সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
সাধারণকাল
• সাধারণকালের প্রথম সপ্তাহ প্রভুর বাপ্তিস্ম থেকে শুরু হয়।
• পরমপবিত্র ত্রিত্ব পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• খ্রিষ্টের পরমপবিত্র দেহরক্ত পরমপবিত্র ত্রিত্বের পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• পরমারাধ্য যিশুহৃদয় পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী দ্বিতীয় রবিবারের পরবর্তী শুক্রবারে পালিত হয়।
• বিশ্বরাজ আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট সাধারণকালের শেষ রবিবারে পালিত হয়।

রবিবার: ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ৩১ | ৩২ | ৩৩
সাধারণকালের মহাপর্বচতুষ্টয়: ত্রিত্ব | খ্রিষ্টের দেহরক্ত | যিশুহৃদয় | খ্রিষ্টরাজা

১০ম রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, যা কিছু মঙ্গলকর, তুমিই তার উৎস! আশীর্বাদ কর:
তোমার উদ্দীপনায় উদ্দীপিত হয়ে আমরা যেন মঙ্গল নির্ণয় করতে পারি
ও তোমার পরিচালনায় শুভকর্ম সাধনে উত্তীর্ণ হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
রাজাবলির প্রথম পুস্তক থেকে পাঠ (১৭:১৭-২৪)

সেসময়ে এমনটি ঘটল যে, [সিদোন অঞ্চলে সারেপ্তার] সেই [বিধবা] গৃহস্বামিনীর ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ল, এবং তার অসুস্থতা এমন উৎকট হল যে, তার শরীরে আর শ্বাসবায়ু রইল না। তখন স্ত্রীলোকটি এলিয়কে বলল, ‘হে পরমেশ্বরের মানুষ, আমার সঙ্গে আপনার বিবাদ কী? আপনি কি আমার অপরাধ স্মরণ করাতে ও আমার ছেলেকে মেরে ফেলতে আমার এইখানে এসেছেন?’
তিনি তাকে বললেন, ‘তোমার ছেলেকে আমাকে দাও,’ এবং তার কোল থেকে ছেলেটিকে নিয়ে তিনি উপরে তাঁর নিজের থাকার ঘরে গিয়ে নিজের বিছানায় শুইয়ে রাখলেন। তিনি এই বলে প্রভুকে ডাকলেন, ‘প্রভু, পরমেশ্বর আমার, যে বিধবার বাড়িতে আমি আতিথেয়তা পাচ্ছি, তুমি কি তার ছেলেকে মেরে ফেলে তার উপরেও অমঙ্গল নামিয়ে আনলে?’ তিনি ছেলেটির উপরে তিনবার নিজের শরীর লম্বালম্বি করে এই বলে প্রভুকে ডাকলেন, ‘প্রভু, পরমেশ্বর আমার, দোহাই তোমার, ছেলেটির মধ্যে প্রাণ ফিরে আসুক!’
প্রভু এলিয়ের কণ্ঠে কান দিলেন, আর তখন ছেলেটির প্রাণ তার মধ্যে ফিরে এল—ছেলেটি পুনর্জীবিত হল। এলিয় ছেলেটিকে নিয়ে উপরের ঘর থেকে বাড়ির মধ্যে নেমে গিয়ে তার মায়ের কাছে তুলে দিলেন। এলিয় বললেন, ‘দেখ, তোমার ছেলে জীবিত।’ স্ত্রীলোকটি এলিয়কে বলল, ‘এখন আমি জানতে পারলাম, আপনি পরমেশ্বরের মানুষ, এবং প্রভুর যে বাণী আপনার মুখে রয়েছে, তা সত্য।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩০
ধুয়ো:
তোমার বন্দনা করব, প্রভু:
তুমি যে তুলে নিয়েছ আমায়।

তোমার বন্দনা করব, প্রভু: তুমি যে তুলে নিয়েছ আমায়,
আমার শত্রুদের দাওনি আমার উপর আনন্দ করতে।
পাতাল থেকেই তুমি আমার প্রাণ তুলে এনেছ, প্রভু,
আমি সেই গর্তে নেমে যাচ্ছিলাম আর তুমি আমায় করেছ সঞ্জীবিত।   [ধুয়ো]

প্রভুর উদ্দেশে স্তবগান কর, তাঁর ভক্তজন সকল,
তাঁর পবিত্রতা স্মরণ ক’রে কর তাঁর স্তুতিগান।
কিছুক্ষণ ধরেই মাত্র তাঁর ক্রোধ, কিন্তু তাঁর প্রসন্নতা জীবনপ্রসারী।
সন্ধ্যায় বিলাপের আগমন, কিন্তু প্রভাতে আনন্দোচ্ছ্বাস।   [ধুয়ো]

প্রভু, শোন, আমাকে দয়া কর,
প্রভু, হও তুমি আমার সহায়।
তুমি নৃত্যেই পরিণত করেছ আমার বিলাপ,
প্রভু, পরমেশ্বর আমার, চিরকাল করব তোমার স্তুতিগান।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
গালাতীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১:১১-১৯)

ভাই, আমি তোমাদের স্পষ্টই বলছি, আমার দ্বারা যে সুসমাচার প্রচারিত হয়েছে, তা মানবীয় বাণী নয়, কেননা আমি মানুষের কাছ থেকে তা পাইনি, মানুষের কাছে শিখিওনি; কিন্তু যিশুখ্রিষ্টেরই ঐশপ্রকাশের মধ্য দিয়ে পেয়েছি।
আমি যখন ইহুদী ধর্ম পালন করতাম, তখন কেমন জীবনযাপন করতাম একথা তোমরা নিশ্চয় শুনেছ; আমি ঈশ্বরের মণ্ডলীকে নিতান্তই নির্যাতন ও ধ্বংসও করতাম; আর যেহেতু পিতৃপুরুষদের পরম্পরাগত রীতিনীতি সমর্থনে অধিক উৎসাহী ছিলাম, সেজন্য ইহুদী ধর্ম পালনে আমার সমকালীন অধিকাংশ সমবয়সী লোকদের চেয়ে যথেষ্টই আগে ছিলাম।
কিন্তু আমি মাতৃগর্ভে থাকতে যিনি আমাকে স্বতন্ত্র করে রেখেছিলেন এবং তাঁরই অনুগ্রহে আমাকে আহ্বান করেছিলেন, তিনি যখন স্থির করলেন তাঁর পুত্রকে আমার অন্তরে প্রকাশ করবেন আমি যেন বিজাতীয়দের কাছে তাঁর কথা প্রচার করি, তখনই, কোন মানুষের পরামর্শ না নিয়ে, যেরুসালেমে যাঁরা আমার আগে প্রেরিতদূত ছিলেন তাঁদের কাছেও না গিয়ে, আমি আরবে চলে গেলাম, এবং পরবর্তীকালে দামাস্কে ফিরে গেলাম।
কেবল তিন বছর পরেই কেফাসের সঙ্গে পরিচিত হবার জন্য যেরুসালেমে গেলাম, এবং সেখানে পনেরো দিন তাঁর সঙ্গে রইলাম; প্রভুর ভাই যাকোবকে ছাড়া প্রেরিতদূতদের আর কারও সঙ্গে আমার দেখা হল না।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমাদের মধ্যে এক মহানবীর উদ্ভব হয়েছে;
ঈশ্বর তাঁর আপন জনগণকে দেখতে এসেছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৭:১১-১৭)

একদিন যিশু নাইন নামে এক শহরে গেলেন; তাঁর শিষ্যেরা ও বহু লোক তাঁর সঙ্গে পথ চলছিলেন।
তিনি নগরদ্বারের কাছে এসেছেন, এমন সময়ে দেখ, লোকেরা একটা মৃত লোককে বাইরে নিয়ে যাচ্ছিল: সে নিজের মায়ের একমাত্র ছেলে, আর তার মা বিধবা; শহরের অনেক লোক তার সঙ্গে ছিল।
তাকে দেখে যিশু দয়ায় বিগলিত হয়ে তাকে বললেন, ‘কেঁদো না।’ পরে কাছে গিয়ে খাটুলি স্পর্শ করলেন, তখন বাহকেরা থামল। তিনি বললেন, ‘তরুণ, তোমাকে বলছি, ওঠ।’ আর সেই মৃত মানুষটি উঠে বসল ও কথা বলতে লাগল। আর তিনি তাকে তার মায়ের হাতে তুলে দিলেন।
সকলে ভয়ে অভিভূত হল এবং এই বলে ঈশ্বরের গৌরবকীর্তন করল, ‘আমাদের মধ্যে এক মহানবীর উদ্ভব হয়েছে; ঈশ্বর তাঁর আপন জনগণকে দেখতে এসেছেন।’
আর সমগ্র যুদেয়ায় ও চারদিকের সারা অঞ্চল জুড়ে তাঁর সম্বন্ধে এই খবর ছড়িয়ে পড়ল।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

আমাদের প্রভু ও ত্রাণকর্তা যিশুর অলৌকিক কাজগুলোর কথা শুনে সকল বিশ্বাসী মানুষ মুগ্ধ হয় বটে, সকলে কিন্তু যে একই ভাবেই মুগ্ধ এমন নয়। এমন কেউ আছে যারা দেহ সংক্রান্ত অলৌকিক কাজ দেখে মহত্তর অলৌকিক কাজ দেখতে পারে না; আবার অন্য কেউ আছে যারা দেহ সংক্রান্ত অলৌকিক কাজ দেখে আত্মা সংক্রান্ত অলৌকিক কাজেই বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়।
মৃতেরা আজও পুনরুত্থান করে, একথা যেন কোন খ্রিষ্টান সন্দেহ না করে। সুসমাচারের এই বিধবার ছেলে যেভাবে পুনরুত্থান করেছে, মৃতেরা সেভাবে পুনরুত্থান করে, তা দেখবার মত চোখ সকলেরই আছে। কিন্তু হৃদয়ে যাদের পুনরুত্থান হয়েছে, তাদের ছাড়া হৃদয়ে সাধিত পুনরুত্থান দেখবার মত চোখ আর কারও নেই। যে আবার মরবে, তাকে পুনরুত্থিত করার চেয়ে, যে অনন্তকাল জীবিত থাকবে তাকেই পুনরুত্থিত করা মহা অলৌকিক কাজ।
সেই ছেলের পুনরুত্থানে মাতাই আনন্দ পেলেন; যে সকল মানুষ প্রতিদিন আত্মায় পুনরুত্থান করে, তাদের নিয়ে মাতা মণ্ডলীই আনন্দিত। সেই ছেলেটি দেহেই মৃত ছিল, এরা কিন্তু আত্মায় মৃত ছিল। প্রথমজনের বেলায় দৃশ্য মৃত্যুই ছিল শোকের বস্তু; অন্যান্যদের অদৃশ্য মৃত্যুকে নিয়ে কেউই চিন্তা করত না, কেউই সচেতনও ছিল না। যিনি মৃতদের জানতেন, তিনিই তাদের জন্য চিন্তা করলেন: কেবল তিনিই মৃতদের জানতেন, কেননা কেবল তিনিই তাদের পুনরুজ্জীবিত করে তুলতে পারতেন। মৃতদের পুনরুজ্জীবিত করতে প্রভু যদি না আসতেন, তবে প্রেরিতদূত একথা বলতেন না: ঘুমিয়ে রয়েছ যে তুমি, জেগে ওঠ, মৃতদের মধ্য থেকে নিদ্রাভঙ্গ হও, আর খ্রিষ্ট তোমাকে উদ্ভাসিত করবেন (এফে ৫:১৪)। তিনি ‘ঘুমিয়ে রয়েছ যে তুমি, জেগে ওঠ’ একথা বললে, তুমি নিদ্রার কথাই বোঝ; কিন্তু তিনি মৃতদের মধ্য থেকে ওঠ একথা বললে, তখন তুমি মৃত্যুর কথাই উপলব্ধি কর। যারা দৈহিক দিক থেকে মৃত, অনেকবার তাদেরও নিদ্রাগত বলা হয়; আর আসলে, যিনি তাদের পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন, তাঁর কাছে তারা নিদ্রাগত। কেননা যে মৃত, সে তোমার পক্ষেই মৃত: তুমি যতই তাকে ঝাঁকুনি দাও বা তার লাশে কাঁটা ফোটাও বা তাকে আঘাত কর না কেন, সে জেগে উঠবেই না। কিন্তু তাকে ‘ওঠ’ বললে যে সঙ্গে সঙ্গে উঠেছিল, খ্রিষ্টের কাছে সে নিদ্রাগতই ছিল। খ্রিষ্ট যত সহজে সমাধি থেকে মৃতদের ডাকেন, কেউই তত সহজে নিদ্রা থেকে নিদ্রাগতদের জাগাতে পারে না।
আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট চাচ্ছিলেন, তিনি দেহের বেলায় যা সাধন করতেন, তা যেন আধ্যাত্মিক ভাবেও উপলব্ধি করা হয়। তিনি অলৌকিক কাজ এমনিই সাধন করতেন না, এই উদ্দেশ্যেই বরং তা সাধন করতেন, যেন তিনি যা করতেন তা বাহ্যিক দর্শকদের কাছে দৃষ্টিগোচর হতে পারত ও আন্তর উপলব্ধির মানুষ যেন তার অর্থ উপলব্ধি করতে পারত।
যে পড়তে পারে না, নিখুঁত পুস্তকের অক্ষরগুলো দেখে সে হাতের লেখা ও অক্ষরগুলোর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়, তার অর্থ কিন্তু সে বুঝতে পারে না। তাহলে এমন কেউ আছে যে চোখ দ্বারা মুগ্ধ হয় কিন্তু মন দ্বারা উপলব্ধি করে না; অন্য কেউ আছে যে শিল্পকর্মের প্রশংসা করে, তার অর্থও উপলব্ধি করে, কারণ সকলে যা দেখে তা দেখতে পারে শুধু নয়, সে পড়তেও পারে; কিন্তু যে পড়তে শেখেনি, সে তার মত পড়তে পারবে না, উপলব্ধিও করতে পারবে না। তেমনিভাবে যারা খ্রিষ্টের অলৌকিক কাজ দেখেও সেগুলির অর্থ উপলব্ধি করেনি, তাও উপলব্ধি করেনি যা উপলব্ধি-সম্পন্নদের কাছে অর্থপূর্ণ ছিল: তারা সেগুলো দেখে এমনি মুগ্ধ হল; অন্যরা আশ্চর্য কাজ দেখে মুগ্ধ ছিল, তার অর্থও উপলব্ধি করছিল। খ্রিষ্টের শিক্ষালয়ে আমাদের তেমনি হওয়া উচিত।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৮
ধুয়ো:
প্রভুই আমার শৈল, আমার গিরিদুর্গ,
তিনিই আমার ঈশ্বর, আমার ত্রাণশক্তি, আমার মুক্তিদাতা।

আমি তোমাকে ভালবাসি, প্রভু, আমার বল!
প্রভুই আমার শৈল, আমার গিরিদুর্গ, আমার মুক্তিদাতা,
আমি প্রশংসনীয় সেই প্রভুকে ডাকি,
আমার শত্রুদের হাত থেকে পাবই পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

মৃত্যুর বাঁধন জড়িয়ে ধরেছিল আমায়,
ধ্বংসের খরস্রোত আতঙ্কিত করেছিল আমায়;
পাতালের বাঁধন আমায় ঘিরে ফেলেছিল,
সম্মুখীন ছিল মৃত্যুর ফাঁদ।   [ধুয়ো]

সেই সঙ্কটে আমি প্রভুকে ডাকলাম,
আমার পরমেশ্বরের কাছে চিৎকার করলাম;
তাঁর মন্দির থেকে তিনি শুনলেন আমার কণ্ঠ,
আমার সেই চিৎকার তাঁর কানে গেল।   [ধুয়ো]

