সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
জন্মোৎসবকাল
• পবিত্র পরিবার বড়দিনের পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়। ১লা জানুয়ারীর আগে কোনো রবিবার না পড়লে তবে ৩০শে ডিসেম্বরে পালিত হয়।
• ঈশ্বরজননী কুমারী মারীয়া মহাপর্ব ১লা জানুয়ারীতে পালিত হয়।
• প্রভুর আত্মপ্রকাশ ২রা জানুয়ারীর পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• প্রভুর বাপ্তিস্ম প্রভুর আত্মপ্রকাশের পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়। প্রভুর আত্মপ্রকাশ যদি ৭ই বা ৮ই জানুয়ারীতে পড়ে, তাহলে প্রভুর বাপ্তিস্ম পরবর্তী সোমবারে পালিত হয়।
প্রভু যিশুর জন্ম (সাধু বেনেডিক্ট মঠ - উপাসনালয়)।
   
অনুষ্ঠানসমূহ: বড়দিন - মধ্যরাত্রি | বড়দিন - সকাল | পবিত্র পরিবার | ঈশ্বরজননী মারীয়া | ২য় রবিবার | প্রভুর আত্মপ্রকাশ | প্রভুর বাপ্তিস্ম

প্রভুর জন্মোৎসব - মধ্যরাত্রি
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, এই পবিত্রতম রাত্রিকে
তুমি সত্যকার জ্যোতির বিভায় উদ্ভাসিত করেছ।
আশীর্বাদ কর: ইহলোকে যাঁর আলোর রহস্য আমরা জানতে পেরেছি,
স্বর্গলোকে যেন তাঁর আনন্দও ভোগ করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।

সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৯:১-৬)

যে জাতি অন্ধকারে পথ চলত,
তারা মহান এক আলো দেখতে পেল;
যারা মৃত্যু-ছায়ার দেশে বসে ছিল,
তাদের উপর আলো জ্বলে উঠল।
তুমি বাড়িয়েছ পুলক,
আনন্দ করেছ মহান,
তোমার সম্মুখে তারা আনন্দ করে,
যেইভাবে শস্য কেটে লোকে আনন্দ করে,
যেইভাবে লুটের মাল ভাগ ক’রে লোকে পুলকিত হয়।
কারণ সেই যে জোয়াল তাদের উপর চেপে ছিল,
তাদের কাঁধে সেই বাঁক,
তাদের অত্যাচারীর সেই দণ্ড
তুমি ভেঙে ফেলেছ মিদিয়ানের সেদিনের মত।
তুমুল যুদ্ধে পরা যত সৈন্যের পাদুকা,
রক্তমাখা যত পোশাক
পুড়িয়ে দেওয়া হবে,
হবে আগুনের ইন্ধন।
কারণ এক শিশু জন্ম নিয়েছেন আমাদের জন্য,
এক পুত্রসন্তানকে দেওয়া হয়েছে আমাদের,
তাঁর কাঁধে রয়েছে আধিপত্য-ভার,
তাঁর নাম রাখা হল ‘আশ্চর্য মন্ত্রণাদাতা, শক্তিশালী ঈশ্বর,
সনাতন পিতা, শান্তিরাজ’।
সীমাহীন শান্তিতে তিনি আধিপত্য প্রসারিত করবেন
দাউদের সিংহাসন ও রাজ্যের উপর,
ন্যায় ও ধর্মময়তায় তা দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত ও সুদৃঢ় করার জন্য
এখন থেকে চিরকাল ধরে।
এসব কিছু সাধন করবে সেনাবাহিনীর প্রভুর উত্তপ্ত প্রেম।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯৬
ধুয়ো:
আজ আমাদের জন্য ত্রাণকর্তা জন্মেছেন,
তিনি খ্রিষ্ট প্রভু।

প্রভুর উদ্দেশে গাও নতুন গান,
প্রভুর উদ্দেশে গান গাও, সমগ্র পৃথিবী;
প্রভুর উদ্দেশে গান গাও, ধন্য কর তাঁর নাম,
দিনের পর দিন প্রচার করে যাও তাঁর পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

জাতি-বিজাতির মাঝে বর্ণনা কর তাঁর গৌরব,
সর্বজাতির মাঝে তাঁর সমস্ত আশ্চর্য কাজ।
আকাশমণ্ডল আনন্দ করুক, পৃথিবী মেতে উঠুক,
গর্জে উঠুক সাগর ও তার যত প্রাণী;   [ধুয়ো]

উল্লাস করুক মাঠ ও মাঠের সবকিছু,
বনের সব গাছপালা সানন্দে চিৎকার করুক সেই প্রভুর সম্মুখে যিনি আসছেন;
কারণ তিনি পৃথিবী বিচার করতে আসছেন,
ধর্মময়তার সঙ্গে জগৎ, বিশ্বস্ততার সঙ্গে জাতিসকলকে বিচার করবেন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
তীতের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (২:১১-১৪)

সন্তান আমার, ঈশ্বরের অনুগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে ও সমস্ত মানুষের জন্য পরিত্রাণ এনে দিয়েছে। এই অনুগ্রহ আমাদের এই শিক্ষা দেয়, ভক্তিহীনতা ও পার্থিব যত অভিলাষ অস্বীকার ক’রে আমরা যেন এই বর্তমান যুগে আত্মসংযত, ধর্মময় ও ভক্তিময় জীবন যাপন করি, এবং সেই সুখময় আশার প্রতীক্ষায়, এবং আমাদের মহান ঈশ্বর ও ত্রাণকর্তা সেই যিশুখ্রিষ্টেরই গৌরবপ্রকাশের প্রতীক্ষায় থাকি, যিনি আমাদের জন্য নিজেকে দান করেছেন, যেন সমস্ত অধর্ম থেকে আমাদের মুক্তিকর্ম সাধন করতে পারেন, এবং নিজের জন্য এমন জনগণকে শুচিশুদ্ধ করে তুলতে পারেন, যারা তাঁরই নিজস্ব ও সৎকর্ম সাধনে আগ্রহী।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমি তোমাদের এমন মহা আনন্দের শুভসংবাদ জানাচ্ছি,
আজ তোমাদের জন্য এক ত্রাণকর্তা জন্মেছেন—তিনি খ্রিষ্ট প্রভু।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:১-১৪)

সেসময়ে আউগুস্তুস সীজারের একটা রাজাজ্ঞা জারি হল, যা অনুসারে সারা পৃথিবী জুড়ে লোকগণনা করা হবে। এই প্রথম লোকগণনা করা হয়েছিল যখন কুইরিনুস ছিলেন সিরিয়ার প্রদেশপাল।
নাম লেখাবার জন্য সকলে নিজ নিজ শহরে গেল; তাই যোসেফও দাউদের কুল ও গোত্রের মানুষ হওয়ায় নিজের বাগ্‌দত্তা স্ত্রী মারীয়ার সঙ্গে নাম লেখাবার জন্য গালিলেয়ার নাজারেথ শহর থেকে যুদেয়ার সেই দাউদ-নগরীতে গেলেন যার নাম বেথলেহেম। মারীয়া তখন গর্ভবতী।
তখন এমনটি ঘটল যে, তাঁরা সেখানে থাকতেই মারীয়ার প্রসবকাল পূর্ণ হল, আর তিনি নিজের প্রথমজাত পুত্রকে প্রসব করলেন। কাপড়ে জড়িয়ে তিনি তাঁকে একটা জাবপাত্রে শুইয়ে রাখলেন, কারণ সেই বাড়ির অতিথিশালায় তাঁদের জন্য স্থান ছিল না।
একই অঞ্চলে একদল রাখাল ছিল, যারা রাতের প্রহরে প্রহরে নিজ নিজ পাল পাহারা দিচ্ছিল। প্রভুর এক দূত তাদের কাছে এসে দাঁড়ালেন, এবং প্রভুর গৌরব তাদের চারপাশে ঘিরে রাখল। তারা ভীষণ ভয় পেল, কিন্তু সেই দূত তাদের বললেন, ‘ভয় করো না, কেননা দেখ, আমি তোমাদের এমন মহা আনন্দের শুভসংবাদ জানাচ্ছি, যে আনন্দ সমস্ত জনগণেরই হবে: আজ দাউদ-নগরীতে তোমাদের জন্য এক ত্রাণকর্তা জন্মেছেন—তিনি খ্রিষ্ট প্রভু। তোমাদের জন্য চিহ্ন এ, তোমরা কাপড়ে জড়ানো ও জাবপাত্রে শোয়ানো একটি শিশুকে পাবে।’
আর হঠাৎ ওই দূতের সঙ্গে স্বর্গীয় এক বিশাল দূতবাহিনী আবির্ভূত হয়ে এই বলে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল,
‘ঊর্ধ্বলোকে ঈশ্বরের গৌরব,
ইহলোকে তাঁর প্রসন্নতার পাত্র মানুষের জন্য শান্তি!’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
রিভোর মঠাধ্যক্ষ সাধু এলরেডের উপদেশ

আজ দাউদ-নগরীতে আমাদের জন্য এক ত্রাণকর্তা জন্মেছেন—তিনি খ্রিষ্ট প্রভু (লুক ২:১১)। নগরীটি হল বেথলেহেম, আর সেখানেই আমাদের ছুটে যেতে হবে, যেইভাবে সংবাদ শুনেই রাখালেরা ছুটে গেছিল। আর তোমাদের জন্য চিহ্ন এ, তোমরা কাপড়ে জড়ানো ও জাবপাত্রে শোয়ানো একটি শিশুকে পাবে (লুক ২:১২)।
এজন্যই আমি তোমাদের বলেছি, তাঁকে ভালবাসতে হবে: স্বর্গদূতদের প্রভুকে ভয় কর, কিন্তু নরম শিশুকে ভালইবাস; প্রতাপের প্রভুকে ভয় কর, কিন্তু কাপড়ে জড়ানো তাঁকে ভালইবাস; স্বর্গের রাজাকে ভয় কর, কিন্তু জাবপাত্রে শোয়ানো তাঁকে ভালইবাস। রাখালেরা কোন্‌ চিহ্ন পেয়েছিল? তোমরা কাপড়ে জড়ানো ও জাবপাত্রে শোয়ানো একটি শিশুকে পাবে। তিনি ত্রাণকর্তা, তিনি প্রভু: কাপড়ে জড়ানো ও জাবপাত্রে শোয়ানো থাকা কি আশ্চর্যের ব্যাপার? অন্য শিশুদেরও কি কাপড়ে জড়ানো হয় না? এ কী ধরনের চিহ্ন? বুঝতে পারলে তবেই চিহ্নটা মহান। আর আমরা তো বুঝতে পারবই, কিন্তু এ ভালবাসার সংবাদ শুনেই যদি না থেমে বরং স্বর্গদূতদের সঙ্গে প্রকাশিত আলোকে হৃদয়ে গ্রহণও করি। সংবাদ দেওয়া মাত্রই হল সেই আলোর উদ্ভাস, যাতে আমরা শিখতে পারি যে যারা হৃদয়ে স্বর্গের আলো গ্রহণ করে, তারাই মাত্র সত্যিই শোনে।
এ রহস্য বিষয়ে অনেক কিছু বলতে পারতাম; কিন্তু সময় হয়েই গেছে, সুতরাং সংক্ষেপে আরও অল্প কথা বলব। বেথলেহেম অর্থাৎ রুটির গৃহ হল সেই পবিত্র মণ্ডলী যেখানে সত্যকার রুটি সেই খ্রিষ্টের দেহ বিতরণ করা হয়। বেথলেহেমের জাবপাত্র হল গির্জার ভোজনপাট; এইখানে খ্রিষ্টের সৃষ্টজীব পরিপুষ্ট হয়। এ ভোজনপাট সম্পর্কে লেখা আছে, আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট (সাম ২৩:৫)। এ জাবপাত্রে কাপড়ে জড়ানো যিশু রয়েছেন। কাপড় হল সাক্রামেন্তের পরদা। এখানে, রুটি ও আঙুররসের আকারে, খ্রিষ্টের প্রকৃত দেহ ও রক্ত আছে। আমরা বিশ্বাস করি, এ সাক্রামেন্তে প্রকৃত খ্রিষ্ট উপস্থিত, কিন্তু কাপড়ে জড়ানো অর্থাৎ অদৃষ্টিগোচরে। প্রতিদিন বেদিপ্রান্তে গিয়ে আমরা তাঁর দেহ খাই ও তাঁর রক্ত পান করি, এতই মহা ও প্রকাশ্য চিহ্নের মত খ্রিষ্টের জন্মের আর কোন চিহ্ন নেই: প্রতিদিন আমরা তাঁকেই আত্মোৎসর্গ করতে দেখি, যিনি আমাদের জন্য কুমারী মারীয়ার গর্ভে একবারই মাত্র জন্ম নিলেন। তবে ভ্রাতৃগণ, এসো, প্রভুর এ গোশালায় শীঘ্রই এগিয়ে যাই; আগে কিন্তু, যতখানি সম্ভব হয়, তাঁর অনুগ্রহ দ্বারা নিজেদের প্রস্তুত করি, যাতে প্রতিদিন ও সমস্ত জীবন ধরে শুদ্ধ হৃদয়ে, সত্যনিষ্ঠায় ও অকপট বিশ্বাসে (২ করি ৬:৬) আমরা স্বর্গদূতদের সঙ্গে গান করতে পারি, ঊর্ধ্বলোকে ঈশ্বরের গৌরব, ইহলোকে সদিচ্ছার মানুষের জন্য শান্তি (লুক ২:১৪)। আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা, যাঁরই সম্মান ও গৌরব হোক চিরকাল ধরে। আমেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
বাণী হলেন মাংস,
আর আমরা তাঁর গৌরব প্রত্যক্ষ করলাম।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের পরমেশ্বর,
আমাদের মুক্তিদাতার জন্মোৎসব পালনে আমরা আনন্দিত।
আশীর্বাদ কর: আমরা যেন সুযোগ্য জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে
তাঁর সাহচর্য ভোগ করতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


