সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
পাস্কাকাল

প্রভু যিশুর পুনরুত্থান (সাধু বেনেডিক্ট মঠ - উপাসনালয়)
* বাংলাদেশে প্রভুর স্বর্গারোহণ মহাপর্ব ৭ম রবিবারে পালিত হয়।    
অনুষ্ঠানসমূহ: পাস্কা-নিশিজাগরণী | পাস্কা-রবিবার | ২য় রবিবার | ৩য় রবিবার | ৪র্থ রবিবার | ৫ম রবিবার | ৬ষ্ঠ রবিবার | স্বর্গারোহণ | ৭ম রবিবার | পঞ্চাশত্তমী

৩য় পাস্কা-রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর,
প্রাণে নবায়িত হয়েছে বলে তোমার ভক্তরা নিত্যই আনন্দিত হোক।
ঐশপুত্রত্বের গৌরব ফিরে পেয়ে তারা যেমন আজ উল্লসিত, তেমনি
নিশ্চিত আশা নিয়ে তারা যেন পুনরুত্থানের দিনের আনন্দের প্রতীক্ষায় থাকে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (৩:১৩-১৫,১৭-১৯)

সেসময়ে পিতর জনগণকে বললেন, ‘ইস্রায়েলের মানুষেরা, এতে তোমরা আশ্চর্য হচ্ছ কেন? আমরাই যে নিজের পরাক্রম বা ভক্তি গুণে একে হাঁটবার ক্ষমতা দিয়েছি, এমনটি মনে ক’রে কেনই বা তোমরা আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছ? যিনি আব্রাহাম, ইসায়াক ও যাকোবের ঈশ্বর, আমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর, তিনিই নিজের দাস সেই যিশুকে গৌরবান্বিত করেছেন, তোমরা যাঁকে তুলে দিয়েছিলে, ও পিলাত তাঁকে মুক্ত করে দেওয়ার পক্ষে রায় দিলে তোমরা তাঁর সামনে যাঁকে অস্বীকার করেছিলে।
তোমরাই সেই পবিত্র ও ধর্মময় মানুষকে অস্বীকার করেছিলে, তোমরাই চেয়েছিলে, তোমাদের জন্য একজন নরঘাতককে দেওয়া হোক, কিন্তু জীবনের প্রণেতাকে তোমরা হত্যা করেছিলে। কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করেছেন: আমরা নিজেরাই তার সাক্ষী!
এখন, ভাইয়েরা, আমি জানি, তোমরা যা করেছিলে, তোমাদের জননেতারাও যা করেছিলেন, তা অজ্ঞতা বশতই করেছিলে। কিন্তু ঈশ্বর খ্রিষ্টের যন্ত্রণাভোগ সম্বন্ধে যে সমস্ত কথা সকল নবীর মুখ দিয়ে আগে থেকে বলেছিলেন, সেই সমস্ত কথা এভাবেই পূর্ণ করেছেন। সুতরাং মনপরিবর্তন কর, নিজেরাই ফের, যেন তোমাদের পাপ মুছে দেওয়া হয়।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৪
ধুয়ো:
তোমার শ্রীমুখের আলো, প্রভু,
আমাদের উপর উদ্ভাসিত হোক।

আমি ডাকলেই সাড়া দিও,
হে আমার ধর্মময়তার পরমেশ্বর;
সঙ্কটে আমায় দিয়েছ আরাম,
আমাকে দয়া কর, আমার প্রার্থনা শোন।   [ধুয়ো]

জেনে রেখ, প্রভু আপন ভক্তজনের জন্য সাধন করেন আশ্চর্য কাজ,
আমি ডাকলেই শুনবেন প্রভু।
অনেকে বলে: ‘কে আমাদের দেখাবে মঙ্গল?’
তোমার শ্রীমুখের আলো, প্রভু, আমাদের উপর উদ্ভাসিত হোক।   [ধুয়ো]

তেমন শান্তিতে শয়ন করে
আমি ঘুমিয়ে পড়ি,
কারণ একমাত্র তুমিই, প্রভু,
আমাকে ভরসাভরে বিশ্রাম করতে দাও।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যোহনের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (২:১-৫ক)

বৎস আমার, এ সমস্ত তোমাদের লিখছি,
তোমরা যেন পাপ না কর।
কিন্তু যদি কেউ পাপ করে,
পিতার কাছে আমাদের পক্ষে সহায়ক একজন আছেন:
সেই যিশুখ্রিষ্ট, ধর্মাত্মা যিনি।
তিনিই আমাদের পাপের জন্য প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ
—আমাদের পাপের শুধু নয়,
সমস্ত বিশ্বজগতেরও পাপের জন্য!
এতেই জানতে পারি যে আমরা খ্রিষ্টকে জেনেছি,
আমরা যদি তাঁর আজ্ঞাগুলি পালন করি।
যে বলে, ‘আমি তাঁকে জানি,’
অথচ তাঁর আজ্ঞাগুলি পালন করে না,
সে মিথ্যাবাদী, তার অন্তরে সত্য নেই।
কিন্তু যে কেউ তাঁর বাণী পালন করে,
ঈশ্বরের ভালবাসা তার অন্তরে সত্যি সিদ্ধি লাভ করেছে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
প্রভু যিশু, আমাদের কাছে শাস্ত্রের অর্থ বুঝিয়ে দাও;
তুমি কথা বললে আমাদের হৃদয় উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২৪:৩৫-৪৮)

[এম্মাউস থেকে ফিরে এসে সেই দু’জন শিষ্য,] পথে যা ঘটেছিল ও কেমন করে রুটি-ছেঁড়ায়ই তাঁরা যিশুকে চিনতে পেরেছিলেন, এই সমস্ত কথা [সেই এগারোজনকে এবং উপস্থিত অন্যান্য সকলকে] শোনাতে লাগলেন।
তাঁরা তখনও এবিষয়ে কথা বলছেন, এমন সময়ে স্বয়ং তিনিই তাঁদের মাঝখানে এসে দাঁড়ালেন; তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক।’ এতে তাঁরা আতঙ্কিত ও সন্ত্রাসিত হয়ে মনে করছিলেন, তাঁরা যেন ভূত দেখছেন। কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, ‘তোমরা এত কম্পিত কেন? তোমাদের হৃদয়ে সন্দেহ জাগছে কেন? আমার হাত ও আমার পা দেখ, এ আমি নিজেই; আমাকে স্পর্শ কর, নিজেরা দেখ। ভূতের তো হাড়-মাংস নেই, অথচ তোমরা দেখতে পাচ্ছ, তা আমার আছে।’
একথা বলে তিনি তাঁর নিজের হাত-পা তাঁদের দেখালেন। কিন্তু তাঁরা আনন্দের আতিশয্যে তখনও বিশ্বাস করছিলেন না ও আশ্চর্যান্বিত ছিলেন বিধায় তিনি তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের কাছে এখানে কি খাবার মত কিছু আছে?’ তাঁরা তাঁকে একখানা ভাজা মাছ দিলেন। তা নিয়ে তিনি তাঁদের সামনে খেলেন।
পরে তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের সঙ্গে থাকাকালে আমি তোমাদের যা বলেছিলাম, আমার সেই বাণীর অর্থ এ: মোশির বিধানে, নবী-পুস্তকাবলিতে এবং সামসঙ্গীত-মালায় আমার সম্বন্ধে যা কিছু লেখা আছে, সেই সমস্ত কিছু পূর্ণতা লাভ করা প্রয়োজন।’
তখন তিনি তাঁদের মনের দ্বার খুলে দিলেন, তাঁরা যেন শাস্ত্র বুঝতে পারেন; তাঁদের বললেন, ‘এ কথাই তো লেখা আছে: খ্রিষ্টকে যন্ত্রণাভোগ করতে হবে ও তৃতীয় দিনে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করতে হবে; এবং যেরুসালেম থেকেই শুরু ক’রে তাঁর নামে পাপমোচনের উদ্দেশে মনপরিবর্তনের কথা সকল জাতির কাছে প্রচারিত হবে। তোমরাই এসব কিছুর সাক্ষী।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে আলেক্সান্দ্রিয়ার বিশপ সাধু সিরিলের ব্যাখ্যা

যিনি কিছুকাল পূর্বে বিশ্বাসে ধীর হয়েছিলেন, তিনি এবার স্বীকারোক্তিতে ক্ষিপ্র হলেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যে নিরাময় হলেন। কেবল আট দিন অতিবাহিত হয়েছিল, আর খ্রিষ্ট পেরেকের দাগ ও বুকই দেখিয়ে অবিশ্বাসের বাধা সরিয়ে দিলেন।
পদার্থ হিসাবে মর্তদেহের পক্ষে উপযুক্ত প্রবেশপথ প্রয়োজন, এবং দেহটা যত বড় প্রবেশপথ তত বড় হওয়া চাই; অথচ আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট দরজা রুদ্ধ থাকতেই আশ্চর্য ভাবে প্রবেশ ক’রে টমাসকে আপন বুক দেখালেন, হাতে-পায়ে পেরেকের দাগও দেখালেন; এইভাবে টমাসের কারণে সকলের বিশ্বাস দৃঢ়তর করলেন।
কেবল টমাসের বেলায় লেখা আছে তিনি বললেন, তাঁর দু’টো হাতে যদি পেরেকের দাগ না দেখি, ও পেরেকের স্থানে যদি আমার আঙুল না রাখি, আর তাঁর বুকের পাশটিতে যদি আমার হাত দিতে না পারি, তবে আমি বিশ্বাস করব না (যোহন ২০:২৫)। তবু অবিশ্বাসজনিত সেই যে পাপ একপ্রকারে সকলেরই সমান পাপ ছিল, আর আমরা জানি, অন্যরা ‘আমরা প্রভুকে দেখেছি’ (যোহন ২০:২৫) টমাসকে একথা বলা সত্ত্বেও তবু তাঁদের মন সন্দেহ-মুক্ত ছিলই না।
বস্তুতপক্ষে যাঁরা আনন্দের আতিশয্যে তখনও বিশ্বাস করছিলেন না ও আশ্চর্যান্বিত ছিলেন, তিনি তাঁদের বললেন, তোমাদের কাছে এখানে কি খাবার মত কিছু আছে? তাঁরা তাঁকে একখানা ভাজা মাছ দিলেন। তা নিয়ে তিনি তাঁদের সামনে খেলেন (লুক ২৪:৪১-৪৩)।
তুমি কি দেখতে পার, অবিশ্বাসের সন্দেহ কেবল ধন্য টমাসকে নয়, অন্য শিষ্যদের আত্মাকেও ফাঁদে আটকাচ্ছে? বিস্ময়ই শিষ্যদের বিশ্বাসে ধীর করছিল; অপরদিকে যে দেখে ও লক্ষ করে তার অবিশ্বাসের জন্য কোন ছুতাই থাকতে পারে না; এজন্য ধন্য টমাস নিশ্চয়তার সঙ্গে স্বীকার করলেন, প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার! যিশু বললেন, আমাকে দেখেছ বলেই তুমি বিশ্বাস করছ। না দেখেও বিশ্বাস করে যারা, তারাই সুখী (যোহন ২০:২৮-২৯)।
ত্রাণকর্তার এ বাণী বিশেষ সহায়তায় পূর্ণ ও খুবই উপকারী বাণী; এতেও আমাদের আত্মার জন্য তাঁর চিন্তা কম নয়, কেননা যেমনটি লেখা আছে, তিনি মঙ্গলময়, তিনি চান, সকল মানুষ যেন পরিত্রাণ পেতে পারে ও সত্য জ্ঞানে এসে পৌঁছতে পারে। এসবকিছু সত্যিই প্রশংসনীয়।
সকল মানুষ নির্বিশেষে বিশ্বাসের বিশ্বাসযোগ্যতা দেবার জন্য, সেই টমাসের প্রতি যিনি সেইভাবে কথা বলছিলেন ও সেই অন্য শিষ্যদের প্রতি যাঁরা খ্রিষ্টকে একটা আত্মা বা ভূত মনে করছিলেন, এ সকলেরই প্রতি ধৈর্যশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল; পেরেকের দাগ ও বুকের ক্ষত দেখানো, অসাধারণ ভাবে ও নিষ্প্রয়োজনে খাদ্য নেওয়া, এও প্রয়োজন ছিল, যাতে যাঁরা বিশ্বাস করার জন্য এসব কিছু খোঁজ করছিলেন, তাঁদের মনের মধ্যে অবিশ্বাসের কোন সূত্রও যেন না থাকে।
কিন্তু যে কেউ যা দেখেনি তা বিশ্বাস করে ও গুরু যা তার কানে শোনান তা সত্য বলে গ্রহণ করে, সে-ই মহা বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁকে সম্মান করে যাঁর কথা প্রচারিত। এজন্যই লেখা আছে, যে কেউ ধন্য প্রেরিতদূতদের কণ্ঠ বিশ্বাস করবে, সে সুখী, কেননা যেমনটি লুক বলেন, তাঁরাই হলেন ঘটনাগুলির সাক্ষী ও বাণীর সেবক। আমরা অনন্ত জীবন আকাঙ্ক্ষা করলে ও স্বর্গীয় আবাসে বাস করা মহা সৌভাগ্য মনে করলে, তবে তাঁদের প্রতি আমাদের বাধ্যও হতে হবে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৩
ধুয়ো:
যিশু রুটি ছিঁড়লেই
শিষ্যেরা তাঁকে চিনতে পারলেন। আল্লেলুইয়া।

