সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
পর্ব ও মহাপর্ব
জানুয়ারীফোব্রুয়ারীমার্চএপ্রিলমেজুন
২৫ - সাধু পলের বিশ্বাস জাগরণ
  
  
  ২ - প্রভুকে উপস্থাপন
২২ - সাধু পিতরের ধর্মাসন
  
১৯ - সাধু যোসেফ
২৫ - প্রভুর আগমন সংবাদ
  
২৫ - সাধু মার্ক
  
  
  ৩ - সাধু ফিলিপ ও যাকোব
১৪ - সাধু মাথিয়াস
৩১ - শুভসাক্ষাৎ
২৪ - বাপ্তিস্মদাতার জন্মতিথি
২৯ - সাধু পিতর ও পল
  
জুলাইআগষ্টসেপ্টেম্বরঅক্টোবরসভেম্বরডিসেম্বর
  ৩ - সাধু টমাস
১১ - সাধু বেনেডিক্ট
২২ - সাধী মারীয় মাগদালেনা
২৫ - সাধু যাকোব
  ৬ - প্রভুর রূপান্তর
১০ - সাধু লরেন্স
১৫ - মারীয়ার স্বর্গোন্নয়ন
২৪ - সাধু বার্থলমেয়
  ৮ - মারীয়ার জন্মতিথি
১৪ - ক্রুশের বিজয়োৎসব
২১ - সাধু মথি
২৯ - মহাদূত মিখায়েল
১৮ - সাধু লুক
২৮ - সাধু সিমোন ও যুদা
  
  
  ১ - নিখিল সাধুসাধ্বী
  ২ - পরলোকগতদের স্মরণ
  ৯ - লাতেরান মহাগির্জা
৩০ - সাধু আন্দ্রীয়
  ৮ - অমলোদ্ভবা মারীয়া
২৬ - সাধু স্তেফান
২৭ - সাধু যোহন
২৮ - নিরপরাধী শিশুগণ
সাধু বেনেডিক্ট বাদে উপরোল্লিখিত অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি রোমীয় সাধারণ পঞ্জিকায় পর্ব ও মহাপর্ব বলে চিহ্নিত।    


১৪ মে - সাধু মাথিয়াস, প্রেরিতদূত
প্রেরিতদূতগণ এই দু’জনের নামে গুলিবাঁট করলেন;
মাথিয়াসের নামে গুলি পড়ল বিধায়
তিনিই এগারোজন প্রেরিতদূতের সঙ্গে যুক্ত হলেন (প্রেরিত ১:২৬)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি সাধু মাথিয়াসকে
প্রেরিতদূতদের পরিষদের সদস্য হতে বেছে নিয়েছিলে।
তাঁর প্রার্থনায় প্রসন্ন হয়ে আশীর্বাদ কর,
আমরা যারা তোমার করুণার পাত্র হওয়ায় আনন্দিত,
যেন তোমার মনোনীতদের স্বর্গসভায় তালিকাভুক্ত হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (১:১৫-১৭,২০-২৬)

একদিন, যখন সমবেত লোকদের সংখ্যা প্রায় একশ’ কুড়িজন, পিতর ভাইদের মাঝখানে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘ভাইয়েরা, যিশুকে যারা গ্রেপ্তার করেছিল, তাদের যে পথপ্রদর্শক হয়েছিল, সেই যুদা সম্বন্ধে পবিত্র আত্মা দাউদের মুখ দিয়ে আগে থেকে যা বলে দিয়েছিলেন, সেই শাস্ত্রবচন পূর্ণ হওয়া আবশ্যক ছিল। সে তো আমাদেরই একজন ছিল, এবং তাকেও এই সেবাদায়িত্বের সহভাগী হতে দেওয়া হয়েছিল। বাস্তবিকই সামসঙ্গীত-পুস্তকে লেখা আছে, ‘‘অন্য একজন তার কর্মভার গ্রহণ করুক।”
সুতরাং, যোহন যে সময় বাপ্তিস্ম দিতেন, তখন থেকে আরম্ভ ক’রে যেদিন প্রভু যিশুকে আমাদের কাছ থেকে ঊর্ধ্বে তুলে নেওয়া হল সেদিন পর্যন্ত, যতদিন তিনি আমাদের মাঝে বসবাস করলেন, ততদিন যারা আমাদের সঙ্গে ছিল, তাদেরই একজনকে আমাদের সঙ্গে তাঁর পুনরুত্থানের সাক্ষী হতে হবে।’
তখন এই দু’জনের নাম প্রস্তাব করা হল: ইউস্তুস নামে পরিচিত যোসেফ, যাঁকে বার্সাব্বাস বলে ডাকা হত, এবং মাথিয়াস। তখন তাঁরা এই বলে প্রার্থনা করলেন, ‘প্রভু, তুমি সকলের অন্তরই জান; নিজের স্থানে যাবার জন্য যুদা যে সেবাদায়িত্ব ও প্রৈরিতিক ভূমিকা ত্যাগ করেছে, তার স্থান গ্রহণ করার জন্য তুমি এই দু’জনের মধ্যে কাকে বেছে নিয়েছ, তা আমাদের দেখাও।’
পরে তাঁরা এই দু’জনের নামে গুলিবাঁট করলেন; মাথিয়াসের নামে গুলি পড়ল বিধায় তিনিই এগারোজন প্রেরিতদূতের সঙ্গে যুক্ত হলেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১১৩
ধুয়ো:
প্রভু তাঁকে আসন দিলেন
তাঁর আপন জাতির নেতৃবৃন্দের মাঝে।

প্রশংসা কর তোমরা, হে প্রভুর সেবক,
প্রশংসা কর প্রভুর নাম।
প্রভুর নাম ধন্য হোক এখন থেকে চিরকাল,
সূর্যের উদয় থেকে তার অস্তেই প্রভুর নাম প্রশংসিত হোক।   [ধুয়ো]

প্রভু সকল দেশের ঊর্ধ্বে উচ্চতম,
তাঁর গৌরব আকাশমণ্ডলের ঊর্ধ্বে বিরাজিত।
কেইবা আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর মত, ঊর্ধ্বলোকে আসীন যিনি,
আনত হয়ে যিনি আকাশ ও পৃথিবীর উপর দৃষ্টিপাত করেন?   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমিই তোমাদের বেছে নিয়েছি
—একথা বলছেন প্রভু—
যেন তোমরা গিয়ে ফলশালী হয়ে ওঠ
ও তোমাদের ফল স্থায়ী হয়।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৫:৯-১৭)

একদিন যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন, ‘পিতা যেমন আমাকে ভালবেসেছেন, আমিও তেমনি তোমাদের ভালবেসেছি; আমার ভালবাসায় স্থিতমূল থাক। যদি আমার আজ্ঞাগুলি পালন কর, তবে আমার ভালবাসায় থাকবেই, আমিও যেমন আমার পিতার সমস্ত আজ্ঞা পালন করেছি ও তাঁর ভালবাসায় থাকি। এই সমস্ত তোমাদের বলেছি, যেন আমার আনন্দ তোমাদের অন্তরে স্থিতমূল থাকে এবং তোমাদের সেই আনন্দ যেন পরিপূর্ণ হয়।
আমার আজ্ঞা এ: তোমরা পরস্পরকে ভালবাস, আমি তোমাদের যেভাবে ভালবেসেছি। আপন বন্ধুদের জন্য নিজের প্রাণ দেওয়া: এর চেয়ে বেশি ভালবাসা কারও নেই। আমি তোমাদের যা আজ্ঞা করি, তোমরা যদি তা পালন কর, তবেই তোমরা আমার বন্ধু। আমি তোমাদের আর দাস বলছি না, কারণ দাস নিজের প্রভু কী করেন তা জানে না; তোমাদের আমি বন্ধু বলছি, কারণ আমার পিতার কাছ থেকে যা কিছু শুনেছি, তা সমস্তই তোমাদের জানিয়েছি।
তোমরা যে আমাকে বেছে নিয়েছ এমন নয়, আমিই তোমাদের বেছে নিয়েছি, তোমাদের নিযুক্তও করেছি, যেন তোমরা গিয়ে ফলশালী হয়ে ওঠ ও তোমাদের ফল স্থায়ী হতে পারে, যাতে তোমরা পিতার কাছে যা কিছু আমার নামে যাচনা কর, তিনি তা তোমাদের দেন। আমি তোমাদের এই আজ্ঞা দিচ্ছি, তোমরা পরস্পরকে ভালবাস।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিন-লিখিত ‘সামসঙ্গীত-মালায় উপদেশাবলি’

