সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
পাস্কাকাল

প্রভু যিশুর পুনরুত্থান (সাধু বেনেডিক্ট মঠ - উপাসনালয়)
* বাংলাদেশে প্রভুর স্বর্গারোহণ মহাপর্ব ৭ম রবিবারে পালিত হয়।    
অনুষ্ঠানসমূহ: পাস্কা-নিশিজাগরণী | পাস্কা-রবিবার | ২য় রবিবার | ৩য় রবিবার | ৪র্থ রবিবার | ৫ম রবিবার | ৬ষ্ঠ রবিবার | স্বর্গারোহণ | ৭ম রবিবার | পঞ্চাশত্তমী

৩য় পাস্কা-রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর,
প্রাণে নবায়িত হয়েছে বলে তোমার ভক্তরা নিত্যই আনন্দিত হোক।
ঐশপুত্রত্বের গৌরব ফিরে পেয়ে তারা যেমন আজ উল্লসিত, তেমনি
নিশ্চিত আশা নিয়ে তারা যেন পুনরুত্থানের দিনের আনন্দের প্রতীক্ষায় থাকে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (৫:২৭খ-৩২,৪০খ-৪১)

সেসময়ে মহাযাজক প্রেরিতদূতদের জেরা করতে লাগলেন; তিনি বললেন, ‘আমরা এই নামকে কেন্দ্র করে উপদেশ দিতে তোমাদের স্পষ্টভাবেই নিষেধ করেছিলাম; তবু দেখ, তোমরা নিজেদের উপদেশে যেরুসালেমকে পূর্ণ করেছ, এবং সেই লোকটার রক্তপাতের দায়িত্ব আমাদের উপরে চাপাতে চাচ্ছ।’
পিতর ও অন্যান্য প্রেরিতদূতেরা উত্তরে বললেন, ‘মানুষের প্রতি বাধ্য হওয়ার চেয়ে বরং ঈশ্বরেরই প্রতি বাধ্য হওয়া উচিত। একটা গাছে ঝুলিয়ে আপনারা যাঁকে হত্যা করেছিলেন, আমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বরই সেই যিশুকে পুনরুত্থিত করেছেন। তাঁকেই ঈশ্বর জননায়ক ও ত্রাণকর্তা ক’রে আপন ডান হাত দ্বারা উত্তোলিত করেছেন, যেন ইস্রায়েলকে মনপরিবর্তন ও পাপমুক্তি দান করতে পারেন। আমরা নিজেরাই এই সবকিছুর সাক্ষী; আর সাক্ষী আছেন সেই পবিত্র আত্মাও, যাঁকে ঈশ্বর তাদেরই কাছে দান করেছেন, যারা তাঁর প্রতি বাধ্য।’
তাঁরা প্রেরিতদূতদের কশাঘাত করালেন, এবং যিশুর নামকে কেন্দ্র করে কোন কিছু বলতে নিষেধ করে তাঁদের মুক্ত করে দিলেন। সেই নামের খাতিরে অপমান বরণের যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন ব’লে তাঁরা আনন্দ করতে করতে মহাসভা থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩০
ধুয়ো:
তোমার বন্দনা করব, প্রভু:
তুমি যে তুলে নিয়েছ আমায়।

তোমার বন্দনা করব, প্রভু: তুমি যে তুলে নিয়েছ আমায়,
আমার শত্রুদের দাওনি আমার উপর আনন্দ করতে।
পাতাল থেকেই তুমি আমার প্রাণ তুলে এনেছ, প্রভু,
আমি সেই গর্তে নেমে যাচ্ছিলাম আর তুমি আমায় করেছ সঞ্জীবিত।   [ধুয়ো]

প্রভুর উদ্দেশে স্তবগান কর, তাঁর ভক্তজন সকল,
তাঁর পবিত্রতা স্মরণ ক’রে কর তাঁর স্তুতিগান।
কিছুক্ষণ ধরেই মাত্র তাঁর ক্রোধ, কিন্তু তাঁর প্রসন্নতা জীবনপ্রসারী।
সন্ধ্যায় বিলাপের আগমন, কিন্তু প্রভাতে আনন্দোচ্ছ্বাস।   [ধুয়ো]

প্রভু, শোন, আমাকে দয়া কর,
প্রভু, হও তুমি আমার সহায়।
তুমি নৃত্যেই পরিণত করেছ আমার বিলাপ,
প্রভু, পরমেশ্বর আমার, চিরকাল করব তোমার স্তুতিগান।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
ঐশপ্রকাশ পুস্তক থেকে পাঠ (৫:১১-১৪)

তেমন দর্শনের সময়ে আমি, যোহন, সিংহাসন ও প্রাণীদের ও প্রবীণদের চারপাশে বহু স্বর্গদূতের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম। সংখ্যায় তাঁরা ছিলেন লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি; তাঁরা উদাত্ত কণ্ঠে বলছিলেন, ‘যাঁকে বধ করা হয়েছিল, সেই মেষশাবক পরাক্রম ও ঐশ্বর্য, প্রজ্ঞা ও শক্তি, সম্মান, গৌরব ও “ধন্য” স্তুতিবাদ গ্রহণের যোগ্য!’
পরে আমি শুনতে পেলাম, স্বর্গে ও পৃথিবীতে এবং পৃথিবীর নিচে ও সমুদ্র-গর্ভে জগৎসৃষ্টির সবকিছু ও যেখানে যা কিছু আছে, সবই বলে উঠল: ‘সিংহাসনে সমাসীন যিনি, তাঁর উদ্দেশে ও মেষশাবকের উদ্দেশে প্রশংসা, সম্মান, গৌরব ও প্রতাপ চিরদিন চিরকাল।’
আর সেই চার প্রাণী বললেন, ‘আমেন।’ আর সেই প্রবীণেরা লুটিয়ে পড়ে প্রণাম জানালেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
বিশ্বস্রষ্টা যিনি, আপন দয়ায় মানুষকে ত্রাণ করেছেন যিনি,
সেই খ্রিষ্ট পুনরুত্থান করেছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২১:১-১৯)

সেসময়ে যিশু শিষ্যদের কাছে আর একবার আত্মপ্রকাশ করলেন, তিবেরিয়াস সাগরের তীরে। তিনি এভাবেই আত্মপ্রকাশ করলেন: সিমোন পিতর, যমজ বলে পরিচিত টমাস, গালিলেয়ার কানা গ্রামের নাথানায়েল, জেবেদের ছেলেরা ও তাঁর শিষ্যদের মধ্যে অন্য দু’জন একসঙ্গে ছিলেন। সিমোন পিতর তাঁদের বললেন, ‘আমি মাছ ধরতে যাব।’ তাঁরা তাঁকে বললেন, ‘আমরাও তোমার সঙ্গে যাব।’ তাঁরা বেরিয়ে পড়লেন ও নৌকায় উঠলেন। কিন্তু সেই রাতে কিছুই ধরতে পারলেন না।
তখন সবে ভোর হয়েছে, এমন সময়ে সাগর-তীরে যিশু দাঁড়িয়ে আছেন। তবু শিষ্যেরা বুঝতে পারলেন না যে, তিনি যিশু। যিশু তাঁদের বললেন, ‘বৎস, তোমরা কিছু ধরেছ কি?’ তাঁরা তাঁকে উত্তর দিলেন, ‘না।’ তিনি তাঁদের বললেন, ‘নৌকার ডান দিকে জাল ফেল, মাছ পাবে।’ তাই তাঁরা জাল ফেললেন এবং প্রচুর মাছের কারণে জালটা আর টেনে তুলতে পারছিলেন না। যে শিষ্যকে যিশু ভালবাসতেন, তিনি পিতরকে বললেন, ‘উনি প্রভু!’ সিমোন পিতর যখন শুনলেন যে, উনি প্রভু, তখন গায়ে কাপড় জড়ালেন—তিনি তো খালি গায়ে ছিলেন—আর সাগরে ঝাঁপ দিলেন। কিন্তু অন্যান্য শিষ্যেরা নৌকায় করে এলেন মাছে ভরা জালটা টানতে টানতে; ডাঙা থেকে তাঁরা দূরে ছিলেন না, আনুমানিক দু’শো হাত।
ডাঙায় উঠলে তাঁরা দেখলেন, সেখানে কাঠকয়লার আগুন, তার উপর চাপানো কয়েকটা মাছ, পাশে কিছু রুটি। যিশু তাঁদের বললেন, ‘যে মাছ তোমরা এইমাত্র ধরেছ, তার কয়েকটা নিয়ে এসো।’ তাই সিমোন পিতর নৌকায় উঠে জালটা ডাঙায় টেনে তুললেন: জাল একশ’ তিপ্পান্নটা বড় বড় মাছে ভরা ছিল, অথচ এত মাছেও জালটা ছিঁড়ল না। যিশু তাঁদের বললেন: ‘এসো, খেতে বস।’ শিষ্যদের মধ্যে কেউই তাঁকে জিজ্ঞাসা করার সাহস পাচ্ছিলেন না, ‘আপনি কে?’ কারণ তাঁরা জানতেন যে, তিনি প্রভু।
যিশু কাছে এগিয়ে এলেন, এবং রুটি নিয়ে তাদের দিলেন, মাছও সেইভাবে দিলেন। মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করার পর এ-ই হয়েছিল যিশুর তৃতীয় আত্মপ্রকাশ।
তাঁরা খাওয়া শেষ করলে পর যিশু সিমোন পিতরকে বললেন, ‘যোহনের ছেলে সিমোন, এদের চেয়ে তুমি আমাকে কি বেশি ভালবাস?’ তিনি তাঁকে বললেন, ‘হ্যাঁ, প্রভু, আপনি জানেন যে, আমি আপনাকে ভালবাসি।’ যিশু তাঁকে বললেন, ‘আমার মেষশাবকদের যত্ন নাও।’
দ্বিতীয়বার তিনি পুনরায় তাঁকে বললেন, ‘যোহনের ছেলে সিমোন, তুমি কি আমাকে ভালবাস?’ তিনি তাঁকে বললেন, ‘হ্যাঁ, প্রভু, আপনি জানেন যে, আমি আপনাকে ভালবাসি।’ তিনি তাঁকে বললেন, ‘আমার মেষগুলি পালন কর।’
তৃতীয়বার তিনি তাঁকে বললেন, ‘যোহনের ছেলে সিমোন, তুমি কি আমাকে ভালবাস?’ যিশু যে তৃতীয়বার ‘তুমি কি আমাকে ভালবাস?’ এই কথা তাঁকে বলেছিলেন, তাতে পিতর দুঃখ পেলেন; তাঁকে বললেন, ‘প্রভু, আপনি সবই জানেন; আপনি জানেন যে, আমি আপনাকে ভালবাসি।’ যিশু তাঁকে বললেন, ‘আমার মেষগুলির যত্ন নাও। আমি তোমাকে সত্যি সত্যি বলছি, তুমি যখন যুবক ছিলে, তখন তোমার যেখানে ইচ্ছে নিজেই কোমর বেঁধে চলাফেরা করতে; কিন্তু তুমি যখন বৃদ্ধ হবে, তখন তোমার হাত দু’টো বাড়িয়ে দেবে, এবং অন্য একজন তোমার কোমর বেঁধে তোমার যেখানে ইচ্ছা নেই সেখানে তোমাকে নিয়ে যাবে।’
পিতর যে কী ধরনের মৃত্যু দ্বারা ঈশ্বরকে গৌরবান্বিত করবেন, এই কথায় যিশু তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তারপর তিনি তাঁকে বললেন, ‘আমার অনুসরণ কর।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

