সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
সাধারণকাল
• সাধারণকালের প্রথম সপ্তাহ প্রভুর বাপ্তিস্ম থেকে শুরু হয়।
• পরমপবিত্র ত্রিত্ব পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• খ্রিষ্টের পরমপবিত্র দেহরক্ত পরমপবিত্র ত্রিত্বের পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• পরমারাধ্য যিশুহৃদয় পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী দ্বিতীয় রবিবারের পরবর্তী শুক্রবারে পালিত হয়।
• বিশ্বরাজ আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট সাধারণকালের শেষ রবিবারে পালিত হয়।

রবিবার: ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ৩১ | ৩২ | ৩৩
সাধারণকালের মহাপর্বচতুষ্টয়: ত্রিত্ব | খ্রিষ্টের দেহরক্ত | যিশুহৃদয় | খ্রিষ্টরাজা

২৬শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি তো করুণা ও ক্ষমা দানেই নিজেকে সর্বশক্তিমান বলে প্রকাশ কর;
অনুনয় করি: আমাদের উপর তোমার অনুগ্রহধারা অবিরতই বর্ষণ কর,
আমরা যেন তোমার অঙ্গীকৃত দানের দিকে দ্রুত পদে চলে
তোমার অনুগ্রহে স্বর্গীয় ধন-ঐশ্বর্যের অংশীদার হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী আমোসের পুস্তক থেকে পাঠ (৬:১ক,৪-৭)

ধিক্‌ তাদের, যারা সিয়োনে নিশ্চিন্তেই বসে থাকে,
তাদেরও ধিক্‌, যারা সামারিয়ার পর্বতে নিজেদের নিরাপদ মনে করে।
গজদন্তময় শয্যায় শুয়ে, নিজেদের খাটের উপরে গা ছড়িয়ে
ওরা মেষপালের শাবকদের
ও গোশালায় পুষ্ট করা বাছুরগুলোকে এনে খায়।
সেতারের ঝঙ্কারে জোর গলায় গান করে থাকে,
বাদ্যযন্ত্রে দাউদের সমকক্ষ হয়ে নতুন নতুন সুর বানায়;
বড় বড় পাত্রে আঙুররস পান করে,
সেরা তেল দেহে মাখায়,
কিন্তু যোসেফের দুর্দশার জন্য চিন্তাটুকুও করে না।
এইজন্য এখন তারা নির্বাসিতদের অগ্রভাগে নির্বাসনে চলে যাবে।
হ্যাঁ, দেহলালসদের হর্ষধ্বনি মিলিয়ে গেল।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৪৬
ধুয়ো:
প্রভুর প্রশংসা কর,
আমার প্রাণ!

প্রভু বিশ্বস্ততা বজায় রাখেন চিরকাল ধরে,
অত্যাচারিতের পক্ষে সুবিচার করেন,
ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করেন,
প্রভু কারারুদ্ধকে মুক্ত করেন।   [ধুয়ো]

প্রভু খুলে দেন অন্ধের চোখ,
প্রভু অবনতকে টেনে তোলেন,
প্রভু ধার্মিককে ভালবাসেন,
প্রভু প্রবাসীকে রক্ষা করেন।   [ধুয়ো]

তিনি এতিম ও বিধবাকে সুস্থির রাখেন,
কিন্তু বাঁকা করেন দুর্জনের পথ।
প্রভু রাজত্ব করেন চিরকাল ধরে,
হে সিয়োন, তোমার পরমেশ্বর রাজত্ব করেন যুগে যুগান্তরে।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
তিমথির কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৬:১১-১৬)

তুমি ঈশ্বরের মানুষ বলে এই সবকিছু থেকে দূরে পালাও। ধর্মময়তা, ভক্তি, বিশ্বাস, ভালবাসা, নিষ্ঠা, কোমলতা, এই সমস্তই হোক তোমার লক্ষ্য। বিশ্বাসের শুভ সংগ্রাম বহন কর; সেই অনন্ত জীবন জয় করতে সচেষ্ট থাক, যা পেতে তুমি আহূত হয়েছ ও যার খাতিরে অনেক সাক্ষীর সামনে সেই উত্তম স্বীকারোক্তি উচ্চারণ করেছিলে।
সবকিছুর জীবনদাতা সেই ঈশ্বরের সাক্ষাতে দাঁড়িয়ে, এবং যিনি পোন্তিয় পিলাতের সাক্ষাতে সেই উত্তম স্বীকারোক্তির বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সেই খ্রিষ্টযিশুর সাক্ষাতে আমি তোমাকে এই আদেশ দিচ্ছি: প্রভু যিশুখ্রিষ্টের আবির্ভাবের দিন পর্যন্ত তুমি আজ্ঞাটি কলঙ্কহীন ও অনিন্দনীয় রক্ষা কর; নির্ধারিত সময়ে তিনি নিজেই সেই আবির্ভাব ঘটাবেন, যিনি স্বয়ং ধন্য ও অনন্য ভগবান, রাজার রাজা ও প্রভুর প্রভু, যিনি অমরতার একমাত্র অধিকারী, যিনি অগম্য আলো-নিবাসী, মানুষদের মধ্যে যাঁকে কেউ কখনও দেখতে পায়নি, দেখতেও সক্ষম নয়—তাঁর সম্মান ও চিরকালীন প্রতাপ হোক। আমেন!
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যিশুখ্রিষ্ট ধনবান হয়েও তোমাদের জন্য নিজেকে দরিদ্র করেছিলেন,
যেন তাঁর সেই দরিদ্রতায়ই তোমরা ধনবান হয়ে উঠতে পার।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৬:১৯-৩১)

একদিন যিশু ফরিসিদের বললেন, ‘এক ধনী লোক ছিল, সে দামী রঙিন ক্ষোমের পোশাক পরত, ও প্রতিদিন জাঁকজমকের মধ্যে ভোজসভার আয়োজন করত। তার বাড়ির ফটকের পাশে লাজার নামে এক ভিখারী পড়ে থাকত; তার শরীর ঘায়ে ভরা ছিল, এবং সেই ধনীর টেবিল থেকে খাবারের যে টুকরোগুলো পড়ত, তা খেতে আকাঙ্ক্ষা করত; কুকুরেরা পর্যন্তও এসে তার ঘা চেটে খেত।
একসময় সেই ভিখারী মারা গেল, আর স্বর্গদূতেরা তাকে বয়ে নিয়ে গিয়ে আব্রাহামের কোলে রাখলেন। সেই ধনীও মরল, এবং তাকে কবর দেওয়া হল। পাতালে ভীষণ যন্ত্রণায় আক্রান্ত হয়ে সে চোখ তুলে বহুদূর থেকে আব্রাহামকে ও তাঁর কোলে লাজারকে দেখতে পেল। তাই জোর গলায় বলে উঠল, পিতা আব্রাহাম, আমার প্রতি দয়া করুন, লাজারকে পাঠিয়ে দিন, যেন সে আঙুলের ডগাটুকু জলে ডুবিয়ে আমার জিহ্বা জুড়িয়ে দেয়, কারণ এই আগুনের শিখায় আমি ভীষণ যন্ত্রণা পাচ্ছি। আব্রাহাম বললেন, বৎস, মনে রাখ: তোমার মঙ্গল তুমি জীবনকালেই পেয়েছ, আর লাজার তেমনি অমঙ্গল পেয়েছে; এখন সে এখানে সান্ত্বনা পাচ্ছে, আর তুমি ভীষণ যন্ত্রণায় ভুগছ। তাছাড়া, আমাদের ও তোমাদের মধ্যে বিশাল গহ্বরের ব্যবধান রাখা আছে, তাই যারা এখান থেকে তোমাদের কাছে যেতে চায়, তারা পারে না; আবার ওখান থেকে আমাদের কাছে কেউই পার হয়ে আসতে পারে না।
তখন সে বলল, তবে, পিতা, আমি আপনাকে অনুনয় করি, তাকে আমার পিতার ঘরে পাঠিয়ে দিন, কেননা আমার পাঁচজন ভাই আছে; সে গিয়ে তাদের চেতনা দিক, যেন তারাও এই যন্ত্রণার জায়গায় না আসে। আব্রাহাম বললেন, তাদের তো মোশি ও নবীরা আছেন: তাঁদেরই কথা তারা শুনুক। তখন সে বলল, তা নয়, পিতা আব্রাহাম, কিন্তু মৃতদের মধ্য থেকে যদি কেউ তাদের কাছে যায়, তাহলেই তারা মনপরিবর্তন করবে। তিনি বললেন, তারা যদি মোশি ও নবীদের কথায় কান না দেয়, তাহলে মৃতদের মধ্য থেকে কেউ পুনরুত্থান করলেও সে তাদের মন জয় করতে পারবে না।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
পুরাতন নিয়ম সম্বন্ধে বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

সুসমাচারের কথা শোন, ও দু’টো লোকের কথা ভেবে দেখ: এক ধনী লোক ছিল, সে দামী রঙিন ক্ষোমের পোশাক পরত, ও প্রতিদিন জাঁকজমকের মধ্যে ভোজসভার আয়োজন করত (লুক ১৬:১৯)। যে লোক দামী রঙিন ক্ষোমের পোশাক পরত ও প্রত্যেকদিন আনন্দ-ফুর্তির সঙ্গে ভোজসভার আয়োজন করত, তেমন লোকের সুখ দেখে তুমি প্রবঞ্চিত হয়ো না। সে ছিল গর্বিত ও দুর্জন একটা লোক, তার মন অসারের দিকে ধাবিত ছিল, অসারেরই বাসনা করত। যেদিন তার মৃত্যু হল তার সমস্ত পরিকল্পনাও উড়ে গেল। তার বাড়ির ফটকের পাশে লাজার নামে এক ভিখারী পড়ে থাকত (লুক ১৬:২০)। সুসমাচার ধনীর নাম বলে না, কিন্তু ভিখারীর নাম বলে: সকলের কাছে যে পরিচিত ছিল, ঈশ্বর তার নাম উচ্চারণ করেননি, তারই নাম উচ্চারণ করলেন যে অপরিচিত ছিল। এতে বিস্মিত হয়ো না, কেননা ঈশ্বর সেই নাম উচ্চারণ করলেন, যা তাঁর খাতায় লেখা ছিল। বস্তুত দুর্জনদের বিষয়ে লেখা রয়েছে: জীবনগ্রন্থ থেকে মুছে ফেলা হোক ওদের নাম, ধার্মিকদের সঙ্গে ওরা তালিকাভুক্ত যেন না হয় (সাম ৬৯:২৯)। প্রভুর নামে অপদূতেরা তাঁদের বশীভূত ছিল বলে প্রেরিতদূতেরা যখন ঠিক যেন মহাকর্মের সাধক বা অসাধারণ শক্তির অধিকারী বলে গর্ব করছিলেন, তখন তাঁরা যেন অন্যদের মত গর্বে স্ফীত না হন এজন্য খ্রিষ্ট বলেছিলেন, অপদূতেরা যে তোমাদের বশীভূত হয়, এতে আনন্দ করো না, এতেই বরং আনন্দ কর যে, তোমাদের নাম স্বর্গে লেখা আছে (লুক ১০:২০)।
তাই স্বর্গ যাঁর আবাস, ধনী লোকের নাম স্বর্গে পাননি বিধায় সেই ঈশ্বর তার নাম উচ্চারণ করেননি, আর যার নাম পেলেন, এমনকি যার নাম স্বর্গে লিপিবদ্ধ করতে আদেশ করলেন, তিনি সেই ভিখারীর নাম উচ্চারণ করলেন।
এখন কিন্তু সেই ভিখারীর কথা ধরি। এতক্ষণে আমরা সেই ধনী লোকের ভাবের কথা বলে এসেছি, যে ধনী বেগুনে কাপড় ও সূক্ষ্ম পোশাক পরত ও প্রত্যেকদিন ঘটা করে ভোজের আয়োজন করত: আমরা দেখেছি, যেদিন সে মারা গেল, তার সমস্ত ভাবও উড়ে গেল। সেই ভিখারী লাজার কিন্তু তার ফটকের পাশে পড়ে থাকত: তার শরীর ঘায়ে ভরা ছিল, এবং সেই ধনীর টেবিল থেকে খাবারের যে টুকরোগুলো পড়ত, তা খেতে আকাঙ্ক্ষা করত; কুকুরেরা পর্যন্তও এসে তার ঘা চেটে খেত (লুক ১৬:২০-২১)।
হে খ্রিষ্টভক্ত, আমি এ অবস্থায়ই তোমাকে দেখতে চাই, কারণ সেই দু’জনের পরিণতির কথাও উল্লিখিত। এ জীবনকালে ঈশ্বর খ্রিষ্টভক্তকে সুস্বাস্থ্যও দিতে পারেন, আবার দরিদ্রতাও দিতে পারেন, আবার প্রয়োজনীয় সব কিছু থেকেও তাকে বঞ্চিত করতে পারেন। তেমনটি না ঘটলেও তুমি কিন্তু কী বেছে নিতে? সেই ধনী না সেই ভিখারীর মত হতে বেছে নিতে? নিজেকে প্রবঞ্চিত হতে দিয়ো না: আগে গল্পের সমাপ্তি শোন, তবে বুঝবে কী বেছে নিলে ভুল হবে। কোন সন্দেহ নেই, ধার্মিক হওয়ায় সেই ভিখারী পার্থিব সঙ্কটের মধ্যে থেকে এজীবনের সমাপ্তির আকাঙ্ক্ষা করছিল যেন অনন্ত বিশ্রাম পেতে পারে।
দু’জনেরই মৃত্যু হল, কিন্তু মৃত্যুর দিনে ভিখারীর আকাঙ্ক্ষা উড়ে যায়নি, আর আসলে স্বর্গদূতেরা তাকে নিয়ে আব্রাহামের কোলে বসালেন, আর সেদিন তার সমস্ত আকাঙ্ক্ষা সিদ্ধিলাভ করল। তার প্রাণবায়ু বের হলে সে যখন ফিরে যায় মাটির বুকে, তখন তার সমস্ত প্রকল্প বিলুপ্ত হয় না, কারণ তার পরমেশ্বর প্রভুর উপরেই স্থাপিত তার আশা (সাম ১৪৬:৪, ৫)।
সদ্‌গুরু খ্রিষ্টের কাছে মানুষ এ শিক্ষা পায়, ভক্তপ্রাণ এ-ই প্রত্যাশা করে, এ হল ত্রাণকর্তার সুনিশ্চিত পুরস্কার।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১১৯
ধুয়ো:
স্মরণে রেখো, প্রভু, তোমার এ দাসের কাছে দেওয়া তোমার সেই কথা,
যার উপর তুমি স্থাপন করেছ আমার আশা।

