সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
পর্ব ও মহাপর্ব
জানুয়ারীফোব্রুয়ারীমার্চএপ্রিলমেজুন
২৫ - সাধু পলের বিশ্বাস জাগরণ
  
  
  ২ - প্রভুকে উপস্থাপন
২২ - সাধু পিতরের ধর্মাসন
  
১৯ - সাধু যোসেফ
২৫ - প্রভুর আগমন সংবাদ
  
২৫ - সাধু মার্ক
  
  
  ৩ - সাধু ফিলিপ ও যাকোব
১৪ - সাধু মাথিয়াস
৩১ - শুভসাক্ষাৎ
২৪ - বাপ্তিস্মদাতার জন্মতিথি
২৯ - সাধু পিতর ও পল
  
জুলাইআগষ্টসেপ্টেম্বরঅক্টোবরসভেম্বরডিসেম্বর
  ৩ - সাধু টমাস
১১ - সাধু বেনেডিক্ট
২২ - সাধী মারীয় মাগদালেনা
২৫ - সাধু যাকোব
  ৬ - প্রভুর রূপান্তর
১০ - সাধু লরেন্স
১৫ - মারীয়ার স্বর্গোন্নয়ন
২৪ - সাধু বার্থলমেয়
  ৮ - মারীয়ার জন্মতিথি
১৪ - ক্রুশের বিজয়োৎসব
২১ - সাধু মথি
২৯ - মহাদূত মিখায়েল
১৮ - সাধু লুক
২৮ - সাধু সিমোন ও যুদা
  
  
  ১ - নিখিল সাধুসাধ্বী
  ২ - পরলোকগত ভক্তবৃন্দ
  ৯ - লাতেরান মহাগির্জা
৩০ - সাধু আন্দ্রীয়
  ৮ - অমলোদ্ভবা মারীয়া
২৬ - সাধু স্তেফান
২৭ - সাধু যোহন
২৮ - নিরপরাধী শিশুগণ
সাধু বেনেডিক্ট বাদে উপরোল্লিখিত অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি রোমীয় সাধারণ পঞ্জিকায় পর্ব ও মহাপর্ব বলে চিহ্নিত।    


২৫ জুলাই - সাধু যাকোব, প্রেরিতদূত
image আমি যে পাত্রে পান করতে যাচ্ছি,
সেই পাত্রে তোমরা কি পান করতে পার?
তাঁরা বললেন, পারি (মথি ২০:২২)।
আর আসলে কয়েক বছর পর
হেরোদ রাজা যাকোবকে
খড়্গের আঘাতে হত্যা করালেন (প্রেরিত ১২:২)
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, তুমি প্রেরিতদূতদের প্রথমফসল
সাধু যাকোবেরই রক্তে প্রতিষ্ঠা করেছিলে।
আশীর্বাদ কর: তোমার মণ্ডলী যেন তাঁর সাক্ষ্যদানের ফলে
বিশ্বাসে সুস্থির হয়ে ওঠে, ও তাঁর নিত্য সহায়তায় সৎসাহস লাভ করে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৪:৭-১৫)

প্রিয়জনেরা, এই ধন আমরা মাটির পাত্রেই যেন বহন করছি; ফলে এই অসাধারণ পরাক্রম আমাদের নয়, ঈশ্বরেরই পরাক্রম। পদে পদে আমাদের ক্লেশ ভোগ করতে হচ্ছে, কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন হই না; আমরা দিশেহারা বোধ করছি, কিন্তু নিরাশ হই না; নির্যাতিত হচ্ছি, কিন্তু পরিত্যক্ত হই না; আমাদের আঘাত করা হচ্ছে, কিন্তু আমরা বিনষ্ট হই না। আমরা সর্বদা সর্বস্থানে নিজেদের দেহে যিশুর মৃত্যু বহন করে চলি, যেন যিশুর জীবনও আমাদের এই দেহে প্রকাশিত হয়। কেননা আমরা জীবিত হয়েও যিশুর খাতিরে সর্বদাই মৃত্যুর হাতে সমর্পিত হয়ে চলেছি, যেন যিশুর জীবনও আমাদের এই মরদেহে প্রকাশিত হয়। ফলে আমাদের মধ্যে মৃত্যুই সক্রিয়, কিন্তু তোমাদের মধ্যে জীবন।
তথাপি আমরা সেই একই বিশ্বাসের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে, যে বিশ্বাসের বিষয়ে লেখা আছে: আমি বিশ্বাস করেছি, তাই কথা বলেছি, আমরাও বিশ্বাস করি আর তাই কথা বলি, সচেতন হয়ে যে, প্রভু যিশুকে যিনি পুনরুত্থিত করেছেন, তিনি যিশুর সঙ্গে আমাদেরও পুনরুত্থিত করবেন ও তোমাদের সঙ্গে নিজের কাছে স্থান দেবেন।
হ্যাঁ, সবই তোমাদের জন্য, যেন ঈশ্বরের অনুগ্রহ আরও অপর্যাপ্ত হয়ে উঠে বেশি বেশি মানুষের মুখে আরও বেশি ধন্যবাদ-স্তুতির কারণ হয়ে ওঠে—ঈশ্বরের গৌরবার্থে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১২৬
ধুয়ো:
যে অশ্রুর মধ্যে বীজ বোনে,
সে সানন্দে ফসল সংগ্রহ করবে।

প্রভু যখন সিয়োনের বন্দিদের ফিরিয়ে আনলেন,
আমরা তখন যেন স্বপ্নই দেখি!
তখন আমাদের মুখ হাসিতে মুখর,
আমাদের জিহ্বা আনন্দচিৎকারে পূর্ণ।   [ধুয়ো]

তখন বিজাতিদের মধ্যে একথা চলত,
‘তাদের জন্য কী মহা মহা কাজ না করেছেন প্রভু!’
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু,
আমরা আনন্দিত।   [ধুয়ো]

আমাদের বন্দিদের ফিরিয়ে আন, প্রভু,
তাদের ফিরিয়ে আন নেগেব প্রান্তরে খরস্রোতের মত।
যে অশ্রুর মধ্যে বীজ বোনে,
সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফসল সংগ্রহ করবে।   [ধুয়ো]

সে যায়, কাঁদতে কাঁদতে সে চলে যায়,
সঙ্গে নিয়ে যায় বপনের বীজ;
সে আসে, সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফিরে আসে,
সঙ্গে নিয়ে আসে ফসলের আঁটি।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমিই তোমাদের বেছে নিয়েছি—একথা বলছেন প্রভু—
যেন তোমরা গিয়ে ফলশালী হও, তোমাদের ফলও যেন স্থায়ী হয়।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (২০:২০-২৮)

সেসময়ে জেবেদের ছেলেদের মা নিজের ছেলে দু’টোকে সঙ্গে নিয়ে যিশুর কাছে এগিয়ে এলেন ও কিছু যাচনা করার জন্য তাঁর সামনে প্রণিপাত করলেন। তিনি তাঁকে বললেন, ‘আপনি কি চান?’ তিনি বললেন, ‘আদেশ করুন, যেন আপনার রাজ্যে আমার এই দুই ছেলের একজন আপনার ডান পাশে, আর একজন বাঁ পাশে আসন পেতে পারে।’ যিশু উত্তরে বললেন, ‘তোমরা কি যাচনা করছ, তা বোঝ না; আমি যে পাত্রে পান করতে যাচ্ছি, সেই পাত্রে তোমরা কি পান করতে পার?’ তাঁরা বললেন, ‘পারি।’ তিনি তাঁদের বললেন, ‘তোমরা সত্যিই আমার পাত্রে পান করবে, কিন্তু কাউকে আমার ডান পাশে ও বাঁ পাশে আসন মঞ্জুর করার অধিকার আমার নেই; তেমন আসন বরং তাদেরই হবে, আমার পিতা যাদের জন্য তা প্রস্তুত করেছেন।’
একথা শুনে অন্য দশজন ওই দুই ভাইয়ের উপর ক্ষুব্ধ হলেন। কিন্তু যিশু তাঁদের কাছে ডেকে বললেন, ‘তোমরা তো জান, বিজাতীয়দের শাসকেরা তাদের উপর প্রভুত্ব করে, এবং যারা বড়, তারাও তাদের উপর কর্তৃত্ব চালায়। তোমাদের মধ্যে তেমনটি হবে না; কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে কেউ বড় হতে চায়, তাকে তোমাদের সেবক হতে হবে, আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ প্রধান হতে চায়, তাকে হতে হবে তোমাদের দাস, ঠিক যেমনটি মানবপুত্র সেবা পেতে আসেননি, কিন্তু এসেছেন সেবা করতে, ও অনেকের মুক্তিমূল্য রূপে নিজের প্রাণ দিতে।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
পুরোহিত মাননীয় সাধু বীডের উপদেশ

জেবেদের সেই দুই ছেলে যাকোব ও যোহন যিশুর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন: প্রভু, এমনটি করুন, যেন আপনার গৌরবে আমরা একজন আপনার ডান পাশে, আর একজন বাঁ পাশে আসন পেতে পারি; যিশু তাঁদের বললেন, তোমরা কি যাচনা করছ, তা বোঝ না (মার্ক ১০:৩৫, ৩৭, ৩৮)।
তাঁরা যে কী জিজ্ঞাসা করছিলেন, তা জানতেন না, কেননা মনে করছিলেন, তাঁদের ভাবী পুরস্কার হিসাবে তাঁরা সহজেই এ আসন বা সেই আসন বেছে নিতে পারবেন। তাঁদের বরং প্রভুর কাছে এ অনুগ্রহ ভিক্ষা করা উচিত ছিল, তথা তাঁরা যেন দৃঢ়তার সঙ্গে তাঁদের প্রত্যাশার প্রত্যয়ে ও গৌরবে শেষ পর্যন্তই নিষ্ঠাবান থাকতে পারেন। তবেই তিনি নিজে তাঁদের সমস্ত শুভকর্মের প্রতিদানে এমন পুরস্কার দিতেন যা তাঁদের অচিন্তনীয় কল্পনার অতীত—এবিষয়েই তাঁদের নিশ্চিত জানা থাকা উচিত ছিল! যাঁরা ভক্তিপূর্ণ অন্তরে স্বর্গরাজ্যে প্রভুর পাশাপাশি আসন পাবার জন্য অনুরোধ করেছেন, তাঁদের এ সরল ভক্তি প্রশংসনীয় বটে, কিন্তু এর চেয়ে তাঁরই সদ্বিবেচনাপূর্ণ বিনম্রতা অধিক প্রশংসনীয়, যিনি নিজ দুর্বলতা বিষয়ে সচেতন হয়ে বলেছিলেন: দুর্জনদের তাঁবুতে বাস করার চেয়ে আমি বরং দাঁড়াব পরমেশ্বরের দুয়ারপ্রান্তে (সাম ৮৪:১১)।
তাঁরা যে কী চাচ্ছিলেন, নিজেরা তা জানতেন না, কেননা শুভকর্ম সাধন করার জন্য শক্তির চেয়ে তাঁরা প্রভুর কাছে উৎকৃষ্ট পুরস্কারের অন্বেষণ করছিলেন। কিন্তু তাঁদের স্বর্গীয় প্রভু তাঁদের কাছে স্পষ্টই দেখালেন, কী প্রথম চাওয়া উচিত, এবং এ প্রেক্ষিতে তিনি সেই পরিশ্রমের পথ তাঁদের স্মরণ করিয়ে দিলেন যে পথ বেয়ে তাঁরা পুরস্কার পেতে পারবেন। তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আমি যে পাত্রে পান করি, সেই পাত্রে তোমরা কি পান করতে পার? (মার্ক ১০:৩৮)। নিজ পাত্র বলতে তিনি সেই তিক্ত যন্ত্রণা বোঝাচ্ছিলেন যা অবিশ্বাসীদের ক্রোধ প্রায়ই ধার্মিকদের মাথায় চাপিয়ে দেয়। যারা খ্রিষ্টের খাতিরে তা বিনম্রতা, ধৈর্য ও আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করে, তারা সকলেই স্বর্গে রাজত্ব করতে যোগ্য। সুতরাং, যেহেতু জেবেদের ছেলেরা তাঁর পাশে আসন নিতে ইচ্ছুক ছিলেন, সেজন্য তিনি তাঁদের আহ্বান করলেন তাঁরা যেন প্রথমে তাঁর যন্ত্রণাভোগের আদর্শ পালন করেন, এর পরেই, পরিশেষেই, তাঁরা আকাঙ্ক্ষিত সর্বোচ্চ আসন পেতে পারবেন। এ হল সেই জীবনের নিয়ম যা প্রেরিতদূত সকল বিশ্বাসীর জন্যই শেখান যখন বলেন: আমাদের যখন তাঁর মৃত্যুর সাদৃশ্যে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে, তখন একথা নিশ্চিত যে, তাঁর পুনরুত্থানের সাদৃশ্যেও আমাদের তেমনি হবে (রো ৬:৫)।
তাঁরা তাঁকে উত্তর দিলেন: হ্যাঁ, পারি (মার্ক ১০:৩৯)। তাঁর পাত্র থেকে পান করার সাধ্য ঘোষণা করে তাঁরা সরলতার সঙ্গে প্রভুর প্রতি তাঁদের বর্তমান ভাব ও ভক্তি প্রকাশ করলেন বটে, তবু অল্প দিনের মধ্যেই তাঁরা স্পষ্টই দেখাবেন তাঁরা তখনও কতই না দুর্বল ছিলেন; কেননা যখন সেই সময় এসে উপস্থিত হল যে সময়ে প্রভুকে সেই পাত্র থেকে পান করতে হবে, তখন অন্য সকল শিষ্যের সঙ্গে তাঁরাও তাঁকে ত্যাগ করে পালিয়ে গেলেন (মার্ক ১৪:৫০)। কিন্তু তবু প্রভুর পাত্র থেকে পান করতে যে ভয়ে তাঁরা আক্রান্ত হয়েছিলেন, তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল না; বাস্তবিকই যাঁরা প্রভুর যন্ত্রণাভোগের আগে পালিয়েছিলেন, তাঁরা তাঁর পুনরুত্থানের পরে ফিরে আসতে আরও দ্রুতগামী হলেন। তাঁর যন্ত্রণাভোগের ভয়ানক তীব্রতার সামনে তাঁরা বিচলিত হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর পুনরুত্থানের উজ্জ্বল গৌরব তাঁদের সুস্থির করে তুলল; আর পবিত্র আত্মার অনুগ্রহ লাভ করার পর তাঁরা প্রভুর পাত্র থেকে পান করার সেই সঙ্কল্প দৃঢ়তার সঙ্গে রক্ষা করলেন। তাঁরা নিশ্চয়ই তাঁর পাত্র থেকে পান করবেন বলে প্রভু যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তিনি পূরণ করলেন, ও তাঁর খাতিরে যন্ত্রণা ভোগ করায় ও মৃত্যুবরণ করায় তাঁদের অপরাজেয় করলেন।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ১১৬
ধুয়ো:
প্রভুর পাত্রে পান করায়
তাঁরা ঈশ্বরের বন্ধু হয়ে উঠলেন।