প্রভু আমার ধর্মময়তা অনুযায়ী আমাকে প্রতিদান দেন,
আমার হাতের শুচিতা অনুযায়ী আমাকে পুরস্কৃত করেন;
কারণ আমি পালন করেছি প্রভুর পথসকল,
আমার পরমেশ্বরকে ত্যাগ করেছি, তেমন কুকর্ম করিনি।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার এ সাক্রামেন্তের নিরাময়কারী শক্তির গুণে
আমরা যেন সমস্ত অনিষ্ট থেকে মুক্ত হয়ে
দৃঢ় পদক্ষেপে মঙ্গল পথে এগিয়ে চলতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১১শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমিই তোমার শরণাগতদের শক্তি!
প্রসন্ন হয়ে আমাদের মিনতিতে সাড়া দাও:
যেহেতু তোমার সহায়তা ছাড়া দুর্বল মানুষ সম্পূর্ণরূপে অক্ষম,
সেজন্য আমাদের সর্বদাই মঞ্জুর কর তোমার অনুগ্রহের সহায়তা,
যাতে তোমার আজ্ঞাবলি পালন ক’রে
আমরা চিন্তায় কর্মে তোমার গ্রহণযোগ্য হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
সামুয়েলের দ্বিতীয় পুস্তক থেকে পাঠ (১২:৭-১০,১৩)

সেসময়ে নাথান দাউদকে বললেন, ‘ইস্রায়েলের পরমেশ্বর প্রভু নিজে একথা বলছেন: আমিই তোমাকে ইস্রায়েলের উপরে রাজপদে তৈলাভিষিক্ত করেছি, আমিই সৌলের হাত থেকে তোমাকে উদ্ধার করেছি, এবং তোমার প্রভুর বাড়ি তোমাকে দিয়েছি, তোমার প্রভুর পত্নীদের তোমার বাহুতলে তুলে দিয়েছি, ইস্রায়েলের ও যুদার কুল তোমাকে দিয়েছি, আর এও যদি যথেষ্ট না হত, আর কত কিছুই না তোমাকে দিতাম।
তুমি কেন প্রভুর বাণী উপেক্ষা করে তাঁর দৃষ্টিতে যা অন্যায় তেমন কাজই করেছ? তুমি হিত্তীয় উরিয়াকে খড়্গ দ্বারা বধ করেছ, তার স্ত্রীকে নিয়ে নিজেরই স্ত্রী করেছ, আম্মোনীয়দের খড়্গের আঘাতে উরিয়ার মৃত্যু ঘটিয়েছ।
তাই খড়্গ কখনও তোমার কুলকে ছেড়ে যাবে না, কারণ তুমি আমাকে উপেক্ষা করেছ ও হিত্তীয় উরিয়ার স্ত্রীকে নিয়ে নিজেরই স্ত্রী করেছ।’
দাউদ নাথানকে বললেন, ‘আমি প্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করেছি!’ নাথান দাউদকে বললেন, ‘আচ্ছা, প্রভু আপনার পাপ ক্ষমা করেছেন, আপনাকে আর মরতে হবে না।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩২
ধুয়ো:
হরণ কর, প্রভু,
আমার পাপের দণ্ড।

সুখী সেই জন, যার অন্যায় হরণ করা হল,
আবৃত হল যার পাপ।
সুখী সেই মানুষ, যাকে প্রভু দোষ আরোপ করেন না,
যার আত্মায় ছলনা নেই।   [ধুয়ো]

কিন্তু যখন আমার পাপ জানালাম তোমায়,
যখন আর আবৃত রাখিনি আমার অপরাধ,
যখন বললাম, ‘প্রভুর কাছে আমার যত অন্যায় স্বীকার করব,’
তখনই তুমি হরণ করলে আমার পাপের দণ্ড।   [ধুয়ো]

তুমিই আমার গোপন আশ্রয়, সঙ্কট থেকে তুমিই তো রক্ষা কর আমায়,
মুক্তির আনন্দগানের মধ্যে তুমিই আমায় ঘিরে রাখ।
প্রভুতে আনন্দ কর, মেতে ওঠ, ধার্মিকজন সকল,
সানন্দে চিৎকার কর তোমরা সবাই, সরলহৃদয় যারা।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
গালাতীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (২:১৬,১৯-২১)

প্রিয়জনেরা, আমরা ভালই জানি, বিধানের আদিষ্ট কর্ম দ্বারা নয়, কেবল যিশুখ্রিষ্টে বিশ্বাস দ্বারাই মানুষকে ধর্মময় বলে সাব্যস্ত করা হয়; আর সেজন্য আমরাও খ্রিষ্টযিশুতে বিশ্বাসী হয়েছি, যেন বিধানের আদিষ্ট কর্ম দ্বারা নয়, কিন্তু খ্রিষ্টে বিশ্বাস দ্বারা ধর্মময় বলে সাব্যস্ত হই, যেহেতু বিধানের আদিষ্ট কর্ম দ্বারা কোন মানুষ ধর্মময় বলে সাব্যস্ত হবে না।
আসলে আমি বিধান দ্বারা বিধানের কাছে মৃত, যেন ঈশ্বরের কাছে জীবিত হতে পারি। আমাকে খ্রিষ্টের সঙ্গে ক্রুশে দেওয়া হয়েছে, অথচ আমি এখনও জীবিত আছি, কিন্তু সে তো আর আমি নয়, আমার অন্তরে স্বয়ং খ্রিষ্টই জীবনযাপন করেন। এখন এই দেহে যে জীবন আমি যাপন করি, সেই ঈশ্বরপুত্রের প্রতি বিশ্বাসেই তা যাপন করি, যিনি আমাকে ভালবেসেছেন ও আমার জন্য নিজেকে বিসর্জন দিয়েছেন।
আমি ঈশ্বরের অনুগ্রহ ব্যর্থ করি না; বাস্তবিক বিধান দ্বারা যদি ধর্মময়তা হয়, তাহলে খ্রিষ্ট বৃথাই মরেছেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
ঈশ্বর-ই আমাদের প্রথম ভালবাসলেন,
এবং আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হতে নিজ পুত্রকে প্রেরণ করলেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৭:৩৬–৮:৩)

একদিন ফরিসিদের একজন যিশুকে নিজের বাড়িতে ভোজে নিমন্ত্রণ করলেন। যখন তিনি সেই ফরিসির বাড়িতে প্রবেশ করে ভোজে বসলেন, তখন সেই শহরের এক পাপিষ্ঠা স্ত্রীলোক হঠাৎ এসে উপস্থিত হল; সে শুনতে পেয়েছিল যে, তিনি সেই ফরিসির বাড়িতে খেতে বসেছেন, তাই সাদা ফটিকের একটা পাত্রে করে সুগন্ধি তেল নিয়ে এসেছিল। তাঁর পিছনে তাঁর পায়ের কাছে বসে কাঁদতে কাঁদতে সে চোখের জলে তাঁর পা ভিজাতে লাগল; পরে নিজের মাথার চুল দিয়ে তা মুছে দিল, ও সেই পা দু’টো চুম্বন করতে করতে সুগন্ধি তেল মাখাতে লাগল।
তা দেখে, যে ফরিসি তাঁকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন, তিনি মনে মনে বললেন, ‘লোকটা নবী হলে তবে জানতে পারত, তাকে যে স্পর্শ করছে সে কে ও কেমন স্ত্রীলোক, কারণ সে পাপিষ্ঠা।’
তখন যিশু তাঁকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘সিমোন, আপনাকে আমার কিছু বলার আছে।’ তিনি বললেন, ‘বলুন, গুরু।’ ‘এক মহাজনের কাছে দু’জন লোক ঋণী ছিল; তার কাছে একজন ছিল পাঁচশ’ রুপোর টাকা ঋণী, আর একজন পঞ্চাশ রুপোর টাকা ঋণী। তাদের শোধ করার মত সামর্থ্য না থাকায় তিনি দু’জনের ঋণ মাপ করে দিলেন। আচ্ছা, তাদের মধ্যে কে তাঁকে বেশি ভালবাসবে?’ সিমোন উত্তর দিলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি যার বেশি ঋণ মাপ করলেন, সে-ই।’ তিনি তাঁকে বললেন, ‘আপনার বিচার ঠিক।’
এবং স্ত্রীলোকটির দিকে ফিরে তিনি সিমোনকে বললেন, ‘এই স্ত্রীলোককে দেখছেন? আমি আপনার বাড়িতে প্রবেশ করলাম, আপনি আমার পা ধোবার জল দিলেন না, কিন্তু এই স্ত্রীলোক চোখের জলে আমার পা ভিজিয়ে দিল ও নিজের চুল দিয়ে তা মুছে দিল। আপনি আমাকে চুম্বন করলেন না, কিন্তু যে সময় থেকে এ ভিতরে এল আমার পা চুম্বন করায় ক্ষান্ত হয়নি।
আপনি আমার মাথায় তেল মাখিয়ে দিলেন না, কিন্তু এ আমার পায়ে সুগন্ধি তেল মাখিয়ে দিল। এজন্য আপনাকে বলছি, এর যে বহু পাপ, তা ক্ষমা করা হয়েছে, কারণ এ বেশি ভালবাসা দেখিয়েছে। কিন্তু যাকে অল্প ক্ষমা করা হয়, সে অল্প ভালবাসে।’
পরে তিনি সেই স্ত্রীলোককে বললেন, ‘তোমার পাপ ক্ষমা করা হয়েছে।’ যারা তাঁর সঙ্গে ভোজে বসে ছিল, তারা মনে মনে বলতে লাগল, ‘এ কে, যে পাপও ক্ষমা করে?’ তিনি কিন্তু সেই স্ত্রীলোককে বললেন, ‘তোমার বিশ্বাস তোমার পরিত্রাণ সাধন করেছে: শান্তিতে যাও।’
এরপর তিনি প্রচার করতে করতে ও ঈশ্বরের রাজ্যের শুভসংবাদ ঘোষণা করতে করতে এক শহর থেকে অন্য শহরে ও এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন; তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেই বারোজন ও এমন কয়েকজন স্ত্রীলোক যাঁরা মন্দাত্মা বা রোগ থেকে নিরাময় হয়েছিলেন, যথা, মাগদালেনা নামে পরিচিতা সেই মারীয়া, যাঁর মধ্য থেকে সাতটা অপদূত বেরিয়ে গেছিল; আবার ছিলেন হেরোদের দেওয়ান খুজার স্ত্রী যোহানা, সুজান্না ও আরও অনেকে। তাঁরা নিজ নিজ সম্পত্তি দ্বারা তাঁদের সেবা করতেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
পাপিষ্ঠা নারী বিষয়ে বিশপ আম্ফিলখের উপদেশ

ফরিসিদের একজন যিশুকে নিজের বাড়িতে ভোজে নিমন্ত্রণ করলেন। তিনি সেই ফরিসির বাড়িতে প্রবেশ করে ভোজে বসলেন (লুক ৭:৩৬)। আহা, কী অসীম অনুগ্রহ! কী অবর্ণনীয় মঙ্গলভাব! তিনি এমন চিকিৎসক যিনি সব ধরনেরই অসুস্থতা নিরাময় করতে পারেন, যাতে ভাল মন্দ, কৃতজ্ঞ অকৃতজ্ঞ সকলেরই উপকার করতে পারেন। এজন্য সেই ফরিসি দ্বারা নিমন্ত্রিত হয়ে তিনি সেই বাড়িতে প্রবেশ করেন—যে বাড়ি এতক্ষণে ছিল ধর্মহীনদের সম্মেলন-স্থান। কেননা যেখানে একজন ফরিসি ছিল, সেখানে ছিল অনিষ্টের আস্তানা, পাপীদের ঘর, গর্বের বাসা। সেই বাড়ির অবস্থা তেমন হলেও প্রভু সেখানে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেন না—তাঁর একটা উদ্দেশ্য ছিল বটে!
তিনি ফরিসির নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেন, শালীনতা বজায় রেখেই তা গ্রহণ করেন, তাঁর আচরণের জন্য ভর্ৎসনাও উচ্চারণ করেন না, কেননা তিনি সর্বাপেক্ষা নিমন্ত্রিত সকলকে, পরিবার সহ নিমন্ত্রণকর্তাকে ও ভোজের আনন্দও পবিত্রিত করতে অভিপ্রেত। তাছাড়া তিনি জানতেন, সেই পাপিষ্ঠারই আসার কথা ছিল, যে অনুতাপের গভীর ও উত্তপ্ত আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবে। তাই তিনি ফরিসির নিমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন যেন সেই নারী শাস্ত্রী ও ফরিসিদের সামনে নিজ পাপরাশি নিন্দা করায় শিক্ষা দিতে পারে, কেমন করে পাপীদের ঈশ্বরের সঙ্গে পুনর্মিলিত হতে হবে।
আর দেখ, সেই শহরের এক পাপিষ্ঠা স্ত্রীলোক তাঁর পিছনে তাঁর পায়ের কাছে বসে কাঁদতে কাঁদতে সে চোখের জলে তাঁর পা ভেজাতে লাগল (লুক ৭:৩৭, ৩৮)। এসো, আমরা এ স্ত্রীলোকের প্রশংসা করি, কেননা সে সমগ্র বিশ্বের সম্মানের যোগ্যা: সে সেই নির্মল পা দু’টো স্পর্শ করল, ও যোহনের সঙ্গে খ্রিষ্টের দেহের বিশেষ সহভাগিতা পেল। বস্তুতপক্ষে যোহন তাঁর বুকে বিশ্রাম নিয়েছিলেন—যে বুক থেকে একদিন তাঁর ঐশতত্ত্ব গ্রহণ করার কথা; অন্যদিকে এই নারী সেই পা আলিঙ্গন করল, যে পা দু’টো আমাদের হয়ে হাঁটছিল।
এদিকে খ্রিষ্ট, যিনি পাপের বিচার না করে অনুতাপের প্রশংসা করেন ও অতীতের পাপের দণ্ড না দিয়ে ভবিষ্যতের দিকেই তাকান, সেই খ্রিষ্ট নারীর পাপের গণনা না করে নারীকে মর্যাদা দেন, অনুতাপের প্রশংসা করেন, ও চোখের জল গ্রহণ করায় নারীর সঙ্কল্প পুরস্কৃত করেন। অপরদিকে সেই ফরিসি অলৌকিক কাজ দেখে অন্তরে অস্থির হয়ে ওঠে ও হিংসার উত্তেজনায় উত্তেজিত হয়ে নারীর অনুতাপ বিশ্বাস করেন না, বরং তাকে অভিযুক্ত করেন কারণ ভোজের সময় সে প্রভুকে এভাবে সম্মান করছিল—তাতে যিনি সম্মানের পাত্র, সেই যিশুকে অজ্ঞ বলে মনে ক’রে তাঁকে অপমানও করেন: লোকটা নবী হলে তবে জানতে পারত, তাকে যে স্পর্শ করছে সে কে ও কেমন স্ত্রীলোক (লুক ৭:৩৯)।
ফরিসি মনে মনে গজ গজ করছেন, এমন সময় খ্রিষ্ট তাঁকে বললেন, সিমোন, আপনাকে আমার কিছু বলার আছে (লুক ৭:৪০)। আহা, অবর্ণনীয় অনুগ্রহ! আহা, অসীম মঙ্গলভাব! ঈশ্বর ও মানুষ একসঙ্গে কথা বলছেন; ফরিসির শঠতা জয় করার জন্য খ্রিষ্ট তাঁর কাছে একটা সমস্যা ও মঙ্গলভাবের একটা শিক্ষা উপস্থাপন করেন। তিনি বললেন, ‘বলুন, গুরু।’ ‘এক মহাজনের কাছে দু’জন লোক ঋণী ছিল।’ (লুক ৭:৪০-৪১)। ঈশ্বরের জ্ঞান লক্ষ কর: তিনি তো নারীর কথা উত্থাপন করেন না, পাছে উপমা-কাহিনী শেষে ফরিসি বানানো উত্তর দেন। তিনি বলে চলেন, তার কাছে একজন ছিল পাঁচশ’ রুপোর টাকা ঋণী, আর একজন পঞ্চাশ রুপোর টাকা ঋণী; তাদের শোধ করার মত সামর্থ্য না থাকায় তিনি দু’জনের ঋণ মাপ করে দিলেন (লুক ৭:৪১-৪২)।
ঋণ শোধ করতে যে অনিচ্ছুক ছিল, এমন নয়, যার কিছু ছিল না, তারই ঋণ তিনি মাপ করলেন; কেননা অভাব একটা কথা, অনিচ্ছা আলাদা কথা। ধর, ঈশ্বর আমাদের কাছে অনুতাপ ছাড়া কিছুই দাবি করেন না, কারণ তাঁর ইচ্ছা, আমরা যেন নিত্যই খুশি থাকি ও প্রায়শ্চিত্তের দিকে দ্রুত পদে এগিয়ে চলি। অনুতাপ করতে যে ইচ্ছুক, তিনি যখন তাকে ক্ষমা করেন, তখন এতে দেখান, আমাদের প্রায়শ্চিত্ত আমাদের পাপের গুরুত্বের অনুপাতে নয়: অনিচ্ছার জোরে যে আমরা ঋণ শোধ করতে অক্ষম, এমন নয়, কিন্তু আমাদের সেই ক্ষমতা নেই বিধায়ই আমরা অক্ষম। তাদের শোধ করার মত সামর্থ্য না থাকায় তিনি দু’জনের ঋণ মাপ করে দিলেন। আচ্ছা, তাদের মধ্যে কে তাঁকে বেশি ভালবাসবে? সিমোন উত্তর দিলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি যার বেশি ঋণ মাপ করলেন, সে-ই।’ তিনি তাঁকে বললেন, ‘আপনার বিচার ঠিক।’ এবং স্ত্রীলোকটির দিকে ফিরে তিনি সিমোনকে বললেন, এই স্ত্রীলোককে দেখছেন?—পাপিষ্ঠা যে স্ত্রীলোক আপনার দ্বারা পরিত্যক্তা কিন্তু আমার দ্বারা গৃহীতা? যে সময় থেকে এ ভিতরে এল আমার পা চুম্বন করায় ক্ষান্ত হয়নি। এজন্য আপনাকে বলছি, এর যে বহু পাপ, তা ক্ষমা করা হয়েছে (লুক ৭:৪২-৪৪, ৪৫, ৪৭)। অতিথি রূপে আমাকে বাড়িতে গ্রহণ করে আপনি চুম্বন করে আমাকে সম্মান দেননি, আমার দেহে সুগন্ধি তেল মাখাননি; এ কিন্তু, বহু পাপের ক্ষমা চেয়ে চোখের জল ফেলেই আমাকে সম্মান করল।
উপস্থিত ভ্রাতৃগণ, তোমরা যা শুনেছ, সেই মত আচরণ কর, ও সেই পাপিষ্ঠা নারীর মত চোখের জল ফেল। বাহ্যিক জলে নয়, চোখের জলেই দেহ ধৌত কর; রেশমের কাপড় পরো না, কিন্তু শুচিতার অক্ষয় পোশাক পরিধান কর, যেন বিশ্বপাপহর মেষশাবককে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর একই গৌরব লাভ করতে পার—পিতা ও পবিত্র আত্মার সঙ্গে তাঁরই সম্মান, আরাধনা ও গৌরব হোক এখন ও চিরকাল, যুগে যুগান্তরে। আমেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৭
ধুয়ো:
প্রভুর কাছে আমার শুধু এই যাচনা, এইটুকু মাত্র অন্বেষণ করি:
আমি প্রভুর গৃহে বাস করতে চাই আমার জীবনের সমস্ত দিন।

