সাধু বেনেডিক্ট মঠের ওয়েব-সাইট - মহেশ্বরপাশা - খুলনা - বাংলাদেশ
[অনলাইন পঞ্জিকা]
পর্ব ও মহাপর্ব
জানুয়ারীফোব্রুয়ারীমার্চএপ্রিলমেজুন
২৫ - সাধু পলের বিশ্বাস জাগরণ
  
  
  ২ - প্রভুকে উপস্থাপন
২২ - সাধু পিতরের ধর্মাসন
  
১৯ - সাধু যোসেফ
২৫ - প্রভুর আগমন সংবাদ
  
২৫ - সাধু মার্ক
  
  
  ৩ - সাধু ফিলিপ ও যাকোব
১৪ - সাধু মাথিয়াস
৩১ - শুভসাক্ষাৎ
২৪ - বাপ্তিস্মদাতার জন্মতিথি
২৯ - সাধু পিতর ও পল
  
জুলাইআগষ্টসেপ্টেম্বরঅক্টোবরসভেম্বরডিসেম্বর
  ৩ - সাধু টমাস
১১ - সাধু বেনেডিক্ট
২২ - সাধী মারীয় মাগদালেনা
২৫ - সাধু যাকোব
  ৬ - প্রভুর রূপান্তর
১০ - সাধু লরেন্স
১৫ - মারীয়ার স্বর্গোন্নয়ন
২৪ - সাধু বার্থলমেয়
  ৮ - মারীয়ার জন্মতিথি
১৪ - ক্রুশের বিজয়োৎসব
২১ - সাধু মথি
২৯ - মহাদূত মিখায়েল
১৮ - সাধু লুক
২৮ - সাধু সিমোন ও যুদা
  
  
  ১ - নিখিল সাধুসাধ্বী
  ২ - পরলোকগত ভক্তবৃন্দ
  ৯ - লাতেরান মহাগির্জা
৩০ - সাধু আন্দ্রীয়
  ৮ - অমলোদ্ভবা মারীয়া
২৬ - সাধু স্তেফান
২৭ - সাধু যোহন
২৮ - নিরপরাধী শিশুগণ
সাধু বেনেডিক্ট বাদে উপরোল্লিখিত অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি রোমীয় সাধারণ পঞ্জিকায় পর্ব ও মহাপর্ব বলে চিহ্নিত।    


২১ সেপ্টেম্বর - সাধু মথি, প্রেরিতদূত ও সুসমাচার-রচয়িতা
যিশুর ডাকে সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিয়ে
মথি শুল্কঘর ছেড়ে
নিজের বিষয়-সম্পত্তি বিলিয়ে দিয়ে
সুসমাচার-রচয়িতা হন।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি অনির্বচনীয় দয়া দেখিয়ে কর-আদায়কারী সাধু মথিকে
প্রেরিতদূত রূপে মনোনীত করতে প্রসন্ন হয়েছিলে।
আশীর্বাদ কর: তাঁর আদর্শ ও নিত্য প্রার্থনায় উদ্দীপিত হয়ে আমরা যেন
তোমার অনুসরণ করে তোমাকে দৃঢ়তর ভাবে আঁকড়িয়ে ধরে থাকি।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৪:১-৭,১১-১৩)

প্রিয়জনেরা, প্রভুতে সেই বন্দি এই আমি তোমাদের আবেদন জানাচ্ছি, তোমরা যে আহ্বানে আহূত হয়েছ, তারই যোগ্য ভাবে চল: সম্পূর্ণ বিনম্রতা ও কোমলতার সঙ্গে, এবং সহিষ্ণুতার সঙ্গে চল, ভালবাসায় পরস্পরের প্রতি ধৈর্যশীল হও, শান্তির বন্ধনেই আত্মার ঐক্য রক্ষা করতে যত্নবান হও।
দেহ এক, এবং আত্মা এক, যেমন তোমাদের আহ্বানের সেই প্রত্যাশাও এক, যে প্রত্যাশায় তোমরা আহূত হয়েছ। প্রভু এক, বিশ্বাস এক, বাপ্তিস্ম এক; সকলের পিতা সেই ঈশ্বর এক, যিনি সকলের ঊর্ধ্বে, সকলের দ্বারা সক্রিয়, ও সকলের অন্তরে বিদ্যমান।
তথাপি খ্রিষ্টের দানের মাত্রা অনুসারে আমাদের প্রত্যেকজনকে অনুগ্রহ দেওয়া হয়েছে। আর সেই ‘দেওয়াটা’ অনুসারে তিনি নিজেই কাউকে প্রেরিতদূত, কাউকে নবী, কাউকে সুসমাচার-প্রচারক, কাউকে পালক ও শিক্ষাগুরু নিযুক্ত করলেন, যেন খ্রিষ্টের দেহ গেঁথে তোলার লক্ষ্যে তিনি সেবাকর্মের জন্য পবিত্রজনদের যথার্থই উপযুক্ত করে তুলতে পারেন—যতক্ষণ না আমরা সবাই ঈশ্বরপুত্র-সম্পর্কিত বিশ্বাস ও জ্ঞানের ঐক্যে পৌঁছে খ্রিষ্টের পরিপূর্ণতার পূর্ণমাত্রা অনুযায়ী সিদ্ধপুরুষ হয়ে উঠি।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৯
ধুয়ো:
সারা পৃথিবী জুড়ে
ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের স্বরধ্বনি।