পিতর, তুমি কি আমাকে ভালবাস? (যোহন ২১:১৬)। যখন প্রভুর এ বাণী শোন, তখন তুমি এ বাণী এমন একটা আয়নার মত জ্ঞান কর যেখানে নিজেকেই দেখতে পাও। কেননা মণ্ডলীর প্রতিমূর্তি ছাড়া পিতর আর কী ছিলেন? সুতরাং পিতরকে প্রশ্ন করে প্রভু আমাদেরই প্রশ্ন করছিলেন, মণ্ডলীকেই প্রশ্ন করছিলেন। পিতর যে সত্যি মণ্ডলীর প্রতিমূর্তি ছিলেন, একথায় নিশ্চিত হবার জন্য এসো, আমরা সুসমাচারের সেই বাণী ব্যাখ্যা করি যেখানে লেখা আছে, তুমি পিতর, আর এই শৈলের উপরে আমি আমার মণ্ডলী গেঁথে তুলব, আর পাতালের দ্বার তার উপরে জয়ী হবে না। স্বর্গরাজ্যের চাবিকাঠি আমি তোমাকে দেব (মথি ১৬:১৮-১৯)।
একজনমাত্রই চাবিকাঠি পান। স্বর্গরাজ্যের চাবিকাঠি যে কী, খ্রিষ্ট নিজেই তা ব্যাখ্যা করলেন, পৃথিবীতে তুমি যা বেঁধে দেবে, স্বর্গে তা বাঁধা হবে; পৃথিবীতে তুমি যা মুক্ত করবে, স্বর্গে তা মুক্ত হবে (মথি ১৬:১৯)।
একথা যদি কেবল পিতরকেই উদ্দেশ করে বলা হয়ে থাকে, তাহলে কেবল পিতরই সেই অনুসারে কাজ করলেন। কিন্তু তিনি মরলেন, তিনি চলে গেলেন; তাই এখন কে বেঁধে দেবে, কে মুক্ত করবে? আমি একথা বলতে সাহস করি যে, সেই চাবিকাঠি আমাদেরই হাতে রয়েছে। কী বলছি? আমরা কি বেঁধে দিই ও মুক্ত করি? আর শুধু তা নয়, তোমরাও বেঁধে দাও ও মুক্ত কর: তোমাদের সংসর্গ থেকে যে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে, সেই বাঁধা আছে; আর যাকে তোমাদের সংসর্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়, সেই তোমাদের দ্বারা বাঁধা হয়; সে পুনর্মিলিত হলে তবেই তোমাদের দ্বারা সে মুক্ত হয় কেননা তোমরা তার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা কর।
কেননা আমরা সকলেই খ্রিষ্টকে ভালবাসি, সকলেই তাঁর অঙ্গ। যখন তিনি পালকে পালকদের হাতে তুলে দেন, তখন পালকদের সংখ্যা একমাত্র পালকের দেহে অন্তর্ভুক্ত হয়। তা বুঝবার জন্য একথা শোন: পিতরই পালক বটে, পল পালক, যোহন, যাকোব, আন্দ্রিয় ও অন্য সকল প্রেরিতদূত পালক, এতে সন্দেহের লেশমাত্র নেই। তবে থাকবে একটামাত্র মেষপাল, একটিমাত্র মেষপালক (যোহন ১০:১৬), তেমন কথা কীভাবে সত্য? কথা সত্য কেননা পালকদের বিপুল গোটা সংখ্যা একটিমাত্র পালকের দেহে পুনর্চালিত হবে। তাঁর অঙ্গ বলে তোমরাও সেখানে আছ।
যিনি আগে ছিলেন নির্যাতক ও পরে প্রচারক, সেই সৌল এ অঙ্গগুলিকেই নির্যাতন করতেন, তিনি খ্রিষ্টবিশ্বাস থেকে তাদের মন ফেরাবার জন্য তাদের হত্যা করতে ব্যগ্র ছিলেন। কিন্তু একটা কণ্ঠ দ্বারাই তাঁর সমস্ত রোষ নিঃশেষ হয়ে গেল। কোন্‌ কণ্ঠ? সৌল, সৌল, কেন তুমি আমাকে নির্যাতন কর? (প্রেরিত ৯:৪)। তিনি কীবা করতে পারতেন তাঁরই বিরুদ্ধে যিনি স্বর্গে সমাসীন? তিনি কী করেই বাণীকে ক্ষতি করতে পারতেন? কী করে বাক্যকে ক্ষতি করতে পারতেন? নিজের বিরুদ্ধে তিনি তো আর কিছুই করতে পারতেন না, অথচ সেই কণ্ঠ চিৎকার করে বলছিল, তুমি আমাকেই নির্যাতন করছ। এতে তিনি ঘোষণা করছিলেন, আমরা তাঁর অঙ্গগুলি। সুতরাং খ্রিষ্টের ভালবাসাকেই আমরা তোমাদের মধ্যে ভালবাসি; খ্রিষ্টের ভালবাসাকেই তোমরা আমাদের মধ্যে ভালবাস: সেই ভালবাসাই প্রলোভন, পরিশ্রম, ক্লান্তি, দুরবস্থা ও হাহাকারের মধ্য দিয়ে আমাদের সেইখানে চালিত করবে যেখানে শ্রম নেই, দুরবস্থাও নেই, কান্নাও নেই, দুঃখও নেই, ক্ষোভও নেই; যেখানে কেউই জন্মায় না, মরেও না, যেখানে কেউই প্রতাপশালীর ক্রোধ ভয় করে না, কেননা সর্বশক্তিমানের শ্রীমুখের সঙ্গেই সে মিলিত।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৩
ধুয়ো:
যিশু রুটি ছিঁড়লেই
শিষ্যেরা তাঁকে চিনতে পারলেন। আল্লেলুইয়া।

দেখ, ভাইদের একত্রে বাস করা
কতই না ভাল, কতই না সুন্দর!
যেমন মাথায় সেই উৎকৃষ্ট তেল যা দাড়ি বেয়ে, আরোনের দাড়ি বেয়ে ঝরে পড়ে,
ঝরে পড়ে তাঁর পোশাকের গলবন্ধনীর উপর,

তেমনি সেই হার্মোনের শিশির,
যা ঝরে পড়ে সিয়োনের চূড়ায় চূড়ায়।
সেইখানে তো প্রভু জারি করেছেন আশীর্বাদ,
চিরকালীন জীবনদান।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার জনগণের প্রতি সদয় দৃষ্টিপাত করে আশীর্বাদ কর:
তোমার কৃপায় যাদের তুমি দিব্য রহস্যময় অন্ন দ্বারা নবায়িত করেছ,
তোমার সহায়তায় তারা যেন
একদিন অক্ষয় পুনরুত্থানের গৌরবে গৌরবান্বিত হতে পারে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৪র্থ পাস্কা-রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর,
স্বর্গীয় আনন্দের সহভাগিতার দিকে আমাদের চালনা কর,
যেন তোমার দুর্বল মেষপাল সেখানে পৌঁছতে পারে
যেখানে সেই বলবান পালক আগে গিয়ে তাদের অপেক্ষায় আছেন।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (১৩:১৪,৪৩-৫২)

পল ও বার্নাবাস পের্গা থেকে এগিয়ে গিয়ে পিসিদিয়া প্রদেশের আন্তিওখিয়ায় এসে উপস্থিত হলেন, এবং সাব্বাৎ দিনে সমাজগৃহে প্রবেশ করে আসন নিলেন।
সভা ভেঙে যাওয়ার পর ইহুদী ও ইহুদীধর্মাবলম্বী অনেক ভক্তপ্রাণ মানুষ পল ও বার্নাবাসের অনুসরণ করল; তাঁরা তাদের সঙ্গে কথা বললেন ও ঈশ্বরের অনুগ্রহে স্থির থাকতে তাদের আবেদন জানালেন।
পরবর্তী সাব্বাৎ দিনে শহরের প্রায় সমস্ত লোক ঈশ্বরের বাণী শুনবার জন্য সমবেত হল। কিন্তু ইহুদীরা এত বিপুল জনতাকে দেখে ঈর্ষায় ভরে উঠল, এবং নিন্দা করতে করতে পলের প্রতিটি কথার প্রতিবাদ করতে লাগল। তখন পল ও বার্নাবাস সৎসাহসের সঙ্গে একথা বললেন: ‘প্রথমে আপনাদেরই কাছে ঈশ্বরের বাণী প্রচার করা আমাদের অবশ্যকর্তব্য ছিল; কিন্তু আপনারা যখন তা সরিয়ে দিচ্ছেন এবং নিজেদের অনন্ত জীবনের অযোগ্য বলে বিবেচনা করছেন, তখন দেখুন, আমরা বিজাতীয়দের দিকেই চোখ ফেরাচ্ছি; কারণ প্রভু আমাদের ঠিক এই আজ্ঞা দিলেন:
আমি তোমাকে বিজাতীয়দের জন্য আলোরূপে রেখেছি
তুমি যেন পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বহন কর আমার পরিত্রাণ।’
তা শুনে বিজাতীয়রা আনন্দিত হল ও প্রভুর বাণীর গৌরবকীর্তন করতে লাগল; এবং অনন্ত জীবন লাভের জন্য নিরূপিত সকল মানুষ বিশ্বাসী হল। প্রভুর বাণী সেই দেশের সর্বস্থানেই পরিব্যাপ্তি লাভ করল। কিন্তু ইহুদীরা সম্ভ্রান্ত ঘরের ভক্তপ্রাণ মহিলাদের ও শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উত্তেজিত করে তুলল, পল ও বার্নাবাসের বিরুদ্ধে নির্যাতন শুরু করে দিল, এবং নিজেদের এলাকা থেকে তাঁদের তাড়িয়ে বের করে দিল। তখন তাঁরা তাদের বিরুদ্ধে পায়ের ধুলো ঝেড়ে ফেলে ইকনিয়মের দিকে গেলেন। কিন্তু নতুন শিষ্যেরা আনন্দে ও পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ ছিল।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১০০
ধুয়ো:
আমরা তাঁর জনগণ,
তাঁর চারণভূমির মেষপাল।

বিকল্প: আল্লেলুইয়া।
সমগ্র পৃথিবী,
প্রভুর উদ্দেশে জাগিয়ে তোল জয়ধ্বনি,
সানন্দে প্রভুর সেবা কর,
তাঁর সম্মুখে এসো হর্ষধ্বনির ছন্দে।   [ধুয়ো]

জেনে রেখ—প্রভুই স্বয়ং পরমেশ্বর,
তিনি আমাদের গড়লেন আর আমরা তাঁরই,
আমরা তাঁর জনগণ,
তাঁর চারণভূমির মেষপাল।   [ধুয়ো]

প্রভু সত্যি মঙ্গলময়,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী,
তাঁর বিশ্বস্ততা
যুগে যুগান্তরে।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
ঐশপ্রকাশ পুস্তক থেকে পাঠ (৭:৯,১৪খ-১৭)

আমি, যোহন, লক্ষ করলাম, আর দেখ, প্রতিটি জাতি, গোষ্ঠী, দেশ ও ভাষার বিরাট এক জনতা যা গণনা করা কারও পক্ষে সম্ভব ছিল না। শুভ্র পোশাকে পরিবৃত হয়ে ও খেজুরপাতা হাতে করে তারা সকলে সিংহাসনের সাক্ষাতে ও মেষশাবকের সাক্ষাতে দাঁড়িয়ে আছে।
প্রবীণদের একজন আমাকে বললেন: ‘এরা তারাই, যারা মহাক্লেশ পার হয়ে এসেছে ও মেষশাবকের রক্তে নিজেদের পোশাক ধৌত করে শুভ্র করে তুলেছে। এজন্য তারা ঈশ্বরের সিংহাসনের সাক্ষাতে আছে আর দিনরাত তাঁর পবিত্রধামে তাঁর সেবা করে; আর সিংহাসনে সমাসীন যিনি, তিনি নিজের তাঁবু তাদের উপরে বিছিয়ে দেবেন।
তারা আর কখনও ক্ষুধার্ত হবে না, তৃষ্ণার্তও হবে না; রোদ বা কোন কিছুর উত্তাপ তাদের আর কখনও আঘাত করবে না, কেননা যিনি সিংহাসনের মাঝখানে রয়েছেন, সেই মেষশাবক নিজেই হবেন তাদের পালক, তিনি নিজেই তাদের চালনা করবেন জীবন-জলের উৎসভূমিতে। আর স্বয়ং ঈশ্বর তাদের মুখ থেকে মুছে দেবেন সমস্ত অশ্রুজল।’
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমিই উত্তম মেষপালক—একথা বলছেন প্রভু;
যারা আমার নিজের মেষ, তাদের আমি জানি, তারাও আমাকে জানে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১০:২৭-৩০)

একদিন যিশু বললেন, ‘যে মেষগুলি আমার নিজের, তারাই আমার কণ্ঠে কান দেয়; তাদের আমি জানি আর তারা আমার অনুসরণ করে; এবং আমি তাদের অনন্ত জীবন দান করি: তাদের কখনও বিনাশ হবে না, আমার হাত থেকেও কেউ তাদের ছিনিয়ে নেবে না।
আমার পিতা, যিনি তাদের আমাকে দিয়েছেন, তিনি সকলের চেয়ে মহান, আর কেউ আমার পিতার হাত থেকে তাদের ছিনিয়ে নিতে পারে না। আমি এবং পিতা, আমরা এক।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু হিলারি-লিখিত ‘ত্রিত্ব’

