সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
আগমনকাল
• আগমনকালের মূখ্য বিষয়গুলোর মধ্য প্রভু যিশুর পুনরাগমন একটি।
• ছবিতে বিচারকর্তা প্রভু প্রদর্শিত।
• তিনি মাতা মারীয়া ও বাপ্তিস্মদাতা যোহনকে আশীর্বাদ করছেন; ডানে ও বামে দু'জন প্রেরীতদূতও উপস্থিত।
• যিশুর সিংহাসন থেকে দু'টো লিপিফলক নির্গত; সেগুলোতে লেখা রয়েছে মেষ ও ছাগের বিচারের রায় (“এসো, আমার পিতার আশীর্বাদের পাত্র যে তোমরা” ইত্যাদি বাণী এবং “আমার কাছ থেকে দূর হও, অভিশাপের পাত্র যে তোমরা” ইত্যাদি বাণী)।
• প্রভুর বিচারাসনের নিচে মানবজাতির আদি পিতামাতা প্রভুকে প্রণাম করেন। • মহাদূত মিখায়েলও উপস্থিত। তাঁর হাতে রয়েছে বিচারের দাঁড়িপাল্লা; ও তাঁর দু' পাশে দু’জন স্বর্গদূত দু’টো পুস্তক তুলে ধরেন যেখানে মানবের কর্ম লিখিত (ঐশপ্রকাশ (বা প্রত্যাদেশ) ২০:১১-১৩)। • দূতগণ তুরি বাজাচ্ছেন,তাতে তাঁরা প্রভুর পুনরাগমন ও শেষ বিচারের কথা ঘোষণা করছেন (১ থে ৪:১৬-১৭)।
   
রবিবার: ১ | ২ | ৩ |

১ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তোমার এ ভক্তদের অন্তরে সদিচ্ছা জাগিয়ে তোল: শুভকর্মের মালা দিয়ে
তোমার আসন্ন খ্রিষ্টকে অভ্যর্থনা জানাবার জন্য দৌড়িয়ে চ’লে
তারা যেন একদিন তাঁর ডান পাশে একত্রিত হয়ে
স্বর্গীয় রাজ্য উত্তরাধিকার রূপে পেতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী যেরেমিয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৩৩:১৪-১৬)

দেখ, এমন দিনগুলি আসছে—প্রভুর উক্তি—যখন আমি সেই মঙ্গলের কথার সিদ্ধি ঘটাব, যা আমি ইস্রায়েলকুল ও যুদাকুল সম্বন্ধে বলেছি।
সেই দিনগুলিতে ও সেই সময়ে আমি দাউদের জন্য ধর্মময়তার এক অঙ্কুর পল্লবিত করব; তিনি দেশে ন্যায় ও ধর্মময়তা অনুশীলন করবেন।
সেই দিনগুলিতে যুদা পরিত্রাণ পাবে, ও যেরুসালেম ভরসাভরে বসবাস করবে; আর নগরী এই নামে অভিহিতা হবে: প্রভু-আমাদের-ধর্মময়তা।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ২৫
ধুয়ো:
তোমার প্রতি, প্রভু,
তুলে ধরি আমার প্রাণ।

আমাকে চিনিয়ে দাও তোমার পথসকল, প্রভু,
আমাকে শিখিয়ে দাও তোমার পন্থাসকল।
তোমার সত্যে আমাকে চালনা কর, আমাকে শিক্ষা দাও,
তুমিই তো আমার ত্রাণেশ্বর।   [ধুয়ো]

প্রভু মঙ্গলময়, ন্যায়শীল,
তাই পাপীদের তিনি শেখান তাঁর আপন পথ।
ন্যায়মার্গে বিনম্রদের চালনা করেন,
বিনম্রদের শিখিয়ে দেন তাঁর আপন পথ।   [ধুয়ো]

যারা তাঁর সন্ধি, তাঁর নির্দেশমালা পালন করে,
তাদের জন্য প্রভুর সকল পথ কৃপা ও সত্যেরই পথ।
যারা প্রভুকে ভয় করে, তাদের জন্যই তাঁর মনের গোপন কথা,
তিনি তাদের জানান তাঁর সন্ধির কথা।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
থেসালোনিকীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৩:১২–৪:২)

প্রিয়জনেরা, প্রভুর অনুগ্রহে, তোমাদের পরস্পরের প্রতি ও সকলের প্রতি তোমাদের ভালবাসা যেন বেড়ে ওঠে, উথলে ওঠে, তোমাদের প্রতি আমাদের ভালবাসাও যেমনটি উথলে ওঠে, আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট যখন তাঁর সকল পবিত্রজনের সঙ্গে আসবেন, তখন তিনি যেন আমাদের ঈশ্বর ও পিতার সামনে তোমাদের হৃদয় পবিত্রতায় সুস্থির ও অনিন্দনীয় করে তোলেন।
শেষ কথা, ভাই: আমরা মিনতি করি, ও প্রভু যিশুতে তোমাদের অনুরোধ করি: তোমরা আমাদের কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছ ঈশ্বরকে প্রসন্ন করার জন্য তোমাদের কীভাবে চলা উচিত—তোমরা সেইভাবেই তো চলছ; তবু এবিষয়ে আরও বেশি উন্নতিশীল হও। তোমরা তো জান, প্রভু যিশুর পক্ষ থেকে আমরা তোমাদের কি কি আদেশ দিয়েছি।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা,
আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২১:২৫-২৮,৩৪-৩৬)

একদিন যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন: ‘তখন সূর্যে, চাঁদে ও আকাশের তারায় নানা চিহ্ন দেখা দেবে, এবং পৃথিবী জুড়ে জাতিগুলো দুঃখক্লিষ্ট হবে, সমুদ্র ও তরঙ্গের গর্জনে উদ্বিগ্ন হবে। লোকে ভয়ে, ও বিশ্বজগতে যা যা ঘটবে তার আশঙ্কায় ম্রিয়মাণ হয়ে যাবে; কেননা নভোমণ্ডলের পরাক্রমগুলো আলোড়িত হবে।
আর তখন তারা দেখতে পাবে, মানবপুত্র সপরাক্রমে ও মহাগৌরবে মেঘবাহনে আসছেন।
কিন্তু এই সকল ঘটনা শুরু হলে তোমরা সোজা হয়ে দাঁড়াও, মাথা উচ্চ কর, কেননা তোমাদের মুক্তি কাছে এসে গেছে।
কিন্তু নিজেদের সম্বন্ধে সাবধান থাক, যেন তোমাদের হৃদয় ভোজনে অমিতাচারে ও মাতলামিতে এবং জীবনের চিন্তা-ভাবনায় স্থূল হয়ে না পড়ে; আবার যেন সেই দিনটা হঠাৎ ফাঁদের মত তোমাদের উপরে না এসে পড়ে; কেননা সেই দিনটা সারা পৃথিবীর সকল মানুষের উপরে নেমে আসবে। তোমরা জেগে থাক, সবসময় মিনতি জানাও, যেন যা শীঘ্রই ঘটবার কথা তা এড়াবার, ও মানবপুত্রের সামনে দাঁড়াবার শক্তি পেতে পার।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
মঠাধ্যক্ষ সাধু বার্নার্ডের উপদেশ