প্রভুর জন্মোৎসব - সকাল
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর,
আমরা আজ তোমার দেহধারী বাণীর নবীন আলোতে উদ্ভাসিত।
অনুনয় করি:
বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে আমাদের অন্তরে যা জ্বলে উঠেছে,
তা যেন আমাদের কাজকর্মেও উজ্জ্বল ভাবে প্রকাশ পায়।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৬২:১১-১২)

দেখ, প্রভু পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত একথা শোনাচ্ছেন:
সিয়োন কন্যাকে বল, ‘দেখ, তোমার পরিত্রাতা আসছেন!
দেখ, তাঁর মজুরি আছে তাঁর সঙ্গে;
তাঁর আগে আগে চলছে তাঁর আপন পুরস্কার।’
তারা এই নামেই আখ্যাত হবে: পবিত্র জাতি, প্রভুর বিমুক্ত।
এবং তুমি ‘অন্বেষিতা’, ‘অপরিত্যক্তা নগরী’ বলে অভিহিতা হবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯৭
ধুয়ো:
আজ আমাদের উপর উজ্জ্বল আলো উদ্ভাসিত,
আমাদের জন্য প্রভু জন্ম নিলেন।

প্রভু রাজত্ব করেন, পৃথিবী মেতে উঠুক,
যত দ্বীপপুঞ্জ আনন্দ করুক।
স্বর্গ তাঁর ধর্মময়তা ঘোষণা করে,
সর্বজাতি তাঁর গৌরবের দর্শন পায়।   [ধুয়ো]

এক আলো অঙ্কুরিত হল ধার্মিকের জন্য,
আনন্দ সরলহৃদয়ের জন্য।
প্রভুতে আনন্দ কর, ধার্মিকজন সকল,
কর তাঁর অবিস্মরণীয় পবিত্রতার স্তুতিগান।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
তীতের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৩:৪-৭)

যখন মানবজাতির প্রতি আমাদের ত্রাণকর্তা ঈশ্বরের করুণা ও ভালবাসা প্রকাশিত হল, তখন তা যে আমাদের নিজেদের কোন সৎকর্মের ফলে ঘটেছে, তেমন নয়, বরং নিজ দয়া গুণেই তিনি আমাদের পরিত্রাণ করলেন সেই জলপ্রক্ষালন দ্বারা যা নবজন্ম ও পবিত্র আত্মার নবীকরণ দান করে। এই আত্মাকে তিনি আমাদের উপর প্রচুর পরিমাণে বর্ষণ করেছেন আমাদের ত্রাণকর্তা যিশুখ্রিষ্টের মাধ্যমে, যেন তাঁরই অনুগ্রহে ধর্মময় বলে সাব্যস্ত হয়ে উঠে আমরা প্রত্যাশা অনুসারে অনন্ত জীবনের উত্তরাধিকারী হয়ে উঠতে পারি।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
ঊর্ধ্বলোকে ঈশ্বরের গৌরব,
ইহলোকে তাঁর প্রসন্নতার পাত্র মানুষের জন্য শান্তি!
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:১৫-২০)

দূতেরা তাদের কাছ থেকে স্বর্গে চলে গেলেই রাখালেরা একে অপরকে বলল, ‘চল, আমরা বেথলেহেম পর্যন্ত যাই, এবং এই যে ঘটনার কথা প্রভু আমাদের জানালেন, তা গিয়ে দেখি।’
তাই তারা ইতস্তত না করেই গিয়ে মারীয়া ও যোসেফ ও জাবপাত্রে শোয়ানো শিশুটিকে খুঁজে পেল। দে’খে, বালকটির বিষয়ে তাদের যা বলা হয়েছিল তা তারা প্রকাশ করল; এবং রাখালেরা যাদের কাছে কথাটা বলত, তারা সকলে তা শুনে আশ্চর্য হত।
কিন্তু মারীয়া এই সকল ঘটনা গেঁথে রেখে হৃদয়গভীরে তার অর্থ বিবেচনা করতেন। আর রাখালদের যেভাবে বলা হয়েছিল, তারা সেভাবে সবই দেখতে ও শুনতে পেল বিধায় ঈশ্বরের গৌরবকীর্তন ও তাঁর প্রশংসাবাদ করতে করতে ফিরে গেল।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
আঞ্চিরার বিশপ থেওদতসের উপদেশ

নিখিল বিশ্বের প্রভু দরিদ্রতায় পরিবৃত দাসরূপেই আগমন করলেন, যাতে তাঁর শিকার ভয়ে অভিভূত হয়ে তাঁর কাছ থেকে দূরে না পালায়। জন্মের জন্য অরক্ষিত একটা মাঠ বেছে নিয়ে তিনি দরিদ্র একটি কুমারীর কোলে সর্বাধিক দরিদ্রতায় জন্ম নেন, যাতে নীরবেই তিনি পরিত্রাণদানের জন্য মানুষ-শিকারে যেতে পারেন। তিনি যদি সমারোহের মধ্যে জন্ম নিতেন ও মহা ঐশ্বর্যে নিজেকে আবিষ্ট করতেন, তাহলে অবিশ্বাসীরা বলত, ঐশ্বর্যের প্রাচুর্যই পৃথিবীর রূপান্তর ঘটিয়েছে। তিনি যদি সেকালের সবচেয়ে প্রভাবশালী নগরী সেই রোমকেই বেছে নিতেন, তাহলে তারা মনে করত, রোমের প্রভাবই জগতের পরিবর্তন এনেছে। তিনি যদি কোন সম্রাটের সন্তান হতেন, তাহলে তারা সাধিত যত শুভকাজ রাজ-অধিকারের উপরেই আরোপ করত। তিনি যদি কোন বিধানকর্তার সন্তান হতেন, তাহলে তারা মঙ্গলকর যত কিছু তাঁর নিয়ম-ব্যবস্থার উপরেই আরোপ করত। তিনি বরং কী করেন? যা কিছু দীন ও মূল্যহীন, যা কিছু সাধারণের কাছে অর্থহীন ও অজ্ঞাত, তিনি তাই বেছে নেন, যাতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কেবল ঈশ্বরত্বই জগৎকে রূপান্তরিত করল। ঠিক একারণে তিনি দরিদ্র একটি মাতাকে ও আরও দরিদ্রতর একটি মাতৃভূমি বেছে নেন, এমনকি তিনি নিজে নিজেকে দরিদ্রতম করেন।
একথাই গোশালা তোমাকে বলে: তাঁকে শোয়ানোর জন্য একটা খাট না থাকায়, প্রভুকে একটা জাবপাত্রে রাখা হয়, এবং অতি প্রয়োজনীয় জিনিস-সামগ্রীর অভাব আগেকার ভবিষ্যদ্বাণীগুলির সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হয়ে ওঠে। তাঁকে একটা জাবপাত্রে রাখা হল, যাতে প্রতীয়মান হয় তিনি বাছবিচার না করে সকলেরই কাছে অর্পিত খাদ্য হবার জন্যই আগমন করতে যাচ্ছিলেন। দরিদ্রতা বেছে নিয়ে ও জাবপাত্রে শুয়ে ঈশ্বরের পুত্র সেই বাণী ধনী-নির্ধন, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সকলকেই নিজের কাছে আকর্ষণ করেন।
সুতরাং তুমি দেখতে পাও সবকিছুর সেই অভাব কেমন করে ভবিষ্যদ্বাণীগুলিকে পূরণ করল, এবং দরিদ্রতা সকলের কাছে তাঁকে গম্য করল, যিনি আমাদের জন্য নিজেকে দরিদ্র করলেন। খ্রিষ্টের মহা মহা ঐশ্বর্যের সামনে কেউই অভিভূত হয়ে পড়েনি, তাঁর রাজ-অধিকারের প্রতাপের সামনে কেউই থামেনি: তিনি অন্য সকলের মত মানুষ বলে দেখা দিলেন, ও দরিদ্র হয়ে সকলের পরিত্রাণের জন্য নিজেকে অর্পণ করলেন।
তাঁর ধারণ-করা-মানবতার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের পুত্র একটা জাবপাত্রেই দেখা দেন, যাতে বিচারশক্তিসম্পন্ন হোক বা বিচারশক্তিহীন হোক সৃষ্টজীব সকলেরই পক্ষে পরিত্রাণদায়ী খাদ্যের অংশী হওয়া সম্ভব হতে পারে। আর আমি মনে করি, নবীও তখন একথা ইঙ্গিত করছিলেন, যখন এ জাবপাত্র রহস্য তুলে ধরেছিলেন: বলদ তার মনিবকে জানে, গাধাও তার প্রভুর জাবপাত্র জানে, কিন্তু ইস্রায়েল জানে না; না, আমার জনগণ বোঝে না (ইসা ১:৩)।
ধনী তিনি আমাদের জন্য দরিদ্র হলেন, এভাবে আপন ঈশ্বরত্বের শক্তিতে পরিত্রাণ সকলের পক্ষে সহজলভ্য করলেন। একথা ইঙ্গিত করে পল বললেন, ধনবান হয়েও তোমাদের জন্য তিনি নিজেকে দরিদ্র করেছিলেন, যেন তাঁর সেই দরিদ্রতায়ই তোমরা ধনবান হয়ে উঠতে পার (২ করি ৮:৯)।
যিনি ধনবান করছিলেন, তিনি কেইবা ছিলেন? আর কাকেই বা তিনি ধনবান করছিলেন? আর কেমন করে তিনি নিজেকে দরিদ্র করলেন? তোমরাই আমাকে বল, আমার দরিদ্রতার খাতিরে কেইবা ধনবান হয়েও নিজেকে দরিদ্র করলেন? যিনি মানুষ বলে দেখা দিলেন, তিনি কি? তিনি তো যে কখনও ধনবান হননি! দরিদ্র একটা বংশে জন্ম নিয়ে তিনি তো সবসময়ের মতই দরিদ্র হয়ে থাকলেন। সুতরাং কেমন করে তিনি ধনবান ছিলেন? আর যিনি আমাদের জন্য নিজেকে দরিদ্র করলেন, তিনি কাকে ধনবান করছিলেন? তিনি বলেন, ঈশ্বর সৃষ্টজীবকে ধনবান করেন। অতএব, সৃষ্ট মানুষের দরিদ্রতা ধারণ ক’রে যিনি তার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রকাশ ক’রে নিজেকে দরিদ্র করলেন, তিনি স্বয়ং ঈশ্বর: আপন ঈশ্বরত্বে ধনবান হয়ে তিনি আমাদের মানবতা ধারণ করায় নিজেকে দরিদ্র করলেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৯৮
ধুয়ো:
পৃথিবীর সকল প্রান্ত দেখেছে
আমাদের পরমেশ্বরের পরিত্রাণ।

প্রভুর উদ্দেশে গাও নতুন গান,
তিনি যে সাধন করেছেন কত আশ্চর্য কাজ।
আপন ডান হাত ও পবিত্র বাহু দ্বারা
তিনি করেছেন জয়লাভ।   [ধুয়ো]

প্রভু জ্ঞাত করেছেন আপন পরিত্রাণ,
জাতি-বিজাতির চোখের সামনে আপন ধর্মময়তা করেছেন প্রকাশ,
ইস্রায়েলকুলের প্রতি আপন কৃপা ও বিশ্বস্ততা করেছেন স্মরণ,
পৃথিবীর সকল প্রান্ত দেখেছে আমাদের পরমেশ্বরের পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

সমগ্র পৃথিবী, প্রভুর উদ্দেশে জাগিয়ে তোল জয়ধ্বনি,
আনন্দে ফেটে পড়, চিৎকার কর, কর গান।
সেতার বাজাও, সেতার ও বাদ্যের সুরে সুরে কর প্রভুর স্তবগান,
তূর্যনিনাদে, শিঙার সুরে সেই রাজা প্রভুর সম্মুখে তোল জয়ধ্বনি।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু,
আমরা তোমার পুত্রের জন্মোৎসব আনন্দপূর্ণ ভক্তিতে উদ্‌যাপন করেছি।
আশীর্বাদ কর,
যেন এ জন্ম-রহস্যের গভীরতা পূর্ণ বিশ্বাসে উপলব্ধি করতে পারি
ও উজ্জ্বলতর ভালবাসায় তা আমাদের জীবনে প্রতিফলিত করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