আকাশমণ্ডল বর্ণনা করছে ঈশ্বরের গৌরব,
গগনতল ঘোষণা করছে তাঁর হাতের কর্মকীর্তি;
দিন দিনের কাছে সেই কথা ব্যক্ত করে,
রাত রাতের কাছে সেই জ্ঞান জ্ঞাত করে।   [ধুয়ো]

নেই কোন কথা, নেই কোন বাণী,
শোনা যায় না কো তাদের কণ্ঠস্বর,
তবু সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তাদের স্বরধ্বনি,
বিশ্বের প্রান্তসীমায় তাদের বচন।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তুমি ঈশ্বর, তোমারই করি প্রশংসাগান,
তুমি প্রভু, তা-ই আমরা করি স্বীকার।
প্রেরিতদূতেরা গৌরবের কণ্ঠে
তোমারই স্তুতি করেন গান।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৯:৯-১৩)

সেসময়ে, এগিয়ে যেতে যেতে যিশু দেখলেন, মথি নামে একজন লোক শুল্কঘরে বসে আছেন; তিনি তাঁকে বললেন, ‘আমার অনুসরণ কর।’ আর তিনি উঠে তাঁর অনুসরণ করলেন। তখন এমনটি ঘটল যে, তিনি বাড়িতে ভোজে বসেছেন, সেসময় অনেক কর-আদায়কারী ও পাপী এসে যিশুর ও তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে বসল। তা দেখে ফরিসিরা তাঁর শিষ্যদের বললেন, ‘তোমাদের গুরু কেন কর-আদায়কারী ও পাপীদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করছেন?’
কথাটা শুনে তিনি বললেন, ‘সুস্থ লোকদেরই যে চিকিৎসকের প্রয়োজন হয় এমন নয়, যারা পীড়িত, তাদেরই প্রয়োজন। আপনারা গিয়ে এই বচনের অর্থ শিখে নিন: আমি দয়াই চাই, বলিদান নয়; কেননা আমি ধার্মিকদের নয়, পাপীদেরই আহ্বান জানাতে এসেছি।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
পুরোহিত মাননীয় সাধু বীডের উপদেশ