ভ্রাতৃগণ, যথাযোগ্য ভাবেই, আত্মার উজ্জ্বল ভক্তিতেই প্রভুর আগমনকাল উদ্‌যাপন কর; যে মহাদান তোমাদের দেওয়া হচ্ছে, তার জন্য উৎফুল্ল অন্তর নিয়ে; যে মহাপ্রেম তোমাদের দেখানো হচ্ছে, তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গেই একাল উদ্‌যাপন কর।
তবু তোমরা প্রভুর সেই প্রথম আগমনেরই কথা শুধু ধ্যান করো না, যখন তিনি হারানো যত কিছু খোঁজ করতে ও ত্রাণ করতে জগতে প্রবেশ করলেন, বরং তাঁর সেই দ্বিতীয় আগমনেরও কথা ধ্যান কর, যখন তিনি নিজের সঙ্গে চিরকালের মত আমাদের মিলিত করতে আগমন করবেন।
তোমাদের ধ্যানের বিষয় হোক খ্রিষ্টের দ্বিবিধ আগমন; তাঁর প্রথম আগমনে তিনি যে কী দান করলেন ও দ্বিতীয় আগমনের জন্য যে কী প্রতিশ্রুত হয়েছেন, তা নিয়েই চিন্তামগ্ন থাক।
কেননা, ভ্রাতৃগণ, সেই ক্ষণ এসে গেছে যখন বিচার ঈশ্বরের গৃহ থেকেই শুরু হয় (১ পি ৪:১৭)। কিন্তু যারা তাঁর এই বিচার মানে না, তাদের কী দশা হবে? যে কেউ এ বর্তমান বিচার এড়ায়, যে বিচারে এ সংসারের অধিপতি বহিষ্কৃত হয়, সে সেই ভাবী বিচারককে অপেক্ষা করুক, এমনকি ভয়ই করুক, কেননা তখন তাঁর দ্বারা তার অধিপতির সঙ্গে সেও বহিষ্কৃত হবে। আমরা কিন্তু যদি এখন থেকে ন্যায়বিচারে নিজেদের বিচারিত হতে দিই, তবে নিশ্চিত আছি, ও পরিত্রাতারূপে প্রভু যিশুখ্রিষ্টেরই প্রতীক্ষায় রয়েছি। যে শক্তিগুণে তিনি সমস্ত কিছুই নিজের অধীনে আনতে পারেন, তিনি সেই শক্তি দিয়েই আমাদের হীনাবস্থার এই দেহটি রূপান্তরিত ক’রে তাঁর আপন গৌরবময় দেহের সমরূপ করবেন (ফিলি ৩:২০-২১)। তখন ধার্মিকেরা নিজেদের পিতার রাজ্যে সূর্যের মত দীপ্তিমান হয়ে উঠবে (মথি ১৩:৪৩)।
আপন আগমনে পরিত্রাতা আমাদের হীনাবস্থার এই দেহটি রূপান্তরিত ক’রে তাঁর আপন গৌরবময় দেহের সমরূপ করবেন, কিন্তু তাই করবেন যদি আগে থেকে তিনি আমাদের হৃদয়কে বিনম্রতায় তাঁর আপন হৃদয়ের অনুরূপে নবীভূত ও রূপান্তরিত পান—শুধু এই শর্তে। এজন্য তিনি বলেন, আমার কাছে শিখে নাও, কারণ আমি কোমল ও নম্রহৃদয় (মথি ১১:১৯)। এ বাক্যে বিনম্রতার দ্বিগুণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ কর: জ্ঞানের ও ইচ্ছার বিনম্রতা।
দ্বিতীয়টা এখানে হৃদয়ের বিনম্রতা বলে উপস্থাপিত। প্রথমটা অনুসারে আমরা আমাদের শূন্যতা চিনি, যেইভাবে আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দুর্বলতা থেকে তা অনুমান করতে পারি। দ্বিতীয়টা অনুসারে আমরা এ সংসারের অসার মায়া প্রত্যাখ্যান করি। আমরা হৃদয়ের বিনম্রতা তাঁরই কাছে শিখি, যিনি নিজেকে রিক্ত করে দাসের স্বরূপ ধারণ করলেন (ফিলি ২:৭), অর্থাৎ তাঁরই কাছে যিনি পালিয়ে গেছিলেন যখন লোকে তাঁকে রাজা করবার জন্য খুঁজছিল; কিন্তু যখন লোকে অপমানে পরিবৃত ও ক্রুশের লজ্জায় ও যন্ত্রণায় দণ্ডিত করার জন্য তাঁকে খোঁজ করেছিল, তখন স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৮৫
ধুয়ো:
প্রভু দান করবেন মঙ্গল,
আর আমাদের ভূমি দান করবে তার আপন ফসল।

হে আমাদের ত্রাণেশ্বর, আমাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত কর,
আমাদের উপর তোমার এ ক্ষোভ নিবৃত্ত কর।
তুমি কি আমাদের প্রতি ক্রুদ্ধ থাকবে চিরকাল ধরে?
তুমি কি তোমার ক্রোধ প্রসারিত করে যাবে যুগে যুগান্তরে?   [ধুয়ো]

তোমার আপন জনগণ যেন তোমাতে হতে পারে আনন্দিত,
তুমি কি আমাদের করবে না পুনরুজ্জীবিত?
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা,
আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

আমি শুনব প্রভু ঈশ্বর কী কথা বলবেন;
আপন জনগণের কাছে, আপন ভক্তদের কাছে তিনি বলেন শান্তি;
যারা তাঁকে ভয় করে, তাদের জন্য কাছেই রয়েছে তাঁর পরিত্রাণ,
আমাদের এ দেশে তাঁর গৌরব করবে বসবাস;   [ধুয়ো]