যিশু, মারীয়া ও যোসেফের পবিত্র পরিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি আমাদের সামনে
পবিত্র পরিবারের উজ্জ্বল আদর্শ তুলে ধরতে প্রসন্ন হয়েছ।
সদয় হয়ে আশীর্বাদ কর,
তাঁদের মত আমরাও যেন পারিবারিক জীবনের গুণাবলি অনুশীলনে
ও পারস্পরিক ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এমন জীবন যাপন করি,
যার ফলে একদিন তোমার গৃহের আনন্দে শাশ্বত পুরস্কার লাভ করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
বেন-সিরা পুস্তক থেকে পাঠ (৩:২-৬,১২-১৪)

[লাতিন ৩:৩-৭,১৪-১৭ক]
প্রভু সন্তানদের চেয়ে পিতাকেই গৌরবমণ্ডিত করেন;
পুত্রসন্তানদের উপরে মাতার অধিকার সমর্থন করেন।
পিতাকে যে সম্মান করে, তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়;
মাতাকে যে শ্রদ্ধা করে, সে যেন রাশি রাশি ধন সঞ্চয় করে।
পিতাকে যে সম্মান করে,
সে নিজ সন্তানদের কাছ থেকে আনন্দ পাবে,
প্রার্থনার দিনে সে সাড়া পাবে।
পিতাকে যে শ্রদ্ধা করে, সে দীর্ঘায়ু হবে;
প্রভুর প্রতি যে বাধ্য, সে মাতাকে সান্ত্বনা দেয়।
সন্তান, তোমার পিতার পরিণত বয়সে তাঁর অবলম্বন হও,
তাঁর জীবনকালে তাঁকে দুঃখ দিয়ো না।
যদিও তিনি জ্ঞানহীন হয়ে পড়েন,
তাঁকে সহানুভূতি দেখাও,
তোমার পূর্ণ তেজের দিনে তাঁকে অবজ্ঞা করো না।
কেননা পিতার প্রতি দয়া-প্রদর্শন কখনও বিস্মৃত হবে না,
তা বরং তোমার পাপের ক্ষতিপূরণ বলে গণ্য হবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১২৮
ধুয়ো:
সুখী সেই সকলে, যারা প্রভুকে করে ভয়,
যারা তাঁর সমস্ত পথে চলে।

সুখী সেই সকলে, যারা প্রভুকে করে ভয়,
যারা তাঁর সমস্ত পথে চলে।
তুমি খাবে তোমার দু’হাতের শ্রমফলে,
তোমার হবে সুখ, হবে মঙ্গল।   [ধুয়ো]

তোমার বধূ উর্বরা আঙুরলতার মত
তোমার গৃহের অন্তঃপুরে;
তোমার পুত্রেরা জলপাই-চারার মত
তোমার ভোজনপাট ঘিরে।   [ধুয়ো]

যে প্রভুকে করে ভয়, তেমন আশিসেই ধন্য হবে সেই মানুষ।
প্রভু সিয়োন থেকে তোমাকে আশীর্বাদ করুন;
তুমি যেন যেরুসালেমের মঙ্গল দেখতে পাও
তোমার জীবনের সমস্ত দিন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
কলসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৩:১২-২১)

প্রিয়জনেরা, ঈশ্বরের মনোনীতজন, তাঁর পবিত্রজন ও তাঁর ভালবাসার পাত্র বলে, তোমরা গভীর করুণা, মঙ্গলময়তা, বিনম্রতা, কোমলতা ও সহিষ্ণুতা পরিধান কর। পরস্পরের প্রতি ধৈর্যশীল হও। আর কারও প্রতি কোন অভিযোগ থাকলে একে অপরকে ক্ষমা কর।
যেহেতু প্রভু নিজে তোমাদের ক্ষমা করেছেন, সেজন্য তোমরাও সেইমত ক্ষমা কর। আর সমস্ত কিছুর উপরে ভালবাসাকেই পরিধান কর, কারণ ভালবাসাই পরম সিদ্ধির বন্ধন। এবং খ্রিষ্টের শান্তি তোমাদের হৃদয়ে রাজত্ব করুক; কেননা এই উদ্দেশ্যেই তোমরা একদেহে আহূত হয়েছ। তোমরা সর্বদাই কৃতজ্ঞ হয়ে থেকো।
খ্রিষ্টের বাণী তার পূর্ণ ঐশ্বর্য নিয়ে তোমাদের অন্তরে বসবাস করুক; তোমরা পূর্ণ প্রজ্ঞায় পরস্পরকে শিক্ষা ও চেতনা দান কর; কৃতজ্ঞচিত্তে ও মনপ্রাণ দিয়ে ঈশ্বরের উদ্দেশে সামসঙ্গীত, স্তুতিগান ও ঐশপ্রেরণাজনিত বন্দনাগান গেয়ে চল। কথায় বা কাজে তোমরা যা কিছু কর, সবই যেন প্রভু যিশুর নামেই হয়—তাঁর মধ্য দিয়ে পিতা ঈশ্বরের কাছে ধন্যবাদ-স্তুতি স্বরূপ।
বধূরা, তোমরা তোমাদের স্বামীর অনুগত থাক, যেমন প্রভুতে থাকা সমীচীন। স্বামীরা, তোমরা তোমাদের স্ত্রীকে ভালবাস, তাদের প্রতি রুক্ষ ব্যবহার করো না। সন্তানেরা, তোমরা সবকিছুতে পিতামাতার বাধ্য হও; তা ঈশ্বরের সন্তোষজনক। পিতারা, তোমরা তোমাদের সন্তানদের ক্ষুব্ধ করো না, পাছে তাদের মন ভেঙে পড়ে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
খ্রিষ্টের শান্তি তোমাদের হৃদয়ে রাজত্ব করুক;
খ্রিষ্টের বাণী তার পূর্ণ ঐশ্বর্য নিয়ে তোমাদের অন্তরে বসবাস করুক।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
২০২০, ২০২৩, ২০২৬, ২০২৯, ২০৩২, ২০৩৫, ২০৩৮, ২০৪১, ২০৪৪ সালে:
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:২২-৪০)

যখন মোশির বিধান অনুসারে তাঁদের শুচীকরণ-কাল পূর্ণ হল, তখন যিশুর পিতা-মাতা তাঁকে যেরুসালেমে নিয়ে গেলেন যেন প্রভুর সামনে তাঁকে হাজির করেন,—যেমনটি প্রভুর বিধানে লেখা আছে, প্রথমজাত প্রত্যেক পুত্রসন্তানকে প্রভুর উদ্দেশে পবিত্রীকৃত করা হবে;—আর যেন প্রভুর বিধানের নির্দেশমত একজোড়া ঘুঘু কিংবা দু’টো পায়রার ছানা বলিরূপে উৎসর্গ করেন।
সেসময়ে যেরুসালেমে সিমেয়োন নামে একজন ছিলেন, যিনি ধার্মিক ও ভক্তপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন; তিনি ইস্রায়েলের সান্ত্বনার প্রতীক্ষায় থাকতেন, ও পবিত্র আত্মা তাঁর উপরে ছিলেন। পবিত্র আত্মা তাঁকে একথা জানিয়েছিলেন যে, প্রভুর সেই খ্রিষ্টকে না দেখা পর্যন্ত তিনি মৃত্যু দেখবেন না। সেই আত্মার আবেশে তিনি মন্দিরে এলেন, এবং যিশুর পিতামাতা যখন বিধানের নিয়ম-বিধি সম্পাদন করার জন্য শিশুটিকে ভিতরে নিয়ে আসছিলেন, তখন তিনি তাঁকে কোলে নিলেন, ও ঈশ্বরের স্তুতিবাদ করে বলে উঠলেন:
‘হে মহাপ্রভু, তোমার কথামত
এখন তোমার এই দাসকে শান্তিতে বিদায় দাও;
কারণ আমার চোখ দেখেছে তোমার সেই পরিত্রাণ
যা তুমি প্রস্তুত করেছ সকল জাতির সামনে:
ঐশপ্রকাশে বিজাতীয়দের উদ্বুদ্ধ করার আলো
ও তোমার আপন জনগণ ইস্রায়েলের গৌরব।’
শিশুটি সম্বন্ধে এই সমস্ত কথা শুনে তাঁর পিতামাতা আশ্চর্য হলেন। সিমেয়োন তাঁদের আশীর্বাদ করলেন, এবং তাঁর মা মারীয়াকে বললেন, ‘দেখ, ইনি ইস্রায়েলের মধ্যে অনেকের পতন ও উত্থানের জন্য নিরূপিত; ইনি হবেন অস্বীকৃত এমন এক চিহ্ন—হ্যাঁ, তোমার নিজের প্রাণও এক খড়্গের আঘাতে বিদীর্ণ হবে—যেন অনেক হৃদয়ের চিন্তা প্রকাশিত হয়।’
আন্না নামে এক নারী-নবীও ছিলেন: তিনি আসের গোষ্ঠীর ফানুয়েলের কন্যা। তাঁর অনেক বয়স হয়েছিল; কুমারী অবস্থার পর সাত বছর স্বামীর ঘর করে তিনি বিধবা হয়েছিলেন; এখন তাঁর বয়স চুরাশি বছর হয়েছে। তিনি মন্দির থেকে কখনও দূরে না গিয়ে উপবাস ও প্রার্থনায় রত থেকে রাত-দিন উপাসনা করে চলতেন। সেই ক্ষণে এসে উপস্থিত হয়ে তিনিও ঈশ্বরের বন্দনা করতে লাগলেন, এবং যত লোক যেরুসালেমের মুক্তিকর্মের প্রতীক্ষায় ছিল, তাদের কাছে যিশুর কথা বলতে লাগলেন।
প্রভুর বিধান অনুসারে সবকিছু সমাধা করার পর তাঁরা গালিলেয়ায়, তাঁদের নিজেদের শহর নাজারেথে ফিরে গেলেন।
বালকটি বেড়ে উঠলেন ও বলবান হতে লাগলেন, প্রজ্ঞায় পূর্ণ হয়ে। এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহ তাঁর উপর ছিল।
প্রভুর বাণী।

২০২১, ২০২৪, ২০২৭, ২০৩০, ২০৩৩, ২০৩৬, ২০৩৯, ২০৪২, ২০৪৫ সালে:
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:৪১-৫২)

যিশুর পিতামাতা প্রতি বছর পাস্কাপর্ব উপলক্ষে যেরুসালেমে যেতেন। তাঁর বারো বছর বয়স হলে তাঁরা প্রথা অনুসারে পর্বে যোগ দিতে গেলেন। পর্বকাল শেষে যখন ফিরে আসার জন্য রওনা হলেন, তখন বালক যিশু যেরুসালেমে রয়ে গেলেন, আর তাঁর পিতামাতা তা জানতেন না। তিনি সহযাত্রীদের সঙ্গে আছেন মনে করে তাঁরা এক দিনের পথ এগিয়ে গেলেন, পরে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত লোকদের মধ্যে তাঁকে খোঁজ করতে লাগলেন; তাঁকে না পেয়ে তাঁরা খুঁজতে খুঁজতে যেরুসালেমে ফিরে গেলেন।
তিন দিন পর তাঁরা মন্দিরেই তাঁর খোঁজ পেলেন: তিনি শাস্ত্রগুরুদের মধ্যে বসে তাঁদের কথা শুনছিলেন ও তাঁদের প্রশ্ন করছিলেন। আর যারা তাঁর কথা শুনছিল, তারা সকলে তাঁর বুদ্ধিতে ও তাঁর উত্তরগুলিতে খুবই স্তম্ভিত হচ্ছিল।
তাঁকে দেখে তাঁরা বিস্ময়বিহ্বল হলেন: তাঁর মা তাঁকে বললেন, ‘বৎস, আমাদের প্রতি এ তোমার কেমন ব্যবহার? দেখ, তোমার পিতা ও আমি ব্যাকুল হয়েই তোমাকে খুঁজছিলাম।’ তিনি তাঁদের বললেন, ‘কেন আমাকে খুঁজছিলে? তোমরা কি জানতে না যে, আমাকে আমার পিতার গৃহেই থাকতে হবে?’ কিন্তু তিনি তাঁদের যে কথা বললেন, তা তাঁরা বুঝতে পারলেন না।
তিনি তাঁদের সঙ্গে রওনা হয়ে নাজারেথে চলে গেলেন, ও তাঁদের প্রতি বাধ্য হয়ে থাকলেন। তাঁর মা এই সকল ঘটনা হৃদয়গভীরে গেঁথে রাখতেন। এবং যিশু প্রজ্ঞায় ও বয়সে, এবং ঈশ্বর ও মানুষের সামনে অনুগ্রহে বেড়ে উঠতে লাগলেন।
প্রভুর বাণী।

