সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
সাধারণকাল
• সাধারণকালের প্রথম সপ্তাহ প্রভুর বাপ্তিস্ম থেকে শুরু হয়।
• পরমপবিত্র ত্রিত্ব পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• খ্রিষ্টের পরমপবিত্র দেহরক্ত পরমপবিত্র ত্রিত্বের পরবর্তী রবিবারে পালিত হয়।
• পরমারাধ্য যিশুহৃদয় পঞ্চাশত্তমীর পরবর্তী দ্বিতীয় রবিবারের পরবর্তী শুক্রবারে পালিত হয়।
• বিশ্বরাজ আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্ট সাধারণকালের শেষ রবিবারে পালিত হয়।

রবিবার: ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ৩১ | ৩২ | ৩৩
সাধারণকালের মহাপর্বচতুষ্টয়: ত্রিত্ব | খ্রিষ্টের দেহরক্ত | যিশুহৃদয় | খ্রিষ্টরাজা

১৮শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার সেবকদের কাছে কাছে থাক, তাদের মিনতিতে সাড়া দাও:
তারা তো গর্বের সঙ্গে তোমাকে আপন স্রষ্টা ও পথদিশারী বলে স্বীকার করে,
তাই যা সৃষ্টি করেছ তা নবায়িত কর, ও যা নবায়িত করেছ তা সযত্নে রক্ষা কর।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
উপদেশক পুস্তক থেকে পাঠ (১:২; ২:২১-২৩)

অসারের অসার, অসারের অসার! সবই অসার!
কারণ যে মানুষ প্রজ্ঞা, বিদ্যা ও সাফল্যের সঙ্গে পরিশ্রম করেছে, তাকে তার সমস্ত বিষয়সম্পদ এমন অন্যজনের হাতে রেখে যেতে হবে, যে তার জন্য একটুও পরিশ্রম করেনি। এও অসার, এও আদৌ ঠিক নয়!
তবে তার সমস্ত পরিশ্রমে ও তার হৃদয়ের সমস্ত উদ্বেগে মানুষ সূর্যের নিচে যে পরিশ্রম করে, সেই পরিশ্রমে তার কী লাভ? কেননা তার সমস্ত দিন ব্যথা ও কষ্টকর দুশ্চিন্তা দ্বারা চিহ্নিত; রাতেও তার হৃদয় বিশ্রাম পায় না। এও অসার!
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯০
ধুয়ো:
ওগো প্রভু, যুগযুগ ধরে
তুমি হলে আমাদের আশ্রয়দুর্গ।

‘হে আদমসন্তানেরা, ফিরে যাও!’
একথা বলে তুমি মানুষকে ধুলায় ফিরিয়ে আন।
তোমার চোখে হাজার বছর সেই গতদিনেরই মত যা বয়ে গেল,
রাতের এক প্রহরই যেন।   [ধুয়ো]

তুমি নিদ্রার বন্যায় বয়ে নিয়ে যাও তাদের,
তারা প্রভাতে বেড়ে ওঠা ঘাসের মত—
প্রভাতে তা ফুটে উঠে বেড়ে ওঠে,
সন্ধ্যায় কাটা পড়ে শুষ্ক হয়।   [ধুয়ো]

আমাদের আয়ুর দিনগুলি গুনতে আমাদের শেখাও,
তবে আমরা লাভ করব প্রজ্ঞাপূর্ণ অন্তর।
ফিরে চাও, প্রভু,—আর কতকাল?
তোমার দাসদের প্রতি দেখাও দয়া।   [ধুয়ো]

প্রভাতে তোমার কৃপায় আমাদের পরিতৃপ্ত কর,
আর আমরা সানন্দে চিৎকার করব, মেতে উঠব চিরদিন ধরে।
আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর মাধুর্য আমাদের উপর বিরাজ করুক,
আমাদের জন্য সুস্থির কর আমাদের হাতের কাজ, সুস্থির কর আমাদের হাতের কাজ।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
কলসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৩:১-৫,৯-১১)

প্রিয়জনেরা, তোমরা যখন খ্রিষ্টের সঙ্গে পুনরুত্থিত হয়েছ, তখন সেই ঊর্ধ্বলোকের বিষয়ের অন্বেষণ কর, যেখানে ঈশ্বরের ডান পাশে সমাসীন হয়ে খ্রিষ্ট রয়েছেন। ঊর্ধ্বলোকেরই বিষয়গুলো ভাব, মর্তলোকের বিষয়গুলো নয়।
কেননা তোমাদের তো মৃত্যুই হয়েছে, আর তোমাদের জীবন খ্রিষ্টের সঙ্গে ঈশ্বরে নিহিত হয়ে আছে। কিন্তু খ্রিষ্ট যখন আবির্ভূত হবেন—তিনিই তো তোমাদের জীবন—তখন তোমরাও তাঁর সঙ্গে গৌরবে আবির্ভূত হবে।
অতএব, সেই সবকিছু নিপাত কর যা তোমাদের মধ্যে পার্থিব, যথা, যৌন অনাচার, অশুচিতা, দেহলালসা, অসৎ কামনা আর সেই লোলুপতা যা পৌত্তলিকতার নামান্তর; পরস্পরের কাছে মিথ্যা কথা বলো না, কেননা তোমরা সেই পুরাতন মানুষকে ও তার যত কর্ম জীর্ণ পোশাকের মত ত্যাগ করেছ, এবং সেই নতুন মানুষকে পরিধান করেছ, যে মানুষ নিজের সৃষ্টিকর্তার প্রতিমূর্তি অনুসারে পূর্ণ জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে নবীকৃত হচ্ছে।
এখানে আর গ্রীক বা ইহুদী, পরিচ্ছেদিত বা অপরিচ্ছেদিত, ভিনভাষী বা স্কুথীয়, ক্রীতদাস বা স্বাধীন মানুষ আর নেই, কিন্তু খ্রিষ্টই সব, আর তিনি সবকিছুর মধ্যে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আত্মায় দীনহীন যারা, তারাই সুখী,
কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১২:১৩-২১)

একদিন ভিড়ের মধ্য থেকে একজন যিশুকে বলল, ‘গুরু, আমার ভাইকে বলুন, সে যেন আমার সঙ্গে পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ করে।’ তিনি তাকে বললেন, ‘হে মানুষ, তোমাদের উপরে বিচারকর্তা বা মধ্যস্থ করে আমাকে কে নিযুক্ত করেছে?’
পরে তিনি তাদের বললেন, ‘সাবধান, সব ধরনের লোভ থেকে দূরে থাক, কারণ প্রাচুর্যে থাকলেও মানুষের জীবন তার সম্পত্তির উপর নির্ভর করে না।’
আর তিনি তাদের এই উপমা-কাহিনী শোনালেন, ‘একজন ধনী লোকের জমিতে প্রচুর ফসল হয়েছিল। তাই সে মনে মনে ভাবতে লাগল, কী করি? আমার ফসল রাখবার স্থান নেই! পরে বলল, আমি এ করব: আমার যত গোলাঘর ভেঙে ফেলে বড় বড় গোলাঘর তৈরি করব, এবং তার মধ্যে আমার সমস্ত শস্য ও আমার সমস্ত সম্পদ জমিয়ে রাখব। তারপর আমার প্রাণকে বলব, প্রাণ, বহু বছরের মত তোমার জন্য অনেক সম্পদ জমা আছে: বিশ্রাম কর, খাও দাও, ফুর্তি কর। কিন্তু ঈশ্বর তাকে বললেন, হে নির্বোধ, আজ এই রাতেই তোমার প্রাণ তোমার কাছ থেকে চেয়ে নেওয়া হবে, তবে তুমি এই যা কিছু প্রস্তুত করেছ, তা কার্‌ হবে? তেমনটি তারই ঘটে, যে নিজের জন্য সম্পদ জমিয়ে রাখে কিন্তু ঈশ্বরের সামনে ধনবান হয় না!’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
নাজিয়াঞ্জুসের বিশপ সাধু গ্রেগরির উপদেশ

প্রজ্ঞাবান নিজের প্রজ্ঞায় গর্ব না করুক, বলবান তার বলে গর্ব না করুক, ধনবান তার ধনে গর্ব না করুক (যেরে ৯:২৩); প্রজ্ঞা কি বল কি ধনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছলেও নয়। তাছাড়া আমি সমরূপ কথাও যোগ করে দিতাম যেমন, বিখ্যাত ও খ্যাতিসম্পন্ন মানুষ নিজের গৌরব নিয়ে যেন গর্ব না করে, স্বাস্থ্যবান মানুষও নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে নয়, সুন্দর মানুষও নিজের সৌন্দর্য নিয়ে নয়, যুবকও নিজের যৌবন নিয়ে নয়: এক কথায়, এমন গর্বিত ও অসার মানুষ যেন না থাকে, যে তাতেই গর্ব করে যা সাংসারিক মানুষের কাছে প্রশংসার বস্তু। কিন্তু যে গর্ব করে, এই একটামাত্র জিনিস নিয়ে গর্ব করুক যে, সে ঈশ্বরকে জানে ও তাঁর অন্বেষণ করে; এবং হতভাগাদের রিপু বিষয়ে দুঃখ করে সে ভাবী জীবনের জন্যই পুণ্য কিছুটা সঞ্চয় করুক। কেননা অন্য সব কিছু অস্থায়ী ও ভঙ্গুর, এবং ঝিল-খেলার মত সেই সমস্ত কিছু একে অন্যের দিকে নিক্ষিপ্ত হয়ে শেষ মুহূর্তে পরের হাতেই পড়ে। একই প্রকারে, কারও এমন সম্পদ নেই যা কালের স্রোতে নিঃশেষিত না হয় বা একদিন—আহা, মালিকের কেমন দুঃখ!—পরেরই সম্পদ না হয়। ঈশ্বরজ্ঞান ও তাঁর অন্বেষা কিন্তু এমন কিছু যা নিশ্চিত ও স্থিতমূল, কখনও নিঃশেষিত হয় না, ফুরিয়েও যায় না; এগুলিতেই যারা প্রত্যাশা রাখে, তারা কখনও আশাভ্রষ্ট হবে না।
তাছাড়া আমার মনে হয় যে, এ পৃথিবীতে যেহেতু কোন মঙ্গল স্থায়ী ও স্থিতমূল নয়, যেহেতু স্রষ্টা-বাণী ও মানবীয় মনের অতীত সেই প্রজ্ঞা দ্বারা সুবুদ্ধির সঙ্গে সৃষ্ট যত বস্তু আমাদের আশাভ্রষ্ট করে ফেলে, আবার যেহেতু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সমস্ত কিছু একরূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয়, একবার উপরে আর একবার নিচে চলে যায়, আবার উল্ট পাল্টও হয়ে যায় ও সেগুলো হাতে পাবার আগেও দূরে পালিয়ে যায় বা ফুরিয়েও যায়, তখন এ সমস্ত কিছুর অস্থায়িত্ব ও অস্থিরতা লক্ষ করেই আমরা ভাবী জীবন-বন্দরের দিকে যেতে আকর্ষিত হই। বর্তমান সমৃদ্ধি ভঙ্গুর ও অস্থায়ী হলেও আমরা যখন তার কাছে একপ্রকারে শৃঙ্খলিত, ও অসার ধনবৃদ্ধির জন্য আমরা যখন এমন শোচনীয় দাসত্বের অধীন হই যে, বর্তমান বস্তুর চেয়ে মঙ্গলকর ও মূল্যবান কিছু থাকতে পারে তাও কল্পনা করতে পারি না, তখন বর্তমান সমৃদ্ধি যদি স্থায়ী হত তবে আমরা কী করতাম? অথচ আমরা বারবার শুনি ও বলি, এমনকি অধিক সমর্থন করি যে, হ্যাঁ, আমরা সেই ঈশ্বরেরই প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট হয়েছি যিনি স্বর্গে বাস করেন ও সেইখানে আমাদের পুনরায় আকর্ষণ করেন!
যে কেউ প্রজ্ঞাবান, সে এসব কিছু ভেবে দেখুক, তবে বুঝতে পারবে (সাম ১০৭:৪৩)। অস্থায়ী বস্তু কেইবা অবহেলা করবে? পরিবর্তনশীল বস্তুর দিকে কেইবা নজর রাখবে? এমন কেউ কি আছে, যে বর্তমান বস্তুগুলো অস্তিত্বহীন বলে গণ্য করবে? সত্যিই ধন্য সেই ব্যক্তি, যে ঐশবাণীর খড়্গ দ্বারা অমঙ্গল থেকে মঙ্গল নির্ণয় ক’রে ও ভাগ ভাগ ক’রে ধন্য দাউদের কথামত পুণ্য যাত্রার জন্য নিজ অন্তরে প্রস্তুতি নেয় (সাম ৮৪:৬), এবং এ অশ্রুময় সংসার যথাসাধ্য ত্যাগ করতে চেষ্টা ক’রে ঊর্ধ্বলোকের বিষয়ের অন্বেষণ করে, ও খ্রিষ্টের সঙ্গে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে খ্রিষ্টের সঙ্গে পুনরুত্থান করে ও অস্থায়ী ও অসার নয় এমন জীবনের উত্তরাধিকারী হয়ে তাঁর সঙ্গে সেখানেই আরোহণ করে যেখানে সাপের মাথা নিষ্পেষিত হয়েছে বিধায় সাপ যাত্রাপথে কাউকে কামড়াতে পারে না, কারও পাদমূলেও চালাকি খাটাতে পারে না। সেই ধন্য মিখা নিজেও ব্যাপারটা ভেবে দে’খে ও সাপজাতীয় সমস্ত জীব ও তাদের সকলকেও অবজ্ঞা ক’রে যারা কেবল চেহারায়ই ধার্মিক, বলে ওঠেন, এসো, আমরা প্রভুর পর্বতে গিয়ে উঠি। ওঠ, এখান থেকে চলে যাও, কারণ এ স্থান আর বিশ্রামস্থান নয় (মিখা ৪:২; ২:১০)। এবাণী মুটামুটি সেই বাণীরই মত, যা আমাদের উদ্দেশ করে আমাদের প্রভু ও ত্রাণকর্তা উচ্চারণ করেন: ওঠ, এখান থেকে চলে যাই (যোহন ১৪:৩১)। একথা বলে তিনি সেকালের শিষ্যদের সেস্থান থেকে শুধু নয়, তিনি বরং সর্বকালের মত তাঁর সকল শিষ্যকে পৃথিবী থেকে ও পার্থিব মঙ্গল থেকে বিচ্ছিন্ন করছিলেন যেন স্বর্গের দিকে ও স্বর্গীয় বিষয়ের দিকেই তাদের নিয়ে যেতে পারেন।
সুতরাং এসো, আমরা ঐশবাণীর অনুসরণ করি; এসো, সেই বিশ্রামস্থানের অন্বেষণ করি; এসো, এজীবনের ধনসম্পদ ও অভিলাষ অবজ্ঞা করি; এবং সেই কিছুতেই মাত্র ধনবান হই যা সেগুলির মধ্যে মঙ্গলকর: অর্থাৎ কিনা, স্বর্গীয় মঙ্গল লাভে ধনবান হবার জন্য নিজেদের ধনসম্পদ গরিবদের দিয়ে, এসো, অর্থদানে নিজেদের আত্মার পরিত্রাণ সাধন করি।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১১১
ধুয়ো:
প্রভু, স্বর্গ থেকে আমাদের অর্পণ করেছ এমন রুটি,
যে রুটি যত তৃপ্তি এনে দিতে পারে, মেটাতে পারে যত রুচি।