কৃপা ও সত্যের হবে সম্মিলন,
ধর্মময়তা ও শান্তি করবে পরস্পর চুম্বন;
মর্ত থেকে সত্য হবে অঙ্কুরিত,
স্বর্গ থেকে ধর্মময়তা বাড়াবে মুখ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, যে মহারহস্যে আমরা যোগদান করলাম,
তা আমাদের অন্তরে পূর্ণ সার্থকতা অর্জন করুক:
অনিত্য সংসারের পথিক এই আমরা
যেন তোমার নির্দেশমত স্বর্গীয় যা কিছু তা-ই ভালবাসি,
ও যা কিছু চিরস্থায়ী তা-ই যেন আঁকড়ে ধরে থাকি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২য় রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান করুণাময় ঈশ্বর,
আমরা তোমার পুত্রকে অভ্যর্থনা জানাবার জন্য দ্রুতপদে এগিয়ে চলছি।
আশীর্বাদ কর, যেন কোন পার্থিব বিষয়ে বিঘ্নিত না হই,
বরং স্বর্গীয় প্রজ্ঞায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যেন তাঁর সাহচর্য লাভ করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী বারুকের পুস্তক থেকে পাঠ (৫:১-৯)

যেরুসালেম, শোক ও দুঃখের বসন খুলে ফেল,
ঈশ্বরের গৌরবের প্রভা পরে নাও—চিরকাল ধরে।
ঈশ্বরের ধর্মময়তা-উত্তরীয় জড়িয়ে নাও,
সেই সনাতনের গৌরবের কিরীটে মাথা ভূষিত কর,
কারণ আকাশের নিচে যত জাতি রয়েছে,
ঈশ্বর তাদের দেখাবেন তোমার প্রভা,
এবং ঈশ্বর চিরকালের মত তোমার এই নাম রাখবেন:
ন্যায়ের শান্তি, ধর্মময়তার গৌরব।
ওঠ, যেরুসালেম, উচ্চস্থানে সোজা হয়ে দাঁড়াও, পুব দিকে তাকাও;
চেয়ে দেখ তোমার সন্তানদের!
সেই পবিত্রজনের বাণীতে তারা পুব-পশ্চিম থেকে সম্মিলিত,
ঈশ্বর স্মরণ করেছেন বলে তারা উল্লসিত।
শত্রু দ্বারা তাড়িত হয়ে তারা পায়ে হেঁটেই তোমা থেকে চলে গেল;
এখন ঈশ্বর তোমার কাছে তাদের ফিরিয়ে আনছেন,
রাজাসনেরই মত তাদের বহন করা হচ্ছে জয়োল্লাসের মধ্যে।
কেননা ঈশ্বর স্থির করেছেন,
তিনি উচ্চ যত পর্বত ও চিরকালীন যত শৈল সমতল করবেন,
উপত্যকা ভরে তুলবেন, ভূমি সমতল করবেন,
যেন ইস্রায়েল ঈশ্বরের গৌরবের ছায়ায় নিরাপদে এগিয়ে চলতে পারে।
যত অরণ্য ও সুগন্ধি যত বৃক্ষও
ঈশ্বরের আদেশে ইস্রায়েলকে ছায়া দেবে।
কারণ ঈশ্বর আপন গৌরবের আলোয়
ইস্রায়েলকে আনন্দের মধ্যে চালনা করবেন,
—সেই দয়া ও ধর্মময়তার সঙ্গে, যা তাঁর কাছ থেকেই আগত।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১২৬
ধুয়ো:
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু,
আমরা আনন্দিত।

প্রভু যখন সিয়োনের বন্দিদের ফিরিয়ে আনলেন,
আমরা তখন যেন স্বপ্নই দেখি!
তখন আমাদের মুখ হাসিতে মুখর,
আমাদের জিহ্বা আনন্দচিৎকারে পূর্ণ।   [ধুয়ো]

তখন বিজাতিদের মধ্যে একথা চলত,
‘তাদের জন্য কী মহা মহা কাজ না করেছেন প্রভু!’
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু,
আমরা আনন্দিত।   [ধুয়ো]

আমাদের বন্দিদের ফিরিয়ে আন, প্রভু,
তাদের ফিরিয়ে আন নেগেব প্রান্তরে খরস্রোতের মত।
যে অশ্রুর মধ্যে বীজ বোনে,
সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফসল সংগ্রহ করবে।   [ধুয়ো]

সে যায়, কাঁদতে কাঁদতে সে চলে যায়,
সঙ্গে নিয়ে যায় বপনের বীজ;
সে আসে, সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফিরে আসে,
সঙ্গে নিয়ে আসে ফসলের আঁটি।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
ফিলিপ্পীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১:৪-৬,৮-১১)

প্রিয়জনেরা, সবসময় আমার সমস্ত প্রার্থনায় তোমাদের সকলের জন্য মনের আনন্দেই প্রার্থনা করে থাকি; কারণ প্রথম দিনগুলি থেকে আজ পর্যন্ত তোমরা সুসমাচার প্রচারকাজে সহভাগী। আর এতে আমার দৃঢ় ভরসা আছে, তোমাদের অন্তরে যিনি এই উত্তম কাজ আরম্ভ করেছেন, তিনি যিশুখ্রিষ্টের দিন পর্যন্তই তা সম্পন্ন করে যাবেন।
স্বয়ং ঈশ্বর আমার সাক্ষী যে, খ্রিষ্টযিশুর স্নেহে আমি তোমাদের সকলের প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি। তাই প্রার্থনাও করে থাকি, তোমাদের ভালবাসা যেন জ্ঞানে ও সম্পূর্ণ ধীশক্তিতে উত্তরোত্তর উপচে পড়ে, যেন তোমরা যা যা উত্তম তা-ই সবসময় নির্ণয় করতে পার এবং খ্রিষ্টের দিন পর্যন্ত নিখুঁত ও অনিন্দ্য হয়ে থাকতে পার, এবং ধর্মময়তার সেই ফলে পরিপূর্ণ হতে পার, যা ঈশ্বরের গৌরব ও প্রশংসার উদ্দেশে যিশুখ্রিষ্ট দ্বারাই প্রাপ্য।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত কর, তাঁর রাস্তা সমতল কর।
সমস্ত মানবকুল প্রভুর পরিত্রাণ দেখতে পাবে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৩:১-৬)

তিবেরিউস সীজারের রাজত্বকালের পঞ্চদশ বর্ষে যখন পোন্তিয় পিলাত যুদেয়ার প্রদেশপাল, হেরোদ গালিলেয়ার সামন্তরাজ, তাঁর ভাই ফিলিপ ইতুরেয়া ও ত্রাখনিতিস প্রদেশের সামন্তরাজ, এবং লিসানিয়াস আবিলেনের সামন্তরাজ ছিলেন, তখন, আন্না ও কাইয়াফার মহাযাজকত্ব-কালে, ঈশ্বরের আহ্বান মরুপ্রান্তরে জাখারিয়ার সন্তান যোহনের কাছে উপস্থিত হল।
তিনি যর্দনের সমস্ত অঞ্চলে এসে পাপমোচনের উদ্দেশে মনপরিবর্তনের বাপ্তিস্ম প্রচার করতে লাগলেন, যেমনটি নবী ইসাইয়ার বাণীগ্রন্থে লেখা আছে:
এমন একজনের কণ্ঠস্বর যে মরুপ্রান্তরে চিৎকার করে বলে,
প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত কর,
তাঁর রাস্তা সমতল কর।
উঁচু করা হোক সকল উপত্যকা,
নিচু করা হোক সকল পর্বত, সকল উপপর্বত।
অসমতল ভূমি হোক সমতল,
শৈলশিরা হয়ে উঠুক সমভূমি;
এবং সমস্ত মানবকুল প্রভুর পরিত্রাণ দেখতে পাবে।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
তুরিনের বিশপ সাধু মাক্সিমের উপদেশ

