আগমনকাল
• আগমনকালের মুখ্য বিষয়গুলোর মধ্য প্রভু যিশুর পুনরাগমন একটি।• ছবিতে বিচারকর্তা প্রভু প্রদর্শিত। • তিনি মাতা মারীয়া ও বাপ্তিস্মদাতা যোহনকে আশীর্বাদ করছেন; ডানে ও বামে দু'জন প্রেরীতদূতও উপস্থিত। • যিশুর সিংহাসন থেকে দু'টো লিপিফলক নির্গত; সেগুলোতে লেখা রয়েছে মেষ ও ছাগের বিচারের রায় (“এসো, আমার পিতার আশীর্বাদের পাত্র যে তোমরা” ইত্যাদি বাণী এবং “আমার কাছ থেকে দূর হও, অভিশাপের পাত্র যে তোমরা” ইত্যাদি বাণী)। • প্রভুর বিচারাসনের নিচে মানবজাতির আদি পিতামাতা প্রভুকে প্রণাম করেন। • মহাদূত মিখায়েলও উপস্থিত। তাঁর হাতে রয়েছে বিচারের দাঁড়িপাল্লা; ও তাঁর দু' পাশে দু’জন স্বর্গদূত দু’টো পুস্তক তুলে ধরেন যেখানে মানবের কর্ম লিখিত (ঐশপ্রকাশ (বা প্রত্যাদেশ) ২০:১১-১৩)। • দূতগণ তুরি বাজাচ্ছেন,তাতে তাঁরা প্রভুর পুনরাগমন ও শেষ বিচারের কথা ঘোষণা করছেন (১ থে ৪:১৬-১৭)। |
রবিবার: ১ | ২ | ৩ | ৪
১ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
- আমেন।
আমাদের প্রভু যিশু খ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
- আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।
এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
- তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
- আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
- আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
- প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
- খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
- প্রভু, দয়া কর।
২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।
৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তোমার ভক্তদের এমন সদিচ্ছা মঞ্জুর কর
তারা যেন শুভকর্মের মালা দিয়ে
তোমার আসন্ন খ্রিষ্টকে অভ্যর্থনা জানাবার জন্য দৌড়িয়ে চ’লে
একদিন তাঁর ডান পাশে একত্রিত হয়ে স্বর্গীয় রাজ্য উত্তরাধিকার রূপে পেতে পারে।
তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশু খ্রিষ্টের দ্বারা, যিনি পবিত্র আত্মার ঐক্যে তোমার সঙ্গে
ঈশ্বররূপে জীবিত আছেন ও রাজত্ব করেন যুগে যুগান্তরে।
সকলে: আমেন।
৪। প্রথম পাঠ
নবী ইশাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৬৩:১৬খ-১৭,১৯খ; ৬৪:২-৭)
তুমিই, প্রভু, আমাদের পিতা,
অনাদিকাল থেকে আমাদের মুক্তিসাধকই তোমার নাম!
প্রভু, আমরা তোমার সমস্ত পথ ছেড়ে ভ্রান্ত হব,
তুমি কেন এমনটি হতে দিচ্ছ?
আমাদের হৃদয় তোমাকে আর ভয় করবে না,
তুমি কেন এমন কঠিন করছ আমাদের হৃদয়?
তোমার আপন দাসদের খাতিরে,
তোমার আপন উত্তরাধিকার সেই গোষ্ঠীগুলোর খাতিরে ফিরে এসো!
আহা, তুমি যদি আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ করে নেমে আসতে!
তবে তোমার সম্মুখে পর্বতমালা কেঁপে উঠত।
কেননা তুমি এমন ভয়ঙ্কর কীর্তি সাধন কর,
যা প্রত্যাশার অতীত!
হ্যাঁ, পুরাকাল থেকে কেউ কখনও এমনটি শোনেনি,
কারও কান কখনও এমনটি শোনেনি,
কারও চোখও কখনও এমনটি দেখেনি যে,
তুমি ছাড়া আর কোন ঈশ্বর আছেন,
যিনি আপন শরণাগতদের পক্ষে তেমন মহাকর্ম সাধন করেন।
যারা ধর্মময়তা পালনে আনন্দিত,
যারা তোমার পথে চলে তোমাকে স্মরণ করে,
তুমি গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করে থাক।
দেখ, এখন তুমি ক্রুদ্ধ, কারণ আমরা পথভ্রষ্ট হয়েছি;
সেকালের পথ চললেই আমরা পরিত্রাণ পাব!
আমরা সকলে অশুচি বস্তুর মত হয়েছি,
আমাদের ধর্মময়তার যত কর্ম মলিন বস্ত্রের মত;
আমরা সকলে পাতার মত জীর্ণ হয়েছি,
আমাদের যত শঠতা আমাদের উড়িয়ে নিয়ে গেছে বাতাসের মত।
কেউই তোমার নাম আর করে না,
তোমাকে আঁকড়ে ধরার জন্য কেউই সচেষ্ট নয়,
কারণ তুমি আমাদের কাছ থেকে তোমার শ্রীমুখ লুকিয়েছ,
ও আমাদের শঠতার হাতে আমাদের নরম হতে দিয়েছ।
কিন্তু তুমি, হে প্রভু, তুমি তো আমাদের পিতা;
আমরা মাটি, তুমি আমাদের কুমোর,
আমরা সকলে তোমার হাতের রচনা।
✦ ঈশ্বরের বাণী।
৫। সামসঙ্গীত ৭৯
ধুয়ো: হে পরমেশ্বর, আমাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত কর;
শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তোল, তবেই আমরা পাব পরিত্রাণ।
হে ইস্রায়েলের পালক, কান পেতে শোন;
খেরুব বাহনে সমাসীন হয়ে উদ্ভাসিত হও।
জাগাও তোমার পরাক্রম,
আমাদের ত্রাণ করতে এসো। [ধুয়ো]
হে সেনাবাহিনীর পরমেশ্বর, ফিরে এসো,
স্বর্গ থেকে চেয়ে দেখ, এ আঙুরলতাকে দেখতে এসো।
রক্ষা কর সেই চারাগাছ যা তোমার ডান হাত পুঁতেছে একদিন,
সেই পুত্রসন্তানকে যাকে নিজের জন্যই করেছ শক্তিশালী। [ধুয়ো]
৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১:৩-৯)
প্রিয়জনেরা, আমাদের পিতা ঈশ্বর ও প্রভু যিশু খ্রিষ্ট থেকে অনুগ্রহ ও শান্তি তোমাদের উপর বর্ষিত হোক।
ঈশ্বরের যে অনুগ্রহ খ্রিষ্ট যিশুতে তোমাদের দেওয়া হয়েছে, তার জন্য আমি তোমাদের বিষয়ে নিয়তই ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, কারণ তাঁরই মধ্যে তোমরা সব দিক দিয়ে—বচনে জ্ঞানে সব দিক দিয়েই ধনবান হয়ে উঠেছ; তাই খ্রিষ্টের সাক্ষ্য তোমাদের মধ্যে এমন দৃঢ়তার সঙ্গে স্থান পেয়েছে যে, আমাদের প্রভু যিশু খ্রিষ্টের আত্মপ্রকাশের প্রতীক্ষা করতে করতে তোমাদের কোন অনুগ্রহদানের অভাব পড়ে না; তিনিই তোমাদের শেষ পর্যন্ত সুস্থির করে রাখবেন, যেন তোমরা আমাদের প্রভু যিশু খ্রিষ্টের দিনে অনিন্দ্য হতে পার। যিনি তাঁর আপন পুত্র যিশু খ্রিষ্ট আমাদের সেই প্রভুর সঙ্গে জীবন-সহভাগিতার উদ্দেশে তোমাদের আহ্বান করেছেন, সেই ঈশ্বর তো বিশ্বস্ত।
✦ ঈশ্বরের বাণী।
৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
❖ আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা;
আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
❖ আল্লেলুইয়া।
৮। সুসমাচার
✚ মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৩:৩৩-৩৭)
