সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
সাধারণকাল
• সাধারণকালের প্রথম সপ্তাহ প্রভুর বাপ্তিস্ম থেকে শুরু হয়।
• পরমপবিত্র ত্রিত্ব পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• খ্রিষ্টের পরমপবিত্র দেহরক্ত পরমপবিত্র ত্রিত্বের পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• পরমারাধ্য যিশুহৃদয় পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী দ্বিতীয় রবিবারের পরবর্তী শুক্রবারে পালিত হয়।
• বিশ্বরাজ আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট সাধারণকালের শেষ রবিবারে পালিত হয়।

রবিবার: ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ৩১ | ৩২ | ৩৩
সাধারণকালের মহাপর্বচতুষ্টয়: ত্রিত্ব | খ্রিষ্টের দেহরক্ত | যিশুহৃদয় | খ্রিষ্টরাজা

১০ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, যা কিছু মঙ্গলকর, তুমিই তার উৎস! আশীর্বাদ কর:
তোমার উদ্দীপনায় উদ্দীপিত হয়ে আমরা যেন মঙ্গল নির্ণয় করতে পারি
ও তোমার পরিচালনায় শুভকর্ম সাধনে উত্তীর্ণ হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
আদিপুস্তক থেকে পাঠ (৩:৯-১৫)

[মানুষ সেই গাছের ফল খাওয়ার পর] প্রভু পরমেশ্বর তাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি কোথায় আছ?’ সে উত্তরে বলল, ‘বাগানে তোমার সাড়া পেয়ে আমি ভয় পেলাম, কারণ আমি উলঙ্গ; তাই নিজেকে লুকিয়েছি।’ তিনি বললেন, ‘তুমি যে উলঙ্গ, একথা কে তোমাকে বলল? যে গাছের ফল খেতে তোমাকে নিষেধ করেছিলাম, তুমি কি তার ফল খেয়েছ?’ মানুষ উত্তরে বলল, ‘আমার সঙ্গিনী করে যাকে তুমি আমাকে দিয়েছ, সেই নারীই আমাকে সেই গাছের ফল দিয়েছে, আর আমি তা খেয়েছি।’ প্রভু পরমেশ্বর নারীকে বললেন, ‘তুমি এ কী করলে?’ নারী উত্তরে বলল, ‘সাপ-ই আমাকে ভুলিয়েছে, আর আমি খেয়েছি।’
তখন প্রভু পরমেশ্বর সাপকে বললেন, ‘এই কাজ করেছ বিধায় অভিশপ্তই তুমি সমস্ত গবাদি পশু ও সমস্ত বন্যজন্তুর চেয়ে! তোমাকে বুকেই হাঁটতে হবে, ও তোমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে ধুলো খেতে হবে।
আমি তোমার ও নারীর মধ্যে, তোমার বংশ ও তার বংশের মধ্যে পরস্পর শত্রুতা জাগিয়ে তুলব; তার বংশ তোমার মাথা পিষে মারবে, আর তুমি তার পায়ের গোড়ালিতে ছোবল মারবে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৩০
ধুয়ো:
প্রভুর কাছে রয়েছে কৃপা,
তাঁর কাছের মুক্তি মহান।

গভীর তলদেশ থেকে আমি চিৎকার করে তোমাকে ডাকছি, প্রভু,
শোন গো প্রভু আমার কণ্ঠস্বর।
আমার এ মিনতির কণ্ঠের প্রতি
তোমার কান মনোযোগী হোক।   [ধুয়ো]

প্রভু, তুমি যদি লক্ষ কর সমস্ত অপরাধ,
কেইবা পারবে দাঁড়াতে, ওগো প্রভু?
তোমার কাছে কিন্তু আছে ক্ষমা,
মানুষ যেন তোমাকে ভয় করতে পারে।   [ধুয়ো]

প্রভু, আমি আশা রাখি; আমার প্রাণ আশা রাখে;
আমি তাঁর বাণীর প্রত্যাশায় আছি।
প্রহরীরা যেমন উষার জন্য, প্রহরীরা যেমন উষার জন্য,
তাদের চেয়ে প্রভুর জন্য অধিক ব্যাকুল আমার প্রাণ।   [ধুয়ো]

ইস্রায়েল, প্রভুর প্রতীক্ষায় থাক,
কারণ প্রভুর কাছে রয়েছে কৃপা, তাঁর কাছের মুক্তি মহান।
তিনি নিজেই ইস্রায়েলকে মুক্ত করবেন
তার সমস্ত অপরাধ থেকে।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৪:১৩–৫:১)

প্রিয়জনেরা, আমরা সেই একই বিশ্বাসের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে, যে বিশ্বাসের বিষয়ে লেখা আছে: আমি বিশ্বাস করেছি, তাই কথা বলেছি, আমরাও বিশ্বাস করি আর তাই কথা বলি, সচেতন হয়ে যে, প্রভু যিশুকে যিনি পুনরুত্থিত করেছেন, তিনি যিশুর সঙ্গে আমাদেরও পুনরুত্থিত করবেন ও তোমাদের সঙ্গে নিজের কাছে স্থান দেবেন। হ্যাঁ, সবই তোমাদের জন্য, যেন ঈশ্বরের অনুগ্রহ আরও অপর্যাপ্ত হয়ে উঠে বেশি বেশি মানুষের মুখে আরও বেশি ধন্যবাদ-স্তুতির কারণ হয়ে ওঠে—ঈশ্বরের গৌরবার্থে।
এজন্যই আমরা নিরুৎসাহ হই না; আর যদিও আমাদের বাইরের মানুষ ক্রমশ ক্ষয়ে যাচ্ছে, তবু অন্তরের মানুষ দিনে দিনে নবীকৃত হয়ে উঠছে। বস্তুত আমাদের এই ক্লেশের ক্ষণস্থায়ী ও লঘু ভার আমাদের জন্য গৌরবের অপরিমেয় ও অতি গুরুভার সঞ্চয় জমিয়ে রাখছে, যেহেতু আমরা দৃশ্য বিষয়ের দিকে লক্ষ না রেখে অদৃশ্য বিষয়ের দিকেই লক্ষ রাখছি, কারণ যা দৃশ্য তা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু যা অদৃশ্য তা চিরস্থায়ী। আমরা তো জানি, আমাদের পার্থিব দেহ-আবাসের তাঁবু যখন গুটিয়ে নেওয়া হবে, তখন আমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে একটা আবাস পাব—এমন আবাস যা কারও হাতে তৈরী নয় বরং চিরস্থায়ী, যা স্বর্গলোকেই অবস্থিত।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
এখন এই জগতের অধিপতিকে
বের করে দেওয়া হচ্ছে।
আর আমাকে যখন ভূলোক থেকে উত্তোলন করা হবে,
তখন সকলকে নিজের কাছে আকর্ষণ করব।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৩:২০-৩৫)

সেসময়ে যিশু বাড়ি ফিরে গেলে আবার এত লোকের ভিড় জমে গেল যে, তাঁরা খেতেও পারছিলেন না। তা শুনে তাঁর আত্মীয়স্বজনেরা তাঁকে ধরে নিতে বেরিয়ে পড়ল, কেননা তারা বলছিল, তাঁর মাথা ঠিক নেই।
আর যে শাস্ত্রীরা যেরুসালেম থেকে এসেছিলেন, তাঁরা বলছিলেন, ‘একে বেয়েলজেবুলে পেয়েছে’; আরও বলছিলেন, ‘এ তো অপদূতদের প্রধানের প্রভাবেই অপদূত তাড়ায়।’
তাই তিনি তাঁদের কাছে ডেকে উপমাচ্ছলে বললেন, ‘শয়তান কেমন করে শয়তানকে তাড়াতে পারে? কেননা কোন রাজ্য যদি বিবাদে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তবে সে রাজ্য স্থির থাকতে পারে না; আর কোন পরিবার যদি বিবাদে বিভক্ত হয়ে পড়ে, সেই পরিবার স্থির থাকতে পারে না। আচ্ছা, শয়তান যদি নিজের বিপক্ষে ওঠে ও বিভক্ত হয়, তবে সেও স্থির থাকতে পারে না, কিন্তু তার শেষ হয়। একজন বলবান লোকের বাড়িতে ঢুকে কেউই তার জিনিসপত্র লুট করতে পারে না, যদি না আগে সে সেই বলবান লোককে বেঁধে ফেলে; তবেই সে তার বাড়ির সবকিছু লুট করতে পারে।
আমি আপনাদের সত্যি বলছি, মানবসন্তানেরা যে সমস্ত পাপকর্ম ও ঈশ্বরনিন্দা করে, তার ক্ষমা হবে; কিন্তু যে কেউ পবিত্র আত্মার নিন্দা করে, সে অনন্তকালেও ক্ষমা পাবে না, বরং হবে অনন্ত পাপের অধীন।’ তিনি একথা বললেন, কারণ তাঁরা বলেছিলেন, ‘ওকে অশুচি আত্মায় পেয়েছে।’
সেসময় তাঁর মা ও তাঁর ভাইয়েরা এলেন, এবং বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁকে ডেকে পাঠালেন। তখন তাঁর চারপাশে বহু লোক বসে ছিল; তারা তাঁকে বলল, ‘দেখুন, বাইরে আপনার মা ও ভাইবোনেরা আপনাকে খুঁজছেন।’ তিনি তাদের বললেন, ‘আমার মা কে? আমার ভাইয়েরাও বা কারা?’ এবং যারা তাঁর চারপাশে বসে ছিল, তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এই যে আমার মা, এই যে আমার ভাইয়েরা; কেননা যে কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করে, সে-ই আমার ভাই ও বোন ও মা।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

সুসমাচারের যে কথা এইমাত্র পাঠ করেছি, তা আমাদের সামনে এমন কঠিন সমস্যা উপস্থাপন করছে যে নিজেদের বলে তা সমাধান করার সাধ্য আমাদের নেই; কিন্তু আমাদের সাধ্য ঈশ্বর থেকেই আসে, কারণ আমরা তাঁর সহায়তা লাভ করতে ও অর্জন করতে পারি।
মার্ক-রচিত সুসমাচারে লেখা আছে: আমি আপনাদের সত্যি বলছি, মানবসন্তানেরা যে সমস্ত পাপকর্ম ও ঈশ্বরনিন্দা করে, তার ক্ষমা হবে; কিন্তু যে কেউ পবিত্র আত্মার নিন্দা করে, সে অনন্তকালেও ক্ষমা পাবে না, বরং হবে অনন্ত পাপের অধীন (মার্ক ৩:২৮-২৯)। ফলত, কেউ অত্যন্ত সাধারণ ভাবেও পবিত্র আত্মার নিন্দা করলে, তবু সেই নিন্দা যে কী ধরনের, তা আমাদের জানা উচিত হত না, কারণ এক্ষেত্রে সব ধরনের নিন্দা সমান। অথচ সেই বিধর্মীরা, ইহুদীরা, ভ্রান্তমতপন্থীরা ও অন্য যত ধরনের মানুষ যারা ভুল-ভ্রান্তি ও অযুক্তি বশত পবিত্র আত্মার নিন্দা করে থাকে, তারা আত্মসংশোধন না করলেও যে তাদের কাছে ক্ষমার কোন আশা থাকবে না, একথা সমর্থন করা যায় না। তাহলে যে পদে লেখা আছে, যে কেউ পবিত্র আত্মার নিন্দা করে, সে অনন্তকালেও ক্ষমা পাবে না, সেই পদের অর্থ ব্যক্তির সাধারণ নিন্দা লক্ষ করে না, বরং তাদেরই নিন্দা লক্ষ করে যারা পবিত্র আত্মার এমনভাবেই নিন্দা করবে যার ফলে ক্ষমা পেতে পারবে না।
সর্বপ্রথমে, চরম দিনে যে অনন্ত জীবন আমাদের দেওয়া হবে, তা পাবার জন্য ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা বাপ্তিস্মের মধ্য দিয়ে আমাদের পাপের ক্ষমা দান করে। কেননা পাপ থাকলে ঈশ্বরের সঙ্গে একপ্রকার শত্রুতা থেকে যায়, ও আমাদের পাপ তাঁর কাছে থেকে আমাদের দূরে রাখে, কারণ শাস্ত্রের এই বাণী আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে: তোমাদের সমস্ত শঠতা তোমাদের পরমেশ্বর ও তোমাদের মধ্যে বিরাট গর্ত খুঁড়েছে (ইসা ৫৯:২)। এজন্য ঈশ্বর আমাদের শঠতা আগে সরিয়ে না দিয়ে তাঁর মঙ্গলদানগুলি আমাদের দেন না। আর পাপ যতখানি হ্রাস পায়, তাঁর মঙ্গলদানগুলি ততখানি বৃদ্ধি পায়; এমনকি, পাপ সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মঙ্গলদানগুলি পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হবে না। অতএব আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে, পবিত্র আত্মায় পাপের ক্ষমা হল ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা-জনিত প্রথম উপকার। কেননা যে পবিত্র আত্মায় ঈশ্বরের জনগণ সম্মিলিত, সেই পবিত্র আত্মায় সেই অশুচি অপদূত নিজের মধ্যে ছিন্ন হওয়ায় বিতাড়িত হয়।
অনুতপ্ত নয় যে হৃদয়, তেমন হৃদয় ঠিক এই বিনামূল্যে দেওয়া দানের, ঈশ্বরের এ অনুগ্রহদানেরই নিন্দা করে; সুতরাং অনুতাপের অনিচ্ছাই হল পবিত্র আত্মার সেই নিন্দা যার ক্ষমা হবে না, এযুগেও নয়, সেই যুগেও নয়। কেননা যে ব্যক্তি ঈশ্বরের ধৈর্য দ্বারা অনুতাপের দিকে চালিত হয়েও মনে মনে কিংবা কথায় পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে জঘন্য ও নিন্দনীয় বাণী উচ্চারণ করে, সেই ব্যক্তি তার হৃদয়ের কাঠিন্য ও অনুতাপের অনিচ্ছার ফলে ঈশ্বরের ক্রোধের ও ন্যায়বিচার-প্রকাশের দিনে যখন তিনি প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মের অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন, সেই চরম দিনে সে নিজের উপরে ঈশ্বরের ক্রোধ জমা করবে। কেননা যে কেউ পাপের ক্ষমা পায়, পবিত্র আত্মায়ই তার বাপ্তিস্ম হয়, এবং সেই পবিত্র আত্মাকেই মণ্ডলী পায়, যাতে মণ্ডলী যার পাপমোচন করে তার পাপমোচন হয়। এই তো সেই অনুতাপের অনিচ্ছা যার বিরুদ্ধে সেই নবী ও সেই বিচারকর্তা বলে উঠেছিলেন, মনপরিবর্তন কর, কারণ স্বর্গরাজ্য কাছে এসে গেছে (মথি ৩:২)। তেমন অনুতাপের অনিচ্ছাই ক্ষমার পাত্র হতে পারবে না, এ যুগেও নয়, সেই যুগেও নয়, কারণ অনুতাপ এজীবনকালে সেই ক্ষমা অর্জন করে যা ভাবী জীবনে কার্যকারী হবে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৮
ধুয়ো:
প্রভুই আমার শৈল, আমার গিরিদুর্গ,
তিনিই আমার ঈশ্বর, আমার ত্রাণশক্তি, আমার মুক্তিদাতা।