দর্পী মানুষ আমাকে কতই না অবজ্ঞা করে,
আমি কিন্তু সরে যাইনি তোমার বিধান থেকে।
অতীতকালের তোমার সুবিচার সকল স্মরণে রাখি,
প্রভু, এতেই সান্ত্বনা পাই।   [ধুয়ো]

যারা পরিত্যাগ করে তোমার বিধান,
সেই দুর্জনদের বিরুদ্ধে রোষ ধরেছে আমায়।
আমার এ নির্বাসনের দেশে
তোমার বিধিমালা আমার কাছে সঙ্গীত যেন।   [ধুয়ো]

রাতে তোমার নাম স্মরণ করি, প্রভু,
আমি মেনে চলি তোমার বিধান।
তোমার আদেশমালা পালন করা:
এটিই সাধনা আমার।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এই স্বর্গীয় সাক্রামেন্ত আমাদের জন্য হয়ে উঠুক দেহমনের যথার্থ প্রতিকার:
খ্রিষ্টের মৃত্যু ঘোষণা ক’রে আমরা যেমন তাঁর সঙ্গে যন্ত্রণায় মিলিত হয়েছি,
তেমনি যেন তাঁর স্বর্গীয় গৌরবেরও অংশীদার হতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৭শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, আমাদের প্রার্থনায় তোমার সাড়া
আমাদের প্রত্যাশার অতীত, আমাদের যোগ্যতারও অতীত। আমাদের উপর
তোমার করুণা বর্ষণ কর: আমাদের বিবেক যা ভয় করে, তা দূর করে দাও;
আমাদের যা মিনতি করার সাহসও নেই, তা মঞ্জুর কর।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী হাবাকুকের পুস্তক থেকে পাঠ (১:২-৩; ২:২-৪)

প্রভু, কতকাল আমি সাহায্যের জন্য ডাকব আর তুমি শুনবে না?
কতকাল তোমার কানে আমি চিৎকার করব, ‘উৎপীড়ন!’
আর তুমি ত্রাণ করবে না?
কেন তুমি আমাকে দুষ্কর্ম দেখাচ্ছ,
কেন অত্যাচারের দিকে তাকিয়ে থাকছ?
আমার চোখের সামনে শুধু লুটপাট ও উৎপীড়ন;
বিচার হলে হুমকিই বিজয়ী।
তখন প্রভু উত্তর দিয়ে আমাকে বললেন,
‘এই দর্শনের কথা লেখ,
লিপিফলকে তা স্পষ্ট অক্ষরে লেখ,
পাঠক যেন অনায়াসে তা পড়তে পারে।
কারণ এই দর্শন একটা নিরূপিত কাল লক্ষ করে,
তা সিদ্ধিলাভের আকাঙ্ক্ষা করে,
কোন মিথ্যা বলবে না;
দেরি করলেও তুমি তার প্রতীক্ষায় থাক,
কারণ তার আগমন আবশ্যক, তত দেরি করবে না।’
দেখ, যার অন্তর সরল নয়, তার প্রাণের পতন হবে,
কিন্তু যে ধার্মিক, সে তার বিশ্বস্ততা গুণে বাঁচবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯৫
ধুয়ো:
তোমরা যদি আজ তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে!
‘হৃদয় কঠিন করো না।’

এসো, প্রভুর উদ্দেশে সানন্দে চিৎকার করি,
আমাদের ত্রাণশৈলের উদ্দেশে তুলি জয়ধ্বনি।
চল, ধন্যবাদগীতি গেয়ে তাঁর সম্মুখে যাই,
বাদ্যের ঝঙ্কারে তাঁর উদ্দেশে তুলি জয়ধ্বনি।   [ধুয়ো]

এসো, প্রণত হই; এসো, প্রণিপাত করি,
আমাদের নির্মাণকর্তা প্রভুর সম্মুখে করি জানুপাত,
তিনি যে আমাদের পরমেশ্বর,
আর আমরা তাঁর চারণভূমির জনগণ, তাঁর হাতের মেষপাল।   [ধুয়ো]

তোমরা যদি আজ তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে! ‘হৃদয় কঠিন করো না,
যেমনটি ঘটল মেরিবায় ও সেইদিন মাস্সায় সেই মরুদেশে;
সেখানে তোমাদের পিতৃপুরুষেরা আমায় যাচাই করল,
আমার কাজ দেখেও আমায় পরীক্ষা করল।’   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
তিমথির কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (১:৬-৮,১৩-১৪)

প্রিয়তম সন্তান, আমি তোমাকে একথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমার হস্তার্পণের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের যে অনুগ্রহদান তোমার অন্তরে আছে, তা উদ্দীপ্ত করে তোল; কেননা ঈশ্বর আমাদের ভীরুতার আত্মাকে দেননি, পরাক্রম, ভালবাসা ও সুবুদ্ধিরই আত্মাকে দিয়েছেন।
সুতরাং আমাদের প্রভুর পক্ষে যে সাক্ষ্য তোমাকে দিতে হয়, তার বিষয়ে, বা তাঁর জন্য কারারুদ্ধ এই আমারও বিষয়ে কখনও লজ্জাবোধ করো না, বরং ঈশ্বরের পরাক্রমের উপরে নির্ভর ক’রে আমার সঙ্গে তুমিও সুসমাচারের জন্য দুঃখকষ্ট বরণ কর।
তুমি আমার কাছে যে সমস্ত যথার্থ বাণী শুনেছ, খ্রিষ্টযিশুতে আশ্রিত বিশ্বাস ও ভালবাসার সঙ্গে সেই সমস্ত বাণীকেই আদর্শ বলে ধারণ কর। মূল্যবান যা কিছু তোমার কাছে গচ্ছিত রাখা হয়েছে, আমাদের অন্তরে নিবাসী পবিত্র আত্মার সাহায্যে তা রক্ষা কর।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
প্রভুর বাণী চিরস্থায়ী। আর এই বাণী হল সেই শুভসংবাদ,
যা তোমাদের জানানো হয়েছে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৭:৫-১০)

একদিন প্রেরিতদূতেরা প্রভুকে বললেন, ‘আমাদের বিশ্বাস বৃদ্ধি করুন।’ প্রভু বললেন, ‘একটা সর্ষে-দানার মত বিশ্বাস যদি তোমাদের থাকত, তবে তোমরা এই তুঁত গাছটাকে বলতে পারতে, সমূলে উপড়ে গিয়ে সমুদ্রে নিজেকে বসাও; আর গাছটা তোমাদের কথা মেনে নিত।
তোমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি কে, যার দাস হাল চাষ করে বা মেষ চরিয়ে মাঠ থেকে ঘরে ফিরে এলে সে তাকে বলবে, এসো, এখনই খেতে বস! বরং তাকে কি একথা বলবে না, আমার খাওয়ার ব্যবস্থা কর, এবং কোমর বেঁধে আমার খাবার পরিবেশন কর, তারপর তুমি নিজে খাওয়া-দাওয়া করতে পার। দাস যে তার কথামত কাজ করল, সে কি এজন্য তার প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ দেখাবে?
তেমনি ভাবে তোমাদের যা করতে আদেশ করা হয়েছে, তা পালন করার পর তোমরাও বল, আমরা অনুপযোগী দাস মাত্র, যা করতে বাধ্য ছিলাম, তা-ই করলাম।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিন-লিখিত ‘সামসঙ্গীত-মালায় উপদেশ

আমরা যদি কেবল এজীবনেই খ্রিষ্টে প্রত্যাশা করে থাকি, তাহলে সকল মানুষের মধ্যে আমরাই সবচেয়ে দুর্ভাগা (১ করি ১৫:১৯)। এর মানে হল যে অন্য এক জীবনও আছে। প্রত্যেকে নিজ বিশ্বাস বিষয়ে খ্রিষ্টকে প্রশ্ন করুক; বিশ্বাস কিন্তু নিদ্রিত অবস্থায় রয়েছে, ফলে অস্থির: তা কিন্তু স্বাভাবিক, কারণ খ্রিষ্ট নৌকায় নিদ্রাগত। প্রকৃতপক্ষে নৌকায় খ্রিষ্ট ঘুমাচ্ছিলেন, আর নৌকাটা ঝড়ঝঞ্ঝার মধ্যে জলের উপরে আলোড়িত ছিল; সুতরাং যখন খ্রিষ্ট নিদ্রাগত, তখন হৃদয় অস্থির; কিন্তু তবু খ্রিষ্ট নিত্যই জাগ্রত, তবে তিনি যে নিদ্রাগত এর অর্থ কী? আসলে তোমার বিশ্বাসই নিদ্রাগত। কেন তুমি এখনও সন্দেহের ঝড়ঝঞ্ঝায় আলোড়িত? খ্রিষ্টকে জাগাও, নিজ বিশ্বাস জাগাও: বিশ্বাসের চোখে সেই ভাবী জীবন দেখ, যে ভাবী জীবনের উদ্দেশেই তুমি বিশ্বাস করেছিলে, যার জন্য তাঁর দ্বারা মুদ্রাঙ্কনে চিহ্নিতও হয়েছিলে।
তিনি এজীবন যাপন করলেন যাতে তোমাকে দেখাতে পারেন, তুমি যা ভালবাসছিলে তা কতই না তুচ্ছ ছিল, ও তুমি যা প্রত্যাশা করছিলে না, তা কতই না প্রত্যাশার যোগ্য। অতএব, তুমি যদি বিশ্বাস জাগাও ও চরম বিষয়গুলিতে তথা সেই ভাবী যুগের আনন্দেই চোখ নিবদ্ধ রাখ যা আমরা প্রভুর পুনরাগমনের পরে ও তাঁর বিচারের পরে তখনই ভোগ করব যখন স্বর্গরাজ্য পুণ্যজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে; তুমি যদি তোমার মন সেই জীবন ও সেই শান্তিপূর্ণ কর্মের দিকে আকর্ষণ কর যা সেখানে সাধিত, তবেই, হে প্রিয়জন, আমাদের পরিশ্রম অস্থিরতাযুক্ত হবে না, বরং আমাদের কর্ম অনন্য মাধুর্যে উপচে পড়বে, তাতে বিরক্তিকর কিছু থাকবে না, কোন শ্রান্তি তা নষ্ট করবে না, কোন মেঘ তা অস্থির করবে না। সেসময়ে আমাদের কর্ম কী হবে? ঈশ্বরের প্রশংসাগান: তাঁকে ভালবাসা ও তাঁর প্রশংসাগান করা—ভাল বাসতে বাসতে তাঁর প্রশংসাগান করা ও প্রশংসাগান করতে করতে তাঁকে ভালবাসা। সুখী তারা, যারা বাস করে তোমার গৃহে, তারা তোমার প্রশংসা নিত্যই করে থাকে (সাম ৮৪:৫)।
তারা তোমাকে চিরকালের মত ভালবাসবে, এ কারণে ছাড়া কোন্‌ কারণেই বা তারা সুখী? তোমাকে চিরকালের মত দেখতে পাবে, এ কারণে ছাড়া কোন্‌ কারণেই বা তারা সুখী? তাই, হে আমার ভাইবোনেরা, ঈশ্বরের দর্শন কেমন অপরূপ দৃশ্য! ভাইবোনেরা, আমরা যদি এ জীবনে এমন নিত্য বাসনা রাখি যেন তাঁর আপন সম্পদ হতে পারি, ও শেষ পর্যন্ত তেমন বাসনায় নিষ্ঠাবান থাকি, তাহলে সেই দর্শন পাব ও আনন্দে পরিপূর্ণ হব। উপরন্তু আমরা সকলে সেই নগরীর বাসিন্দা হব, আর সেই নগরীতে বিপ্লবী বা চঞ্চল কোন ব্যক্তি স্থান পেতে পারবে না।
আর সেই শত্রু যে এখানে আমাদের পথে বাধা দিয়ে থাকে আমরা যেন সেই মাতৃভূমিতে না পৌঁছি, সেখানে সেই শত্রু আর কারও বিঘ্ন ঘটাতে পারে না, কারণ সেখানে প্রবেশ করাও তার নিষেধ! কেননা যখন সে এ বর্তমানকালেও বিশ্বাসীদের হৃদয় থেকে বহিষ্কৃত, তখন কেমন করে জীবিতের নগরী থেকে বহিষ্কৃত হবে না?
ভাইবোনেরা, তোমাদের জিজ্ঞাসা করছি, যখন সেই নগরীর কথা বলা এত আনন্দ যোগায়, তখন সেই নগরীতে বসবাস করা কেমন হবে? সুতরাং এ ভাবী জীবনের জন্য হৃদয় সজ্জিত করা দরকার; যে কেউ সেই জীবনের জন্য হৃদয় সজ্জিত করে, সে এ জীবন সম্পূর্ণরূপে তুচ্ছ করে; আর এ জীবন তুচ্ছ করার ফলে সে গভীর নিশ্চয়তার সঙ্গেই সেই দিনের অপেক্ষা করে থাকবে, যে দিনটি—প্রভুর বাণী অনুসারে—আমরা ভয়ের মধ্যে অপেক্ষা করতে আহূত।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩১
ধুয়ো:
প্রভুর উপরে যে আশা রাখে, যে প্রাণ তাঁর অন্বেষণ করে,
তার পক্ষে প্রভুই মঙ্গল।

কতই না মহান তোমার সেই মঙ্গলময়তা, প্রভু,
যা তাদের জন্য তুমি সঞ্চিত রাখ যারা ভয় করে তোমায়,
যা আদমসন্তানদের দৃষ্টিগোচরে
তুমি তোমার আশ্রিতজনকে মঞ্জুর কর।   [ধুয়ো]

মানুষের চক্রান্ত থেকে তুমি আপন শ্রীমুখের নিভৃতে তাদের লুকিয়ে রাখ,
জিভের আক্রমণ থেকে তুমি আপন কুটিরেই তাদের নিরাপদে রাখ।
ধন্য প্রভু! সুরক্ষিত নগরে আমার জন্য
তিনি সাধন করলেন তাঁর কৃপার আশ্চর্য কীর্তি।   [ধুয়ো]

বিহ্বল হয়ে আমি বলেছিলাম,
‘তোমার দৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন আমি,’
তবু যখন তোমার কাছে চিৎকার করলাম,
তুমি তখন শুনলে আমার মিনতির কণ্ঠ।   [ধুয়ো]