তিনি তো অশুভ দিনে
আপন কুটিরে লুকিয়ে রাখবেন আমায়,
আপন তাঁবু-নিভৃতে আমায় গোপন করে রাখবেন,
শৈলশিখরে আমায় তুলে আনবেন।   [ধুয়ো]

তখন যত শত্রু ঘিরে ফেলেছে আমায়,
তাদের উপর আমার মাথা উঁচু করব;
জয়ধ্বনি তুলে তাঁর তাঁবুতে আমি বলি উৎসর্গ করব,
বাদ্যের ঝঙ্কারে প্রভুর উদ্দেশে গাইব গান।   [ধুয়ো]

শোন, প্রভু, আমার কণ্ঠ—ডাকছি তো আমি:
আমাকে দয়া কর, আমাকে সাড়া দাও।
তোমার বিষয়ে আমার অন্তর বলে: ‘তাঁর শ্রীমুখ অন্বেষণ কর তোমরা,’
আমি তোমার শ্রীমুখ অন্বেষণ করি, প্রভু।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার এ পবিত্র সাক্রামেন্ত গ্রহণে যেমন তোমাতেই ভক্তদের মিলন পূর্বনির্দেশিত, তেমনি তোমার মণ্ডলীতেও যেন একতা গভীরতর হয়ে ওঠে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১২শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, যাদের তুমি তোমার ভালবাসায় দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত কর,
তুমি তো তাদের কখনও তোমার পরিচালনা থেকে বঞ্চিত কর না।
তাই মিনতি জানাই: তোমার আশীর্বাদে আমরা যেন নিয়তই
তোমার পবিত্র নাম শ্রদ্ধা ও ভক্তি করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী জাখারিয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (১২:১০-১১; ১৩:১)

প্রভু একথা বলছেন: ‘আমি দাউদকুলের উপর ও যেরুসালেমের অধিবাসীদের উপর অনুগ্রহ ও মিনতির আত্মা বর্ষণ করব: তাই তারা তাকিয়ে দেখবে এই আমারই দিকে, যাঁকে তারা বিঁধিয়ে দিয়েছে। তাঁর জন্য তারা বিলাপ করবে যেমন একমাত্র পুত্রের জন্য বিলাপ করা হয়; তাঁর জন্য তারা শোক করবে যেমন প্রথমজাত পুত্রসন্তানের জন্য শোক করা হয়।
সেদিন যেরুসালেমে বিরাজ করবে মহা বিলাপ, যেমন মেগিদ্দো-সমতল ভূমিতে হাদাদ-রিম্মোনে মহাবিলাপ হয়েছিল।
সেইদিন পাপ ও অশুচিতা মুছে ফেলার জন্য দাউদকুলের ও যেরুসালেম-অধিবাসীদের জন্য একটা ঝরনা উন্মুক্ত হবে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৬৩
ধুয়ো:
ওগো প্রভু, ঈশ্বর আমার,
তোমারই জন্য আমার প্রাণ তৃষাতুর।

ওগো পরমেশ্বর, ওগো আমার ঈশ্বর, ভোর হতে তোমারই অন্বেষণ করি,
তোমারই জন্য আমার প্রাণ তৃষাতুর,
তোমারই জন্য আমার দেহ ব্যাকুল,
যেন শুষ্ক, শীর্ণ, জলহীন ভূমি।   [ধুয়ো]

তাই পবিত্রধামে তোমার দিকেই দৃষ্টি রাখি
তোমার শক্তি ও গৌরব দেখবার জন্য।
তোমার কৃপা জীবনের চেয়ে শ্রেয়,
তাই আমার ওষ্ঠ তোমার মহিমাকীর্তন করবে।   [ধুয়ো]

তাই যতদিন বাঁচব আমি তোমাকে বলব ধন্য,
তোমার নামে দু’হাত তুলব।
সুস্বাদু ভোজেই যেন তৃপ্ত হবে আমার প্রাণ,
আনন্দপ্লুত ওষ্ঠে আমার মুখ করবে তোমার প্রশংসাবাদ।   [ধুয়ো]

তুমি আমার সহায় হলে,
তাই তোমার পক্ষ-ছায়ায় আমি করি আনন্দগান।
তোমাকে আঁকড়ে থাকে আমার প্রাণ,
আমাকে ধরে রাখে তোমার ডান হাত।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
গালাতীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৩:২৬-২৯)

প্রিয়জনেরা, তোমরা সকলেই খ্রিষ্টযিশুতে বিশ্বাস দ্বারা ঈশ্বরের সন্তান, কারণ তোমাদের যাদের খ্রিষ্টের উদ্দেশে বাপ্তিস্ম হয়েছে, তোমরা স্বয়ং খ্রিষ্টকেই পরিধান করেছ।
এখন আর ইহুদীও নেই, গ্রীকও নেই; ক্রীতদাসও নেই, স্বাধীন মানুষও নেই; পুরুষও নেই, নারীও নেই; কারণ খ্রিষ্টযিশুতে এখন তোমরা সকলেই এক।
আর তোমরা যখন খ্রিষ্টেরই, তখন তোমরাই আব্রাহামের বংশ, সেই প্রতিশ্রুতি অনুসারে উত্তরাধিকারী!
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমার মেষগুলি আমার কণ্ঠে কান দেয়—একথা বলছেন প্রভু;
তাদের আমি জানি আর তারা আমার অনুসরণ করে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৯:১৮-২৪)

একদিন যিশু একা এক জায়গায় প্রার্থনা করছিলেন, শিষ্যেরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন; তখন তিনি তাঁদের কাছে এই প্রশ্ন রাখলেন, ‘আমি কে, এবিষয়ে লোকে কী বলে?’ তাঁরা উত্তরে বললেন, ‘কেউ কেউ বলে: বাপ্তিস্মদাতা যোহন; কেউ কেউ বলে: এলিয়, আবার অন্য কেউ বলে: আগেকার নবীদের একজন পুনরুত্থান করেছেন।’
তিনি তাঁদের বললেন, ‘কিন্তু তোমরা, আমি কে, এবিষয়ে তোমরাই কী বল?’ পিতর উত্তর দিয়ে বললেন, ‘আপনি ঈশ্বরের সেই খ্রিষ্ট।’
কিন্তু তিনি দৃঢ় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাঁদের আদেশ করলেন, একথা তাঁরা যেন কাউকে না বলেন; তিনি বললেন, ‘মানবপুত্রকে বহু যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে, এবং প্রবীণদের, প্রধান যাজকদের ও শাস্ত্রীদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হতে হবে, তাঁকে নিহত হতে হবে, আর তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হতে হবে।’
পরে তিনি সকলকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘কেউ যদি আমার পিছনে আসতে ইচ্ছা করে, সে নিজেকে অস্বীকার করুক, এবং প্রতিদিন নিজের ক্রুশ তুলে নিয়ে আমার অনুসরণ করুক। কেননা যে কেউ নিজের প্রাণ বাঁচাতে চায়, সে তা হারাবে, আর যে কেউ আমার জন্য নিজের প্রাণ হারায়, সে-ই তা বাঁচাবে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
লুক-রচিত সুসমাচারে আলেক্সান্দ্রিয়ার বিশপ সাধু সিরিলের উপদেশ

একদিন যিশু একা এক জায়গায় প্রার্থনা করছিলেন, শিষ্যেরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন; তখন তিনি তাঁদের কাছে এই প্রশ্ন রাখলেন: আমি কে, এ বিষয়ে লোকে কী বলে? (লুক ৯:১৮)।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, যিনি সকলের প্রভু ও ত্রাণকর্তা, তিনি যখন শিষ্যদের সঙ্গে একা প্রার্থনা করতেন, তখন তাঁদের কাছে নিজেকেই পুণ্যজীবনের আদর্শ বলে দেখাতেন। কিন্তু তবুও হয় তো এমন কিছু ছিল, যা শিষ্যদের মন অস্থির করছিল ও তাঁদের অন্তরে ভুলধারণা সৃষ্টি করছিল। কেননা তাঁরা তাঁকেই অন্য সকল মানুষের মত প্রার্থনা করতে দেখছিলেন, যাঁকে আগের দিন ঐশ্বরিক ভাবে অলৌকিক কাজ সাধন করতে দেখেছিলেন। ফলত এ যুক্তিসঙ্গতই ছিল যে তাঁরা মনে মনে ভাববেন: কী অসাধারণ ব্যাপার! আমরা তাঁকে ঈশ্বর না মানুষ গণ্য করব? সেজন্য তেমন চিন্তা-ভাবনার আলোড়ন প্রশমিত করার উদ্দেশ্যে ও তাঁদের প্রায়-টলমান বিশ্বাস স্থির করার অভিপ্রায়ে যিশু একটা প্রশ্ন রাখেন—তিনি তো জানতেন, যারা ইহুদী নয়, এমনকি যারা ইস্রায়েলীয় ছিল তারা সকলেই তাঁর বিষয়ে কী বলছিল। এতে তিনি বেশির ভাগ লোকদের ধারণা থেকে তাঁদের সরিয়ে নিয়ে তাঁদের অন্তরে নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করতে চাচ্ছিলেন। আমি কে, এবিষয়ে লোকে কী বলে? (লুক ৯:১৮)।
এবারও পিতর প্রথম এগিয়ে আসেন—তিনি দলের মুখপাত্র রূপে ঈশ্বরভক্তিতে পূর্ণ বাণী উচ্চারণ করে খ্রিষ্ট বিষয়ে সুস্পষ্ট ও নিখুঁত বিশ্বাস-স্বীকারোক্তি ঘোষণা করে বলেন: আপনি ঈশ্বরের সেই খ্রিষ্ট (লুক ৯:২১)।
শিষ্যটি পবিত্র সত্যের সতর্ক ও সুবিবেচক ঘোষক; কারণ তিনি তাঁর বিষয়ে সাধারণ পরিচয় দেন না: অর্থাৎ কিনা তিনি বলেন না, ‘ঈশ্বরের খ্রিষ্ট,’ কিন্তু বলেন ‘ঈশ্বরের সেই খ্রিষ্ট,’ কেননা ঈশ্বরের তৈলাভিষিক্তজন বলে অনেকে নানা অর্থে খ্রিষ্ট বলে অভিহিত: কেউ রাজা রূপেই তৈলাভিষিক্ত, আবার কেউ নবী রূপে, আবার কেউ আমাদের মত সার্বজনীন ত্রাণকর্তা সেই খ্রিষ্ট দ্বারা পরিত্রাণ পেয়েছে বলে ও পবিত্র আত্মায় তৈলাভিষিক্ত হয়েছে বলে খ্রিষ্ট নাম গ্রহণ করেছে। ফলত খ্রিষ্ট অর্থাৎ তৈলাভিষিক্তজন নামে অনেকেই রয়েছে, কিন্তু এ নাম এমন যা একটা বিশেষ ভূমিকা নির্দেশ করে, অপরদিকে পিতা ঈশ্বরের সেই খ্রিষ্ট একজনমাত্র।
শিষ্যটি বিশ্বাস-স্বীকারোক্তি ঘোষণা করলে পর তিনি দৃঢ় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাঁদের আদেশ করলেন, একথা তাঁরা যেন কাউকে না বলেন; এরপর বলে চললেন, মানবপুত্রকে বহু যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে, এবং প্রত্যাখ্যাত হতে হবে, তাঁকে নিহত হতে হবে, আর তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হতে হবে (লুক ৯:২১-২২)। কিন্তু কেনই বা এ উচিত ছিল না যে, শিষ্যেরা তাঁর কথা সর্বত্র প্রচার করবেন?
যাঁরা বাণীপ্রচারের উদ্দেশ্যেই তাঁর দ্বারা নিযুক্ত হয়েছিলেন, এ কি তাঁদের প্রকৃত ভূমিকা ছিল না? কিন্তু যেহেতু শাস্ত্র এও বলে যে, উপযুক্ত সময়ে সবকিছু শ্রেয় বলে গণ্য হবে (সিরা ৩৯:৩৪ দ্রঃ), সেজন্য এ উচিত ছিল যে, তাঁরা তাঁর কথা তখনই প্রচার করবেন যখন যে সমস্ত ঘটনা তখনও পূর্ণতা পায়নি তা পূর্ণতা পাবে, যথা: যন্ত্রণাভোগ, ক্রুশারোপণ, ক্রুশমৃত্যু, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান; এই মহান ও গৌরবময় আশ্চর্য কাজই বিশেষভাবে প্রমাণ করবে যে সেই ইম্মানুয়েল স্বয়ং প্রকৃত ঈশ্বর, ও পিতা ঈশ্বরের প্রকৃত পুত্র। কেননা মৃত্যু ও অবক্ষয় ধ্বংস করা, শয়তানের কর্তৃত্ব পরাভূত করে পাতাল লুট করা, জগতের পাপ হরণ করা, ও স্বর্গ ও পৃথিবী সম্মিলিত করে মানুষের জন্য পরমদেশের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া—এই সমস্ত বিষয়ই প্রমাণ করে, সেই ইম্মানুয়েল প্রকৃত ঈশ্বর। এজন্যই তিনি আদেশ করেন, রহস্যটা কিছু দিনের মত নীরবতায় পূজিত হোক, অর্থাৎ ততদিন ধরে যতদিন না ঐশব্যবস্থার গোটা বিন্যাস সিদ্ধি লাভ করে। এজন্য মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হলে পর তিনি আদেশ করলেন, রহস্যটা সারা বিশ্বের ঘরে ঘরে প্রকাশিত হোক, যাতে সকলে বিশ্বাস গুণে ধর্মময়তা ও বাপ্তিস্মের গুণে পরিশুদ্ধি লাভ করতে পারে। বস্তুত তিনি বললেন, স্বর্গে ও মর্তে সমস্ত অধিকার আমাকে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা যাও, সকল জাতিকে আমার শিষ্য কর; পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা-নামের উদ্দেশে তাদের বাপ্তিস্ম দাও। আমি তোমাদের যা যা আজ্ঞা করেছি, সেই সমস্ত তাদের পালন করতে শেখাও। আর দেখ, আমি প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি—যুগান্ত পর্যন্ত (মথি ২৮:১৮-২০)।
সুতরাং খ্রিষ্ট আমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছেন ও পবিত্র আত্মার মধ্য দিয়ে আমাদের অন্তরে বাস করেন। তাঁর দ্বারা ও তাঁর সঙ্গে প্রশংসা ও পরাক্রম পবিত্র আত্মার সঙ্গে পিতা ঈশ্বরের কাছে আরোপিত হোক যুগে যুগান্তরে। আমেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৪৫
ধুয়ো:
সকলের চোখ তোমার দিকে চেয়ে থাকে, প্রভু,
যথাসময়ই তুমি তাদের খাদ্য দান কর।