যদি সত্যিকারে বাণী হলেন মাংস (যোহন ১:১৪), ও সত্যিকারে আমরা এউখারিস্তীয় খাদ্য গ্রহণে সেই মাংস-হওয়া-বাণীকে গ্রহণ করি, তাহলে যিনি মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে আমাদের মাংস-স্বরূপকে চির-অবিচ্ছেদ্য স্বরূপ বলে ধারণ করলেন, এবং তাঁর যে মাংস আমাদের গ্রহণ করতে হয়, সেই মাংস-সাক্রামেন্তের ছায়ায় যিনি তাঁর আপন মাংস-স্বরূপকে সনাতন স্বরূপের সঙ্গে মিলিত করলেন, কি করেই বা আমরা অস্বীকার করব যে, তিনি আপন স্বরূপকে নিয়েই আমাদের মধ্যে থাকেন? এভাবে আমরা সকলে এক, কেননা পিতা খ্রিষ্টের মধ্যে, আর খ্রিষ্ট পিতার মধ্যে রয়েছেন। ফলে তিনি মাংসের মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে আছেন, আর আমরা তাঁর মধ্যে আছি, কেননা আমরা যা আছি, তা তাঁর সঙ্গে ঈশ্বরেই আছে।
আমরা দেহরক্তের সহভাগিতা-সাক্রামেন্তের মধ্য দিয়ে কতটুকু তাঁর মধ্যে আছি, এবিষয়ে তিনি নিজে বলেন, জগৎ আমাকে আর দেখতে পাবে না, কিন্তু তোমরা আমাকে দেখতে পাবে, কারণ আমি জীবিত আছি, তোমরাও জীবিত থাকবে, যেহেতু আমি আমার পিতাতে আছি, এবং তোমরা আমাতে আছ আর আমি তোমাদের অন্তরে আছি (যোহন ১৪:১৯, ২০)। তিনি যদি কেবল ইচ্ছারই মিলনের কথা বোঝাতে চাইতেন, তাহলে কেনই বা তিনি মিলন অর্জনের ক্ষেত্রে ক্রমান্বয় ও অনুক্রমের কথাও বললেন? তিনি তো ঐশস্বরূপ গুণে পিতার মধ্যে আছেন, অপরদিকে আমরা তাঁর মানবজন্ম গুণে তাঁর মধ্যে আছি, তিনি আবার সাক্রামেন্তগুলির রহস্য গুণে আমাদের মধ্যে আছেন: এই তো সেই বিশ্বাস যা তিনি চান আমরা স্বীকার করব। এ বিশ্বাস অনুসারে সেই মধ্যস্থের মাধ্যমে পূর্ণ মিলন সাধিত: আমরা তাঁর মধ্যে থাকতে তিনি পিতার মধ্যে থাকেন আর পিতার মধ্যে থাকতেই আমাদের মধ্যেও থাকেন: এভাবে আমরা পিতার সঙ্গে মিলন অর্জন করি। তাঁর ঐশপ্রজনন গুণে খ্রিষ্ট পিতার মধ্যে স্বরূপগত ভাবে বিরাজমান, আর আমাদের মধ্যে স্বরূপগত ভাবে বিরাজমান হওয়ায় আমরাও স্বরূপগত ভাবে পিতার মধ্যে বিরাজমান।
এ স্বরূপগত মিলন আমাদের মধ্যে কীভাবে ক্রিয়াশীল, একথা তিনি নিজে ব্যাখ্যা করেন: যে কেউ আমার মাংস খায় ও আমার রক্ত পান করে, সে আমাতে বসবাস করে আর আমি তার অন্তরে বসবাস করি (যোহন ৬:৫৬)। কেউই তাঁর মধ্যে বসবাস করতে পারবে না, যদি না তিনি নিজে ইতিমধ্যে তার অন্তরে উপস্থিত: তাঁর মাংস যে গ্রহণ করবে, তিনি নিজের মধ্যে কেবল তারই মাংস ধারণ করবেন।
এ পূর্ণ মিলনের সাক্রামেন্ত সম্বন্ধে তিনি আগেই শিক্ষা দিয়ে বলেছিলেন, আমাকে যেমন স্বয়ং পিতাই প্রেরণ করেছেন আর আমি যেমন পিতারই জন্য জীবিত আছি, তেমনি আমাকে যে খায়, সে আমারই জন্য জীবিত থাকবে (যোহন ৬:৫৭)। সুতরাং তিনি পিতারই জন্য জীবিত আছেন; আর যেমন তিনি পিতারই জন্য জীবিত আছেন, তেমনি আমরা তাঁর মাংসেরই জন্য জীবিত আছি।
যে কোন উদাহরণ বুদ্ধিকে সহায়তা করে, কেননা উদাহরণের মধ্য দিয়ে আসল কথা আরও সহজে অনুধাবন করা হয়। কথাটা হল যে, মাংসের মানুষ আমরা খ্রিষ্টের মাংসের মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে খ্রিষ্টকে পেয়ে গেছি বিধায় তিনিই আমাদের জীবনের মূলকারণ: যে অবস্থায় তিনি পিতারই জন্য জীবিত, আমরা তাঁর দ্বারা সেই একই অবস্থায় জীবিত।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৮০
ধুয়ো:
আপন মেষগুলির জন্য যিনি আপন প্রাণ বিসর্জন দিলেন
এবং আপন মেষপালের জন্য মৃত্যুবরণ করতে ইচ্ছা করলেন,
সেই উত্তম মেষপালক
পুনরুত্থান করেছেন। আল্লেলুইয়া।

হে ইস্রায়েলের পালক, কান পেতে শোন;
তুমি তো যোসেফকে মেষপালের মতই চালনা কর,
খেরুব বাহনে সমাসীন হয়ে
এফ্রাইম, বেঞ্জামিন ও মানাসের সামনে উদ্ভাসিত হও।

জাগাও তোমার পরাক্রম,
আমাদের ত্রাণ করতে এসো।
হে পরমেশ্বর, আমাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত কর,
শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তোল, তবেই আমরা পাব পরিত্রাণ।

হে সেনাবাহিনীর পরমেশ্বর, ফিরে এসো,
স্বর্গ থেকে চেয়ে দেখ, এ আঙুরলতাকে দেখতে এসো।
রক্ষা কর সেই চারাগাছ যা তোমার ডান হাত পুঁতেছে একদিন,
সেই পুত্রসন্তানকে যাকে নিজের জন্যই করেছ শক্তিশালী।

আর কখনও তোমাকে ছেড়ে আমরা চলে যাব না,
তুমি আমাদের সঞ্জীবিত করবে আর আমরা করব তোমার নাম।
হে প্রভু, সেনাবাহিনীর পরমেশ্বর, আমাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত কর,
শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তোল, তবেই আমরা পাব পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে কৃপাময় পালক, তোমার পুত্রের অমূল্য রক্ত দ্বারা যাদের মুক্ত করেছ,
সেই মেষপালকে রক্ষা কর,
স্বর্গীয় শাশ্বত চারণভূমিতে তাদের চালনা কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৫ম পাস্কা-রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর,
আমাদের অন্তরে পাস্কা-রহস্য নিয়তই সার্থক করে তোল:
পবিত্র বাপ্তিস্মে যাদের তুমি নবীভূত করতে প্রসন্ন হয়েছ,
তারা যেন তোমার যত্নশীল সহায়তায় অধিক ফলশালী হয়ে ওঠে
ও অনন্ত জীবনের আনন্দে উপনীত হতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (১৪:২১খ-২৭)

সেসময়ে পল ও বার্নাবাস লিস্ত্রা, ইকনিয়ম ও আন্তিওখিয়া হয়ে ফিরে গেলেন; যেতে যেতে তাঁরা শিষ্যদের মন সুস্থির করতেন, এবং তাদের আশ্বাস দিতেন, তারা যেন বিশ্বাসে স্থিতমূল থাকে; তাঁরা বলতেন, ‘ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার জন্য আমাদের বহু ক্লেশ পেরিয়ে যেতে হবে।’
তাঁরা তাদের জন্য প্রতিটি মণ্ডলীতে প্রবীণবর্গ নিযুক্ত করলেন, এবং উপবাস ও প্রার্থনা করে সেই প্রভুরই হাতে তাদের সঁপে দিলেন যাঁর প্রতি তারা বিশ্বাস রেখেছিল। পরে পিসিদিয়া পেরিয়ে তাঁরা পাম্ফিলিয়ায় এসে উপস্থিত হলেন। তাঁরা পের্গায় বাণী প্রচার করে আত্তালিয়ায় গেলেন; এবং সেখান থেকে জাহাজে করে সেই আন্তিওখিয়ারই দিকে যাত্রা করলেন, যেখানে তাঁরা, এই যে কাজ পূর্ণ করে এসেছিলেন, তা করার জন্য ঈশ্বরের অনুগ্রহের হাতে সমর্পিত হয়েছিলেন।
একবার এসে উপস্থিত হয়ে তাঁরা জনমণ্ডলীকে সমবেত করলেন, এবং ঈশ্বর তাঁদের মধ্য দিয়ে যে কত কাজ সাধন করেছিলেন ও তিনি যে বিজাতীয়দের জন্য বিশ্বাসের দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন, সেই সমস্ত কিছুর বিবরণ দিলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৪৫
ধুয়ো:
ওগো আমার পরমেশ্বর, ওগো রাজন্‌,
ধন্য করব তোমার নাম চিরদিন চিরকাল।

প্রভু দয়াবান, স্নেহশীল,
ক্রোধে ধীর, কৃপায় মহান।
প্রভু সকলের প্রতি মঙ্গলময়,
তাঁর স্নেহ তাঁর সকল কাজে বিরাজিত।   [ধুয়ো]

প্রভু, তোমার সকল কাজ করবে তোমার স্তুতি;
তোমার ভক্তরা তোমাকে বলবে ধন্য।
তারা বলে যাবে তোমার রাজ্যের গৌরব,
প্রচার করবে তোমার পরাক্রম।   [ধুয়ো]

আদমসন্তানদের কাছে তারা জানাবে তোমার পরাক্রান্ত কীর্তির কথা,
জানাবে তোমার রাজ্যের মহিমময় গৌরব।
তোমার রাজ্য সর্বকালীন রাজ্য,
তোমার শাসন সর্বযুগস্থায়ী।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
ঐশপ্রকাশ পুস্তক থেকে পাঠ (২১:১-৫ক)

আমি, যোহন, এক নতুন আকাশ ও এক নতুন পৃথিবী দেখতে পেলাম, কারণ প্রথম আকাশ ও প্রথম পৃথিবী মিলিয়ে গেছিল; সমুদ্রও আর ছিল না।
আমি দেখতে পেলাম, স্বর্গ থেকে, ঈশ্বর থেকেই নেমে আসছে সেই পবিত্র নগরী, সেই নতুন যেরুসালেম: সে আপন বরের জন্য সজ্জিতা কনের মত প্রস্তুত। তখন আমি শুনতে পেলাম, সিংহাসনের ভিতর থেকে এক উদাত্ত কণ্ঠস্বর বলে উঠল: ‘দেখ, মানুষদের মাঝে ঈশ্বরের তাঁবু। তিনি তাদের মাঝে তাঁবু খাটাবেন, তারা হবে তাঁর আপন জনগণ, আর তিনি হবেন তাদের-সঙ্গে-ঈশ্বর।
স্বয়ং তিনি তাদের মুখ থেকে প্রতিটি অশ্রুজল মুছে দেবেন; মৃত্যু আর থাকবে না, শোকও থাকবে না, বিলাপ বা দুঃখবেদনাও আর থাকবে না, কারণ আগের সবকিছু গত হল।’
আর সিংহাসনে সমাসীন যিনি, তিনি বললেন, ‘দেখ, আমি সমস্ত কিছু নতুন করে তুলছি।’
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
এক নতুন আজ্ঞা তোমাদের দিচ্ছি—একথা বলছেন প্রভু;
আমি যেমন তোমাদের ভালবেসেছি, তেমনি তোমরাও পরস্পরকে ভালবাস।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৩:৩১-৩৩ক,৩৪-৩৫)