ঐশশাস্ত্র সবসময়ই কথা বলে ও চিৎকার করে, যেইভাবে যোহনের বেলায় লেখা আছে, আমি এমন একজনের কণ্ঠস্বর, যে মরুপ্রান্তরে চিৎকার করে। যোহন যে সময় ফরিসিদের কাছে প্রভু ও তাঁর পরিত্রাণের সংবাদ দিতেন, তখনই মাত্র যে তিনি চিৎকার করেছেন এমন নয়; আজও তিনি আমাদের মাঝে চিৎকার করেন, আর তাঁর কণ্ঠস্বর বজ্রনাদের মত আমাদের পাপময় মরুপ্রান্তর কম্পিত করে। তিনি পুণ্য সাক্ষ্যমরণে নিদ্রা গেলেন, কিন্তু তাঁর কণ্ঠস্বর এখনও জীবন্ত। সেই কণ্ঠস্বর আজও আমাদের বলে, প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত কর, তাঁর জন্য রাস্তা সমতল কর। অতএব শাস্ত্র সবসময়ই চিৎকার করে ও কথা বলে।
যোহন আজ আমাদের কানে সেই একই চিৎকার ধ্বনিত করেন, এবং প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত করতে আদেশ করেন।
এ পথ ভূমিতে পাতা নয়, পথটা বরং নিখুঁত বিশ্বাসেই অবস্থিত। প্রভু পৃথিবীর পথগুলির মধ্যে নয়, আত্মার অন্তঃস্থলেই নিজের জন্য একটা পথ খুলতে চান।
যিনি আমাদের বলেন প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত করতে, এসো, আমরা লক্ষ করি সেই যোহন নিজেই ত্রাণকর্তার জন্য কী ধরনের পথ খুলে দিলেন। তিনি আগমনকারী খ্রিষ্টকে উদ্দেশ্য করেই তাঁর সমস্ত গমনপথ প্রস্তুত ও নিরূপণ করলেন, তথা, দীর্ঘ উপবাস, বিনম্রতা, দরিদ্রতা, কৌমার্য। এসব গুণ বর্ণনা করে সুসমাচার-রচয়িতা বলেন, যোহন উটের লোমের কাপড় পরতেন, তাঁর কোমরে চামড়ার এক বন্ধনী ছিল, ও তিনি পঙ্গপাল ও বনের মধু খেতেন (মার্ক ১:৬)।
শক্ত লোমের কাপড় পরিধান করার চেয়ে মহত্তর বিনম্রতা নবীর কী থাকতে পারে? কোমর বেঁধে যত সেবাকর্ম পালন করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখার চেয়ে অধিক ভক্তিময় বিশ্বস্ততা কী থাকতে পারে? পঙ্গপাল ও বনের মধু নিয়ে খুশি হয়ে জীবনের যত আরাম তুচ্ছ করার চেয়ে আদর্শবান সংযম কী থাকতে পারে?
আমি মনে করি, এসব কিছু যা নবীর বেলায় সাধারণ ব্যাপার ছিল, তা প্রকৃতপক্ষে ভবিষ্যদ্বাণীই ছিল। খ্রিষ্টের অগ্রদূত উটের লোম দিয়ে তৈরী একটা পোশাক ব্যবহার করতেন, কেননা তিনি একপ্রকারে ইঙ্গিত দিতে চাইতেন, স্বয়ং খ্রিষ্ট এসে মানবদেহ পরিধান করবেন, সেই যে মানবদেহ আমাদের পাপের শক্ত সুতো দিয়ে বোনা। আর সেই চামড়ার কটিবন্ধনী কি আমাদের এ ভঙ্গুর মাংসের প্রতীক নয়, যে মাংস খ্রিষ্টের আগমনের আগে রিপুর প্রভুত্বের অধীন ছিল, কিন্তু পরে সদ্‌গুণাবলির বল্গায় নিয়ন্ত্রণাধীন হল?

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৪৭
ধুয়ো:
ওঠ, যেরুসালেম,
উচ্চস্থানে সোজা হয়ে দাঁড়াও,
চেয়ে দেখ সেই আনন্দ,
যা স্বয়ং ঈশ্বর থেকেই তোমার কাছে আসছে!

যেরুসালেম! প্রভুর মহিমাকীর্তন কর;
সিয়োন! তোমার পরমেশ্বরের প্রশংসা কর,
তিনি যে সুদৃঢ় করেন তোমার নগরদ্বারের অর্গল,
তোমার সন্তানদের আশিসধন্য করেন তোমার অন্তঃস্থলে।

তিনি এ পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন তাঁর বচন,
তাঁর বাণী দ্রুত বেগে ছুটে যায়।
তিনি তুষার বিছিয়ে দেন গালিচার মত,
ছাইয়ের মত ছড়িয়ে দেন জমাট শিশির।

তিনি তাঁর আপন বাণী ঘোষণা করেন যাকোবের কাছে,
তাঁর সমস্ত বিধি ও সুবিচার ইস্রায়েলের কাছে।
অন্যান্য দেশের জন্য তাই করলেন, এমন নয়,
অন্য কেউ জানতে পারেনি তাঁর সমস্ত সুবিচার।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আত্মিক খাদ্য গ্রহণে পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে
আমরা তোমাকে অনুনয় করি:
এ রহস্যময় ভোজে যোগদানের ফলে আমাদের উদ্বুদ্ধ কর,
যেন পার্থিব সমস্ত কিছু প্রজ্ঞার সঙ্গে নির্ণয় ক’রে
আমরা স্বর্গীয় সমস্ত কিছুতেই স্থিতমূল থাকি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩য় রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, চেয়ে দেখ তোমার এ জনগণের দিকে
যারা জাগ্রত বিশ্বাসের সঙ্গেই প্রভুর জন্মলগ্নের প্রতীক্ষায় রত আছে।
আশীর্বাদ কর:
পরিত্রাণ-মহারহস্য ভক্তিপূর্ণ অন্তরে অনুধ্যান করতে করতে
আমরা যেন মনের আনন্দেই আসন্ন মহোৎসবে পৌঁছতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী জেফানিয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৩:১৪-১৭)

