সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
সাধারণকাল
• সাধারণকালের প্রথম সপ্তাহ প্রভুর বাপ্তিস্ম থেকে শুরু হয়।
• পরমপবিত্র ত্রিত্ব পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• খ্রিষ্টের পরমপবিত্র দেহরক্ত পরমপবিত্র ত্রিত্বের পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• পরমারাধ্য যিশুহৃদয় পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী দ্বিতীয় রবিবারের পরবর্তী শুক্রবারে পালিত হয়।
• বিশ্বরাজ আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট সাধারণকালের শেষ রবিবারে পালিত হয়।

রবিবার: ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ৩১ | ৩২ | ৩৩
সাধারণকালের মহাপর্বচতুষ্টয়: ত্রিত্ব | খ্রিষ্টের দেহরক্ত | যিশুহৃদয় | খ্রিষ্টরাজা

১৮শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার সেবকদের কাছে কাছে থাক, তাদের মিনতিতে সাড়া দাও:
তারা তো গর্বের সঙ্গে তোমাকে আপন স্রষ্টা ও পথদিশারী বলে স্বীকার করে,
তাই যা সৃষ্টি করেছ তা নবায়িত কর, ও যা নবায়িত করেছ তা সযত্নে রক্ষা কর।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
যাত্রাপুস্তক থেকে পাঠ (১৬:২-৪,১২-১৫)

সেসময়ে, মরুপ্রান্তরে, ইস্রায়েল সন্তানদের গোটা জনমণ্ডলী মোশি ও আরোনের বিরুদ্ধে গজগজ করল।
ইস্রায়েল সন্তানেরা তাঁদের বলল, ‘হায়, আমরা কেন মিশর দেশে প্রভুর হাতে মরিনি? তখন মাংসের হাঁড়ির কাছেই বসতাম, তৃপ্তির সঙ্গেই রুটি খেতাম। আর এখন তোমরা আমাদের বের করে এই উদ্দেশ্যেই এই মরুপ্রান্তরে এনেছ, যেন এই গোটা জনসমাবেশের সকলেই ক্ষুধায় মারা যায়!’
তখন প্রভু মোশিকে বললেন, ‘আমি তোমাদের জন্য স্বর্গ থেকে রুটি বর্ষণ করতে যাচ্ছি; লোকেরা বাইরে গিয়ে প্রতিদিন দিনের খাবার কুড়াবে, যেন আমি তাদের যাচাই করে দেখতে পারি, তারা আমার বিধানমতে চলে কিনা। আমি ইস্রায়েল সন্তানদের গজগজানি শুনেছি; তুমি তাদের বল, সূর্যাস্তের সময়ে তোমরা মাংস খাবে, ও সকালে তৃপ্তি সহকারে রুটি খাবে; তখন জানতে পারবে যে, আমিই প্রভু, তোমাদের পরমেশ্বর।’
সন্ধ্যাবেলায় ভারুই পাখি উড়ে এসে গোটা শিবির ঢেকে দিল, এবং সকালে শিবিরের চারদিকে জমাট শিশির পড়ে ছিল। পরে সেই জমাট শিশির উবে গেলে, সেখানে, মরুভূমির বুকেই কী যেন একটা পাতলা ঝুরোঝুরো জিনিস পড়ে রইল—মাটির উপরে তুষারকণার মত পাতলা কোন কিছু। তা দেখে ইস্রায়েল সন্তানেরা একে অপরকে বলল, ‘ওটা কী?’ কারণ তারা জানত না, জিনিসটা কি। তখন মোশি বললেন, ‘ওটা সেই রুটি, যা প্রভু তোমাদের খাবার জন্য দিয়েছেন।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৭৮
ধুয়ো:
প্রভু তাদের দিলেন
স্বর্গের গোধুম।

আমরা যা শুনেছি জেনেছি, আমাদের পিতৃগণ যা বর্ণনা করেছেন আমাদের কাছে,
আমরা তা গোপন রাখব না তাদের সন্তানদের কাছে;
আগামী যুগের মানুষের কাছে বর্ণনা করব প্রভুর প্রশংসা, তাঁর প্রতাপ,
সেই সব আশ্চর্য কাজ যা তিনি সাধন করলেন।   [ধুয়ো]

তিনি ঊর্ধ্বের মেঘপুঞ্জকে আজ্ঞা দিলেন,
খুলে দিলেন আকাশের যত দ্বার,
তাদের উপর খাদ্যরূপে বর্ষণ করলেন মান্না,
তাদের দিলেন স্বর্গের গোধুম।   [ধুয়ো]

মানুষ খেল শক্তিশালীদের রুটি,
তিনি তাদের কাছে পাঠালেন অপর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য;
তিনি তাঁর পবিত্র ভূমিতে তাদের নিয়ে গেলেন,
সেই পর্বতে যা তাঁর আপন ডান হাত করেছিল জয়।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৪:১৭,২০-২৪)

প্রিয়জনেরা, আমি বলছি, প্রভুতেই জোর দিয়ে বলছি: তোমরা বিধর্মীদের মত আর চলো না।
কেননা তোমরা খ্রিষ্টের বিষয়ে তেমন শিক্ষা পাওনি—অবশ্য যদি তাঁর কথা সত্যি শুনে থাক, ও তাঁর মধ্যে দীক্ষিত হয়ে থাক সেই সত্য অনুসারে যা যিশুতে নিহিত।
সেই শিক্ষা অনুসারে, আগেকার জীবনধারণ ছেড়ে তোমাদের সেই পুরাতন মানুষকে ত্যাগ করতে হবে, যে মানুষ প্রতারণাময় কামনা-বাসনায় ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পড়ছে; মনের নবপ্রেরণায় নিজেদের নবীকৃত করতে হবে, এবং সেই নতুন মানুষকে পরিধান করতে হবে, যে মানুষ ধর্মময়তা ও সত্যজনিত পুণ্যতায় ঈশ্বরের সাদৃশ্যে সৃষ্ট।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
মানুষ কেবল রুটিতে বাঁচবে না,
ঈশ্বরের মুখ থেকে যে প্রতিটি উক্তি নির্গত হয়, তাতেই বাঁচবে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:২৪-৩৫)

একদিন, যিশু কিংবা তাঁর শিষ্যেরা সেখানে আর কেউই ছিলেন না, লোকে তা বুঝতে পেরে সেই সব নৌকায় উঠে যিশুর অনুসন্ধানে কাফার্নাউমে চলল। তাঁকে সাগরের ওপারে খুঁজে পেয়ে তারা তাঁকে বলল, ‘রাব্বি, এখানে কবে এলেন?’
যিশু তাদের উত্তর দিয়ে বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি সত্যি বলছি, তোমরা চিহ্নগুলো দেখেছ বলেই যে আমাকে খুঁজছ তা নয়, সেই রুটি খেয়ে পরিতৃপ্ত হয়েছ বলেই আমাকে খুঁজছ। নশ্বর খাদ্যের জন্য কাজ করো না, বরং সেই খাদ্যেরই জন্য কাজ কর, যা অনন্ত জীবনের উদ্দেশে থেকে যায়, যা মানবপুত্রই তোমাদের দান করবেন; কারণ পিতা ঈশ্বর তাঁকেই নিজের মুদ্রাঙ্কনে চিহ্নিত করেছেন।’
তখন তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, ‘আমরা যেন ঈশ্বরের কাজ করতে পারি, তবে আমাদের কী করতে হবে?’ যিশু তাদের এই উত্তর দিলেন, ‘তিনি যাঁকে প্রেরণ করেছেন তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখা, এটিই ঈশ্বরের কাজ।’
তাই তারা তাঁকে বলল, ‘আপনি এমন কী চিহ্নকর্ম সাধন করতে যাচ্ছেন, যেন তা দেখতে পেয়ে আমরা আপনাকে বিশ্বাস করি? আপনি কী কাজ সাধন করতে যাচ্ছেন? আমাদের পিতৃপুরুষেরা মরুপ্রান্তরে মান্না খেয়েছিলেন, যেমনটি লেখা আছে, তিনি স্বর্গ থেকে রুটি তাদের খেতে দিলেন।’ যিশু তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি সত্যি বলছি: মোশিই যে স্বর্গ থেকে রুটি তোমাদের দান করেছেন তা নয়, আমার পিতাই স্বর্গ থেকে সত্যকার রুটি তোমাদের দান করছেন; কারণ যে রুটি স্বর্গ থেকে নেমে আসে ও জগৎকে জীবন দান করে, সেটিই ঈশ্বরের দেওয়া রুটি।’
তখন তারা তাঁকে বলল, ‘প্রভু, তেমন রুটি আমাদের সর্বদাই দান করুন!’ যিশু তাদের বললেন, ‘আমিই সেই জীবন-রুটি: যে কেউ আমার কাছে আসে, তার আর কখনও ক্ষুধা পাবে না, আর যে কেউ আমার প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার আর কখনও তেষ্টা পাবে না।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
১১৮ নং সামসঙ্গীতে বিশপ সাধু আম্ব্রোজের ব্যাখ্যা

আমি তুচ্ছ, আমি অবজ্ঞার বস্তু, তবু ভুলি না তোমার আদেশমালা (সাম ১১৯:১৪১)। আমি স্বর্গের মঙ্গলদানগুলির ধন্য সহভাগিতা লাভ করেছি। আমি ইতিমধ্যেই দিব্য ভোজের সম্মানে গৃহীত: আমার ভোজের পক্ষে বৃষ্টির জল কি ভূমির উদ্ভিদ কি গাছের ফলের প্রয়োজন হয় না। পিপাসা মেটানোর জন্য নদী কি জলাশয়ের সন্ধান করা দরকার হয় না: খ্রিষ্টই আমার খাদ্য, খ্রিষ্টই আমার পানীয়: ঈশ্বরেরই মাংস আমাকে বল দেয়, ঈশ্বরেরই রক্ত আমার পিপাসা মেটায়। পরিতৃপ্ত হবার জন্য আমি বাৎসরিক ফসলের অপেক্ষাও করি না, কারণ খ্রিষ্ট প্রতিদিন আমার কাছে নিজেকে নিবেদন করেন।
আমি প্রেমপূর্ণ ও ধর্মময় ভক্তিতে নিষ্ঠাবান হলে তবে আমাকে কিছুই ভয় করতে হবে না, কারণ আকাশের ঝড় কি মাটির অনুর্বরতা খ্রিষ্টের ফসল ক্ষতি করতে পারে না। আমার এমন বাসনা নেই যে, ভারুই পাখি আমার উপর বর্ষিত হবে—সেই যে ভারুই পাখি দেখে আমি আগে মুগ্ধ হতাম; এমন বাসনাও নেই যে, মান্না আমার উপর বর্ষিত হবে—সেই যে মান্না আমি অন্য খাদ্যের চেয়ে পছন্দ করতাম। কারণ পিতৃপুরুষেরা তা খেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের ক্ষুধা মেটেনি। আমার খাদ্য এমন যে, সেই খাদ্য যে গ্রহণ করে তার আর কখনও ক্ষুধা পাবে না; এ খাদ্য এমন যা দেহকে নয়, মানুষের হৃদয়কেই বলবান করে তোলে।
আমি আগে স্বর্গের রুটির কথা ভেবে মুগ্ধ হতাম; কেননা লেখা আছে, তিনি স্বর্গ থেকে রুটি তাদের খেতে দিলেন (যোহন ৬:৩১); তবু সেই রুটি আসল রুটি ছিল না; সেই রুটি ছিল ভাবী রুটির প্রতীক মাত্র। স্বর্গের রুটি, কিন্তু স্বর্গের প্রকৃত রুটিই পিতা আমার জন্য রাখলেন: আমার জন্য স্বর্গ থেকে ঈশ্বরের সেই রুটি নেমে এল যা জগৎকে জীবন দান করে। এই তো জীবন-রুটি: ফলে জীবনকে যে খায়, সে মরতে পারে না। কেননা জীবনকে যে খায় সে কেমন করে মরতে পারে? যার মধ্যে জীবনী-শক্তি রয়েছে, সে কেমন করে নিঃশেষিত হবে?
তবে তাঁর কাছে এসো, তৃপ্তির সঙ্গেই খাও, কারণ তিনি রুটি; তাঁর কাছে এসে পান কর, কারণ তিনি জলের উৎস; তাঁর কাছে এগিয়ে এসো, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, যেহেতু তিনি আলো; তাঁর কাছে এসো, তোমরা স্বাধীন হয়ে উঠবে, কারণ যেখানে প্রভুর আত্মা, সেখানে স্বাধীনতা (২ করি ৩:১৭); তাঁর কাছে এসো, তোমরা ক্ষমা পাবে, কারণ তিনি পাপমোচন। তোমরা কি জিজ্ঞাসা করছ, তিনি কে? শোন, তিনি নিজেই কথা বলছেন: আমিই সেই জীবন-রুটি: যে কেউ আমার কাছে আসে, তার আর কখনও ক্ষুধা পাবে না, আর যে কেউ আমার প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার আর কখনও তেষ্টা পাবে না (যোহন ৬:৩৫)। তোমরা তাঁকে শুনেছ, তাঁকে দেখেছ, অথচ তাঁর উপর বিশ্বাস রাখনি। এজন্যই তোমাদের মৃত্যু হয়েছে; এবার কিন্তু বিশ্বাস কর, যাতে জীবন পেতে পার। ঈশ্বরের দেহ থেকে আমার জন্য অনন্ত জলের উৎস নির্গত হল: খ্রিষ্ট আমার তিক্ততা পানীয়রূপে গ্রহণ করলেন যেন নিজ অনুগ্রহের মাধুর্য আমাকে দিতে পারেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১১১
ধুয়ো:
প্রভু, স্বর্গ থেকে আমাদের অর্পণ করেছ এমন রুটি,
যে রুটি যত তৃপ্তি এনে দিতে পারে, মেটাতে পারে যত রুচি।

যারা তাঁকে ভয় করে, তিনি তাদের খাদ্য দান করেন,
আপন সন্ধির কথা তিনি স্মরণে রাখেন চিরকাল।
বিজাতীয়দের উত্তরাধিকার তাঁর আপন জনগণকে দিয়ে
তিনি তাদের কাছে ব্যক্ত করেছেন আপন কর্মকীর্তির প্রতাপ।   [ধুয়ো]