যুদা [শেষ ভোজের ঘর ছেড়ে] চলে গেলে যিশু বললেন, ‘এখন মানবপুত্র গৌরবান্বিত হলেন, এবং ঈশ্বর তাঁর মধ্যে গৌরবান্বিত হলেন। ঈশ্বর যখন তাঁর মধ্যে গৌরবান্বিত হলেন, তখন ঈশ্বরও নিজের মধ্যে তাঁকে গৌরবান্বিত করবেন, আর তাঁকে এখনই গৌরবান্বিত করবেন।
বৎসেরা, আমি এখন আর অল্পকালের মত তোমাদের সঙ্গে আছি। এক নতুন আজ্ঞা তোমাদের দিচ্ছি: তোমরা পরস্পরকে ভালবাস। আমি যেমন তোমাদের ভালবেসেছি, তেমনি তোমরাও পরস্পরকে ভালবাস।
তোমরা যে আমার শিষ্য, তা সকলে এতেই বুঝতে পারবে, যদি পরস্পরের প্রতি তোমাদের ভালবাসা থাকে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে বিশপ সাধু আগস্তিনের ব্যাখ্যা
প্রভু যিশু বলছেন, তিনি আপন শিষ্যদের নতুন একটা আজ্ঞা দিচ্ছেন, তথা তাঁরা পরস্পরকে ভালবাসবে: আমি এক নতুন আজ্ঞা তোমাদের দিচ্ছি: তোমরা পরস্পরকে ভালবাস (যোহন ১৩:১৪)।
এ আজ্ঞা কি প্রভুর প্রাচীন বিধানে অন্তর্ভুক্ত ছিল না? সেখানেও লেখা আছে, তুমি তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত ভালবাসবে (লুক ১৯:১৮)। তবে কেনই বা প্রভু এমন আজ্ঞাই নতুন বলেন যা মনে হচ্ছে খুবই প্রাচীন? এ আজ্ঞা আমাদের সেই পুরনো মানুষকে ত্যাগ করিয়ে নতুন মানুষে পরিবৃত করে, এজন্যই কি আজ্ঞাটি নতুন? ঠিক তাই! আজ্ঞাটি তাকেই নতুন করে যে তাকে পালন করে, বা আরও সূক্ষ্ম কথায়, তাকেই যে তার প্রতি বাধ্য। তবু যে ভালবাসা নবীনতা এনে দেয়, তা সাধারণ মানবীয় ভালবাসা থেকে ভিন্ন, বরং এমন ভালবাসা যা প্রভু এ কথাগুলিতেই চিহ্নিত ও নির্দিষ্ট করেন, আমি তোমাদের যেমন ভালবেসেছি (যোহন ১৩:৩৪)।
এটিই তো সেই ভালবাসা যা আমাদের নবীন করে তোলে, কেননা আমরা নবমানুষ, নবসন্ধির উত্তরাধিকারী ও নবসঙ্গীতের গায়ক হয়ে উঠি। প্রিয়তম ভ্রাতৃগণ, এ ভালবাসাই প্রাচীনকালের ধার্মিকদের, কুলপতিদের ও নবীদের নবীকৃত করেছে যেইভাবে পরবর্তীতে প্রেরিতদূতদের নবীকৃত করেছে। এ ভালবাসা এখন সকল জাতিকেও নবীকৃত করে, ও বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত মানবজাতিকে নিয়ে এক নতুন জাতিকে তথা ঈশ্বরের একমাত্র পুত্রের সেই নব-কনেরই দেহকে গড়ে তোলে যার বিষয়ে পরম গীতে লেখা আছে, এ কে, যে প্রভায় জ্যোতির্ময়ী হয়ে উদীয়মান হচ্ছে? (পরমগীত ৮:৫ দ্রঃ)। সে অবশ্যই প্রভায় জ্যোতির্ময়ী, কেননা নবায়িতা হয়েছে। নতুন আজ্ঞা দ্বারা ছাড়া সে কার দ্বারাই বা নবায়িতা হয়েছে?
এজন্যই অঙ্গগুলি একে অন্যের প্রতি যত্নশীল: একটা অঙ্গ কষ্ট ভোগ করলে তার সঙ্গে সবগুলি কষ্ট ভোগ করে, কিংবা একটা অঙ্গ সম্মানিত হলে সবগুলি তার সঙ্গে আনন্দিত (১ করি ১২:২৫-২৬ দ্রঃ)। তারা তো প্রভুর এ শিক্ষা শোনে ও মেনে চলে, আমি এক নতুন আজ্ঞা তোমাদের দিচ্ছি: তোমরা পরস্পরকে ভালবাস (যোহন ১৩:৩৪), কিন্তু যারা প্রবঞ্চনা করে তারা যেইভাবে পরস্পরকে ভালবাসে সেইভাবে নয়, মানুষ হিসাবে মানুষ যেইভাবে অপরকে মানুষ হিসাবে ভালবাসে সেইভাবেও নয়। বরং যারা নিজেরাই ঐশজীব ও পরাৎপরের সন্তান তারা তাঁর একমাত্র পুত্রের ভাই হবার জন্য যেইভাবে পরস্পরকে ভালবাসে সেইভাবে। সেই পারস্পরিক ভালবাসায় ভালবাসতে হবে, যে ভালবাসায় তিনি নিজে তাঁর আপন ভাই সেই মানুষদের ভালবেসেছেন, তিনি যেন সেখানেই তাদের চালিত করতে পারেন যেখানে বাসনা যত মঙ্গলদানেই পরিতৃপ্ত হয়ে উঠবে (সাম ১০৩:৫)। বাসনা তখনই সম্পূর্ণরূপে মিটে যাবে যখন ঈশ্বর হবেন সবার মধ্যে সব (১ করি ১৫:২৮)।
তেমনই ভালবাসাকে তিনি আমাদের দান করেন, যিনি ঐকান্তিকভাবে আমাদের বলেছেন, আমি তোমাদের যেমন ভালবেসেছি, তোমরাও তেমনি পরস্পরকে ভালবাস (যোহন ১৩:৩৪)। এ উদ্দেশ্যেই তিনি আমাদের ভালবেসেছেন, যাতে আমরাও পরস্পরকে ভালবাসি। আমাদের ভালবাসছিলেন বিধায় তিনি চাইলেন আমরা পারস্পরিক ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকব, আমরা যেন সর্বপ্রধান মাথার দেহ ও মধুময় বন্ধনে আবদ্ধ অঙ্গ হতে পারি।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১২১
ধুয়ো:
আমিই সত্যকার আঙুরলতা, তোমরা হলে শাখা
—একথা বলছেন প্রভু;
যে আমাতে থাকে আর আমি যার অন্তরে থাকি,
সে-ই প্রচুর ফলে ফলশালী হয়। আল্লেলুইয়া।

আমি চোখ তুলি গিরিমালার দিকে,
আমার সাহায্য কোথা থেকে আসবে?
আমার সাহায্য সেই প্রভু থেকেই আসবে,
আকাশ ও পৃথিবীর নির্মাতা যিনি।

তিনি তোমার পা দেবেন না টলমল হতে,
ঘুমিয়ে পড়বেন না কো তোমার রক্ষক।
দেখ, ঘুমিয়ে পড়বেন না, হবেন না নিদ্রামগ্ন
ইস্রায়েলের রক্ষক।

প্রভুই তোমার রক্ষক, প্রভুই তোমার ছায়া,
তিনি তোমার ডান পাশে দাঁড়ান।
দিনমানের সূর্য কি রাত্রিবেলার চাঁদ,
কিছুই তোমায় আঘাত করবে না।

প্রভু যত অনিষ্ট থেকে তোমাকে রক্ষা করবেন,
রক্ষা করবেন তোমার প্রাণ।
প্রভু তোমার গমনাগমন রক্ষা করবেন
এখন থেকে চিরকাল ধরে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, প্রসন্ন হয়ে তোমার জনগণের সহায় হও।
যখন তাদের স্বর্গীয় রহস্যময় অন্নে পরিপূর্ণ করেছ,
তখন প্রাচীন জীবনধারণ থেকে জীবনের নবীনতায়ই তাদের উপনীত কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৬ষ্ঠ পাস্কা-রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তোমার আশীর্বাদে
আমরা যেন পুনরুত্থিত প্রভুর সম্মানার্থে উদ্‌যাপিত এ আনন্দঘন দিনগুলো
উজ্জ্বল ভক্তির সঙ্গে পালন করতে পারি;
স্মরণানুষ্ঠানে যা উদ্‌যাপন করি,
তা যেন জীবনাচরণে প্রতিফলিত করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (১৫:১-২,২২-২৯)

একসময় যুদেয়া থেকে কয়েকজন লোক এসে ভাইদের এই শিক্ষা দিতে লাগল যে, ‘তোমরা যদি মোশির পরম্পরাগত প্রথা অনুসারে পরিচ্ছেদিত না হও, তবে পরিত্রাণ পেতে পারবে না।’ এতে মতভেদ সৃষ্টি হল, এবং পল ও বার্নাবাস তাদের সঙ্গে যথেষ্ট তর্কবিতর্ক করলে পর এ স্থির করা হল যে, সেই সমস্যার মীমাংসার জন্য পল, বার্নাবাস আর তাঁদের আরও কয়েকজন যেরুসালেমে প্রেরিতদূতদের ও প্রবীণবর্গের কাছে যাবেন।
তখন প্রেরিতদূতেরা ও প্রবীণবর্গ গোটা জনমণ্ডলীর সঙ্গে স্থির করলেন, নিজেদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে বেছে নিয়ে পল ও বার্নাবাসের সঙ্গে তাঁদের আন্তিওখিয়ায় পাঠিয়ে দেবেন: এঁরা হলেন সেই যুদা, যিনি বার্সাব্বাস নামে পরিচিত, এবং সিলাস—ভাইদের মধ্যে দু’জনেই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। তাঁদের হাতে এই পত্র লিখে পাঠালেন: ‘প্রেরিতদূতদের, প্রবীণবর্গের ও ভাইদের পক্ষ থেকে, আন্তিওখিয়া, সিরিয়া ও কিলিকিয়ার অধিবাসী বিজাতীয় ভাইদের সমীপে: শুভেচ্ছা! আমরা শুনতে পেয়েছি যে, আমাদের কাছ থেকে কোন নির্দেশ না পেয়েও এখানকার কয়েকজন লোক তোমাদের কাছে গিয়ে নানা দাবি রেখে তোমাদের প্রাণ অস্থির করে তোমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এজন্য আমরা একমত হয়ে স্থির করেছি যে, কয়েকজনকে বেছে নিয়ে তোমাদের কাছে তাদের পাঠিয়ে দেব আমাদের সেই প্রিয় বার্নাবাস ও পলের সঙ্গে, যাঁরা আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের নামের জন্য নিজেদের প্রাণ নিবেদন করেছেন।
সুতরাং যুদা ও সিলাসকে প্রেরণ করলাম: এঁরা নিজেরাও তোমাদের কাছে এই একই কথা মুখে জানাবেন। পবিত্র আত্মা ও আমরা স্থির করেছি, যেন এই কয়েকটা অবশ্যপালনীয় বিষয় ছাড়া তোমাদের উপরে আর কোন ভার না দেওয়া হয়, যথা: তোমাদের উচিত, প্রতিমার প্রতি উৎসর্গ করা খাদ্য, রক্ত-আহার, গলা টিপে মারা পশুর মাংসাহার ও অবৈধ যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা; এসব কিছু এড়িয়ে চললে তোমরা ঠিকই করবে। তোমাদের মঙ্গল হোক।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৬৭
ধুয়ো:
জাতিসকল তোমার স্তুতি করুক, পরমেশ্বর,
সর্বজাতি করুক তোমার স্তুতি।

পরমেশ্বর আমাদের দয়া করুন, আমাদের আশীর্বাদ করুন,
আমাদের উপর আপন শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তুলুন,
যেন পৃথিবীতে জ্ঞাত হয় তোমার পথ,
সকল দেশের মাঝে তোমার পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

মহোল্লাসে আনন্দগান করুক সকল দেশ,
তুমি যে ন্যায়ের সঙ্গেই জাতিসকল বিচার কর,
পৃথিবীতে যত দেশ
চালিত কর।   [ধুয়ো]

জাতিসকল তোমার স্তুতি করুক, পরমেশ্বর,
সর্বজাতি করুক তোমার স্তুতি।
পরমেশ্বর আমাদের আশীর্বাদ করুন,
তাঁকে ভয় করুক পৃথিবীর সকল প্রান্ত।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
ঐশপ্রকাশ পুস্তক থেকে পাঠ (২১:১০-১৪,২২-২৩)

সেই স্বর্গদূত আমাকে আত্মায় নিয়ে গেলেন উচ্চ একটা মহাপর্বতের উপর, এবং আমাকে দেখালেন, স্বর্গ থেকে, ঈশ্বর থেকেই ঈশ্বরের গৌরবে মণ্ডিতা হয়ে নেমে আসছে সেই পবিত্র নগরী যেরুসালেম। তার প্রভা যেন বহুমূল্য কোন রত্নেরই মত, যেন স্ফটিক-স্বচ্ছ কোন সূর্যকান্ত মণিরই মত!
নগরীটি বিশাল ও উচ্চ একটা প্রাচীরে ঘেরা; প্রাচীরে রয়েছে বারোটা তোরণদ্বার; দ্বারগুলোর উপরে বারোজন স্বর্গদূত থাকেন, এবং সেগুলোর উপরে কয়েকটা নাম লেখা আছে—ইস্রায়েল সন্তানদের বারোটা গোষ্ঠীর নাম। পুব দিকে তিন দ্বার, উত্তর দিকে তিন দ্বার, দক্ষিণ দিকে তিন দ্বার, ও পশ্চিম দিকে তিন দ্বার।
নগরীর প্রাচীরটা বারোটা ভিত্তিপ্রস্তরের উপরে বসানো, সেগুলির উপরে রয়েছে মেষশাবকের সেই বারোজন প্রেরিতদূতের বারোটা নাম।
সেই নগরীতে আমি কোন মন্দির দেখতে পেলাম না; কেননা সর্বশক্তিমান ঈশ্বর প্রভু ও সেই মেষশাবক, তাঁরাই তার মন্দির। তার মধ্যে আলো দেবার জন্য সূর্য বা চাঁদের দরকার হয় না, কেননা স্বয়ং ঈশ্বরের গৌরব নগরীকে উদ্ভাসিত করে রাখে এবং স্বয়ং মেষশাবকই তার প্রদীপ।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যদি কেউ আমাকে ভালবাসে—একথা বলছেন প্রভু,
তবে সে আমার বাণী মেনে চলবে,
আমার পিতা তাকে ভালবাসবেন,
এবং আমরা তার কাছে আসব।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৪:২৩-২৯)