ভাইবোনেরা, সুসমাচারে আমরা এইমাত্র শুনেছি আমাদের প্রভু ও ত্রাণকর্তা যিশুখ্রিষ্ট আমাদের কতই না ভালবাসেন: পিতার কাছে ঈশ্বর হয়েও তিনি আবার আমাদের মাঝে মানববংশে জাত মানুষ। তোমরা তো শুনেছ, যিনি পিতার ডান পাশে আসীন, আমরা তাঁর কেমন ভালবাসার পাত্র। তিনি নিজেই আমাদের প্রতি তাঁর ভালবাসার মাত্রা দেখিয়েছেন, এবং তেমন ভালবাসা আমাদেরও আদেশ রূপে রেখে গেছেন: তিনি বলেছেন যে, একে অপরকে ভালবাসাই তাঁর আদেশ। আর যাতে আমরা সন্দেহপূর্ণ ও দিশাহারার মত এ বিষয়ের সন্ধানে সময় ব্যয় না করি, পরস্পরকে কতখানি ভালবাসতে হবে ও ঈশ্বরের গ্রহণযোগ্য ভালবাসার পূর্ণ মাত্রা কেমন (যেহেতু সেই মাত্রা সত্যিই এমন পূর্ণ মাত্রা যার চেয়ে পূর্ণতর মাত্রা নেই), সেজন্য তিনি নিজেই এ সুস্পষ্ট কথায় তা নির্দেশ করেছেন: আপন বন্ধুদের জন্য নিজের প্রাণ দেওয়া: এর চেয়ে বেশি ভালবাসা কারও নেই (যোহন ১৫:১৩)।
তিনি যা যা শিখিয়েছিলেন, প্রথমে তিনিই তা করলেন; আর প্রেরিতদূতেরা তাঁর কাছ থেকে যা শিখেছিলেন তা করলেন ও পরবর্তীতে আমাদের কাছে তা প্রচার করলেন, আমরা যেন তা মেনে চলি। তবে এসো, আমরাও সেরূপ ব্যবহার করি; কেননা যদিও আমাদের খ্রিষ্টের স্বরূপ না থাকে—তিনি তো স্রষ্টা!—তবু আমাদের প্রতি ভালবাসার খাতিরে তিনি যা হলেন আমরাও তাই।
তথাপি কেবল তিনিই যদি পরের জন্য প্রাণ দিতেন, হয় তো আমাদের মধ্যে এমন কেউই থাকত না যে তাঁর অনুকরণ করতে যথেষ্ট সাহসী হত, কেননা মানুষ হয়েও তিনি কিন্তু একইসময়ে ঈশ্বরও ছিলেন। তবু দেখ, তিনি যে মানুষ, সেই হিসাবে তাঁর সেবকেরা তাঁর অনুকরণ করল, ও তিনি যে গুরু, সেই হিসাবে তাঁর শিষ্যেরা তাঁর অনুসরণ করলেন। উপরন্তু, ঈশ্বরের পরিবারে যাঁরা আমাদের পূর্বপুরুষ, তাঁদের মধ্যে অনেকেই তাঁর একই প্রকার কাজ সাধন করতে পারলেন: তাঁরা ঈশ্বরের গৃহে ছিলেন আমাদের পিতৃপুরুষ ও সেবার সঙ্গী। কেননা ঈশ্বর এমন আদেশ করতে পারতেন না যা তিনি জানতেন আমাদের পক্ষে পালন করা সম্ভব নয়।
আর তুমি কি নিজ দুর্বলতার কথা ধরে আদেশের চাপে মূর্ছা যাও? আদর্শের দিকে তাকিয়ে শক্তি ধর! আদর্শটাও কি বেশি কঠিন মনে হচ্ছে? তবে দেখ, যিনি আদর্শ দিয়েছেন, তোমাকে সাহায্য করতে তিনি তোমার পাশেই আছেন। সুতরাং এসো, এই সামসঙ্গীতে প্রভুর কণ্ঠ শুনি; কেননা একেবারে উপযুক্ত ভাবেই, এমনকি ঈশ্বরের সঙ্কল্প মতই এমনটি হল যে, ৫৬ নং সামসঙ্গীতের পাশাপাশি সুসমাচারের সেই বিবরণটি দেওয়া হচ্ছে যা খ্রিষ্টের ভালবাসাকে আদেশরূপে উপস্থাপন করে—তিনিই তো আমাদের জন্য প্রাণ দিয়েছেন আমরাও যেন ভাইদের জন্য প্রাণ দিই। বাস্তবিকই এ সামসঙ্গীত খ্রিষ্টের যন্ত্রণাভোগের কথা তুলে ধরে।
এখন, আমরা তো জানি যে, গোটা খ্রিষ্ট হলেন একইসঙ্গে মাথা ও দেহ। মাথা হলেন আমাদের সেই ত্রাণকর্তা নিজেই যিনি পোন্তিয় পিলাতের শাসনকালে যন্ত্রণাভোগ করলেন, কিন্তু পুনরুত্থিত হয়ে এখন পিতার পাশে সমাসীন। অন্য দিকে তাঁর দেহ হল মণ্ডলী: তবু এ মণ্ডলী বা ও মণ্ডলী নয়, বরং সেই মণ্ডলী যা সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত। আরও, তাঁর দেহ কেবল সেই মণ্ডলীই যা বর্তমানকালে এজগতে জীবনযাপন করছে এমন নয়, কিন্তু সেই মণ্ডলী যার অভ্যন্তরে তাঁরাও উপস্থিত যাঁরা আমাদের আগে জীবনযাপন করলেন, এবং তাঁরাও উপস্থিত যাঁরা পরবর্তীকালে যুগান্ত পর্যন্ত আবির্ভূত হবেন।
খ্রিষ্টের যারা অঙ্গ, সেই সকল বিশ্বাসীদের পূর্ণ সংখ্যায় গঠিত এই যে সার্বজনীন মণ্ডলী, তার মাথা স্বর্গে আবাস করলেও গোটা দেহকে শাসন করেন। আর তিনি দৃশ্যগত দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েও তবু ভালবাসার মধ্য দিয়ে আমাদের সঙ্গে যুক্ত।
এখন, যেহেতু গোটা খ্রিষ্ট একইসঙ্গে মাথা ও দেহ, সেজন্য আমরা সকল সামসঙ্গীতে মাথারই কণ্ঠ শুনতে চেষ্টা করি, যাতে দেহেরও কণ্ঠ শুনতে পাই। কেননা খ্রিষ্ট পৃথক ভাবে কথা বলতে চাইলেন না, যেহেতু তিনি আমাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে চাইলেন না, যেমন তিনি নিজেই স্পষ্ট বললেন: দেখ, আমি যুগান্ত পর্যন্ত প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি (মথি ২৮:২০)।
অতএব, তিনি যখন আমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছেন, তখন তিনিই আমাদের অন্তরে কথা বলেন, আমাদের বিষয়ে কথা বলেন, আমাদের মধ্য দিয়ে কথা বলেন, যেহেতু আমরাও তাঁর মধ্যে কথা বলি। সুতরাং আমরা সত্য বলি, কারণ তাঁরই মধ্যে কথা বলি।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
আমার আজ্ঞা এ:
—একথা বলছেন প্রভু—
তোমরা পরস্পরকে ভালবাস,
আমি তোমাদের যেভাবে ভালবেসেছি। (পাস্কাকালে: আল্লেলুইয়া)।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার আপন পরিবার-মণ্ডলীকে
দিব্য উপহারে পরিপূর্ণ করায় কখনও ক্ষান্ত হয়ো না।
সাধু মাথিয়াসের প্রার্থনার পুণ্যফলে প্রসন্ন হয়ে
আমাদের সকলকে ঐশআলোতে সাধুসাধ্বীর সাহচর্যের অংশী করে তোল।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]     


৩১ মে - ধন্যা কুমারী মারীয়ার শুভসাক্ষাৎ
দেখ,
তোমার অভিবাদন আমার কানে ধ্বনিত হওয়ামাত্র
শিশুটি আমার গর্ভে আনন্দে লাফিয়ে উঠল (লুক ১:৪৪)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, তোমার পুত্র মাতৃগর্ভে থাকাকালে
তুমি ধন্যা কুমারী মারীয়াকে এলিজাবেথের কাছে যেতে অনুপ্রাণিত করেছিলে।
আশীর্বাদ কর: পবিত্র আত্মার অনুপ্রেরণার প্রতি অনুগত হয়ে
আমরা যেন অবিরতই ধন্যা মাতার সঙ্গে তোমার মহিমাকীর্তন করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী জেফানিয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৩:১৪-১৭)

সানন্দে চিৎকার কর, সিয়োন কন্যা! জয়ধ্বনি তোল, ইস্রায়েল!
আনন্দ কর, সমস্ত হৃদয় দিয়ে উল্লাস কর, যেরুসালেম কন্যা!
প্রভু তোমার দণ্ডাজ্ঞা ফিরিয়ে নিয়েছেন,
তোমার শত্রুকে হটিয়ে দিয়েছেন।
প্রভুই তোমার অন্তঃস্থলে রাজা, হে ইস্রায়েল!
ভয় করার মত আর কোন অমঙ্গল থাকবে না।
সেইদিন যেরুসালেমকে বলা হবে: ‘সিয়োন, ভয় করো না,
তোমার হাত শিথিল না হোক!
তোমার পরমেশ্বর প্রভু রয়েছেন তোমার অন্তঃস্থলে, ত্রাণকর্তাই সেই বীর!
তিনি তোমাকে নিয়ে আনন্দে মেতে উঠবেন,
তাঁর ভালবাসা দ্বারা তোমাকে নবীভূত করবেন,
তোমার জন্য আনন্দচিৎকারে ফেটে পড়বেন।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ইসাইয়া ১২:২-৬
ধুয়ো: তোমার মধ্যে মহানই
ইস্রায়েলের সেই পবিত্রজন।

সত্যি, ঈশ্বরই আমার পরিত্রাণ,
আমি ভরসা রাখব, ভীত হব না;
কারণ প্রভুই আমার শক্তি, আমার স্তবগান,
তিনি হলেন আমার পরিত্রাণ।   [ধুয়ো]

তোমরা আনন্দের সঙ্গে জল তুলে আনবে পরিত্রাণের উৎসধারা থেকে;
প্রভুর স্তুতিবাদ কর, কর তাঁর নাম;
জাতিসকলের মাঝে তাঁর কর্মকীর্তির কথা জ্ঞাত কর,
ঘোষণা কর: তাঁর নাম মহীয়ান।   [ধুয়ো]

প্রভুর স্তবগান কর, তিনি যে সাধন করেছেন মহিমময় কাজ,
সারা পৃথিবী জুড়ে একথা জ্ঞাত হোক।
সানন্দে চিৎকার কর, জাগাও হর্ষধ্বনি, সিয়োন অধিবাসী,
কারণ তোমাদের মধ্যে মহানই ইস্রায়েলের সেই পবিত্রজন।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
হে কুমারী মারীয়, তুমি ধন্যা; তুমি যে বিশ্বাস করেছে!
প্রভুর বাণী তোমাতে সিদ্ধিলাভ করল।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:৩৯-৫৬)

সেসময়ে মারীয়া সঙ্গে সঙ্গে রওনা হয়ে পার্বত্য অঞ্চলে যুদার একটা শহরের দিকে যত শীঘ্রই যাত্রা করলেন।
জাখারিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে এলিজাবেথকে অভিবাদন জানালেন। তখন এমনটি ঘটল যে, এলিজাবেথ মারীয়ার অভিবাদন শোনামাত্র তাঁর গর্ভে শিশুটি লাফিয়ে উঠল; এলিজাবেথ পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হলেন ও উচ্চকণ্ঠে বলে উঠলেন, ‘নারীকুলে তুমি ধন্যা, এবং ধন্য তোমার গর্ভফল। আমি কে যে আমার প্রভুর মা আমার কাছে আসবে? দেখ, তোমার অভিবাদন আমার কানে ধ্বনিত হওয়ামাত্র শিশুটি আমার গর্ভে আনন্দে লাফিয়ে উঠল; আহা, সুখী সেই জন যে বিশ্বাস করেছে! কারণ প্রভু দ্বারা তাকে যা বলা হয়েছে, তা সিদ্ধিলাভ করবে।’
তখন মারীয়া বললেন:
‘প্রভুর মহিমাকীর্তন করে আমার প্রাণ,
আমার ত্রাতা পরমেশ্বরে আমার আত্মা করে উল্লাস,
কারণ তাঁর দাসীর নিম্নাবস্থার দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন তিনি,
কেননা দেখ, এখন থেকে যুগে যুগে সকলে আমাকে সুখী বলবে;
কারণ আমার জন্য মহা মহা কাজ করেছেন সেই শক্তিমান
—পবিত্রই তাঁর নাম;
আর যারা তাঁকে ভয় করে,
তাদের প্রতি তাঁর দয়া যুগযুগস্থায়ী।
তিনি পরাক্রম সাধন করেছেন আপন বাহুবলে,
গর্বিতদের বিক্ষিপ্ত করেছেন তাদের হৃদয়ের মতলবে;
ক্ষমতাশালীদের নামিয়ে দিয়েছেন সিংহাসন থেকে,
নিম্নাবস্থার মানুষকে করেছেন উন্নীত;
ক্ষুধার্তদের পরিতৃপ্ত করেছেন মঙ্গলদানে,
ধনীদের ফিরিয়ে দিয়েছেন শূন্য হাতে।
আপন দয়া স্মরণ ক’রে
তাঁর দাস ইস্রায়েলের সহায়তা করেছেন তিনি,
যেমনটি বলেছিলেন আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে,
আব্রাহাম ও তাঁর বংশের কাছে, চিরকাল।’
মারীয়া তাঁর সঙ্গে প্রায় তিন মাস থাকলেন, পরে বাড়ি ফিরে গেলেন।
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
পুরোহিত মাননীয় সাধু বীডের উপদেশ