প্রভু সকল বাণীতে বিশ্বাসযোগ্য,
সকল কাজে কৃপাময়।
যারা পতনোন্মুখ, প্রভু তাদের সকলকে ধরে রাখেন,
যারা অবনত, তিনি তাদের সকলকে টেনে তোলেন।   [ধুয়ো]

সকলের চোখ তোমার দিকে চেয়ে থাকে,
যথাসময়ই তুমি তাদের খাদ্য দান কর।
তুমি যেই খোল হাত,
যত জীবের বাসনা পূর্ণ কর।   [ধুয়ো]

প্রভু সকল পথে ধর্মময়,
সকল কাজে কৃপাময়।
যারা তাঁকে ডাকে, অন্তর দিয়েই তাঁকে ডাকে,
প্রভু তাদের সকলের কাছে কাছেই থাকেন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার পুত্রের অমূল্য দেহরক্ত গুণে নবায়িত হয়ে
আমরা তোমার দয়া প্রার্থনা করি: দৈনন্দিন যা ভক্তিভরে উদ্‌যাপন করি,
তা যেন আমাদের মুক্তিলাভের নিশ্চিত চিহ্ন হয়ে উঠে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৩শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, দত্তকপুত্রত্বের অনুগ্রহ গুণে
তুমি আমাদের করে তুলেছ আলোর সন্তান। অনুনয় করি:
তোমার আশীর্বাদে ভুলভ্রান্তির তমসায় জড়িত না হয়ে আমরা বরং
যেন তোমার সত্যের দীপ্তিতে উদ্ভাসিত হয়ে জীবনযাপন করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রজ্ঞা পুস্তক থেকে পাঠ রাজাবলির প্রথম পুস্তক থেকে পাঠ (১৯:১৬খ,১৯-২১)

একদিন প্রভু এলিয়কে বললেন, ‘তোমার পদে নবী হবার জন্য আবেল-মেহোলা-নিবাসী শাফাটের সন্তান এলিসেয়কে তৈলাভিষিক্ত করবে।’
সেখান থেকে রওনা হয়ে তিনি শাফাটের সন্তান এলিসেয়ের দেখা পেলেন; এলিসেয় তখন জমিতে লাঙল দিচ্ছেন; তাঁর আগে আগে বারো জোড়া বলদ চলছে, আর শেষ জোড়ার সঙ্গে তিনি নিজেই রয়েছেন। তাঁর পাশ দিয়ে যেতে যেতে এলিয় নিজের আলোয়ানটা তাঁর গায়ের উপরে ফেলে দিয়ে গেলেন। তিনি বলদগুলো ফেলে রেখে এলিয়ের পিছু পিছু ছুটে তাঁকে বললেন, ‘অনুমতি দিন, আমি আমার মাতাপিতাকে চুম্বন করে আসি, তারপর আপনার অনুসরণ করব।’ তিনি উত্তরে তাঁকে বললেন, ‘যাও, ফিরে যাও! তোমাকে আমি কী করলাম?’
এলিসেয় তাঁকে ছেড়ে ফিরে গেলেন; এক জোড়া বলদ নিয়ে বলি দিলেন, কাঠের জোয়াল জ্বেলে বলদগুলোর মাংস রান্না করলেন, এবং তা লোকদের খেতে দিলেন। তারপর উঠে এলিয়কে অনুসরণ করে তাঁর সেবায় রত থাকলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৬
ধুয়ো:
তুমিই, প্রভু,
আমার স্বত্বাংশ।

আমাকে রক্ষা কর গো ঈশ্বর, তোমাতেই নিয়েছি আশ্রয়।
প্রভুকে বলেছি, ‘প্রভু, তুমিই আমার মঙ্গল।’
প্রভুই আমার স্বত্বাংশ, আমার পানপাত্র,
তোমার হাতেই আমার নিয়তির ভার।   [ধুয়ো]

প্রভুকে ধন্য বলব, তিনি যে আমাকে মন্ত্রণা দেন,
রাত্রিতেও আমাকে উদ্বুদ্ধ করে আমার অন্তর।
আমার সামনে প্রভুকে অনুক্ষণ রাখি,
তিনি আমার ডান পাশে বলে আমি টলব না।   [ধুয়ো]

তাই আমার অন্তর আনন্দ করে, মেতে ওঠে আমার প্রাণ,
আমার দেহও ভরসাভরে করে বিশ্রাম।
তুমি আমাকে বিসর্জন দেবে না পাতালের হাতে,
না, তোমার ভক্তজনকে তুমি সেই গহ্বর দেখতে দেবে না।   [ধুয়ো]

তুমি আমাকে জানিয়ে দেবে জীবনের পথ,
তোমার সম্মুখেই আনন্দের পূর্ণতা,
তোমার ডান পাশেই
চিরন্তন সুখ।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
গালাতীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৫:১,১৩-১৮)

প্রিয়জনেরা, স্বাধীনতার উদ্দেশ্যেই খ্রিষ্ট আমাদের স্বাধীন করেছেন; সুতরাং তোমরা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাক, এবং দাসত্বের জোয়াল তোমাদের ঘাড়ে দিতে আর দিয়ো না।
হে ভাই, তোমরা স্বাধীনতার জন্যই আহূত হয়েছ। শুধু দেখ, তেমন স্বাধীনতাকে মাংসের পক্ষে সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করো না। বরং ভালবাসার মাধ্যমে পরস্পরের সেবা কর। কারণ সমগ্র বিধান এই একটা বচনেই পূর্ণতা লাভ করে, তোমার প্রতিবেশীকে তুমি নিজের মত ভালবাসবে। কিন্তু তোমরা যদি একে অন্যকে কামড়াও ও দীর্ণ-বিদীর্ণ কর, তাহলে সাবধান, পাছে একে অন্যের দ্বারা কবলিত হও।
তাই আমি বলছি, তোমরা আত্মা দ্বারা চালিত হয়ে চল, তাহলেই মাংসের কামনা আর মেটাতে হবে না; কারণ মাংসের যা কাম্য, তা আত্মার বিরোধী এবং আত্মার যা কাম্য, তা মাংসের বিরোধী। আসলে এই দুই পক্ষ তো পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী, ফলে তোমরা যা করতে চাও, তা করতে পার না।
অপরদিকে যদি আত্মা দ্বারা নিজেদের চালিত হতে দাও, তবে তোমরা বিধানের অধীনস্থ নও।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
বল, প্রভু! তোমার এই দাস শুনছে;
অনন্ত জীবনের কথা তোমার কাছেই রয়েছে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৯:৫১-৬২)

যখন তাঁকে ঊর্ধ্বে তুলে নেওয়ার দিনগুলি পূর্ণ হয়ে আসছিল, তখন যিশু যেরুসালেমের দিকে এগিয়ে যাবার জন্য দৃঢ়মুখ হলেন। তাঁর আগে আগে তিনি কয়েকজন দূতকে প্রেরণ করলেন।
তাঁরা রওনা হলেন, ও তাঁর জন্য সব ব্যবস্থা করার জন্য সামারীয়দের একটা গ্রামে প্রবেশ করলেন, কিন্তু লোকেরা তাঁকে গ্রহণ করে নিতে রাজি ছিল না, কারণ তাঁর গন্তব্যস্থান ছিল যেরুসালেম। তা দেখে তাঁর শিষ্য যাকোব ও যোহন বললেন, ‘প্রভু, আপনি কি চান, এলিয় যেমন করেছিলেন, তেমনি আমরা বলি যেন আকাশ থেকে আগুন নেমে এসে এদের ছাই করে ফেলে?’ কিন্তু তিনি তাঁদের দিকে ফিরে তাঁদের ধমক দিলেন, আর তাঁরা অন্য গ্রামের দিকে এগিয়ে চললেন।
তাঁরা তাঁদের সেই পথে এগিয়ে চলছেন, এমন সময় একজন লোক তাঁকে বলল, ‘আপনি যেইখানে যাবেন, আমি আপনার অনুসরণ করব।’ যিশু তাঁকে বললেন, ‘শিয়ালদের গর্ত আছে, আর আকাশের পাখিদের বাসা আছে; কিন্তু মানবপুত্রের মাথা গোঁজবার কোন স্থান নেই।’
অন্য একজনকে তিনি বললেন, ‘আমার অনুসরণ কর।’ কিন্তু সে বলল, ‘প্রভু, অনুমতি দিন, আমি আগে আমার পিতাকে সমাধি দিয়ে আসি।’ তিনি তাকে বললেন, ‘মৃতেরাই নিজ নিজ মৃতদের সমাধি দিক। কিন্তু তুমি গিয়ে ঈশ্বরের রাজ্যের সংবাদ ঘোষণা কর।’
আর একজন বলল, ‘প্রভু, আমি আপনার অনুসরণ করব, কিন্তু অনুমতি দিন, আমি আগে নিজের বাড়ির লোকদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসি।’ যিশু তাকে বললেন, ‘যে কেউ লাঙলে হাত দিয়ে পিছনে ফিরে তাকায়, সে ঈশ্বরের রাজ্যের উপযোগী নয়।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
মঠাধ্যক্ষ সাধু বার্নার্ডের উপদেশ

ঈশ্বর বহুবার বহুরূপে নবীদের মধ্য দিয়ে শুধু কথা বলেছিলেন শুধু নয় (হিব্রু ১:১), কিন্তু তাঁদের দ্বারা দৃষ্টও হলেন। দাউদ তাঁকে স্বর্গদূতদের চেয়ে ছোটই দেখলেন; যেরেমিয়াও তাঁকে পৃথিবীতে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেখলেন; ইসাইয়া বললেন, তিনি তাঁকে একবার উচ্চতম সিংহাসনেই দেখলেন, অন্য সময় স্বর্গদূতদের ও মানুষদের মধ্যে শুধু নয়, কুষ্ঠরোগীর মতই তাঁকে দেখলেন, অর্থাৎ কিনা তাঁকে মাংসধারী শুধু নয়, ঠিক যেন পাপ-মাংসেই পরিবৃত বলে দেখলেন।
তাই সর্বোন্নত যিশুকে দেখতে ইচ্ছা করলে তুমিও প্রথমে তাঁকে বিনম্র অবস্থায় দেখতে চেষ্টা কর। সিংহাসনে সমাসীন রাজাকে দেখতে বাসনা করলে, আগে প্রান্তরে উত্তোলিত সেই সাপের দিকে তাকাও: বিনম্রতার দৃশ্য তোমাকে নমিত করুক, যেন তোমার বিনম্রতার খাতিরে ঐশগৌরবের দৃশ্য তোমাকে উন্নীত করে; বিনম্রতার দৃশ্য তোমার গর্ব নমিত করে নিরাময় করুক, যেন ঐশগৌরবের দৃশ্য তোমার বাসনা পূর্ণমাত্রায় পরিতৃপ্ত করে।
তুমি কি তাঁকে আঘাতগ্রস্ত দেখ? তাহলে তেমন দৃশ্য যেন অর্থশূন্য না হয়, যাতে ঐশগৌরবের দৃশ্য তোমার পক্ষে অর্থহীন না হয়।
তুমি তখন তাঁর সদৃশ হবে যখন তাঁকে দেখতে পাবে তিনি যেভাবে আছেন; তাই তোমার খাতিরে তিনি যে কতই না নমিত হলেন, তা মনশ্চক্ষুতে দেখে তুমি ইতিমধ্যেও তাঁর সদৃশ হও।
বিনম্রতায় তুমি যদি তাঁর একপ্রকার সদৃশ হতে অস্বীকার না কর, তাহলে নিশ্চিত হও, গৌরবেও তুমি তাঁর সদৃশ হবে। যন্ত্রণায় যে তাঁর সঙ্গী হয়েছে, সে যে তাঁর গৌরব থেকে বঞ্চিত হবে, তা তিনি হতে দেবেন না। এক কথায়, তাঁর যন্ত্রণাভোগের যে সহভাগী, তাকে তিনি অবজ্ঞা করেন না, বরং নিজের রাজ্যে তাকে গ্রহণ করেন—যেভাবে সেই দস্যু ক্রুশে অনুতাপ করেই একই দিনে স্বর্গে তাঁর সঙ্গী হল।
এজন্যই তিনি শিষ্যদের বললেন, আমার সকল পরীক্ষার মধ্যে তোমরাই তো বরাবর আমার সঙ্গে সঙ্গে রয়েছ; আমি তোমাদের জন্য রাজ্যের ব্যবস্থা করছি (লুক ২২:২৮-২৯)। সুতরাং ভ্রাতৃগণ, যেহেতু তাঁর সঙ্গে কষ্টভোগ করলে আমরা তাঁর সঙ্গে রাজত্বও করব, সেজন্য আমাদের বর্তমান ধ্যানের বিষয় হোক সেই খ্রিষ্ট—এমনকি ক্রুশবিদ্ধই খ্রিষ্ট। এসো, আমরা তাঁকে আমাদের হৃদয় ও বাহুর সীলমোহর বলে পরিধান করি; এসো, পারস্পরিক ভালবাসার আলিঙ্গনে তাঁকে আলিঙ্গন করি; পুণ্য জীবনের সঙ্কল্পে দৃঢ়সঙ্কল্প হয়ে তাঁর অনুসরণ করি। আমাদের এই যাত্রাপথ যা তাঁরই নিজেরও যাত্রাপথ যিনি ঈশ্বরের পরিত্রাণ স্বরূপ, তা সৌন্দর্য ও প্রভা বিহীন যাত্রাপথ নয়, বরং এতই উজ্জ্বল যে তার মহিমায় সমগ্র বিশ্বজগৎকে পরিপূর্ণ করে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১০৩
ধুয়ো:
প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
আমার অন্তরে যা কিছু আছে, ধন্য কর তাঁর পবিত্র নাম।