প্রভুকে ভালবাস, তাঁর ভক্তজন সবাই, প্রভু আপন বিশ্বস্তদের রক্ষা করেন,
কিন্তু অহঙ্কারীর উপর অপর্যাপ্ত প্রতিফল দেন।
শক্ত হও, অন্তর দৃঢ় করে তোল তোমরা,
তোমরা সকলে, যারা প্রভুর প্রত্যাশায় আছ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর:
এ সাক্রামেন্ত গ্রহণের ফলে যেন আমাদের ক্ষুধা ও পিপাসা মিটে যায়:
যাঁকে গ্রহণ করেছি, আমরা যেন সেই খ্রিষ্টে রূপান্তরিত হতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৮শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার অনুগ্রহ আমাদের যত কর্মের সূচনা উদ্দীপিত করুক,
তোমার অনুগ্রহ সেই কর্মের সমাপ্তি আশিসমণ্ডিত করুক,
তোমার অনুগ্রহ শুভকর্ম সম্পাদনে আমাদের চিরতৎপর করে তুলুক।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
রাজাবলির দ্বিতীয় পুস্তক থেকে পাঠ (৫:১৪-১৭)

সেসময়ে [আরাম-রাজের বাহিনীর প্রধান] সেই নামান [যিনি সংক্রামক চর্মরোগে আক্রান্ত ছিলেন,] পরমেশ্বরের মানুষ [এলিসেয়ের] বাণীমত যর্দনের ধারে নেমে গিয়ে সাতবার ডুব দিলেন, আর তাঁর গায়ের চামড়া আবার একটি ক্ষুদ্র বালকের চামড়ার মত হয়ে উঠল—তিনি শুচি ছিলেন!
তিনি তাঁর অনুগামীদের সমস্ত দল নিয়ে পরমেশ্বরের মানুষের কাছে ফিরে ঘরের ভিতরে গেলেন; তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘এবার আমি জানতে পেরেছি, কেবল ইস্রায়েলে ছাড়া সারা পৃথিবীতে আর কোথাও ঈশ্বর নেই! এখন, দয়া ক’রে, আপনি আপনার এই দাসের হাত থেকে কিছু উপহার গ্রহণ করে নিন।’ কিন্তু এলিসেয় বলে উঠলেন, ‘আমি যাঁর সাক্ষাতে দাঁড়িয়ে আছি, সেই জীবনময় প্রভুর দিব্যি! আমি কিছুই গ্রহণ করে নেব না।’ নামান তা গ্রহণ করে নিতে সাধাসাধি করছিলেন, তবু এলিসেয় তা নিতে রাজি হলেন না।
তখন নামান বললেন, ‘যখন আপনি বলছেন “না,” তখন অন্তত এমনটি দেওয়া হোক, যেন আপনার এই দাস এই দেশের কিছুটা মাটি নিয়ে যেতে পারে—দু’টো খচ্চর যতটা বইতে পারে, ততটা। কেননা আজ থেকে আপনার এই দাস প্রভুর উদ্দেশে ছাড়া অন্য কোন দেবতার উদ্দেশে কোন আহুতি বা যজ্ঞবলি আর কখনও উৎসর্গ করবে না।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯৮
ধুয়ো:
প্রভু জাতি-বিজাতির চোখের সামনে
আপন পরিত্রাণ করেছেন প্রকাশ।

প্রভুর উদ্দেশে গাও নতুন গান,
তিনি যে সাধন করেছেন কত আশ্চর্য কাজ।
আপন ডান হাত ও পবিত্র বাহু দ্বারা
তিনি করেছেন জয়লাভ।   [ধুয়ো]

প্রভু জ্ঞাত করেছেন আপন পরিত্রাণ,
জাতি-বিজাতির চোখের সামনে আপন ধর্মময়তা করেছেন প্রকাশ,
ইস্রায়েলকুলের প্রতি
আপন কৃপা ও বিশ্বস্ততা করেছেন স্মরণ।   [ধুয়ো]

পৃথিবীর সকল প্রান্ত
দেখেছে আমাদের পরমেশ্বরের পরিত্রাণ।
সমগ্র পৃথিবী, প্রভুর উদ্দেশে জাগিয়ে তোল জয়ধ্বনি,
আনন্দে ফেটে পড়, চিৎকার কর, কর গান।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
তিমথির কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (২:৮-১৩)

প্রিয়তম সন্তান, মনে রেখ যে দাউদের বংশধর যিশুখ্রিষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন—আমার প্রচারিত সুসমাচার অনুসারে। আর এই সুসমাচারের কারণেই আমি দুঃখকষ্ট ভোগ করছি, এমনকি, একটা অপকর্মার মত এই শেকলাবদ্ধ অবস্থায় আছি। কিন্তু ঈশ্বরের বাণী শেকলে আবদ্ধ করা যায় না।
এজন্য মনোনীতজনদের খাতিরে আমি সবকিছুই সহ্য করি যেন তারাও চিরস্থায়ী গৌরবের সঙ্গে খ্রিষ্টযিশুতে আশ্রিত পরিত্রাণও লাভ করে।
একথা বিশ্বাস্য যে,
আমরা যদি তাঁর সঙ্গে মরি, তবে জীবিতও থাকব তাঁর সঙ্গে;
যদি কষ্ট সহ্য করি, তবে রাজত্বও করব তাঁর সঙ্গে;
যদি তাঁকে অস্বীকার করি, তবে তিনিও আমাদের অস্বীকার করবেন;
যদি অবিশ্বস্ত হই, তবু তিনি বিশ্বস্ত থাকেন,
কারণ তিনি নিজেকে অস্বীকার করতে পারেন না।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
সবকিছুতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন কর:
খ্রিষ্টযিশুতে এই তো তোমাদের জন্য ঈশ্বরের ইচ্ছা।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৭:১১-১৯)

যেরুসালেমের দিকে তাঁর সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার সময়ে যিশু সামারিয়া ও গালিলেয়ার সীমানা-পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি একটা গ্রামে প্রবেশ করছেন, এমন সময়ে সংক্রামক চর্মরোগে আক্রান্ত দশজন লোক তাঁকে দেখা করতে সামনে এসে পড়ল; দূরে দাঁড়িয়ে তারা জোর গলায় বলতে লাগল, ‘যিশু, গুরুদেব, আমাদের প্রতি দয়া করুন!’ তাদের দেখে তিনি বললেন, ‘যাও, যাজকদের কাছে গিয়ে নিজেদের দেখাও।’ আর যাওয়ার পথে তারা শুচীকৃত হল।
তখন তাদের একজন নিজেকে সুস্থ দেখে জোর গলায় ঈশ্বরের গৌরবকীর্তন করতে করতে ফিরে এল, এবং যিশুর পায়ে লুটিয়ে পড়ে তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে লাগল: লোকটি ছিল সামারীয়।
তাই যিশু বললেন, ‘দশজনেই কি শুচীকৃত হয়নি? তবে অপর ন’জন কোথায়? এই বিজাতীয় লোকটি ছাড়া আর এমন কাউকেই কি পাওয়া গেল না যে, ঈশ্বরের গৌরবকীর্তন করার জন্য ফিরে আসবে?’ তখন তিনি তাকে বললেন, ‘ওঠ, এখন যাও; তোমার বিশ্বাস তোমার পরিত্রাণ সাধন করেছে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
লুক-রচিত সুসমাচারে সিগ্নির বিশপ সাধু ব্রুনোর ব্যাখ্যা

যেরুসালেমের দিকে তাঁর সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার সময়ে যিশু সামারিয়া ও গালিলেয়ার সীমানা-পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি একটা গ্রামে প্রবেশ করছেন, এমন সময়ে দশজন কুষ্ঠরোগী তাঁকে দেখা করতে সামনে এসে পড়ল (লুক ১৭:১১-১২)।
দশজন কুষ্ঠরোগী বলতে সকল পাপী ছাড়া আর কাদের বোঝাতে পারে? বাস্তবিকই যিশুর আগমনে সকল মানুষ আত্মায় কুষ্ঠরোগী ছিল; দেহে সকলে নয়। তবু দেহের কুষ্ঠের তুলনায় আত্মার কুষ্ঠই মারাত্মক। যাই হোক, এসো, আমরা পরবর্তী কথা ধরি: দূরে দাঁড়িয়ে তারা জোর গলায় বলতে লাগল, যিশু, প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া করুন (লুক ১৭:১৩)।
তারা দূরে দাঁড়িয়ে থাকল, কারণ তেমন অবস্থায় কাছে যেতে সাহস করছিল না। পাপে আসক্ত থাকায় আমরাও দূরে দাঁড়িয়ে থাকি। তবে যদি আমাদের পাপগুলোর কুষ্ঠ থেকে সুস্থ হতে ইচ্ছা করি, এসো, উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলি: যিশু! প্রভু! আমাদের প্রতি দয়া করুন! কিন্তু মুখ দিয়ে নয়, হৃদয় দিয়েই যেন চিৎকার করি, কারণ হৃদয়ের কণ্ঠ উচ্চতর, হৃদয়ের কণ্ঠ স্বর্গ ভেদ করে ঈশ্বরের উচ্চতম সিংহাসন পর্যন্তই গিয়ে উপস্থিত হয়।
তাদের দেখে যিশু বললেন, যাও, যাজকদের কাছে গিয়ে নিজেদের দেখাও (লুক ১৭:১৪)। বস্তুত ঈশ্বরের পক্ষে দেখা, হল দয়া করা। তিনি তাদের দেখেন, আর সঙ্গে সঙ্গে দয়ায় বিগলিত হন। আদেশ দিলেন, তারা যেন যাজকদের কাছে যায়—যাজকেরা যে তাদের সুস্থ করবে এমন নয়, তারা এমনি রোগীদের সুস্থতা প্রমাণসিদ্ধ করবে।
আর যাওয়ার পথে তারা শুচীকৃত হল (লুক ১৭:১৪)।
একথা শুনে পাপীরা যেন তার গভীর অর্থ মনোযোগের সঙ্গে উপলব্ধি করে। পাপমোচন সাধন করা প্রভুর পক্ষে সহজ; বাস্তবিকই অনেকবার এমনটি ঘটে যে, পাপী যাজকের কাছে এসে পৌঁছবার আগেই তার পাপের ক্ষমা হয়; কেননা যখন মানুষ অনুতাপ করে, তখনই সে শুচীকৃত হয়। যে কোন মুহূর্তে পাপী মন ফেরাবে, সে বাঁচবে, মরবে না। তবু কীভাবে তার মন ফেরানো উচিত, ব্যাপারটা সে যেন ভালোমত বোঝে! প্রভু যা বলেন তা মনোযোগ দিয়ে শোন: তোমরা সমস্ত অন্তর দিয়ে ও উপবাস, ক্রন্দন ও বিলাপ সহ আমার কাছে ফিরে এসো। তোমাদের পোশাক নয়, হৃদয়ই ছিঁড়ে ফেল (যোয়েল ২:১২)। তাহলে যে মন ফেরাতে ইচ্ছা করে, সে অন্তরে, হৃদয়েই যেন মন ফেরায়, কারণ ঈশ্বর ভগ্ন চূর্ণ হৃদয় অবজ্ঞা করেন না।
তখন তাদের একজন নিজেকে সুস্থ দেখে জোর গলায় ঈশ্বরের গৌরবকীর্তন করতে করতে ফিরে এল, এবং যিশুর পায়ে লুটিয়ে পড়ে তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে লাগল: লোকটি ছিল সামারীয় (লুক ১৭:১৫-১৬)। সেই সামারীয় সেই সকলেরই প্রতীক, যারা বাপ্তিস্মের জল দ্বারা ধৌত হয়ে বা তপস্যা দ্বারা সুস্থ হয়ে উঠে শয়তানের আর অনুসরণ করে না, বরং খ্রিষ্টের অনুকরণ করে, তাঁর পিছনে চলে, তাঁর বন্দনা করে, তাঁর আরাধনা করে, তাঁকে ধন্যবাদ জানায় ও পিছটান না দিয়ে তাঁর সেবা করে চলে। তখন যিশু তাকে বললেন, ওঠ, এখন যাও; তোমার বিশ্বাস তোমার পরিত্রাণ সাধন করেছে (লুক ১৭:১৯)। তাই বিশ্বাসের শক্তি সত্যি মহান; প্রেরিতদূতের বাণী অনুসারে, বিনা বিশ্বাসে তাঁর প্রীতির পাত্র হওয়া সম্ভব নয় (হিব্রু ১১:৬)।
আব্রাহাম ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখলেন, এবং তা তাঁর পক্ষে ধর্মময়তা বলে পরিগণিত হল (গা ৩:৬)। অতএব, বিশ্বাস মানুষকে ত্রাণ করে, বিশ্বাস মানুষকে ধর্মময় করে তোলে, বিশ্বাস মানুষকে অন্তরে বাইরে সুস্থ করে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
ধনীরা অভাবগ্রস্ত হয়ে ক্ষুধায় ভুগছে,
কিন্তু প্রভুর অন্বেষীদের নেই কোন মঙ্গলের অভাব।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার মাহাত্ম্য স্বীকার করে আমরা বিনীত কণ্ঠে মিনতি জানাই:
তুমি যখন দেহরক্তের পরমপবিত্র খাদ্য দানে আমাদের পরিপুষ্ট কর,
তখন আমাদের সকলকে তাঁর ঐশস্বরূপের সহভাগী করে তোল।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৯শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর:
আমাদের ইচ্ছা যেন সর্বদাই তোমার ইচ্ছার অনুরূপ হয়,
আমাদের অন্তর যেন নিয়তই তোমার মাহাত্ম্যের সেবায় একাগ্র থাকে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
যাত্রাপুস্তক থেকে পাঠ (১৭:৮-১৩)

সেসময়ে আমালেকীয়েরা এসে রেফিদিমে ইস্রায়েলকে আক্রমণ করল। মোশি যোশুয়াকে বললেন, ‘তুমি আমাদের জন্য লোক বেছে নিয়ে আমালেকীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বেরিয়ে পড়। আগামীকাল আমি পরমেশ্বরের লাঠি হাতে করে পর্বতচূড়ায় দাঁড়াব।’ যোশুয়া মোশির কথামত কাজ করলেন, তিনি আমালেকীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন, আর একই সময়ে মোশি, আরোন ও হুর পর্বতচূড়ায় গিয়ে উঠলেন।
তখন এমনটি ঘটল যে, মোশি যখন হাত তুলে রাখতেন, তখন ইস্রায়েল জয়ী হত, কিন্তু মোশি হাত নামালে আমালেক জয়ী হত। কিন্তু মোশির হাত ভারী হতে লাগল, তাই ওঁরা একটা পাথর এনে তাঁর নিচে রাখলেন, আর তিনি তার উপরে বসলেন; একই সময়ে আরোন ও হুর একজন এক পাশে ও অন্যজন অন্য পাশে তাঁর হাত উচ্চ করে ধরে রাখলেন; এভাবে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাঁর হাত দু’টো স্থির থাকল। যোশুয়া খড়্গের আঘাতে আমালেক ও তার লোকদের পরাজিত করলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১২১
ধুয়ো:
আমাদের সাহায্য সেই প্রভু থেকেই আসে,
আকাশ ও পৃথিবীর নির্মাতা যিনি।