প্রভুর মহিমাকীর্তন করে আমার প্রাণ, আমার ত্রাতা পরমেশ্বরে আমার আত্মা করে উল্লাস (লুক ১:৪৬)। এ বাণী দ্বারা মারীয়া সর্বপ্রথমে সেই সমস্ত বিশেষ দানের কথা ঘোষণা করেন যা তাঁর কাছ থেকেই পেয়েছেন, তারপর তিনি সেই সকল সার্বজনীন উপকারের কথা উল্লেখ করেন যা দান করায় ঈশ্বর অনাদিকাল থেকে মানবজাতিকে অবিরত প্রতিপালন করে আসছেন।
যে ব্যক্তি নিজ আধ্যাত্মিক জগতের সমস্ত গতি প্রভুর প্রশংসা ও গৌরবে পরিণত করে, যে ব্যক্তি ঈশ্বরের আজ্ঞাগুলি পালন করায় তাঁর রাজকীয় শক্তির কথা অনুক্ষণ চোখের সামনে রাখে, সে ব্যক্তিই প্রমাণ করে যে, তার প্রাণ প্রভুর মহিমাকীর্তন করে।
যে ব্যক্তি যাঁর কাছ থেকে শাশ্বত পরিত্রাণ পাবার আশায় তাঁর সেই স্রষ্টার কথা স্মরণে আনন্দিত, তারই আত্মা ত্রাতা পরমেশ্বরে উল্লাস করে।
এ বাণী পুণ্য পবিত্র ধর্মপ্রাণের ওষ্ঠে শোভা পায় বটে, কিন্তু বিশেষভাবে ঈশ্বরজননীর বেলায়ই শোভা পায়। যাঁর দৈহিক গর্ভধারণের জন্য তিনি আনন্দ ভোগ করছিলেন, তাঁর সেই অনন্য অধিকারের জন্য তাঁর অন্তর আধ্যাত্মিক প্রেমেই জ্বলছিল। অন্যান্য সাধুসাধ্বীদের তুলনায় তিনিই যথার্থ কারণে তাঁর ত্রাতা যিশুতে অসাধারণ মহা উল্লাসে উল্লাস করতে পারলেন, কেননা তিনি জানতেন যে, তাঁর দেহমাংস থেকে মানবজন্ম গ্রহণ করে পরিত্রাণের সেই সনাতন সাধক এক ও অভিন্ন ব্যক্তি বলেই একইসময়ে নিজেরই সন্তান ও প্রভুও হবেন।
আমার জন্য মহা মহা কাজ করেছেন সেই শক্তিমান। ব্যাপারটা যে তাঁর নিজের কোন গুণের উপর নির্ভর করে না, মারীয়া তখনই একথা স্বীকার করেন, যখন তাঁর নিজের মহত্ত্ব সেই পরমেশ্বরেরই দান বলে বর্ণনা করেন যিনি স্বরূপে শক্তিশালী ও মহান হওয়ায় তাঁর ভক্তজন যতই ছোট ও দুর্বল হোক না কেন সর্বদাই তাদের শক্তিশালী ও মহান করে তোলেন। তারপর তিনি সঠিকভাবেই বলে চলেন, পবিত্রই তাঁর নাম। এতে তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের বলতে চান, এমনকি যাদের কাছে একদিন তাঁর এই বাণী পৌঁছবে, তাদের শিক্ষাই দিতে চান, তারা যেন তাঁর নামে ভরসা রাখে ও তাঁর নাম করে। তাতে তারাও শাশ্বত পবিত্রতা ও প্রকৃত পরিত্রাণ উপভোগ করতে পারবে, যেমনটি নবী বলেছিলেন, সেসময় যে কেউ প্রভুর নাম করবে, সে পরিত্রাণ পাবে (যোয়েল ৩:৫)। আর আসলে, এই হল সেই একই নাম যা সম্বন্ধে উপরে বলা হয়েছিল, আমার ত্রাতা পরমেশ্বরে আমার আত্মা করে উল্লাস।
এজন্যই পবিত্র মণ্ডলীতে প্রতিদিন সন্ধ্যাকালীন উপাসনায় মারীয়ার গীতিকা গান করার অধিক সুন্দর ও উপযোগী প্রথা স্থান পেয়েছে। এতে প্রভুর দেহধারণের প্রাত্যহিক স্মৃতি ভক্তদের হৃদয় ভক্তিতে উদ্দীপ্ত করে ও তাঁর জননীর আদর্শের পুনঃপুনঃ ধ্যান তাদের পুণ্যাচরণে সুস্থির করে। আর উত্তমই হয়েছে যে, তা সন্ধ্যাকালেই গান করা হয়, যেন বহু কাজের কারণে আমাদের শ্রান্ত ও ক্লান্ত অন্তর বিশ্রামকালের আগমনে নিজের বিষয়ে ধ্যানমগ্ন হতে পারে।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
যুগে যুগে সকলে আমাকে সুখী বলবে;
কারণ আমার জন্য মহা মহা কাজ করেছেন সেই শক্তিমান, পবিত্রই তাঁর নাম। (পাস্কাকালে: আল্লেলুইয়া)।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তোমার ভক্তদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছ বলে
তোমার মণ্ডলী তোমার মহিমাকীর্তন করুক। সাধু যোহন মাতৃগর্ভে থাকতে
যাঁর উপস্থিতি উল্লাসের সঙ্গে অনুভব করেছিলেন, তোমার মণ্ডলী আনন্দের সঙ্গে
সেই খ্রিষ্টকে এই সাক্রামেন্তে সদা-জীবনময় বলে উপলব্ধি করুক।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৪ জুন - বাপ্তিস্মদাতা সাধু যোহনের জন্মতিথি
বাকশক্তিহীন পিতা জাখারিয়া
একটা লিপিফলক চেয়ে নিয়ে লিখলেন,
‘এর নাম যোহন।’।
আর ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁর মুখ খুলে গেল,
তাঁর জিহ্বার জড়তাও ঘুচে গেল (লুক ১:৬৩-৬৪)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর,
খ্রিষ্ট প্রভুর যোগ্য এক জনগণকে প্রস্তুত করার জন্যই
তুমি বাপ্তিস্মদাতা সাধু যোহনের উদ্ভব ঘটিয়েছিলে।
মিনতি জানাই: তোমার জনগণের হৃদয়ে আত্মিক আনন্দ সঞ্চার কর
ও সকল বিশ্বাসী মানুষকে পরিত্রাণ ও শান্তির পথে চালিত কর।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী ইসাইয়ার পুস্তক থেকে পাঠ (৪৯:১-৬)

শোন, দ্বীপপুঞ্জ;
মনোযোগ দিয়ে শোন, সুদূর জাতিসকল:
প্রভু মাতৃগর্ভ থেকে আমাকে ডেকেছেন,
মাতৃবক্ষ থেকে তিনি উল্লেখ করেছেন আমার নাম।
তিনি আমার মুখ তীক্ষ্ণ খড়্গেরই মত করলেন,
আপন হাতের ছায়ায় আমাকে লুকিয়ে রাখলেন,
আমাকে ধারালো একটা তীর করলেন,
আপন তূণেই আমাকে আবৃত করলেন।
তিনি আমাকে বললেন,
‘ইস্রায়েল, তুমি আমার আপন দাস,
তোমাতেই আমার কান্তি প্রকাশ করব।’
কিন্তু আমি বললাম,
‘আমার পরিশ্রম বৃথাই গেছে,
অকারণে ও অনর্থই আমার শক্তি ব্যয় করেছি।
তবু আমার বিচার যে প্রভুরই কাছে,
আমার শ্রমের ফল যে আমার পরমেশ্বরের কাছে, একথা নিশ্চিত।’
আর এখন সেই প্রভু কথা বললেন,
যিনি মাতৃগর্ভ থেকে আপন দাসরূপে আমাকে গড়েছেন,
যেন যাকোবকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনি,
ও তাঁর সঙ্গে ইস্রায়েলকে পুনর্মিলিত করি,
—বাস্তবিকই প্রভুর দৃষ্টিতে আমি গৌরবের পাত্র হয়েছি,
পরমেশ্বরই হলেন আমার শক্তি।
তিনি বললেন:
‘যাকোবের সমস্ত গোষ্ঠী পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য,
ইস্রায়েলের অবশিষ্টাংশ ফিরিয়ে আনার জন্যই যে তুমি আমার দাস,
তা তোমার পক্ষে যথেষ্ট নয়।
তাই আমি তোমাকে দেশগুলির জন্য আলোরূপে নিযুক্ত করব,
তুমি যেন পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত হও আমার পরিত্রাণ।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৩৯
ধুয়ো:
আমি তোমার স্তুতি করি,
তুমি যে ভয়ঙ্করভাবেই আমাকে করেছ অপরূপ।

প্রভু, তুমি তো আমাকে তলিয়ে দেখ, আমাকে জান;
তুমি তো জান আমি কখন বসি, কখন উঠি,
দূর থেকেই তুমি বুঝতে পার আমার চিন্তাসকল,
আমার সকল পথ তোমার কাছে পরিচিত।   [ধুয়ো]

তুমিই গঠন করেছ আমার অন্ত্ররাজি,
তুমিই আমায় বুনে বুনে গড়েছ আমার মাতৃগর্ভে।
আমি তোমার স্তুতি করি,
তুমি যে ভয়ঙ্করভাবেই আমাকে করেছ অপরূপ।   [ধুয়ো]

তোমার সমস্ত কর্মকীর্তিই অপরূপ,
তা ভাল করে জানে আমার প্রাণ।
আমি যখন গোপনে হচ্ছিলাম সংগঠিত, পৃথিবীর গভীরে যখন হচ্ছিল এ দেহের বয়ন,
তখন তোমার কাছে আমার হাড়গুলি ছিল না লুক্কায়িত।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (১৩:২২-২৬)

একদিন [পিসিদিয়া প্রদেশের আন্তিওখিয়ার সমাজগৃহে] পল উঠে দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে ইশারা করে কথা বলতে লাগলেন: ‘ইস্রায়েলের মানুষেরা ও এখানকার ঈশ্বরভীরু সকলে, শুনুন। এই ইস্রায়েল জাতির ঈশ্বর আমাদের পিতৃপুরুষদের বেছে নিলেন, এবং এই জাতি যখন মিশরদেশে প্রবাসী ছিল, তখন তাদের উন্নীত করলেন, এবং সেখান থেকে শক্ত বাহুতে তাদের বের করে আনলেন।
তারপর তিনি তাঁকে পদচ্যুত করে তাদের রাজারূপে সেই দাউদের উদ্ভব ঘটালেন, যাঁর বিষয়ে এই সাক্ষ্য দিয়ে বললেন, আমি যেসের সন্তান দাউদকে পেয়েছি, সে আমার মনের মত মানুষ, সে আমার সমস্ত ইচ্ছা পালন করবে। তাঁরই বংশ থেকে ঈশ্বর প্রতিশ্রুতি-মত ইস্রায়েলের ত্রাণকর্তা সেই যিশুর উদ্ভব ঘটিয়েছেন, যাঁর আগমনের আগে যোহন গোটা ইস্রায়েল জাতির কাছে মনপরিবর্তনের বাপ্তিস্ম প্রচার করেছিলেন।
জীবনযাত্রার শেষ পর্যায়ে যোহন একথা বলছিলেন: তোমরা আমাকে যাকে ভাব, আমি সে নই। দেখ, আমার পরে এমনই একজন আসছেন, যাঁর জুতোর বাঁধন খুলবার যোগ্য আমি নই।
হে ভাই, হে আব্রাহাম-বংশের সন্তানেরা! আপনারাও, হে ঈশ্বরভীরু সকলে! পরিত্রাণের এই বাণী আমাদেরই কাছে প্রেরিত হয়েছে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তুমি, শিশু, পরাৎপরের নবী বলে অভিহিত হবে,
কারণ প্রভুর আগে আগে চলবে তাঁর পথ প্রস্তুত করতে।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:৫৭-৬০,৮০)