আমি তোমাকে ভালবাসি, প্রভু, আমার বল!
প্রভুই আমার শৈল, আমার গিরিদুর্গ, আমার মুক্তিদাতা,
আমি প্রশংসনীয় সেই প্রভুকে ডাকি,
আমার শত্রুদের হাত থেকে পাবই পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

মৃত্যুর বাঁধন জড়িয়ে ধরেছিল আমায়,
ধ্বংসের খরস্রোত আতঙ্কিত করেছিল আমায়;
পাতালের বাঁধন আমায় ঘিরে ফেলেছিল,
সম্মুখীন ছিল মৃত্যুর ফাঁদ।   [ধুয়ো]

সেই সঙ্কটে আমি প্রভুকে ডাকলাম,
আমার পরমেশ্বরের কাছে চিৎকার করলাম;
তাঁর মন্দির থেকে তিনি শুনলেন আমার কণ্ঠ,
আমার সেই চিৎকার তাঁর কানে গেল।   [ধুয়ো]

প্রভু আমার ধর্মময়তা অনুযায়ী আমাকে প্রতিদান দেন,
আমার হাতের শুচিতা অনুযায়ী আমাকে পুরস্কৃত করেন;
কারণ আমি পালন করেছি প্রভুর পথসকল,
আমার পরমেশ্বরকে ত্যাগ করেছি, তেমন কুকর্ম করিনি।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার এ সাক্রামেন্তের নিরাময়কারী শক্তির গুণে
আমরা যেন সমস্ত অনিষ্ট থেকে মুক্ত হয়ে
দৃঢ় পদক্ষেপে মঙ্গল পথে এগিয়ে চলতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১১শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমিই তোমার শরণাগতদের শক্তি!
প্রসন্ন হয়ে আমাদের মিনতিতে সাড়া দাও:
যেহেতু তোমার সহায়তা ছাড়া দুর্বল মানুষ সম্পূর্ণরূপে অক্ষম,
সেজন্য আমাদের সর্বদাই মঞ্জুর কর তোমার অনুগ্রহের সহায়তা,
যাতে তোমার আজ্ঞাবলি পালন ক’রে
আমরা চিন্তায় কর্মে তোমার গ্রহণযোগ্য হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী এজেকিয়েলের পুস্তক থেকে পাঠ (১৭:২২-২৪)

প্রভু পরমেশ্বর একথা বলছেন:
‘আমিই উচ্চ এরসগাছের চূড়া থেকে,
তার সর্বোচ্চ ডালগুলো থেকে একটা কচি ডাল তুলে নিয়ে
উঁচু ও উন্নত এক পর্বতে তা রোপণ করব;
ইস্রায়েলের সর্বোচ্চ পর্বতেই তা রোপণ করব।
তা বহু শাখায় ভূষিত হবে ও ফলবান হবে,
হয়ে উঠবে বিশাল এরসগাছ।
তার তলে সবরকম উড়ন্ত প্রাণী বাসা বাঁধবে,
তার শাখার ছায়ায় সবরকম পাখি বিশ্রাম করবে।
তাতে বনের সমস্ত গাছ জানবে যে,
আমিই প্রভু, যিনি উঁচু গাছ নত করি ও নিচু গাছ উঁচু করি;
সতেজ গাছ শুষ্ক করি ও শুষ্ক গাছ সতেজ করি।
আমিই, প্রভু, একথা বললাম, আর তাই করব।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯২
ধুয়ো:
তোমার স্তুতিগান গাওয়া, প্রভু,
কতই না সুন্দর।

প্রভুর স্তুতিগান গাওয়া কত সুন্দর,
হে পরাৎপর, তোমার নামগান করা,
প্রভাতে তোমার কৃপা,
রাতে তোমার বিশ্বস্ততা ঘোষণা করা কতই না সুন্দর।   [ধুয়ো]

ধার্মিক মানুষ বিকশিত হবে তালগাছের মত,
বেড়ে উঠবে লেবাননের এরসগাছের মত,
প্রভুর গৃহে রোপিত হয়ে
তারা আমাদের পরমেশ্বরের প্রাঙ্গণে বিকশিত হবে।   [ধুয়ো]

প্রাচীন বয়সেও তারা হবে ফলবান,
থাকবে সরস সতেজ,
তারা যেন ঘোষণা করতে পারে যে প্রভু ন্যায়শীল—
তিনি আমার শৈল, তাঁর মধ্যে অধর্ম নেই।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৫:৬-১০)

প্রিয়জনেরা, সর্বদাই গভীর ভরসা রেখে এবং একথা জেনে যে, যতদিন এই দেহে বাস করি ততদিন প্রভুর কাছ থেকে প্রবাসী আছি, আমরা বিশ্বাসেই চলি, প্রত্যক্ষ দর্শনে এখনও নয়। আমরা গভীর ভরসা রাখি, এবং দেহ থেকে প্রবাসী হয়ে প্রভুর সঙ্গে বসবাস করা-ই বরং বাঞ্ছনীয় বলে মনে করি।
এজন্য দেহের আবাসে থাকি কিংবা তা ছেড়ে প্রবাসী হই, তাঁরই প্রীতির পাত্র হওয়াই আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
কারণ আমাদের সকলকেই খ্রিষ্টের বিচারাসনের সামনে এসে প্রত্যক্ষভাবে দাঁড়াতে হবে, যেন প্রত্যেকে দেহে থাকাকালে যা কিছু করেছে, তা ভাল হোক কি মন্দ হোক, সেই অনুসারে প্রতিফল পায়।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
বীজ হল ঈশ্বরের বাণী, বীজবুনিয়ে হলেন খ্রিষ্ট:
যে তাঁকে খুঁজে পায়, সে অনন্ত জীবন পেয়ে গেছে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৪:২৬-৩৪)

একদিন যিশু [সমবেত জনতাকে] বললেন, ‘ঈশ্বরের রাজ্য হল এই রকম: ঠিক যেন একজন লোক মাটিতে বীজ বোনে; রাতে বা দিনে, সে ঘুমোক বা জেগে থাকুক, সেই বীজ অঙ্কুরিত হয়ে বেড়েই ওঠে—কীভাবে, তা সে জানে না। মাটি আপনা থেকেই ফল উৎপন্ন করে: আগে অঙ্কুর, পরে শিষ, পরে শিষের মধ্যে পূর্ণ শস্য। আর ফসল পেকে গেলে সে তখনই কাস্তে লাগায়, কেননা শস্য কাটার সময় এসেছে।’
তিনি আরও বললেন, ‘আমরা কিসের সঙ্গে ঈশ্বরের রাজ্যের তুলনা করব? বা কোন্‌ উপমার মধ্য দিয়েই বা তা বর্ণনা করব? তা একটা সর্ষে-দানার মত: সেই বীজ মাটিতে বোনার সময়ে মাটির সকল বীজের চেয়ে ছোট, কিন্তু একবার বোনা হলে তা অঙ্কুরিত হয়ে সকল শাকের চেয়ে বড় হয় ও এমন বড় বড় শাখা মেলে যে, আকাশের পাখিরা তার ছায়ায় বাসা বাঁধতে পারে।’
এধরনের বহু উপমা দিয়ে তিনি তাদের শুনবার ক্ষমতা অনুসারে তাদের কাছে বাণী প্রচার করতেন; উপমা-কাহিনীর মধ্য দিয়ে ছাড়া তাদের কিছুই বলতেন না; পরে, যখন একাকী হতেন, তখন নিজ শিষ্যদের কাছে সমস্ত বুঝিয়ে দিতেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু জন খ্রিসোস্তমেরই বলে ধরে নেওয়া উপদেশ

স্বর্গরাজ্যের চেয়ে বড় কী আছে, ও সর্ষে বীজের চেয়ে ছোট কী আছে? কেমন করে তিনি সেই সীমাহীন স্বর্গরাজ্যকে এই ক্ষুদ্রতম, এমনকি সহজে মাপা যায় এমন বীজের সঙ্গে তুলনা করতে পেরেছেন? আমরা কিন্তু যদি ভাবি সর্ষে বীজ যে কী, তাহলে উপলব্ধি করতে পারব যে তুলনা নিখুঁত, প্রকৃতি অনুসারেও বটে।
স্বয়ং খ্রিষ্ট ছাড়া স্বর্গরাজ্য কী? নিজের বিষয়ে তিনি বলেন, ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদের মাঝেই উপস্থিত (লুক ১৭:২১)। ঐশস্বরূপ অনুযায়ী সেই খ্রিষ্টের চেয়ে বড় কিছুই নেই, যেমনটি নবী বলেন, তিনিই আমাদের ঈশ্বর, তাঁর সঙ্গে কারও তুলনা হয় না; তিনিই সদ্‌জ্ঞানের সমস্ত পথ অনাবৃত করলেন, ও তাঁর আপন দাস যাকোবকে, তাঁর প্রীতিভাজন সেই ইস্রায়েলকে তা প্রদান করলেন। এরপর তিনি পৃথিবীতে দৃশ্যমান হলেন, ও মানুষদের মাঝে জীবন কাটালেন (বারুক ৩:৩৬-৩৮)।
কিন্তু যিনি মাংসধারণ-ব্যবস্থা অনুসারে স্বর্গদূতদের ও মানুষদের চেয়ে নিজেকে ছোট করলেন, সেই খ্রিষ্টের চেয়ে ছোট কী আছে? শোন দাউদের বাণী, তিনি বুঝিয়ে দেন কেমন করে খ্রিষ্ট স্বর্গদূতদের চেয়ে নিজেকে ছোট করলেন: মানুষ কী যে তুমি তার কথা মনে রাখ, কীইবা আদমসন্তান যে তুমি তার যত্ন নাও? অথচ স্বর্গদূতদের চেয়ে তাকে সামান্যই শুধু ছোট করেছ তুমি (সাম ৮:৫-৬)। খ্রিষ্ট বিষয়ে দাউদের এবাণী ব্যাখ্যা করে পল একথা বলেন, যাঁকে ঈশ্বর অল্পক্ষণের মত দূতদের চেয়ে নিচু করেছেন, আমরা দেখছি যে, সেই যিশু মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করেছেন বলে এখন গৌরব ও মহিমার মুকুটে পরিবৃত (হিব্রু ২:৯)।
কেমন করে তিনি একই সময় স্বর্গরাজ্য ও সর্ষে বীজ হলেন? বড় ও ছোট, এ দুই কী করে সমান হতে পারে? মাটি-মানুষের প্রতি আপন দয়ার মহত্ত্ব গুণে তিনি সকলকে লাভ করার জন্য সবার কাছে সবই হলেন। স্বরূপে তিনি ঈশ্বরই ছিলেন, আর সেইভাবে এখনও আছেন ও সতত থাকবেন, কিন্তু আমাদের পরিত্রাণের জন্য মানুষ হলেন। হে বীজ, যাঁর দ্বারা জগৎ অস্তিত্ব পেল, অন্ধকার ঘুচে গেল ও মণ্ডলী নবায়িত হল! ক্রুশে ঝুলানো এ বীজের এমন মহাশক্তি যে, ক্রুশে বিদ্ধ হয়েও একটামাত্র বাণী দ্বারা দস্যুকে ক্রুশ থেকে কেড়ে নিয়ে পরমদেশের আনন্দলোকে নিয়ে গেলেন; এই গম বর্শার আঘাতে বুকে ক্ষত হয়ে অমরত্বে পিপাসিতদের জন্য পানীয় গড়িয়ে দিলেন; উচ্ছিন্ন এই সর্ষে বীজ বাগানে সমাহিত হলে তার শাখা-প্রশাখায় সমগ্র পৃথিবী পরিপূর্ণ হল। এই গম মাটিতে সমাহিত হয়ে পাতালেই শিকড় নামালেন, ও সেখানে বন্দি যত আত্মাকে নিজের সঙ্গে বের করে নিয়ে তিন দিনের মধ্যে তাদের আবার স্বর্গে ডেকে নিলেন।
স্বর্গরাজ্য তেমন একটা সর্ষে-দানার মত, যা একজন লোক নিয়ে নিজের জমিতে বুনল (মথি ১৩:৩১)। তোমার আত্মা-খেতে এই সর্ষে-দানা বোন, তবেই নবী তোমাকেও বলবেন, তুমি জলসিক্ত উদ্যানের মত হবে, এমন উৎসধারার মত হবে, যার জল কখনও শুষ্ক হয় না (ইসা ৫৮:১১)। ব্যাপারটা তন্ন তন্ন করে বিচার-বিবেচনা করলে, আমরা দেখব যে উপমাটা ত্রাণকর্তার বেলায়ও প্রযোজ্য, কারণ দেখতে তিনি ছোট, এজগতে তাঁর আয়ুষ্কাল ক্ষণিকেরই হল, কিন্তু স্বর্গে তিনি মহান। ঈশ্বরপুত্র হওয়ায় তিনি মানবপুত্র ও ঈশ্বর; তিনি সমস্ত গণনার অতীত: তিনি সনাতন, অদৃশ্যমান, স্বর্গীয়, ও কেবল বিশ্বাসীদের কাছেই খাদ্য। তিনি পদদলিত হলেন, ও যন্ত্রণাভোগের পর দুধের মত সাদা হলেন—সাদাই পুনরুত্থানের প্রতীক। তিনি সমস্ত গাছের মধ্যে সর্বোচ্চ; তিনি পিতার অবিচ্ছেদ্য বাণী: তাঁরই মধ্যে আকাশের পাখি নীড় বাঁধে, যথা নবী, প্রেরিতদূত ও আহূতজন সকল। আপন উষ্ণতায় তিনি আমাদের আত্মার অসুখ নিরাময় করেন; এই বিরাট গাছের নিচে আমরা স্বর্গীয় শিশিরে সিক্ত হয়ে এ জগতের কোলাহল থেকে রক্ষা পাই। তাঁকেই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মাটিতে বোনা হল, আর এখন তিনি ফলপ্রসূ: তিন দিন পরে তিনি সমাধি থেকে পুণ্যজনদের পুনরুত্থিত করলেন, ও আপন পুনরুত্থানে সকল নবীর মধ্যে মহত্তম নবী বলে আবির্ভূত হলেন।
তিনি পিতার আত্মা দ্বারা সমস্ত কিছু সুস্থির রাখেন। তিনিই পৃথিবীতে বীজ কিন্তু স্বর্গে ফলশালী গাছ, কারণ নিজের জমিতে তথা এজগতে বোনা বীজ হওয়ার পর তিনি আপন বিশ্বাসীদের স্বর্গীয় পিতার কাছে তুলে নিলেন। হে জীবনের বীজ, পিতা ঈশ্বরই তোমাকে পৃথিবীতে বুনলেন! হে অমরত্বের বীজ, যাদের তুমি পরিপুষ্ট কর, তাদের ঈশ্বরের সঙ্গে পুনর্মিলিত কর!

