সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
পর্ব ও মহাপর্ব
জানুয়ারীফোব্রুয়ারীমার্চএপ্রিলমেজুন
২৫ - সাধু পলের বিশ্বাস জাগরণ
  
  
  ২ - প্রভুকে উপস্থাপন
২২ - সাধু পিতরের ধর্মাসন
  
১৯ - সাধু যোসেফ
২৫ - প্রভুর আগমন সংবাদ
  
২৫ - সাধু মার্ক
  
  
  ৩ - সাধু ফিলিপ ও যাকোব
১৪ - সাধু মাথিয়াস
৩১ - শুভসাক্ষাৎ
২৪ - বাপ্তিস্মদাতার জন্মতিথি
২৯ - সাধু পিতর ও পল
  
জুলাইআগষ্টসেপ্টেম্বরঅক্টোবরসভেম্বরডিসেম্বর
  ৩ - সাধু টমাস
১১ - সাধু বেনেডিক্ট
২২ - সাধী মারীয় মাগদালেনা
২৫ - সাধু যাকোব
  ৬ - প্রভুর রূপান্তর
১০ - সাধু লরেন্স
১৫ - মারীয়ার স্বর্গোন্নয়ন
২৪ - সাধু বার্থলমেয়
  ৮ - মারীয়ার জন্মতিথি
১৪ - ক্রুশের বিজয়োৎসব
২১ - সাধু মথি
২৯ - মহাদূত মিখায়েল
১৮ - সাধু লুক
২৮ - সাধু সিমোন ও যুদা
  
  
  ১ - নিখিল সাধুসাধ্বী
  ২ - পরলোকগত ভক্তবৃন্দ
  ৯ - লাতেরান মহাগির্জা
৩০ - সাধু আন্দ্রীয়
  ৮ - অমলোদ্ভবা মারীয়া
২৬ - সাধু স্তেফান
২৭ - সাধু যোহন
২৮ - নিরপরাধী শিশুগণ
সাধু বেনেডিক্ট বাদে উপরোল্লিখিত অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি রোমীয় সাধারণ পঞ্জিকায় পর্ব ও মহাপর্ব বলে চিহ্নিত।    


৯ নভেম্বর - লাতেরান মহাগির্জার উৎসর্গ-দিবস
রোমে অবস্থিত লাতেরান মহাগির্জা
বিশ্বজুড়ে যত গির্জাগুলোর মাতা-গির্জা বলে গণ্য।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি তো জীবন্ত ও মনোনীত প্রস্তর নিয়েই
তোমার মাহাত্ম্যের এক শাশ্বত বাসস্থান প্রস্তুত কর।
তোমার মণ্ডলীতে তোমার দেওয়া সেই পবিত্র আত্মার অনুগ্রহ
শত ধারায় সঞ্চার কর, যেন স্বর্গীয় যেরুসালেমের নির্মাণকর্মের উদ্দেশ্যে
তোমার বিশ্বস্ত জনগণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী এজেকিয়েলের পুস্তক থেকে পাঠ (৪৭:১-২,৮-৯,১২)

সেইসময়ে [সেই পুরুষ যাঁর চেহারা ছিল ব্রঞ্জের মত] আমাকে আবার [প্রভুর] গৃহের প্রবেশস্থানে ফিরিয়ে আনলেন, আর দেখ, গৃহের চৌকাটের নিম্ন অংশের তলা থেকে জল বেরিয়ে এসে পুবদিকে বয়ে চলছে, কারণ গৃহের সামনের দিকটা পুবমুখী ছিল।
সেই জল গৃহের ডান দিকের তলা থেকে নেমে এসে যজ্ঞবেদির ডান পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল। তিনি উত্তরদ্বারের পথ দিয়ে আমাকে বাইরে নিয়ে গেলেন, এবং বাইরের পথ দিয়ে ঘুরে ঘুরে পুবদ্বার পর্যন্ত নিয়ে গেলেন; আর আমি দেখতে পেলাম, জল ডান দিক দিয়েই বেরিয়ে আসছে।
তিনি আমাকে বললেন, ‘এই জলধারা পুবদিকে বয়ে আরাবা সমতল ভূমিতে নেমে সমুদ্রের দিকে যায়, এবং সমুদ্রে প্রবেশ করলে তার জল নিরাময় হয়।
এই জলস্রোত যেইখানে বয়ে যায়, সেখানকার যত জীবজন্তু বাঁচবে; মাছও সেখানে অধিক প্রচুর হবে, কারণ এই জলধারা যেইখানে বয়ে যায়, সেখানে নিরাময় করে, এবং জলস্রোতটা যেখানে গিয়ে পৌঁছবে, সেখানে সবকিছু সঞ্জীবিত হয়ে উঠবে।
নদীর ধারে এপারে ওপারে সবরকম ফলদায়ী গাছ গজিয়ে উঠবে, যেগুলোর পাতা কখনও ম্লান হবে না; সেগুলো ফলদানেও কখনও ক্ষান্ত হবে না, মাসে মাসে তাদের ফল পাকবে, কারণ তাদের জল পবিত্রধাম থেকেই বেরিয়ে আসে; তাদের ফল খেতে রুচিকর হবে, ও তাদের পাতা হবে আরোগ্যদায়ী।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৪৬
ধুয়ো:
রয়েছে এমন এক নদী
যা আনন্দিত করে তোলে পরমেশ্বরের নগর।

পরমেশ্বর আমাদের আশ্রয়, আমাদের শক্তি,
সঙ্কটকালে তিনি নিত্য নিকটবর্তী সহায়;
তাই আমরা ভয় করব না যদিও পৃথিবী কম্পিত হয়,
যদিও পাহাড়পর্বত টলে যায় সমুদ্র-গর্ভে।   [ধুয়ো]

রয়েছে এমন এক নদী যার নানা স্রোতস্বিনী
আনন্দিত করে তোলে পরমেশ্বরের নগর, পরাৎপরের পবিত্র আবাস;
পরমেশ্বর তার মধ্যে থাকেন—টলবে না সেই নগর,
ভোরের আবির্ভাবেই পরমেশ্বর তার সহায়তা করবেন।   [ধুয়ো]

সেনাবাহিনীর প্রভু আমাদের সঙ্গে আছেন,
যাকোবের পরমেশ্বর আমাদের দুর্গ।
এসো তোমরা, দেখ প্রভুর কর্মকীর্তি,
পৃথিবীতে কী ভয়ঙ্কর কাজ করেছেন তিনি।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমি এই গৃহ বেছে নিলাম ও পবিত্রীকৃত করলাম,
যেন তার মধ্যে আমার নাম চিরকালের মত অধিষ্ঠান করে।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:১৩-২২)

ইহুদীদের পাস্কা সন্নিকট ছিল, তাই যিশু যেরুসালেমে গেলেন। মন্দিরের মধ্যে তিনি দেখলেন, লোকে বলদ, মেষ ও পায়রা বিক্রি করছে, পোদ্দারেরাও সেখানে বসে আছে। দড়ি দিয়ে একগাছা চাবুক বানিয়ে তিনি তাদের সকলকে মন্দির থেকে বের করে দিলেন: বলদ ও মেষ তাড়ালেন, পোদ্দারদের টাকা-কড়ি ছড়িয়ে তাদের টেবিল উল্টিয়ে দিলেন, এবং যারা পায়রা বিক্রি করছিল তাদের বললেন, ‘এখান থেকে ওই সমস্ত সরিয়ে নিয়ে যাও; আমার পিতার গৃহকে একটা বাজারে পরিণত করো না।’
তাঁর শিষ্যদের শাস্ত্রের এই বচন মনে পড়ল, ‘তোমার গৃহের প্রতি আগ্রহের আগুন আমাকে গ্রাস করবে।’ ইহুদীরা তখন তাঁকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘এই যা আপনি করছেন, তার জন্য আমাদের কী চিহ্ন দেখাতে পারেন?’ যিশু এই বলে তাঁদের উত্তর দিলেন, ‘এই পবিত্রধাম ভেঙে ফেলুন, আমি তিন দিনের মধ্যে তা পুনরুত্তোলন করব।’
তখন ইহুদীরা বলে উঠলেন, ‘এই পবিত্রধাম নির্মাণ করতে ছেচল্লিশ বছর লেগেছিল, আর আপনি নাকি তিন দিনের মধ্যে তা উত্তোলন করবেন?’ তিনি কিন্তু তাঁর নিজের দেহ-পবিত্রধামের কথাই বলছিলেন। তাই যখন তিনি মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করলেন, তখন তাঁর শিষ্যদের মনে পড়ল যে, তিনি এই কথা বলেছিলেন; এবং তাঁরা শাস্ত্রে ও যিশু যা বলেছিলেন, সেই কথায় বিশ্বাস করলেন।
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিন-লিখিত ‘সামসঙ্গীত-মালায় উপদেশাবলি’