প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
আমার অন্তরে যা কিছু আছে, ধন্য কর তাঁর পবিত্র নাম।
প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
ভুলে যেয়ো না তাঁর সমস্ত উপকার:   [ধুয়ো]

তিনিই তো তোমার সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করেন,
তোমার সমস্ত রোগ-ব্যাধি নিরাময় করেন,
গহ্বর থেকে মুক্ত করেন তোমার জীবন,
তোমাকে কৃপা ও স্নেহে করেন মুকুট-ভূষিত,   [ধুয়ো]

তোমার আকাঙ্ক্ষা মঙ্গলদানে পরিতৃপ্ত করেন,
তাই তোমার যৌবন ঈগলের মত নবীন হয়ে ওঠে।
সকল অত্যাচারিতের প্রতি
ধর্মময়তা ও ন্যায়ই প্রভুর আচরণ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমরা যা অর্পণ ও গ্রহণও করেছি, সেই দিব্য সাক্রামেন্ত
আমাদের উজ্জীবিত করুক, যেন অচলা ভক্তিতে তোমার সঙ্গে মিলিত থেকে
আমরা এমন ফল দেখাতে পারি যা চিরস্থায়ী।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৪শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার পুত্রের অবমাননার মধ্য দিয়ে
তুমি পতিত জগৎকে উন্নতশির করেছ।
তাই তোমার ভক্তজন সকলকে পবিত্র আনন্দ মঞ্জুর কর,
পাপের দাসত্ব থেকে যাদের তুমি উদ্ধার করেছ,
তারা যেন শাশ্বত সুখের অংশীদার হতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৬৬:১০-১৪গ)

যেরুসালেমের সঙ্গে আনন্দ কর,
তার জন্য মেতে ওঠ তোমরা সবাই, যারা তাকে ভালবাস।
তার সঙ্গে মহোল্লাসে উল্লসিত হও তোমরা সবাই,
যারা তার উপর বিলাপ করেছিলে।
তবেই তার সান্ত্বনার বুক চুষে খেয়ে তোমরা পরিতৃপ্ত হবে,
তার অফুরন্ত প্রাচুর্য চুষে পান ক’রে তোমরা উৎফুল্ল হবে।
কারণ প্রভু একথা বলছেন:
দেখ, আমি তার উপর প্রবাহিত করব নদীর মতই শান্তি,
প্লাবিনী স্রোতস্বতীর মতই জাতি-বিজাতির গৌরব।
তোমরা চুষে খাবে, বাহুতে করে তোমাদের বহন করা হবে,
কোলের উপরে তোমাদের নাচানো হবে।
মা যেমন নিজের ছেলেকে সান্ত্বনা দেয়,
আমি তেমনি তোমাদের সান্ত্বনা দেব;
যেরুসালেমেই তোমরা সান্ত্বনা পাবে।
এসব কিছু দেখে উল্লসিত হবে তোমাদের হৃদয়,
তোমাদের সর্বাঙ্গ নবীন ঘাসের মত তেজময় হয়ে উঠবে।
প্রভুর হাত তাঁর আপন দাসদের কাছে নিজেকে জ্ঞাত করবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৬৬
ধুয়ো:
সমগ্র পৃথিবী,
পরমেশ্বরের উদ্দেশে জাগিয়ে তোল আনন্দচিৎকার।

সমগ্র পৃথিবী, পরমেশ্বরের উদ্দেশে জাগিয়ে তোল আনন্দচিৎকার,
তাঁর নামের গৌরবে স্তবগান কর,
তাঁকে অর্পণ কর গৌরবময় প্রশংসাগান।
পরমেশ্বরকে বল: ‘তোমার কর্মকীর্তি কত ভয়ঙ্কর!   [ধুয়ো]

সমগ্র পৃথিবী তোমার উদ্দেশে প্রণত হোক,
তোমার উদ্দেশে স্তবগান করুক, করুক তোমার নামগান।’
এসো তোমরা, দেখ পরমেশ্বরের যত কাজ,
আদমসন্তানদের জন্য তাঁর কর্মকীর্তি কেমন ভয়ঙ্কর!   [ধুয়ো]

তিনি সাগর শুষ্ক ভূমিতে পরিণত করলেন,
পায়ে হেঁটেই পার হল তারা;
সেইখানে এসো, আমরা তাঁকে নিয়ে আনন্দ করি।
স্বপরাক্রমে তিনি শাসন করেন চিরকাল।   [ধুয়ো]

এসো, শোন তোমরা সকলে, পরমেশ্বরকে ভয় কর যারা,
এসো, তোমাদের বলব আমার জন্য কী করেছেন তিনি।
ধন্য পরমেশ্বর! তিনি তো ফিরিয়ে দেননি প্রার্থনা আমার,
আমা থেকে ফিরিয়ে নেননি তিনি তাঁর কৃপা।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
গালাতীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৬:১৪-১৮)

প্রিয়জনেরা, আমার বেলায়, আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের ক্রুশে ছাড়া আমি আর অন্য কিছুতেই যেন গর্ব না করি, যা দ্বারা আমার কাছে জগৎ, ও জগতের কাছে আমি ক্রুশবিদ্ধ।
কারণ আসলে পরিচ্ছেদনও কিছু নয়, অপরিচ্ছেদনও কিছু নয়, কিন্তু এক নবসৃষ্টিই সব। আর যারা এই সূত্র অনুসারে চলবে, তাদের সকলের উপরে ও ঈশ্বরের ইস্রায়েলের উপরে শান্তি ও দয়া বর্ষিত হোক।
এখন থেকে কেউ যেন আমাকে দুঃখকষ্ট না দেয়, কারণ আমি যিশুর সমস্ত যন্ত্রণার চিহ্ন নিজের দেহে বহন করি।
ভাই, আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ তোমাদের আত্মার সঙ্গে থাকুক। আমেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
খ্রিষ্টের শান্তি তোমাদের হৃদয়ে রাজত্ব করুক;
খ্রিষ্টের বাণী তার পূর্ণ ঐশ্বর্য নিয়ে তোমাদের অন্তরে বসবাস করুক।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১০:১-১২,১৭-২০)

সেসময়ে প্রভু আরও বাহাত্তরজনকে নিযুক্ত করলেন, ও নিজে যেখানে শীঘ্রই যাবেন, সেই সমস্ত শহরে ও জায়গায় নিজের আগে আগে দু’জন দু’জন করে তাদের প্রেরণ করলেন।
তিনি তাদের বললেন, ‘ফসল প্রচুর বটে, কিন্তু কর্মী অল্প; অতএব ফসলের প্রভুর কাছে মিনতি জানাও, তিনি যেন শস্যখেতে কর্মী পাঠান। রওনা হও: কিন্তু দেখ, আমি নেকড়ের দলের মধ্যে মেষেরই মত তোমাদের প্রেরণ করছি; তোমরা থলি বা ঝুলি বা জুতো সঙ্গে নিয়ে যেয়ো না; পথে কারও সঙ্গে কুশল আলাপ করো না।
যে কোন বাড়িতে প্রবেশ করবে, প্রথমে বল, এই গৃহে শান্তি বিরাজ করুক। সেখানে যদি শান্তির সন্তান থাকে, তবে তোমাদের শান্তি তার উপরে থাকবে, অন্যথা তোমাদের কাছে ফিরে আসবে। তোমরা সেই বাড়িতেই থাক: তারা যা দেয়, তা-ই খাও, তা-ই পান কর, কেননা কর্মী নিজের মজুরির যোগ্য! এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যেয়ো না। তোমরা যে কোন শহরে প্রবেশ কর, লোকেরা যদি তোমাদের গ্রহণ করে, তবে তোমাদের সামনে যা রাখা হবে, তা-ই খাও; এবং সেখানকার পীড়িতদের নিরাময় কর, ও তাদের বল, ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদের কাছে এসে গেছে। কিন্তু যে কোন শহরে প্রবেশ কর, লোকেরা যদি তোমাদের গ্রহণ না করে, তবে বেরিয়ে গিয়ে সেই শহরের পথে পথে গিয়ে একথা বল, তোমাদের শহরের যে ধুলো আমাদের পায়ে লেগেছে, তাও তোমাদের বিরুদ্ধে ঝেড়ে দিই। তবু একথা জেনে রাখ, ঈশ্বরের রাজ্য কাছে এসে গেছে। আমি তোমাদের বলছি, সেই দিনটিতে সেই শহরের দশার চেয়ে সদোমের দশাই সহনীয় হবে।’
পরে সেই বাহাত্তরজন সানন্দে ফিরে এসে বললেন, ‘প্রভু, আপনার নামে অপদূতেরাও আমাদের বশীভূত হয়।’ তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমি শয়তানকে বিদ্যুৎ-ঝলকের মত স্বর্গ থেকে পড়তে দেখলাম। দেখ, আমি তোমাদের সাপ ও বিছে পায়ের নিচে মাড়াবার, ও সেই শত্রুর সমস্ত পরাক্রমের উপরে কর্তৃত্ব করার অধিকার দিয়েছি। কোন কিছুই তোমাদের ক্ষতি করবে না; তবু আত্মাগুলো যে তোমাদের বশীভূত হয়, এতে আনন্দ করো না, এতেই বরং আনন্দ কর যে, তোমাদের নাম স্বর্গে লেখা আছে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

সুসমাচারের যে পাঠ আমরা এইমাত্র শুনেছি, তা আমাদের আহ্বান করে আমরা যেন আবিষ্কার করতে পারি কোন্‌ শস্যখেতের কথা প্রভু ইঙ্গিত করেন যখন বলেন, ফসল প্রচুর বটে, কিন্তু কর্মী অল্প; অতএব ফসলের প্রভুর কাছে মিনতি জানাও, তিনি যেন শস্যখেতে কর্মী পাঠান (লুক ১০:২)। সেই সময়ই তিনি তাঁর সেই বারো জন শিষ্যের সঙ্গে—যাঁদের প্রেরিতদূত নাম দিয়েছিলেন—আরও বাহাত্তর জনকে যোগ করে দিয়ে সকলকেই তৈরী শস্যখেতে প্রেরণ করলেন—এ তাঁর নিজের কথা। তবে সেই শস্যখেত কোনটাই বা ছিল? যাদের মধ্যে কোন বীজ তখনও বোনা হয়নি, সেই বিধর্মীদের মধ্যেই যে তিনি তাঁদের প্রেরণ করেননি তা বলা বাহুল্য। তাই সহজে বোঝা যায়, শস্যখেত ছিল ইহুদী জাতি। সেই শস্যখেতেই শস্যের প্রভু এসেছিলেন, সেই শস্যখেতেই তিনি শস্যকাটিয়ে প্রেরণ করলেন; অপরদিকে বিধর্মীদের মধ্যে তিনি শস্যকাটিয়ে নয়, বীজবুনিয়েদেরই প্রেরণ করলেন। তাহলে আমরা বুঝতে পারি, ইহুদী জাতির মধ্যে শস্যগ্রহণ, আর বিধর্মীদের মধ্যে বীজবপন ঘটল। সেই শস্যখেত তৈরী হলেই তা থেকে প্রেরিতদূতদের মনোনয়ন করা হল—বাস্তবিকই নবীরাই সেই খেতে বীজ বুনেছিলেন। আহা, ঈশ্বরের চাষ দর্শন করা, তাঁর মঙ্গলদানগুলি উপভোগ করা, ও যাঁরা তাঁর খেতে কাজ করেন তাঁদের দ্বারা সান্ত্বনা পাওয়া কতই না সুন্দর!
তাই তোমরা মনোযোগ দিয়ে আমার সঙ্গে ঈশ্বরের চাষ দর্শন কর, আর সেটার মধ্যে সেই দু’টো শস্যখেত দর্শন কর: একটা অতীতকালের, আর একটা ভাবীকালের শস্যখেত—ইহুদী জাতির বেলায় অতীতকালের শস্যখেত, আর বিধর্মীদের বেলায় ভাবী শস্যখেত। এসো, এর প্রমাণ দিই: প্রভু ঈশ্বরের পবিত্র শাস্ত্র থেকে ছাড়া সেই শস্যখেত দু’টো কোথা থেকে উৎপন্ন হয়েছে? দেখ, আজকের বাণী-পাঠে আমরা একথা পেয়েছি: ফসল প্রচুর বটে, কিন্তু কর্মী অল্প; অতএব ফসলের প্রভুর কাছে মিনতি জানাও, তিনি যেন শস্যখেতে কর্মী পাঠান। অন্যত্র প্রভু শিষ্যদের একথা বলেন, তোমরা বল গ্রীষ্মকাল এখনও দূরে রয়েছে; চোখ তুলে তোমরা চেয়ে দেখ, সোনালী হয়ে যত মাঠ ফসল-কাটার জন্য তৈরী (যোহন ৪:৩৫)।
তিনি আরও বলে চলেন, অন্যেরা শ্রম করেছে, আর তোমরা তাদের শ্রমের ফল ভোগ করতে এসেছ (যোহন ৪:৩৮)। আব্রাহাম, ইসায়াক, যাকোব, মোশি, নবীরাই শ্রম করেছেন; বীজ বুনেই তাঁরা শ্রম করেছেন: প্রভুর আগমনে ফসল তৈরী ছিল। সুসমাচারের কাস্তে হাতে করে প্রেরিত হয়ে শস্যকাটিয়েরা ফসলটা প্রভুর সেই উঠানেই নিয়ে গেলেন যেখানে স্তেফানকে একদিন মাড়িয়ে দেওয়া হবে।
আর এখন হঠাৎ পল উপস্থিত—তিনি বিধর্মীদের কাছে প্রেরিত হলেন; একথা তিনি লুকিয়ে রাখেন না, এমনকি তিনি এ দায়িত্ব ব্যক্তিগত ও বিশিষ্ট অনুগ্রহ বলেই গণ্য করেন। বস্তুতপক্ষে তিনি নিজ পত্রাবলিতে একথা ঘোষণা করেন যে, খ্রিষ্টের কথা যেখানে অজানা ছিল, তিনি সেইখানে সুসমাচার প্রচার করতে প্রেরিত হলেন। কিন্তু যেহেতু সেই শস্যখেত তৈরী ছিল, সেজন্য এসো, সেই শস্যখেতের দিকে দৃষ্টিপাত করি, আমরাই যে শস্যখেত। প্রেরিতদূতেরা ও নবীরা ইতিমধ্যে বীজ বপন করে গেছেন; প্রভু নিজেই বীজ বুনলেন কেননা প্রেরিতদূতদের মধ্যে তিনি উপস্থিত ছিলেন, ফলত তিনি নিজেই ফসল সংগ্রহ করলেন। কেননা তাঁকে ছাড়া তাঁরা তো কিছুই নন; তিনি বরং তাঁদের ছাড়াও স্বয়ংসম্পূর্ণ; এজন্য তিনি বললেন, আমাকে ছাড়া তোমরা কিছুই করতে পার না (যোহন ১৫:৫)।
তবে বিধর্মীদের মধ্যেও বীজ বুনতে বুনতে খ্রিষ্ট একথা বলেন, বীজবুনিয়ে বীজ বুনতে বেরিয়ে পড়ল (লুক ৮:৫), আর সেইখানে ফসল সংগ্রহ করতে শস্যকাটিয়েদের প্রেরণ করা হল। তাঁরা হলেন খ্রিষ্টের প্রেরিতদূত সেই মঙ্গলবাণী-প্রচারক যাঁরা পথে কারও সঙ্গে কুশল আলাপ করেন না (লুক ১০:৪ দ্রঃ), অর্থাৎ কিনা ভ্রাতৃপ্রেমের সঙ্গে সুসমাচার প্রচার করা ছাড়া তাঁরা অন্য কিছুই করেন না, অন্য কিছুরই অন্বেষণ করেন না। ঘরে ঘরে গিয়ে তাঁরা বলেন, এই গৃহে শান্তি বিরাজ করুক (লুক ১০:৫)। তাঁরা শুধু মুখে তা বলেন না, বরং তাঁদের যা কিছু আছে, সেই সব কিছু বিতরণ করেন—তাঁদের শান্তি আছে বিধায়ই তাঁরা শান্তির বাণী প্রচার করেন। যার অন্তরে শান্তি রয়েছে, সে বলুক, এই গৃহে শান্তি বিরাজ করুক, আর সেখানে যদি শান্তির সন্তান থাকে, তবে তোমাদের শান্তি তার উপরে থাকবে (লুক ১০:৫-৬)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আশীর্বাদ কর: তোমার অগণন মঙ্গলদানে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে
আমরা যেন পরিত্রাণের পুরস্কার লাভ ক’রে
তোমার প্রশংসাগান থেকে কখনও বিরত না থাকি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৫শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, পথভ্রান্ত হলে মানুষ যেন শুভ পথে ফিরে যেতে পারে,
এজন্য তুমি তোমার সত্যের আলো জ্বালিয়ে রাখ।
আশীর্বাদ কর: খ্রিষ্টবিশ্বাসী বলে যারা নিজেদের পরিচয় দেয়,
তারা যেন সেই সমস্ত কর্ম পরিত্যাগ করে যা ‘খ্রিষ্ট’ নামের প্রতিকূল,
এবং তা-ই পালন করে যা সেই নামের অনুকূল।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
দ্বিতীয় বিবরণ থেকে পাঠ (৩০:১০-১৪)