তাঁর হাতের কর্মকীর্তি বিশ্বস্ততা ও ন্যায়বিচার-মণ্ডিত,
তাঁর সকল আদেশ বিশ্বাসযোগ্য,
তা দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত চিরদিন চিরকাল ধরে,
বিশ্বস্ততা ও ন্যায়নীতিতেই সাধিত।   [ধুয়ো]

তাঁর আপন জাতির কাছে তিনি মুক্তি পাঠিয়ে দিলেন,
আপন সন্ধি জারি করলেন চিরকালের মত;
তাঁর নাম পবিত্র, ভয়ঙ্কর,
প্রভুভয়ই প্রজ্ঞার সূত্রপাত।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার স্বর্গীয় উপহার দ্বারা যাদের নবায়িত কর,
অবিরতই তাদের প্রতিপালন কর;
যাদের নিয়তই যত্ন কর, তাদের চিরকালীন মুক্তি পাবার যোগ্য করে তোল।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৯শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, পবিত্র আত্মা দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েই
আমরা তোমাকে পিতা বলে ডাকবার সাহস করি।
মিনতি জানাই: আমাদের অন্তরে দত্তকপুত্রত্বের আত্মা পূর্ণ-বিকশিত কর,
আমরা যেন তোমার অঙ্গীকৃত উত্তরাধিকারে প্রবেশের যোগ্য হয়ে উঠি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
রাজাবলির প্রথম পুস্তক থেকে পাঠ (১৯:৪-৮)

সেসময়ে এলিয় এক দিনের পথ মরুপ্রান্তরে এগিয়ে এক রোতনগাছের তলায় গিয়ে বসলেন। মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষায় তিনি বললেন, ‘আর নয়, প্রভু! এবার আমার প্রাণ নাও; না, আমার পিতৃপুরুষদের চেয়ে আমি ভাল নই।’
আর সেই রোতনগাছের তলায় শুয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন; আর হঠাৎ এক স্বর্গদূত তাঁকে স্পর্শ করে বললেন, ‘ওঠ, খেয়ে নাও!’ তিনি তাকিয়ে দেখলেন, গরম পাথরে সেকা একখানা রুটি আর এক কুঁজো জল ওখানে তাঁর মাথার কাছে রয়েছে; তিনি খেয়ে নিয়ে আবার শুয়ে পড়লেন।
প্রভুর দূত আর একবার তাঁর কাছে এসে তাঁকে স্পর্শ করে বললেন, ‘ওঠ, খেয়ে নাও; নইলে যাত্রাপথ তোমার পক্ষে বেশি দীর্ঘ হবে।’ উঠে তিনি খেয়ে নিলেন, এবং সেই খাদ্যের প্রভাবে চল্লিশদিন চল্লিশরাত হেঁটে চলে পরমেশ্বরের পর্বত সেই হোরেবে এসে পৌঁছলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩৪
ধুয়ো:
আস্বাদন কর,
দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৪:৩০–৫:২)

প্রিয়জনেরা, যাঁর দ্বারা তোমরা মুক্তিলাভের দিনের উদ্দেশ্যে ঐশ মুদ্রাঙ্কনে চিহ্নিত হয়েছ, ঈশ্বরের সেই পবিত্র আত্মাকে তোমরা দুঃখ দিয়ো না।
যত অনিষ্টের সঙ্গে যত তিক্ততা, রোষ, ক্রোধ, কোলাহল ও নিন্দাও তোমাদের মধ্য থেকে দূর করা হোক। পরস্পরের প্রতি উদারমনা ও সহৃদয় হও, পরস্পরকে ক্ষমা কর, যেমন ঈশ্বরও খ্রিষ্টে তোমাদের ক্ষমা করেছেন।
অতএব, প্রিয় সন্তানের মত তোমরা ঈশ্বরের অনুকারী হও। ভালবাসায় চল, যেইভাবে খ্রিষ্টও আমাদের ভালবেসেছেন ও আমাদেরই জন্য ঈশ্বরের কাছে নৈবেদ্য ও সুরভিত বলিরূপে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমিই সেই জীবনময় রুটি, যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে
—একথা বলছেন প্রভু;
যদি কেউ এই রুটি খায়,
তবে সে অনন্তকাল জীবিত থাকবে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:৪১-৫১)

সেসময়ে ইহুদীরা যিশুর বিরুদ্ধে গজগজ করতে লাগল, যেহেতু তিনি বলেছিলেন, আমিই সেই রুটি, যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে; তারা বলছিল, ‘লোকটা কি যোসেফের ছেলে সেই যিশু নয়, যার মাতাপিতাকে আমরা জানি? তাহলে সে কেমন করে বলতে পারে, আমি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছি?’
উত্তরে যিশু তাদের একথা বললেন, ‘নিজেদের মধ্যে গজগজ করো না। পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি আকর্ষণ না করলে কেউই আমার কাছে আসতে পারে না, আর তাকেই আমি শেষ দিনে পুনরুত্থিত করব। নবীদের পুস্তকে লেখা আছে, তারা সকলে স্বয়ং ঈশ্বরের কাছ থেকে শিক্ষা পাবে। যে কেউ পিতার কাছ থেকে শুনেছে ও শিক্ষা পেয়েছে, সে-ই আমার কাছে আসে। কেউ যে পিতাকে দেখেছে, তা নয়, যিনি ঈশ্বরের কাছ থেকে আগত, কেবল তিনিই পিতাকে দেখেছেন। আমি তোমাদের সত্যি সত্যি বলছি, যে কেউ বিশ্বাস করে, সে অনন্ত জীবন পেয়ে গেছে।
আমিই সেই জীবন-রুটি। তোমাদের পিতৃপুরুষেরা মরুপ্রান্তরে মান্না খেয়েছিলেন, তবুও তাঁরা মারা গেছেন। এটিই সেই রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে আসছে, যেন মানুষ তা খেতে পারে আর মরে না যায়।
আমিই সেই জীবনময় রুটি, যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে: যদি কেউ এই রুটি খায়, তবে সে অনন্তকাল জীবিত থাকবে, আর আমি যে রুটি দান করব, তা আমার নিজের মাংস—জগতের জীবনের জন্য!’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে দৈৎজের মঠাধ্যক্ষ রুপার্টের ব্যাখ্যা

আমিই সেই জীবনময় রুটি, যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে: যদি কেউ এই রুটি খায়, তবে সে অনন্তকাল জীবিত থাকবে (যোহন ৬:৫১); কারণ যারা আমার পিতার নিমন্ত্রিত হয়েছিল, তাদের আদিপুরুষ যে নিষিদ্ধ খাদ্য খেয়েছিলেন, তারা সেই খাদ্যের কারণে মৃত্যু দ্বারা বিনষ্ট হয়েছিল; তাদের আত্মা এখন পাতালে, ও তাদের মৃতদেহ সমাধিতেই রয়েছে, আর স্বর্গদূতদের খাদ্য যে আমি, এই আমিও বিনষ্ট হব। আর যে খাদ্য স্বর্গদূতেরা খান, তা নিয়ে আমি সেই পাতালে নেমে যাব যেখানে আত্মাগুলো ক্ষুধার্ত, কিন্তু যেমন যোনা সেই প্রকাণ্ড মাছের পেটে তিন দিন তিন রাত যাপন করলেন, তেমনি দেহে আমি তিন দিন তিন রাত ধরে সেই পৃথিবীর মাটিগর্ভে লুকিয়ে থাকব যেখানে তাদের মৃতদেহ সমাহিত। এভাবে আত্মাগুলো ঈশ্বরের দর্শনের উদ্দেশে পুনঃসৃষ্ট হবে, এবং বহু মৃতদেহ এখন, আর অন্যান্য গুলো ভাবী যুগেই পুনরুজ্জীবিত হবে।
পরিশেষে, দেহে যারা এখনও এ নিম্নলোকে রয়েছে, তাদের কাছে এ রুটি এমনভাবে দান করা হবে যা জীবিতদের জন্যই উপযোগী, অর্থাৎ কিনা রুটি ও আঙুররসের সেই সত্যকার যজ্ঞে দান করা হবে, যা মেল্কিসেদেকের রীতি অনুসারে।
আর আমি যে রুটি দান করব, তা আমার নিজের মাংস—জগতের জীবনের জন্য (যোহন ৬:৫১)। এ তো সবচেয়ে মহা সান্ত্বনা সেই দীনহীনদের জন্য, যাদের কাছে পবিত্র আত্মা আমার উপর নেমে আসার সময়ে শুভসংবাদ প্রচার করতে আমাকে প্রেরণ করেছিলেন; যাচনা করে আমি পিতার কাছ থেকে যাদের উত্তরাধিকার ও সম্পদ রূপে পাব, পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত সেই সকল জাতির জন্য এ হবে সর্বোত্তম ও অতুলনীয় আনন্দের কারণ। আর যাদের কাছে পিতা আমাকে প্রেরণ করেছেন, তাদের পিতৃপুরুষদের চেয়ে তারা কম খাদ্য পাবে না—তারা এ জীবন-রুটিই পাবে যা পিতা নিজেই দান করেছেন ও আপন মুদ্রাঙ্কনে যা চিহ্নিত করেছেন। বস্তুতপক্ষে নিজেকে দিয়ে তাদের পরিতৃপ্ত করতে আমি তাদের কাছে নেমে যাবার পর, আরও, পাতাল আমাকে কামড় দেওয়ায় আমি নিজেই পাতালের কামড় ও তার গর্ভে নিহিত সেই মৃত্যুর মৃত্যু হওয়ার পর, আরও, জীবন ফিরিয়ে দিতে আমি সেই সকল ক্ষুধার্ত ধার্মিক ও পুণ্যজনদের কাছে এসে উপস্থিত হবার পর আমি, যারা বাকি রয়েছে, তাদের সেই রুটি দান করব, যে রুটির মধ্যে আমার নিজের মাংস বাস্তবরূপে উপস্থিত, অর্থাৎ সেই দেহকে দান করব, যে দেহ সেই প্রকাণ্ড মাছের পেট থেকে বেরিয়ে এসে রোগমুক্ত ও অক্ষুণ্ণ হয়ে পিতার ডান পাশে চিরকালের মত অবস্থান করবে। এ সংসারে জীবিত সকল মানুষ মানবোপযোগী ভাবে স্বর্গদূতদের খাদ্যই খেতে পারবে—আমি নিজেই তাদের এ খাদ্য দান করব, ও পিতা নিজেই এ খাদ্য তাদের সকলকে দান করে থাকবেন যারা এ পৃথিবীর আর নয়, তারা যেন তা খেয়ে পুনরুত্থান করতে পারে—এখন আত্মায়, শেষ দিনে দেহেও।
আর আমি যে রুটি দান করব, তা আমার নিজের মাংস—জগতের জীবনের জন্য (যোহন ৬:৫১)। আর পিতা সত্যিই স্বর্গদূতদের রুটি দান করলেন, সেই রুটি যেন দেহধারণ করে মৃতদের জীবন ফিরিয়ে দেবার জন্য মরতে পারে। এ স্বর্গীয় রুটি আমাদের পার্থিব এমন এক রুটি দান করে যা নিজের মাংসে মানুষকে রূপান্তরিত করে, যারা তা খায়, তারা যেন অনন্ত জীবন লাভ করতে পারে। এভাবে যিনি স্বর্গদূতদের রুটি, সেই বাণী যেমন মাংসে পরিণত না হয়ে বরং দেহধারণ করায়ই মাংস হলেন, তেমনি মাংস-হওয়া-বাণী এখন দৃশ্য রুটি হন—তিনি রুটিতে পরিণত হন এমন নয়, তিনি বরং সেই রুটি ধারণ করে তা নিজের ব্যক্তিত্বের ঐক্যেই স্থানান্তর করেন। ফলত, ব্যক্তিত্বের ঐক্য ক্ষেত্রে আমরা যেমন কুমারী মারীয়া থেকে জাত আমাদেরই মাংসে তাঁকে প্রকৃত ঈশ্বর বলে স্বীকার করি, তেমনি পূর্ণ ও কাথলিক বিশ্বাসের সঙ্গে আমরা স্বীকার করি যে, বাণীর অদৃশ্য ঈশ্বরত্ব দ্বারা নিজের মাংসে গৃহীত ও রূপান্তরিত এ দৃশ্য রুটি প্রকৃতপক্ষেই খ্রিষ্টের দেহ। কেননা তিনি বললেন: আমি যে রুটি দান করব, তা আমার নিজের মাংস—জগতের জীবনের জন্য; অর্থাৎ সাপ যে প্রাচীন খাদ্য খেতে প্ররোচনা দিয়েছিল, সেই খাদ্যসূচিত আদিপাপ বাপ্তিস্মে ধৌত করে মুক্তিপ্রাপ্ত জগৎ যেন তা খেয়ে জীবন পায়।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৪৭
ধুয়ো:
যেরুসালেম! প্রভুর মহিমাকীর্তন কর;
তিনি সেরা গমের ফসলে তোমাকে পরিতৃপ্ত করেন।

তিনি এ পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন তাঁর বচন,
তাঁর বাণী দ্রুত বেগে ছুটে যায়।
তিনি তুষার বিছিয়ে দেন গালিচার মত,
ছাইয়ের মত ছড়িয়ে দেন জমাট শিশির।   [ধুয়ো]

তিনি হিমকণা ছুড়ে দেন টুকরো টুকরো নুড়ির মত,
তেমন শীতে কেবা দাঁড়াতে পারে?
তিনি তাঁর বাণী পাঠিয়ে সেই সব বিগলিত করেন,
তিনি বাতাস বহালে জল প্রবাহিত হয়।   [ধুয়ো]