আমি চোখ তুলি গিরিমালার দিকে,
আমার সাহায্য কোথা থেকে আসবে?
আমার সাহায্য সেই প্রভু থেকেই আসবে,
আকাশ ও পৃথিবীর নির্মাতা যিনি।   [ধুয়ো]

তিনি তোমার পা দেবেন না টলমল হতে,
ঘুমিয়ে পড়বেন না কো তোমার রক্ষক।
দেখ, ঘুমিয়ে পড়বেন না, হবেন না নিদ্রামগ্ন
ইস্রায়েলের রক্ষক।   [ধুয়ো]

প্রভুই তোমার রক্ষক, প্রভুই তোমার ছায়া,
তিনি তোমার ডান পাশে দাঁড়ান।
দিনমানের সূর্য কি রাত্রিবেলার চাঁদ,
কিছুই তোমায় আঘাত করবে না।   [ধুয়ো]

প্রভু যত অনিষ্ট থেকে তোমাকে রক্ষা করবেন,
রক্ষা করবেন তোমার প্রাণ।
প্রভু তোমার গমনাগমন রক্ষা করবেন
এখন থেকে চিরকাল ধরে।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
তিমথির কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৩:১৪–৪:২)

প্রিয়তম সন্তান, যা কিছু শিখেছ ও যা কিছু সম্বন্ধে দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়ে উঠেছ, তাতেই স্থিতমূল থাক; তুমি তো জান কাদের কাছে তা শিখেছ! আরও, ছেলেবেলা থেকেই তুমি পবিত্র শাস্ত্রগ্রন্থগুলির সঙ্গে পরিচিত: শাস্ত্রই তোমাকে সেই পরিত্রাণে প্রবুদ্ধ করার পরাক্রমের অধিকারী, যা খ্রিষ্টযিশুতে বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে অর্জনীয়।
কেননা গোটা শাস্ত্রবাণী ঈশ্বরের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত, এবং ধর্মশিক্ষার জন্য, ভুল দেখাবার জন্য, ত্রুটি সংশোধনের জন্য, ও ধর্মময়তায় দীক্ষাদানের জন্য তার উপযোগিতা আছে, যেন ঈশ্বরের মানুষ পূর্ণগঠিত ও সমস্ত শুভকর্মের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে।
ঈশ্বরের সামনে, এবং জীবিত ও মৃতদের যাঁর বিচার করার কথা, সেই খ্রিষ্টযিশুর সামনে, তাঁর আবির্ভাব ও তাঁর রাজ্যের দোহাই দিয়ে আমি তোমাকে এই আদেশ দিচ্ছি: বাণী প্রচার কর, সময়ে অসময়ে প্রচারকাজ জোর দিয়ে করে চল। অনুযোগ কর, তিরস্কার কর, আশ্বাস দান কর, কিন্তু সবসময় সহিষ্ণু হয়ে ও পরকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্য করেই এসব কিছু কর।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
ঈশ্বরের বাণী জীবন্ত ও কার্যকর;
তা হৃদয়ের বাসনা ও ভাবনার সূক্ষ্ম বিচার করে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৮:১-৮)

নিরাশ না হয়ে যে সর্বদাই প্রার্থনা করা উচিত, এপ্রসঙ্গে যিশু একদিন শিষ্যদের কাছে এই উপমা-কাহিনী শোনালেন; বললেন, ‘এক শহরে একজন বিচারক ছিল: সে ঈশ্বরকেও ভয় করত না, মানুষকেও মানত না। একই শহরে এক বিধবাও ছিল: সে তার কাছে এসে বলত, আমার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আমার সুবিচার করুন। বেশ কিছুকাল ধরে বিচারকটা সম্মত হল না; কিন্তু শেষে মনে মনে বলল, যদিও ঈশ্বরকেও ভয় করি না, মানুষকেও মানি না, তবু এই বিধবা আমাকে এতই বিরক্ত করছে যে তার সুবিচার করব, পাছে এ সবসময় এসে আমার মাথা ভেঙে ফেলে।’
প্রভু বলে চললেন, ‘তোমরা তো শুনেছ, সেই অসৎ বিচারক কী বলে। তবে ঈশ্বর কি নিজের সেই মনোনীতদের পক্ষে সুবিচার করবেন না? তারা তো দিনরাত তাঁর কাছে চিৎকার করে থাকে, যদিও তিনি তাদের বহুক্ষণ অপেক্ষা করান।
আমি তোমাদের বলছি, তিনি শীঘ্রই তাদের সুবিচার করবেন। কিন্তু মানবপুত্র যখন আসবেন, তখন কি পৃথিবীতে বিশ্বাস পাবেন?’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
নিসার বিশপ সাধু গ্রেগরির উপদেশ

ঐশবাণী আমাদের কাছে প্রার্থনা সংক্রান্ত এমন শিক্ষা উপস্থাপন করে যে, যারা আগ্রহ ও গভীর প্রচেষ্টার সঙ্গে এই জ্ঞানের অন্বেষণ করে, তেমন শিক্ষার মধ্য দিয়ে বাণী সেই উপযুক্ত শিষ্যদের শেখায় কেমন করে প্রার্থনা দ্বারা ঈশ্বরের মনোযোগ অর্জন করা যায়।
প্রার্থনার মধ্য দিয়ে যে ঈশ্বরের সঙ্গে মিলিত হয় না, সে ঈশ্বর থেকে দূরে সরে যায়। অতএব প্রার্থনা বিষয়ে তোমাদের একথাই সর্বপ্রথমে শেখা উচিত যে, ক্লান্তি না মেনেই প্রার্থনা করতে হবে। প্রার্থনা দ্বারা আমরা ঈশ্বরের সঙ্গে থাকতে কৃতকার্য হই, আর যে ব্যক্তি ঈশ্বরের সঙ্গে আছে, সে শত্রু থেকেই দূরে আছে। প্রার্থনাই শুচিতার নির্ভর ও রক্ষাফলক, ক্রোধের লাগাম, গর্বের প্রশমন ও তার দমন। প্রার্থনাই দেহসংযমের প্রতিপালক, বিশ্বস্ত দাম্পত্য-জীবনের রক্ষা, ধ্যানমগ্নদের প্রত্যাশা, কৃষকদের প্রচুর ফসল, সমুদ্রযাত্রীদের নিরাপত্তা।
প্রার্থনা ও ধন্যবাদ জানাতে জানাতে সারা জীবন ধরেও ঈশ্বরের সঙ্গে সংলাপ করতে থাকলেও, তবুও আমরা তাঁকে উপযুক্তভাবে কৃতজ্ঞতা জানানো থেকে বেশ দূরেই থাকব, ঠিক যেন তাঁকেই ধন্যবাদ জানাতে কল্পনাও করিনি যিনি তত উপকার আমাদের উপর বর্ষণ করে থাকেন!
কালচক্রে তিনটে বিশেষ কাল উপস্থিত: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কাল; তিনটেতেই প্রভু থেকে আগত উপকার প্রতীয়মান। বর্তমানকালের কথা ধর: তিনিই তোমার জীবন; ভবিষ্যৎকালের কথা ধর: তিনিই তোমার প্রত্যাশিত বস্তুর প্রত্যাশা; অতীতকালের কথা ধর: তিনি তোমাকে সৃষ্টি না করলে তোমার অস্তিত্ব পর্যন্তও থাকত না; তোমার জন্মও তাঁর একটি দান।
এবং জন্ম নেওয়ার পর তোমাকে মঙ্গলদানে পরিপূর্ণ করা হয়—প্রেরিতদূত যেভাবে বলেন, তাঁর মধ্যে আমরা জীবন ও গতিমণ্ডিত (প্রেরিত ১৭:২৮)। ভাবী বিষয়ের প্রত্যাশা তাঁর নিজের ক্রিয়াশীল পরাক্রম থেকেই উদ্গত। কিন্তু তোমার হাতে কেবল বর্তমান ক্ষণ রয়েছে। এজন্য তুমি সারা জীবন ধরেও ঈশ্বরকে অবিরত ধন্যবাদ জানাতে থাকলেও তুমি কেবল এ বর্তমান ক্ষণের মতই তোমার কৃতজ্ঞতা-কর্তব্য পালন করতে পার, কারণ ভবিষ্যতে তিনি যে আর কতগুলো উপকার তোমার উপর বর্ষণ করবেন, তা জানবার উপায় তুমি কখনও আবিষ্কার করতে পারবে না। আর এই আমরা, যাদের পক্ষে উপযুক্ত ধন্যবাদ নিবেদন করার সামর্থ্য বেশ দূরের কথা, এই আমরা প্রভুর আমন্ত্রণে সারা দিনটা কেন, দিনের সামান্যও একটা অংশ দিই না বিধায় যতটুকু কৃতজ্ঞতা দেখাতে পারতাম ততটুকুও দেখাই না।
আমার অন্তরে যে ঐশপ্রতিমূর্তি পাপ দরুন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেছিল, সেই ঐশপ্রতিমূর্তি কেইবা তার আদি উজ্জ্বলতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন? পরমদেশ থেকে বিচ্যুত, জীবনবৃক্ষ থেকে বঞ্চিত, ও ঐশঅনুগ্রহ-বিহীন অস্তিত্বের গহ্বরে পতিত এই আমাকে কেইবা আদি সুখে পুনর্চালিত করেন? শাস্ত্রে বলে: এবিষয়ে কেউই চিন্তাটুকুও করে না (যেরে ১২:১১)। এবিষয়ে যদি একটু মন দিতাম, তবে আমাদের জীবনের সমস্ত দিন ধরেই আমরা অবিরত ও নিত্য ধন্যবাদ-অর্ঘ্য নিবেদন করতাম; অপরদিকে প্রায় গোটা মানবসমাজ কেবল জড় বিষয়ের চিন্তায়ই বসে থাকে।
সাড়া পাবার জন্য কতগুলো কথা ব্যবহার করা উচিত, এ বিষয়ে সুসমাচারের এমন বচন রয়েছে, যা আমার মতে ব্যাখ্যার যোগ্য; কেননা একথা স্পষ্ট যে, আমরা একটি যাচনা উপস্থাপন করার উপযুক্ত নিয়ম যদি শিখতে পারি, তাহলে যা বাসনা করি তা পেতে পারব। তবে এশিক্ষা কী? যিশু বললেন, প্রার্থনাকালে তোমরা অযথা বেশি কথা বলো না, যেমনটি বিজাতিরা করে থাকে, কেননা তারা মনে করে, বহু কথার জোরেই তাদের প্রার্থনা গ্রাহ্য হবে (মথি ৬:৭)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৩
ধুয়ো:
দেখ, প্রভুর চোখ নিবদ্ধ তাদেরই প্রতি,
যারা তাঁকে ভয় করে, যারা তাঁর কৃপার প্রত্যাশায় থাকে।

সুখী সেই দেশ,
প্রভুই যার আপন পরমেশ্বর;
সুখী সেই জাতি,
যাকে তিনি বেছে নিলেন আপন উত্তরাধিকার রূপে।   [ধুয়ো]

প্রভু স্বর্গ থেকে তাকিয়ে সকল আদমসন্তানকে দেখেন,
নিজ বাসস্থান থেকে সকল মর্তবাসীর দিকে লক্ষ করেন;
তিনিই তো গড়েছেন এক একজনেরই হৃদয়,
তিনিই তো বোঝেন তাদের সকল কাজ।   [ধুয়ো]

আপন সুবিপুল বাহিনীগুণে রাজা পান না কো পরিত্রাণ,
আপন মহাপ্রতাপে যোদ্ধাও উদ্ধার পায় না,
অশ্বও তো ত্রাণের জন্য বৃথা আশা,
তার প্রবল শক্তিবলেও সে নিষ্কৃতি দিতে পারে না।   [ধুয়ো]

কিন্তু দেখ, প্রভুর চোখ নিবদ্ধ তাদেরই প্রতি,
যারা তাঁকে ভয় করে, যারা তাঁর কৃপার প্রত্যাশায় থাকে,
তিনি মৃত্যু থেকে তাদের প্রাণ উদ্ধার করবেন,
তাদের বাঁচিয়ে রাখবেন দুর্ভিক্ষের দিনে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আশীর্বাদ কর: স্বর্গীয় বিষয়ের দৈনন্দিন সহভাগিতার ফলে
আমরা যেন এ বর্তমান জীবনে উপকৃত হই,
ভাবী মঙ্গলদান পাবার আশায়ও যেন দৃঢ় নিশ্চয়তা লাভ করি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩০শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর,
গভীরতর করে তোল আমাদের বিশ্বাস আশা ও ভালবাসা:
আশীর্বাদ কর: তুমি যা আজ্ঞা কর, আমরা যেন তা ভালবাসি,
যাতে যা দান করবে বলে তুমি প্রতিশ্রুত, আমরা তা পাবার যোগ্য হয়ে উঠি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
বেন-সিরা পুস্তক থেকে পাঠ লাতিন (৩৫:১৫খ-১৭,২০-২২ক)

প্রভু এমন বিচারক,
কারও প্রতি যাঁর কোন পক্ষপাত নেই।
দরিদ্রের বিরুদ্ধে তিনি কারও পক্ষপাতী নন,
এমনকি, অত্যাচারিতের প্রার্থনাই তিনি শোনেন।
তিনি এতিমের মিনতি অবহেলা করেন না,
বিধবার মিনতিও নয়, সে যখন তার মনের দুঃখ উজাড় করে দেয়।
সদিচ্ছার সঙ্গে যে কেউ ঈশ্বরের সেবা করে,
সে গ্রহণযোগ্য হবে,
তার প্রার্থনা মেঘলোকের নাগাল পাবে।
বিনম্রদের প্রার্থনা মেঘলোক ভেদ করে এগিয়ে যায়,
যতক্ষণ না এসে পৌঁছে,
ততক্ষণ সেই প্রার্থনা কোন সান্ত্বনা মানে না;
না, পরাৎপর লক্ষ না করা পর্যন্ত,
ধার্মিকদের যোগ্যতা প্রমাণিত ক’রে
তিনি ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত
সেই প্রার্থনা ক্ষান্ত হবে না।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩৪
ধুয়ো:
দীনহীন ডাকে,
প্রভু শোনেন।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