যেতে যেতে যিশু দেখলেন, মথি নামে একজন লোক শুল্কদপ্তরে বসে আছেন। তাঁকে তিনি বললেন, আমার অনুসরণ কর (মথি ৯:৯)। দেহের চোখ দিয়ে নয়, প্রেমেরই অন্তর্দৃষ্টিতেই যিশু তাঁকে দেখলেন। তিনি একজন কর-আদায়কারীকে দেখলেন ও যেহেতু প্রেমপূর্ণ দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকালেন ও তাঁকে মনোনীত করলেন, সেজন্য বললেন, আমার অনুসরণ কর। তাঁকে তিনি বললেন, আমার অনুসরণ কর, অর্থাৎ, আমার অনুকরণই কর। আসলে তিনি তাঁকে বললেন, পায়ে হেঁটে শুধু নয়, তোমার জীবনাচরণেই বরং আমার অনুসরণ কর। কেননা যে বলে সে তাঁর মধ্যে বসবাস করছে, তাকেও সেইভাবে চলতে হয়, তিনি নিজে যেভাবে চললেন (১ যোহন ২:৬)।
সেই লোক উঠে তাঁর অনুসরণ করলেন (মথি ৯:৯)। একটি কর-আদায়কারী যে আহ্বানকারী প্রভুর প্রথম কথা শুনে আপন প্রেমের বস্তু সেই জাগতিক লাভজনক ব্যবসা ত্যাগ করলেন ও যত ঐশ্বর্য ছেড়ে তাঁরই অনুসরণ করতে সম্মত হলেন যাঁকে তিনি ঐশ্বর্যহীন দেখছিলেন, এতে বিস্মিত হওয়ার কিছুই নেই। কেননা যিনি বাহ্যিক দিক দিয়ে বাণী দ্বারা তাঁকে আহ্বান করলেন, সেই একই যিশু অনুসরণের জন্য অদৃশ্য প্রেরণা দানে তাঁকে অন্তরেই চেতনা দিলেন। যিশু তাঁর অন্তরে এমন আত্মিক অনুগ্রহের আলো সঞ্চার করলেন, যা গুণে মথি উপলব্ধি করতে পারলেন যে, যিনি পৃথিবীতে নশ্বর জিনিস থেকে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করছিলেন, তিনি স্বর্গে অবিনশ্বর সম্পদ দিতে সক্ষম।
তখন এমনটি ঘটল যে, তিনি বাড়িতে ভোজে বসেছেন, সেসময় অনেক কর-আদায়কারী ও পাপী এসে যিশুর ও তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে বসল (মথি ৯:১০)। দেখ! একজনমাত্র কর-আদায়কারীর মনপরিবর্তন বহু কর-আদায়কারী ও পাপী মানুষের মনপরিবর্তনের প্রেরণায় পরিণত হল, ও একজনের পাপের ক্ষমা অন্য সকলের পাপের ক্ষমার কারণ হল। তা সত্যিই ভাবী বিষয়গুলোর এক প্রকৃত ও চমৎকার পূর্বচিহ্ন। যাঁর প্রেরিতদূত ও ধর্মগুরু হওয়ার কথা, তিনি তাঁর আপন মনপরিবর্তনের সূত্রপাতে পাপীর ভিড় নিজের কাছে আকর্ষণ করলেন। শুরু থেকেই, ধর্মবিশ্বাসের প্রথম বিষয়বস্তু শেখা মাত্রই তিনি সেই বাণীপ্রচারকাজ আরম্ভ করলেন যা পরবর্তীকালে আপন পবিত্রীকরণের বৃদ্ধির সাথে সাথে চালিয়ে যেতে থাকবেন।
সেদিন যা ঘটেছিল, আমরা যদি তার অর্থ আরও গভীরভাবে অনুধাবন করতে ইচ্ছা করি, তবে আমরা বুঝব যে মথি আপন জাগতিক গৃহে প্রভুর দেহের জন্য কেবলমাত্র এক ভোজের আয়োজন করেননি; তিনি বরং তাঁর জন্য বিশ্বাস ও প্রেম গুণে নিজের হৃদয়-গভীরেই অধিক গ্রহণযোগ্য ভোজের আয়োজন করলেন। তিনিই একথা সত্য বলে প্রমাণ করছেন, যিনি এ কথাও বলেন, দেখ, আমি দরজায় দাঁড়িয়ে ঘা দিচ্ছি; আমার গলা শুনে কেউ যদি দরজাটা খুলে দেয়, তাহলে আমি তার কাছে প্রবেশ করব, তার সঙ্গে ভোজে বসব আর সেও বসবে আমার সঙ্গে (প্রকাশ ৩:২০)।
তাঁকে বরণ করার জন্য আমরা তখনই দরজা খুলি, যখন তাঁর কণ্ঠ শুনে তাঁর গোপন বা স্পষ্ট আমন্ত্রণে আনন্দের সঙ্গে সায় দিই ও যখন আমাদের উপরে তাঁর ন্যস্ত কর্তব্যকাজে দায়িত্ববোধের সঙ্গে হাত দিই। তখনই তিনি ঘরে প্রবেশ করেন যাতে তিনি আমাদের সঙ্গে ও আমরা তাঁর সঙ্গে ভোজে বসতে পারি, কেননা নিজ উপস্থিতির আলো-দানে তাঁর মনোনীতদের নিত্য আরাম দেবার জন্য তিনি আপন প্রেমের অনুগ্রহ দ্বারা তাদের হৃদয়-কক্ষে বাস করতে আসেন। ফলে এরা স্বর্গীয় বাসনায় উত্তরোত্তর অগ্রগতিতে অগ্রসর হতে সক্ষম হয়ে ওঠে; আর সেইসঙ্গে তিনিও স্বর্গীয় বিষয়ের প্রতি এদের আকাঙ্ক্ষা দ্বারা যেন সুস্বাদু খাদ্যের আয়োজনে আরাম পান।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ১২৬
ধুয়ো:
আমি ধার্মিকদের নয়,
পাপীদেরই আহ্বান জানাতে এসেছি। প্রভুর উক্তি।

আমার প্রতি প্রভুর সমস্ত উপকারের জন্য
প্রতিদানে আমি তাঁকে কী দিতে পারব?
পরিত্রাণের পানপাত্র তুলে ধরে
আমি করব প্রভুর নাম।   [ধুয়ো]

প্রভুর উদ্দেশে আমার ব্রতসকল উদ্‌যাপন করব
তাঁর সমস্ত জনগণের সামনে।
প্রভুর দৃষ্টিতে মূল্যবান
তাঁর ভক্তদের মৃত্যু।   [ধুয়ো]

দোহাই প্রভু! আমি তো তোমার দাস, আমি তোমারই দাস, তোমার দাসীর পুত্র,
তুমি খুলে দিয়েছ আমার শৃঙ্খল।
তোমার উদ্দেশে ধন্যবাদ-বলি উৎসর্গ ক’রে
আমি করব প্রভুর নাম।   [ধুয়ো]