আমার প্রতি প্রভুর সমস্ত উপকারের জন্য
প্রতিদানে আমি তাঁকে কী দিতে পারব?
পরিত্রাণের পানপাত্র তুলে ধরে
আমি করব প্রভুর নাম।   [ধুয়ো]

প্রভুর উদ্দেশে আমার ব্রতসকল উদ্‌যাপন করব
তাঁর সমস্ত জনগণের সামনে।
প্রভুর দৃষ্টিতে মূল্যবান
তাঁর ভক্তদের মৃত্যু।   [ধুয়ো]

দোহাই প্রভু! আমি তো তোমার দাস, আমি তোমারই দাস, তোমার দাসীর পুত্র,
তুমি খুলে দিয়েছ আমার শৃঙ্খল।
তোমার উদ্দেশে ধন্যবাদ-বলি উৎসর্গ ক’রে
আমি করব প্রভুর নাম।   [ধুয়ো]

প্রভুর উদ্দেশে আমার ব্রতসকল উদ্‌যাপন করব
তাঁর সমস্ত জনগণের সামনে,
প্রভুর গৃহের প্রাঙ্গণে,
হে যেরুসালেম, তোমারই অন্তঃস্থলে।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, অনুনয় করি: যাঁর পর্বদিন পালন ক’রে
আমরা সানন্দে তোমার পবিত্র মঙ্গলদান গ্রহণ করেছি,
সেই প্রেরিতদূত যাকোবের প্রার্থনায় প্রসন্ন হয়ে আমাদের সাহায্যে এসো।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৬ আগষ্ট - প্রভু যিশুর দিব্য রূপান্তর
image প্রভু যিশু প্রেরিতদূতদের সাক্ষাতে রূপান্তরিত হলেন:
তাঁর শ্রীমুখ সূর্যের মত দীপ্তিমান।
আর হঠাৎ মোশি ও এলিয় তাঁদের দেখা দিলেন (মথি ১৭:২-৩)।

[সাধু বেনেডিক্ট মঠ - উপাসনালয়]
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তোমার একমাত্র পুত্রের গৌরবময় রূপান্তরে
তুমি প্রাক্তন সন্ধিকালের পিতৃপুরুষদের সাক্ষ্যদান দ্বারা ধর্মবিশ্বাসের রহস্যসকল
সত্য বলে সপ্রমাণ করেছিলে এবং সুস্পষ্টই এক পূর্বলক্ষণ দিয়েছিলে যে,
তুমি আমাদের তোমার আপন সন্তান বলে গ্রহণ করবে।
আশীর্বাদ কর: তোমার সেই প্রিয় পুত্রের বাণী শুনে
আমরা যেন তাঁর ঐশগৌরবের সহভাগী হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী দানিয়েলের পুস্তক থেকে পাঠ (৭:৯-১০,১৩-১৪)

আমি, দানিয়েল, তখনও তাকিয়ে আছি,
এমন সময় কয়েকটা সিংহাসন এনে রাখা হল,
এবং প্রাচীন একজন আসন নিলেন:
তাঁর পোশাক তুষারের মত শুভ্র,
ও তাঁর মাথার চুল পশমের মত শুভ্র;
তাঁর সিংহাসন ছিল অগ্নিশিখার মত,
তার চাকাগুলো জ্বলন্ত আগুনের মত।
তাঁর সম্মুখ থেকে অগ্নি-স্রোত নির্গত হয়ে বয়ে চলছিল;
লক্ষ লক্ষ কারা যেন তাঁর সেবা করছিল,
এবং কোটি কোটি কারা যেন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
তখন বিচারসভা আসন নিল,
ও পুস্তকগুলো খোলা হল।
আমি রাত্রিবেলায় আবার দর্শনে দেখছিলাম,
এমন সময়ে আকাশের মেঘের সঙ্গে
মানবপুত্রের মত কে যেন একজন এগিয়ে আসছেন:
সেই প্রাচীনজনের কাছে এসে উপস্থিত হলে
তাঁকে তাঁর সাক্ষাতে আনা হল;
তাঁকে আরোপ করা হল
কর্তৃত্ব, মহিমা ও রাজ-অধিকার;
সকল জাতি, দেশ ও ভাষার মানুষ
তাঁর সেবায় নিবদ্ধ হল।
তাঁর কর্তৃত্ব সনাতন কর্তৃত্ব
যা কখনও লোপ পাবে না,
এবং তাঁর রাজ্য কখনও বিলুপ্ত হবে না।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৯৭
ধুয়ো:
প্রভু রাজত্ব করেন,
তিনি সারা পৃথিবীর উপর পরাৎপর।

প্রভু রাজত্ব করেন, পৃথিবী মেতে উঠুক,
যত দ্বীপপুঞ্জ আনন্দ করুক।
মেঘ ও অন্ধকার তাঁর সর্বাঙ্গীণ আবরণ,
ধর্মময়তা ও ন্যায় তাঁর সিংহাসনের ভিত।   [ধুয়ো]

সমগ্র পৃথিবীর প্রভুর সামনে,
সেই প্রভুর সামনে পাহাড়পর্বত মোমের মত বিগলিত হয়;
স্বর্গ তাঁর ধর্মময়তা ঘোষণা করে,
সর্বজাতি তাঁর গৌরবের দর্শন পায়।   [ধুয়ো]

কারণ তুমি, প্রভু,
সারা পৃথিবীর উপর পরাৎপর,
সব দেবতার ঊর্ধ্বে
তুমি উচ্চতম।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
ইনি আমার প্রিয়তম পুত্র, এঁতে আমি প্রসন্ন;
তাঁর কথা শোন।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
২০২০, ২০২৩, ২০২৬, ২০২৯, ২০৩২, ২০৩৫, ২০৩৮, ২০৪১, ২০৪৪ সালে:
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১৭:১-৯)

একদিন, পিতর, যাকোব ও তাঁর ভাই যোহনকে সঙ্গে করে যিশু নিজেদের মধ্যে একাকী হয়ে থাকবার জন্য একটা উঁচু পর্বতের উপরে তাঁদের নিয়ে গেলেন; এবং তাঁদের সাক্ষাতে রূপান্তরিত হলেন: তাঁর শ্রীমুখ সূর্যের মত দীপ্তিমান, ও তাঁর পোশাক আলোর মত নির্মল হয়ে উঠল। আর হঠাৎ মোশি ও এলিয় তাঁদের দেখা দিলেন, তাঁরা তাঁর সঙ্গে কথা বলছিলেন।
তখন পিতর যিশুকে বললেন, ‘প্রভু, এখানে আমাদের থাকা উত্তম; আপনি ইচ্ছা করলে আমি এখানে তিনটে কুটির তৈরি করব, আপনার জন্য একটা, মোশির জন্য একটা ও এলিয়ের জন্য একটা।’ তিনি কথা বলছেন, এমন সময়ে দেখ, একটি উজ্জ্বল মেঘ নিজ ছায়ায় তাঁদের ঘিরে রাখল, আর হঠাৎ সেই মেঘ থেকে এক কণ্ঠস্বর বলে উঠল: ‘ইনি আমার প্রিয়তম পুত্র, এঁতে আমি প্রসন্ন; তাঁর কথা শোন।’
একথা শুনে শিষ্যেরা উপুড় হয়ে পড়লেন ও ভীষণ ভয়ে অভিভূত হলেন। কিন্তু যিশু কাছে এসে তাঁদের এই বলে স্পর্শ করলেন, ‘ওঠ, ভয় করো না।’ তখন চোখ তুলে তাঁরা কেবল যিশুকেই ছাড়া আর কাউকে দেখতে পেলেন না।
পর্বত থেকে নামবার সময়ে যিশু তাঁদের এই আদেশ দিয়ে বললেন, ‘তোমরা এই দর্শনের কথা কাউকেই বলো না, যতদিন না মানবপুত্র মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করেন।’
প্রভুর বাণী।

২০২১, ২০২৪, ২০২৭, ২০৩০, ২০৩৩, ২০৩৬, ২০৩৯, ২০৪২, ২০৪৫ সালে:
মার্ক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৯:২-১০)

একদিন, কেবল পিতর, যাকোব ও যোহনকে সঙ্গে করে যিশু নিজেদের মধ্যে একাকী হয়ে থাকবার জন্য একটা উঁচু পর্বতের উপরে তাঁদের নিয়ে গেলেন; এবং তাঁদের সাক্ষাতে রূপান্তরিত হলেন: তাঁর পোশাক উজ্জ্বল ও অধিক নির্মল হয়ে উঠল, পৃথিবীতে কোন রজক তা এত নির্মল করতে পারে না। আর এলিয় ও মোশি তাঁদের দেখা দিলেন: তাঁরা যিশুর সঙ্গে কথা বলছিলেন।
তখন পিতর যিশুকে বললেন, ‘রাব্বি, এখানে আমাদের থাকা উত্তম; আসুন, তিনটে কুটির তৈরি করি, আপনার জন্য একটা, মোশির জন্য একটা ও এলিয়ের জন্য একটা।’ কারণ কী বলতে হবে, তা তিনি ভেবে পাচ্ছিলেন না, যেহেতু তাঁরা ভয়ে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন।
তখন একটি মেঘ এসে নিজের ছায়ায় তাঁদের ঘিরে রাখল, আর সেই মেঘ থেকে এক কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হল: ‘ইনি আমার প্রিয়তম পুত্র; তাঁর কথা শোন।’ পরে তাঁরা হঠাৎ চারদিকে তাকিয়ে তাঁদের সঙ্গে আর কাউকে দেখতে পেলেন না, কেবল যিশুকেই দেখলেন।
পর্বত থেকে নামবার সময়ে তিনি তাঁদের কড়া আদেশ দিলেন: তাঁরা যা দেখেছিলেন, তা যেন কাউকেই না বলেন, যতদিন না মানবপুত্র মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করেন। তাঁরা আদেশটা মেনে নিলেন, তবু ‘মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান’ কথাটার অর্থ নিয়ে একে অপরকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন।
প্রভুর বাণী।

২০২২, ২০২৫, ২০২৮, ২০৩১, ২০৩৪, ২০৩৭, ২০৪০, ২০৪৩, ২০৪৬ সালে:
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৯:২৮-৩৬)