যারা তাঁকে ভয় করে, তিনি তাদের খাদ্য দান করেন,
আপন সন্ধির কথা তিনি স্মরণে রাখেন চিরকাল।
বিজাতীয়দের উত্তরাধিকার তাঁর আপন জনগণকে দিয়ে
তিনি তাদের কাছে ব্যক্ত করেছেন আপন কর্মকীর্তির প্রতাপ।   [ধুয়ো]

তাঁর হাতের কর্মকীর্তি বিশ্বস্ততা ও ন্যায়বিচার-মণ্ডিত,
তাঁর সকল আদেশ বিশ্বাসযোগ্য,
তা দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত চিরদিন চিরকাল ধরে,
বিশ্বস্ততা ও ন্যায়নীতিতেই সাধিত।   [ধুয়ো]

তাঁর আপন জাতির কাছে তিনি মুক্তি পাঠিয়ে দিলেন,
আপন সন্ধি জারি করলেন চিরকালের মত;
তাঁর নাম পবিত্র, ভয়ঙ্কর,
প্রভুভয়ই প্রজ্ঞার সূত্রপাত।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার স্বর্গীয় উপহার দ্বারা যাদের নবায়িত কর,
অবিরতই তাদের প্রতিপালন কর;
যাদের নিয়তই যত্ন কর, তাদের চিরকালীন মুক্তি পাবার যোগ্য করে তোল।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৯শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, পবিত্র আত্মা দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েই
আমরা তোমাকে পিতা বলে ডাকবার সাহস করি।
মিনতি জানাই: আমাদের অন্তরে দত্তকপুত্রত্বের আত্মা পূর্ণ-বিকশিত কর,
আমরা যেন তোমার অঙ্গীকৃত উত্তরাধিকারে প্রবেশের যোগ্য হয়ে উঠি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রজ্ঞা পুস্তক থেকে পাঠ (১৮:৬-৯)

[মুক্তির] সেই রাতটি আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে পূর্বঘোষিত হয়েছিল,
কেমন প্রতিশ্রুতিতে তারা বিশ্বাস রাখছিল,
তা জেনে তারা যেন নিরাপদে আনন্দ করতে পারে।
তাই তোমার জনগণের প্রত্যাশা এ ছিল,
ধার্মিকদের পরিত্রাণ ও শত্রুদের সংহার।
আর আসলে তুমি বিরোধীদের উপর যেমন প্রতিশোধ নিলে,
তোমার কাছে আমাদের আহ্বান করায়
আমাদের তেমনি গৌরবান্বিত করলে।
সৎলোকদের পুণ্যময় সন্তানেরা আড়ালে যজ্ঞবলি উৎসর্গ করল,
এবং একমত হয়ে এ দিব্য নিয়ম প্রচলন করল যে,
পুণ্যজনেরা মঙ্গল-অমঙ্গল সবকিছুরই একইভাবে সহভাগী হবে;
আর সঙ্গে সঙ্গে তারা পিতৃপুরুষদের স্তুতিবন্দনা গেয়ে উঠল।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩৩
ধুয়ো:
সুখী সেই জাতি,
যাকে প্রভু বেছে নিলেন আপন উত্তরাধিকার রূপে।

প্রভুতে আনন্দধ্বনি তোল, ধার্মিকজন সকল,
ন্যায়নিষ্ঠদের মুখেই প্রশংসাগান সমীচীন।
সুখী সেই দেশ, প্রভুই যার আপন পরমেশ্বর;
সুখী সেই জাতি, যাকে তিনি বেছে নিলেন আপন উত্তরাধিকার রূপে।   [ধুয়ো]

কিন্তু দেখ, প্রভুর চোখ নিবদ্ধ তাদেরই প্রতি,
যারা তাঁকে ভয় করে, যারা তাঁর কৃপার প্রত্যাশায় থাকে,
তিনি মৃত্যু থেকে তাদের প্রাণ উদ্ধার করবেন,
তাদের বাঁচিয়ে রাখবেন দুর্ভিক্ষের দিনে।   [ধুয়ো]

আমাদের প্রাণ প্রভুর প্রতীক্ষায় আছে,
তিনিই আমাদের সহায়, আমাদের ঢাল;
আমাদের উপর বিরাজ করুক তোমার কৃপা, প্রভু,
আমরা যে তোমার প্রত্যাশায় আছি।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (১১:১-২,৮-১৯)

প্রিয়জনেরা, বিশ্বাস হল প্রত্যাশিত বিষয়গুলো পাবার ভিত্তি, অদৃশ্য বিষয়গুলোর প্রমাণ-প্রাপ্তি। তেমন বিশ্বাসের মধ্য দিয়েই প্রাচীনেরা স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
বিশ্বাসে আব্রাহাম, যখন আহূত হলেন, তখন বাধ্যতা দেখিয়ে সেই দেশে যাত্রা করলেন, যে দেশকে উত্তরাধিকার রূপে তার পাবার কথা ছিল, এবং কোথায় যাচ্ছেন তা না জেনে রওনা হলেন।
বিশ্বাসে তিনি সেই প্রতিশ্রুত দেশে প্রবাসীর মত বাস করলেন; তাঁবুতেই বাস করছিলেন; প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তাঁর সহউত্তরাধিকারী সেই ইসায়াক ও যাকোবও তেমনি করছিলেন; কারণ সেই দৃঢ় ভিত্তি-নগরীর প্রতীক্ষায় ছিলেন, ঈশ্বর নিজেই যার স্থপতি ও নির্মাতা।
বিশ্বাসে সারাকেও, তাঁর অতিরিক্ত বয়স হলেও, বংশোৎপাদন করতে সক্ষম করা হল, কারণ যিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁকে তিনি বিশ্বাসযোগ্য মনে করেছিলেন। এজন্যই একজনমাত্র মানুষ থেকে, এমনকি মৃতই যেন একজন মানুষ থেকে এমন বিপুল বংশধর জন্ম নিল, যারা সংখ্যায় আকাশের তারকারাজির মত ও সমুদ্রতীরের অগণন বালুকণার মত।
তাঁরা সকলে বিশ্বাস নিয়ে মরলেন; তাঁরা নিজেরা তো প্রতিশ্রুতির কোন ফল পেলেন না, কিন্তু দূর থেকে তা দেখতে পেলেন, স্বাগতও জানালেন, আসলে তাঁরা স্বীকার করছিলেন, পৃথিবীতে তাঁরা বিদেশী ও প্রবাসী। আর যাঁরা এধরনের কথা বলেন, তাঁরা স্পষ্টই দেখান যে, তাঁরা একটি মাতৃভূমির অন্বেষণ করছেন। আর যে দেশ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন, তাঁরা যদি সেই দেশেরই কথা বলতেন, তবে সেখানে ফিরে যাবার সুযোগও পেতেন। কিন্তু তাঁরা এখন শ্রেয়তর একটা দেশের, অর্থাৎ স্বর্গীয় সেই দেশের আকাঙ্ক্ষা করছেন। এজন্য ঈশ্বর তাঁদেরই ঈশ্বর বলে অভিহিত হতে লজ্জা বোধ করেন না; বস্তুত তিনি তাঁদের জন্য একটা নগর প্রস্তুত করেছেন।
বিশ্বাসে আব্রাহাম পরীক্ষিত হয়ে ইসায়াককে উৎসর্গ করেছিলেন; এমনকি, যিনি সমস্ত প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছিলেন, তিনি নিজের সেই একমাত্র সন্তানকেই উৎসর্গ করেছিলেন, যাঁর বিষয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, ইসায়াকেই তোমার বংশধরেরা তোমার নাম বহন করবে। তিনি ভাবছিলেন, ঈশ্বর মৃতদের মধ্য থেকেও পুনরুত্থান সাধন করতে সক্ষম; আর এজন্যই তাঁকে দৃষ্টান্ত রূপে ফিরে পেলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
জেগে থাক ও প্রস্তুত থাক,
কেননা যে ক্ষণ তোমরা কল্পনা করবে না, সেই ক্ষণে মানবপুত্র আসবেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১২:৩২-৪৮)

একদিন যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন, ‘হে ক্ষুদ্র মেষপাল, ভয় করো না, কারণ সেই রাজ্য তোমাদেরই দিতে তোমাদের পিতা প্রসন্ন হয়েছেন। তোমাদের যা যা আছে, তা বিক্রি করে অভাবীদের দান কর। নিজেদের জন্য এমন থলি তৈরি কর, যা জীর্ণ হয় না; স্বর্গে অক্ষয় ধন জমিয়ে রাখ, যেখানে চোর কাছে আসে না, পোকাতেও ধরে ক্ষয় করে না; কেননা যেখানে তোমাদের ধন, সেইখানে তোমাদের হৃদয়ও থাকবে।
তোমরা কোমর বেঁধে ও প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রস্তুত থাক; এমন লোকদের মত হও, যারা নিজেদের প্রভুর অপেক্ষায় থাকে, তিনি বিবাহ-ভোজ থেকে কবে ফিরে আসবেন, যেন তিনি এসে দরজায় আঘাত করলেই তারা সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জন্য দরজা খুলে দিতে পারে। সুখী সেই দাসেরা, প্রভু এসে যাদের জাগ্রত পাবেন। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তিনি কোমর বেঁধে তাদের ভোজে আসন দেবেন, ও ঘুরে ঘুরে তাদের পরিবেশন করবেন। যদি রাতদুপুরে কিংবা ভোরের আগে এসে তিনি তাদের এভাবেই পান, তবে তারা সুখী। এবিষয়ে নিশ্চিত হও যে, চোর কোন্‌ সময় আসবে, গৃহকর্তা যদি তা জানত, তবে জেগে থাকত, নিজের ঘরে সিঁধ কাটতে দিত না। তোমরাও প্রস্তুত থাক, কেননা যে ক্ষণ তোমরা কল্পনা করবে না, সেই ক্ষণে মানবপুত্র আসবেন।’
পিতর বললেন, ‘প্রভু, আপনি কি আমাদের, না সকলকেই লক্ষ করে এই উপমা-কাহিনী শোনাচ্ছেন?’ প্রভু বললেন, ‘কে সেই বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান গৃহাধ্যক্ষ, যাকে তার প্রভু নিজ পরিবার-পরিজনদের উপরে নিযুক্ত করবেন, উপযুক্ত সময়ে সে যেন তাদের খোরাকের ব্যবস্থা করে? সুখী সেই দাস, যাকে তার প্রভু এসে তার নিজের কাজে ব্যস্ত পাবেন। আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তিনি তাকে নিজের সবকিছুর অধ্যক্ষ করে নিযুক্ত করবেন।
কিন্তু সেই দাস যদি মনে মনে বলে, আমার প্রভুর আসতে আরও দেরি আছে, আর যদি দাসদাসীকে মারতে, খাওয়া-দাওয়া করতে ও মাতাল হতে শুরু করে, তবে যেদিন সে প্রত্যাশা করে না ও যে ক্ষণ সে কল্পনা করে না, সে-দিন সে-ক্ষণেই সেই দাসের প্রভু আসবেন, এবং টুকরো টুকরো করে তাকে অবিশ্বস্তদের ভাগ্যের সহভাগী করবেন।
আর সেই দাস, যে নিজের প্রভুর ইচ্ছা জেনেও অপ্রস্তুত হয় ও তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী কোন কাজ করেনি, সে যথেষ্ট পরিমাণেই মার খাবে; অপরদিকে যে দাস না জেনে মার খাবার যোগ্য কোন কাজ করেছে, সে কম পরিমাণে মার খাবে। যাকে বেশি দেওয়া হয়েছে, তার কাছ থেকে বেশি দাবি করা হবে; যাকে বেশি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার কাছ থেকে বেশি চেয়ে নেওয়া হবে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
১১৮ নং সামসঙ্গীতে বিশপ সাধু আম্ব্রোজের ব্যাখ্যা

বিশ্বাস হোক তোমার যাত্রার সঙ্গী, ঐশশাস্ত্র হোক তোমার পথ। ঈশ্বরের বাণী উত্তম পথদিশারী। তেমন প্রদীপের শিখায়ই তোমার আলো জ্বালাও, যাতে তোমার দেহের প্রদীপ তথা তোমার মনশ্চক্ষু আলোকিত হয়। তোমার বহু প্রদীপ আছে; সবগুলোকেই জ্বালাও, কারণ তোমাকে বলা হয়েছে: কোমর বেঁধে ও প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রস্তুত থাক (লুক ১২:৩৫)। অন্ধকার যেখানে বহু বিস্তারিত, সেখানে বহু প্রদীপের প্রয়োজন, এবং তেমন অন্ধকারেই তোমাদের সৎকর্মের আলো উজ্জ্বল হবার কথা। এগুলোই সেই প্রদীপ যেগুলো বিধান আদেশ করেছিল সন্ধি-তাঁবুতে অবিরতই জ্বলন্ত থাকবে। সেই সন্ধি-তাঁবু ছিল আমাদের দেহের প্রতীক, যে দেহে সেই খ্রিষ্ট এলেন, যিনি আমাদের আত্মা মৃত্যুজনক যত কর্ম ও যত কালিমা থেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য মহত্তর ও সিদ্ধতর তাঁবুটির মধ্য দিয়ে, নিজেরই রক্তের মধ্য দিয়ে, একবারই, চিরকালের মত, পবিত্রধামে প্রবেশ করেছেন (হিব্রু ৯:১১, ১২)। এখন, আমাদের এই যে দেহ নিজ কাজকর্মের ফল দ্বারা আমাদের গোপন চিন্তা প্রকাশ করে, আমাদের সেই দেহে আমাদের সদ্‌গুণাবলির উজ্জ্বল আলো প্রদীপের মতই উদ্ভাসিত হওয়া চাই: এগুলোই তো সেই জ্বলন্ত প্রদীপ যা ঈশ্বরের মন্দির দিন রাত উদ্ভাসিত করে। তুমি যদি তোমার দেহ ঈশ্বরের মন্দির রূপে রক্ষা কর, তোমার অঙ্গগুলো যদি খ্রিষ্টেরই অঙ্গ হয়, তবে তোমার সমস্ত সদ্‌গুণ উজ্জ্বল আলোতেই উজ্জ্বল, ও পাপ ছাড়া এমন কেউ নেই যে তা নিবাতে পারবে। তেমন শুদ্ধ হৃদয় ও সরল ভাবের আলোতেই আমাদের পর্বগুলো উদ্ভাসিত হোক!
তাই তোমার প্রদীপ নিত্যই উজ্জ্বল হোক। খ্রিষ্ট তাদেরও ভর্ৎসনা করেন, প্রদীপ থাকলেও যারা তা জ্বালিয়ে রাখে না; তাঁর বাণী: কোমর বেঁধে ও প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রস্তুত থাক (লুক ১২:৩৫)। এ আলো কেবল অল্প সময়ের মতই ভোগ করব এমনটি নয়। গির্জায় বাণী শুনে আনন্দ পেয়ে যে বেরিয়ে গিয়ে সবকিছু ভুলে যায় ও অসতর্ক থাকে, সে-ই এ আলো অল্প সময়ের মত ভোগ করে। তেমন ব্যক্তি নিজ ঘরে বিনা আলোয় চলে, সুতরাং খ্রিষ্টের নয়, শয়তানেরই পোশাকে সজ্জিত হয়ে সে অন্ধকারে থাকে ও অন্ধকারময় কাজ সাধন করে। তেমনটি ঘটে যখন বাণীর প্রদীপ নিভে থাকে। এসো, আমরা যেন প্রভুর বাণী কখনও অবহেলা না করি, কারণ আমাদের পক্ষে এ বাণীই সমস্ত সদ্‌গুণের উৎস ও শুভকর্মের অগ্রগতি স্বরূপ।
দেহের অঙ্গগুলি যখন বিনা আলোতে ভাল মত সক্রিয় হতে পারে না—বাস্তবিকই আমরা পায় হোঁচট খাই ও হাতে ভুল বস্তু স্পর্শ করি—তখন আত্মার পদক্ষেপ ও মনের চিন্তাধারা বাণীর আলোতে আর কতই না আলোকিত হওয়া চাই! টমাস যেমন প্রভুর পুনরুত্থানের দাগ স্পর্শ করেছিলেন, তেমনি বাণীর আলোয় আত্মার হাত ভুল করে না। এ প্রদীপ প্রতিটি কথায় ও প্রতিটি কাজে জ্বলন্ত থাকুক। আন্তরিক কি বাহ্যিক আমাদের সমস্ত পদক্ষেপ তারই দিকে ধাবিত হোক।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৪৭
ধুয়ো:
যেরুসালেম! প্রভুর মহিমাকীর্তন কর;
তিনি সেরা গমের ফসলে তোমাকে পরিতৃপ্ত করেন।

