বিবাহের দিন পর্যন্ত কনেকে বরের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে, যাতে তারা যতখানি পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকে তাদের শুদ্ধতা ততখানি সংরক্ষিত হয়। এখন, যেমন টমাস তাঁর সন্দেহ দ্বারা ও তারপরে খ্রিষ্টের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ দ্বারা প্রভুর পুনরুত্থানের সবচেয়ে দৃঢ় সাক্ষী হলেন, তেমনি যোসেফ মারীয়ার সঙ্গে বাগ্‌দান করে ও বিবাহ-প্রস্তুতির সময় ধরে তাঁকে ভালোমত জেনে তাঁর শুচিতার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষী হলেন। উভয় ব্যাপার অত্যন্ত উপযোগী: টমাসের সন্দেহও উপযোগী, মারীয়ার বাগ্‌দানও উপযোগী!
তবে মারীয়া যে যোসেফের সঙ্গে বিবাহ করবেন এ প্রয়োজন ছিল, যাতে পবিত্র বিষয় অবিশ্বাসীদের কাছে গুপ্ত থাকে (মথি ৭:৬ দ্রঃ), তাঁর কুমারীত্ব যেন বরের দ্বারা সপ্রমাণিত হয়, ও তাঁর শুচিতা ও সুনাম যেন অক্ষুণ্ণ থাকে। হ্যাঁ, ব্যাপারটা সত্যিই ঐশযত্নশীলতার প্রজ্ঞাময় ও যথাযোগ্য সুব্যবস্থা—একটিমাত্র কাজেই একটি সাক্ষীকে স্বর্গীয় রহস্যগুলির সহভাগী করা হল, শত্রুকে বাইরে রাখা হল, ও কুমারীর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা হল। কিন্তু তবুও এমন কেউ থাকতে পারে যে এ আপত্তি উত্থাপন করবে: ‘মানুষ হিসাবে যোসেফ তাঁর স্ত্রীর বিশ্বস্ততা বিষয়ে সন্দেহ পোষণ না করে পারতেন না; কিন্তু ধর্মনিষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ায় তিনি এ সন্দেহের কারণে তাঁর সঙ্গে ঘর করতে অবশ্যই সম্মত হলেন না, অপর দিকে ভক্তপ্রাণ হওয়ায় তাঁকে সন্দেহভাজন ব্যক্তি বলে দুর্নামের হাতে ছেড়ে দিতেও চাইলেন না: এজন্যই তিনি তাঁকে গোপনে ত্যাগ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।’
স্বল্প কথায় উত্তর দিয়ে আমি বলব যে, যোসেফের তেমন সন্দেহও প্রয়োজন ছিল, যাতে ঈশ্বর সুস্পষ্ট একটা উপযোগী প্রমাণ দিতে পারতেন: তিনি এ সমস্ত বিষয় ভাবছেন—অর্থাৎ তাঁকে গোপনে ত্যাগ করার কথা ভাবছেন—এমন সময় দেখ, প্রভুর এক দূত স্বপ্নে তাঁকে দেখা দিয়ে বললেন, দাউদসন্তান যোসেফ, তোমার স্ত্রী মারীয়াকে গ্রহণ করে নিতে ভয় করো না, কেননা তার গর্ভে যা জন্মেছে, তা পবিত্র আত্মার প্রভাবেই হয়েছে (মথি ১:২০)।
সুতরাং এ সমস্ত কারণের জন্যই মারীয়া যোসেফের স্ত্রী হলেন, কিংবা সুসমাচার-রচয়িতার বর্ণনা অনুসারে যোসেফ বলে পরিচিত একজন পুরুষের বাগ্‌দত্তা বধূ ছিলেন (লুক ১:২৭)। যোসেফ যে একটি নারীর বর, এজন্যই যে সুসমাচার-রচয়িতা তাঁকে পুরুষ বলে অভিহিত করেন এমন নয়, বরং এজন্যই যে, তিনি ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন, অর্থাৎ কিনা—আর একজন সুসমাচার-রচয়িতার কথা অনুসারে (মথি ১:১৯)—এজন্যই যে, তিনি সাধারণ এক ব্যক্তি নন, কিন্তু তাঁরই স্বামী ছিলেন: অতএব তাঁকে ‘পুরুষ’ বলে অভিহিত করা হয় কারণ লোকে তা-ই বলে তাঁকে মনে করছিল।
এজন্য যোসেফকে মারীয়ার স্বামী বলেও অভিহিত করা হল, কারণ ঠিক তা-ই বলেই তাঁকে পরিগণিত হওয়া আবশ্যক ছিল; একই প্রকারে, প্রকৃতপক্ষে ত্রাণকর্তার পিতা না হয়েও তিনি তাও বলে গণ্য হতে যোগ্য হলেন: যখন যিশু নিজ কাজ আরম্ভ করেন, তখন তাঁর বয়স আনুমানিক ত্রিশ বছর; তিনি, লোকদের ধারণায়, যোসেফের সন্তান (লুক ৩:২৩)।
তাই যোসেফ জননীর স্বামীও হলেন না, পুত্রের পিতাও হলেন না, যদিও—যেমন ব্যাখ্যা করে এসেছি—তাঁর বিশেষ অবস্থার কারণে কিছু কালের মত তিনি তা-ই বলে অভিহিত ও গণ্য হলেন।
এ সমস্ত কিছু থেকে আমরা একথা অনুমান করতে পারি যে, ঈশ্বর যোসেফকে ঈশ্বরের পিতা বলে অভিহিত ও গণ্য হতে যোগ্য করে তুললেন; যোসেফ সত্যিই সম্পূর্ণরূপে অসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন।
ত্রাণকর্তার জননী যাঁর স্ত্রী, সেই যোসেফ যে সবসময়ের মত সৎ ও বিশ্বস্ত হলেন, এবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তিনি সত্যিই সেই সৎ বিশ্বস্ত কর্মচারী, যাঁকে প্রভু আপন জননীকে সান্ত্বনা দিতে ও যত্ন করতে মনোনীত করেছিলেন; পৃথিবীতে তিনিই ঈশ্বরের মহাপরিকল্পনার একমাত্র অধিক বিশ্বস্ত সহায়।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
এসো, উত্তম ও বিশ্বস্ত দাস;
তোমার প্রভুর আনন্দে প্রবেশ কর।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, মিনতি জানাই:
সাধু যোসেফের আনন্দঘন এ মহাপর্বদিনে
যাদের তুমি এই বেদির স্বর্গীয় খাদ্যে পরিতৃপ্ত করেছ,
তোমার সেই পরিবার-মণ্ডলীকে তোমার নিত্য সহায়তায় প্রতিপালন কর,
এবং তাদের অন্তরে যা সঞ্চার করেছ, প্রসন্ন হয়ে তা রক্ষা কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৫ মার্চ - প্রভুর আগমন সংবাদ
আমি প্রভুর দাসী;
আপনি যা বলেছেন,
আমার তা‑ই হোক (লুক ১:১৮)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তোমার মঙ্গলবিধানে তুমি চেয়েছিলে,
তোমার বাণী কুমারী মারীয়ার গর্ভে সত্যকার মানবদেহ ধারণ করবেন।
অনুনয় করি: আমাদের সেই মুক্তিসাধককে মানবেশ্বর বলে স্বীকার ক’রে
আমরা যেন তাঁর ঐশস্বরূপেরও সহভাগী হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৭:১০-১৪; ৮:১০গ)