একদিন, পিতর, যাকোব ও যোহনকে সঙ্গে করে যিশু প্রার্থনা করতে পর্বতে গিয়ে উঠলেন। তিনি প্রার্থনা করছেন, এমন সময়ে তাঁর মুখের চেহারার অন্য রূপ হল, ও তাঁর পোশাক অধিক নির্মল-উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
আর দেখ, দু’জন পুরুষ তাঁর সঙ্গে কথা বলছিলেন—তাঁরা ছিলেন মোশি ও এলিয়। গৌরবে আবির্ভূত হয়ে তাঁরা তাঁর সেই প্রস্থানের বিষয়ে কথা বলছিলেন, যা তিনি যেরুসালেমে সমাধা করতে যাচ্ছিলেন।
পিতর ও তাঁর সঙ্গীরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু জেগে উঠে তাঁর গৌরব ও সেই দু’জনকে দেখলেন, যাঁরা তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁরা তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছেন, সেসময়ে পিতর যিশুকে বললেন, ‘গুরুদেব, এখানে আমাদের থাকা উত্তম; আসুন, তিনটে কুটির তৈরি করি, আপনার জন্য একটা, মোশির জন্য একটা ও এলিয়ের জন্য একটা।’
তিনি কী বলছিলেন, তা তো জানতেন না; তিনি একথা বলছেন, সেসময়ে একটি মেঘ এসে নিজ ছায়ায় তাঁদের ঘিরে রাখল, আর সেই মেঘের মধ্যে প্রবেশ করার সময়ে তাঁরা ভয় পেলেন। আর সেই মেঘ থেকে এক কণ্ঠস্বর বলে উঠল: ‘ইনি আমার পুত্র, সেই মনোনীতজন; তাঁর কথা শোন।’ এই কণ্ঠ ধ্বনিত হওয়ামাত্র দেখা গেল, যিশু একাই আছেন।
তাঁরা নীরব রইলেন; এবং যা দেখেছিলেন, সেবিষয়ে তাঁরা তখন কাউকে কিছুই বললেন না।
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
বিশপ সাধু পিতর দ্য ব্লুয়ার উপদেশ

আপন ঈশ্বরত্বের গৌরব অক্ষুণ্ণ থাকলেও যিনি আমাদের মানবস্বরূপের দুর্বলতা বাস্তবেই বহন করছিলেন, তিনি আপন মরণশীল দেহে প্রকৃত অমরত্বের গৌরব দেখাতে পারলেন। আর পুনরুত্থানের পর তিনি যেমন নিজ গৌরবান্বিত দেহে ক্ষতস্থানের দাগ দেখিয়েছিলেন, তেমনি সেই একই প্রভাবে কষ্ট-সাপেক্ষ দেহের মধ্যে পুনরুত্থানের গৌরব দেখাতে চাইলেন।
সুতরাং, যিনি আমাদের মরণশীল স্বরূপের দুর্বলতার মধ্যে সম্পূর্ণরূপে অমর, তিনি গৌরবান্বিত হচ্ছিলেন আর একইসময়ে কষ্টভোগের অধিকার রাখছিলেন। কিন্তু একথা যথার্থই উল্লেখযোগ্য যে, এই রূপান্তরে দেহের ভাবী গৌরব পূর্ণমাত্রায় নয়, সীমিত মাত্রায়ই প্রকাশ পেল, কেননা প্রভু নিজ বৈচিত্রময় গৌরব সম্পূর্ণরূপে নয়, কেবল আলোর দিক দিয়েই প্রকাশ করলেন।
তাঁর শ্রীমুখ সূর্যের মত দীপ্তিমান, ও তাঁর পোশাক আলোর মত নির্মল হয়ে উঠল (মথি ১৭:২)। তাতে তিনি নিজের মধ্যে সেই দীপ্তি দেখালেন যা একদিন ধার্মিকদের দান করার কথা; কেননা শাস্ত্রে বলে: ধার্মিকেরা তাদের পিতার রাজ্যে সূর্যের মত দীপ্তিমান হয়ে উঠবে (মথি ১৩:৪৩)। তেমনটি তখনই ঘটবে যখন খ্রিষ্ট আমাদের হীনাবস্থার এই দেহটি রূপান্তরিত ক’রে তাঁর আপন গৌরবময় দেহের সমরূপ করবেন (ফিলি ৩:২১)। সুসমাচার-রচয়িতা পার্থিব সূর্যের সঙ্গে ধর্মময়তার সূর্যের তুলনা করেন, কারণ সৃষ্টির নানা বস্তুর মধ্যে এমন বস্তু নেই যা সূর্যের চেয়ে সেই খ্রিষ্টের অধিক যথার্থ প্রতীক হতে পারে যিনি আপন গৌরবের প্রভায় জাগতিক সূর্য বা চাঁদের প্রভার চেয়ে ততখানি উজ্জ্বল, সৃষ্টির তুলনায় স্রষ্টা যতখানি ঊর্ধ্ব। সুতরাং যখন সূর্যের সঙ্গেই খ্রিষ্টের সিংহাসনের তুলনা করা হয়—যেমনটি পিতা নবীর মুখ দিয়ে বলেন: আমার সামনে তাঁর সিংহাসন সূর্যের মত (সাম ৮৯:৩৭)—তখন যিনি সিংহাসনে আসীন, সূর্যের চেয়ে তাঁর শ্রীমুখ আর কতই না উজ্জ্বল হবে! তিনিই সেই সূর্য যা বিষয়ে নবী বলেন: সূর্য দিনের বেলায় আর তোমার আলো হবে না, চাঁদের জ্যোৎস্নাও তোমাকে আলোকিত করবে না; স্বয়ং প্রভুই হবেন তোমার চিরন্তন আলো (ইসা ৬০:১৯)। হ্যাঁ, তাঁর আলো সমস্ত আলো ও সৌন্দর্যের ঊর্ধ্বে।
একই কথা আমরা পবিত্র আত্মা দ্বারা অনুপ্রাণিত সেই ইসাইয়ার পুস্তকেও পড়ি: চন্দ্র মলিন হবে ও সূর্য লজ্জিত হবে, কারণ সিয়োন পর্বতে সেনাবাহিনীর স্বয়ং প্রভুই রাজা হবেন, ও তাঁর প্রবীণদের সামনে গৌরবমণ্ডিত হবেন (ইসা ২৪:২৩)। খ্রিষ্টের পোশাক হল তাঁর সেই ভক্তরা যারা খ্রিষ্টকে পরিধান করে ও তাঁর দ্বারা পরিবৃত, যেমনটি প্রেরিতদূত বলেন: তোমাদের যাদের খ্রিষ্টের উদ্দেশে বাপ্তিস্ম হয়েছে, তোমরা স্বয়ং খ্রিষ্টকেই পরিধান করেছ (গা ৩:২৭)। খ্রিষ্ট দ্বারা নবজন্মের জলপ্রক্ষালনে (তীত ৩:৫) ধৌত হয়ে তারা তুষারের চেয়েও শুভ্র হয়ে উঠবে, যেমনটি সামসঙ্গীত-রচয়িতাও বলেন: আমাকে ধৌত কর, তবে আমি তুষারের চেয়ে শুভ্র হয়ে উঠব (সাম ৫১:৯)।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
খ্রিষ্ট প্রকাশিত হলে আমরা তাঁর সদৃশ হব,
কারণ তাঁকে দেখতে পাব যেইরূপে তিনি আছেন।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, অনুনয় করি:
যে স্বর্গীয় খাদ্য আমরা গ্রহণ করেছি,
তা তোমার পুত্রেরই সাদৃশ্যে আমাদের রূপান্তরিত করুক,
যাঁর উজ্জ্বলতা গৌরবময় দিব্য রূপান্তরে তুমি প্রকাশ করতে ইচ্ছা করেছ।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১০ আগষ্ট - সাধু লরেন্স, পরিসেবক ও সাক্ষ্যমর
সাধু লরেন্স
[প্রাচীন মজাইক]
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমিই সাধু লরেন্সকে সেই প্রেমাগ্নিতে উদ্দীপ্ত করেছিলে
যা দ্বারা তিনি বিশ্বস্ত সেবক ও গৌরবময় সাক্ষ্যমরের উজ্জ্বল পরিচয় দিয়েছিলেন।
আশীর্বাদ কর: তিনি যা ভালবাসতেন, আমরা যেন তাই ভালবাসতে পারি;
যা শেখাতেন, তাই যেন কাজে প্রতিফলিত করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৯:৬-১০)

প্রিয়জনেরা, মনে রেখ, কৃপণতার সঙ্গে যে বোনে, সে কৃপণতার ফসল কাটবে, কিন্তু উদারতার সঙ্গে যে বোনে, সে উদারতার ফসল কাটবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ হৃদয়ে যেভাবে সঙ্কল্প নিয়েছে, সেইমত দান করুক, মনের অসন্তোষে কিংবা বাধ্য হয়ে নয়; কেননা প্রফুল্লচিত্তে যে দান করে, তাকেই ঈশ্বর ভালবাসেন।
তাছাড়া ঈশ্বর তোমাদের সব ধরনের অনুগ্রহে পরিপূর্ণ করতে সক্ষম, যেন সবকিছুতে সবসময় সব ধরনের প্রাচুর্য থাকায় তোমরা সব ধরনের সৎকর্মে উদারতা দেখাতে পার। যেমনটি লেখা আছে:
সে ছড়িয়ে দিয়েছে, নিঃস্বদের দান করেছে;
তার ধর্মময়তা চিরস্থায়ী।
যিনি বীজবুনিয়েকে বীজ, ও খাদ্যের জন্য অন্ন যুগিয়ে থাকেন, তিনি তোমাদের বপনের বীজও যোগাবেন এবং তা প্রচুর করবেন, আর তোমাদের ধর্মময়তা-ফসল বৃদ্ধিশীল করবেন।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১১২
ধুয়ো:
যে দয়া করে, যে করে ঋণদান,
তার মঙ্গল হয়।

সুখী সেই মানুষ, যে প্রভুকে করে ভয়,
তাঁর আজ্ঞাবলিতে যার পরম প্রীতি।
তার বংশ পৃথিবীতে শক্তিশালী হবে,
ন্যায়নিষ্ঠদের কুল আশিসধন্য হবে।   [ধুয়ো]

যে দয়া করে, যে করে ঋণদান, তার মঙ্গল হয়,
সে ন্যায়ের সঙ্গে কাজ সম্পাদন করে।
সে কখনও টলবে না,
ধার্মিকজন স্মরণীয় থাকবে চিরকাল।   [ধুয়ো]

সে ভয় করে না কোন অশুভ সংবাদ,
নিঃস্বকে সে মুক্তহস্তে দান করে,
তার ধর্মময়তা চিরস্থায়ী,
তার শক্তি গৌরবে উত্তোলিত।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
যে আমার অনুসরণ করে, সে অন্ধকারে চলবে না,
কিন্তু পাবে জীবনের আলো।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১২:২৪-২৬)

একদিন যিশু তাঁর আপন শিষ্যদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি সত্যি বলছি, গমের দানা যদি মাটিতে পড়ে মরে না যায়, তবে তা মাত্র একটাই হয়ে থাকে; কিন্তু যদি মরে যায়, তবে বহু ফল উৎপন্ন করে।
নিজের প্রাণকে যে ভালবাসে, সে তা হারিয়ে ফেলে, আর এই জগতে নিজের প্রাণকে যে ঘৃণা করে, সে অনন্ত জীবনের উদ্দেশে তা রক্ষা করবে। কেউ যদি আমার সেবা করে, সে আমার অনুসরণ করুক, যেখানে আমি আছি, আমার সেবকও সেখানে থাকবে। কেউ যদি আমার সেবা করে, তবে আমার পিতা তাকে সম্মানিত করবেন।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
পোপ মহাপ্রাণ সাধু লিওর উপদেশ