২০২২, ২০২৫, ২০২৮, ২০৩১, ২০৩৪, ২০৩৭, ২০৪০, ২০৪৩, ২০৪৬ সালে:
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:১৩-১৫,১৯-২৩)

তিন পণ্ডিত চলে গেলে পর প্রভুর দূত হঠাৎ স্বপ্নে যোসেফকে দেখা দিয়ে বললেন, ‘ওঠ, শিশুটিকে ও তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে মিশরে পালিয়ে যাও; আর আমি তোমাকে না বলা পর্যন্ত তুমি সেখানে থাক; কেননা হেরোদ শিশুটিকে হত্যা করার জন্য খোঁজ করতে যাচ্ছে।’
তাই যোসেফ উঠে সেই রাতে শিশুটিকে ও তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে মিশরে চলে গেলেন, এবং হেরোদের মৃত্যু পর্যন্ত সেখানে থাকলেন, যেন নবীর মধ্য দিয়ে উচ্চারিত প্রভুর এই বচন পূর্ণ হয়: আমি মিশর থেকে আমার পুত্রকে ডেকে আনলাম।
হেরোদের মৃত্যু হলে পর প্রভুর দূত মিশরে হঠাৎ যোসেফকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে বললেন, ‘ওঠ, শিশুটিকে ও তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে ইস্রায়েল দেশে ফিরে যাও, কারণ যারা শিশুটির প্রাণনাশে সচেষ্ট ছিল, তারা মারা গেছে।’
আর তিনি উঠে শিশুটিকে ও তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে ইস্রায়েল দেশে ফিরে গেলেন। কিন্তু যখন শুনতে পেলেন যে, আর্খেলাওস নিজ পিতা হেরোদের স্থানে যুদেয়ায় রাজত্ব করছেন, তখন সেখানে যেতে ভয় করলেন; পরে স্বপ্নে আদেশ পেয়ে তিনি গালিলেয়া প্রদেশে চলে গেলেন; সেখানে নাজারেথ নামে এক শহরে বাস করতে গেলেন, যেন নবীর মধ্য দিয়ে উচ্চারিত এই বচন পূর্ণ হয়: তিনি নাজারীয় বলে অভিহিত হবেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ বিশপ সাধু জন খ্রিসোস্তমের উপদেশ
যিশু প্রাচীন দুঃখের কান্না বন্ধ করার জন্যই মিশরে প্রবেশ করলেন; আঘাতের স্থানে তিনি এনে দিলেন আনন্দ, মৃত্যুর অন্ধকারের স্থানে পরিত্রাণের আলো বিতরণ করলেন।
নদীর জল নরম শিশুদের রক্তে কলুষিত হয়েছিল। তিনিই মিশরে প্রবেশ করলেন, যিনি একদিন জল রক্তলাল করবেন; জীবন্ত জলকে তিনি পরিত্রাণ জন্মাবার শক্তি দান করলেন; এবং আত্মার প্রভাবে সেই জলের যত কলুষ ও ময়লা নিঃশেষ করে দিলেন। মিশরীয়েরা দুঃখে আক্রান্ত ও রাগে উন্মাদ হয়ে ঈশ্বরের প্রতি বাধ্য হতে অস্বীকার করেছিল; সুতরাং মিশরে প্রবেশ ক’রে ও যারা গ্রহণ করতে সম্মত ছিল, ঈশ্বরজ্ঞানের আলোয় সেই আত্মাদের প্লাবিত ক’রে তিনি জলকে সাক্ষ্যমরদের ফসলকে উর্বর করতে অধিকার দিলেন, এমন ফসল যা গমের ফসলের চেয়েও প্রচুর।
তবে আমি কী বলব? আমি একটি ছুতোরকে ও একটা জাবপাত্র দেখতে পাচ্ছি, একটি শিশুকে, কাপড় ও কাঁথাও দেখতে পাচ্ছি, কুমারী-জাতই একটি শিশুকে দেখতে পাচ্ছি যিনি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসেরও অভাবী—এসব কিছু দরিদ্রতার বন্ধনে, মহত্তম দীনতায়! তুমি কি কখনও চরম দরিদ্রতার মধ্যে ঐশ্বর্য দেখতে পেয়েছ? কি করে ধনবান তিনি আমাদের জন্য নিজেকে ধনহীন করলেন? কেন তিনি একটা খাট বা একটা বিছানাও খুঁজে পাননি, বরং তাঁকে মূল্যহীন একটা জাবপাত্রে শোয়ানো হল?
আহা, দরিদ্রতার ছদ্মবেশে নিহিত অপরিসীম ঐশ্বর্য! তিনি একটা জাবপাত্রে শোয়ানো অথচ সমগ্র জগৎকে আলোড়িত করেন, কাপড়ে জড়ানো অথচ পাপের শেকল ছিন্ন করেন, এখনও মুখে কথা ফোটেনি অথচ পণ্ডিতদের এমন শিক্ষা দেন যে তাঁরা তাঁকে বিশ্বাস করতে উদ্দীপিত। এর চেয়ে আর কী বলা যায়? দেখ, শিশুটি কাপড়ে জড়ানো ও জাবপাত্রে শোয়ানো, কিন্তু পাশে আছেন মারীয়া যিনি একইসময় কুমারী ও জননী; পাশে যোসেফও আছেন যিনি পিতা বলে পরিচিত।
মারীয়া এই যোসেফের কেবল বাগ্‌দত্তাই বধূ ছিলেন, কিন্তু পবিত্র আত্মা তাঁকে জননী করেছিলেন; ফলে যোসেফ আশ্চর্যান্বিত হয়ে জানতেন না শিশুকে কী নাম দেবেন। তিনি এচিন্তায় চিন্তামগ্ন রয়েছেন, এমন সময় একটি স্বর্গদূতের কণ্ঠ দিয়ে স্বর্গ থেকে তাঁকে সংবাদ দেওয়া হল, যোসেফ, ভয় পেয়ো না, কেননা তাঁর গর্ভে যা জন্মেছে, তা পবিত্র আত্মার প্রভাবেই হয়েছে (মথি ১:২০ দ্রঃ)। বস্তুতপক্ষে পবিত্র আত্মা কুমারীর উপর আপন ছায়া পেতে দিয়েছিলেন।
তাছাড়া কেন তিনি একটি কুমারী থেকে জন্ম নেন আর সেই কুমারী আপন কুমারীত্ব অক্ষুণ্ণ রাখেন? একদিন শয়তান কুমারী হবাকে প্রবঞ্চিত করেছিল বিধায়ই গাব্রিয়েল দূত কুমারী মারীয়াকে শুভসংবাদ দিতে গেলেন। কিন্তু সেই হবা প্রবঞ্চিতা হওয়ায় এমন বাণী প্রসব করেছিলেন যা মৃত্যুকেই অনুপ্রবেশ করিয়েছিল; অপর পক্ষে, শুভসংবাদ গ্রহণ করায় মারীয়া মাংসে সেই বাণী প্রসব করলেন যিনি আমাদের জন্য অনন্ত জীবন পুনরায় কিনে নেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
আমাদের ঈশ্বর পৃথিবীতে দৃশ্যমান হলেন,
ও মানুষদের মাঝে জীবন কাটালেন।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে দয়াবান পিতা, তুমি আমাদের স্বর্গীয় সাক্রামেন্তে পরিপুষ্ট করেছ;
তোমার আশীর্বাদে
আমরা যেন পবিত্র পরিবারের আদর্শ উত্তমরূপে অনুকরণ করি,
যাতে ইহলোকের কষ্টের পরে
তাঁদের চিরকালীন সাহচর্যও লাভ করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


ঈশ্বরজননী ধন্যা মারীয়া
ঈশ্বরজননী ধন্যা মারীয়া
(সাধু বেনেডিক্ট মঠ - উপাসনালয়)
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, ধন্যা মারীয়ার উর্বর কুমারীত্বে
তুমি শাশ্বত পরিত্রাণের পরমদান মানবজাতির কাছে মঞ্জুর করেছ।
অনুনয় করি: তোমার অনুগ্রহে আমরা যখন
তাঁর দ্বারা জীবনের উৎস তোমার পুত্রকে পেয়েছি,
তখন যেন তাঁর সহায়তাও উপলব্ধি করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
গণনাপুস্তক থেকে পাঠ (৬:২২-২৭)

প্রভু মোশিকে বললেন, ‘তুমি আরোনকে ও তার সন্তানদের বল: তোমরা ইস্রায়েল সন্তানদের এইভাবে আশীর্বাদ করবে; তোমরা বলবে:
প্রভু তোমাকে আশীর্বাদ করুন, তোমাকে রক্ষা করুন।
প্রভু তোমার উপর আপন শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তুলুন, তোমার প্রতি সদয় হোন।
প্রভু তোমার প্রতি মুখ তুলে চান, তোমাকে শান্তি মঞ্জুর করুন।
এইভাবে তারা ইস্রায়েল সন্তানদের উপরে আমার নাম স্থাপন করবে, আর আমি তাদের আশীর্বাদ করব।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৬৭
ধুয়ো:
পরমেশ্বর আমাদের দয়া করুন,
আমাদের আশীর্বাদ করুন।

পরমেশ্বর আমাদের দয়া করুন, আমাদের আশীর্বাদ করুন,
আমাদের উপর আপন শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তুলুন,
যেন পৃথিবীতে জ্ঞাত হয় তোমার পথ,
সকল দেশের মাঝে তোমার পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

মহোল্লাসে আনন্দগান করুক সকল দেশ,
তুমি যে ন্যায়ের সঙ্গেই জাতিসকল বিচার কর,
পৃথিবীতে যত দেশ
চালিত কর।   [ধুয়ো]

জাতিসকল তোমার স্তুতি করুক, পরমেশ্বর,
সর্বজাতি করুক তোমার স্তুতি।
পরমেশ্বর আমাদের আশীর্বাদ করুন,
তাঁকে ভয় করুক পৃথিবীর সকল প্রান্ত।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
গালাতীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৪:৪-৭)

প্রিয়জনেরা, যখন সময়ের পূর্ণতা এল, তখন ঈশ্বর তাঁর আপন পুত্রকে প্রেরণ করলেন, যিনি নারীগর্ভে জন্ম নিলেন, বিধানের অধীনে জন্ম নিলেন, যেন মূল্য দিয়ে তিনি বিধানের অধীনস্থ যত মানুষের মুক্তিকর্ম সাধন করতে পারেন, যেন আমরা দত্তকপুত্রত্ব লাভ করতে পারি। আর তোমরা পুত্রই বটে! ঈশ্বর আমাদের হৃদয়ে তাঁর পুত্রের আত্মাকে প্রেরণ করেছেন, যিনি ডাকতে থাকেন, ‘আব্বা, পিতা!’ সুতরাং তুমি আর দাস নও, বরং পুত্র; আর যখন পুত্র, তখন ঈশ্বরের মঙ্গল-ইচ্ছায় উত্তরাধিকারীও।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
ঈশ্বর, যিনি বহুবার বহুরূপে পিতৃপুরুষদের কাছে
নবীদের মধ্যে কথা বলেছিলেন,
শেষযুগের এই দিনগুলিতে তিনি
আমাদের কাছে পুত্রেই কথা বলেছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:১৬-২১)

রাখালেরা ইতস্তত না করেই গিয়ে মারীয়া ও যোসেফ ও জাবপাত্রে শোয়ানো শিশুটিকে খুঁজে পেল। দে’খে, বালকটির বিষয়ে তাদের যা বলা হয়েছিল তা তারা প্রকাশ করল; এবং রাখালেরা যাদের কাছে কথাটা বলত, তারা সকলে তা শুনে আশ্চর্য হত।
কিন্তু মারীয়া এই সকল ঘটনা গেঁথে রেখে হৃদয়গভীরে তার অর্থ বিবেচনা করতেন। আর রাখালদের যেভাবে বলা হয়েছিল, তারা সেভাবে সবই দেখতে ও শুনতে পেল বিধায় ঈশ্বরের গৌরবকীর্তন ও তাঁর প্রশংসাবাদ করতে করতে ফিরে গেল।
যখন বালকটির পরিচ্ছেদনের জন্য আট দিন পূর্ণ হল, তখন তাঁর নাম যিশু রাখা হল, ঠিক যেভাবে তাঁর গর্ভাগমনের আগে দূত দ্বারা রাখা হয়েছিল।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ বিশপ সাধু জন খ্রিসোস্তমের উপদেশ