মোশি জনগণকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘তুমি এই বিধান-পুস্তকে লেখা প্রভুর আজ্ঞাগুলো ও তাঁর বিধিগুলো পালনের জন্য তোমার পরমেশ্বর প্রভুর প্রতি বাধ্য হবে, ও তোমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে ও তোমার সমস্ত প্রাণ দিয়ে তোমার পরমেশ্বর প্রভুর দিকে ফিরবে।
কেননা আমি আজ এই যে আজ্ঞা তোমার জন্য জারি করছি, তা তোমার পক্ষে দুরূহও নয়, তোমার আয়ত্তের অতীতও নয়। তা স্বর্গে নয় যে তুমি বলবে, আমাদের জন্য কে স্বর্গে আরোহণ করে তা আমাদের কাছে এনে শোনাবে যেন তা পালন করতে পারি; তা সমুদ্রের ওপারেও নয় যে তুমি বলবে, আমাদের জন্য কে সমুদ্র পার হয়ে তা আমাদের কাছে এনে শোনাবে যেন তা পালন করতে পারি। না, এই বাণী বরং তোমার অতি নিকটবর্তী, তা তোমার মুখে ও তোমার হৃদয়েই রয়েছে, তুমি যেন তা পালন কর।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৬৯
ধুয়ো:
বিনম্র সকল, ঈশ্বরের অন্বেষণ কর,
তোমাদের হৃদয় উজ্জীবিত হবে।

আমি কিন্তু তোমার কাছে, প্রভু, প্রসন্নতার সময়ে প্রার্থনা করি;
তোমার মহাকৃপায়, পরমেশ্বর, তোমার পরিত্রাণের বিশ্বস্ততায় আমাকে সাড়া দাও।
আমাকে সাড়া দাও, প্রভু, তোমার কৃপা যে মঙ্গলময়!
তোমার অপার স্নেহের দোহাই আমার দিকে ফিরে চাও।   [ধুয়ো]

আর আমি—আমি তো দুঃখী, বেদনাপীড়িতই আমি!
পরমেশ্বর, তোমার পরিত্রাণ আমায় নিরাপদে রাখুক।
গান গেয়ে আমি পরমেশ্বরের নামের প্রশংসা করব,
ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর মহিমাকীর্তন করব।   [ধুয়ো]

তা দেখে বিনম্ররা আনন্দিত হোক,
ঈশ্বর-অন্বেষী সকল! তোমাদের হৃদয় উজ্জীবিত হোক;
কারণ প্রভু নিঃস্বকে শোনেন,
বন্দিদশায় পতিত তাঁর আপনজনদের তিনি অবজ্ঞা করেন না।   [ধুয়ো]

কারণ পরমেশ্বর সিয়োনকে ত্রাণ করবেন,
যুদার নগরগুলি পুনর্নির্মাণ করবেন,
তাঁর দাসদের বংশ পাবে সেই দেশের উত্তরাধিকার,
যারা তাঁর নাম ভালবাসে, তারা সেখানে করবে বসবাস।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
কলসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১:১৫-২০)

খ্রিষ্ট যিশু অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি,
তিনি তো নিখিল সৃষ্টির প্রথমজাত,
কারণ স্বর্গলোকে ও পৃথিবীতে
দৃশ্য-অদৃশ্য যা কিছু আছে
—ঊর্ধ্বলোকের যত সিংহাসন,
যত প্রভুত্ব, আধিপত্য ও কর্তৃত্ব—
সবই তাঁরই মধ্যে সৃষ্ট হয়েছে।
সমস্ত কিছু সৃষ্ট হয়েছে তাঁরই দ্বারা
এবং তাঁকেই উদ্দেশ্য ক’রে;
সমস্ত কিছুর আগেই তিনি আছেন,
সমস্ত কিছু তাঁরই মধ্যে একতাবদ্ধ।
তিনি তো দেহের, অর্থাৎ মণ্ডলীর মাথা;
তিনি তো আদি,
তিনি তো মৃতদের মধ্য থেকে প্রথমজাত,
সবকিছুতে তিনিই যেন শীর্ষপদের অধিকারী হতে পারেন।
এটি ছিল ঈশ্বরের মঙ্গল-ইচ্ছা:
তাঁর আপন পরিপূর্ণতা তাঁর মধ্যে বসবাস করবে,
এবং তাঁর ক্রুশীয় রক্তের মধ্য দিয়ে শান্তি আনায়
তাঁরই দ্বারা পৃথিবীতে ও স্বর্গলোকে
সমস্তই তিনি নিজের সঙ্গে পুনর্মিলিত করবেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তোমার সমস্ত কথাই আত্মা, প্রভু; তোমার সমস্ত কথাই জীবন।
অনন্ত জীবনের কথা তোমার কাছেই রয়েছে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১০:২৫-৩৭)

একদিন, যাচাই করার অভিপ্রায়ে একজন বিধানপণ্ডিত উঠে যিশুর কাছে এই প্রশ্ন রাখলেন, ‘গুরু, অনন্ত জীবনের উত্তরাধিকারী হবার জন্য আমাকে কী করতে হবে?’ তিনি তাঁকে বললেন, ‘বিধানে কী লেখা আছে? তাতে কী পড়ছেন?’ তিনি উত্তর দিয়ে বললেন, ‘তুমি তোমার ঈশ্বর প্রভুকে তোমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে, তোমার সমস্ত প্রাণ দিয়ে, তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে ও তোমার সমস্ত মন দিয়ে ভালবাসবে, এবং তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত ভালবাসবে।’ তিনি তাঁকে বললেন, ‘আপনি ঠিক বলেছেন; তা-ই করুন, তবে জীবন পাবেন।’
কিন্তু তিনি নিজেকে নির্দোষী দেখাবার ইচ্ছায় যিশুকে বললেন, ‘কিন্তু আমার প্রতিবেশী কে?’ যিশু এই বলে উত্তর দিলেন, ‘একজন লোক যেরুসালেম থেকে যেরিখোতে নেমে যাচ্ছিল, এমন সময়ে সে একদল দস্যুর হাতে পড়ল; তারা তার পোশাক খুলে নিল ও তাকে মেরে আধমরা অবস্থায় ফেলে রেখে চলে গেল। দৈবাৎ একজন যাজক সেই পথ দিয়ে নেমে যাচ্ছিল; তাকে দেখে সে পাশ কেটে চলে গেল। তেমনি একজন লেবীয়ও সেই জায়গায় এসে পড়ে তাকে দেখে পাশ কেটে চলে গেল। কিন্তু একজন সামারীয় সেই পথ দিয়ে যেতে যেতে তার কাছে এসে পড়ল, ও তাকে দেখে দয়ায় বিগলিত হল; কাছে এগিয়ে এসে সে তেল ও আঙুররস ঢেলে তার সমস্ত ঘা বেঁধে দিল; পরে তাকে নিজের বাহনের উপরে বসিয়ে একটা সরাইখানায় নিয়ে গিয়ে তাকে যত্ন করল। পরদিন দু’টো রুপোর টাকা বের করে সরাইখানার মালিককে দিয়ে বলল, একে যত্ন করুন, ফেরার পথে আমি আপনার অতিরিক্ত যত খরচ মিটিয়ে দেব।
আপনি কি মনে করেন, এই তিনজনের মধ্যে কে দস্যুদের হাতে পড়া লোকটির প্রতিবেশী হয়ে উঠল?’ তিনি বললেন, ‘যে তার প্রতি দয়া দেখাল, সে-ই।’ যিশু তাঁকে বললেন, ‘এবার যান, আপনিও সেইমত কাজ করুন।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
হিব্রুদের কাছে পত্রে বিশপ সাধু জন খ্রিসোস্তমের উপদেশ

যে কোন খ্রিষ্টভক্ত পুণ্যজন: সংসারে বাস করলেও ভক্তজন হওয়ায়ই সে পুণ্যজন। সুতরাং এসো, সংসারের মানুষকে দুর্দশাগ্রস্ত দেখে তাকে সাহায্য করি। যারা আধ্যাত্মিকতার শীর্ষস্থানে বাস করে, কেবল তাদেরই প্রতি তৎপর হওয়া উচিত নয়; ওরা তো জীবনাচরণ ও বিশ্বাস ক্ষেত্রে পুণ্যজন; বিশ্বাস ক্ষেত্রে এরাও কিন্তু পুণ্যজন, ও জীবনাচরণ ক্ষেত্রেও এদের মধ্যে অনেকে পুণ্যজন। এমনটি যেন না ঘটে যে, সন্ন্যাসী কারারুদ্ধ হলে আমরা তাকে দেখতে যাই, কিন্তু সাধারণ ভক্তজন হলে তার কথা ভুলে যাই: এও পুণ্যজন, এও ভাই। তোমাদের প্রশ্ন: সে কিন্তু দুর্দন্ত ও অসৎ ব্যক্তি হলে, তবে আমাদের কেমন ব্যবহার করতে হবে? খ্রিষ্টের এ বাণী শোন: তোমরা বিচার করো না, যেন নিজেরা বিচারাধীন না হও (মথি ৭:১)।
তুমি তো ঈশ্বরের জন্যই কাজ কর। আমি কী বলছি? বিধর্মীকে দুর্দশাগ্রস্ত দেখেও তাকে সাহায্য করা উচিত; এক কথায়, দুর্দশাগ্রস্ত যে কোন মানুষকেই সাহায্য করা দরকার—বিশেষভাবে সাধারণ ভক্তজনকে। পলের এ বাণী শোন: এসো, সকলের মঙ্গল সাধন করি, বিশেষভাবে তাদেরই, যারা বিশ্বাস সূত্রে আমাদের আপনজন (গা ৬:১০)। কেননা কেবল সন্ন্যাসীদেরই মঙ্গল সাধন করতে গিয়ে তাদের তন্ন তন্ন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যে বলত, ‘যোগ্য না হলে, ন্যায়বান না হলে, অলৌকিক কাজ সাধন না করলে আমি তাকে সাহায্য করব না,’ সে নিজের অর্থদানের পরিমাণ বেশ কিছুই কমিয়ে ফেলেছে, এমনকি, আস্তে আস্তে আর কিছুই দেবে না।
পাপী ও অপরাধীদের প্রতি সাহায্যদান, তাও অর্থদান; কেননা অর্থদান বলতে মঙ্গলকারীদের প্রতি দয়া দেখানো নয়, পাপীদের প্রতিই করুণা দেখানো বোঝায়। এবিষয়ে নিশ্চিত হবার জন্য খ্রিষ্টের এ উপমা-কাহিনী শোন: একজন লোক যেরুসালেম থেকে যেরিখোতে নেমে যাচ্ছিল, এমন সময়ে সে একদল দস্যুর হাতে পড়ল… (লুক ১০:৩০), আর তারা তাকে আঘাত করে পথে আধমরা অবস্থায় আহত করে ফেলে রাখল। দৈবক্রমে সেই পথ দিয়ে একজন লেবীয় যাচ্ছিল, তাকে দেখে সে পাশ কাটিয়ে নিজ পথে এগিয়ে গেল। শেষে সামারীয় একজন লোক এল, সে খুব যত্ন করে তার ঘার উপরে তেল ঢেলে দিয়ে তা বেঁধে দিল, গাধার পিঠে তাকে উঠিয়ে সরাইখানায় নিয়ে গিয়ে মালিককে বলল, একে যত্ন করুন। আর দেখ তার কী মহা উদারতা: সে বলল, ফেরার পথে আমি আপনার অতিরিক্ত যত খরচ মিটিয়ে দেব (লুক ১০:৩৫)।
কাহিনী শেষে যিশু প্রশ্ন রাখেন, তবে আপনার প্রতিবেশী কে? আর যে বিধানপণ্ডিত উত্তরে বলেছিলেন, সে-ই, যে তাকে দয়া দেখিয়েছে, সেই পণ্ডিত প্রত্যুত্তরে যিশুর এ বাণী শুনলেন, এবার যান, আপনিও সেইমত কাজ করুন (লুক ১০:৩৭)। উপমাটির বক্তব্য চিন্তা কর। যিশু এমন কথা বলেননি যে, ইহুদী একজন সামারীয় একজনকে সাহায্য করেছে, বরং সামারীয়ই একজন এত উদার দানশীলতা দেখিয়েছে। এতে আমরা বুঝি, বিধর্মীদের বাদ দিয়ে কেবল ধর্মভাইদের সেবাযত্ন করা চলবে না, সকলকেই সমানভাবে সেবাযত্ন করা দরকার। তাই তুমিও যদি কষ্টভোগী কাউকে দেখ, তত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সময় ব্যয় করো না: সে কষ্টে ভুগছে বিধায়ই তোমার সাহায্য তারই অধিকার। কেননা একটা গাধা গর্তে পড়ার ফলে শ্বাসরুদ্ধ হলে তুমি যখন তার মালিক যে কে তেমন কথা চিন্তা না করেই গাধাটা ওঠাও, তখন এর চেয়ে উচিত, যাকে তুমি সাহায্য কর, তার বিষয়ে তত অনুসন্ধান না করা। কেননা গ্রীক কি ইহুদী হোক, সে ঈশ্বরেরই। বিধর্মী হয়েও সে তোমার সাহায্যের আকাঙ্ক্ষী।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৮৪
ধুয়ো:
চড়ুই পাখিও খুঁজে পায় বাসা, দোয়েলও পায় শাবকদের রেখে যাওয়ার নীড়—
সেই তো তোমার বেদি, হে সেনাবাহিনীর প্রভু, হে আমার রাজা, হে আমার পরমেশ্বর।

সুখী তারা, যারা বাস করে তোমার গৃহে,
তারা তোমার প্রশংসা নিত্যই করে থাকে।
সুখী তারা, তোমাতেই যাদের শক্তি,
যাদের অন্তরে বিরাজিত তোমার যত পথ।   [ধুয়ো]

গন্ধতরুর উপত্যকা পেরিয়ে যেতে যেতে তারা তা ঝরনায় পরিণত করে,
প্রথম বৃষ্টিও তা ভূষিত করে আশিসধারায়;
প্রাকার প্রাকার তারা এগিয়ে চলে,
যতক্ষণ না দেবতাদের দেবতা সিয়োনেই দর্শন দেন।   [ধুয়ো]