প্রভু আহাজের সঙ্গে আর একবার কথা বললেন; তাঁকে বললেন, ‘তোমার পরমেশ্বর প্রভুর কাছে একটা চিহ্ন যাচনা কর, তা অধোলোক কিংবা ঊর্ধ্বলোকের চিহ্ন হোক।’
কিন্তু আহাজ উত্তরে বললেন, ‘আমি যাচনা করব না; আমি প্রভুকে যাচাই করব না।’ তখন ইসাইয়া বললেন,
‘হে দাউদকুল, তোমরা একবার শোন:
মানুষের ধৈর্য যাচাই করতে তোমরা কি এখনও ক্ষান্ত নও যে,
এবার আমার পরমেশ্বরেরও ধৈর্য যাচাই করবে?
তাই প্রভু নিজেই তোমাদের একটা চিহ্ন দেবেন।
দেখ, যুবতীটি গর্ভবতী হয়ে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবে,
তাঁর নাম রাখবে ইম্মানুয়েল।’
কারণ ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৪০
ধুয়ো:
তোমার ইচ্ছা পূর্ণ করতে
এই যে আমি আসছি, প্রভু।

যজ্ঞ ও নৈবেদ্যে তুমি প্রীত নও,
বরং উন্মুক্ত করেছ আমার কান;
আহুতি ও পাপার্থে বলিদান চাওনি তুমি,
তখন আমি বললাম, ‘এই যে আমি আসছি।’   [ধুয়ো]

শাস্ত্রগ্রন্থে আমার বিষয়ে লেখা আছে,
আমি যেন তোমার ইচ্ছা পূর্ণ করি;
হে আমার পরমেশ্বর, এতে আমি প্রীত,
আমার অন্ত্ররাজি-গভীরে তোমার বিধান বিরাজিত।   [ধুয়ো]

আমি মহা জনসমাবেশে
ধর্মময়তার কথা প্রচার করলাম,
দেখ, রুদ্ধ করি না কো আমার ওষ্ঠ,
তুমি তো জান, প্রভু।   [ধুয়ো]

তোমার ধর্মময়তা আমি
লুকিয়ে রাখিনি হৃদয়-মাঝে,
বরং খুলে বলি
তোমার বিশ্বস্ততা, তোমার ত্রাণকর্মের কথা।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (১০:৪-১০)

প্রিয়জনেরা, ষাঁড় বা ছাগের রক্ত যে পাপ হরণ করবে, তা সম্ভব নয়। এজন্যই এই জগতে প্রবেশ করার সময়ে খ্রিষ্ট এই কথা বলেন:
যজ্ঞ ও নৈবেদ্য তুমি ইচ্ছা করনি,
বরং আমার জন্য একটি দেহ গড়ে তুলেছ;
আহুতি ও পাপার্থে বলিদানে তুমি প্রসন্ন হওনি,
তাই আমি বলেছি: এই যে, আমি এসেছি,
—শাস্ত্রগ্রন্থে আমার বিষয়ে লেখা আছে—
হে ঈশ্বর, তোমার ইচ্ছা পূর্ণ করতে।
তিনি প্রথমে বলেন, যজ্ঞ, নৈবেদ্য, আহুতি ও পাপার্থে বলিদান তুমি ইচ্ছা করনি, এবং এগুলিতে প্রসন্নও হওনি—এই সবকিছু এমন, যা বিধান অনুসারে উৎসর্গ করা হয়—পরে তিনি বলে চলেন, এই যে, আমি এসেছি তোমার ইচ্ছা পূর্ণ করতে।
এভাবে তিনি প্রথম ব্যবস্থা বাতিল করছেন, যেন দ্বিতীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে পারেন। আর ঠিক সেই ‘ইচ্ছা’ গুণেই, যিশুখ্রিষ্টের সেই একবার চিরকালের মত দেহ-নৈবেদ্য গুণেই আমাদের পবিত্র করে তোলা হল।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
(পাস্কাকালে নয়)
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।
বাণী হলেন মাংস, ও আমাদের মাঝে তাঁবু খাটালেন।
আর আমরা তাঁর গৌরব প্রত্যক্ষ করলাম।
প্রণাম প্রভু যিশু, মহাপ্রশংসা ও মহাবন্দনার যোগ্য তুমি।
(পাস্কাকালে)
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
বাণী হলেন মাংস, ও আমাদের মাঝে তাঁবু খাটালেন।
আর আমরা তাঁর গৌরব প্রত্যক্ষ করলাম।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:২৬-৩৮)