দেখ, ভাইদের একত্রে বাস করা
কতই না ভাল, কতই না সুন্দর!
যেমন মাথায় সেই উৎকৃষ্ট তেল যা দাড়ি বেয়ে, আরোনের দাড়ি বেয়ে ঝরে পড়ে,
ঝরে পড়ে তাঁর পোশাকের গলবন্ধনীর উপর,

তেমনি সেই হার্মোনের শিশির,
যা ঝরে পড়ে সিয়োনের চূড়ায় চূড়ায়।
সেইখানে তো প্রভু জারি করেছেন আশীর্বাদ,
চিরকালীন জীবনদান।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার জনগণের প্রতি সদয় দৃষ্টিপাত করে আশীর্বাদ কর:
তোমার কৃপায় যাদের তুমি দিব্য রহস্যময় অন্ন দ্বারা নবায়িত করেছ,
তোমার সহায়তায় তারা যেন
একদিন অক্ষয় পুনরুত্থানের গৌরবে গৌরবান্বিত হতে পারে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৪র্থ পাস্কা-রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর,
স্বর্গীয় আনন্দের সহভাগিতার দিকে আমাদের চালনা কর,
যেন তোমার দুর্বল মেষপাল সেখানে পৌঁছতে পারে
যেখানে সেই বলবান পালক আগে গিয়ে তাদের অপেক্ষায় আছেন।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (৪:৮-১২)

সেসময়ে, পিতর পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে তাঁদের বললেন, ‘জাতির নেতৃবৃন্দ ও প্রবীণবর্গ! আমরা একটি পঙ্গু মানুষের যে উপকার করেছি, সেই সম্বন্ধে, এবং সে কেমন করে পরিত্রাণ পেয়েছে, তা সম্বন্ধেও যখন আজ আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তখন আপনারা সকলে ও ইস্রায়েলের সকল মানুষ একথা জেনে নিন: নাজারেথীয় সেই যিশুখ্রিষ্টেরই নামগুণে, যাঁকে আপনারা ক্রুশে দিয়েছিলেন, যাঁকে ঈশ্বর মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করেছেন, সেই নামগুণেই এই লোকটি আপনাদের সামনে সুস্থ দেহে দাঁড়িয়ে আছে।
তিনিই সেই প্রস্তর, যা গৃহনির্মাতা এই আপনাদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে সংযোগপ্রস্তর হয়ে উঠেছে। আর অন্য কারও কাছে পরিত্রাণ নেই! কারণ আকাশের নিচে মানুষের কাছে যত নাম দেওয়া থাকুক না কেন, কেবল এই নামগুণেই আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি বলে স্থির করা আছে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১১৮
ধুয়ো:
গৃহনির্মাতারা যে প্রস্তরটি প্রত্যাখ্যান করল,
তা তো হয়ে উঠেছে সংযোগপ্রস্তর।

প্রভুকে ধন্যবাদ জানাও, তিনি যে মঙ্গলময়,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।
মানুষের উপর ভরসা রাখার চেয়ে প্রভুতে আশ্রয় নেওয়া শ্রেয়।
ক্ষমতাশালীদের উপর ভরসা রাখার চেয়ে প্রভুতে আশ্রয় নেওয়া শ্রেয়।   [ধুয়ো]

আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই, তুমি যে আমাকে দিয়েছ সাড়া,
তুমি যে হলে আমার পরিত্রাণ।
গৃহনির্মাতারা যে প্রস্তরটি প্রত্যাখ্যান করল,
তা তো হয়ে উঠেছে সংযোগপ্রস্তর;   [ধুয়ো]

এ কাজ স্বয়ং প্রভুরই কাজ,
আমাদের দৃষ্টিতে তা আশ্চর্যময়।
যিনি প্রভুর নামে আসছেন, তিনি আশিসধন্য;
প্রভুর গৃহ থেকে আমরা তোমাদের আশীর্বাদ করি।   [ধুয়ো]

তুমিই আমার ঈশ্বর, আমি তোমায় জানাই ধন্যবাদ;
হে আমার পরমেশ্বর, আমি তোমার বন্দনা করি।
প্রভুকে ধন্যবাদ জানাও, তিনি যে মঙ্গলময়,
তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যোহনের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৩:১-২)

প্রিয়জনেরা, দেখ, পিতা কি অগাধ ভালবাসা আমাদের দান করেছেন,
যার জন্য আমরা ঈশ্বরসন্তান বলে অভিহিত,
আর আমরা তো তাই!
এজন্যই জগৎ আমাদের জানে না, কারণ তাঁকেই সে জানেনি।
প্রিয়জনেরা, এখন তো আমরা ঈশ্বরের সন্তান;
আর কী হয়ে উঠব, এখনও তা প্রকাশিত হয়নি।
আমরা জানি, প্রকাশিত হলে আমরা তাঁর সদৃশ হব,
কারণ তাঁকে দেখতে পাব যেইরূপে তিনি আছেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমিই উত্তম মেষপালক—একথা বলছেন প্রভু;
যারা আমার নিজের মেষ, তাদের আমি জানি, তারাও আমাকে জানে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১০:১১-১৮)

একদিন যিশু বললেন, ‘আমিই উত্তম মেষপালক। উত্তম মেষপালক মেষগুলির জন্য নিজ প্রাণ বিসর্জন দেয়। যে শুধু বেতনভোগী, যে নিজে মেষপালক নয়, মেষগুলি যার নিজের নয়, নেকড়েবাঘ আসতে দেখলেই সে মেষগুলিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়; আর নেকড়েবাঘ সেগুলিকে ছিনিয়ে নেয় ও ছড়িয়ে ফেলে। বেতনভোগী বলেই সে পালিয়ে যায়, এবং মেষগুলির জন্য তার কোন চিন্তা নেই।
আমিই উত্তম মেষপালক: যারা আমার নিজের মেষ, তাদের আমি জানি, তারাও আমাকে জানে, যেমনটি পিতা আমাকে জানেন আর আমি পিতাকে জানি, এবং মেষগুলির জন্য আমার নিজের প্রাণ বিসর্জন দিই। আর আমার আরও মেষ আছে, যারা এই ঘেরির নয়; তাদেরও আমাকে নিয়ে আসতে হবে, আর তারা আমার কণ্ঠে কান দেবে; তখন থাকবে একটামাত্র মেষপাল, একটিমাত্র মেষপালক।
পিতা এজন্যই আমাকে ভালবাসেন যে, আমি আমার প্রাণ বিসর্জন দিই, তা যেন ফিরিয়ে নিতে পারি। কেউই আমার কাছ থেকে তা কেড়ে নেয় না, নিজে থেকেই আমি তা বিসর্জন দিই। তা বিসর্জন দেবার অধিকার আমার আছে, আর তা ফিরিয়ে নেবারও অধিকার আমার আছে: তেমন আজ্ঞা আমি আমার পিতা থেকেই পেয়েছি।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু পিতর খ্রিসোলগের উপদেশ

খ্রিষ্টের আগমনে উত্তম মেষপালকই যে পৃথিবীতে এসেছেন, একথা তিনি নিজেই বলেন: আমিই উত্তম মেষপালক। উত্তম মেষপালক আপন মেষগুলির জন্য প্রাণ বিসর্জন দেন (যোহন ১০:১১)। তাছাড়া তিনি গুরু, যিনি গোটা জগৎকে নিরাময় করার জন্য সঙ্গী ও সহযোগীর অনুসন্ধানে ঘুরে বেড়ান ও বলেন, পৃথিবী থেকে তোমরা সকলে প্রভুর উদ্দেশে জাগিয়ে তোল জয়ধ্বনি (সাম ১০০:১ দ্রঃ)।
স্বর্গে ফিরে যাওয়ার সময় এলে তিনি আপন মেষগুলির পালনের ভার পিতরকে দেন, তিনি যেন তাঁর প্রতিনিধি হয়ে তাদের চালিত করেন: পিতর, তুমি কি আমাকে ভালবাস? আমার মেষশাবকদের পালন কর। আর অতিরিক্ত কঠোরতা দেখিয়ে তাঁর মনপরিবর্তনের ভঙ্গুর সূত্রপাত উদ্বিগ্ন না করার জন্য, বরং কোমলতার মধ্য দিয়ে তাঁকে সুস্থির করার জন্য তিনি আবার বলেন, পিতর, তুমি কি আমাকে ভালবাস? আমার মেষগুলিকে পালন কর। তিনি মেষগুলিকে পালনের ভার তাঁকে দেন; সেগুলির বাচ্চারও কথা উল্লেখ করেন, কেননা তিনি জানতেন, তাঁর মেষগুলি উর্বর হবেই। পিতর, তুমি কি আমাকে ভালবাস? আমার মেষশাবকদের পালন কর (যোহন ২১:১৫-১৭ দ্রঃ)। পালক পিতরের সহকর্মী পল এ মেষশাবকদের প্রচুর দুধ খেতে দিতেন; তাঁর কথা: আমি তোমাদের গুরুপাক খাদ্য নয়, দুধ পান করিয়েছি (১ করি ৩:২)। একই চিন্তা পোষণ করতেন বিধায় ধন্য দাউদ রাজাও বলেন: প্রভু আমার মেষপালক; অভাব নেই তো আমার; আমায় তিনি শুইয়ে রাখেন নবীন ঘাসের চারণমাঠে, আমায় নিয়ে যান শান্ত জলের কূলে (সাম ২৩:১-২)।
যুদ্ধ-সংগ্রামের বহু হাহাকারের পর, রক্তপাতেরই অবসন্ন এক জীবনের পর যে সুসমাচারের শান্তির চারণভূমিতে ফিরে আসে, পরবর্তী অনুচ্ছেদ তাকে সেবার আনন্দের সংবাদ দেয়। মানুষ তো ছিল পাপের ক্রীতদাস, মৃত্যুর বন্দি, রিপুর বেড়িতে ক্লিষ্ট; হতভাগার মত সে নিমর্ম এ প্রভুদের সেবা করত। পাপের অধীন থাকতে মানুষ কখন অবসন্ন হয়নি? মৃত্যুর কর্তৃত্বে থাকতে সে কখন কাঁদেনি? রিপু বা অপরাধের বোঝার চাপে ভারাক্রান্ত হয়ে সে কখন নিরাশ হয়নি? এজন্যই তেমন নিমর্ম প্রভুদের সহ্য করতে করতে সে যেন শেষ নিশ্বাসই ছাড়ছিল।
অতএব নবী যখন দেখতে পেলেন আমরা মুক্ত হয়েছি ও স্রষ্টার বাধ্যতায়, পিতার অনুগ্রহে, মঙ্গলময় একমাত্র প্রভুর স্বেচ্ছাপূর্বক সেবায় ফিরে এসেছি, তখন তিনি যুক্তির সঙ্গেই বলে ওঠেন, সানন্দে প্রভুর সেবা কর, তাঁর সম্মুখে এসো হর্ষধ্বনির ছন্দে (সাম ১০০:২): অপরাধ ও দুঃখ যা কিছু হরণ করেছিল, অনুগ্রহ ও সদ্বিবেক তা ফিরিয়ে দেয়।
আমরা তাঁর জনগণ, তাঁর চারণভূমির মেষপাল (সাম ১০০:৩)। শাস্ত্রে বারবার একথা উল্লিখিত, স্বর্গ থেকে এমন পালক আসবেন যিনি কলুষিত চারণমাঠের দরুন অসুস্থ সকল বিক্ষিপ্ত মেষগুলিকে জীবনের চারণভূমিতে আনন্দোল্লাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনবেন। প্রবেশ কর তাঁর তোরণে তাঁর কাছে স্বীকার করতে করতে (সাম ১০০:৪ লাতিন পাঠ): কেবল পাপস্বীকারই বিশ্বাস-তোরণের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রবেশ করায়।
প্রবেশ কর তাঁর তোরণে ধন্যবাদ গীতি গেয়ে, তাঁর প্রাঙ্গণে প্রশংসাগান গেয়ে; তাঁকে জানাও ধন্যবাদ, ধন্য কর তাঁর নাম (সাম ১০০:৪): তথা, সেই যে নাম গুণে আমরা পরিত্রাণকৃত ও যে নামে স্বর্গে মর্তে ও ভূগর্ভে প্রতিটি জানু আনত হয় (ফিলি ২:১০)। কেননা প্রভু সত্যি মঙ্গলময়, তাঁর কৃপা চিরস্থায়ী (সাম ১০০:৫)।
তাঁর কৃপা সত্যিই মধুর: কেবল সেই কৃপা গুণেই তিনি সমগ্র বিশ্বের তিক্ত দণ্ডবিধান মুছে দিতে প্রসন্ন হলেন: ওই দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক, জগতের পাপ যিনি হরণ করেন (যোহন ১:২৯)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৮০
ধুয়ো:
আপন মেষগুলির জন্য যিনি আপন প্রাণ বিসর্জন দিলেন
এবং আপন মেষপালের জন্য মৃত্যুবরণ করতে ইচ্ছা করলেন,
সেই উত্তম মেষপালক
পুনরুত্থান করেছেন। আল্লেলুইয়া।

