সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
সাধারণকাল
• সাধারণকালের প্রথম সপ্তাহ প্রভুর বাপ্তিস্ম থেকে শুরু হয়।
• পরমপবিত্র ত্রিত্ব পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• খ্রিষ্টের পরমপবিত্র দেহরক্ত পরমপবিত্র ত্রিত্বের পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• পরমারাধ্য যিশুহৃদয় পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী দ্বিতীয় রবিবারের পরবর্তী শুক্রবারে পালিত হয়।
• বিশ্বরাজ আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট সাধারণকালের শেষ রবিবারে পালিত হয়।

রবিবার: ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ৩১ | ৩২ | ৩৩
সাধারণকালের মহাপর্বচতুষ্টয়: ত্রিত্ব | খ্রিষ্টের দেহরক্ত | যিশুহৃদয় | খ্রিষ্টরাজা

২৬শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি তো করুণা ও ক্ষমা দানেই নিজেকে সর্বশক্তিমান বলে প্রকাশ কর;
অনুনয় করি: আমাদের উপর তোমার অনুগ্রহধারা অবিরতই বর্ষণ কর,
আমরা যেন তোমার অঙ্গীকৃত দানের দিকে দ্রুত পদে চলে
তোমার অনুগ্রহে স্বর্গীয় ধন-ঐশ্বর্যের অংশীদার হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
গণনাপুস্তক থেকে পাঠ (১১:২৫-২৯)

সেসময়ে প্রভু মেঘে নেমে এসে মোশির সঙ্গে কথা বললেন, এবং যে আত্মা তাঁর উপরে ছিল, তার কিছুটা অংশ নিয়ে সেই সত্তরজন প্রবীণের উপরে অধিষ্ঠান করালেন। আত্মা তাঁদের উপরে অধিষ্ঠান করলেই তাঁরা নবীর মতই বাণী দিতে লাগলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে আর দিলেন না।
এদিকে শিবিরের মধ্যে দু’জন লোক থেকে গেছিলেন, একজনের নাম এল্দাদ, আর একজনের নাম মেদাদ; সেই আত্মা তাঁদের উপরে অধিষ্ঠান করল; তাঁবুর কাছে যাবার জন্য বাইরে না গেলেও তাঁরা ওই লোকদের মধ্যে তালিকাভুক্ত হলেন। তাঁরা শিবিরের মধ্যে নবীয় বাণী দিতে লাগলেন।
তখন একটি যুবক দৌড়ে গিয়ে মোশিকে বলল, ‘এল্দাদ ও মেদাদ শিবিরে নবীয় বাণী দিচ্ছেন।’ তখন নূনের সন্তান যোশুয়া, যিনি যৌবনকাল থেকে মোশির সেবায় ছিলেন, তিনি বললেন, ‘হে আমার প্রভু মোশি, তাঁদের বারণ করুন!’ মোশি উত্তরে তাঁকে বললেন, ‘আমার পক্ষে কি তোমার ঈর্ষা হচ্ছে? আহা, এমনটিই যদি হত যে, প্রভুর গোটা জনগণই নবী হত ও প্রভু তাদের সকলের উপরে তাঁর আপন আত্মা অধিষ্ঠান করাতেন!’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৯
ধুয়ো:
প্রভুর আদেশমালা ন্যায্য,
হৃদয়ে আনন্দ সঞ্চার করে।

প্রভুর বিধান নিখুঁত, প্রাণকে পুনরুজ্জীবিত করে;
প্রভুর সাক্ষ্য বিশ্বাসযোগ্য, সরলমনাকে প্রজ্ঞাবান করে।
প্রভুভয় শুদ্ধ, চিরস্থায়ী,
প্রভুর বিচারগুলি সত্যাশ্রয়ী, সব ক’টি ধর্মময়।   [ধুয়ো]

সেগুলি দ্বারা তোমার এ দাস সতর্ক হয়ে ওঠে,
সেগুলি পালনে রয়েছে মহালাভ।
নিজের ভুলভ্রান্তি কেবা বুঝতে পারে?
আমার অজ্ঞাত পাপ ক্ষমা কর।   [ধুয়ো]

স্পর্ধা থেকেও তোমার এ দাসকে দূরে রাখ,
তা যেন আমার উপর প্রভুত্ব না করে;
তবেই আমি হব পুণ্যবান,
গুরু অন্যায় থেকে নিষ্কলঙ্ক।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যাকোবের পত্র থেকে পাঠ (৫:১-৬)

এখন তোমাদেরই পালা, যারা ধনী মানুষ: তোমাদের উপরে যে সকল দুর্দশা আসছে, তার জন্য চোখের জল ফেল, হাহাকার কর। তোমাদের যত ধন পচে গেছে, তোমাদের যত পোশাককে পোকায় কেটে ফেলেছে; তোমাদের যত সোনা-রুপোতে মরচে ধরেছে; আর সেই মরচে তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, এবং আগুনের মত তোমাদের সর্বাঙ্গ গ্রাস করবে।
তোমরা তো চরম দিনগুলির জন্যই রাশি রাশি ধন জমিয়ে রেখেছ! দেখ, যে কর্মীরা তোমাদের জমির ফসল কেটেছে, তোমরা যে মজুরি থেকে তাদের বঞ্চিত করেছ, সেই মজুরি চিৎকার করছে, এবং সেই ফসলকাটিয়েদের আর্তনাদ সেনাবাহিনীর প্রভুর কানে এসে পৌঁছেছে। পৃথিবীতে তোমরা যত ভোগবিলাসিতায় জীবন কাটিয়েছ; মহাসংহারের দিনে তৃপ্তি সহকারে পেট ভরে খেয়েছ।
তোমরা ধার্মিককে দণ্ডিত করেছ, বধ করেছ, আর সে তোমাদের প্রতিরোধ করতে অক্ষম!
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
হে প্রভু, তোমার বাণী সত্যস্বরূপ;
সত্যে আমাদের পবিত্রীকৃত কর।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৯:৩৮-৪৩,৪৫,৪৭-৪৮)

একদিন যোহন যিশুকে বললেন, ‘গুরু, আমরা একজনকে আপনার নামে অপদূত তাড়াতে দেখেছিলাম, আর তাকে বারণ করতে চেষ্টা করেছিলাম, কারণ সে আমাদের অনুগামী নয়।’ কিন্তু যিশু বললেন, ‘তাকে বারণ করো না, কারণ এমন কেউ নেই যে আমার নামে একটা পরাক্রম-কর্ম সাধন করে সহজে আমার নিন্দা করতে পারে। যে আমাদের বিপক্ষে নয়, সে আমাদের সপক্ষে। বাস্তবিকই যে কেউ তোমাদের খ্রিষ্টের লোক বলে এক ঘটি জল খেতে দেয়, আমি তোমাদের সত্যি বলছি, সে কোনমতে নিজের মজুরি থেকে বঞ্চিত হবে না।
আর এই যে ক্ষুদ্রজনেরা বিশ্বাস করে, যে কেউ তাদের একজনেরও পতনের কারণ হয়, তার গলায় জাঁতাকলের বড় পাথর বেঁধে তাকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়াই বরং তার পক্ষে ভাল। তোমার হাত যদি তোমার পতনের কারণ হয়, তবে তা কেটে ফেল; দু’টো হাত নিয়ে জাহান্নামে, সেই অনির্বাণ আগুনে যাওয়ার চেয়ে নুলো হয়ে জীবনে প্রবেশ করাই বরং তোমার পক্ষে ভাল।
আর তোমার পা যদি তোমার পতনের কারণ হয়, তবে তা কেটে ফেল; দু’টো পা নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে খোঁড়া হয়ে জীবনে প্রবেশ করাই বরং তোমার পক্ষে ভাল।
আর তোমার চোখ যদি তোমার পতনের কারণ হয়, তবে তা উপড়ে ফেল; দু’টো চোখ নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে এক চোখ নিয়ে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করাই বরং তোমার পক্ষে ভাল: সেই জাহান্নামে তাদের কীট মরে না, আর আগুনও কখনও নেভে না।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
সাধু ভিক্টর গির্জার সভ্য রিচার্ড-লিখিত ‘উদ্দীপ্ত ভালবাসার চার ধাপ’

এক ব্যক্তির প্রাণ যখন ঈশ্বরপ্রেমের আগুনে এমনভাবে নিঃশেষিত হয়ে গলানো মোমের মত নরম হয়েছে, তখন যে সিদ্ধ ঈশ্বরপ্রেমের সমরূপ হওয়া মানুষের নিত্য কর্তব্য, সেই ঈশ্বর-প্রেম লাভ করার নিয়মস্বরূপ ঈশ্বরের ইচ্ছা ছাড়া, অর্থাৎ যা কিছু শ্রেয়, যা কিছু ঈশ্বরের গ্রহণীয় ও যা কিছু নিখুঁত (রো ১২:২), এছাড়া সেই প্রাণের কাছে আর কোন্‌ সাধনাও উপস্থাপন করা দরকার? গলানো ধাতু ছিদ্র পেলে যেমন সহজে নিম্নের দিকে বেয়ে যায়, তেমনি যে প্রাণ তেমন অবস্থায় রয়েছে, সেই প্রাণ ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে যে কোন বাধ্যতার প্রতি নিজেকে বশীভূত করে ও যে কোন অবমাননার প্রতি নিজেকে স্বেচ্ছায় নত করে।
তেমন অবস্থায় যে প্রাণ, তার কাছে খ্রিষ্টের বিনম্রতার আদর্শ দেখিয়ে বলা হয়: খ্রিষ্টযিশুতে যে মনোভাব ছিল, তা তোমাদের অন্তরেও যেন থাকে; অবস্থায় ঈশ্বর হয়েও তিনি ঈশ্বরের সঙ্গে তাঁর সমতুল্যতাকে আঁকড়ে ধরার বস্তু মনে করলেন না; বরং নিজেকে রিক্ত করলেন ও মৃত্যু পর্যন্ত, এমনকি ক্রুশমৃত্যু পর্যন্ত নিজেকে বাধ্য করলেন (ফিলি ২:৫-৭, ৮)। আর খ্রিষ্টের বিনম্রতার আদর্শ পালন করা তাদেরই প্রয়োজন, যারা সিদ্ধ ঈশ্বরপ্রেমের পরাকাষ্ঠায় এসে পৌঁছতে ইচ্ছা করে: সেই আদর্শটি এ: আপন বন্ধুদের জন্য নিজের প্রাণ দেওয়া: এর চেয়ে বেশি ভালবাসা কারও নেই (যোহন ১৫:১৩); সুতরাং প্রিয়তম সন্তানদের মত তোমরা ঈশ্বরের অনুকারী হও (এফে ৫:১), প্রেরিতদূতের এ আবেদন পালন করে যারা আপন বন্ধুদের জন্য নিজের প্রাণ উৎসর্গ করতে পারে, তারাই ভালবাসার শীর্ষস্থান লাভ করেছে ও ঈশ্বরপ্রেমের চতুর্থ ধাপে এসে পৌঁছেছে।
তৃতীয় ধাপে প্রাণ ঈশ্বরে গৌরববোধ করে, কিন্তু চতুর্থ ধাপে ঈশ্বরপ্রেমের খাতিরে নিজেকে নত করে। তৃতীয় ধাপে প্রাণ ঐশগৌরবের জ্যোতির সমরূপ হয়, চতুর্থ ধাপে খ্রিষ্টের বিনম্রতার সমরূপ হয়। তৃতীয় ধাপে প্রাণ একপ্রকারে ঈশ্বরে মরে, চতুর্থ ধাপে একপ্রকারে খ্রিষ্টে পুনরুত্থান করে। সুতরাং যে চতুর্থ ধাপে রয়েছে, সে সত্যিই বলতে পারে: আমি এখনও জীবিত আছি, কিন্তু সে তো আর আমি নয়, আমার অন্তরে স্বয়ং খ্রিষ্টই জীবনযাপন করেন (গা ২:২০)। তাই ঠিক যেন এক নতুন সৃষ্টির আবির্ভাব হয়, যা বিষয়ে বলা যেতে পারে: প্রাক্তন সবকিছু কেটে গেছে, দেখ, সবকিছু নতুন হয়ে উঠেছে (২ করি ৫:১৭)। তৃতীয় ধাপে যে নিজের কাছে মৃত্যুবরণ করেছে, চতুর্থ ধাপে সে ঠিক যেন মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করেছে: তার আর মৃত্যু নেই, তার উপর মৃত্যুর আর কোন কর্তৃত্ব নেই; কারণ সে যে জীবন ভোগ করছে, তাতে ঈশ্বরের উদ্দেশেই সে জীবিত আছে (রো ৬:৯, ১০)।
তাই এ ধাপে প্রাণ একপ্রকারে অমর ও যন্ত্রণাতীত হয়ে ওঠে। যখন প্রাণ আর মরতে পারে না, তখন তা একইসময়ে কেমন করে মরণশীল হতে পারে? আর যিনি স্বয়ং জীবন, প্রাণ যখন তাঁরই কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না, তখন তা কেমন করে মরতে পারে? আমিই পথ, সত্য ও জীবন (যোহন ১৪:৬), এ বাণী কার, তা আমরা ভালই জানি। তাই তাঁর কাছ থেকে যে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না, সে কেমন করে মরতে পারবে? ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যে দুঃখভোগ করে না, বরং সমস্ত দুর্নাম আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করে নেয় ও নিপীড়িত হলে গৌরববোধ করে ও প্রেরিতদূতের সঙ্গে বলে: আমার সমস্ত দুর্বলতা নিয়েই সানন্দে গর্ব করব, যেন খ্রিষ্টের পরাক্রম আমার উপর অধিষ্ঠান করতে পারে (২ করি ১২:৯), তাকে কেমন করে যন্ত্রণাতীত বলা যায় না? হ্যাঁ, যে ব্যক্তি খ্রিষ্টের খাতিরে যন্ত্রণা ও দুর্নামে আনন্দ পায়, সে প্রায় যন্ত্রণাতীত থাকে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১১৯
ধুয়ো:
স্মরণে রেখো, প্রভু, তোমার এ দাসের কাছে দেওয়া তোমার সেই কথা,
যার উপর তুমি স্থাপন করেছ আমার আশা।

দর্পী মানুষ আমাকে কতই না অবজ্ঞা করে,
আমি কিন্তু সরে যাইনি তোমার বিধান থেকে।
অতীতকালের তোমার সুবিচার সকল স্মরণে রাখি,
প্রভু, এতেই সান্ত্বনা পাই।   [ধুয়ো]

যারা পরিত্যাগ করে তোমার বিধান,
সেই দুর্জনদের বিরুদ্ধে রোষ ধরেছে আমায়।
আমার এ নির্বাসনের দেশে
তোমার বিধিমালা আমার কাছে সঙ্গীত যেন।   [ধুয়ো]