ষষ্ঠ মাসে গাব্রিয়েল দূত ঈশ্বর দ্বারা গালিলেয়ার নাজারেথ নামে শহরে এমন একজন যুবতী কুমারীর কাছে প্রেরিত হলেন, যিনি দাউদকুলের যোসেফ বলে পরিচিত একজন পুরুষের বাগ্‌দত্তা বধূ ছিলেন—কুমারীটির নাম মারীয়া। প্রবেশ করে দূত তাঁর দিকে এগিয়ে এসে বললেন, ‘আনন্দিতা হও, হে অনুগৃহীতা! প্রভু তোমার সঙ্গে আছেন।’
এই কথায় তিনি অধিক বিচলিতা হলেন, ও ভাবতে লাগলেন তেমন অভিবাদনের অর্থ কী! কিন্তু দূত তাঁকে বললেন, ‘ভয় করো না, মারীয়া; তুমি তো ঈশ্বরের কাছে অনুগ্রহই পেয়েছ। দেখ, গর্ভধারণ করে তুমি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবে, ও তাঁর নাম যিশু রাখবে। তিনি মহান হবেন, ও পরাৎপরের পুত্র বলে অভিহিত হবেন; এবং প্রভু ঈশ্বর তাঁর পিতৃপুরুষ দাউদের সিংহাসন তাঁকে দান করবেন; তিনি যাকোবকুলের উপর চিরকাল রাজত্ব করবেন, ও তাঁর রাজ্য হবে অন্তহীন।’
মারীয়া দূতকে বললেন, ‘এ কেমন করে হতে পারবে, যখন আমি কোন পুরুষকে জানি না?’ উত্তরে দূত তাঁকে বললেন, ‘পবিত্র আত্মা তোমার উপরে নেমে আসবেন, এবং পরাৎপরের পরাক্রম তোমার উপর নিজের ছায়া বিস্তার করবে; আর এজন্য যাঁর জন্ম হবে, তিনি পবিত্র হবেন ও ঈশ্বরের পুত্র বলে অভিহিত হবেন। আর দেখ, তোমার আত্মীয়া এলিজাবেথ, সেও বৃদ্ধ বয়সে একটি পুত্রকে গর্ভে ধারণ করেছে; লোকে যাকে বন্ধ্যা বলে ডাকত, তার ছ’মাস চলছে; কারণ ঈশ্বরের পক্ষে অসাধ্য কিছুই নেই।’
মারীয়া বললেন, ‘এই যে! আমি প্রভুর দাসী; আপনি যা বলেছেন, আমার তা-ই হোক।’ তখন দূত তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
মহাপ্রাণ সাধু লিওর পত্রাবলি
যিনি ঐশরাজ তিনি আমাদের স্বরূপের দীনতা গ্রহণ করলেন, যিনি শক্তিশালী তিনি আমাদের দুর্বলতা ধারণ করলেন, যিনি সনাতন তিনি আমাদের মরণশীলতা বরণ করলেন, এবং যে ঋণ আমাদের দশার উপর চাপ দিচ্ছিল, তা শোধ করতে সেই আবেগহীন স্বরূপ আমাদের আবেগ-প্রবণ স্বরূপের সঙ্গে মিলিত হল। এ সমস্ত কিছু ঘটেছে যেন ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে একমাত্র অদ্বিতীয় মধ্যস্থ সেই মানুষ খ্রিষ্টযিশু, যিনি একদিকে মৃত্যু থেকে মুক্ত, তিনি যেন অন্য দিকে মৃত্যুর অধীন হতে পারতেন। আর তা আমাদের পরিত্রাণের জন্য সুবিধাজনকই ছিল।
ঈশ্বর যে স্বরূপে জন্মগ্রহণ করলেন, তা ছিল প্রকৃত, নিখুঁত ও সম্পূর্ণ মানবীয়ই স্বরূপ, কিন্তু একাধারে সেই ঐশস্বরূপও প্রকৃত ও সম্পূর্ণ, যে স্বরূপে তিনি অপরিবর্তনশীল হয়ে বিরাজ করেন। তাঁর মধ্যে ঐশস্বরূপের সমস্ত কিছু আছে, আবার আমাদের স্বরূপেরও সমস্ত কিছু আছে।
আমাদের স্বরূপ বলতে আমরা সেটাকেই বোঝাই যেটা আদিতে ঈশ্বর দ্বারা সৃষ্ট হয়েছিল ও মুক্তিলাভের উদ্দেশ্যে বাণী দ্বারা ধারণ করা হল। কিন্তু, যে দুষ্টতা সেই প্রবঞ্চক জগতে এনে দিয়েছিল ও যা প্রবঞ্চিত মানুষ গ্রহণ করেছিল, ত্রাণকর্তার মধ্যে তার এক বিন্দুও ছিল না। তিনি আমাদের দুর্বলতা আপন করতে ইচ্ছা করলেন বটে, অথচ আমাদের শত অপরাধের অংশ হতে চাইলেন না।
তিনি ক্রীতদাসের দশা ধারণ করলেন, কিন্তু পাপের কলুষ ব্যতীত। তিনি মানবস্বরূপ উন্নীত করলেন, কিন্তু ঐশস্বরূপ অবনমিত করলেন না। তাঁর অবমাননা অদৃশ্যকে দৃশ্য করল, এবং নিখিলের স্রষ্টা ও প্রভুকে মরণশীল করল। তবু সেই অবমাননা তাঁর স্বীয় আধিপত্য ও প্রভুত্বের ঘাটতি না ঘটিয়ে বরং আমাদের দুর্দশার দিকে দয়ার সঙ্গে অবনত হল। উপরন্তু যিনি আপন ঐশস্বরূপে মানুষকে গড়লেন, তিনি দাসের স্বরূপে মানুষ হলেন। ইনিই সেই অনন্য ও অভিন্ন পরিত্রাতা।
সুতরাং, মানুষের মুক্তির জন্য নিরূপিত সময় উপস্থিত হলে, স্বর্গীয় সিংহাসন থেকে নেমে এসে অথচ পিতার গৌরব না ছেড়ে, এক নবীন অবস্থায়, এক নবীন জন্ম-ব্যবস্থায় জাত হয়ে আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট সেই নিকৃষ্ট মানবদশায় প্রবেশ করেন। তিনি এক নবীন অবস্থায় প্রবেশ করেন, কেননা নিজেই অদৃশ্য হয়েও আমাদের স্বরূপে দৃশ্য হলেন; সীমাহীন হয়েও সীমাবদ্ধ হতে চাইলেন; অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান হয়েও সময়ের গণ্ডিতে বাস করতে লাগলেন; নিখিল সৃষ্টির প্রভু হয়েও আপন রাজ-মর্যাদা গুপ্ত করে দাসের অবস্থা ধারণ করলেন; আবেগহীন ঈশ্বর হয়েও আবেগ-প্রবণ মানুষ হতে লজ্জাবোধ করেননি, অমর হয়েও মৃত্যুর বিধানের অধীন হতে দ্বিধা করেননি।
আসলে, যিনি প্রকৃত ঈশ্বর, তিনি একাধারে প্রকৃত মানুষ। তেমন ঐক্যে অমূলক বলে কিছুই নেই, কেননা তাতে মানবস্বরূপের দীনতা অক্ষুণ্ণ থাকে, ঐশস্বরূপের মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ থাকে।
আপন দয়ার ফলে ঈশ্বরে কোন পরিবর্তন ঘটে না, মানুষেও সেই মর্যাদা পাওয়ার ফলে কোন পরিবর্তন ঘটে না। স্বীয় স্বীয় বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এক একটি স্বরূপ অপর একটির সহভাগিতায় ক্রিয়াশীল থাকে। বাণীর যা উচিত, সেই অনুসারেই বাণী ক্রিয়াশীল, মানবতার যা উচিত, সেই অনুসারেই মানবতা ক্রিয়াশীল। ঐশস্বরূপ অলৌকিক কাজ সাধন ক’রে জাজ্বল্যমান হয়ে ওঠে, মানবস্বরূপ অপমান পেয়ে দীনতাই ভোগ করে। এবং যেমন বাণী পিতার গৌরবের সম্পূর্ণরূপে সমান তাঁর নিজের গৌরব ছাড়েন না, তেমনি মানবতা মানব-অবস্থার স্বীয় বৈশিষ্ট্য ত্যাগ করে না।
একথা বারবার বলায় আমরা কখনও ক্ষান্ত হব না যে, সেই অনন্য ও অভিন্ন ব্যক্তি হলেন প্রকৃত ঈশ্বরপুত্র ও প্রকৃত মানবপুত্র। তিনি স্বয়ং ঈশ্বর, কেননা আদিতে ছিলেন বাণী, বাণী ছিলেন ঈশ্বরের কাছে, বাণী ছিলেন ঈশ্বর (যোহন ১:১)। তিনি স্বয়ং মানুষ, কেননা বাণী হলেন মাংস ও আমাদের মাঝে বাস করলেন (যোহন ১:১৪)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
দেখ, কুমারীটি গর্ভবতী হয়ে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবেন,
তাঁর নাম রাখা হবে ইম্মানুয়েল।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের অন্তরে সত্য বিশ্বাসের রহস্যমালা দৃঢ় করে তোল:
আমরা যারা একথা স্বীকার করি যে, কুমারীর গর্ভজাত যিনি,
তিনি একাধারে প্রকৃত ঈশ্বর ও প্রকৃত মানুষ,
সেই আমরা যেন তাঁর পরিত্রাণদায়ী পুনরুত্থানের শক্তিগুণে
তোমার চিরন্তন আনন্দলোকে উপনীত হতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৫ এপ্রিল - সাধু মার্ক, সুসমাচার-রচয়িতা
বাবিলনে অবস্থিত তোমাদের এই সহমনোনীতা মণ্ডলী
তোমাদের প্রীতি-শুভেচ্ছা জানাচ্ছে;
আমার সন্তান মার্কও
তোমাদের প্রীতি-শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন (১ পিতর ৫:১৩)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি সুসমাচার-রচয়িতা সাধু মার্ককে
সুসমাচার-প্রচারের অনুগ্রহদানে ধন্য করেছিলে।
আশীর্বাদ কর: তাঁর শিক্ষাদানে অনুপ্রাণিত হয়ে
আমরা যেন বিশ্বস্তভাবে খ্রিষ্টের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু পিতরের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৫:৫খ-১৪)