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৭
ধুয়ো:
প্রভুর কাছে আমার শুধু এই যাচনা, এইটুকু মাত্র অন্বেষণ করি:
আমি প্রভুর গৃহে বাস করতে চাই আমার জীবনের সমস্ত দিন।

তিনি তো অশুভ দিনে
আপন কুটিরে লুকিয়ে রাখবেন আমায়,
আপন তাঁবু-নিভৃতে আমায় গোপন করে রাখবেন,
শৈলশিখরে আমায় তুলে আনবেন।   [ধুয়ো]

তখন যত শত্রু ঘিরে ফেলেছে আমায়,
তাদের উপর আমার মাথা উঁচু করব;
জয়ধ্বনি তুলে তাঁর তাঁবুতে আমি বলি উৎসর্গ করব,
বাদ্যের ঝঙ্কারে প্রভুর উদ্দেশে গাইব গান।   [ধুয়ো]

শোন, প্রভু, আমার কণ্ঠ—ডাকছি তো আমি:
আমাকে দয়া কর, আমাকে সাড়া দাও।
তোমার বিষয়ে আমার অন্তর বলে: ‘তাঁর শ্রীমুখ অন্বেষণ কর তোমরা,’
আমি তোমার শ্রীমুখ অন্বেষণ করি, প্রভু।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার এ পবিত্র সাক্রামেন্ত গ্রহণে যেমন তোমাতেই ভক্তদের মিলন পূর্বনির্দেশিত, তেমনি তোমার মণ্ডলীতেও যেন একতা গভীরতর হয়ে ওঠে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১২শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, যাদের তুমি তোমার ভালবাসায় দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত কর,
তুমি তো তাদের কখনও তোমার পরিচালনা থেকে বঞ্চিত কর না।
তাই মিনতি জানাই: তোমার আশীর্বাদে আমরা যেন নিয়তই
তোমার পবিত্র নাম শ্রদ্ধা ও ভক্তি করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
যোব পুস্তক থেকে পাঠ (৩৮:১,৮-১১)

প্রভু ঘূর্ণিবায়ুর মধ্য থেকে যোবকে উত্তর দিয়ে বললেন:
সমুদ্র যখন মাতৃগর্ভ ছেড়ে হঠাৎ বেরিয়ে পড়ল,
কে কবাটের পিছনে তাকে বন্দি করে রাখল?
সেসময়ে আমিই মেঘমালার কাপড় দিয়ে তাকে ঘিরে রাখলাম,
ঘন তমসার কাঁথা দিয়ে তাকে জড়িয়ে রাখলাম।
তারপর আমি তার এলাকা স্থির করলাম,
অর্গল ও কবাট দিয়ে আটকে রাখলাম।
বললাম, তুমি এপর্যন্ত আসবে, আর নয়;
এইখানে তোমার তরঙ্গমালার দর্প চূর্ণ হবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১০৭
ধুয়ো:
প্রভুকে ধন্যবাদ জানাও,
তাঁর কৃপা যে চিরস্থায়ী।

বিকল্প: আল্লেলুইয়া।
যারা জাহাজে চড়ে সমুদ্রে যেত,
বাণিজ্য করত মহাসাগরের বুকে,
তারা দেখল প্রভুর কর্মকীর্তি,
তলদেশে তাঁর আশ্চর্য যত কাজ;   [ধুয়ো]

তিনি কথা বলেই জাগালেন এমন প্রচণ্ড ঝড়,
যা উত্তাল করে তুলল সমুদ্রের ঢেউ:
তারা আকাশে উঠল, গভীর অতলে নামল,
এই দুর্বিপাকে বিগলিত হল তাদের প্রাণ;   [ধুয়ো]

সেই সঙ্কটে তারা প্রভুকে চিৎকার করে ডাকল,
সমস্ত ক্লেশ থেকে তিনি তাদের বের করে আনলেন:
তিনি ঝড় প্রশমিত করলেই
তরঙ্গমালা হল নিশ্চুপ,   [ধুয়ো]

স্বস্তি পেয়ে তারা আনন্দিত হল,
আর তিনি অভীষ্ট বন্দরে তাদের চালিত করলেন।
তারা প্রভুকে ধন্যবাদ দিক তাঁর কৃপার জন্য,
আদমসন্তানদের প্রতি তাঁর আশ্চর্য কর্মকীর্তির জন্য।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৫:১৪-১৭)

প্রিয়জনেরা, খ্রিষ্টের ভালবাসা আমাদের চাপ দিচ্ছে, যখন ভাবি যে, সকলের জন্য একজন মৃত্যু বরণ করেছেন, ফলে সকলেরই মৃত্যু হয়েছে; আর তিনি সকলের জন্য মৃত্যু বরণ করেছেন, যারা জীবিত, তারা যেন আর নিজেদের জন্য নয়, বরং তাঁরই জন্য জীবন যাপন করে, যিনি তাদের জন্য মৃত্যু বরণ করেছেন ও পুনরুত্থিত হয়েছেন।
সুতরাং এখন থেকে আমরা আর কাউকেও মানবীয় জ্ঞান অনুসারে চিনি না; আর যদিও একসময়ে আমরা খ্রিষ্টকে মানবীয় জ্ঞান অনুসারে চিনতাম, তবু এখন সেভাবে আর চিনি না। ফলে কেউ যদি খ্রিষ্টে থাকে, সে নতুন সৃষ্টি; প্রাক্তন সবকিছু কেটে গেছে, দেখ, সবকিছু নতুন হয়ে উঠেছে!
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমাদের মধ্যে এক মহানবীর উদ্ভব হয়েছে;
ঈশ্বর তাঁর আপন জনগণকে দেখতে এসেছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৪:৩৫-৪১

সেইদিন, সন্ধ্যা হলে, যিশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, ‘চল, আমরা ওপারে যাই।’ তখন তাঁরা লোকদের বিদায় দিয়ে, তিনি যে অবস্থায় ছিলেন, সেই অবস্থায়ই তাঁকে নৌকায় করে সঙ্গে নিয়ে গেলেন; আরও আরও নৌকাও তাঁর সঙ্গে ছিল।
পরে প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় উঠল, ও ঢেউ নৌকার গায়ে এমনভাবে আছড়িয়ে পড়তে লাগল যে, নৌকাটা জলে ভরে যাচ্ছিল—অথচ তিনি পশ্চাদ্ভাগে বালিশে মাথা দিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন; তাঁরা তাঁকে জাগিয়ে তুলে বললেন, ‘গুরু, আমরা যে মরতে বসেছি, এতে আপনার কি কোন চিন্তা নেই?’
আর তিনি জেগে উঠে বাতাসকে ধমক দিলেন, ও সমুদ্রকে বললেন, ‘শান্ত হও, স্থির হও;’ তাতে বাতাস পড়ল ও মহানিস্তব্ধতা নেমে এল। পরে তিনি তাঁদের বললেন, ‘তোমরা এত ভীত হচ্ছ কেন? তোমাদের কি এখনও বিশ্বাস হয়নি?’
তাঁরা ভীষণ ভয়ে অভিভূত হয়ে একে অপরকে বলতে লাগলেন, ‘তবে ইনি কে যে, বাতাস ও সমুদ্রও তাঁর প্রতি বাধ্য হয়?’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

ভ্রাতৃগণ, পবিত্র সুসমাচারের যে পাঠ আমরা এইমাত্র শুনেছি, আমি ঈশ্বরের সহায়তায় তোমাদের কাছে সেই বিষয়ে কিছু চেতনা দান করতে ইচ্ছা করি, যাতে এই জগতের ঝড়ঝঞ্ঝা ও তরঙ্গমালা দেখা দিলে তোমাদের হৃদয়ে বিশ্বাস নিদ্রিত না থাকে। সেই সর্বশক্তিমান সাগরের মাঝে নৌকায় বসে যখন নিদ্রা গেলেন, তখন মৃত্যু ও নিদ্রা যে খ্রিষ্ট প্রভুরই হাতে, একথা তত নিশ্চিত নাও মনে হতে পারে। তোমরা তাই বিশ্বাস করলে, তবে তোমাদের অন্তরে বিশ্বাস নিদ্রাগত; কিন্তু তোমাদের অন্তরে খ্রিষ্ট জাগ্রত হলে, তবে তোমাদের বিশ্বাস সজাগ। প্রেরিতদূত বলেন, খ্রিষ্ট যেন বিশ্বাসগুণে তোমাদের হৃদয়ে বসবাস করেন (এফে ৩:১৭)। সুতরাং খ্রিষ্টে নিদ্রাও একটা রহস্যের লক্ষণ। যারা সমুদ্রে যাত্রা করছিল, তারা আসলে হল মানবাত্মা, যে মানবাত্মাগুলি যেন একটা নৌকায় বসে এজীবন অতিবাহিত করে। নৌকা আবার মণ্ডলীরই প্রতীক। সকলে ঈশ্বরের মন্দির বটে; কিন্তু প্রত্যেকে নিজ নিজ হৃদয়ে সমুদ্র-যাত্রা করছে, আর তখনই তার নৌকাডুবি ঘটে না, সে যখন শুভ বিষয়ে চিন্তামগ্ন থাকে।
একটা অপমানজনক কথা তোমার কানে এল—তা বাতাস; তুমি ক্রুদ্ধ—তা তরঙ্গমালা। বাতাস বইলে ও উত্তাল তরঙ্গ হলে নৌকা বিপদের সম্মুখীন—তোমার হৃদয়ই বিপদের সম্মুখীন ও দূরে ভেসে যাচ্ছে। অপমান শুনে তুমি প্রতিশোধ নিতে চাও—প্রতিশোধ নেওয়ায় ও পরের দুষ্কর্ম রোধ না করায় তোমার নৌকাডুবি হল। কেন? কারণ তোমার অন্তরে খ্রিষ্ট নিদ্রাগত। তবে কেন তিনি তোমার অন্তরে নিদ্রাগত? এর কারণ, তুমি তাঁর কথা ভুলে গেছ। তাহলে খ্রিষ্টকে জাগিয়ে তোল, খ্রিষ্টের কথা স্মরণে রাখ, তোমার অন্তরে খ্রিষ্ট জাগ্রত হোন; তাঁর কথা ভাব। তুমি কী চাচ্ছিলে? প্রতিশোধ। তোমার বেলায় এসব কিছু ঘটেছে, অথচ তিনি ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সময়ে বললেন, পিতা, এদের ক্ষমা কর, কেননা এরা কি করছে, তা জানে না (লুক ২৩:৩৪)।
যিনি চাইলেন না, তাঁর পক্ষ হয়ে কোন প্রতিশোধ নেওয়া হবে, তিনি তোমার অন্তরে নিদ্রা যাচ্ছিলেন। তাঁকে ওঠাও, তাঁর কথা স্মরণ কর। তাঁর স্মরণ হোক তাঁর বাণী; তাঁর স্মরণ হোক তাঁর আদেশ। আর যদি খ্রিষ্ট তোমার অন্তরে জাগ্রত, তাহলে তুমি নিজের কাছে একথা বল: আমি কে যে ঈশ্বরের প্রতিশোধ দেখতে চাই? আমি কে যে অপরকে হুমকি শোনাই? হয় তো প্রতিশোধ দেখবার আগেই মরব। কিন্তু যখন হাঁপাতে হাঁপাতে, ক্রোধে উত্তপ্ত হয়ে, ও প্রতিশোধের জ্বালায় উত্তেজিত হয়ে আমি এ দেহ ছেড়ে চলে যাব, তখন যিনি প্রতিশোধ দেখতে চাইলেন না, তিনি আমাকে গ্রহণ করবেন না; যিনি বললেন, দান কর, তোমাদেরও দেওয়া হবে; ক্ষমা কর, তোমাদেরও ক্ষমা করা হবে (লুক ৬:৩৮-৩৯), তিনি আমাকে গ্রহণ করবেন না। সেজন্য আমি ক্রোধ সংযত রাখব ও হৃদয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনব; হ্যাঁ, খ্রিষ্ট সমুদ্রকে আদেশ দিলেই বাতাস ও তরঙ্গমালা প্রশমিত হল।
প্রলোভনের সময়ে তোমরা নিয়ম হিসাবে তা গ্রহণ কর, ক্রোধ বিষয়ে আমি যা বলেছি। প্রলোভন দেখা দিচ্ছে—তা বাতাস; তুমি অস্থির—তা তরঙ্গমালা। খ্রিষ্টকে জাগিয়ে তোল, তিনি তোমার কাছে কথা বলুন, ইনি কে, বাতাস ও সাগরও যাঁর কথা শোনে? (মার্ক ৪:৪১)। ইনি কে, সাগর যাঁর কথা শোনে? সাগরও তাঁরই, তিনিই তা গড়লেন (সাম ৯৫:৫)। তাঁরই দ্বারা সবকিছু হল। তাই তুমিও বাতাস ও সাগরের অনুকরণ কর, তুমিও স্রষ্টার অধীন হও। সাগর খ্রিষ্টের আদেশ শোনে, আর তুমি কি বধির? সাগর তাঁর আদেশ মেনে নেয় ও বাতাস শান্ত হয়; আর তুমি কি স্ফীতই হবে? আমিই বলছি, আমিই করছি, আমিই চিন্তা করছি: এসব কিছু কী? স্ফীত হওয়া ও খ্রিষ্টের বাণীতে শান্ত না হওয়া ছাড়া তা আর কিছুই নয়।
তোমাদের হৃদয় অস্থির হলে তোমরা তরঙ্গমালা দ্বারা নিজেদের পরাজিত হতে দিয়ো না। কিন্তু তবুও, যেহেতু আমরা মানুষ, সেজন্য বাতাস যদি আমাদের আত্মার প্রবল কামনা-বাসনা আলোড়িত করে থাকে, তবু আমরা যেন নিরাশ না হই: এসো, খ্রিষ্টকে জাগিয়ে তুলি, যেন শান্তশিষ্ট পরিবেশে যাত্রা করে মাতৃভূমিতে পৌঁছতে পারি।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৪৫
ধুয়ো:
সকলের চোখ তোমার দিকে চেয়ে থাকে, প্রভু,
যথাসময়ই তুমি তাদের খাদ্য দান কর।