একদিন যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন, ‘সাবধান থাক, জেগে থাক, কেননা সে সময় কবে হবে, তা জান না। এমনটি হবে, বিদেশ যাত্রা করতে যাচ্ছেন ঠিক যেন এমন লোকের মত, যিনি নিজের দাসদের হাতে সবকিছুর ভার দিয়ে গেছেন, প্রত্যেককে তার নিজ নিজ কাজ দিয়েছেন, ও দারোয়ানকে জেগে থাকতে আদেশ করেছেন।
তাই তোমরা জেগে থাক, কেননা গৃহকর্তা যে কবে এসে পড়বেন—সন্ধ্যাকালে বা রাতদুপুরে বা মোরগ ডাকবার সময়ে কিংবা সকালবেলায়—তোমরা তা জান না; তিনি হঠাৎ এসে যেন তোমাদের ঘুমন্ত অবস্থায় না পান।
আর আমি তোমাদের যা বলছি, তা সকলকেই বলছি: জেগে থাক।’
✦ প্রভুর বাণী।
৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ
আমাদের পরমেশ্বর আসছেন, নীরব থাকবেন না (সাম ৫০:৩)। ঈশ্বরপুত্র আমাদের ঈশ্বর সেই খ্রিষ্ট প্রভু তাঁর প্রথম আগমনে আবৃত আকারেই নিজেকে উপস্থিত করলেন, কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় আগমন প্রকাশ্যই হবে। তিনি যখন আবৃত আকারে এলেন, তখন শুধু তাঁর সেবকদের দ্বারাই তাঁকে চেনা হল; তিনি যখন প্রকাশমান আকারে আসবেন, তখন ধার্মিক দুর্জন সকলেই তাঁকে দেখতে পাবে।
তিনি যখন তাঁর মানবতার আবরণে এলেন, তখন বিচারিত হবার জন্য এলেন; তিনি যখন প্রকাশ্যে আসবেন, তখন বিচার সম্পাদন করার জন্যই আসবেন। তিনি যখন বিচারিত হলেন, তখন নীরব থাকলেন, আর তাঁর এ নীরবতা সম্বন্ধে নবী বলেছিলেন, তিনি ছিলেন জবাইখানায় চালিত মেষশাবকেরই মত, লোমকাটিয়ের সামনে নীরব মেষেরই মত—তবু খুললেন না মুখ (ইশা ৫৩:৭)।
কিন্তু আমাদের পরমেশ্বর আসছেন, নীরব থাকবেন না। বিচারিত হওয়ার সময়ে তিনি নীরব থাকলেন, কিন্তু যখন তিনিই বিচার করবেন, তখন সেইভাবে নীরব থাকবেন না। যদি কেউ থাকে যে তাঁকে শোনে, তবে এখনও তিনি নীরব নন; কিন্তু যখন তারাও তাঁর কণ্ঠ চিনতে পারবে যারা এখন তাঁকে অবজ্ঞা করে, তখন, যেমন লেখা আছে, তিনি নীরব থাকবেন না। বর্তমানে ঈশ্বরের আজ্ঞাগুলি ঘোষণা করার সময়ে কেউ কেউ তা নিয়ে হাসে। ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত জিনিস এখনও দৃষ্টিগোচর নয়, তাঁর ভয়প্রদর্শনের বাণীগুলির বাস্তবায়নও এখনও স্পর্শযোগ্য নয় বিধায় মানুষ তাঁর আজ্ঞাগুলি তাচ্ছিল্যের বস্তু মনে করে। যা এ সংসারের মঙ্গল বলে, এখনকার মত দুর্জনেরাও তা ভোগ করে; আর যা অমঙ্গল বলে, ধার্মিকেরাও তা ভোগ করে।
যারা বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্বাসী ও ভাবী বাস্তবতায় অবিশ্বাসী, তারা লক্ষ করে এ সংসারের ভাল-মন্দ ধার্মিক-দুর্জন নির্বিশেষে সকলেরই ভাগ্য। ধন-ঐশ্বর্যই তাদের কামনার বস্তু হলে, তারা দেখে, খারাপ লোক ভাল লোক সকলেই তা পাচ্ছে; এ সংসারের দরিদ্রতা ও হীনতাই তাদের ঘৃণার বস্তু হলে, তারা দেখে, ভাল লোক শুধু নয়, খারাপ লোকও তাতে ভুগছে; ফলে তারা মনে মনে বলে, ঈশ্বর মানবীয় ব্যাপারের দিকে তাকান না, তা নিয়ন্ত্রণও করেন না; তিনি বরং ভাগ্যের হাতেই এ সংসারের গভীর তলদেশে আমাদের সম্পূর্ণ রূপে ছেড়ে দিলেন ও আমাদের বিষয়ে তাঁর চিন্তাটুকুও নেই; আর তাঁর বিচারের কোন লক্ষণ না পাওয়ায় তারা তাঁর আজ্ঞাগুলি অবজ্ঞা করে চলে।
তবু এখনও এক একজনের চিন্তা করা দরকার যে, ঈশ্বর যখন ইচ্ছা করেন, তখন তিনি বিলম্ব না করে দেখেন ও শাস্তি দেন, আবার যখন ইচ্ছা করেন, তখন ধৈর্য রাখেন। কোন কারণে? কারণ বর্তমানকালে তিনি যদি আপন বিচার কখনও প্রকাশ না করতেন, তাহলে লোকে ভাবত, ঈশ্বর নেই; আর তিনি যদি আপন বিচার সবসময়ই প্রকাশিত করতেন, তাহলে শেষ বিচারের জন্য আর কিছুই বাকি থাকত না। অনেক কিছু স্থগিত রয়েছে দণ্ডের জন্য, অন্য কিছুর জন্য সঙ্গে সঙ্গেই শাস্তি উপস্থিত, যাদের কাছে দণ্ড-বিরতি মঞ্জুর করা হয়, তারা যেন ভয় পেয়ে মনপরিবর্তন করে। কেননা ঈশ্বর দণ্ড দিতে প্রীত নন, তিনি বরং ত্রাণ করতে ইচ্ছা করেন, আর তিনি এজন্যই দুর্জনদের প্রতি ধৈর্যশীল, যাতে দুর্জন থেকে তাদের ধার্মিক করে তুলতে পারেন।
প্রেরিতদূত বলেন, ঈশ্বরের ক্রোধ স্বর্গ থেকে যত অভক্তির উপরে প্রকাশিত হচ্ছে (রো ১:১৮), এবং ঈশ্বর প্রত্যেক মানুষকে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিফল দেবেন (রো ২:৬)। কিন্তু যে মানুষ ঈশ্বরের কথা চিন্তা করে না, তাকে ভর্ৎসনা ক’রে তিনি সতর্কবাণী দিয়ে বলেন, তুমি কি তাঁর মহা মঙ্গলময়তা, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা তুচ্ছ মনে কর? (রো ২:৪)। যেহেতু তিনি তোমার প্রতি মঙ্গলময়, সহিষ্ণু ও ধৈর্যশীল, যেহেতু তিনি তোমার অপেক্ষায় থাকেন ও জগৎ থেকে তোমাকে উচ্ছেদ করেন না, সেজন্যই তুমি কি তাঁকে অবজ্ঞা কর, তাঁর ঐশ বিচার শূন্যই মনে কর আর অস্বীকার কর যে ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা তোমাকে মনপরিবর্তনের দিকেই নিয়ে যেতে চায়? কিন্তু তোমার জেদ ও মনপরিবর্তন-বিহীন হৃদয়কে প্রশ্রয় দিয়ে তুমি ক্রোধের দিনের জন্য, ঈশ্বরের ন্যায়বিচার-প্রকাশেরই সেই দিনের জন্য নিজের উপরে ক্রোধ জমিয়ে তুলছ: তিনি তো প্রত্যেক মানুষকে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিফল দেবেন (রো ২:৪-৬)।
১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।
১১। অর্থদান
১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)
অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।
অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশু খ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।
অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।
হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)
১৩। প্রভুকে গ্রহণ
প্রবীণ না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।
১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৮৫
ধুয়ো: প্রভু দান করবেন মঙ্গল,
আর আমাদের ভূমি দান করবে তার আপন ফসল।
হে আমাদের ত্রাণেশ্বর, আমাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত কর,
আমাদের উপর তোমার এ ক্ষোভ নিবৃত্ত কর।
তুমি কি আমাদের প্রতি ক্রুদ্ধ থাকবে চিরকাল ধরে?