প্রভুর মুখ অপকর্মাদের প্রতিকূল
পৃথিবী থেকে তাদের স্মৃতি উচ্ছেদ করার জন্য।
দীনহীনেরা চিৎকার করে, প্রভু শোনেন,
তাদের সকল সঙ্কট থেকে তাদের উদ্ধার করেন।   [ধুয়ো]

যারা ভগ্নহৃদয়, প্রভু তাদের কাছে কাছে থাকেন,
যাদের আত্মা বিচূর্ণ, তিনি তাদের পরিত্রাণ করেন।
প্রভু তাঁর আপন দাসদের প্রাণমুক্তি সাধন করেন;
তাঁর আশ্রিতজন কেউই দণ্ডিত হবে না।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
তিমথির কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৪:৬-৮,১৬-১৮)

প্রিয়তম সন্তান, আমার বেলায়, আমার রক্ত তো এর মধ্যে পানীয়-নৈবেদ্য রূপে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে, এবং আমার বিদায়ের সময় এসে গেছে। আমি শুভসংগ্রামে সংগ্রাম করেছি, নির্দিষ্ট দৌড়ের গন্তব্যস্থানে পৌঁছেছি, বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখেছি। এখন আমার জন্য কেবল সেই ধর্মময়তার মুকুটই বাকি রয়েছে, যা প্রভু, সেই ধর্মময় বিচারকর্তা, সেই দিনটিতে আমাকে দেবেন—আমাকে শুধু নয়, সেই সকলকেও দেবেন, যারা তাঁর আবির্ভাবের ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষা করছে।
আমার প্রথম পক্ষসমর্থনের সময়ে আমাকে সহায়তা করতে কেউই এগিয়ে আসেনি; সকলেই আমাকে ত্যাগ করেছে; ওদের এই দোষ গণ্য করা না হোক। কিন্তু তবু প্রভুই আমার পাশে দাঁড়ালেন এবং আমার অন্তরে পরাক্রম যোগালেন, যার ফলে সেদিন আমার মধ্য দিয়ে বাণী-ঘোষণা সম্পূর্ণরূপে সাধিত হল এবং বিজাতীয়রা সকলে তা শুনতে পেল, আর আমি সিংহের মুখ থেকে নিস্তার পেলাম।
প্রভু সমস্ত অনিষ্ট থেকে আমাকে নিস্তার করবেন এবং তাঁর স্বর্গীয় রাজ্যের জন্য আমাকে নিরাপদে রাখবেন। তাঁর গৌরব হোক চিরদিন চিরকাল। আমেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
ঈশ্বর খ্রিষ্টে নিজের সঙ্গে জগতের পুনর্মিলন সাধন করলেন;
সেই পুনর্মিলনের বাণী আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৮:৯-১৪)

যারা নিজেদের উপর নির্ভর করে মনে করত যে, তারাই ধার্মিক, ও অন্য সকলকে তুচ্ছ জ্ঞান করত, এমন কয়েকজনকে উদ্দেশ করে যিশু এই উপমা-কাহিনী শোনালেন। ‘দু’জন লোক প্রার্থনা করতে মন্দিরে গেল: একজন ফরিসি, আর একজন কর-আদায়কারী।
ফরিসি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে মনে মনে এভাবেই প্রার্থনা করছিলেন, ঈশ্বর, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাই যে, আমি অন্য সকল লোকের মত নই—ওরা যে চোর, অসৎ, ব্যভিচারী;—কিংবা ওই কর-আদায়কারীর মতও নই। আমি সপ্তাহে দু’বার উপবাস করি, সমস্ত আয়ের দশমাংশ দান করি।
অপরদিকে কর-আদায়কারী দূরে দাঁড়িয়ে স্বর্গের দিকে চোখ তুলতেও সাহস পাচ্ছিল না, বরং বুক চাপড়াতে চাপড়াতে বলছিল, ঈশ্বর, আমার প্রতি দয়া কর, আমি যে পাপী।
আমি তোমাদের বলছি, এই লোক ধর্মময় বলে সাব্যস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে গেল, ওই লোকটা নয়; কেননা যে কেউ নিজেকে উচ্চ করে, তাকে নত করা হবে; কিন্তু যে নিজেকে নত করে, তাকে উচ্চ করা হবে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু জন খ্রিসোস্তমের উপদেশ

=নানা পথের মধ্য দিয়ে পরিত্রাণলাভ তোমার পক্ষে সহজ করার জন্য আমি বহু প্রকার তপস্যা বর্ণনা করে এসেছি। এবার তৃতীয় পথ কী? বিনম্রতা: বিনম্র হও, তবে পাপের বন্ধন খুলে দেবে। এ বিষয়েও শাস্ত্র একটা প্রমাণ দেয়—বিশেষভাবে সেই কর-আদায়কারী ও ফরিসির উপমা-কাহিনীর মধ্য দিয়ে। লেখা আছে, একজন ফরিসি ও একজন কর-আদায়কারী মন্দিরে প্রার্থনা করতে গেলে ফরিসি নিজ গুণের তালিকা ব্যক্ত করতে লাগল। সে বলল, অন্যদের মত আমি পাপী নই, এ কর-আদায়কারীর মতও নই। হায় রে, দুর্ভাগা প্রাণ! গোটা জগতের বিচার করেছ, কেন তোমার প্রতিবেশীকেও দুঃখ দিয়েছ? সেই কর-আদায়কারীর বিচার না করে তোমার পক্ষে কি গোটা জগৎ যথেষ্ট ছিল না?
আর সেই কর-আদায়কারী কী করল? সে মাথা নত করে ও চোখ নিচের দিকে নিবদ্ধ রেখে ঈশ্বরের আরাধনা করে বলল: ঈশ্বর, আমার প্রতি দয়া কর, আমি যে পাপী (লুক ১৮:১৩); আর যেহেতু নিজেকে বিনম্র করেছিল, সেজন্য ধর্মময় বলে সাব্যস্ত হয়েছিল। সুতরাং মন্দির থেকে চলে যাওয়ার সময়ে ফরিসি তার নিজের ধর্মময়তা হারিয়ে ফেলল, কিন্তু কর-আদায়কারী তা লাভ করল: তার কর্মের চেয়ে তার কথাই প্রবল হল। কর্ম থাকা সত্ত্বেও ফরিসি ধর্মময়তা হারিয়ে ফেলল, কিন্তু কর-আদায়কারী বিনম্র কথার মধ্য দিয়ে তা লাভ করল—যদিও সে প্রকৃতপক্ষে নম্রচিত্ত ছিল না, কেননা তখনই বিনম্রতা উপস্থিত, যখন বড় একজন নিজেকে ছোট করে; কর-আদায়কারীর মনোভাব আসলে বিনম্রতা বলে গণ্য করা উচিত নয়, তবু তার মনোভাব সত্য বলে স্বীকার্য, কারণ পাপী হওয়ায় তার কথা সত্যকথা ছিল।
কর-আদায়কারীর তুলনায় জঘন্য কেউ থাকতে পারে? সে তো পরের দুর্দশায়ই স্বার্থ খুঁজত, পরের পরিশ্রমে নিজে লাভবান হত, ও পরের দুঃখের দিকে সমবেদনা না দেখিয়ে বরং তার মধ্য দিয়েই অর্থ সঞ্চয় করত। তাই কর-আদায়কারীর পাপ মহাপাপ; ফলে পাপী হয়েও কর-আদায়কারী যখন বিনম্রতা দেখানোতেই এত মহাদান পেল, তখন যে বিনম্র ও ধার্মিক, তার আরও কতই না মহাদান পাবার কথা।
তুমি তোমার পাপ স্বীকার কর ও বিনম্র হও, তবে ধর্মময় বলে পরিগণিত হবে। এখন কি জানতে চাও, তুমি বিনম্র কিনা? তাহলে পলের দিকে তাকাও। যিনি সর্বজাতির শিক্ষাগুরু, আত্মায় পরিপূর্ণ বাণীপ্রচারক, মনোনীত পাত্র, নিরাপদ বন্দর, দুর্বল গঠনের মানুষ হয়েও সারা জগৎ পরিভ্রমণ করলেন ঠিক যেন তাঁর পাখা ছিল, তাঁরই দিকে তাকাও; দেখ কেমন বিনম্রতা ও আত্মত্যাগের মনোভাব নিয়ে নিজেকে মূর্খ ও প্রজ্ঞাপ্রিয়, ধনহীন ও ধনবান বলেন। এই যে তাঁর বিনম্রতার পরিচয়, যখন তিনি বললেন, প্রেরিতদূতদের মধ্যে আমি সবচেয়ে নগণ্য; এমনকি প্রেরিতদূত নামেরও যোগ্য নই (১ করি ১৫:৯)। এই তো প্রকৃত বিনম্রতা, সবকিছুতে নিজেকে ছোট করা ও নিজেকে সকলের মধ্যে হীনতম বলা। ভেবে দেখ কেমন মানুষ একথা বললেন! তিনি দেহে পরিবৃত হয়েও ছিলেন স্বর্গের সহনাগরিক, মণ্ডলীর স্তম্ভ, স্বর্গীয় পুরুষ! বস্তুতপক্ষে সদ্‌গুণের এমন শক্তি রয়েছে যে, মানুষ স্বর্গদূতে পরিণত হয় ও আত্মা ঠিক যেন পাখা পেয়ে স্বর্গের দিকে ওড়ে। পল এ সদ্‌গুণেরই শিক্ষা দিয়েছেন। এসো, তেমন সদ্‌গুণের অনুকারী হতে চেষ্টা করি।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২০
ধুয়ো:
তোমার ত্রাণকর্মের জন্য আমরা আনন্দধ্বনি তুলব,
আমাদের পরমেশ্বরের নামে উল্লাস করব।

এখন আমি জানি—
প্রভু তাঁর তৈলাভিষিক্তজনকে পরিত্রাণ করেন;
তাঁর ডান হাতের বিজয়ী পরাক্রম দ্বারা
তাঁর পবিত্র স্বর্গ থেকে তাঁকে সাড়া দিলেন।   [ধুয়ো]

কেউ যুদ্ধরথে, আবার কেউ অশ্বে প্রতাপশালী,
আমরা কিন্তু প্রতাপশালী আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর নামে।
ওরা হাঁটু পেতে লুটিয়ে পড়ে,
আমরা কিন্তু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে, থাকি অবিচল।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, অনুনয় করি: তোমার এই সাক্রামেন্ত
আমাদের অন্তরে তার নিজের শক্তি ব্যক্ত করুক:
আমরা রহস্যের আড়ালে যা সম্পাদন করি,
একদিন যেন তার পূর্ণ বাস্তবতা লাভ করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩১শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান দয়াবান পরমেশ্বর, তোমারই কৃপায়
তোমার ভক্তগণ তোমাকে যথার্থ ও প্রশংসনীয় সেবা অর্পণ করতে সক্ষম।
আশীর্বাদ কর: আমরা যেন তোমার অঙ্গীকৃত পুরস্কারের দিকে
নির্বিঘ্নেই ধাবিত হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রজ্ঞা পুস্তক থেকে পাঠ (১১:২২–১২:২)

তোমার সামনে, প্রভু, সমগ্র জগৎ তো তুলাদণ্ডে ধুলারই মত,
মাটিতে পড়া প্রাতঃকালীন শিশির-বিন্দুর মত।
অথচ তুমি সকলের প্রতি দয়াময়, কারণ তোমার পক্ষে সবই সাধ্য;
তুমি মানুষের পাপ দেখেও দেখ না, সে যেন অনুতাপ করে।
কেননা যা কিছু আছে, তুমি সেইসব ভালবাস;
যা কিছু গড়েছ, সেগুলোর তুমি কিছুই ঘৃণা কর না;
যেহেতু কোন কিছুর প্রতি যদি তোমার ঘৃণা থাকত, তা তুমি গড়তে না!
তুমি ইচ্ছা না করলে
কেমন করেই বা কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকতে পারবে?
অস্তিত্বের উদ্দেশে তোমার আহ্বান না থাকলে
তা কেমন করেই বা বেঁচে থাকবে?
তুমি বরং সব কিছু বাঁচাও, কারণ, হে জীবনপ্রেমী প্রভু, সবই তোমার;
কারণ তোমার অক্ষয়শীল আত্মা সবকিছুতে বিদ্যমান।
এজন্য তুমি ধাপে ধাপেই অপরাধীদের শাস্তি দাও,
তাদের পাপ তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েই তাদের ভর্ৎসনা কর,
যেন অপকর্ম ত্যাগ করে তারা তোমাতেই, প্রভু, আস্থা রাখে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৪৫
ধুয়ো:
ওগো আমার পরমেশ্বর, ওগো রাজন্‌,
ধন্য করব তোমার নাম চিরদিন চিরকাল।

ওগো আমার পরমেশ্বর, ওগো রাজন,
ধন্য করব তোমার নাম চিরদিন চিরকাল।
প্রতিদিন তোমাকে বলব ধন্য,
প্রশংসা করব তোমার নাম চিরদিন চিরকাল।   [ধুয়ো]

প্রভু দয়াবান, স্নেহশীল,
ক্রোধে ধীর, কৃপায় মহান।
প্রভু সকলের প্রতি মঙ্গলময়,
তাঁর স্নেহ তাঁর সকল কাজে বিরাজিত।   [ধুয়ো]

প্রভু, তোমার সকল কাজ করবে তোমার স্তুতি;
তোমার ভক্তরা তোমাকে বলবে ধন্য।
তারা বলে যাবে তোমার রাজ্যের গৌরব,
প্রচার করবে তোমার পরাক্রম।   [ধুয়ো]

প্রভু সকল বাণীতে বিশ্বাসযোগ্য,
সকল কাজে কৃপাময়।
যারা পতনোন্মুখ, প্রভু তাদের সকলকে ধরে রাখেন,
যারা অবনত, তিনি তাদের সকলকে টেনে তোলেন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
থেসালোনিকীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (১:১১–২:২)