সেসময়ে যিশু [তাঁর আপন শিষ্যদের] বললেন, ‘যদি কেউ আমাকে ভালবাসে, তবে সে আমার বাণী মেনে চলবে, আর আমার পিতা তাকে ভালবাসবেন, এবং আমরা তার কাছে আসব ও তার কাছে করব আমাদের নিজেদের বাসস্থান। যে আমাকে ভালবাসে না, সে আমার বাণী মেনে চলে না; আর এই যে বাণী তোমরা শুনছ, তা আমার নয়, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তা সেই পিতারই বাণী।
এখনও তোমাদের সঙ্গে থাকতে থাকতেই আমি এই সমস্ত কথা তোমাদের বলেছি, কিন্তু সেই সহায়ক, সেই পবিত্র আত্মা, আমার নামে যাঁকে পিতা পাঠাবেন, তিনিই সবকিছু তোমাদের শিখিয়ে দেবেন, আর আমি যা কিছু তোমাদের বলেছি, তিনি তোমাদের তা স্মরণ করিয়ে দেবেন।
তোমাদের জন্য শান্তি রেখে যাচ্ছি, আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি—জগৎ যেভাবে তা দান করে থাকে, আমি সেভাবে তা তোমাদের দান করি না। তোমাদের হৃদয় যেন কম্পিত না হয়, যেন ভীত না হয়।
তোমরা শুনেছ, আমি তোমাদের বলেছি, চলে যাচ্ছি, আবার তোমাদের কাছে আসব। তোমরা যদি আমাকে ভালবাসতে, তবে পিতার কাছে যাচ্ছি বলে তোমাদের আনন্দ হত, কেননা পিতা আমার চেয়ে মহান। তা ঘটবার আগেই আমি এখন তোমাদের বলে দিলাম, তা যখন ঘটবে, তখন যেন তোমরা বিশ্বাস করতে পার।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
পরম গীতে মঠাধ্যক্ষ সাধু বার্নার্ডের উপদেশ

পুত্র একথা বলেন, আমি ও পিতা তার কাছে আসব ও তার কাছে করব আমাদের নিজেদের বাসস্থান (যোহন ১৪:২৩)। ‘তার কাছে’, অর্থাৎ কিনা পবিত্রজনের কাছে আসব। আমি মনে করি নবীও একই কথা ভাবছিলেন যখন বললেন, অথচ তুমি পবিত্র আবাসে বাস কর, তুমি ইস্রায়েলের প্রশংসাবাদ (সাম ২২:৪)। প্রেরিতদূতও একই কথা সমর্থন করে বলেন, খ্রিষ্ট যেন বিশ্বাসগুণে তোমাদের হৃদয়ে বাস করেন (এফে ৩:১৭)।
এতে আমাদের বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই যে, প্রভু যিশু এ আকাশমণ্ডলে বাস করতে প্রীত, যে আকাশমণ্ডলের জন্য তিনি সৃষ্টির অন্যান্য জিনিসের মত ‘তাই হোক’ শুধু বলেননি, বরং তাকে জয় করার জন্য সংগ্রাম করলেন ও তাকে মুক্তি দেবার জন্য মরলেন। এজন্যই দুঃখকষ্ট ভোগ করার পর তিনি বলেন, এইখানে হবে আমার বিশ্রামস্থান চিরকাল ধরে, এইখানে বাস করব—এই তো বাসনা আমার (সাম ১৩২:১৪)। ধন্য সেই প্রাণ যাকে বলা হয়, এসো, আমার সখী (পরমগীত ২:১০, ১৩; ৪:৭, ৮), তোমাতেই আমার সিংহাসন স্থাপন করব। প্রাণ আমার, কেনই অবসন্ন তুমি? কেন আমার মধ্যে গর্জন কর? তুমি কি মনে কর, হয় তো নিজের মধ্যে প্রভুর জন্য স্থান পাবে না? আমাদের মধ্যে কোন্‌ স্থান এত মহান যে তাঁর গৌরব ধারণ করতে পারে ও তাঁর মহিমা গ্রহণ করতে পারে? আহা, সেই স্থান যা তাঁর পাদপীঠ, আমি যেন কমপক্ষে সেইখানে তাঁকে আরাধনা করতে যোগ্য হতে পারি! কে আমাকে শক্তি দেবে, আমি যেন তেমন প্রাণেরই পদাঙ্কে যুক্ত হতে পারি যাকে প্রভু আপন উত্তরাধিকাররূপে মনোনীত করলেন? তথাপি তিনি যদি প্রসন্ন হয়ে আমার প্রাণে তাঁর দয়ার তেল সঞ্চার করেন যাতে আমিও বলতে পারি তোমার আজ্ঞাবলির পথে ছুটে চলি, তুমি যে উদার করেছ আমার অন্তর (সাম ১১৯:৩২), তাহলেই আমিও হয় তো নিজের মধ্যে তিনি যেন আপন শিষ্যদের সঙ্গে ভোজে বসতে পারেন তেমন অলঙ্কৃত ভোজালয় ব্যবস্থা করতে না পারলেও তবু কমপক্ষে তাঁকে মাথা রাখার জায়গাটুকু নিবেদন করতে পারব।
উপরন্তু এ প্রয়োজন যে, প্রাণ বেড়ে ওঠে ও ঈশ্বরকে গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রসারিত করে। সেই ক্ষমতা হল তার ভালবাসা, যেইভাবে প্রেরিতদূত বলেন, তোমরা তোমাদের হৃদয় প্রসারিত কর (২ করি ৬:১৩ দ্রঃ)। কেননা আধ্যাত্মিক হওয়ায় প্রাণ যদিও কোন দৈহিক স্থানে পরিব্যাপ্ত নয়, তবু প্রকৃতি যা দিতে অস্বীকার করে, অনুগ্রহ তা দান করে। ফলে প্রাণ আধ্যাত্মিক দিক থেকে বৃদ্ধি পায় ও প্রসারিত হয়। প্রাণ সিদ্ধ পুরুষেই ততখানি বৃদ্ধি পায় যতখানি খ্রিষ্টের পূর্ণ পরিপক্বতার উপযুক্ত মাত্রায় না পৌঁছে; প্রভুর পবিত্র মন্দির হিসাবেও সে বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং প্রাণ কতখানি উদার, তা তার ভালবাসা থেকেই মাপা হয়: যার প্রচুর ভালবাসা আছে, তার প্রাণ উদার; যার কম আছে, তার প্রাণ ছোট; যার একটুকুও নেই, তার প্রাণ শূন্য—যেইভাবে পল বলেন, যদি আমার ভালবাসা না থাকে, আমি কিছুই নই (১ করি ১৩:২)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৩৩
ধুয়ো:
প্রভু একথা বলছেন:
তোমরা যদি আমাকে ভালবাস, তাহলে আমার আজ্ঞাগুলো পালন করবে।
আমি পিতাকে অনুরোধ করব, এবং তিনি অপর একজন সহায়ক তোমাদের দেবেন,
যেন সেই সহায়ক চিরকাল ধরে তোমাদের সঙ্গে থাকেন। আল্লেলুইয়া।

দেখ, ভাইদের একত্রে বাস করা
কতই না ভাল, কতই না সুন্দর!
যেমন মাথায় সেই উৎকৃষ্ট তেল যা দাড়ি বেয়ে, আরোনের দাড়ি বেয়ে ঝরে পড়ে,
ঝরে পড়ে তাঁর পোশাকের গলবন্ধনীর উপর,

তেমনি সেই হার্মোনের শিশির,
যা ঝরে পড়ে সিয়োনের চূড়ায় চূড়ায়।
সেইখানে তো প্রভু জারি করেছেন আশীর্বাদ,
চিরকালীন জীবনদান।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, তুমি খ্রিষ্টের পুনরুত্থান দ্বারা
মানবজাতিকে অনন্ত জীবনের উদ্দেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে থাক।
অনুনয় করি: আমাদের মাঝে এই পাস্কাভোজের ফল বৃদ্ধিশীল কর,
আমাদের অন্তরে সেই পরিত্রাণদায়ী খাদ্যের শক্তি সঞ্চার কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


প্রভুর স্বর্গারোহণ
যিশু স্বর্গে আরোহণ করছেন,
আর সাদা কাপড় পরা দু'জন দূত
উপস্থিত সকলকে বলেন,
তিনি আবার আসবেন।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আমাদের সকলকে পুণ্য আনন্দে আনন্দিত কর,
ধন্যবাদগীতিতে মুখরিত করে তোল,
কারণ তোমার পুত্র যিশুখ্রিষ্টের স্বর্গারোহণে আমরা নিজেরাও উন্নীত হচ্ছি,
এবং মাথা খ্রিষ্ট যেখানে সগৌরবে গিয়েছেন,
তাঁর দেহ এ আমরাও আশায় সেখানে যেতে আহূত।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (১:১-১১)

থেওফিল, প্রথম পুস্তকে আমি সেই সকল বিষয়ে লিখেছিলাম, যা যিশু শুরু থেকে সেদিন পর্যন্তই সাধন করেছিলেন ও শিখিয়েছিলেন, যেদিন, পবিত্র আত্মার মধ্য দিয়ে যাঁদের তিনি বেছে নিয়েছিলেন, সেই প্রেরিতদূতদের নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁকে ঊর্ধ্বে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
নিজের যন্ত্রণাভোগের পরে তিনি অনেক প্রমাণের মধ্য দিয়ে তাঁদের কাছে নিজেকে জীবিত বলে দেখিয়েছিলেন: চল্লিশদিন ধরে তাঁদের দেখা দিয়েছিলেন ও ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে নানা কথা বলেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ভোজে বসে তিনি আদেশ করেছিলেন, তাঁরা যেরুসালেম থেকে চলে না গিয়ে বরং যেন পিতার সেই প্রতিশ্রুতি-পূরণের অপেক্ষায় থাকেন, ‘যে প্রতিশ্রুতির কথা তোমরা আমার কাছ থেকে শুনেছ, তথা: যোহন জলে বাপ্তিস্ম দিলেন, কিন্তু অল্প দিনের মধ্যে পবিত্র আত্মায়ই তোমাদের বাপ্তিস্ম হবে।’
তাই তাঁরা একত্রে মিলিত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘প্রভু, আপনি কি এই সময়েই ইস্রায়েলের জন্য রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন?’ তিনি তাঁদের বললেন, ‘পিতা যে সকল কাল বা লগ্ন নিজেরই অধিকারের অধীনে রেখেছেন, তা তোমাদের জানবার নয়; কিন্তু তোমরা পরাক্রম লাভ করবে—সেই পবিত্র আত্মারই পরাক্রম, যিনি তোমাদের উপরে নেমে আসবেন; তখন যেরুসালেমে, সমস্ত যুদেয়া ও সামারিয়ায় এবং পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত তোমরা আমার সাক্ষী হবে।’
তিনি একথা বলার পর তাঁরা তাকিয়ে থাকতে থাকতেই তাঁকে ঊর্ধ্বে তোলা হল, এবং একটি মেঘ তাঁকে তাঁদের দৃষ্টির আড়ালে নিয়ে গেল।
তিনি চলে যাচ্ছেন আর তাঁরা আকাশের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন, এমন সময় হঠাৎ সাদা পোশাক-পরা দু’জন পুরুষ তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ালেন; তাঁরা বললেন, ‘হে গালিলেয়ার মানুষ, তোমরা আকাশের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছ কেন? এই যে যিশুকে তোমাদের কাছ থেকে স্বর্গে তুলে নেওয়া হল, তাঁকে যেভাবে স্বর্গে যেতে দেখলে, তিনি সেভাবে আবার ফিরে আসবেন।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৪৭
ধুয়ো:
পরমেশ্বর আরোহণ করছেন জয়ধ্বনির মধ্যে,
প্রভু তূর্যনিনাদের মধ্যে।

সর্বজাতি, করতালি দাও,
আনন্দের কণ্ঠে পরমেশ্বরের উদ্দেশে জাগিয়ে তোল জয়ধ্বনি,
কারণ পরাৎপর প্রভু ভীতিপ্রদ,
সারা পৃথিবী জুড়ে তিনি মহান রাজা।   [ধুয়ো]

পরমেশ্বর আরোহণ করছেন জয়ধ্বনির মধ্যে,
প্রভু তূর্যনিনাদের মধ্যে।
স্তবগান কর, পরমেশ্বরের স্তবগান কর,
স্তবগান কর, আমাদের রাজার উদ্দেশে স্তবগান কর।   [ধুয়ো]

পরমেশ্বরই সারা পৃথিবীর রাজা,
তাই নৈপুণ্যের সঙ্গে স্তবগান কর।
পরমেশ্বর জাতি-বিজাতির উপর রাজত্ব করেন,
পরমেশ্বর তাঁর পবিত্র সিংহাসনে সমাসীন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১:১৭-২৩)