আহা, কী অনির্বচনীয় কৃপা! যিনি সর্বকালের পূর্বেও বিদ্যমান ছিলেন, যিনি অতীন্দ্রিয়, নির্গুণ, অশরীরী, ঈশ্বরের সেই অদ্বিতীয় পুত্র আমার মরণশীল ও ক্ষয়শীল দেহকে পরিধান করলেন। উদ্দেশ্যটি কী? উদ্দেশ্যটি এ, দৃশ্যগত হওয়ায় তিনি যেন আমাদের শিক্ষা দিতে পারেন এবং অদৃশ্য বিষয়ের দিকে আমাদের চালিত করতে পারেন।
তিনি এমন কুমারী থেকে জন্ম নিলেন যিনি জানতেনই না কী ঘটছিল, তাঁর কর্মসাধনেও সহযোগিতা দেননি, নিজে থেকে কোন অবদানও রাখেননি। সেই কুমারী তাঁর রহস্যময় প্রভাবের কেবল একটি মাধ্যমই ছিলেন; গাব্রিয়েলকে যা প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি সেইটুকুই মাত্র জানতেন, এ কেমন করে হতে পারবে, যখন আমি কোন পুরুষকে জানি না (লুক ১:৩৪)। গাব্রিয়েল তখন উত্তরে বলেছিলেন, পবিত্র আত্মা তোমার উপরে নেমে আসবেন, এবং পরাৎপরের পরাক্রম তোমার উপর নিজের ছায়া বিস্তার করবে (লুক ১:৩৫)।
যিনি অল্পকাল পরে তাঁর গর্ভ থেকে বেরিয়ে এলেন, সেই প্রভু কোন্‌ প্রকারে তাঁর সহায় ছিলেন? কারিগর যেমন উপযুক্ত পদার্থ পেয়ে সুন্দর একটা পাত্র তৈরি করে, তেমনি খ্রিষ্ট আত্মায় ও দেহে পবিত্র একটি কুমারীকে পেয়ে নিজের জন্য একটি জীবন্ত মন্দির নির্মাণ করলেন। সেইখানে তিনি আপন সঙ্কল্প অনুসারে সেই মানবস্বরূপ গড়লেন যা পরিধান ক’রে আজ বেরিয়ে এলেন। সেই স্বরূপের জন্য তিনি লজ্জা বোধ করলেন না, কেননা তিনি নিজে যা গড়েছিলেন, তা পরিধান করা তাঁর পক্ষে লজ্জাকর ছিল না, এমনকি সৃষ্টজীবের কাছে এ মহাগৌরবেরই কারণ ছিল যে, তা হবে সৃষ্টিকর্তার পোশাক। যেমন প্রথম সৃষ্টির বেলায় মাটি তাঁর হাতে না আসা পর্যন্ত মানবজাতির উদ্ভব হতে পারেনি, তেমনি এবারও নির্মাতার পোশাক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ক্ষয়শীল স্বরূপের পক্ষে রূপান্তরিত হওয়া অসম্ভব ছিল।
আমি কী করেই এসব কিছু বলব? কীভাবেই তা বর্ণনা করব? এ আশ্চর্য কাজ আমাকে আশ্চর্যান্বিত করছে। সেই প্রাচীন হলেন শিশু; যিনি সর্বোচ্চ ও মহিমান্বিত হয়ে সিংহাসনে আসীন, তিনি জাবপাত্রে শোয়ানো। যিনি পাপের বন্ধন ছিন্নভিন্ন করলেন, তিনি কাঁথায় জড়ানো; কেননা ঠিক এ তো তাঁর ইচ্ছা! তিনি চান, অপমান সম্মানই হবে, অবমাননা গৌরবেই পরিবৃত হবে, সবচেয়ে নিন্দাজনক অবজ্ঞা তাঁর মঙ্গলময়তাকেই ব্যক্ত করবে। তিনি আমার দেহ ধারণ করেন আমি যেন তাঁর বাণী গ্রহণ করি; তিনি আমার মাংস ধারণ করেন, তাঁর আপন আত্মাকে আমাকে দান করেন যাতে এ বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তিনি আমার জন্য জীবনের সম্পদের ব্যবস্থা করতে পারেন। আমাকে পবিত্র করার জন্যই তিনি আমার মাংস ধারণ করেন; আমাকে পরিত্রাণ করার জন্যই তিনি তাঁর আপন আত্মাকে আমাকে দান করেন।,

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১২২
ধুয়ো:
যিশুখ্রিষ্ট এক-ই আছেন:
কাল, আজ ও চিরকাল।

আমি আনন্দ পেলাম ওরা যখন আমাকে বলল,
‘এসো, চলি প্রভুর গৃহে!’
এখন এসে থেমেছে আমাদের চরণ
তোমার তোরণদ্বারে, হে যেরুসালেম।   [ধুয়ো]

যেরুসালেম দৃঢ়সংবদ্ধ নগরীর মতই গড়া,
সেইখানে উঠে আসে গোষ্ঠীসকল, প্রভুরই গোষ্ঠীসকল—
ইস্রায়েলের বিধি তো তারা করবে প্রভুর নামের স্তুতি, সেইখানে যে অধিষ্ঠিত আছে বিচারাসনগুলি,
দাউদকুলের সিংহাসনগুলি।   [ধুয়ো]

যেরুসালেমের জন্য তোমরা শান্তি যাচনা কর!
যারা তোমাকে ভালবাসে, তাদের সমৃদ্ধি হোক;
শান্তি হোক তোমার প্রাচীর-মাঝে,
তোমার দুর্গশ্রেণির মাঝে সমৃদ্ধি হোক!   [ধুয়ো]

আমার ভাই ও বন্ধুদের খাতিরে
আমি বলব, ‘তোমাতেই বিরাজ করুক শান্তি!’
আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর গৃহের খাতিরে
আমি তোমার মঙ্গল অন্বেষণ করব।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমরা মনের আনন্দে স্বর্গীয় সাক্রামেন্ত গ্রহণ করলাম।
আশীর্বাদ কর:
এই আমরা যারা নিত্যকুমারী ধন্যা মারীয়াকে
তোমার পুত্রের জননী ও মণ্ডলীর মাতা বলে স্বীকার করে আনন্দিত,
সেই সাক্রামেন্ত যেন চিরকালীন জীবন লাভের জন্য আমাদের সহায়তা করে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২য় রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, হে বিশ্বাসীদের প্রাণের দীপ্তি,
প্রসন্ন হয়ে নিখিল বিশ্বকে তোমার গৌরবে পূর্ণ কর,
সকল জাতির মানুষের কাছে তোমার আলোর বিভায় দেখা দাও।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
বেন-সিরা পুস্তক থেকে পাঠ (২৪:১-২,৮-১২)

প্রজ্ঞা নিজেই নিজের প্রশংসাবাদ করে,
তার আপন জনগণের মাঝে নিজের গুণকীর্তন করে।
পরাৎপরের জনমণ্ডলীর মধ্যে মুখ খোলে,
তাঁর পরাক্রমের সম্মুখে নিজের গুণকীর্তন করে:
‘আমি পরাৎপরের মুখনিঃসৃত,
কুয়াশাই যেন পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত হলাম।
আমি সেই ঊর্ধ্বেই আমার তাঁবু স্থাপন করলাম,
মেঘ-স্তম্ভেই স্থাপিত ছিল আমার সিংহাসন।
তখন বিশ্বস্রষ্টা আমাকে এক আজ্ঞা দিলেন,
আমার স্রষ্টা নিজেই আমার জন্য তাঁবু স্থাপন করলেন,
আমাকে বললেন, “যাকোবেই তাঁবু বসাও,
ইস্রায়েলকে নিজ উত্তরাধিকার রূপে গ্রহণ কর।”
অনাদিকাল থেকে—সেই প্রারম্ভেই—তিনি আমাকে সৃষ্টি করলেন,
অনন্তকাল ধরে আমার অন্তর্ধান হবে না।
পবিত্র তাঁবুতে আমি তাঁর সম্মুখে সেবাকর্ম পালন করলাম,
এভাবে সিয়োনে প্রতিষ্ঠিত হলাম।
ভালবাসার পাত্র সেই নগরীতেই তিনি আমার বিশ্রামস্থান দিলেন,
যেরুসালেমেই রয়েছে আমার অধিকার।
আমি গৌরবময় এক জাতির মাঝে শিকড় গাড়লাম,
হ্যাঁ, প্রভুর স্বত্বাংশে, তাঁর সেই উত্তরাধিকারে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৪৭
ধুয়ো:
বাণী হলেন মাংস,
আমাদের মাঝে তাঁবু খাটালেন।

যেরুসালেম! প্রভুর মহিমাকীর্তন কর;
সিয়োন! তোমার পরমেশ্বরের প্রশংসা কর,
তিনি যে সুদৃঢ় করেন তোমার নগরদ্বারের অর্গল,
তোমার সন্তানদের আশিসধন্য করেন তোমার অন্তঃস্থলে।   [ধুয়ো]

তোমার চতুঃসীমানায় শান্তি স্থাপন করেন,
সেরা গমের ফসলে তোমাকে পরিতৃপ্ত করেন।
তিনি এ পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন তাঁর বচন,
তাঁর বাণী দ্রুত বেগে ছুটে যায়।   [ধুয়ো]

তিনি তাঁর আপন বাণী ঘোষণা করেন যাকোবের কাছে,
তাঁর সমস্ত বিধি ও সুবিচার ইস্রায়েলের কাছে।
অন্যান্য দেশের জন্য তাই করলেন, এমন নয়,
অন্য কেউ জানতে পারেনি তাঁর সমস্ত সুবিচার।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১:৩-৬,১৫-১৮)

ধন্য ঈশ্বর, আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের পিতা,
যিনি স্বর্গলোকে যত আত্মিক আশীর্বাদে
খ্রিষ্টে আমাদের আশিসধন্য করেছেন।
জগৎপত্তনের আগেই
তিনি খ্রিষ্টে আমাদের বেছে নিয়েছিলেন,
আমরা যেন ভালবাসায়
তাঁর সামনে পবিত্র ও অনিন্দ্য হয়ে উঠতে পারি;
তিনি আগে থেকে আমাদের বিষয়ে নিরূপণ করেছিলেন,
যিশুখ্রিষ্টের মাধ্যমে আমরা তাঁর দত্তকপুত্র হয়ে উঠব;
এমনটি তিনি করেছিলেন তাঁর প্রসন্নতা ও মঙ্গল-ইচ্ছা অনুসারে,
তাঁর সেই অনুগ্রহের গৌরবের প্রশংসায়,
যে অনুগ্রহ দানে
তিনি তাঁর সেই প্রিয়জনে আমাদের অনুগৃহীত করেছেন।
এজন্য প্রভু যিশুতে তোমাদের বিশ্বাস ও সকল পবিত্রজনের প্রতি তোমাদের ভালবাসার কথা শুনে আমিও [পল] তোমাদের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করায় ক্ষান্ত হই না, এবং আমার প্রার্থনায় তোমাদের কথা স্মরণ করি, যেন আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের ঈশ্বর, সেই গৌরবের পিতা, তাঁকে গভীরতর ভাবে জানবার জন্য তোমাদের প্রজ্ঞা ও ঐশরহস্য-উপলব্ধির আত্মা দান করেন।
তিনি তোমাদের অন্তর্দৃষ্টি আলোকিত করে তুলুন যেন তোমরা উপলব্ধি করতে পার তাঁর আহ্বানের প্রত্যাশা কী, ও পবিত্রজনদের মাঝে তাঁর উত্তরাধিকারের গৌরব-ঐশ্বর্য কী।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
হে খ্রিষ্ট, তোমার গৌরব হোক!
তুমি যে বিজাতীয়দের মধ্যে হলে ঘোষিত।
হে খ্রিষ্ট, তোমার গৌরব হোক!
তুমি যে জগতে বিশ্বাস দ্বারা হলে গৃহীত।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:১-১৮)