প্রসবকাল পূর্ণ হলে এলিজাবেথ একটি পুত্রসন্তান প্রসব করলেন। প্রভু তাঁর প্রতি মহা কৃপা দেখিয়েছেন শুনে তাঁর প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনেরা তাঁর আনন্দে আনন্দ প্রকাশ করল।
অষ্টম দিনে তারা শিশুটিকে পরিচ্ছেদিত করতে এল; তারা তার পিতার নাম অনুসারে তার নাম জাখারিয়া রাখতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার মা প্রতিবাদ করে বললেন, ‘না, ওর নাম হবে যোহন।’ তারা তাঁকে বলল, ‘আপনার গোত্রের মধ্যে তেমন নাম কারও নেই।’
তখন তারা তার পিতাকে ইশারা করে জিজ্ঞাসা করল, তিনি কী নাম রাখতে চান। একটা লিপিফলক চেয়ে নিয়ে তিনি লিখলেন, ‘এর নাম যোহন।’ এতে সকলে আশ্চর্য হল; আর ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁর মুখ খুলে গেল, তাঁর জিহ্বার জড়তাও ঘুচে গেল, এবং তিনি ঈশ্বরের স্তুতিবাদ করতে করতে কথা বলতে লাগলেন।
তাঁর প্রতিবেশী সকলে ভয়ে অভিভূত হল, ও যুদেয়ার গোটা পার্বত্য অঞ্চল জুড়ে এই সমস্ত বিষয়ে বলাবলি হতে লাগল। যারা শুনত, সকলেই তা হৃদয়ে গেঁথে রেখে বলত: ‘এই বালকটি তবে কী হবে?’ বাস্তবিকই প্রভুর হাত তাঁর সঙ্গে সঙ্গে ছিল।
বালকটি বেড়ে উঠল ও আত্মায় বলবান হল। ইস্রায়েলের কাছে তার আবির্ভাব না হওয়া পর্যন্ত সে মরুপ্রান্তরে থাকল।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
তুরিনের বিশপ সাধু মাক্সিমেরই বলে ধরে নেওয়া উপদেশ

আমাদের ভক্তি ও ধর্মভাব আমাদের অন্তরে এমন উদ্দীপনা জাগাচ্ছে আমরা যেন আজ বাপ্তিস্মদাতা সাধু যোহনের জন্মতিথিতে আনন্দে মেতে উঠি। ঈশ্বর তাঁকে মনোনীত করেছিলেন তিনি যেন এসে তাঁরই কথা ঘোষণা করেন যিনি মানবজাতির আনন্দ ও স্বর্গের সুখ। যোহন হলেন সেই নতুন সাক্ষী যাঁর ওষ্ঠে জগৎ জানতে পারল যে ঈশ্বরের মেষশাবক আমাদের সেই মুক্তিসাধকের আগমন সন্নিকট ছিল। তেমন মহারহস্যের বিশ্বাসযোগ্য দূত হয়ে তিনি সেই সাক্ষী যাঁর জন্মের কথা স্বর্গদূত তাঁর মাতাপিতাকে তখনই জানিয়েছিলেন, তাঁরা যখন বংশ পাবার আশা হারিয়েছিলেন। তাঁর জন্মে স্বর্গের হাত দেখে বুদ্ধিসম্পন্ন কোন্‌ মানুষই বিশ্বাস করবে না যে, তিনি দিব্য রহস্যগুলো ঘোষণা করলেন? কেননা তিনি শিশু-না-হওয়া অবস্থায়ও, অর্থাৎ মাতৃগর্ভে অপূর্ণাঙ্গ অবস্থায়ও তাঁর উপরে বিরাজমান বিশেষ অনুগ্রহ গুণেই নিজ ধন্যা মাতার হৃদয় সনাতন আনন্দে পূর্ণ করেছিলেন; আরও, শিশুর জন্মের আগে এলিজাবেথ নিজ বন্ধ্যতার নবীন উর্বরতা প্রচার করেছিলেন। মারীয়াকে এলিজাবেথ বলেছিলেন: দেখ, তোমার অভিবাদন আমার কানে ধ্বনিত হওয়ামাত্র শিশুটি আমার গর্ভে আনন্দে লাফিয়ে উঠল! আমি কে যে আমার প্রভুর মা আমার কাছে আসবে? (লুক ১:৪১)। এ বৃদ্ধা নারী যে পূর্বজ্ঞানের অধিকারিণী, একথা তত বিস্ময়কর নয়, কেননা তাঁরই তো পরাৎপর ঈশ্বরের অগ্রদূতকে জন্ম দেবার কথা।
তাই এলিজাবেথের বন্ধ্যতা হল তাঁর গৌরব, কারণ তাঁর উর্বরতা স্থগিত হওয়ায় তিনি একটামাত্র সন্তানের দান দ্বারাই সকল উত্তরপুরুষের মর্যাদার পাত্রী হলেন। বৃদ্ধ বয়সে তিনি ও তাঁর স্বামী তাঁর অনুর্বরতা বিষয়ে দুঃখ করছিলেন, তিনি অপ্রত্যাশিত ভাবে এমন সন্তানকে জন্ম দিলেন যিনি সাধারণ মানুষ শুধু নন, কিন্তু সারা বিশ্বের শাশ্বত পরিত্রাণের অগ্রদূত। তিনি এমন মহান অগ্রদূত ছিলেন যে, ভাবী দায়িত্বের অনুগ্রহ আগে থেকেই মূর্তিমান করে আপন জননীকে নবীয় প্রেরণা দান করলেন, এবং দূত দ্বারা তাঁকে দেওয়া নামের প্রভাবে তিনি পিতা জাখারিয়ার মুখ খুলে দিলেন—সেই যে মুখ সন্দেহ দ্বারা বন্ধ করা হয়েছিল।
কেননা জাখারিয়া যে বাক্‌শক্তি সবসময়ের মতই হারিয়েছিলেন এমন নয়, কিন্তু তা এজন্যই ঘটেছিল যাতে তাঁর কণ্ঠের অলৌকিক পুনঃপ্রতিষ্ঠা নবী-সন্তানের বিষয়ে দিব্য সাক্ষ্য বহন করতে পারে। যিনি সাধারণত জনগণের প্রকাশ্যে কথা বলতেন, সেই যাজক এজন্যই নির্বাক্‌ হলেন যেন তাঁর প্রকাশ্য নীরবতা সমস্ত জনগণের চোখের সামনে পুণ্য জন্মের রহস্যময় কথা প্রচার করলে জনগণ তা অবিশ্বাস করতে সাহস না করে।
যিনি সন্তানের জন্মের কথা অবিশ্বাস করায় শাস্তি পেয়ে নির্বাক্‌ হয়েছিলেন, তাঁর সেই সন্তানের বিষয়ে সুসমাচার-রচয়িতা বলেন: তিনি তো সেই আলো ছিলেন না, কিন্তু আলোরই বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন, যেন তাঁর দ্বারা সকলে বিশ্বাস করতে পারে (যোহন ১:৭)। বাস্তবিকই তিনি আলো ছিলেন না, কিন্তু প্রকৃত আলোর বিষয়ে সাক্ষ্য দান করতে যোগ্য হওয়ায় সম্পূর্ণরূপেই আলোতে বিরাজ করছিলেন। সুতরাং এসো, তাঁর জন্মতিথি মহাপর্ব মহা আনন্দে উদ্‌যাপন করে পরমধন্য যোহনকে শ্রদ্ধা দেখাই, কারণ সকলের আগেই তিনি সেই স্বর্গীয় সনাতন আলো চিনতে পেরেছেন যিনি সংসারের অন্ধকার দূর করে দিতে আসছিলেন। তিনিই প্রথম সেই আলোর দিকে অঙুলি নির্দেশ করলেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
আমাদের পরমেশ্বরের করুণায়
ঊর্ধ্ব থেকে সেই উদীয়মান আমাদের দেখতে এলেন।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, স্বর্গীয় মেষশাবকের ভোজসভায় পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে
আমরা তোমাকে অনুনয় করি:
বাপ্তিস্মদাতা সাধু যোহনের জন্মতিথির আনন্দে আনন্দিত হয়ে
তোমার মণ্ডলী নিজের নবজন্মের উৎস বলে সেই খ্রিষ্টকেই স্বীকার করুক
যাঁকে যোহন আসন্ন বলে পূর্বঘোষণা করেছিলেন।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৯ জুন - প্রেরিতদূত সাধু পিতর ও পল
খ্রিষ্টমণ্ডলীর স্তম্ভ প্রেরিতদূত পিতর ও পল।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, প্রেরিতদূত পিতর ও পলের মহাপর্বদিবসে
তুমিই এদিনের পুণ্য-পবিত্র আনন্দ আমাদের অন্তরে সঞ্চার করেছ।
আশীর্বাদ কর: যাঁদের দ্বারা মণ্ডলীতে ঘটেছিল খ্রিষ্টধর্মের সূচনা,
তোমার সেই মণ্ডলী যেন সমস্ত কিছুতেই তাঁদের নির্দেশবাণী পালন করে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রেরিতদের কার্যবিবরণী থেকে পাঠ (১২:১-১১)

সেসময়ে হেরোদ রাজা মণ্ডলীর কয়েকজন সদস্যকে উৎপীড়ন করতে শুরু করলেন: তিনি যোহনের ভাই যাকোবকে খড়্গের আঘাতে হত্যা করালেন। এতে ইহুদীরা খুশি হল দেখে তিনি পিতরকেও গ্রেপ্তার করালেন। তখন খামিরবিহীন রুটি পর্বের সময় ছিল। তিনি তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটকে রাখলেন, এবং তাঁকে পাহারা দেবার দায়িত্ব চার প্রহরী দলের উপর তুলে দিলেন: প্রতিটি দলে থাকবে চারজন সৈন্য। তিনি মনে করছিলেন, পাস্কার পরেই তাঁকে জনগণের সামনে এনে দাঁড় করাবেন।
যত সময় পিতর কারারুদ্ধ ছিলেন, তত সময় ধরে মণ্ডলী তাঁর জন্য ঈশ্বরের কাছে বিরামহীন প্রার্থনা করতে থাকল। যেদিন তাঁর বিচার হেরোদের করার কথা, তার আগের রাতে পিতর দু’জন সৈন্যের মাঝখানে দু’টো শেকলে আবদ্ধ হয়ে ঘুমাচ্ছিলেন ও কয়েকজন প্রহরী দরজায় পাহারা দিচ্ছিল, হঠাৎ প্রভুর এক দূত এসে দাঁড়ালেন, আর কারাকক্ষটা আলোয় ভরে উঠল।
দূত পিতরের কাঁধে নাড়া দিয়ে তাঁকে জাগিয়ে বললেন, ‘শীঘ্রই ওঠ!’ আর পিতরের হাত থেকে শেকল খসে পড়ল। দূত আবার তাঁকে বললেন, ‘কোমরে বন্ধনী বেঁধে নাও, জুতো পর।’ তিনি তা করলে পর দূত তাঁকে বললেন, ‘গায়ে চাদর জড়িয়ে নাও, আমার পিছু পিছু এসো।’ তিনি বেরিয়ে গিয়ে তাঁর পিছু পিছু যেতে লাগলেন; দূত যা কিছু করছেন, তা যে বাস্তব, তিনি তখনও তা বুঝতে পারেননি, ভাবছিলেন, তিনি কোন এক দর্শনই পাচ্ছেন।
তাঁরা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রহরী দলকে অতিক্রম ক’রে শহরে যাওয়ার লোহার ফটকের কাছে এলেন; ফটকটা আপনা থেকেই তাঁদের সামনে খুলে গেল, আর তাঁরা বেরিয়ে গিয়ে একটা রাস্তার শেষ মাথায় যাওয়ার পর হঠাৎ দূত তাঁর কাছ থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।
তখন পিতরের চেতনা এল, তিনি বললেন, ‘এখন আমি নিশ্চিত জানি, প্রভু নিজের দূত পাঠিয়ে হেরোদের হাত থেকে ও ইহুদী জাতির সমস্ত প্রত্যাশা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩৪
ধুয়ো:
প্রভু যত ভয়-শঙ্কা থেকে
আমাকে উদ্ধার করলেন।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
তিমথির কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৪:৬-৮,১৭-১৮)