রাতে তোমার নাম স্মরণ করি, প্রভু,
আমি মেনে চলি তোমার বিধান।
তোমার আদেশমালা পালন করা:
এটিই সাধনা আমার।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এই স্বর্গীয় সাক্রামেন্ত আমাদের জন্য হয়ে উঠুক দেহমনের যথার্থ প্রতিকার:
খ্রিষ্টের মৃত্যু ঘোষণা ক’রে আমরা যেমন তাঁর সঙ্গে যন্ত্রণায় মিলিত হয়েছি,
তেমনি যেন তাঁর স্বর্গীয় গৌরবেরও অংশীদার হতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৭শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, আমাদের প্রার্থনায় তোমার সাড়া
আমাদের প্রত্যাশার অতীত, আমাদের যোগ্যতারও অতীত। আমাদের উপর
তোমার করুণা বর্ষণ কর: আমাদের বিবেক যা ভয় করে, তা দূর করে দাও;
আমাদের যা মিনতি করার সাহসও নেই, তা মঞ্জুর কর।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
আদিপুস্তক থেকে পাঠ (২:১৮-২৪)

প্রভু পরমেশ্বর বললেন, ‘মানুষের পক্ষে একা থাকা ভাল নয়; তার জন্য আমি তার মত একজন সহায়ক নির্মাণ করব।’
তখন প্রভু পরমেশ্বর মাটি থেকে সমস্ত বন্যজন্তু ও আকাশের সমস্ত পাখি গড়ে মানুষের কাছে আনলেন; দেখতে চাচ্ছিলেন, মানুষ তাদের কী কী নাম রাখবে; মানুষ যা কিছুর নাম রাখল, সেই সবকিছুর নাম ছিল ‘সজীব প্রাণী’: মানুষ সমস্ত গবাদি পশুর, আকাশের সমস্ত পাখির, ও সমস্ত বন্যজন্তুর নাম রাখল, কিন্তু তবু মানুষের জন্য উপযোগী কোন সহায়ক পাওয়া গেল না।
তখন প্রভু পরমেশ্বর মানুষের উপর এমন গভীর নিদ্রা নামিয়ে আনলেন যে, সে ঘুমিয়ে পড়ল। তিনি তার একটা পাঁজর তুলে নিয়ে জায়গাটি মাংস দিয়ে বন্ধ করে দিলেন। মানুষ থেকে তুলে নেওয়া সেই পাঁজর দিয়ে প্রভু পরমেশ্বর এক নারী গড়লেন ও তাকে মানুষের কাছে আনলেন। আর মানুষ বলল,
‘এবার এ-ই হল আমার হাড়ের হাড়
ও আমার মাংসের মাংস!
এর নাম নারী হবে,
কেননা নর থেকেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।’
এজন্য মানুষ তার পিতামাতাকে ছেড়ে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হবে এবং সেই দু’জন একদেহ হবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১২৮
ধুয়ো:
প্রভু আমাদের আশীর্বাদ করুন
আমাদের জীবনের সমস্ত দিন।

সুখী সেই সকলে, যারা প্রভুকে করে ভয়,
যারা তাঁর সমস্ত পথে চলে।
তুমি খাবে তোমার দু’হাতের শ্রমফলে,
তোমার হবে সুখ, হবে মঙ্গল।   [ধুয়ো]

তোমার বধূ উর্বরা আঙুরলতার মত তোমার গৃহের অন্তঃপুরে;
তোমার পুত্রেরা জলপাই-চারার মত তোমার ভোজনপাট ঘিরে।
যে প্রভুকে করে ভয়,
তেমন আশিসেই ধন্য হবে সেই মানুষ।   [ধুয়ো]

প্রভু সিয়োন থেকে তোমাকে আশীর্বাদ করুন;
তুমি যেন যেরুসালেমের মঙ্গল দেখতে পাও তোমার জীবনের সমস্ত দিন;
তুমি যেন তোমার সন্তানদের সন্তানসন্ততিদের দেখতে পাও।
ইস্রায়েলের উপর শান্তি বিরাজ করুক।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (২:৯-১১)

প্রিয়জনেরা, যাঁকে অল্পক্ষণের মত দূতদের চেয়ে নিচু করা হয়েছে, আমরা দেখছি যে, সেই যিশু মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করেছেন বলে এখন গৌরব ও মহিমার মুকুটে পরিবৃত, যেন ঈশ্বরের অনুগ্রহে তিনি সকল মানুষের মঙ্গলের জন্যই মৃত্যুকে আস্বাদ করেন।
যাঁর উদ্দেশে ও যাঁর দ্বারা সমস্ত কিছুই অস্তিত্ব পেয়ে আছে, সেই ঈশ্বর তাঁর বহু সন্তানকে যখন গৌরবে আনতে চাইলেন, তাঁর পক্ষে তখন এটা অবশ্যই সমীচীন ছিল যে, তিনি তাদের পরিত্রাণের সেই অগ্রনায়ককে দুঃখকষ্ট ভোগের মধ্য দিয়ে তাঁর সিদ্ধতায় চালিত করবেন।
কারণ যিনি পবিত্রীকৃত করেন ও যাদের পবিত্রীকৃত করা হয়, সকলেই একজন থেকে উদ্গত; ফলে তিনি তাদের আপন ভাই বলে ডাকতে লজ্জা বোধ করেন না।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমরা যদি পরস্পরকে ভালবাসি, তাহলে ঈশ্বর আমাদের অন্তরে রয়েছেন
এবং তাঁর ভালবাসা আমাদের অন্তরে সিদ্ধি লাভ করে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১০:২-১৬)

একদিন কয়েকজন ফরিসিরা কাছে এসে যিশুকে যাচাই করার জন্য জিজ্ঞাসা করলেন, ‘পুরুষের পক্ষে কি স্ত্রীকে ত্যাগ করা বিধেয়?’ তিনি এই বলে তাঁদের উত্তর দিলেন, ‘মোশি আপনাদের কী আদেশ দিয়েছেন?’ তাঁরা বললেন, ‘মোশি ত্যাগপত্র লিখতে ও নিজ স্ত্রীকে ত্যাগ করতে অনুমতি দিয়েছেন।’
যিশু তাঁদের বললেন, ‘আপনাদের হৃদয় কঠিন ছিল বলেই তিনি এই বিধি লিখেছিলেন, কিন্তু সৃষ্টির আদি থেকে ঈশ্বর পুরুষ ও নারী করে তাদের গড়লেন, এই কারণে মানুষ পিতা ও মাতাকে ত্যাগ করে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হবে, এবং সেই দু’জন একদেহ হবে; সুতরাং তারা আর দু’জন নয়, কিন্তু একদেহ। অতএব ঈশ্বর যা সংযুক্ত করেছেন, মানুষ তা যেন বিযুক্ত না করে।’
পরে শিষ্যেরা বাড়িতে আবার সেই বিষয়ে তাঁর কাছে নানা প্রশ্ন রাখলেন। তিনি তাঁদের বললেন, ‘যে কেউ নিজের স্ত্রীকে ত্যাগ করে অন্য একজনকে বিবাহ করে, সে তার বিরুদ্ধে ব্যভিচার করে; এবং কোন স্ত্রীলোক যদি নিজের স্বামীকে ত্যাগ করে অন্য একজনকে বিবাহ করে, সেও ব্যভিচার করে।’
তখন কয়েকটি শিশুকে তাঁর কাছে আনা হল, যেন তিনি তাদের স্পর্শ করেন। শিষ্যেরা তাদের ভর্ৎসনা করছিলেন, কিন্তু যিশু তা দেখে অসন্তুষ্ট হলেন, ও তাঁদের বললেন, ‘শিশুদের আমার কাছে আসতে দাও, তাদের বাধা দিয়ো না, কেননা যারা এদের মত, ঈশ্বরের রাজ্য তাদেরই। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যে কেউ শিশুরই মত ঈশ্বরের রাজ্য গ্রহণ না করে, সে তার মধ্যে কখনও প্রবেশ করতে পারবে না।’ আর তিনি তাদের কোলে তুললেন, তাদের উপর হাত রাখলেন ও আশীর্বাদ করলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
নাজিয়াঞ্জুসের বিশপ সাধু গ্রেগরির উপদেশ

কয়েকজন ফরিসি কাছে এসে তাঁকে যাচাই করার জন্য জিজ্ঞাসা করলেন, মানুষের পক্ষে কি যে কোন কারণেই স্ত্রীকে ত্যাগ করা বিধেয়? (মথি ১৯:৩)। ফরিসিরা তাঁকে আবার যাচাই করে—যারা বিধান পাঠ করে থাকে, তারা আবার বিধান বোঝে না; যারা নিজেদের বিধানের ব্যাখ্যাতা বলে, তাদের আবার অন্য শিক্ষকের প্রয়োজন আছে। সাদুকিরা পুনরুত্থান বিষয়ে, বিধানপণ্ডিতেরা বিধানের সিদ্ধি বিষয়ে, হেরোদপন্থীরা কর বিষয়ে ও অন্যরা অধিকার বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেছিল—এ কি যথেষ্ট ছিল না? মনে হচ্ছে, না: যিনি পরীক্ষাধীন নন, যিনি বিবাহ-ব্যবস্থার স্রষ্টা ও গোটা মানবজাতির আদিকারণ, কেউ বিবাহ বিষয়েও তাঁকে যাচাই করে!
আর তিনি এই উত্তর দিলেন, আপনারা কি একথা পড়েননি যে, স্রষ্টা আদিতে পুরুষ ও নারী করে তাদের গড়লেন? (মথি ১৯:৪)। আমি মনে করি, তোমরা যে জিজ্ঞাস্য বিষয় জিজ্ঞাসা করছ, তা দাম্পত্য-শুচিতার গৌরব ও মর্যাদা লক্ষ করে ও মানবতাপূর্ণ ও ন্যায্য উত্তর প্রত্যাশা করে। আর আমি দেখতে পাচ্ছি, এবিষয়ে অনেকের ধারণা তত পরিষ্কার নয়, ও তাদের বিধান অন্যায্য ও যুক্তিহীন। বস্তুতপক্ষে কোন্‌ কারণে তারা স্বামীকে স্বাধীন রাখায় তার প্রতি যথেষ্ট দয়া দেখাত, কিন্তু শাস্তি দেওয়ায় স্ত্রীকে অত্যাচার করত? এক নারী বাসর কলুষিত করার কথা ভাবলেই তার ব্যভিচারের জন্য সে প্রায়শ্চিত্ত করতে বাধ্য ছিল ও বিধানের অধিক কঠোর শাস্তি ভোগ করতে দণ্ডিত ছিল, কিন্তু ব্যভিচার করায় স্ত্রীর প্রতি প্রতিশ্রুত বিশ্বস্ততা লঙ্ঘন করলে স্বামী কোন দণ্ডের অধীন ছিল না কেন? তেমন বিধিতে আমার কোন সমর্থন নেই, তেমন প্রথা আমার কাছে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য।
যারা এ বিধি জারি করেছিল তারা পুরুষ ছিল, ফলে বিধি স্ত্রীর বিপক্ষে গেল, আর তারা সন্তানদের পিতৃ-অধিকারের অধীন করায় নারী সমাজ অজ্ঞ ও অবহেলিত হয়ে পড়ল। তোমরা কি বিধির ন্যায্য সাম্য দেখতে পেয়েছ? নর-নারীর স্রষ্টা এক, দু’জনে এক মাটির ধুলা, একই প্রতিমূর্তি; আবার, বিধান এক, মৃত্যু এক, পুনরুত্থান এক; আবার, আমরা সকলে একইভাবে নর-নারীর ফল, পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের কর্তব্য এক ও সমান।
তাই তুমি নিজে যে বিশ্বস্ততা রক্ষা কর না, পরের কাছে তা দাবি কর কেন? তুমি যা দাও না, তা গ্রহণ করার অধিকার চাও কেন? যে ব্যক্তি তোমার মত সম্মানের অধিকারী, কেমন করে তার বেলায় আলাদা বিধি জারি করতে পার? অপরাধের কথা ধরলে তবে নারীই পাপ করেছিলেন, কিন্তু আদমও একই পাপ করলেন: অপরাধের দিকে তাঁদের ঠেলা দেওয়ার জন্য সাপটা দু’জনকেই প্রবঞ্চনা করেছিল। এমনটি ঘটেনি যে, প্রলোভনের সামনে নারী দুর্বল হলেন, পুরুষ কিন্তু বীর্য দেখালেন।
তুমি কি পরিত্রাণ-পরিকল্পনার কথাও ধরতে চাও? নিজ যন্ত্রণাভোগে খ্রিষ্ট দু’জনকেই ত্রাণ করলেন। তিনি কি পুরুষের জন্যই দেহধারণ করলেন? হ্যাঁ, কিন্তু নারীরও জন্য। পুরুষের জন্যই কি মৃত্যুবরণ করলেন? হ্যাঁ, কিন্তু নিজ মৃত্যু দ্বারা নারীকেও পরিত্রাণ দান করলেন।
তিনি দাউদের বংশধর বলে ঘোষিত হলেন, তাতে তুমি এ সিদ্ধান্ত নিতে চাও যে, মর্যাদার দিক থেকে পুরুষেরাই প্রাধান্যের অধিকারী। কথাটা জানি, অথচ তিনি একটি কুমারীর গর্ভেই জন্ম নিলেন, তাতে নারীও সেই একই মর্যাদার প্রধান অধিকারিণী। এজন্যই তিনি বলেছিলেন, সেই দু’জন একদেহ হবে (মথি ১৯:৫); ফলত যখন একদেহ থাকে, তখন যেন এক মর্যাদাও থাকে।
প্রেরিতদূত পল দৃষ্টান্ত দিয়েও শুচিতা-বিধি বলবৎ করেন। কেমন করে? আবার, কেন? এই রহস্য মহান, কিন্তু আমি খ্রিষ্ট ও মণ্ডলীর দিকে অঙুলি নির্দেশ করেই একথা বললাম (এফে ৫:৩২)। স্বামীতে খ্রিষ্টকে পূজা করা স্ত্রীর পক্ষে উত্তম; কিন্তু স্ত্রীতে মণ্ডলীকে অবজ্ঞা না করা, এও উত্তম। ধন্য পল বলেন, স্ত্রী যেন স্বামীকে শ্রদ্ধা করে (এফে ৫:৩৩)—সে খ্রিষ্টকেই যেভাবে ভয় করে; আর পুরুষও যেন স্ত্রীকে সাহায্য করে ও ভালবাসে—খ্রিষ্ট মণ্ডলীকে যেভাবে ভালবাসেন (এফে ৫:২৯)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩১
ধুয়ো:
প্রভুর উপরে যে আশা রাখে, যে প্রাণ তাঁর অন্বেষণ করে,
তার পক্ষে প্রভুই মঙ্গল।

কতই না মহান তোমার সেই মঙ্গলময়তা, প্রভু,
যা তাদের জন্য তুমি সঞ্চিত রাখ যারা ভয় করে তোমায়,
যা আদমসন্তানদের দৃষ্টিগোচরে
তুমি তোমার আশ্রিতজনকে মঞ্জুর কর।   [ধুয়ো]