প্রিয়জনেরা, আমরা তোমাদের জন্য সবসময় প্রার্থনা করে থাকি, যেন আমাদের ঈশ্বর তোমাদের তাঁর আহ্বানের যোগ্য করে তোলেন ও তাঁর পরাক্রম গুণে তোমাদের মঙ্গলকর যত সদিচ্ছা ও বিশ্বাসের যত কর্মপ্রচেষ্টা সুসম্পন্ন করে তোলেন; যেন আমাদের ঈশ্বরের ও প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ অনুসারে আমাদের প্রভু যিশুর নাম তোমাদের মধ্যে গৌরবান্বিত হয়—তোমরাও তাঁর মধ্যে।
ভাই, আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের আগমন সম্বন্ধে ও তাঁর কাছে আমাদের সম্মিলিত হওয়া সম্বন্ধে আমরা তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা কোন আত্মিক প্রেরণা দ্বারা বা কোন বিশেষ বাণী দ্বারা বা আমাদেরই বলে ধরে নেওয়া এমন কোন পত্রও দ্বারা তত সহজে নিজেদের প্রবঞ্চিত হতে দিয়ো না, অস্থিরও হয়ে উঠো না, কেমন যেন প্রভুর দিন এসেই গেছে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
ঈশ্বর জগৎকে এতই ভালবেসেছেন যে,
তাঁর একমাত্র পুত্রকে দান করেছেন;
তাঁর প্রতি যে কেউ বিশ্বাস রাখে,
সে অনন্ত জীবন পেয়ে গেছে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৯:১-১০)

একদিন, যেরিখোতে প্রবেশ করে যিশু শহরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, আর হঠাৎ জাখেয় নামে একজন লোক—সে ছিল প্রধান কর-আদায়কারী ও নিজে ধনী লোক—যিশু কে তা দেখবার চেষ্টা করছিল, কিন্তু ভিড়ের কারণে পারছিল না, কেননা খাটো মানুষ ছিল। তাই আগে ছুটে গিয়ে সে তাঁকে দেখবার জন্য একটা ডুমুরগাছে উঠল, কারণ তাঁকে ওই পথ দিয়ে যেতে হচ্ছিল।
যিশু যখন সেই স্থানে এসে পৌঁছলেন, তখন উপরের দিকে তাকিয়ে তাকে বললেন, ‘জাখেয়, শীঘ্র নেমে এসো, কারণ আমাকে আজ তোমার বাড়িতে থাকতে হবে।’ সে শীঘ্র নেমে এল, এবং সানন্দে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাল। তা দেখে সকলে গজগজ করে বলতে লাগল, ‘ইনি একটা পাপীর ঘরে উঠলেন!’
কিন্তু জাখেয় দৃঢ়তার সঙ্গে প্রভুকে বলল, ‘প্রভু, দেখুন, আমার অর্ধেক সম্পত্তি আমি গরিবদের দিয়ে দিচ্ছি; আর যদি কখনও ঠকিয়ে কারও কিছু নিয়ে থাকি, তার চতুর্গুণ ফিরিয়ে দিচ্ছি।’
তখন যিশু তার বিষয়ে বললেন, ‘আজ এই বাড়িতে পরিত্রাণ প্রবেশ করেছে, কারণ এই লোকটিও আব্রাহামের সন্তান। বাস্তবিকই, যা হারানো ছিল, তা খুঁজতে ও পরিত্রাণ করতেই মানবপুত্র এসেছেন।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
সন্ন্যাসী জন ইউস্তুস লাণ্ড্‌সবের্গের উপদেশ

প্রকৃত মনপরিবর্তন পাপের সকল শিকড় ছেটে দেয়। অনেকের পক্ষে অর্থলালসাই পাপের মূলকারণ। তা উৎপাটন করার জন্য জাখেয় প্রতিশ্রুতি দেয়, সে গরিবদের প্রয়োজনের জন্য অর্ধেক সম্পত্তি দান করবে, ও আমি যদি কখনও ঠকিয়ে কারও কিছু নিয়ে থাকি, তার চতুর্গুণ ফিরিয়ে দিচ্ছি (লুক ১৯:৮)।
তুমি কি দেখতে পাচ্ছ, খ্রিষ্ট দ্বারা আলোকিত হয়ে জাখেয় সহসা কতই না অগ্রসর হয়েছে? তাছাড়া নিন্দুকদের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টকে রক্ষা করার জন্য ও নিজের প্রতি তিনি কেমন প্রজ্ঞার সঙ্গে ব্যবহার করেছিলেন তা দেখাবার জন্য সে নিজের সঙ্কল্প প্রকাশ্যেই ঘোষণা করতে চাইল; হ্যাঁ, খ্রিষ্ট তাকে কর-আদায়কারীর মত অবজ্ঞা করে এড়াননি, বরং মঙ্গলভাব দেখিয়ে ও তার বাড়িতে নিজেকে নিমন্ত্রিত করে তাকে এত মহান ও আকস্মিক পরিবর্তনে তপস্যা ও মনপরিবর্তনের দিকে চালিত করেছিলেন যে, অতীতে সে যেমন অর্থলোভী হয়েছিল, তেমনি এখন সবকিছু ত্যাগ করতে বাসনা করছে। বস্তুতপক্ষে সে ভবিষ্যতেই গরিবদের হাতে সম্পত্তি দেবে ও ভবিষ্যতেই অন্যায়-অর্থ ফিরিয়ে দেবে এমন নয়, এখনই তা করতে দৃঢ়সঙ্কল্প: দেখুন, আমি দিয়ে দিচ্ছি, আমি ফিরিয়ে দিচ্ছি (লুক ১৯:৮)। ভিক্ষাদান করছি, যা চুরি করেছি তা ফিরিয়ে দিচ্ছি। আর ভিক্ষাদান যেন ঈশ্বরের গ্রহণীয় হয় যদিও আগে যা চুরি করা হয়েছে তা ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, তবু এক্ষেত্রে, যা দাতব্য শুধু নয়, যা দানশীলতার খাতিরে দান করতে পারত ও দান করতে চাইত তাও দেবার তৎপরতা দেখাতে গিয়ে সে আগে ভিক্ষাদানের কথা, পরেই ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে। যিশু তার বিষয়ে বললেন: আজ এই বাড়িতে পরিত্রাণ প্রবেশ করেছে, কারণ এই লোকটিও আব্রাহামের সন্তান। বাস্তবিকই, যা হারানো ছিল, তা খুঁজতে ও পরিত্রাণ করতেই মানবপুত্র এসেছেন (লুক ১৯:৯-১০)।
‘এই গৃহে’ সাধিত পরিত্রাণের কথা ঘোষণা করায় খ্রিষ্ট জাখেয়ের আত্মাকেই ইঙ্গিত করতে অভিপ্রায় করেন, যে আত্মা বাসনা ও মঙ্গল-ইচ্ছায় আসক্তি দ্বারা, ভালবাসা ও বাধ্যতা দ্বারা পরিত্রাণ পেয়েছে; আর তেমন আত্মাকেই প্রভু ঈশ্বরের গৃহ বলে অভিহিত করেন, কারণ তার মধ্যে ঈশ্বর বাস করেন—বাস্তবিকই যিশু তা-ই পরিত্রাণ করতে এলেন যা হারানো ছিল। আর এজন্য তিনি তাদেরই সঙ্গে থাকতে চাইলেন, যাদের তিনি জানতেন নিজ সহায়তার অভাবী ও পরিত্রাণের অন্বেষী।
যারা গজ গজ করছিল, তাদের উদ্দেশ করে তিনি ঠিক যেন বললেন, আমি পাপী মানুষের সঙ্গে কথা বলায় ও নিমন্ত্রিত না হয়েও তার বাড়িতে নিজেকে নিমন্ত্রিত করায় আমার বিরুদ্ধে তোমাদের এত উত্তেজনা কেন? পাপীরা নিজেদের পাপে থাকবে এজন্য নয়, তারা মনপরিবর্তন করে আমাতে জীবন পাবে এজন্যই আমি এ জগতে এসেছি! পাপী আজ পর্যন্ত যা করে এসেছে, আমি তার দিকে তাকাই না, বরং সে এখন থেকে যা করবে তা-ই ধরি। তাকে আমি আমার অনুগ্রহ ও বন্ধুত্ব নিবেদন করি—তোমরা ইচ্ছা করলে, তোমাদেরও তা নিবেদন করব। সে যখন আমার অনুগ্রহ ও বন্ধুত্ব গ্রহণ করে আমার কাছে এসে পাপী যে ছিল ধার্মিক হয়ে ওঠে, তখন আমি যে তার বাড়িতে গিয়েছি এর জন্য তোমরা আমাকে নিন্দা কর কেন? যে পাপী ছিল, সে যখন ঈশ্বরের বন্ধু হয়েছে, তখন তোমরা তাকে ধূর্ত বলে বিচার কর কেন? কেননা সে তো আব্রাহামেরই সন্তান—তাঁর বংশের মানুষ ব’লে নয়, কিন্তু ভক্তপ্রাণ আব্রাহামের বিশ্বাসের অনুকারী হয়েছে ব’লে!
আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট এমনটি দেন, আমরা যেন তাঁকে জানতে পারি, তাঁকে ভালবাসতে পারি, তাঁর উপর ভরসা রাখতে পারি, যা ঈশ্বরের ইচ্ছার গ্রহণীয় ও আমাদের পরিত্রাণে বাধা দেয় না, তা ছাড়া যেন আমরা অন্য কিছুতে আসক্ত ও আকর্ষিত না হই। তিনি যুগযুগ ধরে ধন্য! আমেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৬
ধুয়ো:
তুমি আমাকে জানিয়ে দিয়েছ জীবনের পথ,
তোমার সম্মুখেই আনন্দের পূর্ণতা, প্রভু।

প্রভুই আমার স্বত্বাংশ, আমার পানপাত্র,
তোমার হাতেই আমার নিয়তির ভার।
সীমানা আমার পক্ষে পড়েছে মনোহর স্থানে,
আমার উত্তরাধিকার আমার কাছে সত্যি অপরূপ।   [ধুয়ো]

প্রভুকে ধন্য বলব, তিনি যে আমাকে মন্ত্রণা দেন,
রাত্রিতেও আমাকে উদ্বুদ্ধ করে আমার অন্তর।
আমার সামনে প্রভুকে অনুক্ষণ রাখি,
তিনি আমার ডান পাশে বলে আমি টলব না।   [ধুয়ো]

তাই আমার অন্তর আনন্দ করে, মেতে ওঠে আমার প্রাণ,
আমার দেহও ভরসাভরে করে বিশ্রাম,
তুমি যে আমাকে বিসর্জন দেবে না পাতালের হাতে,
না, তোমার ভক্তজনকে তুমি সেই গহ্বর দেখতে দেবে না।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার পরাক্রম আমাদের অন্তরে অবিরতই ক্রিয়াশীল হোক,
যেন এই স্বর্গীয় সাক্রামেন্ত দ্বারা সঞ্জীবিত হয়ে
আমরা প্রতিশ্রুত মঙ্গলদান গ্রহণের জন্যও উপযোগী হয়ে উঠি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩২শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান দয়াবান পরমেশ্বর,
প্রসন্ন হয়ে যত অমঙ্গল থেকে আমাদের রক্ষা কর,
দেহমনের যেকোন বাধাবিপত্তি অতিক্রম ক’রে
আমরা যেন দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে তোমার ইচ্ছা পূরণে নিবিষ্ট থাকতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
মাকাবীয় বংশচরিতের দ্বিতীয় পুস্তক থেকে পাঠ (৭:১-২,৯-১৪)

সেসময় এমনটি ঘটল যে, সাত ভাই ও তাদের মাকে গ্রেপ্তার করা হল; বেত ও কশাঘাতের জোরে রাজা বিধানবিরুদ্ধ সেই শূকরের মাংস তাদের খেতে বাধ্য করতে চেষ্টা করলেন। সকলের মুখপাত্র হয়ে তাদের প্রথমজন বলল, ‘আমাদের কাছ থেকে আপনি কোন্‌ কথা বের করতে বা জানতে চেষ্টা করছেন? আমাদের পিতৃপুরুষদের বিধিনিয়ম লঙ্ঘন করার চেয়ে আমরা বরং মৃত্যুবরণ করতেই প্রস্তুত!’
শেষ নিশ্বাস টানতে টানতে দ্বিতীয়জন বলে উঠল, ‘পাষণ্ড! আপনি বর্তমান জীবন থেকেই আমাদের মুছে দিতে পারেন বটে, কিন্তু আমরা তাঁর বিধিনিয়মের জন্য মৃত্যুবরণ করছি বলে, বিশ্বরাজ যিনি, তিনি নবীন ও অনন্ত জীবনেই আমাদের পুনরুত্থিত করে তুলবেন।’
দ্বিতীয়জনের পর তৃতীয়জনকে পীড়ন করা হল; তাদের হুকুমে সে সঙ্গে সঙ্গেই জিহ্বা বের করে ও সাহসভরে হাত দু’টো বাড়িয়ে দিয়ে সসম্মানে বলল, ‘স্বর্গ থেকেই এই অঙ্গগুলো পেয়েছি; তাঁর বিধিনিয়মের খাতিরে এগুলোর প্রতি আমার কোন চিন্তা নেই; আশা রাখি, তাঁর কাছ থেকে এগুলো আবার পাব!’ পীড়ন এতই তুচ্ছ করতে পারে, যুবকটির এমন তেজ দেখে রাজা নিজে ও তাঁর পরিষদেরা সকলেই অবাক হলেন। একেও মেরে ফেলে তারা একই পীড়ন দ্বারা চতুর্থজনকেও নিপীড়ন করতে লাগল। মৃত্যুক্ষণ কাছে এলে সে বলল, ‘মানুষের কারণে মৃত্যুবরণ করা উত্তম, যেন ঈশ্বরের কাছ থেকে এমন আশা পূরণের প্রতীক্ষা করতে পারি যে, তিনি আমাদের পুনরুত্থিত করবেন; কিন্তু আপনার পুনরুত্থান জীবনের উদ্দেশে পুনরুত্থান হবে না।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৭
ধুয়ো:
প্রভু, আমি জেগে উঠে
তোমার রূপ দেখে তৃপ্ত হব।

প্রভু, ধার্মিকের মিনতি শোন,
মন দিয়ে শোন আমার চিৎকার;
আমার প্রার্থনায় কান দাও তুমি,
আমার ওষ্ঠে ছলনা নেই।   [ধুয়ো]

আমার পদক্ষেপ তোমার পথগুলিতে সুস্থির থাকল,
তাই টলেনি আমার পা।
তুমি আমাকে সাড়া দেবে বলে তোমাকে ডাকি, ঈশ্বর,
কান দাও, আমার কথা শোন।   [ধুয়ো]

চোখের মণির মতই আমাকে রক্ষা কর,
তোমার পক্ষ-ছায়ায় আমাকে লুকিয়ে রাখ।
আমি ধর্মময়তা গুণে পাব তোমার শ্রীমুখের দর্শন,
জেগে উঠে তোমার রূপ দেখে তৃপ্ত হব।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (২:১৬–৩:৫)