কোনও মানুষ যেমন কেবল নিজেরই জন্য মঙ্গলকর নয় ও জ্ঞানীর জ্ঞানও কেবল তারই জন্য উপকারী নয়, তেমনি প্রকৃতই সমস্ত সদ্‌গুণের এ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যে, যে কেউ তেমন গুণের উজ্জ্বল অধিকারী, সে ভুলভ্রান্তির অন্ধকার থেকে অনেককে বের করতে পারে; সুতরাং ঈশ্বরের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে সাক্ষ্যমরদের আদর্শের চেয়ে অধিক উপযোগী কোন আদর্শ নেই। কেননা বাক্‌পটুতা পক্ষসমর্থনের জন্য উপযোগী হতে পারে, যুক্তি অপরের মন জয় করার জন্য প্রভাবশালী হতে পারে, কিন্তু তবুও কথার চেয়ে আদর্শই সবসময় অধিক কার্যকর ও শক্তিশালী; ফলে উপদেশের চেয়ে কর্ম দ্বারাই চেতনা দেওয়া অধিক শ্রেয়।
তেমন শিক্ষাদান ক্ষেত্রে মর্যাদা ও গৌরবের জন্য সেই ধন্য লরেন্সই কতই না উজ্জ্বল, যাঁর যন্ত্রণাভোগ আজকের এ দিনটিকে উদ্ভাসিত করে! তাঁর নিজের নির্যাতকেরাও একথার প্রমাণ তখন পেতে পারল, যখন উৎসস্বরূপ খ্রিষ্টের প্রেম থেকেই তুলে আনা তাঁর সেই আশ্চর্য মনোবল কোন কিছুতেই ভাঙেনি, এমনকি তাঁর সহিষ্ণুতার আদর্শ দ্বারা অপরকেও সুস্থির করতে উপযোগী হল। বিধর্মী কর্তৃপক্ষের রোষ খ্রিষ্টদেহের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট অঙ্গগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র পীড়ন চালাচ্ছিল, ও যাঁরা যাজকীয় সম্প্রদায়ের সভ্য তাঁদেরই বিশেষভাবে খোঁজ করে বেড়াচ্ছিল। তখনই ভক্তিহীন নির্যাতক সেই পরিসেবক লরেন্সের উপর ক্রোধে জ্বলে উঠল যিনি সাক্রামেন্ত-সম্পাদনেই শুধু নয়, রোম মণ্ডলীর সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণেও দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা ধারণ করছিলেন। লরেন্সের মত মানুষকে গ্রেপ্তার করলে নির্যাতকের প্রত্যাশাই সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে: বাস্তবিকই তাঁর হাত থেকে মণ্ডলীর সম্পদ পেতে পারলে তবে সত্যধর্ম থেকেও সে তাঁকে সহজেই সরিয়ে নিতে পারবে।
এজন্য অর্থললুপ ও সত্যবিরোধী সেই নির্যাতক দ্বিবিধ রিপুতে সজ্জিত: তাঁর হাত থেকে অর্থ কেড়ে নেবার জন্য কৃপণতা, ও খ্রিষ্ট থেকে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ভক্তিহীনতা। পুণ্য সম্পদের বিশ্বস্ত রক্ষকের কাছে সে মণ্ডলীর সম্পদ চায়, কেননা সেগুলোর জন্য সে অতি উদ্গ্রীব। কিন্তু পুণ্যবান পরিসেবক তাকে সেই স্থান দেখাতে গিয়ে যেখানে তিনি মণ্ডলীর ধন রেখেছিলেন, তাকে সেই অসংখ্য গরিব খ্রিষ্টভক্তদের ভিড় দেখালেন যাদের জন্য খাদ্য ও বস্ত্র কেনার ব্যাপারে তিনি সেই অবিনশ্বর সম্পদ ব্যয় করেছিলেন, যা অধিক অক্ষুণ্ণরূপেই সংরক্ষিত বলে প্রতীয়মান হচ্ছিল যেহেতু অধিক পুণ্যভাবেই বিতরণ করা হয়েছিল।
নিজ কামনায় মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে এবং যে ধর্ম ধনের তেমন ব্যবহার সম্বন্ধে শিক্ষা দেয়, তার উপরে ক্রোধপূর্ণ হয়ে সেই দস্যু অধিক মূল্যবান আর একটা ধন আক্রমণ করতে চেষ্টা করে; অর্থাৎ, যাঁর হাত থেকে আর্থিক কোন সুবিধা কেড়ে নিতে পারেনি, তাঁর কাছ থেকে সে এখন সেই গচ্ছিত সম্পদ কেড়ে নিতে চায় যা তাঁকে অধিক পুণ্যবান করছিল।
এ উদ্দেশ্যে সে লরেন্সকে খ্রিষ্টকে অস্বীকার করতে আদেশ দেয়: পরিসেবকের অবিচল মনোবলকে হিংস্রতম পীড়নের মধ্য দিয়েই জয় করবে—এ লক্ষ্যেই তার প্রস্তুতি।
প্রিয়জনেরা, এসো, সম্পূর্ণ আত্মিকই আনন্দের সঙ্গে আনন্দ করি, ও তেমন বিখ্যাত শহীদের মৃত্যুর কথা ভেবে, এসো, সেই প্রভুতে গর্ব করি যিনি আপন পবিত্রজনদের মাঝে অধিক প্রশংসনীয় (সাম ৬৮:৩৬ লাতিন পাঠ)—এঁদেরই তিনি আমাদের প্রতিপালক ও আদর্শ রূপে নিযুক্ত করলেন।
তিনি বিশ্বজুড়েই নিজ গৌরব ব্যক্ত করতে চাইলেন যাতে সূর্যের উদয় থেকে তার অস্তেই তাঁর সেবকদের সুনাম উদ্ভাসিত হয়; ও যেরুসালেম যেমন স্তেফানের মৃত্যু দ্বারাই গৌরব লাভ করেছিল, তেমনি রোমও যেন লরেন্সের পুণ্যকর্মের ফলে গৌরবলাভ করতে পারে।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ১১৬
ধুয়ো:
যে কেউ আমার সেবা করে—একথা বলছেন প্রভু,
সে আমার অনুসরণ করুক;
আমি যেখানে আছি,
আমার সেই সেবকও সেখানে থাকবে।

আমার প্রতি প্রভুর সমস্ত উপকারের জন্য
প্রতিদানে আমি তাঁকে কী দিতে পারব?
পরিত্রাণের পানপাত্র তুলে ধরে
আমি করব প্রভুর নাম।

প্রভুর উদ্দেশে আমার ব্রতসকল উদ্‌যাপন করব
তাঁর সমস্ত জনগণের সামনে।
প্রভুর দৃষ্টিতে মূল্যবান
তাঁর ভক্তদের মৃত্যু।

দোহাই প্রভু! আমি তো তোমার দাস, আমি তোমারই দাস, তোমার দাসীর পুত্র,
তুমি খুলে দিয়েছ আমার শৃঙ্খল।
তোমার উদ্দেশে ধন্যবাদ-বলি উৎসর্গ ক’রে
আমি করব প্রভুর নাম।

প্রভুর উদ্দেশে আমার ব্রতসকল উদ্‌যাপন করব
তাঁর সমস্ত জনগণের সামনে,
প্রভুর গৃহের প্রাঙ্গণে,
হে যেরুসালেম, তোমারই অন্তঃস্থলে।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, তোমার পবিত্র সাক্রামেন্ত গ্রহণে পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে
আমরা বিনীত কণ্ঠে তোমাকে অনুনয় করি:
সাধু লরেন্সের পর্বদিনে যে যথার্থ সেবাকর্ম আমরা পালন করেছি,
যেন তার পরিত্রাণদায়ী ফল উত্তরোত্তর উপলব্ধি করতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৫ আগষ্ট - ধন্যা কুমারী মারীয়ার স্বর্গোন্নয়ন
image প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসারে
যখন মা মারীয়ার সময় এল,
তখন প্রেরিতদূতগণ তাঁকে ঘিরে থাকতে
তিনি নিদ্রা গেলেই
স্বয়ং প্রভু যিশু এসে
তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে
স্বর্গদূতদের মহা উল্লাসের মধ্যে
স্বর্গে নিয়ে গেলেন।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর,
তুমি তোমার পুত্রের জননী অমলোদ্ভবা কুমারী মারীয়াকে
দেহে ও আত্মায় স্বর্গীয় গৌরবে উন্নীত করেছ।
আশীর্বাদ কর: ঊর্ধ্বলোকের বিষয়ে মন নিয়ত নিবদ্ধ রেখে
আমরা যেন তাঁর গৌরবের সহভাগী হতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
ঐশপ্রকাশ পুস্তক থেকে পাঠ (১১:১৯ক; ১২:১-৬ক,১০কখ)

ঈশ্বরের স্বর্গীয় পবিত্রধাম উন্মুক্ত হল, আর তাঁর মন্দিরের মধ্যে তাঁর সন্ধি-মঞ্জুষা দেখা গেল। এবার স্বর্গে এক মহাচিহ্ন দেখা গেল: এক নারী, সূর্য যার বসন, চন্দ্র যার পদতলে, যার মাথায় বারোটা তারার মুকুট। সে গর্ভবতী, ব্যথায় ও প্রসবযন্ত্রণায় জোর গলায় চিৎকার করছে।
তখন স্বর্গে আর এক চিহ্ন দেখা গেল: দেখ, আগুনে-লাল রঙের বিরাট একটা নাগদানব—তার সাতটা মাথা, দশটা শিং ও সাতটা মাথায় একটা করে কিরীট; তার লেজ আকাশের তিন ভাগের এক ভাগ তারানক্ষত্র টেনে নিয়ে পৃথিবীর উপরে ছুড়ে ফেলে দিল।
নাগদানবটা আসন্ন-প্রসবা সেই নারীর সামনে এসে দাঁড়াল; অভিপ্রায় ছিল, নারী প্রসব করামাত্র সে তার সন্তানকে গ্রাস করবে। নারী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করল, লৌহদণ্ড দ্বারা সমস্ত জাতিকে যাঁর শাসন করার কথা; আর তার সেই পুত্রসন্তানকে ঈশ্বর ও তাঁর সিংহাসনের কাছে কেড়ে নেওয়া হল; কিন্তু নারী মরুপ্রান্তরে পালিয়ে গেল, যেখানে ঈশ্বর তার জন্য একটা আশ্রয়স্থলের ব্যবস্থা করেছিলেন।
তখন আমি শুনতে পেলাম, স্বর্গে এক কণ্ঠস্বর চিৎকার করে বলল: ‘আমাদের ঈশ্বরের পরিত্রাণ, পরাক্রম ও রাজ্য এবার এসে গেছে, তাঁর খ্রিষ্টের প্রাপ্য অধিকারও এসে গেছে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৪৫
ধুয়ো:
ওফিরের সোনায় অলঙ্কৃতা হয়ে
তোমার ডান পাশে দাঁড়িয়ে আছেন রানী।

তোমার প্রণয়িনীদের মধ্যে
রয়েছেন কত রাজকন্যা;
ওফিরের সোনায় অলঙ্কৃতা হয়ে
তোমার ডান পাশে দাঁড়িয়ে আছেন রানী।   [ধুয়ো]

শোন কন্যা, দেখ, কান পেতে শোন—
তোমার স্বজাতি, তোমার পিতৃগৃহের কথা ভুলে যাও;
রাজা তোমার সৌন্দর্যে আসক্ত হবেন;
তোমার প্রভুই তিনি—তাঁর চরণে কর প্রণিপাত।   [ধুয়ো]

তাঁর পিছনে
তাঁর কুমারী সখীরা
আনন্দোল্লাসের মাঝে আনীতা হয়ে
রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করছেন।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
করিন্থীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (১৫:২০-২৭ক)

প্রিয়জনেরা, খ্রিষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করেছেন—নিদ্রাগতদের প্রথমফসল রূপে। কেননা যেহেতু মানুষের মধ্য দিয়ে মৃত্যু, সেহেতু মানুষের মধ্য দিয়েও মৃতদের পুনরুত্থান—আদমে যেমন সকলে মৃত্যুভোগ করে, খ্রিষ্টেই তেমনি সকলে সঞ্জীবিত হবে—অবশ্য যার যেমন স্থান, সেই অনুসারে: সকলের আগে সেই খ্রিষ্ট, প্রথমফসল যিনি, তারপর, খ্রিষ্টের পুনরাগমনের সময়ে, তারা, যারা তাঁরই।
এরপর সমাপ্তি আসবে; তখন তিনি সমস্ত আধিপত্য ও সমস্ত কর্তৃত্ব ও পরাক্রম বিলুপ্ত করে দেওয়ার পর পিতা ঈশ্বরের হাতে রাজ্য সঁপে দেবেন। কেননা যতদিন না তিনি সমস্ত শত্রুকে তাঁর পদতলে এনে রাখেন, ততদিন তাঁকে রাজত্ব করতে হবে। সর্বশেষ শত্রু যে মৃত্যু, সেও বিলুপ্ত হবে, কারণ তিনি সবকিছুই বশীভূত করে রেখেছেন তাঁর পদতলে।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
মারীয়া স্বর্গে উন্নীতা হলেন;
স্বর্গদূতেরা উল্লাসে মেতে ওঠেন।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:৩৯-৫৬)