তুমি কি তোমার ক্রোধ প্রসারিত করে যাবে যুগে যুগান্তরে? [ধুয়ো]
তোমার আপন জনগণ যেন তোমাতে হতে পারে আনন্দিত,
তুমি কি আমাদের করবে না পুনরুজ্জীবিত?
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা,
আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ। [ধুয়ো]
আমি শুনব প্রভু ঈশ্বর কী কথা বলবেন;
আপন জনগণের কাছে, আপন ভক্তদের কাছে তিনি বলেন শান্তি;
যারা তাঁকে ভয় করে, তাদের জন্য কাছেই রয়েছে তাঁর পরিত্রাণ,
আমাদের এ দেশে তাঁর গৌরব করবে বসবাস; [ধুয়ো]
কৃপা ও সত্যের হবে সম্মিলন,
ধর্মময়তা ও শান্তি করবে পরস্পর চুম্বন;
মর্ত থেকে সত্য হবে অঙ্কুরিত,
স্বর্গ থেকে ধর্মময়তা বাড়াবে মুখ। [ধুয়ো]
১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, যে মহারহস্যে আমরা যোগদান করলাম,
তা আমাদের অন্তরে পূর্ণ সার্থকতা অর্জন করুক:
অনিত্য সংসারের পথিক এই আমরা
যেন তোমার নির্দেশমত স্বর্গীয় যা কিছু তা-ই ভালবাসি,
ও যা কিছু চিরস্থায়ী তা-ই যেন আঁকড়ে ধরে থাকি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।
১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।
অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।
[সূচী]
২য় রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
- আমেন।
আমাদের প্রভু যিশু খ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
- আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।
এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
- তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
- আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
- আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
- প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
- খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
- প্রভু, দয়া কর।
২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।
৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান করুণাময় ঈশ্বর,
আমরা তোমার পুত্রকে অভ্যর্থনা জানাবার জন্য দ্রুতপদে এগিয়ে চলছি।
আশীর্বাদ কর, যেন কোন পার্থিব বিষয়ে বিঘ্নিত না হই,
বরং স্বর্গীয় প্রজ্ঞায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যেন তাঁর সাহচর্য লাভ করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে তোমার সঙ্গে তিনি ঈশ্বররূপে জীবিত আছেন
ও রাজত্ব করেন যুগে যুগান্তরে।
সকলে: আমেন।
৪। প্রথম পাঠ
নবী ইশাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৪০:১-৫,৯-১১)
‘সান্ত্বনা দাও, আমার জাতিকে সান্ত্বনা দাও,
—একথা বলছেন তোমাদের পরমেশ্বর—
যেরুশালেমের হৃদয়ের কাছে কথা বল,
তার কাছে একথা প্রচার কর:
তার কঠোর দাসত্বকাল পূর্ণ হল,
দেওয়াই হল তার শঠতার দাম,
কারণ তার সকল পাপের জন্য
প্রভুর হাত থেকেই সে পেল দ্বিগুণ শাস্তি।’
এক কণ্ঠস্বর চিৎকার করে বলে:
‘মরুপ্রান্তরে প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত কর,
মরুভূমিতে আমাদের পরমেশ্বরের জন্য রাস্তা সমতল কর।
উঁচু করা হোক প্রতিটি উপত্যকা,
নিচু করা হোক প্রতিটি পর্বত, প্রতিটি উপপর্বত,
অসমতল ভূমি হোক সমতল,
শৈলশিরা হয়ে উঠুক সমভূমি।
তখনই প্রকাশ পাবে প্রভুর গৌরব,
মানবকুল সবাই মিলে তার দর্শন পাবে,
কারণ প্রভুর মুখ কথা উচ্চারণ করল।’
হে শুভসংবাদ-দাত্রী সিয়োন,
উচ্চ পর্বতে গিয়ে ওঠ!
হে শুভসংবাদ-দাত্রী যেরুশালেম,
যথাসাধ্য উচ্চকণ্ঠে চিৎকার কর!
উচ্চকণ্ঠে চিৎকার কর, ভয় করো না;
যুদার শহরগুলোকে বল:
‘এই যে তোমাদের পরমেশ্বর!’
দেখ, প্রভু পরমেশ্বর মহাপরাক্রমে আসছেন,
আপন বাহুবলেই তিনি আধিপত্য করেন।
দেখ, তাঁর মজুরি আছে তাঁর সঙ্গে,
তাঁর আগে আগে চলছে তাঁর আপন পুরস্কার।
পালকের মত তিনি চরিয়ে বেড়ান তাঁর আপন পাল,
শাবকদের বাহুতে সংগ্রহ করেন;
কোলে করে তাদের বহন করেন,
দুগ্ধদাত্রী মেষিকাদের ধীরে ধীরেই চালনা করেন।
✦ ঈশ্বরের বাণী।
৫। সামসঙ্গীত ৮৫
ধুয়ো: আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা,
আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
আমি শুনব প্রভু ঈশ্বর কী কথা বলবেন;
আপন জনগণের কাছে, আপন ভক্তদের কাছে তিনি বলেন শান্তি।
যারা তাঁকে ভয় করে, তাদের জন্য কাছেই রয়েছে তাঁর পরিত্রাণ,
আমাদের এ দেশে তাঁর গৌরব করবে বসবাস। [ধুয়ো]
কৃপা ও সত্যের হবে সম্মিলন,
ধর্মময়তা ও শান্তি করবে পরস্পর চুম্বন;
মর্ত থেকে সত্য হবে অঙ্কুরিত,
স্বর্গ থেকে ধর্মময়তা বাড়াবে মুখ। [ধুয়ো]
সত্যিই প্রভু দান করবেন মঙ্গল,
আর আমাদের ভূমি দান করবে তার আপন ফসল।
তাঁর আগে আগে ধর্মময়তা চলবে,
আর শান্তি সেই পথে পদার্পণ করবে। [ধুয়ো]
৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু পিতরের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৩:৮-১৪)
প্রিয়জনেরা, তোমরা এই এক কথা কখনও বিস্মৃত হয়ো না যে, প্রভুর কাছে একটি দিন হাজার বছরেরই সমান, এবং হাজার বছর একটি দিনেরই সমান। প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে প্রভু দেরি করেন না—যদিও কেউ কেউ মনে করে, তিনি দেরি করছেন। আসলে তোমাদের প্রতি তিনি অসীম সহিষ্ণুতা দেখাচ্ছেন: কেননা তাঁর মঙ্গল-ইচ্ছা এই নয় যে, কেউ বিনষ্ট হবে, বরং সকলে যেন মনপরিবর্তন করার একটা সুযোগ পায়।
প্রভুর দিন চোরের মত আসবে; তখন আকাশমণ্ডল প্রচণ্ড হুহুঙ্কারে মিলিয়ে যাবে, যত মৌল উপাদান পুড়ে গিয়ে বিলীন হবে, এবং পৃথিবী ও তার যত কর্ম বিচারিত হবে।