পবিত্রই ঈশ্বরের মন্দির—আর তোমরাই তো সেই মন্দির (১ করি ৩:১৭)। যারা খ্রিষ্টে বিশ্বাসী, তারা সকলে ভালবাসবার জন্যই বিশ্বাসী; কেননা খ্রিষ্টে বিশ্বাস করা বলতে তাঁকে ভালবাসা বোঝায়—সেই অপদূতদের মত নয়, যারা বিশ্বাস করছিল কিন্তু ভালবাসত না; ফলে বিশ্বাস করলেও তারা বলছিল, ঈশ্বরের পুত্র, আমাদের সঙ্গে তোমার আবার কী? (মার্ক ৫:৭)। আমরা কিন্তু এমনভাবে বিশ্বাস করি যে, তাঁকে ভালবেসেই বিশ্বাস করি; তাছাড়া আমরা তো বলি না, ঈশ্বরের পুত্র, আমাদের সঙ্গে তোমার আবার কী! আমরা বরং একথা বলি, আমরা তোমার সম্পদ, তুমি আমাদের মুক্ত করেছ। যারা এভাবে বিশ্বাস করে, তারা সেই জীবন্ত প্রস্তরের মত যা নিয়ে ঈশ্বরের মন্দির নির্মিত; তারা সেই অক্ষয়শীল কাঠের মত যা নিয়ে সেই জাহাজ নির্মিত হয়েছিল, যে জাহাজ জলপ্লাবন দ্বারাও নিমজ্জিত হতে পারল না। মানুষই তো ঈশ্বরের প্রকৃত মন্দির যেখানে তিনি আমাদের প্রার্থনা শোনেন ও সাড়া দেন। ঈশ্বরের মন্দিরে যে প্রার্থনা করে, সে-ই মাত্র অনন্ত জীবনের উদ্দেশে সাড়া পায়; সেই তো ঈশ্বরের মন্দিরে প্রার্থনা করে, মণ্ডলীর শান্তিতে তথা খ্রিষ্টদেহের ঐক্যে যে প্রার্থনা করে—আর তেমন দেহ বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত বিশ্বাসীদের নিয়ে গঠিত। সুতরাং মন্দিরে যে প্রার্থনা করে, সে সাড়া পায়। কেননা মণ্ডলীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে যে প্রার্থনা করে, সে-ই আত্মা ও সত্যের শরণে প্রার্থনা করে,—সে তো আগেকার মন্দিরে নয়, যা ছিল কেবল একটা দৃষ্টান্ত। যারা তাদের নিজেদের স্বার্থ খুঁজছিল, অর্থাৎ কেনা-বেচার জন্যই মন্দিরে যাচ্ছিল, প্রভু তাদের সকলকে মন্দির থেকে বের করে দিলেন। সেই মন্দির যখন দৃষ্টান্তই ছিল, তখন স্পষ্ট দাঁড়ায় যে, প্রতীকাকারে মন্দিরের চেয়ে প্রকৃত মন্দির সেই খ্রিষ্টদেহেও কেনা-বেচার মত লোক, অর্থাৎ খ্রিষ্টের নয়, নিজেরই স্বার্থের অন্বেষী লোক মিশে আছে।
আর যেহেতু মানুষ নিজ নিজ পাপে নিমজ্জিত, সেজন্য প্রভু একটা চাবুক তৈরি করে মন্দির থেকে সেই সকল মানুষকে বের করে দিলেন যারা নিজেদের ব্যবসা নিয়ে কিন্তু যিশুখ্রিষ্টকে নিয়ে ব্যস্ত ছিল না। সামসঙ্গীতে এ মন্দিরের কথা পরিলক্ষিত। আমি বলেছি, এই মন্দিরেই—বাহ্যিক সেই মন্দিরে নয়—আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি আর তিনি আত্মা ও সত্যের শরণে সাড়া দেন। সেই মন্দিরে এমন আভাস দেওয়া হয়েছিল যা পরবর্তীকালে ঘটবার কথা: আর আসলে সেই মন্দির বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে কি আমাদের প্রার্থনা-গৃহও ধ্বংসিত হয়েছে? কখনও না! যা এখনও আর নেই, তা প্রার্থনা-গৃহ বলা চলে না, যেমন লেখা হয়েছিল, আমার গৃহকে বলা হবে সকল জাতির জন্যই প্রার্থনা-গৃহ (ইসা ৫৬:৭)। তোমরা তো শুনেছ প্রভু যিশুখ্রিষ্ট কী বললেন, লেখা রয়েছে: আমার গৃহকে বলা হবে সকল জাতির জন্যই প্রার্থনা-গৃহ; অথচ তোমরা তা দস্যুদের আস্তানা করেছ (মার্ক ১১:১৭)। যারা ঈশ্বরের গৃহকে চোরের আস্তানায় পরিণত করতে চাইল, তারাই নাকি মন্দিরের ধ্বংসের কারণ হয়নি? একই প্রকারে, যারা কাথলিক মণ্ডলীতে ভাল মত জীবন যাপন করে না, তারা ঈশ্বরের গৃহকে চোরের আস্তানা করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে বটে, তবু মন্দিরটা ধ্বংস করে না; বরং এমন দিন আসবে যখন তাদের নিজেদের পাপের চাবুক দ্বারা তাদেরই বের করে দেওয়া হবে। অপরদিকে ঈশ্বরের এ মন্দির যা খ্রিষ্টেরই দেহ, এ ভক্তমণ্ডলীর একটামাত্র কণ্ঠস্বর আছে, আর সামসঙ্গীতে একমাত্র মানুষ হয়েই গান করে। আমরা এর মধ্যে বহু সামসঙ্গীতেই তার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম: এসো, এখনও সেই কণ্ঠস্বর শুনি। আমরা ইচ্ছা করলে, তবে এ আমাদেরই কণ্ঠস্বর; ইচ্ছা করলে, আমরা কান দিয়ে গায়কের কণ্ঠ শুনি আর আমরা হৃদয় দিয়ে গান করি। কিন্তু ইচ্ছা না করলে, তবে আমরা হব সেই মন্দিরের ব্যবসায়ীর মত, অর্থাৎ এমন মানুষ যারা নিজেদেরই স্বার্থের খোঁজ করে: এভাবেও আমরা মণ্ডলীতে প্রবেশ করি বটে, কিন্তু ঈশ্বরের যা গ্রহণীয়, তা করতে নয়।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
তোমরা জীবন্ত প্রস্তরেরই মত,
এক পবিত্র যাজকত্বের উদ্দেশে এক আত্মিক গৃহরূপে নির্মিত হচ্ছ।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি পৃথিবীময় এ মণ্ডলীর চিহ্নের মধ্য দিয়ে
স্বর্গীয় যেরুসালেমের পূর্বচ্ছবি তুলে ধরতে প্রসন্ন হয়েছ।
আশীর্বাদ কর, এই সাক্রামেন্তে যোগদানের ফলে
আমরা যেন তোমার অনুগ্রহের মন্দির হয়ে উঠি
ও তোমার গৌরবের আবাসে প্রবেশ করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩০ নভেম্বর - সাধু আন্দ্রিয়, প্রেরিতদূত
রাজার সাক্ষাতে
প্রেরিতদূত আন্দ্রিয় ক্রুশে বিদ্ধ।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে মহিমময় প্রভু, বিনীত কণ্ঠে মিনতি জানাই: প্রেরিতদূত সাধু আন্দ্রিয়
যেমন তোমার আদিমণ্ডলীর জন্য ছিলেন প্রচারক ও পালক,
তেমনি এখনও যেন তোমার কাছে হন আমাদের মঙ্গলের নিত্য সমর্থক।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
রোমীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১০:৯-১৮)

ভাই, মুখে তুমি যদি যিশুকে প্রভু বলে স্বীকার কর এবং হৃদয়ে যদি বিশ্বাস কর যে ঈশ্বর তাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করেছেন, তাহলে তুমি পরিত্রাণ পাবে। কেননা হৃদয়ে বিশ্বাস করেই তো মানুষ লাভ করে ধর্মময়তা, আর মুখে তা স্বীকার করেই তো সে লাভ করে পরিত্রাণ।
তবে যারা তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখেনি, তারা কেমন করে তাঁকে ডাকবে? আর যাঁর কথা তারা কখনও শোনেনি, কেমন করে তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখবে? আরও, প্রচারক না থাকলে, তারা কেমন করে শুনবে? আর প্রেরিত না হলে তারা কেমন করে প্রচার করবে? যেমনটি লেখা আছে, আহা, কত না সুন্দর পাহাড়পর্বতের উপরে তারই চরণ, যে শুভসংবাদ প্রচার করে!
কিন্তু সকলেই যে সেই শুভসংবাদে সাড়া দিয়েছে এমন নয়; ইসাইয়া যেমনটি বলেন, প্রভু, আমাদের প্রচারে কে বিশ্বাস রেখেছে? এক কথায়: বিশ্বাস প্রচারের উপর নির্ভর করে, আবার প্রচার খ্রিষ্টের বচন দ্বারাই সাধিত। কিন্তু আমি বলি: তবে তারা কি শুনতে পায়নি? নিশ্চয়ই পেয়েছে!
সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তাদের কণ্ঠ,
বিশ্বের প্রান্তসীমায় তাদের বচন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৯
ধুয়ো:
সারা পৃথিবী জুড়ে
ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের স্বরধ্বনি।

আকাশমণ্ডল বর্ণনা করছে ঈশ্বরের গৌরব,
গগনতল ঘোষণা করছে তাঁর হাতের কর্মকীর্তি;
দিন দিনের কাছে সেই কথা ব্যক্ত করে,
রাত রাতের কাছে সেই জ্ঞান জ্ঞাত করে।   [ধুয়ো]

নেই কোন কথা, নেই কোন বাণী,
শোনা যায় না কো তাদের কণ্ঠস্বর,
তবু সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তাদের স্বরধ্বনি,
বিশ্বের প্রান্তসীমায় তাদের বচন।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমার পিছনে এসো;
আমি তোমাদের করে তুলব মানুষ-ধরা জেলে।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৪:১৮-২২)

একদিন যিশু গালিলেয়া সাগরের তীর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখতে পেলেন, দুই ভাই—সিমোন ওরফে পিতর ও তাঁর ভাই আন্দ্রিয়—সমুদ্রে জাল ফেলছেন, কারণ তাঁরা জেলে ছিলেন। তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমার পিছনে এসো; আমি তোমাদের করে তুলব মানুষ-ধরা জেলে।’ আর তখনই তাঁরা জাল ফেলে রেখে তাঁর অনুসরণ করলেন।
আর সেখান থেকে এগিয়ে গিয়ে তিনি দেখলেন, অন্য দুই ভাই—জেবেদের ছেলে যাকোব ও তাঁর ভাই যোহন—নিজেদের পিতা জেবেদের সঙ্গে নৌকায় নিজেদের জাল সারাচ্ছিলেন; তিনি তাঁদের ডাকলেন; আর তখনই তাঁরা নৌকা ও নিজেদের পিতাকে ফেলে রেখে তাঁর অনুসরণ করলেন।
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
মঠাধ্যক্ষ জন ইউস্তুস লাণ্ড্‌সবের্গের উপদেশ