তিনি এ পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন তাঁর বচন,
তাঁর বাণী দ্রুত বেগে ছুটে যায়।
তিনি তুষার বিছিয়ে দেন গালিচার মত,
ছাইয়ের মত ছড়িয়ে দেন জমাট শিশির।   [ধুয়ো]

তিনি হিমকণা ছুড়ে দেন টুকরো টুকরো নুড়ির মত,
তেমন শীতে কেবা দাঁড়াতে পারে?
তিনি তাঁর বাণী পাঠিয়ে সেই সব বিগলিত করেন,
তিনি বাতাস বহালে জল প্রবাহিত হয়।   [ধুয়ো]

তিনি তাঁর আপন বাণী ঘোষণা করেন যাকোবের কাছে,
তাঁর সমস্ত বিধি ও সুবিচার ইস্রায়েলের কাছে।
অন্যান্য দেশের জন্য তাই করলেন, এমন নয়,
অন্য কেউ জানতে পারেনি তাঁর সমস্ত সুবিচার।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার সাক্রামেন্ত গ্রহণের ফলে আমরা যেন পরিত্রাণ পেয়ে
তোমার সত্যের আলোতে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত থাকি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২০শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, যারা তোমাকে ভালবাসে,
তাদের জন্য তুমি এমন মঙ্গল ব্যবস্থা করেছ যা দৃষ্টিশক্তির অতীত।
আমাদের হৃদয়ে তোমার ভালবাসার প্রেরণা সঞ্চার কর,
আমরা যেন সবকিছুতে ও সবকিছুর ঊর্ধ্বে তোমাকে ভালবেসে
তোমার সেই প্রতিশ্রুত মঙ্গলদানগুলি লাভ করতে পারি
যা আমাদের সমস্ত বাসনার অতীত।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী যেরেমিয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৩৮:৪-৬,৮-১০)

সেসময়ে সমাজনেতারা রাজাকে বললেন, ‘যেরেমিয়ার প্রাণদণ্ড হোক, কেননা এ লোকদের কাছে তেমন কথা বলে এই নগরীতে বাকি যোদ্ধাদের সাহস ও জনগণের সাহস নিঃশেষ করছে; কারণ লোকটা জাতির মঙ্গল নয়, কেবল তার অমঙ্গল চাচ্ছে।’ সেদেকিয়া রাজা বললেন, ‘দেখ, সে তোমাদেরই হাতে! কারণ তোমাদের বিরুদ্ধে রাজার কিছু করার সাধ্য নেই।’
তখন তাঁরা যেরেমিয়াকে ধরে রাজবংশীয় মাল্কিয়ার কুয়োর মধ্যে ফেলে দিলেন; কুয়োটা কারাবাসের প্রাঙ্গণে অবস্থিত। লোকে দড়িতে করে যেরেমিয়াকে নামিয়ে দিল; সেই কুয়োতে জল ছিল না, কিন্তু কাদা ছিল, তাই যেরেমিয়া কাদায় ডেবে গেলেন।
সেই সময়ে এবেদ-মেলেক রাজপ্রাসাদ থেকে বের হয়ে রাজাকে বলল, ‘হে আমার প্রভু মহারাজ, এই লোকেরা যেরেমিয়া নবীর প্রতি এভাবে ব্যবহার করে খুবই দুর্ব্যবহার করেছে: কুয়োতেই তাঁকে ফেলে দিয়েছে। তিনি তো সেই জায়গায় ক্ষুধায় মরবেন, কেননা নগরীতে আর রুটি নেই।’ তখন রাজা ইথিওপীয় এবেদ-মেলেককে এই হুকুম দিলেন, ‘তুমি এখান থেকে ত্রিশজন পুরুষকে সঙ্গে নিয়ে যেরেমিয়া নবী মরবার আগে তাঁকে কুয়ো থেকে তুলে আন।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৪০
ধুয়ো:
আমার সহায়তায়
শীঘ্রই এসো, প্রভু।

আমি প্রভুর ব্যাকুল প্রতীক্ষায় ছিলাম,
আমার উপর আনত হয়ে তিনি আমার চিৎকার শুনলেন;
ধ্বংসের গর্ত থেকে, পঙ্কিল জলাভূমি থেকে
আমায় টেনে তুললেন।   [ধুয়ো]

আমার পা শৈলের উপর স্থাপন করলেন,
সুদৃঢ় করলেন আমার পদক্ষেপ।
আমার মুখে তিনি দিলেন একটি নতুন গান,
আমাদের পরমেশ্বরের প্রশংসাগান।   [ধুয়ো]

তা দেখে অনেকেই ভীত হবে,
প্রভুতে ভরসা রাখবে।
কিন্তু দীনহীন নিঃস্ব যে আমি!
প্রভুই আমার জন্য চিন্তা করবেন।   [ধুয়ো]

তুমিই তো আমার সহায়,
আমার মুক্তিদাতা,
আর দেরি করো না,
পরমেশ্বর আমার।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (১২:১-৪)

প্রিয়জনেরা, তেমন বহুসংখ্যক সাক্ষীর বেষ্টনে পরিবেষ্টিত হয়ে, এসো, আমরাও যা কিছু বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, সহজে বাধা সৃষ্টি করে সেই পাপও নামিয়ে দিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে আমাদের জন্য নির্দিষ্ট সেই দৌড় দৌড়োই। এসো, বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠাতা ও তার সিদ্ধতার সাধক যিশুর দিকে চোখ নিবদ্ধ রাখি, যিনি তাঁর সম্মুখীন আনন্দের বিনিময়ে অপমান তুচ্ছ ক’রে ক্রুশই মেনে নিয়ে ঈশ্বরের সিংহাসনের ডান পাশে আসন নিয়েছেন।
ভাল করে বিবেচনা করে দেখ তাঁরই কথা, যিনি পাপীদের তত বড় বিরোধিতা সহ্য করলেন, যেন তোমরা নিরাশার ফলে ভেঙে না পড়। পাপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে তোমরা এখনও রক্তদান পর্যন্ত প্রতিরোধ করনি।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমার মেষগুলি আমার কণ্ঠে কান দেয়—একথা বলছেন প্রভু;
তাদের আমি জানি আর তারা আমার অনুসরণ করে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১২:৪৯-৫৩)

একদিন যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন, ‘আমি পৃথিবীতে আগুন আনবার জন্য এসেছি; আমার কতই না ইচ্ছে, তা যদি এর মধ্যে জ্বলতে থাকত! এমন বাপ্তিস্ম আছে, যে-বাপ্তিস্মে আমাকে বাপ্তিস্ম নিতে হবে, আর তা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমার কী সঙ্কোচ!
তোমরা কি মনে করছ, আমি পৃথিবীতে শান্তি আনবার জন্যই এসেছি? আমি তোমাদের বলছি, তা নয়, বরং বিভেদ! কেননা এখন থেকে, পাঁচজনকে নিয়ে যে সংসার, তাতে বিভেদ দেখা দেবে: তিনজন দু’জনের বিরুদ্ধে ও দু’জন তিনজনের বিরুদ্ধে; পিতা ছেলের বিরুদ্ধে, ও ছেলে পিতার বিরুদ্ধে; মা মেয়ের বিরুদ্ধে, ও মেয়ে মায়ের বিরুদ্ধে; শাশুড়ী পুত্রবধূর বিরুদ্ধে, ও পুত্রবধূ শাশুড়ীর বিরুদ্ধে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু পিতর দ্য ব্লুয়ার উপদেশ

যিনি পবিত্র আত্মাকে সীমাহীন মাত্রায় পেয়েছেন, সেই খ্রিষ্ট মানুষের কাছে দানগুলি মঞ্জুর করেছেন ও এখনও দিয়ে থাকেন: আমরা সকলে তাঁর ঐশ্বর্য থেকে লাভবান হয়েছি (যোহন ১:১৬); এবং কিছুই এড়াতে পারে না কো তাঁর উত্তাপ (সাম ১৯:৭)। সিয়োনে তাঁর আগুন আছে, যেরুসালেমে তাঁর চুল্লি আছে (ইসা ৩১:৯)। এ-ই সেই আগুন যা খ্রিষ্ট পৃথিবীর বুকে জ্বালাতে এসেছেন, ও যা অগ্নিময় জিহ্বার মত প্রেরিতদূতদের উপরে দেখা দিয়েছিল যাতে অগ্নিময় জিহ্বাই অগ্নিময় বিধান প্রচার করে। তেমন আগুন বিষয়ে যেরেমিয়া বলেছেন, আমার হৃদয়ে যেন জ্বলন্ত একটা আগুন ছিল, যা আমার হাড়ের মধ্যেই রুদ্ধ (যেরে ২০:৯)।
পবিত্র আত্মা খ্রিষ্টে সম্পূর্ণরূপে ও ইন্দ্রিয়গোচরভাবেই উপস্থিত; তাছাড়া তিনি সকলের উপর নিজ আত্মার একটি অংশ বর্ষণ করেন, তাতে প্রত্যেককে দেওয়া আত্মার সেই বিশেষ অভিব্যক্তি সার্বিক উপকারিতার উদ্দেশ্যেই দেওয়া (১ করি ১২:৭)। একথার পর তিনি বলে চলেন, অনুগ্রহদান, সেবাকর্ম ও ধর্মক্রিয়া নানা প্রকার, আত্মা কিন্তু এক (১ করি ১২:৮-৬ দ্রঃ)। অনুগ্রহদানের এ বিভিন্ন অভিব্যক্তির কারণে পবিত্র আত্মা একসময়ে আগুন, অন্য সময়ে তেল, অন্য সময়ে আঙুররস, অন্য সময়ে জল বলে অভিহিত। তিনি আগুন, কারণ মানুষের অন্তর প্রেমের আগুনে জ্বলন্ত করে তোলেন, ও একবার জ্বালানো হলে কখনও নিভে না, অর্থাৎ কিনা জ্বলন্ত প্রেমে জ্বলায় কখনও ক্ষান্ত হয় না: আমি পৃথিবীতে আগুন আনবার জন্য এসেছি; আমার কতই না ইচ্ছে, তা যদি এর মধ্যে জ্বলতে থাকত (লুক ১২:৪৯)।
নানা গুণের কারণে পবিত্র আত্মা তেল। কেননা নিজের প্রকৃতিগুণে তেল যেমন অন্যান্য পদার্থের উপরেই ভেসে ওঠে, তেমনি প্রার্থীদের কর্মফল ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে যাঁর মঙ্গলময়তার বদান্যতা প্রত্যাশার অতীত, সেই পবিত্র আত্মার অনুগ্রহ সমস্ত দান ও মঙ্গলদানের চেয়ে অতিমূল্যবান। উপরন্তু, ব্যথা জুড়িয়ে দেয় বিধায় তেল যেমন ঔষধস্বরূপ, তেমনি সান্ত্বনাদানকারী হওয়ায় পবিত্র আত্মা সত্যিই তেল। তাছাড়া তেল মিশ্রিত হয়েও যেমন স্বভাবে কোন কিছুর সঙ্গে একীভূত হয় না, তেমনি পবিত্র আত্মা এমন পবিত্রতম জলের উৎস, যার সঙ্গে ভিন্ন স্বভাবের কোন কিছু মিলিত হতে পারে না।
তবে এখন আমরা উপলব্ধি করতে পারি, পবিত্র আত্মা কেনই বা একসময়ে আগুন, অন্য সময়ে তেল বলে অভিহিত। পবিত্র আত্মাকে দু’বার প্রেরিতদূতদের কাছে দেওয়া হয়েছে: যন্ত্রণাভোগের আগে ও পুনরুত্থানের পরে। লক্ষ কর, তাঁদের মধ্যে ভক্তির উৎস কতই না গভীর: প্রকৃতপক্ষে তেল উত্তপ্ত না হলে তা ঢালা বৃথা, একই প্রকারে তেল না দিলে প্রদীপে আগুন দেওয়াও বৃথা। তেমন আগুনে জ্বলন্ত হয়ে উঠে প্রেরিতদূতেরা অপমান বরণের যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন ব’লে আনন্দ করতে করতে মহাসভা থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন (প্রেরিত ৫:৪১)। এবার প্রেরিতদূতদের প্রধানের বাণী শোন: খ্রিষ্টের খাতিরে যদি তোমাদের লাঞ্ছনাও ভোগ করতে হয়, তবে তোমরা ধন্য (১ পি ৩:১৪ দ্রঃ)। খ্রিষ্টের খাতিরে তোমাদের এই অনুগ্রহ দেওয়া হয়েছে, যেন তাঁর প্রতি কেবল বিশ্বাসই রাখ, তা নয়, কিন্তু তাঁর জন্য দুঃখযন্ত্রণাও ভোগ কর (ফিলি ১:২৯)।
পবিত্র আত্মা হলেন সেই আঙুররস যা আনন্দিত করে মানুষের অন্তর (সাম ১০৪:১৫), ও পুরানো ভিস্তিতে যা ঢালা হয় না। পবিত্র আত্মা জল, যেমনটি প্রভু বলেন, কেউ যদি তৃষ্ণার্ত হয়, সে আমার কাছে এসে পান করুক (যোহন ৭:৩৭)। পবিত্র আত্মা মধুর চেয়েও মিষ্টি: সুতরাং এসো, বিনম্রতার সঙ্গে তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের বিবেক-শোধনের উদ্দেশ্যে আমাদের হৃদয়ে আশিসপূর্ণ শিশির, আত্মিক দানগুলির জলবিন্দুধারা ও অনুগ্রহের প্রাচুর্যময় বৃষ্টি সঞ্চার করেন। আমাদের হৃদয়ে তিনি সঞ্চার করুন সেই আনন্দ-তেল ও ঐশভক্তির আগুন, তথা সেই খ্রিষ্টকে, পিতা যাঁকে তৈলাভিষিক্ত করলেন ও যাঁর মধ্যে তৈলাভিষেকের ও আশীর্বাদের পূর্ণতা এজন্যই সঞ্চার করলেন, যাতে তেমন পূর্ণতার জলধারা থেকে আমরা অশেষ অনুগ্রহ তুলে আনতে পারি। তাঁরই সম্মান ও গৌরব হোক যুগে যুগান্তরে। আমেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১৩০
ধুয়ো:
প্রভুর কাছে রয়েছে কৃপা,
তাঁর কাছের মুক্তি মহান।

প্রভু, তুমি যদি লক্ষ কর সমস্ত অপরাধ,
কেইবা পারবে দাঁড়াতে, ওগো প্রভু?
তোমার কাছে কিন্তু আছে ক্ষমা,
মানুষ যেন তোমাকে ভয় করতে পারে।   [ধুয়ো]