মানুষের চক্রান্ত থেকে তুমি আপন শ্রীমুখের নিভৃতে তাদের লুকিয়ে রাখ,
জিভের আক্রমণ থেকে তুমি আপন কুটিরেই তাদের নিরাপদে রাখ।
ধন্য প্রভু! সুরক্ষিত নগরে আমার জন্য
তিনি সাধন করলেন তাঁর কৃপার আশ্চর্য কীর্তি।   [ধুয়ো]

বিহ্বল হয়ে আমি বলেছিলাম,
‘তোমার দৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন আমি,’
তবু যখন তোমার কাছে চিৎকার করলাম,
তুমি তখন শুনলে আমার মিনতির কণ্ঠ।   [ধুয়ো]

প্রভুকে ভালবাস, তাঁর ভক্তজন সবাই, প্রভু আপন বিশ্বস্তদের রক্ষা করেন,
কিন্তু অহঙ্কারীর উপর অপর্যাপ্ত প্রতিফল দেন।
শক্ত হও, অন্তর দৃঢ় করে তোল তোমরা,
তোমরা সকলে, যারা প্রভুর প্রত্যাশায় আছ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর:
এ সাক্রামেন্ত গ্রহণের ফলে যেন আমাদের ক্ষুধা ও পিপাসা মিটে যায়:
যাঁকে গ্রহণ করেছি, আমরা যেন সেই খ্রিষ্টে রূপান্তরিত হতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৮শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার অনুগ্রহ আমাদের যত কর্মের সূচনা উদ্দীপিত করুক,
তোমার অনুগ্রহ সেই কর্মের সমাপ্তি আশিসমণ্ডিত করুক,
তোমার অনুগ্রহ শুভকর্ম সম্পাদনে আমাদের চিরতৎপর করে তুলুক।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রজ্ঞা পুস্তক থেকে পাঠ (৭:৭-১১)

আমি যাচনা করলাম, আর আমাকে সদ্বিবেচনা দেওয়া হল;
মিনতি করলাম, আর আমার অন্তরে প্রজ্ঞার আত্মা এল।
সমস্ত রাজদণ্ড ও রাজাসনের চেয়ে আমি প্রজ্ঞাতেই প্রীত হলাম;
তার তুলনায় ধনসম্পদ শূন্যতা বলে গণ্য করলাম;
অমূল্য মণিমুক্তার সঙ্গেও আমি প্রজ্ঞার তুলনা করিনি,
কারণ তার তুলনায় যত সোনা মুষ্টিমেয় বালুকামাত্র,
তার সামনে রুপোও কাদার মত পরিগণিত হবে।
স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের চেয়েও তাকে আমি ভালবাসলাম,
আলোর চেয়েও প্রজ্ঞালাভে প্রীত হলাম,
কারণ প্রজ্ঞা থেকে বিকীর্ণ যে উজ্জ্বল দীপ্তি, তা নিদ্রাহীন।
প্রজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত মঙ্গলও আমার কাছে এল,
তার হাতে যে ঐশ্বর্য, তা অপরিমেয়।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯০
ধুয়ো:
তোমার কৃপায় আমাদের পরিতৃপ্ত কর, প্রভু:
আর আমরা মেতে উঠব।

আমাদের আয়ুর দিনগুলি গুনতে আমাদের শেখাও,
তবে আমরা লাভ করব প্রজ্ঞাপূর্ণ অন্তর।
ফিরে চাও, প্রভু,—আর কতকাল?
তোমার দাসদের প্রতি দেখাও দয়া।   [ধুয়ো]

প্রভাতে তোমার কৃপায় আমাদের পরিতৃপ্ত কর,
আর আমরা সানন্দে চিৎকার করব, মেতে উঠব চিরদিন ধরে।
যতদিন ক্লিষ্ট হয়েছি, যতবছর অমঙ্গল দেখেছি আমরা,
ততদিন তুমি আমাদের করে তোল আনন্দিত।   [ধুয়ো]

প্রকাশিত হোক তোমার কর্মকীর্তি তোমার দাসদের কাছে,
তোমার মহিমা তাদের সন্তানদের কাছে।
আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর মাধুর্য আমাদের উপর বিরাজ করুক,
আমাদের জন্য সুস্থির কর আমাদের হাতের কাজ, সুস্থির কর আমাদের হাতের কাজ।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (৪:১২-১৩)

ঈশ্বরের বাণী জীবন্ত ও কার্যকর; যে কোন দুধারী খড়্গের চেয়েও তীক্ষ্ণ: তা প্রাণ ও আত্মা, গ্রন্থি ও মজ্জা, এই সমস্তের বিভেদ পর্যন্ত ভেদ করে পৌঁছয়, এবং হৃদয়ের বাসনা ও ভাবনার সূক্ষ্ম বিচার করে।
তাঁর সামনে থেকে কোন সৃষ্টবস্তু অগোচর নয়; তার দৃষ্টিতে সবই নগ্ন ও অনাবৃত; আর তাঁরই কাছে আমাদের হিসাব দিতে হয়।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আত্মায় দীনহীন যারা, তারাই সুখী,
কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১০:১৭-৩০)

একদিন যিশু পথে চলতে উদ্যত হচ্ছেন, সেসময় একজন লোক ছুটে এসে তাঁর সামনে হাঁটু পেতে এই প্রশ্ন রাখল, ‘মঙ্গলময় গুরু, অনন্ত জীবনের উত্তরাধিকারী হবার জন্য আমাকে কী করতে হবে?’ যিশু তাকে বললেন, ‘আমাকে মঙ্গলময় বলছ কেন? একজন ছাড়া আর মঙ্গলময় কেউ নয়, তিনি ঈশ্বর। তুমি তো আজ্ঞাগুলো জান, নরহত্যা করবে না, ব্যভিচার করবে না, চুরি করবে না, মিথ্যাসাক্ষ্য দেবে না, প্রতারণা করবে না, তোমার পিতামাতাকে সম্মান করবে।’
লোকটি বলল, ‘গুরু, ছেলেবেলা থেকেই আমি এই সমস্ত পালন করে আসছি।’ যিশু তার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে তাকে ভালবাসলেন, এবং বললেন, ‘তোমার একটা বিষয় বাকি আছে: যাও, তোমার যা যা আছে তা বিক্রি করে গরিবদের দাও, তাতে স্বর্গে ধন পাবে; তারপর এসো, আমার অনুসরণ কর।’ কিন্তু একথায় বিষণ্ণ হয়ে সে মনের দুঃখে চলে গেল, কারণ তার বিপুল সম্পত্তি ছিল।
তখন যিশু চারদিকে তাকিয়ে নিজ শিষ্যদের বললেন, ‘যাদের ধন আছে, তাদের পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা কেমন কঠিন!’ তাঁর কথায় শিষ্যেরা অবাক হলেন, কিন্তু যিশু তাঁদের আবার বললেন, ‘বৎসেরা, ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা কেমন কঠিন! ধনীর পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার চেয়ে উটের পক্ষে সুচের ছিদ্রের মধ্য দিয়ে যাওয়াই বরং সহজ।’ তেমন কথা শুনে তাঁরা অধিক বিস্ময়বিহ্বল হলেন; তাঁরা বললেন, ‘তবে পরিত্রাণ পাওয়া কার্‌ পক্ষেই বা সাধ্য?’ তাঁদের দিকে তাকিয়ে যিশু তাঁদের বললেন, ‘তা মানুষের পক্ষে অসাধ্য বটে, কিন্তু ঈশ্বরের পক্ষে অসাধ্য নয়, কারণ ঈশ্বরের পক্ষে সবই সাধ্য।’
তখন পিতর তাঁকে বলতে লাগলেন, ‘দেখুন, আমরা সবকিছুই ত্যাগ করে আপনার অনুসরণ করেছি।’ যিশু বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি, এমন কেউ নেই যে আমার জন্য ও সুসমাচারের জন্য বাড়ি, কি ভাই, কি বোন, কি মাতা, কি পিতা, কি ছেলেমেয়ে, কি জমিজমা ত্যাগ করলে এখন, ইহকালেই, তার একশ’ গুণ পাবে না; সে বাড়ি, ভাই, বোন, মাতা, পিতা, ছেলে ও জমিজমা পাবে—নির্যাতনের সঙ্গেই এসব পাবে, আর পরকালে অনন্ত জীবন পাবে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
আলেক্সান্দ্রিয়ার ক্লেমেণ্ট-লিখিত ‘কোন্‌ ধনী পরিত্রাণ পাবে?’

মার্ক-রচিত সুসমাচারেই লিপিবদ্ধ রয়েছে; কিন্তু একই ধরনের কথা অন্য সুসমাচারেও পাওয়া যায়, দু’ একটা শব্দ আলাদাই হবে বটে, তবু চার সুসমাচারে একই শিক্ষা উপস্থিত। আমরা যখন নিশ্চয়তার সঙ্গে একথা জানি যে, ত্রাণকর্তা কেবল মানবীয় রূপে কিছুই বলেননি, বরং সকলের কাছে রহস্যময় ও দিব্য প্রজ্ঞার সঙ্গেই উপদেশ দিলেন, তখন আমাদের পক্ষে এ সমস্ত উপদেশ কেবল মানবীয় রূপেই শোনা উচিত নয়, বরং উপযুক্ত প্রচেষ্টা ও অধ্যয়ন দ্বারা সেই উপদেশগুলোর আবৃত অর্থ বের করা একান্ত প্রয়োজন, যাতে তা আবিষ্কার করে গভীর ভাবে উপলব্ধিও করতে পারি।
তুমি যদি সিদ্ধপুরুষ হতে ইচ্ছা কর… (মথি ১৯:২১)। সুতরাং লোকটা তখনও সিদ্ধপুরুষ ছিল না, কেননা যে ইতিমধ্যে সিদ্ধপুরুষ হয়েছে, সে অধিক সিদ্ধপুরুষ হতে পারে না। তাছাড়া সেই উৎকৃষ্ট ও দিব্য বাণী ‘যদি ইচ্ছা কর’ প্রভুর সঙ্গে সংলাপে রত আত্মার স্বাধীন ইচ্ছার অধিকার প্রমাণসিদ্ধ করে, কারণ মানুষ ক্ষেত্রে, মানুষ স্বাধীন হওয়ায় তার ইচ্ছার সিদ্ধান্ত তার উপর নির্ভর করে; ঈশ্বর ক্ষেত্রে, ঈশ্বর প্রভু ও বিচারক হওয়ায় তাঁর অনুগ্রহদান তাঁর উপর নির্ভর করে। যারা ইচ্ছা করে, ও নিজ পরিত্রাণ পাবার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা ও প্রার্থনা করে, তাদের তিনি পরিত্রাণ দান করেন। কেননা ঈশ্বর জোর করে কাউকে বাধ্য করেন না—জোর প্রয়োগ করা তো ঈশ্বরকে মানায় না—কিন্তু যারা ইচ্ছা করে, তাদের তিনি দান করেন, যারা যাচনা করে, তাদের তিনি মঞ্জুর করেন, ও যারা দরজায় ঘা দেয়, তাদের জন্য তিনি দরজা খুলে দেন। অতএব, তোমার যদি তেমন ইচ্ছা থাকে, নিজেকে প্রবঞ্চিত না করেই যদি সত্যিকারে তোমার তেমন ইচ্ছা থাকে, তাহলে বিচার-বিবেচনা করে দেখ তোমার কিসের অভাব আছে, আর তা পাবার ব্যবস্থা কর।
তোমার একটিমাত্র জিনিসের অভাব রয়েছে: সেই জিনিস এমন, যা একমাত্রই থেকে যায়, যা সত্যকার উত্তম, যা বিধানের অতীত, বিধান যা দিতে পারে না, ধারণ করতেও পারে না, যা তাদেরই বিশেষ সম্পদ যারা সত্যকার জীবন পেয়েছে। এক কথায়, যৌবনকাল থেকে যে লোকটা সমস্ত বিধান পালন করে আসছিল ও নিজের বিষয়ে তত গর্ব ও দম্ভের সঙ্গেই কথা বলছিল, সে সেই একমাত্র জিনিস অর্জন করতে অক্ষম হল যা কেবল ত্রাণকর্তাই দিতে সক্ষম, সেই জিনিস যা তার প্রয়োজন ছিল যাতে, যে অনন্ত জীবন ইচ্ছা করছিল, সে যেন তা পেতে পারে। সে বিষণ্ণ মনে চলে গেছিল; অনন্ত জীবন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করার উদ্দেশ্যেই সে গুরুর কাছে গিয়েছিল, কিন্তু তার কঠিন শর্ত শুনে নিরুৎসাহী হয়ে পড়েছিল। তার মানে, সে যেমন কথায় দেখাচ্ছিল, আসলে তেমন একাগ্রতার সঙ্গে তা বাসনা করছিল না, সে শুধু সদিচ্ছাই দেখাতে অভিপ্রেত ছিল। সে অন্য বহু কিছু করতে অবশ্যই সম্মত ছিল, অথচ পরিত্রাণ লাভের জন্য যা একমাত্র প্রয়োজন, তা মানতে সম্মত হয়নি, এমনকি যথেষ্ট দুর্বলতা ও অলসতাও দেখাল।
প্রভুর সেবা করার জন্য মার্থাও বহু বহু জিনিস নিয়ে চিন্তিতা ছিলেন, বহু বিষয়ে অতিব্যস্ত ও অস্থির ছিলেন, এমনকি তাঁর বোন তাঁকে সাহায্য না করে বরং প্রভুর পায়ের কাছে বসে শিষ্যার মত মুগ্ধা থাকছিলেন বিধায় তাঁকে অলস বলতেন। প্রভু যেমন তাঁকে বলেছিলেন, তুমি অনেক কিছু নিয়ে চিন্তিতা ও উদ্বিগ্না; উত্তম অংশটা মারীয়াই বেছে নিয়েছে, আর তার কাছ থেকে তা কেড়ে নেওয়া হবে না (লুক ১০:৪১-৪২), তেমনি সেই যুবককেও আদেশ দিলেন, সে যেন একমাত্র আবশ্যক বিষয়ে আসক্ত হবার জন্য পার্থিব অন্য চিন্তা ত্যাগ করে; অর্থাৎ তাকে এমন পরামর্শ দিলেন, সে যেন তাঁরই ভালবাসায় স্থির থাকে, যিনি অনন্ত জীবন অর্পণ করেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
ধনীরা অভাবগ্রস্ত হয়ে ক্ষুধায় ভুগছে,
কিন্তু প্রভুর অন্বেষীদের নেই কোন মঙ্গলের অভাব।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার মাহাত্ম্য স্বীকার করে আমরা বিনীত কণ্ঠে মিনতি জানাই:
তুমি যখন দেহরক্তের পরমপবিত্র খাদ্য দানে আমাদের পরিপুষ্ট কর,
তখন আমাদের সকলকে তাঁর ঐশস্বরূপের সহভাগী করে তোল।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৯শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর:
আমাদের ইচ্ছা যেন সর্বদাই তোমার ইচ্ছার অনুরূপ হয়,
আমাদের অন্তর যেন নিয়তই তোমার মাহাত্ম্যের সেবায় একাগ্র থাকে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৫৩:১০-১১)