আন্দ্রিয় মনে মনে ভাবলেন, কতই না লজ্জাকর ও অচিন্তনীয় ব্যাপার যদি তিনিও আপন গুরুর জন্য, এমনকি তাঁর সেই আপন ঈশ্বরেরই জন্য প্রাণ না দিতে পারেন যিনি সকলের জন্য প্রাণ দিলেন! তাছাড়া তিনি এ কথাও জানতেন যে, প্রভুর চেয়ে দাস বড় নয়, গুরুর চেয়েও শিষ্য বড় নয়। তিনি তো সেই কোমল ও নম্র যিশুকেই শুনেছিলেন যখন তাঁর নিজের কাছে ও অন্য সকল প্রেরিতদূতের কাছে বলেছিলেন: পিতা যেমন আমাকে প্রেরণ করেছেন—তথা যন্ত্রণাভোগ করতেই প্রেরণ করেছেন—, তেমনি আমিও তোমাদের প্রেরণ করছি (যোহন ২০:২১), আমি যা সহ্য করেছি তোমরাও যেন তা সহ্য কর। সংসার যেভাবে আমাকে গ্রহণ করেছে, তোমরা প্রত্যাশা করো না সংসার তোমাদের তার চেয়ে অন্যভাবেই গ্রহণ করবে, কেননা আমি দেহের আমোদের মধ্যে নয়, আত্মারই আমোদের মধ্যে তোমাদের প্রেরণ করছি; আরও, বাহ্যিক শান্তির দিকে নয়, আন্তরিক শান্তির দিকে; আরামের দিকে নয়, পরিশ্রমের দিকে, এমনকি ক্রুশ, মৃত্যু, সঙ্কট ও প্রতিকূলতারই দিকে প্রেরণ করছি। সুতরাং, যিশুর ইচ্ছা জেনে নিয়ে সেসময় থেকে ধন্য আন্দ্রিয় এভাবেই খ্রিষ্টের সেবা করতে ও এভাবেই তাঁর প্রতি বাধ্য হতে সাধ্যমত চেষ্টা করলেন, কেননা তিনি জানতেন এতেই প্রভু প্রীত হবেন। দিব্য প্রেমের আগুনে জ্বলন্ত হয়ে তিনি যন্ত্রণাভোগ করতে ও ক্রুশের উপরেই মরতে আগ্রহের সঙ্গে বাসনা করলেন: তিনি ব্যগ্রতার সঙ্গে সাক্ষ্যমরণের অন্বেষণ করলেন।
ক্রুশ দেখে তিনি বলে উঠলেন: ‘হে উৎকৃষ্ট ক্রুশ, যা প্রভুর দেহে অলঙ্কৃত ও সম্মানিত হয়েছ! হে ক্রুশ, যা আমি দীর্ঘ দিন ধরে বাসনা করেছি, আসক্তির সঙ্গেই ভালবেসেছি, অবিরতই অন্বেষণ করেছি! যে প্রাণ তোমার জন্যই আকাঙ্ক্ষী, এবার তুমি আমার সেই প্রাণের জন্য তৈরী! সংসারের হাত থেকে আমাকে গ্রহণ করে আমার প্রভুর কাছে আমাকে ফিরিয়ে দাও, যিনি তোমার দ্বারা আমার মুক্তি সাধন করেছেন, তিনি যেন তোমার দ্বারা আমাকে ফিরে পেতে পারেন।’
প্রিয়জনেরা, তোমরা তো দেখতে পাচ্ছ, এ প্রভুভক্ত কেমন সম্পূর্ণরূপেই সংসার ও দেহকে জয় করেছেন; দেখতে পাচ্ছ, সংসারের বন্ধুদের চিন্তার তুলনায় তাঁর চিন্তা কেমন ভিন্ন! এসংসারের কোন্‌ বন্ধু, এজীবনের অভিলাষের কোন্‌ প্রেমিক আন্দ্রিয়ের মত ক্রুশ ও মৃত্যুর জন্য ততখানি আকাঙ্ক্ষা দেখাতে পারবে? হ্যাঁ, এতে কোন সন্দেহ নেই যে, সংসারের প্রেম ও আধ্যাত্মিক প্রেম সম্পূর্ণরূপে বিরোধী বিষয়; ফলে তাদের ফলও যে সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন হবে এতেও বিস্ময়ের কিছু নেই। সংসারের প্রেম নয়, ঈশ্বরের পুণ্য প্রেমই তো ক্লেশের মাঝে আমাদের আনন্দিত করে, পীড়নের মাঝে আমাদের উল্লসিত করে, ও আমাদের অন্তরে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা সঞ্চার করে। যারা সংসারের প্রেম দ্বারা আকর্ষিত, তারা নিজের স্বার্থ, আরাম, বিশ্রাম ও মর্যাদার অন্বেষণ করে; কিন্তু যারা ঐশপ্রেম দ্বারাই উদ্দীপিত, তারা নিজেদের নয়, সবকিছুতে কেবল ঈশ্বরের অন্বেষণ করে।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ১২৬
ধুয়ো:
আন্দ্রিয় ভাই সিমোনকে বললেন, আমরা মসীহ সেই খ্রিষ্টের সন্ধান পেয়েছি!
আর তাঁকে যিশুর কাছে নিয়ে গেলেন

প্রভু যখন সিয়োনের বন্দিদের ফিরিয়ে আনলেন,
আমরা তখন যেন স্বপ্নই দেখি!
তখন আমাদের মুখ হাসিতে মুখর,
আমাদের জিহ্বা আনন্দচিৎকারে পূর্ণ।

তখন বিজাতিদের মধ্যে একথা চলত,
‘তাদের জন্য কী মহা মহা কাজ না করেছেন প্রভু!’
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু,
আমরা আনন্দিত।

আমাদের বন্দিদের ফিরিয়ে আন, প্রভু,
তাদের ফিরিয়ে আন নেগেব প্রান্তরে খরস্রোতের মত।
যে অশ্রুর মধ্যে বীজ বোনে,
সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফসল সংগ্রহ করবে।

সে যায়, কাঁদতে কাঁদতে সে চলে যায়,
সঙ্গে নিয়ে যায় বপনের বীজ;
সে আসে, সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফিরে আসে,
সঙ্গে নিয়ে আসে ফসলের আঁটি।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার যে সাক্রামেন্ত গ্রহণ করেছি, তা আমাদের উজ্জীবিত করুক,
প্রেরিতদূত সাধু আন্দ্রিয়ের আদর্শ পালন ক’রে
আমরা যেন খ্রিষ্টের দুঃখকষ্ট নিজেদের দেহে বহন ক’রে
তাঁর গৌরবেরও অংশী হতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৮ ডিসেম্বর - ধন্যা কুমারী মারীয়ার অমলোদ্ভব
বালক যিশু সহ ধন্যা মারীয়া।
[সাধু বেনেডিক্ট মঠ - উপাসনালয়]
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, কুমারী মারীয়ার অমলোদ্ভবের মধ্য দিয়ে
তুমি তোমার পুত্রের জন্য উপযুক্ত আবাস প্রস্তুত করেছিলে।
অনুনয় করি: তোমার পুত্রের ভাবী মৃত্যুর কথা আগে থেকে জেনে
তুমি যখন সেই মৃত্যুর গুণে ধন্যা মারীয়াকে সর্বকলঙ্কমুক্তা করে রেখেছিলে,
তখন তাঁর প্রার্থনার পুণ্যফলে আমাদেরও পরিশুদ্ধ ক’রে
তোমার কাছে পৌঁছবার অনুগ্রহ দান কর।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
আদিপুস্তক থেকে পাঠ (৩:৯-১৫,২০)

[মানুষ সেই গাছের ফল খাওয়ার পর] প্রভু পরমেশ্বর তাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি কোথায় আছ?’ সে উত্তরে বলল, ‘বাগানে তোমার সাড়া পেয়ে আমি ভয় পেলাম, কারণ আমি উলঙ্গ; তাই নিজেকে লুকিয়েছি।’ তিনি বললেন, ‘তুমি যে উলঙ্গ, একথা কে তোমাকে বলল? যে গাছের ফল খেতে তোমাকে নিষেধ করেছিলাম, তুমি কি তার ফল খেয়েছ?’
মানুষ উত্তরে বলল, ‘আমার সঙ্গিনী করে যাকে তুমি আমাকে দিয়েছ, সেই নারীই আমাকে সেই গাছের ফল দিয়েছে, আর আমি তা খেয়েছি।’ প্রভু পরমেশ্বর নারীকে বললেন, ‘তুমি এ কী করলে?’ নারী উত্তরে বলল, ‘সাপ-ই আমাকে ভুলিয়েছে, আর আমি খেয়েছি।’
তখন প্রভু পরমেশ্বর সাপকে বললেন, ‘এই কাজ করেছ বিধায় অভিশপ্তই তুমি সমস্ত গবাদি পশু ও সমস্ত বন্যজন্তুর চেয়ে! তোমাকে বুকেই হাঁটতে হবে, ও তোমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে ধুলো খেতে হবে। আমি তোমার ও নারীর মধ্যে, তোমার বংশ ও তার বংশের মধ্যে পরস্পর শত্রুতা জাগিয়ে তুলব; তার বংশ তোমার মাথা পিষে মারবে, আর তুমি তার পায়ের গোড়ালিতে ছোবল মারবে।’
সেই মানুষ নিজের স্ত্রীর নাম হবা রাখল, কেননা সে সকল জীবিতের জননী হল।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯৮
ধুয়ো:
প্রভুর উদ্দেশে গাও নতুন গান,
তিনি যে সাধন করেছেন কত আশ্চর্য কাজ।

প্রভুর উদ্দেশে গাও নতুন গান,
তিনি যে সাধন করেছেন কত আশ্চর্য কাজ।
আপন ডান হাত ও পবিত্র বাহু দ্বারা
তিনি করেছেন জয়লাভ।   [ধুয়ো]

প্রভু জ্ঞাত করেছেন আপন পরিত্রাণ,
জাতি-বিজাতির চোখের সামনে আপন ধর্মময়তা করেছেন প্রকাশ,
ইস্রায়েলকুলের প্রতি
আপন কৃপা ও বিশ্বস্ততা করেছেন স্মরণ।   [ধুয়ো]

পৃথিবীর সকল প্রান্ত
দেখেছে আমাদের পরমেশ্বরের পরিত্রাণ।
সমগ্র পৃথিবী, প্রভুর উদ্দেশে জাগিয়ে তোল জয়ধ্বনি,
আনন্দে ফেটে পড়, চিৎকার কর, কর গান।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১:৩-৬,১১-১২)