সানন্দে চিৎকার কর, সিয়োন কন্যা!
জয়ধ্বনি তোল, ইস্রায়েল!
আনন্দ কর, সমস্ত হৃদয় দিয়ে উল্লাস কর, যেরুসালেম কন্যা!
প্রভু তোমার দণ্ডাজ্ঞা ফিরিয়ে নিয়েছেন,
তোমার শত্রুকে হটিয়ে দিয়েছেন।
প্রভুই তোমার অন্তঃস্থলে রাজা, হে ইস্রায়েল!
ভয় করার মত আর কোন অমঙ্গল থাকবে না।
সেইদিন যেরুসালেমকে বলা হবে:
‘সিয়োন, ভয় করো না,
তোমার হাত শিথিল না হোক!
তোমার পরমেশ্বর প্রভু রয়েছেন তোমার অন্তঃস্থলে,
ত্রাণকর্তাই সেই বীর!
তিনি তোমাকে নিয়ে আনন্দে মেতে উঠবেন,
তাঁর ভালবাসা দ্বারা তোমাকে নবীভূত করবেন,
তোমার জন্য আনন্দচিৎকারে ফেটে পড়বেন।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত (ইসাইয়া ১২:২-৬)
ধুয়ো: সানন্দে চিৎকার কর, জাগাও হর্ষধ্বনি,
কারণ তোমাদের মধ্যে মহানই ইস্রায়েলের সেই পবিত্রজন।

সত্যি, ঈশ্বরই আমার পরিত্রাণ,
আমি ভরসা রাখব, ভীত হব না;
কারণ প্রভুই আমার শক্তি, আমার স্তবগান,
তিনি হলেন আমার পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

তোমরা আনন্দের সঙ্গে জল তুলে আনবে পরিত্রাণের উৎসধারা থেকে;
প্রভুর স্তুতিবাদ কর, কর তাঁর নাম;
জাতিসকলের মাঝে তাঁর কর্মকীর্তির কথা জ্ঞাত কর,
ঘোষণা কর: তাঁর নাম মহীয়ান।   [ধুয়ো]

প্রভুর স্তবগান কর, তিনি যে সাধন করেছেন মহিমময় কাজ,
সারা পৃথিবী জুড়ে একথা জ্ঞাত হোক।
সানন্দে চিৎকার কর, জাগাও হর্ষধ্বনি, সিয়োন অধিবাসী,
কারণ তোমাদের মধ্যে মহানই ইস্রায়েলের সেই পবিত্রজন।’   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
ফিলিপ্পীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৪:৪-৭)

প্রিয়জনেরা, তোমরা প্রভুতে নিত্য আনন্দেই থাক; আবার বলছি, আনন্দেই থাক। তোমাদের অমায়িকতা সকল মানুষের কাছে জ্ঞাত হোক। প্রভু তো কাছেই এসে গেছেন। কোন বিষয়ে চিন্তিত হয়ো না, কিন্তু সমস্ত বিষয়ে প্রার্থনা ও মিনতি দ্বারা ধন্যবাদ-স্তুতি করে তোমাদের সকল যাচনা ঈশ্বরের কাছে জানাও।
তবে ঈশ্বরের সেই শান্তি, যা সমস্ত ধারণার অতীত, তোমাদের হৃদয় ও মন খ্রিষ্টযিশুতে রক্ষা করবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
প্রভুর আত্মা আমার উপর অধিষ্ঠিত,
তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন দীনদুঃখীদের কাছে শুভসংবাদ দিতে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৩:১০-১৮)

যখন লোকেরা বাপ্তিস্মদাতা যোহনকে জিজ্ঞাসা করত, ‘তাহলে আমাদের কী করতে হবে?’ তখন তিনি উত্তরে তাদের বলতেন, ‘যার দু’টো জামা আছে, সে, যার নেই, তার সঙ্গে সহভাগিতা করুক; আর যার খাবার আছে, সেও তেমনি করুক।’
বাপ্তিস্ম গ্রহণ করার জন্য কর-আদায়কারীরাও এল; তাঁকে বলল, ‘গুরু, আমাদের কী করতে হবে?’ তিনি তাদের বললেন, ‘যে কর ধার্য আছে, তার বেশি আদায় করো না।’
সৈন্যরাও তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, ‘আর আমরা? আমাদের কী করতে হবে?’ তিনি তাদের বললেন, ‘বলপ্রয়োগে কিছু দাবি করো না, অন্যায়ভাবে কিছু আদায়ও করো না, কিন্তু তোমাদের মাইনে নিয়ে সন্তুষ্ট থাক।’
আর যেহেতু জনগণ প্রতীক্ষায় ছিল, ও যোহনের বিষয়ে সকলে মনে মনে ভাবছিল তিনিই সেই খ্রিষ্ট কিনা, সেজন্য যোহন সকলকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘আমি তোমাদের জলে বাপ্তিস্ম দিই বটে, কিন্তু এমন একজন আসছেন, যিনি আমার চেয়ে শক্তিশালী; আমি তাঁর জুতোর বাঁধন খুলবার যোগ্য নই; তিনি পবিত্র আত্মা ও আগুনেই তোমাদের বাপ্তিস্ম দেবেন। তাঁর কুলো তাঁর হাতে রয়েছে: তিনি নিজের খামার পরিষ্কার করবেন, ও গম নিজের গোলায় সংগ্রহ করবেন, কিন্তু তুষ অনির্বাণ আগুনে পুড়িয়ে দেবেন।’ এবং আরও অনেক উপদেশ দিয়ে তিনি জনগণের কাছে শুভসংবাদ প্রচার করতেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
লুক-রচিত সুসমাচারে পুরোহিত অরিজেনের উপদেশ