প্রভুর মঙ্গল-ইচ্ছা ছিল, তিনি তাঁকে যন্ত্রণায় চূর্ণ করবেন;
যদি তিনি সংস্কার-বলিরূপে নিজেকে উৎসর্গ করেন,
তবে তাঁর আপন বংশকে দেখতে পাবেন, দীর্ঘায়ু হবেন,
ও তাঁর মধ্য দিয়ে প্রভুর মঙ্গল-ইচ্ছা সিদ্ধিলাভ করবে।
তেমন আন্তর পীড়ন ভোগ করার পর
তিনি জীবনের আলো দেখতে পেয়ে তৃপ্তি পাবেন;
মানুষ তাঁকে জানবে,
ফলে আমার ধর্মময় দাস অনেককে ধর্মময় করে তুলবেন;
তিনি নিজেই তাদের শঠতা বহন করবেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩৩
ধুয়ো:
আমাদের উপর বিরাজ করুক তোমার কৃপা, প্রভু,
আমরা যে তোমার প্রত্যাশায় আছি।

ন্যায়সঙ্গতই তো প্রভুর বাণী,
বিশ্বস্ততায় সাধিত তাঁর প্রতিটি কাজ।
তিনি ধর্মময়তা ও ন্যায় ভালবাসেন;
পৃথিবী প্রভুর কৃপায় পরিপূর্ণ।   [ধুয়ো]

প্রভুর দৃষ্টি কিন্তু তাদেরই প্রতি,
যারা তাঁকে ভয় করে, যারা তাঁর কৃপার প্রত্যাশায় থাকে,
তিনি মৃত্যু থেকে তাদের প্রাণ উদ্ধার করবেন,
তাদের বাঁচিয়ে রাখবেন দুর্ভিক্ষের দিনে।   [ধুয়ো]

আমাদের প্রাণ প্রভুর প্রতীক্ষায় আছে,
তিনিই আমাদের সহায়, আমাদের ঢাল;
আমাদের উপর বিরাজ করুক তোমার কৃপা, প্রভু,
আমরা যে তোমার প্রত্যাশায় আছি।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (৪:১৪-১৬)

প্রিয়জনেরা, যেহেতু আমরা এক পরম মহাযাজককে পেয়েছি যিনি আকাশমণ্ডল অতিক্রম করেছেন—সেই ঈশ্বরপুত্র যিশু—সেজন্য এসো, আমরা আমাদের বিশ্বাস-স্বীকৃতির ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত থাকি।
কেননা আমরা এমন মহাযাজককে পাইনি, যিনি আমাদের দুর্বলতার সমব্যথী হতে অক্ষম, তিনি বরং পাপ ছাড়া আমাদের মতই সবদিক দিয়ে পরীক্ষিত হয়েছেন।
সুতরাং এসো, সাহসভরে আমরা অনুগ্রহের সিংহাসনের কাছে এগিয়ে যাই, যেন দয়া লাভ করি এবং প্রয়োজনের দিনে সহায়তার সঙ্গে অনুগ্রহ পাই।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
মানবপুত্র এসেছেন সেবা করতে,
ও অনেকের মুক্তিমূল্য রূপে নিজের প্রাণ দিতে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১০:৩৫-৪৫)

একদিন জেবেদের দুই ছেলে, যাকোব ও যোহন, যিশুর কাছে এগিয়ে এসে বললেন, ‘গুরু, আমরা চাই যে, আপনার কাছে যা যাচনা করব, আপনি তা আমাদের জন্য করবেন।’ তিনি তাঁদের বললেন, ‘তোমরা কী চাও? তোমাদের জন্য আমি কী করব?’ তাঁরা বললেন, ‘এমনটি করুন, যেন আপনার গৌরবে আমরা একজন আপনার ডান পাশে, আর একজন বাঁ পাশে আসন পেতে পারি।’
যিশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা কি যাচনা করছ, তা বোঝ না; আমি যে পাত্রে পান করি, সেই পাত্রে তোমরা কি পান করতে পার? আর আমি যে বাপ্তিস্মে বাপ্তিস্ম নিই, সেই বাপ্তিস্মে তোমরা কি বাপ্তিস্ম নিতে পার?’ তাঁরা বললেন, ‘পারি।’ যিশু তাঁদের বললেন, ‘আমি যে পাত্রে পান করি, সেই পাত্রে তোমরা অবশ্যই পান করবে; আর আমি যে বাপ্তিস্মে বাপ্তিস্ম নিই, সেই বাপ্তিস্মে তোমরাও বাপ্তিস্ম নেবে; কিন্তু কাউকে আমার ডান পাশে ও বাঁ পাশে আসন মঞ্জুর করার অধিকার আমার নেই; তেমন আসন বরং তাদেরই হবে, যাদের জন্য তা প্রস্তুত করা হয়েছে।’
একথা শুনে অন্য দশজন যাকোব ও যোহনের উপর ক্ষুব্ধ হলেন।
কিন্তু যিশু তাঁদের কাছে ডেকে বললেন, ‘তোমরা তো জান, বিজাতীয়দের মধ্যে যারা শাসক বলে গণ্য, তারা তাদের উপর প্রভুত্ব করে, এবং তাদের মধ্যে যারা বড়, তারা তাদের উপর কর্তৃত্ব চালায়। তোমাদের মধ্যে তেমনটি হবে না; কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে কেউ বড় হতে চায়, তাকে তোমাদের সেবক হতে হবে, আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ প্রধান হতে চায়, তাকে হতে হবে সকলের দাস; কারণ মানবপুত্র সেবা পেতে আসেননি, কিন্তু এসেছেন সেবা করতে, ও অনেকের মুক্তিমূল্য রূপে নিজের প্রাণ দিতে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু জন খ্রিসোস্তমের উপদেশ

যিশু যেরুসালেমে গেলে জেবেদের সন্তানদের মা তাঁর দুই সন্তান সেই যাকোব ও যোহনকে নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে তাঁর কাছে এগিয়ে এলেন: আদেশ করুন, যেন আপনার রাজ্যে আমার এই দুই ছেলের একজন আপনার ডান পাশে, আর একজন বাঁ পাশে আসন পেতে পারে (মথি ২০:২১)। কিন্তু আর একজন রচয়িতা বলেন যে, সেই দুই সন্তান নিজেরাই খ্রিষ্টের কাছে এ অনুরোধ রেখেছিলেন; তবু মতভেদ নেই, তাছাড়া তেমন গৌণ ব্যাপার নিয়ে সময় ব্যয় করা এখন তত প্রয়োজন নেই: সম্ভবত ভূমিকা প্রস্তুত করতে মাকে আগে পাঠিয়ে তিনি কথা বলার পর তাঁরা নিজেরাও একই অনুরোধ রেখেছিলেন, যদিও জানতেন না তাঁরা কী বলছিলেন। কেননা প্রেরিতদূত হয়েও তাঁরা তখনও তত সিদ্ধতা-প্রাপ্ত ছিলেন না, ঠিক যেন এমন পাখিশাবকদের মত যাদের এখনও পাখা গজায়নি বলে নীড়ে নড়াচড়া করে।
তোমাদের পক্ষে একথা জানা খুবই উপকারী যে, প্রভুর যন্ত্রণাভোগের আগে তাঁরা এমন গভীর অজ্ঞতায় মগ্ন ছিলেন যে, প্রভু তাঁদের ভর্ৎসনা করে বলেছিলেন, তোমাদের কি এখনও বোধ হয়নি? (মথি ১৫:১৬)। এখনও কি বুঝতে পার না? ব্যাপারটা ধরতে পার না? (মার্ক ৮:১৭)। আমি যখন বলেছি, ফরিসি ও সাদুকির খামিরের ব্যাপারে তোমরা সাবধান থাক, তখন রুটির ব্যাপারে তা বলিনি? (মথি ১৬:১১)। তিনি আরও বলেছিলেন, তোমাদের কাছে আমার আরও অনেক কিছু বলার আছে, কিন্তু তোমরা এখন তা সহ্য করতে পার না (যোহন ১৬:১২)।
তুমি কি সচেতন আছ যে, পুনরুত্থান বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতেন না? রচয়িতা নিজেই একথা সপ্রমাণ করে বলেন, মৃতদের মধ্য থেকে তাঁকে যে পুনরুত্থান করতে হবে, শাস্ত্রের এই বচনটি তাঁরা তখনও জানতেন না (যোহন ২০:৯)। আর যখন একথা জানতেন না, তখন মহত্তর কারণেই অন্য কিছু জানতেন না, যেমন, স্বর্গরাজ্য বা আমাদের উদ্ভব বা স্বর্গারোহণ সংক্রান্ত বিষয়; কেননা পৃথিবীতে তখনও আবদ্ধ হওয়ায় ঊর্ধ্বে উঠতে পারতেন না। আর শুধু তাই নয়, যেরুসালেম-রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া অন্য কিছু বুঝতে অক্ষম হওয়ায় তাঁরা সুনিশ্চিত হয়ে দিনে দিনে প্রত্যাশা করছিলেন, খ্রিষ্ট সেই রাজ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটাবেন। আর একজন রচয়িতা এবিষয়ে স্পষ্ট সাক্ষ্য দিয়ে বলেন যে, তাঁরা সেই রাজ্যের আগমনকাল এত সন্নিকট বলে মনে করছিলেন যে, স্বর্গরাজ্যও অন্যান্য পার্থিব রাজ্যের মত কল্পনা করছিলেন; তাঁদের ধারণা ছিল, খ্রিষ্ট সেই রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যত ছিলেন, আর কল্পনা করতে পারতেন না যে তিনি প্রকৃতপক্ষে ক্রুশ ও মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন—এ সমস্ত কথা বারবার শোনা সত্ত্বেও তাঁরা আসল ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
সুতরাং সত্য বিষয়ে তাঁদের স্পষ্ট ও নিখুঁত জ্ঞান না থাকার ফলে এবিষয়েই বরং সুনিশ্চিত যে, তিনি যেরুসালেমে অল্পদিনের মধ্যে রাজ্যভার গ্রহণ করবেন, তাঁরা মনে করছিলেন, পার্থিব রাজ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন; সেজন্য পথে চলতে চলতে তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে সেই অনুরোধ রাখার সুযোগ নিলেন। ঠিক যেন সবকিছু তাঁদের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে, তাঁরা অন্য শিষ্যের দল ছেড়ে খ্রিষ্টের কাছে প্রধান আসন যাচনা করেন ও নিজেদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ দাবি করেন; তাঁরা আসলে মনে করছিলেন, রাজ্য প্রতিষ্ঠা ব্যাপারটা খুব সুন্দর ভাবে সমাপ্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, ফলে মালা ও পুরস্কারের সময়ও প্রায় এসে গেছে: হায় হায়! এর চেয়ে গভীর নির্বুদ্ধিতা সত্যি নেই!
তাঁর অনুরোধের পর, এবার যিশুর উত্তর শোন: তোমরা যে কী যাচনা করছ, তা বোঝ না (মথি ২০:২২), কেননা সেই কাল মালা ও পুরস্কারের নয়, বরং সংগ্রাম, লড়াই, পরিশ্রম, শ্রান্তি, পরীক্ষা ও যুদ্ধেরই কাল—এটিই যিশুর উত্তরের অর্থ। অর্থাৎ তোমাদের এখনও কারাবাসের অভিজ্ঞতা হয়নি, তোমরা এখনও লড়াই করতে যুদ্ধক্ষেত্রে নামনি।
আমি যে পাত্রে পান করি, সেই পাত্রে তোমরা কি পান করতে পার? আর আমি যে বাপ্তিস্মে বাপ্তিস্ম নিই, সেই বাপ্তিস্মে তোমরা কি বাপ্তিস্ম নিতে পার? (মার্ক ১০:৩৮)। এখানে তিনি নিজ ক্রুশ ও মৃত্যুকে পাত্র ও বাপ্তিস্ম বলে অভিহিত করেন—’পাত্র’, কারণ তিনি ব্যগ্র হয়েই তাতে পান করেন; আবার, ‘বাপ্তিস্ম’, কারণ তাতে তিনি পৃথিবী ধৌত করতে যাচ্ছিলেন; পৃথিবীর মুক্তি কেবল এভাবেই সাধিত হবে এমন নয়, পুনরুত্থানও প্রয়োজন, যদিও তাঁর পক্ষে পুনরুত্থান কষ্টকর নয়। আমি যে পাত্রে পান করি, সেই পাত্রে তোমরা অবশ্যই পান করবে; আর আমি যে বাপ্তিস্মে বাপ্তিস্ম নিই, সেই বাপ্তিস্মে তোমরাও বাপ্তিস্ম নেবে (মার্ক ১০:৩৯)—এ দ্বারা তাঁদের মৃত্যুই পূর্বঘোষিত: বাস্তবিকই খড়্গ দ্বারা যাকোবের শিরশ্ছেদ হবে, ও যোহন বহুবার মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবেন; কিন্তু কাউকে আমার ডান পাশে ও বাঁ পাশে আসন মঞ্জুর করার অধিকার আমার নেই; তেমন আসন বরং তাদেরই হবে, যাদের জন্য তা প্রস্তুত করা হয়েছে (মার্ক ১০:৪০)।
অতএব, তোমরা নিহত হবে ও সাক্ষ্যমরণের মর্যাদা পাবে, কিন্তু তোমরা প্রধান আসন পাবে কিনা, এবিষয়ে আমার কোন অধিকার নেই; তেমন আসন বরং তাদেরই হবে, যাদের জন্য তা প্রস্তুত করা হয়েছে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৩
ধুয়ো:
দেখ, প্রভুর চোখ নিবদ্ধ তাদেরই প্রতি,
যারা তাঁকে ভয় করে, যারা তাঁর কৃপার প্রত্যাশায় থাকে।

সুখী সেই দেশ,
প্রভুই যার আপন পরমেশ্বর;
সুখী সেই জাতি,
যাকে তিনি বেছে নিলেন আপন উত্তরাধিকার রূপে।   [ধুয়ো]

প্রভু স্বর্গ থেকে তাকিয়ে সকল আদমসন্তানকে দেখেন,
নিজ বাসস্থান থেকে সকল মর্তবাসীর দিকে লক্ষ করেন;
তিনিই তো গড়েছেন এক একজনেরই হৃদয়,
তিনিই তো বোঝেন তাদের সকল কাজ।   [ধুয়ো]