যখন এই সমস্ত কিছু এইভাবে বিলীন হওয়ার কথা, তখন তোমাদের পক্ষে পবিত্র আচার-ব্যবহারে ও ভক্তিতে কী ধরনের মানুষই না হওয়া উচিত! তোমরা ঈশ্বরের সেই দিনের আগমনের প্রতীক্ষা কর! সেই দিনের আগমন ত্বরান্বিত করতে চেষ্টা কর! সেই দিনটিতে আকাশমণ্ডল জ্বলে উঠে বিলীন হবে, এবং মৌল যত উপাদান পুড়ে গিয়ে গলে যাবে। তাছাড়া, তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুসারে আমরা এমন এক নতুন আকাশ ও নতুন পৃথিবীর প্রতীক্ষায় রয়েছি, যেখানে ধর্মময়তা নিত্যই বসবাস করে।
এজন্য, প্রিয়জনেরা, তোমরা যখন এসব কিছুর প্রতীক্ষায় রয়েছ, তখন তাঁর সম্মুখে নিষ্কলঙ্ক ও অনিন্দনীয় হয়ে, শান্তিতে দাঁড়াবার জন্য সচেষ্ট থাক।
✦ ঈশ্বরের বাণী।
৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
❖ আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত কর, তাঁর রাস্তা সমতল কর।
সমস্ত মানবকুল প্রভুর পরিত্রাণ দেখতে পাবে।
❖ আল্লেলুইয়া।
৮। সুসমাচার
✚ মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:১-৮)
ঈশ্বরের পুত্র যিশু খ্রিষ্টের সুসমাচারের আরম্ভ। নবী ইশাইয়ার পুস্তকে যেমনটি লেখা আছে,
দেখ, আমি আমার দূত তোমার সামনে প্রেরণ করছি;
সে তোমার জন্য পথ প্রস্তুত করবে;
এমন একজনের কণ্ঠস্বর যে মরুপ্রান্তরে চিৎকার করে বলে,
প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত কর,
তাঁর রাস্তা সমতল কর,
সেই অনুসারে বাপ্তিস্মদাতা সেই যোহন মরুপ্রান্তরে আবির্ভূত হলেন; তিনি পাপক্ষমার উদ্দেশে মনপরিবর্তনের বাপ্তিস্ম প্রচার করতেন।
সমস্ত যুদেয়া অঞ্চল ও যেরুশালেম-বাসী সকলে তাঁর কাছে যেতে লাগল, ও নিজেদের পাপ স্বীকার করে যর্দনে তাঁর হাতে বাপ্তিস্ম নিতে লাগল।
এই যোহন উটের লোমের এক কাপড় পরতেন, তাঁর কোমরে চামড়ার বন্ধনী ছিল, ও তিনি পঙ্গপাল ও বনের মধু খেতেন। তিনি প্রচার করে বলতেন, ‘আমার পরে এমন একজন আসছেন, যিনি আমার চেয়ে শক্তিশালী; আমি নিচু হয়ে তাঁর জুতোর বাঁধন খুলবার যোগ্য নই। আমি তোমাদের জলে বাপ্তিস্ম দিলাম, তিনি কিন্তু পবিত্র আত্মায়ই তোমাদের বাপ্তিস্ম দেবেন।’
✦ প্রভুর বাণী।
৯। উপদেশ
লুক-রচিত সুসমাচারে প্রবীণ অরিগেনেসের উপদেশ
এসো, আমরা তন্ন তন্ন করে দেখি খ্রিষ্টের আগমন সম্বন্ধে কী সংবাদ দেওয়া হয়। প্রথমত যোহনের বিষয়ে লেখা আছে, এমন একজনের কণ্ঠস্বর যে মরুপ্রান্তরে চিৎকার করে বলে: প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত কর, তাঁর জন্য রাস্তা সমতল কর (লুক ৩:৪)। পরবর্তীতে যা লেখা আছে, তা স্পষ্টভাবে প্রভু ও ত্রাণকর্তাকেই নির্দেশ করে। যিনি সমস্ত উপত্যকা ভরাট করেছেন, তিনি তো যোহন নন, বরং আমাদের প্রভু ও ত্রাণকর্তা। প্রত্যেকে লক্ষ করুক, বিশ্বাস পাবার আগে সে কী ছিল: অনুভব করবে, সে গভীর একটা উপত্যকাই ছিল, সে নিচমুখী এমন উপত্যকাই ছিল যা তলদেশের তলায় নিমজ্জিত। কিন্তু যখন প্রভু যিশু এলেন ও তাঁর প্রতিনিধি রূপে পবিত্র আত্মাকে প্রেরণ করলেন, তখন সমস্ত উপত্যকা ভরাট করা হল। উপত্যকাটা পবিত্র আত্মার শুভকর্ম ও ফলগুলি দিয়েই ভরাট করা হল। ভালবাসা তো চায় না, তোমার মধ্যে একটা উপত্যকা থাকবে, কেননা তোমার যদি শান্তি, সহিষ্ণুতা ও মঙ্গলানুভবতা থাকে, তাহলে যে আর উপত্যকা হবে না, তা শুধু নয়, তুমি বরং ঈশ্বরের ‘পর্বত’ হতে শুরু করবে।
আমরা লক্ষ করি, একদিকে এ সমস্ত বাণী প্রতিদিন বিধর্মীদের বেলায় পূর্ণতা লাভ করে: সমস্ত উপত্যকা ভরাট করা হয়; অন্যদিকে মাহাত্ম্য থেকে যাদের নামানো হল, সেই ইস্রায়েলের বেলায় এবাণী পূর্ণতা লাভ করে, সমস্ত পর্বত ও উপপর্বত নিচু করা হবে। এই জাতি একসময় একটা পর্বত ও উপপর্বত ছিল, কিন্তু তাকে নামানো ও টুকরো টুকরো করা হল। কিন্তু তাদের প্রায়-পতনের ফলে বিজাতীয়দের কাছে পরিত্রাণ এসেছে, যেন তাদের অন্তরে ঈর্ষার ভাব জেগে ওঠে (রো ১১:১১)।
অপরদিকে তুমি যদি বল, সেই নামানো পর্বত ও উপপর্বত হল সেই বিরোধী শক্তি যা মানুষের সামনে রুখে দাঁড়াত, তখন ভুল করবে না। কেননা যার কথা বলি, সেই উপত্যকা যাতে ভরাট করা হয়, পর্বত ও উপপর্বত তথা বিরোধী শক্তিকে নামানো দরকার হবে।
এসো, এবার দেখি খ্রিষ্টের আগমন সংক্রান্ত সেই পরবর্তী ভাববাণী পূর্ণতা লাভ করেছে কিনা। লেখা আছে, বাঁকা পথ সোজা করা হবে। আমরা প্রত্যেকেই বাঁকা ছিলাম—আশা রাখি কেবল সেসময়ই বাঁকা ছিলাম, এখন আর নয়!—কিন্তু আমাদের আত্মায় খ্রিষ্টের আগমনের ফলে যা কিছু বাঁকা ছিল সোজা হয়ে গেছে। বস্তুত খ্রিষ্ট তোমার আত্মায়ও যদি না এসে থাকেন, তাহলে তিনি যে একসময় মাংসে এলেন, তাতে তোমার কী লাভ? তবে এসো, প্রার্থনা করি যেন প্রতিদিন তাঁর আগমন আমাদের অন্তরে পূর্ণতা লাভ করে, ফলে আমরা যেন বলতে পারি, আমি এখনও জীবিত আছি, কিন্তু সে তো আর আমি নয়, আমার অন্তরে স্বয়ং খ্রিষ্টই জীবনযাপন করেন (গা ২:২০)।
আমার প্রভু যিশু এসেছেন ও তোমার সমস্ত অসমতল স্থান সমতল করেছেন, তোমার সমস্ত বিশৃঙ্খলা সোজা পথে পরিণত করেছেন তোমার মধ্যে এমন বাধাশূন্য পথ গড়ার জন্য যা দিয়ে পিতা ঈশ্বর মধুর ও শুচিতম পথ ধরে তোমার কাছে আসতে পারেন ও খ্রিষ্ট প্রভু তোমার মধ্যে তাঁর আপন তাঁবু বেঁধে বলতে পারেন: আমার পিতা ও আমি আসব আর তার কাছে বাস করব (যোহন ১৪:২৩)।
১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।
১১। অর্থদান
১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)
অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।
অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশু খ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।
অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।
হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)
১৩। প্রভুকে গ্রহণ
প্রবীণ না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।
১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৪৭
ধুয়ো: ওঠ, যেরুশালেম,
উচ্চস্থানে সোজা হয়ে দাঁড়াও,
চেয়ে দেখ সেই আনন্দ,
যা স্বয়ং ঈশ্বর থেকেই তোমার কাছে আসছে!