যিশুর বাপ্তিস্ম এমন যা পবিত্র আত্মা ও আগুনেই সাধিত বাপ্তিস্ম। তুমি পুণ্যবান হলে পবিত্র আত্মায় দীক্ষিত হবে; পাপী হলে আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে; একই বাপ্তিস্ম অযোগ্য পাপীদের জন্য দণ্ড ও আগুন হবে, কিন্তু যারা পূর্ণ বিশ্বাসে প্রভুর দিকে মন ফেরায়, সেই পুণ্যবানেরা পবিত্র আত্মার অনুগ্রহ ও পরিত্রাণ লাভ করবে।
এখন, যিনি তোমাদের পবিত্র আত্মা ও আগুনেই বাপ্তিস্ম দেবেন, তাঁর হাতে কুলা আছে: তিনি নিজ খামার পরিষ্কার করবেন, ও গম নিজের গোলায় সংগ্রহ করবেন, কিন্তু তুষ অনির্বাণ আগুনে পুড়িয়ে দেবেন (লুক ৩:১৬-১৭)। আমি আবিষ্কার করতে চাই, কোন্‌ উদ্দেশ্যে প্রভুর হাতে কুলা রয়েছে ও যখন গম ভারী হওয়ায় সবসময় একই স্থানে পড়ে, তখন কোন্‌ বাতাসে হালকা তুষগুলো এদিক ওদিক তাড়িত হয়; বস্তুত বাতাস বিনা গম তুষগুলো থেকে বাছাই করা যায় না। আমি মনে করি, বাতাস বলতে সেই সমস্ত প্রলোভন বুঝতে হবে, যেগুলো বিশ্বাসীদের এলোমেলো সংখ্যার মধ্যে প্রমাণিত করে কে কে তুষ ও কে কে গম; কেননা তোমার আত্মা যখন কোন প্রলোভন দ্বারা নিজেকে প্রভাবান্বিত হতে দিয়েছে, তখন এর কারণ এ নয় যে প্রলোভনটা তোমাকে তুষে পরিণত করেছে, বরং তুমি তুষ ছিলে বিধায়, অর্থাৎ তুমি হালকা ও অবিশ্বাসী ছিলে বিধায় প্রলোভন তোমার গোপন প্রকৃতি প্রকাশ করেছে। অপর পক্ষে তুমি যখন সাহসের সঙ্গে প্রলোভন আক্রমণ কর, তখন প্রলোভন যে তোমাকে বিশ্বস্ত ও সহিষ্ণু করে এমন নয়, বরং প্রলোভন স্পষ্ট করে তোলে সেই সহিষ্ণুতা ও দৃঢ়তার গুণ যা তোমার অন্তরে ছিল, কিন্তু গুপ্ত অবস্থায়। প্রভু বলছেন, তুমি কি মনে কর, তোমার কাছে কথা বলায় তোমার ধর্মময়তা প্রকাশ করা ছাড়া আমার অন্য উদ্দেশ্য ছিল? অন্যত্র তিনি বলে চলেন, অন্তরে তোমার যা ছিল, তা প্রকাশ করতেই আমি তোমাকে নমিত করেছি, তোমাকে পরীক্ষিত করেছি (দ্বিঃবিঃ ৮:২ দ্রঃ)।
একই অর্থে, ঝড় বালির উপরে গড়া বাড়ি সোজা রাখে না; তুমি যদি চাও, বাড়ি টিকে থাকবে, শৈলের উপরেই তা গেঁথে তোল। একবার অবাধে বইতে লাগলে ঝড় শৈলের উপরে গড়া বাড়ি উল্টিয়ে ফেলতে পারবে না; কিন্তু বালিতে যা যা টলমল, ঝড় সেই বাড়ির ভিত যে কত দুর্বল, তা প্রকাশ করবে।
একারণে এসো, ঝড় ও দমকা বাতাস অবাধে বইবার আগে ও বন্যা আসার আগে, সবকিছু নিস্তব্ধ থাকতেই, বাড়ির ভিতের দিকে সযত্নে মন দিই, আমাদের বাড়িটাকে ঈশ্বরের আজ্ঞাবলির বহুবিধ ও শক্ত শৈল দিয়ে গেঁথে তুলি; তবেই যখন হিংস্রতম নির্যাতন দেখা দেবে, যখন দুর্ঘটনার ঝড় খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে অবাধে বইতে লাগবে, তখন আমরা দেখাতে পারব, আমাদের বাড়ি সেই শৈলের উপরেই স্থাপিত যা স্বয়ং খ্রিষ্টযিশু। কিন্তু যে কেউ তাঁকে অস্বীকার করবে—তেমন সর্বনাশ আমাদের কাছ থেকে দূরেই থাকুক!—সে জেনে নিক, লোকে যে মুহূর্তে তাকে খ্রিষ্টকে অস্বীকার করতে দেখবে তখনই যে সে তাঁকে অস্বীকার করবে এমন নয়, সে বরং বিশ্বাসঘাতকতার প্রাচীন মূলকাণ্ড ও শিকড় আগে থেকেই অন্তরে বহন করে আসছিল: সেই মুহূর্তে তা-ই প্রকাশ পেল ও তা-ই দিনের আলোয় ভেসে উঠল যা আগেও তার অন্তরে ছিল।
সুতরাং এসো, প্রভুর কাছে যাচনা করি, আমরা যেন এমন মজবুত বাড়ি হতে পারি যা কোন ঝড় উল্টিয়ে ফেলতে পারবে না, এমন বাড়ি যা সেই শৈলের উপরেই স্থাপিত যে শৈল হল আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট, যাঁরই গৌরব ও পরাক্রম যুগে যুগান্তরে। আমেন (১ পি ৪:১১)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৪৭
ধুয়ো:
ভীরুহৃদয়দের বল:
‘সাহস ধর, ভয় করো না;
এই যে আমাদের পরমেশ্বর!
তিনি আমাদের ত্রাণ করতে আসছেন।’

যেরুসালেম! প্রভুর মহিমাকীর্তন কর;
সিয়োন! তোমার পরমেশ্বরের প্রশংসা কর,
তিনি যে সুদৃঢ় করেন তোমার নগরদ্বারের অর্গল,
তোমার সন্তানদের আশিসধন্য করেন তোমার অন্তঃস্থলে।

তিনি এ পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন তাঁর বচন,
তাঁর বাণী দ্রুত বেগে ছুটে যায়।
তিনি তুষার বিছিয়ে দেন গালিচার মত,
ছাইয়ের মত ছড়িয়ে দেন জমাট শিশির।

তিনি তাঁর আপন বাণী ঘোষণা করেন যাকোবের কাছে,
তাঁর সমস্ত বিধি ও সুবিচার ইস্রায়েলের কাছে।
অন্যান্য দেশের জন্য তাই করলেন, এমন নয়,
অন্য কেউ জানতে পারেনি তাঁর সমস্ত সুবিচার।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে কৃপাময় প্রভু, অনুনয় করি:
তোমার এ দিব্য খাদ্য সমস্ত দোষত্রুটি থেকে আমাদের পরিশুদ্ধ ক’রে
যেন আসন্ন খ্রিষ্টজন্মোৎসবের জন্য আমাদের হৃদয়-মন প্রস্তুত করে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৪র্থ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর বাতিল।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, মিনতি জানাই: আমাদের অন্তরে তোমার অনুগ্রহ সঞ্চার কর,
আমরা যারা দূত-সংবাদ দ্বারা
তোমার পুত্র সেই খ্রিষ্টের দেহধারণের কথা জেনেছি,
তাঁর যন্ত্রণাভোগ ও ক্রুশমৃত্যু গুণে
যেন পুনরুত্থানের গৌরবে উপনীত হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী মিখার পুস্তক থেকে পাঠ (৫:১-৪ক)