প্রিয়তম সন্তান, আমার বেলায়, আমার রক্ত তো এর মধ্যে পানীয়-নৈবেদ্য রূপে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে, এবং আমার বিদায়ের সময় এসে গেছে। আমি শুভসংগ্রামে সংগ্রাম করেছি, নির্দিষ্ট দৌড়ের গন্তব্যস্থানে পৌঁছেছি, বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখেছি।
এখন আমার জন্য কেবল সেই ধর্মময়তার মুকুটই বাকি রয়েছে, যা প্রভু, সেই ধর্মময় বিচারকর্তা, সেই দিনটিতে আমাকে দেবেন—আমাকে শুধু নয়, সেই সকলকেও দেবেন, যারা তাঁর আবির্ভাবের ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষা করছে।
কিন্তু তবু প্রভুই আমার পাশে দাঁড়ালেন এবং আমার অন্তরে পরাক্রম যোগালেন, যার ফলে সেদিন আমার মধ্য দিয়ে বাণী-ঘোষণা সম্পূর্ণরূপে সাধিত হল এবং বিজাতীয়রা সকলে তা শুনতে পেল, আর আমি সিংহের মুখ থেকে নিস্তার পেলাম।
প্রভু সমস্ত অনিষ্ট থেকে আমাকে নিস্তার করবেন এবং তাঁর স্বর্গীয় রাজ্যের জন্য আমাকে নিরাপদে রাখবেন। তাঁর গৌরব হোক চিরদিন চিরকাল। আমেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তুমি পিতর, আর এই শৈলের উপরে
আমি আমার মণ্ডলী গেঁথে তুলব,
আর পাতালের দ্বার
তার উপরে জয়ী হবে না।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৬:১৩-১৯)

সেসময়ে, ফিলিপ-সীজারিয়া অঞ্চলে এসে যিশু নিজের শিষ্যদের কাছে এই প্রশ্ন রাখলেন, ‘মানবপুত্র কে, এবিষয়ে লোকে কী বলে?’ তাঁরা বললেন, ‘কেউ কেউ বলে: বাপ্তিস্মদাতা যোহন; কেউ কেউ বলে: এলিয়; আবার কেউ কেউ বলে: যেরেমিয়া বা নবীদের কোন একজন।’
তিনি তাঁদের বললেন, ‘কিন্তু তোমরা, আমি কে, এবিষয়ে তোমরাই কী বল?’ সিমোন পিতর এ বলে উত্তর দিলেন, ‘আপনি সেই খ্রিষ্ট, জীবনময় ঈশ্বরের পুত্র।’
প্রত্যুত্তরে যিশু তাঁকে বললেন, ‘যোহনের ছেলে সিমোন, তুমি সুখী! কেননা রক্তমাংস নয়, আমার স্বর্গস্থ পিতাই তোমার কাছে একথা প্রকাশ করেছেন। তাই আমি তোমাকে বলছি: তুমি পিতর, আর এই শৈলের উপরে আমি আমার মণ্ডলী গেঁথে তুলব, আর পাতালের দ্বার তার উপরে জয়ী হবে না। স্বর্গরাজ্যের চাবিকাঠি আমি তোমাকে দেব: পৃথিবীতে তুমি যা বেঁধে দেবে, স্বর্গে তা বাঁধা হবে; পৃথিবীতে তুমি যা মুক্ত করবে, স্বর্গে তা মুক্ত হবে।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
থেওফানোস চেরামেওসের উপদেশ

আমি কে, এবিষয়ে তোমরা কী বল? (মথি ১৬:১৫)। যিশু ঠিক যেন বলছেন, ‘এবিষয়ে লোকদের সাধারণ ধারণা যথেষ্ট বিচ্ছিন্ন ও অনিশ্চিত; কিন্তু যেহেতু তোমরা বহুদিন থেকেই আমাকে চেন, সেজন্য তোমাদের জিজ্ঞাসা করছি, এবিষয়ে তোমাদের ধারণা কী?’ অন্যান্য শিষ্যেরা কোনও উত্তর পেতে পারছিলেন না; কেউ কেউ দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, আবার কেউ কেউ বেশি সাহস দেখাতে চাচ্ছিলেন না। যিনি তাঁদের প্রধান, সেই পিতরই সকলের মুখপাত্র হয়ে উত্তর দিলেন। ইন্দ্রিয়জগৎ অতিক্রম করে তিনি যত জ্যোতিষ্ক পিছনে ফেলে রেখে ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের নাগাল পেয়ে বাতাসের মধ্য দিয়ে ঊর্ধ্বলোকেই উড়লেন। তাতে তিনি আত্মালোকে এসে পৌঁছলেন, সেরাফদূতদের অগ্নিময় নদী পার হলেন, ও স্বয়ং পিতার কাছ থেকেই তাঁর একমাত্র পুত্রের মর্যাদার কথা শিখলেন। এরপরেই তিনি সেই ঐশতাত্ত্বিক উক্তি ঘোষণা করলেন: আপনি সেই খ্রিষ্ট, জীবনময় ঈশ্বরের পুত্র (মথি ১৬:১৬)।
আর ত্রাণকর্তা তাতে কী উত্তর দিলেন? হে যোহনের ছেলে সিমোন, তুমি সুখী; কারণ রক্তমাংসই যে একথা তোমাকে প্রকাশ করেছে এমন নয় (মথি ১৬:১৭)। অন্য কথায়, ‘তোমার এ রক্তমাংসের দেহে থাকার ফলে যে তুমি আমার বিষয়ে এই ঐশপ্রকাশ পেয়েছ এমন নয়; বরং তেমন ঐশ রহস্যে উদ্বুদ্ধ হবার জন্য তুমি নিশ্চয়ই ইন্দ্রিয়জগতের বাইরে ছিলে।’ একই প্রকারে, যখন পল বললেন, তিনি তৃতীয় স্বর্গে উপনীত হয়েছিলেন ও এমন পবিত্র কথা শুনেছিলেন যা বলা সম্ভব নয়, তখন আধ্যাত্মিক বিষয় দর্শন করার জন্য তাঁর দৈহিক চেতনা দরকার ছিল না। বরং তিনি নিজেই বলেছিলেন: তখন দেহের মধ্যে বা দেহের বাইরে ছিলাম তা আমি জানি না।
তাই আমি তোমাকে বলছি: তুমি পিতর, আর এই শৈলের উপরে আমি আমার মণ্ডলী গেঁথে তুলব (মথি ১৬:১৮)। আমাদের প্রভু আসলে বললেন: ‘যেহেতু তুমি পিতর, সেজন্য তুমি বিশ্বাস-প্রস্তর হবে, মণ্ডলীর ভিত্তিপ্রস্তরই হবে, তার আধ্যাত্মিক নির্মাণকাজের প্রধান উপাদানই হবে। আমি যে ঈশ্বরপুত্র ও একইসময়ে মানবপুত্র, তোমার এই স্বীকারোক্তির উপরেই মণ্ডলীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হবে, কেননা এপ্রকার ভিত্তিপ্রস্তরই হচ্ছে এমন নিশ্চিত ভিত্তিভূমি যার উপরে বাকি সমস্ত ঐশতত্ত্ব গেঁথে তোলা যাবে।’
আর পাতালের দ্বার তার উপরে জয়ী হবে না (মথি ১৬:১৮)। পাতালের সেই দ্বার যা মণ্ডলীকে পরাভূত করতে পারবে না, তা নিশ্চয়ই নির্যাতনের সেই সকল ওস্তাদ ও ভ্রান্তমতের যত স্থাপয়িতা। তারা প্রতীকাকারেই পাতালের দ্বার বলে অভিহিত, কারণ নিজেদের অনুগামীদের পাতালের ফাঁদে টেনে নেয়।
স্বর্গরাজ্যের চাবিকাঠি আমি তোমাকে দেব (মথি ১৬:১৯)। লক্ষ কর: ‘তা এখনই তোমাকে দিচ্ছি’ এমন কথা প্রভু বলেননি, কিন্তু ‘দেব’ বলেছেন। তাতে সেই কালের দিকেই অঙুলি নির্দেশ করছিলেন যা তাঁর পুনরুত্থানের পরবর্তী কাল: তখনই তিনি পিতরকে পবিত্র আত্মার অনুগ্রহ ও বেঁধে রাখা ও মুক্ত করার অধিকার দিলেন, এবং তাঁকে তাঁর মানব-পালের পালক পদে নিযুক্ত করলেন। কিন্তু সেই চাবি প্রকৃতপক্ষে কী? আর কী প্রকার দ্বারের রক্ষক পদে খ্রিষ্ট পিতরকে নিযুক্ত করলেন? খ্রিষ্টই দ্বার, যেমন নিজেই ঘোষণা করেছিলেন; আর সেই দ্বারের চাবি হল বিশ্বাস: এমন বিশ্বাস যা তিনি তাঁর প্রধান শিষ্যের হাতে ন্যস্ত করলেন।
অতএব, প্রভু পিতরের হাতে ও তাঁর উত্তরসূরীদের হাতে সেই চাবি তুলে দিলেন তাঁরা যেন স্বর্গরাজ্যের দ্বার সকল ভ্রান্তমতপন্থীর জন্য বন্ধ ও অগম্য রাখেন, কিন্তু বিশ্বাসীদের জন্য খোলা ও সহজ; তাতে তিনি আপন বাণী অধিক দৃঢ়তার সঙ্গে সপ্রমাণ করলেন: জল ও আত্মা দ্বারা জন্ম না নিলে কেউই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারে না (যোহন ৩:৫)। বিশ্বাসের সমস্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ও শত্রুরা পাতালের দ্বার বলে অভিহিত, কিন্তু ইম্মানুয়েল প্রভু দ্বার ও স্বর্গদ্বার বলেই অভিহিত, আর তিনি মনের আনন্দে সকলকে আহ্বান করে বলেন: যে কেউ আমার মধ্য দিয়ে ঢোকে, সে পরিত্রাণ পাবে (যোহন ১০:৯)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৩
ধুয়ো:
পিতর যিশুকে বললেন:
আপনি সেই খ্রিষ্ট, জীবনময় ঈশ্বরের পুত্র।
যিশু উত্তরে বললেন: তুমি পিতর,
আর এই শৈলের উপরে আমি আমার মণ্ডলী গেঁথে তুলব।

প্রভু যখন সিয়োনের বন্দিদের ফিরিয়ে আনলেন,
আমরা তখন যেন স্বপ্নই দেখি!
তখন আমাদের মুখ হাসিতে মুখর,
আমাদের জিহ্বা আনন্দচিৎকারে পূর্ণ।

তখন বিজাতিদের মধ্যে একথা চলত,
‘তাদের জন্য কী মহা মহা কাজ না করেছেন প্রভু!’
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু,
আমরা আনন্দিত।

আমাদের বন্দিদের ফিরিয়ে আন, প্রভু,
তাদের ফিরিয়ে আন নেগেব প্রান্তরে খরস্রোতের মত।
যে অশ্রুর মধ্যে বীজ বোনে,
সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফসল সংগ্রহ করবে।

সে যায়, কাঁদতে কাঁদতে সে চলে যায়,
সঙ্গে নিয়ে যায় বপনের বীজ;
সে আসে, সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফিরে আসে,
সঙ্গে নিয়ে আসে ফসলের আঁটি।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আশীর্বাদ কর: এই সাক্রামেন্তে পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে
আমরা যেন মণ্ডলীতে এমন জীবন যাপন করি,
যাতে রুটি-ছেঁড়া অনুষ্ঠানে ও প্রেরিতদূতদের শিক্ষা গ্রহণে নিষ্ঠাবান থেকে
তোমার ভালবাসায় স্থিতমূল হয়ে একমন একপ্রাণ হতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৩ জুলাই - প্রেরিতদূত সাধু টমাস
তোমার আঙুলটা এখানে রাখ,
আর আমার হাত দু’টো দেখ;
তোমার হাত বাড়াও,
আমার বুকের পাশটিতে তা দাও।
অবিশ্বাসী হয়ো না,
বিশ্বাসীই হও (যোহন ২০:২৭)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর: প্রেরিতদূত সাধু টমাসের পর্বদিন
আনন্দের সঙ্গে পালন ক’রে আমরা যেন সর্বদাই তাঁর সহায়তা লাভ করি।
তিনি যাঁকে প্রভু বলে ঘোষণা করেছিলেন,
তোমার পুত্র সেই যিশুখ্রিষ্টে বিশ্বাস রেখে
আমরা যেন তাঁর নামে জীবন পেতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (২:১৯-২২)