সেসময়ে মারীয়া সঙ্গে সঙ্গে রওনা হয়ে পার্বত্য অঞ্চলে যুদার একটা শহরের দিকে যত শীঘ্রই যাত্রা করলেন।
জাখারিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে এলিজাবেথকে অভিবাদন জানালেন। তখন এমনটি ঘটল যে, এলিজাবেথ মারীয়ার অভিবাদন শোনামাত্র তাঁর গর্ভে শিশুটি লাফিয়ে উঠল; এলিজাবেথ পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হলেন ও উচ্চকণ্ঠে বলে উঠলেন,
‘নারীকুলে তুমি ধন্যা, এবং ধন্য তোমার গর্ভফল। আমি কে যে আমার প্রভুর মা আমার কাছে আসবে? দেখ, তোমার অভিবাদন আমার কানে ধ্বনিত হওয়ামাত্র শিশুটি আমার গর্ভে আনন্দে লাফিয়ে উঠল; আহা, সুখী সেই জন যে বিশ্বাস করেছে! কারণ প্রভু দ্বারা তাকে যা বলা হয়েছে, তা সিদ্ধিলাভ করবে।’
তখন মারীয়া বললেন:
‘প্রভুর মহিমাকীর্তন করে আমার প্রাণ,
আমার ত্রাতা পরমেশ্বরে আমার আত্মা করে উল্লাস,
কারণ তাঁর দাসীর নিম্নাবস্থার দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন তিনি,
কেননা দেখ, এখন থেকে যুগে যুগে সকলে আমাকে সুখী বলবে;
কারণ আমার জন্য মহা মহা কাজ করেছেন সেই শক্তিমান
—পবিত্রই তাঁর নাম;
আর যারা তাঁকে ভয় করে,
তাদের প্রতি তাঁর দয়া যুগযুগস্থায়ী।
তিনি পরাক্রম সাধন করেছেন আপন বাহুবলে,
গর্বিতদের বিক্ষিপ্ত করেছেন তাদের হৃদয়ের মতলবে;
ক্ষমতাশালীদের নামিয়ে দিয়েছেন সিংহাসন থেকে,
নিম্নাবস্থার মানুষকে করেছেন উন্নীত;
ক্ষুধার্তদের পরিতৃপ্ত করেছেন মঙ্গলদানে,
ধনীদের ফিরিয়ে দিয়েছেন শূন্য হাতে।
আপন দয়া স্মরণ ক’রে
তাঁর দাস ইস্রায়েলের সহায়তা করেছেন তিনি,
যেমনটি বলেছিলেন আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে,
আব্রাহাম ও তাঁর বংশের কাছে, চিরকাল।’
মারীয়া তাঁর সঙ্গে প্রায় তিন মাস থাকলেন, পরে বাড়ি ফিরে গেলেন।
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
নিকোলাস কাবাসিলাসের উপদেশ

এ আবশ্যক ছিল যে, আমাদের পরিত্রাণ সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ে কুমারী পুত্রের সঙ্গিনী হবেন। আর তাঁকে রক্তমাংস দান ক’রে তিনি যেমন প্রতিদানস্বরূপে তাঁর উপকারগুলোর সহভাগিনী হলেন, তেমনি তাঁর দুঃখ ও তাঁর সকল যন্ত্রণারও অংশী হলেন। পুত্র ক্রুশে চালিত হলেন ও তাঁর হৃদয় বর্শার আঘাতে বিদ্ধ হল; জননীর হৃদয় খড়্গের আঘাতে বিদ্ধ হল, যেমনটি সিমেয়োন ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছিলেন।
তাতে তিনিই যেমন প্রথম ত্রাণকর্তার মৃত্যুর সদৃশ মৃত্যুতে তাঁর সমরূপ হলেন, তেমনি তিনিই সকলের মধ্যে প্রথম হয়ে তাঁর পুনরুত্থানের সহভাগিনী হলেন। কেননা যিনি পাতালের শক্তি নিঃশেষ করে দিয়েছিলেন, সেই পুনরুত্থিত পুত্রের দর্শন ও সম্ভাষণের শুভ অভিজ্ঞতা লাভ করলে পর তিনি, খ্রিষ্ট স্বর্গে আরোহণ না করা পর্যন্ত তাঁর সাধ্যমত তাঁর পাশে পাশে থাকলেন। আর ত্রাণকর্তার স্বর্গারোহণের পর তিনিই প্রেরিতদূতদের ও অন্য শিষ্যদের মধ্যে তাঁর স্থান দখল করার জন্য যোগ্য বলে পরিগণিতা হলেন, তাতে মানুষের কাছে তাঁর তত উপকারের সঙ্গে এ উপকারও যোগ করলেন, তথা খ্রিষ্টের যা বাকি ছিল তিনিই তা পূরণ করবেন—আর তেমন কাজ তিনিই সকলের চেয়ে উত্তমরূপে সাধন করলেন।
প্রকৃতপক্ষে জননীর চেয়ে কেইবা এসব কিছুর যোগ্য ছিল? তবু এও দরকার ছিল যে, সেই পরমপবিত্র আত্মা তেমন পরমপবিত্র দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। আর আসলে তাঁর আত্মা দেহকে ত্যাগ করে পুত্রের আত্মার সঙ্গে মিলিত—অসৃষ্ট আলোর সঙ্গে সৃষ্ট আলোর পবিত্র সংযোগ! তাঁর দেহ পৃথিবীতে বেশিক্ষণ থাকল না, তাও স্বর্গে গমন করল; কেননা এ প্রয়োজন ছিল যে, তাঁর দেহও সেই সমস্ত পথ পেরিয়ে যাবে, যে পথ ত্রাণকর্তা পেরিয়ে গেছিলেন, তাঁর দেহও জীবিত ও মৃত সকলেরই চোখের সামনে উজ্জ্বল আলোতে উদ্ভাসিত হবে, তাঁর দেহও সবদিক দিয়ে প্রকৃতি পবিত্রিত করবে যাতে তার যোগ্য স্থান পেতে পারে। এজন্য তাঁর দেহ সমাধিতে শায়িত হল বটে, কিন্তু এরপরে স্বর্গই এ নতুন মর্তকে, এ আধ্যাত্মিক দেহকে, আমাদের জীবনের এ ধনকে, স্বর্গদূতদের দেহের চেয়েও গৌরবময় ও মহাদূতদের দেহের চেয়েও পবিত্রময় দেহকে গ্রহণ করল। তাতে রাজার কাছে সিংহাসন, জীবনবৃক্ষের কাছে পরমদেশ, আলোর কাছে জগৎ, ফলের কাছে গাছ, মাতার কাছে পুত্রকে ফিরিয়ে দেওয়া হল। কেননা তাঁকে জন্ম দিয়েছিলেন বিধায় এ সমস্ত কিছু পাওয়া তাঁর শোভা পেত।
হে ধন্যা, কেমন ভাষণ তোমার পবিত্রতার কথা তুলে ধরতে পারে ও সেই সমস্ত উপকার প্রচার করতে পারে যা তুমি ত্রাণকর্তার কাছ থেকে পেয়েছ ও যা তুমি নিজেও গোটা মানবজাতিকে দিয়েছ? কেউই নেই—সাধু পলের কথা অনুসারে যদিও একজন মানুষের ও স্বর্গদূতের ভাষায় কথা বলতে পারত (১ করি ১৩:১)। আমি মনে করি, এও ধার্মিকদের জন্য গচ্ছিত সেই শাশ্বত সুখের অংশ, তথা তোমার সমস্ত অধিকার জানা ও যোগ্যরূপে বর্ণনা করা, কারণ তা এমন যা কারও চোখ কখনও দেখেনি, কারও কান কখনও শোনেনি (১ করি ২:৯ দ্রঃ); আরও, মহামান্য যোহনের বাণী অনুসারে, তা এমন যা জগৎ উপলব্ধি করতেও পারে না।
তোমার আশ্চর্য কর্মকীর্তি কেবল সেই রঙ্গভূমিতেই উজ্জ্বলতা পায়, যে রঙ্গভূমি হল সেই নতুন আকাশ ও নতুন পৃথিবী যেখানে সেই ধর্মময়তার সূর্যই উজ্জ্বল যিনি অন্ধকারের অগ্রেও নন, তার পিছনেও নন। তোমার এ সমস্ত কর্মকীর্তির প্রচারক স্বয়ং ত্রাণকর্তা, আর স্বর্গদূতেরা করতালি দেন।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১২২
ধুয়ো:
যুগে যুগে সকলে আমাকে সুখী বলবে,
কারণ আমার জন্য মহা মহা কাজ করেছেন সেই শক্তিমান।

আমি আনন্দ পেলাম ওরা যখন আমাকে বলল,
‘এসো, চলি প্রভুর গৃহে!’
এখন এসে থেমেছে আমাদের চরণ
তোমার তোরণদ্বারে, হে যেরুসালেম।   [ধুয়ো]

যেরুসালেম দৃঢ়সংবদ্ধ নগরীর মতই গড়া,
সেইখানে উঠে আসে গোষ্ঠীসকল, প্রভুরই গোষ্ঠীসকল—
ইস্রায়েলের বিধি তো তারা করবে প্রভুর নামের স্তুতি, সেইখানে যে অধিষ্ঠিত আছে বিচারাসনগুলি,
দাউদকুলের সিংহাসনগুলি।   [ধুয়ো]

যেরুসালেমের জন্য তোমরা শান্তি যাচনা কর!
যারা তোমাকে ভালবাসে, তাদের সমৃদ্ধি হোক;
শান্তি হোক তোমার প্রাচীর-মাঝে,
তোমার দুর্গশ্রেণির মাঝে সমৃদ্ধি হোক!   [ধুয়ো]

আমার ভাই ও বন্ধুদের খাতিরে
আমি বলব, ‘তোমাতেই বিরাজ করুক শান্তি!’
আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর গৃহের খাতিরে
আমি তোমার মঙ্গল অন্বেষণ করব।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, পরিত্রাণদায়ী সাক্রামেন্ত গ্রহণ করে আমরা তোমাকে অনুনয় করি:
যাঁকে তুমি স্বর্গে উন্নীতা করেছ, সেই ধন্যা কুমারী মারীয়ার প্রার্থনায় প্রসন্ন হয়ে
পুনরুত্থানের গৌরবে আমাদের চালনা কর।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৪ আগষ্ট - সাধু বার্থলমেয়, প্রেরিতদূত
সাধু বার্থলমেয়।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, প্রেরিতদূত সাধু বার্থলমেয় সরল অন্তরে
তোমার পুত্রের সঙ্গে যে বিশ্বাসের বন্ধনে নিজেকে আবদ্ধ করেছিলেন,
আমাদের অন্তরেও তুমি সেই বিশ্বাস দৃঢ় করে তোল,
এবং তাঁর প্রার্থনায় প্রসন্ন হয়ে আশীর্বাদ কর: তোমার মণ্ডলী যেন
সর্বজাতির জন্য তোমার পরিত্রাণের সাক্রামেন্ত হতে পারে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
ঐশপ্রকাশ পুস্তক থেকে পাঠ (২১:৯খ-১৪)

সেই সপ্ত স্বর্গদূতের একজন আমাকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘কাছে এসো, আমি তোমাকে সেই কনেকে দেখাব যে মেষশাবকের নববধূ।’
সেই স্বর্গদূত আমাকে আত্মায় নিয়ে গেলেন উচ্চ একটা মহাপর্বতের উপর, এবং আমাকে দেখালেন, স্বর্গ থেকে, ঈশ্বর থেকেই ঈশ্বরের গৌরবে মণ্ডিতা হয়ে নেমে আসছে সেই পবিত্র নগরী যেরুসালেম।
তার প্রভা যেন বহুমূল্য কোন রত্নেরই মত, যেন স্ফটিক-স্বচ্ছ কোন সূর্যকান্ত মণিরই মত! নগরীটি বিশাল ও উচ্চ একটা প্রাচীরে ঘেরা; প্রাচীরে রয়েছে বারোটা তোরণদ্বার; দ্বারগুলোর উপরে বারোজন স্বর্গদূত থাকেন, এবং সেগুলোর উপরে কয়েকটা নাম লেখা আছে—ইস্রায়েল সন্তানদের বারোটা গোষ্ঠীর নাম। পুব দিকে তিন দ্বার, উত্তর দিকে তিন দ্বার, দক্ষিণ দিকে তিন দ্বার, ও পশ্চিম দিকে তিন দ্বার।
নগরীর প্রাচীরটা বারোটা ভিত্তিপ্রস্তরের উপরে বসানো, সেগুলির উপরে রয়েছে মেষশাবকের সেই বারোজন প্রেরিতদূতের বারোটা নাম।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৪৫
ধুয়ো:
তোমার সাধুসাধ্বী, প্রভু,
বলে যান তোমার রাজ্যের গৌরব।

প্রভু, তোমার সকল কাজ করবে তোমার স্তুতি;
তোমার ভক্তরা তোমাকে বলবে ধন্য।
তারা বলে যাবে তোমার রাজ্যের গৌরব,
প্রচার করবে তোমার পরাক্রম।   [ধুয়ো]

আদমসন্তানদের কাছে তারা জানাবে তোমার পরাক্রান্ত কীর্তির কথা,
জানাবে তোমার রাজ্যের মহিমময় গৌরব।
তোমার রাজ্য সর্বকালীন রাজ্য,
তোমার শাসন সর্বযুগস্থায়ী।   [ধুয়ো]