প্রভুর উদ্দেশে আমার ব্রতসকল উদ্‌যাপন করব
তাঁর সমস্ত জনগণের সামনে,
প্রভুর গৃহের প্রাঙ্গণে,
হে যেরুসালেম, তোমারই অন্তঃস্থলে।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, সাধু মথির ঘরে ত্রাণকর্তা অতিথি হলে
সাধু মথি যে আনন্দে আনন্দিত হয়েছিলেন, আমরা সেই আনন্দে মেতে উঠি।
আশীর্বাদ কর, আমরা যেন সর্বদা সেই খ্রিষ্টেরই অন্নে পরিতৃপ্ত হই,
যিনি ধার্মিককে নয়, পাপীকেই পরিত্রাণের আহ্বান জানাতে এসেছিলেন।
বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে তিনি যুগে যুগে বিরাজমান।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৯ সেপ্টেম্বর - মহাদূত মিখায়েল ও স্বর্গদূতবৃন্দ
মহাদূত মিখায়েল গাব্রিয়েল ও রাফায়েল প্রভুর নিত্যসেবায় রত।
মিখায়েল নামের অর্থ: কেবা ঈশ্বরের মত?
গাব্রিয়েল নামের অর্থ: ঈশ্বরের শক্তি।
রাফায়েল নামের অর্থ: ঈশ্বরের ঔষধ।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি অপূর্বভাবে স্বর্গদূতের ও মানবের উপর
ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্বভার আরোপ করে থাক। প্রসন্ন হয়ে আশীর্বাদ কর:
স্বর্গলোকে যাঁরা তোমার নিত্য সেবায় রত,
তাঁরা যেন ইহলোকে আমাদের অবিরতই রক্ষা করেন।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
নবী দানিয়েলের পুস্তক থেকে পাঠ (৭:৯-১০,১৩-১৪)

আমি, দানিয়েল, তখনও তাকিয়ে আছি,
এমন সময় কয়েকটা সিংহাসন এনে রাখা হল,
এবং প্রাচীন একজন আসন নিলেন:
তাঁর পোশাক তুষারের মত শুভ্র, ও তাঁর মাথার চুল পশমের মত শুভ্র;
তাঁর সিংহাসন ছিল অগ্নিশিখার মত,
তার চাকাগুলো জ্বলন্ত আগুনের মত।
তাঁর সম্মুখ থেকে অগ্নি-স্রোত নির্গত হয়ে বয়ে চলছিল;
লক্ষ লক্ষ কারা যেন তাঁর সেবা করছিল,
এবং কোটি কোটি কারা যেন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
তখন বিচারসভা আসন নিল, ও পুস্তকগুলো খোলা হল।
আমি রাত্রিবেলায় আবার দর্শনে দেখছিলাম,
এমন সময়ে আকাশের মেঘের সঙ্গে
মানবপুত্রের মত কে যেন একজন এগিয়ে আসছেন:
সেই প্রাচীনজনের কাছে এসে উপস্থিত হলে
তাঁকে তাঁর সাক্ষাতে আনা হল;
তাঁকে আরোপ করা হল কর্তৃত্ব, মহিমা ও রাজ-অধিকার;
সকল জাতি, দেশ ও ভাষার মানুষ তাঁর সেবায় নিবদ্ধ হল।
তাঁর কর্তৃত্ব সনাতন কর্তৃত্ব যা কখনও লোপ পাবে না,
এবং তাঁর রাজ্য কখনও বিলুপ্ত হবে না।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৩৮
ধুয়ো:
এসো, প্রভুর স্তুতিগান করি,
তাঁর গৌরব মহান।

সমস্ত হৃদয় দিয়ে আমি তোমায় জানাই ধন্যবাদ,
তুমি যে শুনেছ আমার মুখের কথা।
ঐশজীবদের সামনে করি তোমার স্তবগান,
তোমার পবিত্র মন্দির পানে করি প্রণিপাত।   [ধুয়ো]

তোমার কৃপা, তোমার বিশ্বস্ততার জন্য করি তোমার নামের স্তুতি,
তুমি যে তোমার সমস্ত নাম দ্বারা তোমার বচন করেছ মহান।
যেদিন তোমাকে ডেকেছি তুমি আমায় দিয়েছ সাড়া,
শক্তি উদ্দীপিত করেছ আমার প্রাণে।   [ধুয়ো]

প্রভু, তোমার মুখের সমস্ত কথা শুনে
পৃথিবীর সকল রাজা করেন তোমার স্তুতি।
তাঁরা গান করেন প্রভুর সমস্ত পথের কথা,
কারণ প্রভুর গৌরব মহান।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
প্রভুর সেবাকর্মী যারা, তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ কর যারা,
তাঁর সেই সকল বাহিনী, প্রভুকে বল ধন্য।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১:৪৭-৫১)

সেসময়ে, নাথানায়েলকে নিজের দিকে আসতে দেখে যিশু তাঁর সম্বন্ধে বললেন, ‘ওই দেখ, একজন প্রকৃত ইস্রায়েলীয়, যার মধ্যে ছলনা নেই।’
নাথানায়েল তাঁকে বললেন, ‘আপনি কী করে আমাকে চেনেন?’ উত্তরে যিশু তাঁকে বললেন, ‘ফিলিপ তোমাকে ডাকবার আগে, তুমি যখন সেই ডুমুরগাছের তলায় ছিলে, আমি তোমাকে দেখলাম।’ নাথানায়েল উত্তর দিলেন, ‘রাব্বি, আপনি ঈশ্বরের পুত্র, আপনি ইস্রায়েলের রাজা।’
যিশু এই বলে তাঁকে উত্তর দিলেন, ‘সেই ডুমুরগাছের তলায় তোমাকে দেখেছি, একথা বলেছি বিধায় তুমি কি বিশ্বাস কর? এর চেয়ে অনেক বড় কিছু দেখতে পাবে!’ তিনি বলে চললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি সত্যি বলছি, তোমরা দেখতে পাবে, স্বর্গলোক উন্মুক্ত, এবং ঈশ্বরের দূতেরা মানবপুত্রের উপরে উঠে যাচ্ছেন ও নেমে আসছেন।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
পোপ মহাপ্রাণ সাধু গ্রেগরির উপদেশ