প্রিয়জনেরা, তোমরা এখন বিজাতি বা অস্থায়ী বাসিন্দা আর নও, বরং পবিত্রজনদের সহনাগরিক ও ঈশ্বরের পরিবারভুক্ত মানুষ। তোমরা প্রেরিতদূত ও নবীদের ভিত্তির উপরে গাঁথা; আর সংযোগপ্রস্তর হলেন স্বয়ং খ্রিষ্টযিশু।
তাঁর মধ্যে প্রতিটি গাঁথনি সুসংবদ্ধ হয়ে প্রভুতে এক পবিত্র মন্দির হবার জন্য গড়ে উঠছে; তাঁর মধ্যে আত্মা দ্বারা তোমাদেরও ঈশ্বরের আবাস হবার জন্য গেঁথে তোলা হচ্ছে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১১৭
ধুয়ো:
বিশ্বজগতে বেরিয়ে পড়,
সুসমাচার প্রচার কর।

প্রভুর প্রশংসা কর, সকল দেশ,
তাঁর মহিমাকীর্তন কর, সকল জাতি।
দৃঢ়ই যে আমাদের প্রতি তাঁর কৃপা,
প্রভুর বিশ্বস্ততা চিরস্থায়ী।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
টমাস, আমাকে দেখেছ বলেই তুমি বিশ্বাস করছ।
না দেখেও বিশ্বাস করে যারা, তারাই সুখী।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২০:২৪-২৯)

যিশু যখন এসেছিলেন, বারোজনের অন্যতম টমাস—যমজ বলে যিনি পরিচিত—তিনি তখন তাঁদের সঙ্গে ছিলেন না। তাই অন্য শিষ্যেরা তাঁকে বললেন, ‘আমরা প্রভুকে দেখেছি।’ কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, ‘তাঁর দু’টো হাতে যদি পেরেকের দাগ না দেখি, ও পেরেকের স্থানে যদি আমার আঙুল না রাখি, আর তাঁর বুকের পাশটিতে যদি আমার হাত দিতে না পারি, তবে আমি বিশ্বাস করব না।’
আট দিন পর তাঁর শিষ্যেরা আবার ঘরে ছিলেন, টমাসও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। সমস্ত দরজা বন্ধ ছিল, কিন্তু যিশু এলেন ও তাঁদের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক!’
পরে টমাসকে বললেন, ‘তোমার আঙুলটা এখানে রাখ, আর আমার হাত দু’টো দেখ; তোমার হাত বাড়াও, আমার বুকের পাশটিতে তা দাও। অবিশ্বাসী হয়ো না, বিশ্বাসীই হও।’ টমাস তাঁকে উত্তর দিলেন, ‘প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার!’ যিশু তাঁকে বললেন, ‘আমাকে দেখেছ বলেই তুমি বিশ্বাস করছ। না দেখেও বিশ্বাস করে যারা, তারাই সুখী।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
মহাপ্রাণ সাধু গ্রেগরি-লিখিত ‘সুসমাচারে উপদেশাবলি’

যিশু যখন এসেছিলেন, বারোজনের অন্যতম টমাস—যমজ বলে যিনি পরিচিত—তিনি তখন তাঁদের সঙ্গে ছিলেন না (যোহন ১০:২৪)। কেবল এ শিষ্যই অনুপস্থিত ছিলেন; ফিরে এসে ঘটনাটির বর্ণনা শুনে তিনি কিন্তু তা বিশ্বাস করতে অস্বীকার করলেন। প্রভু আবার এসে অবিশ্বাসী শিষ্যকে তাঁর আপন বুক দেখালেন তিনি যেন তা স্পর্শ করেন, তাঁকে দু’হাতও দেখালেন, ও ক্ষতস্থানগুলোর দাগ দেখিয়ে তাঁর সেই অবিশ্বাস নিরাময় করলেন।
আমার প্রিয় ভাইবোনেরা, এতে তোমরা কী বুঝতে পার? সেই নির্বাচিত শিষ্য যে অনুপস্থিত ছিলেন, তিনি যে ফিরে এসে শুনেছিলেন, শুনে সন্দেহ করেছিলেন, সন্দেহের সঙ্গে স্পর্শ করেছিলেন, ও স্পর্শ করে বিশ্বাস করেছিলেন, তোমরা কি মনে কর এসব কিছু এমনিই ঘটেছিল?
না! তা এমনি ঘটেনি, বরং দিব্য ব্যবস্থা অনুসারেই ঘটল। তাঁর অপার প্রসন্নতায় প্রভু বিস্ময়কর ভাবেই ব্যবহার করলেন: সেই অবিশ্বাসী শিষ্য যখন গুরুর দেহের ক্ষতগুলো স্পর্শ করেছিলেন, তখন তিনি কেমন যেন আমাদেরই অবিশ্বাসের ক্ষতস্থান নিরাময় করছিলেন। বিশ্বাস ক্ষেত্রে, বিশ্বাসী শিষ্যদের বিশ্বাসের চেয়ে টমাসের অবিশ্বাসই তো আমাদের পক্ষে উপকারী, কেননা সেই শিষ্য স্পর্শ করতে করতে বিশ্বাসের দিকে ফিরে আসাকালে আমাদের অন্তর যত সন্দেহ বাতিল করতে করতে বিশ্বাসে দৃঢ়তর হয়ে ওঠে। তাতে যিনি সন্দেহবশত স্পর্শ করলেন, সেই শিষ্য পুনরুত্থান রহস্যের সাক্ষী হয়ে উঠলেন।
বাস্তবিকই স্পর্শ করেই তিনি বললেন: প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার! যিশু তাঁকে বললেন, আমাকে দেখেছ বলেই তুমি বিশ্বাস করছ (যোহন ২০:২৮-২৯)। যেহেতু প্রেরিতদূত পল বলেন, বিশ্বাস হল প্রত্যাশিত বিষয়গুলো পাবার ভিত্তি, অদৃশ্য বিষয়গুলোর প্রমাণ‑প্রাপ্তি (হিব্রু ১১:১), সেজন্য স্পষ্ট হয়ে দাঁড়ায় যে, বিশ্বাস হল সেই বিষয়েরই প্রমাণ যা দৃশ্য হতে পারে না। দৃশ্য বিষয়ের বেলায় বিশ্বাস খাটে না, এক্ষেত্রে জানা-ই উপযুক্ত। তবে টমাস যখন দেখলেন ও স্পর্শ করলেন, তখন তাঁকে কেনই বা বলা হয়, আমাকে দেখেছ বলেই তুমি বিশ্বাস করেছ? আসলে তিনি একটা কিছু দেখলেন আর অন্য কিছু বিশ্বাস করলেন। বস্তুতপক্ষে মরণশীল মানুষের কাছে ঈশ্বরত্ব দৃশ্য হতে পারেনি। অতএব প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার বলে তিনি একটা মানুষকে দেখলেন, সেইসঙ্গে ঈশ্বরকেই স্বীকার করলেন। তাই তিনি দেখেই বিশ্বাস করলেন। প্রকৃত মানুষকে দেখে তিনি তাঁকে সেই ঈশ্বরই বলে ঘোষণা করলেন যাঁকে দেখতে পারতেন না।
পরবর্তী কথা কতই না আনন্দসঞ্চারী: না দেখেও বিশ্বাস করে যারা, তারাই সুখী (যোহন ২০:২৯)। এতে সন্দেহের লেশমাত্রও নেই যে, এ বাণী দ্বারা বিশেষ করে আমাদেরই কথা নির্দেশ করা হচ্ছে যারা তাঁকে ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে না দেখেও বিশ্বাস করেছি। আমাদেরই কথা নির্দেশ করা হয় বটে—অবশ্য, আমাদের বিশ্বাসের পরপর যদি কাজকর্মও দেখাতে পারি। যে ব্যক্তি নিজ বিশ্বাস কার্যকর করে, সে-ই প্রকৃতপক্ষে বিশ্বাস করে। কিন্তু যারা মুখেই শুধু বিশ্বাস করে, তাদের সম্বন্ধে পল বলেন, তারা স্পষ্ট ঘোষণা করে যে, ঈশ্বরকে জানে, কিন্তু কাজে তাঁকে অস্বীকার করে (তীত ১:১৬ দ্রঃ)। আর এবিষয়ে যাকোব বলেন, কর্মহীন বিশ্বাস মৃত (যাকোব ২:২৬)।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
তোমার হাত বাড়াও, পেরেকের দাগ স্পর্শ কর।
অবিশ্বাসী হয়ো না, বিশ্বাসীই হও।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, এই সাক্রামেন্তে আমরা তোমার একমাত্র পুত্রের দেহ
সত্যিকারে গ্রহণ করেছি। আশীর্বাদ কর:
প্রেরিতদূত টমাসের সঙ্গে আমরা বিশ্বাসে যাঁকে প্রভু ও ঈশ্বর বলে ঘোষণা করি,
জীবনাচরণেও যেন তাঁকে স্বীকার করতে পারি।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১১ জুলাই - সাধু বেনেডিক্ট, মঠাধ্যক্ষ
image শোন, সন্তান, গুরুর নির্দেশবাণী;
তোমার হৃদয় দিয়েই কান পেতে শোন।
কৃপাময় পিতার উপদেশ সাগ্রহে গ্রহণ করে
তা উদ্যমের সঙ্গে পূরণ কর
(সাধু বেনেডিক্টের নিয়ম, প্রস্তাবনা ১)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি মঠাধ্যক্ষ সাধু বেনেডিক্টকে
প্রভুসেবার শিক্ষালয়ে আদর্শ গুরু করেছ।
আশীর্বাদ কর: খ্রিষ্টপ্রেমের আগে কিছুই স্থান না দিয়ে
আমরা যেন সেই প্রেমের মাধুর্যে প্লাবিত অন্তরে
তোমার আজ্ঞাবলির পথে দৌড়িয়েই চলতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
প্রবচনমালা থেকে পাঠ (২:১-৯)

সন্তান আমার, যদি আমার কথাসকল গ্রহণ কর,
যদি আমার আজ্ঞাসকল নিজের অন্তরে গচ্ছিত রাখ,
যদি প্রজ্ঞার দিকে কান দাও,
যদি সুবুদ্ধির দিকে হৃদয় নত কর,
হ্যাঁ, যদি সদ্বিবেচনা লাভের জন্য যাচনা কর,
যদি সুবুদ্ধি লাভের জন্য চিৎকার কর,
যদি রুপোর মতই তার অন্বেষণ কর,
গুপ্ত ধনের মতই তার অনুসন্ধান কর,
তবে প্রভুভয় বুঝতে পারবে,
ঈশ্বরজ্ঞানের সন্ধান পাবে।
কেননা প্রভুই প্রজ্ঞা দান করেন,
তাঁরই মুখ থেকে সদ্‌জ্ঞান ও সুবুদ্ধি নিঃসৃত হয়।
তিনি ন্যায়বানদের জন্য তাঁর রক্ষা গচ্ছিত রাখেন,
যারা সততায় চলে, তিনি তাদের ঢাল।
কেননা যারা ন্যায়পথে চলে, তিনি তাদের রক্ষা করেন,
তাঁর ভক্তদের সমস্ত পথের উপর দৃষ্টি রাখেন।
তবে তুমি ধর্মময়তা ও ন্যায় উপলব্ধি করবে,
সততা ও সমস্ত মঙ্গলপথও উপলব্ধি করবে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩৪
ধুয়ো:
আস্বাদন কর,
দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