যেরুশালেম! প্রভুর মহিমাকীর্তন কর;
সিয়োন! তোমার পরমেশ্বরের প্রশংসা কর,
তিনি যে সুদৃঢ় করেন তোমার নগরদ্বারের অর্গল,
তোমার সন্তানদের আশিসধন্য করেন তোমার অন্তঃস্থলে।
তিনি এ পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন তাঁর বচন,
তাঁর বাণী দ্রুত বেগে ছুটে যায়।
তিনি তুষার বিছিয়ে দেন গালিচার মত,
ছাইয়ের মত ছড়িয়ে দেন জমাট শিশির।
তিনি তাঁর আপন বাণী ঘোষণা করেন যাকোবের কাছে,
তাঁর সমস্ত বিধি ও সুবিচার ইস্রায়েলের কাছে।
অন্যান্য দেশের জন্য তাই করলেন, এমন নয়,
অন্য কেউ জানতে পারেনি তাঁর সমস্ত সুবিচার। [ধুয়ো]
১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আত্মিক খাদ্য গ্রহণে পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে
আমরা তোমাকে অনুনয় করি:
এ রহস্যময় ভোজে যোগদানের ফলে আমাদের উদ্বুদ্ধ কর,
যেন পার্থিব সমস্ত কিছু প্রজ্ঞার সঙ্গে নির্ণয় ক’রে
আমরা স্বর্গীয় সমস্ত কিছুতেই স্থিতমূল থাকি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।
১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।
অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।
[সূচী]
৩য় রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
- আমেন।
আমাদের প্রভু যিশু খ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
- আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।
এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
- তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
- আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
- আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
- প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
- খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
- প্রভু, দয়া কর।
২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।
৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, চেয়ে দেখ তোমার এ জনগণের দিকে
যারা জাগ্রত বিশ্বাসের সঙ্গেই প্রভুর জন্মলগ্নের প্রতীক্ষায় রত আছে।
আশীর্বাদ কর:
পরিত্রাণ-মহারহস্য ভক্তিপূর্ণ অন্তরে অনুধ্যান করতে করতে
আমরা যেন মনের আনন্দেই আসন্ন মহোৎসবে পৌঁছতে পারি।
তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশু খ্রিষ্টের দ্বারা, যিনি পবিত্র আত্মার ঐক্যে তোমার সঙ্গে
ঈশ্বররূপে জীবিত আছেন ও রাজত্ব করেন যুগে যুগান্তরে।
সকলে: আমেন।
৪। প্রথম পাঠ
নবী ইশাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৬১:১-২,১০-১১)
প্রভু পরমেশ্বরের আত্মা আমার উপর অধিষ্ঠিত,
কেননা প্রভুই আমাকে তৈলাভিষিক্ত করেছেন।
তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন দীনদুঃখীদের কাছে শুভসংবাদ দিতে,
ভগ্নহৃদয় মানুষকে সারিয়ে তুলতে,
বন্দিদের কাছে মুক্তি এবং কারারুদ্ধদের কাছে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে,
প্রভুর প্রসন্নতা-বর্ষ ঘোষণা করতে।
প্রভুতে আমি মহাপুলকে পুলকিত,
আমার পরমেশ্বরে আমার প্রাণ আনন্দে মেতে ওঠে,
কারণ তিনি আমায় ত্রাণবসন পরিয়েছেন,
ধর্মময়তার আবরণে জড়িয়েছেন,
হ্যাঁ, তেমন এক বরের মত যে যাজকেরই মত শিরোভূষণে ভূষিত,
তেমন এক কনের মত যে রত্ন-অলঙ্কারে অলঙ্কৃতা।
কেননা মাটি যেমন উৎপন্ন করে নতুন নতুন অঙ্কুর,
উদ্যান যেমন অঙ্কুরিত করে নতুন নতুন বীজ,
প্রভু পরমেশ্বর তেমনি সকল দেশের সামনে
অঙ্কুরিত করবেন ধর্মময়তা ও প্রশংসাবাদ।
✦ ঈশ্বরের বাণী।
৫। সামসঙ্গীত (লুক ১:৪৬-৫০,৫৩-৫৪)
ধুয়ো: আমার পরমেশ্বরে
আমার প্রাণ আনন্দে মেতে ওঠে।
প্রভুর মহিমাকীর্তন করে আমার প্রাণ,
আমার ত্রাতা ঈশ্বরে আমার আত্মা করে উল্লাস,
কারণ তাঁর দাসীর নিম্নাবস্থার দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন তিনি,
কেননা দেখ, এখন থেকে যুগে যুগে সকলে আমাকে সুখী বলবে; [ধুয়ো]
কারণ আমার জন্য মহা মহা কাজ করেছেন সেই শক্তিমান
—পবিত্রই তাঁর নাম;
আর যারা তাঁকে ভয় করে,
তাদের প্রতি তাঁর দয়া যুগযুগস্থায়ী। [ধুয়ো]
ক্ষুধার্তদের পরিতৃপ্ত করেছেন মঙ্গলদানে,
ধনীদের ফিরিয়ে দিয়েছেন শূন্য হাতে।
আপন দয়া স্মরণ ক’রে
তাঁর দাস ইস্রায়েলের সহায়তা করেছেন তিনি। [ধুয়ো]
৬। দ্বিতীয় পাঠ
থেসালোনিকীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৫:১৬-২৪)
প্রিয়জনেরা, নিত্যই আনন্দে থাক; অবিরত প্রার্থনা কর; সবকিছুতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন কর—খ্রিষ্ট যিশুতে এই তো তোমাদের জন্য ঈশ্বরের ইচ্ছা।
আত্মাকে নিভিয়ে দিয়ো না। নবীদের বাণী অবজ্ঞা করো না; সবকিছু যাচাই কর, যা মঙ্গলজনক, তা-ই ধরে রাখ; যত ধরনের অনিষ্ট থেকে দূরে থাক।
স্বয়ং শান্তিবিধাতা ঈশ্বর পূর্ণমাত্রায় তোমাদের পবিত্র করে তুলুন। তোমাদের সমস্ত আত্মা, প্রাণ ও দেহ আমাদের প্রভু যিশু খ্রিষ্টের সেই আগমনের জন্য অনিন্দনীয় হয়ে রক্ষিত হোক। যিনি তোমাদের আহ্বান করেন, তিনি বিশ্বস্ত, যা করবেন বলে বললেন, তা অবশ্যই করবেন।
✦ ঈশ্বরের বাণী।
৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
❖ আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
প্রভু পরমেশ্বরের আত্মা আমার উপর অধিষ্ঠিত,
তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন দীনদুঃখীদের কাছে শুভসংবাদ দিতে।
❖ আল্লেলুইয়া।
৮। সুসমাচার
✚ যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:৬-৮,১৯-২৮)
ঈশ্বর-প্রেরিত একজন মানুষ আবির্ভূত হলেন;
তাঁর নাম যোহন;
তিনি এলেন সাক্ষ্য দিতে,