তিনি তাঁর আপন বাণী ঘোষণা করেন যাকোবের কাছে,
তাঁর সমস্ত বিধি ও সুবিচার ইস্রায়েলের কাছে।
অন্যান্য দেশের জন্য তাই করলেন, এমন নয়,
অন্য কেউ জানতে পারেনি তাঁর সমস্ত সুবিচার।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার সাক্রামেন্ত গ্রহণের ফলে আমরা যেন পরিত্রাণ পেয়ে
তোমার সত্যের আলোতে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত থাকি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২০শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, যারা তোমাকে ভালবাসে,
তাদের জন্য তুমি এমন মঙ্গল ব্যবস্থা করেছ যা দৃষ্টিশক্তির অতীত।
আমাদের হৃদয়ে তোমার ভালবাসার প্রেরণা সঞ্চার কর,
আমরা যেন সবকিছুতে ও সবকিছুর ঊর্ধ্বে তোমাকে ভালবেসে
তোমার সেই প্রতিশ্রুত মঙ্গলদানগুলি লাভ করতে পারি
যা আমাদের সমস্ত বাসনার অতীত।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রবচনমালা থেকে পাঠ (৯:১-৬)

প্রজ্ঞা তার নিজের গৃহ নির্মাণ করল,
তার সাতটা স্তম্ভ খোদাই করল;
পশু মারল, আঙুররস মিশিয়ে দিল,
শেষে সাজাল ভোজনপাট।
নিজ অনুচারিণী যুবতীদের পাঠিয়ে
সে শহরের সর্বোচ্চ স্থান থেকে ঘোষণা করল:
‘যে অনভিজ্ঞ, সে এখানেই আসুক,’
বুদ্ধিহীনকে সে বলে,
‘এসো তোমরা, আমার রুটি খাও,
পান কর সেই আঙুররস যা আমি মিশিয়ে দিলাম।
নির্বুদ্ধিতা ত্যাগ কর, তবেই বাঁচবে,
এগিয়ে চল সদ্বিবেচনার পথে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩৪
ধুয়ো:
আস্বাদন কর,
দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

প্রভুকে ভয় কর, তাঁর পবিত্রজন সকল,
যারা তাঁকে ভয় করে, তাদের তো নেই কোন কিছুর অভাব।
যুবসিংহেরা অভাবগ্রস্ত হয়ে ক্ষুধায় ভুগছে,
কিন্তু প্রভুর অন্বেষীদের নেই কোন মঙ্গলের অভাব।   [ধুয়ো]

এসো, সন্তানেরা, আমাকে শোন;
তোমাদের শেখাব প্রভুভয়—
কে সেই মানুষ, জীবনই যার অভিলাষ?
মঙ্গল দেখতে চায় ব’লে দীর্ঘায়ু যার আকাঙ্ক্ষা?   [ধুয়ো]

কুকর্ম থেকে তোমার জিহ্বা মুক্ত রাখ,
ছলনার কথা থেকে তোমার ওষ্ঠ,
পাপ থেকে সরে গিয়ে সৎকর্ম কর,
শান্তির অন্বেষণ ক’রে কর অনুসরণ।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৫:১৫-২০)

প্রিয়জনেরা, নিজেদের আচরণের উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখ; নির্বোধের মত নয়, সুবোধেরই মতই চল। বর্তমান সুযোগের সদ্ব্যবহার কর, কারণ আজকের দিনগুলি অমঙ্গলকর। এই কারণেই অবোধ হয়ো না, কিন্তু প্রভুর ইচ্ছা কী, তা বুঝতে চেষ্টা কর।
আঙুররস পানে মাতাল হয়ো না, কেননা আঙুররসে উচ্ছৃঙ্খলতা উপস্থিত; কিন্তু আত্মায় পরিপূর্ণ হও; সবাই মিলে সামসঙ্গীত, স্তুতিগান ও অধ্যাত্ম বন্দনাগান গেয়ে চল, সমস্ত হৃদয় দিয়ে বাদ্যের ঝঙ্কারে প্রভুর স্তুতিগান কর; সবসময় সবকিছুর জন্য আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের নামে পিতা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাও।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যে কেউ আমার মাংস খায় ও আমার রক্ত পান করে
—একথা বলছেন প্রভু;
সে আমাতে বসবাস করে
আর আমি তার অন্তরে বসবাস করি।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:৫১-৫৮)

একদিন যিশু উপস্থিত জনতাকে বললেন, ‘আমিই সেই জীবনময় রুটি, যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে: যদি কেউ এই রুটি খায়, তবে সে অনন্তকাল জীবিত থাকবে, আর আমি যে রুটি দান করব, তা আমার নিজের মাংস—জগতের জীবনের জন্য!’
এতে ইহুদীরা নিজেদের মধ্যে তর্ক করতে লাগল; তারা বলছিল, ‘লোকটা কী করে তার নিজের মাংসটা আমাদের খেতে দিতে পারে?’
যিশু তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি সত্যি বলছি, তোমরা যদি মানবপুত্রের মাংস না খাও ও তাঁর রক্ত পান না কর, তবে তোমাদের অন্তরে কোন জীবন নেই। যে কেউ আমার মাংস খায় ও আমার রক্ত পান করে, সে অনন্ত জীবন পেয়ে গেছে, আর আমি শেষ দিনে তাকে পুনরুত্থিত করব; কারণ আমার মাংস প্রকৃত খাদ্য ও আমার রক্ত প্রকৃত পানীয়।
যে কেউ আমার মাংস খায় ও আমার রক্ত পান করে, সে আমাতে বসবাস করে আর আমি তার অন্তরে বসবাস করি। যেভাবে জীবনময় পিতা আমাকে প্রেরণ করেছেন, আর আমি পিতারই জন্য জীবিত, সেইভাবে যে আমাকে খায়, সে আমার জন্যই জীবিত থাকবে।
এটিই সেই রুটি, যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে—পিতৃপুরুষেরা যা খেয়েছিলেন, এই রুটি সেই রুটির মত নয়, তাঁরা তো মারা গেছেন; যে কেউ এই রুটি খায়, সে অনন্তকাল জীবিত থাকবে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
যাত্রাপুস্তকে আলেক্সান্দ্রিয়ার বিশপ সাধু সিরিলের ব্যাখ্যা

যেভাবে জীবনময় পিতা আমাকে প্রেরণ করেছেন, আর আমি পিতারই জন্য জীবিত, সেইভাবে যে আমাকে খায়, সে আমার জন্যই জীবিত থাকবে। এটিই সেই রুটি, যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে—পিতৃপুরুষেরা যা খেয়েছিলেন, এই রুটি সেই রুটির মত নয়, তাঁরা তো মারা গেছেন; যে কেউ এই রুটি খায়, সে অনন্তকাল জীবিত থাকবে (যোহন ৬:৫৭-৫৮)।
আমি মনে করি, মান্না হল খ্রিষ্টের সেই শিক্ষা ও দানগুলির পরদা ও প্রতীক স্বরূপ, যেগুলি ঊর্ধ্ব থেকে আগত ও যেগুলিতে পার্থিব বলতে কিছু নেই, এমনকি যেগুলি নিম্নলোকের এ এখানকার ভক্তিহীনতার প্রতি সম্পূর্ণরূপে বিরুদ্ধ, ও মানুষদের শুধু নয়, স্বর্গদূতদেরও খাদ্য স্বরূপ। কেননা নিজেকে প্রকাশ করায় পুত্র আমাদের কাছে পিতাকেই প্রকাশ করেছেন, ও তাঁর মধ্য দিয়ে আমরা সেই সম্পর্ক বিষয় অবগত হয়েছি, যে সম্পর্ক পরমপবিত্র ও সমসত্তাসম্পন্ন ত্রিত্বের বুকে বিদ্যমান। এভাবে আমরা সদ্‌গুণের সমস্ত পথ ধরেই চালিত।
এ সমস্ত তত্ত্ব বিষয়ে সঠিক ও সরল জ্ঞান হল আমাদের আত্মার খাদ্য; আর প্রকৃতপক্ষে তেমন শিক্ষা দিবালোকেই খ্রিষ্ট দ্বারা অধিক মাত্রায় আমাদের দান করা হল।
মান্নাও পিতৃপুরুষদের কাছে দিবালোকে ও দিনের জ্যোতিতে দেওয়া হয়েছিল; কেননা—যেমনটি লেখা আছে—বিশ্বাসী এ আমাদের উপরে ইতিমধ্যে দিনের উদয় হয়েছে, ও প্রভাতী তারা সকলের হৃদয়ে আবির্ভূত হয়েছে (২ পি ১:১৯ দ্রঃ)। ধর্মময়তার সূর্য সেই খ্রিষ্ট আমাদের কাছে আত্মিক মান্না দান করেন, ও পার্থিব মান্নার বেলায় যা প্রতীক ছিল, এ মান্নার বেলায় তা বাস্তব।
একথা খ্রিষ্ট নিজেই তখন সপ্রমাণ করলেন, যখন ইহুদীদের একথা বললেন, তোমাদের পিতৃপুরুষেরা মরুপ্রান্তরে মান্না খেয়েছিলেন, তবুও তাঁরা মারা গেছেন (যোহন ৬:৪৯)। তিনিই সেই রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে আসছে, যে কেউ তা খায় তার যেন মৃত্যু না হয়: আমিই সেই জীবনময় রুটি, যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে: যদি কেউ এই রুটি খায়, তবে সে অনন্তকাল জীবিত থাকবে, আর আমি যে রুটি দান করব, তা আমার নিজের মাংস—জগতের জীবনের জন্য (যোহন ৬:৫১)। ভালবাসার আজ্ঞাগুলি ও নিজ দানগুলি দ্বারাই খ্রিষ্ট অনন্ত জীবনের জন্য আমাদের খাদ্য দান করেন। অতএব, তিনিই প্রকৃত মান্না—যে মান্না ঐশ্বরিক ও জীবনদায়ী।
এই রুটি যে খাবে, সে ভাবী ক্ষয়ের অধীন হবে না, মৃত্যুকেও এড়াবে; কিন্তু যাঁরা পার্থিব মান্না খেয়েছিলেন, তাঁদের বেলায় তা হয়নি, কারণ সেই মান্না পরিত্রাণের রুটি নয়, বাস্তবতার এক দৃষ্টান্তমাত্র ছিল। স্বর্গ থেকে মান্না বর্ষণ করিয়ে ঈশ্বর এ আদেশ দিয়েছিলেন, প্রত্যেকজন নিজ ক্ষুধা মেটাতে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু কুড়াবে; ইচ্ছা করলে সে নিজের তাঁবুর লোকদের জন্যও কুড়াতে পারবে: তোমরা প্রত্যেকজন যে যতটা খেতে পার, সেই অনুসারে তা কুড়িয়ে নাও; তোমরা প্রত্যেকজন নিজ নিজ তাঁবুর লোকসংখ্যা অনুসারে তা কুড়িয়ে নাও। তোমরা কেউ যেন সকাল পর্যন্ত এর কিছুই না রাখ (যাত্রা ১৬:১৬, ১৯)।
সুসমাচারের ঐশ্বরিক শিক্ষায় পরিপূর্ণ হওয়া আমাদের একান্ত প্রয়োজন। এজন্য খ্রিষ্ট ছোট বড় সকলেরই মধ্যে নিজ অনুগ্রহ সমানভাবে বিতরণ করলেন, আর তিনি সকলকেই জীবনের উদ্দেশে পরিপুষ্ট করে থাকেন। সকলের সঙ্গে তিনি দুর্বলদেরও একত্র করতে চান, কেননা তাঁর ইচ্ছাই, এক একজন ভাইদের জন্য শ্রম করবে, যাতে স্বর্গীয় অনুগ্রহের সহভাগী হবার জন্য সকলে পরস্পরকে সাহায্য করে। এবিষয়ে তিনি প্রেরিতদূতদের আ বলেছিলেন: তোমরা বিনামূল্যে পেয়েছ, বিনামূল্যেই দান কর (মথি ১০:৮)। এজন্য যাঁরা নিজেদের জন্য যা যা বেশি পেয়েছিলেন, তাঁরা তৎপরতার সঙ্গে নিজেদের তাঁবুর লোকদের মধ্যে তথা মণ্ডলীরই লোকদের মধ্যে তা বিতরণ করে দিলেন; বাস্তবিকই শিষ্যেরা খ্রিষ্টের কাছ থেকে যে অনুগ্রহ পেয়েছিলেন, সকলকেই পূর্ণমাত্রায় সেই অনুগ্রহের সহভাগী করতে করতে উপদেশ দানে দুর্বলদের চেতনা-বাণী দিতেন ও উচ্চতর বিষয়ের দিকে তাদের প্রেরণা দিতেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৩০
ধুয়ো:
প্রভুর কাছে রয়েছে কৃপা,
তাঁর কাছের মুক্তি মহান।

প্রভু, তুমি যদি লক্ষ কর সমস্ত অপরাধ,
কেইবা পারবে দাঁড়াতে, ওগো প্রভু?
তোমার কাছে কিন্তু আছে ক্ষমা,
মানুষ যেন তোমাকে ভয় করতে পারে।   [ধুয়ো]

প্রভু, আমি আশা রাখি;
আমার প্রাণ আশা রাখে; আমি তাঁর বাণীর প্রত্যাশায় আছি।
প্রহরীরা যেমন উষার জন্য, প্রহরীরা যেমন উষার জন্য,
তাদের চেয়ে প্রভুর জন্য অধিক ব্যাকুল আমার প্রাণ।   [ধুয়ো]

ইস্রায়েল, প্রভুর প্রতীক্ষায় থাক,
কারণ প্রভুর কাছে রয়েছে কৃপা, তাঁর কাছের মুক্তি মহান।
তিনি নিজেই ইস্রায়েলকে মুক্ত করবেন
তার সমস্ত অপরাধ থেকে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, বিনীত কণ্ঠে আমরা অনুনয় করি: এ সাক্রামেন্ত গ্রহণের ফলে
যখন খ্রিষ্টের সঙ্গে সহভাগিতা লাভ করেছি, তখন এই মর্তে
তাঁর সাদৃশ্যের অনুরূপ হয়ে যেন স্বর্গে তাঁর চির সঙ্গ লাভ করতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২১শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি তো তোমার ভক্তদের একমন একপ্রাণ করে তোল। কৃপা কর:
ভক্তির সঙ্গে তোমার আদেশ গ্রহণ ক’রে ও তোমার অঙ্গীকৃত শুভদান বাসনা ক’রে
তোমার জনগণ যেন এজগতের অস্থায়ী বিষয়বস্তুর মধ্যে
সেইদিকে চোখ নিবদ্ধ রাখে যেখানে প্রকৃত আনন্দ বিরাজিত।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
যোশুয়া পুস্তক থেকে পাঠ (২৪:১-২ক,১৫-১৭,১৮খ)