আদিতে ছিলেন বাণী:
বাণী ছিলেন ঈশ্বরমুখী,
বাণী ছিলেন ঈশ্বর।
আদিতে তিনি ছিলেন ঈশ্বরমুখী।
সবই তাঁর দ্বারা হয়েছিল,
আর যা কিছু হয়েছে, তার কোন কিছুই তাঁকে ব্যতীত হয়নি।
তাঁর মধ্যে ছিল জীবন,
আর সেই জীবন ছিল মানুষের আলো;
অন্ধকারে সেই আলোর উদ্ভাস,
অথচ অন্ধকার তা ধারণ করেনি!
ঈশ্বর-প্রেরিত একজন মানুষ আবির্ভূত হলেন; তাঁর নাম যোহন;
তিনি এলেন সাক্ষ্য দিতে,
আলোরই বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে,
যেন তাঁর দ্বারা সকলে বিশ্বাস করতে পারে।
তিনি তো সেই আলো ছিলেন না,
আলোর বিষয়ে সাক্ষ্য দিতেই তিনি ছিলেন।
বাণীই ছিলেন সেই সত্যকার আলো,
যা জগতে এসে প্রত্যেক মানুষকে আলোকিত করে।
তিনি জগতের মধ্যে ছিলেন,
আর জগৎ তাঁরই দ্বারা হয়েছিল,
অথচ জগৎ তাঁকে চিনল না।
তিনি নিজের অধিকারের মধ্যে এলেন,
অথচ তাঁর আপনজনেরা তাঁকে গ্রহণ করল না।
কিন্তু যারা তাঁকে গ্রহণ করল,
সেই সকলকে, তাঁর নামে বিশ্বাসী যারা,
তাদের তিনি ঈশ্বরসন্তান হওয়ার অধিকার দিলেন:
তারা রক্তগত জন্মে নয়,
মাংসের বাসনা থেকেও নয়,
পুরুষের বাসনা থেকেও নয়,
ঈশ্বর থেকেই সঞ্জাত।
এবং বাণী হলেন মাংস,
ও আমাদের মাঝে তাঁবু খাটালেন।
আর আমরা তাঁর গৌরব প্রত্যক্ষ করলাম:
এমন গৌরব যা ঈশ্বরের সেই একমাত্র পুত্রেরই সমুচিত গৌরব,
যিনি অনুগ্রহ ও সত্যে পরিপূর্ণ।
তাঁর বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়ে যোহন উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘ইনিই সেই ব্যক্তি যাঁর সম্বন্ধে বলেছিলাম: যিনি আমার পরে আসছেন, তিনি আমার অগ্রগণ্য, কারণ ইনি আমার আগেও ছিলেন।’
সত্যিই আমরা সকলে তাঁর ঐশ্বর্য থেকে লাভবান হয়েছি: লাভ করেছি অনুগ্রহের পরে আরও অনুগ্রহ। মোশি দ্বারা বিধান দেওয়া হয়েছিল বটে, কিন্তু যিশুখ্রিষ্ট দ্বারা অনুগ্রহ ও সত্যই আবির্ভূত হয়েছে। ঈশ্বরকে কেউ কখনও দেখেনি; সেই একমাত্র পুত্র যিনি পিতার কোলে বিরাজমান, তিনিই তাঁর প্রকৃত বর্ণনা দিয়েছেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
মহাপ্রাণ সাধু বাসিলের উপদেশ

মর্তে ঈশ্বর, মানুষের মাঝেই ঈশ্বর: এমন ঈশ্বর নন, যিনি ধূমায়মান পর্বতে অগ্নি-ঝলক ও তূর্যধ্বনির মধ্যে, কিংবা যারা তাঁকে শুনছিল তাদের অন্তরে আতঙ্ক ছড়িয়ে ঘন মেঘে বিদ্যুৎ-ঝলক ও বজ্রনাদের মধ্যে বিধান দেন; বরং এমন মাংসধারী ঈশ্বর, যিনি শান্ত ও মাধুর্যপূর্ণ কণ্ঠে সেই সৃষ্টজীবদের কাছে কথা বলেন যারা তাঁর একই স্বরূপের অধিকারী; এমন মাংসধারী ঈশ্বর, যিনি, আমাদের সেই আপন মাংসে যা তিনি আপন করলেন, নিজের কাছে গোটা মানবজাতিকে ফিরিয়ে আনবার জন্য দূরে থেকে বা নবীদের মাধ্যমে নয়, বরং সেই মানবতারই মধ্য দিয়ে কাজ করেন, যে মানবতাকে নিজের ব্যক্তিত্ব পরিবৃত করার জন্য তিনি আপন বলেই ধারণ করলেন। কেমন করে জ্যোতি কেবল একজনেরই মধ্য দিয়ে সকলের কাছে পৌঁছল? কেমন করে ঈশ্বরত্ব মাংসে অবস্থান করে? যেমন আগুন লোহাতে, তেমনি: রূপান্তর অনুসারে নয়, অংশভাগিতাই অনুসারে। বস্তুত আগুন লোহাতে যায় না, বরং নিজের স্থানে থেকে লোহাকে নিজের গুণের অংশভাগী করে; এ অংশভাগিতার ফলে তার ঘাটতি পড়ে এমন নয়, বরং যা কিছু নিজের অংশভাগী করে, নিজেকে নিয়ে সেইসব কিছু প্রসারিত করে। তেমনি বাণী-ঈশ্বর নিজে থেকে নিজেকে কখনও বিচ্ছিন্ন না করে আমাদের মাঝে তাঁবু খাটালেন; কোন পরিবর্তনের অধীন না হয়ে তিনি মাংস হলেন: পৃথিবী তাঁকে আপন বুকে গ্রহণ করলেও তাঁর আবাস সেই স্বর্গ তাঁর উপস্থিতিতে বঞ্চিত হয়নি।
রহস্যের মর্মকথায় প্রবেশ করতে চেষ্টা কর: ঈশ্বর একারণেই মাংস ধারণ করলেন, যাতে তিনি মাংসে নিহিত মৃত্যুকে ধ্বংস করতে পারেন। যেমন বিষের ঔষধ একবার খেলে বিষের ফল শেষ করে দেয়, যেমন ঘরের অন্ধকার সূর্যের আলোয় ঘুচে যায়, তেমনি মানবস্বরূপের উপর যা প্রভুত্ব করত, সেই মৃত্যু ঈশ্বরের উপস্থিতিতে ধ্বংসিত হল। আর যেমন রাত্রি যতক্ষণ থাকে ও অন্ধকার রাজত্ব করে ততক্ষণই বরফ জলে জমাই থাকে, কিন্তু সূর্যের তাপে সঙ্গে সঙ্গেই গলে যায়, তেমনি খ্রিষ্টের আগমন পর্যন্ত যে মৃত্যু রাজত্ব করে এসেছিল, ত্রাণকর্তা ঈশ্বরের অনুগ্রহের আবির্ভাবে ও ধর্মময়তার সূর্যের উদয়েই সঙ্গে সঙ্গে সেই মৃত্যু, জীবনের সহবর্তমান হতে অক্ষম হওয়ায়, বিজয় দ্বারা কবলিত হল (১ করি ১৫:৫৪)। আহা, মানুষের প্রতি ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা ও ভালবাসা কতই না মহান!
এসো, রাখালদের সঙ্গে তাঁর গৌরবকীর্তন করি, স্বর্গদূতদের সঙ্গে উল্লাস করি, কেননা আজ আমাদের জন্য এক ত্রাণকর্তা জন্মেছেন—তিনি খ্রিষ্ট প্রভু (লুক ২:১১)। আমাদের কাছেও প্রভু ঈশ্বররূপে আবির্ভূত হননি—তাতে আমাদের ভঙ্গুরতা আতঙ্কিতই হত—, তিনি বরং দাসরূপেই আবির্ভূত হলেন, যারা দাসত্বে ছিল, তিনি যেন তাদের মুক্তি দিতে পারেন। আনন্দ করবে না, উল্লাস করবে না, উপহার বহন করবে না, কেইবা তেমন উদাসীন, তেমন অকৃতজ্ঞ? আজ সকল সৃষ্টজীবদের জন্যই উৎসবের দিন। কিছুই উপহার দেবে না, তেমন কেউ যেন না থাকে, কৃতঘ্নতা দেখাবে, তেমন কেউ যেন না থাকে। এসো, আমরাও জয়ধ্বনি তুলে আনন্দে মেতে উঠি।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
যারা তাঁকে গ্রহণ করল,
দেহধারী বাণী তাদের ঈশ্বরসন্তান হওয়ার অধিকার দিলেন।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের পরমেশ্বর, বিনীত কণ্ঠে মিনতি জানাই:
এ রহস্যময় ভোজের গুণে আমাদের জীবন পরিশুদ্ধ হয়ে উঠুক,
আমাদের ধর্মময় মনস্কামনা পূর্ণতা লাভ করুক।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


প্রভুর আত্মপ্রকাশ
ছবিতে মথি ২:১-১২ বর্ণনা অনুযায়ী
ঘটনাগুলো প্রদর্শিত।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, আজই তুমি এক তারা দিশারী ক’রে
সকল জাতির মানুষের কাছে তোমার একমাত্র পুত্রকে প্রকাশ করেছিলে।
প্রসন্ন হয়ে আশীর্বাদ কর:
আমরা যারা ইতিমধ্যে বিশ্বাসের মাধ্যমে তোমাকে চিনতে পেরেছি,
যেন তোমার অপার গৌরবের সৌন্দর্য দর্শনে চালিত হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৬০:১-৬)

ওঠ, আলোমণ্ডিতা হও, কারণ তোমার আলো এসে গেছে,
প্রভুর গৌরব তোমার উপরে উদিত হয়েছে।
দেখ, অন্ধকার পৃথিবীকে এখনও আচ্ছন্ন করছে,
তমসা সর্বজাতিকে এখনও আবৃত করছে,
কিন্তু তোমার উপরে স্বয়ং প্রভু উদিত হচ্ছেন,
তোমার উপরে দৃশ্যমান হচ্ছে তাঁর আপন গৌরব।
দেশগুলি তোমার আলোর কাছে আসবে,
রাজারাও আসবে তোমার উদয়ের মহিমার কাছে।
তুমি চারদিকে চোখ তুলে দেখ:
এরা সকলে একত্রে জড় হয়ে তোমার কাছে আসছে।
তোমার সন্তানেরা দূর থেকে আসছে,
তোমার কন্যাদের বাহুতে ক’রে বহন করা হচ্ছে।
তা দেখে তুমি উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
তোমার অন্তর দুলে উঠবে, উথলেই উঠবে,
কারণ সমুদ্রের যত ধন তোমার কাছে ভেসে আসবে,
দেশগুলির ঐশ্বর্য তোমার কাছে এসে পৌঁছবে।
উট দলে দলে এসে তোমার রাস্তা-ঘাট সমস্তই দখল করবে,
—মিদিয়ান ও এফার দ্রুতগামী উট—
শাবা থেকে সকলেই আসবে,
তারা আনবে সোনা ও ধূপ, প্রচার করবে প্রভুর প্রশংসাবাদ।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৭২
ধুয়ো:
পৃথিবীর সকল জাতি
তোমার উদ্দেশে প্রণিপাত করবে, প্রভু।

পরমেশ্বর, রাজাকে তোমার সুবিচার,
রাজপুত্রকে তোমার ধর্মময়তা প্রদান কর;
তিনি ধর্মময়তায় তোমার আপন জনগণকে,
সুবিচার মতে তোমার দীনদুঃখীদের বিচার করুন।   [ধুয়ো]

তাঁর জীবনকালে ধর্মময়তা হবে প্রস্ফুটিত,
চন্দ্র যতদিন না বিলীন হয়, ততদিন মহাশান্তি হবে বিরাজিত।
তিনি এক সাগর থেকে আর এক সাগর পর্যন্ত আধিপত্য করবেন,
মহানদী থেকে পৃথিবীর প্রান্তসীমায়।   [ধুয়ো]

তার্সিস ও দ্বীপপুঞ্জের রাজারা নিয়ে আসবেন অর্ঘ্যদান,
শেবা ও সাবার রাজারা রাজস্ব আনবেন;
সকল রাজা তাঁর উদ্দেশে প্রণিপাত করবেন,
তাঁকে সেবা করবে সকল দেশ।   [ধুয়ো]

কেননা যে-নিঃস্ব সাহায্যের জন্য চিৎকার করে,
যে-দীনজন অসহায় হয়, তিনি তাদের উদ্ধার করবেন।
তিনি দীনহীন ও নিঃস্বের প্রতি দয়া করবেন,
ত্রাণ করবেন নিঃস্বদের প্রাণ।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৩:২-৩ক,৫-৬)

প্রিয়জনেরা, ঈশ্বরের যে অনুগ্রহ-ব্যবস্থা তোমাদের খাতিরে আমাকে দেওয়া হয়েছে, তার কথা তোমরা নিশ্চয় শুনেছ; একথাও শুনেছ যে, ঐশপ্রকাশের মধ্য দিয়ে সেই রহস্য আমাকে জানানো হয়েছে।
সেই রহস্যকে পূর্বযুগের মানুষের কাছে সেইভাবে প্রকাশ করা হয়নি, যেভাবে এই বর্তমানকালে আত্মায় তাঁর পবিত্র প্রেরিতদূতদের ও নবীদের কাছে প্রকাশ করা হয়েছে, যথা, সুসমাচারের মধ্য দিয়ে বিজাতীয়রা একই উত্তরাধিকারের সহভাগী হতে, একই দেহের অঙ্গ হতে, ও প্রতিশ্রুতির অংশীদার হতে খ্রিষ্টযিশুতে আহূত হয়েছে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমরা পুবে তাঁর জ্যোতিষ্ক দেখেছি,
ও প্রভুর সামনে প্রণিপাত করতে এসেছি।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২:১-১২)