এসো, সন্তানেরা, আমাকে শোন;
তোমাদের শেখাব প্রভুভয়—
কে সেই মানুষ, জীবনই যার অভিলাষ?
মঙ্গল দেখতে চায় ব’লে দীর্ঘায়ু যার আকাঙ্ক্ষা?   [ধুয়ো]

কুকর্ম থেকে তোমার জিহ্বা মুক্ত রাখ,
ছলনার কথা থেকে তোমার ওষ্ঠ,
পাপ থেকে সরে গিয়ে সৎকর্ম কর,
শান্তির অন্বেষণ ক’রে কর অনুসরণ।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তোমাদের আমি বন্ধু বলছি,
—একথা বলছেন প্রভু—
কারণ আমার পিতার কাছ থেকে যা কিছু শুনেছি,
তা সমস্তই তোমাদের জানিয়েছি।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২২:২৪-২৭)

একদিন শিষ্যদের মধ্যে এই তর্কও উঠল যে, তাঁদের মধ্যে কে সবচেয়ে বড় বলে গণ্য হবার যোগ্য। কিন্তু যিশু তাঁদের বললেন, ‘জাতিগুলোর রাজারাই তাদের উপরে প্রভুত্ব করে, এবং তাদের শাসকেরাই “উপকর্তা” বলে নিজেদের অভিহিত করায়। কিন্তু তোমরা সেরকম হয়ো না; বরং তোমাদের মধ্যে যে জ্যেষ্ঠ, সে কনিষ্ঠেরই মত হোক; এবং যে প্রধান, সে এমন একজনেরই মত হোক যে সেবাই করে।
কারণ, কে বড়? যে ভোজে বসে, না যে সেবা করে? যে ভোজে বসে, সে-ই কি নয়? অথচ আমি তোমাদের মধ্যে এমন একজনেরই মত উপস্থিত, যে সেবাই করে।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
বিশপ সাধু পিতর দামিয়ানের উপদেশ

দেখুন, আমরা সবকিছুই ত্যাগ করে আপনার অনুসরণ করেছি (মার্ক ১০:২৮)। এ অধিক গাম্ভীর্যপূর্ণ বাণী! সবকিছুই ত্যাগ করে খ্রিষ্টের অনুসরণ করা বিরাট ব্যাপার, পুণ্য কর্ম, এমন কর্ম যা সমস্ত আশীর্বাদের যোগ্য। এ বাণীই নর-নারী নির্বিশেষে স্বেচ্ছাকৃত দরিদ্রতায় আকর্ষণ করেছে; এ বাণীই অসংখ্য মঠের উৎপত্তির কারণ; এ বাণীই মঠের বেষ্টনী সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনীতে ও বন বিজনাশ্রমীতে পরিপূর্ণ করেছে। মণ্ডলী যখন গান করে, তোমার বাণীর জন্যই আমি কঠিন পথ অনুসরণ করেছি, তখন এ বাণীকেই লক্ষ করে।
হ্যাঁ, সবকিছুই ত্যাগ করা সত্যিই মহাকাজ, কিন্তু খ্রিষ্টের অনুসরণ করা আরও মহত্তরই কাজ। আমরা তো অনেকেরই কথা পড়ে থাকি যারা সবকিছু ত্যাগ করেছে কিন্তু খ্রিষ্টের অনুসরণ করেনি। এই তো আমাদের কাজ, এই তো আমাদের পরিশ্রম; এতেই আমাদের পরিত্রাণের পূর্ণতা নিহিত; তাছাড়া খ্রিষ্টের অনুসরণ পর্যন্তও করতে পারি না যদি না সবকিছু ছেড়ে দিই, কেননা তিনি বীরের মতই মেতে ওঠেন পথে দৌড়াবার জন্য (সাম ১৯:৬), আর এমন কেউই নেই যে ভারাক্রান্ত হয়ে তাঁর অনুসরণ করতে পারে।
পিতর বলেন, দেখুন, আমরা সবকিছুই ত্যাগ করেছি। সবকিছু বলতে কেবল পার্থিব সম্পদ নয়, আমাদের হৃদয়ের সমস্ত অভিলাষও বোঝায়। কেউ যদি কেবল নিজেকেও কাছে রাখে, সে সবকিছু ছাড়েনি; বাস্তবিকই নিজেকে না ছেড়ে অন্য সবকিছু ছেড়ে দেওয়া বৃথা, কারণ আমাদের ‘আমিই’ তো সবচেয়ে ভারী বোঝা। একজনের স্ব-ইচ্ছার চেয়ে আর কোন্‌ অধিক হিংস্র স্বৈরশাসক বা অত্যাচারী রাজা থাকতে পারে? তবে নিজস্ব সম্পদ ও স্ব-ইচ্ছা দু’টোকেই ত্যাগ করা দরকার, যদি তাঁর অনুসরণ করতে চাই যাঁর মাথা গোঁজবার স্থানটুকুও ছিল না ও যিনি নিজের ইচ্ছা নয় কিন্তু তাঁরই ইচ্ছা পূর্ণ করতে এসেছিলেন যিনি তাঁকে প্রেরণ করেছিলেন।
সুতরাং এসো, কেবল খ্রিষ্টেরই অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে সবকিছুই ত্যাগ করি; কেবল তাঁকেই প্রীত করতে প্রবৃত্ত থাকি; সজাগ মনোযোগের সঙ্গে তাঁর ইচ্ছা ও তাঁর পছন্দ আঁকড়িয়ে থাকি; তবে স্বয়ং সত্য যা তাদের দেবেন বলে প্রতিশ্রুত হয়েছিলেন যারা সবকিছুই ত্যাগ করে তাঁর অনুসরণ করে, আমরা নিশ্চয়ই তা অনুভব করব; তাঁর প্রতিশ্রুতি এ: তারা ইহলোকে তার একশ’ গুণ পাবে ও পরলোকে অনন্ত জীবন পাবে (মথি ১০:৩০ দ্রঃ)। বর্তমান যাত্রায় সান্ত্বনাস্বরূপে সেই একশ’ গুণ দেওয়া হয়; অনন্ত জীবন হবে মাতৃভূমিতেই আমাদের চিরন্তন সুখ।
কিন্তু সেই ‘একশ গুণ’ কী? তা কি পবিত্র আত্মার সেই সান্ত্বনা, অন্তরে তাঁর সেই আগমন, তাঁর সেই প্রথমফল নয়, যা মধুর চেয়েও সুমধুর? তা কি আমাদের বিবেকের সেই সাক্ষ্য, ন্যায়নিষ্ঠের সেই আনন্দপূর্ণ প্রত্যাশা নয়? তা কি ঈশ্বরের সেই উপচে পড়া কৃপা ও তাঁর সেই বিচিত্র আনন্দের স্মৃতি নয়? যারা তার অভিজ্ঞতা করেছে, তাদের কাছে তেমন বর্ণনা দেওয়া প্রয়োজন নেই, আবার, যারা সেই অভিজ্ঞতা করেনি, তাদের কাছে তেমন বর্ণনা দেওয়া বৃথা কাজ।
সুতরাং, সুসমাচারের এ বাণী আমাদের পিতা ও গুরু সাধু বেনেডিক্টের চেয়ে আর কার্‌ বেলায় অধিক প্রযোজ্য বাণী? যুবক হয়ে তিনি সংসার ও তার সমস্ত আকর্ষণ ত্যাগ করলেন ও দ্রুতপদে খ্রিষ্টের পিছনে দৌড় দিলেন, আর কখনও থামেননি যতক্ষণ না তাঁর কাছে এসে পৌঁছলেন। অতএব সাধু বেনেডিক্টের প্রার্থনার পুণ্যফলে আমরা যেন সান্ত্বনা ও চিরকালীন উত্তরাধিকার তাঁরই অনুগ্রহ দ্বারা পেতে পারি যিনি এলেন আমরা যেন জীবন পাই, এমনকি প্রচুর পরিমাণেই পাই—আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্ট যিনি যুগে যুগে ধন্য। আমেন।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ১৩৩
ধুয়ো:
ঈশ্বর নিজেই
তাঁর মাথার উপরে অধিষ্ঠিত করলেন সকল মানুষের আশীর্বাদ,
অধিষ্ঠিত করলেন মানবজাতির সঙ্গে তাঁর সেই আপন সন্ধি।
তাঁর কাছে আপন যত আশীর্বাদের কথাও বহাল রাখলেন।

দেখ, ভাইদের একত্রে বাস করা
কতই না ভাল, কতই না সুন্দর!
যেমন মাথায় সেই উৎকৃষ্ট তেল যা দাড়ি বেয়ে, আরোনের দাড়ি বেয়ে ঝরে পড়ে,
ঝরে পড়ে তাঁর পোশাকের গলবন্ধনীর উপর,

তেমনি সেই হার্মোনের শিশির,
যা ঝরে পড়ে সিয়োনের চূড়ায় চূড়ায়।
সেইখানে তো প্রভু জারি করেছেন আশীর্বাদ,
চিরকালীন জীবনদান।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এই সাক্রামেন্ত গ্রহণে আমরা অনন্ত জীবনের অগ্রিমদান পেলাম।
অনুনয় করি: সাধু বেনেডিক্টের শিক্ষা অনুধাবন ক’রে
আমরা যেন তোমার উপাসনা-কর্মে ভক্তিভরে নিবিষ্ট থাকি,
ও উজ্জ্বল ভালবাসায় আমাদের ভাইবোনদের ভালবাসি।
আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২২ জুলাই - সাধ্বী মারীয়া মাগদালেনা
image যিশু তাঁকে বললেন, ‘মারীয়া!
ফিরে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁকে
হিব্রু ভাষায় বললেন, ‘রাব্বুনি’,
যার অর্থ ‘গুরু’ (যোহন ২০:১৬)।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তোমার একমাত্র পুত্র সকলের আগে মারীয়া মাগদালেনাকেই
পাস্কার মঙ্গলবার্তা জানাবার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
আশীর্বাদ কর: সাধ্বীর প্রার্থনা ও আদর্শের উপর নির্ভর ক’রে
আমরা যেন খ্রিষ্টকে জীবন্তই বলে প্রচার করতে পারি
এবং তোমার গৌরবধামে তাঁকে রাজাসনে আসীন দেখতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
পরম গীত থেকে পাঠ (৩:১-৪ক)

কনে একথা বলছে:
রাত্রিকালে আমি আমার শয্যায়,
আমার প্রাণ যাঁকে ভালবাসে, তাঁর অন্বেষণ করলাম;
অন্বেষণ করলাম, কিন্তু তাঁকে পেলাম না।
এবার উঠে আমি নগরীর চারদিকে ঘুরব,
গলিতে গলিতে, চত্বরে চত্বরে ঘুরব,
আমার প্রাণ যাঁকে ভালবাসে, তাঁর অন্বেষণ করব;
অন্বেষণ করলাম, কিন্তু তাঁকে পেলাম না।
প্রহরীরা নগরীতে ঘুরতে ঘুরতে আমাকে দেখতে পেল;
‘আমার প্রাণ যাঁকে ভালবাসে, তোমরা কি দেখেছ তাঁকে?’
আমি তাদের পেরিয়ে যাচ্ছি,
এমন সময় তাঁকেই পেলাম, আমার প্রাণ যাঁকে ভালবাসে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৬৩
ধুয়ো:
ওগো আমার ঈশ্বর
তোমারই জন্য আমার প্রাণ তৃষাতুর।