আপন সুবিপুল বাহিনীগুণে রাজা পান না কো পরিত্রাণ,
আপন মহাপ্রতাপে যোদ্ধাও উদ্ধার পায় না,
অশ্বও তো ত্রাণের জন্য বৃথা আশা,
তার প্রবল শক্তিবলেও সে নিষ্কৃতি দিতে পারে না।   [ধুয়ো]

কিন্তু দেখ, প্রভুর চোখ নিবদ্ধ তাদেরই প্রতি,
যারা তাঁকে ভয় করে, যারা তাঁর কৃপার প্রত্যাশায় থাকে,
তিনি মৃত্যু থেকে তাদের প্রাণ উদ্ধার করবেন,
তাদের বাঁচিয়ে রাখবেন দুর্ভিক্ষের দিনে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আশীর্বাদ কর: স্বর্গীয় বিষয়ের দৈনন্দিন সহভাগিতার ফলে
আমরা যেন এ বর্তমান জীবনে উপকৃত হই,
ভাবী মঙ্গলদান পাবার আশায়ও যেন দৃঢ় নিশ্চয়তা লাভ করি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩০শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর,
গভীরতর করে তোল আমাদের বিশ্বাস আশা ও ভালবাসা:
আশীর্বাদ কর: তুমি যা আজ্ঞা কর, আমরা যেন তা ভালবাসি,
যাতে যা দান করবে বলে তুমি প্রতিশ্রুত, আমরা তা পাবার যোগ্য হয়ে উঠি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী যেরেমিয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৩১:৭-৯)

প্রভু একথা বলছেন:
‘যাকোবের জন্য তোমরা সানন্দে চিৎকার কর,
সর্বদেশের মধ্যে প্রধান যে দেশ তার উদ্দেশে উচ্চধ্বনি তোল,
ঘোষণা কর, প্রশংসাবাদ কর, চিৎকার করে বল:
প্রভু তাঁর আপন জনগণকে,
ইস্রায়েলের অবশিষ্ট অংশকে ত্রাণ করেছেন।’
দেখ, আমি উত্তর দেশ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনছি,
পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে তাদের জড় করছি;
তাদের মধ্যে রয়েছে অন্ধ ও খোঁড়া, গর্ভবতী ও প্রসবিনী,
—বিপুল জনতা হয়ে তারা একসঙ্গে এখানে ফিরে আসবে।
তারা ফিরে আসবে চোখের জল ফেলতে ফেলতে,
তারা প্রার্থনা করতে করতেই
আমি তাদের ফিরিয়ে আনব;
আমি তাদের জলস্রোতের ধারে চালনা করব,
এমন সরল পথ দিয়ে তাদের চালনা করব,
যে পথে তারা হোঁচট খাবে না;
কেননা ইস্রায়েলের পক্ষে আমি পিতা,
এফ্রাইম আমার প্রথমজাত পুত্র।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১২৬
ধুয়ো:
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু;
আমরা আনন্দিত।

প্রভু যখন সিয়োনের বন্দিদের ফিরিয়ে আনলেন,
আমরা তখন যেন স্বপ্নই দেখি!
তখন আমাদের মুখ হাসিতে মুখর,
আমাদের জিহ্বা আনন্দচিৎকারে পূর্ণ।   [ধুয়ো]

তখন বিজাতিদের মধ্যে একথা চলত,
‘তাদের জন্য কী মহা মহা কাজ না করেছেন প্রভু!’
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু,
আমরা আনন্দিত।   [ধুয়ো]

আমাদের বন্দিদের ফিরিয়ে আন, প্রভু,
তাদের ফিরিয়ে আন নেগেব প্রান্তরে খরস্রোতের মত।
যে অশ্রুর মধ্যে বীজ বোনে,
সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফসল সংগ্রহ করবে।   [ধুয়ো]

সে যায়, কাঁদতে কাঁদতে সে চলে যায়,
সঙ্গে নিয়ে যায় বপনের বীজ;
সে আসে, সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফিরে আসে,
সঙ্গে নিয়ে আসে ফসলের আঁটি।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (৫:১-৬)

মানুষের মধ্য থেকে নেওয়া প্রতিটি মহাযাজককে মানুষদের পক্ষে ঈশ্বরের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্থাপনের জন্যই নিযুক্ত করা হয়, যেন তিনি পাপের জন্য অর্ঘ্য ও বলি উৎসর্গ করেন: যারা অজ্ঞ ও পথভ্রান্ত, তিনি তাদের প্রতি যথার্থ সহানুভূতি দেখাতে সক্ষম, কারণ তিনি নিজেও দুর্বলতায় পরিবেষ্টিত; আর সেই দুর্বলতার কারণে তাঁকে যেমন জনগণের জন্য, তেমনি নিজেরও জন্য পাপের ব্যাপারে বলি উৎসর্গ করতে হয়।
কেউই তেমন সম্মান নিজের উপর আরোপ করে না, ঈশ্বর দ্বারা আহূত হওয়ায়ই সে তা পায়, যেমনটি আরোন পেয়েছিলেন।
তেমনি খ্রিষ্টও মহাযাজক হওয়ার গৌরব নিজে নিজের উপর আরোপ করেননি, কিন্তু যিনি তাঁকে বলেছিলেন, তুমি আমার পুত্র, আমি আজ তোমাকে জন্ম দিলাম, তিনিই তা তাঁকে দিলেন যেমন আর একটা সামসঙ্গীতে তিনি বলেন, মেল্কিসেদেকের রীতি অনুসারে তুমি চিরকালের মত যাজক।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমাদের ত্রাণকর্তা যিশুখ্রিষ্ট মৃত্যু বিনষ্ট করেছেন,
এবং সুসমাচারের মাধ্যমে জীবন উদ্ভাসিত করেছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১০:৪৬-৫২)

একদিন, যিশু যখন নিজের শিষ্যদের ও বহুলোকের সঙ্গে যেরিখো ত্যাগ করে চলে যাচ্ছিলেন, তখন তিমেয়ের ছেলে অন্ধ বার্তিমেয় পথের ধারে ভিক্ষা করছিল। সে যখন শুনতে পেল, তিনি নাজারেথের যিশু, তখন চিৎকার করে বলতে লাগল, ‘যিশু, দাউদসন্তান, আমার প্রতি দয়া করুন।’
তখন অনেকে ধমক দিয়ে তাকে চুপ করতে বলল, কিন্তু সে আরও জোরে চিৎকার করে বলতে লাগল, ‘দাউদসন্তান, আমার প্রতি দয়া করুন।’
যিশু থেমে বললেন, ‘তাকে ডাক।’ তাই লোকে সেই অন্ধকে ডেকে বলল, ‘সাহস কর, ওঠ, উনি তোমাকে ডাকছেন।’ তখন সে চাদর ফেলে লাফ দিয়ে উঠে যিশুর কাছে গেল।
যিশু তাকে বললেন, ‘তুমি কী চাও? আমি তোমার জন্য কী করব?’ অন্ধটি তাঁকে বলল, ‘রাব্বুনি, আমি যেন চোখে দেখতে পাই!’ যিশু তাকে বললেন, ‘যাও, তোমার বিশ্বাস তোমার পরিত্রাণ সাধন করেছে।’ আর তখনই সে চোখে দেখতে পেল, ও তাঁর অনুসরণে পথ চলতে লাগল।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
আলেক্সান্দ্রিয়ার ক্লেমেণ্ট-লিখিত ‘বিধর্মীদের প্রতি আহ্বান’

প্রভুর আজ্ঞা নির্মল, চোখে আলো দান করে (সাম ১৯:৯)। খ্রিষ্টকে গ্রহণ কর, দৃষ্টিশক্তি গ্রহণ কর, সেই আলোও গ্রহণ কর যাতে একইসময়ে ঈশ্বরকে ও মানুষকে চিনতে পার। আমরা যাঁর দ্বারা আলোকিত, তিনি সোনার চেয়ে, অজস্র খাঁটি সোনার চেয়েও, ও মধুর চেয়ে, মৌচাকের ঝরে পড়া মধুর চেয়েও কাম্য (সাম ১৯:১১)। আর কেমন করে তিনি কাম্য না হয়ে পারতেন, যখন অন্ধকারাচ্ছন্ন মানব-অন্তরকে আলোর দিকে চালিত করলেন ও মনশ্চক্ষু অধিক উজ্জ্বল ও তীক্ষ্ণ করলেন?
যেমন সূর্য না থাকলে তারকারাজির উপস্থিতি সত্ত্বেও রাতই সর্বত্র বিরাজ করত, তেমনি যদি বাণীকে না জানতাম ও তাঁর দ্বারা আলোকিত না হতাম আমরা সেই মুরগির মত হতাম যা অন্ধকারে পোষণ করা হয় যাতে পরে মারা হয়।
সুতরাং এসো, আলো ধারণ করি, যাতে ঈশ্বরকেও ধারণ করতে পারি। আলো ধারণ করি, যাতে প্রভুর শিষ্য হতে পারি; কেননা তিনি পিতার কাছে এ প্রতিশ্রুতি দিলেন, আমি আমার ভাইদের কাছে তোমার নাম বর্ণনা করব, তোমার প্রশংসা করব জনসমাবেশের মাঝে (সাম ২২:৩)। মিনতি জানাই, তাঁর প্রশংসা কর, পরে তোমার পিতা সেই ঈশ্বরের কথা আমার কাছে বর্ণনা কর; তোমার সেই বর্ণনা পরিত্রাণ এনে দেয়। তোমার গীতিকা আমাকে এবিষয়ে উদ্বুদ্ধ করবে যে, ঈশ্বরের অন্বেষায় আমি এতক্ষণ পথভ্রান্ত ছিলাম। কিন্তু যখন তুমিই, হে প্রভু, আলোর দিকে আমাকে চালিত কর, তখন তোমার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সন্ধান পাই ও তোমার কাছ থেকে পিতাকে পাই, তথা তোমার আপন সহউত্তরাধিকারী হয়ে উঠি, কারণ তুমি আমাকে ভাই বলে গ্রহণ করতে কুণ্ঠিত হওনি (হিব্রু ২:১১ দ্রঃ)।
এসো, সতর্ক থাকি, অধিক সতর্ক থাকি, যেন সত্য বিস্মৃত না হই। এসো, অজ্ঞতা দূর করে দিয়ে, ও যে অন্ধকার ঠিক যেন এক মেঘের মত আমাদের চোখ আচ্ছন্ন করে আমাদের বাধা দেয়, সেই অন্ধকার ঘুচিয়ে দিয়ে সত্যকার ঈশ্বরের দিকে চোখ নিবদ্ধ করে এ প্রথম কণ্ঠ ধ্বনিত করি: হে আলো, তোমাকে স্বাগত জানাচ্ছি! কারণ আমরা যারা অন্ধকারে নিমজ্জিত ও মৃত্যু-ছায়াতে আবদ্ধ ছিলাম, এই আমাদের জন্য স্বর্গ থেকে এমন আলো উদিত হল, যা সূর্যের চেয়েও পবিত্রতর ও এ জীবনের চেয়েও আনন্দদায়ী। এ আলো হল অনন্ত জীবন, যে জীবন তারাই যাপন করে যারা সেই আলোর অংশীদার। অন্যদিকে রাত আলো থেকে পালিয়ে যায়, যেহেতু ভয়ে নিজেকে লুকিয়ে রেখে প্রভুর দিনকে স্থান দিয়েছে। এ অনির্বাণ আলো সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে, ও সূর্যাস্ত সূর্যোদয়কে প্রাধান্য দিয়েছে। এই তো নতুন সৃষ্টি বচনের অর্থ, কেননা যে ধর্মময়তার সূর্য সমস্ত কিছুর উপর দিয়ে পরিক্রমা করেন, সেই সূর্য গোটা মানবজাতিকে সমানভাবে উদ্ভাসিত করছেন, ঠিক তাঁর আপন পিতার আদর্শে যিনি সকল মানুষের উপর সূর্যকে জাগান ও সকলের উপরে সত্যের শিশির পাত করেন। তিনি সূর্যাস্তকে সূর্যোদয়ের মধ্যে স্থানান্তর করেছেন, ও মৃত্যুকে একপ্রকারে ক্রুশে দিয়ে জীবনে রূপান্তরিত করেছেন। ঐশকৃষক যে তিনি, ক্ষয়শীলতাকে অক্ষয়শীলতায় রূপান্তরিত করে ও পৃথিবীকে স্বর্গে স্থানান্তর করে সর্বনাশে আবদ্ধ মানুষকে ঊর্ধ্বলোকে বসিয়েছেন, অর্থাৎ কিনা তিনি মঙ্গলবাণী ঘোষণা করেন, জনগণকে শুভকর্ম সাধনে উদ্দীপ্ত করেন, সদাচরণ স্মরণ করিয়ে দেন, মহা ও দিব্য এমন উত্তরাধিকার আমাদের মঞ্জুর করেন যা কেউ কেড়ে নিতে পারে না, স্বর্গীয় শিক্ষা দানে মানুষকে ঈশ্বর করেন, তাদের অন্তরে বিধান সঞ্চার করেন ও তাদের হৃদয়েই তা লিখে রাখেন (যেরে ৩১:৩৩ দ্রঃ)। কোন্‌ বিধানের কথা বলা হচ্ছে? ছোট-বড় সকলেই ঈশ্বরকে জানবে; আমি তাদের প্রতি প্রসন্নতা দেখাব, তাদের সমস্ত পাপ ভুলে যাব (যেরে ৩১:৩৪)।
সুতরাং এসো, জীবনের বিধান গ্রহণ করি, ঈশ্বরের আহ্বানে সাড়া দিই। তাঁকে গ্রহণ করি, তিনি যেন আমাদের প্রতি প্রসন্নতা দেখান। তাঁর প্রয়োজন না হলেও, তবু এসো, তাঁর অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতাপূর্ণ প্রতিদান স্বরূপ আমাদের সুসজ্জিত অন্তর তাঁকে অর্পণ করি—যাঁর মঙ্গলময়তায় আমরা এখানে বাস করি, সেই ঈশ্বরকে ভক্তি ও প্রেম নিবেদিত হোক!