হে ইস্রায়েলের পালক, কান পেতে শোন;
তুমি তো যোসেফকে মেষপালের মতই চালনা কর,
খেরুব বাহনে সমাসীন হয়ে
এফ্রাইম, বেঞ্জামিন ও মানাসের সামনে উদ্ভাসিত হও।

জাগাও তোমার পরাক্রম,
আমাদের ত্রাণ করতে এসো।
হে পরমেশ্বর, আমাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত কর,
শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তোল, তবেই আমরা পাব পরিত্রাণ।

হে সেনাবাহিনীর পরমেশ্বর, ফিরে এসো,
স্বর্গ থেকে চেয়ে দেখ, এ আঙুরলতাকে দেখতে এসো।
রক্ষা কর সেই চারাগাছ যা তোমার ডান হাত পুঁতেছে একদিন,
সেই পুত্রসন্তানকে যাকে নিজের জন্যই করেছ শক্তিশালী।

আর কখনও তোমাকে ছেড়ে আমরা চলে যাব না,
তুমি আমাদের সঞ্জীবিত করবে আর আমরা করব তোমার নাম।
হে প্রভু, সেনাবাহিনীর পরমেশ্বর, আমাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত কর,
শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তোল, তবেই আমরা পাব পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে কৃপাময় পালক, তোমার পুত্রের অমূল্য রক্ত দ্বারা যাদের মুক্ত করেছ,
সেই মেষপালকে রক্ষা কর,
স্বর্গীয় শাশ্বত চারণভূমিতে তাদের চালনা কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৫ম পাস্কা-রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর,
আমাদের অন্তরে পাস্কা-রহস্য নিয়তই সার্থক করে তোল:
পবিত্র বাপ্তিস্মে যাদের তুমি নবীভূত করতে প্রসন্ন হয়েছ,
তারা যেন তোমার যত্নশীল সহায়তায় অধিক ফলশালী হয়ে ওঠে
ও অনন্ত জীবনের আনন্দে উপনীত হতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (৯:২৬-৩১)

সেসময়ে, যেরুসালেমে এসে উপস্থিত হয়ে পল শিষ্যদের সঙ্গে যোগ দিতে চেষ্টা করলেন; কিন্তু সকলে তাঁকে ভয় করত—তিনি যে শিষ্য, একথা কেউই বিশ্বাস করত না।
তবু বার্নাবাস তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে প্রেরিতদূতদের সামনে হাজির করলেন; এবং তাঁর সেই যাত্রাকালে তিনি কীভাবে প্রভুকে দেখতে পেয়েছিলেন, ও প্রভু যে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন, এবং কীভাবে তিনি দামাস্কে যিশুর নামে সৎসাহসের সঙ্গে প্রচার করেছিলেন, এই সমস্ত কথা তাঁদের কাছে বর্ণনা করলেন।
তাই সৌল তাঁদের সঙ্গে থেকে যেরুসালেমের এখানে ওখানে যেতে লাগলেন; তিনি প্রভুর নামে সৎসাহসের সঙ্গে প্রচার করতেন। কিন্তু তিনি গ্রীকভাষী ইহুদীদের সঙ্গে আলোচনা ও তর্ক করার পর তারা তাঁকে হত্যা করবে বলে দৃঢ়সঙ্কল্পবদ্ধ হল। কথাটা জানতে পেরে ভাইয়েরা তাঁকে সীজারিয়ায় নিয়ে গেলেন, এবং সেখান থেকে তার্সসের দিকে পাঠিয়ে দিলেন।
সেসময় যুদেয়া, গালিলেয়া ও সামারিয়ায় মণ্ডলী শান্তি ভোগ করছিল, নিজেকে গেঁথে তুলছিল, এবং প্রভুভয়ে ও পবিত্র আত্মার সহায়তায় চলতে চলতে বৃদ্ধি লাভ করছিল।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ২২
ধুয়ো:
তুমিই, প্রভু, আমার প্রশংসাবাদের পাত্র
মহা জনসমাবেশে।

বিকল্প: আল্লেলুইয়া।
যারা তাঁকে ভয় করে, তাদের সামনে আমার ব্রতগুলি উদ্‌যাপন করব;
বিনম্ররা খেয়ে পরিতৃপ্ত হবে;
প্রভুর অন্বেষী সকল তাঁর প্রশংসা করবে—
‘তোমাদের হৃদয় চিরজীবী হোক!’   [ধুয়ো]

পৃথিবীর সকল প্রান্ত স্মরণ করবে,
প্রভুর দিকে ফিরে চাইবে,
জাতি-বিজাতির সকল গোষ্ঠী
তাঁর সম্মুখে প্রণিপাত করবে,   [ধুয়ো]

যারা পৃথিবী-গর্ভে সুপ্ত,
তারা তাঁকেই শুধু প্রণাম করবে;
যারা ধুলায় নেমে গেল,
তারা তাঁর সম্মুখে হাঁটু পাতবে।   [ধুয়ো]

তিনিই বাঁচিয়ে রাখলেন আমার প্রাণ,
আমার বংশধারা তাঁর সেবা করবে,
আগামী প্রজন্মের মানুষের কাছে
প্রচারিত হবে প্রভুর কথা;   [ধুয়ো]

তারা তাঁর ধর্মময়তার কথা ঘোষণা করবে।
যে জাতি একদিন জন্ম নেবে,
সেই জাতির মানুষকে তারা বলবে:
‘তিনিই এসব কিছু সাধন করলেন।’   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যোহনের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৩:১৮-২৪)

বৎস, এসো, আমরা কথায় নয়, মুখেও নয়,
বরং কাজে ও সত্যিকারে ভালবাসি।
এতেই বুঝতে পারব, আমরা সত্য থেকে উদ্গত,
এবং তাই তাঁর সম্মুখে আমাদের হৃদয়কে আশ্বস্ত করতে পারব
—আমাদের হৃদয় যে বিষয়ে আমাদের দোষী সাব্যস্ত করুক না কেন—
কারণ ঈশ্বর আমাদের হৃদয়ের চেয়ে মহান,
আর তিনি সবই জানেন।
প্রিয়জনেরা, হৃদয় যদি আমাদের দোষী সাব্যস্ত না করে,
তাহলে ঈশ্বরের সামনে আমরা সৎসাহসের সঙ্গেই দাঁড়াতে পারি,
আর যা কিছু যাচনা করি, তাঁর কাছ থেকে তাই পাই,
কারণ আমরা তাঁর আজ্ঞাগুলি পালন করি
ও তাঁর মনোমত কাজ সাধন করি।
আর এই তো তাঁর আজ্ঞা:
আমরা যেন তাঁর পুত্র যিশুখ্রিষ্টের নামে বিশ্বাস রাখি
ও পরস্পরকে ভালবাসি, তিনি যেমন আমাদের আজ্ঞা দিয়েছেন।
আর তাঁর আজ্ঞাগুলি যে পালন করে,
সে তাঁর মধ্যে বসবাস করে,
তিনিও তার অন্তরে বসবাস করেন।
আর এতেই আমরা জানতে পারি যে তিনি আমাদের অন্তরে বসবাস করেন:
যাঁকে তিনি আমাদের দান করেছেন, সেই আত্মা দ্বারা।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমি যেমন তোমাদের অন্তরে রয়েছি, তেমনি তোমরা আমাতে থাক,
যে আমাতে থাকে, সে-ই প্রচুর ফলে ফলশালী হয়—যিশুর উক্তি।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৫:১-৮)

সেসময়ে যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন, ‘আমিই সত্যকার আঙুরলতা, আর কৃষক হলেন আমার পিতা। আমার যে শাখায় ফল ধরে না, তা তিনি ফেলে দেন, আর যে সব শাখায় ফল ধরে, সেগুলিকে তিনি পরিশুদ্ধ করেন, যেন তাতে আরও বেশি ফল ধরে। আমি যে বাণী তোমাদের শুনিয়েছি, সেই বাণী গুণে তোমরা এর মধ্যে পরিশুদ্ধ হয়েছ।
আমি যেমন তোমাদের অন্তরে রয়েছি, তেমনি তোমরা আমাতে থাক। আঙুরলতায় না থাকলে শাখা যেমন নিজে থেকে ফল ফলাতে পারে না, তেমনি আমাতে না থাকলে তোমরাও ফলশালী হতে পার না। আমি হলাম আঙুরলতা, তোমরা হলে শাখা: যে আমাতে থাকে আর আমি যার অন্তরে থাকি, সে-ই প্রচুর ফলে ফলশালী হয়, কেননা আমার বাইরে থাকলে তোমরা কিছুই করতে পার না। কেউ যদি আমাতে না থাকে, তবে সে শাখার মত বাইরে নিক্ষিপ্ত হয় আর শুকিয়ে যায়; সেই শাখাগুলি জড় করে আগুনে ফেলা হয় ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
তোমরা যদি আমাতে থাক ও আমার সমস্ত কথা তোমাদের অন্তরে থাকে, তাহলে তোমাদের যা ইচ্ছা তোমরা যাচনা কর, তোমাদের জন্য তা-ই করা হবে। তোমরা যদি প্রচুর ফলে ফলশালী হও এবং আমার শিষ্য রূপে দাঁড়াও, তবে আমার পিতা তাতেই গৌরবান্বিত হন।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে আলেক্সান্দ্রিয়ার বিশপ সাধু সিরিলের ব্যাখ্যা