প্রভু সকল বাণীতে বিশ্বাসযোগ্য,
সকল কাজে কৃপাময়।
যারা পতনোন্মুখ, প্রভু তাদের সকলকে ধরে রাখেন,
যারা অবনত, তিনি তাদের সকলকে টেনে তোলেন।   [ধুয়ো]

সকলের চোখ তোমার দিকে চেয়ে থাকে,
যথাসময়ই তুমি তাদের খাদ্য দান কর।
তুমি যেই খোল হাত,
যত জীবের বাসনা পূর্ণ কর।   [ধুয়ো]

প্রভু সকল পথে ধর্মময়,
সকল কাজে কৃপাময়।
যারা তাঁকে ডাকে, অন্তর দিয়েই তাঁকে ডাকে,
প্রভু তাদের সকলের কাছে কাছেই থাকেন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার পুত্রের অমূল্য দেহরক্ত গুণে নবায়িত হয়ে
আমরা তোমার দয়া প্রার্থনা করি: দৈনন্দিন যা ভক্তিভরে উদ্‌যাপন করি,
তা যেন আমাদের মুক্তিলাভের নিশ্চিত চিহ্ন হয়ে উঠে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৩শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, দত্তকপুত্রত্বের অনুগ্রহ গুণে
তুমি আমাদের করে তুলেছ আলোর সন্তান। অনুনয় করি:
তোমার আশীর্বাদে ভুলভ্রান্তির তমসায় জড়িত না হয়ে আমরা বরং
যেন তোমার সত্যের দীপ্তিতে উদ্ভাসিত হয়ে জীবনযাপন করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রজ্ঞা পুস্তক থেকে পাঠ (১:১৩-১৫; ২:২৩-২৪)

ঈশ্বর মৃত্যুকে গড়েননি,
জীবিতদের বিনাশেও তিনি প্রীত নন।
আসলে তিনি জীবনকেই উদ্দেশ্য করে সবকিছু সৃষ্টি করলেন।
পৃথিবীর যত প্রাণী, সবই তো সুস্থ;
তাদের মধ্যে নেই মৃত্যুর বিষ,
পৃথিবীর উপরে পাতালেরও রাজত্ব নেই,
কেননা ধর্মময়তা অমর।
বরং ঈশ্বর মানুষকে অমরত্বের উদ্দেশেই সৃষ্টি করেছেন,
তাঁর আপন স্বরূপের প্রতিমূর্তিতেই তাকে গড়েছেন।
কিন্তু শয়তানের হিংসার ফলেই মৃত্যু জগতে প্রবেশ করেছে;
যারা শয়তানের পক্ষের মানুষ, তারাই মৃত্যুর অভিজ্ঞতা করে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩০
ধুয়ো:
তোমার বন্দনা করব, প্রভু:
তুমি যে তুলে নিয়েছ আমায়।

তোমার বন্দনা করব, প্রভু: তুমি যে তুলে নিয়েছ আমায়,
আমার শত্রুদের দাওনি আমার উপর আনন্দ করতে।
পাতাল থেকেই তুমি আমার প্রাণ তুলে এনেছ, প্রভু,
আমি সেই গর্তে নেমে যাচ্ছিলাম আর তুমি আমায় করেছ সঞ্জীবিত।   [ধুয়ো]

প্রভুর উদ্দেশে স্তবগান কর, তাঁর ভক্তজন সকল,
তাঁর পবিত্রতা স্মরণ ক’রে কর তাঁর স্তুতিগান।
কিছুক্ষণ ধরেই মাত্র তাঁর ক্রোধ, কিন্তু তাঁর প্রসন্নতা জীবনপ্রসারী।
সন্ধ্যায় বিলাপের আগমন, কিন্তু প্রভাতে আনন্দোচ্ছ্বাস।   [ধুয়ো]

প্রভু, শোন, আমাকে দয়া কর,
প্রভু, হও তুমি আমার সহায়।
তুমি নৃত্যেই পরিণত করেছ আমার বিলাপ।
প্রভু, পরমেশ্বর আমার, চিরকাল করব তোমার স্তুতিগান।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৮:৭,৯,১৩-১৫)

প্রিয়জনেরা, তোমরা নিজেরাই যেহেতু সবকিছুতে শ্রেষ্ঠ—বিশ্বাসে, বচনে, জ্ঞানে, সব ধরনের যত্নশীলতায়, ও আমাদের প্রতি তোমাদের ভালবাসায় শ্রেষ্ঠ—সেজন্য এই দানশীলতা-কর্মেও শ্রেষ্ঠ হও। তোমরা তো আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহের কথা জান: ধনবান হয়েও তোমাদের জন্য তিনি নিজেকে দরিদ্র করেছিলেন, যেন তাঁর সেই দরিদ্রতায়ই তোমরা ধনবান হয়ে উঠতে পার।
ব্যাপারটা তো এই নয় যে, অন্য সকলের আরাম হোক ও তোমাদের কষ্ট হোক, বরং সমতাই চাই। আজকের মত তোমাদের প্রাচুর্যে তাদের অভাব পূরণ করা হোক, যেন আবার তাদের প্রাচুর্যে তোমাদের অভাব পূরণ করা হয়, ফলে যেন সমতা হয়, যেমনটি লেখা আছে: বেশি যে সংগ্রহ করল, তার অতিরিক্ত কিছু হল না; এবং অল্প যে সংগ্রহ করল, তার অভাব হল না।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমাদের ত্রাণকর্তা যিশুখ্রিষ্ট মৃত্যু বিনষ্ট করেছেন,
এবং সুসমাচারের মাধ্যমে জীবন উদ্ভাসিত করেছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৫:২১-৪৩

একদিন যিশু সমুদ্র পার হয়ে এলে তাঁর চারপাশে বহু লোকের ভিড় জমতে লাগল; আর তিনি সমুদ্রতীরে থাকলেন। তখন যাইরুস নামে সমাজগৃহের একজন অধ্যক্ষ এসে তাঁকে দেখে তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ে বহু মিনতি করে বললেন, ‘আমার মেয়েটি মরণাপন্ন অবস্থায়, আপনি এসে তার উপর হাত রাখুন, যেন সে পরিত্রাণ পেয়ে বাঁচে।’ তিনি তাঁর সঙ্গে চললেন; বহু লোকও তাঁর পিছু পিছু চলল ও তাঁর চারপাশে ভিড়ের চাপ সৃষ্টি হল।
তখন বারো বছর ধরে রক্তস্রাবে আক্রান্ত এমন একজন স্ত্রীলোক ছিল যে অনেক চিকিৎসকের বহু যন্ত্রণাময় চিকিৎসার অধীন হয়েছিল, এবং তার সর্বস্ব ব্যয় করেও তার কোন উপকার হয়নি, বরং আরও অধিক পীড়িত হয়েছিল। সে যিশুর কথা শুনে ভিড়ের মধ্য দিয়ে তাঁর পিছন থেকে এসে তাঁর পোশাক স্পর্শ করল; কারণ সে ভাবছিল, ‘তাঁর পোশাক-মাত্র স্পর্শ করলেই আমি পরিত্রাণ পাব।’ আর তখনই তার রক্তস্রাব শুকিয়ে গেল, আর সে যে ওই রোগ থেকে মুক্ত হয়েছে, তা নিজের শরীরে টের পেল।
যিশু তখনই অন্তরে জানতে পারলেন যে, তাঁর মধ্য থেকে একটা শক্তি বেরিয়ে গেছে, তাই ভিড়ের মধ্যে ফিরে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘কে আমার পোশাক স্পর্শ করল?’ তাঁর শিষ্যেরা বললেন, ‘আপনি তো দেখছেন, আপনার চারপাশে লোকদের কী চাপ, তবু বলছেন, কে আমাকে স্পর্শ করল?’ কিন্তু তিনি চারদিকে তাকিয়ে দেখতে থাকলেন, কেইবা তেমনটি করল। পরে সেই স্ত্রীলোক তার কী ঘটেছে বুঝতে পেরে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তাঁর সামনে এগিয়ে এসে তাঁর পায়ে পড়ল ও সমস্ত সত্য বলে ফেলল। তিনি তাকে বললেন, ‘কন্যা, তোমার বিশ্বাস তোমার পরিত্রাণ সাধন করেছে; শান্তিতে যাও, ও তোমার রোগ থেকে মুক্ত হয়ে থাক।’
তিনি তখনও কথা বলছেন, সেসময় সমাজগৃহের অধ্যক্ষের বাড়ি থেকে লোক এসে বলল, ‘আপনার মেয়েটি মারা গেছে, গুরুকে আর কেন কষ্ট দিচ্ছেন?’ কিন্তু যিশু সেকথা শুনতে পেয়ে সমাজগৃহের অধ্যক্ষকে বললেন, ‘ভয় করবেন না, কেবল বিশ্বাস করুন।’ এবং পিতর, যাকোব ও যাকোবের ভাই যোহনকে ছাড়া তিনি আর কাউকেই নিজের সঙ্গে যেতে দিলেন না; তাই তাঁরা সমাজগৃহের অধ্যক্ষের বাড়িতে এলে তিনি দেখলেন, কোলাহল হচ্ছে ও লোকেরা কাঁদছে ও হাহাকার করছে।
ভিতরে গিয়ে তিনি তাদের বললেন, ‘তোমরা এত কোলাহল ও কান্নাকাটি করছ কেন? মেয়েটি তো মারা যায়নি, ঘুমিয়ে রয়েছে।’ কিন্তু তারা তাঁকে উপহাস করল; তাই তিনি সকলকে বের করে দিয়ে মেয়েটির পিতামাতাকে ও নিজের সঙ্গীদের নিয়ে, মেয়েটি যেখানে ছিল, সেই স্থানে প্রবেশ করলেন; এবং মেয়েটির হাত ধরে তাকে বললেন, ‘তালিথা কুম্‌, যার অর্থ দাঁড়ায়: খুকি, তোমাকে বলছি, উঠে দাঁড়াও।’ মেয়েটি তখনই উঠে দাঁড়িয়ে হেঁটে বেড়াতে লাগল—তার বয়স বারো বছর ছিল। তারা তখনই গভীর বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়ল; আর তিনি তাদের কড়া আদেশ দিলেন, কেউই যেন ঘটনাটা জানতে না পারে, আর মেয়েটিকে কিছু খাবার দিতে বললেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু পিতর খ্রিসোলগের উপদেশ