প্রিয়জনেরা, তোমরা সবাই পরস্পরের সেবায় বিনম্রতায় পরিবৃত হও, কারণ ঈশ্বর অহঙ্কারীদের প্রতিরোধ করেন, বিনম্রদের কিন্তু অনুগ্রহ দান করেন।
তাই ঈশ্বরের পরাক্রান্ত বাহুর অধীনে নিজেদের নমিত রাখ, যেন যথাসময় তিনি তোমাদের উন্নীত করেন। তোমাদের সমস্ত ভাবনা-চিন্তার ভার তাঁর উপরেই ছেড়ে দাও, কারণ তিনি তোমাদের জন্য চিন্তা করেন। মিতাচারী হও, জাগ্রত থাক; তোমাদের শত্রু, সেই দিয়াবল, গর্জমান সিংহের মত এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সন্ধান করছে কাকে গ্রাস করবে। বিশ্বাসে অটল থেকে তোমরা তাকে প্রতিরোধ কর, একথা জেনে যে, জগৎসংসার জুড়ে তোমাদের ভ্রাতৃসঙ্ঘও একই রকম দুঃখযন্ত্রণা বহন করছে।
আর সকল অনুগ্রহ দানকারী ঈশ্বর, যিনি খ্রিষ্টে আপন চিরন্তন গৌরবলাভের উদ্দেশে তোমাদের আহ্বান করেছেন, তিনি নিজেই এই ক্ষণস্থায়ী যন্ত্রণাভোগের পর তোমাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত, সুস্থির, সবল ও স্থিতমূল করে তুলবেন। প্রতাপ তাঁরই, চিরদিন চিরকাল। আমেন।
আমি এই স্বল্প কথা—আশা করি তা স্বল্পই বটে—বিশ্বস্ত ভাই সিল্ভানুসের মধ্য দিয়ে লিখে পাঠালাম তোমাদের আশ্বাস দেবার জন্য ও এই সাক্ষ্যও দেবার জন্য যে, এ ঈশ্বরের প্রকৃত অনুগ্রহ। তাতে স্থিতমূল থাক।
বাবিলনে অবস্থিত তোমাদের এই সহমনোনীতা [মণ্ডলী] তোমাদের প্রীতি-শুভেচ্ছা জানাচ্ছে; আমার সন্তান মার্কও তোমাদের প্রীতি-শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তোমরা প্রীতিচুম্বনে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাও। তোমরা যারা খ্রিষ্টে আছ, তোমাদের সকলের শান্তি হোক।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৮৯
ধুয়ো:
আমি প্রভুর কৃপাধারার কথা
গাইব চিরকাল।