সেসময়ে যোশুয়া ইস্রায়েলের সকল গোষ্ঠীকে সিখেমে সংগ্রহ করলেন; পরে তিনি ইস্রায়েলের প্রবীণদের, জননেতাদের, বিচারকদের ও শাস্ত্রীদের কাছে আহ্বান করলেন; আর তাঁরা পরমেশ্বরের সাক্ষাতে এসে উপস্থিত হলেন।
তখন যোশুয়া সকল লোককে বললেন, ‘যদি প্রভুর সেবা করায় তোমাদের অসন্তোষ হয়, তাহলে যার সেবা করতে চাও, তাকে আজই বেছে নাও: নদীর ওপারে তোমাদের পিতৃপুরুষেরা যাদের সেবা করত, সেই দেবতারাই হোক, কিংবা যাদের দেশে তোমরা বাস করছ, সেই আমোরীয়দের দেবতারাই হোক; কিন্তু আমার ও আমার পরিবার-পরিজনদের ক্ষেত্রে—আমরা প্রভুরই সেবা করব।’
জনগণ উত্তরে বলল, ‘আমরা যে প্রভুকে ত্যাগ করে অন্য দেবতাদের সেবা করব, তা দূরে থাকুক! কেননা আমাদের পরমেশ্বর প্রভুই আমাদের ও আমাদের পিতৃপুরুষদের মিশর দেশ থেকে, দাসত্ব-অবস্থা থেকে বের করে এনেছেন, আমাদের চোখের সামনে সেই সকল মহা মহা চিহ্ন দেখিয়ে দিয়েছেন, এবং আমরা যে পথে এসেছি, সেই সকল পথে, ও যত জাতির মধ্য দিয়ে এসেছি, তাদের মধ্যে তিনিই আমাদের রক্ষা করেছেন। সুতরাং আমরাও প্রভুরই সেবা করব, কারণ তিনিই আমাদের পরমেশ্বর!’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩৪
ধুয়ো:
আস্বাদন কর,
দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

ধার্মিকদের উপর নিবদ্ধ প্রভুর চোখ,
তাদের চিৎকারের প্রতি তাঁর কান;
প্রভুর মুখ অপকর্মাদের প্রতিকূল
পৃথিবী থেকে তাদের স্মৃতি উচ্ছেদ করার জন্য।   [ধুয়ো]

ধার্মিকেরা চিৎকার করে, প্রভু শোনেন,
তাদের সকল সঙ্কট থেকে তাদের উদ্ধার করেন।
যারা ভগ্নহৃদয়, প্রভু তাদের কাছে কাছে থাকেন,
যাদের আত্মা বিচূর্ণ, তিনি তাদের পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

ধার্মিকের অনেক দুর্দশা আছে,
কিন্তু সেই সবকিছু থেকে প্রভু তাকে উদ্ধার করেন;
তিনি তার প্রতিটি হাড়ের যত্ন নেন,
সেগুলির একটাও ভগ্ন হবে না।   [ধুয়ো]

কুকর্ম ঘটায় দুর্জনের মৃত্যু,
যারা ধার্মিককে ঘৃণা করে, তারা দণ্ডিত হবে।
প্রভু তাঁর আপন দাসদের প্রাণমুক্তি সাধন করেন;
তাঁর আশ্রিতজন কেউই দণ্ডিত হবে না।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৫:২১-৩২)

প্রিয়জনেরা, খ্রিষ্টভয়ে পরস্পরের প্রতি অনুগত হও। বধূরা প্রভুর প্রতি যেমন, তেমনি তাদের স্বামীর প্রতি যেন অনুগত হয়; কারণ স্বামী স্ত্রীর মাথা, খ্রিষ্টও যেমন মণ্ডলীর মাথা—তিনিই তার দেহের পরিত্রাতা। এবং মণ্ডলী যেমন খ্রিষ্টের অনুগত, বধূরাও তেমনি সব ক্ষেত্রে যেন তাদের স্বামীর অনুগত হয়।
স্বামীরা, তোমরা তোমাদের স্ত্রীকে ঠিক তেমনই ভালবাস, খ্রিষ্টও যেমন মণ্ডলীকে ভালবাসলেন ও তার জন্য নিজেকে সঁপে দিলেন জলপ্রক্ষালনে বচন দ্বারা পরিশুদ্ধ ক’রে তাকে পবিত্র করে তোলার জন্য, যেন নিজের সামনে গৌরবে বিভূষিতা এমন মণ্ডলীকে উপস্থিত করতে পারেন, যার কোন কলঙ্ক বা বলিরেখা বা অন্য ধরনের খুঁত নেই, বরং পবিত্র ও নিষ্কলঙ্কই এক মণ্ডলী।
তেমনিভাবে স্বামীদেরও তাদের স্ত্রীকে নিজেদের দেহ বলে ভালবাসা কর্তব্য, কেননা স্ত্রীকে যে ভালবাসে, সে নিজেকেই ভালবাসে। কেউই তো কখনও নিজের দেহকে ঘৃণা করে না, বরং সকলে তার পুষ্টিসাধন করে, তার প্রতি যত্নবান থাকে—খ্রিষ্টও যেমন মণ্ডলীর প্রতি করে থাকেন, কারণ আমরা তাঁর দেহের অঙ্গ।
এজন্য মানুষ তার পিতামাতাকে ত্যাগ করে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হবে এবং সেই দু’জন একদেহ হবে।
এই রহস্য মহান, কিন্তু আমি খ্রিষ্ট ও মণ্ডলীর দিকে অঙুলি নির্দেশ করেই একথা বললাম।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তোমার সমস্ত কথাই আত্মা, প্রভু; তোমার সমস্ত কথাই জীবন।
অনন্ত জীবনের কথা তোমার কাছেই রয়েছে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:৬০-৬৯)

সেসময়ে, যিশুর উপদেশ শোনার পর তাঁর শিষ্যদের মধ্যে অনেকে বললেন, ‘এ কথা কঠিন! তা কে শুনতে পারে?’
কিন্তু যিশু মনে মনে জানতেন, তাঁর শিষ্যেরা নিজেদের মধ্যে এবিষয়ে গজগজ করছিলেন; তাঁদের বললেন, ‘এ কি তোমাদের পতনের কারণ? তবে মানবপুত্র আগে যেখানে ছিলেন, তোমরা যখন তাঁকে সেখানে আরোহণ করতে দেখবে, তখন কীবা বলবে? আত্মাই জীবনদায়ী, মাংস কোন কাজের নয়। যে সমস্ত কথা আমি তোমাদের বলছি, সেই কথাই আত্মা, সেই কথাই জীবন। কিন্তু তোমাদের মধ্যে এমন কয়েকজন রয়েছে, যারা বিশ্বাস করে না।’
কেননা যিশু প্রথম থেকেই জানতেন, কারা বিশ্বাসহীন এবং তাঁর প্রতি কে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। তিনি আরও বললেন, ‘এজন্যই আমি তোমাদের বলেছি, কেউই আমার কাছে আসতে পারে না, যদি পিতার কাছ থেকেই তাকে এমনটি দেওয়া না হয়।’
এরপর থেকে তাঁর শিষ্যদের মধ্যে অনেকে পিছিয়ে পড়ে চলে গেলেন, তাঁর সঙ্গে আর যেতেন না।
তখন যিশু সেই বারোজনকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরাও কি চলে যেতে চাও?’ সিমোন পিতর তাঁকে উত্তর দিয়ে বললেন, ‘প্রভু, আমরা আর কার্‌ কাছেই বা যাব? অনন্ত জীবনের কথা আপনার কাছেই রয়েছে। আর আমরা বিশ্বাস করেছি, জানতেও পেরেছি, আপনিই ঈশ্বরের সেই পবিত্রজন।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
ক্যাণ্টারবেরির বিশপ বাল্ডুইন-লিখিত ‘বেদির সাক্রামেন্ত’

খ্রিষ্টের শিষ্যদের মধ্যে বিশ্বাসী ছিল, অবিশ্বাসীও ছিল; অবিশ্বাসীদের মধ্যে সেই যুদাই অন্যতম, ইহুদীদের হাতে তাঁকে যার ধরিয়ে দেবার কথা। খ্রিষ্ট সকলকেই জানতেন, কে কে বিশ্বাসী, কে কে অবিশ্বাসী, কে তাঁকে ধরিয়ে দেবে, কে কে একসময় তাঁর সঙ্গ ছেড়ে চলে যাবে। কিন্তু যারা একসময় তাঁকে ছাড়বে, তারা চলে যাওয়ার আগেই তিনি দেখালেন, বিশ্বাস সকলেরই নয়, কিন্তু তাদেরই, পিতা যাদের তাঁর কাছে আসতে দিয়েছেন। কেননা রক্তমাংস নয়, স্বর্গস্থ পিতাই বিশ্বাস-রহস্য প্রকাশ করতে সক্ষম। তিনি কাউকে বিশ্বাস করতে দেন, আবার কাউকে দেন না। কেনই বা তিনি দেন না, এর কারণ তিনিই জানেন, তা জানতে আমাদের দেওয়া হয় না; এবং তেমন বোধাতীত ও রহস্যময় ব্যাপারের সামনে আমরা মুগ্ধ হয়ে একথা না বলে পারি না, আহা! কতই না গভীর ঈশ্বরের ঐশ্বর্য, প্রজ্ঞা ও জ্ঞান! কতই না দুর্জ্ঞেয় তাঁর বিচার সকল, সন্ধানের অতীত তাঁর কর্মপথ (রো ১১:৩৩)।
অবিশ্বাসী শিষ্যদের অনেকে পিছনে চলে গেল—কিন্তু খ্রিষ্টের পিছনে নয়, শয়তানেরই পিছনে! তাই যাঁরা থেকে গেছিলেন, যিশু সেই বারোজনকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরাও কি চলে যেতে চাও? সিমোন পিতর তাঁকে উত্তর দিয়ে বললেন, প্রভু, আমরা আর কার্‌ কাছেই বা যাব? (যোহন ৬:৬৭-৬৮)। আপনার কাছ থেকে দূরে গেলে আমরা কোথায় বা জীবন, সত্য, জীবন-প্রণেতা ও তেমন সত্যগুরুর সন্ধান পাব? অনন্ত জীবনের কথা আপনার কাছেই রয়েছে (যোহন ৬:৬৮)। আমরা আপনার বাণী শ্রবণে নিবিষ্ট থাকলে ও বিশ্বাসের সঙ্গে তা বুকে গেঁথে রাখলে সেই বাণী অনন্ত জীবন দান করবে। আপনার দেহ ও রক্ত আমাদের নিবেদন করে আপনি নিজের বাণীতেই তো অনন্ত জীবনের প্রতিশ্রুতি দেন। আর আপনার বাণীর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে আমরা বিশ্বাস করেছি, জানতেও পেরেছি, আপনিই ঈশ্বরের সেই পবিত্রজন (যোহন ৬:৬৯); অর্থাৎ, আপনি নিজেই অনন্ত জীবন, এবং আপনি যা, তা ছাড়া আপনি আপনার দেহ ও রক্তে অন্য কিছু দেন না। তবে তিনি বললেন, আমরা বিশ্বাস করেছি, জানতেও পেরেছি, আপনিই ঈশ্বরের সেই পবিত্রজন; অর্থাৎ আপনি ঈশ্বরের পুত্র, ফলে অনন্ত জীবনের বাণী আপনারই কাছে রয়েছে, আর আপনি যা কিছু বলেছেন, তা সত্য। অন্য কথায়, আপনি যে বলেছেন, আপনার মাংস খাওয়া দরকার, ও আপনার রক্ত পান করা দরকার, তা আমরা সত্য বলে বিশ্বাস ও স্বীকার করি, কেননা আপনি সেই খ্রিষ্ট, ঈশ্বরের পুত্র। তিনি বলেননি, ‘আমরা জেনেছি ও বিশ্বাস করেছি’, কিন্তু ‘আমরা বিশ্বাস করেছি ও জেনেছি’; এতে আমরা অনুমান করি যে, তেমন জ্ঞান বিশ্বাসের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গেই বৃদ্ধি পায়—আর তেমন বিশ্বাস বিষয়ে লেখা আছে, তোমরা বিশ্বাস না করলে সুস্থির হয়ে দাঁড়াতে পারবে না (ইসা ৭:৯)।
বিশ্বাস নিজেই একপ্রকার জ্ঞান—তাদেরও পক্ষে, যারা সরলভাবে বিশ্বাস করে ও তার তত্ত্ব বুঝতে অক্ষম। কিন্তু তত্ত্বে ব্যক্ত জ্ঞান তাদেরই, যাদের ধীশক্তি বিশ্বাস-প্রমাণ-গবেষণাতে অধিক অভ্যস্ত, অর্থাৎ তাদেরই, যারা তাদের উত্তর দিতে নিত্যই প্রস্তুত (১ পি ৩:১৫), যারা আমাদের অন্তরঙ্গ বিশ্বাস ও প্রত্যাশার কারণ জিজ্ঞাসা করে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১০৪
ধুয়ো:
প্রভু, তোমার কর্মের ফলভারে পৃথিবী পরিতৃপ্ত হয়:
ভূমি থেকে তুমি সেই রুটি ও আঙুররস বের করে আন, যা আনন্দিত করে মানুষের অন্তর।

গিরিখাতে তুমি জলের উৎসধারা উচ্ছলিত করলে,
গিরিমালার মাঝখান দিয়ে সেই ধারা করে চলাচল;
সকল বন্যজন্তু পান করে সেই উৎসের জল,
সেখানে তৃষ্ণা মেটায় বন্য গর্দভের দল।   [ধুয়ো]