প্রভু বলেন, তিনি নিজেই আঙুরলতা: এতে দেখাতে চান তাঁর ভালবাসায় আমাদের রোপিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত হলে আমাদের উপকারিতা। যারা তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত ও একপ্রকারে তাঁর দেহে একীভূত ও গাছের কলমের মত যুক্ত, তিনি শাখার সঙ্গে তাদের তুলনা করেন। পবিত্র আত্মার সহভাগিতার মধ্য দিয়ে তারাই তাঁর আপন স্বরূপের অংশীদার হয়ে ওঠে, কেননা খ্রিষ্টের পবিত্র আত্মাই আমাদের তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত করেন।
আমরা সদিচ্ছার প্রেরণায় বিশ্বাসগুণে খ্রিষ্টের কাছে গিয়েছি, কিন্তু দত্তকপুত্রত্বের মর্যাদা লাভের গুণেই তাঁর স্বরূপের অংশীদার হয়ে উঠি—সাধু পলের কথা অনুসারে, প্রভুর সঙ্গে যে মিলিত হয়, সে প্রভুর সঙ্গে একাত্মা হয় (১ করি ৬:১৭)।
আমরা আমাদের অবলম্বন ও ভিত্তি সেই খ্রিষ্টের উপরেই নির্মিত, এবং পবিত্র যাজকত্ব ও আত্মায় ঈশ্বরের মন্দিরের উদ্দেশে জীবন্ত ও আত্মিক প্রস্তর বলে অভিহিত। খ্রিষ্ট আমাদের ভিত্তিরূপে না দাঁড়ালে আমরা তো নির্মিত হতে পারি না। একই কথা আঙুরলতার উপমা দ্বারা ব্যক্ত হয়।
তিনি বলেন, তিনি নিজেই আঙুরলতা, তিনি যেন সেই শাখাগুলির মাতা ও জননী যা থেকে সেগুলি উৎপন্ন হয়। বস্তুতপক্ষে আমরা তাঁর দ্বারা ও তাঁর মধ্যে আত্মায় নবজন্ম লাভ করেছি যাতে জীবনফল উৎপন্ন করতে পারি, এমন নবজীবন যা তাঁর প্রতি সক্রিয় ভালবাসারই নামান্তর। আগেকার ফল ছিল পতিত জীবনের পচা ফল।
তাছাড়া আমরা জীবিত অবস্থায় সংরক্ষিত, বা একপ্রকারে তাঁরই মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট হই যদি আমাদের দেওয়া সেই পুণ্য আজ্ঞাগুলি আঁকড়িয়ে ধরে পালন করি, সেই প্রাপ্ত মর্যাদার শ্রেণি রক্ষা করতে যত্নবান থাকি, ও আমাদের মধ্যে অবস্থানকারী আত্মাকে দুঃখ দেওয়ার মত অবকাশ না ঘটাই—সেই যে আত্মা ঐশঅবস্থানের অর্থ আমাদের বুঝিয়ে দেন।
আমরা যে কীভাবে খ্রিষ্টে আছি ও তিনি আমাদের মধ্যে আছেন, একথা সাধু যোহন ব্যাখ্যা করেন, এতেই আমরা জানি যে, আমরা তাঁর মধ্যে রয়েছি আর তিনিও আমাদের অন্তরে রয়েছেন, কারণ তিনি তাঁর আত্মাকে আমাদের দান করেছেন (১ যোহন ৪:১৩)।
শিকড় যেমন শাখাগুলিকে আপন স্বরূপের গুণ ও অবস্থার সহভাগী করে, তেমনি ঈশ্বরের একমাত্র বাণী মানুষকে, বিশেষভাবে যারা বিশ্বাসসূত্রে তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত তাদেরই দান করেন তাঁর আপন আত্মাকে; তাদের যত রকম পবিত্রতা মঞ্জুর করেন, তাঁর নিজের ও পিতার স্বরূপের সঙ্গে সাদৃশ্য ও আত্মীয়তা দান করেন, ভালবাসার জন্য পুষ্টি যোগান ও যত সদ্‌গুণ ও মঙ্গলময়তার জ্ঞান ব্যবস্থা করেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১২১
ধুয়ো:
আমিই সত্যকার আঙুরলতা, তোমরা হলে শাখা
—একথা বলছেন প্রভু;
যে আমাতে থাকে আর আমি যার অন্তরে থাকি,
সে-ই প্রচুর ফলে ফলশালী হয়। আল্লেলুইয়া।

আমি চোখ তুলি গিরিমালার দিকে,
আমার সাহায্য কোথা থেকে আসবে?
আমার সাহায্য সেই প্রভু থেকেই আসবে,
আকাশ ও পৃথিবীর নির্মাতা যিনি।

তিনি তোমার পা দেবেন না টলমল হতে,
ঘুমিয়ে পড়বেন না কো তোমার রক্ষক।
দেখ, ঘুমিয়ে পড়বেন না, হবেন না নিদ্রামগ্ন
ইস্রায়েলের রক্ষক।

প্রভুই তোমার রক্ষক, প্রভুই তোমার ছায়া,
তিনি তোমার ডান পাশে দাঁড়ান।
দিনমানের সূর্য কি রাত্রিবেলার চাঁদ,
কিছুই তোমায় আঘাত করবে না।

প্রভু যত অনিষ্ট থেকে তোমাকে রক্ষা করবেন,
রক্ষা করবেন তোমার প্রাণ।
প্রভু তোমার গমনাগমন রক্ষা করবেন
এখন থেকে চিরকাল ধরে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, প্রসন্ন হয়ে তোমার জনগণের সহায় হও।
যখন তাদের স্বর্গীয় রহস্যময় অন্নে পরিপূর্ণ করেছ,
তখন প্রাচীন জীবনধারণ থেকে জীবনের নবীনতায়ই তাদের উপনীত কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৬ষ্ঠ পাস্কা-রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তোমার আশীর্বাদে
আমরা যেন পুনরুত্থিত প্রভুর সম্মানার্থে উদ্‌যাপিত এ আনন্দঘন দিনগুলো
উজ্জ্বল ভক্তির সঙ্গে পালন করতে পারি;
স্মরণানুষ্ঠানে যা উদ্‌যাপন করি,
তা যেন জীবনাচরণে প্রতিফলিত করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (১০:২৫-২৬,৩৪-৩৫,৪৪-৪৮)

পিতর [কর্নেলিউসের] বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করার সময়ে কর্নেলিউস এগিয়ে এসে তাঁর পায়ে পড়ে প্রণিপাত করলেন। কিন্তু পিতর তাঁকে মাটি থেকে তুলে নিয়ে বললেন, ‘উঠুন; আমি নিজেও মানুষ।’
তখন পিতর কথা বলতে লাগলেন, ‘আমি সত্যিই বুঝতে পারছি, ঈশ্বর কারও পক্ষপাত করেন না; কিন্তু প্রত্যেক জাতির মধ্যে যে কেউ তাঁকে ভয় করে ও ন্যায় পালন করে, সে তাঁর গ্রহণীয় হয়।’
পিতর তখনও কথা বলছেন, সেসময়ে যত লোক বাণী শুনছিল, সকলের উপর পবিত্র আত্মা নেমে এলেন। পিতরের সঙ্গে পরিচ্ছেদিত যে সকল বিশ্বাসী লোক এসেছিল, তারা এতে স্তম্ভিত ছিল যে, বিজাতীয়দের উপরেও সেই দান, পবিত্র আত্মাকেই বর্ষণ করা হচ্ছে; বাস্তবিকই তারা শুনতে পাচ্ছিল, তাঁরা নানা ভাষায় কথা বলছেন ও ঈশ্বরের মহিমাকীর্তন করছেন।
তখন পিতর বললেন, ‘কেউ কি জল আটকাতে পারে যেন এই লোকদের বাপ্তিস্ম দেওয়া না হয়? তাঁরা তো আমাদেরই মত পবিত্র আত্মাকে পেয়েছেন।’ আর তিনি যিশুখ্রিষ্ট-নামে তাঁদের বাপ্তিস্ম দিতে আদেশ দিলেন। সবকিছু শেষে তাঁরা কয়েক দিন সেখানে থাকবার জন্য তাঁকে অনুরোধ করলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯৮
ধুয়ো:
প্রভু জাতি-বিজাতির চোখের সামনে
আপন পরিত্রাণ করেছেন প্রকাশ।

প্রভুর উদ্দেশে গাও নতুন গান,
তিনি যে সাধন করেছেন কত আশ্চর্য কাজ।
আপন ডান হাত ও পবিত্র বাহু দ্বারা
তিনি করেছেন জয়লাভ।   [ধুয়ো]

প্রভু জ্ঞাত করেছেন আপন পরিত্রাণ,
জাতি-বিজাতির চোখের সামনে আপন ধর্মময়তা করেছেন প্রকাশ,
ইস্রায়েলকুলের প্রতি
আপন কৃপা ও বিশ্বস্ততা করেছেন স্মরণ।   [ধুয়ো]

পৃথিবীর সকল প্রান্ত
দেখেছে আমাদের পরমেশ্বরের পরিত্রাণ।
সমগ্র পৃথিবী, প্রভুর উদ্দেশে জাগিয়ে তোল জয়ধ্বনি,
আনন্দে ফেটে পড়, চিৎকার কর, কর গান।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যোহনের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৪:৭-১০)

প্রিয়জনেরা, এসো, আমরা পরস্পরকে ভালবাসি,
কারণ ভালবাসা ঈশ্বর থেকে উদ্গত,
এবং যে কেউ ভালবাসে,
সে ঈশ্বর থেকে সঞ্জাত আর ঈশ্বরজ্ঞান লাভ করে।
যে ভালবাসে না, সে ঈশ্বরকে জানল না,
কারণ ঈশ্বর ভালবাসা।
এতেই আমাদের প্রতি ঈশ্বরের ভালবাসা প্রকাশিত হয়েছে:
ঈশ্বর তাঁর একমাত্র পুত্রকে জগতে প্রেরণ করেছেন
তাঁর দ্বারাই আমরা যেন জীবন পাই।
আর এতেই ভালবাসার অর্থ:
আমরা যে ঈশ্বরকে ভালবেসেছিলাম এমন নয়,
কিন্তু তিনি আমাদের ভালবাসলেন
এবং আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হতে নিজ পুত্রকে প্রেরণ করলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যদি কেউ আমাকে ভালবাসে—একথা বলছেন প্রভু,
তবে সে আমার বাণী মেনে চলবে,
আমার পিতা তাকে ভালবাসবেন,
এবং আমরা তার কাছে আসব।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৫:৯-১৭)

সেসময়ে যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন, ‘পিতা যেমন আমাকে ভালবেসেছেন, আমিও তেমনি তোমাদের ভালবেসেছি; আমার ভালবাসায় স্থিতমূল থাক। যদি আমার আজ্ঞাগুলি পালন কর, তবে আমার ভালবাসায় থাকবেই, আমিও যেমন আমার পিতার সমস্ত আজ্ঞা পালন করেছি ও তাঁর ভালবাসায় থাকি। এই সমস্ত তোমাদের বলেছি, যেন আমার আনন্দ তোমাদের অন্তরে স্থিতমূল থাকে এবং তোমাদের সেই আনন্দ যেন পরিপূর্ণ হয়।
আমার আজ্ঞা এ: তোমরা পরস্পরকে ভালবাস, আমি তোমাদের যেভাবে ভালবেসেছি। আপন বন্ধুদের জন্য নিজের প্রাণ দেওয়া: এর চেয়ে বেশি ভালবাসা কারও নেই। আমি তোমাদের যা আজ্ঞা করি, তোমরা যদি তা পালন কর, তবেই তোমরা আমার বন্ধু। আমি তোমাদের আর দাস বলছি না, কারণ দাস নিজের প্রভু কী করেন তা জানে না; তোমাদের আমি বন্ধু বলছি, কারণ আমার পিতার কাছ থেকে যা কিছু শুনেছি, তা সমস্তই তোমাদের জানিয়েছি।
তোমরা যে আমাকে বেছে নিয়েছ এমন নয়, আমিই তোমাদের বেছে নিয়েছি, তোমাদের নিযুক্তও করেছি, যেন তোমরা গিয়ে ফলশালী হয়ে ওঠ ও তোমাদের ফল স্থায়ী হতে পারে, যাতে তোমরা পিতার কাছে যা কিছু আমার নামে যাচনা কর, তিনি তা তোমাদের দেন। আমি তোমাদের এই আজ্ঞা দিচ্ছি, তোমরা পরস্পরকে ভালবাস।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে বিশপ সাধু আগস্তিনের ব্যাখ্যা