আমি প্রভুর কৃপাধারার কথা গাইব চিরকাল,
নিজ মুখেই তোমার বিশ্বস্ততার কথা প্রচার করব যুগে যুগান্তরে;
হ্যাঁ, আমি বলেছি, ‘তোমার কৃপা চিরস্থায়ী,
তোমার বিশ্বস্ততা স্বর্গে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত।’   [ধুয়ো]

প্রভু, স্বর্গ করে তোমার আশ্চর্য কাজের স্তুতি,
করে তোমার বিশ্বস্ততার স্তুতি পবিত্রজনদের সমাবেশে।
ঊর্ধ্বলোকে কেইবা প্রভুর সঙ্গে তুলনা করতে পারে?
দেবসন্তানদের মধ্যে কেইবা প্রভুর মত?   [ধুয়ো]

সুখী সেই জাতি, যে তোমার জয়ধ্বনি জানে,
যে তোমার শ্রীমুখের আলোতে চলে, প্রভু।
তোমার নামেই তারা আনন্দে মেতে থাকে সারাদিন ধরে,
তোমার ধর্মময়তায় উন্নীত হয়।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমরা এমন ক্রুশবিদ্ধ খ্রিষ্টকে প্রচার করি,
যিনি ঈশ্বরের পরাক্রম ও ঈশ্বরের প্রজ্ঞা।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৬:১৫-২০)

[সেসময়ে সেই এগারোজনকে দেখা দিয়ে] যিশু বললেন, ‘তোমরা বিশ্বজগতে বেরিয়ে পড়, সমস্ত সৃষ্টির কাছে সুসমাচার প্রচার কর।
যে বিশ্বাস করবে ও বাপ্তিস্ম গ্রহণ করবে, সে পরিত্রাণ পাবে; যে বিশ্বাস করবে না, তাকে বিচারাধীন করা হবে: যারা বিশ্বাস করবে, তাদের পাশেপাশে এই চিহ্নগুলো থাকবে: তারা আমার নামে অপদূত তাড়াবে, নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে, হাতে করে সাপ তুলবে, ও মারাত্মক বিষ খেলেও তাদের কোন ক্ষতি হবে না; তারা পীড়িতদের উপর হাত রাখবে আর তারা সুস্থ হবে।’
আর তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর প্রভু যিশুকে ঊর্ধ্বে, স্বর্গে তুলে নেওয়া হল, এবং তিনি ঈশ্বরের ডান পাশে আসন নিলেন।
আর তাঁরা বেরিয়ে পড়লেন ও সর্বত্র প্রচার করলেন; আর একইসময় প্রভু তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন ও বাণীর সহগামী চিহ্নগুলো দ্বারা সেই বাণী সুপ্রতিষ্ঠিত করতেন।
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
বিশপ সাধু ইরেনেউস-লিখিত ‘ভ্রান্তমতের বিরুদ্ধে’