হে প্রভু,
কী অগণন তোমার কর্মকীর্তি!
প্রজ্ঞার সঙ্গেই নির্মাণ করেছ এ সবকিছু,
তোমার কর্মরচনায় পৃথিবী পরিপূর্ণ।   [ধুয়ো]

তুমি শ্রীমুখ লুকিয়ে রাখ, তারা সন্ত্রাসিত হয়ে পড়ে,
তুমি তাদের প্রাণবায়ু ফিরিয়ে নাও, তারা মরে, ধুলায় ফিরে যায়।
তুমি নিজ প্রাণবায়ু পাঠিয়ে দাও, তারা সৃষ্ট হয়,
এভাবেই তুমি ধরণীর মুখ নবীন করে তোল।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার দয়ার প্রতিকার এই সাক্রামেন্ত
আমাদের অন্তরে পূর্ণ সার্থকতা লাভ করুক:
প্রসন্ন হয়ে আমাদের বলবান করে সুস্থির কর,
যেন সমস্ত কিছুতেই তোমার গ্রহণযোগ্য হতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২২শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, উত্তম যা কিছু আছে, তুমিই তার উৎস!
আমাদের অন্তরে তোমার নামের প্রতি শ্রদ্ধা জাগিয়ে তোল,
ভক্তিও গভীরতর কর, যাতে আমাদের অন্তরে শুভ যা কিছু আছে
তা তুমি নিজে বিকশিত করতে পার,
ও যা বিকশিত করেছ তা সযত্নে রক্ষা করতে পার।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
দ্বিতীয় বিবরণ থেকে পাঠ (৪:১-২,৬-৮)

মোশি জনগণকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘এখন, ইস্রায়েল, মনোযোগ দিয়ে শোন সেই সমস্ত বিধি ও নিয়মনীতি যা আমি তোমাদের শিখিয়ে দিচ্ছি, যেন তা পালন করে তোমরা বাঁচতে পার, এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদের পরমেশ্বর প্রভু যে দেশ তোমাদের দিচ্ছেন, তোমরা যেন সেই দেশে প্রবেশ করে তা অধিকার করতে পার। আমি তোমাদের যা কিছু আজ্ঞা করি, সেই বাণীতে তোমরা আর কিছুই যোগ করবে না, কিছুই বাদও দেবে না। আমি তোমাদের জন্য যে সমস্ত আদেশ জারি করছি, তোমাদের পরমেশ্বর প্রভুর সেই সকল আজ্ঞা পালন করবে। তোমরা সেগুলোকে মেনে চলবে ও পালন করবে, কেননা জাতিগুলোর সামনে তা-ই হবে তোমাদের প্রজ্ঞা ও সুবুদ্ধির পরিচয়; এই সমস্ত বিধির কথা শুনে তারা বলবে: এই মহাজাতির মানুষই একমাত্র প্রজ্ঞাবান ও সুবুদ্ধিসম্পন্ন লোক।
আসলে, এমন কোন্‌ বড় দেশ আছে, যার দেব-দেবীরা তার তত নিকটবর্তী, আমাদের পরমেশ্বর প্রভু আমাদের যত নিকটবর্তী যখনই আমরা তাঁকে ডাকি? আর আমি আজ তোমাদের সামনে যে সমস্ত বিধান তুলে ধরলাম, এমন কোন্‌ বড় দেশ আছে, যার বিধি ও নিয়মনীতি তেমনি ধর্মসম্মত?’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৫
ধুয়ো:
কে তোমার তাঁবুতে
আতিথ্য পাবে, প্রভু?

যার আচরণ নিখুঁত,
যার কাজ ধর্মময়,
অন্তর থেকে যে সত্য কথা বলে,
যার জিহ্বায় কুৎসা নেই,   [ধুয়ো]

বন্ধুর যে করে না অপকার,
প্রতিবেশীকে যে দেয় না অপবাদ,
যার দৃষ্টিতে ভ্রষ্ট মানুষ অবজ্ঞার পাত্র,
কিন্তু প্রভুভীরুকে যে সম্মান করে,   [ধুয়ো]

সুদে যে টাকা দেয় না,
নির্দোষের বিরুদ্ধে যে নেয় না কোন ঘুষ,
এমনই যার আচরণ,
সে টলবে না কোনদিন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যাকোবের পত্র থেকে পাঠ (১:১৭-১৮,২১খ-২২,২৭)

প্রিয়জনেরা, উত্তম যত উপহার এবং নিখুঁত যত দান ঊর্ধ্বলোক থেকে আসে, জ্যোতির্মণ্ডলের সেই পিতা থেকেই নেমে আসে, যাঁর মধ্যে কোন রূপান্তর নেই, পরিবর্তনের ছায়াও নেই। নিজের ইচ্ছায় তিনি বাণী দ্বারা আমাদের জন্ম দিয়েছেন, যেন আমরা তাঁর সমস্ত সৃষ্টবস্তুর এক প্রকার প্রথমফসল হতে পারি।
তোমাদের অন্তরে সেই রোপিত বাণীকে সাদরে গ্রহণ কর, যা তোমাদের প্রাণের পরিত্রাণ সাধন করতে সক্ষম। তোমরা বাণীর সাধক হও, নিজেদের প্রবঞ্চনা করে শ্রোতামাত্র হয়ো না।
আমাদের পিতা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে শুদ্ধ ও নিষ্কলঙ্ক ধর্মাচরণ এ: এতিম ও বিধবাদের দুঃখকষ্টের দিনে তাদের সহায়তা করা এবং সংসারের কলুষ থেকে নিজেকে অকলুষিত রক্ষা করা।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
নিজের ইচ্ছায় পিতা বাণী দ্বারা আমাদের জন্ম দিয়েছেন,
যেন তাঁর সমস্ত সৃষ্টবস্তুর প্রথমফসল হতে পারি।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৭:১-৮,১৪-১৫,২১-২৩)

সেসময়ে ফরিসিরা ও কয়েকজন শাস্ত্রী যেরুসালেম থেকে এসে যিশুর কাছে সমবেত হলেন।
তাঁরা লক্ষ করলেন, তাঁর কয়েকজন শিষ্য অশুচি হাতে অর্থাৎ হাত না ধুয়ে খাবার খাচ্ছেন—ফরিসি ও ইহুদীরা সকলে প্রাচীনদের পরম্পরাগত বিধিনিয়ম পালন করায় ভাল করে হাত না ধুয়ে খেতে বসে না; আর বাজার থেকে এলে তারা নিজের গায়ে জল না ছিটিয়ে খেতে বসে না; এবং আরও অনেক পালনীয় নিয়ম পালন করে থাকে, যথা, ঘটিবাটি ও পেতলের বাসনপত্র ধুয়ে নেবার রীতি—তবে সেই ফরিসিরা ও শাস্ত্রীরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেন আপনার শিষ্যেরা প্রাচীনদের পরম্পরাগত বিধিনিয়ম অনুসারে চলে না, কিন্তু অশুচি হাতে খেতে বসে?’ আর তিনি তাঁদের বললেন, ‘ভণ্ড এই আপনাদের বিষয়ে নবী ইসাইয়া সঠিক বাণীই দিয়েছিলেন, যেমনটি লেখা আছে:
এই জাতির মানুষেরা ওষ্ঠেই আমার সম্মান করে,
কিন্তু এদের হৃদয় আমা থেকে দূরে রয়েছে;
এরা বৃথাই আমাকে উপাসনা করে,
যে শিক্ষা দিয়ে থাকে তা মানুষের আদেশ মাত্র।
আপনারা ঈশ্বরের আজ্ঞা সরিয়ে দিয়ে মানুষের পরম্পরাগত বিধিনিয়ম ধরে রয়েছেন।’
লোকদের আবার কাছে ডেকে তিনি বললেন, ‘তোমরা সকলে আমার কথা শোন ও বুঝে নাও: মানুষের বাইরে এমন কিছুই নেই যা তার ভিতরে গিয়ে তাকে কলুষিত করতে পারে; কিন্তু যা কিছু মানুষ থেকে বের হয়, সেই সবই মানুষকে কলুষিত করে। কেননা ভিতর থেকে, মানুষের হৃদয় থেকেই যত দুরভিসন্ধি বেরিয়ে আসে: বেশ্যাগমন, চুরি, নরহত্যা, ব্যভিচার, লোভ, দুষ্টতা, প্রতারণা, যৌন উচ্ছৃঙ্খলতা, ঈর্ষা, পরনিন্দা, অহঙ্কার ও মতিভ্রম; এসব দুষ্টতাই ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে ও মানুষকে কলুষিত করে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু ইরেনেউস-লিখিত ‘ভ্রান্তমতের বিরুদ্ধে’

গুরুজনদের নিজেদের পরম্পরাগত বিধি, যা ফরিসিরা কেমন যেন বিধান থেকেই আগত বলে পালন করার ভান করছিল, মোশির দেওয়া বিধান-বিরুদ্ধ ছিল। এজন্য ইসাইয়া, তোমার উৎকৃষ্ট আঙুররস জলে মেশানো (ইসা ১:২২) একথা বলে দেখিয়েছিলেন যে গুরুজনেরা ঈশ্বরের কড়া নির্দেশের সঙ্গে জল-মেশানো অর্থাৎ বিকৃত ও বিধান-বিরুদ্ধ বিধি মিশিয়ে দিয়েছিল, যেমনটি প্রভু সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে বললেন, তোমাদের পরম্পরাগত বিধি পালনের জন্য তোমরা কতই না সুন্দর ভাবে ঈশ্বরের আজ্ঞা এড়াতে পার (মার্ক ৭:৮, ৯)। আর তারা কেবল আঙুররসের সঙ্গে জল মিশিয়ে অর্থাৎ কেবল বিধান লঙ্ঘন করায়ই যে ঈশ্বরের বিধান ব্যর্থ করল এমন নয়; ঈশ্বরের বিধান-বিরুদ্ধ নিজেদের একটা বিধান জারি করায়ও তারা ঈশ্বরের বিধান ব্যর্থ করল—এমন বিধান যা আজও ফরিসীয় বিধান বলে পরিচিত। তেমন বিধান থেকে তারা কিছু বের করে, আবার তার মধ্যে কিছু দেয়, আবার নিজেদের ইচ্ছামত ব্যাখ্যা দেয়: আর তাদের পণ্ডিতেরা এক একজন নিজের মত অনুসারে এসব কিছু ব্যবহার করে।
এ সমস্ত পরম্পরাগত বিধি সমর্থন করার চেষ্টায়, ঈশ্বরের যে বিধান খ্রিষ্টের আগমনের জন্য তাদের প্রস্তুত করতে পারত, তারা তার প্রতি বাধ্যতা দেখাতে চাইল না; আর শুধু তা নয়, প্রভু বিশ্রামবারে মানুষকে নিরাময় করলে তারা তাঁকে ভর্ৎসনাও করত, অথচ বিধান বিশ্রামবারে মানুষকে নিরাময় করতে নিষেধ করতই না, এমনকি বিধানে বিশেষ একটা অনুবিধি ছিল যাতে বিশ্রামবারে মানুষকে পরিচ্ছেদিত করা যায়। অথচ বিধানের প্রধান নির্দেশ, তথা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসার নির্দেশ তুচ্ছ করায় তারা যে সেই পরম্পরাগত বিধি ও সেই ফরিসীয় বিধানের খাতিরে ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করছিল, এর জন্য তারা নিজেদের ভর্ৎসনা করত না। কেননা ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসাই প্রথম ও সর্বপ্রধান আজ্ঞা; আর দ্বিতীয় প্রধান আদেশ হল প্রতিবেশীকে ভালবাসা। প্রভু শিক্ষা দিলেন যে, সমস্ত বিধান ও নবী-পুস্তকের শিক্ষা এ আজ্ঞা দু’টোতেই অন্তর্ভুক্ত (মথি ২৩:৩৭)। তিনি নিজেও এর চেয়ে বড় কোন আজ্ঞা দিতে আসেননি, তিনি আজ্ঞাটি কেবল নবীকৃতই করে আপন শিষ্যদের বললেন, তারা যেন ঈশ্বরকে সমস্ত শক্তি দিয়ে ভালবাসে ও প্রতিবেশীকে নিজেরই মত ভালবাসে। ধন্য পলও বলেন যে, ভালবাসাই বিধানের পূর্ণতা (রো ১৩:১০), এবং সবকিছু লোপ পেলে তিনটে জিনিস থেকে যায়—বিশ্বাস, আশা ও ভালবাসা; এগুলির মধ্যে ভালবাসাই শ্রেষ্ঠ (১ করি ১৩:১৩)। ভালবাসা না থাকলে জ্ঞান কি রহস্য-উপলব্ধি কি বিশ্বাস কি ভাববাণী দেওয়ার ক্ষমতাও ঈশ্বরের দৃষ্টিতে মূল্যহীন: ভালবাসা বিনা সবকিছু শূন্য ও অসার। অপরদিকে ভালবাসা অর্জন করে মানুষ সিদ্ধপুরুষ হয়, আর ঈশ্বরকে যে ভালবাসে, সে এ যুগেও সিদ্ধতা-প্রাপ্ত, ভাবী যুগেও সিদ্ধতা-প্রাপ্ত; কেননা ঈশ্বরকে ভালবাসলে আমাদের বিনাশ হয় না, বরং তাঁকে যতখানি উপলব্ধি করব, ততখানি তাঁকে ভালবাসব।
যখন বিধানে ও সুসমাচারে প্রথম ও প্রধান আজ্ঞা হল ঈশ্বরকে সমস্ত শক্তি দিয়ে ভালবাসা, এবং প্রথম আজ্ঞার মত দ্বিতীয় আজ্ঞা হল প্রতিবেশীকে নিজেরই মত ভালবাসা, তখন একথা স্পষ্ট দাঁড়ায় যে, বিধান ও সুসমাচারের প্রণেতা এক; কেননা উভয় সন্ধিতে সংক্ষেপিত জীবন-আজ্ঞা দু’টো সমান হওয়ায় একই ঈশ্বরকে প্রকাশ করে। তিনি এক একটা সন্ধির জন্য তার উপযোগী নানা আজ্ঞা জারি করলেন; কিন্তু যে আজ্ঞাগুলি বাদ দিলে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়, সেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উৎকৃষ্ট আজ্ঞাগুলি তিনি উভয় সন্ধিতেই উপস্থিত করলেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩১
ধুয়ো:
কতই না মহান তোমার সেই মঙ্গলময়তা, প্রভু,
যা তাদের জন্য তুমি সঞ্চিত রাখ যারা ভয় করে তোমায়।