প্রভু, আমি আশা রাখি;
আমার প্রাণ আশা রাখে; আমি তাঁর বাণীর প্রত্যাশায় আছি।
প্রহরীরা যেমন উষার জন্য, প্রহরীরা যেমন উষার জন্য,
তাদের চেয়ে প্রভুর জন্য অধিক ব্যাকুল আমার প্রাণ।   [ধুয়ো]

ইস্রায়েল, প্রভুর প্রতীক্ষায় থাক,
কারণ প্রভুর কাছে রয়েছে কৃপা, তাঁর কাছের মুক্তি মহান।
তিনি নিজেই ইস্রায়েলকে মুক্ত করবেন
তার সমস্ত অপরাধ থেকে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, বিনীত কণ্ঠে আমরা অনুনয় করি: এ সাক্রামেন্ত গ্রহণের ফলে
যখন খ্রিষ্টের সঙ্গে সহভাগিতা লাভ করেছি, তখন এই মর্তে
তাঁর সাদৃশ্যের অনুরূপ হয়ে যেন স্বর্গে তাঁর চির সঙ্গ লাভ করতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২১শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি তো তোমার ভক্তদের একমন একপ্রাণ করে তোল। কৃপা কর:
ভক্তির সঙ্গে তোমার আদেশ গ্রহণ ক’রে ও তোমার অঙ্গীকৃত শুভদান বাসনা ক’রে
তোমার জনগণ যেন এজগতের অস্থায়ী বিষয়বস্তুর মধ্যে
সেইদিকে চোখ নিবদ্ধ রাখে যেখানে প্রকৃত আনন্দ বিরাজিত।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৬৬:১৮খ-২১)

প্রভু একথা বলছেন: আমি সকল দেশ ও সকল ভাষার মানুষকে সংগ্রহ করতে আসছি: তারা এসে আমার গৌরব দর্শন করবে। আমি তাদের মধ্যে এক চিহ্ন রাখব, এবং তাদের মধ্যে যারা রেহাই পেয়েছে, তাদের আমি বিজাতীয়দের কাছে—তার্সিস, পুট, লুদ, মেশেক, তুবাল ও যাবানের কাছে, দূরবর্তী যে দ্বীপপুঞ্জ কখনও আমার কথা শোনেনি ও আমার গৌরব দেখেনি, তাদেরই কাছে প্রেরণ করব; তারা বিজাতীয়দের কাছে আমার গৌরবের কথা প্রচার করবে।
প্রভু একথা বলছেন: তারা বিজাতীয়দের মধ্য থেকে তোমাদের সকল ভাইকে প্রভুর উদ্দেশে নৈবেদ্যরূপে ঘোড়া, রথ, পালকি, খচ্চর ও উটে করে আমার পবিত্র পর্বতে, যেরুসালেমেই, ফিরিয়ে আনবে, ঠিক যেমন ইস্রায়েল সন্তানেরা বিশুদ্ধ পাত্রে করে প্রভুর গৃহে অর্ঘ্য আনে। আমি তাদের মধ্যেও কয়েকজনকে যাজক ও লেবীয় রূপে নিযুক্ত করব—প্রভু এই কথা বলছেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১১৭
ধুয়ো:
তোমরা বিশ্বজগতে বেরিয়ে পড়,
সমস্ত সৃষ্টির কাছে সুসমাচার প্রচার কর।

প্রভুর প্রশংসা কর, সকল দেশ,
তাঁর মহিমাকীর্তন কর, সকল জাতি।
দৃঢ়ই যে আমাদের প্রতি তাঁর কৃপা,
প্রভুর বিশ্বস্ততা চিরস্থায়ী।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (১২:৫-৭,১১-১৩)

প্রিয়জনেরা, তোমরা সেই চেতনা-বাণী ভুলে গেছ, যা সন্তান বলে উদ্দেশ ক’রে তোমাদের বলা হয়েছিল: সন্তান আমার, প্রভুর শাসন তুচ্ছ করো না, তিনি তোমাকে ভর্ৎসনা করলে তুমি নিরাশ হয়ো না; কারণ প্রভু যাকে ভালবাসেন, তাকে শাসন করেন, সন্তান বলে যাকে গ্রহণ করেন, তাকে শাস্তি দেন।
তোমাদের শাসনের উদ্দেশ্যেই তোমরা কষ্ট পাচ্ছ! ঈশ্বর নিজের সন্তান বলেই তোমাদের সঙ্গে ব্যবহার করছেন; এমন কোন্‌ সন্তান আছে, পিতা যাকে শাসন করেন না? অবশ্য, কোন শাসন শাসনের সময়ে আনন্দের বিষয় নয়, দুঃখেরই বিষয় মনে হয়; তবু যারা তার মধ্য দিয়ে শিক্ষা পেয়েছে, পরে সেই শাসন তাদের এনে দেয় শান্তি ও ধর্মময়তার ফল।
তাই তোমরা শ্রান্ত যত হাত ও অবশ যত হাঁটু সবল কর, এবং তোমাদের পায় চলার পথ সরল কর, যেন ক্ষতগ্রস্ত অঙ্গ গ্রন্থিচ্যুত না হয়ে বরং সেরেই ওঠে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমিই সেই পথ, সেই সত্য, সেই জীবন,—একথা বলছেন প্রভু;
পিতার কাছে কেউই যেতে পারে না, যদি না সে আমার মধ্য দিয়ে যায়।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৩:২২-৩০)

সেসময়ে যিশু শহরে শহরে ও গ্রামে গ্রামে ঘুরে উপদেশ দিতে দিতে যেরুসালেমের দিকে তাঁর সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। একজন লোক তাঁকে বলল, ‘প্রভু, যারা পরিত্রাণ পায়, তারা কি অল্পজন?’
তিনি তাদের বললেন, ‘তোমরা সরু দরজা দিয়েই প্রবেশ করতে আপ্রাণ চেষ্টা কর, কেননা আমি তোমাদের বলছি, অনেকে প্রবেশ করতে চেষ্টা করবে, কিন্তু অক্ষম হবে।
গৃহস্বামী উঠে একবার দরজা বন্ধ করলে, তোমরা বাইরে দাঁড়িয়ে দরজায় ঘা দিতে শুরু করবে, বলবে, প্রভু, আমাদের জন্য দরজা খুলে দিন; কিন্তু তিনি উত্তরে তোমাদের বলবেন, আমি তোমাদের চিনি না; আমি জানি না, তোমরা কোথাকার লোক। তখন তোমরা একথা বলতে শুরু করবে, আমরা আপনার সঙ্গেই খাওয়া-দাওয়া করেছি, আপনিও আমাদের রাস্তা-ঘাটে উপদেশ দিয়েছেন। কিন্তু তিনি আবার বলবেন, আমি তোমাদের চিনি না; আমি জানি না, তোমরা কোথাকার লোক। হে অপকর্মা সকল, আমা থেকে দূর হও!
আর তখন সেখানে হবে কান্না ও দাঁত ঘষাঘষি, যখন তোমরা দেখতে পাবে: আব্রাহাম, ইসায়াক ও যাকোব এবং নবীরা সকলেই ঈশ্বরের রাজ্যে রয়েছেন, আর তোমাদের বাইরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
এবং পুব ও পশ্চিম থেকে, উত্তর ও দক্ষিণ থেকে লোকেরা এসে ঈশ্বরের রাজ্যের ভোজে আসন পাবে। দেখ, যারা সবার শেষে রয়েছে, তাদের কেউ কেউ সবার আগে দাঁড়াবে; এবং যারা সবার আগে রয়েছে, তাদের কেউ কেউ সবার শেষে পড়বে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আনসেলমোর পত্র

প্রিয়তম ভ্রাতৃগণ, ঈশ্বর ঘোষণা করছেন, স্বর্গরাজ্য বিক্রির জন্য; এ রাজ্য এতই উৎকৃষ্ট যে, তার আনন্দ ও গৌরব কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি, কোন মানুষের অন্তরে কখনও প্রবেশ করেনি (১ করি ২:৯)। কিন্তু তুমি যেন রাজ্যটিকে কোন প্রকারে ভাবতে পার, জেনে রেখ, যে কেউ সেখানে রাজত্ব করতে যোগ্য হবে, সে স্বর্গে ও পৃথিবীতে যা ইচ্ছে পাবে; আর যা চাইবে না, স্বর্গে ও পৃথিবীতেও তা পাবে না। যারা সেই রাজ্যে থাকবে, তাদের ও ঈশ্বরের মধ্যে ভালবাসা ও পারস্পরিক সংযোগ এতই গভীর হবে যে, সকলে পরস্পরকে নিজেদেরই মত ভালবাসবে; আবার সকলে নিজেদের চেয়ে ঈশ্বরকেই ভালবাসবে। ফলত, ঈশ্বর যা ইচ্ছা করেন, স্বর্গে তা ছাড়া কেউই অন্য কিছু ইচ্ছা করবে না; আর একজন যা ইচ্ছা করে, সকলেই তা ইচ্ছা করবে। এজন্য নিজের বিষয়ে, বা অন্যদের বা যে কোন বস্তু বিষয়ে, এমনকি ঈশ্বর বিষয়ে একজনের যে আকাঙ্ক্ষা, তার জন্য তা বাস্তবায়িত হবে। ফলে এক একজন প্রকৃত রাজার মতই হবে, কারণ তাদের যা ইচ্ছা, তা প্রতিফলিত হবে; আর ঈশ্বরের সঙ্গে সকলে মিলে এক রাজা ও কেমন যেন এক মানুষ হবে, কারণ সকলের ইচ্ছা এক, আর সেই ইচ্ছা সাধিত হবে।
স্বর্গ থেকে ঈশ্বর ঘোষণা করছেন, এসব কিছু বিক্রির জন্য।
কেউ দাম জিজ্ঞাসা করলে তাকে উত্তর দেওয়া হবে, যিনি স্বর্গরাজ্য দিতে চান, পার্থিব অর্থ তাঁর প্রয়োজন নেই; তাছাড়া, নিজস্ব বলতে যার কিছু নেই, সে তা ঈশ্বরকে দিতে পারে না, কারণ যা কিছু আছে সবই ঈশ্বরের। অন্যদিকে ঈশ্বর তেমন মূল্যবান বস্তু একেবারে বিনামূল্যে দেন না, কারণ যার ভালবাসা নেই, তাকে তিনি তা দেন না; কেননা এমন কেউ নেই যে নিজের প্রিয়তম বস্তু তাকেই দেবে যে তাকে ভালবাসে না। সুতরাং, ঈশ্বরের পক্ষে তোমার নিজস্ব কোন কিছুর প্রয়োজন নেই, তেমন মহাবস্তুও তিনি তাকেই দিতে বাধ্য নন, সেই বস্তুকে ভালবাসায় যে অবহেলা করে। তিনি ভালবাসা ছাড়া অন্য কিছু প্রত্যাশা করেন না, ভালবাসা না থাকলে তিনি কিছু দিতে বাধ্য নন। তাই তুমি তাঁকে ভালবাসা দান কর, তবেই রাজ্য লাভ করবে: ভালবাস, তবেই তা পাবে।
শেষ কথা, যেহেতু স্বর্গে রাজত্ব করাই হল ভালবাসার মধ্য দিয়ে এক ইচ্ছায় একীভূত হয়ে সকলে মিলে একই কর্তৃত্বের অনুশীলনে ঈশ্বরের সঙ্গে ও সকল সাধুসাধ্বী, স্বর্গদূত ও মানুষের সঙ্গে এক হওয়া, সেহেতু নিজের চেয়ে ঈশ্বরকেই বেশি ভালবাস, তবেই তুমি স্বর্গে যা কিছু সম্পূর্ণরূপে পেতে চাও, এ পৃথিবীতেও তা পেতে শুরু করবে। ঈশ্বর ও মানুষদের সঙ্গে এক-ইচ্ছা হও—তবু সেই মানুষদেরই সঙ্গে, যারা ঈশ্বরের প্রতি বিবাদী নয়—তবেই ঈশ্বরের সঙ্গে ও সকল ধার্মিকের সঙ্গে রাজত্ব করতে শুরু করবে। তুমি এখন ঈশ্বরের ও মানুষের ইচ্ছার সঙ্গে যতখানি একচিত্ত হও, আপন পুণ্যজনদের সঙ্গে ঈশ্বর তোমার ইচ্ছা ততখানি মেনে নেবেন। তাই তুমি যদি স্বর্গে রাজা হতে চাও, তাহলে উপযুক্ত ভাবে ঈশ্বরকে ও মানুষকে ভালবাস, তবেই যা হতে চাও তা হতে যোগ্য হবে।
কিন্তু তুমি হৃদয় থেকে অন্য ভালবাসা বাতিল না করলে এ সিদ্ধ ভালবাসা লাভ করতে পারবে না। এজন্য যাদের হৃদয় ঈশ্বরপ্রেমে ও ভ্রাতৃপ্রেমে পূর্ণ, তারা তাই মাত্র ইচ্ছা করে, ঈশ্বর যা ইচ্ছা করেন—অন্য যত কিছুও ইচ্ছা করে, যা ঈশ্বর-বিরুদ্ধ নয়। এজন্যই তারা প্রার্থনায় রত থাকে ও স্বর্গীয় বিষয়ে পুণ্যসংলাপ ও ধ্যানে নিষ্ঠাবান থাকে, কারণ ঈশ্বরের আকাঙ্ক্ষা করা, তাঁর কথা বলা, তাঁর কথা শোনা, সেই প্রীতির পাত্র বিষয়ে ধ্যানরত থাকা তাদের পক্ষে মধুর লাগে; আর এর ফলে যারা আনন্দ করে, তাদের সঙ্গে তারাও আনন্দ করে, যারা কাঁদে, তাদের সঙ্গে তারাও কাঁদে, দুর্দশাগ্রস্তদের প্রতি করুণা দেখায়, ও গরিবদের সাহায্য দান করে: এভাবেই তারা প্রতিবেশীকে নিজেদেরই মত ভালবাসে। তারা ধন-ঐশ্বর্য কি প্রধান আসন কি পার্থিব অভিলাষ সবই অবজ্ঞা করে; প্রশংসা ও সম্মানের পাত্রও হতে ভালবাসে না, কারণ এসব কিছু যে ভালবাসে, সে প্রায়ই ঈশ্বরের বিরুদ্ধে ও প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে পাপ করে।
এই আজ্ঞা দু’টোর উপরেই সমস্ত বিধান ও নবী-পুস্তক ভর করে আছে (মথি ২২:৪০)। অতএব, যার মূল্যে স্বর্গরাজ্য কেনা যায়, সেই সিদ্ধ ভালবাসা যে পেতে চায়, ধার্মিকদের মত সেও দুর্নাম, দরিদ্রতা, পরিশ্রম ও বাধ্যতা ভালবাসবে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১০৪
ধুয়ো:
প্রভু, তোমার কর্মের ফলভারে পৃথিবী পরিতৃপ্ত হয়:
ভূমি থেকে তুমি সেই রুটি ও আঙুররস বের করে আন, যা আনন্দিত করে মানুষের অন্তর।

গিরিখাতে তুমি জলের উৎসধারা উচ্ছলিত করলে,
গিরিমালার মাঝখান দিয়ে সেই ধারা করে চলাচল;
সকল বন্যজন্তু পান করে সেই উৎসের জল,
সেখানে তৃষ্ণা মেটায় বন্য গর্দভের দল।   [ধুয়ো]

হে প্রভু,
কী অগণন তোমার কর্মকীর্তি!
প্রজ্ঞার সঙ্গেই নির্মাণ করেছ এ সবকিছু,
তোমার কর্মরচনায় পৃথিবী পরিপূর্ণ।   [ধুয়ো]