ধন্য ঈশ্বর, আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের পিতা,
যিনি স্বর্গলোকে যত আত্মিক আশীর্বাদে
খ্রিষ্টে আমাদের আশিসধন্য করেছেন।
জগৎপত্তনের আগেই তিনি খ্রিষ্টে আমাদের বেছে নিয়েছিলেন,
আমরা যেন ভালবাসায় তাঁর সামনে পবিত্র ও অনিন্দ্য হয়ে উঠতে পারি;
তিনি আগে থেকে আমাদের বিষয়ে নিরূপণ করেছিলেন,
যিশুখ্রিষ্টের মাধ্যমে আমরা তাঁর দত্তকপুত্র হয়ে উঠব;
এমনটি তিনি করেছিলেন তাঁর প্রসন্নতা ও মঙ্গল-ইচ্ছা অনুসারে,
তাঁর সেই অনুগ্রহের গৌরবের প্রশংসায়,
যে অনুগ্রহ দানে তিনি তাঁর সেই প্রিয়জনে আমাদের অনুগৃহীত করেছেন।
তাঁর মধ্যে আমরা আমাদের উত্তরাধিকারের অংশ পেয়েছি,
কারণ যিনি নিজের ইচ্ছা অনুসারেই
সমস্ত কিছু সক্রিয়ভাবে ঘটিয়ে থাকেন,
তাঁর পরিকল্পনামত আমরা আগে থেকে খ্রিষ্টে নিরূপিত হয়েছিলাম,
যেন, তাঁর গৌরবের প্রশংসায়,
খ্রিষ্টের আগমনের আগে আমরাই সেই জনগণ হয়ে উঠি
তাঁর উপর প্রত্যাশা রাখি যারা।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আনন্দিতা হও, হে অনুগৃহীতা! প্রভু তোমার সঙ্গে আছেন।
নারীকুলে তুমি ধন্যা।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:২৬-৩৮)

ষষ্ঠ মাসে গাব্রিয়েল দূত ঈশ্বর দ্বারা গালিলেয়ার নাজারেথ নামে শহরে এমন একজন যুবতী কুমারীর কাছে প্রেরিত হলেন, যিনি দাউদকুলের যোসেফ বলে পরিচিত একজন পুরুষের বাগ্‌দত্তা বধূ ছিলেন—কুমারীটির নাম মারীয়া। প্রবেশ করে দূত তাঁর দিকে এগিয়ে এসে বললেন, ‘আনন্দিতা হও, হে অনুগৃহীতা! প্রভু তোমার সঙ্গে আছেন।’ এই কথায় তিনি অধিক বিচলিতা হলেন, ও ভাবতে লাগলেন তেমন অভিবাদনের অর্থ কী!
কিন্তু দূত তাঁকে বললেন, ‘ভয় করো না, মারীয়া; তুমি তো ঈশ্বরের কাছে অনুগ্রহই পেয়েছ। দেখ, গর্ভধারণ করে তুমি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবে, ও তাঁর নাম যিশু রাখবে। তিনি মহান হবেন, ও পরাৎপরের পুত্র বলে অভিহিত হবেন; এবং প্রভু ঈশ্বর তাঁর পিতৃপুরুষ দাউদের সিংহাসন তাঁকে দান করবেন; তিনি যাকোবকুলের উপর চিরকাল রাজত্ব করবেন, ও তাঁর রাজ্য হবে অন্তহীন।’
মারীয়া দূতকে বললেন, ‘এ কেমন করে হতে পারবে, যখন আমি কোন পুরুষকে জানি না?’ উত্তরে দূত তাঁকে বললেন, ‘পবিত্র আত্মা তোমার উপরে নেমে আসবেন, এবং পরাৎপরের পরাক্রম তোমার উপর নিজের ছায়া বিস্তার করবে; আর এজন্য যাঁর জন্ম হবে, তিনি পবিত্র হবেন ও ঈশ্বরের পুত্র বলে অভিহিত হবেন। আর দেখ, তোমার আত্মীয়া এলিজাবেথ, সেও বৃদ্ধ বয়সে একটি পুত্রকে গর্ভে ধারণ করেছে; লোকে যাকে বন্ধ্যা বলে ডাকত, তার ছ’মাস চলছে; কারণ ঈশ্বরের পক্ষে অসাধ্য কিছুই নেই।’
মারীয়া বললেন, ‘এই যে! আমি প্রভুর দাসী; আপনি যা বলেছেন, আমার তা-ই হোক।’ তখন দূত তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যেরুসালেমের বিশপ বিশপ সাধু সফ্রনিওসের উপদেশ

নারীকুলে তুমি সত্যিই ধন্যা, কেননা হবার অভিশাপ তুমি আশীর্বাদেই পরিণত করেছ এবং যিনি ঐশঅভিশাপের পাত্র ছিলেন, তোমার মধ্য দিয়েই সেই আদম পুনরায় আশিসপ্রাপ্ত হলেন।
নারীকুলে তুমি সত্যিই ধন্যা, কেননা তোমার জন্য পিতার সেই আশীর্বাদ মানবজাতির উপরে প্লাবিত হল ও প্রাচীন দণ্ডাজ্ঞা থেকে তাকে মুক্ত করল। নারীকুলে তুমি সত্যিই ধন্যা, কেননা তোমার দ্বারাই তোমার পিতৃপুরুষেরা পরিত্রাণ পেলেন: তুমি সেই ত্রাণকর্তার জননী হবে যিনি তাঁদের কাছে ঐশপরিত্রাণ এনে দেবেন।
নারীকুলে তুমি সত্যিই ধন্যা, কেননা তোমার কুমারীত্ব এমন ফল দান করল যা জগৎকে আশীর্বাদ দান করে ও তাকে সেই অভিশাপ থেকে মুক্ত করে যে অভিশাপ কাঁটাই শুধু উৎপন্ন করত। নারীকুলে তুমি সত্যিই ধন্যা, কেননা সাধারণ নারী হয়েও তুমি সত্যিই ঈশ্বরজননী হবে। বস্তুত, যিনি তোমার গর্ভে জন্ম নেবেন তিনি যদি বাস্তবেই মাংসধারী ঈশ্বর, তাহলে পূর্ণ ন্যায্যতা অনুসারেই ও সত্যিকারে তুমি ঈশ্বরজননী বলে অভিহিতা, কেননা তুমি সত্যিই ঈশ্বরকে জন্মদান কর।
কিন্তু ভয় পেয়ো না, মারীয়া: তুমি ঈশ্বরের কাছে অনুগ্রহ লাভ করেছ, এমন অনুগ্রহ যা সকল অনুগ্রহের মধ্যে উজ্জ্বলতম; ঈশ্বরের কাছে এমন অনুগ্রহ লাভ করেছ যার অতীত কোন অনুগ্রহ থাকতে পারে না; ঈশ্বরের কাছে এমন অনুগ্রহ লাভ করেছ যা চিরকালস্থায়ী। তোমার আগে অন্য কেউও, এমনকি অনেকেই উৎকৃষ্ট পবিত্রতার ফল ফলিয়েছিল, কিন্তু যেমন তোমার কাছে, অন্য কারও কাছে তেমন অনুগ্রহের পূর্ণতা দেওয়া হয়নি। কেউই তোমার মত তত ধন্য হয়নি; কেউই তোমার মত পবিত্রতায় তত অলঙ্কৃত হয়নি; কেউই তোমার মত মাহাত্ম্যের তত উচ্চ পর্যায়ে ওঠেনি; কেউই তোমার মত আদিলগ্ন থেকে পবিত্রতাদানকারী অনুগ্রহ দ্বারা পূর্বচিহ্নিত হয়নি; কেউই তোমার মত দিব্য আলোতে তত উজ্জ্বল হয়নি; কেউই তোমার মত সমস্ত উচ্চতার ঊর্ধ্বে ততখানি উন্নীত হয়নি।
এসব যথার্থই, কেননা কেউই তোমার মত ঈশ্বরের তত কাছাকাছি যায়নি; কেউই তোমার মত ঈশ্বরের মঙ্গলদানে তত ধনবান হয়নি; কেউই তত ঐশঅনুগ্রহ লাভ করেনি। মানবক্ষেত্রে যা মহান, সেক্ষেত্রে সবদিক দিয়েই তুমি বিজয়িনী; ঈশ্বরের মাহাত্ম্য কোন মানুষের কাছে যাই কিছু দান করেছেন, তুমি সেই সকল দানের অতীত; ঈশ্বরপ্রাপ্তিতে তুমি সকলের চেয়ে ধনবতী, কেননা ঈশ্বর তোমার মধ্যে উপস্থিত। যেইভাবে তোমার বেলায়, কেউই কখনও সেইভাবে নিজের মধ্যে ঈশ্বরকে গ্রহণ করতে পারেনি; কেউই তোমার মত ঐশউপস্থিতি ভোগ করতে পারেনি; কেউই তোমার মত ঈশ্বর দ্বারা আলোকিত হবার যোগ্য হতে পারেনি; এজন্য তুমি বিশ্বের স্রষ্টা ও প্রভু সেই ঈশ্বরকে নিজের মধ্যে গ্রহণ করেছ এমন শুধু নয়, তুমি বরং নিজের মধ্যে অবর্ণনীয় ভাবে দেহধারী রূপেই তাঁকে বহন ক’রে ও আপন বুকেই তাঁকে বরণ ক’রে অবশেষে পিতার দণ্ডাদেশে আঘাতগ্রস্ত সকল মানুষের মুক্তিদাতা ও অন্তহীন পরিত্রাণের সাধক রূপেই তাঁকে প্রসব করেছ।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১২২
ধুয়ো:
হে মারীয়া,
তোমার বিষয়ে বলা হয় কতই না গৌরবের কথা:
তোমার গর্ভ থেকে উদিত হলেন ধর্মময়তার সূর্য,
তিনি খ্রিষ্ট, আমাদের ঈশ্বর যিনি।

আমি আনন্দ পেলাম ওরা যখন আমাকে বলল,
‘এসো, চলি প্রভুর গৃহে!’
এখন এসে থেমেছে আমাদের চরণ
তোমার তোরণদ্বারে, হে যেরুসালেম।

যেরুসালেম দৃঢ়সংবদ্ধ নগরীর মতই গড়া,
সেইখানে উঠে আসে গোষ্ঠীসকল, প্রভুরই গোষ্ঠীসকল—
ইস্রায়েলের বিধি তো তারা করবে প্রভুর নামের স্তুতি, সেইখানে যে অধিষ্ঠিত আছে বিচারাসনগুলি,
দাউদকুলের সিংহাসনগুলি।

যেরুসালেমের জন্য তোমরা শান্তি যাচনা কর!
যারা তোমাকে ভালবাসে, তাদের সমৃদ্ধি হোক;
শান্তি হোক তোমার প্রাচীর-মাঝে,
তোমার দুর্গশ্রেণির মাঝে সমৃদ্ধি হোক!