প্রিয়জনেরা, আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের ঈশ্বর, সেই গৌরবের পিতা, তাঁকে গভীরতর ভাবে জানবার জন্য তোমাদের প্রজ্ঞা ও ঐশরহস্য-উপলব্ধির আত্মা দান করুন। তিনি তোমাদের অন্তর্দৃষ্টি আলোকিত করে তুলুন যেন তোমরা উপলব্ধি করতে পার তাঁর আহ্বানের প্রত্যাশা কী, পবিত্রজনদের মাঝে তাঁর উত্তরাধিকারের গৌরব-ঐশ্বর্য কী, এবং বিশ্বাসী এই আমাদের প্রতি তাঁর পরাক্রমের সীমাহীন মহত্ত্ব কী—এই সমস্ত কিছু তাঁর সেই শক্তির পরাক্রান্ত কর্মক্ষমতা অনুসারে যা দ্বারা তিনি খ্রিষ্টকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত ক’রে স্বর্গলোকে আপন ডান পাশে আসন দিয়েছেন।
তিনি তাঁকে সমস্ত আধিপত্য, কর্তৃত্ব, পরাক্রম ও প্রভুত্বের ঊর্ধ্বে—শুধু বর্তমানকালে নয়, ভাবীকালেও উল্লেখযোগ্য সমস্ত নামেরই ঊর্ধ্বে অধিষ্ঠিত করেছেন।
তিনি সমস্ত কিছু তাঁর পদতলে রেখেছেন এবং তাঁকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সেই মণ্ডলীর মাথায়, প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যে মণ্ডলী তাঁর দেহ, তাঁরই পরিপূর্ণতা যিনি সবকিছুতে সম্পূর্ণরূপে পরিপূর্ণ।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তোমরা যাও, সকল জাতিকে আমার শিষ্য কর
—একথা বলছেন প্রভু;
দেখ, আমি প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি
—যুগান্ত পর্যন্ত।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২৪:৪৬-৫৩)

একদিন যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন, ‘এ কথাই তো লেখা আছে: খ্রিষ্টকে যন্ত্রণাভোগ করতে হবে ও তৃতীয় দিনে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করতে হবে; এবং যেরুসালেম থেকেই শুরু ক’রে তাঁর নামে পাপমোচনের উদ্দেশে মনপরিবর্তনের কথা সকল জাতির কাছে প্রচারিত হবে। তোমরাই এসব কিছুর সাক্ষী। আর দেখ, আমার পিতার প্রতিশ্রুত দান তোমাদের উপর প্রেরণ করছি; তাই তোমরা ঊর্ধ্ব থেকে আগত পরাক্রমে যতদিন না পরিবৃত হও, ততদিন এই শহরে থাক।’
পরে তিনি তাঁদের বেথানিয়ার কাছাকাছি নিয়ে গেলেন, এবং দু’হাত তুলে তাঁদের আশীর্বাদ করলেন। তখন এমনটি ঘটল যে, তিনি আশীর্বাদ করতে করতে তাঁদের ছেড়ে চলে গেলেন, এবং ঊর্ধ্বে, স্বর্গেই তাঁকে বহন করা হল। তাঁরা তাঁকে আরাধনা করে মহা আনন্দে যেরুসালেমে ফিরে গেলেন, এবং সবসময় মন্দিরে থেকে ঈশ্বরের স্তুতিবাদ করতেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে আলেক্সান্দ্রিয়ার বিশপ সাধু সিরিলের ব্যাখ্যা

প্রভু একথা বলছিলেন যে, আমার পিতার কাছে যদি থাকবার অনেক স্থান না থাকত, পুণ্যজনদের আবাস প্রস্তুত করার জন্য আমি অনেক আগেই যেতাম। যারা ঈশ্বরকে ভালবাসে তাদের আগমনের অপেক্ষায় অনেক স্থান প্রস্তুত আছে জেনে আমি এজন্যই যে দূরে যাব তেমন নয়, আমি বরং এই কারণেই চলে যাব যে, স্বর্গের পথে তোমাদের পুনরাগমন এমন কিছু যা প্রস্তুত করা প্রয়োজন, কেননা স্বর্গ একসময় অগম্য হওয়ায় তার পথ এখন সমতল করা দরকার। কেননা স্বর্গ সত্যি মানুষের পক্ষে সম্পূর্ণ অগম্য স্থান ছিল; সেসময়ের আগে মানবস্বরূপ দূতদের পুণ্য ও পবিত্রতম স্থানে কখনও প্রবেশ করেনি। পিতা ঈশ্বরের কাছে মৃতদের ও পৃথিবীর বুকে শায়িতদের প্রথমফসল রূপে নিজেকে উৎসর্গ করায় ও স্বর্গীয় প্রাণীদের কাছে প্রথম মানুষ হয়ে আত্মপ্রকাশ করায় খ্রিষ্টই প্রথম আমাদের জন্য সেই প্রবেশপথ খুলে দিলেন ও মানুষকে সেখানে আরোহণ করার উপায় দিলেন।
এজন্যই স্বর্গদূতেরা মানবদেহে সেই আগমনের মহা ও অপরূপ রহস্যের কথা না জেনে স্তম্ভিত হয়ে বিস্ময়ের সঙ্গে সেই আরোহণকারীর দিকে তাকাচ্ছিলেন, ও তেমন অভিনব ও অপ্রত্যাশিত দৃশ্যে উদ্বিগ্ন হয়ে একথাই প্রায় বলতে যাচ্ছিলেন, এ কে, এদোম থেকে যে আসছে? অর্থাৎ, এ কে, পৃথিবী থেকে যে আসছে? (ইসা ৬৩:১)। পিতা ঈশ্বরের আশ্চর্যময় প্রজ্ঞার কথা স্বর্গবাহিনীর কাছে অজানা থাকবে, পবিত্র আত্মা তা হতে দিলেন না; এমনকি বিশ্বরাজ ও প্রভুর জন্য স্বর্গদ্বার উন্মুক্ত করতে আদেশ দিয়ে তিনি বললেন, হে নেতৃবৃন্দ, তোমাদের তোরণ উত্তোলন কর; উত্তোলিত হও, সনাতন সিংহদ্বার; প্রবেশ করুন গৌরবের রাজা (সাম ২৪:৭ সত্তরী)।
সুতরাং আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট আমাদের জন্য নতুন ও জীবন্ত পথ খুলে দিলেন, যেইভাবে পল বলেন, খ্রিষ্ট মানুষের হাতে গড়া পবিত্রধামে প্রবেশ করেননি, তিনি তো স্বর্গধামেই প্রবেশ করেছেন, যেন এখন আমাদের সপক্ষে ঈশ্বরের সম্মুখে দাঁড়াতে পারেন (হিব্রু ৯:২৪)।
প্রকৃতপক্ষে খ্রিষ্ট পিতা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নিজেকেই প্রকাশ করার জন্য আরোহণ করেননি: তিনি তো ছিলেন ও সর্বদাই থাকবেন পিতার মধ্যে ও তাঁর জনকের দৃষ্টিতে; তিনি সর্বদাই তাঁর প্রীতিভাজন।
আগে মানবতাবিহীন হওয়ায়, ঐশবাণী এবার অভিনব ও অপ্রত্যাশিত ভাবে দেখা দিয়ে মানবরূপে আরোহণ করলেন। আর তিনি আমাদের কারণে ও আমাদের উপকারিতার জন্যই তা করলেন, যার ফলে মানুষের সদৃশ হয়ে উঠে তিনি ঐশপুত্রের পরাক্রমে ও মানুষরূপে বাস্তবেই এ বাণী শুনলেন, আমার ডান পাশে আসন গ্রহণ কর (সাম ১১০:১), যাতে করে তিনি নিজের মধ্যে দত্তকপুত্ররূপে গ্রহণ করা গোটা মানবজাতিকে ঐশপুত্রত্বলাভের গৌরব সম্প্রদান করতে পারেন।
তিনি সত্যিই আমাদের একজন, কেননা সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে হয়েও ও পিতার প্রভা, ঈশ্বর-থেকে-ঈশ্বর ও আলো-থেকে-আলো ব’লে পিতার একই সত্তার অধিকারী হয়েও তিনি পিতা ঈশ্বরের ডান পাশে মানবরূপেই আবির্ভূত হলেন। তিনি আমাদের জন্য পিতার সামনে মানবরূপে আবির্ভূত হলেন, যাতে আমরা যারা প্রাচীন অবাধ্যতার জন্য তাঁর শ্রীমুখের সামনে থেকে দূরীকৃত হয়েছিলাম, তিনি তাঁর কাছে আমাদের পুনরায় উপনীত করতে পারেন। তিনি পুত্ররূপেই আসন গ্রহণ করলেন, আমরাও যেন সন্তানরূপে আসন গ্রহণ করতে পারি ও তাঁর মধ্যে ঈশ্বরসন্তান বলে অভিহিত হতে পারি। এজন্য, যিনি বলেন তাঁর মধ্যে খ্রিষ্ট আছেন যিনি তাঁর মধ্য দিয়ে কথা বলেন, সেই পল এ শিক্ষা দান করেন যে, যা যা খ্রিষ্টের বেলায় বিশিষ্টভাবে ঘটেছিল তা মানবস্বরূপের সাধারণ অধিকার; তিনি বলেন, খ্রিষ্টযিশুতে তিনি খ্রিষ্টের সঙ্গে আমাদের পুনরুত্থিত করলেন এবং তাঁর সঙ্গে স্বর্গধামে আসন দিলেন (এফে ২:৬)।
পিতা ঈশ্বরের সঙ্গে বসবার মর্যাদা ও গৌরব প্রকৃতপক্ষে খ্রিষ্টের, এমনকি কেবল তাঁরই অধিকার রয়েছে, কারণ তিনি স্বরূপে পুত্র। কিন্তু যেহেতু যিনি আসন গ্রহণ করেছেন, মানবরূপে আবির্ভূত হওয়ায় তিনি আমাদের সদৃশ, এবং একইসময় ঈশ্বর দ্বারা ঈশ্বররূপে স্বীকৃত, সেজন্য তিনি একপ্রকারে আমাদেরও কাছে তাঁর আপন মর্যাদার অনুগ্রহ সম্প্রদান করতে সক্ষম।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১২২
ধুয়ো:
দেখ, আমি প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি,
—যুগান্ত পর্যন্ত। আল্লেলুইয়া।

আমি আনন্দ পেলাম ওরা যখন আমাকে বলল,
‘এসো, চলি প্রভুর গৃহে!’
এখন এসে থেমেছে আমাদের চরণ
তোমার তোরণদ্বারে, হে যেরুসালেম।

যেরুসালেম দৃঢ়সংবদ্ধ নগরীর মতই গড়া,
সেইখানে উঠে আসে গোষ্ঠীসকল, প্রভুরই গোষ্ঠীসকল—
ইস্রায়েলের বিধি তো তারা করবে প্রভুর নামের স্তুতি, সেইখানে যে অধিষ্ঠিত আছে বিচারাসনগুলি,
দাউদকুলের সিংহাসনগুলি।

যেরুসালেমের জন্য তোমরা শান্তি যাচনা কর!
যারা তোমাকে ভালবাসে, তাদের সমৃদ্ধি হোক;
শান্তি হোক তোমার প্রাচীর-মাঝে,
তোমার দুর্গশ্রেণির মাঝে সমৃদ্ধি হোক!

আমার ভাই ও বন্ধুদের খাতিরে
আমি বলব, ‘তোমাতেই বিরাজ করুক শান্তি!’
আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর গৃহের খাতিরে
আমি তোমার মঙ্গল অন্বেষণ করব।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, জগতে প্রবাসী তোমার মণ্ডলীকে
তুমি স্বর্গীয় রহস্যগুলি উদ্‌যাপন করার অনুগ্রহ দান করে থাক।
আশীর্বাদ কর: যেখানে আমাদের মানবস্বরূপ তোমার সঙ্গে মিলিত,
খ্রিষ্টীয় আশা সেইদিকে আমাদের আকর্ষিত করুক।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৭ম পাস্কা-রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, প্রসন্ন হয়ে আমাদের মিনতি কান পেতে শোন:
আমরা যারা মানবত্রাতা খ্রিষ্টকে তোমার ঐশগৌরবে ভূষিত বলে বিশ্বাস করি,
যেন উপলব্ধি করতে পারি যে,
তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতিমত যুগান্ত পর্যন্তই আমাদের মাঝে নিত্য উপস্থিত।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (৭:৫৫-৬০)

সেসময়ে, স্তেফান পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে স্বর্গের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে ঈশ্বরের গৌরব দেখতে পেলেন; এও দেখতে পেলেন, ঈশ্বরের ডান পাশে যিশু দাঁড়িয়ে আছেন; তিনি বলে উঠলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, স্বর্গ উন্মুক্ত, এবং মানবপুত্র ঈশ্বরের ডান পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।’
তাঁরা কানে আঙুল দিয়ে জোর গলায় চিৎকার করতে লাগলেন আর সবাই মিলে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন; এবং তাঁকে শহর থেকে বের করে এনে পাথর ছুড়ে মারতে লাগলেন; সাক্ষীরা নিজেদের জামাকাপড় সৌল নামে একটি যুবকের পায়ের কাছে রাখল।
তারা স্তেফানকে পাথর মারতে মারতেই তিনি এই মিনতি নিবেদন করলেন, ‘প্রভু যিশু, আমার আত্মা গ্রহণ কর।’ পরে নতজানু হয়ে জোর গলায় বলে উঠলেন, ‘প্রভু, এই পাপের জন্য এদের দায়ী করো না।’ এবং এ বলে নিদ্রা গেলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯৭
ধুয়ো:
প্রভু রাজত্ব করেন,
তিনি সারা পৃথিবীর উপর পরাৎপর।

প্রভু রাজত্ব করেন, পৃথিবী মেতে উঠুক,
যত দ্বীপপুঞ্জ আনন্দ করুক।
ধর্মময়তা ও ন্যায়
তাঁর সিংহাসনের ভিত।   [ধুয়ো]