প্রভু একথা বলছেন:
আর তুমি, হে বেথলেহেম-এফ্রাথা,
তুমি যে যুদা-গোত্রগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতম,
তোমা থেকেই আমার উদ্দেশে বের হবেন তিনি,
যিনি হবেন ইস্রায়েলের শাসনকর্তা,
প্রাচীনকাল থেকে, অনাদিকাল থেকেই যাঁর উৎপত্তি।
এজন্য যতদিন প্রসব-বেদনাগ্রস্ত নারীর প্রসব না হয়,
ততদিন ধরে প্রভু ইস্রায়েলকে পরিত্যাগ করবেন।
তখন তাঁর ভাইদের অবশিষ্ট অংশ
ইস্রায়েল সন্তানদের সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে ফিরে আসবে।
তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর আপন মেষপালকে প্রভুর শক্তিতেই,
তাঁর পরমেশ্বর প্রভুর নামের মহিমায়ই পালন করবেন।
তারা তখন পূর্ণ ভরসায় বাস করবে,
কারণ তিনি মহান হবেন পৃথিবীর শেষপ্রান্ত পর্যন্ত।
আর তিনি নিজেই হবেন শান্তি।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৮০
ধুয়ো:
হে পরমেশ্বর, আমাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত কর;
শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তোল, তবেই আমরা পাব পরিত্রাণ।

হে ইস্রায়েলের পালক, কান পেতে শোন;
খেরুব বাহনে সমাসীন হয়ে উদ্ভাসিত হও।
জাগাও তোমার পরাক্রম,
আমাদের ত্রাণ করতে এসো।   [ধুয়ো]

হে সেনাবাহিনীর পরমেশ্বর, ফিরে এসো,
স্বর্গ থেকে চেয়ে দেখ, এ আঙুরলতাকে দেখতে এসো।
রক্ষা কর সেই চারাগাছ যা তোমার ডান হাত পুঁতেছে একদিন,
সেই পুত্রসন্তানকে যাকে নিজের জন্যই করেছ শক্তিশালী।   [ধুয়ো]

তোমার হাত থাকুক তোমার ডান পাশের মানুষের উপর,
থাকুক সেই আদমসন্তানের উপর যাকে নিজের জন্যই তুমি করেছ শক্তিশালী।
আর কখনও তোমাকে ছেড়ে আমরা চলে যাব না,
তুমি আমাদের সঞ্জীবিত করবে আর আমরা করব তোমার নাম।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (১০:৫-১০)

প্রিয়জনেরা, এই জগতে প্রবেশ করার সময়ে খ্রিষ্ট এই কথা বলেন:
যজ্ঞ ও নৈবেদ্য তুমি ইচ্ছা করনি,
বরং আমার জন্য একটি দেহ গড়ে তুলেছ;
আহুতি ও পাপার্থে বলিদানে তুমি প্রসন্ন হওনি,
তাই আমি বলেছি: এই যে, আমি এসেছি,
—শাস্ত্রগ্রন্থে আমার বিষয়ে লেখা আছে—
হে ঈশ্বর, তোমার ইচ্ছা পূর্ণ করতে।
তিনি প্রথমে বলেন, যজ্ঞ, নৈবেদ্য, আহুতি ও পাপার্থে বলিদান তুমি ইচ্ছা করনি, এবং এগুলিতে প্রসন্নও হওনি—এই সবকিছু এমন, যা বিধান অনুসারে উৎসর্গ করা হয়—পরে তিনি বলে চলেন, এই যে, আমি এসেছি তোমার ইচ্ছা পূর্ণ করতে। এভাবে তিনি প্রথম ব্যবস্থা বাতিল করছেন, যেন দ্বিতীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে পারেন। আর ঠিক সেই ‘ইচ্ছা’ গুণেই, যিশুখ্রিষ্টের সেই একবার চিরকালের মত দেহ-নৈবেদ্য গুণেই আমাদের পবিত্র করে তোলা হল।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমি প্রভুর দাসী,
আপনি যা বলেছেন, আমার তা-ই হোক।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:৩৯-৪৪)

সেসময়ে মারীয়া সঙ্গে সঙ্গে রওনা হয়ে পার্বত্য অঞ্চলে যুদার একটা শহরের দিকে যত শীঘ্রই যাত্রা করলেন।
জাখারিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে এলিজাবেথকে অভিবাদন জানালেন। তখন এমনটি ঘটল যে, এলিজাবেথ মারীয়ার অভিবাদন শোনামাত্র তাঁর গর্ভে শিশুটি লাফিয়ে উঠল; এলিজাবেথ পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হলেন ও উচ্চকণ্ঠে বলে উঠলেন, ‘নারীকুলে তুমি ধন্যা, এবং ধন্য তোমার গর্ভফল। আমি কে যে আমার প্রভুর মা আমার কাছে আসবে? দেখ, তোমার অভিবাদন আমার কানে ধ্বনিত হওয়ামাত্র শিশুটি আমার গর্ভে আনন্দে লাফিয়ে উঠল; আহা, সুখী সেই জন যে বিশ্বাস করেছে! কারণ প্রভু দ্বারা তাকে যা বলা হয়েছে, তা সিদ্ধিলাভ করবে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
মঠাধ্যক্ষ ধন্য গেরিকের উপদেশ