ত্রাণকর্তা শিষ্যদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে পরিত্রাণদায়ী অনুগ্রহের কথা বারবার উত্থাপন করে বলেন, তোমরা যদি প্রচুর ফলে ফলশালী হও এবং আমার শিষ্য রূপে দাঁড়াও, তবে আমার পিতা তাতেই গৌরবান্বিত হন (যোহন ১৫:৮)। সুতরাং যদি পিতা তখনই গৌরবান্বিত, আমরা যখন প্রচুর ফলে ফলবান হই ও খ্রিষ্টের প্রকৃত শিষ্য হই, এতে আমাদের এমন গৌরব বোধ করার কথা নয় যে, আমাদের সাধিত কাজ যেন আমাদেরই দ্বারা সাধিত হয়েছে। অনুগ্রহ তো তাঁরই, ফলে এতে আমাদের নয়, তাঁরই গৌরব প্রকাশিত। এজন্যই অন্য পরিস্থিতিতে তোমাদের আলো মানুষদের সামনে এমনভাবেই জ্বলুক যেন তারা তোমাদের সৎকর্ম দেখে, তিনি তেমন কথা বলার পর, তারা যেন আপন সাধিত সৎকর্ম নিজেদেরই চেষ্টায় সাধিত বলে না মনে করে, সেজন্য তিনি পরপরেই বলে চলেন, তারা যেন তোমাদের স্বর্গস্থ পিতাকে গৌরবান্বিত করে (মথি ৫:১৬)। কেননা এতেই পিতা গৌরবান্বিত যে, আমরা প্রচুর ফলে ফলবান হই ও খ্রিষ্টের প্রকৃত শিষ্য হই। কিন্তু কেইবা আমাদের ফলবান ও শিষ্য করে তোলেন সেই তিনি ছাড়া যাঁর দয়া আগে থেকেই আমাদের মধ্যে সক্রিয়? প্রকৃতপক্ষে আমরা তো তাঁরই শিল্পকর্ম, খ্রিষ্টযিশুতে সেই সমস্ত সৎকর্মের উদ্দেশ্যেই সৃষ্ট (এফে ২:১০)।
পিতা যেমন আমাকে ভালবেসেছেন, তেমনি আমিও তোমাদের ভালবেসেছি। আমার ভালবাসায় থেকো (যোহন ১৫:৯)। এই যে, কোত্থেকে আমাদের সমস্ত সৎকর্ম নির্গত হয়! বিশ্বাস ভালবাসার মধ্য দিয়ে সক্রিয়, তবে বিশ্বাস থেকে ছাড়া সেই সৎকর্মগুলি আর কোত্থেকেই বা আসতে পারত? আর তিনি যদি প্রথম আমাদের ভাল না বাসতেন আমরা কী করে তাঁকে ভালবাসতে পারতাম? একই সুসমাচার-রচয়িতা আপন লেখা পত্রে একথা সুস্পষ্টভাবেই ঘোষণা করে বললেন, আমরা ঈশ্বরকে ভালবাসি, কারণ তিনিই প্রথমে আমাদের ভালবেসেছেন (১ যোহন ৪:১৯)।
প্রকৃতপক্ষে পিতাও আমাদের ভালবাসেন, কিন্তু তাঁরই মধ্যে আমাদের ভালবাসেন, কেননা এতেই পিতা গৌরবান্বিত যে, আমরা সেই আঙুরলতায় তথা সেই পুত্রেই প্রচুর ফলে ফলবান হই আর তাঁর প্রকৃত শিষ্য হই।
তোমরা আমার ভালবাসায় স্থির থেকো। কীভাবে স্থির থাকব? পরবর্তী বাণী শোন: তোমরা যদি আমার আজ্ঞাগুলি পালন কর, তবে আমার ভালবাসায় থাকবেই (যোহন ১৫:৯-১০)।
তবে কি, ভালবাসাই আমাদের আজ্ঞাগুলিকে পালন করায়, না পালিত আজ্ঞাগুলিই আমাদের ভালবাসা সক্রিয় করে? কিন্তু এমন কেইবা সন্দেহ করবে যে, ভালবাসাই আগে আসে? যে ভালবাসে না, তার পক্ষে আজ্ঞাগুলি পালন করার আর কোন যুক্তি থাকে না।
সুতরাং তোমরা যদি আমার আজ্ঞাগুলি পালন কর, তবে আমার ভালবাসায় থাকবেই, এ কথার মধ্য দিয়ে তিনি ভালবাসার উৎস নয়, বরং ভালবাসা কীভাবে বাস্তবায়িত করতে হয়, তাই দেখান। তিনি যেনই বলেন, তোমরা আমার আজ্ঞাগুলি পালন না করলে, মনে করবে না তোমরা আমার ভালবাসায় আছ: কেননা সেগুলি পালন করলে, তবেই আমার ভালবাসায় থাকবে। অর্থাৎ কিনা, তোমরা যদি আমার আজ্ঞাগুলি পালন কর, তাহলেই স্পষ্ট হবে, তোমরা আমার ভালবাসায় থাকছ। এ সমস্ত কথা বলা হয়েছে যেন কেউই নিজেকে না ভোলায় এমন কথা ব’লে যে, তাঁর আজ্ঞাগুলি পালন না ক’রেও সে তাঁকে ভালবাসে; কেননা আমরা তাঁকে ততখানিই ভালবাসি তাঁর আজ্ঞাগুলি যতখানি পালন করি; কিন্তু আমরা যতকম পালন করি, ততকম ভালবাসি।
অতএব আমরা প্রথমে তাঁর আজ্ঞাগুলি পালন করব তিনি যেন আমাদের ভালবাসেন তেমন নয়; বরং তিনি প্রথমে আমাদের ভাল না বাসলে আমরা তাঁর আজ্ঞাগুলি পালন করতে পারব না। এ অনুগ্রহ এমন, যা বিনম্রদের কাছে উজ্জ্বল, গর্বিতদের কাছে গুপ্ত।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৩৩
ধুয়ো:
প্রভু একথা বলছেন:
তোমরা যদি আমাকে ভালবাস, তাহলে আমার আজ্ঞাগুলো পালন করবে।
আমি পিতাকে অনুরোধ করব, এবং তিনি অপর একজন সহায়ক তোমাদের দেবেন,
যেন সেই সহায়ক চিরকাল ধরে তোমাদের সঙ্গে থাকেন। আল্লেলুইয়া।

দেখ, ভাইদের একত্রে বাস করা
কতই না ভাল, কতই না সুন্দর!
যেমন মাথায় সেই উৎকৃষ্ট তেল যা দাড়ি বেয়ে, আরোনের দাড়ি বেয়ে ঝরে পড়ে,
ঝরে পড়ে তাঁর পোশাকের গলবন্ধনীর উপর,

তেমনি সেই হার্মোনের শিশির,
যা ঝরে পড়ে সিয়োনের চূড়ায় চূড়ায়।
সেইখানে তো প্রভু জারি করেছেন আশীর্বাদ,
চিরকালীন জীবনদান।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, তুমি খ্রিষ্টের পুনরুত্থান দ্বারা
মানবজাতিকে অনন্ত জীবনের উদ্দেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে থাক।
অনুনয় করি: আমাদের মাঝে এই পাস্কাভোজের ফল বৃদ্ধিশীল কর,
আমাদের অন্তরে সেই পরিত্রাণদায়ী খাদ্যের শক্তি সঞ্চার কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


প্রভুর স্বর্গারোহণ
যিশু স্বর্গে আরোহণ করছেন,
আর সাদা কাপড় পরা দু'জন দূত
উপস্থিত সকলকে বলেন,
তিনি আবার আসবেন।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আমাদের সকলকে পুণ্য আনন্দে আনন্দিত কর,
ধন্যবাদগীতিতে মুখরিত করে তোল,
কারণ তোমার পুত্র যিশুখ্রিষ্টের স্বর্গারোহণে আমরা নিজেরাও উন্নীত হচ্ছি,
এবং মাথা খ্রিষ্ট যেখানে সগৌরবে গিয়েছেন,
তাঁর দেহ এ আমরাও আশায় সেখানে যেতে আহূত।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (১:১-১১)

থেওফিল, প্রথম পুস্তকে আমি সেই সকল বিষয়ে লিখেছিলাম, যা যিশু শুরু থেকে সেদিন পর্যন্তই সাধন করেছিলেন ও শিখিয়েছিলেন, যেদিন, পবিত্র আত্মার মধ্য দিয়ে যাঁদের তিনি বেছে নিয়েছিলেন, সেই প্রেরিতদূতদের নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁকে ঊর্ধ্বে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
নিজের যন্ত্রণাভোগের পরে তিনি অনেক প্রমাণের মধ্য দিয়ে তাঁদের কাছে নিজেকে জীবিত বলে দেখিয়েছিলেন: চল্লিশদিন ধরে তাঁদের দেখা দিয়েছিলেন ও ঈশ্বরের রাজ্য সম্বন্ধে নানা কথা বলেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ভোজে বসে তিনি আদেশ করেছিলেন, তাঁরা যেরুসালেম থেকে চলে না গিয়ে বরং যেন পিতার সেই প্রতিশ্রুতি-পূরণের অপেক্ষায় থাকেন, ‘যে প্রতিশ্রুতির কথা তোমরা আমার কাছ থেকে শুনেছ, তথা: যোহন জলে বাপ্তিস্ম দিলেন, কিন্তু অল্প দিনের মধ্যে পবিত্র আত্মায়ই তোমাদের বাপ্তিস্ম হবে।’
তাই তাঁরা একত্রে মিলিত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘প্রভু, আপনি কি এই সময়েই ইস্রায়েলের জন্য রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন?’ তিনি তাঁদের বললেন, ‘পিতা যে সকল কাল বা লগ্ন নিজেরই অধিকারের অধীনে রেখেছেন, তা তোমাদের জানবার নয়; কিন্তু তোমরা পরাক্রম লাভ করবে—সেই পবিত্র আত্মারই পরাক্রম, যিনি তোমাদের উপরে নেমে আসবেন; তখন যেরুসালেমে, সমস্ত যুদেয়া ও সামারিয়ায় এবং পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত তোমরা আমার সাক্ষী হবে।’
তিনি একথা বলার পর তাঁরা তাকিয়ে থাকতে থাকতেই তাঁকে ঊর্ধ্বে তোলা হল, এবং একটি মেঘ তাঁকে তাঁদের দৃষ্টির আড়ালে নিয়ে গেল।
তিনি চলে যাচ্ছেন আর তাঁরা আকাশের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন, এমন সময় হঠাৎ সাদা পোশাক-পরা দু’জন পুরুষ তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ালেন; তাঁরা বললেন, ‘হে গালিলেয়ার মানুষ, তোমরা আকাশের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছ কেন? এই যে যিশুকে তোমাদের কাছ থেকে স্বর্গে তুলে নেওয়া হল, তাঁকে যেভাবে স্বর্গে যেতে দেখলে, তিনি সেভাবে আবার ফিরে আসবেন।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৪৭
ধুয়ো:
পরমেশ্বর আরোহণ করছেন জয়ধ্বনির মধ্যে,
প্রভু তূর্যনিনাদের মধ্যে।

সর্বজাতি, করতালি দাও,
আনন্দের কণ্ঠে পরমেশ্বরের উদ্দেশে জাগিয়ে তোল জয়ধ্বনি,
কারণ পরাৎপর প্রভু ভীতিপ্রদ,
সারা পৃথিবী জুড়ে তিনি মহান রাজা।   [ধুয়ো]

পরমেশ্বর আরোহণ করছেন জয়ধ্বনির মধ্যে,
প্রভু তূর্যনিনাদের মধ্যে।
স্তবগান কর, পরমেশ্বরের স্তবগান কর,
স্তবগান কর, আমাদের রাজার উদ্দেশে স্তবগান কর।   [ধুয়ো]

পরমেশ্বরই সারা পৃথিবীর রাজা,
তাই নৈপুণ্যের সঙ্গে স্তবগান কর।
পরমেশ্বর জাতি-বিজাতির উপর রাজত্ব করেন,
পরমেশ্বর তাঁর পবিত্র সিংহাসনে সমাসীন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১:১৭-২৩)

প্রিয়জনেরা, আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের ঈশ্বর, সেই গৌরবের পিতা, তাঁকে গভীরতর ভাবে জানবার জন্য তোমাদের প্রজ্ঞা ও ঐশরহস্য-উপলব্ধির আত্মা দান করুন। তিনি তোমাদের অন্তর্দৃষ্টি আলোকিত করে তুলুন যেন তোমরা উপলব্ধি করতে পার তাঁর আহ্বানের প্রত্যাশা কী, পবিত্রজনদের মাঝে তাঁর উত্তরাধিকারের গৌরব-ঐশ্বর্য কী, এবং বিশ্বাসী এই আমাদের প্রতি তাঁর পরাক্রমের সীমাহীন মহত্ত্ব কী—এই সমস্ত কিছু তাঁর সেই শক্তির কর্মক্ষমতা অনুসারে যা দ্বারা তিনি খ্রিষ্টকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত ক’রে স্বর্গলোকে আপন ডান পাশে আসন দিয়েছেন।
তিনি তাঁকে সমস্ত আধিপত্য, কর্তৃত্ব, পরাক্রম ও প্রভুত্বের ঊর্ধ্বে—শুধু বর্তমানকালে নয়, ভাবীকালেও উল্লেখযোগ্য সমস্ত নামেরই ঊর্ধ্বে অধিষ্ঠিত করেছেন।
তিনি সমস্ত কিছু তাঁর পদতলে রেখেছেন এবং তাঁকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে, সেই মণ্ডলীর মাথায়, প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যে মণ্ডলী তাঁর দেহ, তাঁরই পরিপূর্ণতা যিনি সবকিছুতে সম্পূর্ণরূপে পরিপূর্ণ।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তোমরা যাও, সকল জাতিকে আমার শিষ্য কর
—একথা বলছেন প্রভু;
দেখ, আমি প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি
—যুগান্ত পর্যন্ত।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৬:১৫-২০)