ওগো পরমেশ্বর, ওগো আমার ঈশ্বর, ভোর হতে তোমারই অন্বেষণ করি,
তোমারই জন্য আমার প্রাণ তৃষাতুর,
তোমারই জন্য আমার দেহ ব্যাকুল,
যেন শুষ্ক, শীর্ণ, জলহীন ভূমি।   [ধুয়ো]

তাই পবিত্রধামে তোমার দিকেই দৃষ্টি রাখি
তোমার শক্তি ও গৌরব দেখবার জন্য।
তোমার কৃপা জীবনের চেয়ে শ্রেয়,
তাই আমার ওষ্ঠ তোমার মহিমাকীর্তন করবে।   [ধুয়ো]

তাই যতদিন বাঁচব আমি তোমাকে বলব ধন্য,
তোমার নামে দু’হাত তুলব।
সুস্বাদু ভোজেই যেন তৃপ্ত হবে আমার প্রাণ,
আনন্দপ্লুত ওষ্ঠে আমার মুখ করবে তোমার প্রশংসাবাদ।   [ধুয়ো]

তুমি আমার সহায় হলে,
তাই তোমার পক্ষ-ছায়ায় আমি করি আনন্দগান।
তোমাকে আঁকড়ে থাকে আমার প্রাণ,
আমাকে ধরে রাখে তোমার ডান হাত।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
বল, মারীয়া, কী দেখলে পথে?
‘জীবন্ত খ্রিষ্টের সেই কবর,
পুনরুত্থিতজন যিনি,
তাঁর অমর গৌরব।’
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২০:১-২,১১-১৮)

সপ্তাহের প্রথম দিন সকালের দিকে, অন্ধকার থাকতেই মাগদালার মারীয়া যিশুর সমাধিগুহায় এলেন। তিনি দেখতে পেলেন, সমাধিগুহা থেকে পাথরখানা সরানো হয়েছে। তাই তিনি দৌড়ে গেলেন সিমোন পিতর আর সেই অন্য শিষ্যের কাছে যাঁকে যিশু ভালবাসতেন। তাঁদের তিনি বললেন, ‘তারা প্রভুকে কবর থেকে নিয়ে গেছে, আর আমরা জানি না, তাঁকে কোথায় রেখেছে।’
মারীয়া সমাধিগুহার কাছে বাইরে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি নিচু হয়ে সমাধিগুহার ভিতরে তাকিয়ে দেখলেন; দেখতে পেলেন, যিশুর দেহ যেখানে শুইয়ে রাখা ছিল, সেখানে সাদা পোশাক-পরা দু’জন স্বর্গদূত বসে আছেন, একজন মাথার দিকে, আর একজন পায়ের দিকে।
তাঁরা তাঁকে বললেন, ‘নারী, কেন কাঁদছ?’ তিনি তাঁদের বললেন, ‘কারণ ওরা আমার প্রভুকে তুলে নিয়ে গেছে, আর তাঁকে কোথায় রেখেছে জানি না।’ একথা বলতে বলতে তিনি পিছনের দিকে ফিরলেন, আর দেখতে পেলেন, যিশু দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু মারীয়া জানতেন না যে, উনিই যিশু। যিশু তাঁকে বললেন, ‘নারী, কেন কাঁদছ? কাকে খুঁজছ?’
তাঁকে বাগানের মালী মনে করে মারীয়া বললেন, ‘মহাশয়, আপনি যদি তাঁকে অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে থাকেন, তবে আমাকে বলুন তাঁকে কোথায় রেখেছেন, আর আমি তাঁকে নিয়ে যাব।’ যিশু তাঁকে বললেন, ‘মারীয়া!’ ফিরে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁকে হিব্রু ভাষায় বললেন, ‘রাব্বুনি’, যার অর্থ ‘গুরু’।
যিশু তাঁকে বললেন, ‘আমাকে আঁকড়ে ধরো না, কেননা আমি পিতার কাছে এখনও আরোহণ করিনি, বরং আমার ভাইদের গিয়ে বল, আমি তাঁর কাছে আরোহণ করছি যিনি আমার পিতা ও তোমাদের পিতা, আমার ঈশ্বর ও তোমাদের ঈশ্বর।’
মাগদালার মারীয়া শিষ্যদের কাছে গিয়ে সংবাদ দিলেন: ‘আমি প্রভুকে দেখেছি!’ এবং তাঁদের বললেন যে, তিনি তাঁকে এই সমস্ত কথা বলেছিলেন।
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
দ্বাদশ শতাব্দীর অজানা লেখক-লিখিত ‘প্রভুর যন্ত্রণাভোগ ও পুনরুত্থান’

তিনি দেখলেন, সাদা পোশাক পরা দু’জন স্বর্গদূত যিশুর দেহ যেখানে রাখা হয়েছিল, একজন তার মাথায়, অন্যজন পায়ের দিকে বসে আছেন। তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, নারী, কাঁদছ কেন? কাকে খুঁজছ? (যোহন ২০:১২-১৩)। হে পুণ্য স্বর্গদূত, তোমরা তো জানতে তিনি কেন কাঁদছিলেন ও কাকে খুঁজছিলেন; একথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তোমরা কেন তাঁকে আবার কাঁদিয়েছ? তবু অপ্রত্যাশিত সান্ত্বনার আনন্দ এগিয়ে আসছে বিধায় কান্না ও দুঃখ অঝোরে গড়িয়ে পড়ুক।
তিনি পিছন ফিরে দেখলেন, সেখানে যিশু নিজেই দাঁড়িয়ে আছেন; তিনি কিন্তু জানতেন না যে, তিনি যিশু (যোহন ২০:১৪)। আহা, ভালবাসার মনোরম ও সান্ত্বনাদায়ী দৃশ্য! তিনিই তো নিত্য অনুসন্ধান ও আকাঙ্ক্ষার বস্তু, তিনিই তো নিজেকে লুকিয়ে রাখেন, আবার আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি নিজেকে লুকিয়ে রাখেন মানুষ যেন অধিক ব্যগ্রতার সঙ্গে তাঁর অনুসন্ধান করে, আনন্দের সঙ্গে তাঁকে খুঁজে পেয়ে সে যেন তৎপরতার সঙ্গে তাঁকে আঁকড়ে ধরে, তাঁকে কখনও না ছাড়ে—যতক্ষণ না তিনি তাঁর প্রেমিকের কক্ষে অনুপ্রবিষ্ট হয়ে সেখানে আপন আবাস প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে ঐশপ্রজ্ঞা পৃথিবীতে লীলা করে ও মানবসন্তানদের মধ্যে থাকে পুলকিত প্রাণে (প্রবচন ৮:৩১)।
নারী, কাঁদছ কেন? কাকে খুঁজছ? (যোহন ২০:১৫)। যাঁকে খুঁজছ, তুমি তাঁকে পেয়েই গেছ, অথচ তুমি কি তা জান না? সত্যকার ও সনাতন আনন্দ পেয়েই গেছ, অথচ কাঁদছ? যাঁকে বাইরে খুঁজছ, তুমি তাঁকে তোমার অভ্যন্তরেই পেয়েই গেছ। সত্যি তুমি সমাধির কাছে বাইরেই কাঁদছ; তোমার হৃদয়ই আমার সমাধি; এখানেই আমি মৃত নয়, চিরকালের মত জীবন্ত হয়ে বিশ্রাম করি।
তোমার হৃদয় আমার বাগান। ঠিকই ধরেছ, আমি বাগানের মালী। আমি, যিনি দ্বিতীয় আদম, সেই আমি আমার এদেন যত্ন ও রক্ষা করি: তোমার কান্না, তোমার ভক্তি, তোমার আকাঙ্ক্ষা, এসব আমারই কাজ। তুমি তোমার অন্তরে আমাকে পেয়েই গেছ, অথচ তা জান না; এজন্যই আমাকে বাইরে খুঁজে বেড়াচ্ছ।
দেখ, এবার আমি বাইরে তোমাকে দেখা দিচ্ছি যাতে তোমাকে আবার তোমার অভ্যন্তরেই নিয়ে যেতে পারি, তবেই তুমি যাঁকে বাইরে খোঁজ কর, তাঁকে তোমার অভ্যন্তরেই খুঁজে পেতে পারবে।
মারীয়া (যোহন ২০:১৬), তোমার নামসূত্রে আমি তোমাকে জেনেছি; তুমি বিশ্বাসসূত্রে আমাকে জানতে শেখ: রাব্বুনি! অর্থাৎ গুরু (যোহন ২০:১৬)। মারীয়া যেন যিশুকে বলেন, তোমাকে খোঁজ করতে আমাকে শেখাও, তোমাকে স্পর্শ করতে ও তোমার দেহ তৈললেপন করতে আমাকে শেখাও।
আমাকে মানুষ হিসাবে স্পর্শ করো না (যোহন ২০:১৭); আগে যখন মরণশীল ছিলাম যেইভাবে আমাকে স্পর্শ করেছিলে ও তৈললেপন করেছিলে, সেভাবেও নয়। আমি এখনও আমার পিতার কাছে আরোহণ করিনি (যোহন ২০:১৭): তুমি এখনও সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করনি যে, আমি পিতার সমতুল্য, তাঁর সঙ্গে সনাতন ও তাঁর একই স্বরূপের অধিকারী। একথা বিশ্বাস কর, তবেই আমাকে স্পর্শ করবে। একটি মানুষকে দেখছ বিধায়ই তুমি বিশ্বাস করো না: যা দৃষ্টিগোচর, তা বিশ্বাসের বস্তু নয়। তুমি কিন্তু ঈশ্বরকে দেখতে পাও না; বিশ্বাস কর, তবেই তাঁকে দেখতে পাবে। বিশ্বাস করেই আমাকে স্পর্শ কর, যেইভাবে সেই নারী আমার পোশাকের প্রান্তদেশ স্পর্শ করেই সুস্থ হয়ে উঠেছিল।
কেন? কারণ সে বিশ্বাস নিয়েই আমাকে স্পর্শ করেছিল। তেমন হাত দিয়ে আমাকে স্পর্শ কর, তেমন চোখ দিয়ে আমাকে খোঁজ কর, তেমন পা দিয়ে আমার কাছে তৎপর হয়ে এসো, কেননা আমি তোমা থেকে তত দূরে নই।
কেননা আমি এমন ঈশ্বর যিনি কাছেই আসেন, আমি সেই বাণী যে বাণী তোমার তোমার নিকটবর্তী, যে বাণী রয়েছে তোমার মুখে ও তোমার হৃদয়ে। হৃদয় ছাড়া মানুষের কাছাকাছি কী আছে? যে কেউ আমাকে খোঁজ করে, সে সেইখানে, তার নিজের হৃদয়েতেই আমাকে খুঁজে পাবে। কেননা বাহ্যিক জিনিস কেবল আপাত দৃষ্টিতেই বাস্তব: সেগুলোও আমার হাতের কাজ বটে, তবু নশ্বর ও ক্ষণস্থায়ী। আমি কিন্তু, যিনি সেগুলোর নির্মাতা, আমি নির্মল হৃদয়ের অন্তঃস্থলেই বাস করি।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
খ্রিষ্টের ভালবাসা আমাদের চাপ দিচ্ছে,
যারা জীবিত, তারা যেন আর নিজেদের জন্য নয়,
বরং তাঁরই জন্য জীবন যাপন করে,
যিনি তাদের জন্য মৃত্যু বরণ করেছেন ও পুনরুত্থিত হয়েছেন।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার পবিত্র রহস্যময় অন্ন গ্রহণের ফলে
আমাদের অন্তর যেন সেই নিষ্ঠাবান ভালবাসায় পরিপূর্ণ হয়,
যে ভালবাসার গুণে সাধ্বী মারীয়া মাগদালেনা
আপন গুরুদেব খ্রিষ্টের সঙ্গে চির-বন্ধনে আবদ্ধ থাকলেন।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]