এই দেখ! রাজা আসছেন; এসো, আমাদের ত্রাণকর্তাকে বরণ করতে ছুটে যাই! সলোমন ঠিকই বলেন, পিপাসিত লোকের পক্ষে যেমন ঠাণ্ডা জল, তেমনি দূরদেশ থেকে পাওয়া শুভসংবাদ (প্রবচন ২৫:২৫)। সেটাই শুভসংবাদ, যেটা ত্রাণকর্তার আগমন, জগতের পুনর্মিলন ও ভাবী জীবনের দানগুলির সংবাদ দেয়। ঈশ্বরের জন্য পিপাসিত আত্মার জন্য তেমন সংবাদ হল আরামদায়ী জল, ত্রাণদায়ী প্রজ্ঞার পানীয়: আর সত্যিই, যে কেউ কাউকে ত্রাণকর্তার আগমন বা অন্য রহস্যের সংবাদ দেয়, সে তার জন্য জল তুলে আনে পরিত্রাতার উৎসধারা থেকে (ইসা ১২:৩) আর সেই জল তাকে পান করতে দেয়। আর যে আত্মা ইসাইয়া বা অন্য কোন নবীর কাছ থেকে সংবাদ পেয়েছে, মনে হয় সে যেন এলিজাবেথের কথা দিয়ে উত্তর দেয়: আমার এমন সৌভাগ্য হল কী করে যে আমার প্রভু আমার কাছে আসবেন? দেখ, তোমার অভিবাদনের সুর আমার কানে আসা মাত্র, আপন ত্রাণকর্তাকে বরণ করতে ছুটে যাওয়ার ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষায় আমার প্রাণ উল্লাসে মেতে উঠল।
অতএব আমাদের প্রাণ উজ্জ্বল আনন্দে জেগে উঠুক, আপন ত্রাণকর্তাকে বরণ করতে ছুটে যাক: তিনি দূর থেকে আগমন করতেই সে তাঁকে আরাধনা করুক, আনন্দচিৎকারে তাঁকে প্রণাম করুক: এসো, প্রভু, আমাকে ত্রাণ কর আর আমি ত্রাণ পাব (যেরে ১৭:১৪); এসো, তোমার শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তোল, আর আমরা পাব পরিত্রাণ (সাম ৮০:৪)। আমরা তোমাতে আশা রাখি: সঙ্কটকালে হও তুমি আমাদের পরিত্রাণ (ইসা ৩৩:২)। এইভাবে নবীরা ও পুণ্যজনেরা আকাঙ্ক্ষায় ও ভালবাসায় আসন্ন খ্রিষ্টকে বরণ করতে বহুদিন আগে ছুটে যেতেন; তাঁদের গভীর বাসনা, আত্মায় যাঁর পূর্বদর্শন পাচ্ছিলেন, সম্ভব হলে তাঁরা স্বচক্ষেই তাঁকে দেখবেন। মনে হয় শাস্ত্র আমাদের কাছে এমন আনন্দ প্রত্যাশা করে, যার ফলে আমাদের প্রাণও নিজের ঊর্ধ্বেই নিজেকে উন্নীত ক’রে আসন্ন খ্রিষ্টকে কোন প্রকারে বরণ করতে আকাঙ্ক্ষা করবে, বাসনায় নিজেকে প্রসারিত করবে, ও কোন বিলম্ব না মেনে অঙ্গীকৃত ঘটনা আগেই দেখতে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। আমি মনে করি, তাঁকে বরণ করার জন্য শাস্ত্রের বহু বাণীর আবেদন তাঁর দ্বিতীয় আগমন শুধু নয়, তাঁর প্রথম আগমনও নির্দেশ করে। কী করে? তাঁর দ্বিতীয় আগমনে যেমন আমরা উল্লাসের সঙ্গে, এমনকি আমাদের এ দেহেরই পদক্ষেপেও তাঁকে বরণ করতে যাব, তেমনি তাঁর প্রথম আগমনে হৃদয়েরই ভালবাসা ও উল্লাসের সঙ্গে আমাদের তাঁকে বরণ করতে যেতে হবে।
আর সত্যিই, প্রথম ও চরম আগমনের মধ্যে এই যে বর্তমানকাল রয়েছে, এই যে বর্তমানকাল আমাদের প্রথম আগমনের অনুরূপ করে ও চরমটার জন্য আমাদের প্রস্তুত করে, এই বর্তমানকালে প্রতিটি আত্মায় প্রভুর তেমন আগমন ততখানি বাস্তব, যোগ্যতা ও ভালবাসা যতখানি গভীর। তিনি এখন আমাদের অন্তরে আগমন করেন যেন তাঁর প্রথম আগমন আমাদের পক্ষে বৃথা না হয় ও তাঁর দ্বিতীয় আগমনে তাঁকে যেন আমাদের বিরুদ্ধে ক্রোধান্বিত হয়ে না ফিরতে হয়। আমাদের কাছে বারবার আগমন ক’রে তিনি আমাদের গর্বিত মনের পরিবর্তন ঘটিয়ে তা তাঁর আপন বিনম্রতার অনুরূপ করতে চান, সেই যে বিনম্রতা বিষয়ে তিনি প্রথমবার আগমন করায়ই আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রমাণ দিয়েছিলেন; আর তাই করেন, যাতে পরবর্তীতে তিনি আমাদের দীন দেহকে রূপান্তরিত করতে পারেন ও তাঁর সেই গৌরবময় দেহেরই অনুরূপ করে তুলতে পারেন (ফিলি ৩:২১)—যে দেহ তিনি তাঁর পুনরাগমনেই আমাদের কাছে প্রকাশ করবেন।
ভ্রাতৃগণ, আমরা কিন্তু তেমন অপরূপ অভিজ্ঞতায় এখনও সান্ত্বনা পাইনি: আমরা যেন ধৈর্যের সঙ্গে প্রভুর আগমনের প্রতীক্ষায় থাকতে পারি, ইতিমধ্যে আমাদের সান্ত্বনা দিক এমন দৃঢ় বিশ্বাস ও নির্মল বিবেক যা পলের সঙ্গে সানন্দে ও বিশ্বস্তভাবে বলতে পারে: যাঁর উপর বিশ্বাস রেখেছি, তাঁকে জানি, আর এতে আমি নিশ্চিত যে, তাঁর হাতে যা গচ্ছিত রেখেছি, তিনি সেই দিন পর্যন্ত তা রক্ষা করতে সমর্থ (২ তি ১:১২), অর্থাৎ আমাদের মহান ঈশ্বর ও পরিত্রাতা সেই যিশুখ্রিষ্টেরই গৌরবপ্রকাশের দিনে (তীত ২:১৩), যাঁর গৌরব হোক চিরকাল ধরে। আমেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৪৭
ধুয়ো:
দেখ, কুমারীটি গর্ভবতী হয়ে
একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবেন,
তাঁর নাম রাখা হবে ইম্মানুয়েল
—আমাদের-সঙ্গে-ঈশ্বর।

যেরুসালেম! প্রভুর মহিমাকীর্তন কর;
সিয়োন! তোমার পরমেশ্বরের প্রশংসা কর,
তিনি যে সুদৃঢ় করেন তোমার নগরদ্বারের অর্গল,
তোমার সন্তানদের আশিসধন্য করেন তোমার অন্তঃস্থলে।

তিনি এ পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন তাঁর বচন,
তাঁর বাণী দ্রুত বেগে ছুটে যায়।
তিনি তুষার বিছিয়ে দেন গালিচার মত,
ছাইয়ের মত ছড়িয়ে দেন জমাট শিশির।

তিনি তাঁর আপন বাণী ঘোষণা করেন যাকোবের কাছে,
তাঁর সমস্ত বিধি ও সুবিচার ইস্রায়েলের কাছে।
অন্যান্য দেশের জন্য তাই করলেন, এমন নয়,
অন্য কেউ জানতে পারেনি তাঁর সমস্ত সুবিচার।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর,
শাশ্বত মুক্তির পণ গ্রহণ করে আমরা অনুনয় করি:
আমাদের মুক্তির মহাদিবস যতখানি ঘনিয়ে আসছে,
আমাদের ভক্তি ততখানি বৃদ্ধিশীল হোক,
আমরা যেন তোমার পুত্রের জন্মোৎসব
যোগ্য অন্তরে উদ্‌যাপন করতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]