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২০
ধুয়ো:
তোমার ত্রাণকর্মের জন্য আমরা আনন্দধ্বনি তুলব,
আমাদের পরমেশ্বরের নামে উল্লাস করব।

এখন আমি জানি—
প্রভু তাঁর তৈলাভিষিক্তজনকে পরিত্রাণ করেন;
তাঁর ডান হাতের বিজয়ী পরাক্রম দ্বারা
তাঁর পবিত্র স্বর্গ থেকে তাঁকে সাড়া দিলেন।   [ধুয়ো]

কেউ যুদ্ধরথে, আবার কেউ অশ্বে প্রতাপশালী,
আমরা কিন্তু প্রতাপশালী আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর নামে।
ওরা হাঁটু পেতে লুটিয়ে পড়ে,
আমরা কিন্তু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে, থাকি অবিচল।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, অনুনয় করি: তোমার এই সাক্রামেন্ত
আমাদের অন্তরে তার নিজের শক্তি ব্যক্ত করুক:
আমরা রহস্যের আড়ালে যা সম্পাদন করি,
একদিন যেন তার পূর্ণ বাস্তবতা লাভ করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩১শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান দয়াবান পরমেশ্বর, তোমারই কৃপায়
তোমার ভক্তগণ তোমাকে যথার্থ ও প্রশংসনীয় সেবা অর্পণ করতে সক্ষম।
আশীর্বাদ কর: আমরা যেন তোমার অঙ্গীকৃত পুরস্কারের দিকে
নির্বিঘ্নেই ধাবিত হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
দ্বিতীয় বিবরণ থেকে পাঠ (৬:২-৬)

মোশি জনগণকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘তোমার পরমেশ্বর প্রভুকে ভয় করে তুমি, তোমার সন্তান ও তোমার সন্তানের সন্তান আজীবন তাঁর সেই আজ্ঞা ও বিধিগুলি পালন কর যা আমি তোমাকে দিচ্ছি, আর এর ফলে যেন তোমার দীর্ঘ পরমায়ু হয়।
সুতরাং শোন, ইস্রায়েল! সযত্নেই এই সমস্ত পালন কর, যেন তোমার পিতৃপুরুষদের পরমেশ্বর প্রভু তোমাকে যেমন বলেছেন, সেই অনুসারে দুধ ও মধু-প্রবাহী দেশে তোমার মঙ্গল হয় ও তোমাদের খুবই বংশবৃদ্ধি হয়।
শোন, ইস্রায়েল! প্রভু যিনি, তিনিই আমাদের পরমেশ্বর, অদ্বিতীয়ই সেই প্রভু। তুমি তোমার পরমেশ্বর প্রভুকে তোমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে, তোমার সমস্ত প্রাণ দিয়ে, তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে ভালবাসবে।
এই যে সকল বাণী আমি আজ তোমার জন্য জারি করি, তা তোমার হৃদয়ে স্থির থাকুক।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৮
ধুয়ো:
আমি তোমাকে ভালবাসি, প্রভু,
তুমি আমার বল!

আমি তোমাকে ভালবাসি, প্রভু, আমার বল!
প্রভুই আমার শৈল,
আমার গিরিদুর্গ,
আমার মুক্তিদাতা,   [ধুয়ো]

আমার ঈশ্বর, আমার সেই শৈল যার কাছে নিয়েছি আশ্রয়,
আমার ঢাল, আমার ত্রাণশক্তি, আমার দুর্গ।
আমি প্রশংসনীয় সেই প্রভুকে ডাকি,
আমার শত্রুদের হাত থেকে পাবই পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

চিরজীবী হোন প্রভু! ধন্য আমার শৈল!
আমার ত্রাণেশ্বর বন্দিত হোন!
তিনি তাঁর রাজাকে বিজয়দানে মহিমান্বিত করেন,
তাঁর তৈলাভিষিক্তজনের প্রতি কৃপা দেখান চিরকাল।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (৭:২৩-২৮)

প্রিয়জনেরা, [প্রথম সন্ধিকালে] সংখ্যায় অনেক যাজক হচ্ছিল, কারণ মৃত্যু তাদের বেশি দিন থাকতে দিচ্ছিল না। কিন্তু তিনি ‘চিরকালের মত’ থাকেন বিধায় তাঁর যাজকত্ব হরণযোগ্য নয়। এজন্য যারা তাঁরই মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের কাছে এগিয়ে যায়, তিনি সম্পূর্ণরূপেই তাদের ত্রাণ করতে সক্ষম; কেননা তাদের হয়ে আবেদন জানাবার জন্য তিনি নিত্যই জীবিত আছেন।
সত্যি, তেমনই এক মহাযাজক আমাদের পক্ষে উপযুক্ত ছিলেন, যিনি পুণ্যবান, নির্দোষ, নিষ্কলঙ্ক, পাপী মানুষের কাছ থেকে পৃথক, স্বর্গের ঊর্ধ্বেই উন্নীত। অন্যান্য মহাযাজকদের মত প্রতিদিন তাঁর পক্ষে এমন প্রয়োজন নেই যে, আগে নিজের এবং তারপরে জনগণের পাপের জন্য বলি উৎসর্গ করবেন, কেননা নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়ে তিনি সেই কাজ একবার চিরকালের মতই সম্পন্ন করলেন।
বিধান যজন-পদে তেমন মানুষ নিযুক্ত করে যারা দুর্বলতাগ্রস্ত; অপরদিকে বিধানের পরে উচ্চারিত সেই শপথের বাণী একজনকে নিযুক্ত করে যিনি পুত্র, যাঁকে ‘চিরকালের মত’ নিজ সিদ্ধতায় চালনা করা হয়েছে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যদি কেউ আমাকে ভালবাসে—একথা বলছেন প্রভু,
তবে সে আমার বাণী মেনে চলবে,
আমার পিতা তাকে ভালবাসবেন,
এবং আমরা তার কাছে আসব।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১২:২৮খ-৩৪)

একদিন শাস্ত্রীদের একজন কাছে এলেন ও যিশুর কাছে এই প্রশ্ন রাখলেন, ‘সকল আজ্ঞার মধ্যে কোন্‌টা প্রথম?’
তিনি তাঁকে বললেন, ‘প্রথমটা এই: হে ইস্রায়েল, শোন; আমাদের ঈশ্বর প্রভু একমাত্র প্রভু; আর তুমি তোমার ঈশ্বর প্রভুকে তোমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে, তোমার সমস্ত প্রাণ দিয়ে, তোমার সমস্ত মন দিয়ে ও তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে ভালবাসবে; আর দ্বিতীয়টা এ: তুমি তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত ভালবাসবে। এই আজ্ঞা দু’টোর চেয়ে বড় আর কোন আজ্ঞা নেই।’
সেই শাস্ত্রী তাঁকে বললেন, ‘ঠিক কথা, গুরু, আপনি যা বলেছেন তা সত্য: তিনি এক, এবং তিনি ছাড়া অন্য দেবতা নেই; তাঁকে সমস্ত হৃদয় দিয়ে, সমস্ত বুদ্ধি দিয়ে ও সমস্ত শক্তি দিয়ে ভালবাসা এবং প্রতিবেশীকে নিজের মত ভালবাসা সমস্ত আহুতি ও বলিদানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’
তিনি সুবিবেচিত উত্তর দিয়েছেন দেখে যিশু তাঁকে বললেন, ‘ঈশ্বরের রাজ্য থেকে আপনি দূরে নন।’ এরপরে তাঁর কাছে কোন প্রশ্ন রাখার সাহস আর কারও হল না।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

তোমাদের হৃদয় পবিত্র পাঠের উপদেশে ও ঈশ্বরের বাণীতে দৈনন্দিন পরিপুষ্ট, একথা আমরা জানি; তথাপি যে ভালবাসায় আমরা পরস্পর উদ্দীপ্ত, সেই ভালবাসার খাতিরে আমাদের পক্ষে নিজেদের মধ্যে ঐশপ্রেম বিষয়ে একটু কথা বলা বাঞ্ছনীয় মনে করি। আর ঐশপ্রেম বিষয়ে ছাড়া অন্য কোন্‌ বিষয়েই বা আমি তোমাদের সঙ্গে কথা বলব? কেননা ঐশপ্রেম সম্বন্ধে কেউ যদি কথা বলতে চায়, তাহলে কোন্‌ কোন্‌ পাঠ বেছে নেবে, তার এমন সমস্যাও নেই: প্রতিটি পৃষ্ঠাই সেই কথা বলে। এবিষয়ে প্রভু নিজেই যে সাক্ষ্যদান করেন, তা সুসমাচারে প্রমাণিত; বাস্তবিকই যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল বিধানের সবচেয়ে মহা আজ্ঞা কী, তিনি উত্তর দিলেন, তুমি তোমার ঈশ্বর প্রভুকে তোমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে, তোমার সমস্ত প্রাণ দিয়ে ও তোমার সমস্ত মন দিয়ে ভালবাসবে, ও তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত ভালবাসবে (মথি ২২:৩৭, ৩৯)। আর যাতে আমরা পবিত্র শাস্ত্রে অন্য কিছুর অনুসন্ধান না করি, এজন্য তিনি বলে চললেন, এই আজ্ঞা দু’টোর উপরেই সমস্ত বিধান ও নবী-পুস্তক ভর করে আছে (মথি ২২:৪০)। যখন বিধান ও নবী-পুস্তক এ দু’টি আজ্ঞার উপরে নির্ভর করে আছে, তখন সুসমাচার তার উপরে আর কতই না নির্ভর করবে? ভালবাসা মানুষকে নবীভূত করে: অর্থলালসা যেমন মানুষকে নবীনতা থেকে বঞ্চিত করে, তেমনি ভালবাসা তাকে নবীকৃত করে। এজন্য অর্থলালসার জ্বালায় ভুগতে ভুগতে সামসঙ্গীত-রচয়িতা বলেন, দুর্বল হয়ে আসি আমার বিরোধীদের মধ্যে (সাম ৬:৮)।
ভালবাসা নবমানুষের অধিকার, একথা প্রভু নিজেই এভাবে ব্যক্ত করেন: আমি এক নতুন আজ্ঞা তোমাদের দিচ্ছি, তোমরা পরস্পরকে ভালবাস (যোহন ১৩:৩৪)। ফলে যখন বিধান ও নবী-পুস্তক ভালবাসার উপরে নির্ভর করে আছে, অর্থাৎ সমস্ত পুরাতন নিয়মই তার উপর নির্ভর করে আছে, তখন যা সুস্পষ্ট ভাবে নূতন নিয়ম বলে অভিহিত, সেই সুসমাচার ভালবাসার উপরে কতই না নির্ভর করার কথা! বস্তুত প্রভু ‘তোমরা পরস্পরকে ভালবাস’ কেবল এই আজ্ঞাটি কি নিজেরই আজ্ঞা বলে ঘোষণা করেননি? তিনি আজ্ঞাটি নতুন বলেছেন, তিনি আমাদের নবমানুষ করে তুলে আমাদের নবীকরণের উদ্দেশ্যেই এলেন, এবং তিনি এমন নতুন উত্তরাধিকার প্রতিশ্রুত হলেন যা চিরন্তন।
অথচ সেই সময়েও এমন লোক ছিল যারা ঈশ্বরকে ভালবাসত, ও তাঁর পবিত্র বাসনায় হৃদয় শুদ্ধ করে নিঃস্বার্থভাবেই তাঁকে ভালবাসত; তারা হল সেই সকল ব্যক্তি যারা প্রাচীন প্রতিশ্রুতির পরদা সরিয়ে দিয়ে ভাবী নূতন নিয়মের কথা অন্তরে অনুভব ক’রে উপলব্ধি করল যে, পুরাতন নিয়মে যা কিছু পুরাতন মানুষের অনুসারে আদিষ্ট ও প্রতিশ্রুত হয়েছিল, তা সেই নূতন নিয়মেরই পূর্বচিহ্ন ছিল, যে সন্ধি প্রভুর চরমকালে বাস্তবায়িত করার কথা। এক্ষেত্রে প্রেরিতদূত স্পষ্টভাবে বলেন, এই সমস্ত কিছু তাঁদের প্রতি ঘটেছিল দৃষ্টান্ত হিসাবেই, এবং আমাদেরই চেতনার জন্য তা লিখে রাখা হল—এই আমাদের, যাদের পক্ষে যুগের সমাপ্তি লগ্ন কাছে এসে পড়েছে (১ করি ১০:১১)। সুতরাং, সেই দৃষ্টান্তগুলোতে নূতন নিয়মেরই পূর্বাভাস ও পূর্বপ্রচার ঘটছিল।
নূতন নিয়মের কাল এসে উপস্থিত হলে শুভসংবাদ প্রকাশ্যে প্রচারিত হতে লাগল, আর সেই দৃষ্টান্তগুলোর এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হল যাতে প্রাচীন প্রতিশ্রুতির আলোতে নূতন নিয়মের কথা উপলব্ধি করা যায়। বাস্তবিকই সেই মোশি পুরাতন নিয়মের মানুষ হয়েও নূতন নিয়মের কথা উপলব্ধি করতেন: দৈহিক জাতির কাছে পুরাতন নিয়মের কথা প্রচার করতেন, কিন্তু আত্মিক যে তিনি, নূতন নিয়মেরই কথা উপলব্ধি করতেন। অপর দিকে প্রেরিতদূতেরা ছিলেন নূতন নিয়মেরই নবী ও বাণীসেবক, তবু এ অর্থে নয় যে, তাঁদের যা প্রচার করার কথা, তা পুরাতন নিয়মে ছিল না।
সুতরাং ভালবাসা উভয় সন্ধিতে উপস্থিত; কিন্তু প্রথমটায় ভালবাসা একটু আবৃত ও ভয় অধিক প্রকাশ্য; দ্বিতীয়টায় ভয়ের চেয়ে ভালবাসাই প্রকাশ্য। কেননা ভালবাসা যত বৃদ্ধি পায়, ভয় তত হ্রাস পায়। ফলে ভালবাসায় বৃদ্ধি পেতে পেতে প্রাণ ভয় থেকে নিজেকে মুক্ত করে; একথা প্রেরিতদূত যোহন সপ্রমাণ করে বললেন: সিদ্ধ ভালবাসা ভয়কে দূরে সরিয়ে দেয় (১ যোহন ৪:১৮)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৬
ধুয়ো:
তুমি আমাকে জানিয়ে দিয়েছ জীবনের পথ,
তোমার সম্মুখেই আনন্দের পূর্ণতা, প্রভু।

প্রভুই আমার স্বত্বাংশ, আমার পানপাত্র,
তোমার হাতেই আমার নিয়তির ভার।
সীমানা আমার পক্ষে পড়েছে মনোহর স্থানে,
আমার উত্তরাধিকার আমার কাছে সত্যি অপরূপ।   [ধুয়ো]

প্রভুকে ধন্য বলব, তিনি যে আমাকে মন্ত্রণা দেন,
রাত্রিতেও আমাকে উদ্বুদ্ধ করে আমার অন্তর।
আমার সামনে প্রভুকে অনুক্ষণ রাখি,
তিনি আমার ডান পাশে বলে আমি টলব না।   [ধুয়ো]