তোমার দাসের উপর শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তোল,
তোমার কৃপায় ত্রাণ কর আমায়।
তোমাকে ডেকেছি, প্রভু!
আমি লজ্জায় না পড়ি যেন;   [ধুয়ো]

মানুষের চক্রান্ত থেকে তুমি আপন শ্রীমুখের নিভৃতে তাদের লুকিয়ে রাখ,
জিভের আক্রমণ থেকে তুমি আপন কুটিরেই তাদের নিরাপদে রাখ।
ধন্য প্রভু! সুরক্ষিত নগরে আমার জন্য
তিনি সাধন করলেন তাঁর কৃপার আশ্চর্য কীর্তি।   [ধুয়ো]

বিহ্বল হয়ে আমি বলেছিলাম,
‘তোমার দৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন আমি,’
তবু যখন তোমার কাছে চিৎকার করলাম,
তুমি তখন শুনলে আমার মিনতির কণ্ঠ।   [ধুয়ো]

প্রভুকে ভালবাস, তাঁর ভক্তজন সবাই, প্রভু আপন বিশ্বস্তদের রক্ষা করেন,
কিন্তু অহঙ্কারীর উপর অপর্যাপ্ত প্রতিফল দেন।
শক্ত হও, অন্তর দৃঢ় করে তোল তোমরা,
তোমরা সকলে, যারা প্রভুর প্রত্যাশায় আছ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, স্বর্গীয় ভোজের খাদ্য গ্রহণে পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে তোমাকে অনুনয় করি:
এই সাক্রামেন্তের গুণে তোমার প্রতি ভক্তিতে আমাদের নিষ্ঠাবান কর,
ভ্রাতৃসেবার মধ্য দিয়ে তোমার সেবা করতে আমাদের অনুপ্রাণিত কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৩শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তোমা থেকেই আগত মুক্তি, তোমা থেকেই অর্পিত দত্তকপুত্রত্ব।
প্রসন্ন হয়ে তোমার এ প্রিয় সন্তানদের যাচনা গ্রহণ কর,
সকল খ্রিষ্টবিশ্বাসী যেন ভোগ করতে পারে প্রকৃত স্বাধীনতা, চিরন্তন উত্তরাধিকার।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৩৫:৪-৭ক)

ভীরুহৃদয়দের বল: ‘সাহস ধর, ভয় করো না;
এই যে তোমাদের পরমেশ্বর!
ঐশ্বরিক প্রতিদান সেই প্রতিশোধ আসছে।
তিনি তোমাদের ত্রাণ করতে আসছেন।’
তখন অন্ধের চোখ খুলে যাবে,
বধিরের কান উন্মোচিত হবে।
খোঁড়া মানুষ হরিণের মত লাফ দেবে,
বোবার মুখ আনন্দচিৎকার করবে,
কারণ প্রান্তরে জলধারা উৎসারিত হবে,
মরুভূমিতে খরস্রোত প্রবাহিত হবে।
দগ্ধ ভূমি জলাশয় হয়ে উঠবে,
শুষ্ক মাটি জলের উৎসে রূপান্তরিত হবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৪৬
ধুয়ো:
প্রভুর প্রশংসা কর,
আমার প্রাণ!

প্রভু বিশ্বস্ততা বজায় রাখেন চিরকাল ধরে,
অত্যাচারিতের পক্ষে সুবিচার করেন,
ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করেন,
প্রভু কারারুদ্ধকে মুক্ত করেন।   [ধুয়ো]

প্রভু খুলে দেন অন্ধের চোখ,
প্রভু অবনতকে টেনে তোলেন,
প্রভু ধার্মিককে ভালবাসেন,
প্রভু প্রবাসীকে রক্ষা করেন।   [ধুয়ো]

তিনি এতিম ও বিধবাকে সুস্থির রাখেন,
কিন্তু বাঁকা করেন দুর্জনের পথ।
প্রভু রাজত্ব করেন চিরকাল ধরে,
হে সিয়োন, তোমার পরমেশ্বর রাজত্ব করেন যুগে যুগান্তরে।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যাকোবের পত্র থেকে পাঠ (২:১-৫)

হে আমার ভাই, আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের, সেই গৌরবের প্রভুরই বিশ্বাসে পক্ষপাতিত্ব স্থান পেতে দিয়ো না।
ধর, একজন লোক হাতে সোনার আঙটি ও গায়ে শুভ্র পোশাক প’রে তোমাদের সমাজগৃহে প্রবেশ করে, আবার জীর্ণ পোশাক পরা একটি গরিবও প্রবেশ করে। তোমরা যদি শুভ্র পোশাক পরা লোকটির মুখ চেয়ে তাকে বল, ‘আপনি এখানে উত্তম জায়গায় আসন নিন’, কিন্তু গরিব লোকটিকে যদি বল, ‘তুমি ওখানে দাঁড়াও’ কিংবা ‘আমার পাদপীঠের গায়ে বস’, তাহলে নিজেদের মধ্যে তেমন বাছবিচার করায় তোমরা কি অন্যায়-বিচারের বিচারক নও?
হে আমার প্রিয় ভাই, শোন, জগতে যারা গরিব, ঈশ্বর কি তাদের বেছে নেননি, যেন তারা বিশ্বাসে ধনবান হয় ও সেই রাজ্যের উত্তরাধিকারী হয়, যা তিনি তাদেরই দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যারা তাঁকে ভালবাসে?
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যিশু রাজ্যের শুভসংবাদ প্রচার করতেন,
ও জনগণের মধ্যে সব ধরনের রোগ-ব্যাধি নিরাময় করতেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৭:৩১-৩৭)

তুরস অঞ্চল থেকে ফেরার সময়ে যিশু সিদোন হয়ে দেকাপলিস অঞ্চলের মধ্য দিয়ে গালিলেয়া সাগরের কাছে এলেন।
আর লোকেরা তাঁর কাছে একজন বধির ও তোতলা মানুষকে নিয়ে এসে তাঁকে তার উপর হাত রাখতে মিনতি করল। তিনি তাকে ভিড়ের মধ্য থেকে একাকী এক পাশে এনে তার দু’কানে নিজের আঙুল দিলেন, ও থুথু দিয়ে তার জিহ্বা স্পর্শ করলেন। পরে স্বর্গের দিকে চোখ তুলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকে বললেন, ‘এফ্ফাথা, অর্থাৎ খুলে যাও।’ তাতে তার কান খুলে গেল, জিহ্বার জড়তা কেটে গেল, আর সে স্পষ্ট কথা বলতে লাগল।
তিনি একথা কাউকে জানাতে তাদের নিষেধ করলেন, কিন্তু তিনি যত নিষেধ করলেন, ততই তারা কথাটা রটাতে থাকল। তাদের বিস্ময়ের সীমা ছিল না, তারা বলছিল, ‘ইনি সবই উত্তমরূপে করেছেন, ইনি বধিরকে শ্রবণশক্তি, ও বোবাকে বাক্‌শক্তি দান করেন।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
ব্রিন্দিসির পুরোহিত সাধু লরেন্সের উপদেশ

মোশির ঐশবিধান জগৎসৃষ্টির বর্ণনা দিতে গিয়ে যেমন বলে, পরমেশ্বর তাঁর নির্মাণ করা সমস্ত কিছুর দিকে তাকিয়ে দেখলেন; আর দেখ, সেই সমস্ত কিছু অতি উত্তম হয়েছিল (আদি ১:৩১), তেমনি মুক্তি ও নবজন্মের কর্মকাণ্ড বর্ণনা ক’রে সুসমাচার বলে: তিনি সবই উত্তমরূপে সাধন করেছেন (মার্ক ৭:৩৭)। প্রতিটি ভাল গাছে ভাল ফল ধরে; ভাল গাছে মন্দ ফল ধরতে পারে না (মথি ৭:১৭, ১৮)।
আর আগুন যেমন তাপ না জন্মিয়ে পারে না, এমনকি তার পক্ষে শীত জন্মানো অসম্ভব, এবং সূর্য যেমন আলো ছাড়া অন্ধকার বিকিরণ করতে পারে না, তেমনি সীমাহীন মঙ্গলময়তা ও স্বয়ং আলো হওয়ায়, অসীম জ্যোতির সূর্য ও অগণিত তাপের আগুন হওয়ায় ঈশ্বর মঙ্গল ছাড়া অন্য কিছু সাধন করতে পারেন না: তিনি সবই উত্তমরূপে সাধন করেছেন।
তাই আজ এ পুণ্য জনতার সঙ্গে এককণ্ঠ হয়ে সরলতার সঙ্গে আমাদের বলতে হবে: তিনি সবই উত্তমরূপে সাধন করলেন: তিনি বধিরকে শ্রবণশক্তি, ও বোবাকে বাক্‌শক্তি দান করেন (মার্ক ৭:৩৭)। কিন্তু এ লোকের ভিড় পবিত্র আত্মার অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়েই সে কথা বলল, বালায়ামের সেই গাধী যেভাবে বলেছিল।
কেননা পবিত্র আত্মাই ভিড়ের মুখ দিয়ে বলেন, তিনি সবই উত্তমরূপে সাধন করেছেন; অর্থাৎ, তিনি সেই প্রকৃত ঈশ্বর যিনি সবই উত্তমরূপে করেন কারণ বধিরকে শ্রবণশক্তি, ও বোবাকে বাক্‌শক্তি দান করেন—এ এমন কিছু যা ঈশ্বরের পরাক্রম সাধন করতে পারে। কিন্তু এক কর্ম থেকে অন্য সকল কর্মে পার হয়ে যায়, এর মানে হল যে, তিনি যখন এমন অলৌকিক কর্ম সাধন করলেন যা কেবল ঈশ্বরই সাধন করতে সক্ষম, তখন তিনি নিজেই সেই ঈশ্বর যিনি সবই উত্তমরূপে সাধন করেছেন: বধিরকে শ্রবণশক্তি, ও বোবাকে বাক্‌শক্তি দান করেন, অর্থাৎ তিনি ঐশ্বরিক শক্তি ও পরাক্রমের অধিকারী।
তিনি সবই উত্তমরূপে সাধন করেছেন। বিধান একথা বলে যে, ঈশ্বরের নির্মিত সমস্ত কিছু ‘অতি উত্তম’ ছিল (আদি ১:৩১), কিন্তু সুসমাচার বলে, তিনি সমস্ত কিছু ‘উত্তমরূপে’ সাধন করেছেন: উত্তম কর্ম সাধন করা ও উত্তমরূপে কর্ম সাধন করা একই কথা নয়; বস্তুত অনেকে উত্তম কর্ম সাধন করে ঠিকই, অথচ তা উত্তমরূপে সাধন করে না, ঠিক যেমন ভণ্ডদের কর্ম যা উত্তম বটে, কিন্তু উত্তম মনোভাবে সাধিত নয়, বিকৃত ও বাঁকা সঙ্কল্পেই সাধিত। অপরদিকে ঈশ্বর যা কিছু করেছেন, তা উত্তমরূপে সাধিত উত্তম বস্তু ছিল: প্রভু সকল পথে ধর্মময়, সকল কাজে কৃপাময় (সাম ১৪৫:১৭)।
প্রভু, প্রজ্ঞার সঙ্গেই গড়েছ এ সবকিছু (সাম ১০৪:২৪), অর্থাৎ অসীম প্রজ্ঞার সঙ্গে ও উত্তমরূপে; এজন্য লোকে বলে তিনি সবই উত্তমরূপে সাধন করলেন।
আর যখন ঈশ্বর নিজ নির্মিত বস্তুগুলো উত্তমরূপে সাধন করেছেন ও আমাদের পক্ষে তা অতি উত্তম করেছেন, তখন আমাদের মন উত্তম বস্তুতে তৃপ্তি পায় একথা জেনে আমি জিজ্ঞাসা করি, ঈশ্বর আমাদের উত্তম কর্মে প্রীত, একথা জেনে আমরা কেনই বা অতি উত্তম কর্ম উত্তমরূপে সাধন করতে সচেষ্ট হব না? কিন্তু তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা করলে: ঈশ্বরের উপকার সবসময় ভোগ করার যোগ্যতা লাভ করবার জন্য আমাদের কী করতে হবে? তবে আমি উত্তরে একটা কথা মাত্র বলব: তাই কর, নিজের বরের জন্য উত্তম কনে যা করে: বস্তুত এজন্যই মণ্ডলী খ্রিষ্টের ও ঈশ্বরের কনে বলে অভিহিতা (প্রকাশ ২১:১-৯ দ্রঃ)। তবেই ঈশ্বর আমাদের প্রতি সেভাবে ব্যবহার করবেন, যেভাবে উত্তম বর নিজের ভালবাসার পাত্রী সেই কনের প্রতি ব্যবহার করে। এজন্য তিনি হোসেয়ার মুখ দিয়ে বলেন, আমি তোমাকে চিরকালের মত আমার বাগ্‌দত্তা কনে করব; ধর্মময়তা, ন্যায়, কৃপা ও স্নেহেই তোমাকে আমার বাগ্‌দত্তা কনে করব; আমি বিশ্বস্ততায়ই তোমাকে আমার বাগ্‌দত্তা কনে করব, তখন তুমি প্রভুকে জানবে (হো ২:২১-২২)। ভাইবোনেরা, এ জীবনকালেও আমরা ধন্য হব, এজগৎ আমাদের পক্ষে পরমদেশই হবে, সেই হিব্রুদের মত আমরাও এজীবন-প্রান্তরে মান্না খাব, যদি খ্রিষ্টের আদর্শ অনুসরণ করে আমাদের সমস্ত কর্ম এমন উত্তমরূপে সাধন করতে চেষ্টা করি যাতে আমাদের সাধিত সমস্ত কর্ম বিষয়ে বলা যেতে পারে: এই লোক সবই উত্তমরূপে সাধন করেছে। ভাইবোনেরা, আমি লজ্জাবোধ করি একথা ভেবে যে, ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট বলে আমরা স্বরূপে উত্তম হয়েও তবু আমাদের কর্মে আমরা মন্দ: স্বরূপে আমরা ঈশ্বরের সদৃশ, কিন্তু দুষ্কর্মে শয়তানের মত।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৪২
ধুয়ো:
হরিণী যেমন জলস্রোতের আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল,
তেমনি, পরমেশ্বর, তোমারই আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল আমার প্রাণ।