আমার ভাই ও বন্ধুদের খাতিরে
আমি বলব, ‘তোমাতেই বিরাজ করুক শান্তি!’
আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর গৃহের খাতিরে
আমি তোমার মঙ্গল অন্বেষণ করব।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের পরমেশ্বর, যে সাক্রামেন্ত আমরা গ্রহণ করেছি,
তা আমাদের অন্তরে নিরাময় করুক সেই পাপের ক্ষত,
যা থেকে তুমি বিশেষ অনুগ্রহদানে ধন্যা মারীয়াকে মাতৃগর্ভে
তাঁর উদ্ভব-লগ্ন অবধি মুক্ত করে রেখেছিলে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৬ ডিসেম্বর - সাধু স্তেফান, প্রথম সাক্ষ্যমর
লোকে পাথর মারতে মারতে
স্তেফান দেখতে পাচ্ছেন,
স্বর্গে যিশু কেমন যেন তাঁর অপেক্ষায় আছেন।
তাঁর হত্যাকাণ্ডে সৌল (ডান পাশে)
সম্মতি দিচ্ছেন (প্রেরিত ৭:৫৬-৫৮)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু,
আমরা আজ সাধু স্তেফানের স্বর্গীয় জন্মতিথি পালন করি,
যিনি তাঁর নির্যাতকদেরও মঙ্গল প্রার্থনা করেছিলেন।
আশীর্বাদ কর: আমরা যা শ্রদ্ধার সঙ্গে উদ্‌যাপন করি,
সেই যজ্ঞানুষ্ঠানের মর্মসত্য যেন উপলব্ধি করি,
যাতে আমরাও শত্রুদের ভালবাসতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (৬:৮-১০,১২; ৭:৫৪-৬০)

সেসময়ে, স্তেফান অনুগ্রহ ও পরাক্রমে পরিপূর্ণ হয়ে জনগণের মধ্যে অলৌকিক লক্ষণ ও মহা মহা চিহ্নকর্ম সাধন করছিলেন। পরে, যাকে বিমুক্তদের সমাজগৃহ বলে, তার কয়েকজন সদস্য এবং কিরেনে ও আলেক্সান্দ্রিয়ার কয়েকজন লোক এবং কিলিকিয়া ও এশিয়ার অন্য কয়েকজন লোক স্তেফানের সঙ্গে তর্ক করার জন্য উঠে দাঁড়াল; কিন্তু তিনি যে প্রজ্ঞায় ও আত্মায় কথা বলছিলেন, তা প্রতিরোধ করতে তারা সক্ষম ছিল না; তাই জনগণকে এবং প্রবীণদের ও শাস্ত্রীদের উত্তেজিত করে তুলে তারা স্তেফানের উপর এসে পড়ল, এবং গ্রেপ্তার করে তাঁকে মহাসভায় নিয়ে গেল।
যাঁরা বিচারসভায় বসছিলেন, এই কথা শুনে তাঁরা অন্তরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন, তাঁর দিকে দাঁতে দাঁত ঘষতে লাগলেন। কিন্তু তিনি পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে স্বর্গের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে ঈশ্বরের গৌরব দেখতে পেলেন; এও দেখতে পেলেন, ঈশ্বরের ডান পাশে যিশু দাঁড়িয়ে আছেন; তিনি বলে উঠলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, স্বর্গ উন্মুক্ত, এবং মানবপুত্র ঈশ্বরের ডান পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।’
তাঁরা কানে আঙুল দিয়ে জোর গলায় চিৎকার করতে লাগলেন আর সবাই মিলে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন; এবং তাঁকে শহর থেকে বের করে এনে পাথর ছুড়ে মারতে লাগলেন; সাক্ষীরা নিজেদের জামাকাপড় সৌল নামে একটি যুবকের পায়ের কাছে রাখল।
তারা স্তেফানকে পাথর মারতে মারতেই তিনি এই মিনতি নিবেদন করলেন, ‘প্রভু যিশু, আমার আত্মা গ্রহণ কর।’ পরে নতজানু হয়ে জোর গলায় বলে উঠলেন, ‘প্রভু, এই পাপের জন্য এদের দায়ী করো না।’ এবং এ বলে নিদ্রা গেলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩১
ধুয়ো:
তোমারই হাতে, প্রভু,
আমার আত্মা সঁপে দিই।

হও তুমি আমার জন্য একটি শৈলাশ্রয়,
আমার পরিত্রাণের জন্য একটি দৃঢ় গিরিদুর্গ।
তুমিই তো আমার শৈল, আমার গিরিদুর্গ,
তোমার নামের দোহাই আমাকে চালনা কর, দেখাও পথ।   [ধুয়ো]

তোমারই হাতে নিজেকে সঁপে দিই,
হে প্রভু, সত্যের ঈশ্বর, সাধন কর আমার মুক্তিকর্ম!
তুমি আমার দশা দেখেছ বলে
তোমার এই কৃপার জন্য আমি মেতে উঠব, আনন্দ করব।   [ধুয়ো]

আমার শত্রুদের, আমার নিপীড়কদের হাত থেকে
আমাকে উদ্ধার কর।
তোমার দাসের উপর শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তোল,
তোমার কৃপায় ত্রাণ কর আমায়।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যিনি প্রভুর নামে আসছেন, তিনি আশিসধন্য;
প্রভুই ঈশ্বর, তিনিই আমাদের আলো দান করেন।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১০:১৭-২২)

একদিন যিশু তাঁর প্রেরিতদূতদের বললেন, ‘মানুষদের বিষয়ে সাবধান থাক, কেননা তোমাদের তারা বিচারসভায় তুলে দেবে, ও নিজেদের সমাজগৃহে তোমাদের কশাঘাত করবে; আমার জন্য শাসনকর্তা ও রাজাদের সামনে তোমাদের নিয়ে যাওয়া হবে, যেন তাদের কাছে ও বিজাতীয়দের কাছে তা সাক্ষ্যস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়।
তবু যখন লোকেরা তোমাদের তুলে দেবে, তখন তোমরা কীভাবে কী বলবে, তা নিয়ে চিন্তিত হয়ো না, কারণ তোমাদের যে কী বলতে হবে, তা সেই ক্ষণেই তোমাদের বলে দেওয়া হবে—বাস্তবিকই তোমরা কথা বলবে এমন নয়, তোমাদের পিতার সেই আত্মাই তোমাদের অন্তরে কথা বলবেন।
আর ভাই ভাইকে ও পিতা ছেলেকে মৃত্যুর হাতে তুলে দেবে; আবার, ছেলেরা মাতাপিতার বিপক্ষে উঠে তাঁদের হত্যা করাবে। আর আমার নামের জন্য তোমরা হবে সকলের ঘৃণার পাত্র; কিন্তু যে কেউ শেষ পর্যন্ত নিষ্ঠাবান থাকবে, সে পরিত্রাণ পাবে।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
রুষ্পের বিশপ সাধু ফুল্জেন্তিউসের উপদেশ

গতকাল আমরা আমাদের সনাতন রাজার কালসাপেক্ষ জন্মতিথি উদ্‌যাপন করেছি; আজ সৈন্যের গৌরবময় যন্ত্রণাভোগ উদ্‌যাপন করি। গতকাল আমাদের রাজা মাংসবসনে পরিবৃত হয়ে কুমারীর গর্ভ-কক্ষ থেকে বেরিয়ে প্রসন্নতার সঙ্গে জগৎকে দেখতে এলেন; আজ সৈন্য দেহ-তাঁবু ছেড়ে বিজয়ী হয়ে স্বর্গে চলে গেলেন।
আমাদের রাজা, সেই উচ্চতম, আমাদের খাতিরে বিনম্র হয়েই এলেন, তবু শূন্য হাতে আসতে পারেননি। আপন সৈন্যদের কাছে তিনি এমন মহাদান এনে দিলেন, যে দানে তিনি তাদের অতি ধনবান করলেন শুধু নয়, সংগ্রামে সম্পূর্ণরূপে অপরাজেয় হবার জন্য তাদের সঞ্জীবিতও করলেন। যে দান তিনি এনে দিলেন, তা হল সেই ভালবাসা যা মানুষকে ঈশ্বরের সাহচর্যে চালিত করে।
তিনি যা এনে দিলেন, তা বিতরণ করলেন; এতে তাঁর কোন কমতি পড়েনি, তিনি বরং আপন বিশ্বাসীদের দরিদ্রতাকে ধনবান করে তুললেন আর তিনি নিজেও অফুরানো ধনসম্পদে পরিপূর্ণ হয়ে থাকলেন। এইভাবে যে ভালবাসা খ্রিষ্টকে স্বর্গ থেকে মর্তে উপনীত করেছিল, সেই একই ভালবাসা স্তেফানকে মর্ত থেকে স্বর্গে উন্নীত করল। যে ভালবাসা আগে রাজাতে দেখা দিয়েছিল, সেই একই ভালবাসা পরবর্তীতে সৈন্যে উজ্জ্বলভাবে প্রকাশ পেল।
সুতরাং, আপন নামে প্রদর্শিত সেই মুকুট পাবার যোগ্য হবার জন্য স্তেফানের অস্ত্র ছিল ভালবাসা, আর তা দ্বারাই তিনি সর্বত্রই জয়ী ছিলেন। ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা হাতিয়ার করে তিনি নির্যাতনকারী ইহুদীদের সামনে অবিচলিত হয়ে থাকলেন, প্রতিবেশীর প্রতি ভালবাসা হাতিয়ার করে তাদের হয়ে প্রার্থনা করলেন যারা তাঁকে পাথর ছুড়ে মারছিল। ভালবাসা হাতিয়ার করে তিনি ভ্রান্তপথগামীদের ভর্ৎসনা করতেন তারা যেন নিজেদের সংস্কার করে; ভালবাসা হাতিয়ার করে তিনি, যারা পাথর ছুড়ে মারছিল, তাদের জন্য প্রার্থনা করতেন তারা যেন দণ্ড থেকে রেহাই পায়।
ভালবাসার শক্তিতে উদ্দীপিত হয়ে তিনি তীব্র নিপীড়ক সৌলকে জয় করলেন, আর মর্তে যিনি তাঁর নির্যাতনকারী হয়েছিলেন, তিনি স্বর্গে সঙ্গী বলেই তাঁকে পাবার যোগ্য হয়ে উঠলেন। সেই পুণ্য ও অক্লান্তিকর ভালবাসা ভর্ৎসনা দ্বারা যাদের মন ফেরাতে পারেনি, প্রার্থনা দ্বারা তাদের জয় করতে আকাঙ্ক্ষা করত।
আর দেখ! এখন পল স্তেফানের সঙ্গে আনন্দ করেন, স্তেফানের সঙ্গে খ্রিষ্টের জ্যোতি ভোগ করেন, স্তেফানের সঙ্গে উল্লাস করেন, স্তেফানের সঙ্গে রাজত্ব করেন। কেননা পলের পাথরে নিপাতিত স্তেফান যেখানে আগে গেলেন, স্তেফানের প্রার্থনার সহায়তায় পল সেখানে তাঁর অনুসরণ করলেন।
আমার ভাইবোনেরা, কতই না সত্যময় সেই জীবন, যেখানে স্তেফানের হত্যার জন্য পল যে লজ্জায় দণ্ডিত এমন নয়, বরং পলের সাহচর্যে স্তেফান আনন্দিত, কেননা ভালবাসাই উভয়ের মধ্যে আনন্দে মেতে ওঠে। হ্যাঁ, স্তেফানের বেলায় ভালবাসা ইহুদীদের হিংস্রতা জয় করল, পলের বেলায় ভালবাসা পাপরাশি ঢেকে দিল, উভয়ের বেলায় ভালবাসা তাঁদের একসঙ্গেই স্বর্গরাজ্য লাভ করার যোগ্য করে তুলল।
সুতরাং ভালবাসা হল সমস্ত মঙ্গলদানের উৎস, সমস্ত মঙ্গলদানের উৎপত্তি; ভালবাসা হল উত্তম আশ্রয়দুর্গ, এমন পথ যা স্বর্গে চালিত করে। যে কেউ ভালবাসায় চলে, সে কখনও ভুল করতে পারবে না, ভয়ও পেতে পারবে না। ভালবাসা নিজেই দিশারী হয়ে চালিত করে, নিজেই রক্ষা করে, নিজেই পৌঁছিয়ে দেয়।
অতএব, ভাইবোনেরা, যেহেতু খ্রিষ্ট ভালবাসার সিঁড়ি দিয়ে গেলেন, যা বেয়ে সকল খ্রিষ্টান স্বর্গে গিয়ে উঠতে পারে, সেজন্য সেই নির্মল ভালবাসাকে শক্ত করে আঁকড়ে ধর, পরস্পরের কাছে সেই ভালবাসা দেখাও, আর সেই ভালবাসায় নিত্য উন্নতিশীল হও।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ১২৬
ধুয়ো:
তারা স্তেফানকে পাথর মারতে মারতেই তিনি বলে উঠলেন,
প্রভু যিশু, আমার আত্মা গ্রহণ কর।