হেরোদ রাজার সময়ে যুদেয়ার বেথলেহেমে যিশুর জন্ম হওয়ার পর হঠাৎ প্রাচ্য দেশ থেকে কয়েকজন পণ্ডিত যেরুসালেমে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইহুদীদের নবজাত রাজা কোথায়? আমরা পুবে তাঁর জ্যোতিষ্ক দেখেছি, ও তাঁর সামনে প্রণিপাত করতে এসেছি।’ একথা শুনে হেরোদ রাজা উদ্বিগ্ন হলেন, ও তাঁর সঙ্গে গোটা যেরুসালেমও উদ্বিগ্ন হল। সকল প্রধান যাজক ও জাতির শাস্ত্রীদের সমবেত করে তিনি তাঁদের কাছে জানতে চাইলেন, সেই খ্রিষ্টের কোথায় জন্মাবার কথা। তাঁরা তাঁকে বললেন: ‘যুদেয়ার বেথলেহেমে, কেননা নবী যে কথা লিখেছিলেন, তা এ:
যুদা দেশের হে বেথলেহেম,
যুদার জননেতাদের মধ্যে তুমি আদৌ হীনতম নও,
কারণ তোমা থেকেই বের হবেন এক জননেতা,
যিনি আমার জনগণ ইস্রায়েলকে প্রতিপালন করবেন।’
তখন হেরোদ সেই পণ্ডিতদের গোপনে ডেকে কোন্‌ সময়ে জ্যোতিষ্কটা দেখা দিয়েছিল, তাঁদের কাছ থেকে তা সঠিক ভাবে জেনে নিলেন, এবং এই বলে তাঁদের বেথলেহেমে পাঠিয়ে দিলেন, ‘আপনারা গিয়ে ভাল করেই সেই শিশুর খোঁজ নিন; খোঁজ পেলেই আমাকে সংবাদ দিন, যেন আমিও গিয়ে তাঁর সামনে প্রণিপাত করতে পারি।’
রাজার কথামত তাঁরা বিদায় নিলেন, আর দেখ, পুবে তাঁরা যে জ্যোতিষ্ক দেখেছিলেন, তা তাঁদের আগে আগে চলল, যতক্ষণ না সেই স্থানের উপর এসে থামল যেখানে শিশুটি ছিলেন। জ্যোতিষ্কটা দেখতে পেয়ে তাঁরা মহা আনন্দে অতিশয় আনন্দিত হলেন; এবং ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে শিশুটিকে তাঁর মা মারীয়ার সঙ্গে দেখতে পেলেন; তখন ভূমিষ্ঠ হয়ে তাঁর সামনে প্রণিপাত করলেন; পরে নিজেদের রত্নপেটিকা খুলে তাঁকে উপহার দিলেন সোনা, ধূপধুনো ও গন্ধনির্যাস। পরে যেন হেরোদের কাছে ফিরে না যান, স্বপ্নে তেমন আদেশ পেয়ে তাঁরা অন্য পথ দিয়ে নিজেদের দেশে ফিরে গেলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
মহাপ্রাণ সাধু বাসিলের উপদেশ

শিশুটি যেখানে ছিলেন, তারাটি সেই স্থানের উপরে থামল। তারাটি দেখামাত্র পণ্ডিতগণ মহানন্দে অধিক আনন্দিত হলেন। এসো, আমরাও অন্তরে সেই মহা আনন্দ গ্রহণ করি। রাখালদের কাছে স্বর্গদূতেরা একই আনন্দের সংবাদ জানান। এসো, পণ্ডিতদের সঙ্গে আমরাও তাঁকে পূজা করি, রাখালদের সঙ্গে তাঁর গৌরবকীর্তন করি, স্বর্গদূতদের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠি, কেননা আজ আমাদের জন্য এক ত্রাণকর্তা জন্মেছেন—তিনি খ্রিষ্ট প্রভু (লুক ২:১১)। পরমেশ্বর প্রভুই আমাদের আলো (সাম ১১৮:২৭): ঈশ্বররূপে নয়, পাছে আমাদের দুর্বলতা আতঙ্কিত হয়; বরং দাসরূপে, যাতে যারা দাসত্বের অধীন ছিল, তিনি তাদের কাছে মুক্তি এনে দিতে পারেন। এমন কার অন্তর এত উদাসীন ও অকৃতজ্ঞ যে, উপহার দান ক’রে আপন উৎফুল্লতা ব্যক্ত করার আনন্দ অনুভব করবে না? আজ সমগ্র বিশ্বের জন্যই উৎসবের দিন: স্বর্গকে মর্তের কাছে দান করা হয়, একটি মহাদূতকে জাখারিয়া ও মারীয়ার কাছে প্রেরণ করা হয়, স্বর্গদূতদের এক দল গেয়ে ওঠেন, ঊর্ধ্বলোকে ঈশ্বরের গৌরব, ইহলোকে তাঁর প্রসন্নতার পাত্র মানুষের জন্য শান্তি (লুক ২:১৪)।
তারকারাজি স্বর্গ থেকে মুখ বাড়ায়, পণ্ডিতগণ আপন দেশ ছেড়ে আসেন, গোটা পৃথিবী একটি গুহাতে সংগৃহীত। কিছুটা নিয়ে যাবে না, আমাদের মধ্যে তেমন কেউ যেন না থাকে; অকৃতজ্ঞ থাকবে, তেমন কেউ যেন না থাকে। এসো, জগতের পরিত্রাণ ও মানবজাতির জন্মতিথি উদ্‌যাপন করি।
আজ আদমের দণ্ড শোধ করা হয়েছে। আর কখনও একথা শুনতে হবে না, তুমি ধুলা, আর ধুলাতেই আবার ফিরে যাবে (আদি ৩:১৯), বরং যিনি স্বর্গ থেকে এসেছেন, তুমি তাঁর সঙ্গে মিলিত হয়ে স্বর্গেই উন্নীত হবে। আর কখনও শোনা যাবে না, তুমি যন্ত্রণার মধ্যেই প্রসব করবে (আদি ৩:১৯)। বস্তুত, তিনি ধন্য, যিনি ইম্মানুয়েলকে প্রসব করলেন; সেই বুকও ধন্য যা যিশুকে দুধ দিল! ঠিক একারণে এক শিশু জন্ম নিয়েছেন আমাদের জন্য, এক পুত্রসন্তানকে দেওয়া হয়েছে আমাদের, তাঁর কাঁধে রয়েছে আধিপত্যের চিহ্ন (ইসা ৯:৫)।
যারা স্বর্গ থেকে প্রভুকে সাদরে গ্রহণ করলেন, তুমি তাঁদের দলে যোগ দাও।
একথা ভাব: রাখালেরা প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠল, যাজকেরা ভবিষ্যদ্বাণী দেওয়ার ক্ষমতা পেলেন, মারীয়া গাব্রিয়েলের সংবাদের ফলে ও এলিজাবেথ আপন গর্ভে যোহন নড়ে উঠলেন ব’লে নারী দু’জনে আনন্দে প্লাবিত হলেন; আন্না শুভসংবাদ প্রচার করেন ও সিমেয়োন শিশুকে কোলে গ্রহণ করেন। এঁরা সকলে সেই শিশুতে মহান ঈশ্বরকেই পূজা করছিলেন, যে শৈশবগঠন দেখছিলেন তা হেয় মনে না করে তাঁরা বরং তাঁর ঈশ্বরত্বের মাহাত্ম্যের প্রশংসাবাদ করছিলেন; কেননা ঐশশক্তি যেন স্ফটিকের মধ্য দিয়ে একটি কিরণেরই মত সেই মানবদেহে উজ্জ্বল হয়ে তাঁদের শুদ্ধ মনশ্চক্ষুর সামনে উদ্ভাসিত ছিল। আহা, তাঁদের সঙ্গে থেকে আমরাও যদি শুদ্ধ চোখে দর্পণের মধ্য দিয়েই যেন প্রতিবিম্বিত প্রভুর গৌরব দর্শন করতে পারি, আমরাও যদি আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ ও মঙ্গলময়তা গুণে গৌরব থেকে উচ্চতর গৌরবে রূপান্তরিত হতে পারি! তাঁরই গৌরব ও রাজ-অধিকার যুগে যুগান্তরে। আমেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৪৭
ধুয়ো:
আমরা পুবে তাঁর জ্যোতিষ্ক দেখেছি,
উপহার নিয়ে প্রভুকে পূজা করতে এসেছি।

যেরুসালেম! প্রভুর মহিমাকীর্তন কর;
সিয়োন! তোমার পরমেশ্বরের প্রশংসা কর,
তিনি যে সুদৃঢ় করেন তোমার নগরদ্বারের অর্গল,
তোমার সন্তানদের আশিসধন্য করেন তোমার অন্তঃস্থলে।   [ধুয়ো]

তিনি এ পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন তাঁর বচন,
তাঁর বাণী দ্রুত বেগে ছুটে যায়।
তিনি তুষার বিছিয়ে দেন গালিচার মত,
ছাইয়ের মত ছড়িয়ে দেন জমাট শিশির।   [ধুয়ো]

তিনি তাঁর আপন বাণী ঘোষণা করেন যাকোবের কাছে,
তাঁর সমস্ত বিধি ও সুবিচার ইস্রায়েলের কাছে।
অন্যান্য দেশের জন্য তাই করলেন, এমন নয়,
অন্য কেউ জানতে পারেনি তাঁর সমস্ত সুবিচার।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার স্বর্গীয় আলো দানে
সর্বকালে সর্বস্থানে আমাদের চলার পথের সঙ্গী হও,
যে রহস্যে যোগদান করব বলে তুমি ইচ্ছা করেছ,
আমরা যেন তা নির্মল বিশ্বাসের সঙ্গে অনুধ্যান করি
ও যথার্থ ভক্তির সঙ্গে উপভোগ করি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

প্রভুর আত্মপ্রকাশ মহাপর্ব যদি ৭ই বা ৮ই জানুয়ারীতে রবিবারেই পড়ে, তাহলে প্রভুর বাপ্তিস্ম পর্ব (বিশ্বাস-সূত্র ছাড়া) পরবর্তী সোমবারে পালিত হয়।


[সূচী]    


প্রভুর বাপ্তিস্ম
যিশু জল থেকে উঠে এলেন,
আর হঠাৎ স্বর্গ উন্মুক্ত হল,
আর তিনি দেখলেন,
ঈশ্বরের আত্মা কপোতের মত নেমে এসে
তাঁর উপরে পড়ছেন।
আর হঠাৎ স্বর্গ থেকে এক কণ্ঠস্বর বলে উঠল,
‘ইনিই আমার প্রিয়তম পুত্র,
এঁতে আমি প্রসন্ন (মথি ৩:১৬:১৭)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, যর্দন নদীতে বাপ্তিস্মের পর
খ্রিষ্টের উপর পবিত্র আত্মা নেমে এলে তুমি সকলের সামনে ঘোষণা করেছিলে, তিনি তোমার প্রিয়তম পুত্র।
আশীর্বাদ কর: যারা জল ও পবিত্র আত্মায় নবজন্ম লাভ করেছে,
তোমার সেই গৃহীত সন্তানেরা যেন তোমার প্রসন্নতার পাত্র বলেই
সর্বদা জীবনযাপন করতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৪২:১-৪,৬-৭)

প্রভু একথা বলছেন:
‘এই যে আমার সেই দাস, আমি নিজেই যাঁর নির্ভর;
তিনি আমার মনোনীতজন, আমার প্রাণ তাঁতেই প্রসন্ন।
আমি তাঁর উপর আমার আত্মা প্রেরণ করেছি;
সকল দেশের কাছে তিনি নিয়ে যাবেন সুবিচার।
তিনি চিৎকার করবেন না, জোর গলায় কথা বলবেন না,
রাস্তা-ঘাটে নিজ কণ্ঠস্বর শোনাবেন না।
তিনি থেঁতলানো নলগাছ ছিঁড়ে ফেলবেন না,
টিমটিমে সলতেও নিভিয়ে দেবেন না;
তিনি বিশ্বস্ততার সঙ্গেই ন্যায় ঘোষণা করবেন;
তিনি ক্ষান্ত হবেন না, ভেঙে পড়বেন না,
যতদিন না পৃথিবীতে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন;
দ্বীপপুঞ্জ তাঁর বিধিবিধানের অপেক্ষায় থাকবে।
আমি প্রভু ধর্মময়তার উদ্দেশ্যে তোমাকে আহ্বান করেছি,
আমি তোমার হাত শক্ত করে ধরেছি; তোমাকে গড়েছি,
জনগণের জন্য সন্ধি ও দেশগুলির জন্য আলোরূপেই তোমাকে নিযুক্ত করেছি
অন্ধদের চোখ খুলে দেবার জন্য,
এবং কারাবাস থেকে বন্দিদের, ও যারা অন্ধকারে বাস করে,
কারাকুয়ো থেকে তাদের বের করে আনার জন্য।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ২৯
ধুয়ো:
প্রভু তাঁর আপন জাতিকে
ধন্য করবেন শান্তিদানে।

প্রভুতে আরোপ কর তোমরা, হে ঈশ্বরের সন্তান,
প্রভুতে আরোপ কর গৌরব ও শক্তি।
প্রভুতে আরোপ কর তাঁর নামের গৌরব,
তাঁর পবিত্রতার আবির্ভাবে প্রভুর সম্মুখে কর প্রণিপাত।   [ধুয়ো]