হে প্রভু, সেনাবাহিনীর পরমেশ্বর, আমার প্রার্থনা শোন,
কান দাও, হে যাকোবের পরমেশ্বর।
হে পরমেশ্বর, হে আমাদের ঢাল, চেয়ে দেখ,
দেখ তোমার তৈলাভিষিক্তজনের মুখের দিকে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এ দিব্য উপহার গ্রহণ করে আমরা তোমাকে অনুনয় করি:
এ মহারহস্যে দৈনন্দিন যোগদানের ফলে
আমরা যেন তোমার পরিত্রাণকর্মের পূর্ণ সার্থকতা উপলব্ধি করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৬শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, করুণাবিষ্ট হয়ে তোমার অনুগ্রহের দানগুলি
অপর্যাপ্ত মাত্রায় তোমার মণ্ডলীর উপর বর্ষণ কর,
তারা যেন উদ্দীপ্ত বিশ্বাস, আশা ও ভালবাসার সঙ্গে
জাগ্রত অন্তরে তোমার আজ্ঞা পালনে নিষ্ঠাবান থাকতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
আদিপুস্তক থেকে পাঠ (১৮:১-১০ক)

একদিন প্রভু মাম্রের ওক্‌ কুঞ্জে আব্রাহামকে দেখা দিলেন; তিনি দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে তাঁবুর প্রবেশদ্বারে বসে ছিলেন।
চোখ তুলে তিনি দেখতে পেলেন, কারা তিনজন তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। দেখামাত্র তিনি স্বাগত জানাবার জন্য তাঁবুর প্রবেশদ্বার থেকে তাঁদের কাছে ছুটে এগিয়ে গিয়ে মাটিতে প্রণত হলেন, বললেন, ‘প্রভু আমার, যদি আপনার দৃষ্টিতে অনুগ্রহের পাত্র হয়ে থাকি, আপনার এই দাসের কাছে কিছুক্ষণ না থেমে এগিয়ে যাবেন না। আমি এখন কিছুটা জল আনতে বলি, আপনারা পা ধুয়ে নিয়ে এই গাছের তলায় বিশ্রাম নিন; আমি কিছুটা খাবার নিয়ে আসি, আপনারা পথে এগিয়ে যাবার আগে আপনাদের প্রাণ জুড়িয়ে যান, এই কারণেই তো আপনারা আপনাদের এই দাসের এই পথ দিয়ে চলেছেন।’ তাঁরা বললেন, ‘আচ্ছা, যা বলেছ, তাই কর।’
তাই আব্রাহাম তাড়াতাড়ি তাঁবুতে সারার কাছে গিয়ে বললেন, ‘শীঘ্রই তিন ধামা সেরা ময়দা মেখে পিঠা বানাও।’ তাঁর গবাদি পশু যেখানে ছিল, সেখানে তিনি নিজেই ছুটে গিয়ে উত্তম নধর বাছুর বেছে এনে তা চাকরকে দিলেন, আর সে সঙ্গে সঙ্গে তা প্রস্তুত করতে লাগল। তিনি তখন দই, দুধ আর সেই রান্না করা বাছুরের মাংস এনে তাঁদের সামনে সাজিয়ে দিলেন। এভাবে তিনি তাঁদের কাছে গাছের তলায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তাঁরা খাওয়া-দাওয়া করলেন।
তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার স্ত্রী সারা কোথায়?’ তিনি উত্তরে বললেন, ‘ওই যে, সে ওখানে, তাঁবুর ভিতরেই, আছে।’ তখন তাঁর অতিথি একজন বললেন, ‘এক বছর পরে এই সময়ে আমি তোমার কাছে আবার আসবই আসব; তখন তোমার স্ত্রী সারার একটি পুত্রসন্তান হবে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৫
ধুয়ো:
কে তোমার তাঁবুতে
আতিথ্য পাবে, প্রভু?

যার আচরণ নিখুঁত,
যার কাজ ধর্মময়,
অন্তর থেকে যে সত্য কথা বলে,
যার জিহ্বায় কুৎসা নেই,   [ধুয়ো]

বন্ধুর যে করে না অপকার,
প্রতিবেশীকে যে দেয় না অপবাদ,
যার দৃষ্টিতে ভ্রষ্ট মানুষ অবজ্ঞার পাত্র,
কিন্তু প্রভুভীরুকে যে সম্মান করে,   [ধুয়ো]

সুদে যে টাকা দেয় না,
নির্দোষের বিরুদ্ধে যে নেয় না কোন ঘুষ,
এমনই যার আচরণ,
সে টলবে না কোনদিন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
কলসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (১:২৪-২৮)

প্রিয়জনেরা, তোমাদের জন্য আমি যে দুঃখকষ্ট ভোগ করছি, তাতে আমি আনন্দিত, এবং যে দুঃখযন্ত্রণার অংশ খ্রিষ্টের এখনও অপূর্ণাঙ্গ রয়েছে, তা আমার নিজের মাংসে পূরণ করছি তাঁর দেহের জন্য, যে দেহ স্বয়ং মণ্ডলী। তোমাদের পক্ষে ঈশ্বর থেকে যে দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে, সেই অনুসারে আমি সেই মণ্ডলীর সেবক হয়েছি যেন ঈশ্বরের বাণীকে পূর্ণ করতে পারি, অর্থাৎ যেন সেই বাণী-রহস্যকে পূর্ণ করতে পারি যা কত কাল কত যুগ ধরে গুপ্ত ছিল কিন্তু এখন তাঁর পবিত্রজনদের কাছে প্রকাশিত হল। সেই পবিত্রজনদের কাছেই তো ঈশ্বর জানাতে চাইলেন বিজাতীয়দের মধ্যে সেই রহস্যের গৌরবের ঐশ্বর্য কী; রহস্যটি হল তোমাদের-মাঝে-খ্রিষ্ট, গৌরবের আশা যিনি।
তাঁকেই আমরা ঘোষণা করছি, সমস্ত প্রজ্ঞা দ্বারা প্রত্যেক মানুষকে সচেতন করছি ও প্রত্যেক মানুষকে শিক্ষা দান করছি, যেন প্রত্যেক মানুষকে খ্রিষ্টে সিদ্ধপুরুষ করে তুলতে পারি।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
সুখী তারা, যারা সুন্দর ও উদার মনে প্রভুর বাণী আঁকড়ে ধরে রাখে
ও ধর্মনিষ্ঠা দ্বারাই ফলশালী হয়।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১০:৩৮-৪২)

একদিন পথ চলতে চলতে যিশু একটা গ্রামে প্রবেশ করলেন, আর মার্থা নামে একজন স্ত্রীলোক নিজের বাড়িতে তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন।
মারীয়া নামে তাঁর একটি বোন ছিলেন, তিনি প্রভুর পায়ের কাছে বসে তাঁর বাণী শুনছিলেন।
কিন্তু মার্থা সেবার ব্যাপারে খুবই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন: কাছে এসে তাঁকে বললেন, ‘প্রভু, আপনার কি কোন চিন্তা নেই যে, আমার বোন সেবাকর্মের ভার আমার একার উপরেই ফেলে রেখেছে? তাকে আমাকে সাহায্য করতে বলুন।’ কিন্তু প্রভু এই বলে তাঁকে উত্তর দিলেন, ‘মার্থা, মার্থা, তুমি অনেক কিছু নিয়ে চিন্তিতা ও উদ্বিগ্না; কিন্তু আবশ্যক একটামাত্র জিনিস আছে; উত্তম অংশটা মারীয়াই বেছে নিয়েছে, আর তার কাছ থেকে তা কেড়ে নেওয়া হবে না।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
এজেকিয়েলের পুস্তকে মহাপ্রাণ সাধু গ্রেগরির উপদেশ

ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করা, প্রজ্ঞাহীনকে প্রজ্ঞা-শিক্ষা দান করা, পথভ্রষ্টকে সৎপথে আনা, গর্বিতকে বিনম্রতার পথে আহ্বান করা, রোগপীড়িতকে সেবাযত্ন করা, অভাবগ্রস্তকে ও সকলকে উপকার করা, আমাদের হাতে ন্যস্ত মানুষকে প্রয়োজনীয় সবকিছু যুগিয়ে দেওয়া—এ কর্মী জীবন। অন্য দিকে, ঈশ্বর ও প্রতিবেশীর ভালবাসা এমনভাবে রক্ষা করা, যাতে বাহ্যিক কর্ম থেকে বিরত হয়ে আমরা কেবল স্রষ্টার বাসনায়ই অন্তরকে পরিপূর্ণ হতে দিতে পারি যার ফলে কোন কর্মের প্রতি আর কোন স্বাদ অনুভব না করি বরং অন্য সমস্ত চিন্তা বাতিল ক’রে আত্মা যেন স্রষ্টার শ্রীমুখ দেখবার বাসনায় জ্বলন্ত হয়ে ওঠে, ক্ষয়শীল দেহের ভার দুঃখের সঙ্গে সহ্য করে, সমস্ত শক্তি দিয়ে দূতদের স্তুতিবন্দনায় ও স্বর্গনাগরিকদের সাহচর্যে যোগ দেয় ও ঈশ্বরের অসীম দর্শন চিরকালের মত উপভোগ করে—এ তো ধ্যানী জীবন।
মার্থা ও মারীয়া এ জীবনাশ্রম দু’টোর উত্তম দৃষ্টান্ত: কেননা মার্থা বিবিধ কর্মে ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু মারীয়া প্রভুর পায়ে বসে তাঁর বাণী শুনছিলেন। মারীয়া তাঁকে সাহায্য করায় অবহেলা করছিলেন বিধায় মার্থা অভিযোগ করলে যিশু তাঁকে উত্তরে বললেন, মার্থা, মার্থা, তুমি অনেক কিছু নিয়ে চিন্তিতা ও উদ্বিগ্না; কিন্তু আবশ্যক একটামাত্র জিনিস আছে; উত্তম অংশটা মারীয়াই বেছে নিয়েছে, আর তার কাছ থেকে তা কেড়ে নেওয়া হবে না (লুক ১০:৪১-৪২)। মার্থা যা বেছে নিয়েছিলেন, তার কোন নিন্দা করা হয় না বটে, তবু মারীয়া যা বেছে নিয়েছিলেন, তার প্রশংসা করা হয়। বস্তুতপক্ষে খ্রিষ্ট বলেননি, মারীয়া যে অংশ বেছে নিয়েছিলেন তা ভাল, বরং সেই অংশকে উত্তমই বললেন; এতে আমরা অনুমান করি যে, মার্থার অংশও ভাল ছিল।
মারীয়ার অংশ যে উত্তম, তা পরবর্তী কথায় আরও উজ্জ্বল প্রমাণ পায়: তিনি বললেন, তার কাছ থেকে তা কেড়ে নেওয়া হবে না; কেননা কর্মী জীবন মৃত্যুক্ষণে নিঃশেষ হয়—যেহেতু যেখানে কারও ক্ষুধা হবে না, সেই শাশ্বত জীবনলোকে কেইবা ক্ষুধার্তদের খাদ্য দান করবে? যেখানে কারও পিপাসা হবে না, সেখানে কেইবা পিপাসিতদের জল পান করাবে? যেখানে কারও মৃত্যু হয় না, সেখানে কেইবা মৃতদের সমাধি দেবে? অতএব, কর্মী জীবন এ সংসারেই নিঃশেষ হবে, কিন্তু ধ্যানী জীবন এখানে শুরু করে স্বর্গীয় মাতৃভূমিতে সিদ্ধিলাভ করবে, কেননা যে প্রেমাগ্নি এই নিম্নলোকে জ্বলতে শুরু করল, প্রেমিকের দর্শন পেয়ে আরও জ্বলন্ত হয়ে উঠবে। সুতরাং, ধ্যানী জীবন কখনও কেড়ে নেওয়া হয় না, কেননা এ সংসারের আলো নিভে গেলে সিদ্ধি লাভ করে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১১১
ধুয়ো:
দয়াবান স্নেহশীল প্রভু আপন আশ্চর্য কর্মকীর্তির এক স্মারক চিহ্ন দেন:
যারা তাঁকে ভয় করে, তিনি তাদের খাদ্য দান করেন।

াঁর হাতের কর্মকীর্তি বিশ্বস্ততা ও ন্যায়বিচার-মণ্ডিত,
তাঁর সকল আদেশ বিশ্বাসযোগ্য,
তা দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত চিরদিন চিরকাল ধরে,
বিশ্বস্ততা ও ন্যায়নীতিতেই সাধিত।   [ধুয়ো]

তাঁর আপন জাতির কাছে তিনি মুক্তি পাঠিয়ে দিলেন,
আপন সন্ধি জারি করলেন চিরকালের মত;
তাঁর নাম পবিত্র, ভয়ঙ্কর,
প্রভুভয়ই প্রজ্ঞার সূত্রপাত।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, প্রসন্ন হয়ে তোমার জনগণের সহায় হও।
যখন তাদের স্বর্গীয় রহস্যময় অন্নে পরিপূর্ণ করেছ,
তখন প্রাচীন জীবনধারণ থেকে
জীবনের নবীনতায়ই তাদের উপনীত কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৭শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, হে শরণাগত ভক্তদের রক্ষাকর্তা,
তুমি ছাড়া এজগতে চিরস্থায়ী ও পবিত্র বলতে কোন কিছুই নেই।
আমাদের উপর তোমার করুণাধারা বর্ষণ কর:
তুমি নিজে আমাদের নিয়ন্তা ও পথদিশারী হলে
আমরা যেন এ অস্থায়ী শুভদানগুলি এমনভাবে ব্যবহার করি
যার ফলে এজীবনকালেও চিরস্থায়ী মঙ্গলদানগুলির অধিকারী হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
আদিপুস্তক থেকে পাঠ (১৮:২০-৩২)

একদিন প্রভু বললেন, ‘সদোম ও গমোরার বিরুদ্ধে মানুষের চিৎকার অধিক তীব্র হয়ে উঠেছে, তাদের পাপও এত ভারী হয়ে উঠেছে যে, আমি নিজে নিচে গিয়ে দেখব, আমার কানে যে চিৎকার এল, সেই অনুসারে তারা সত্যিই এমন অধর্ম করেছে কিনা। হ্যাঁ, ব্যাপারটা আমি জানতে চাই!’
সেই তিনজন সেখান থেকে রওনা হয়ে সদোমের দিকে গেলেন, কিন্তু আব্রাহাম তখনও প্রভুর সাক্ষাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আব্রাহাম এগিয়ে এসে বললেন, ‘তুমি কি সত্যি দুর্জনের সঙ্গে ধার্মিককেও বিলুপ্ত করবে? শহরটার মধ্যে হয় তো পঞ্চাশজন ধার্মিক মানুষ আছে; তবে তুমি কি সত্যিই জায়গাটা বিলুপ্ত করবে? ওখানকার ওই পঞ্চাশজন ধার্মিকের খাতিরে তুমি কি বরং জায়গাটাকে রেহাই দেবে না? দুর্জনের সঙ্গে ধার্মিককেও বিনাশ করা, এমন কাজ করার চিন্তাটুকুও তোমাকে করতে নেই; ধার্মিককেও যে দুর্জনের সমান প্রতিফল পেতে হবে, তা দূরের কথা! সারা পৃথিবীর বিচারকর্তা কি ন্যায়বিচার করবেন না?’ প্রভু বললেন, ‘আমি যদি সদোমের মধ্যে পঞ্চাশজন ধার্মিককে পাই, তবে তাদের খাতিরে সেই সমস্ত জায়গাটাকে রেহাই দেব।’
আব্রাহাম বলে চললেন, ‘দেখ, ধুলো ও ছাইমাত্র যে আমি, আমি সাহস করে আমার প্রভুর সঙ্গে কথা বলব; হয় তো সেখানে পঞ্চাশজন ধার্মিকের জায়গায় পাঁচজন কম হয়েছে; তাহলে এই পাঁচজন না থাকার ফলে তুমি কি গোটা শহর বিনাশ করবে?’ তিনি বললেন, ‘না, সেই জায়গায় পঁয়তাল্লিশজনকে পেলে আমি তা বিনাশ করব না।’
তিনি তাঁকে আবার বললেন, ‘হয় তো সেই জায়গায় চল্লিশজনকে পাওয়া যাবে।’ তিনি বললেন, ‘সেই চল্লিশজনের খাতিরে তা করব না।’ আবার তিনি বললেন, ‘আমার প্রভু যেন বিরক্ত না হন, আমি তো আরও বলি; হয় তো সেখানে ত্রিশজনকে পাওয়া যাবে।’ তিনি বললেন, ‘সেখানে ত্রিশজনকে পেলে আমি তা করব না।’ তিনি বললেন, ‘দেখ, আমি সাহস করে আমার প্রভুর কাছে পুনরায় কথা বলি, হয় তো সেখানে কুড়িজনকে পাওয়া যাবে।’ তিনি বললেন, ‘সেই কুড়িজনের খাতিরে আমি তা বিনাশ করব না।’ তিনি বললেন, ‘আমার প্রভু যেন ক্রুদ্ধ না হন, আমি কেবল আর একবার কথা বলি: হয় তো সেখানে দশজনকে পাওয়া যাবে।’ তিনি বললেন, ‘সেই দশজনের খাতিরে তা বিনাশ করব না।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৩৮
ধুয়ো:
যেদিন তোমাকে ডেকেছি, প্রভু,
তুমি আমায় দিয়েছ সাড়া।