প্রভু যখন সিয়োনের বন্দিদের ফিরিয়ে আনলেন,
আমরা তখন যেন স্বপ্নই দেখি!
তখন আমাদের মুখ হাসিতে মুখর,
আমাদের জিহ্বা আনন্দচিৎকারে পূর্ণ।   [ধুয়ো]

তখন বিজাতিদের মধ্যে একথা চলত,
‘তাদের জন্য কী মহা মহা কাজ না করেছেন প্রভু!’
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু,
আমরা আনন্দিত।   [ধুয়ো]

আমাদের বন্দিদের ফিরিয়ে আন, প্রভু,
তাদের ফিরিয়ে আন নেগেব প্রান্তরে খরস্রোতের মত।
যে অশ্রুর মধ্যে বীজ বোনে,
সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফসল সংগ্রহ করবে।   [ধুয়ো]

সে যায়, কাঁদতে কাঁদতে সে চলে যায়,
সঙ্গে নিয়ে যায় বপনের বীজ;
সে আসে, সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফিরে আসে,
সঙ্গে নিয়ে আসে ফসলের আঁটি।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু,
আমাদের উপরে বর্ষিত তোমার কৃপাধারার জন্য
আমরা তোমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি:
তুমিই তো তোমার পুত্রের জন্মগ্রহণ দ্বারা আমাদের ত্রাণ কর,
ও সাক্ষ্যমর সাধু স্তেফানের এ পর্বোদ্‌যাপনে আমাদের আনন্দিত কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৭ ডিসেম্বর - সাধু যোহন, প্রেরিতদূত ও সুসমাচার-রচয়িতা
এক স্বর্গদূতের প্রেরণায়
প্রেরিতদূত যোহন সুসমাচার রচনা করেন।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি প্রেরিতদূত সাধু যোহনের মধ্য দিয়ে
তোমার বাণীর রহস্যাবৃত সত্য আমাদের জন্য উদ্ঘাটন করেছ।
আশীর্বাদ কর: তিনি আমাদের কাছে যে বাণী উত্তমরূপে ধ্বনিত করেছেন,
আমরা যেন গভীর ধ্যানের ফলে তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যোহনের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১:১-৪)

যা আদি থেকে ছিল,
যা আমরা শুনেছি,
যা নিজেদের চোখেই দেখেছি,
যা আমরা চোখ নিবদ্ধ রেখেই দেখেছি
ও আমাদের হাত সেই জীবনবাণীর যা স্পর্শ করেছে,
আমরা তারই বিষয়ে কথা বলছি।
কেননা সেই জীবন সত্যিই আত্মপ্রকাশ করেছিল;
আমরা তা দেখেছি,
তার বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি
আর তোমাদের কাছে সেই অনন্ত জীবনেরই সংবাদ জানাচ্ছি
যা পিতামুখী ছিল ও আমাদের কাছে আত্মপ্রকাশ করেছে।
যা আমরা দেখেছি ও শুনেছি,
তোমাদের কাছে তারই সংবাদ জানাচ্ছি,
তোমরাও যেন আমাদের জীবনের সহভাগী হতে পার;
পিতার সঙ্গে ও তাঁর পুত্র যিশুখ্রিষ্টের সঙ্গেই
আমাদের এই জীবন-সহভাগিতা।
আর আমরা এই সমস্ত কথা লিখছি,
আমাদের আনন্দ যেন পূর্ণ হয়।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯৭
ধুয়ো:
প্রভুতে আনন্দ কর,
ধার্মিকজন সকল।

প্রভু রাজত্ব করেন, পৃথিবী মেতে উঠুক,
যত দ্বীপপুঞ্জ আনন্দ করুক।
মেঘ ও অন্ধকার তাঁর সর্বাঙ্গীণ আবরণ,
ধর্মময়তা ও ন্যায় তাঁর সিংহাসনের ভিত।   [ধুয়ো]

সমগ্র পৃথিবীর প্রভুর সামনে,
সেই প্রভুর সামনে পাহাড়পর্বত মোমের মত বিগলিত হয়;
স্বর্গ তাঁর ধর্মময়তা ঘোষণা করে,
সর্বজাতি তাঁর গৌরবের দর্শন পায়।   [ধুয়ো]

এক আলো অঙ্কুরিত হল ধার্মিকের জন্য,
আনন্দ সরলহৃদয়ের জন্য।
প্রভুতে আনন্দ কর, ধার্মিকজন সকল,
কর তাঁর অবিস্মরণীয় পবিত্রতার স্তুতিগান।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তুমি ঈশ্বর, তোমারই করি প্রশংসাগান,
তুমি প্রভু, তা-ই আমরা করি স্বীকার।
প্রেরিতদূতেরা গৌরবের কণ্ঠে
তোমারই স্তুতি করেন গান।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২০:২-৮)

সপ্তাহের প্রথম দিন, মাগদালার মারীয়া দৌড়ে গেলেন সিমোন পিতর আর সেই অন্য শিষ্যের কাছে যাঁকে যিশু ভালবাসতেন। তাঁদের তিনি বললেন, ‘তারা প্রভুকে কবর থেকে নিয়ে গেছে, আর আমরা জানি না, তাঁকে কোথায় রেখেছে।’
তাই পিতর ও অন্য শিষ্যটি বেরিয়ে পড়ে সমাধিগুহার দিকে রওনা হলেন। দু’জনে একসঙ্গে দৌড়তে লাগলেন, কিন্তু দ্বিতীয় শিষ্যটি পিতরের চেয়ে দ্রুত ছুটে তাঁকে ছাড়িয়ে গেলেন আর সমাধিগুহায় আগে পৌঁছলেন; নিচু হয়ে তিনি ভিতরের দিকে চেয়ে দেখলেন, ক্ষোম-কাপড়ের সেই ফালিগুলো সেখানে পড়ে রয়েছে, তবুও তিনি ভিতরে ঢুকলেন না।
তাঁর পিছু পিছু সিমোন পিতরও তখন সেখানে এসে উপস্থিত হলেন, এবং সমাধিগুহার মধ্যে প্রবেশ করে দেখলেন, ফালিগুলো পড়ে রয়েছে, আর যে রুমালটা যিশুর মাথার উপর ছিল, সেটা ফালিগুলির সঙ্গে নয়, আলাদা ভাবে অন্য এক স্থানে রয়েছে, গোটানো অবস্থায়।
তখন যে অন্য শিষ্যটি সমাধিগুহায় প্রথম এসেছিলেন, তিনিও ভিতরে গেলেন: তিনি দেখলেন ও বিশ্বাস করলেন।
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
আকুইলেয়ার বিশপ সাধু ক্রমাতিউসের উপদেশ