[সেসময়ে সেই এগারোজনকে পুনরুত্থিত অবস্থায় দেখা দিয়ে] যিশু বললেন, ‘তোমরা বিশ্বজগতে বেরিয়ে পড়, সমস্ত সৃষ্টির কাছে সুসমাচার প্রচার কর। যে বিশ্বাস করবে ও বাপ্তিস্ম গ্রহণ করবে, সে পরিত্রাণ পাবে; যে বিশ্বাস করবে না, তাকে বিচারাধীন করা হবে: যারা বিশ্বাস করবে, তাদের পাশেপাশে এই চিহ্নগুলো থাকবে: তারা আমার নামে অপদূত তাড়াবে, নতুন নতুন ভাষায় কথা বলবে, হাতে করে সাপ তুলবে, ও মারাত্মক বিষ খেলেও তাদের কোন ক্ষতি হবে না; তারা পীড়িতদের উপর হাত রাখবে আর তারা সুস্থ হবে।’
আর তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর প্রভু যিশুকে ঊর্ধ্বে, স্বর্গে তুলে নেওয়া হল, এবং তিনি ঈশ্বরের ডান পাশে আসন নিলেন।
আর তাঁরা বেরিয়ে পড়লেন ও সর্বত্র প্রচার করলেন; আর একইসময় প্রভু তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন ও বাণীর সহগামী চিহ্নগুলো দ্বারা সেই বাণী সুপ্রতিষ্ঠিত করতেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
নিসার বিশপ সাধু গ্রেগরির উপদেশ

সুসমাচার মর্তলোকে যিশুর জীবন ও স্বর্গলোকে তাঁর ফিরে যাওয়ার কথা বর্ণনা করে। কিন্তু সেই উত্তম নবী দাউদ, দেহের ভার থেকে কেমন যেন মুক্ত হয়ে স্বর্গীয় শক্তিবৃন্দের মাঝে প্রবেশ ক’রে, স্বর্গে প্রভুর প্রত্যাগমনে সেই শক্তিবৃন্দ নিজেদের মধ্যে যা যা বলছিলেন, সেই সমস্ত কথা আমাদের শুনিয়ে দিলেন। যে স্বর্গদূতেরা পৃথিবীর ব্যাপারে নিযুক্ত ও যাঁদের কাছে মানবজীবনকে স্বর্গে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁরা এ আদেশ দিলেন, হে নেতৃবৃন্দ, তোরণ উত্তোলন কর; উত্তোলিত হও সনাতন সিংহদ্বার, প্রবেশ করুন গৌরবের রাজা (সাম ২৪:৯ সত্তরী)। কিন্তু যিনি নিজের মধ্যে সমস্ত কিছু সংস্থিত করে রাখেন, যেইখানে থাকুন না কেন যেহেতু তিনি আপন গ্রহীতাদের ধারণ-ক্ষমতা অনুসারে নিজেকে নমিত করেন, আর শুধু মানুষদের মধ্যে নয়, স্বর্গদূতদের মধ্যে থাকতেও তিনি তাঁদের স্বরূপের পর্যায়ে নিজেকে নমিত করেন, সেহেতু দ্বার-রক্ষকেরা তাঁকে না চিনে জিজ্ঞাসা করেন, কে এ গৌরবের রাজা? (সাম ২৪:৮)।
তখন শক্তিবৃন্দ উত্তর দিয়ে প্রমাণ দেন, তিনি হলেন সেই শক্তিমান, যুদ্ধে সেই পরাক্রমী, তিনিই মানবকুলের গ্রেপ্তারকারী সেই মৃত্যুর অধিপতির সঙ্গে লড়াই করে তাকে পরাস্ত করেছেন। এ চরম শত্রুকে ধ্বংস করার পর তিনি মুক্তি ও শান্তিতেই মানবজাতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করলেন। সেই কণ্ঠ একই আমন্ত্রণ ধ্বনিত করে: মৃত্যু-রহস্য পূর্ণ হয়েই গেছে, শত্রুরা পরাজিত হয়েই গেছে, তাদের উপর এবার ক্রুশের জয়ধ্বজা উত্তোলিত। তিনি স্বর্গারোহণ করে বন্দিদশাকে বন্দি করে সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন (এফে ৪:৮); মূল্যবান উপঢৌকন রূপে মানুষকে জীবন ও রাজ্য দান করলেন।
তবু স্বর্গদ্বার তাঁর সামনে এখনও রুদ্ধ। আমাদের রক্ষীরা তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন, এবং স্বর্গদ্বার খুলে দিতে আদেশ দেন, যাতে ভিতরে প্রবেশ করে তিনি তাঁর উচিত গৌরবে আরোপিত হতে পারেন। কিন্তু, যেহেতু তিনি আমাদের হীনাবস্থায় পরিবৃত, ও তাঁর পোশাক মানবযন্ত্রণার পেষাইকুণ্ডে রক্তলাল হয়েছে, সেজন্য তাঁরা তাঁকে চিনতে পারেন না। তবে তাঁর সঙ্গীদের কাছে সেই একই প্রশ্ন আসে, কে এ গৌরবের রাজা? (সাম ২৪:১০)। এবার কিন্তু সেই শক্তিমান, যুদ্ধে সেই পরাক্রমী তেমন উত্তর আর দেওয়া হয় না, বরং সেনাবাহিনীর প্রভু, যিনি বিশ্বরাজ্যের অধিকারী, যিনি নিজের মধ্যে সমস্ত কিছু পুনর্মিলিত করেন, যিনি সবকিছুর উপরে প্রধান, যিনি সমগ্র সৃষ্টিকে তার আদি অবস্থায় ফিরিয়ে নেন, তিনিই এ গৌরবের রাজা!
তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ, দাউদ আপন অনুগ্রহ মণ্ডলীর আনন্দের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে কেমন করে আমাদের অনুষ্ঠান মধুময় করে তুলেছেন?
সুতরাং এসো, আমরাও ঈশ্বরভক্তিতে, নম্র জীবনাচরণে, বিদ্বেষী ও নির্যাতনকারীদের প্রতি সহিষ্ণুতায় যথাসাধ্য নবীর অনুকরণ করি, যেন তাঁর শিক্ষা আমাদের চালিত করে; হ্যাঁ, সেই শিক্ষা যেন আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টেই আমাদের পুণ্যজীবন যাপন করতে শেখায়, যাঁর গৌরব হোক চিরদিন চিরকাল। আমেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১২২
ধুয়ো:
দেখ, আমি প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি,
—যুগান্ত পর্যন্ত। আল্লেলুইয়া।

আমি আনন্দ পেলাম ওরা যখন আমাকে বলল,
‘এসো, চলি প্রভুর গৃহে!’
এখন এসে থেমেছে আমাদের চরণ
তোমার তোরণদ্বারে, হে যেরুসালেম।

যেরুসালেম দৃঢ়সংবদ্ধ নগরীর মতই গড়া,
সেইখানে উঠে আসে গোষ্ঠীসকল, প্রভুরই গোষ্ঠীসকল—
ইস্রায়েলের বিধি তো তারা করবে প্রভুর নামের স্তুতি, সেইখানে যে অধিষ্ঠিত আছে বিচারাসনগুলি,
দাউদকুলের সিংহাসনগুলি।

যেরুসালেমের জন্য তোমরা শান্তি যাচনা কর!
যারা তোমাকে ভালবাসে, তাদের সমৃদ্ধি হোক;
শান্তি হোক তোমার প্রাচীর-মাঝে,
তোমার দুর্গশ্রেণির মাঝে সমৃদ্ধি হোক!

আমার ভাই ও বন্ধুদের খাতিরে
আমি বলব, ‘তোমাতেই বিরাজ করুক শান্তি!’
আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর গৃহের খাতিরে
আমি তোমার মঙ্গল অন্বেষণ করব।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, জগতে প্রবাসী তোমার মণ্ডলীকে
তুমি স্বর্গীয় রহস্যগুলি উদ্‌যাপন করার অনুগ্রহ দান করে থাক।
আশীর্বাদ কর: যেখানে আমাদের মানবস্বরূপ তোমার সঙ্গে মিলিত,
খ্রিষ্টীয় আশা সেইদিকে আমাদের আকর্ষিত করুক।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৭ম পাস্কা-রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, প্রসন্ন হয়ে আমাদের মিনতি কান পেতে শোন:
আমরা যারা মানবত্রাতা খ্রিষ্টকে তোমার ঐশগৌরবে ভূষিত বলে বিশ্বাস করি,
যেন উপলব্ধি করতে পারি যে,
তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতিমত যুগান্ত পর্যন্তই আমাদের মাঝে নিত্য উপস্থিত।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (১:১৫-১৭,২০ক,২০গ-২৬)

একদিন, যখন সমবেত লোকদের সংখ্যা প্রায় একশ’ কুড়িজন, পিতর ভাইদের মাঝখানে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘ভাইয়েরা, যিশুকে যারা গ্রেপ্তার করেছিল, তাদের যে পথপ্রদর্শক হয়েছিল, সেই যুদা সম্বন্ধে পবিত্র আত্মা দাউদের মুখ দিয়ে আগে থেকে যা বলে দিয়েছিলেন, সেই শাস্ত্রবচন পূর্ণ হওয়া আবশ্যক ছিল। সে তো আমাদেরই একজন ছিল, এবং তাকেও এই সেবাদায়িত্বের সহভাগী হতে দেওয়া হয়েছিল। বাস্তবিকই সামসঙ্গীত-পুস্তকে লেখা আছে, “অন্য একজন তার কর্মভার গ্রহণ করুক।” সুতরাং, যোহন যে সময় বাপ্তিস্ম দিতেন, তখন থেকে আরম্ভ ক’রে যেদিন প্রভু যিশুকে আমাদের কাছ থেকে ঊর্ধ্বে তুলে নেওয়া হল সেদিন পর্যন্ত, যতদিন তিনি আমাদের মাঝে বসবাস করলেন, ততদিন যারা আমাদের সঙ্গে ছিল, তাদেরই একজনকে আমাদের সঙ্গে তাঁর পুনরুত্থানের সাক্ষী হতে হবে।’
তখন এই দু’জনের নাম প্রস্তাব করা হল: ইউস্তুস নামে পরিচিত যোসেফ, যাঁকে বার্সাব্বাস বলে ডাকা হত, এবং মাথিয়াস। তখন তাঁরা এই বলে প্রার্থনা করলেন, ‘প্রভু, তুমি সকলের অন্তরই জান; নিজের স্থানে যাবার জন্য যুদা যে সেবাদায়িত্ব ও প্রৈরিতিক ভূমিকা ত্যাগ করেছে, তার স্থান গ্রহণ করার জন্য তুমি এই দু’জনের মধ্যে কাকে বেছে নিয়েছ, তা আমাদের দেখাও।’ পরে তাঁরা এই দু’জনের নামে গুলিবাঁট করলেন; মাথিয়াসের নামে গুলি পড়ল বিধায় তিনিই এগারোজন প্রেরিতদূতের সঙ্গে যুক্ত হলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১০৩
ধুয়ো:
প্রভু স্বর্গে স্থাপন করেছেন
তাঁর রাজাসন।

প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
আমার অন্তরে যা কিছু আছে, ধন্য কর তাঁর পবিত্র নাম।
প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
ভুলে যেয়ো না তাঁর সমস্ত উপকার।   [ধুয়ো]

প্রভু স্বর্গে স্থাপন করেছেন তাঁর রাজাসন,
তাঁর রাজ-শাসন সবকিছুই ঘিরে;
মহাশক্তিধর যারা, তাঁর বাণীর স্বর শোনামাত্র তাঁর আদেশ মেনে চল যারা,
তাঁর সেই সকল দূত, প্রভুকে বল ধন্য।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যোহনের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৪:১১-১৬)