স্বর্গ তাঁর ধর্মময়তা ঘোষণা করে, সর্বজাতি তাঁর গৌরবের দর্শন পায়।
সব দেবতা তাঁর সামনে প্রণত হোক।
কারণ তুমি, প্রভু, সারা পৃথিবীর উপর পরাৎপর,
সব দেবতার ঊর্ধ্বে উচ্চতম।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
ঐশপ্রকাশ পুস্তক থেকে পাঠ (২২:১২-১৪,১৬-১৭,২০)

[আমি, যোহন, একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম যা আমাকে বলল:] ‘দেখ, আমি শীঘ্রই আসছি; দেওয়ার মজুরি আমার কাছে থাকবে, আমি প্রত্যেককে যে যার কর্ম অনুযায়ী প্রতিফল দেব। আমিই আল্ফা ও ওমেগা, প্রথম ও শেষ, আদি ও অন্ত। সুখী তারা, যারা নিজেদের পোশাক ধৌত করে, কারণ জীবনবৃক্ষে তাদের অধিকার থাকবে, ও তোরণদ্বারগুলো দিয়ে নগরীতে প্রবেশাধিকার পাবে। আমিই, যিশু, মণ্ডলীগুলির খাতিরে তোমাদের কাছে এই সমস্ত বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে আমার দূতকে পাঠালাম। আমিই দাউদ বংশের মূল-শিকড় ও উজ্জ্বল প্রভাতী তারা।’
আত্মা ও কনে বলছেন: ‘এসো!’ আর যে শোনে, সেও বলুক, ‘এসো!’ আর যে তৃষ্ণার্ত, সে আসুক; যে চায়, সে বিনামূল্যেই জীবন-জল গ্রহণ করুক।
এই সমস্ত বিষয়ে যিনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তিনি বলছেন, ‘হ্যাঁ, আমি শীঘ্রই আসছি।’ আমেন; এসো, প্রভু যিশু!
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমি তোমাদের অনাথ অবস্থায় রেখে যাব না,
একথা বলছেন প্রভু;
তোমাদের কাছে আবার আসব,
আর তোমাদের হৃদয় আনন্দিত হবে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৭:২০-২৬)

[সেসময়ে যিশু স্বর্গের দিকে চোখ তুলে এ বলে প্রার্থনা করলেন, ‘পবিত্র পিতা,] আমি প্রার্থনা করছি শুধু তাদেরই জন্য নয়, কিন্তু তাদেরও জন্য, যারা তাদের বাণীর মধ্য দিয়ে আমার প্রতি বিশ্বাস রাখবে, সকলেই যেন এক হয়; পিতা, তুমি যেমন আমাতে আছ আর আমি তোমাতে আছি, তেমনি তারাও যেন আমাদের মধ্যে থাকে, যাতে জগৎ বিশ্বাস করতে পারে যে, তুমি আমাকে প্রেরণ করেছিলে।
তুমি আমাকে যে গৌরব দিয়েছ, আমি তা তাদের দিয়েছি, তারা যেন এক হয় আমরা যেমন এক: আমি তাদের অন্তরে আর তুমি আমাতে, তারা যেন পরিপূর্ণরূপেই এক হয়, যাতে জগৎ জানতে পারে যে, তুমি আমাকে প্রেরণ করেছ এবং আমাকে যেমন ভালবেসেছ, তেমনি তাদেরও ভালবেসেছ।
পিতা, আমি ইচ্ছা করি, যাদের তুমি আমাকে দিয়েছ, যেখানে আমি আছি তারাও যেন সেখানে আমার সঙ্গে থাকে, যাতে আমার সেই গৌরব দেখতে পায়, সেই যে গৌরব তুমি আমাকে দিয়েছ; কেননা জগৎপত্তনের আগেই তুমি আমাকে ভালবেসেছ।
হে ধর্মময় পিতা, জগৎ তোমাকে জানেনি, কিন্তু আমি তোমাকে জেনেছি, এরাও জেনেছে যে, তুমিই আমাকে প্রেরণ করেছ। আমি তোমার নাম তাদের জানিয়েছি আর জানাতে থাকব; যে ভালবাসায় তুমি আমাকে ভালবেসেছ, সেই ভালবাসা যেন তাদের অন্তরে থাকে, এবং আমিও যেন তাদের অন্তরে থাকি।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে আলেক্সান্দ্রিয়ার বিশপ সাধু সিরিলের ব্যাখ্যা

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট কেবল বারোজন শিষ্যের জন্য প্রার্থনা করেননি। তাঁদের প্রচার শুনে যারা সর্বকালেই বিশ্বাসগুণে পবিত্রিত হতে ও পবিত্র আত্মার সহভাগিতা গুণে শুচীকৃত হতে সম্মত হবে, তিনি তাদের সকলের জন্যই প্রার্থনা করলেন: তারা সকলেই যেন এক হয়; পিতা, তুমি যেমন আমাতে আছ আর আমি তোমাতে আছি, তেমনি তারাও যেন আমাদের মধ্যে থাকে (যোহন ১৭:২১)।
সেই একমাত্র পুত্র পিতার স্বকীয় সত্তা থেকেই উদ্গত, ও আপন স্বরূপে তিনি সম্পূর্ণরূপেই পিতাপ্রাপ্ত। শাস্ত্র অনুসারে তিনি পার্থিব দেহের সঙ্গে অবর্ণনীয় সংযোগের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বরূপের সঙ্গে একপ্রকারে মিশ্রিত হয়েই মানুষ হলেন। আমাদের সকলকে ঐশস্বরূপের অংশীদার করার জন্য তিনি দু’টো সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন স্বরূপকে নিজের মধ্যে একপ্রকারে সংযুক্ত করলেন।
পবিত্র আত্মার সহভাগিতা ও নিত্যকালীন উপস্থিতি আমাদের মধ্যেও এসেছে। তা তখনই প্রথম খ্রিষ্টের মধ্য দিয়ে ও খ্রিষ্টের মধ্যেই বাস্তব প্রকাশ পেয়েছে, যখন দেখা গেল তিনি আমাদের মত হয়েছিলেন তথা তৈলাভিষিক্ত ও পবিত্রিত মানুষ। তবু স্বরূপে তিনি ছিলেন ঈশ্বর, কেননা পিতা থেকেই উদ্গত ছিলেন। আপন আত্মা দ্বারাই তিনি আপন দেহমন্দিরকে ও সমুচিত ভাবে তাঁর সৃষ্ট জগৎকেও পবিত্রিত করলেন। সুতরাং, খ্রিষ্ট-রহস্যের মধ্য দিয়ে আমাদের পক্ষেও পবিত্র আত্মার সহভাগিতা ও ঈশ্বরের সঙ্গে একতা-লাভ সম্ভব হয়ে উঠেছে, কেননা আমরা সকলে তাঁর মধ্যে পবিত্রিত হয়েছি।
আপন প্রজ্ঞা ও পিতার সঙ্কল্প অনুসারে তিনি এমন উপায় স্থির করলেন যাতে আমরা সকলে এক হতে পারি ও ঈশ্বরের সঙ্গে ও একে অন্যের সঙ্গে পুণ্য সংযোগে সংযুক্ত হতে পারি—আর তিনি তাই করলেন যদিও আমাদের মধ্যে নানা পার্থক্য থাকায় আমরা এক একজন স্বকীয় ব্যক্তিত্বমণ্ডিত। কেননা পরমপবিত্র খ্রিষ্টদেহ সাক্রামেন্তে তিনি একদেহে, তাঁর নিজেরই দেহে আপন বিশ্বাসীদের আশিসধন্য করেন, ও তাঁর নিজের সঙ্গে ও পরস্পরের সঙ্গে তাদের একদেহ করে তোলেন। যারা সেই পবিত্র দেহের মাধ্যমে খ্রিষ্টের সঙ্গে সংযুক্ত, কে তাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারবে? কে তাদের পারস্পরিক একতা ধ্বংস করতে পারবে? আমরা যখন এক রুটির সহভাগী, তখন আমরা সকলে এক দেহ হয়ে উঠি, কেননা খ্রিষ্ট অবিচ্ছেদ্য।
এভাবেই মণ্ডলী হল খ্রিষ্টের দেহ আর আমরা তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। কেননা যেহেতু আমরা সকলে সেই এক ও অবিচ্ছেদ্য দেহকে নিজেদের মধ্যে গ্রহণ ক’রে তাঁর পবিত্র দেহের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টের সঙ্গে সংযুক্ত আছি, সেহেতু আমাদের অঙ্গগুলি আমাদের নয়, তাঁরই।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৩৩
ধুয়ো:
পবিত্র পিতা, প্রার্থনা করি:
তারা যেন এক হয় আমরা যেমন এক। আল্লেলুইয়া।

দেখ, ভাইদের একত্রে বাস করা
কতই না ভাল, কতই না সুন্দর!
যেমন মাথায় সেই উৎকৃষ্ট তেল যা দাড়ি বেয়ে, আরোনের দাড়ি বেয়ে ঝরে পড়ে,
ঝরে পড়ে তাঁর পোশাকের গলবন্ধনীর উপর,

তেমনি সেই হার্মোনের শিশির,
যা ঝরে পড়ে সিয়োনের চূড়ায় চূড়ায়।
সেইখানে তো প্রভু জারি করেছেন আশীর্বাদ,
চিরকালীন জীবনদান।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে আমাদের ত্রাণেশ্বর, আমাদের এ মিনতি কান পেতে শোন:
পরমপবিত্র এ মহারহস্যে যোগদানের ফলে
আমরা যেন এ আস্থা রাখতে পারি যে,
গোটা দেহ-মণ্ডলীও সেই একই গৌরবে ভূষিত হবে,
যে গৌরব তুমি মাথা-খ্রিষ্টকে আরোপ করেছ।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


পঞ্চাশত্তমী রবিবার
আগুনের মতই যেন কতগুলো জিহ্বা
ভাগ ভাগ করে প‘ড়ে
তাঁদের প্রত্যেকজনের উপরে বসল,
এবং তাঁরা সকলে
পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হলেন
(প্রেরিত ২:৩-৪)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, আজকের পর্বদিবস-সাক্রামেন্তের দ্বারা তুমি তো
সকল জাতি ও দেশের মানুষের মাঝে বিস্তৃত তোমার মণ্ডলীকে পবিত্রিত কর।
অনুনয় করি: বিশ্বমানবজাতির উপরে পবিত্র আত্মার যত দান বর্ষণ কর:
সুসমাচার প্রচারের প্রথম লগ্নে ঐশঅনুগ্রহ যে মহা মহা কাজ সাধন করেছিল,
আজও তুমি তোমার ভক্তদের অন্তরকে সেই অনুগ্রহে পূর্ণ কর।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (২:১-১১)

যখন পঞ্চাশত্তমী পর্বের দিন এল, তখন তাঁরা সকলে এক স্থানে একত্রে মিলিত হয়েছিলেন; এমন সময়ে হঠাৎ আকাশ থেকে প্রচণ্ড বাতাস বয়ে যাওয়ার মত একটা শব্দ এল, এবং তাঁরা যে বাড়িতে বসে ছিলেন, সেই বাড়ি সেই শব্দে ভরে গেল; আর তাঁরা দেখতে পেলেন, আগুনের মতই যেন কতগুলো জিহ্বা ভাগ ভাগ করে পড়ে তাঁদের প্রত্যেকজনের উপরে বসল, এবং তাঁরা সকলে পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হলেন, ও আত্মা তাঁদের যেভাবে বাক্‌শক্তি দিলেন, তাঁরা সেই অনুসারে অন্য অন্য ভাষায় কথা বলতে লাগলেন।
সেসময়ে, আকাশের নিচের সমস্ত দেশের বহু ভক্ত ইহুদী যেরুসালেমে ছিল। সেই শব্দ ধ্বনিত হলে ভিড় জমে গেল: তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল, যেহেতু প্রত্যেকজন নিজ নিজ ভাষায় তাঁদের কথা বলতে শুনতে পাচ্ছিল।
খুবই স্তম্ভিত ও আশ্চর্য হয়ে তারা তখন বলল, ‘দেখ, এরা যারা কথা বলছে, এরা সকলে কি গালিলেয়ার মানুষ নয়? তবে আমরা কেমন করে প্রত্যেকে নিজ নিজ মাতৃভাষায় এদের কথা বলতে শুনছি? এই আমরা, যারা পার্থিয়া, মেদিয়া এবং এলামের মানুষ আছি, আবার মেসপতামিয়া, যুদেয়া ও কাপ্পাদকিয়া, পন্তস ও এশিয়া, ফ্রিজিয়া ও পাম্ফিলিয়া, মিশর ও লিবিয়ার কিরেনে অঞ্চলের মানুষ এবং রোম-অধিবাসী—ইহুদী ও ইহুদীধর্মাবলম্বী, উভয়েই—এবং ক্রীট ও আরব দেশের মানুষ, এই আমরা শুনতে পাচ্ছি, ওরা আমাদের নিজ নিজ ভাষায় ঈশ্বরের মহাকীর্তির কথা বলছে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১০৪
ধুয়ো:
তোমার আত্মাকে পাঠাও, প্রভু;
ধরণীর মুখ নবীন করে তোল।