আমার মধ্যে আমার প্রাণ অবসন্ন, তাই তোমায় স্মরণ করি
যর্দন ও হার্মোনের দেশ থেকে, মিসার পর্বত থেকে।
তোমার জলপ্রতাপের গর্জনে এক অতলের কাছে অন্য অতলের ডাক,
তোমার ঊর্মিমালা ও তরঙ্গরাশি বয়ে গেল আমার উপর দিয়ে।   [ধুয়ো]

দিনমানে প্রভু জারি করেন কৃপা, রাতে আমার সঙ্গেই তাঁর গান—
একটি প্রার্থনা আমার জীবনেশ্বরের কাছে।
আমার শৈল ঈশ্বরকে বলব, ‘কেন আমায় ভুলে গেছ?
কেনই বা শোকার্ত হয়ে শত্রুর তাড়নায় আমায় চলতে হয়?’   [ধুয়ো]

আমার বিরোধীদের অপবাদে
চূর্ণবিচূর্ণ আমার হাড়;
তারা যে সারাদিন আমাকে বলে,
‘কোথায় তোমার পরমেশ্বর?’   [ধুয়ো]

প্রাণ আমার, কেনই অবসন্ন তুমি?
কেন আমার মধ্যে তুমি গর্জন কর?
পরমেশ্বরের প্রত্যাশায় থাক—আমি আবার করবই তাঁর স্তুতিবাদ,
তিনি আমার শ্রীমুখের পরিত্রাণ, আমার পরমেশ্বর।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার বাণী ও স্বর্গীয় সাক্রামেন্তের খাদ্য দানে যাদের পুষ্টি তুমি সাধন কর, তোমার সেই ভক্তজন তোমার প্রিয়তম পুত্রের অগণন মঙ্গলদান গ্রহণের ফলে
যেন তাঁর জীবনের চিরন্তন সহভাগিতা লাভ করতে পারে।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৪শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, হে বিশ্বস্রষ্টা ও সর্বনিয়ন্তা, আমাদের প্রতি মুখ তুলে চাও।
আশীর্বাদ কর, আমরা যেন সমস্ত হৃদয় দিয়ে তোমার সেবা করি
যাতে তোমার করুণা-স্পর্শে ধন্য হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৫০:৫-৯ক)

প্রভু পরমেশ্বর আমার কান উন্মুক্ত করেছেন;
আর আমি প্রতিবাদ করিনি, পিছিয়ে যাইনি।
যারা আমাকে মারছিল, তাদের দিকে পিঠ,
যারা আমার দাড়ি ছিঁড়ে নিচ্ছিল, তাদের দিকে গাল পেতে দিলাম;
অপমান ও থুথু থেকে মুখ ঢেকে রাখিনি।
প্রভু পরমেশ্বর আমার সহায়তা করেন,
এজন্যই আমি বিহ্বল হই না,
এজন্যই পাথরের মতই কঠিন করে তুলেছি আমার মুখ।
আমি জানি, আমাকে লজ্জিত হতে হবে না।
যিনি আমাকে ধর্মময়তা মঞ্জুর করেন, তিনি কাছে আছেন,
কে আমার সঙ্গে বিবাদ করবে? এসো, আমরা মুখোমুখি হই!
কে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে?
সে এগিয়ে আসুক!
দেখ, প্রভু পরমেশ্বর আমার সহায়তা করেন,
কে আমাকে দোষী বলে সাব্যস্ত করবে?
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১১৬
ধুয়ো:
আমি প্রভুর সম্মুখে চলতে থাকব
জীবিতের দেশে।

আমি প্রভুকে ভালবাসি,
তিনি যে শুনলেন আমার কণ্ঠ, শুনলেন মিনতি আমার,
সত্যিই, যখন তাঁকে ডাকলাম,
সেইদিন তিনি আমাকে কান পেতে শুনলেন।   [ধুয়ো]

মৃত্যুর বাঁধন জড়িয়ে ধরছিল আমায়,
পাতালের যন্ত্রণা আবদ্ধ করে রাখছিল আমায়,
সঙ্কটে বেদনায় আবদ্ধ হয়ে আমি করলাম প্রভুর নাম—
‘দোহাই প্রভু, আমার প্রাণের নিষ্কৃতি দাও।’   [ধুয়ো]

প্রভু দয়াবান, ধর্মময়,
আমাদের পরমেশ্বর স্নেহশীল।
প্রভু সরলমনাকে রক্ষা করেন;
নিরুপায় ছিলাম, আর তিনি আমাকে পরিত্রাণ করলেন।   [ধুয়ো]

তুমি মৃত্যু থেকে আমার প্রাণ, অশ্রু থেকে আমার চোখ,
পতন থেকে আমার পা নিস্তার করলে।
আমি প্রভুর সম্মুখে চলতে থাকব
জীবিতের দেশে।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যাকোবের পত্র থেকে পাঠ (২:১৪-১৮)

হে আমার ভাই, কেউ যদি বলে, তার বিশ্বাস আছে, অথচ তার যদি কর্ম না থাকে, তাহলে তাতে কী লাভ? তেমন বিশ্বাস কি তাকে ত্রাণ করতে পারবে?
কোন ভাই বা বোন যদি বস্ত্রহীন, ও দৈনিক খাদ্যের মতও তার কিছু না থাকে, আর তোমাদের একজন তাদের বলে, ‘সুখে থাক, গা গরম কর, তৃপ্তির সঙ্গে খাও’, কিন্তু তোমরা তাদের সেই শারীরিক প্রয়োজন না মেটাও, তাহলে তাতে কী লাভ? তেমনি বিশ্বাসও: তার যদি কর্ম না থাকে, তা একেবারে মৃত।
অপরদিকে একজন বলতে পারবে: তোমার বিশ্বাস আছে, আর আমার কর্ম আছে; আমাকে দেখাও কর্মহীন তোমার সেই বিশ্বাস, আর আমি আমার কর্মের মধ্য দিয়ে তোমাকে আমার বিশ্বাস দেখাব।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
খ্রিষ্টের ক্রুশে ছাড়া আমি আর অন্য কিছুতেই গর্ব করি না,
যা দ্বারা আমার কাছে জগৎ, ও জগতের কাছে আমি ক্রুশবিদ্ধ।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৮:২৭-৩৫)

সেসময়ে যিশু ও তাঁর শিষ্যেরা ফিলিপ-সীজারিয়া অঞ্চলের গ্রামগুলোর দিকে রওনা হলেন। পথে চলতে চলতে তিনি নিজের শিষ্যদের কাছে এই প্রশ্ন রাখলেন, ‘আমি কে, এবিষয়ে লোকে কী বলে?’ তাঁরা তাঁকে বললেন, ‘তারা বলে: বাপ্তিস্মদাতা যোহন; অন্য কেউ বলে: এলিয়; আবার অন্য কেউ বলে: নবীদের কোন একজন।’ তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কিন্তু তোমরা, আমি কে, এবিষয়ে তোমরাই কী বল?’ পিতর উত্তর দিয়ে তাঁকে বললেন, ‘আপনি সেই খ্রিষ্ট।’ তখন তিনি আজ্ঞা করলেন তাঁরা যেন তাঁর বিষয়ে কাউকে কিছুই না বলেন।
তখন তিনি তাঁদের একথা শেখাতে লাগলেন যে, মানবপুত্রকে বহু যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে, এবং প্রবীণদের, প্রধান যাজকদের ও শাস্ত্রীদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হতে হবে, তাঁকে নিহত হতে হবে, আর তিন দিন পরে তাঁকে পুনরুত্থান করতে হবে।
একথা তিনি স্পষ্টভাবেই বললেন। এতে পিতর তাঁকে একপাশে নিয়ে গিয়ে অনুযোগ করতে লাগলেন। কিন্তু তিনি ফিরে দাঁড়িয়ে নিজের শিষ্যদের দিকে তাকিয়ে পিতরকে ধমক দিলেন, বললেন, ‘আমার পিছনে চলে যাও, শয়তান! কেননা যা ভাবছ, তা ঈশ্বরের নয়, মানুষেরই ভাবনা।’
নিজের শিষ্যদের সঙ্গে তিনি লোকদেরও ডেকে বললেন, ‘কেউ যদি আমার পিছনে আসতে ইচ্ছা করে, সে নিজেকে অস্বীকার করুক, ও নিজের ক্রুশ তুলে নিয়ে আমার অনুসরণ করুক। কেননা যে কেউ নিজের প্রাণ বাঁচাতে চায়, সে তা হারাবে, আর যে কেউ আমার জন্য ও সুসমাচারের জন্য নিজের প্রাণ হারায়, সে তা বাঁচাবে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
আর্লের বিশপ সাধু সীজারিউসের উপদেশ

কেউ যদি আমার পিছনে আসতে ইচ্ছা করে, সে নিজের ক্রুশ তুলে নিক (মার্ক ৮:৩৪)। প্রিয়তম ভাইবোনেরা, প্রভু যা আদেশ করে বলেছেন, কেউ যদি আমার অনুসরণ করতে চায়, সে নিজেকে অস্বীকার করুক, তা কঠিন মনে হয়, আর আমরা তা দুর্বহ বলে গণ্য করি; কিন্তু তিনি যা আদেশ করেন, তা দুর্বহ নয়, কারণ তিনি যা আদেশ করেন তা পালনের জন্য সহায়তাও দান করেন।
তিনি ইতিমধ্যে যেখানে গিয়েছেন, সেখানে ছাড়া কোথায় খ্রিষ্টকে অনুসরণ করতে হবে? আমরা তো জানি: পুনরুত্থান করে তিনি স্বর্গে আরোহণ করলেন: তবে সেইখানে তাঁর অনুসরণ করতে হবে। এ কথাও স্পষ্ট যে, এবিষয়ে আমাদের নিরাশ হতে নেই—মানুষ হিসাবে আমাদের পক্ষে সম্ভব, এজন্য নয়, কিন্তু এজন্য যে, তিনি নিজে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমাদের মাথা স্বর্গে আরোহণ করার আগে স্বর্গ আমাদের কাছ থেকে দূরেই ছিল; কিন্তু আমরা যখন সেই মাথার অঙ্গ, তখন সেখানে যাওয়ার বিষয়ে নিরাশ হব কেন? কোন্‌ কারণেই বা নিরাশ হব? যেহেতু পৃথিবীতে বহু সঙ্কট ও যন্ত্রণার মধ্যে শ্রম করে থাকি, সেজন্য এসো, সেই খ্রিষ্টের অনুসরণ করি, যাঁর মধ্যে সর্বোচ্চ সুখ, পরম শান্তি ও সনাতন নিরাপত্তা মূর্ত।
তবু যে কেউ খ্রিষ্টের অনুসরণ করতে চায়, সে প্রেরিতদূতের এ বাণী শুনুক: যে বলে সে তাঁর মধ্যে বসবাস করছে, তাকেও সেইভাবে চলতে হয়, তিনি নিজে যেভাবে চললেন (১ যোহন ২:৬)। তুমি কি খ্রিষ্টের অনুসরণ করতে ইচ্ছা কর? তিনি যেভাবে বিনম্র ছিলেন, তুমিও সেভাবে বিনম্র হও: তিনি যেখানে গিয়ে পৌঁছেছেন, তুমিও সেখানে পৌঁছতে ইচ্ছা করলে তবে তাঁর বিনম্রতা তুচ্ছ করো না। মানুষ পাপ করলে পর সেই পথ অবশ্যই দুর্গম হতে লাগল, তবু পুনরুত্থান করায় খ্রিষ্ট পথ সমতল করলে পর পথ আবার সহজগম্য হয়ে গেছে; আগে যেটা ছিল অতি সঙ্কীর্ণ পথ, তা এখন পাকা রাস্তা হয়ে গেছে। বিনম্রতা ও ভালবাসার পা দু’টো দ্বারাই আমরা এ পথ দিয়ে দৌড়ে চলব। ভালবাসার উচ্চতম পর্যায় সকলকেই আকর্ষণ করে, অথচ বিনম্রতাই প্রথম ধাপ। তুমি কেন তোমার ক্ষমতার অতীতে পা বাড়াও? তুমি তো পড়তেই চাও, উড়তে চাও না! বরং বিনম্রতা দিয়ে অর্থাৎ প্রথম ধাপ দিয়ে শুরু কর, এর মধ্যে কিছুটা ঊর্ধ্বে উঠেই গেছ! এজন্য আমাদের ত্রাণকর্তা প্রভু নিজেকে অস্বীকার কর শুধু বলেননি, কিন্তু এও যোগ করে বললেন, নিজের ক্রুশ তুলে নিয়ে আমার অনুসরণ কর (মার্ক ৮:৩৪)। নিজ ক্রুশ তুলে নেওয়া বলতে কি বোঝায়? অর্থ এরূপ: সমস্ত জ্বালা সহ্য করায়ই সে আমার অনুসরণ করুক। আমার বিধান ও আদেশগুলো পালন করতে শুরু করলেই বহু প্রতিদ্বন্দ্বী দেখা দেবে: অনেকে বাধা দেবে, অনেকে তাকে অবজ্ঞা করবে, এমনকি নির্যাতনকারী অনেকেই থাকবে। আর তা শুধু বিধর্মীদের মাঝে নয়, তাদেরও মাঝে যাদের মনে হচ্ছিল দেহে মণ্ডলীর মধ্যে, কিন্তু অপকর্মের ফলে তার বাইরে, ও খ্রিষ্টান নাম নিয়ে গর্ব ক’রে প্রকৃত ভক্তদের অবিরত নির্যাতন করে। তাই তুমি যদি সত্যিই খ্রিষ্টের অনুসরণ করতে ইচ্ছা কর, তাহলে তাঁর ক্রুশ তুলে নিতে আর দ্বিধা করো না: অক্লান্তিকর ভাবে দুর্জনদের সহ্য কর।
কেউ যদি আমার পিছনে আসতে ইচ্ছা করে, সে নিজের ক্রুশ তুলে নিয়ে আমার অনুসরণ করুক: প্রভুর এ বাণী যদি পালন করতে ইচ্ছা করি, তাহলে এসো, ঈশ্বরের সহায়তায় প্রেরিতদূতের একথা পালন করতে সচেষ্ট থাকি, তিনি বলেছিলেন, অন্নবস্ত্র যখন থাকে, এসো, তাতেই তুষ্ট হই (১ তি ৬:৮); পাছে এমনটি হয় যে, পার্থিব বিষয় অযথাই খোঁজ করে ধনী হতে বাসনা করব, ফলে শয়তানের প্রলোভনে ও ফাঁদে ও নানা ধরনের বোধশূন্য ও ক্ষতিকর কামনার হাতে পড়ব, যা মানুষকে ধ্বংস ও বিনাশের গভীরে নিমজ্জিত করে (১ তি ৬:৯)। প্রসন্ন হয়ে সেই প্রভুই এ প্রলোভন থেকে রেহাই দিয়ে আমাদের রক্ষা করুন, যিনি পিতা ও পবিত্র আত্মার সঙ্গে বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে যুগে যুগে বিরাজমান। আমেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৬
ধুয়ো:
ওগো পরমেশ্বর, তোমার কৃপা কত মূল্যবান!
তোমার পক্ষ-ছায়ায় আশ্রয় পায় আদমসন্তান।