তাই আমার অন্তর আনন্দ করে, মেতে ওঠে আমার প্রাণ,
আমার দেহও ভরসাভরে করে বিশ্রাম,
তুমি যে আমাকে বিসর্জন দেবে না পাতালের হাতে,
না, তোমার ভক্তজনকে তুমি সেই গহ্বর দেখতে দেবে না।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার পরাক্রম আমাদের অন্তরে অবিরতই ক্রিয়াশীল হোক,
যেন এই স্বর্গীয় সাক্রামেন্ত দ্বারা সঞ্জীবিত হয়ে
আমরা প্রতিশ্রুত মঙ্গলদান গ্রহণের জন্যও উপযোগী হয়ে উঠি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩২শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান দয়াবান পরমেশ্বর,
প্রসন্ন হয়ে যত অমঙ্গল থেকে আমাদের রক্ষা কর,
দেহমনের যেকোন বাধাবিপত্তি অতিক্রম ক’রে
আমরা যেন দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে তোমার ইচ্ছা পূরণে নিবিষ্ট থাকতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
রাজাবলির প্রথম পুস্তক থেকে পাঠ (১৭:১০-১৬)

সেসময়ে এলিয় সারেপ্তার দিকে রওনা হলেন। তিনি নগরদ্বারে প্রবেশ করছেন, এমন সময় দেখ, সেখানে এক বিধবা কাঠ কুড়োচ্ছে। তাকে উদ্দেশ করে তিনি বললেন, ‘একটা পাত্রে করে কিছুটা জল আন; আমি খাব।’
স্ত্রীলোকটি তা আনতে যাচ্ছে, তখন তিনি তার পিছনে ডাক দিয়ে বললেন, ‘হাতে করে এক টুকরো রুটিও আন।’ সে উত্তরে বলল, ‘তোমার পরমেশ্বর সেই জীবনময় প্রভুর দিব্যি! আমার ঘরে একখানা সেকা রুটিও নেই; আছে শুধু জালার মধ্যে একমুঠো ময়দা আর কুঁজোর মধ্যে খানিকটা তেল। দেখ, আমি দু’ চার টুকরো কাঠ কুড়োচ্ছি; নিয়ে গিয়ে আমার জন্য ও আমার ছেলেটির জন্য রান্না করব; আমরা খাব, তারপর মরব!’
কিন্তু এলিয় তাকে বললেন, ‘ভয় করো না; এখন ঘরে যাও, তুমি যা বললে তাই কর; কিন্তু আগে আমার জন্য ছোট্ট একটা রুটি তৈরি কর আর তা এখানে নিয়ে এসো; তারপর তোমার নিজের জন্য ও তোমার ছেলেটির জন্য কিছু রান্না কর। কেননা ইস্রায়েলের পরমেশ্বর প্রভু একথা বলছেন:
যেদিন পর্যন্ত প্রভু পৃথিবীতে বৃষ্টি না আনেন,
সেদিন পর্যন্ত ময়দার জালা শূন্য হবে না,
তেলের কুঁজো খালি হবে না।’
সে গিয়ে এলিয়ের কথামত কাজ করল। আর বেশ কয়েক দিন ধরে সে, নবী নিজে আর সেই ছেলে খেতে পেল, ময়দার জালাও শূন্য হল না, তেলের কুঁজোও খালি হল না, ঠিক যেমনটি প্রভু এলিয়ের মধ্য দিয়ে বলে রেখেছিলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৪৬
ধুয়ো:
প্রভুর প্রশংসা কর,
আমার প্রাণ।

প্রভু বিশ্বস্ততা বজায় রাখেন চিরকাল ধরে,
অত্যাচারিতের পক্ষে সুবিচার করেন,
ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করেন,
প্রভু কারারুদ্ধকে মুক্ত করেন।   [ধুয়ো]

প্রভু খুলে দেন অন্ধের চোখ,
প্রভু অবনতকে টেনে তোলেন,
প্রভু ধার্মিককে ভালবাসেন,
প্রভু প্রবাসীকে রক্ষা করেন।   [ধুয়ো]

তিনি এতিম ও বিধবাকে সুস্থির রাখেন,
কিন্তু বাঁকা করেন দুর্জনের পথ।
প্রভু রাজত্ব করেন চিরকাল ধরে,
হে সিয়োন, তোমার পরমেশ্বর রাজত্ব করেন যুগে যুগান্তরে।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (৯:২৪-২৮)

খ্রিষ্ট মানুষের হাতে গড়া পবিত্রধামে প্রবেশ করেননি—এ তো প্রকৃত পবিত্রধামের প্রতিরূপমাত্র!—তিনি তো স্বর্গধামেই প্রবেশ করেছেন, যেন এখন আমাদের সপক্ষে ঈশ্বরের সম্মুখে দাঁড়াতে পারেন। আর মহাযাজক যেমন প্রতিটি বছর পরের রক্ত নিয়ে পবিত্রধামে প্রবেশ করেন, সেইভাবে খ্রিষ্ট যে অনেক বার নিজেকে উৎসর্গ করবেন, তাও নয়; অন্যথা, জগৎপত্তনের সময় থেকে তাঁকে বারবার যন্ত্রণা ভোগ করতে হত।
বরং তিনি একবার মাত্র, এখন, সকল যুগের এই সিদ্ধিকালেই আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে পাপ বিনাশ করার উদ্দেশ্যে আবির্ভূত হয়েছেন।
আর যেমনটি নিরূপিত আছে যে, মানুষ একবার মাত্র মৃত্যুভোগ করবে আর তারপর বিচার হবে, তেমনি বহুমানুষের পাপ বহন করার জন্য খ্রিষ্টও কেবল একবার, চিরকালের মত, নিজেকে উৎসর্গ করার পর, পাপের কথা বাদে আর একবার তাদের জন্য আবির্ভূত হবেন, যারা পরিত্রাণের জন্য তাঁর প্রতীক্ষায় আছে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আত্মায় দীনহীন যারা, তারাই সুখী,
কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১২:৩৮-৪৪)

একদিন, [মন্দিরে] উপদেশ দানকালে, যিশু সমবেত জনতাকে বললেন, ‘শাস্ত্রীদের বিষয়ে সাবধান: তাঁরা লম্বা লম্বা পোশাকে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন, হাটে-বাজারে শ্রদ্ধাপূর্ণ অভিবাদন, সমাজগৃহে প্রধান আসন ও ভোজসভায় প্রধান স্থান পেতে ভালবাসেন। তাঁরা বিধবাদের বিষয়-সম্পত্তি গ্রাস করেন, আর ভান করে লম্বা লম্বা প্রার্থনা করেন—তাঁরা বিচারে গুরুতর শাস্তি পাবেন।’
কোষাগারের সামনে বসে তিনি লক্ষ করছিলেন, লোকে বাক্সে কীভাবে টাকাপয়সা দিয়ে যাচ্ছে; অনেক ধনী লোক তার মধ্যে যথেষ্ট টাকা ফেলে যাচ্ছিল। পরে গরিব একটি বিধবা এসে দু’টো ক্ষুদ্র মুদ্রা বাক্সে ফেলল যার মূল্য দশ পয়সার মত। তখন তিনি নিজের শিষ্যদের কাছে ডেকে বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তাদের সকলের চেয়ে এই গরিব বিধবাই বেশি দিল; কেননা অন্য সকলে নিজ নিজ বাড়তি ধন থেকে কিছু কিছু দিয়েছে, কিন্তু সে নিজের চরম দরিদ্রতায় তার যা কিছু ছিল, তার জীবন সর্বস্বই দিয়ে দিল।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
নোলার বিশপ সাধু পাউলিনুসের পত্র

প্রেরিতদূত একথা বলেন, তোমার এমন কীবা আছে, যা পাওনি? (১ করি ৪:৭)। এজন্য, হে প্রিয়জনেরা, আমরা যেন কৃপণ না হই, আমাদের সম্পদ ঠিক যেন আমাদেরই; কিন্তু ধার নেওয়া সম্পদের মত তার সুদ বাড়াতে ব্যস্ত থাকি। কেননা আমাদের হাতে যা ন্যস্ত করা হয়েছে, তা হল সাধারণ মঙ্গলদানগুলোর সুব্যবস্থা ও সাময়িক উপভোগ, ব্যক্তিগত একটা সম্পদের চিরকালীন দখল দেওয়া হয়নি। পৃথিবীতে তুমি তেমন সম্পদ সাময়িক বলে গণ্য করলে, তবে স্বর্গে তা চিরকালের মতই ভোগ করতে পারবে। তাদেরই কথা স্মরণ কর, যারা, সুসমাচারের বিবরণ অনুসারে, প্রভুর কাছ থেকে টাকা পেয়েছিল, আর গৃহকর্তা ফিরে এলে তাঁর কাছ থেকে প্রতিদান বলে কী কী পেয়েছিল; তবেই উপলব্ধি করবে যে, পুঁজির বৃদ্ধি ইচ্ছা করলে, অনুর্বর বিশ্বাস দ্বারা তা অকেজো রাখার চেয়ে প্রভুর বেদির উপরে অর্থ নিবেদন করাই লাভজনক; কেননা প্রভুর জন্য বিনা সুদে রক্ষা করা সেই পুঁজি আসলে বড় অপব্যয়—পুঁজিটা দাসের পক্ষে অনর্থক হল, তাছাড়া এভাবে তা রক্ষা করার ফলে তার নিজের দণ্ডও হল।
এসো, সেই বিধবার কথাও স্মরণ করি, যে গরিবদের প্রতি ভালবাসার খাতিরে নিজের কথা ভুলে গিয়ে তার সর্বস্বই নিবেদন করল; বিচারক নিজে বললেন, বিধবাটি ভবিষ্যতের কথাই চিন্তা করছিল। অন্যরা তাদের বাড়তি থেকেই অর্থ দান করছিল; অপর দিকে সেই যে বিধবাটি, যে হয় তো গরিবদের চেয়েও গরিব ছিল কারণ সেই দুই পয়শাই ছিল তার সর্বস্ব, অথচ সকল ধনীর চেয়ে উদারমনা ছিল কারণ কেবল শাশ্বত পুরস্কারের ঐশ্বর্যই বাসনা করছিল ও নিজের জন্য কেবল স্বর্গীয় ধনেরই আকাঙ্ক্ষা করছিল, সেই বিধবাটি যে সম্পদ মাটি থেকে আসে ও মাটির কাছে ফিরে যায় তা প্রত্যাখ্যান করল। অদৃশ্য মঙ্গল পাবার উদ্দেশ্যে সে নিজের সর্বস্ব নিবেদন করল; অবিনশ্বর বিষয় লাভ করার উদ্দেশ্যে নশ্বর যত কিছু অর্পণ করল। ভাবী পুরস্কার লাভের জন্য ঈশ্বর যে নিয়ম স্থির করেছেন, সেই দুর্ভাগা তা অবজ্ঞা করেনি, আর এজন্য স্বয়ং বিধানকর্তা তার কথা ভুলে যাননি, এমনকি বিশ্ববিচারক আগে থেকে তার বিষয়ে রায় ঘোষণা করে সুসমাচারে বললেন যে, বিচারের দিনে তিনি তাকে মালায় ভূষিত করবেন।
সুতরাং এসো, তাঁর নিজের দানগুলো তাঁকে দান করে ঈশ্বরকে ধার করি; বস্তুত আমাদের এমন কিছুই নেই যা তিনি নিজেই আগে থেকে না দিয়েছেন, এমনকি তাঁর ইচ্ছার একটা ইঙ্গিত মাত্র যদি না থাকত আমাদের জন্মও হত না। আর সর্বোপরি আমরা কেমন করে নিজস্ব কিছুর অধিকারী নিজেদের মনে করতে পারি, যখন আমরা নিজেরাই নিজেদের নই? বাস্তবিকই আমরা ঈশ্বরের কাছে বিশেষভাবেই ঋণী, তিনিই আমাদের সৃষ্টি করেছেন এজন্য শুধু নয়, বরং এজন্যও যে, তিনি মূল্য দিয়ে আমাদের মুক্ত করলেন। তথাপি এসো, আনন্দ করি, কারণ স্বয়ং প্রভুর মহামূল্যবান রক্তমূল্যেই আমাদের কেনা হয়েছে, তাতে আমরা দাসের মত মূল্যহীন বস্তু আর নই, কেননা ঐশবিধান থেকে স্বাধীন হওয়া এমন স্বাধীনতা, যা দাসত্বের চেয়েও হীনতম। হ্যাঁ, তেমন স্বাধীন ব্যক্তি শয়তানের ক্রীতদাস ও মৃত্যুর বন্দি।
অতএব এসো, প্রভুর কাছে তাঁর নিজের দানগুলো ফিরিয়ে দিই; যিনি সমস্ত গরিবদের মধ্য দিয়ে গ্রহণ করে থাকেন, তাঁকেই মুক্তহস্তে দান করি; আবার বলছি, আনন্দের সঙ্গেই দান করি, যাতে তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুসারে সানন্দে চিৎকার করতে করতেই ফসল সংগ্রহ করতে পারি (সাম ১২৬:৫)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৩
ধুয়ো:
প্রভু আমার পালক;
অভাব নেই তো আমার।
আমায় তিনি শুইয়ে রাখেন নবীন ঘাসের চারণমাঠে,
আমায় নিয়ে যান শান্ত জলের কূলে।

তিনি সঞ্জীবিত করেন আমার প্রাণ,
তাঁর নামের খাতিরে আমায় চালনা করেন ধর্মপথে।
মৃত্যু-ছায়ার উপত্যকাও যদি পেরিয়ে যাই,
আমি কোন অনিষ্টের ভয় করি না, তুমি যে আমার সঙ্গে আছ।   [ধুয়ো]

তোমার যষ্টি, তোমার পাচনি আমাকে সান্ত্বনা দেয়।
আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট আমার শত্রুদের সামনে;
আমার মাথা তুমি তৈলসিক্ত কর;
আমার পানপাত্র উচ্ছলিত।   [ধুয়ো]

মঙ্গল ও কৃপাই হবে আমার সহচর
আমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে,
আমি প্রভুর গৃহে ফিরব
চিরদিনের মত!   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার এই পবিত্র উপহার গ্রহণে পরিপুষ্ট হয়ে উঠে
আমরা তোমাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি:
যাদের অন্তরে তোমার স্বর্গীয় শক্তি প্রবেশ করেছে, তোমার আত্মা সিঞ্চনের ফলে
তারা যেন সেই পবিত্রতার অনুগ্রহ সর্বদাই ভোগ করতে পারে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩৩শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের পরমেশ্বর, আশীর্বাদ কর,
আমরা যেন তোমার সেবায় রত থেকে নিত্য আনন্দিত থাকি।
কেননা মঙ্গলকর সমস্ত কিছুর উৎস যে তুমি,
সেই তোমার প্রতি আত্মনিয়োজিত থাকা-ই পূর্ণ অফুরানো আনন্দ-সুখ।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী দানিয়েলের পুস্তক থেকে পাঠ (১২:১-৩)