প্রিয়জনেরা, আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট নিজে, এবং যিনি আমাদের ভালবেসেছেন, এবং অনুগ্রহ ক’রে আমাদের চিরন্তন আশ্বাস ও শুভ প্রত্যাশা দিয়েছেন, আমাদের সেই পিতা ঈশ্বর তোমাদের হৃদয়ে আশ্বাস সঞ্চার করুন, এবং শুভ যত কর্মে ও কথায় সুস্থির করুন।
শেষ কথা: ভাই, আমাদের জন্য প্রার্থনা কর, যেন প্রভুর বাণী দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে ও মানুষের কাছে গৌরবের পাত্র হয়ে ওঠে, ঠিক যেমনটি তোমাদের মধ্যে ঘটেছিল; আরও, প্রার্থনা কর, যেন আমরা দুর্জন ও মন্দ লোকদের হাত থেকে নিস্তার পাই; আসলে বিশ্বাস যে সকলের, তা নয়। কিন্তু প্রভু বিশ্বস্ত: তিনিই তোমাদের সুস্থির করবেন ও সেই ধূর্তজনের হাত থেকে রক্ষা করবেন।
আর তোমাদের সম্বন্ধে প্রভুতে আমাদের এই দৃঢ় ভরসা আছে যে, আমরা যা কিছু আদেশ করি, তা তোমরা পালন করে আসছ, ও তা করতে থাকবে। প্রভু তোমাদের হৃদয় ঈশ্বরের ভালবাসার দিকে ও খ্রিষ্টের সহিষ্ণুতার দিকে চালিত করুন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যিশুখ্রিষ্টই মৃতদের মধ্য থেকে প্রথমজাত;
তাঁরই গৌরব ও প্রতাপ চিরদিন চিরকাল।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২০:২৭-৩৮)

একদিন কয়েকজন সাদুকি যিশুর কাছে এগিয়ে এলেন—তাঁদের মতে পুনরুত্থান নেই। তাঁরা তাঁর কাছে এই প্রশ্ন রাখলেন, ‘গুরু, মোশি আমাদের জন্য লিখেছেন, কারও ভাই যদি স্ত্রী রেখে নিঃসন্তান হয়ে মরে, তবে তার ভাই সেই স্ত্রীকে গ্রহণ করে নিজের ভাইয়ের জন্য বংশ উৎপন্ন করবে। আচ্ছা, সাত ভাই ছিল: বড় ভাই একটি স্ত্রী নিল, এবং সন্তান না রেখে মারা গেল। পরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাই সেই স্ত্রীকে নিল; এভাবে সাত ভাই কোন সন্তান না রেখে মরল; শেষে সেই স্ত্রীও মারা গেল। তাই পুনরুত্থানের সময়ে তাদের মধ্যে সে কার্‌ স্ত্রী হবে? তারা সাতজনেই তো তাকে বিবাহ করেছিল।’
যিশু তাঁদের বললেন, ‘এই সংসারের মানুষেরা বিবাহও করে, আবার তাদের বিবাহ দেওয়া হয়। কিন্তু যারা সেই পরলোকের যোগ্য ও মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানেরও যোগ্য বলে গণ্য হয়েছে, তারা বিবাহও করে না, তাদের বিবাহও দেওয়া হয় না। তাদের আর মৃত্যু হতে পারে না, কেননা তারা দূতদের মত, এবং পুনরুত্থানের সন্তান হওয়ায় তারা ঈশ্বরের সন্তান।
আরও, মৃতেরা যে পুনরুত্থান করে, তা মোশিও ঝোপের কাহিনীতে দেখিয়েছিলেন; কারণ তিনি প্রভুকে আব্রাহামের ঈশ্বর, ইসায়াকের ঈশ্বর ও যাকোবের ঈশ্বর বলে ডাকেন: ঈশ্বর তো মৃতদের ঈশ্বর নন, জীবিতদেরই ঈশ্বর; কেননা তাঁর কাছে সকলেই জীবিত।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু ইরেনেউস-লিখিত ‘ভ্রান্তমতের বিরুদ্ধে’

যারা পুনরুত্থানের কথা অস্বীকার করত ও এজন্য ঈশ্বরকে অপমান করত ও বিধান তুচ্ছ করত, সেই সাদুকিদের উত্তর দিতে গিয়ে আমাদের প্রভু ও সদ্‌গুরু পুনরুত্থান সপ্রমাণ করলেন ও ঈশ্বরকে প্রকাশ করলেন; তিনি তাদের বলেছিলেন: আপনারা শাস্ত্রও জানেন না ও ঈশ্বরের পরাক্রমও জানেন না বিধায় নিজেদের ভোলাচ্ছেন। মৃতদের পুনরুত্থান বিষয়ে ঈশ্বর নিজে আপনাদের যা বলেছেন, তা কি আপনারা পড়েননি? তিনি তো বলেন, আমি আব্রাহামের ঈশ্বর, ইসায়াকের ঈশ্বর ও যাকোবের ঈশ্বর (মথি ২২:২৯, ৩১-৩২)। তারপর তিনি বলে চলেছিলেন, ঈশ্বর তো মৃতদের ঈশ্বর নন, জীবিতদেরই ঈশ্বর; কেননা তাঁর কাছে সকলেই জীবিত (লুক ২০:৩৮)। এ বাণীর মধ্য দিয়ে তিনি প্রকাশ করলেন যে, যিনি ঝোপের ভিতর থেকে মোশির কাছে কথা বলেছিলেন ও নিজেকে পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর বলে প্রকাশ করেছিলেন, তিনি জীবিতদেরই ঈশ্বর। বস্তুতপক্ষে যিনি সেই ঈশ্বর যাঁর ঊর্ধ্বে অন্য ঈশ্বর নেই, তিনি ছাড়া কেইবা সেই জীবিতদের ঈশ্বর? তাঁরই কথা নবী দানিয়েল প্রচার করেছিলেন যখন পারস্যরাজ সাইরাস তুমি বেলের উদ্দেশে কেন প্রণিপাত কর না জিজ্ঞাসা করলে (দা ১৪:৪) উত্তরে বলেছিলেন, কারণ আমি মানুষের হাতে তৈরী মূর্তির পূজা করি না, কেবল সেই জীবনময় ঈশ্বরকে পূজা করি, যিনি আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা ও সমস্ত প্রাণীর প্রভু, তারপর তিনি বলে চলেছিলেন, আমি আমার ঈশ্বর প্রভুর উদ্দেশে প্রণিপাত করি, তিনিই জীবনময় ঈশ্বর (দা ৪:২৩)।
সুতরাং যিনি জীবনময় ঈশ্বর বলে নবীদের দ্বারা পূজিত ছিলেন, তিনিই জীবিতদের ঈশ্বর; আর যিনি মোশির কাছে কথা বললেন, সাদুকিদের উত্তর দিলেন, পুনরুত্থান দান করলেন ও সেই অন্ধদের কাছে উভয় বিষয় সপ্রমাণ করলেন, অর্থাৎ পুনরুত্থান ও ঈশ্বরকে দেখালেন, ঈশ্বরের সেই বাণীও ঈশ্বর। অতএব তিনি যদি মৃতদের নয়, জীবিতদেরই ঈশ্বর, তাহলে তিনি যে নিদ্রাগত পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর বলে অভিহিত, সেই পিতৃপুরুষেরা নিঃসন্দেহে ঈশ্বরের কাছে জীবিত, ও পুনরুত্থানের সন্তান হওয়ায় তাঁরা মরেননি (লুক ২০:৩৬)।
তবে আমাদের স্বয়ং প্রভুই পুনরুত্থান, তিনি নিজে যেভাবে বললেন, আমিই পুনরুত্থান ও জীবন (যোহন ১১:২৫)। আর সেই পিতৃপুরুষেরা হলেন তাঁর সন্তান, কেননা নবী একথা বললেন, তোমার সন্তানেরা থাকবে তোমার পিতৃপুরুষদের স্থলে (সাম ৪৫:১৭)। সুতরাং যিনি মোশির কাছে কথা বলেছিলেন ও পিতৃপুরুষদের কাছে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, পিতার সঙ্গে সেই খ্রিষ্ট নিজেই জীবিতদের ঈশ্বর। এ কথাই তিনি ইহুদীদের উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন, আমার দিন দেখবার প্রত্যাশায় তোমাদের পিতা আব্রাহাম উল্লাস করেছিলেন: তা দেখলেন ও আনন্দিত হলেন (যোহন ৮:৫৬)। কেন? কারণ আব্রাহাম ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখলেন, এবং তা তাঁর পক্ষে ধর্মময়তা বলে পরিগণিত হল (রো ৪:৩)।
তিনি বিশ্বাস করলেন যে, যিনি আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা তিনি অদ্বিতীয় ঈশ্বর; উপরন্তু বিশ্বাস করলেন যে, তিনি তাঁর বংশ আকাশের তারকারাজির মত করবেন; ঠিক যেভাবে পল বলেন, জগতে জ্যোতিষ্কেরই মত (ফিলি ২:১৫)। তাই ন্যায়সঙ্গতভাবেই তিনি সমস্ত জ্ঞাতিকুটুম্ব ত্যাগ করে ঈশ্বরের বাণীর অনুসরণ করেছিলেন—বাণীর সঙ্গে যাত্রা করেছিলেন ও বাণীর সঙ্গে থেমেছিলেন। যাঁরা আব্রাহামের বংশধর, সেই প্রেরিতদূতেরাও ন্যায়সঙ্গতভাবে নৌকা ও পিতাকে ত্যাগ করে ঈশ্বরের বাণীর অনুসরণ করেছিলেন। তাই ন্যায়সঙ্গতভাবে আমরাও আব্রাহাম দ্বারা স্বীকৃত একই বিশ্বাস গ্রহণ করে, ইসায়াক যেভাবে কাঠ বহন করেছিলেন, সেভাবে ক্রুশ তুলে নিয়ে খ্রিষ্টের অনুসরণ করি। কেননা আব্রাহামেই মানুষ ঈশ্বরের বাণীর অনুসরণ করতে শিখেছে। বস্তুত আব্রাহাম নিজ বিশ্বাস অনুসারে ঐশবাণীর আদেশ পালন করে নত অন্তরে নিজ অদ্বিতীয় ও প্রিয় পুত্রকে ঈশ্বরের কাছে বলিরূপে সঁপে দিলেন, যাতে প্রসন্ন হয়ে ঈশ্বর তাঁর সমস্ত বংশের জন্য আপন প্রিয় ও অদ্বিতীয় পুত্রকে আমাদের মুক্তির উদ্দেশ্যে বলিরূপে সঁপে দেন।
এজন্য নবী হওয়ায় আব্রাহাম প্রভুর আগমনের দিন আত্মায় দেখতে পেলেন, ও তাঁর সেই যন্ত্রণাভোগ ব্যবস্থা, যা দ্বারা তিনি ও তাঁর মত বিশ্বাসী সকল মানুষ পরিত্রাণ পেতে যাচ্ছিলেন, তা দেখে উল্লাস করলেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৩
ধুয়ো:
প্রভু আমার পালক;
অভাব নেই তো আমার।
আমায় তিনি শুইয়ে রাখেন নবীন ঘাসের চারণমাঠে,
আমায় নিয়ে যান শান্ত জলের কূলে।

তিনি সঞ্জীবিত করেন আমার প্রাণ,
তাঁর নামের খাতিরে আমায় চালনা করেন ধর্মপথে।
মৃত্যু-ছায়ার উপত্যকাও যদি পেরিয়ে যাই,
আমি কোন অনিষ্টের ভয় করি না, তুমি যে আমার সঙ্গে আছ।   [ধুয়ো]

তোমার যষ্টি, তোমার পাচনি আমাকে সান্ত্বনা দেয়।
আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট আমার শত্রুদের সামনে;
আমার মাথা তুমি তৈলসিক্ত কর;
আমার পানপাত্র উচ্ছলিত।   [ধুয়ো]

মঙ্গল ও কৃপাই হবে আমার সহচর
আমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে,
আমি প্রভুর গৃহে ফিরব
চিরদিনের মত!   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার এই পবিত্র উপহার গ্রহণে পরিপুষ্ট হয়ে উঠে
আমরা তোমাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি:
যাদের অন্তরে তোমার স্বর্গীয় শক্তি প্রবেশ করেছে, তোমার আত্মা সিঞ্চনের ফলে
তারা যেন সেই পবিত্রতার অনুগ্রহ সর্বদাই ভোগ করতে পারে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩৩শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের পরমেশ্বর, আশীর্বাদ কর,
আমরা যেন তোমার সেবায় রত থেকে নিত্য আনন্দিত থাকি।
কেননা মঙ্গলকর সমস্ত কিছুর উৎস যে তুমি,
সেই তোমার প্রতি আত্মনিয়োজিত থাকা-ই পূর্ণ অফুরানো আনন্দ-সুখ।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী মালাখির পুস্তক থেকে পাঠ (৩:১৯-২০ক)

দেখ, সেই দিনটি আসছে, তা হাপরের মতই জ্বলন্ত। দর্পী ও অন্যায়কারী সকলে খড়কুটোর মত হবে; আর সেই দিনটি যখন আসবে, তা তখন তাদের পুড়িয়ে দেবে—একথা বলছেন সেনাবাহিনীর প্রভু—আর তাদের মূল বা শাখা কিছুই বাকি রাখবে না।
কিন্তু আমার নাম ভয় কর যে তোমরা, তোমাদের জন্য উদিত হবেন ধর্মময়তার সেই সূর্য, যাঁর রশ্মিতে থাকবে আরোগ্যদান।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯৮
ধুয়ো:
প্রভু ধর্মময়তার সঙ্গে
জাতি সকলকে বিচার করতে আসছেন।

সেতার বাজাও, সেতার ও বাদ্যের সুরে সুরে কর প্রভুর স্তবগান,
তূর্যনিনাদে, শিঙার সুরে সেই রাজা প্রভুর সম্মুখে তোল জয়ধ্বনি।
সাগর ও তার যত প্রাণী গর্জে উঠুক,
গর্জে উঠুক জগৎ ও জগদ্বাসী,   [ধুয়ো]

নদনদী দিক করতালি,
গিরিমালা সমস্বরে প্রভুর সম্মুখে সানন্দে চিৎকার করুক,
কারণ তিনি পৃথিবী বিচার করতে আসছেন,
ধর্মময়তার সঙ্গে জগৎ, সততার সঙ্গে জাতিসকলকে বিচার করবেন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
থেসালোনিকীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৩:৭-১২)