প্রভু সকল পথে ধর্মময়,
সকল কাজে কৃপাময়।
যারা তাঁকে ডাকে, অন্তর দিয়েই তাঁকে ডাকে,
প্রভু তাদের সকলের কাছে কাছেই থাকেন।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
রাব্বি, আপনি ঈশ্বরের পুত্র,
আপনি ইস্রায়েলের রাজা।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:৪৫-৫১)

সেসময়ে, ফিলিপ নাথানায়েলের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন; তাঁকে বললেন, ‘মোশি বিধান-পুস্তকে যাঁর কথা লিখেছিলেন, নবীরাও যাঁর কথা লিখেছিলেন, আমরা তাঁর সন্ধান পেয়েছি: তিনি যোসেফের ছেলে নাজারেথের সেই যিশু।’ নাথানায়েল তাঁকে বললেন, ‘নাজারেথ থেকে! সেখান থেকে ভাল কিছু কি আসতে পারে?’ ফিলিপ তাঁকে বললেন, ‘এসো, দেখে যাও।’
নাথানায়েলকে তাঁর দিকে আসতে দেখে যিশু তাঁর সম্বন্ধে বললেন, ‘ওই দেখ, একজন প্রকৃত ইস্রায়েলীয়, যার মধ্যে ছলনা নেই।’ নাথানায়েল তাঁকে বললেন, ‘আপনি কী করে আমাকে চেনেন?’ উত্তরে যিশু তাঁকে বললেন, ‘ফিলিপ তোমাকে ডাকবার আগে, তুমি যখন সেই ডুমুরগাছের তলায় ছিলে, আমি তোমাকে দেখলাম।’ নাথানায়েল উত্তর দিলেন, ‘রাব্বি, আপনি ঈশ্বরের পুত্র, আপনি ইস্রায়েলের রাজা।’
যিশু এই বলে তাঁকে উত্তর দিলেন, ‘সেই ডুমুরগাছের তলায় তোমাকে দেখেছি, একথা বলেছি বিধায় তুমি কি বিশ্বাস কর? এর চেয়ে অনেক বড় কিছু দেখতে পাবে!’
তিনি বলে চললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি সত্যি বলছি, তোমরা দেখতে পাবে, স্বর্গলোক উন্মুক্ত, এবং ঈশ্বরের দূতেরা মানবপুত্রের উপরে উঠে যাচ্ছেন ও নেমে আসছেন।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে বিশপ বিশপ সাধু জন খ্রিসোস্তমের উপদেশ

ফিলিপ নাথানায়েলের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন; তাঁকে বললেন, মোশি বিধান-পুস্তকে যাঁর কথা লিখেছিলেন, নবীরাও যাঁর কথা লিখেছিলেন, আমরা তাঁর সন্ধান পেয়েছি: তিনি যোসেফের ছেলে নাজারেথের সেই যিশু (যোহন ১:৪৫)। তিনি এভাবেই কথা বললেন, অর্থাৎ মোশি ও নবীদের অধিকারের উপর নির্ভর করেই কথা বললেন, যাতে তাঁর ঘোষণা বিশ্বাসযোগ্য বলে প্রতীয়মান হতে পারে ও শ্রোতাকে জয় করতে পারে। নাথানায়েল কিন্তু ছিলেন সদ্বিবেচক ও সুচিন্তিত ব্যক্তি, সবসময় চেতনাশীল ও সত্যবাদী, যেমনটি খ্রিষ্টও স্বীকার করলেন ও ঘটনাটাও প্রমাণ করল। সুতরাং নাথানায়েল যেন যিশুকে মোশি ও নবীদের ঘোষিত ব্যক্তি বলে গ্রহণ করেন ফিলিপ তাঁর মন মোশি ও নবীদের দিকে আকর্ষণ করায় জ্ঞানবান ব্যক্তির পরিচয় দিলেন।
কিন্তু, হে ফিলিপ, তুমি কেমন করে নিশ্চিত হতে পার, তাঁরা ঠিক এ যিশুরই কথা বলেছেন? আমাদের কী প্রমাণ দেবে? কেবল বললে তো যথেষ্ট নয়। কেমন চিহ্ন আমাদের দেখাতে পার? কোন্‌ অলৌকিক কাজ? তেমন ব্যাপারে ভাসা ভাসা বিশ্বাস রাখা বিপজ্জনক! তাই কোন্‌ প্রমাণ আমাদের দেবে? আন্দ্রিয় যে উত্তর দিয়েছেন, তা-ই—এ হল তাঁর উত্তর। বাস্তবিকই আন্দ্রিয় যে ঐশ্বর্য পেয়েছিলেন তার কোন প্রমাণ দিতে পারেননি, ভাষায়ও ধনের বর্ণনা দিতে পারেননি, ফলে তিনি আপন ভাইকে যিশুর কাছে নিয়ে গেছিলেন। আর ফিলিপ ঠিক তাই করলেন। তিনি কেমন করে জানতে পেরেছিলেন যে যিশুই ছিলেন নবীদের পূর্বপ্রচারিত খ্রিষ্ট, তেমন ব্যাখ্যা না দিয়ে তিনি বরং নাথানায়েলকে যিশুর কাছে নিয়ে গেলেন এ আস্থা রেখে যে, একবার যিশুর মুখে বাণী শুনলে নাথানায়েল তাঁকে আর কখনও ছাড়বেন না।
তবে নাথানায়েলের প্রতিক্রিয়া কীরূপ হল? যিশুর পূর্বজ্ঞান বিষয়ে অনস্বীকার্য প্রমাণ পাওয়া মাত্রই তিনি আপন বিশ্বাস-স্বীকারোক্তি ব্যক্ত করলেন। তাঁর আগেকার বিলম্বে তাঁর সদ্বিবেচনাই প্রকাশ পেয়েছিল; তাঁর বর্তমান নিশ্চয়তায় তাঁর সরলতাই প্রমাণিত। তিনি উত্তরে বলেন: রাব্বি, আপনি ঈশ্বরের পুত্র, আপনি ইস্রায়েলের রাজা (যোহন ১:৪৯)। লক্ষ কর তাঁর অন্তর হঠাৎ কেমন আনন্দে পূর্ণ হয়, আর তাঁর কথা যিশুর প্রতি তাঁর আসক্তি কেমন দেখায়! তিনি তো বলেন, আপনি সেই ব্যক্তি আমরা যাঁর প্রতীক্ষায় ও যাঁর প্রত্যাশায় ছিলাম। তুমি কি দেখতে পাচ্ছ তাঁর বিমূঢ়তা ও তাঁর বিস্ময়, আর স্ফূর্তির আতিশয্যে কেমন আনন্দে ফেটে পড়েন? আমরা, যাদের কাছে ঈশ্বরপুত্রের কথা জানানো হয়েছে, আমাদেরও তেমন আনন্দে মেতে ওঠা উচিত! কেবল হৃদয়ের মধ্যেই আমাদের আনন্দ করা উচিত নয়, আমাদের জীবনাচরণেও আমাদের আনন্দ প্রকাশ করার কথা! নিজেদের আচরণে তেমন আনন্দ কেমন প্রকাশ করব? আমরা যাঁর সন্ধান পেয়েছি, তাঁর প্রতি বাধ্যতা স্বীকার করায়, কেননা তাঁর উপর বিশ্বাস রাখা মানে তাঁর ইচ্ছা পালন করা।
লোকে যখন ঘরে প্রিয় বন্ধুকে গ্রহণ করে, তখন কি স্পষ্টই প্রকাশ পায় না যে সবকিছুই তাদের আনন্দের বিষয়? তারা কি এদিক ওদিক ছুটে যায় না? বন্ধুকে খুশি করার জন্য তারা কি যথাসাধ্য চেষ্টা করে না, যদিও তাদের সর্বস্বও ব্যয় করতে হয়? দেখ, খ্রিষ্টই আমাদের অতিথি; তাই এসো, তাঁকে দেখাই যে আমরা সত্যিই আনন্দিত ও তাঁকে দুঃখ দেওয়ার মত কিছুই করি না। আমাদের আনন্দের প্রমাণস্বরূপ এসো, যে গৃহে তিনি পা দিয়েছেন সেই গৃহ অলঙ্কৃত করি; আমাদের স্ফূর্তি ব্যক্ত করার জন্য এসো, তাঁর সামনে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য পরিবেশন করি। এ খাদ্য কী? তিনি নিজেই উত্তর দেন: যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ করা ও তাঁর কাজ সম্পন্ন করাই আমার খাদ্য (যোহন ৪:৩৪)। তিনি ক্ষুধার্ত হলে, এসো, আমরা তাঁকে সেই খাদ্য দান করি, আর তিনি পিপাসিত হলে, তাঁকে পানীয় দান করি। তুমি এক বিন্দু ঠাণ্ডা জল দিলেও তিনি খুশি হবেন কারণ তোমাকে ভালবাসেন। প্রেমিকের উপহার যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন, বন্ধুর চোখে তা মূল্যবান!

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ১২৬
ধুয়ো:
আমার পিতা যেমন আমার জন্য রাজ্যের ব্যবস্থা করেছেন,
আমিও তেমনি তোমাদের জন্য রাজ্যের ব্যবস্থা করছি,
যেন তোমরা আমার রাজ্যে
আমার সঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া করতে পার। প্রভুর উক্তি।

প্রভু যখন সিয়োনের বন্দিদের ফিরিয়ে আনলেন,
আমরা তখন যেন স্বপ্নই দেখি!
তখন আমাদের মুখ হাসিতে মুখর,
আমাদের জিহ্বা আনন্দচিৎকারে পূর্ণ।

তখন বিজাতিদের মধ্যে একথা চলত,
‘তাদের জন্য কী মহা মহা কাজ না করেছেন প্রভু!’
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু,
আমরা আনন্দিত।

আমাদের বন্দিদের ফিরিয়ে আন, প্রভু,
তাদের ফিরিয়ে আন নেগেব প্রান্তরে খরস্রোতের মত।
যে অশ্রুর মধ্যে বীজ বোনে,
সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফসল সংগ্রহ করবে।

সে যায়, কাঁদতে কাঁদতে সে চলে যায়,
সঙ্গে নিয়ে যায় বপনের বীজ;
সে আসে, সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফিরে আসে,
সঙ্গে নিয়ে আসে ফসলের আঁটি।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, অনুনয় করি: প্রেরিতদূত সাধু বার্থলমেয়ের পর্ব পালন ক’রে
আমরা যে শাশ্বত পরিত্রাণের অগ্রিমদান গ্রহণ করেছি,
তা যেন ইহকালে ও পরকালে আমাদের সঞ্জীবনী শক্তি হয়ে থাকে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


৮ সেপ্টেম্বর - ধন্যা কুমারী মারীয়ার জন্মতিথি
প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসারে
ধন্য কুমারী মারীয়ার পিতামাতার নাম
ছিল যোয়াকিম ও আন্না।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, অনুনয় করি:
তোমার সেবকদের উপর স্বর্গীয় অনুগ্রহের ঐশ্বর্য বর্ষণ কর।
ধন্যা কুমারীর পুত্রের জন্ম যাদের পরিত্রাণের উদয়,
সেই কুমারীর জন্মতিথিতে তারা যেন পূর্ণতর শান্তি ভোগ করে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী মিখার পুস্তক থেকে পাঠ (৫:১-৪)

আর তুমি, হে বেথলেহেম-এফ্রাথা,
তুমি যে যুদা-গোত্রগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতম,
তোমা থেকেই আমার উদ্দেশে বের হবেন তিনি,
যিনি হবেন ইস্রায়েলের শাসনকর্তা,
প্রাচীনকাল থেকে, অনাদিকাল থেকেই যাঁর উৎপত্তি।
এজন্য যতদিন প্রসব-বেদনাগ্রস্ত নারীর প্রসব না হয়,
ততদিন ধরে প্রভু ইস্রায়েলকে পরিত্যাগ করবেন।
তখন তাঁর ভাইদের অবশিষ্ট অংশ
ইস্রায়েল সন্তানদের সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে ফিরে আসবে।
তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর আপন মেষপালকে প্রভুর শক্তিতেই,
তাঁর পরমেশ্বর প্রভুর নামের মহিমায়ই পালন করবেন।
তারা তখন পূর্ণ ভরসায় বাস করবে,
কারণ তিনি মহান হবেন পৃথিবীর শেষপ্রান্ত পর্যন্ত।
আর তিনি নিজেই হবেন শান্তি।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৩
ধুয়ো:
প্রভুতে আমি
মহাপুলকে পুলকিত।
চেয়ে দেখ!