প্রভুর সকল শিষ্যের মধ্যে যোহন সবচেয়ে যুবক; বয়সে সবচেয়ে যুবক, কিন্তু বিশ্বাসে ইতিমধ্যেই প্রাচীন; আর সুসমাচার প্রধানদের মধ্যেই তাঁকে স্থান দেয়: প্রভু যতবার প্রেরিতদূতদের মধ্য থেকে একটি ছোট দল সঙ্গে নিতেন, ততবার তাঁদের মধ্যে যোহন উপস্থিত থাকতেন। মৃত যুবতীকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তিনি যখন সমাজগৃহের অধ্যক্ষের ঘরে প্রবেশ করেছিলেন, তখন পিতর ও যাকোবের সঙ্গে তিনি যোহনকেও বেছে নিয়েছিলেন: তিনি চেয়েছিলেন, এই তিনজন হবেন সেই পুনরুত্থানের সাক্ষী। তাঁর দ্বিবিধ উদ্দেশ্য ছিল: প্রথমত, সবকিছু দু’জন বা তিনজন সাক্ষীর কথায় নিষ্পন্ন হোক (দ্বিঃবিঃ ১৯:১৫; মথি ১৮:১৬), ঐশবিধানের এই নির্দেশ যেন পালিত হয়; দ্বিতীয়ত, পরমত্রিত্বের বিশ্বাস ও অনুগ্রহ গুণে ছাড়া কেউই পাপ-মৃত্যু থেকে পুনরুত্থান করতে পারে না। ত্রিত্ব-মর্মসত্য জানাবার জন্যই তো যুবতীর পুনরুত্থানের সময়ে প্রভু তিন সাক্ষীর উপস্থিতি চেয়েছিলেন।
যখন তিনি সেই পর্বতে শিষ্যদের কাছে আপন গৌরব প্রকাশ করতে চাইলেন, তখন পিতর ও যাকোবের সঙ্গে তিনি যোহনকেও সঙ্গে নিলেন। তিনি এ তিনজনকে সঙ্গে করে একটা উঁচু পর্বতের উপরে তাঁদের নিয়ে গেলেন; এবং তাঁদের সাক্ষাতে রূপান্তরিত হলেন; আর হঠাৎ মোশি ও এলিয় তাঁদের দেখা দিলেন। আর স্বর্গ থেকে পিতার কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হল, ইনি আমার প্রিয়তম পুত্র, এঁতে আমি প্রসন্ন। তাঁর কথা শোন (মথি ১৭:১-৩, ৫)।
এখানেও রহস্যটি লক্ষ কর, কেমন করে ঈশ্বরের পুত্র স্বর্গ, মর্ত ও পাতালের ঈশ্বর বলে আত্মপ্রকাশ করেন। স্বর্গ থেকে পিতাই পুত্রের বিষয়ে সাক্ষ্যদান করেন; মর্ত থেকে তিন শিষ্যকে বেছে নেওয়া হয়; মৃত্যুর অভিজ্ঞতা করেছেন বিধায় পাতালের সাক্ষীরূপে মোশিকেই আহ্বান করা হয়; আর যেন খ্রিষ্টের বিষয়ে সাক্ষ্যদান করা থেকে কোন স্থান অনুপস্থিত না থাকে, সেজন্য যাঁর মৃত্যুর অভিজ্ঞতা হয়নি, পরমদেশ থেকে সেই এলিয়কেই আহ্বান করা হল, যাতে করে ঈশ্বরের এমন সাক্ষী থাকতে পারতেন যাঁরা সবদিক ও সব স্থান থেকেই আগত: স্বর্গ থেকে, মর্ত থেকে, পরমদেশ থেকে ও পাতাল থেকে। এখানেও, প্রেরিতদূতদের প্রধানদের মধ্যে যোহন উপস্থিত।
যন্ত্রণাভোগের সময়, যখন বিশ্বপরিত্রাণের জন্য ঈশ্বরের পুত্র ক্রুশে ঝুলছিলেন, প্রভু তখন যোহনের হাতে ছাড়া অন্য কারও হাতে আপন মাতাকে সঁপে দেননি; তিনি যোহনকে বলেছিলেন, ওই দেখ, তোমার মা! আর মাকে বলেছিলেন, ওই দেখ, তোমার ছেলে (যোহন ১৯:২৭, ২৬)। তিনি আপন মাতাকে ত্যাগ করতে যাচ্ছিলেন এমন নয়,—তিনি তো দিব্য প্রসন্নতার সঙ্গে সকলকে পালন করেন, তিনি তো সকলের রক্ষাকর্তা ও প্রতিপালক—, বরং মায়ের প্রতি আপন ভালবাসা দেখানোর জন্যই তিনি তাঁকে যোহনের হাতে সঁপে দিলেন। প্রভু মারীয়ার প্রতি আপন সন্তানসুলভ ভক্তি দেখাতে চাইলেন, কেননা তিনি নিজেই সমস্ত ভালবাসার উৎস। সুতরাং, এখানেও প্রেরিতদূতদের মধ্যে যোহনই মনোনীত। তাঁর বিশেষ সদ্‌গুণাবলির জন্যই তিনি ছিলেন খ্রিষ্টের বিশেষ ভালবাসার পাত্র।
যন্ত্রণাভোগের পর, প্রভুর পুনরুত্থানের সংবাদে, পিতর ও যোহন সমাধিগুহা দেখতে ছুটে গেলেন। যদিও পিতরের প্রাধান্য বজায় রাখার জন্য তিনি সমাধিগুহার মধ্যে ঢোকেননি, যোহনই সেখানে প্রথম পৌঁছলেন। খ্রিষ্টপ্রেম তাঁকে যেন ঠেলাই দিচ্ছিল বিধায় তিনি পিতরের আগে আগে ছুটে পৌঁছলেন, কিন্তু বিনম্রতার খাতিরে থামলেন: ভালবাসার উদ্দীপনায় আগে আগে ছুটলেন, কিন্তু প্রেরিতদের প্রধানের সম্মানের খাতিরে ঢুকলেন না: তাতে তিনি পিতরের প্রতি বিনম্রতা ও খ্রিষ্টের প্রতি বিশ্বাস দু’টোই বজায় রাখলেন। সাধু যোহন একটি সুসমাচারও লিখলেন, যার বিশেষ গুণ ও স্বীয় বৈশিষ্ট্য সকলের কাছে জানা। যোহন-রচিত সুসমাচার ভ্রান্তমতের বিপক্ষে সত্য রক্ষার জন্যই বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়, কেননা স্পষ্টই ঘোষণা করে খ্রিষ্টের ঈশ্বরত্ব ও প্রমাণ করে তিনি ঈশ্বর।
আজ তেমন মহা প্রেরিতদূতের পর্ব: এসো, আমরা যথোচিত সম্মান দেখিয়ে এ পর্বটি উদ্‌যাপন করি, তাঁর প্রার্থনার সহায়তায় আমরা যেন সেই শাশ্বত গৌরবে পৌঁছতে পারি, ঈশ্বর যে গৌরব আপন পুণ্যজনদের জন্য প্রস্তুত করেন।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
বাণী হলেন মাংস ও আমাদের মাঝে তাঁবু খাটালেন।
আমরা সকলে তাঁর ঐশ্বর্য থেকে লাভবান হয়েছি।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর:
প্রেরিতদূত সাধু যোহন যাঁর কথা প্রচার করেছিলেন,
আমরা যে মহারহস্যে যোগদান করেছি, তার মধ্য দিয়ে
যেন সেই মাংস-হওয়া-বাণী খ্রিষ্ট আমাদের মাঝে বাস করেন চিরকাল।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৮ ডিসেম্বর - নিরপরাধী পবিত্র শিশুগণ
হেরোদ রাজার হুকুমে
শিশুদের মেরে ফেলা হচ্ছে।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর,
আজ এই পর্বদিনেই সেই নিরপরাধী শহীদেরা কথায় নয়,
মরণেই তোমার গৌরব ঘোষণা করেছিলেন।
আশীর্বাদ কর: তোমাতে যে বিশ্বাস আমরা ওষ্ঠে উচ্চারণ করি,
তা যেন জীবনাচরণেও ব্যক্ত করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যোহনের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১:৫–২:২)

বৎস আমার, আমরা যে সংবাদ তাঁর কাছ থেকে শুনেছি
ও তোমাদের কাছে জানাচ্ছি, তা এ:
ঈশ্বর আলো, তাঁর মধ্যে কোন অন্ধকার নেই।
আমরা যদি বলি তাঁর সঙ্গে আমাদের সহভাগিতা আছে,
অথচ অন্ধকারে চলি, তাহলে মিথ্যা বলি, আমরা সত্যের সাধক নই।
কিন্তু আমরা যদি আলোতে চলি—আলোতেই আছেন তিনি!—
তাহলে পরস্পরের সঙ্গে আমাদের সহভাগিতা আছে
আর তাঁর পুত্র যিশুর রক্ত সমস্ত পাপ থেকে আমাদের শোধন করে।
আমরা যদি বলি আমাদের পাপ নেই,
তাহলে আমরা নিজেদেরই প্রতারণা করি এবং আমাদের অন্তরে সত্য নেই।
আমরা কিন্তু যদি আমাদের পাপ স্বীকার করি—বিশ্বস্ত ও ধর্মময় তিনি!—
তিনি আমাদের পাপমোচন সাধন করবেন
ও সমস্ত অধর্ম থেকে আমাদের শোধন করবেন।
আমরা যদি বলি পাপ করিনি,
তাহলে তাঁকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করি,
এবং তাঁর বাণী আমাদের অন্তরে নেই।
বৎস আমার, এ সমস্ত তোমাদের লিখছি, তোমরা যেন পাপ না কর।
কিন্তু যদি কেউ পাপ করে,
পিতার কাছে আমাদের পক্ষে সহায়ক একজন আছেন:
সেই যিশুখ্রিষ্ট, ধর্মাত্মা যিনি।
তিনিই আমাদের পাপের জন্য প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ—আমাদের পাপের শুধু নয়,
সমস্ত বিশ্বজগতেরও পাপের জন্য!
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১২৪
ধুয়ো:
নিজের প্রাণ যে নিবেদন করে,
সে প্রভুতেই পুনরুত্থান করবে।

বিকল্প: তোমার কাছে চিৎকার করে, প্রভু,
নিরপরাধীর কষ্ট।
যখন মানুষ আমাদের বিরুদ্ধে উঠেছিল,
প্রভু যদি আমাদের পক্ষে না থাকতেন,
তখন ওরা ওদের উত্তপ্ত ক্রোধে
আমাদের জীয়ন্তই গ্রাস করত;   [ধুয়ো]

তখন জলরাশি আমাদের বয়ে নিয়ে যেত,
খরস্রোত আমাদের উপর দিয়ে ছুটে চলে যেত,
আমাদের উপর দিয়ে
ছুটে চলে যেত উন্মত্ত জল।   [ধুয়ো]

ব্যাধের ফাঁদ থেকে পাখির মতই
পালিয়েছে আমাদের প্রাণ।
আমাদের সহায়তা সেই প্রভুর নামে,
আকাশ ও পৃথিবীর নির্মাতা যিনি।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তুমি ঈশ্বর, তোমারই করি প্রশংসাগান,
তুমি প্রভু, তা-ই আমরা করি স্বীকার।
সাদা কাপড় পরা সেই সাক্ষ্যমর সেনাদল
তোমারই স্তুতি করেন গান।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:১৩-১৮)