তুমি শ্রীমুখ লুকিয়ে রাখ, তারা সন্ত্রাসিত হয়ে পড়ে,
তুমি তাদের প্রাণবায়ু ফিরিয়ে নাও, তারা মরে, ধুলায় ফিরে যায়।
তুমি নিজ প্রাণবায়ু পাঠিয়ে দাও, তারা সৃষ্ট হয়,
এভাবেই তুমি ধরণীর মুখ নবীন করে তোল।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার দয়ার প্রতিকার এই সাক্রামেন্ত
আমাদের অন্তরে পূর্ণ সার্থকতা লাভ করুক:
প্রসন্ন হয়ে আমাদের বলবান করে সুস্থির কর,
যেন সমস্ত কিছুতেই তোমার গ্রহণযোগ্য হতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২২শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, উত্তম যা কিছু আছে, তুমিই তার উৎস!
আমাদের অন্তরে তোমার নামের প্রতি শ্রদ্ধা জাগিয়ে তোল,
ভক্তিও গভীরতর কর, যাতে আমাদের অন্তরে শুভ যা কিছু আছে
তা তুমি নিজে বিকশিত করতে পার,
ও যা বিকশিত করেছ তা সযত্নে রক্ষা করতে পার।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
বেন-সিরা পুস্তক থেকে পাঠ লাতিন (৩:১৭-২০,২৮-২৯)

সন্তান, তোমার কর্মকাণ্ডে শালীনতা বজায় রাখ,
তবে ঈশ্বরের অনুগৃহীতদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
তুমি যত বড় হও, তত বিনম্রতার সঙ্গে ব্যবহার কর,
তবে প্রভুর কাছে অনুগ্রহ পাবে;
কেননা বিনম্রদের দ্বারাই তিনি গৌরবান্বিত।
দর্পী মানুষের দুর্বিপাকের জন্য কোন প্রতিকার নেই,
কারণ তার অন্তরে স্থান পেয়েছে অনিষ্টকর শিকড়।
সুবিবেচক মানুষের হৃদয় প্রবচন ধ্যানে রত থাকে;
মনোযোগী কান, এ প্রজ্ঞাবানের বাসনা।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৬৮
ধুয়ো:
তোমার মঙ্গলময়তায়, পরমেশ্বর,
তুমি একটি আবাস প্রস্তুত করেছ দীনহীনের জন্য।

ধার্মিকেরা আনন্দ করুক,
পরমেশ্বরের সম্মুখে উল্লাস করুক, আনন্দে মেতে উঠুক।
পরমেশ্বরের উদ্দেশে গান গাও তোমরা, কর তাঁর নামগান,
‘প্রভু’-ই তাঁর নাম।   [ধুয়ো]

এতিমদের পিতা, বিধবাদের রক্ষক,
তা-ই পরমেশ্বর নিজের পবিত্র বাসস্থানে।
পরমেশ্বর সঙ্গীহীনদের ঘরে আসন দেন,
বন্দিদের আনন্দময় মুক্তিদানে বের করে আনেন।   [ধুয়ো]

তুমি অপর্যাপ্ত বর্ষা সিঞ্চন করলে, পরমেশ্বর,
তোমার উত্তরাধিকারের শ্রান্ত মানুষকে তুমি উজ্জীবিত করলে।
তোমার লোকেরা সেই স্থানে বাস করল,
যা তোমার মঙ্গলময়তায়, পরমেশ্বর, তুমি প্রস্তুত করেছিলে দীনহীনের জন্য।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
হিব্রুদের কাছে পত্র থেকে পাঠ (১২:১৮-১৯,২২-২৪ক)

প্রিয়জনেরা, তোমরা এমন কিছুর কাছে এগিয়ে আসনি, যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য: সেই জ্বলন্ত আগুনের কাছেও নয়, সেই অন্ধকার, সেই ঘন তমসা বা সেই ঘূর্ণিঝড়ের কাছেও নয়, সেই তুরিধ্বনি ও সেই কণ্ঠের শব্দের কাছেও নয়, যা শুনে সেই লোকেরা সকলে অনুরোধ করল, যেন তাদের কাছে আর কোন কথা শোনানো না হয়।
কিন্তু তোমরা এগিয়ে গিয়ে যার সম্মুখীন হয়েছ, তা হল সেই সিয়োন পর্বত, জীবনময় ঈশ্বরের সেই নগরী, সেই স্বর্গীয় যেরুসালেম, লক্ষ লক্ষ দূতবাহিনীর সেই উৎসব-সমাবেশ, স্বর্গীয় তালিকাভুক্ত সেই প্রথমজাতদের মণ্ডলী, সকলের বিচারকর্তা স্বয়ং ঈশ্বর, সিদ্ধতায় উন্নীত ধার্মিকদের আত্মা, নবীন এক সন্ধির মধ্যস্থ স্বয়ং যিশু।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমার জোয়াল কাঁধে তুলে নাও—একথা বলছেন প্রভু;
আমার কাছ থেকে শিখে নাও, কারণ আমি কোমল ও নম্রহৃদয়।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৪:১,৭-১৪)

এক সাব্বাৎ দিনে যিশু প্রধান ফরিসিদের একজন অধ্যক্ষের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেতে গিয়েছিলেন, এবং লোকে তাঁকে লক্ষ করছিল।
আর নিমন্ত্রিত লোকেরা কীভাবে প্রধান প্রধান আসন বেছে নিচ্ছেন, তা লক্ষ করে তিনি তাঁদের একটা উপমা-কাহিনী শোনালেন; তাঁদের বললেন, ‘যখন কেউ আপনাকে বিবাহভোজে নিমন্ত্রণ করেন, তখন প্রধান স্থানে গিয়ে বসবেন না; হয় তো আপনার চেয়ে সম্মানিত কোন লোক নিমন্ত্রিত হয়েছেন, তবে যিনি আপনাকে ও তাঁকে নিমন্ত্রণ করেছেন, তিনি এসে আপনাকে বলবেন, এঁকে স্থান দিন; আর তখন আপনি লজ্জার সঙ্গে শেষ স্থান নিতে বাধ্য হবেন। বরং আপনি নিমন্ত্রিত হলে শেষ স্থানে গিয়ে বসবেন; তাহলে যিনি আপনাকে নিমন্ত্রণ করেছেন, তিনি যখন এসে আপনাকে বলবেন, বন্ধু, এগিয়ে আসুন, ভাল আসনে বসুন, তখন সকল নিমন্ত্রিতদের সামনে আপনার গৌরব হবে। কেননা যে কেউ নিজেকে উচ্চ করে, তাকে নত করা হবে; আর যে কেউ নিজেকে নত করে, তাকে উচ্চ করা হবে।’
পরে, যিনি তাঁকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন, তাঁকে তিনি বললেন, ‘আপনি যখন দুপুরে বা রাতে ভোজের আয়োজন করেন, তখন আপনার বন্ধুদের বা আপনার ভাইদের বা আপনার আত্মীয়স্বজনদের কিংবা ধনী প্রতিবেশীদের নিমন্ত্রণ করবেন না; হয় তো তাঁরাও আপনাকে পাল্টা নিমন্ত্রণ করবেন, এতে আপনি আপনার প্রতিদান পাবেন। বরং আপনি যখন ভোজের আয়োজন করেন, তখন গরিব, পঙ্গু, খোঁড়া ও অন্ধদেরই নিমন্ত্রণ করুন; এতে আপনি সুখী হবেন, কেননা আপনাকে প্রতিদানে দেওয়ার মত তাদের কিছু নেই, তাই ধার্মিকদের পুনরুত্থানের সময়ে আপনি প্রতিদান পাবেন।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
রিভোর মঠাধ্যক্ষ সাধু এলরেডের উপদেশ

সত্যিই, ভ্রাতৃগণ, আমাদের অন্তরে প্রকৃত বিনম্রতা থাকতে পারে না, তা যদি না স্বাস্থ্যকর ভয় দ্বারা পরিপুষ্ট হয়; বাধ্যতাও নয়, তা যদি না ভক্তির আত্মা দ্বারা মধুর করা হয়; ন্যায্যতাও নয়, তা যদি না পবিত্র আত্মার জ্ঞান দ্বারা সুস্থির করা হয়; ধৈর্যও নয়, তা যদি না দৃঢ়তার আত্মা দ্বারা স্থির করা হয়; দয়াও নয়, তা যদি না সুমন্ত্রণা দ্বারা পরিপুষ্ট হয়; শুদ্ধহৃদয়তাও নয়, তা যদি না স্বর্গীয় বিষয়ের উপলব্ধি দ্বারা সংরক্ষিত হয়; ভালবাসাও নয়, তা যদি না সেই প্রজ্ঞা দ্বারা সঞ্জীবিত হয় যা ঈশ্বরের বিষয় আস্বাদন করার ক্ষমতা স্বরূপ।
এ সমস্ত কিছু খ্রিষ্টেই সম্পূর্ণরূপে উপস্থিত, যাঁর মধ্যে মঙ্গল আংশিক ভাবে নয়, পূর্ণাঙ্গভাবেই বিদ্যমান। তিনি বিনম্রতা নিজ জন্মে প্রকাশ করলেন, কারণ নিজেকে নিঃস্ব করলেন, ও দাসের স্বরূপ ধারণ করে মানুষের মত হয়েই জন্ম নিয়ে মানুষ বলে প্রতিপন্ন হলেন (ফিলি ২:৭)।
পিতামাতার প্রতি তিনি তখন বাধ্যতা দেখালেন, যখন নিজ মনোবাঞ্ছা ত্যাগ করে নাজারেথে ফিরে গিয়ে তাঁদের বাধ্য ছিলেন (লুক ২:৫১)।
নিজ ধর্মশিক্ষায় তিনি ন্যায্যতার কথাও অবহেলা করেননি; এবিষয়ে তিনি বললেন, সীজারের যা, তা সীজারকে দাও, আর ঈশ্বরের যা, তা ঈশ্বরকে দাও (লুক ২০:২৫)।
যন্ত্রণাভোগেই বিশেষভাবে তিনি উত্তমরূপে ধৈর্য দেখালেন, কারণ কশাঘাতের জন্য পিঠ, থুথুর জন্য মুখ, কাঁটার মুকুটে মাথা, নলডাঁটার জন্য হাত পেতে দিলেন; আর নবীর বাণী অনুসারে তিনি এ সমস্ত কিছুতে চিৎকার করবেন না, জোরেও কথা বলবেন না, দরবারেও নিজ কণ্ঠ শোনাবেন না (ইসা ৪২:২), কারণ তিনি ছিলেন জবাইখানায় চালিত মেষশাবকেরই মত, লোমকাটিয়ের সামনে নীরব মেষেরই মত—তবু খুললেন না মুখ (ইসা ৫৩:৭)।
আর সেই সকল অন্ধ যাদের তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন, সেই চর্মরোগীরা যাদের নিরাময় করলেন, সেই মৃতেরা যাদের পুনরুজ্জীবিত করলেন, বিশেষভাবে সেই ব্যভিচারিণী যাকে ক্ষমা করলেন, সেই অনুতপ্তা পাপিষ্ঠা যাকে গ্রহণ করলেন, সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত লোক যার পাপ মার্জনা করলেন: এরা সকলেই তাঁর দয়ার স্পর্শ পেল।
কিন্তু যেহেতু শত্রুদের প্রতি প্রেমের চেয়ে, বিদ্বেষীদের প্রতি মঙ্গলের চেয়ে, ও নিন্দুকদের প্রতি সাহায্যদানের চেয়ে ভালবাসার বড় প্রমাণ নেই, সেজন্য আমরা সেই কথা দ্বারাই তাঁর ভালবাসার মাত্রা পরিমাপ করতে পারি, যে কথা তিনি উচ্চারণ করেন যখন ক্রুশে মরণাপন্ন অবস্থায় নিজের হত্যাকারীদের জন্য প্রার্থনা করে বললেন, পিতা, এদের ক্ষমা কর, কেননা এরা কি করছে, তা জানে না (লুক ২৩:৩৪)।
সুতরাং, ভ্রাতৃগণ, পবিত্র আত্মা আমাদের হৃদয়ে নিজ ভয় সঞ্চার করলেন: কেমন যেন স্বাস্থ্যকর খাদ্য চিবাতে চিবাতে আমরা সেই ভয় বিষয় ধ্যান করতে করতে আমাদের আন্তর বিনম্রতা দৃঢ়তর হয়ে ওঠে। এসো, তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের বাহ্যিক আচরণও সেই বিনম্রতায় পরিবৃত করেন—কিন্তু আমরা যেন সাবধান থাকি, পাছে লোক দেখানোর জন্যই মঙ্গল সাধন করি।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩১
ধুয়ো:
কতই না মহান তোমার সেই মঙ্গলময়তা, প্রভু,
যা তাদের জন্য তুমি সঞ্চিত রাখ যারা ভয় করে তোমায়।

তোমার দাসের উপর শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তোল,
তোমার কৃপায় ত্রাণ কর আমায়।
তোমাকে ডেকেছি, প্রভু!
আমি লজ্জায় না পড়ি যেন;   [ধুয়ো]

মানুষের চক্রান্ত থেকে তুমি আপন শ্রীমুখের নিভৃতে তাদের লুকিয়ে রাখ,
জিভের আক্রমণ থেকে তুমি আপন কুটিরেই তাদের নিরাপদে রাখ।
ধন্য প্রভু! সুরক্ষিত নগরে আমার জন্য
তিনি সাধন করলেন তাঁর কৃপার আশ্চর্য কীর্তি।   [ধুয়ো]

বিহ্বল হয়ে আমি বলেছিলাম,
‘তোমার দৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন আমি,’
তবু যখন তোমার কাছে চিৎকার করলাম,
তুমি তখন শুনলে আমার মিনতির কণ্ঠ।   [ধুয়ো]

প্রভুকে ভালবাস, তাঁর ভক্তজন সবাই, প্রভু আপন বিশ্বস্তদের রক্ষা করেন,
কিন্তু অহঙ্কারীর উপর অপর্যাপ্ত প্রতিফল দেন।
শক্ত হও, অন্তর দৃঢ় করে তোল তোমরা,
তোমরা সকলে, যারা প্রভুর প্রত্যাশায় আছ।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, স্বর্গীয় ভোজের খাদ্য গ্রহণে পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে তোমাকে অনুনয় করি:
এই সাক্রামেন্তের গুণে তোমার প্রতি ভক্তিতে আমাদের নিষ্ঠাবান কর,
ভ্রাতৃসেবার মধ্য দিয়ে তোমার সেবা করতে আমাদের অনুপ্রাণিত কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৩শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তোমা থেকেই আগত মুক্তি, তোমা থেকেই অর্পিত দত্তকপুত্রত্ব।
প্রসন্ন হয়ে তোমার এ প্রিয় সন্তানদের যাচনা গ্রহণ কর,
সকল খ্রিষ্টবিশ্বাসী যেন ভোগ করতে পারে প্রকৃত স্বাধীনতা, চিরন্তন উত্তরাধিকার।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রজ্ঞা পুস্তক থেকে পাঠ (৯:১৩-১৮)