আমাকে সাড়া দাও গো প্রভু,
পরমেশ্বর আমার;
দাও আলো আমার চোখে।   [ধুয়ো]

আমি কিন্তু তোমার কৃপায় ভরসা রাখি,
তোমার পরিত্রাণে মেতে ওঠে আমার অন্তর,
প্রভুর উদ্দেশে গাইব গান,
তিনি যে করেছেন আমার উপকার।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
হে কুমারী মারীয়া,
তুমি ধন্যা ও সমস্ত স্তুতির যোগ্য;
তোমা থেকেই জন্ম নিয়েছেন ধর্মময়তার সূর্য
সেই খ্রিষ্ট, আমাদের ঈশ্বর যিনি।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:১৮-২৩)

যিশুখ্রিষ্টের জন্ম এভাবে হয়: তাঁর মা মারীয়া যোসেফের প্রতি বাগ্‌দত্তা হলে তাঁরা একসঙ্গে থাকার আগে দেখা গেল, তিনি গর্ভবতী—পবিত্র আত্মার প্রভাবে। তাঁর স্বামী যোসেফ যেহেতু ধর্মনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন, আবার তাঁকে প্রকাশ্যে নিন্দার পাত্র করতে অনিচ্ছুক ছিলেন বিধায় তাঁকে গোপনেই ত্যাগ করার সঙ্কল্প নিলেন।
তিনি এ সমস্ত ভাবছেন, এমন সময় দেখ, প্রভুর দূত স্বপ্নে তাঁকে দেখা দিয়ে বললেন, ‘দাউদসন্তান যোসেফ, তোমার স্ত্রী মারীয়াকে গ্রহণ করে নিতে ভয় করো না, কেননা তার গর্ভে যা জন্মেছে, তা পবিত্র আত্মার প্রভাবেই হয়েছে; সে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবে আর তুমি তাঁর নাম যিশু রাখবে, কারণ তিনিই নিজ জনগণকে তাদের পাপ থেকে ত্রাণ করবেন।’
এই সমস্ত ঘটল যেন নবীর মধ্য দিয়ে উচ্চারিত প্রভুর এই বচন পূর্ণ হয়:
দেখ, কুমারীটি গর্ভবতী হয়ে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবে,
আর লোকে তাঁকে ইম্মানুয়েল বলে ডাকবে,
নামটির অর্থ হল, আমাদের-সঙ্গে-ঈশ্বর।
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
ভিল্লানোভার বিশপ সাধু টমাসের উপদেশ

স্বর্গলোকে আজ কেমন আনন্দ, কেমন সুখ! যেসে-বংশের মূলকাণ্ডের যে অঙ্কুরকে এত দিন আগে কুলপতিদের মধ্যে রোপণ করা হয়েছিল, সেই অঙ্কুর আজ অঙ্কুরিত হয়ে বেড়ে উঠতে লাগল, ও এমন ফল ফলিত হবে যে ফলের জগৎকে নিরাময় করার কথা; ফল এমন, যার সুবাস মৃতদের পুনরুজ্জীবিত করে, যার স্বাদ পীড়িতদের সুস্থ করে তোলে, যার কান্তি স্বর্গদূতদের পুলকিত করে; ফলটি একাধারে শুভ্র ও রক্তলাল—তা দেখবার জন্য স্বর্গদূতেরা আকাঙ্ক্ষিত।
পিতা আদম, আনন্দ কর; মাতা হবা, আদমের চেয়ে তুমিই আনন্দে মেতে ওঠ। তোমরা যাঁরা ছিলে সকলের জন্মদানকারী আবার হলে সকলের ধ্বংসনকারী, এমনকি, জন্মদানকারী হওয়ার আগেও হয়েছিলে ধ্বংসনকারী; তাই তোমরা উভয়ই তোমাদের এ কন্যাকে নিয়ে সান্ত্বনা পাও—তোমাদের কন্যা, আহা, কেমন কন্যা! আদম, তুমি কী বলেছিলে? যাকে তুমি আমাকে দিয়েছ, সেই নারীই আমাকে সেই গাছের ফল দিয়েছে, আর আমি তা খেয়েছি (আদি ৩:১২)। আজ কিন্তু এক নারীর স্থানে তোমাকে অন্য নারীকে দেওয়া হচ্ছে, নির্বোধ এক নারীর জায়গায় বুদ্ধিমতী এক নারীকে, গর্বিতা এক নারীর পরিবর্তে বিনম্র এক নারীকে দেওয়া হচ্ছে; এমন নারী যিনি মরণবৃক্ষের নয় জীবনবৃক্ষেরই স্বাদ তোমাকে দেন, ও বিষাক্ত খাদ্যের তিক্ততার স্থানে শাশ্বত ফলের মাধুর্যই উৎপন্ন করেন।
হে চমৎকার কুমারী, তুমি সমস্ত মর্যাদার পরমযোগ্যা! হে নারী, কেবল তুমিই শ্রদ্ধার পাত্রী, সকল নারীর ঊর্ধ্বে প্রশংসনীয়া, আমাদের আদি পিতামাতার আরোগ্যদানকারিণী ও তোমার বংশধরদের জীবনদাত্রী! এসো, তেমন পুণ্য অঙ্কুরের রক্ষা গ্রহণ করে বলে উঠি: হে আমাদের সাহায্যকারিণী, আমাদের রানী, আমাদের পুলক: তোমার সদয় নয়নে আমাদের প্রতি কর দৃষ্টিপাত; এই নির্বাসনের পর তোমার গর্ভের ধন্য ফল সেই যিশুকে দেখাও মোদের!
অনেক দিন ধরে আমি চিন্তামগ্ন হয়ে দিশেহারার মত একথা বুঝতে চেষ্টা করে আসছি, কেনই বা সুসমাচার-রচয়িতা বাপ্তিস্মদাতা যোহন ও প্রেরিতদূতদের প্রসঙ্গে দীর্ঘ বর্ণনা দেন, কিন্তু জীবনাচরণ ও মর্যাদার দিক থেকে যিনি তাঁদের সকলের চেয়ে উৎকৃষ্টা, সেই কুমারী মারীয়ার প্রসঙ্গে কেবল স্বল্প কথাই বলেন। তেমন ব্যাপার উপলব্ধির চেষ্টায় দিশেহারা হয়ে আমি কেবল এ কথাই ভাবতে পারি যে, পবিত্র আত্মা তেমন ব্যবস্থায় প্রীত ছিলেন; পবিত্র আত্মার সঙ্কল্পক্রমেই সুসমাচার-রচয়িতা নীরব থাকলেন, কারণ—সামসঙ্গীতে যেভাবে পড়া যায়—কুমারীর গৌরব সম্পূর্ণরূপে অভ্যন্তরীণ হওয়ায় বর্ণনার চেয়ে ধ্যানেরই উপযুক্ত বিষয়। তাঁর জীবনের সর্বপ্রধান ঘটনা তথা তাঁর গর্ভে যিশুর জন্মই তাঁর সম্পূর্ণ ইতিহাস বর্ণনা করার জন্য যথেষ্ট; এর চেয়ে তোমরা আর কী জানতে চাও? কুমারী সম্বন্ধে আর কী অনুসন্ধান করবে? তোমাদের পক্ষে এ যথেষ্ট যে, তিনি ঈশ্বরজননী। জিজ্ঞাসা করি: এর চেয়ে কোন্‌ সৌন্দর্য, কোন্‌ সদ্‌গুণ, কোন্‌ সিদ্ধতা, কোন্‌ অনুগ্রহ, কোন্‌ গৌরব ঈশ্বরজননীর যোগ্যতর ভূষণ হতে পারে?
সুতরাং, তিনি সম্পূর্ণরূপেই সিদ্ধতা-প্রাপ্ত হওয়ায় তাঁর আংশিক বর্ণনা দেওয়া সমীচীন ছিল না, পাছে তুমি মনে কর যে, বর্ণনায় যা উল্লিখিত নয়, মারীয়া তা থেকে বঞ্চিতা। আমরা যখন বলতে পারি, তিনি ঈশ্বরজননী, তখন, ঈশ্বরের কথা বাদে, আর কারও বেলায় এর চেয়ে বড় কথা বলতে পারি না। কুমারী মারীয়া নিজেই নিজের গৌরবে বিস্মিতা, নিজের উন্নয়ন তিনি নিজেও উপলব্ধি করতে অক্ষম; বাস্তবিকই স্রষ্টার জননী পদে উন্নীতা হওয়ায় তিনি ন্যায়সঙ্গতভাবে সমস্ত সৃষ্টির রানী হয়ে উঠলেন। সত্যিই, মারীয়া, তোমার জন্য মহা মহা কাজ করেছেন সর্বশক্তিমান; সত্যিই, তিনি তোমাকে আপন জননী করায় যুগে যুগে সকলেই তোমাকে সুখী বলবে।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ১২২
ধুয়ো:
দেখ, কুমারীটি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করবেন,
যিনি নিজ জনগণকে তাদের পাপ থেকে ত্রাণ করবেন।

আমি আনন্দ পেলাম ওরা যখন আমাকে বলল,
‘এসো, চলি প্রভুর গৃহে!’
এখন এসে থেমেছে আমাদের চরণ
তোমার তোরণদ্বারে, হে যেরুসালেম।   [ধুয়ো]

যেরুসালেম দৃঢ়সংবদ্ধ নগরীর মতই গড়া,
সেইখানে উঠে আসে গোষ্ঠীসকল, প্রভুরই গোষ্ঠীসকল—
ইস্রায়েলের বিধি তো তারা করবে প্রভুর নামের স্তুতি, সেইখানে যে অধিষ্ঠিত আছে বিচারাসনগুলি,
দাউদকুলের সিংহাসনগুলি।   [ধুয়ো]

যেরুসালেমের জন্য তোমরা শান্তি যাচনা কর!
যারা তোমাকে ভালবাসে, তাদের সমৃদ্ধি হোক;
শান্তি হোক তোমার প্রাচীর-মাঝে,
তোমার দুর্গশ্রেণির মাঝে সমৃদ্ধি হোক!   [ধুয়ো]

আমার ভাই ও বন্ধুদের খাতিরে
আমি বলব, ‘তোমাতেই বিরাজ করুক শান্তি!’
আমাদের পরমেশ্বর প্রভুর গৃহের খাতিরে
আমি তোমার মঙ্গল অন্বেষণ করব।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এই পবিত্র রহস্যময় অন্ন গ্রহণে সঞ্জীবিত হয়ে উঠে
তোমার মণ্ডলী বিশ্বজগতের আশা ও পরিত্রাণের উষা
সেই ধন্যা কুমারীর জন্মতিথিতে উল্লসিত হোক।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৪ সেপ্টেম্বর - পবিত্র ক্রুশের বিজয়োৎসব
image পবিত্র ক্রুশ থেকে
মানুষ জীবন ফিরে পেয়েছে বলে
ক্রুশটিকে জীবন-বৃক্ষ বলে।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় হোন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে চালনা করুন।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি চেয়েছিলে,
তোমার একমাত্র পুত্র মানবপরিত্রাণের জন্য ক্রুশমৃত্যু বরণ করবেন।
তাই আশীর্বাদ কর: ইহলোকে আমরা যারা তাঁর মর্মসত্য জানতে পেরেছি,
যেন স্বর্গলোকে তাঁর মুক্তিকর্মের পুণ্যফল ভোগ করতে পারি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
গণনাপুস্তক থেকে পাঠ (২১:৪খ-৯)

সেসময়ে ইস্রায়েল সন্তানেরা পথ চলতে চলতে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ল। তারা পরমেশ্বর ও মোশির বিরুদ্ধে বলতে লাগল: ‘এই মরুপ্রান্তরে আমাদের মৃত্যু ঘটাবার জন্য তোমরা কেন মিশর থেকে আমাদের বের করে এনেছ? এখানে রুটিও নেই, জলও নেই; আর এই হালকা খাবারের প্রতি আমাদের একেবারে বিতৃষ্ণা হয়েছে।’ তখন প্রভু লোকদের মধ্যে বিষাক্ত সাপ পাঠালেন: এগুলো লোকদের কামড় দিলে ইস্রায়েলের অনেকে মারা পড়ল।
লোকেরা মোশিকে এসে বলল, ‘প্রভুর বিরুদ্ধে ও তোমার বিরুদ্ধে কথা বলে আমরা পাপ করেছি। তুমি প্রভুর কাছে প্রার্থনা কর, যেন তিনি আমাদের কাছ থেকে এই সকল সাপ দূর করে দেন।’ মোশি লোকদের হয়ে প্রার্থনা করলেন, এবং প্রভু মোশিকে বললেন, ‘তুমি একটা সাপ তৈরি করে তা একটা পতাকাদণ্ডের মাথায় লাগাও; যাকে সাপে কামড়িয়েছে, সে এই সাপের দিকে তাকালে বাঁচবে।’
মোশি ব্রঞ্জের একটা সাপ তৈরি করে তা পতাকাদণ্ডের মাথায় লাগালেন; আর সাপে কোন মানুষকে কামড়ালে সে যদি ওই ব্রঞ্জের সাপের দিকে তাকাত, তাহলে বাঁচত।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৭৮
ধুয়ো:
প্রভুর মহাকীর্তির কথা
তোমরা ভুলো না কোনদিন।