পৃথিবীর শেষপ্রান্ত পর্যন্ত সারা বিশ্ব জুড়ে বিস্তৃত মণ্ডলী প্রেরিতদূতদের ও তাঁদের শিষ্যদের কাছ থেকে এমন বিশ্বাস গ্রহণ করেছে যা অনুসারে সে সেই সর্বশক্তিমান পিতা একেশ্বরে বিশ্বাস করে যিনি নির্মাণ করেছেন স্বর্গ, মর্ত, সাগর ও তার মধ্যে যা কিছু আছে (প্রেরিত ৪:২৪); ঈশ্বরের পুত্র সেই অনন্য যিশুখ্রিষ্টেও বিশ্বাস করে যিনি আমাদের পরিত্রাণের জন্য মাংসধারণ করলেন; সেই পবিত্র আত্মায়ও বিশ্বাস করে যিনি নবীদের দ্বারা ঈশ্বরের পরিকল্পনা প্রচার করলেন, অর্থাৎ আমাদের প্রিয়তম প্রভু যিশুখ্রিষ্টের আগমন, কুমারী থেকে তাঁর জন্ম, তাঁর যন্ত্রণাভোগ, মৃতদের মধ্য থেকে তাঁর পুনরুত্থান, তাঁর স্বর্গারোহণ, স্বর্গ থেকে পিতার গৌরবে তাঁর সেই পুনরাগমন যখন তিনি সমস্ত কিছু নিজেতে সম্মিলিত করবেন (এফে ১:১০) ও মানবজাতির সমস্ত মানুষকে পুনরুত্থিত করবেন যাতে অদৃশ্য পিতার মঙ্গল-ইচ্ছা অনুসারে আমাদের প্রভু ও ঈশ্বর ও ত্রাণকর্তা ও রাজা যিশুখ্রিষ্টের সামনে স্বর্গে মর্তে ও ভূগর্ভে প্রতিটি জানু আনত হয়, ও প্রতিটি জিহ্বা তাঁকে স্বীকার করে (ফিলি ২:১০-১১), এবং তিনি সকলের উপরে ন্যায়বিচার সম্পন্ন করেন।
আগেও যেমনটি বলেছি, যে মণ্ডলী সারা বিশ্বে বিস্তৃত হয়েও তবু ঠিক যেন একটিমাত্র সুসংবদ্ধ গৃহেই বাস করে, সেই মণ্ডলী তেমন প্রচারিত বাণী ও বিশ্বাস গ্রহণ ক’রে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গেই তা রক্ষা করে। সমগ্র মণ্ডলী সেই সত্যগুলি একপ্রাণ ও একহৃদয় হয়েই বিশ্বাস করে, সেগুলিকে সঙ্গতভাবে প্রচার করে, সেই বিষয়ে শিক্ষা দান করে, ও সেগুলিকে এমনভাবেই পরম্পরাগত ভাবে হস্তান্তর করে ঠিক যেন তার একমাত্র মুখ থেকেই তা করে। বাস্তবিকই জগতে ভাষাগুলো ভিন্ন ভিন্ন হলেও তবু বিশ্বাসের পরম্পরার শক্তি এক ও অভিন্ন।
এজন্য জার্মানিতে স্থাপিত মণ্ডলীগুলো এমন ধর্মতত্ত্ব বিশ্বাস করে না ও হস্তান্তর করে না যা স্পেনে বা ফ্রান্সে বা মধ্যপ্রাচ্যে বা মিশরে বা লিবিয়ায় বা পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মণ্ডলীগুলোর তত্ত্ব থেকে ভিন্ন; কিন্তু ঈশ্বরের সৃষ্টি সেই সূর্য যেমন সারা বিশ্বচরাচর জুড়ে এক ও একই সূর্য, তেমনি সত্যবাণী প্রচার সর্বস্থানেই উজ্জ্বল, ও সেই সকল মানুষকে উদ্ভাসিত করে যারা সত্যজ্ঞানে পৌঁছতে ইচ্ছা করে।
তেমনিভাবে যাঁরা মণ্ডলীগুলোতে প্রধান আসনের অধিকারী, তাঁদের মধ্যে এমন সুবক্তা নেই যিনি এ থেকে ভিন্ন তত্ত্ব প্রচার করেন, কেননা কেউই আপন গুরুর চেয়ে ঊর্ধ্বে নয়; আবার এমন দুর্বল বক্তাও নেই যিনি প্রচারকর্মে বিশ্বাসের পরম্পরা বিকৃত করবেন; কেননা বিশ্বাস এক ও একই হওয়ায় যিনি সে বিষয়ে বেশি কথা বলতে পারেন তিনিও তা বাড়ান না, আর যিনি কম পরেন তিনিও তা কমাতে পারেন না।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
দেখ, আমি প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি—একথা বলছেন প্রভু,
যুগান্ত পর্যন্ত। আল্লেলুইয়া।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর:
পবিত্র বেদি থেকে যা গ্রহণ করেছি, তা আমাদের পবিত্র করে তুলুক,
এবং সাধু মার্কের প্রচারিত সুসমাচারের বিশ্বাসে আমাদের বলবান করুক।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩ মে - সাধু ফিলিপ ও যাকোব, প্রেরিতদূত
  প্ররিতদূত ফিলিপ ও যাকোব।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, প্রতিবছর তোমার প্রেরিতদূত ফিলিপ ও যাকোবের পর্বদিবসে
তুমি আমাদের অন্তর আনন্দিত করে তোল।
অনুনয় করি: তাঁদের প্রার্থনার পুণ্যফলে
আমরা যেন তোমার একমাত্র পুত্রের মৃত্যু ও পুনরুত্থানের সহভাগী হতে পারি, যাতে তোমার চিরকালীন দর্শনলাভে উপনীত হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১৫:১-৮ক)