একথা জানা উচিত যে, ‘দূত’ শব্দটি স্বরূপ নয়, একটা ভূমিকাই ব্যক্ত করে। বস্তুতপক্ষে স্বর্গীয় মাতৃভূমির সেই ধন্য জীবাত্মাবৃন্দ সবসময়ের মতই জীবাত্মা হয়ে থাকেন; অথচ তাঁদের সবসময় ‘দূত’ বলে অভিহিত করা চলে না, কেননা যখন তাঁদের মধ্য দিয়ে একটি সংবাদ দেওয়া হয়, শুধু তখনই তাঁদের দূত বলা উচিত। তাঁদের মধ্যে যাঁরা সাধারণ সংবাদ দেন, তাঁদের বলা হয় দূত, কিন্তু যাঁরা মহাঘটনারই সংবাদ দেন, তাঁদের মহাদূত‑ই বলা হয়।
এজন্যই তো কুমারী মারীয়ার কাছে সাধারণ এক দূত নয়, কিন্তু গাব্রিয়েল মহাদূত‑ই প্রেরিত হন। প্রকৃতপক্ষে যত সংবাদের মধ্যে সবচেয়ে মহাসংবাদ দেবার জন্য, তেমন দায়িত্ব নিয়েই যে দূতদের মধ্যে প্রধান একটা দূত প্রেরিত হলেন, তা সত্যি সমীচীন ছিল।
মহাদূতবৃন্দ এমন বিশেষ বিশেষ নামের অধিকারী যার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় তাঁরা কোন্‌ বিশেষ কাজে নিযুক্ত। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের দর্শন থেকে নির্গত সেই পূর্ণজ্ঞান যা নগরীকে পূর্ণতা দান করে, সেই স্বর্গীয় পবিত্র নগরীতে এক এক দূতের এমন ভিন্ন ভিন্ন নাম নেই যা তাঁদের ব্যক্তিত্ব চিহ্নিত করে। কিন্তু, তাঁরা বিশেষ কাজের জন্য যখন আমাদের কাছে আসেন, তখন সেই বিশেষ কাজ অনুসারেই একটা বিশেষ নাম ধারণ করেন।
তাই মিখায়েলের অর্থ হল: কেবা ঈশ্বরের মত? গাব্রিয়েলের অর্থ ঈশ্বরের শক্তি, ও রাফায়েলের অর্থ ঈশ্বরের ঔষধ।
যখন এমন কিছু করা প্রয়োজন যা সাধনের জন্য মহা সাহস ও শক্তি দরকার, তখন বলা হয় যে মিখায়েলই প্রেরিত, যাতে কাজ ও নামের মধ্য দিয়ে বোঝা যেতে পারে যে, ঈশ্বরের মত কাজ করার সাধ্য কারও নেই। গর্ব ক’রে যে ঈশ্বরের মত হতে কামনা করে বলেছিল, আমি স্বর্গ পর্যন্তই আরোহণ করব, ঈশ্বরের তারানক্ষত্রের ঊর্ধ্বেও আমার সিংহাসন স্থাপন করব, আমি পরাৎপরের সমকক্ষ হব (ইসা ১৪:১৩, ১৪), সেই আদিম শত্রু জগৎশেষে একাকী হয়ে চরম দণ্ডাদেশে দণ্ডিত হবে। আচ্ছা, যোহনের বাণী অনুসারে, সেই শত্রু মহাদূত মিখায়েলের সঙ্গে সংগ্রামরত বলে উপস্থাপিত: মিখায়েলের সঙ্গে একটা যুদ্ধ বেধে গেল (প্রকাশ ১২:৭)।
মারীয়ার কাছে সেই গাব্রিয়েল প্রেরিত, যাঁর নামের অর্থ ঈশ্বরের শক্তি। তিনি তাঁরই সংবাদ দিতে এসেছিলেন, যিনি অন্তরীক্ষের অপশক্তিবৃন্দকে পরাস্ত করার জন্য নিজের প্রসন্নতায় বিনম্র অবস্থায় আবির্ভূত হলেন। তাই, যিনি স্বর্গবাহিনীর প্রভু ও শক্তিশালী যোদ্ধা বলে আসছিলেন, সঙ্গতভাবেই তাঁর আগমনের সংবাদ ‘ঈশ্বরের শক্তি’ দ্বারাই দেওয়া প্রয়োজন ছিল।
উপরে বলেছি, রাফায়েলের অর্থ ঈশ্বরের ঔষধ। বস্তুতপক্ষে তিনি চিকিৎসকের মতই তোবিতের চোখ স্পর্শ করে তাঁর অন্ধতার অন্ধকার ঘুচিয়ে দিলেন। তাই যিনি আরোগ্যদান করতে প্রেরিত হলেন, তাঁকে যে ‘ঈশ্বরের ঔষধ’ বলা হয়, তাও যুক্তিসঙ্গত।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
সমস্ত হৃদয় দিয়ে আমি তোমাকে জানাব ধন্যবাদ,
স্বর্গদূতদের সামনে করব তোমার স্তবগান।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, স্বর্গীয় অন্নে পরিপুষ্ট হয়ে আমরা বিনীত কণ্ঠে অনুনয় করি:
সেই অন্নের শক্তিতে শক্তিশালী হয়ে উঠে
ও তোমার স্বর্গদূতদের বিশ্বস্ত রক্ষায় প্রতিপালিত হয়ে
আমরা যেন পরিত্রাণের পথে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে চলতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১৮ অক্টোবর - সাধু লুক, সুসমাচার-রচয়িতা
একজন স্বর্গদূতের প্রেরণায়
সাধু লুক সুসমাচার রচনা করেন।
কথিত আছে,
তিনি মা মারীয়ার চিত্রাঙ্কন করেছিলেন।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু ঈশ্বর,
তুমি সাধু লুককে মনোনীত করেছিলে, তিনি যেন আপন প্রচারে ও রচনাবলিতে দীনদরিদ্রের প্রতি তোমার ভালবাসার রহস্য প্রকাশ করেন।
আশীর্বাদ কর: তোমার নামে গৌরববোধ করে যারা,
তারা যেন একমন একপ্রাণ হয়ে নিষ্ঠাবান থাকে,
সকল জাতিও যেন দেখতে পায় তোমার পরিত্রাণ।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
তিমথির কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের দ্বিতীয় পত্র থেকে পাঠ (৪:১০-১৭খ)