কোন্‌ মানুষ ঈশ্বরের অভিপ্রায় জানতে পারে?
কেইবা প্রভুর ইচ্ছা কল্পনা করতে পারে?
মরমানুষের চিন্তাধারা তো দুর্বল,
আমাদের যত ধ্যানধারণাও তত সুস্থির নয়;
কারণ ক্ষয়শীল এক দেহ প্রাণের উপর চাপ দেয়,
মাটির এই তাঁবুও মনের ও তার বহু ভাবনার জন্য ভারীই বোঝা।
পার্থিব বিষয় স্পষ্টভাবে দেখা,
আমাদের পক্ষে তা যখন যথেষ্টই কঠিন,
আমাদের নাগালে যা রয়েছে,
তাও যখন শুধু কষ্ট করে উপলব্ধি করতে পারি,
তখন স্বর্গীয় বিষয় কে আবিষ্কার করতে পারে?
কেইবা তোমার অভিপ্রায় জানতে পেরেছে,
যদি তুমি তাকে প্রজ্ঞা না দিয়ে থাক,
ঊর্ধ্ব থেকে তোমার পবিত্র আত্মাকে যদি না তার কাছে প্রেরণ করে থাক?
এইভাবে মর্তবাসীদের পথ সোজা করা হল,
তোমার যা যা গ্রহণীয়, তাতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হল;
হ্যাঁ, প্রজ্ঞা দ্বারাই তারা পরিত্রাণ পেল।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯০
ধুয়ো:
ওগো প্রভু, যুগযুগ ধরে
তুমি হলে আমাদের আশ্রয়দুর্গ।

‘হে আদমসন্তানেরা, ফিরে যাও!’
একথা বলে তুমি মানুষকে ধুলায় ফিরিয়ে আন।
তোমার চোখে হাজার বছর সেই গতদিনেরই মত যা বয়ে গেল,
রাতের এক প্রহরই যেন।   [ধুয়ো]

তুমি নিদ্রার বন্যায় বয়ে নিয়ে যাও তাদের,
তারা প্রভাতে বেড়ে ওঠা ঘাসের মত—
প্রভাতে তা ফুটে উঠে বেড়ে ওঠে,
সন্ধ্যায় কাটা পড়ে শুষ্ক হয়।   [ধুয়ো]

আমাদের আয়ুর দিনগুলি গুনতে
আমাদের শেখাও,
তবে আমরা লাভ করব
প্রজ্ঞাপূর্ণ অন্তর।   [ধুয়ো]

ফিরে চাও, প্রভু,—আর কতকাল?
তোমার দাসদের প্রতি দেখাও দয়া।
প্রভাতে তোমার কৃপায় আমাদের পরিতৃপ্ত কর,
আর আমরা সানন্দে চিৎকার করব, মেতে উঠব চিরদিন ধরে।   [ধুয়ো]

আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর মাধুর্য
আমাদের উপর বিরাজ করুক,
আমাদের জন্য সুস্থির কর আমাদের হাতের কাজ,
সুস্থির কর আমাদের হাতের কাজ।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
ফিলেমনের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৯খ-১০,১২-১৭)

প্রিয়তম সন্তান, আমি—এই বৃদ্ধ পল, এখন আবার খ্রিষ্টযিশুর বন্দি—আমি আমার নিজের সন্তানের বিষয়ে, এই শেকলাবদ্ধ অবস্থায় যাকে জন্ম দিয়েছি, সেই অনেসিমেরই বিষয়ে তোমাকে মিনতি করছি। তাকে, অর্থাৎ আমার সেই প্রাণের প্রাণ, তোমার কাছে ফিরে পাঠালাম।
আমি তাকে নিজের কাছে রাখতে চাচ্ছিলাম, যেন সুসমাচারের কারণে আমার এই শেকলাবদ্ধ অবস্থায় সে তোমার হয়ে আমার সেবা করে। কিন্তু তোমার সম্মতি ছাড়া আমি কিছু করতে চাইলাম না, তুমি যে মঙ্গলকর কাজ করতে যাচ্ছ, তা যেন বাধ্য হয়ে নয়, স্ব-ইচ্ছায়ই কর। হয় তো তাকে এই কারণেই কিছু কালের মত তোমার কাছ থেকে পৃথক করে রাখা হল, যেন তুমি চিরকালের মত তাকে ফিরে পেতে পার, আর ক্রীতদাসের মত নয়, কিন্তু ক্রীতদাসের চেয়ে শ্রেয়তর পর্যায়ে, অর্থাৎ কিনা প্রিয় ভাইয়ের মত, বিশেষভাবে আমারই প্রিয়জন, কিন্তু মানুষ হিসাবে ও প্রভুতে ভাই হিসাবে উভয় ক্ষেত্রে তোমারই কাছে বেশি প্রিয়জন। তাই যদি আমাকে বিশেষ সম্পর্কের পাত্র মনে কর, তবে তাকে আমারই মত বলে গ্রহণ কর।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তোমার দাসের উপর শ্রীমুখ উজ্জ্বল করে তোল।
আমাকে শিখিয়ে দাও তোমার বিধিকলাপ।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৪:২৫-৩৩)

সেসময়ে বহু লোকের ভিড় যিশুর সঙ্গে পথ চলছিল; তখন তিনি তাদের দিকে ফিরে বললেন, ‘কেউ যদি আমার কাছে আসে ও নিজের পিতা, মাতা, স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, ভাইবোন, এমনকি নিজের প্রাণ পর্যন্ত ঘৃণা না করে, তবে সে আমার শিষ্য হতে পারে না। নিজের ক্রুশ যে বহন করে না ও আমার পিছনে আসে না, সে আমার শিষ্য হতে পারে না।
তোমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি কে যে উচ্চ ঘর গাঁথতে অভিপ্রায় করলে আগে বসে খরচ হিসাব করে দেখে না, কাজ সেরে নেবার মত তার সামর্থ্য আছে কিনা? হয় তো ভিত বসাবার পর যদি সে কাজটা সেরে নিতে না পারে, তবে যত লোক তা দেখবে, সকলেই তো তাকে ঠাট্টা করতে শুরু করে বলবে, এ গাঁথতে শুরু করল, কিন্তু সেরে নিতে সক্ষম হল না।
অথবা কোন্‌ রাজা অন্য রাজার সঙ্গে যুদ্ধ করতে বেরিয়ে প’ড়ে, আগে বসে বিবেচনা করেন না, যিনি কুড়ি হাজার সৈন্য নিয়ে তাঁকে আক্রমণ করতে আসছেন, দশ হাজার সৈন্য নিয়ে তিনি তাঁর সামনে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন কিনা? না পারলে, তবে শত্রু দূরে থাকতেই তিনি দূত পাঠিয়ে সন্ধির শর্ত জানতে চাইবেন।
তাই একই প্রকারে তোমাদের মধ্যে যে কেউ নিজের সবকিছু ত্যাগ না করে, সে আমার শিষ্য হতে পারে না।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
মঠাধ্যক্ষ জন কাসিয়ানুস-লিখিত ‘আলোচন-মালা’

পিতৃগণের পরম্পরাগত শিক্ষা অনুসারে ও পবিত্র শাস্ত্রের অধিকারেরও প্রমাণ অনুসারে যে তিনটে অস্বীকার রয়েছে, সেই বিষয় আমাদের এখন আলোচনা করতে হবে: আমাদের প্রত্যেককে এ তিনটে অস্বীকার দৃঢ় প্রচেষ্টার সঙ্গেই পালন করতে হবে। প্রথমটা দ্বারা আমরা সংসারের সমস্ত পার্থিব ঐশ্বর্য ও ধনসম্পদ তুচ্ছ করি; দ্বিতীয়টা দ্বারা মনের ও দেহের প্রাক্তন আচরণ, রিপু ও আসক্তি প্রত্যাখ্যান করি; তৃতীয়টা দ্বারা বর্তমান ও দৃশ্য সমস্ত বিষয় থেকে মন ফিরিয়ে কেবল ভাবী বিষয়ে চোখ নিবদ্ধ রাখি ও অদৃশ্য সমস্ত বিষয়ের অন্বেষণ করি।
এ তিনটে অস্বীকার একইসঙ্গে সম্পন্ন করা দরকার, যেভাবে আমরা পড়ি ঈশ্বর আব্রাহামকে আদেশ করেছিলেন; তিনি তাঁকে বলেছিলেন, তুমি নিজ দেশ, জ্ঞাতিকুটুম্ব ও পিতৃগৃহ ছেড়ে বেরিয়ে পড় (আদি ১২:১ দ্রঃ)। তিনি প্রথমত দেশের কথা উল্লেখ করলেন, অর্থাৎ এসংসারের ধনসম্পদ ও পার্থিব সম্পত্তি; দ্বিতীয়ত তিনি জ্ঞাতিকুটুম্বের কথা উল্লেখ করলেন, অর্থাৎ সেই প্রাক্তন জীবনধারণ, আচরণ ও রিপু যা জন্ম থেকে ঠিক যেন কুটুম্বিতা বা রক্তসম্পর্কের মত আমাদের স্বভাবে লেগে আছে; তৃতীয়ত তিনি পিতৃগৃহের কথা উল্লেখ করলেন, অর্থাৎ আমাদের চোখের সামনে যা রয়েছে, সংসারের সেই সমস্ত স্মৃতি থেকে দৃষ্টি ফেরানো প্রয়োজন।
আমরা যখন হৃদয় দিয়ে এ অস্থায়ী ও দৃশ্য গৃহ ছেড়ে বেরিয়ে পড়ি, তখন সেই গৃহের দিকে চোখ ও মন চালিত করি, যে গৃহে আমাদের চিরকালের মত থাকবার কথা।
আমরা তখনই এ সমস্ত কিছু সম্পন্ন করব, যখন দেহে চললেও কিন্তু দেহ অনুসারে না চলে প্রভুর অধীনে সৈনিক-জীবন যাপন করতে শুরু করে ধন্য প্রেরিতদূতের বাণী কর্মে ও সদ্‌গুণে বাস্তবায়িত করে বলব, আমাদের মাতৃভূমি স্বর্গেই রয়েছে (ফিলি ৩:২০)।
তবে প্রথম অস্বীকার বিশ্বাসের উজ্জ্বলতম ভক্তির সঙ্গে পালন করলেও আমাদের তত উপকার হবে না, যদি না দ্বিতীয় অস্বীকারও একই প্রচেষ্টা ও একই আগ্রহের সঙ্গে পালন না করি। কিন্তু দ্বিতীয়টাও সম্পন্ন করে আমরা তৃতীয়টায় পৌঁছতে পারব, যার ফলে প্রাক্তন পিতৃগৃহ ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে মনশ্চক্ষু স্বর্গীয় বিষয়েই সম্পূর্ণরূপে নিবদ্ধ রাখব। তৃতীয় অস্বীকার বিষয়ে আমরা প্রকৃত সিদ্ধপুরুষ হতে যোগ্য হব, যখন আমাদের অন্তর দেহের জড়তাজনিত কলুষ থেকে মুক্ত হয়ে কিন্তু সুদক্ষ কাজকর্মের ফলে আর পবিত্র শাস্ত্র ও আধ্যাত্মিক চিন্তার অবিরত ধ্যানের মধ্য দিয়ে পার্থিব যত আসক্তি ও অভ্যাস থেকে শুদ্ধ হয়ে উঠে অদৃশ্য জগতে এমন পর্যায়েই উপনীত হবে যে, স্বর্গীয় ও সনাতন বিষয়ে নিবিষ্ট হয়ে নিজেকে দুর্বল মাংসে ও সঙ্কীর্ণ দেহে আবদ্ধ বলে অনুভব করবে না।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৪২
ধুয়ো:
হরিণী যেমন জলস্রোতের আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল,
তেমনি, পরমেশ্বর, তোমারই আকাঙ্ক্ষায় ব্যাকুল আমার প্রাণ।

আমার মধ্যে আমার প্রাণ অবসন্ন, তাই তোমায় স্মরণ করি
যর্দন ও হার্মোনের দেশ থেকে, মিসার পর্বত থেকে।
তোমার জলপ্রতাপের গর্জনে এক অতলের কাছে অন্য অতলের ডাক,
তোমার ঊর্মিমালা ও তরঙ্গরাশি বয়ে গেল আমার উপর দিয়ে।   [ধুয়ো]

দিনমানে প্রভু জারি করেন কৃপা, রাতে আমার সঙ্গেই তাঁর গান—
একটি প্রার্থনা আমার জীবনেশ্বরের কাছে।
আমার শৈল ঈশ্বরকে বলব, ‘কেন আমায় ভুলে গেছ?
কেনই বা শোকার্ত হয়ে শত্রুর তাড়নায় আমায় চলতে হয়?’   [ধুয়ো]

আমার বিরোধীদের অপবাদে
চূর্ণবিচূর্ণ আমার হাড়;
তারা যে সারাদিন আমাকে বলে,
‘কোথায় তোমার পরমেশ্বর?’   [ধুয়ো]

প্রাণ আমার, কেনই অবসন্ন তুমি?
কেন আমার মধ্যে তুমি গর্জন কর?
পরমেশ্বরের প্রত্যাশায় থাক—আমি আবার করবই তাঁর স্তুতিবাদ,
তিনি আমার শ্রীমুখের পরিত্রাণ, আমার পরমেশ্বর।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার বাণী ও স্বর্গীয় সাক্রামেন্তের খাদ্য দানে যাদের পুষ্টি তুমি সাধন কর, তোমার সেই ভক্তজন তোমার প্রিয়তম পুত্রের অগণন মঙ্গলদান গ্রহণের ফলে
যেন তাঁর জীবনের চিরন্তন সহভাগিতা লাভ করতে পারে।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৪শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, হে বিশ্বস্রষ্টা ও সর্বনিয়ন্তা, আমাদের প্রতি মুখ তুলে চাও।
আশীর্বাদ কর, আমরা যেন সমস্ত হৃদয় দিয়ে তোমার সেবা করি
যাতে তোমার করুণা-স্পর্শে ধন্য হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
যাত্রাপুস্তক থেকে পাঠ (৩২:৭-১১,১৩-১৪)

একদিন প্রভু মোশিকে বললেন, ‘এখনই নেমে যাও, কারণ তোমার সেই জনগণ, যাদের তুমি মিশর দেশ থেকে এখানে এনেছ, তারা ভ্রষ্ট হয়েছে। আমি তাদের যে পথে চলবার আজ্ঞা দিয়েছি, সেই পথ ত্যাগ করতে তাদের তত দেরি হয়নি! তারা নিজেদের জন্য একটা ছাঁচে ঢালাই করা বাছুর তৈরি করে তার সামনে প্রণিপাত করেছে, তার উদ্দেশে বলি উৎসর্গ করেছে, এবং বলেছে, ইস্রায়েল, এ-ই তোমার পরমেশ্বর, যিনি মিশর দেশ থেকে তোমাকে এখানে এনেছেন।’
প্রভু মোশিকে আরও বললেন, ‘আমি এই জাতিকে লক্ষ করলাম; তারা সত্যি কঠিনমনা এক জাতি! এখন তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাও, যেন আমার ক্রোধ তাদের উপরে জ্বলে ওঠে ও আমি তাদের সংহার করি! আমি তোমাকেই এক মহান জাতি করব।’
মোশি তাঁর পরমেশ্বর প্রভুকে এই বলে প্রশমিত করতে চেষ্টা করলেন, ‘প্রভু, তোমার যে জনগণকে তুমি মহাপরাক্রম ও শক্তিশালী হাত দ্বারা মিশর দেশ থেকে বের করেছ, তাদের উপরে তোমার ক্রোধ কেন জ্বলে উঠবে? তোমার আপন দাস আব্রাহাম, ইসায়াক ও যাকোবের কথা স্মরণ কর, যাঁদের কাছে নিজেরই দিব্যি দিয়ে শপথ করে বলেছিলে, আমি আকাশের তারানক্ষত্রের মত তোমাদের বংশবৃদ্ধি করব, এবং এই যে সমস্ত দেশের কথা বলেছি, তা তোমাদের বংশধরদের দেব; আর তারা চিরকালের মতই তা অধিকার করবে।’
তাই প্রভু তাঁর আপন জনগণের অমঙ্গল ঘটাবার সঙ্কল্প ছেড়ে দিলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৫১
ধুয়ো:
আমি উঠে
আমার পিতার কাছে যাব।