ওগো প্রভু, আকাশছোঁয়াই তোমার কৃপা,
মেঘলোক-প্রসারী বিশ্বস্ততা তোমার,
উঁচু পাহাড়পর্বতের মত তোমার ধর্মময়তা, মহা অতলের মত তোমার ন্যায়—
মানুষ কি পশু সকলকেই তুমি ত্রাণ কর, প্রভু।   [ধুয়ো]

তোমাতেই যে জীবনের উৎস!
তোমার আলোতেই আমরা দেখি আলো।
যারা তোমায় জানে, তাদের দান করে থাক গো তোমার কৃপা,
সরলহৃদয়দের কাছে ধর্মময়তা তোমার।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এই স্বর্গীয় উপহার আমাদের দেহমন দখল করুক:
এর ফলে আমাদের নিজেদের কামনা-বাসনা নয়,
পবিত্র আত্মাই বরং আমাদের চালিত করুন।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৫শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, আমরা তোমাকে ভালবাসব, আমাদের প্রতিবেশীকেও ভালবাসব,
এ আজ্ঞায়ই তুমি তোমার পবিত্র বিধানের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করেছ।
আশীর্বাদ কর: তোমার আদেশমালা মেনে চ’লে
আমরা যেন অনন্ত জীবন পাবার যোগ্য হয়ে উঠি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রজ্ঞা পুস্তক থেকে পাঠ (২:১২,১৭-২০)

[ভক্তিহীনেরা নিজেদের মধ্যে বলে,]
‘এসো, ধার্মিকের জন্য ফাঁদ পেতে থাকি,
কারণ সে আমাদের বিরক্ত করে,
সে আমাদের কাজের বিরোধী;
বিধানের বিরুদ্ধে আমাদের পাপের জন্য
সে আমাদের ভর্ৎসনা করে,
আর আমাদের বাল্যকালের মূল্যবোধের বিরুদ্ধে
পাপের বিষয়ে আমাদের অভিযুক্ত করে।
এসো, দেখি তার এই সমস্ত কথা সত্য কিনা,
তাকে যাচাই করে দেখি,
শেষে তার কেমন দশা হবে;
কেননা ধার্মিক মানুষ যদি ঈশ্বরের সন্তান,
তবে তিনি তাকে সাহায্য করবেন,
তার বিরোধীদের হাত থেকে তাকে নিস্তার করবেন।
এসো, লাঞ্ছনা ও নিপীড়ন দ্বারা তাকে যাচাই করি,
যাতে তার কোমলতা জানতে পারি,
তার সহিষ্ণুতাও যেন পরীক্ষা করতে পারি।
এসো, অপমানজনক মৃত্যুতে তাকে দণ্ডিত করি,
সে নিজেই তো দাবি করছে, তার উদ্ধার হবেই।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৫৪
ধুয়ো:
প্রভু ধরে রাখেন
আমার প্রাণ।

পরমেশ্বর, তোমার নামের দোহাই সাধন কর আমার পরিত্রাণ,
তোমার পরাক্রমের দোহাই সম্পন্ন কর আমার সুবিচার।
পরমেশ্বর, আমার প্রার্থনা শোন,
কান দাও আমার মুখের কথায়।   [ধুয়ো]

উদ্ধত লোক আমার বিরুদ্ধে উঠছে,
হিংসাপন্থী লোক আমার প্রাণনাশের চেষ্টায় আছে,
তারা নিজেদের সামনে
পরমেশ্বরকে রাখে না।   [ধুয়ো]

সত্যি, পরমেশ্বরই আমার সহায়,
কেবল প্রভুই ধরে রাখেন আমার প্রাণ।
আমি স্বেচ্ছাপূর্বক তোমার কাছে বলি উৎসর্গ করব,
তোমার নামের স্তুতিবাদ করব, প্রভু, মঙ্গলময় সেই নাম।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যাকোবের পত্র থেকে পাঠ (৩:১৬–৪:৩)

প্রিয়জনেরা, যেখানে ঈর্ষা ও রেষারেষি, সেখানে অমিল ও সবরকম দুষ্কর্ম থাকে। কিন্তু যে প্রজ্ঞা ঊর্ধ্বলোক থেকে আসে, প্রথমত তা নির্মল; তাছাড়া তা শান্তিপ্রিয়, সহিষ্ণু, সুবিবেচক, দয়া ও শুভফলে পূর্ণ, পক্ষপাত ও কপটতা থেকে মুক্ত। শান্তির সাধক যে বীজ শান্তিতে বোনে, তা ধর্মময়তা-ফসল উৎপন্ন করে।
তোমাদের মধ্যে এমন যুদ্ধ-সংগ্রাম কোথা থেকে আসে? তোমাদের অঙ্গগুলিতে যে সমস্ত কামনা-বাসনা সংগ্রামরত, তা থেকে নয় কি? তোমরা লোভ করছ, কিন্তু কিছুই পেতে পারছ না বিধায় হত্যাই কর; তোমরা ঈর্ষা করছ, কিন্তু কিছুই পেতে পারছ না বিধায় সংগ্রাম ও যুদ্ধ কর!
তোমরা কিছুই পাচ্ছ না, এর কারণ হচ্ছে, তোমরা তো যাচনাই কর না। যাচনা করছ, কিন্তু কোন ফল পাচ্ছ না, এর কারণ হচ্ছে, অসৎ মনোভাবে যাচনা করছ; অর্থাৎ নিজ সুখ-অভিলাষকেই আপ্যায়িত করতে চাচ্ছ।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের গৌরবলাভের উদ্দেশ্যে
ঈশ্বর সুসমাচারের মাধ্যমে আমাদের আহ্বান করেছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৯:৩০-৩৭)

সেসময়ে যিশু ও তাঁর শিষ্যেরা গালিলেয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চললেন, আর তাঁর ইচ্ছা ছিল না যে, কেউ তা জানতে পারে। কেননা তিনি নিজের শিষ্যদের উপদেশ দিচ্ছিলেন; তাঁদের বলছিলেন, ‘মানবপুত্রকে মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে; তারা তাঁকে হত্যা করবে, আর তিনি নিহত হলে পর তিন দিন পরে পুনরুত্থান করবেন।’ তাঁরা কিন্তু সেকথা বুঝলেন না, এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেও ভয় করলেন।
তাঁরা কাফার্নাউমে এলেন; আর বাড়ি আসার পর তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘পথে তোমাদের মধ্যে কোন্‌ বিষয়ে তর্কাতর্কি হচ্ছিল?’ তাঁরা চুপ করে রইলেন, কারণ কে বড়, পথে নিজেদের মধ্যে এবিষয়েই বলাবলি করেছিলেন। তাই তিনি বসে সেই বারোজনকে ডেকে বললেন, ‘কেউ যদি প্রথম হতে চায়, তবে সে যেন সকলের শেষে থাকে ও সকলের সেবক হয়।’
তখন তিনি একটি শিশুকে নিয়ে তাঁদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে দিলেন ও তাকে কোলে তুলে তাঁদের বললেন, ‘যে কেউ এর মত কোন শিশুকে আমার নামে গ্রহণ করে, সে আমাকেই গ্রহণ করে; এবং যে কেউ আমাকে গ্রহণ করে, সে আমাকে নয়, তাঁকেই গ্রহণ করে, যিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
তুরিনের বিশপ সাধু মাক্সিমের উপদেশ

তোমরা সুসমাচার-পাঠ মনোযোগের সঙ্গে শুনে থাকলে তবে এখন উপলব্ধি করতে পার ঈশ্বরের লেবীয় ও যাজকদের প্রতি কেমন সম্মান দেখানো উচিত, ও পুরোহিতদেরও পরস্পরকে সম্মান দেখানোর ব্যাপারে কেমন বিনম্রতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা উচিত। বস্তুতপক্ষে যে শিষ্যেরা যিশুকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, স্বর্গরাজ্যে তাঁদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ হবে, যিশু সকলের সামনে একটা শিশুকে দাঁড় করিয়ে তাঁদের বলেছিলেন, যে কেউ নিজেকে এই শিশুর মত ছোট করে, স্বর্গরাজ্যে সে-ই সবচেয়ে বড় (মথি ১৮:৪)। এতে আমরা উপলব্ধি করি যে, মানুষ বিনম্রতা দ্বারাই রাজ্যে পৌঁছে, ও সরলতা দ্বারাই স্বর্গে প্রবেশ করে।
তাই যে কেউ ঈশ্বরত্ব-চূড়ায় পৌঁছতে বাসনা করে, সে আগে বিনম্রতার নিচুতার অন্বেষণ করুক; যে কেউ রাজ্যে ভাইয়ের আগে প্রথম হতে চায়, সে আগে তাকে সম্মান প্রদর্শনেই প্রথম হোক, যেমনটি প্রেরিতদূত বলেন, ভ্রাতৃপ্রেমে পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা কর (রো ১২:১০); সে পবিত্রতা অর্জনে ভাইয়ের আগে প্রথম হতে ইচ্ছা করলে, তার সেবায়ও সে প্রথম হোক। কেননা ভাই যদি তোমাকে অপমান করে না থাকে, তাহলে তোমাকে তাকে সম্মান ও প্রেম দেখাতে হবে; আর দৈবাৎ সে যদি তোমাকে অপমান করে থাকে, তাহলে তার মন জয় করার জন্য তুমি তাকে আরও সম্মান দেখাবে। বস্তুতপক্ষে এই তো খ্রিষ্টধর্মের মূল ধারণা: যারা আমাদের ভালবাসে আমরা প্রতিদান স্বরূপ তাদের ভালবাসব, ও যারা আমাদের অপমান করে আমরা প্রতিদান স্বরূপ তাদের প্রতি ধৈর্যশীল হব।
তাই যে কেউ অপমান বহনে অধিক ধৈর্যশীল, সে স্বর্গরাজ্যে শ্রেষ্ঠ হবে। অহঙ্কার, ঐশ্বর্য ও দম্ভ দ্বারা স্বর্গরাজ্যে যাওয়া যায় না, বিনম্রতা, দরিদ্রতা ও কোমলতা দ্বারাই যাওয়া যায়।
কতই না সঙ্কীর্ণ সেই পথ, যা জীবনের দিকে নিয়ে যায় (মথি ৭:১৪)। ফলত যার মাথায় রয়েছে সম্মানের বোঝা ও ঐশ্বর্যের থলি, সে ঠিক যেন অধিক ভারগ্রস্ত ও ব্যাহত একটা গাধার মত রাজ্যের সঙ্কীর্ণ পথ দিয়ে যেতে পারবে না। আর যখন সে মনে করবে, সে পৌঁছে গেছে, সেই সরু দরজা তাকে প্রবেশ করতে দেবে না, তাতে সে ফিরে যেতে বাধ্য হবে। হ্যাঁ, যিশু নিজেই বলেছিলেন, ধনীর পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার চেয়ে উটের পক্ষে সুচের ছিদ্রের মধ্য দিয়ে যাওয়াই বরং সহজ (মথি ১৯:৪৪)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১১৯
ধুয়ো:
তুমি জারি করেছ তোমার আদেশমালা, মানুষ যেন তা সযত্নেই মেনে চলে।
আহা! তোমার বিধিকলাপ মেনে চলায় আমার পথসকল সুস্থির হোক।

সুখী তারা, নিখুঁত যাদের পথ,
প্রভুর বিধানে যারা চলে।
সুখী তারা, যারা তাঁর নির্দেশমালা পালন করে,
সমস্ত হৃদয় দিয়ে যারা তাঁর অন্বেষণ করে।   [ধুয়ো]

তারা কোন অন্যায় করে না,
তারা তাঁর সমস্ত পথে চলে।
তুমি জারি করেছ তোমার আদেশমালা,
তারা যেন তা সযত্নেই মেনে চলে।   [ধুয়ো]

আমি যখন শিখব তোমার ন্যায়বিচার সকল,
তখন সরল অন্তরে তোমাকে জানাব ধন্যবাদ।
তোমার বিধিকলাপ মেনে চলব,
আমায় কখনও পরিত্যাগ করো না।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার সাক্রামেন্ত দানে যাদের নবায়িত করেছ,
প্রসন্ন হয়ে তোমার অবিরত সহায়তা দানে তাদের সুস্থির করে রাখ,
আমরা যেন তোমার মুক্তিকর্মের ফল
রহস্যের আড়ালে ও যথার্থ জীবনধারণেও উপভোগ করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]