প্রিয়তম ভাইবোনেরা, সুসমাচারের সমস্ত বর্ণনা বর্তমান ও ভাবী জীবনের যত মহাদান অর্পণ করে। কিন্তু আজকের পাঠ আশা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় নিবেদন করে ও নিরাশার যে কোন কারণ বাতিল করে দেয়। আমরা কিন্তু এখন সেই সমাজগৃহের অধ্যক্ষের কথা বলব যিনি খ্রিষ্টকে নিজ মেয়েটির কাছে নিয়ে যাওয়ায় একটি নারীকে খ্রিষ্টের কাছে যেতে সুযোগ দেন। আজকের পাঠ এভাবে শুরু হয়: সমাজগৃহের একজন অধ্যক্ষ এসে তাঁকে দেখে তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ে বহু মিনতি করে বললেন, আমার মেয়েটি মরণাপন্ন অবস্থায়, আপনি এসে তার উপর হাত রাখুন, যেন সে পরিত্রাণ পেয়ে বাঁচে (মার্ক ৫:২২, ২৩)। ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে জানা থাকায় খ্রিষ্ট জানতেন, সেই নারী তাঁর কাছে আসবে; আর সেই নারী থেকেই অধ্যক্ষটি শিখবেন, ঈশ্বরের পক্ষে এস্থান থেকে ওস্থানে যাওয়া, বা পথ ধরে চালিত হওয়া, কিংবা শারীরিক ভাবে উপস্থিত হওয়া দরকার নেই; বরং বিশ্বাস করতে হয়, তিনি সর্বস্থানে, সম্পূর্ণরূপে, সর্বকালে সমস্ত জায়গায় বিদ্যমান ও নিজ ইচ্ছা-বলে বিনা কষ্টেই সবকিছু সাধন করতে সক্ষম: তিনি শক্তি অপসারণ করেন না, বরং শক্তি দান করেন; হাত দিয়ে নয়, আজ্ঞা দিয়েই মৃত্যু থেকে বাঁচান; ঔষধ দ্বারা নয়, আদেশ দ্বারাই জীবন ফিরিয়ে দেন।
আমার মেয়েটি মরণাপন্ন অবস্থায়: আসুন (মার্ক ৫:২৩)। তার মানে, মেয়েটির মধ্যে এখনও জীবন-তাপ রয়েছে, এখনও কিছুটা শ্বাস নিচ্ছে, প্রাণ এখনও বের হয়নি, অধ্যক্ষের মেয়েটি এখনও আছে, মৃত্যুরাজ্য এখনও বালিকাটিকে দেখেনি; সুতরাং আপনি শীঘ্রই আসুন, যাতে তার প্রাণটাকে দেহের মধ্যে রাখতে পারেন। সেই অধ্যক্ষ সত্যি নির্বোধ, তিনি তো মনে করছিলেন, কেবল হাত দিয়ে মেয়েটিকে স্পর্শ করলেই খ্রিষ্ট তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারবেন। এজন্য বাড়িতে এসে খ্রিষ্ট যখন দেখলেন, সকলের কাছে বালিকাটি কেমন যেন ত্রাণের অতীত, তখন অবিশ্বাসী আত্মাদের বিশ্বাসে অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে বললেন, বালিকাটি মরেনি, কেবল ঘুমচ্ছে: তিনি তাই বললেন, তারা যেন বিশ্বাস করতে পারে যে ঘুম থেকে ওঠার চেয়ে মৃত্যু থেকে পুনরুত্থান করা সহজ। তিনি বললেন, মেয়েটি তো মারা যায়নি, ঘুমিয়ে রয়েছে (মার্ক ৫:৩৯)।
ঈশ্বরের কাছে মৃত্যু সত্যিই নিদ্রা স্বরূপ, কেননা একজনের দ্বারা যত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে আর একজন মানুষের নিদ্রাভঙ্গ হয়, তার চেয়ে তিনি অধিক ক্ষিপ্রতার সঙ্গে মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলেন; নিদ্রামগ্ন মানুষকে সতেজ করতে গিয়ে যত সময় লাগে, তার চেয়ে শীঘ্রই ঈশ্বর মরদেহের ঠাণ্ডা অঙ্গের মধ্যে জীবনদায়ী উত্তাপ সঞ্চার করতে পারেন। প্রেরিতদূতের কথা শোন: এক নিমেষে, চোখের পলকেই মৃতেরা পুনরুত্থান করবে (১ করি ১৫:৫২)।
পুনরুত্থান যে অতি শীঘ্রই ঘটবে, এ ধারণা ব্যাখ্যা করার জন্য উপযুক্ত ভাষা খুঁজে না পেয়ে প্রেরিতদূত উদাহরণের উপর নির্ভর করলেন; ঐশশক্তি যখন পুনরুত্থানের আগেও উপস্থিত, তখন তিনি কেমন করেই বা পুনরুত্থানের আকস্মিকতা বর্ণনা করতে পারতেন? আর যখন সনাতন মঙ্গলদানগুলিকে কালের কোন সীমা না রেখেই দেওয়া হয়, তখন কি করেই বা কালের কথা উল্লেখ করা যাবে? কাল যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমনি শাশ্বতকাল কালের সীমায় আবদ্ধ নয়।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১০৩
ধুয়ো:
প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
আমার অন্তরে যা কিছু আছে, ধন্য কর তাঁর পবিত্র নাম।

প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
আমার অন্তরে যা কিছু আছে, ধন্য কর তাঁর পবিত্র নাম।
প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
ভুলে যেয়ো না তাঁর সমস্ত উপকার:   [ধুয়ো]

তিনিই তো তোমার সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করেন,
তোমার সমস্ত রোগ-ব্যাধি নিরাময় করেন,
গহ্বর থেকে মুক্ত করেন তোমার জীবন,
তোমাকে কৃপা ও স্নেহে করেন মুকুট-ভূষিত,   [ধুয়ো]

তোমার আকাঙ্ক্ষা মঙ্গলদানে পরিতৃপ্ত করেন,
তাই তোমার যৌবন ঈগলের মত নবীন হয়ে ওঠে।
সকল অত্যাচারিতের প্রতি
ধর্মময়তা ও ন্যায়ই প্রভুর আচরণ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমরা যা অর্পণ ও গ্রহণও করেছি, সেই দিব্য সাক্রামেন্ত
আমাদের উজ্জীবিত করুক, যেন অচলা ভক্তিতে তোমার সঙ্গে মিলিত থেকে
আমরা এমন ফল দেখাতে পারি যা চিরস্থায়ী।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৪শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার পুত্রের অবমাননার মধ্য দিয়ে
তুমি পতিত জগৎকে উন্নতশির করেছ।
তাই তোমার ভক্তজন সকলকে পবিত্র আনন্দ মঞ্জুর কর,
পাপের দাসত্ব থেকে যাদের তুমি উদ্ধার করেছ,
তারা যেন শাশ্বত সুখের অংশীদার হতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী এজেকিয়েলের পুস্তক থেকে পাঠ (২:২-৫)

সেসময়ে আত্মা আমার মধ্যে প্রবেশ করে এমনটি করল যেন আমি পায়ে ভর করে দাঁড়াই; তখন যিনি আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন, আমি তাঁকে শুনলাম।
তিনি আমাকে বললেন, ‘আদমসন্তান, আমি ইস্রায়েল সন্তানদের কাছে, সেই বিদ্রোহী জাতির মানুষদের কাছে তোমাকে প্রেরণ করতে যাচ্ছি, যারা আমার প্রতি বিদ্রোহী হয়েছে। তারা ও তাদের পিতৃপুরুষেরা আমার বিরুদ্ধে অবাধ্যতা দেখিয়ে আসছে, আজ পর্যন্তও দেখাচ্ছে। যাদের কাছে আমি তোমাকে প্রেরণ করতে যাচ্ছি, সেই সন্তানেরা জেদি ও তাদের হৃদয় কঠিন। তাদের তুমি বলবে: প্রভু পরমেশ্বর একথা বলছেন। তারা শুনুক বা না শুনুক—তারা তো বিদ্রোহী বংশ!—তবু কমপক্ষে এ জানতে পারবে যে, তাদের মধ্যে একজন নবী রয়েছে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১২৩
ধুয়ো:
প্রভুর দিকেই নিবদ্ধ আমাদের চোখ,
তিনি যেন আমাদের দয়া করেন।

আমি চোখ তুলি তোমার দিকে,
তুমি যে স্বর্গে আসীন।
দেখ, দাসদের চোখ যেমন গৃহকর্তার হাতের দিকে,
দাসীর চোখ যেমন গৃহিণীর হাতের দিকে;   [ধুয়ো]

তেমনি আমাদের চোখ আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর দিকে,
তিনি যেন আমাদের দয়া করেন।
আমাদের দয়া কর, প্রভু,
আমাদের দয়া কর!   [ধুয়ো]

আমরা বিদ্রূপে অত্যন্ত পরিপূর্ণ।
সত্যি, আমাদের প্রাণ অত্যন্ত পরিপূর্ণ:
আত্মতৃপ্ত মানুষেরা আমাদের
অবিরতই উপহাস করে।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (১২:৭-১০)

প্রিয়জনেরা, আমি যে ঐশপ্রকাশ পেয়েছি, সেই ঐশপ্রকাশের মহত্ত্বের জন্য যেন দর্প না করি সেজন্য আমার মাংসে একটা কাঁটা রাখা হয়েছে—তা শয়তানের এক দূত, সে যেন আমাকে ঘুষি মারতে থাকে পাছে আমি দর্প করি।
এবিষয় নিয়ে আমি তিন তিনবারই প্রভুকে মিনতি করেছি, সে যেন আমাকে ছেড়ে যায়। কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, ‘আমার অনুগ্রহ তোমার পক্ষে যথেষ্ট! আমার পরাক্রম দুর্বলতায় সিদ্ধিলাভ করে।’
তাই আমি বরং আমার সমস্ত দুর্বলতা নিয়েই সানন্দে গর্ব করব, যেন খ্রিষ্টের পরাক্রম আমার উপর অধিষ্ঠান করতে পারে। এজন্যই খ্রিষ্টের খাতিরে আমি সমস্ত দুর্বলতা, অপমান, দুর্গতি, নির্যাতন ও সঙ্কটের মধ্যে তৃপ্তিই পাই, কেননা যখন আমি দুর্বল, তখনই পরাক্রমী!
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
প্রভুর আত্মা আমার উপর অধিষ্ঠিত,
তিনি দীনদুঃখীদের কাছে শুভসংবাদ দিতে প্রেরণ করেছেন আমায়।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:১-৬)

সেসময়ে যিশু নিজের দেশে এলেন ও তাঁর শিষ্যেরা তাঁর অনুসরণ করলেন।
সাব্বাৎ দিন এলে তিনি সমাজগৃহে উপদেশ দিতে লাগলেন, আর অনেকে তাঁর কথা শুনে বিস্ময়মগ্ন হয়ে বলছিল, ‘এসব কিছু কোথা থেকেই বা এর কাছে আসে? এই যে প্রজ্ঞা একে দেওয়া হয়েছে ও এর হাত দিয়ে এই যে পরাক্রম-কর্মগুলো সাধিত হয়ে থাকে, এই সব আবার কী? এ কি সেই ছুতোর নয় যে মারীয়ার ছেলে, যাকোব, যোসেস, যুদা ও সিমোনের ভাই? এর বোনেরাও কি আমাদের এখানে নেই?’ এতে তিনি তাদের পতনের কারণ ছিলেন।
যিশু তাদের বললেন, ‘নবী কেবল নিজের দেশে, নিজের আপনজন ও পরিবার-পরিজনদের মধ্যেই অসম্মানিত!’ আর তিনি সেখানে কোন পরাক্রম-কর্ম সাধন করতে পারলেন না, কেবল কয়েকজন পীড়িত লোকের উপরে হাত রেখে তাদের নিরাময় করলেন। তাদের অবিশ্বাসের জন্য তিনি আশ্চর্য হলেন।
তিনি চারদিকে গ্রামে গ্রামে ঘুরে উপদেশ দিতেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে বিশপ সাধু আগস্তিনের ব্যাখ্যা

ভাইবোনেরা, প্রভুর বাণী শোন; শোন কেমন করে তিনি আপন বাণী সপ্রমাণ করলেন ও তারা কী উত্তর দিল: এ যে কোথা থেকে এসেছে, আমরা তা জানি; আর খ্রিষ্ট যখন আবির্ভূত হবেন, তখন কেউ জানতে পারবে না, তিনি কোথা থেকে আসেন (যোহন ৭:২৭)। তাই যিশু মন্দিরে উপদেশ দিতে দিতে জোর গলায় বলে উঠলেন, তোমরা আমাকে জান বটে, আর আমি যে কোথা থেকে এসেছি, তাও জান। কিন্তু আমি নিজে থেকে আসিনি, বরং সত্যকার যিনি, তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন; তাঁকেই তোমরা জান না (যোহন ৭:২৮)। এর অর্থ হল, তোমরা আমাকে জান, আবার আমাকে জান না। আমি যে কোথা থেকে আসি তা তোমরা জান, আবার জান না। আমি যে কোথা থেকে আসি, তা তোমরা জান: আমি তো নাজারেথের যিশু, আর তোমরা আমার পিতামাতাকেও জান। এতে কেবল কুমারীর প্রসবের বিষয়টাই গুপ্ত ছিল, তথাপি বিষয়টির সাক্ষী ছিলেন তাঁর স্বামীই: স্বামী হিসাবে যিনি যত্ন নিয়েছিলেন, তিনিই মাত্র সে কথা বিশ্বস্তভাবে বর্ণনা করতে পারতেন। সুতরাং, কুমারীর প্রসবের কথা ছাড়া তারা মানব-যিশু সম্বন্ধে সবই জানত: তাঁর চেহারা জানা ছিল, তাঁর দেশ জানা ছিল, তাঁর বংশ জানা ছিল, তাঁর জন্মস্থান জানা ছিল। এজন্য তিনি নিজের মানবস্বরূপ ও চেহারা অনুসারে সঠিক ভাবেই বলেছিলেন, তোমরা আমাকে জান বটে আর আমি যে কোথা থেকে এসেছি তাও জান: কিন্তু ঐশস্বরূপ সম্বন্ধে তিনি বলেছিলেন, আমি নিজে থেকে আসিনি, বরং সত্যকার যিনি, তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন; তাঁকেই তোমরা জান না; কিন্তু তোমরা যেন তাঁকে জানতে পার, তিনি যাঁকে প্রেরণ করেছেন তাঁকে বিশ্বাস কর, তবেই তাঁকে জানতে পারবে। কেননা ঈশ্বরকে কেউ কখনও দেখেনি; সেই একমাত্র পুত্র যিনি পিতার কোলে বিরাজমান, তিনিই তাঁর প্রকৃত বর্ণনা দিয়েছেন (যোহন ১:১৮); পিতাকে কেউই জানে না সেই পুত্র ছাড়া ও তারাই ছাড়া, যাদের কাছে পুত্র নিজেই তাঁকে প্রকাশ করতে ইচ্ছা করেন (মথি ১১:২৭)।
পরিশেষে তিনি বলেছিলেন, সত্যকার যিনি, তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন; তাঁকেই তোমরা জান না; আর তারা যা জানত না, কার্‌ কাছ থেকে যে তা জানতে পারবে, এ উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, আমি তাঁকে জানি (যোহন ৭:২৯); সুতরাং তাঁকে জানবার জন্য আমার কাছেই জিজ্ঞাসা কর। কেন আমি তাঁকে জানি? কারণ আমি তাঁরই কাছ থেকে আগত, আর তিনিই আমাকে প্রেরণ করেছেন (যোহন ৭:২৯)। ভাল করে লক্ষ কর, তিনি কেমন করে উভয়েরই কথা উল্লেখ করেন: তিনি বললেন, আমি তাঁরই কাছ থেকে আগত, কারণ আমি পিতা থেকে আগত পুত্র, আর পুত্রের যা কিছু আছে, তা তাঁরই, তিনি যাঁর পুত্র; এজন্য আমরা প্রভু যিশুকে ঈশ্বর থেকে আগত ঈশ্বর বলি, কিন্তু পিতার বেলায় ঈশ্বর থেকে আগত ঈশ্বর বলি না, কেবল ঈশ্বরই বলি। প্রভু যিশুকে আমরা আলো থেকে আগত আলোও বলি, কিন্তু পিতার বেলায় আলো থেকে আগত আলো বলি না, কেবল আলোই বলি। এজন্যই তিনি বললেন, আমি তাঁর কাছ থেকে আগত। আর তোমরা এই যে দেহে আমাকে দেখতে পাও, সেই দেহে তিনিই আমাকে প্রেরণ করেছেন। তিনি যখন বলেন, তিনিই আমাকে প্রেরণ করেছেন, তখন তুমি মনে করো না, তাঁদের স্বরূপ ভিন্ন; বরং জনকেশ্বরের অধিকার উপলব্ধি কর।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আশীর্বাদ কর: তোমার অগণন মঙ্গলদানে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে
আমরা যেন পরিত্রাণের পুরস্কার লাভ ক’রে
তোমার প্রশংসাগান থেকে কখনও বিরত না থাকি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৫শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, পথভ্রান্ত হলে মানুষ যেন শুভ পথে ফিরে যেতে পারে,
এজন্য তুমি তোমার সত্যের আলো জ্বালিয়ে রাখ।
আশীর্বাদ কর: খ্রিষ্টবিশ্বাসী বলে যারা নিজেদের পরিচয় দেয়,
তারা যেন সেই সমস্ত কর্ম পরিত্যাগ করে যা ‘খ্রিষ্ট’ নামের প্রতিকূল,
এবং তা-ই পালন করে যা সেই নামের অনুকূল।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী আমোসের পুস্তক থেকে পাঠ (৭:১২-১৫)