প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য!
প্রভু, পরমেশ্বর আমার, তুমি সুমহান!
হে প্রভু, কী অগণন তোমার কর্মকীর্তি; প্রজ্ঞার সঙ্গেই নির্মাণ করেছ এ সবকিছু,
তোমার কর্মরচনায় পৃথিবী পরিপূর্ণ।   [ধুয়ো]

তুমি তাদের প্রাণবায়ু ফিরিয়ে নাও,
তারা মরে, ধুলায় ফিরে যায়।
তুমি নিজ আত্মাকে পাঠিয়ে দাও, তারা সৃষ্ট হয়,
এভাবেই তুমি ধরণীর মুখ নবীন করে তোল।   [ধুয়ো]

প্রভুর গৌরব হোক চিরকাল;
আপন কর্মকীর্তি নিয়ে প্রভু আনন্দিত হোন।
তাঁর কাছে মনঃপূত হোক আমার এ জপন,
প্রভুতেই তো আনন্দ আমার।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১২:৩খ-৭,১২-১৩)

প্রিয়জনেরা, পবিত্র আত্মার প্রেরণায় ছাড়া কেউ বলতে পারে না ‘যিশু প্রভু।’
বহুবিধ অনুগ্রহদান আছে, আত্মা কিন্তু এক; বহুবিধ সেবাকর্ম আছে, প্রভু কিন্তু এক; বহুবিধ কর্মক্রিয়া আছে, কিন্তু সকলের মধ্যে যিনি সেই সবকিছু সাধন করে থাকেন, সেই ঈশ্বর এক। কিন্তু প্রত্যেককে দেওয়া আত্মার সেই বিশেষ অভিব্যক্তি সার্বিক উপকারিতার উদ্দেশ্যেই দেওয়া। কেননা দেহ যেমন এক, অথচ তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনেক এবং দেহের অঙ্গগুলি অনেক হয়েও সব ক’টি মিলে একদেহ হয়, খ্রিষ্টও সেইরূপ।
প্রকৃতপক্ষে আমাদের সকলেরই এক আত্মায় বাপ্তিস্ম হয়েছে একদেহ হবার জন্য—তা আমরা ইহুদী বা গ্রীক, ক্রীতদাস বা স্বাধীন মানুষ যাই হই না কেন; এবং পান করার মত আমাদের সকলকে এক আত্মাকে দেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। গীতিগাথা
এসো, পবিত্রাত্মা, এসো!
স্বর্গ থেকে মোদের কাছে
তব আলোর পুণ্য রশ্মি
কর বিকিরণ।

এসো, দীনদুঃখীর পিতা,
এসো, মঙ্গলদানের দাতা,
এসো, মনের উজ্জ্বল জ্যোতি,
কর শান্তি দান।

সান্ত্বনাদানকারী তুমি,
অন্তরের মধুর অতিথি,
স্বস্তি আরাম কর সঞ্চার
মোদের হৃদিতে।

শ্রমে তুমিই বিশ্রামদাতা,
কষ্টে তুমিই মনের আরাম,
মুছে ফেল দুঃখের দিনে
মোদের চোখের জল।

ওগো দিব্য স্বচ্ছ জ্যোতি,
ভক্তের হৃদি কর দখল,
কর পূর্ণ তব আলোয়
মোদের অন্তর প্রাণ।

তব সর্বশক্তি বিনা
মানুষ দুর্বল, মানুষ শূন্য!
পাপের বোঝা ভারী অসহ্য,
কৃপা কর হে।

মন্দ যত কর ধৌত,
শুষ্ক যত কর সিঞ্চন,
ক্ষত যত কর সুস্থ,
প্রাণের চিকিৎসক।

উগ্র যত কর নম্র,
শীতল যত কর উষ্ণ,
বক্র যত কর সরল,
কর শান্তিদান।

তোমার কাছে ভক্তের ভিক্ষা:
দান কর গো পুণ্য মৃত্যু,
দান কর স্বর্গীয় পুরস্কার,
পরমানন্দ!

৮। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
এসো, পবিত্র আত্মা, তোমার ভক্তদের হৃদয় তোমার প্রেরণায় পূর্ণ কর,
জ্বালাও তাদের অন্তরে তোমার দিব্য প্রেমের আগুন।
আল্লেলুইয়া।

৯। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২০:১৯-২৩)

সেই দিন, সপ্তাহের প্রথম দিন, সন্ধ্যাবেলায়, শিষ্যেরা যেখানে ছিলেন, ইহুদীদের ভয়ে সেখানকার সমস্ত দরজা বন্ধ থাকতেই যিশু এলেন ও তাঁদের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালেন। তিনি তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক!’ এবং এই কথা বলে তিনি নিজের দু’হাত আর নিজের পাশটি তাঁদের দেখালেন। প্রভুকে দেখে শিষ্যেরা আনন্দিত হলেন।
যিশু তাঁদের আবার বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক! পিতা যেমন আমাকে প্রেরণ করেছেন, আমিও তেমনি তোমাদের পাঠাচ্ছি।’ এবং একথা বলার পর তিনি তাঁদের উপরে ফুঁ দিলেন, ও তাঁদের বললেন, ‘পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ কর। তোমরা যদি কারও পাপ ক্ষমা কর, তা ক্ষমা করা হবে; যদি কারও পাপ ধরে রাখ, তা ধরে রাখা থাকবে।’
প্রভুর বাণী।

১০। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

ভ্রাতৃগণ, আমাদের জন্য সেই দিনের উদয় হল, যেদিনে পবিত্র মণ্ডলী বিশ্বাসীদের চোখে উদ্ভাসিত হয়, তাদের হৃদয়ে প্রজ্বলিত হয়। আমরা ঠিক সেই দিন উদ্‌যাপন করছি যেদিন প্রভু যিশুখ্রিষ্ট পুনরুত্থানের পর স্বর্গারোহণে গৌরবান্বিত হয়ে পবিত্র আত্মাকে প্রেরণ করলেন। বস্তুতপক্ষে সুসমাচারে তাঁর এই বাণী লেখা আছে: কেউ যদি তৃষ্ণার্ত হয়, সে আমার কাছে এসে পান করুক; জীবনময় জলের নদনদী তার অন্তর থেকে প্রবাহিত হবে। এপ্রসঙ্গে রচয়িতা ব্যাখ্যা দান করে বলেন, তিনি আত্মা সম্বন্ধেই একথা বলেছিলেন, সেই যে আত্মাকে তাঁর প্রতি বিশ্বাসী মানুষদের পাবার কথা; কারণ আত্মা তখনও ছিলেন না, যেহেতু যিশু তখনও গৌরবান্বিত হননি (যোহন ৭:৩৭-৩৯)। সুতরাং এ বাকি ছিল যে, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানে ও স্বর্গারোহণে যিশু গৌরবান্বিত হলে পর যে আত্মাকে প্রেরণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি সেই আত্মাকে দান করবেন: আর তাই ঘটেছে।
আপন শিষ্যদের সঙ্গে চল্লিশ দিন অতিবাহিত করার পর পুনরুত্থিত প্রভু স্বর্গে আরোহণ করলেন, ও পঞ্চাশত্তমী দিনে—যে দিনটি আমরা আজ উদ্‌যাপন করছি—তিনি আত্মাকে প্রেরণ করলেন, যেইভাবে লেখা আছে: হঠাৎ আকাশ থেকে প্রচণ্ড বাতাস বয়ে যাওয়ার মত একটা শব্দ এল। তাঁরা দেখতে পেলেন, আগুনের মতই যেন কতগুলো জিহ্বা ভাগ ভাগ করে পড়ে তাঁদের প্রত্যেকজনের উপরে বসল; এবং আত্মা তাঁদের যেভাবে বাক্‌শক্তি দিলেন, তাঁরা সেই অনুসারে অন্য অন্য ভাষায় কথা বলতে লাগলেন (প্রেরিত ২:২-৪)।
সেই বাতাস তাঁদের হৃদয়কে দৈহিক তুষ থেকে পরিশুদ্ধ করছিল; সেই আগুন প্রাচীন দেহলালসার খড় পুড়িয়ে দিচ্ছিল। পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে তাঁরা যে যে ভাষায় কথা বলছিলেন, এতে সেই ভাবী মণ্ডলীর একটা দৃষ্টান্ত ছিল, যে মণ্ডলীতে সকল জাতির ভাষা উপস্থিত। কেননা জলপ্লাবনের পরে ধর্মহীন মানুষের গর্ব প্রভুর বিরুদ্ধে উচ্চ একটা মিনার নির্মাণ করেছিল আর মানবজাতি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, যার ফলে প্রতিটি জাতি অন্য জাতির কাছে নিজ কথা না বোঝাবার জন্য নিজ নিজ ভাষায় কথা বলত।
এখন কিন্তু ভক্তদের নম্র ভক্তি এ সমস্ত ভাষার বিভেদ মণ্ডলীর ঐক্যে সংগ্রহ করেছে, যার ফলে বিদ্বেষ যা বিক্ষিপ্ত করেছিল, ভালবাসা দ্বারা তা পুনর্মিলিত হয়েছে: এভাবে একদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মত মানবজাতির বিক্ষিপ্ত অঙ্গগুলি খ্রিষ্টের পুণ্য দেহের ঐক্যে ভালবাসার আগুনে গলে গিয়ে একমাথা সেই খ্রিষ্টের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত হয়েছে। এজন্যই যারা শান্তির অনুগ্রহ ঘৃণা করে ও একতা ও সুসম্পর্ক রক্ষা করে না, তারা পবিত্র আত্মার দান থেকে সম্পূর্ণ রূপে বঞ্চিত। যদিও তারা আজ এখানে আনুষ্ঠানিক ভাবে একত্রিত, যদিও তারা পবিত্র আত্মার প্রতিশ্রুতি ও আগমন বিষয়ক এ পাঠগুলি শোনে, তবু তারা তা শুনে পুরস্কৃত নয়, দণ্ডিতই হবে। হৃদয় যা প্রত্যাখ্যান করে, কান দিয়ে তা গ্রহণ করলে কী লাভ? যাঁর আলো তারা ঘৃণা করে, তাঁর আগমন উদ্‌যাপনে তাদের কী উপকার? তোমরা কিন্তু, হে আমার ভ্রাতৃগণ, হে খ্রিষ্টের দেহের অঙ্গগুলি, একতার পল্লব ও শান্তির সন্তান যে তোমরা, তোমরা সানন্দে ও নির্ভয়ে এদিন উদ্‌যাপন কর, কেননা পবিত্র আত্মার আগমনের দিনগুলিতে যা পূর্বঘোষিত হয়েছে তা তোমাদের মধ্যে পূর্ণতা লাভ করে। যেমন সেসময় পবিত্র আত্মাকে যে গ্রহণ করত একজনমাত্র হয়েও সে সব দেশের ভাষায় কথা বলত, তেমনি এখন সর্বজাতির কাছে সর্বদেশের ভাষায় কথা বলছে এ ঐক্যই যার মধ্যে তোমরাই প্রতিষ্ঠিত যারা পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ করেছ; —অবশ্যই, তোমরা যদি কোন হিংসা-সূত্রে সেই খ্রিষ্টমণ্ডলী থেকে নিজেদের ছিন্ন না কর, যে মণ্ডলী সর্বদেশের ভাষায় কথা বলে।

১১। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১২। অর্থদান

১৩। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৪। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৫। ধ্যান-গীতি: সাম ১৩১
ধুয়ো:
তাঁরা সকলে পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হলেন,
ও ঈশ্বরের মহাকীর্তির কথা ঘোষণা করতে লাগলেন। আল্লেলুইয়া।

প্রভু, আমার হৃদয় গর্বিত নয়,
আমার চোখও উদ্ধত নয়।
বিরাট কোন কিছুর পিছনে,
আমার বোধাতীত আশ্চর্যময় কোন কিছুর পিছনে যাই না কো আমি।

আমার প্রাণ বরং আমি শান্ত রাখি,
রাখি নিশ্চুপ;
মায়ের কোলে দুধ-ছাড়ানো শিশুর মত,
দুধ-ছাড়ানো তেমন শিশুরই মত আমার প্রাণ।

ইস্রায়েল, প্রভুর প্রতীক্ষায় থাক
এখন থেকে চিরকাল ধরে।
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার গৌরব হোক,
যিনি আছেন, যিনি ছিলেন, যিনি আসছেন, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। আমেন।   [ধুয়ো]

১৬। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি তোমার মণ্ডলীকে স্বর্গীয় যত মঙ্গলদানে ধন্য করেছ।
অনুনয় করি:
মণ্ডলীর মধ্যে সঞ্চারিত তোমার সেই অনুগ্রহদান রক্ষা কর,
যে পবিত্র আত্মাকে তার উপরে বর্ষণ করেছ,
সেই পবিত্র আত্মার পরাক্রম যেন নিয়তই আমাদের অনুপ্রাণিত করে,
এবং এই আত্মিক খাদ্য গ্রহণের ফলে
আমরা যেন শাশ্বত মুক্তির পূর্ণতা লাভ করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৭। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]