প্রিয়জনেরা, তোমরা নিজেরাই জান কেমন ভাবে আমাদের অনুকরণ করতে হবে: আসলে আমরা তোমাদের মধ্যে বিশৃঙ্খল জীবনধারণ আদৌ দেখাইনি; কারও অন্নও বিনামূল্যে খাইনি, বরং পরিশ্রম ও বহু কষ্ট স্বীকার করে দিনরাত কাজ করতাম যেন তোমাদের কারও বোঝা না হই।
আমাদের যে তেমন অধিকার ছিল না, তা নয়; কিন্তু আমরা নিজেরাই তোমাদের সামনে একটা দৃষ্টান্ত হতে চাচ্ছিলাম, যা তোমরা অনুকরণ করতে পারবে। আর আসলে তোমাদের মধ্যে থাকাকালে আমরা তোমাদের এই আদেশ দিয়েছিলাম: যে কাজ করতে চাইবে না, সে খেতেও পাবে না!
আমরা আসলে শুনতে পেলাম, তোমাদের মধ্যে নাকি কেউ কেউ কোন শৃঙ্খলা না মেনে জীবন কাটাচ্ছে; কিছুতেই ব্যাপৃত না হয়ে এমনি অতিব্যস্ত দেখাচ্ছে। তেমন লোকদের আমরা প্রভু যিশুখ্রিষ্টের নামে অনুরোধ করে আদেশ দিচ্ছি, তারা যেন শান্ত স্থির হয়ে নিজেদের কাজকর্ম ক’রে নিজেদের অন্নসংস্থান নিজেরাই করে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
সোজা হয়ে দাঁড়াও, মাথা উচ্চ কর;
তোমাদের মুক্তি কাছে এসে গেছে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২১:৫-১৯)

যখন কেউ কেউ মন্দিরের বিষয়ে বলছিল, ওটা কেমন সুন্দর সুন্দর পাথরে ও মানত-দেওয়া নানা জিনিসে সাজানো, তখন যিশু বললেন, ‘তোমরা এই যে সমস্ত কিছু দেখছ, এমন সময় আসছে, যখন এর একখানি পাথর অন্য পাথরের উপরে থাকবে না—সবই ভূমিসাৎ হবে।’
তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘গুরু, তবে এই সমস্ত ঘটনা কবে ঘটবে? আর এই সবকিছু যে ঘটতে যাচ্ছে তার লক্ষণ কী?’ তিনি বললেন, ‘দেখ, কারও কথায় ভুলো না! কেননা আমার নাম নিয়ে অনেকে এসে বলবে, আমিই সে-ই, এবং, সময় কাছে এসে গেছে; তোমরা তাদের পিছনে যেয়ো না। আর যখন নানা যুদ্ধের ও গোলমালের কথা শুনবে, তখন আতঙ্কিত হয়ো না; কেননা আগে এই সমস্ত অবশ্যই ঘটবে, কিন্তু তখনই তা শেষ নয়।’
পরে তিনি তাঁদের বললেন, ‘জাতির বিরুদ্ধে জাতি ও রাজ্যের বিরুদ্ধে রাজ্য উঠবে; ভীষণ ভূমিকম্প ও নানা জায়গায় দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেবে; এবং আকাশ থেকে নানা ভয়ঙ্কর দৃশ্য ও মহা চিহ্নও দেখা দেবে।
কিন্তু এসবকিছুর আগে লোকে তোমাদের গ্রেপ্তার করবে, নির্যাতন করবে, সমাজগৃহে ও কারাগারে তুলে দেবে; আমার নামের জন্য শাসনকর্তা ও রাজাদের সামনে তোমাদের টেনে নেওয়া হবে; এর ফলে তোমরা সাক্ষ্য দান করতে সুযোগ পেয়ে যাবে। তাই মনে মনে এই সঙ্কল্প নাও যে, নিজেদের পক্ষসমর্থনে কী বলতে হবে, তার জন্য আগে থেকে চিন্তা করতে হবে না; কেননা আমি তোমাদের এমন মুখ ও প্রজ্ঞা দেব যে, তোমাদের বিপক্ষেরা কেউই প্রতিরোধ করতে পারবে না, উল্ট যুক্তিও দেখাতে পারবে না। তখন তোমাদের পিতামাতা, ভাইয়েরা, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা নিজেরাই তোমাদের তুলে দেবে, ও তোমাদের কয়েকজনকে মৃত্যুর হাতেও তুলে দেবে; এবং আমার নামের জন্য তোমরা হবে সকলের ঘৃণার পাত্র; কিন্তু তোমাদের মাথার একগাছি চুলও নষ্ট হবে না।
তোমাদের [ধর্ম]নিষ্ঠাই তোমাদের প্রাণ রক্ষা করবে!’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিন-লিখিত ‘সামসঙ্গীত-মালায় উপদেশ

বনের সব গাছপালা সানন্দে চিৎকার করবে সেই প্রভুর সম্মুখে যিনি আসছেন; কারণ তিনি পৃথিবী বিচার করতে আসছেন (সাম ৯৬:১২-১৩)। তিনি প্রথমবারের মত এলেন, ভবিষ্যতে আবার আসবেন। একটু আগে তাঁর এ বাণী সুসমাচারে ধ্বনিত হয়েছে: এখন থেকে তোমরা মানবপুত্রকে আকাশের মেঘরথে আসতে দেখবে (মথি ২৬:৬৪)। ‘এখন থেকে’ এর অর্থ কী? হয় তো কি প্রভু ইতিমধ্যেই আসবেন, আর পরে, যখন পৃথিবীর সকল গোষ্ঠী কাঁদবে, তখন কি আসবেন না? প্রথমবারের মত তিনি এলেন আপন প্রচারকদের মধ্য দিয়ে, তাতে সমস্ত বিশ্বজগৎ [খ্রিষ্টেতে] পরিপূর্ণ হল। এসো, তাঁর প্রথম আগমনে বাধা না দিই, যাতে তাঁর দ্বিতীয় আগমন ভয় না করি।
তাহলে খ্রিষ্টভক্তের কী করণীয়? সে সংসার ব্যবহার করবে, কিন্তু সংসারের দাস হবে না। এর অর্থ কী? এর অর্থ হল, সম্পদ এমনভাবে ভোগ করা ঠিক যেন সম্পদ না থাকে। প্রেরিতদূত এভাবে কথাটা ব্যক্ত করেন: ভাই, তোমাদের আমি যা বলতে চাচ্ছি, তা এ: সময় আর বেশি নেই; এখন থেকে, যাদের স্ত্রী আছে, তারা এমনভাবে চলুক তাদের যেন স্ত্রী নেই; এবং যারা শোকার্ত, তারা যেন শোকার্ত নয়; যারা আনন্দিত, তারা যেন আনন্দিত নয়; যারা কেনে, তারা যেন কিছুর মালিক নয়; যারা এসংসারের কোন কাজে আবদ্ধ, তারা যেন তার সঙ্গে সম্পূর্ণ জড়িত নয়, কেননা এই সংসারের চেহারা লোপ পেতে চলেছে। কিন্তু আমি ইচ্ছা করি, তোমরা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকবে (১ করি ৭:২৯-৩২)।
যার দুশ্চিন্তা নেই, সে শান্ত মনে অপেক্ষা করে কখন্‌ তার প্রভু আসবেন। কেননা খ্রিষ্টের প্রতি এ কেমন ভালবাসা, যদি তাঁর আগমন ভয় করি? ভাইবোনেরা, আমরা কি লজ্জায় লাল হই না? আমরা তাঁকে ভালবাসি, অথচ ভয় করি পাছে তিনি আসেন! আমরা কি তাঁকে সত্যিই ভালবাসি? না কি আমাদের পাপকর্মকেই বেশি ভালবাসি? সুতরাং এসো, পাপকর্ম ঘৃণা করি, আর তাঁকেই ভালবাসি যিনি পাপের দণ্ড দিতে আসবেন। আমরা ইচ্ছা করতে পারি নাও করতে পারি, তিনি কিন্তু আসবেন; তবে তিনি যে এখনই আসছেন না, এর অর্থ এই নয় যে, পরেও আসবেন না। তিনি এমন সময় আসবেন যা তুমি জানই না; আর তিনি তোমাকে প্রস্তুত পেলে তবে তোমার অজানায় তোমার কোন ক্ষতি হবে না।
বনের সব গাছপালা সানন্দে চিৎকার করবে: তিনি প্রথমবারের মত এলেন, পৃথিবীর বিচার করতে পরেও আসবেন: আর তিনি তাদেরই আনন্দিত পাবেন যারা তাঁর প্রথম আগমনে বিশ্বাস করেছিল তিনি আসবেন।
তিনি ন্যায্যতার সঙ্গে জগৎ, সত্যের নীতিতে জাতিগুলিকে বিচার করবেন (সাম ৯৬:১৩)। ন্যায্যতা ও সত্য কী? তিনি বিচারের জন্য নিজের সঙ্গী বলে তাঁর মনোনীতদের সম্মিলিত করবেন, কিন্তু অন্যদের তিনি একে অপর থেকে দু’ভাগে পৃথক রাখবেন: এক দল রাখবেন ডান পাশে আর এক দল বাঁ পাশে। বিচারক আসবার আগে যারা দয়া দেখাতে অসম্মত ছিল, তারা যে বিচারকের কাছ থেকে দয়া প্রত্যাশা করবে না, এর চেয়ে ন্যায্য ও সত্য কিছু আছে কি? কিন্তু যারা দয়া দেখাতে সম্মত ছিল, তারা দয়ার সঙ্গে বিচারিত হবে। বাস্তবিকই যাদের তাঁর ডান পাশে রাখা হয়েছে, তাদের বলা হবে: এসো, আমার পিতার আশীর্বাদের পাত্র যে তোমরা, জগৎপত্তনের সময় থেকে যে রাজ্য তোমাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, তা উত্তরাধিকাররূপে গ্রহণ কর (মথি ২৫:৩৪ দ্রঃ)। এরপর তিনি তাদের সাধিত দয়াকর্ম ঘোষণা করবেন: কারণ আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম আর তোমরা আমাকে খেতে দিয়েছিলে; তৃষ্ণার্ত ছিলাম আর আমাকে জল দিয়েছিলে (মথি ২৫:৩৫), ইত্যাদি বাণী।
তারপরে যাদের তাঁর বাঁ পাশে রাখা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তোলা হবে? তারা দয়াকর্ম করতে অসম্মত ছিল। আর তারা কোথায় যাবে? তোমরা অনন্ত আগুনের মধ্যে যাও (মথি ২৫:৪১)।
তেমন কথা শুনে তারা ভীষণ কান্নায় ভেঙে পড়বে। কিন্তু অন্য এক সামসঙ্গীত এবিষয়ে কী বলে? ধার্মিকজন স্মরণীয় থাকবে চিরকাল, সে ভয় করে না কোন অশুভ সংবাদ (সাম ১১২:৬-৭)। এই অশুভ সংবাদ কী? আমার কাছ থেকে দূর হও! শয়তানের ও তার দূতদের জন্য যে অনন্ত আগুন প্রস্তুত করা হয়েছে, তার মধ্যে যাও (মথি ২৫:৪১)। শুভসংবাদের জন্য যে আনন্দ করবে, সে অশুভ সংবাদ ভয় করবে না—এই তো ন্যায্যতা, এই তো সত্য।
নাকি, তুমি ন্যায়বান না হওয়ায় বিচারকও কি ন্যায়বান হবেন না? তুমি মিথ্যাবাদী হওয়ায় সত্যও কি সত্যবাদী হবে না? কিন্তু যদি তাঁকে দয়াবান দেখতে ইচ্ছা কর, তবে তিনি আসবার আগে তুমি দয়াবান হও; কেউ তোমার প্রতি অপরাধী হলে তাকে ক্ষমা কর, তোমার প্রাচুর্য থেকে বিলিয়ে দাও। আর যা যা দান কর, তাঁর কাছ থেকে ছাড়া তা কার্‌ কাছ থেকেই বা আসে? তুমি যদি তোমার নিজের সম্পদ থেকেই দিতে, তবে তা ভিক্ষাই হত; কিন্তু যখন তাঁরই সম্পদ থেকে দিচ্ছ, তখন এই দেওয়া প্রকৃতপক্ষে ফেরত দেওয়া। আর তোমার এমন কীবা আছে যা পাওনি? (১ করি ৪:৭)। এগুলিই ঈশ্বরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বলি, যথা: দয়া, বিনম্রতা, স্বীকারোক্তি, শান্তি, ভালবাসা। এসো, তেমন দানগুলি সঙ্গে করে নিয়ে যাই, তবেই শান্ত মনে সেই বিচারকের আগমন অপেক্ষা করব, যিনি ন্যায্যতার সঙ্গে জগৎ, সত্যের নীতিতে জাতিগুলিকে বিচার করবেন (সাম ৯৬:১৩)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৭৩
ধুয়ো:
পরমেশ্বরের কাছে থাকাই আমার মঙ্গল;
আমি প্রভু পরমেশ্বরেই নিয়েছি আশ্রয়।

যখন অস্থির ছিল আমার মন,
যখন উদ্বিগ্ন ছিল আমার হৃদয়,
তখন আমি অবোধ অজ্ঞ ছিলাম,
তোমার সামনে ছিলাম পশুরই মত।   [ধুয়ো]

আমি কিন্তু নিরন্তর তোমার সঙ্গে আছি,
তুমি আমার ডান হাত ধারণ করে রাখ।
তোমার সুমন্ত্রণা দ্বারা তুমি আমায় চালনা কর,
আর শেষে তোমার আপন গৌরবে আমায় গ্রহণ করবে।   [ধুয়ো]

স্বর্গে আমার জন্য আর কেইবা থাকতে পারে?
তোমার সঙ্গে থেকে এ মর্তে আমার আর কোন বাসনা নেই।
আমার দেহ, আমার হৃদয় নিঃশেষিতও হতে পারে,
পরমেশ্বরই কিন্তু আমার হৃদয়ের শৈল, আমার স্বত্বাংশ চিরকাল।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার এ পবিত্র উপহার গ্রহণ ক’রে
আমরা বিনীত কণ্ঠে মিনতি জানাই:
তোমার পুত্র নিজের স্মরণার্থে যা সম্পাদন করতে আমাদের আজ্ঞা করেছেন,
তা যেন উজ্জ্বলতর ভক্তিতে ও ভ্রাতৃপ্রেমে সার্থকতা লাভ করে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]