[সেসময়ে বেথেল-নিবাসী যাজক] আমাজিয়া আমোসকে বলল, ‘হে দৈবদ্রষ্টা, চলে যাও, যুদা দেশে গিয়ে আশ্রয় নাও: সেইখানে তোমার রুটি খেতে পারবে, সেইখানে ভাববাণী দিতে পারবে; কিন্তু বেথেলে আর ভাববাণী দিয়ো না, কারণ এ রাজকীয় পবিত্রধাম ও রাজকীয় মন্দির।’
তখন আমোস উত্তরে আমাজিয়াকে বললেন, ‘আমি তো নবী ছিলাম না, কোন নবী-সঙ্ঘের সদস্যও ছিলাম না; আমি শুধু এক রাখাল ছিলাম, ও ডুমুরগাছ চাষ করতাম। কিন্তু প্রভু আমাকে গবাদি পশুর পিছন থেকে নিলেন, এবং প্রভু আমাকে বললেন, যাও, আমার আপন জনগণ ইস্রায়েলের কাছে ভাববাণী দাও।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৮৫
ধুয়ো:
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা,
আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।

আমি শুনব প্রভু ঈশ্বর কী কথা বলবেন;
আপন জনগণের কাছে, আপন ভক্তদের কাছে তিনি বলেন শান্তি।
যারা তাঁকে ভয় করে, তাদের জন্য কাছেই রয়েছে তাঁর পরিত্রাণ,
আমাদের এ দেশে তাঁর গৌরব করবে বসবাস।   [ধুয়ো]

কৃপা ও সত্যের হবে সম্মিলন,
ধর্মময়তা ও শান্তি করবে পরস্পর চুম্বন;
মর্ত থেকে সত্য হবে অঙ্কুরিত,
স্বর্গ থেকে ধর্মময়তা বাড়াবে মুখ।   [ধুয়ো]

সত্যিই প্রভু দান করবেন মঙ্গল,
আর আমাদের ভূমি দান করবে তার আপন ফসল।
তাঁর আগে আগে ধর্মময়তা চলবে,
আর শান্তি সেই পথে পদার্পণ করবে।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১:৩-১৪)

ধন্য ঈশ্বর, আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের পিতা,
যিনি স্বর্গলোকে যত আত্মিক আশীর্বাদে
খ্রিষ্টে আমাদের আশিসধন্য করেছেন।
জগৎপত্তনের আগেই তিনি খ্রিষ্টে আমাদের বেছে নিয়েছিলেন,
আমরা যেন ভালবাসায় তাঁর সামনে পবিত্র ও অনিন্দ্য হয়ে উঠতে পারি;
তিনি আগে থেকে আমাদের বিষয়ে নিরূপণ করেছিলেন,
যিশুখ্রিষ্টের মাধ্যমে আমরা তাঁর দত্তকপুত্র হয়ে উঠব;
এমনটি তিনি করেছিলেন তাঁর প্রসন্নতা ও মঙ্গল-ইচ্ছা অনুসারে,
তাঁর সেই অনুগ্রহের গৌরবের প্রশংসায়,
যে অনুগ্রহ দানে
তিনি তাঁর সেই প্রিয়জনে আমাদের অনুগৃহীত করেছেন,
যাঁর মধ্যে আমরা তাঁর রক্ত দ্বারা লাভ করি মুক্তি, লাভ করি পাপমোচন,
তাঁর সেই অনুগ্রহের ঐশ্বর্য অনুসারে,
যে অনুগ্রহ তিনি পূর্ণ প্রজ্ঞা ও ধীশক্তিতে
আমাদের উপরে অপর্যাপ্ত মাত্রায় বর্ষণ করেছেন।
তিনি আমাদের জানিয়েছেন তাঁর মঙ্গল-ইচ্ছার রহস্য,
যা তাঁর প্রসন্নতা অনুসারে আগে থেকেই
তিনি খ্রিষ্টে স্থির করে রেখেছিলেন
কাল পূর্ণ হলেই তা রূপায়িত করবেন ব’লে:
স্বর্গে ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে,
সমস্তই তিনি এক মাথায়, সেই খ্রিষ্টে, সম্মিলিত করবেন।
তাঁর মধ্যে আমরা আমাদের উত্তরাধিকারের অংশ পেয়েছি,
কারণ যিনি নিজের ইচ্ছা অনুসারেই
সমস্ত কিছু সক্রিয়ভাবে ঘটিয়ে থাকেন,
তাঁর পরিকল্পনামত আমরা আগে থেকে খ্রিষ্টে নিরূপিত হয়েছিলাম,
যেন, তাঁর গৌরবের প্রশংসায়,
খ্রিষ্টের আগমনের আগে আমরাই সেই জনগণ হয়ে উঠি
তাঁর উপর প্রত্যাশা রাখি যারা।
তাঁর মধ্যে তোমরাও সত্যের সেই বাণী,
তোমাদের পরিত্রাণের সেই সুসমাচার শুনে,
এবং তাঁর উপর বিশ্বাসও রেখে
প্রতিশ্রুতির সেই পবিত্র আত্মারই মুদ্রাঙ্কনে চিহ্নিত হয়েছ
যিনি আমাদের উত্তরাধিকারের অগ্রিম দানস্বরূপ,
তাদেরই পূর্ণ মুক্তির উদ্দেশে ঈশ্বর যাদের নিজের জন্য কিনেছেন,
নিজের গৌরবের প্রশংসায়।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের পিতা
আমাদের অন্তর্দৃষ্টি আলোকিত করে তুলুন
যেন উপলব্ধি করতে পারি
তাঁর আহ্বানের প্রত্যাশা কী।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:৭-১৩)

একদিন যিশু সেই বারোজনকে কাছে ডেকে দু’জন দু’জন করে তাঁদের প্রেরণ করতে শুরু করলেন ও তাঁদের অশুচি আত্মাদের উপরে অধিকার দিলেন; এবং এই নির্দেশ দিলেন তাঁরা যেন পথের জন্য লাঠি ছাড়া আর কিছু না নেন: রুটিও নয়, ঝুলিও নয়, কোমরের কাপড়ে পয়সা-কড়িও নয়; তবে তাঁদের পায়ে থাকবে জুতো, কিন্তু পরনের জন্য দু’টো জামা সঙ্গে নেবেন না।
তিনি তাঁদের আরও বললেন, ‘তোমরা যে কোন স্থানে যে বাড়িতে প্রবেশ কর, সেই স্থান থেকে চলে না যাওয়া পর্যন্ত সেই বাড়িতে থাক। আর যেখানে লোকে তোমাদের গ্রহণ না করে ও তোমাদের কথাও না শোনে, সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময়ে তাদের উদ্দেশে সাক্ষ্যস্বরূপ তোমরা পায়ের ধুলো ঝেড়ে ফেল।’
তাই তাঁরা রওনা হয়ে এমন কথা প্রচার করছিলেন যেন লোকে মনপরিবর্তন করে। আর তাঁরা বহু অপদূত তাড়াতেন ও অনেক পীড়িত লোককে তেল মাখিয়ে নিরাময় করতেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
মহাপ্রাণ সাধু গ্রেগরি-লিখিত ‘সুসমাচারে উপদেশাবলি’

তোমরা থলি বা ঝুলি বা জুতো সঙ্গে নিয়ে যেয়ো না; পথে কারও সঙ্গে কুশল আলাপ করো না (লুক ১০:৪)। বাণীপ্রচারককে ঈশ্বরে এমন ভরসা রাখতে হবে যাতে তিনি নিশ্চিত হন যে, বর্তমান জীবন সম্বন্ধে চিন্তা না করেও তাঁর কোন অভাব হবে না; এমনটি হওয়া উচিত, পাছে তাঁর চিন্তা সাংসারিক বিষয়ের দিকে ধাবিত হলে তিনি পরের কাছে সনাতন বিষয় বিতরণ করায় অবহেলা করেন।
যে কোন বাড়িতে প্রবেশ করবে, প্রথমে বল, এই গৃহে শান্তি বিরাজ করুক। সেখানে যদি শান্তির সন্তান থাকে, তবে তোমাদের শান্তি তার উপরে থাকবে, অন্যথা তোমাদের কাছে ফিরে আসবে (লুক ১০:৫-৬)।
শান্তির সন্তান থাকলে, বাণীপ্রচারকের শান্তি সেই গৃহে থাকবে, অন্যথা শান্তি প্রচারকের কাছে ফিরে আসবে; কেননা সেই গৃহে হয় অনন্ত জীবন লাভের উপযুক্ত এমন ব্যক্তি থাকবে যে ঐশবাণী শুনে তা পালন করে, না হয় বাণী শুনতে কেউ সম্মত না হলেও প্রচারক ফলহীন হয়ে থাকবে না—বস্তুতপক্ষে শান্তি তাঁর কাছে ফিরে আসবে, কারণ প্রভু তাঁকে শ্রমের উপযুক্ত মজুরি দেবেন।
তাছাড়া প্রভু থলি কি ঝুলি সঙ্গে নিয়ে যেতে বারণ দেন; তবু প্রচারের মধ্য দিয়ে জীবিকার্জনের উপায় মঞ্জুর করেন: তোমরা সেই বাড়িতেই থাক: তারা যা দেয়, তা-ই খাও, তা-ই পান কর, কেননা কর্মী নিজের মজুরির যোগ্য (লুক ১০:৭)। আমাদের শান্তি-আশীর্বাদ গৃহীত হলে, তবে তারা যা কিছু দেয় তা খেয়ে ও পান করে সেই বাড়িতে থাকা ন্যায্য, যাদের কাছে আমরা স্বর্গীয় পিতার মঙ্গলদানগুলি অর্পণ করি, তাদের কাছ থেকে যেন পার্থিব প্রতিদান পাই। তবু এ পৃথিবীতে যে মজুরি পাই, তার উদ্দেশ্য হল, আমরা যেন ভাবী জীবনের জন্য আরও তৎপর হয়ে উঠি। ফলে বৃদ্ধ প্রচারক যেন এ পৃথিবীতেই পুরস্কার পাবার লক্ষ্যে প্রচার না করেন, কিন্তু তিনি যেন উত্তরোত্তর প্রচারকর্ম চালিয়ে যেতে পারেন, এ উদ্দেশ্যেই তিনি প্রচার করবেন।
কেননা এই মর্তেই পুরস্কার কি উপহার পাবার জন্য যিনি প্রচারকর্ম চালান, কোন সন্দেহ নেই: তিনি সনাতন পুরস্কার থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেন। কিন্তু নিজের বাণীর মধ্য দিয়ে নিজের প্রতি নয়, প্রভুভক্তিরই প্রতি মানুষকে আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে যিনি শ্রোতাদের সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করেন, কিংবা প্রচারকর্ম দ্বারা পরিশ্রান্ত না হবার জন্য যিনি দরিদ্রতার কারণে মজুরি গ্রহণ করেন, তিনি জীবনকালে যা কিছু প্রয়োজন তাই শুধু গ্রহণ করেছেন বিধায় স্বর্গীয় মাতৃভূমিতে নিঃসন্দেহেই যোগ্য পুরস্কার লাভ করবেন।
হে পালক সকল, আমরা কিন্তু কী করছি? আমরা তো মজুরি পাচ্ছি, অথচ কর্মী নই! এমনকি, পবিত্র মণ্ডলীর কাছ থেকে আমরা দৈনিক মজুরি হিসাবে ভাতাও পাচ্ছি, অথচ সনাতন মণ্ডলীর জন্য বাণীপ্রচার করতে পরিশ্রম করি না! পরিশ্রম না করে শ্রমের মজুরি পাওয়া—এসো, চিন্তা করি তেমন অবস্থা কত দণ্ডনীয় না হবে! দেখ, আমরা ভক্তদের চাঁদায় বাঁচি, কিন্তু তাদের আত্মাদের জন্য কবেই বা পরিশ্রম করি? নিজেদের পাপমোচনের জন্য ভক্তরা যা দান করেছে, মজুরি হিসাবে আমরাই তা পাই, তথাপি যা ন্যায্য তথা সেই পাপের বিরুদ্ধে প্রচার করা ও তার জন্য প্রার্থনা করা, আমরা তা করি না।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৮৪
ধুয়ো:
চড়ুই পাখিও খুঁজে পায় বাসা, দোয়েলও পায় শাবকদের রেখে যাওয়ার নীড়—
সেই তো তোমার বেদি, হে সেনাবাহিনীর প্রভু, হে আমার রাজা, হে আমার পরমেশ্বর।

সুখী তারা, যারা বাস করে তোমার গৃহে,
তারা তোমার প্রশংসা নিত্যই করে থাকে।
সুখী তারা, তোমাতেই যাদের শক্তি,
যাদের অন্তরে বিরাজিত তোমার যত পথ।   [ধুয়ো]

গন্ধতরুর উপত্যকা পেরিয়ে যেতে যেতে তারা তা ঝরনায় পরিণত করে,
প্রথম বৃষ্টিও তা ভূষিত করে আশিসধারায়;
প্রাকার প্রাকার তারা এগিয়ে চলে,
যতক্ষণ না দেবতাদের দেবতা সিয়োনেই দর্শন দেন।   [ধুয়ো]