ভাই, আমি যে সুসমাচার তোমাদের কাছে প্রচার করেছি, যা তোমরা গ্রহণ করে নিয়েছ, যার উপর সুস্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছ, তারই কথা আমি তোমাদের মনে করিয়ে দিতে চাই। আমি তোমাদের কাছে সেই সুসমাচার যে রূপে প্রচার করেছি, সেই রূপে তা যদি আঁকড়ে ধরে থাক, তবে তা দ্বারা তোমরা পরিত্রাণও পাচ্ছ, অন্যথা, তোমরা বৃথাই বিশ্বাসী হয়েছ!
তোমাদের কাছে আমি সর্বপ্রথমে তা-ই সম্প্রদান করেছি, যা আমার নিজেরই কাছে সম্প্রদান করা হয়েছিল, তথা: খ্রিষ্ট আমাদের পাপের জন্য, শাস্ত্র অনুযায়ী, মৃত্যুবরণ করলেন, তাঁকে সমাধি দেওয়া হল; এবং শাস্ত্র অনুযায়ী তিনি তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হলেন; এবং তিনি কেফাসকে এবং পরে সেই বারোজনকে দেখা দিলেন; পরে তিনি একইসময়ে পাঁচশ’র বেশি ভাইকেও দেখা দিলেন: এদের অধিকাংশ এখনও আছে, কেউ কেউ কিন্তু এর মধ্যে নিদ্রাগত হয়েছে; তারপর তিনি যাকোবকে এবং পরে সকল প্রেরিতদূতকে দেখা দিলেন।
সবার শেষে তিনি আমাকেও দেখা দিলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৯
ধুয়ো:
সারা পৃথিবী জুড়ে
ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের স্বরধ্বনি।

আকাশমণ্ডল বর্ণনা করছে ঈশ্বরের গৌরব,
গগনতল ঘোষণা করছে তাঁর হাতের কর্মকীর্তি;
দিন দিনের কাছে সেই কথা ব্যক্ত করে,
রাত রাতের কাছে সেই জ্ঞান জ্ঞাত করে।   [ধুয়ো]

নেই কোন কথা, নেই কোন বাণী,
শোনা যায় না কো তাদের কণ্ঠস্বর,
তবু সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তাদের স্বরধ্বনি,
বিশ্বের প্রান্তসীমায় তাদের বচন।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমিই সেই পথ, সেই সত্য, সেই জীবন
—একথা বলছেন প্রভু;
ফিলিপ, যে আমাকে দেখেছে,
সে পিতাকেও দেখেছে।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৪:৬-১৪)

একদিন যিশু টমাসকে বললেন, ‘আমিই সেই পথ, সেই সত্য, সেই জীবন! পিতার কাছে কেউই যেতে পারে না, যদি না সে আমার মধ্য দিয়ে যায়। তোমরা যদি আমাকে জানতে, তাহলে আমার পিতাকেও জানতে। তোমরা তো তাঁকে এখন জান, দেখতেও পেয়েছ তাঁকে।’
ফিলিপ তাঁকে বললেন, ‘প্রভু, পিতাকে আমাদের দেখিয়ে দিন, তাতে আমরা তুষ্ট হব।’ যিশু তাঁকে বললেন, ‘ফিলিপ, এতদিন আমি তোমাদের সঙ্গে আছি আর তুমি আমাকে জান না? যে আমাকে দেখেছে, সে পিতাকেও দেখেছে; কেমন করে তুমি বলছ, পিতাকে আমাদের দেখিয়ে দিন? তুমি কি বিশ্বাস কর না যে, আমি পিতাতে আছি আর পিতা আমাতে আছেন? আমি যে সমস্ত কথা তোমাদের বলি, নিজে থেকে তা বলি না, কিন্তু যিনি আমাতে আছেন, সেই পিতাই নিজের সমস্ত কাজ সাধন করেন।
তোমরা আমাকে বিশ্বাস কর: আমি পিতাতে আছি আর পিতা আমাতে আছেন; অন্তত, এই সমস্ত কাজের খাতিরেই বিশ্বাস কর।
আমি তোমাদের সত্যি সত্যি বলছি, আমার প্রতি যে বিশ্বাস রাখে, আমি যে সমস্ত কাজ করি, তা সেও করবে, এবং তার চেয়ে মহত্তর কাজও করবে, কারণ আমি পিতার কাছে যাচ্ছি। তোমরা আমার নামে যা কিছু যাচনা করবে, আমি তা পূরণ করব, পিতা যেন পুত্রেতে গৌরবান্বিত হন। তোমরা যদি আমার নামে আমার কাছে কিছু যাচনা কর, তবে আমিই তা পূরণ করব।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
মঠাধ্যক্ষ ধন্য অগেরিউসের উপদেশ