প্রিয়জনেরা, ঈশ্বর যখন এমনইভাবে আমাদের ভালবেসেছেন,
তখন আমাদেরও পরস্পরকে ভালবাসা উচিত।
ঈশ্বরকে কেউ কখনও দেখেনি;
আমরা যদি পরস্পরকে ভালবাসি,
তাহলে ঈশ্বর আমাদের অন্তরে রয়েছেন
এবং তাঁর ভালবাসা আমাদের অন্তরে সিদ্ধি লাভ করে।
এতেই আমরা জানি যে,
আমরা তাঁর মধ্যে রয়েছি আর তিনিও আমাদের অন্তরে রয়েছেন,
কারণ তিনি তাঁর আত্মাকে আমাদের দান করেছেন।
আর আমরা দেখেছি আর সাক্ষ্য দিচ্ছি যে,
পিতা পুত্রকে জগতের ত্রাণকর্তারূপে প্রেরণ করেছিলেন।
যে কেউ স্বীকার করে, ‘যিশু ঈশ্বরের পুত্র’,
ঈশ্বর তার অন্তরে বসবাস করেন, সেও ঈশ্বরে বসবাস করে।
আর আমরাই সেই ভালবাসা জেনেছি ও বিশ্বাস করেছি,
—আমাদের প্রতি ঈশ্বরের যে ভালবাসা।
ঈশ্বর ভালবাসা; ভালবাসায় যার আবাস,
সে ঈশ্বরে বসবাস করে
ও ঈশ্বর তার অন্তরে বসবাস করেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমি তোমাদের অনাথ অবস্থায় রেখে যাব না,
একথা বলছেন প্রভু;
তোমাদের কাছে আবার আসব,
আর তোমাদের হৃদয় আনন্দিত হবে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৭:১১খ-১৯)

[সেসময়ে যিশু স্বর্গের দিকে চোখ তুলে এ বলে প্রার্থনা করলেন:] ‘পবিত্র পিতা, তোমার যে নাম তুমি আমাকে দিয়েছ, তোমার সেই নামে তাদের রক্ষা কর: আমরা যেমন এক, তারাও যেন তেমনি এক হয়। যতদিন আমি তাদের সঙ্গে ছিলাম, তুমি যে নাম আমাকে দিয়েছ, তোমার সেই নামে আমি তাদের রক্ষা করে এসেছি, তাদের নিরাপদে রেখেছি, এবং সেই বিনাশ-পুত্র ছাড়া তাদের মধ্যে কেউই বিনষ্ট হয়নি, যেন শাস্ত্রের বচন পূর্ণ হয়।
কিন্তু আমি এখন তোমার কাছে আসছি; এবং জগতে থাকতেই এই সমস্ত কথা বলছি যেন তারা আমার আনন্দ পরিপূর্ণভাবে নিজেদের অন্তরে পেতে পারে। আমি তাদের তোমার বাণী দিয়েছি, আর জগৎ তাদের ঘৃণা করল, কেননা তারা জগতের নয়, আমিও যেমন জগতের নই।
আমি তো এমন প্রার্থনা করছি না, তুমি যেন জগতের মধ্য থেকে তাদের তুলে নাও, কিন্তু তুমি যেন সেই ধূর্তজনের হাত থেকে তাদের রক্ষা কর। তারা তো জগতের নয়, যেমন আমিও জগতের নই। সত্যে তাদের পবিত্রীকৃত কর, তোমার বাণীই সত্যস্বরূপ।
তুমি যেমন আমাকে জগতের মধ্যে প্রেরণ করেছিলে, আমিও তেমনি তাদের জগতের মধ্যে প্রেরণ করলাম, আর তাদেরই খাতিরে আমি নিজেকে পবিত্রীকৃত করছি, তারাও যেন সত্যে পবিত্রীকৃত হতে পারে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে আলেক্সান্দ্রিয়ার বিশপ সাধু সিরিলের ব্যাখ্যা

পবিত্র পিতা, তোমার যে নাম তুমি আমাকে দিয়েছ, তোমার সেই নামে তাদের রক্ষা কর: আমরা যেমন এক, তারাও যেন তেমনি এক হয় (যোহন ১৭:১১)। খ্রিষ্ট ইচ্ছা করলেন, তাঁর শিষ্যেরা একমন এক-ইচ্ছা হয়েই, শান্তি ও পারস্পরিক ভালবাসার বিধানে একাত্মা ও একপ্রাণ হয়ে সংযুক্ত হয়েই রক্ষিত হবে। তিনি বাসনা করলেন, তারা ভালবাসার অবিচ্ছেদ্য বন্ধনেই মিলিত হয়ে এমন নিখুঁত ঐক্যের পথে অগ্রসর হবে, যাতে তাদের স্বেচ্ছাকৃত ঐক্য সেই ঐক্যের দৃষ্টান্ত হতে পারে যা স্বরূপগতভাবে পিতা ও পুত্রের মধ্যে রয়েছে।
এর মানে হল, তাদের ঐক্য কখনও ভাঙবার নয়, চিরস্থায়ীই হবার কথা। অভিলাষের আসক্তি হোক, বা সাংসারিক কিছু হোক, কোন কিছুই যেন তাদের মনের ঐক্য ভোলাতে না পারে। বরং তারা আপ্রাণ চেষ্টা করবে, যেন উপাসনা ও পবিত্রতার একতায় ভালবাসার শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখে।
প্রেরিতদের কার্যবিবরণীতে আমরা পড়ি যে সমগ্র বিশ্বাসীমণ্ডলী আত্মা ও প্রাণের এমন একতায় মিলিত ছিল যা পবিত্র আত্মা থেকেই আগত। পলও একই কথা বলেন: একদেহ এক-আত্মা রয়েছে। আমরা অনেকে হয়েও খ্রিষ্টে একদেহ, কারণ আমরা সকলেই সেই এক রুটির সহভাগী; আর আমরা সকলে সেই একমাত্র আত্মা দ্বারাই তৈলাভিষিক্ত হয়েছি যিনি খ্রিষ্টের স্বয়ং আত্মা। সুতরাং, যেহেতু শিষ্যদের একদেহ হওয়ার কথা ও একমাত্র ও একই আত্মার অংশীদার হওয়ার কথা, সেজন্য খ্রিষ্ট ইচ্ছা করলেন, তারা অতুলনীয় আত্মিক ঐক্যে ও অবিচ্ছিন্ন সুসম্পর্কে রক্ষিত হবে।
এপ্রসঙ্গে আমরা ধারণা করতে পারি যে, শিষ্যদের ঐক্য পিতা ও পুত্রেরই সদৃশ ঐক্য, যাঁরা শুধু সত্তায় নয়, ইচ্ছায়ও এক, কেননা ঈশ্বরের পবিত্র স্বরূপে সবদিক দিয়ে ইচ্ছাও এক, সঙ্কল্পও এক। তেমন ধারণা সম্ভবপর ও নির্ভুল, কেননা আমরা পিতা ও পিতা থেকে উদ্গত ও তাঁর মধ্যে বিদ্যমান বাণীর মত যদিও নিজেদের মধ্যে এক-সত্তা নই, তবু প্রকৃত খ্রিষ্টভক্তরা অন্তরের গভীরতম আকাঙ্ক্ষায় এক বলে আত্মপ্রকাশ করে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৩৩
ধুয়ো:
পবিত্র পিতা, প্রার্থনা করি:
তারা যেন এক হয় আমরা যেমন এক। আল্লেলুইয়া।

দেখ, ভাইদের একত্রে বাস করা
কতই না ভাল, কতই না সুন্দর!
যেমন মাথায় সেই উৎকৃষ্ট তেল যা দাড়ি বেয়ে, আরোনের দাড়ি বেয়ে ঝরে পড়ে,
ঝরে পড়ে তাঁর পোশাকের গলবন্ধনীর উপর,

তেমনি সেই হার্মোনের শিশির,
যা ঝরে পড়ে সিয়োনের চূড়ায় চূড়ায়।
সেইখানে তো প্রভু জারি করেছেন আশীর্বাদ,
চিরকালীন জীবনদান।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে আমাদের ত্রাণেশ্বর, আমাদের এ মিনতি কান পেতে শোন:
পরমপবিত্র এ মহারহস্যে যোগদানের ফলে
আমরা যেন এ আস্থা রাখতে পারি যে,
গোটা দেহ-মণ্ডলীও সেই একই গৌরবে ভূষিত হবে,
যে গৌরব তুমি মাথা-খ্রিষ্টকে আরোপ করেছ।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


পঞ্চাশত্তমী রবিবার
আগুনের মতই যেন কতগুলো জিহ্বা
ভাগ ভাগ করে প‘ড়ে
তাঁদের প্রত্যেকজনের উপরে বসল,
এবং তাঁরা সকলে
পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হলেন
(প্রেরিত ২:৩-৪)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, আজকের পর্বদিবস-সাক্রামেন্তের দ্বারা তুমি তো
সকল জাতি ও দেশের মানুষের মাঝে বিস্তৃত তোমার মণ্ডলীকে পবিত্রিত কর।
অনুনয় করি: বিশ্বমানবজাতির উপরে পবিত্র আত্মার যত দান বর্ষণ কর:
সুসমাচার প্রচারের প্রথম লগ্নে ঐশঅনুগ্রহ যে মহা মহা কাজ সাধন করেছিল,
আজও তুমি তোমার ভক্তদের অন্তরকে সেই অনুগ্রহে পূর্ণ কর।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (২:১-১১)

যখন পঞ্চাশত্তমী পর্বের দিন এল, তখন তাঁরা সকলে এক স্থানে একত্রে মিলিত হয়েছিলেন; এমন সময়ে হঠাৎ আকাশ থেকে প্রচণ্ড বাতাস বয়ে যাওয়ার মত একটা শব্দ এল, এবং তাঁরা যে বাড়িতে বসে ছিলেন, সেই বাড়ি সেই শব্দে ভরে গেল; আর তাঁরা দেখতে পেলেন, আগুনের মতই যেন কতগুলো জিহ্বা ভাগ ভাগ করে পড়ে তাঁদের প্রত্যেকজনের উপরে বসল, এবং তাঁরা সকলে পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হলেন, ও আত্মা তাঁদের যেভাবে বাক্‌শক্তি দিলেন, তাঁরা সেই অনুসারে অন্য অন্য ভাষায় কথা বলতে লাগলেন।
সেসময়ে, আকাশের নিচের সমস্ত দেশের বহু ভক্ত ইহুদী যেরুসালেমে ছিল। সেই শব্দ ধ্বনিত হলে ভিড় জমে গেল: তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল, যেহেতু প্রত্যেকজন নিজ নিজ ভাষায় তাঁদের কথা বলতে শুনতে পাচ্ছিল।
খুবই স্তম্ভিত ও আশ্চর্য হয়ে তারা তখন বলল, ‘দেখ, এরা যারা কথা বলছে, এরা সকলে কি গালিলেয়ার মানুষ নয়? তবে আমরা কেমন করে প্রত্যেকে নিজ নিজ মাতৃভাষায় এদের কথা বলতে শুনছি? এই আমরা, যারা পার্থিয়া, মেদিয়া এবং এলামের মানুষ আছি, আবার মেসপতামিয়া, যুদেয়া ও কাপ্পাদকিয়া, পন্তস ও এশিয়া, ফ্রিজিয়া ও পাম্ফিলিয়া, মিশর ও লিবিয়ার কিরেনে অঞ্চলের মানুষ এবং রোম-অধিবাসী—ইহুদী ও ইহুদীধর্মাবলম্বী, উভয়েই—এবং ক্রীট ও আরব দেশের মানুষ, এই আমরা শুনতে পাচ্ছি, ওরা আমাদের নিজ নিজ ভাষায় ঈশ্বরের মহাকীর্তির কথা বলছে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১০৪
ধুয়ো:
তোমার আত্মাকে পাঠাও, প্রভু;
ধরণীর মুখ নবীন করে তোল।

প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য!
প্রভু, পরমেশ্বর আমার, তুমি সুমহান!
হে প্রভু, কী অগণন তোমার কর্মকীর্তি; প্রজ্ঞার সঙ্গেই নির্মাণ করেছ এ সবকিছু,
তোমার কর্মরচনায় পৃথিবী পরিপূর্ণ।   [ধুয়ো]

তুমি তাদের প্রাণবায়ু ফিরিয়ে নাও,
তারা মরে, ধুলায় ফিরে যায়।
তুমি নিজ আত্মাকে পাঠিয়ে দাও, তারা সৃষ্ট হয়,
এভাবেই তুমি ধরণীর মুখ নবীন করে তোল।   [ধুয়ো]