হে প্রভু, সেনাবাহিনীর পরমেশ্বর, আমার প্রার্থনা শোন,
কান দাও, হে যাকোবের পরমেশ্বর।
হে পরমেশ্বর, হে আমাদের ঢাল, চেয়ে দেখ,
দেখ তোমার তৈলাভিষিক্তজনের মুখের দিকে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এ দিব্য উপহার গ্রহণ করে আমরা তোমাকে অনুনয় করি:
এ মহারহস্যে দৈনন্দিন যোগদানের ফলে
আমরা যেন তোমার পরিত্রাণকর্মের পূর্ণ সার্থকতা উপলব্ধি করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৬শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, করুণাবিষ্ট হয়ে তোমার অনুগ্রহের দানগুলি
অপর্যাপ্ত মাত্রায় তোমার মণ্ডলীর উপর বর্ষণ কর,
তারা যেন উদ্দীপ্ত বিশ্বাস, আশা ও ভালবাসার সঙ্গে
জাগ্রত অন্তরে তোমার আজ্ঞা পালনে নিষ্ঠাবান থাকতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী যেরেমিয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (২৩:১-৬)

প্রভু একথা বলছেন, ‘ধিক্‌ সেই পালকদের, যারা আমার পালের মেষগুলিকে বিনষ্ট ও বিক্ষিপ্ত করে।’—প্রভুর উক্তি।
এজন্য প্রভু, ইস্রায়েলের পরমেশ্বর, যে পালকেরা আমার জনগণকে চরাতে নিযুক্ত, তাদের সম্বন্ধে একথা বলছেন: ‘তোমরা আমার মেষদের বিক্ষিপ্ত করেছ, তাদের তাড়িয়ে দিয়েছ, তাদের জন্য চিন্তা করনি; দেখ, আমি তোমাদের ও তোমাদের দুর্ব্যবহারের জন্য চিন্তা করব!—প্রভুর উক্তি।
আমি যে সকল দেশে আমার পাল তাড়িয়ে দিয়েছি, সেখান থেকে তার অবশিষ্টাংশকে নিজেই জড় করব, তাদের চারণভূমিতে ফিরিয়ে আনব; তারা উর্বর হবে ও তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আমি তাদের জন্য এমন পালকদের উদ্ভব ঘটাব যারা তাদের চরাবে, যেন তাদের আর ভীত বা নিরাশ না হতে হয়; তাদের একটাও হারানো থাকবে না।’ প্রভুর উক্তি।
দেখ, এমন দিনগুলি আসছে—প্রভুর উক্তি—
যখন আমি দাউদের জন্য ধর্মময় এক অঙ্কুর উৎপন্ন করব;
তিনি প্রকৃত রাজারূপে রাজত্ব করবেন, হবেন সুবুদ্ধিসম্পন্ন,
দেশজুড়ে ন্যায় ও ধর্মময়তা অনুশীলন করবেন।
তাঁর দিনগুলিতে যুদা পরিত্রাণ পাবে
ও ইস্রায়েল ভরসাভরে বসবাস করবে;
তিনি এ নামেই আখ্যাত হবেন: “প্রভু-আমাদের-ধর্মময়তা।”
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ২৩
ধুয়ো:
প্রভু আমার পালক;
অভাব নেই তো আমার।

প্রভু আমার পালক;
অভাব নেই তো আমার।
আমায় তিনি শুইয়ে রাখেন নবীন ঘাসের চারণমাঠে,
আমায় নিয়ে যান শান্ত জলের কূলে;   [ধুয়ো]

তিনি সঞ্জীবিত করেন আমার প্রাণ,
তাঁর নামের খাতিরে আমায় চালনা করেন ধর্মপথে।
মৃত্যু-ছায়ার উপত্যকাও যদি পেরিয়ে যাই,
আমি কোন অনিষ্টের ভয় করি না, তুমি যে আমার সঙ্গে আছ।   [ধুয়ো]

তোমার যষ্টি, তোমার পাচনি আমাকে সান্ত্বনা দেয়।
আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট আমার শত্রুদের সামনে;
আমার মাথা তুমি তৈলসিক্ত কর;
আমার পানপাত্র উচ্ছলিত।   [ধুয়ো]

মঙ্গল ও কৃপাই হবে আমার সহচর
আমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে,
আমি প্রভুর গৃহে বাস করব
চিরদিনের মত!   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (২:১৩-১৮)

প্রিয়জনেরা, খ্রিষ্টযিশুতে, তোমরা যারা আগে দূরবর্তী ছিলে, খ্রিষ্টের রক্তগুণে নিকটবর্তী হয়েছ, কেননা তিনি নিজেই আমাদের শান্তি; তিনি বিধিনির্দেশের সেই বিধান আপন মাংসে বাতিল করায় সেই দুই জাতিকে এক করে তুলেছেন এবং বিচ্ছেদের মধ্যবর্তী প্রাচীর অর্থাৎ শত্রুতা ভেঙে ফেলেছেন, যেন সেই দুইকে নিয়ে তিনি নিজেতে এক-ই নতুন মানুষকে সৃষ্টি ক’রে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন; এবং ক্রুশ দ্বারা নিজেতে সেই শত্রুতা ধ্বংস করায় তিনি যেন ঈশ্বরের সঙ্গে উভয়কে একদেহে পুনর্মিলিত করতে পারেন।
তিনি এসে দূরবর্তী এই তোমাদের কাছে শান্তির, এবং নিকটবর্তীদেরও কাছে শান্তির শুভসংবাদ জানিয়েছেন। তাঁরই মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মানুষ এই আমরা এক আত্মায় পিতার কাছে প্রবেশাধিকার পেয়ে আছি।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমার মেষগুলি আমার কণ্ঠে কান দেয়—একথা বলছেন প্রভু;
তাদের আমি জানি আর তারা আমার অনুসরণ করে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:৩০-৩৪)

সেসময়ে প্রেরিতদূতেরা যিশুর কাছে ফিরে এসে সমবেত হলেন: তাঁরা যা কিছু করেছিলেন ও শিখিয়েছিলেন তা সবই তাঁকে জানালেন। তিনি তাঁদের বললেন, ‘একাকী হয়ে থাকবার জন্য তোমরা নির্জন এক স্থানে এসে কিছুকালের মত বিশ্রাম কর।’ কারণ এত লোক আসা-যাওয়া করছিল যে, তাঁরা খাওয়ার সময় পর্যন্ত পাচ্ছিলেন না।
তাই তাঁরা নৌকায় করে একটা নির্জন স্থানে রওনা হলেন যেখানে একাকী হয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু লোকেরা তাঁদের যেতে দেখল, ও অনেকে তাঁদের চিনতেও পারল, এবং হাঁটা-পথে নানা শহর থেকে সেখানে ছুটে তাঁদের আগে এসে পৌঁছল।
তাই তিনি যখন নৌকা থেকে নেমে এলেন, তখন বিপুল এক জনতাকে দেখলেন; তাদের প্রতি তিনি দয়ায় বিগলিত হলেন, কেননা তারা পালকবিহীন মেষপালের মত ছিল; তিনি অনেক বিষয়ে তাদের উপদেশ দিতে লাগলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
সেলেউকিয়ার বিশপ বাসিলের উপদেশ

মেষপালক হওয়ায় খ্রিষ্ট ন্যায়সঙ্গতভাবেই বলছিলেন, আমিই উত্তম মেষপালক। যে মেষ পথহারা আমি তাকে খোঁজ করব, যেটা পথভ্রষ্ট তাকে ফিরিয়ে আনব, যেটা ক্ষতবিক্ষত তার ক্ষতস্থান বেঁধে দেব, যেটা দুর্বল তাকে বলবান করব (এজে ৩৪:১৬)। আমি ইস্রায়েল-পালকে অমঙ্গলের হাতেই দেখলাম, আমি দেখলাম, তারা অপদূতদের আবাসে পতিত হচ্ছিল, অপদূতেরা তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করছিল।
বাস্তবিকই আমিই উত্তম মেষপালক: সেই ফরিসিরা নয়, যারা মেষগুলিকে ঈর্ষার চোখে দেখে; তারাও নয়, যারা পালের উপকার নিজেদের ক্ষতি মনে করে; তারাও নয়, যারা পরকে অমঙ্গল থেকে মুক্ত দে’খে দুঃখভোগ করে ও নিরাময় করা মেষগুলির জন্য শোক প্রকাশ করে। মৃত মানুষ পুনরুত্থান করছে, এতে ফরিসি কাঁদে; পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষ সুস্থ হয়ে উঠছে, এতে শাস্ত্রীরা অসন্তুষ্ট হয়; অন্ধ মানুষ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাচ্ছে, এতে যাজকেরা রেগে ওঠে; কুষ্ঠরোগী নিরাময় হচ্ছে, এতে যাজকেরা প্রতিবাদ করে। হায়, দুর্ভাগা পালের গর্বিত পালক, যারা পালের পীড়ায় আনন্দিত!
আমিই উত্তম মেষপালক। উত্তম মেষপালক মেষগুলির জন্য প্রাণ বিসর্জন দেয় (যোহন ১০:১১)।
আপন পালের জন্য মেষপালক মেষশাবকের মতই মৃত্যুর হাতে নিজেকে চালিত হতে দেন: মৃত্যুবরণ করতে অস্বীকার করেন না; প্রতিবাদ করেন না, নির্যাতকদের আক্রমণ করেন না। তাঁর যন্ত্রণাভোগ তো প্রয়োজন ছিলই না, তবু মেষগুলির জন্য তিনি স্বেচ্ছায় মৃত্যু গ্রহণ করলেন: প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার অধিকার আমার আছে, আর তা ফিরিয়ে নেবারও অধিকার আমার আছে (যোহন ১০:১৭, ১৮)। যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে তিনি অনিষ্টের প্রায়শ্চিত্ত করেন; নিজ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃত্যুর প্রতিকার সাধন করেন; সমাধির মধ্য দিয়ে সমাধি নিঃশেষ করেন; পাতালের লোহা ও ভিত্তিভূমি উৎপাটিত করেন। মৃত্যু বহুদিন থেকেই কর্তৃত্ব চালাচ্ছিল—যতক্ষণ না খ্রিষ্ট তাকে আঘাত করলেন; বহুদিন থেকেই সমাধি ভারী ও কারাবাস রুদ্ধ ছিল—যতক্ষণ না সেই মেষপালক যত শেকল ছিঁড়ে ফেলে বন্দি মেষগুলির কাছে মুক্তির শুভসংবাদ বয়ে আনলেন। পাতালে দেখা গেল, তিনি ফিরে যাওয়ার সঙ্কেত দিচ্ছিলেন, সেই সঙ্কেত যা সমাধি থেকে পুনরায় জীবনে আহ্বান করছিল।
উত্তম মেষপালক মেষগুলির জন্য প্রাণ বিসর্জন দেয় (যোহন ১০:১১)।
এ পথ দিয়েই তিনি মেষগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি করতে প্রস্তুতি নেন। তাছাড়া, যারা ভক্তিভরে তাঁর ডাক গ্রহণ করে, তাদের খ্রিষ্ট ভালইবাসেন।
মেষপালক হওয়ায় তিনি মেষগুলি থেকে ছাগ পৃথক করতে জানেন: এসো, আমার পিতার আশীর্বাদের পাত্র যে তোমরা, জগৎপত্তনের সময় থেকে যে রাজ্য তোমাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, তা উত্তরাধিকাররূপে গ্রহণ কর (মথি ২৫:৩৪)।
তেমন আহ্বান কিসের পুরস্কার? কারণ আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম আর তোমরা আমাকে খেতে দিয়েছিলে; তৃষ্ণার্ত ছিলাম আর আমাকে জল দিয়েছিলে; প্রবাসী ছিলাম আর আমাকে আশ্রয় দিয়েছিলে (মথি ২৫:৩৫)।
কেননা তুমি আমার ভাইদের যা দান কর, তা আমার কাছ থেকেই তো সংগ্রহ কর। তাদের জন্য আমি বস্ত্রহীন, প্রবাসী, নিরাশ্রয়, নিঃস্ব: তোমার দান তাদেরই জন্য, কিন্তু অনুগ্রহটি আমার। তাদের আর্তনাদে আমিই কষ্ট পাচ্ছি।
খ্রিষ্ট একথা জানেন, গরিবদের হাত ও তাদের দান তাঁকে জয় করে; তিনি এও জানেন যে, ক্ষুদ্র একটা দানের বিনিময়ে তিনি দীর্ঘকালীন যন্ত্রণা মাপ করেন। সুতরাং এসো, নরকের আগুন দয়াধর্মেই নিভিয়ে দিই, পারস্পরিক ভালবাসার অনুশীলন করে আমাদের কাছ থেকে যত হুমকি দূর করে দিই, করুণার প্রতি হৃদয় উন্মোচিত করি, কেননা আমরা নিজেরাই ঈশ্বর থেকে সেই খ্রিষ্টে অনুগ্রহ পেয়েছি, যাঁর গৌরব ও পরাক্রম হোক যুগে যুগান্তরে। আমেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১১১
ধুয়ো:
দয়াবান স্নেহশীল প্রভু আপন আশ্চর্য কর্মকীর্তির এক স্মারক চিহ্ন দেন:
যারা তাঁকে ভয় করে, তিনি তাদের খাদ্য দান করেন।

াঁর হাতের কর্মকীর্তি বিশ্বস্ততা ও ন্যায়বিচার-মণ্ডিত,
তাঁর সকল আদেশ বিশ্বাসযোগ্য,
তা দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত চিরদিন চিরকাল ধরে,
বিশ্বস্ততা ও ন্যায়নীতিতেই সাধিত।   [ধুয়ো]

তাঁর আপন জাতির কাছে তিনি মুক্তি পাঠিয়ে দিলেন,
আপন সন্ধি জারি করলেন চিরকালের মত;
তাঁর নাম পবিত্র, ভয়ঙ্কর,
প্রভুভয়ই প্রজ্ঞার সূত্রপাত।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, প্রসন্ন হয়ে তোমার জনগণের সহায় হও।
যখন তাদের স্বর্গীয় রহস্যময় অন্নে পরিপূর্ণ করেছ,
তখন প্রাচীন জীবনধারণ থেকে
জীবনের নবীনতায়ই তাদের উপনীত কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৭শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, হে শরণাগত ভক্তদের রক্ষাকর্তা,
তুমি ছাড়া এজগতে চিরস্থায়ী ও পবিত্র বলতে কোন কিছুই নেই।
আমাদের উপর তোমার করুণাধারা বর্ষণ কর:
তুমি নিজে আমাদের নিয়ন্তা ও পথদিশারী হলে
আমরা যেন এ অস্থায়ী শুভদানগুলি এমনভাবে ব্যবহার করি
যার ফলে এজীবনকালেও চিরস্থায়ী মঙ্গলদানগুলির অধিকারী হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
রাজাবলির দ্বিতীয় পুস্তক থেকে পাঠ (৪:৪২-৪৪)