আলোরই বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে,
যেন তাঁর দ্বারা সকলে বিশ্বাস করতে পারে।
তিনি তো সেই আলো ছিলেন না,
আলোর বিষয়ে সাক্ষ্য দিতেই তিনি ছিলেন।
এ হল যোহনের সাক্ষ্য, যখন যেরুশালেম থেকে ইহুদীরা তাঁর কাছে কয়েকজন যাজক ও লেবীয়কে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কে?’ তিনি তখন স্বীকার করলেন, অস্বীকার করলেন না; বরং স্বীকার করলেন যে, ‘আমি খ্রিষ্ট নই।’ তাই তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তবে কী? আপনি কি এলিয়?’ তিনি বললেন, ‘না, আমি নই।’ ‘আপনি কি সেই নবী?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘না।’ তাই তাঁরা তাঁকে বললেন, ‘আপনি কে? যাঁরা আমাদের পাঠিয়েছেন, তাঁদের কাছে আমাদের একটা উত্তর দিতে হবে। নিজের বিষয়ে আপনি কী বলেন?’ তিনি বললেন, ‘নবী ইশাইয়া যেমন বলেছিলেন, আমি এমন একজনের কণ্ঠস্বর যে মরুপ্রান্তরে চিৎকার করে বলে, প্রভুর জন্য পথ সরল কর।’
যাঁদের পাঠানো হয়েছিল, তাঁরা ফরিশী ছিলেন। তাঁরা আরও প্রশ্ন করে তাঁকে বললেন, ‘আপনি যদি খ্রিষ্ট নন, এলিয় বা সেই নবীও নন, তবে কেন বাপ্তিস্ম দেন?’ উত্তরে যোহন তাঁদের বললেন, ‘আমি জলে বাপ্তিস্ম দিই, কিন্তু আপনাদের মধ্যে এমন একজন আছেন যাঁকে আপনারা জানেন না, যিনি আমার পরেই আসছেন। আমি তাঁর জুতোর বাঁধন খুলবার যোগ্য নই।’
এই সমস্ত ঘটেছিল যর্দন নদীর ওপারে, বেথানিয়াতে; সেইখানে যোহন বাপ্তিস্ম দিচ্ছিলেন।
✦ প্রভুর বাণী।
৯। উপদেশ
দৈৎসের মঠাধ্যক্ষ রুপার্ট-লিখিত ‘পবিত্র আত্মার কাজ’
যোহনের বাপ্তিস্ম দাসেরই বাপ্তিস্ম, খ্রিষ্টের বাপ্তিস্ম প্রভুরই বাপ্তিস্ম। প্রথমটা মনপরিবর্তনের উদ্দেশে, দ্বিতীয়টা পাপক্ষমার উদ্দেশে।
খ্রিষ্ট যোহনের বাপ্তিস্মে প্রকাশিত হলেন, কিন্তু তাঁর আপন বাপ্তিস্মে তথা যন্ত্রণাভোগেই গৌরবান্বিত হলেন। বস্তুত যোহন নিজ বাপ্তিস্মের বিষয়ে বলেন, আমি তাঁকে জানতাম না, কিন্তু ইস্রায়েলের কাছে তিনি যেন প্রকাশিত হন, এজন্যই আমি এসে জলে বাপ্তিস্ম দিই (যোহন ১:৩১)।
কিন্তু যোহন দ্বারা বাপ্তিস্ম নেওয়ার আগেও খ্রিষ্ট বলেন, এমন বাপ্তিস্ম আছে, যে-বাপ্তিস্ম আমাকে বাপ্তিস্ম নিতে হবে, আর তা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমার কী সঙ্কোচ (লুক ১২:৫০)। যোহনের বাপ্তিস্ম জনগণকে খ্রিষ্টের বাপ্তিস্মের জন্য প্রস্তুত করছিল; আর খ্রিষ্টের বাপ্তিস্ম জনগণের জন্য ঈশ্বরের রাজ্য খুলে দিল।
যোহন যাদের আপন বাপ্তিস্মে দীক্ষিত করতেন, তাদের সনির্বন্ধ আবেদন জানাতেন তারা যেন সেই গুরুকে বিশ্বাস করে, তাঁর পরে যাঁর আসার কথা ছিল; তাদের মধ্যে যারা খ্রিষ্টের যন্ত্রণাভোগের আগে মরল, তাঁর মৃত্যুতে তারা অবশ্যই তাদের যত গুরুতর পাপ থেকে পরিশুদ্ধ হয়ে তাঁর সঙ্গে স্বর্গধামে প্রবেশ করল ও তাঁর সঙ্গে ঈশ্বরের রাজ্য দেখতে পেল।
কিন্তু যারা মনে মনে ঐশপরিকল্পনা অবজ্ঞা ক’রে যোহনের বাপ্তিস্মে দীক্ষিত না হয়ে খ্রিষ্ট যন্ত্রণাভোগে দীক্ষিত হবার আগে ইহলোক ত্যাগ করেছিল, তাদের পক্ষে পরিচ্ছেদন-ব্যবস্থায় কোন উপকার হয়নি, খ্রিষ্টের যন্ত্রণাভোগেও কোন উপকার হয়নি ও পাতাল থেকেও তাদের বের করা হয়নি, কেননা তারা সেই লোকদেরই নয় যাদের বিষয়ে খ্রিষ্ট বলেছিলেন, তাদেরই খাতিরে আমি নিজেকে পবিত্রীকৃত করছি (যোহন ১৭:১৯)।
তবু একথা জানা উচিত, যোহন দ্বারা দীক্ষিত সেই সকল মানুষ যারা যিশুর গৌরবপ্রকাশের পরেই শুভসংবাদ প্রচারিত হওয়ার সময়ে জীবনযাপন করল, তারা খ্রিষ্টকে গ্রহণ না করলে ও তাঁর দ্বারা বাপ্তিস্ম নেওয়া প্রয়োজন মনে না করলে তাদের পক্ষে যোহনের বাপ্তিস্মে কোন উপকার হয়নি।
এসব কিছু জেনে প্রেরিতদূত পল কয়েকটি শিষ্যকে পেয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, বিশ্বাসী হওয়ার সময়ে তোমরা কি পবিত্র আত্মাকে পেয়েছিলে? আবার তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কোন্ বাপ্তিস্ম পেয়েছিলে? তিনি বলতে চাচ্ছিলেন, পবিত্র আত্মা যে আছেন, তোমরা একথা শুনেছ কিনা। ‘যোহনের বাপ্তিস্ম’ তাদের এ উত্তরে পল বললেন, যোহন মনপরিবর্তনেরই বাপ্তিস্মে বাপ্তিস্ম দিতেন; কিন্তু লোকদের বলতেন, যিনি তাঁর পরে আসবেন, তাঁতেই, অর্থাৎ যিশুতেই তাদের বিশ্বাস করতে হবে। একথা শুনে তারা প্রভু যিশু-নামে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করল। আর পল তাদের উপর হাত রাখলেই পবিত্র আত্মা তাদের উপর নেমে এলেন (প্রেরিত ১৯:২-৬)।
পবিত্র আত্মা যে আছেন, যে-বাপ্তিস্ম একথা পর্যন্তও উল্লেখ করত না, প্রভুর বাপ্তিস্মের তুলনায় দাসের সেই বাপ্তিস্ম কত কমই না গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কেননা প্রভুর বাপ্তিস্ম পবিত্র আত্মাকে বাদ না দিয়ে পিতা ও পুত্রের নামে দেওয়া হয়, এবং এ বাপ্তিস্মে পাপক্ষমার জন্য পবিত্র আত্মাকে দান করা হয়।
১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।
১১। অর্থদান
১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)
অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।
অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশু খ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।
অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।
হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)
১৩। প্রভুকে গ্রহণ
প্রবীণ না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।
১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৪৭
ধুয়ো: ভীরুহৃদয়দের বল:
‘সাহস ধর, ভয় করো না;
এই যে আমাদের পরমেশ্বর!