প্রভুর গৌরব হোক চিরকাল;
আপন কর্মকীর্তি নিয়ে প্রভু আনন্দিত হোন।
তাঁর কাছে মনঃপূত হোক আমার এ জপন,
প্রভুতেই তো আনন্দ আমার।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১২:৩খ-৭,১২-১৩)

প্রিয়জনেরা, পবিত্র আত্মার প্রেরণায় ছাড়া কেউ বলতে পারে না ‘যিশু প্রভু।’
বহুবিধ অনুগ্রহদান আছে, আত্মা কিন্তু এক; বহুবিধ সেবাকর্ম আছে, প্রভু কিন্তু এক; বহুবিধ কর্মক্রিয়া আছে, কিন্তু সকলের মধ্যে যিনি সেই সবকিছু সাধন করে থাকেন, সেই ঈশ্বর এক। কিন্তু প্রত্যেককে দেওয়া আত্মার সেই বিশেষ অভিব্যক্তি সার্বিক উপকারিতার উদ্দেশ্যেই দেওয়া। কেননা দেহ যেমন এক, অথচ তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনেক এবং দেহের অঙ্গগুলি অনেক হয়েও সব ক’টি মিলে একদেহ হয়, খ্রিষ্টও সেইরূপ।
প্রকৃতপক্ষে আমাদের সকলেরই এক আত্মায় বাপ্তিস্ম হয়েছে একদেহ হবার জন্য—তা আমরা ইহুদী বা গ্রীক, ক্রীতদাস বা স্বাধীন মানুষ যাই হই না কেন; এবং পান করার মত আমাদের সকলকে এক আত্মাকে দেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। গীতিগাথা
এসো, পবিত্রাত্মা, এসো!
স্বর্গ থেকে মোদের কাছে
তব আলোর পুণ্য রশ্মি
কর বিকিরণ।

এসো, দীনদুঃখীর পিতা,
এসো, মঙ্গলদানের দাতা,
এসো, মনের উজ্জ্বল জ্যোতি,
কর শান্তি দান।

সান্ত্বনাদানকারী তুমি,
অন্তরের মধুর অতিথি,
স্বস্তি আরাম কর সঞ্চার
মোদের হৃদিতে।

শ্রমে তুমিই বিশ্রামদাতা,
কষ্টে তুমিই মনের আরাম,
মুছে ফেল দুঃখের দিনে
মোদের চোখের জল।

ওগো দিব্য স্বচ্ছ জ্যোতি,
ভক্তের হৃদি কর দখল,
কর পূর্ণ তব আলোয়
মোদের অন্তর প্রাণ।

তব সর্বশক্তি বিনা
মানুষ দুর্বল, মানুষ শূন্য!
পাপের বোঝা ভারী অসহ্য,
কৃপা কর হে।

মন্দ যত কর ধৌত,
শুষ্ক যত কর সিঞ্চন,
ক্ষত যত কর সুস্থ,
প্রাণের চিকিৎসক।

উগ্র যত কর নম্র,
শীতল যত কর উষ্ণ,
বক্র যত কর সরল,
কর শান্তিদান।

তোমার কাছে ভক্তের ভিক্ষা:
দান কর গো পুণ্য মৃত্যু,
দান কর স্বর্গীয় পুরস্কার,
পরমানন্দ!

৮। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
এসো, পবিত্র আত্মা, তোমার ভক্তদের হৃদয় তোমার প্রেরণায় পূর্ণ কর,
জ্বালাও তাদের অন্তরে তোমার দিব্য প্রেমের আগুন।
আল্লেলুইয়া।

৯। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২০:১৯-২৩)

সেই দিন, সপ্তাহের প্রথম দিন, সন্ধ্যাবেলায়, শিষ্যেরা যেখানে ছিলেন, ইহুদীদের ভয়ে সেখানকার সমস্ত দরজা বন্ধ থাকতেই যিশু এলেন ও তাঁদের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালেন। তিনি তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক!’ এবং এই কথা বলে তিনি নিজের দু’হাত আর নিজের পাশটি তাঁদের দেখালেন। প্রভুকে দেখে শিষ্যেরা আনন্দিত হলেন।
যিশু তাঁদের আবার বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক! পিতা যেমন আমাকে প্রেরণ করেছেন, আমিও তেমনি তোমাদের পাঠাচ্ছি।’ এবং একথা বলার পর তিনি তাঁদের উপরে ফুঁ দিলেন, ও তাঁদের বললেন, ‘পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ কর। তোমরা যদি কারও পাপ ক্ষমা কর, তা ক্ষমা করা হবে; যদি কারও পাপ ধরে রাখ, তা ধরে রাখা থাকবে।’
প্রভুর বাণী।

১০। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

ভ্রাতৃগণ, আমাদের জন্য সেই দিনের উদয় হল, যেদিনে পবিত্র মণ্ডলী বিশ্বাসীদের চোখে উদ্ভাসিত হয়, তাদের হৃদয়ে প্রজ্বলিত হয়। আমরা ঠিক সেই দিন উদ্‌যাপন করছি যেদিন প্রভু যিশুখ্রিষ্ট পুনরুত্থানের পর স্বর্গারোহণে গৌরবান্বিত হয়ে পবিত্র আত্মাকে প্রেরণ করলেন। বস্তুতপক্ষে সুসমাচারে তাঁর এই বাণী লেখা আছে: কেউ যদি তৃষ্ণার্ত হয়, সে আমার কাছে এসে পান করুক; জীবনময় জলের নদনদী তার অন্তর থেকে প্রবাহিত হবে। এপ্রসঙ্গে রচয়িতা ব্যাখ্যা দান করে বলেন, তিনি আত্মা সম্বন্ধেই একথা বলেছিলেন, সেই যে আত্মাকে তাঁর প্রতি বিশ্বাসী মানুষদের পাবার কথা; কারণ আত্মা তখনও ছিলেন না, যেহেতু যিশু তখনও গৌরবান্বিত হননি (যোহন ৭:৩৭-৩৯)। সুতরাং এ বাকি ছিল যে, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানে ও স্বর্গারোহণে যিশু গৌরবান্বিত হলে পর যে আত্মাকে প্রেরণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি সেই আত্মাকে দান করবেন: আর তাই ঘটেছে।
আপন শিষ্যদের সঙ্গে চল্লিশ দিন অতিবাহিত করার পর পুনরুত্থিত প্রভু স্বর্গে আরোহণ করলেন, ও পঞ্চাশত্তমী দিনে—যে দিনটি আমরা আজ উদ্‌যাপন করছি—তিনি আত্মাকে প্রেরণ করলেন, যেইভাবে লেখা আছে: হঠাৎ আকাশ থেকে প্রচণ্ড বাতাস বয়ে যাওয়ার মত একটা শব্দ এল। তাঁরা দেখতে পেলেন, আগুনের মতই যেন কতগুলো জিহ্বা ভাগ ভাগ করে পড়ে তাঁদের প্রত্যেকজনের উপরে বসল; এবং আত্মা তাঁদের যেভাবে বাক্‌শক্তি দিলেন, তাঁরা সেই অনুসারে অন্য অন্য ভাষায় কথা বলতে লাগলেন (প্রেরিত ২:২-৪)।
সেই বাতাস তাঁদের হৃদয়কে দৈহিক তুষ থেকে পরিশুদ্ধ করছিল; সেই আগুন প্রাচীন দেহলালসার খড় পুড়িয়ে দিচ্ছিল। পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হয়ে তাঁরা যে যে ভাষায় কথা বলছিলেন, এতে সেই ভাবী মণ্ডলীর একটা দৃষ্টান্ত ছিল, যে মণ্ডলীতে সকল জাতির ভাষা উপস্থিত। কেননা জলপ্লাবনের পরে ধর্মহীন মানুষের গর্ব প্রভুর বিরুদ্ধে উচ্চ একটা মিনার নির্মাণ করেছিল আর মানবজাতি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, যার ফলে প্রতিটি জাতি অন্য জাতির কাছে নিজ কথা না বোঝাবার জন্য নিজ নিজ ভাষায় কথা বলত।
এখন কিন্তু ভক্তদের নম্র ভক্তি এ সমস্ত ভাষার বিভেদ মণ্ডলীর ঐক্যে সংগ্রহ করেছে, যার ফলে বিদ্বেষ যা বিক্ষিপ্ত করেছিল, ভালবাসা দ্বারা তা পুনর্মিলিত হয়েছে: এভাবে একদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মত মানবজাতির বিক্ষিপ্ত অঙ্গগুলি খ্রিষ্টের পুণ্য দেহের ঐক্যে ভালবাসার আগুনে গলে গিয়ে একমাথা সেই খ্রিষ্টের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত হয়েছে। এজন্যই যারা শান্তির অনুগ্রহ ঘৃণা করে ও একতা ও সুসম্পর্ক রক্ষা করে না, তারা পবিত্র আত্মার দান থেকে সম্পূর্ণ রূপে বঞ্চিত। যদিও তারা আজ এখানে আনুষ্ঠানিক ভাবে একত্রিত, যদিও তারা পবিত্র আত্মার প্রতিশ্রুতি ও আগমন বিষয়ক এ পাঠগুলি শোনে, তবু তারা তা শুনে পুরস্কৃত নয়, দণ্ডিতই হবে। হৃদয় যা প্রত্যাখ্যান করে, কান দিয়ে তা গ্রহণ করলে কী লাভ? যাঁর আলো তারা ঘৃণা করে, তাঁর আগমন উদ্‌যাপনে তাদের কী উপকার? তোমরা কিন্তু, হে আমার ভ্রাতৃগণ, হে খ্রিষ্টের দেহের অঙ্গগুলি, একতার পল্লব ও শান্তির সন্তান যে তোমরা, তোমরা সানন্দে ও নির্ভয়ে এদিন উদ্‌যাপন কর, কেননা পবিত্র আত্মার আগমনের দিনগুলিতে যা পূর্বঘোষিত হয়েছে তা তোমাদের মধ্যে পূর্ণতা লাভ করে। যেমন সেসময় পবিত্র আত্মাকে যে গ্রহণ করত একজনমাত্র হয়েও সে সব দেশের ভাষায় কথা বলত, তেমনি এখন সর্বজাতির কাছে সর্বদেশের ভাষায় কথা বলছে এ ঐক্যই যার মধ্যে তোমরাই প্রতিষ্ঠিত যারা পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ করেছ; —অবশ্যই, তোমরা যদি কোন হিংসা-সূত্রে সেই খ্রিষ্টমণ্ডলী থেকে নিজেদের ছিন্ন না কর, যে মণ্ডলী সর্বদেশের ভাষায় কথা বলে।

১১। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১২। অর্থদান

১৩। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৪। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৫। ধ্যান-গীতি: সাম ১৩১
ধুয়ো:
তাঁরা সকলে পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হলেন,
ও ঈশ্বরের মহাকীর্তির কথা ঘোষণা করতে লাগলেন। আল্লেলুইয়া।

প্রভু, আমার হৃদয় গর্বিত নয়,
আমার চোখও উদ্ধত নয়।
বিরাট কোন কিছুর পিছনে,
আমার বোধাতীত আশ্চর্যময় কোন কিছুর পিছনে যাই না কো আমি।

আমার প্রাণ বরং আমি শান্ত রাখি,
রাখি নিশ্চুপ;
মায়ের কোলে দুধ-ছাড়ানো শিশুর মত,
দুধ-ছাড়ানো তেমন শিশুরই মত আমার প্রাণ।

ইস্রায়েল, প্রভুর প্রতীক্ষায় থাক
এখন থেকে চিরকাল ধরে।
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার গৌরব হোক,
যিনি আছেন, যিনি ছিলেন, যিনি আসছেন, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। আমেন।   [ধুয়ো]

১৬। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি তোমার মণ্ডলীকে স্বর্গীয় যত মঙ্গলদানে ধন্য করেছ।
অনুনয় করি:
মণ্ডলীর মধ্যে সঞ্চারিত তোমার সেই অনুগ্রহদান রক্ষা কর,
যে পবিত্র আত্মাকে তার উপরে বর্ষণ করেছ,
সেই পবিত্র আত্মার পরাক্রম যেন নিয়তই আমাদের অনুপ্রাণিত করে,
এবং এই আত্মিক খাদ্য গ্রহণের ফলে
আমরা যেন শাশ্বত মুক্তির পূর্ণতা লাভ করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৭। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]