একদিন বায়াল-শালিশা থেকে একজন লোক এল, সে পরমেশ্বরের মানুষের কাছে ফসলের প্রথমাংশ হিসাবে কুড়িখানা যবের রুটি নিয়ে এল; সেই সঙ্গে নিয়ে এল থলিতে করে নতুন গমের শস্য। এলিসেয় বললেন, ‘ওগুলো লোকদের দিয়ে দাও, তারা খেয়ে নিক।’ কিন্তু যে লোক খাবার পরিবেশন করছিল, সে বলল, ‘একশ’ লোকের সামনে আমি তা কী করে দেব?’
এলিসেয় আবার বললেন, ‘ওগুলো লোকদের দিয়ে দাও, তারা খেয়ে নিক; কারণ প্রভু একথা বলছেন: তারা খাবে আর কিছু খাবার পড়েও থাকবে।’
তাই চাকরটি লোকদের পরিবেশন করতে লাগল। সকলে খেল আর কিছু খাবার পড়েও থাকল, ঠিক যেমনটি প্রভু বলেছিলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৪৫
ধুয়ো:
তুমি যেই খোল হাত,
আমাদের পরিতৃপ্ত কর।

প্রভু, তোমার সকল কাজ করবে তোমার স্তুতি;
তোমার ভক্তরা তোমাকে বলবে ধন্য।
তারা বলে যাবে তোমার রাজ্যের গৌরব,
প্রচার করবে তোমার পরাক্রম।   [ধুয়ো]

সকলের চোখ তোমার দিকে চেয়ে থাকে,
যথাসময়ই তুমি তাদের খাদ্য দান কর।
তুমি যেই খোল হাত,
যত জীবের বাসনা পূর্ণ কর।   [ধুয়ো]

প্রভু সকল পথে ধর্মময়,
সকল কাজে কৃপাময়।
যারা তাঁকে ডাকে, অন্তর দিয়েই তাঁকে ডাকে,
প্রভু তাদের সকলের কাছে কাছেই থাকেন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৪:১-৬)

প্রিয়জনেরা, প্রভুতে সেই বন্দি এই আমি তোমাদের আবেদন জানাচ্ছি, তোমরা যে আহ্বানে আহূত হয়েছ, তারই যোগ্য ভাবে চল: সম্পূর্ণ বিনম্রতা ও কোমলতার সঙ্গে, এবং সহিষ্ণুতার সঙ্গে চল, ভালবাসায় পরস্পরের প্রতি ধৈর্যশীল হও, শান্তির বন্ধনেই আত্মার ঐক্য রক্ষা করতে যত্নবান হও।
দেহ এক, এবং আত্মা এক, যেমন তোমাদের আহ্বানের সেই প্রত্যাশাও এক, যে প্রত্যাশায় তোমরা আহূত হয়েছ। প্রভু এক, বিশ্বাস এক, বাপ্তিস্ম এক; সকলের পিতা সেই ঈশ্বর এক, যিনি সকলের ঊর্ধ্বে, সকলের দ্বারা সক্রিয়, ও সকলের অন্তরে বিদ্যমান।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমাদের মধ্যে এক মহানবীর উদ্ভব হয়েছে;
ঈশ্বর তাঁর আপন জনগণকে দেখতে এসেছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:১-১৫)

সেসময়ে যিশু গালিলেয়া-সাগরের, অর্থাৎ তিবেরিয়াস সাগরের ওপারে গেলেন। রোগীদের সুস্থ করে তুলে তিনি যে সমস্ত চিহ্নকর্ম সাধন করেছিলেন, তা দেখেছিল বিধায় বহু লোক তাঁর অনুসরণ করছিল। কিন্তু যিশু পর্বতে উঠলেন আর সেখানে নিজ শিষ্যদের সঙ্গে বসলেন। ইহুদীদের পাস্কাপর্ব সন্নিকট ছিল।
চোখ তুলে যিশু যখন দেখতে পেলেন অনেক লোক তাঁর দিকে আসছে, তখন ফিলিপকে বললেন, ‘এই সমস্ত লোকদের খেতে দেবার জন্য আমরা কোথা থেকে রুটি কিনতে পারব?’ তাঁকে পরীক্ষা করার জন্যই তিনি একথা বলেছিলেন, তিনি তো জানতেন, তিনি কী করতে যাচ্ছিলেন। ফিলিপ তাঁকে উত্তর দিলেন, ‘এদের প্রত্যেককে সামান্য কিছু দিতে হলে দু’শো রুপোর টাকার রুটিতেও কুলোবে না।’
তাঁর শিষ্যদের একজন, সিমোন পিতরের ভাই আন্দ্রিয়, তাঁকে বললেন, ‘এখানে একটি ছেলে আছে, তার কাছে পাঁচখানা যবের রুটি ও দু’টো মাছ আছে; কিন্তু তাতে এত লোকের কী হবে?’ যিশু বললেন, ‘এদের বসিয়ে দাও।’ সেখানে প্রচুর ঘাস ছিল। লোকেরা বসে পড়ল, পুরুষদের সংখ্যা ছিল আনুমানিক পাঁচ হাজার।
তখন যিশু সেই রুটি ক’খানা নিলেন, ও ধন্যবাদ-স্তুতি উচ্চারণ করে, যারা সেখানে বসে ছিল, তাদের মধ্যে তা বিতরণ করলেন; মাছ নিয়েও তা-ই করলেন—সকলে যতখানি চাইল, ততখানি দিলেন।
সবাই তৃপ্ত হলে তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন, ‘পড়ে থাকা টুকরোগুলো জড় কর, কিছুই যেন নষ্ট না হয়।’ তাই তাঁরা তা জড় করলেন, এবং সকলে খাওয়ার পরেও সেই পাঁচখানা যবের রুটি থেকে পড়ে থাকা টুকরোগুলোতে তাঁরা বারোখানা ঝুড়ি ভর্তি করলেন।
যিশুর সাধিত এই চিহ্নকর্ম দেখে লোকেরা বলতে লাগল, ‘ইনি সত্যিই সেই নবী, জগতে যিনি আসছেন।’ যিশু যখন বুঝতে পারলেন যে, তারা তাঁকে রাজা করার অভিপ্রায়ে জোর করে ধরতে আসছে, তখন একা আবার পর্বতে সরে গেলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
ক্যাণ্টারবেরির বিশপ বাল্ডুইন-লিখিত ‘বেদির সাক্রামেন্ত’

তিনি যাঁকে প্রেরণ করেছেন তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখা, এটিই ঈশ্বরের কাজ (যোহন ৬:২৯)। সেই বহু লোকের ভিড় করণীয় কর্মগুলো সম্বন্ধে যিশুকে প্রশ্ন করছিল—ঠিক যেন সেই কাজগুলো বহুই হতে পারত! তিনি কিন্তু এমন উত্তর দেন, সেই কাজ যেন এক; যাতে দেখাতে পারেন যে উত্তম সমস্ত কাজ একটামাত্র কাজ থেকেই উদ্গত। কেননা যে বিশ্বাস ভালবাসার খাতিরে ক্রিয়াশীল, সেই বিশ্বাস-ই ঈশ্বরের প্রকৃত কাজ; এমনকি, সেই বিশ্বাস হল আমাদের সমস্ত সৎকর্মের আদিকারণ যা আমাদের অন্তরেই রয়েছে। কেননা বিনা বিশ্বাসে ঈশ্বরের প্রীতির পাত্র হওয়া সম্ভব নয় (হিব্রু ১১:৬)। যে বিশ্বাসের অভাবে ইহুদীরা ঈশ্বরের কর্ম সাধন করতে অক্ষম ছিল, তখনও সেই বিশ্বাস তাদের না থাকায়ই তারা প্রশ্ন করছিল, ঈশ্বরের কর্ম কী; আর এজন্যই তারা ঈশ্বরের কর্মে তথা বিশ্বাসেই আমন্ত্রিত ছিল, অর্থাৎ কিনা ঈশ্বর যাঁকে প্রেরণ করেছিলেন তাঁর উপর বিশ্বাস রাখতেই আমন্ত্রিত ছিল। যেহেতু তারা বুঝতে পেরেছিল, তিনি নিজেরই কথা ইঙ্গিত করছিলেন, সেজন্য তারা তাঁকে প্রশ্ন করেছিল, আপনি এমন কী চিহ্নকর্ম সাধন করতে যাচ্ছেন, যেন তা দেখতে পেয়ে আমরা আপনাকে বিশ্বাস করি? আপনি কী কাজ সাধন করতে যাচ্ছেন? (যোহন ৬:৩০)।
এই যে, ইহুদীরা চিহ্ন দেখবার দাবি করছে: পাঁচখানা রুটির অলৌকিক পরিমাণ-বৃদ্ধি তাদের পক্ষে যথেষ্ট নয়; বস্তুতপক্ষে, অনন্ত জীবন ধরে থাকবে এমন খাদ্য দেওয়ার ক্ষমতা যে খ্রিষ্টের আছে, তেমন কথা বিশ্বাস করতে গেলে যবের রুটি বিতরণ করা সত্যিই সামান্য প্রমাণ। যিনি স্বর্গ থেকে মান্না খাদ্য পেয়েছিলেন, সেই মোশিও তেমন প্রতিশ্রুতি দেননি। তাই তারা মোশির অলৌকিক কাজের কথা তুলে ধরে—রুটির অলৌকিক পরিমাণ-বৃদ্ধির চেয়ে সেই কাজই যেন মহত্তর, যিশু নিজের বিষয়ে যা বলেছিলেন তাও যেন বিশ্বাসযোগ্য নয়। ফলে তারা বলে চলে, আমাদের পিতৃপুরুষেরা মরুপ্রান্তরে মান্না খেয়েছিলেন, যেমনটি লেখা আছে, তিনি স্বর্গ থেকে রুটি তাদের খেতে দিলেন (যোহন ৬:৩১)।
তাদের পিতৃপুরুষদের কাছে দেওয়া স্বর্গীয় রুটি সম্বন্ধে তারা যা বলছিল, সেই বিষয়ে উত্তর দিয়ে যিশু দেখান যে, স্বর্গের প্রকৃত রুটি মোশি দ্বারা দেওয়া হয়নি, পিতাই এখন তা দান করছেন। তিনি বলেন, আমি তোমাদের সত্যি সত্যি বলছি: মোশিই যে স্বর্গ থেকে রুটি তোমাদের দান করেছেন তা নয়, আমার পিতাই স্বর্গ থেকে সত্যকার রুটি তোমাদের দান করছেন (যোহন ৬:৩২)। একথা বাহ্যিক অর্থে ধরে তারা তাঁকে বললেন, প্রভু, তেমন রুটি আমাদের সর্বদাই দান করুন (যোহন ৬:৩৪)। ঠিক সেই সামারীয় নারীর মত যে যখন শুনেছিল, আমি যে জল দান করব, সেই জল যে পান করে, তার আর কখনও তেষ্টা পাবে না (যোহন ৪:১৪), তখনই মনে করেছিল যিশু শারীরিক তেষ্টার কথা বলছেন, ও তেমন প্রয়োজন থেকে মুক্ত হবার বাসনায় বলেছিল, প্রভু, তেমন জল আমাকে দিন, আমার যেন আর কখনও তেষ্টা না পায়, এখানে জল তুলতেও আর যেন আসতে না হয় (যোহন ৪:১৫), তেমনি ইহুদীরাও বলল, প্রভু, তেমন রুটি আমাদের সর্বদাই দান করুন (যোহন ৬:৩৪), যাতে তৃপ্তির সঙ্গে খেতে পারি ও রুটি কেনা আর যেন প্রয়োজন না হয়। এজন্যই পাঁচখানা রুটির অলৌকিক পরিমাণ-বৃদ্ধির পরে তারা তাঁকে রাজা করতে চাচ্ছিল। যিশু কিন্তু তাদের নিজেরই ব্যক্তিত্বের বিষয়ে ফিরিয়ে আনেন, ও আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন, তিনি কোন্‌ রুটির কথা বলছিলেন: আমিই সেই জীবন-রুটি: যে কেউ আমার কাছে আসে, তার আর কখনও ক্ষুধা পাবে না, আর যে কেউ আমার প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার আর কখনও তেষ্টা পাবে না (যোহন ৬:৩৫)।
আগে তিনি যেমন বলেছিলেন, যে কেউ আমার প্রতি বিশ্বাস রাখে, তেমনি এখন বলেন, যে কেউ আমার কাছে আসে। তাছাড়া, তার আর কখনও ক্ষুধা পাবে না, তেষ্টাও পাবে না, উক্তির অর্থও উপলব্ধি করা দরকার। কেননা দুই বাক্যের অর্থ হল সেই সনাতন তৃপ্তি, যখন আর কোন কিছুর অভাব থাকবে না।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১০৩
ধুয়ো:
প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
ভুলে যেয়ো না তাঁর সমস্ত উপকার।

তিনিই তো তোমার সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করেন,
তোমার সমস্ত রোগ-ব্যাধি নিরাময় করেন,
গহ্বর থেকে মুক্ত করেন তোমার জীবন,
তোমাকে কৃপা ও স্নেহে করেন মুকুট-ভূষিত,   [ধুয়ো]

তোমার আকাঙ্ক্ষা মঙ্গলদানে পরিতৃপ্ত করেন,
তাই তোমার যৌবন ঈগলের মত নবীন হয়ে ওঠে।
সকল অত্যাচারিতের প্রতি
ধর্মময়তা ও ন্যায়ই প্রভুর আচরণ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমরা গ্রহণ করেছি এই দিব্য সাক্রামেন্ত
যা তোমার পুত্রের যন্ত্রণাভোগের চিরন্তন স্মারক চিহ্ন।
আশীর্বাদ কর: তোমার অসীম ভালবাসার এই দান
যেন আমাদের পরিত্রাণের জন্য সার্থক হয়ে ওঠে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]