সন্তান আমার, দেমাস এই বর্তমান যুগের আসক্তিতে আমাকে ত্যাগ করে থেসালোনিকিতে চলে গেছে; ক্রেসেন্স গালাতিয়ায় গিয়েছেন, আর তীত দাল্‌মাতিয়ায়। একমাত্র লুক আমার সঙ্গে আছেন।
তুমি মার্ককে সঙ্গে করে এসো, কারণ ধর্মসেবা কাজের উদ্দেশ্যে সে আমার উপযোগী হবে। তিখিকসকে এফেসসে পাঠিয়েছি। ত্রোয়াসে কার্পসের কাছে যে আলোয়ানটা রেখে এসেছি, আসবার সময়ে তা এখানে নিয়ে এসো; সব পুঁথিপত্রও সঙ্গে করে নিয়ে এসো, বিশেষভাবে নোটখাতাগুলো। কাঁসারী আলেক্সান্দার আমার অনেক ক্ষতি করেছে; প্রভু তাকে তার কাজের যোগ্য প্রতিফল দেবেন। লোকটার বিষয়ে তুমিও সাবধান থাক, কারণ সে আমাদের বাণীপ্রচারের উগ্র বিরোধী হয়েছে।
আমার প্রথম পক্ষসমর্থনের সময়ে আমাকে সহায়তা করতে কেউই এগিয়ে আসেনি; সকলেই আমাকে ত্যাগ করেছে; ওদের এই দোষ গণ্য করা না হোক। কিন্তু তবু প্রভুই আমার পাশে দাঁড়ালেন এবং আমার অন্তরে পরাক্রম যোগালেন, যার ফলে সেদিন আমার মধ্য দিয়ে বাণী-ঘোষণা সম্পূর্ণরূপে সাধিত হল এবং বিজাতীয়রা সকলে তা শুনতে পেল।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ১৪৫
ধুয়ো:
তোমার সাধুসাধ্বী, প্রভু,
বলে যান তোমার রাজ্যের গৌরব।

প্রভু, তোমার সকল কাজ করবে তোমার স্তুতি;
তোমার ভক্তরা তোমাকে বলবে ধন্য।
তারা বলে যাবে তোমার রাজ্যের গৌরব,
প্রচার করবে তোমার পরাক্রম।   [ধুয়ো]

আদমসন্তানদের কাছে তারা জানাবে তোমার পরাক্রান্ত কীর্তির কথা,
জানাবে তোমার রাজ্যের মহিমময় গৌরব।
তোমার রাজ্য সর্বকালীন রাজ্য,
তোমার শাসন সর্বযুগস্থায়ী।   [ধুয়ো]

প্রভু সকল পথে ধর্মময়,
সকল কাজে কৃপাময়।
যারা তাঁকে ডাকে, অন্তর দিয়েই তাঁকে ডাকে,
প্রভু তাদের সকলের কাছে কাছেই থাকেন।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
আমিই তোমাদের বেছে নিয়েছি
—একথা বলছেন প্রভু—
যেন তোমরা গিয়ে ফলশালী হও,
তোমাদের ফলও যেন স্থায়ী হয়।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (১০:১-৯)