তিনি আমাদের ত্রাণ করতে আসছেন।’
যেরুশালেম! প্রভুর মহিমাকীর্তন কর;
সিয়োন! তোমার পরমেশ্বরের প্রশংসা কর,
তিনি যে সুদৃঢ় করেন তোমার নগরদ্বারের অর্গল,
তোমার সন্তানদের আশিসধন্য করেন তোমার অন্তঃস্থলে।
তিনি এ পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন তাঁর বচন,
তাঁর বাণী দ্রুত বেগে ছুটে যায়।
তিনি তুষার বিছিয়ে দেন গালিচার মত,
ছাইয়ের মত ছড়িয়ে দেন জমাট শিশির।
তিনি তাঁর আপন বাণী ঘোষণা করেন যাকোবের কাছে,
তাঁর সমস্ত বিধি ও সুবিচার ইস্রায়েলের কাছে।
অন্যান্য দেশের জন্য তাই করলেন, এমন নয়,
অন্য কেউ জানতে পারেনি তাঁর সমস্ত সুবিচার। [ধুয়ো]
১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে কৃপাময় প্রভু, অনুনয় করি:
তোমার এ দিব্য খাদ্য সমস্ত দোষত্রুটি থেকে আমাদের পরিশুদ্ধ ক’রে
যেন আসন্ন খ্রিষ্টজন্মোৎসবের জন্য আমাদের হৃদয়-মন প্রস্তুত করে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।
১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।
অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।
[সূচী]
৪র্থ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
- আমেন।
আমাদের প্রভু যিশু খ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
- আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।
এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
- তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
- আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
- আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
- প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
- খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
- প্রভু, দয়া কর।
২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।
৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, মিনতি জানাই: আমাদের অন্তরে তোমার অনুগ্রহ সঞ্চার কর,
আমরা যারা দূত-সংবাদ দ্বারা
তোমার পুত্র সেই খ্রিষ্টের মাংসধারণের কথা জেনেছি,
তাঁর যন্ত্রণাভোগ ও ক্রুশমৃত্যু গুণে
যেন পুনরুত্থানের গৌরবে উপনীত হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে তোমার সঙ্গে তিনি ঈশ্বররূপে জীবিত আছেন
ও রাজত্ব করেন যুগে যুগান্তরে।
সকলে: আমেন।
৪। প্রথম পাঠ
শামুয়েলের দ্বিতীয় পুস্তক থেকে পাঠ (৭:১-৫,৮খ-১২,১৪ক,১৬)
যখন রাজা দাউদ নিজের গৃহে বাস করতে লাগলেন, এবং প্রভু চারপাশের সমস্ত শত্রু থেকে তাঁকে স্বস্তি দিলেন, তখন রাজা নবী নাথানকে বললেন, ‘দেখুন, আমি এরসকাঠের তৈরী একটা গৃহে বাস করছি, কিন্তু পরমেশ্বরের মঞ্জুষা একটা পর্দাঘরে পড়ে রয়েছে।’ নাথান রাজাকে বললেন, ‘আচ্ছা, আপনার মন যা করতে চায়, তাই করুন, কারণ প্রভু আপনার সঙ্গে আছেন।’
কিন্তু সেই রাতে প্রভুর বাণী নাথানের কাছে এসে উপস্থিত হয়ে বলল: ‘আমার দাস দাউদকে গিয়ে বল: প্রভু একথা বলছেন, তুমি কি আমার জন্য একটা গৃহ গেঁথে তুলবে যেখানে আমি বাস করতে পারি? তুমি যখন মেষপালের পিছনে পিছনে যেতে, তখন আমার আপন জনগণ ইস্রায়েলের উপরে জননায়ক করবার জন্য আমিই সেই চারণভূমি থেকে তোমাকে নিয়েছি। তুমি যেইখানে গিয়েছ, আমি সেখানে তোমার সঙ্গে সঙ্গে থেকেছি; তোমার সামনে থেকে তোমার সমস্ত শত্রুকে উচ্ছেদ করেছি; আর আমি তোমার নাম পৃথিবীর মহাপুরুষদের সুনামের মত মহান করব। আমি আমার আপন জনগণ ইস্রায়েলের জন্য একটা স্থান স্থির করে দেব, সেখানে তাদের রোপণ করব, যেন নিজেদের সেই বাসস্থানে তারা বাস করে, যেন আর বিচলিত না হয়, যেন দুর্জনেরা তাকে অত্যাচার না করে যেমনটি আগে করত যখন আমি আমার আপন জনগণ ইস্রায়েলের উপরে বিচারকদের নিযুক্ত করেছিলাম; আমি যত শত্রু থেকে তোমাদের মুক্ত করে বিশ্রাম দেব। তাছাড়া প্রভু তোমাকে এই কথাও বলছেন যে, তোমার জন্য প্রভুই এক কুল প্রতিষ্ঠা করবেন।
আর তোমার দিনগুলো ফুরিয়ে গেলে যখন তুমি তোমার পূর্বপুরুষদের সঙ্গে শয়ন করবে, তখন আমি তোমার স্থানে তোমার একজন বংশধরের, তোমার ঔরসজাতই একজনের উদ্ভব ঘটাব ও তার রাজ্য দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত করব। তার জন্য আমি হব পিতা, আর আমার জন্য সে হবে পুত্র।
তোমার কুল ও তোমার রাজ্য আমার সামনে চিরস্থায়ী হবে; তোমার সিংহাসন দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত থাকবে চিরকাল ধরে।’
✦ ঈশ্বরের বাণী।
৫। সামসঙ্গীত ৮৯
ধুয়ো: আমি তোমার কৃপাধারার কথা, প্রভু,
গাইব চিরকাল।
আমি প্রভুর কৃপাধারার কথা গাইব চিরকাল,
নিজ মুখেই তোমার বিশ্বস্ততার কথা প্রচার করব যুগে যুগান্তরে;
হ্যাঁ, আমি বলেছি, ‘তোমার কৃপা চিরস্থায়ী,
তোমার বিশ্বস্ততা স্বর্গে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত।’ [ধুয়ো]
‘আমার মনোনীতজনের সঙ্গে আমি সন্ধি করেছি স্থাপন,
আমার দাস দাউদের কাছে করেছি শপথ;
তোমার বংশ আমি করব চিরপ্রতিষ্ঠিত,
তোমার সিংহাসন করব যুগযুগস্থায়ী।’ [ধুয়ো]
সে আমাকে ডাক দিয়ে বলবে, “তুমিই আমার পিতা,
আমার ঈশ্বর, আমার ত্রাণশৈল তুমি।”
আমার কৃপা আমি তার জন্য রক্ষা করব চিরকাল,
আমার সন্ধি তার জন্য থাকবে অবিচল। [ধুয়ো]
৬। দ্বিতীয় পাঠ
রোমীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১৬:২৫-২৭)
প্রিয়জনেরা, যিনি তোমাদের সুস্থির করতে সক্ষম
আমার প্রচারিত সুসমাচার অনুসারে
ও যিশু খ্রিষ্টের বাণী-ঘোষণা অনুসারে,
সেই রহস্যেরই প্রকাশ অনুসারে,
যা অনাদিকাল থেকে অকথিত ছিল,
কিন্তু এখন প্রকাশিত হয়েছে,
ও নবীদের পুস্তকগুলোর মাধ্যমে
সনাতন ঈশ্বরের আদেশ অনুসারে
সকল জাতির কাছে ঘোষিত হয়েছে
তারা যেন বিশ্বাসে বাধ্যতা স্বীকার করে,
যিশু খ্রিষ্ট দ্বারা সেই অনন্য প্রজ্ঞাবান ঈশ্বরের গৌরব হোক
যুগে যুগান্তরে। আমেন।
✦ ঈশ্বরের বাণী।
৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
❖ আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমি প্রভুর দাসী,
আপনি যেমন বলেছেন, আমার প্রতি সেইমত হোক।
❖ আল্লেলুইয়া।
৮। সুসমাচার
✚ লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:২৬-৩৮)
ষষ্ঠ মাসে গাব্রিয়েল দূত ঈশ্বর দ্বারা গালিলেয়ার নাজারেথ নামে শহরে এমন একজন যুবতী কুমারীর কাছে প্রেরিত হলেন যিনি দাউদকুলের যোসেফ নামে একজন পুরুষের বাগ্দত্তা বধূ ছিলেন—কুমারীটির নাম মারীয়া। প্রবেশ করে দূত তাঁর দিকে এগিয়ে এসে বললেন, ‘আনন্দিতা হও, হে অনুগৃহীতা! প্রভু তোমার সঙ্গে আছেন।’