আমাকে দয়া কর গো পরমেশ্বর, তোমার কৃপা অনুসারে,
তোমার অপার স্নেহে মুছে দাও আমার অপরাধ।
আমার অন্যায় থেকে আমাকে নিঃশেষে ধৌত কর,
আমার পাপ থেকে শোধন কর আমায়।   [ধুয়ো]

আমার মধ্যে এক শুদ্ধ হৃদয় সৃষ্টি কর গো পরমেশ্বর,
আমার মধ্যে এক সুস্থির আত্মা নবীন করে তোল।
তোমার শ্রীমুখ থেকে আমাকে সরিয়ে দিয়ো না কো দূরে,
আমা থেকে তোমার পবিত্র আত্মাকে করো না হরণ।   [ধুয়ো]

হে প্রভু, খুলে দাও আমার ওষ্ঠাধর,
আর আমার মুখ প্রচার করবে তোমার প্রশংসাবাদ।
ভগ্ন প্রাণ, এই তো পরমেশ্বরের গ্রহণযোগ্য বলি,
ভগ্ন চূর্ণ হৃদয় তুমি তো অবজ্ঞা কর না, পরমেশ্বর।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
তিমথির কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১:১২-১৭)

প্রিয়তম সন্তান, আমাকে শক্তি দিয়েছেন যিনি, আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টযিশুকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি, কারণ আমাকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে তিনি তাঁর সেবাকর্মের জন্য আমাকে নিযুক্ত করেছেন। অথচ আগে আমি তাঁকে নিন্দা, নির্যাতন ও অপমান করতাম! আমি কিন্তু দয়া পেয়েছি, কেননা বিশ্বাসের অভাবে অজ্ঞ হয়েই সেইসব করতাম। কিন্তু খ্রিষ্টযিশুতে নিহিত বিশ্বাস ও ভালবাসার সঙ্গে আমাদের প্রভুর অনুগ্রহও অজস্রভাবে উপচে পড়েছে।
একথা বিশ্বাস্য ও সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য যে, খ্রিষ্টযিশু এই জগতে এলেন পাপীদের পরিত্রাণ করতে; আর তাদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে বড়! কিন্তু এজন্যই আমাকে দয়া করা হয়েছে, যেন খ্রিষ্টযিশু প্রথমে আমারই মধ্য দিয়ে তাঁর চরম সহিষ্ণুতা দেখাতে পারেন, এবং এর ফলে আমি তাদের আদর্শ হতে পারি যারা অনন্ত জীবন পাবার জন্য তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখবে।
যিনি সর্বযুগের রাজা, অক্ষয় অদৃশ্য অনন্য পরমেশ্বর, তাঁর সম্মান ও গৌরব হোক চিরদিন চিরকাল। আমেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যিনি খ্রিষ্টে নিজের সঙ্গে জগতের পুনর্মিলন সাধন করেছেন,
সেই ঈশ্বর পুনর্মিলনের বাণী আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৫:১-৩২)

সেসময়ে কর-আদায়কারী ও পাপীরা সকলেই যিশুর বাণী শুনবার জন্য দলে দলে তাঁর কাছে আসছিল; এতে ফরিসিরা ও শাস্ত্রীরা গজগজ করে বলতে লাগলেন, ‘লোকটা পাপীদের গ্রহণ করে নেয়, তাদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়াও করে!’ তাই তিনি তাঁদের এই উপমা-কাহিনী শোনালেন: ‘আপনাদের মধ্যে কোন্‌ লোক, যার একশ’টা মেষ আছে, তাদের মধ্যে একটা হারিয়ে গেলে সে বাকি নিরানব্বইটাকে প্রান্তরে ফেলে রেখে যায় না, ও হারানোটাকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তার খোঁজে বেড়ায় না? খুঁজে পেলে সে মনের আনন্দে তা কাঁধে তুলে নেয়, এবং বাড়ি গিয়ে বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের ডেকে বলে, আমার সঙ্গে আনন্দ কর, কারণ আমার যে মেষ হারানো ছিল, তা খুঁজে পেয়েছি। আমি তোমাদের বলছি, তেমনি ভাবে, যাদের মনপরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই, এমন নিরানব্বইজন ধার্মিককে নিয়ে স্বর্গে যত আনন্দ হয়, তার চেয়ে বেশি আনন্দ হবে যখন একজন পাপী মনপরিবর্তন করে।
অথবা, কোন্‌ স্ত্রীলোক, যার দশটা রুপোর টাকা আছে, সে যদি একটা হারিয়ে ফেলে, তবে বাতি জ্বেলে ঘর ঝাঁট দিয়ে টাকাটা না পাওয়া পর্যন্ত ভাল করে খুঁজে দেখে না? তা পেলে সে বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের ডেকে বলে, আমার সঙ্গে আনন্দ কর, কারণ আমি যে টাকাটা হারিয়ে ফেলেছিলাম, তা খুঁজে পেয়েছি। তেমনি ভাবে—আমি তোমাদের বলছি—একজন পাপী মনপরিবর্তন করলে ঈশ্বরের দূতদের সামনে আনন্দ হয়।’
তিনি আরও বললেন, ‘একজন লোকের দু’টি ছেলে ছিল। ছোটজন পিতাকে বলল, পিতা, আমার ভাগের সম্পত্তি আমাকে দিয়ে দাও। তাই তিনি তাদের মধ্যে ধন-সম্পত্তি ভাগ করে দিলেন। অল্প দিন পর ছোট ছেলেটি নিজের সবকিছু সংগ্রহ করে নিয়ে দূরদেশে চলে গেল, আর সেখানে উচ্ছৃঙ্খলের মত নিজ সম্পত্তি উড়িয়ে দিল। সে সবকিছু ব্যয় করে ফেললে পর সেই দেশে করাল দুর্ভিক্ষ দেখা দিল, তাতে সে কষ্টে পড়তে লাগল। তাই সে গিয়ে সেই দেশের এক অধিবাসীর কাছে চাকরের কাজ নিল, আর সে তাকে শূকর চরাতে নিজের মাঠে পাঠিয়ে দিল। তার খুবই ইচ্ছে হত, শূকরে যে শুঁটি খায়, তা খেয়ে সে পেট ভরাবে, কিন্তু কেউই তা তাকে দিত না। তখন তার চেতনা হল, বলল, আমার পিতার কত মজুর প্রচুর খাবার পাচ্ছে, কিন্তু আমি এখানে ক্ষুধায় মরছি। আমি উঠে আমার পিতার কাছে যাব, তাঁকে বলব, পিতা, আমি স্বর্গের বিরুদ্ধে ও তোমার সামনে পাপ করেছি; আমি তোমার ছেলে নামের আর যোগ্য নই। তোমার একজন মজুরের মত আমার প্রতি ব্যবহার কর। তখন সে উঠে নিজের পিতার কাছে যাবার জন্য রওনা হল।
সে বহুদূরে থাকতেই তার পিতা তাকে দেখতে পেলেন, ও দয়ায় বিগলিত হয়ে ছুটে গিয়ে তার গলা জড়িয়ে ধরে তাকে চুম্বন করতে লাগলেন। তখন ছেলেটি তাঁকে বলল, পিতা, আমি স্বর্গের বিরুদ্ধে ও তোমার সামনে পাপ করেছি, আমি তোমার ছেলে নামের আর যোগ্য নই। কিন্তু পিতা নিজ দাসদের বললেন, শীঘ্র যাও, সবচেয়ে ভাল পোশাক এনে একে পরিয়ে দাও, এর আঙুলে আঙটি পরাও ও পায়ে জুতো দাও; এবং নধর বাছুরটা এনে কাট; আর এসো, ভোজ করে ফুর্তি করি, কারণ আমার এই ছেলে মৃতই ছিল, আর এখন বেঁচে উঠেছে; হারানোই ছিল, আর এখন তাকে পাওয়া গেছে। তাই তারা ফুর্তি করতে লাগল।
তাঁর বড় ছেলে তখন মাঠে ছিল; ফেরার পথে সে যখন বাড়ির কাছে পৌঁছল, তখন গানবাজনা ও নাচের শব্দ শুনতে পেল। সে একজন দাসকে ডেকে জিজ্ঞাসা করল, এসব কি? সে তাকে বলল, আপনার ভাই ফিরে এসেছে, এবং আপনার পিতা নধর বাছুরটা কেটে দিয়েছেন, কারণ তিনি তাকে সুস্থ শরীরে ফিরে পেয়েছেন। তখন সে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠল, ভিতরে যেতে রাজি হল না; এতে তার পিতা বাইরে এসে তাকে সাধাসাধি করতে লাগলেন, কিন্তু সে পিতাকে বলল, দেখ, এত বছর ধরে আমি তোমার সেবা করে আসছি, কখনও তোমার কোন আজ্ঞায় অবাধ্য হইনি, অথচ আমার বন্ধুদের সঙ্গে ফুর্তি করার জন্য তুমি আমাকে একটা ছাগছানাও কখনও দাওনি; কিন্তু তোমার এই যে ছেলে বেশ্যাদের সঙ্গে তোমার ধন-সম্পত্তি গ্রাস করেছে, সে এলেই তুমি তার জন্য নধর বাছুরটা কাটলে। তিনি তাকে বললেন, বৎস, তুমি সবসময়েই আমার সঙ্গে আছ, আর যা কিছু আমার, তা সবই তোমার। কিন্তু আমাদের ফুর্তি ও আনন্দ করা সমীচীন হয়েছে, কারণ তোমার এই ভাই মৃতই ছিল, আর এখন বেঁচে উঠেছে; হারানোই ছিল, আর এখন তাকে পাওয়া গেছে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু পিতর খ্রিসোলগের উপদেশ

আমরা হারানো কিছু যতবার খুঁজে পাই, ততবার নতুন ও অসীম আনন্দ অনুভব করি; এমনকি যা সংরক্ষিত ছিল তা না হারানোর চেয়ে, যা হারিয়ে গেছে তা খুঁজে পাওয়া অধিক আনন্দদায়ী। তবু এ উপমা-কাহিনী মানব ব্যবহারের চেয়ে ঐশ্বরিক দয়ার সঙ্গেই সম্পর্কিত। মহাবিষয় ত্যাগ করা ও হীনতর বিষয় ভালবাসা মানব লোভের নয়, ঐশ পরাক্রমেরই লক্ষণ, কেননা যার অস্তিত্ব নেই, ঈশ্বর তাকেই অস্তিত্ব দেন; উপরন্তু তিনি যা ক্ষণিকের মত ফেলে রাখেন, তা পরিত্যাগ না করেই হারানো বস্তুটা খোঁজ করে বেড়ান, এবং যা সংরক্ষিত ছিল তা না হারিয়েই তিনি হারানো বস্তু খুঁজে পান।
তিনি মর্ত মেষপালক নন, স্বর্গীয়ই মেষপালক তিনি! আর এ উপমা মানব ঘটনা নয়, দিব্য রহস্যগুলির দিকে অঙুলি নির্দেশ করে; একথা উপমায় উল্লিখিত সংখ্যায় প্রকাশ পায়, তিনি তো বলেন, আপনাদের মধ্যে কোন্‌ লোক, যার একশ’টা মেষ আছে, তাদের মধ্যে একটা হারিয়ে গেলে… ইত্যাদি (লুক ১৫:৪)।
তোমরা তো দেখতে পাচ্ছ কেমন করে এ মেষপালক একটিমাত্র হারানো মেষের জন্য এমন দুঃখ করেন, ঠিক যেন সমস্ত পাল পথভ্রষ্ট হয়েছে, যার ফলে তিনি বাকি নিরানব্বইটাকে ফেলে রেখে সেই একটারই পিছনে যান, সেই একটামাত্রকেই খোঁজ করেন, যেন সেই একটা মেষে সবগুলোকে পেতে পারেন, ও সেই একটা মেষের মধ্যে সবগুলোকে ত্রাণ করতে পারেন। এবার কিন্তু এসো, দিব্য উপমার আধ্যাত্মিক অর্থ ব্যক্ত করি।
সেই ব্যক্তি যাঁর একশ’টা মেষ ছিল, তিনি খ্রিষ্ট, তথা সেই উত্তম মেষপালক, সেই ধর্মময় মেষপালক যিনি ঠিক যেন একটিমাত্র মেষের মধ্যে আদমেই সমস্ত মানবজাতিকে সংগৃহীত করে আনন্দময় পরমদেশে জীবন-চারণমাঠের মাঝে রেখেছিলেন; মেষটি কিন্তু মেষপালকের গলা ভুলে গিয়ে নেকড়ের গর্জনেই বিশ্বাস রেখেছিল; তাতে সে ত্রাণঘেরি হারিয়ে ফেলে দেহ জুড়েই মৃত্যুজনক আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল। তার অনুসন্ধানে পৃথিবীতে এসে খ্রিষ্ট এক কুমারী-মাঠেই তাকে খুঁজে পেলেন। তিনি নিজ জন্মের মাংসে এলেন, ও ক্রুশের উপরে তুলে দিয়ে তাকে নিজ যন্ত্রণাভোগের কাঁধে বহন করলেন; এবং পুনরুত্থানের আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে স্বর্গে আরোহণ করে তাকে নিজ আবাসে তুলে নিলেন। বন্ধু ও প্রতিবেশী সকলকে তথা স্বর্গদূতদের ডেকে তিনি বললেন, আমার সঙ্গে আনন্দ কর, কারণ আমার যে মেষ হারানো ছিল, তা খুঁজে পেয়েছি (লুক ১৫:৬)।
প্রভুর মেষ ফিরে আসায় স্বর্গদূতেরা খ্রিষ্টের সঙ্গে আনন্দ-ফুর্তি করেন, মেষটি যে সিংহাসনে বসবার প্রাধান্য পেয়েছে, তাতে তাঁরা হিংসা বোধ করেন না, কারণ হিংসা শয়তানের সঙ্গে স্বর্গ থেকে সেই মেষশাবকই দ্বারা দূর করে দেওয়া হয়েছিল, যিনি জগতের পাপ মুছে দিয়েছিলেন; ফলে হিংসা-পাপ স্বর্গলোকে আর প্রবেশ করতে অক্ষমই ছিল। এসো, ভাইবোনেরা, যিনি আমাদের পৃথিবীতে খোঁজ করলেন, আমরা তাঁকে স্বর্গে খোঁজ করি; যিনি নিজ ঈশ্বরত্বের গৌরবেই আমাদের বহন করলেন, এসো, আমরা আমাদের দেহে সম্পূর্ণ পবিত্রতায় তাঁকে বহন করি, যেমনটি প্রেরিতদূতও বলেন, ঈশ্বরকে গৌরবান্বিত কর, নিজেদের দেহে তাঁকে বহন কর (১ করি ৬:২০ ভুলগাতা)। দৈহিক কর্মে যে একটা পাপও বহন করে না, সেই নিজ দেহে ঈশ্বরকে বহন করে।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৬
ধুয়ো:
ওগো পরমেশ্বর, তোমার কৃপা কত মূল্যবান!
তোমার পক্ষ-ছায়ায় আশ্রয় পায় আদমসন্তান।

ওগো প্রভু, আকাশছোঁয়াই তোমার কৃপা,
মেঘলোক-প্রসারী বিশ্বস্ততা তোমার,
উঁচু পাহাড়পর্বতের মত তোমার ধর্মময়তা, মহা অতলের মত তোমার ন্যায়—
মানুষ কি পশু সকলকেই তুমি ত্রাণ কর, প্রভু।   [ধুয়ো]