সেসময়ে প্রভু আরও বাহাত্তরজনকে নিযুক্ত করলেন, ও নিজে যেখানে শীঘ্রই যাবেন, সেই সমস্ত শহরে ও জায়গায় নিজের আগে আগে দু’জন দু’জন করে তাদের প্রেরণ করলেন।
তিনি তাদের বললেন, ‘ফসল প্রচুর বটে, কিন্তু কর্মী অল্প; অতএব ফসলের প্রভুর কাছে মিনতি জানাও, তিনি যেন শস্যখেতে কর্মী পাঠান। রওনা হও: কিন্তু দেখ, আমি নেকড়ের দলের মধ্যে মেষেরই মত তোমাদের প্রেরণ করছি; তোমরা থলি বা ঝুলি বা জুতো সঙ্গে নিয়ে যেয়ো না; পথে কারও সঙ্গে কুশল আলাপ করো না। যে কোন বাড়িতে প্রবেশ করবে, প্রথমে বল, এই গৃহে শান্তি বিরাজ করুক। সেখানে যদি শান্তির সন্তান থাকে, তবে তোমাদের শান্তি তার উপরে থাকবে, অন্যথা তোমাদের কাছে ফিরে আসবে। তোমরা সেই বাড়িতেই থাক: তারা যা দেয়, তা-ই খাও, তা-ই পান কর, কেননা কর্মী নিজের মজুরির যোগ্য! এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যেয়ো না।
তোমরা যে কোন শহরে প্রবেশ কর, লোকেরা যদি তোমাদের গ্রহণ করে, তবে তোমাদের সামনে যা রাখা হবে, তা-ই খাও; এবং সেখানকার পীড়িতদের নিরাময় কর, ও তাদের বল, ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদের কাছে এসে গেছে।’
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
একাদশ শতাব্দীর অপরিচিত লেখকের উপদেশ

যখন পল ভুলভ্রান্তির অন্ধকার ত্যাগ করে সত্যকার বিশ্বাস গ্রহণ করলেন ও শিষ্যদের দলে যোগ দিলেন, তখন লুক বিশ্বাসের জন্য সংগ্রাম করতে ইচ্ছুক হয়ে তাঁর সমস্ত যাত্রার সঙ্গী হলেন ও পল যেখানে গেলেন তিনিও সেখানে তাঁর পাশে পাশে ছিলেন। খ্রিষ্টের তেমন সৈন্যের সঙ্গী হওয়ায় লুক তাঁর সঙ্গে দস্যুর মত কারাবাস ভোগ করলেন, ও পৃথিবীর শেষপ্রান্ত পর্যন্ত দিব্য জ্ঞানের আলো বিস্তার করতে তাঁর সহায় হলেন। তিনি পলের এতই ঘনিষ্ঠ ও সব দিক দিয়েই তাঁর এত গ্রহণযোগ্য ছিলেন যে, বিশ্বাসীদের কাছে আপন পত্রগুলোতে পল একাধিকবার তাঁর ‘প্রিয় লুকের’ কথা উল্লেখ করেন (কল ৪:১৪; ২ তি ৪:১১)। লুক পলের সঙ্গে যেরুসালেম থেকে ইল্লিরিকম পর্যন্ত সুসমাচার প্রচার করলেন, আর যুদেয়া থেকে রোম অভিমুখে যাত্রাকালে পলের সঙ্গে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হল, পলের সঙ্গে তিনিও পরিশ্রম করলেন, তাঁর সঙ্গে পীড়নও ভোগ করলেন, তাঁর সঙ্গে তাঁর নৌকোডুবিও হল। সবকিছুতে পলের সঙ্গী হওয়া, আর শুধু তা নয়, তাঁর জয়মালারও সহভাগী হওয়াই ছিল লুকের একান্ত বাসনা।
পলের সঙ্গে বাণীপ্রচার কাজে ব্যস্ত হওয়ার পর ও তাঁর গুরুর নির্দেশমত বহু দেশ জয় করে সত্যকার বিশ্বাসে তাদের আনার পর এ প্রিয় শিষ্য পুণ্য লেখক ও সুসমাচার-রচয়িতার পরিচয় দিলেন: প্রথম শিষ্যদের কাছ থেকে জ্ঞান পেয়ে ও দিব্য অনুপ্রেরণা লাভ করে তিনি খ্রিষ্টবিশ্বাসের আদিকালের ঘটনাগুলো সঙ্কলন করলেন। তিনিই সেই রচয়িতা যিনি সেই রহস্য লিপিবদ্ধ করলেন যা অনুসারে গাব্রিয়েল কুমারীর কাছে জগতে আসন্ন আনন্দের বার্তা জানিয়েছিলেন। তিনিই খ্রিষ্টের জন্মের উজ্জ্বল বিবরণী দিয়ে জাবপাত্রে শোয়ানো নবজাত শিশুকে আমাদের দেখালেন ও রাখালদের কথা ও সেই দূতদের কথা জানালেন যাঁরা শুভসংবাদ গান করছিলেন। তিনি সেই অবর্ণনীয় ঘটনাগুলো সত্য ও সৌন্দর্যের প্রতি এমন আসক্তির সঙ্গেই রচনা করলেন যে, সেই অপরূপ ঘটনাগুলোতে নিহিত মর্মসত্য রচনার সৌন্দর্যের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পায়—হ্যাঁ, তাঁর সূক্ষ্ম ধারণার ঐশ্বর্য তাঁর ভাষায় যোগ্য শোভা পায়। অপর রচয়িতাদের চেয়ে তিনিই বেশি উপমা-কাহিনী লিপিবদ্ধ করলেন; আর তিনি যেমন পৃথিবীতে বাণীর অবতরণের কথা বলেছিলেন, তেমনি তাঁর স্বর্গারোহণ ও পিতার কাছে তাঁর প্রত্যাগমনের কথাও বর্ণনা করলেন।
কিন্তু লুকের বেলায় পবিত্র আত্মার অনুগ্রহ এতে ক্ষান্ত হয়নি; বাস্তবিকই লুক কেবল সুসমাচার লেখায়ই তুষ্ট হননি, কিন্তু খ্রিষ্ট-সাধিত আশ্চর্য কাজ বর্ণনা করার পর শিষ্যদের কার্যকলাপও বর্ণনা করতে বসলেন: প্রথম, ত্রাণকর্তার স্বর্গারোহণ; এরপর, প্রেরিতদূতদের উপরে অগ্নিজিহ্বার আকারে পবিত্র আত্মার অবতরণ; এরপর, স্তেফানের শহীদমৃত্যু, পলের মনপরিবর্তন—কেমন করে খ্রিষ্ট স্বর্গ থেকে পলকে ডাকলেন ও কেমন করে পল ‘অক্ষর’ থেকে ‘আত্মায়’ উত্তীর্ণ হলেন ইত্যাদি কথা—, পলের নানা পীড়ন যথা, অবিশ্বাসীদের হাতে তাঁর কারাবাস, নির্যাতন, কশাঘাত, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি কথা; যেরুসালেম থেকে তাঁর রোম যাত্রা; জলযাত্রায় তাঁর দুর্দশা, কষ্ট, বিপদ, নৌকাডুবি ইত্যাদি কথা। লুক এসব কিছুর সাধারণ সাক্ষী ছিলেন না, কিন্তু তিনি নিজেই তার বাস্তব সহভাগী; আর ঠিক এ কারণেই তিনি তত সূক্ষ্ম বর্ণনা দিতে চেষ্টা করলেন।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ৩৪
ধুয়ো:
প্রভু শিষ্যদের প্রেরণ করলেন শহরে শহরে এ বাণী ঘোষণা করতে:
ঈশ্বরের রাজ্য তোমাদের কাছে এসে গেছে।