পিতার কাছে কেউই যেতে পারে না, যদি না সে আমার মধ্য দিয়ে যায় (যোহন ১৪:৬)। সত্য ও জীবন যে আমি, সেই আমারই কাছে কেউই আসতে পারে না, যদি না সে সেই আমারই মধ্য দিয়ে আসে যিনি পথ। ঈশ্বর যে আমি, সেই আমার কাছে কেউই আসতে পারে না, যদি না সে সেই আমারই মধ্য দিয়ে আসে যিনি মানুষ হলাম। ধারণ করা মাংসের মধ্য দিয়ে আমি মরণশীলদের জন্য এমন পথ চিহ্নিত করি যা দিয়ে সত্য ও জীবনে যাওয়া যেতে পারে: আমার মৃত্যু, পুনরুত্থান ও স্বর্গারোহণের মধ্য দিয়ে আমি এমন পথ চিহ্নিত করি যাতে সেইখানে যাওয়া যেতে পারে যেখানে আমি সত্য, জীবন, প্রকৃত ঈশ্বর ও সনাতন ঈশ্বর বলে বিরাজমান।
ফলে পরবর্তী কথায় তিনি বলেন: তোমরা যদি আমাকে জান, তাহলে আমার পিতাকেও জানবে; তোমরা তো তাঁকে এখন জান, দেখতেও পেয়েছ তাঁকে (যোহন ১৪:৭)।
আমি যখন পিতার সমান, তখন তোমরা যদি আমাকে জান, তাহলে আমার পিতাকেও জানবে, কারণ আমি ও পিতা এক, ও আমার মধ্য দিয়ে তোমরা তাঁকে জান ও হৃদয় দিয়ে তাঁকে দেখতেও পেয়েছ, কারণ সেই আমাকেই দেখতে পেয়েছ যিনি সব দিক দিয়েই তাঁরই সদৃশ।
কিন্তু ফিলিপ একথা তত ভাল করে না বুঝতে পেরে যে, তিনি সম্পূর্ণরূপেই পিতার সদৃশ, তাঁকে বললেন: প্রভু, পিতাকে আমাদের দেখিয়ে দিন, তাতে আমরা তুষ্ট হব (যোহন ১৪:৮)।
তবে যিশু যখন দেখতে পেলেন, ফিলিপ পুত্রকেও জানতেন না, তখন বললেন: ফিলিপ, এতদিন আমি তোমাদের সঙ্গে আছি আর তুমি আমাকে জান না? (যোহন ১৪:৯)। তোমরা সত্যিই আমাকে জাননি, কারণ যদি আমাকে জানতে তবে পিতাকেও জানতে পারতে। যে মনে করে, পুত্রের চেয়ে পিতা উত্তম, সে পুত্রকে জানে না; পিতা যে এক আর পুত্র যে অপর এমন নয়, তাঁরা সম্পূর্ণরূপেই সদৃশ। আর যেহেতু পুত্র সম্পূর্ণরূপে পিতার সদৃশ, সেজন্য তিনি বলে চলেন: যে আমাকে দেখেছে, সে পিতাকেও দেখেছে। কেমন করে তুমি বলছ, ‘পিতাকে আমাদের দেখিয়ে দিন?’ (যোহন ১৪:৯)। যা দেখতে পাচ্ছ না, তা কমপক্ষে বিশ্বাস করতেই চেষ্টা কর। আমি যে সমস্ত কথা তোমাদের বলি, নিজে থেকে তা বলি না, কারণ নিজ থেকে আমি কিছুই বলি না; যা কিছু করি, তাঁকেই আরোপ করি যাঁর কাছ থেকে আমি আগত: যিনি আমাতে আছেন, সেই পিতাই নিজের সমস্ত কাজ সাধন করেন (যোহন ১৪:১০), আর সেই সমস্ত কর্মের মধ্যে সেই সমস্ত বাণীও রয়েছে যা গঠনমূলক হলে শুভকর্মে পরিণত হয়। আর যখন পিতা আমার মধ্যে নিজ কর্ম সাধন করেন, তখন তুমি কি বিশ্বাস করছ না যে, আমি পিতাতে আছি আর পিতা আমাতে আছেন? (যোহন ১৪:১০)। আমরা বিচ্ছিন্ন হলে কোন মতেই অবিচ্ছেদ্যভাবে কাজ করতে পারতাম না।
আমি তোমাদের সত্যি সত্যি বলছি, আমার প্রতি যে বিশ্বাস রাখে, আমি যে সমস্ত কাজ করি, তা সেও করবে, এবং তার চেয়ে মহত্তর কাজও করবে, কারণ আমি পিতার কাছে যাচ্ছি (যোহন ১৪:১২)। অর্থাৎ, সত্যিই আমি তোমাদের বলছি, আমার প্রতি যে বিশ্বাস রাখে, একথাই যে বিশ্বাস করে যে, আমি পিতার সঙ্গে সেই একেশ্বর যাঁকে আরাধনা করা ও ভালবাসা উচিত, সেও সেই সমস্ত কাজ করবে যা আমি করি, অর্থাৎ যে সমস্ত কর্ম আমি নিজের দ্বারা সাধন করছি, তা তারই দ্বারা করব; এমনকি সে মহত্তর কাজও করবে—অবশ্যই তার দ্বারা আমিই তা করব। কারণ আমি পিতার কাছে যাচ্ছি, অর্থাৎ আমার ঈশ্বরত্বে আমি যাঁর কাছ থেকে কখনও দূরে যাইনি, তাঁরই কাছে যাচ্ছি।
সুতরাং এসো, প্রিয়তম ভ্রাতৃগণ, আমরা তাঁর কাছে এ ভিক্ষা রাখি, যাতে তাঁর অনুগ্রহ আমাদের আগে আগে উপস্থিত হয়, আবার আমাদের পিছনে পিছনে থাকে, ও শুভকর্ম সাধনে আমাদের নিয়তই প্রবৃত্ত রাখে। এসো, তাঁর নামে আমরা কেবল তাঁকেই চাই। যার কাছে খ্রিষ্ট যথেষ্ট নন, সে সত্যিই ভীষণ কৃপণ। কেননা প্রভুকে যে পেয়ে গেছে ও নবীর সঙ্গে বলে প্রভুই আমার স্বত্বাংশ (সাম ১৬:৫), তার পক্ষে প্রভুকে ছাড়া অন্য কিছু রাখা উচিত নয়।
ফলে, যাঁর জন্য আমরা আমাদের অহঙ্কার ও স্ব-ইচ্ছা পর্যন্তই প্রত্যাখ্যান করেছি, আমাদের স্বত্বাংশ রূপে সেই খ্রিষ্টকে পাবার যোগ্য হওয়া ছাড়া আমাদের আর কোন বিষয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত নয়।
তেমন উত্তরাধিকার-ই উত্তরাধিকারীদের ধন্য করে!

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
‘প্রভু, পিতাকে আমাদের দেখিয়ে দিন, তাতে আমরা তুষ্ট হব।
ফিলিপ, যে আমাকে দেখেছে, সে পিতাকেও দেখেছে। আল্লেলুইয়া।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমরা এই পবিত্র খাদ্য গ্রহণ করেছি বলে
তুমি আমাদের অন্তর শোধন কর, যেন প্রেরিতদূত ফিলিপ ও যাকোবের সঙ্গে
আমরাও তোমার পুত্রতে তোমাকে দেখে অনন্ত জীবন পাবার যোগ্য হয়ে উঠি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]