তিন পণ্ডিত চলে গেলে পর প্রভুর দূত হঠাৎ স্বপ্নে যোসেফকে দেখা দিয়ে বললেন, ‘ওঠ, শিশুটিকে ও তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে মিশরে পালিয়ে যাও; আর আমি তোমাকে না বলা পর্যন্ত তুমি সেখানে থাক; কেননা হেরোদ শিশুটিকে হত্যা করার জন্য খোঁজ করতে যাচ্ছে।’
তাই যোসেফ উঠে সেই রাতে শিশুটিকে ও তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে মিশরে চলে গেলেন, এবং হেরোদের মৃত্যু পর্যন্ত সেখানে থাকলেন, যেন নবীর মধ্য দিয়ে উচ্চারিত প্রভুর এই বচন পূর্ণ হয়: আমি মিশর থেকে আমার পুত্রকে ডেকে আনলাম।
পণ্ডিতেরা তাঁকে প্রবঞ্চনা করেছেন, তা বুঝতে পেরে হেরোদ অধিক ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলেন, এবং সেই পণ্ডিতদের কাছ থেকে যে সময়ের কথা জেনে নিয়েছিলেন, সেই অনুসারে দু’বছর বা তার কম বয়সের যত ছেলে বেথলেহেমে ও তার সমস্ত অঞ্চলে ছিল, তাদের সকলকে হত্যা করালেন।
তখন নবী যেরেমিয়ার মধ্য দিয়ে উচ্চারিত এই বচন পূর্ণ হল:
রামায় শোনা গেল এক সুর, বিলাপ ও তিক্ত কান্নার সুর:
রাখেল নিজ ছেলেদের জন্য কাঁদছেন;
কোন সান্ত্বনা মানছেন না, কারণ তারা আর নেই!
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
পুরোহিত মাননীয় সাধু বীডের উপদেশ

প্রিয়তম ভ্রাতৃগণ, খ্রিষ্টের সাক্ষ্যমর সেই নিরপরাধী শিশুদের মূল্যবান মৃত্যু সম্বন্ধে সুসমাচারের কথা আমাদের কাছে পবিত্র, এবং আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সকল সাক্ষ্যমরদের গৌরবময় মৃত্যুর কথা। নিরপরাধী শিশুদের শিশুকালেই হত্যা করা হয়েছে, একথা আমাদের জন্য অর্থপূর্ণ: সাক্ষ্যমরণের গৌরবে বিনম্রতারই পথ দিয়ে পৌঁছনো যায়, এবং সে-ই মাত্র খ্রিষ্টের জন্য প্রাণ দিতে পারে, যে মনপরিবর্তন ক’রে শিশুর মত হয়েছে।
এজন্যই, হে প্রিয় ভ্রাতৃগণ, আজকের দিনের পর্বোৎসবে সাক্ষ্যমরদের প্রথমফসলকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের সেই অন্তহীন উৎসবের কথা মনোযোগের সঙ্গে ধ্যান করতে হবে, যে উৎসব সকল সাক্ষ্যমরদের জন্য স্বর্গে উদ্‌যাপিত হচ্ছে; যথাসাধ্য তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, এসো, আমরাও তাঁদের আনন্দের সহভাগী হতে চেষ্টা করি। প্রেরিতদূত আমাদের নিশ্চিত করেন যে, আমরা যেমন এখন তাঁদের কষ্টভোগের সহভাগী, তেমনি তাঁদের সান্ত্বনারও সহভাগী হব।
এসো, তাদের মৃত্যুর জন্য দুঃখ নয়, আনন্দই করি, কেননা তারা যোগ্য বিজয়মালা লাভ করেছে। তাদের একজনের যখন মৃত্যু হল, তখন রাখেল, অর্থাৎ মাতা মণ্ডলী শোকপ্রকাশে ও অশ্রুজলে তার জন্য দুঃখ করল, কিন্তু সেই স্বর্গীয় যেরুসালেম, যা আমাদের সকলের জননী, সঙ্গে সঙ্গে আনন্দপ্রকাশেই পৃথিবীর এ প্রবাসীদের গ্রহণ করলেন ও তাদের প্রভুর গৌরবে তাদের অনুপ্রবেশ করালেন, যাতে তাঁরই হাত থেকে তারা বিজয়মালা গ্রহণ করে। এজন্য যোহন বলেন, তারা শুভ্র পোশাকে পরিবৃত হয়ে ও খেজুরপাতা হাতে করে সিংহাসনের সাক্ষাতে ও মেষশাবকের সাক্ষাতে দাঁড়িয়ে ছিল (প্রকাশ ৭:৯)। যারা আগে কষ্টে নিষ্পেষিত হয়ে জাগতিক বিচারকদের সামনে শায়িত ছিল, তারা এখন নিজেদের মালায় ভূষিত হয়ে ঈশ্বরের সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তারা মেষশাবকের সামনে রয়েছে, আর যেমন এজগতে নিপীড়নও প্রভুভক্তি থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারল না, তেমনি স্বর্গে মেষশাবকের গৌরবদর্শন থেকে তারা কোন মতেই বঞ্চিত হতে পারবে না।
শুভ্র পোশাকে তারা উজ্জ্বল, হাতে ক’রে তারা তাদের কাজকর্মের মজুরি বহন করে, ও পুনরুত্থান দ্বারা গৌরবমণ্ডিত আপন দেহকেও ফিরে পায়, যে দেহ প্রভুভক্তির খাতিরে তারা আগুনে পুড়তে দিল, হিংস্র পশুদের কবলে দীর্ণ হতে দিল, কশাঘাতে ক্ষতবিক্ষত হতে দিল, গভীর গর্তে নিক্ষিপ্ত হতে দিল, লৌহ-নখ দ্বারা জীর্ণ হতে দিল, যত পীড়নে নিহত হতে দিল।
তারা উদাত্ত কণ্ঠে চিৎকার করে বলছিল: সিংহাসনে সমাসীন আমাদের ঈশ্বর এবং মেষশাবকেরই তো পরিত্রাণ (প্রকাশ ৭:১০)। তারা উদাত্ত কণ্ঠে ঈশ্বরের পরিত্রাণের গুণকীর্তন করে, ও গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করে, তারা নিজেদের বলে নয়, ঐশসহায়তায়ই শত্রুদের অত্যাচার জয় করেছে। এরা তারাই, যারা মহাক্লেশ পার হয়ে এসেছে ও মেষশাবকের রক্তে নিজেদের পোশাক ধৌত করে শুভ্র করে তুলেছে (প্রকাশ ৭:১৪)। সাক্ষ্যমরেরা তখনই নিজেদের পোশাক মেষশাবকের রক্তে ধুয়ে নিল, যখন নির্বোধের চোখে মনে হচ্ছিল, তাদের দেহের অঙ্গগুলি ক্ষতের রক্তে মাখা, আসলে কিন্তু খ্রিষ্টের খাতিরে রক্তদান করে তারা তখন সেগুলোকে যত কালিমা থেকে বিশুদ্ধ করছিল ও অমরত্বের দিব্য আলোর যোগ্য করে তুলছিল, কেননা ইতিমধ্যে মেষশাবকের রক্তেই সেগুলোকে ধুয়ে নিয়েছিল। এজন্য তারা ঈশ্বরের সিংহাসনের সাক্ষাতে আছে আর দিনরাত তাঁর পবিত্রধামে তাঁর সেবা করে (প্রকাশ ৭:১৫)।
ঈশ্বরের সামনে থাকা ও তাঁর অবিরত প্রশংসা করা ক্লান্তিকর নয়, বরং আনন্দদায়ী ও কাম্য সেবা: উপরোল্লিখিত ‘দিনরাত’ শব্দ সময়ের পরম্পরাগত ক্ষণের কথা নির্দেশ করে না, বরং তার প্রতীকমূলক অর্থ হল চিরকাল। রাত আর থাকবে না (প্রকাশ ২১:১৫) খ্রিষ্টের প্রাঙ্গণে, বরং একটিমাত্র দিন, অন্যত্র যাপিত সহস্র দিনের চেয়েও শ্রেয় একটি দিন, এমন দিন যে দিনে রাখেল আপন সন্তানদের জন্য আর কাঁদবেন না, কেননা ঈশ্বর তাদের মুখ থেকে মুছে দেবেন সমস্ত অশ্রুজল (প্রকাশ ৭:১৭); ও তাদের তাঁবুতে তাঁবুতে আনন্দচিৎকার ও জয়ধ্বনি (সাম ১১৮:১৫) তিনিই ধ্বনিত করবেন, যিনি পবিত্র আত্মার ঐক্যে পিতার সঙ্গে বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে যুগে যুগে বিরাজমান। আমেন।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ১২৬
ধুয়ো:
সকল মানুষের মধ্যে
এরাই ঈশ্বর ও মেষশাবকের উদ্দেশে প্রথমফসল;
মেষশাবক যেইখানে যান,
সেখানে তারা তাঁর অনুসরণ করতে থাকে।

প্রভু যখন সিয়োনের বন্দিদের ফিরিয়ে আনলেন,
আমরা তখন যেন স্বপ্নই দেখি!
তখন আমাদের মুখ হাসিতে মুখর,
আমাদের জিহ্বা আনন্দচিৎকারে পূর্ণ।

তখন বিজাতিদের মধ্যে একথা চলত,
‘তাদের জন্য কী মহা মহা কাজ না করেছেন প্রভু!’
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু,
আমরা আনন্দিত।

আমাদের বন্দিদের ফিরিয়ে আন, প্রভু,
তাদের ফিরিয়ে আন নেগেব প্রান্তরে খরস্রোতের মত।
যে অশ্রুর মধ্যে বীজ বোনে,
সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফসল সংগ্রহ করবে।

সে যায়, কাঁদতে কাঁদতে সে চলে যায়,
সঙ্গে নিয়ে যায় বপনের বীজ;
সে আসে, সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফিরে আসে,
সঙ্গে নিয়ে আসে ফসলের আঁটি।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু,
যারা কথা দিয়ে তোমার পুত্রের বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে অক্ষম ছিল,
তাঁর জন্মের গুণে তারা যখন স্বর্গীয় মালায় ভূষিত,
তখন আশীর্বাদ কর:
আমরা যারা সেই শিশুদের পর্বদিন পালন ক’রে
তোমার পবিত্র অন্নদান গ্রহণ করেছি,
তোমার এই ভক্তদের উপরে পরিত্রাণের আশীর্বাদ শত ধারায় বর্ষণ কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]