যে মহা দূতপ্রধান তোমার জাতির সন্তানদের রক্ষাকর্তা, সেসময়ে সেই মিখায়েল উঠে দাঁড়াবেন।
তখন এমন সঙ্কটের কাল দেখা দেবে, যা মানবজাতির উৎপত্তির সময় থেকে সেই সময় পর্যন্ত কখনও হয়নি; কিন্তু সেই কালে তোমার আপন জাতি নিষ্কৃতি পাবে—তারা সকলেই নিষ্কৃতি পাবে, যাদের নাম পুস্তকে লেখা রয়েছে।
ধুলার দেশে যারা নিদ্রিত, তাদের মধ্যে অনেকেই আবার জেগে উঠবে—কেউ কেউ অনন্ত জীবনের উদ্দেশে, কেউ কেউ লজ্জা ও অনন্ত দুর্নামের উদ্দেশে।
জ্ঞানবানেরা গগনতলের দীপ্তির মত দীপ্তিমান হয়ে উঠবে; এবং যারা অনেককে ধর্মিষ্ঠতা বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেছে, তারা চিরকাল ধরে তারানক্ষত্রের মত উজ্জ্বল হবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৬
ধুয়ো:
আমাকে রক্ষা কর গো ঈশ্বর,
তোমাতেই নিয়েছি আশ্রয়।

প্রভুই আমার স্বত্বাংশ, আমার পানপাত্র,
তোমার হাতেই আমার নিয়তির ভার।
আমার সামনে প্রভুকে অনুক্ষণ রাখি,
তিনি আমার ডান পাশে বলে আমি টলব না।   [ধুয়ো]

তাই আমার অন্তর আনন্দ করে, মেতে ওঠে আমার প্রাণ,
আমার দেহও ভরসাভরে করে বিশ্রাম।
তুমি যে আমাকে বিসর্জন দেবে না পাতালের হাতে,
না, তোমার ভক্তজনকে তুমি সেই গহ্বর দেখতে দেবে না।   [ধুয়ো]

তুমি আমাকে জানিয়ে দেবে জীবনের পথ,
তোমার সম্মুখেই আনন্দের পূর্ণতা,
তোমার ডান পাশেই
চিরন্তন সুখ।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (১০:১১-১৪,১৮)

প্রতিটি যাজক দিনের পর দিন সেবাকর্ম সম্পাদন করার জন্য ও সেই একই যজ্ঞ বারবার উৎসর্গ করার জন্য এসে দাঁড়ায়, কারণ সেই সকল যজ্ঞ কখনও পাপ হরণ করতে সক্ষম নয়।
কিন্তু খ্রিষ্ট পাপের জন্য কেবল একটা যজ্ঞ উৎসর্গ ক’রে ঈশ্বরের ডান পাশে চিরকালের মতই আসন নিয়েছেন; আর সেখানে অপেক্ষা করছেন যতক্ষণ তাঁর শত্রুদের তাঁর পাদপীঠ করা না হয়। কেননা যাদের পবিত্র করে তোলা হয়, তিনি একটামাত্র নৈবেদ্য গুণেই চিরকালের মত তাদের সিদ্ধতায় চালিত করেছেন। যেখানে এইসব কিছুর ক্ষমা হয়, সেখানে পাপের জন্য নৈবেদ্য আর প্রয়োজন হয় না।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
জেগে থাক, সবসময় মিনতি জানাও,
যেন মানবপুত্রের সামনে দাঁড়াবার শক্তি পেতে পার।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৩:২৪-৩২)

একদিন যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন, ‘সেই দিনগুলিতে, সেই ক্লেশের পরে সূর্য অন্ধকারময় হবে, চাঁদও নিজের জ্যোৎস্না আর ছড়িয়ে দেবে না, আকাশ থেকে তারাগুলোর পতন হবে ও নভোমণ্ডলের পরাক্রমগুলো আলোড়িত হবে।
আর তখন লোকেরা দেখতে পাবে, মানবপুত্র সপরাক্রমে ও মহাগৌরবে মেঘবাহনে আসছেন। তিনি দূতদের প্রেরণ করবেন, আর তাঁরা পৃথিবীর শেষ প্রান্ত থেকে আকাশের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত চারদিক থেকেই তাঁর মনোনীতদের জড় করবেন।
ডুমুরগাছের কথাই উপমা হিসাবে ধর: যখন তার শাখা কোমল হয়ে পাতা বের করে, তখন তোমরা বুঝতে পার, গ্রীষ্মকাল কাছে এসে গেছে; তেমনি তোমরা ওই সকল ঘটনা দেখলেই বুঝবে, তিনি কাছে এসে গেছেন, এমনকি, তিনি দরজায়ই উপস্থিত।
আমি তোমাদের সত্যি বলছি, এসব কিছু সিদ্ধিলাভ না করা পর্যন্ত এই প্রজন্ম লোপ পাবে না। আকাশ ও পৃথিবী লোপ পাবে, কিন্তু আমার কোন বাণী লোপ পাবে না। কিন্তু সেদিনের ও সেই ক্ষণের কথা কেউই জানে না, স্বর্গের দূতেরাও জানেন না, পুত্রও জানেন না—কেবল পিতাই জানেন।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
মার্ক-রচিত সুসমাচারে পুরোহিত মাননীয় সাধু বীডের ব্যাখ্যা

সেই দিনগুলিতে, সেই ক্লেশের পরে সূর্য অন্ধকারময় হবে, চাঁদও নিজের জ্যোৎস্না আর ছড়িয়ে দেবে না, আকাশ থেকে তারাগুলোর পতন হবে। বিচারের দিনে জ্যোতিষ্করাজি অন্ধকারময় প্রতীয়মান হবে, এর কারণ এই নয় যে সেগুলোর আলো কমে যাবে, কিন্তু এজন্যই যে, প্রকৃত আলোর প্রভা তথা সর্বোচ্চ বিচারকের প্রভাই এগিয়ে এসে হঠাৎ দেখা দেবে, যখন তিনি স্বমহিমায় ও পিতার ও পুণ্যবান দূতদের মহিমায় আবির্ভূত হবেন। কিন্তু তবুও এমন কোন বাধা নেই, যাতে আমরা মনে করতে পারি যে সেই সময়ে অন্য সমস্ত তারার সঙ্গে সূর্য ও চন্দ্রের আলোও সত্যিকারে নিজ নিজ আলো থেকে বঞ্চিত হবে, প্রভুর যন্ত্রণাভোগের সময়ে সূর্যের বেলায় যেভাবে ঘটেছিল। সুতরাং, আজ পর্যন্ত যোয়েলের সেই ভবিষ্যদ্বাণী অসিদ্ধ হয়ে থাকছে যা অনুসারে, প্রভুর দিনের আগমনের আগে, সেই মহা ও ভয়ঙ্কর দিনের আগে সূর্য অন্ধকারে, ও চাঁদ রক্তে পরিণত হবে (যোয়েল ৩:৪)। ইসাইয়া বিচারের দিন সম্বন্ধে যা বলেছিলেন, তাও আজ পর্যন্ত অসিদ্ধ হয়ে থাকছে: চন্দ্র মলিন হবে ও সূর্য লজ্জিত হবে, কারণ সিয়োন পর্বতে ও যেরুসালেমে সেনাবাহিনীর স্বয়ং প্রভুই রাজা, ও তাঁর প্রবীণদের সামনে তিনি গৌরবান্বিত হবেন (ইসা ২৪:২৩)।
অতএব, বিচারের দিন এলে পর ভাবী জীবনের গৌরব উজ্জ্বল প্রকাশ পেতে পেতে যখন নতুন আকাশ ও নতুন পৃথিবী (২ পি ৩:১৩) দেখা দেবে, তখন তা-ই ঘটবে, সেই একই নবী যা অন্যত্র বলেছিলেন: চাঁদের আলো সূর্যের আলোর মত হবে, আর সূর্যের আলো সাতগুণ বেশি হবে—সাত দিনের আলোরই সমান হবে (ইসা ৩০:২৬ ভুলগাতা)।
নভোমণ্ডলের পরাক্রমগুলো আলোড়িত হবে। স্বরূপ ও বুদ্ধির দিক দিয়ে পার্থিব মানুষ যে এ বিচারের কথা শুনে অস্থির হয়ে ওঠে তা স্বাভাবিক, বিশেষভাবে যখন একথা চিন্তা করি যে, সেই দিনের আবির্ভাবে স্বর্গীয় পরাক্রমবৃন্দও তথা স্বর্গবাহিনীও বিচলিত হবেন, ধন্য যোব যেভাবে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন: গগনতলের স্তম্ভগুলো কম্পিত হয়, তাঁর ভর্ৎসনায় চমকে ওঠে (যোব ২৬:১১)। আর যখন স্তম্ভগুলো কাঁপে, তখন স্তম্ভগুলোর যত অলঙ্কারের কী পরিণাম হবে? যখন পরমদেশের এরসগাছ কম্পান্বিত, তখন প্রান্তরের ঘাসের কী দশা হবে?
তিনি দূতদের প্রেরণ করবেন, আর তাঁরা পৃথিবীর শেষ প্রান্ত থেকে আকাশের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত চারদিক থেকেই তাঁর মনোনীতদের জড় করবেন। তাই যেদিন প্রভু মেঘবাহনে বিচার করতে আসবেন, সেদিনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবে না এমন কোন মনোনীতজন থাকবে না—তেমন মনোনীতজন সশরীরে জীবিত অবস্থায় হোক বা মৃত্যু থেকে জীবনে পুনরুত্থিত অবস্থায় হোক। সেই বিচারে দুর্জনেরাও এসে উপস্থিত হবে, আর তারাও কেউ কেউ সশরীরে জীবিত অবস্থায়, অন্য কেউ মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত অবস্থায়; কিন্তু যারা প্রভুর আনন্দ পাবার জন্য একত্র হবে, সেই ধার্মিকদের বৈষম্যে তাঁর শত্রুরা বিচার-শেষে বিক্ষিপ্ত হবে ও ঈশ্বরের দৃষ্টি থেকে নিশ্চিহ্ন হবে (সাম ৬৮:২-৩ দ্রঃ)।
ডুমুরগাছের কথাই উপমা হিসাবে ধর: যখন তার শাখা কোমল হয়ে পাতা বের করে, তখন তোমরা বুঝতে পার, গ্রীষ্মকাল কাছে এসে গেছে; তেমনি তোমরা ওই সকল ঘটনা দেখলেই বুঝবে, তিনি কাছে এসে গেছেন, এমনকি, তিনি দরজায়ই উপস্থিত। গাছের দৃষ্টান্তের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের শেখান, শেষদিন কবে আসবে। যেমন যখন ডুমুরগাছের শাখা কোমল হলে অঙ্কুরটা ফুলে উন্মোচিত হয় ও শাখা পল্লবে ভরে ওঠে তখন তোমরা বুঝতে পার গ্রীষ্মকাল সন্নিকট ও বসন্তকাল ফুরিয়ে যাচ্ছে, তেমনি উল্লিখিত সমস্ত ঘটনা দেখলেই তোমাদের মনে করতে নেই জগতের বিলুপ্তি এসে গেছে, কিন্তু এ বুঝবে যে, এমন লক্ষণ ও চিহ্ন দেখা দিচ্ছে (মথি ২৪:৩৩ দ্রঃ) যাতে জানতে পারি শেষদিন সন্নিকট।
কিন্তু ডুমুরগাছের এ ফুল ফোটার ব্যাপার রহস্যময় অর্থ অনুসারে আরও গভীরতর ভাবে ধরে নেওয়া যেতে পারে, অর্থাৎ সেই সমাজগৃহকে লক্ষ করতে পারে, যে সমাজগৃহ যখন প্রভু তার কাছে এলেন তখন তার ধর্মময়তার ফল না থাকায় তাদেরই মধ্যে অনন্ত অনুর্বরতায় দণ্ডিত হল যারা সেসময়ে অবিশ্বাসী ছিল (মথি ২১:১৮-১৯; মার্ক ১১:১২-১৪, ২০-২১)। কিন্তু প্রেরিতদূত বললেন, ইস্রায়েলের একটা অংশ কঠিনতার হাতে বসে রয়েছে যতদিন না বিজাতীয়দের পূর্ণ সংখ্যা প্রবেশ করে; তখনই গোটা ইস্রায়েল পরিত্রাণ পাবে (রো ১১:২৫-২৬); সুতরাং, যখন সেই সময় আসবে, যে সময়ে তাদের দীর্ঘকালীন অন্ধতা ঘুচে গেলে সমস্ত ইস্রায়েল আলো ও পরিত্রাণ পাবে, তখনই দীর্ঘ দিন থেকে অনুর্বর এ ডুমুরগাছ যে ফল দিতে অসম্মত ছিল (লুক ১৩:৬-৭ দ্রঃ) সেই ফল উৎপন্ন করবে, ধন্য যোব যেভাবে বলেছেন: গাছেরও একটা আশা আছে, ছিন্ন হলে তা আবার পল্লবিত হবে, তার কোমল শাখা বাড়তে ক্ষান্ত হবে না। যদিও মাটিগর্ভে তার মূল প্রাচীন হয়, যদিও ভূমিতে তার গুঁড়ি মারা যায়, তবু জলের গন্ধ পেলে তা আবার পল্লবিত হয়ে ওঠে, নতুন গাছের মত তাতে নতুন নতুন শাখা ধরে (যোব ১৪:৭-৯)। তুমি যখন দেখতে পাবে এ সমস্ত ঘটছে, তখন আর সন্দেহ করো না, চরম বিচারের দিন ও প্রকৃত শান্তির গ্রীষ্মকাল সত্যি সন্নিকট।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৭৩
ধুয়ো:
পরমেশ্বরের কাছে থাকাই আমার মঙ্গল;
আমি প্রভু পরমেশ্বরেই নিয়েছি আশ্রয়।

যখন অস্থির ছিল আমার মন,
যখন উদ্বিগ্ন ছিল আমার হৃদয়,
তখন আমি অবোধ অজ্ঞ ছিলাম,
তোমার সামনে ছিলাম পশুরই মত।   [ধুয়ো]

আমি কিন্তু নিরন্তর তোমার সঙ্গে আছি,
তুমি আমার ডান হাত ধারণ করে রাখ।
তোমার সুমন্ত্রণা দ্বারা তুমি আমায় চালনা কর,
আর শেষে তোমার আপন গৌরবে আমায় গ্রহণ করবে।   [ধুয়ো]

স্বর্গে আমার জন্য আর কেইবা থাকতে পারে?
তোমার সঙ্গে থেকে এ মর্তে আমার আর কোন বাসনা নেই।
আমার দেহ, আমার হৃদয় নিঃশেষিতও হতে পারে,
পরমেশ্বরই কিন্তু আমার হৃদয়ের শৈল, আমার স্বত্বাংশ চিরকাল।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার এ পবিত্র উপহার গ্রহণ ক’রে
আমরা বিনীত কণ্ঠে মিনতি জানাই:
তোমার পুত্র নিজের স্মরণার্থে যা সম্পাদন করতে আমাদের আজ্ঞা করেছেন,
তা যেন উজ্জ্বলতর ভক্তিতে ও ভ্রাতৃপ্রেমে সার্থকতা লাভ করে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]