তোমাতেই যে জীবনের উৎস!
তোমার আলোতেই আমরা দেখি আলো।
যারা তোমায় জানে, তাদের দান করে থাক গো তোমার কৃপা,
সরলহৃদয়দের কাছে ধর্মময়তা তোমার।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এই স্বর্গীয় উপহার আমাদের দেহমন দখল করুক:
এর ফলে আমাদের নিজেদের কামনা-বাসনা নয়,
পবিত্র আত্মাই বরং আমাদের চালিত করুন।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৫শ রবিবার
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, আমরা তোমাকে ভালবাসব, আমাদের প্রতিবেশীকেও ভালবাসব,
এ আজ্ঞায়ই তুমি তোমার পবিত্র বিধানের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করেছ।
আশীর্বাদ কর: তোমার আদেশমালা মেনে চ’লে
আমরা যেন অনন্ত জীবন পাবার যোগ্য হয়ে উঠি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী আমোসের পুস্তক থেকে পাঠ (৮:৪-৭)

প্রভু আমাকে বললেন, এই কথা শোন তোমরা,
যারা নিঃস্বকে গ্রাস করছ ও দেশের দীনহীনকে নিশ্চিহ্ন করছ;
যারা বলে থাক:
‘অমাবস্যা কখন পার হবে, যাতে শস্য বিক্রি করা যেতে পারে?
সাব্বাৎও কখন পার হবে, যাতে গমের ব্যবসা করা যেতে পারে?
তখন আমরা এফা লঘুভার করব ও শেকেল ভারী করব,
এবং চালাকির দাঁড়িপাল্লা দ্বারা ঠকাতে পারব;
আমরা অর্থের বিনিময়ে অভাবীকে
ও এক জোড়া জুতোর বিনিময়ে নিঃস্বকে কিনতে পারব।
গমের ছাঁটও বিক্রি করতে পারব!’
প্রভু যাকোবের গর্বের দিব্যি দিয়ে শপথ করেছেন:
আমি তাদের কাজকর্ম কখনও ভুলব না।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১১৩
ধুয়ো:
প্রভুর প্রশংসা কর:
তিনি নিঃস্বকে টেনে তোলেন।

প্রশংসা কর তোমরা, হে প্রভুর সেবক,
প্রশংসা কর প্রভুর নাম।
প্রভুর নাম ধন্য হোক
এখন থেকে চিরকাল।   [ধুয়ো]

প্রভু সকল দেশের ঊর্ধ্বে উচ্চতম,
তাঁর গৌরব আকাশমণ্ডলের ঊর্ধ্বে বিরাজিত।
কেইবা আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর মত, ঊর্ধ্বলোকে আসীন যিনি,
আনত হয়ে যিনি আকাশ ও পৃথিবীর উপর দৃষ্টিপাত করেন?   [ধুয়ো]

তিনি দীনজনকে ধুলা থেকে তুলে আনেন,
আবর্জনার স্তূপ থেকে নিঃস্বকে টেনে তোলেন,
তাকে আসন দিতে নেতৃবৃন্দের মাঝে,
তাঁর আপন জাতির নেতৃবৃন্দের মাঝে।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
তিমথির কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (২:১-৮)

প্রিয়তম সন্তান, আমার সর্বপ্রথম বাণী এই, যেন সকল মানুষের জন্য, রাজা ও কর্তৃপক্ষ-স্থানীয় সকলের জন্য মিনতি, প্রার্থনা, আবেদন ও ধন্যবাদ-স্তুতি নিবেদন করা হয়, যেন আমরা সম্পূর্ণ ভক্তি ও ধর্মীয় মর্যাদায় শান্তশিষ্ট জীবন যাপন করতে পারি। আমাদের ত্রাণকর্তা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে তেমন কিছু উত্তম ও গ্রহণীয়; তিনি চান, সকল মানুষ যেন পরিত্রাণ পায় ও সত্যের পূর্ণ জ্ঞানে পৌঁছতে পারে।
কেননা ঈশ্বর এক, এবং ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে মধ্যস্থ এক—তিনি সেই মানুষ যিশুখ্রিষ্ট যিনি সকলের মুক্তিপণ হিসাবে নিজেকে দান করলেন। এই সাক্ষ্য তিনি নির্ধারিত সময়েই দান করলেন; আর এই উদ্দেশ্যেই আমি প্রচারক ও প্রেরিতদূত বলে নিযুক্ত হয়েছি—সত্য বলছি, মিথ্যা বলছি না—বিশ্বাসে ও সত্যে আমি বিজাতীয়দের শিক্ষাদাতা।
তাই আমার ইচ্ছা, সব জায়গায় পুরুষমানুষেরা ক্রোধ ও বিবাদের চিন্তা বর্জন ক’রে শুচি হাত তুলে প্রার্থনা করুক।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যিশুখ্রিষ্ট ধনবান হয়েও তোমাদের জন্য নিজেকে দরিদ্র করেছিলেন,
যেন তাঁর সেই দরিদ্রতায়ই তোমরা ধনবান হয়ে উঠতে পার।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৬:১-১৩)

একদিন যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন, ‘একজন ধনী লোক ছিল; তার যে গৃহাধ্যক্ষ ছিল, তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হল যে, সে মনিবের ধন নষ্ট করে দিচ্ছে। সে তাকে ডাকিয়ে বলল, তোমার সম্পর্কে এ কি কথা শুনছি? তোমার কাজের হিসাব দাও, কারণ তুমি গৃহাধ্যক্ষ-পদে থাকতে পারবে না।
তখন সেই গৃহাধ্যক্ষ মনে মনে বলল, এখন আমি কী করব? আমার প্রভু তো আমার কাছ থেকে হিসাব চেয়ে নিচ্ছেন। আমি কি মাটি কাটব? সেই বল আমার নেই; ভিক্ষা করব? লজ্জা করে। আমার পদ গেলে লোকে যেন তাদের ঘরে আমাকে আশ্রয় দেয়, তার জন্য যা করা দরকার, তা আমি বুঝলাম।
যারা তার প্রভুর কাছে ঋণী ছিল, তাদের সে এক একজন করে ডাকল। প্রথমজনকে সে বলল, আমার প্রভুর কাছে তোমার দেনা কত? সে বলল, তিন টন তেল। সে তাকে বলল, তোমার ধারপত্র নাও, শীঘ্র বসে দেড় টন লেখ। আর একজনকে সে বলল, তোমার দেনা কত? সে বলল, চার টন গম। সে তাকে বলল, তোমার ধারপত্র নিয়ে তিন টন লেখ।
সেই প্রভু সেই অসৎ গৃহাধ্যক্ষের প্রশংসা করল, কারণ সে বুদ্ধিমানের মত কাজ করেছিল। বাস্তবিকই এই সংসারের সন্তানেরা নিজেদের জাতের লোকদের সঙ্গে চলাফেরার ব্যাপারে, যারা আলোর সন্তান, তাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধি দেখায়।
তাই আমি তোমাদের বলছি, অসৎ ধনের মধ্য দিয়ে নিজেদের জন্য মানুষকে বন্ধু করে নাও, যেন তা শেষ হলে তারা সেই অনন্ত আবাসে তোমাদের গ্রহণ করে নেয়। সামান্য ব্যাপারে যে বিশ্বস্ত, সে বড় ব্যাপারেও বিশ্বস্ত; আর সামান্য ব্যাপারে যে অসৎ, সে বড় ব্যাপারেও অসৎ। সুতরাং তোমরা যদি অসৎ ধনের ব্যাপারে বিশ্বস্ত না হয়ে থাক, তবে কে বিশ্বাস করে তোমাদের হাতে প্রকৃত ধন ন্যস্ত করবে? আর যদি পরের জিনিসের ব্যাপারে বিশ্বস্ত না হয়ে থাক, তবে কে তোমাদের নিজেদের জিনিস তোমাদের দেবে?
দুই মনিবের সেবায় থাকা কোন চাকরের পক্ষে সম্ভব নয়: সে হয় একজনকে ঘৃণা করবে আর অন্যজনকে ভালবাসবে, না হয় একজনের প্রতি আকৃষ্ট হবে আর অন্যজনকে উপেক্ষা করবে—ঈশ্বর ও ধন, উভয়ের সেবায় থাকা তোমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
চতুর্থ শতাব্দীর উপদেশ

নিজ শিষ্যদের খাঁটি বিশ্বাসে চালিত করার উদ্দেশ্যে যিশু সুসমাচারে বললেন, সামান্য ব্যাপারে যে বিশ্বস্ত, সে বড় ব্যাপারেও বিশ্বস্ত; আর সামান্য ব্যাপারে যে অসৎ, সে বড় ব্যাপারেও অসৎ (লুক ১৬:১০)। সামান্য ব্যাপারটা কী, ও বড় ব্যাপারটা কী?
সামান্য ব্যাপারটা হল এসংসারের সেই সবকিছু যা তিনি নিজ বিশ্বাসীকে দেবেন বলে প্রতিশ্রুত হয়েছিলেন, যথা খাদ্য, পোশাক ও বাকি সবকিছু যা দেহের স্বস্তির জন্য প্রয়োজন; কিংবা স্বাস্থ্য ও এপ্রকার সমস্ত কিছু। এবিষয়ে তিনি উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন যে, এ নিয়ে চিন্তিত হওয়া দরকার নেই, কিন্তু তাঁর উপরে আস্থা রেখে প্রত্যাশা করতে হবে, কারণ যারা তাঁর আশ্রয় নেয়, ঈশ্বর নিজে তাদের সুব্যবস্থা করে যাবেন।
বড় ব্যাপারটা কিন্তু হল সনাতন ও অক্ষয়শীল যুগের সেই সমস্ত মঙ্গলদান যা তিনি তাদেরই দেবেন বলে প্রতিশ্রুত হয়েছিলেন, যারা তাঁকে বিশ্বাস করে ও সেগুলির অবিরত অন্বেষণ করে তা পাবার জন্য তাঁর কাছে প্রার্থনা করে; কেননা তিনি তাই আদেশ করেছিলেন: তোমরা বরং তাঁর রাজ্যের অন্বেষণ কর, তাহলে ওই সবকিছুও তোমাদের দেওয়া হবে (লুক ১২:৩১)। তিনি একথা বললেন, আমরা প্রত্যেকেই যেন এ ক্ষুদ্রতম ও নশ্বর বিষয়ে পরীক্ষিত হয়ে দেখাতে পারি, যিনি তা মঞ্জুর করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমরা সেই ঈশ্বরকে বিশ্বাস করি কিনা। তাই আমরা এবিষয়গুলি নিয়ে যেন তত চিন্তিত না হই, বরং ভাবী ও শাশ্বত বিষয়গুলির প্রতিই যত্নশীল হই।
আর যখন মানুষ উপরোল্লিখিত কথা গভীর ভাবে বিশ্বাস করে, তখনই স্পষ্ট হবে সে অনশ্বর মঙ্গলদানে বিশ্বাসী ও সেগুলির সত্যকার অন্বেষী। যে কেউ সত্যবাণী অনুধাবন করে, তাকে নিজেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে কিংবা আধ্যাত্মিক গুরুদের দ্বারা এবিষয়ে যাচাইকৃত হতে হবে, কোন্‌ কারণে সে ঈশ্বরে বিশ্বাস রেখেছে ও তাঁর হাতে নিজেকে সঁপে দিয়েছে—সে কি তাঁর বাণী অনুসারেই না ধর্মময়তা ও বিশ্বাস বিষয়ে নিজেরই ধারণা অনুসারে বিশ্বাস করে? ইচ্ছা করলে যে কেউই পরীক্ষিত ও যাচাইকৃত হতে পারে, সে ক্ষুদ্রতম ও অনিত্য বিষয়ে বিশ্বস্ত কিনা; শর্ত এ: তুমি স্বর্গরাজ্যের যোগ্য বলে গণ্য হয়েছ, তুমি ঈশ্বরের সন্তান, ঊর্ধ্ব থেকে নবজাত, খ্রিষ্টের সহউত্তরাধিকারী, তুমি সর্বযুগ ধরে তাঁর সঙ্গে রাজত্ব করবে ও ঠিক ঈশ্বরের মত চিরকাল ধরে সেই রহস্যময় আলোতে ঐশআনন্দ ভোগ করবে—এই সমস্ত তুমি কি বিশ্বাস কর? এতে তুমি উত্তরে বলবে, নিশ্চয়, যেহেতু এ কারণেই আমি সংসার ত্যাগ করেছি ও প্রভুর হাতে নিজেকে সঁপে দিয়েছি।
তাই নিজেকে পরীক্ষা করে দেখ, পার্থিব ভাবনা বা খাদ্য ও পোশাক নিয়ে বহু দুশ্চিন্তা, কিংবা এমন কোন ব্যাপার ও আকর্ষণ তোমাকে আঁকড়িয়ে থাকে কিনা, যা কেবল তোমাকে নিজেকে নিয়েই কেন্দ্রীভূত করে ঠিক যেন কেবল নিজের উপর নির্ভর করেই তুমি সবকিছু করতে সক্ষম ও কেবল নিজ শক্তি অবলম্বন করেই যত দায়িত্ব পালন করতে সমর্থ!
কেননা তুমি যদি সনাতন, শাশ্বত, অপরিবর্তনশীল ও হিংসাবিহীন মঙ্গলদান পাবে বলে বিশ্বাস কর, তাহলে মহত্তর কারণে তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, ঈশ্বর তোমাকে সেই নশ্বর ও পার্থিব মঙ্গলদানগুলিও দান করবেন, যা দুর্জনদের, পশু ও পাখিদেরও দান করে থাকেন। এবিষয় প্রভু স্পষ্ট শিক্ষা দিয়েছিলেন।
সুতরাং, তুমি যে এসংসারে নিজেকে প্রবাসী করেছ, তোমার পক্ষে এই সংসারের সকল মানুষের চেয়ে অসাধারণ ও অতিবিষিষ্ট বিশ্বাস লাভ করা, ও তীক্ষ্ণ উপলব্ধি ও নিখুঁত জীবনধারণ অর্জন করা একান্ত প্রয়োজন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অন্যকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১১৯
ধুয়ো:
তুমি জারি করেছ তোমার আদেশমালা, মানুষ যেন তা সযত্নেই মেনে চলে।
আহা! তোমার বিধিকলাপ মেনে চলায় আমার পথসকল সুস্থির হোক।

সুখী তারা, নিখুঁত যাদের পথ,
প্রভুর বিধানে যারা চলে।
সুখী তারা, যারা তাঁর নির্দেশমালা পালন করে,
সমস্ত হৃদয় দিয়ে যারা তাঁর অন্বেষণ করে।   [ধুয়ো]

তারা কোন অন্যায় করে না,
তারা তাঁর সমস্ত পথে চলে।
তুমি জারি করেছ তোমার আদেশমালা,
তারা যেন তা সযত্নেই মেনে চলে।   [ধুয়ো]

আমি যখন শিখব তোমার ন্যায়বিচার সকল,
তখন সরল অন্তরে তোমাকে জানাব ধন্যবাদ।
তোমার বিধিকলাপ মেনে চলব,
আমায় কখনও পরিত্যাগ করো না।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার সাক্রামেন্ত দানে যাদের নবায়িত করেছ,
প্রসন্ন হয়ে তোমার অবিরত সহায়তা দানে তাদের সুস্থির করে রাখ,
আমরা যেন তোমার মুক্তিকর্মের ফল
রহস্যের আড়ালে ও যথার্থ জীবনধারণেও উপভোগ করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]