এই কথায় তিনি অধিক বিচলিতা হলেন, ও ভাবতে লাগলেন তেমন অভিবাদনের অর্থ কী! কিন্তু দূত তাঁকে বললেন, ‘ভয় করো না, মারীয়া; তুমি তো ঈশ্বরের কাছে অনুগ্রহই পেয়েছ। দেখ, গর্ভধারণ করে তুমি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবে, ও তাঁর নাম যিশু রাখবে। তিনি মহান হবেন, ও পরাৎপরের পুত্র বলে অভিহিত হবেন; এবং প্রভু ঈশ্বর তাঁর পিতৃপুরুষ দাউদের সিংহাসন তাঁকে দান করবেন; তিনি যাকোবকুলের উপর চিরকাল রাজত্ব করবেন, ও তাঁর রাজ্য হবে অন্তহীন।’
মারীয়া দূতকে বললেন, ‘এ কেমন করে হতে পারবে, যখন আমি কোন পুরুষকে জানি না?’ উত্তরে দূত তাঁকে বললেন, ‘পবিত্র আত্মা তোমার উপরে নেমে আসবেন, এবং পরাৎপরের পরাক্রম তোমার উপর নিজের ছায়া বিস্তার করবে; আর এজন্য যাঁর জন্ম হবে, তিনি পবিত্র হবেন ও ঈশ্বরের পুত্র বলে অভিহিত হবেন। আর দেখ, তোমার আত্মীয়া এলিশাবেথ, সেও বৃদ্ধ বয়সে একটি পুত্রকে গর্ভে ধারণ করেছে; লোকে যাকে বন্ধ্যা বলে ডাকত, তার ছ’মাস চলছে; কারণ ঈশ্বরের পক্ষে অসাধ্য কিছুই নেই।’
মারীয়া বললেন, ‘এই যে! আমি প্রভুর দাসী; আপনি যেমন বলেছেন, আমার প্রতি সেইমত হোক।’ তখন দূত তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিলেন।
✦ প্রভুর বাণী।
৯। উপদেশ
প্রবীণ মাননীয় সাধু বীডের উপদেশ
প্রিয়তম ভ্রাতৃগণ, আজকের পবিত্র সুসমাচার পাঠ আমাদের কাছে আমাদের মুক্তির সূত্রপাত স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন ঈশ্বর, আমরা যেন পুরাতন মানুষের ক্ষয়শীলতা থেকে মুক্ত হয়ে ও নবমানুষ হয়ে উঠে ঈশ্বরের সন্তানদের মধ্যে পরিগণিত হতে পারি, কুমারীর কাছে মানবস্বরূপে আপন পুত্রের নবজন্মের সংবাদ দিতে স্বর্গ থেকে দূত প্রেরণ করলেন। সুতরাং, প্রতিশ্রুত পরিত্রাণের দানগুলো পাবার যোগ্য হবার জন্য, এসো, এ সূত্রপাতের কথা মনোযোগের সঙ্গে উপলব্ধি করতে চেষ্টা করি।
গাব্রিয়েল দূত ঈশ্বর দ্বারা গালিলেয়ার নাজারেথ নামে শহরে এমন একজন যুবতী কুমারীর কাছে প্রেরিত হলেন যিনি দাউদকুলের যোসেফ নামে একজন পুরুষের বাগ্দত্তা বধূ ছিলেন—কুমারীটির নাম ছিল মারীয়া (লুক ১:২৬-২৭)। দাউদ-বংশ বিষয়ে যা বলা হয়, তা যোসেফকে শুধু নয়, মারীয়াকেও লক্ষ করে, কেননা বিধান অনুসারে পুরুষ আপন বংশ বা গোষ্ঠীর মধ্য থেকেই বধূ বেছে নেবার কথা, যেমনটি প্রেরিতদূতও তিমথির কাছে পত্র লিখে সপ্রমাণ করে বলেন, মনে রেখ যে দাউদের বংশধর যিশু খ্রিষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন—আমার [প্রচারিত] সুসমাচার অনুসারে (২ তি ২:৮)। অতএব প্রভু সত্যিই দাউদ-বংশের মানুষ, কেননা তাঁর কুমারী জননী বাস্তবেই দাউদ-বংশ থেকে উদ্গত।
তাঁর ঘরে ঢুকে দূত বললেন, ভয় করো না, মারীয়া; তুমি তো ঈশ্বরের কাছে অনুগ্রহই পেয়েছ। দেখ, গর্ভধারণ করে তুমি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবে, ও তাঁর নাম যিশু রাখবে। তিনি মহান হবেন, ও পরাৎপরের পুত্র বলে অভিহিত হবেন; এবং প্রভু ঈশ্বর তাঁর পিতৃপুরুষ দাউদের সিংহাসন তাঁকে দান করবেন (লুক ১:৩০-৩২)। দাউদের সিংহাসন বলতে সেই ইস্রায়েল জাতির রাজ্য বোঝায়, যা একসময় দাউদ ঈশ্বরের আদেশে ও সহায়তায় বিশ্বস্ততা ও আত্মনিয়োগের সঙ্গে শাসন করেছিলেন। প্রভু আমাদের মুক্তিসাধককে তখনই তাঁর পিতৃপুরুষ দাউদের সিংহাসন দিলেন, যখন তিনি দাউদ-বংশের মধ্য থেকে তাঁর মাংসধারণ নিরূপণ করেছিলেন, দাউদ যে জনগণকে লৌকিক কর্তৃত্বে শাসন করেছিলেন, তিনি যেন আত্মিক অনুগ্রহেই সেই জনগণকে শাশ্বত রাজ্যে চালিত করেন, প্রেরিতদূত যেমনটি বলেন, তিনি অন্ধকারের কর্তৃত্ব থেকে আমাদের নিস্তার করে তাঁর সেই প্রিয় পুত্রের রাজ্যে স্থানান্তর করেছেন (কল ১:১৩)। আর তিনি যাকোবকুলের উপর চিরকাল রাজত্ব করবেন (লুক ১:৩৩)। যাকোবকুল বলতে সেই গোটা মণ্ডলী বোঝায়, যা খ্রিষ্টের প্রতি বিশ্বাস ও যোগদানের গুণে কুলপতিদের অধিকারের অংশীদার—কুলপতিদের বংশধরদের বেলায়ও অংশীদার ও তাদেরই বেলায়ও অংশীদার, যারা অন্য দেশগুলি থেকে আগত বলে বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টে নবজন্ম লাভ করেছে। এ কুলে তিনি সর্বদাই রাজত্ব করবেন, আর তাঁর রাজ্য হবে অন্তহীন (লুক ১:৩৩)। তিনি তেমন মণ্ডলীতে বর্তমানকালে রাজত্ব করেন, কেননা পুণ্যজনদের অন্তরে বাস ক’রে বিশ্বাস ও তাঁর ভালবাসা গুণে তাদের হৃদয় সুস্থির করেন, এবং নিত্য সহায়তা গুণে শাশ্বত পুরস্কারের দানগুলি পাবার যোগ্যতায় তাদের চালিত করেন। তিনি আবার ভাবী জীবনেও সেখানে রাজত্ব করেন, যথা, এ মর্ত-প্রবাসের সমাপ্তিতে তিনি সেই স্বর্গীয় মাতৃভূমিতে তাদের চালিত করেন যেখানে তাঁর নিত্য উপস্থিতি দর্শনে আবদ্ধ হয়ে তারা তাঁর প্রশংসাগানেই রত থাকা ব্যতীত অন্য কিছু না ক’রেও খুশি।
১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।
১১। অর্থদান
১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)
অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।
অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশু খ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।
অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।
হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)
১৩। প্রভুকে গ্রহণ
প্রবীণ না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।
১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৪৭
ধুয়ো: দেখ, কুমারীটি গর্ভবতী হয়ে
একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবেন,
তাঁর নাম রাখা হবে ইম্মানুয়েল
—আমাদের-সঙ্গে-ঈশ্বর।
যেরুশালেম! প্রভুর মহিমাকীর্তন কর;
সিয়োন! তোমার পরমেশ্বরের প্রশংসা কর,
তিনি যে সুদৃঢ় করেন তোমার নগরদ্বারের অর্গল,
তোমার সন্তানদের আশিসধন্য করেন তোমার অন্তঃস্থলে।
তিনি এ পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন তাঁর বচন,
তাঁর বাণী দ্রুত বেগে ছুটে যায়।
তিনি তুষার বিছিয়ে দেন গালিচার মত,
ছাইয়ের মত ছড়িয়ে দেন জমাট শিশির।
তিনি তাঁর আপন বাণী ঘোষণা করেন যাকোবের কাছে,
তাঁর সমস্ত বিধি ও সুবিচার ইস্রায়েলের কাছে।
অন্যান্য দেশের জন্য তাই করলেন, এমন নয়,
অন্য কেউ জানতে পারেনি তাঁর সমস্ত সুবিচার। [ধুয়ো]
১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর,
শাশ্বত মুক্তির পণ গ্রহণ করে আমরা অনুনয় করি:
আমাদের মুক্তির মহাদিবস যতখানি ঘনিয়ে আসছে,
আমাদের ভক্তি ততখানি বৃদ্ধিশীল হোক,
আমরা যেন তোমার পুত্রের জন্মোৎসব
যোগ্য অন্তরে উদ্যাপন করতে পারি।
তিনি জীবিত আছেন ও রাজত্ব করেন যুগে যুগান্তরে।
সকলে: আমেন।
১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।
অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।
[সূচী]