সমস্ত হৃদয় দিয়ে আমি তোমায় জানাই ধন্যবাদ,
তুমি যে শুনেছ আমার মুখের কথা।
ঐশজীবদের সামনে করি তোমার স্তবগান,
তোমার পবিত্র মন্দির পানে করি প্রণিপাত।   [ধুয়ো]

তোমার কৃপা, তোমার বিশ্বস্ততার জন্য করি তোমার নামের স্তুতি,
তুমি যে তোমার সমস্ত নাম দ্বারা তোমার বচন করেছ মহান।
যেদিন তোমাকে ডেকেছি তুমি আমায় দিয়েছ সাড়া,
শক্তি উদ্দীপিত করেছ আমার প্রাণে।   [ধুয়ো]

সর্বোচ্চ হয়েও প্রভু অবনমিতকে দেখেন,
কিন্তু দূর থেকে গর্বিতকে চিনতে পারেন।
আমি যদি সঙ্কট মাঝে চলি, তুমি তো আমাকে সঞ্জীবিত কর;
আমার শত্রুদের ক্রোধের বিরুদ্ধে তুমি তো বাড়াও হাত।   [ধুয়ো]

আমায় ত্রাণ করে তোমার ডান হাত।
প্রভু আমার জন্য সবকিছুই করবেন।
প্রভু, তোমার কৃপা চিরস্থায়ী;
নিজ হাতের কর্মকীর্তি করো না গো পরিত্যাগ।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
কলসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (২:১২-১৪)

প্রিয়জনেরা, বাপ্তিস্মে তোমরা খ্রিষ্টের সঙ্গে সমাহিত হয়েছ, এবং যিনি মৃতদের মধ্য থেকে তাঁকে পুনরুত্থিত করেছেন, সেই ঈশ্বরের কর্মশক্তিতে বিশ্বাস দ্বারা তোমরা সেই বাপ্তিস্মে তাঁর সঙ্গে পুনরুত্থানও করেছ।
এবং অপরাধের কারণে ও আমাদের দেহ পরিচ্ছেদিত না হওয়ার কারণে মৃত অবস্থায় এই তোমাদের ঈশ্বর তাঁর সঙ্গে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, আমাদের সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করেছেন; সেই লিখিত ঋণপত্র যা বিধিবিধানের জোরে আমাদের প্রতিকূল ছিল, তা মুছে ফেলেছেন, এবং ক্রুশে বিঁধিয়ে দিয়ে তা বাতিল করেছেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তোমরা দত্তকপুত্রত্বেরই আত্মা পেয়েছ,
যে আত্মায় আমরা ‘আব্বা, পিতা!’ বলে ডেকে উঠি।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১১:১-১৩)

একদিন যিশু এক জায়গায় প্রার্থনা করছিলেন; যখন প্রার্থনা শেষ করলেন, তখন তাঁর শিষ্যদের একজন তাঁকে বললেন, ‘প্রভু, আমাদের প্রার্থনা করতে শেখান, যেমন যোহনও নিজের শিষ্যদের শেখালেন।’
তিনি তাঁদের বললেন, ‘তোমরা যখন প্রার্থনা কর, তখন বল:
পিতা,
তোমার নামের পবিত্রতা প্রকাশিত হোক,
তোমার রাজ্যের আগমন হোক।
আমাদের দৈনিক খাদ্য প্রতিদিন আমাদের দান কর;
এবং আমাদের পাপ ক্ষমা কর,
কারণ আমরাও আমাদের কাছে ঋণী যারা তাদের প্রত্যেককে ক্ষমা করি;
আর আমাদের পরীক্ষার সম্মুখীন হতে দিয়ো না।’
তিনি তাঁদের বলে চললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কারও যদি বন্ধু থাকে, আর সে যদি মাঝরাতে তাকে গিয়ে বলে, বন্ধু, আমাকে তিনখানা রুটি ধার দাও, কারণ আমার এক বন্ধু পথে যেতে যেতে আমার কাছে এসে পড়েছে, ও তাকে খাবার মত দিতে আমার কিছু নেই; আর সেই লোক ভিতর থেকে যদি এই বলে উত্তর দেয়, আমাকে বিরক্ত করো না, এখন তো দরজা বন্ধ, ও আমার ছেলেরা আমার পাশে শুয়ে আছে; তাই আমি উঠে তোমাকে কিছু দিতে পারি না, তাহলে আমি তোমাদের বলছি, সে যদিও বন্ধুত্বের খাতিরে উঠে তা না দেয়, তবু ওর পীড়াপীড়ির জন্যই সে উঠে ওর যত প্রয়োজন তা দিয়ে দেবে।
তাই আমি তোমাদের বলছি: যাচনা কর, তোমাদের দেওয়া হবে; খোঁজ, তোমরা খুঁজে পাবে; দরজায় ঘা দাও, তোমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হবে। কেননা যে যাচনা করে, সে পায়; আর যে খোঁজে, সে খুঁজে পায়; আর যে ঘা দেয়, তার জন্য দরজা খুলে দেওয়া হবে।
তোমাদের মধ্যে এমন পিতা কি আছে যে নিজের ছেলে মাছ চাইলে মাছের বদলে তাকে সাপ দেবে, কিংবা সে ডিম চাইলে তাকে কাঁকড়া বিছে দেবে? সুতরাং তোমরা মন্দ হয়েও যখন তোমাদের ছেলেদের ভাল ভাল জিনিস দিতে জান, তখন যারা তাঁর কাছে যাচনা করে, স্বর্গস্থ পিতা যে তাদের পবিত্র আত্মাকে দেবেন তা আরও কতই না নিশ্চিত।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
পুরোহিত মাননীয় সাধু বীডের উপদেশ

আমাদের প্রভু ও ত্রাণকর্তার বাসনা, আমরা যেন স্বর্গরাজ্যের আনন্দে পৌঁছতে পারি; এজন্য তিনি আমাদের সেই আনন্দ যাচনা করতে শিখিয়ে দিলেন, ও প্রতিশ্রুতি দিলেন, আমরা যাচনা করলে তিনি আমাদের সেই আনন্দ দান করবেন। তিনি বললেন, যাচনা কর, তোমাদের দেওয়া হবে; খোঁজ, তোমরা খুঁজে পাবে; দরজায় ঘা দাও, তোমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হবে (লুক ১১:৯)। প্রিয়তম ভ্রাতৃগণ, এ যখন প্রভুরই কথা, তখন সেকথা গভীরতম ভাবে ও অধিক মনোযোগের সঙ্গেই ধ্যান করা বাঞ্ছনীয়, কেননা দেখা যাচ্ছে, স্বর্গরাজ্য অলস ও নিষ্কর্মাদের কাছে নয়, কিন্তু যারা যাচনা করে, খোঁজে ও দরজায় ঘা দেয়, তাদেরই কাছে দেওয়া হবে, তারাই তা খুঁজে পাবে, তাদের কাছেই খুলে দেওয়া হবে।
সুতরাং প্রার্থনার মধ্য দিয়েই চাইতে হবে যেন সেই রাজ্যের দরজা খুলে দেওয়া হয়, সদাচরণের মধ্য দিয়ে তা খুঁজতে হবে, ও নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে করাঘাত করতে হবে। কিন্তু যা যাচনা করি, তা পাবার জন্য আমরা যদি না তৎপরতার সঙ্গে খুঁজি কেমন জীবন যাপন করা উচিত, তাহলে মুখ দিয়ে প্রার্থনা করা যথেষ্ট নয়। এবিষয়ে তিনি নিজে বলেছিলেন, যারা আমাকে ‘প্রভু, প্রভু’ বলে, তারা সকলে যে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করবে এমন নয়, কিন্তু আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা যে পালন করে, সে-ই প্রবেশ করবে (মথি ৭:২১)।
সুতরাং, প্রিয়তম ভ্রাতৃগণ, প্রয়োজন রয়েছে আমরা যেন নিত্যই যাচনা করি, অবিরতই প্রার্থনা করি, ঈশ্বরের সামনে নত হয়ে আমাদের নির্মাণকর্তা প্রভুর সম্মুখে প্রণিপাত করি (সাম ৯৫:৬)। আর যেন সাড়া পাবার যোগ্য হয়ে উঠি, এজন্য মনোযোগের সঙ্গে ভাবতে হবে, যিনি আমাদের নির্মাণ করলেন, তিনি কেমন আচরণ ও কেমন কর্ম আমাদের কাছে প্রত্যাশা করেন। এসো, প্রভুকে খোঁজ করি, ভরসা রাখি, তাঁর শ্রীমুখের নিত্য অন্বেষণ করি। আর যাতে তাঁকে খুঁজে পাবার ও দেখবার যোগ্য হয়ে উঠি, এসো, দেহ ও আত্মার যত কালিমা থেকে নিজেদের পরিশুদ্ধ করি (২ করি ৭:১), কেননা যাদের দেহ শুদ্ধ, তারাই মাত্র পুনরুত্থানের দিনে স্বর্গে উন্নীত হবে; যাদের হৃদয় শুদ্ধ, তারাই মাত্র ঐশমর্যাদার দর্শন পাবার যোগ্য হবে।
এখন আমরা যদি জানতে ইচ্ছা করি, তিনি এমন কী চান যা আমরা তাঁর কাছে যাচনা করব, তাহলে এসো, সুসমাচারের কথা শুনি: প্রথমে তাঁর রাজ্য ও তাঁর ধর্মময়তার অন্বেষণ কর, তাহলে ওই সবকিছুও বাড়তি হিসাবে তোমাদের দেওয়া হবে (মথি ৬:৩৩)। ঈশ্বরের রাজ্য ও তার ধর্মময়তার অন্বেষণ করার অর্থ হল স্বর্গীয় মাতৃভূমির মঙ্গলদানের আকাঙ্ক্ষা করা, ও অবিরত অনুসন্ধান করা কেমন পবিত্র কর্ম দ্বারা সেগুলিকে লাভ করা যায়, পাছে এমনটি ঘটে যে, ধর্মময়তার পথ থেকে সরে গিয়ে আমরা গন্তব্যস্থানে পৌঁছতে সক্ষম না হই।
প্রিয়তম ভ্রাতৃগণ, এই তো সেই মঙ্গলদানগুলি যা আমাদের বিশেষভাবে ঈশ্বরের কাছে যাচনা করা দরকার; সমস্ত কিছুর আগে ঈশ্বরের রাজ্যের এ ন্যায়েরই অন্বেষণ করা প্রয়োজন, অর্থাৎ কিনা বিশ্বাস, আশা ও ভালবাসা, যেমনটি লেখা আছে, বিশ্বাসগুণে যে ধার্মিক, সে বাঁচবে (গা ৩:১১); প্রভুতে যে ভরসা রাখে, কৃপা তাকে ঘিরে থাকে (সাম ৩২:১০); ভালবাসাই বিধানের পূর্ণতা (রো ১৩:১০)। কারণ সমগ্র বিধান এই একটা বচনেই পূর্ণতা লাভ করে, তোমার প্রতিবেশীকে তুমি নিজের মত ভালবাসবে (গা ৫:১৪)।
প্রভু এ উদ্দেশ্যেই স্নেহময় প্রতিশ্রুতি দানে ঘোষণা করেন, যারা তাঁর কাছে যাচনা করে, স্বর্গস্থ পিতা তাদের পবিত্র আত্মাকে দেবেন (লুক ১১:১৩), যাতে প্রমাণিত হয় যে, স্বভাবে যারা দুর্জন, তারা আত্মার অনুগ্রহ গ্রহণ করলে ভাল হতে পারে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যারা পিতার কাছে প্রার্থনা করে, তিনি তাদের পবিত্র আত্মা দান করবেন, কারণ যা আমরা পেতে ইচ্ছা করি, সেই অন্যান্য স্বর্গীয় মঙ্গলদানগুলির সঙ্গে বিশ্বাস, আশা ও ভালবাসাও কেবল আত্মার অনুগ্রহ দ্বারাই বর্ষণ করা হয়।
তাঁর অনুপ্রেরণার প্রতি যথাসাধ্য আসক্ত হয়ে, এসো, প্রিয়তম ভ্রাতৃগণ, পিতা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর আত্মার অনুগ্রহ দ্বারা সেই নির্ভুল বিশ্বাস-পথে আমাদের চালিত করেন, যে বিশ্বাস ভালবাসার মধ্য দিয়েই সক্রিয়। আর যাতে আকাঙ্ক্ষিত মঙ্গলদানগুলি পাবার যোগ্য হয়ে উঠি, এসো, এমন জীবন যাপন করতে সচেষ্ট থাকি যা তেমন পিতার অযোগ্য নয়। এমনকি, বাপ্তিস্মে আমরা যা দ্বারা ঈশ্বরের সন্তান হয়ে উঠেছি, এসো, শুদ্ধ দেহে ও শুদ্ধ হৃদয়ে সেই নবজন্মের রহস্য অক্ষুণ্ণ রক্ষা করি।
একথা নিশ্চিত যে, আমরা যদি পরম পিতার আদেশগুলি পালন করি, তাহলে তিনি সনাতন আশীর্বাদের উত্তরাধিকার দানে আমাদের পুরস্কৃত করবেন, সেই যে উত্তরাধিকার অনাদিকালের আগে আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্ট আমাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন, যিনি পবিত্র আত্মার ঐক্যে পিতার সঙ্গে বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে যুগে যুগে বিরাজমান। আমেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১০৩
ধুয়ো:
প্রাণ আমার, প্রভুকে বল ধন্য;
ভুলে যেয়ো না তাঁর সমস্ত উপকার।

তিনিই তো তোমার সমস্ত অপরাধ ক্ষমা করেন,
তোমার সমস্ত রোগ-ব্যাধি নিরাময় করেন,
গহ্বর থেকে মুক্ত করেন তোমার জীবন,
তোমাকে কৃপা ও স্নেহে করেন মুকুট-ভূষিত,   [ধুয়ো]

তোমার আকাঙ্ক্ষা মঙ্গলদানে পরিতৃপ্ত করেন,
তাই তোমার যৌবন ঈগলের মত নবীন হয়ে ওঠে।
সকল অত্যাচারিতের প্রতি
ধর্মময়তা ও ন্যায়ই প্রভুর আচরণ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমরা গ্রহণ করেছি এই দিব্য সাক্রামেন্ত
যা তোমার পুত্রের যন্ত্রণাভোগের চিরন্তন স্মারক চিহ্ন।
আশীর্বাদ কর: তোমার অসীম ভালবাসার এই দান
যেন আমাদের পরিত্রাণের জন্য সার্থক হয়ে ওঠে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]