হে আমার আপন জাতি, আমার শিক্ষায় কান দাও,
আমার মুখের কথা কান পেতে শোন।
এক উপমা-কাহিনীর জন্য আমি মুখ খুলব,
অতীতের গূঢ় ইতিকথা উচ্চারণ করব।   [ধুয়ো]

তিনি তাদের সংহার করলে তারা তাঁকে খুঁজত,
তাঁর দিকে ফিরত, ঈশ্বরকে অনুসন্ধান করত;
তখন স্মরণ করত যে পরমেশ্বরই তাদের শৈল,
ঈশ্বর, সেই পরাৎপরই, তাদের মুক্তিসাধক।   [ধুয়ো]

মুখে তারা তাঁকে তোষামোদ করত,
জিহ্বায় তাঁকে মিথ্যা বলত;
তাঁর প্রতি নিষ্ঠাবান ছিল না কো তাদের অন্তর,
বিশ্বস্ত ছিল না তারা তাঁর সন্ধির প্রতি।   [ধুয়ো]

তবুও তাঁর করুণায় তিনি তাদের শঠতা ক্ষমা ক’রে
তাদের ধ্বংস করলেন না,
বহুবার ক্রোধ সংযত করলেন,
জাগাননি সমস্ত রোষ।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
হে খ্রিষ্ট, আমরা তোমাকে পূজা করি: ধন্য তুমি ধন্য!
তুমি যে তোমার ক্রুশ দ্বারা জগতের মুক্তি সাধন করেছ।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৩:১৩-১৭)

সেসময়ে যিশু নিকোদেমকে বললেন, ‘স্বর্গে কেউই গিয়ে ওঠেনি, সেই একজন ছাড়া যিনি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছেন—তিনি মানবপুত্র। এবং মোশি যেমন মরুপ্রান্তরে সেই সাপ উত্তোলন করেছিলেন, মানবপুত্রকেও তেমনি উত্তোলিত হতে হবে, যে কেউ বিশ্বাস করে, সে যেন তাঁর মধ্যে অনন্ত জীবন পেতে পারে।
ঈশ্বর জগৎকে এতই ভালবেসেছেন যে, তাঁর একমাত্র পুত্রকে দান করেছেন, তাঁর প্রতি যে কেউ বিশ্বাস রাখে, তার যেন বিনাশ না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পেতে পারে। কেননা ঈশ্বর জগৎকে বিচার করার জন্য তাঁর পুত্রকে জগতে প্রেরণ করেননি, কিন্তু এজন্য, জগৎ যেন তাঁর দ্বারা পরিত্রাণ পেতে পারে।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে বিশপ সাধু আগস্তিনের ব্যাখ্যা

স্বর্গে কেউই গিয়ে ওঠেনি, সেই একজন ছাড়া যিনি স্বর্গে রয়েছেন—তিনি মানবপুত্র (যোহন ৩:১৩ ভুলগাতা)। সুতরাং, খ্রিষ্ট এ পৃথিবীতে ছিলেন আর একইসময়ে স্বর্গেও ছিলেন: এ পৃথিবীতে দেহধারী রূপে ছিলেন, স্বর্গে ঈশ্বরত্বের পূর্ণতায় ছিলেন; এমনকি, ঈশ্বরত্বের পূর্ণতায় তিনি সর্বত্রই ছিলেন। তিনি জননীর গর্ভে জন্ম নিলেন, কিন্তু পিতা থেকে কখনও দূরে যাননি। সকলেরই জানা কথা যে, খ্রিষ্টে দু’টো জন্ম উপস্থিত: ঐশজন্ম ও মানবজন্ম। তাঁর ঐশজন্ম দ্বারা আমরা সৃষ্ট হয়েছি, তাঁর মানবজন্ম দ্বারা মুক্তি পেয়েছি। জন্ম দু’টো চমৎকার রহস্য: ঐশজন্মে তাঁর জননী নেই, মানবজন্মে তাঁর জনক নেই। কিন্তু আদম থেকে—বাস্তবিকই মারীয়া আদমেরই বংশধর—সেই দেহ ধারণ ক’রে যা তিনি একদিন পুনরুত্থিত করবেন, খ্রিষ্ট তখনই নিজ পার্থিব অবস্থা ইঙ্গিত করলেন যখন বললেন: এই পবিত্রধাম ভেঙে ফেল, আমি তিন দিনের মধ্যে তা পুনরুত্তোলন করব (যোহন ২:১৯)। আবার তিনি নিজ ঐশ অবস্থা তখনই ইঙ্গিত করলেন যখন বললেন: জল ও আত্মা থেকে জন্ম না নিলে কেউ ঐশরাজ্যে প্রবেশ করতে পারে না (যোহন ৩:৫)। সত্যিই, ভাইবোনেরা, ঈশ্বর মানবপুত্র হতে চাইলেন যেন মানুষ ঈশ্বরসন্তান হয়। তিনি আমাদের জন্য নেমে এলেন আর আমরা তাঁর দ্বারা আরোহণ করি।
হ্যাঁ, তিনি নেমে এলেন ও মৃত্যুবরণ করলেন, ও মৃত্যুবরণ করায় আমাদের মৃত্যু বিনাশ করলেন। ভাইবোনেরা, তোমরা ভাল করেই জান যে, শয়তানের হিংসায়ই মৃত্যু এ জগতে প্রবেশ করেছিল। এবিষয়ে শাস্ত্র বলে: ঈশ্বর মৃত্যুকে গড়েননি, জীবিতদের বিনাশেও তিনি প্রীত নন (প্রজ্ঞা ১:১৩-১৪)। তবু অন্যত্র কী লেখা আছে? শয়তানের হিংসার ফলেই মৃত্যু জগতে প্রবেশ করেছে (প্রজ্ঞা ২:২৪)।
শয়তান যে মৃত্যু উপস্থাপন করছিল, মানুষ বাধ্য হয়ে সেই মৃত্যু গ্রহণ করবে, এমনটি ছিল না; কেননা মানুষকে বাধ্য করবে শয়তানের এমন ক্ষমতা ছিল না; মানুষকে প্রবঞ্চিত করার মত কেবল সেই চাতুরি তার ছিল। মানুষ, তুমিই সম্মত হয়েছ! শয়তান কিছুই করতে পারত না; তোমার সম্মতিই তোমাকে মৃত্যুর হাতে ফেলে দিল। মরণশীল মানুষ থেকে আমরা মরণশীল অবস্থায় জন্ম নিয়েছি: আমরা অমর অবস্থায় সৃষ্ট হয়েছিলাম ও মৃত্যুর অধীন হলাম। আদম-সঞ্জাত সকল মানুষই মরণশীল; কিন্তু ঈশ্বরের পুত্র ও ঈশ্বরের বাণী সেই যিশু যাঁর দ্বারা সবকিছু সৃষ্ট হয়েছে, পিতার সমতুল্য সেই একমাত্র পুত্র মরণশীল হলেন, কারণ বাণী হলেন মাংস ও আমাদের মাঝে বাস করলেন (যোহন ১:৩, ১৪)।
তিনি নিজের উপরে মৃত্যু তুলে নিয়ে তা ক্রুশে বিদ্ধ করে দিলেন, তাতে মরণশীলদের মৃত্যু থেকে মুক্ত করলেন। তেমন কিছু প্রাচীন হিব্রুদের বেলায় দৃষ্টান্তের আকারে ঘটেছিল, যেমনটি প্রভু একথা বলে স্মরণ করিয়ে দেন: মোশি যেমন মরুপ্রান্তরে সেই সাপ উত্তোলন করেছিলেন, মানবপুত্রকেও তেমনি উত্তোলিত হতে হবে, যে কেউ বিশ্বাস করে, সে যেন তাঁর মধ্যে অনন্ত জীবন পেতে পারে (যোহন ৩:১৪-১৫)। যিশু প্রতীকমূলক এক মহাঘটনার দিকেই ইঙ্গিত করছিলেন, আর যারা শাস্ত্র পড়েছে তারা ঘটনাটা ভালই জানে। হিব্রু জাতি মরুভূমিতে সাপের কামড়ে ধ্বংসিত হচ্ছিল, ও মৃতদের সংখ্যা বড় হতে চলছিল: তারা ঈশ্বরের গুরুতম আঘাতে আঘাতগ্রস্ত হচ্ছিল, কারণ তিনি তাদের শাস্তি দিয়ে শাসন দ্বারা চেতনাই দেবেন বলে অভিপ্রায় করছিলেন। সেই রহস্যময় প্রতীক দ্বারা ভাবীকালের একটি ঘটনা পূর্বাভাস পেয়েছিল; ব্যাপারটা স্বয়ং প্রভুই উপরে উল্লিখিত পদে সপ্রমাণ করলেন, স্বয়ং সত্য যখন ঘটনাটা নিজের বেলায় আরোপ করান, তখন কোন মানুষ যেন সে বিষয়ে অন্য ব্যাখ্যা উত্থাপন করতে সাহস না করে। মোশিকে প্রভু বলেছিলেন তিনি যেন ব্রঞ্জের একটা সাপ তৈরি করে তা একটা পতাকাদণ্ডের মাথায় রাখেন, এবং জনগণকে একথাও জানান যে, সাপ যাকে কামড় দেবে সে যেন পতাকাদণ্ডের মাথায় রাখা সেই ব্রঞ্জের সাপের দিকে তাকায়।
পতাকাদণ্ডের মাথায় উত্তোলিত সাপ কীসের প্রতীক? প্রভুর মৃত্যুরই প্রতীক। তাঁর মৃত্যু সাপেই প্রতীকাকারে প্রদর্শিত ছিল, কারণ ঠিক এক সাপ থেকেই মৃত্যু এজগতে প্রবেশ করেছিল! সাপের কামড় মৃত্যু ঘটায়, প্রভুর মৃত্যু জীবন এনে দেয়। খ্রিষ্ট কি জীবন নন? অথচ খ্রিষ্ট মৃত্যু বরণ করতে ইচ্ছা করলেন! কিন্তু খ্রিষ্ট মৃত্যুবরণ করায়ই মৃত্যুরই মৃত্যু হল, কারণ মৃত্যুবরণ করায় জীবন মৃত্যুকে হত্যা করলেন। জীবন-পূর্ণতা মৃত্যুকে গ্রাস করলেন; খ্রিষ্টের মৃতদেহ মৃত্যুকে কেমন যেন নিজেতেই চুষে নিল (১ করি ১৫:৫৪, ৫৭ দ্রঃ)।
সেই পুনরুত্থানে আমরাও একথা বলতে পারব, যখন বিজয়ী হয়ে গান করব: ওহে মৃত্যু, তোমার বিজয় কোথায়? কোথায়, মৃত্যু, তোমার হুল? (১ করি ১৫:৫৫)। এর মধ্যে, ভাইবোনেরা, পাপ থেকে নিরাময় লাভের জন্য, এসো, ক্রুশবিদ্ধ খ্রিষ্টের দিকে তাকিয়ে থাকি।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ১১৬
ধুয়ো:
আমাকে যখন ভূলোক থেকে উত্তোলন করা হবে,
তখন সকলকে নিজের কাছে আকর্ষণ করব। প্রভুর উক্তি।

আমার প্রতি প্রভুর সমস্ত উপকারের জন্য
প্রতিদানে আমি তাঁকে কী দিতে পারব?
পরিত্রাণের পানপাত্র তুলে ধরে
আমি করব প্রভুর নাম।   [ধুয়ো]

প্রভুর উদ্দেশে আমার ব্রতসকল উদ্‌যাপন করব
তাঁর সমস্ত জনগণের সামনে।
প্রভুর দৃষ্টিতে মূল্যবান
তাঁর ভক্তদের মৃত্যু।   [ধুয়ো]

দোহাই প্রভু! আমি তো তোমার দাস, আমি তোমারই দাস, তোমার দাসীর পুত্র,
তুমি খুলে দিয়েছ আমার শৃঙ্খল।
তোমার উদ্দেশে ধন্যবাদ-বলি উৎসর্গ ক’রে
আমি করব প্রভুর নাম।   [ধুয়ো]

প্রভুর উদ্দেশে আমার ব্রতসকল উদ্‌যাপন করব
তাঁর সমস্ত জনগণের সামনে,
প্রভুর গৃহের প্রাঙ্গণে,
হে যেরুসালেম, তোমারই অন্তঃস্থলে।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট, তোমার পবিত্র ভোজসভায় পরিতৃপ্ত হয়ে উঠে
আমরা বিনীত কণ্ঠে মিনতি জানাই:
জীবনদায়ী ক্রুশবৃক্ষ দ্বারা যাদের মুক্তি তুমি সাধন করেছ,
পুনরুত্থানের গৌরবে তাদের চালনা কর।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তুমি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]