প্রভুর কণ্ঠস্বর জলরাশির উপরে বিরাজিত,
প্রভু বিপুল জলরাশির উপরে বিরাজিত।
প্রভুর কণ্ঠস্বর শক্তিশালী,
প্রভুর কণ্ঠস্বর মহিমময়।   [ধুয়ো]

গৌরবের ঈশ্বর বজ্রনাদ করেন,
তাঁর মন্দিরে সবাই বলে ওঠে: ‘গৌরব!’
প্রভু জলপ্লাবনের উপরে সমাসীন,
প্রভু রাজারূপে চিরসমাসীন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (১০:৩৪-৩৮)

সেসময়ে পিতর বললেন, ‘আমি সত্যিই বুঝতে পারছি, ঈশ্বর কারও পক্ষপাত করেন না; কিন্তু প্রত্যেক জাতির মধ্যে যে কেউ তাঁকে ভয় করে ও ন্যায় পালন করে, সে তাঁর গ্রহণীয় হয়।
তিনি ইস্রায়েল সন্তানদের কাছে বাণী প্রেরণ করলেন, এবং তাদেরই কাছে যিশুখ্রিষ্ট দ্বারা এই শান্তির শুভসংবাদ বহন করা হল যে, ইনিই সকলের প্রভু।
যোহন-প্রচারিত বাপ্তিস্মের পর থেকে গালিলেয়াতে আরম্ভ ক’রে সমস্ত যুদেয়ায় সম্প্রতি কী ঘটেছে, আপনারা তা জানেন: অর্থাৎ, কেমন করে ঈশ্বর নাজারেথের সেই যিশুকে পবিত্র আত্মায় ও পরাক্রমে তৈলাভিষিক্ত করেছিলেন। তিনি মানুষের মঙ্গল সাধন করতে করতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন এবং দিয়াবলের শক্তির অধীনে থাকা যত মানুষকে সুস্থ করে তুলছিলেন, কারণ ঈশ্বর তাঁর সঙ্গে ছিলেন।’
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
স্বর্গ উন্মুক্ত হল এবং পিতার কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হল:
‘ইনি আমার প্রিয়তম পুত্র; তাঁর কথা শোন।’
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
২০২০, ২০২৩, ২০২৬, ২০২৯, ২০৩২, ২০৩৫, ২০৩৮, ২০৪১, ২০৪৪ সালে:
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৩:১৩-১৭)

একদিন যিশু যোহনের হাতে বাপ্তিস্ম নেবার জন্য গালিলেয়া থেকে যর্দনের ধারে তাঁর কাছে এলেন। যোহন এই বলে তাঁকে নিরস্ত করতে চেষ্টা করলেন, ‘আমারই তো আপনার হাতে বাপ্তিস্ম নেওয়া দরকার, আর আপনি নাকি আমার কাছে আসছেন!’ কিন্তু যিশু উত্তরে তাঁকে বললেন, ‘এখনকার মত সম্মত হও, কেননা এভাবেই সমস্ত ধর্মময়তা সাধন করা আমাদের পক্ষে সমীচীন।’ তখন তিনি তাঁর কথায় সম্মত হলেন।
বাপ্তিস্ম নেওয়ামাত্র যিশু জল থেকে উঠে এলেন, আর হঠাৎ স্বর্গ উন্মুক্ত হল, আর তিনি দেখলেন, ঈশ্বরের আত্মা কপোতের মত নেমে এসে তাঁর উপরে পড়ছেন।
আর হঠাৎ স্বর্গ থেকে এক কণ্ঠস্বর বলে উঠল, ‘ইনিই আমার প্রিয়তম পুত্র, এঁতে আমি প্রসন্ন।’
প্রভুর বাণী।

২০২১, ২০২৪, ২০২৭, ২০৩০, ২০৩৩, ২০৩৬, ২০৩৯, ২০৪২, ২০৪৫ সালে:
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:৭-১১)

সেসময়ে বাপ্তিস্মদাতা যোহন প্রচার করে বলতেন, ‘আমার পরে এমন একজন আসছেন, যিনি আমার চেয়ে শক্তিশালী; আমি নিচু হয়ে তাঁর জুতোর বাঁধন খুলবার যোগ্য নই। আমি তোমাদের জলে বাপ্তিস্ম দিলাম, তিনি কিন্তু পবিত্র আত্মায়ই তোমাদের বাপ্তিস্ম দেবেন।’
নির্ধারিত সময় যিশু গালিলেয়ার নাজারেথ থেকে এসে যোহনের হাতে যর্দনে বাপ্তিস্ম নিলেন। আর জলের মধ্য থেকে উঠে আসামাত্র তিনি দেখলেন, আকাশ দু’ভাগ হল ও আত্মা কপোতের মত তাঁর উপর নেমে আসছেন; এবং স্বর্গ থেকে এক কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হল, ‘তুমি আমার প্রিয়তম পুত্র, আমি তোমাতে প্রসন্ন।’
প্রভুর বাণী।

২০২২, ২০২৫, ২০২৮, ২০৩১, ২০৩৪, ২০৩৭, ২০৪০, ২০৪৩, ২০৪৬ সালে:
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৩:১৫-১৬,২১-২২)

সেসময়ে, যেহেতু জনগণ প্রতীক্ষায় ছিল, ও যোহনের বিষয়ে সকলে মনে মনে ভাবছিল তিনিই সেই খ্রিষ্ট কিনা, সেজন্য যোহন সকলকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘আমি তোমাদের জলে বাপ্তিস্ম দিই বটে, কিন্তু এমন একজন আসছেন, যিনি আমার চেয়ে শক্তিশালী; আমি তাঁর জুতোর বাঁধন খুলবার যোগ্য নই; তিনি পবিত্র আত্মা ও আগুনেই তোমাদের বাপ্তিস্ম দেবেন।’
তখন এমনটি ঘটল যে, যখন সমস্ত জনগণ বাপ্তিস্ম গ্রহণ করল এবং যিশু নিজেও বাপ্তিস্ম গ্রহণ ক’রে প্রার্থনা করছিলেন, তখন স্বর্গ উন্মুক্ত হল, এবং পবিত্র আত্মা দৈহিক আকারে, কোপতের মত, তাঁর উপরে নেমে এলেন; এবং স্বর্গ থেকে এক কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হল, ‘তুমি আমার পুত্র, আমি আজ তোমাকে জন্ম দিলাম।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
নেওসীজারিয়ার বিশপ সাধু গ্রেগরির বলে ধরে নেওয়া উপদেশ

আপনার সামনে আমি নীরব হয়ে থাকতে পারি না; কেননা আমি একটা কণ্ঠস্বর, প্রকৃতপক্ষে আমি এমন একজনের কণ্ঠস্বর যে মরুপ্রান্তরে চিৎকার করে বলে, প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত কর (মথি ৩:৩)। আমারই তো আপনার হাতে বাপ্তিস্ম নেওয়া দরকার, আর আপনি নাকি আমার কাছে আসছেন? (মথি ৩:১৪)। জন্মগ্রহণ করে আমি আমার প্রসবিনী মাতার অনুর্বরতা উর্বর করেছি; তখনও আমার মুখে কথা ফোটেনি আর আমি আমার পিতার মুখ উন্মুক্ত করেছি যিনি বাক্‌শক্তিহীন হয়েছিলেন: বালক হতেই আমি আপনার কাছ থেকে অলৌকিক কাজ সাধন করার ক্ষমতা পেয়েছিলাম।
অপরদিকে আপনি সেই মারীয়া থেকে জন্ম নিয়ে, যাঁকে আপনি কুমারীই চেয়েছিলেন—আর এমনভাবেই চেয়েছিলেন যার রহস্য একমাত্র আপনিই জানেন—, আপনি তো তাঁর কুমারীত্ব একবিন্দুও স্পর্শ করেননি, বরং তাঁকে রক্ষা করে মাতৃত্বের মর্যাদা দান করেছেন। কুমারীত্ব আপনার জন্মে বাধা দেয়নি, আপনার জন্মও কুমারীত্বকে ক্ষতি করেনি: সাধারণত পরস্পর-বিপক্ষীয় এই দু’টো জিনিস, এবার একটিমাত্র ঘটনায় মিলিত হল। প্রকৃতির স্রষ্টা হওয়ায় আপনার পক্ষে তেমন কাজ সম্ভব শুধু নয়, সহজও হল।
মানুষ বলে আমি ঐশ অনুগ্রহের অংশীদার মাত্র; অপরদিকে আপনি স্বয়ং ঈশ্বর, যদিও মানুষ-হওয়া-ঈশ্বর, কেননা আপনি দয়ালু ও মানবজাতিকে চরম ভালবাসায় ভালবাসেন। আমারই তো আপনার হাতে বাপ্তিস্ম নেওয়া দরকার, আর আপনি নাকি আমার কাছে আসছেন? আপনি যে আদিতে ছিলেন, ঈশ্বরমুখীই ছিলেন, আর আপনি নিজেই ছিলেন ঈশ্বর; আপনি যে পিতার গৌরবের প্রভা ও সিদ্ধতামণ্ডিত পিতার সিদ্ধ প্রতিমূর্তি; আপনি যে সত্যকার আলো, যে আলো জগতে আসা প্রতিটি মানুষকে আলোকিত করে (যোহন ১:৯); জগতের সত্তা হয়েও আপনি সেখানে এলেন যেখানে আগেও ছিলেন, এবং স্বরূপের পরিবর্তন না ঘটিয়েও মাংস হলেন; আপনি যে আপনার দাসদের চোখের সামনে দাসরূপেই আমাদের মাঝে বাস করতে এলেন; আপনি যে আপনার পবিত্র নাম দিয়ে স্বর্গ ও মর্তের মধ্যে সেতুবন্ধন হলেন: সেই আপনি কি আমার কাছে আসছেন? আপনি যে এত মহান, আমার মত মানুষের কাছে আসছেন? আপনি যে রাজা, অগ্রদূতের কাছে আসছেন? আপনি যে প্রভু, আপনি কি দাসের কাছে আসছেন? আর যদিও আপনি আমাদের হীন স্বরূপ ধারণ করতে ঘৃণাবোধ করেননি, তবু আমি তেমন স্বরূপের সীমা ভুলতে পারি না। আমি তো জানি সেই সীমাহীন ব্যবধান যা পৃথিবীকে তার স্রষ্টা থেকে পৃথক রাখে, জানি মাটি ও যিনি মাটি দিয়ে মানুষ গড়েছেন তাদের মধ্যে কী পার্থক্যই না রয়েছে। আমি তো জানি, ধর্মময়তার সূর্য বলে আপনি আপনার প্রভায় আপনার অনুগ্রহের প্রদীপ-মাত্র এ আমারই চেয়ে কতই না দীপ্তিমান। আপনার প্রতাপ দেহের শুভ্র মেঘের মধ্যে জড়ানো হলেও আমি তো আপনার সেই প্রতাপ মেনে নিই। আমার দাস-ভূমিকা বিষয়ে সচেতন হয়ে আমি আপনার মাহাত্ম্য ঘোষণা করি, আপনার প্রতাপের উচ্চতা মেনে নিই, ও আমার নীচতা ও মূল্যহীনতা স্বীকার করি। যখন আমি আপনার জুতো খুলবার যোগ্য নই (যোহন ১:২৭), তখন কি করে আপনার নিষ্কলঙ্ক মাথা স্পর্শ করব? আপনি যখন আকাশমণ্ডলকে আবরণের মত পেতে দিয়েছেন ও পৃথিবীকে জলরাশির উপরে স্থাপন করেছেন, তখন আমি কেমন করে আপনার উপর আমার ডান হাত বাড়াব? দাসের এই হাতের মুঠ আমি কি করে আপনার ঐশ মাথার উপর খুলে দেব? আমি কেমন করে আপনাকে শোধন করব, আপনি যে নিষ্কলঙ্ক ও পাপশূন্য? কেমন করে আমি স্বয়ং আলোকে আলোকিত করব? যারা আপনাকে জানে না, আপনি যে তাদের প্রার্থনাও শোনেন, কোন্‌ প্রার্থনাই বা আমি সেই আপনার উপর উচ্চারণ করব?

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
যোহন এই বলে সাক্ষ্য দিলেন, ‘আমি তাঁকে দেখেছি,
এবং এই সাক্ষ্য দিয়েছি যে, তিনি ঈশ্বরের পুত্র।’

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার পবিত্র দানে পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে
আমরা তোমার করুণা প্রার্থনা করি:
তোমার একমাত্র পুত্রের বাণী নিষ্ঠার সঙ্গে শ্রবণ ক’রে
আমরা যেন তোমার সন্তান নামের যোগ্য হয়ে
প্রকৃত সন্তান বলেই জীবনযাপন করি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

প্রভুর বাপ্তিস্ম এর পরবর্তী দিন থেকে সাধারণকালের প্রথম সপ্তাহ শুরু হয়।

[সূচী]