সর্বদাই আমি প্রভুকে বলব ধন্য,
নিয়তই আমার মুখে তাঁর প্রশংসাবাদ।
প্রভুতে গর্ব করে আমার প্রাণ,
শুনুক, আনন্দ করুক বিনম্র সকল।   [ধুয়ো]

আমার সঙ্গে প্রভুর মহিমাকীর্তন কর,
এসো, আমরা একসঙ্গে তাঁর নাম বন্দনা করি।
প্রভুর অন্বেষণ করেছি, তিনি আমাকে সাড়া দিলেন,
যত ভয়-শঙ্কা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন।   [ধুয়ো]

তাঁর দিকে চেয়ে দেখ, তোমরা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে,
লজ্জায় ঢেকে যাবে না কো তোমাদের মুখ।
এই দীনহীন ডাকে, প্রভু শোনেন,
তার সকল সঙ্কট থেকে তাকে পরিত্রাণ করেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর দূত প্রভুভীরুদের চারপাশে শিবির বসান,
তাদের নিস্তার করেন।
আস্বাদন কর, দেখ প্রভু কত মঙ্গলময়,
সুখী সেই মানুষ, যে তাঁর আশ্রিতজন।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, আশীর্বাদ কর:
তোমার পবিত্র বেদি থেকে যা গ্রহণ করেছি, তা আমাদের পবিত্র করে তুলুক,
এবং সাধু লুকের প্রচারিত সুসমাচারের বিশ্বাসে আমাদের বলবান করুক।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২৮ অক্টোবর - সাধু সিমোন ও যুদা, প্রেরিতদূত
প্রেরিতদূত সিমোন ও যুদা।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, তুমি চেয়েছিলে, তোমার প্রেরিতদূতদের বাণীপ্রচারের ফলেই
আমরা তোমার নাম জানতে পারব।
সাধু সিমোন ও যুদার মিলিত প্রার্থনার পুণ্যফলে আশীর্বাদ কর:
তোমার প্রতি বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে
যেন পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে খ্রিষ্টমণ্ডলীর ক্রোড়।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
এফেসীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (২:১৯-২২)

প্রিয়জনেরা, তোমরা এখন বিজাতি বা অস্থায়ী বাসিন্দা আর নও, বরং পবিত্রজনদের সহনাগরিক ও ঈশ্বরের পরিবারভুক্ত মানুষ। তোমরা প্রেরিতদূত ও নবীদের ভিত্তির উপরে গাঁথা; আর সংযোগপ্রস্তর হলেন স্বয়ং খ্রিষ্টযিশু। তাঁর মধ্যে প্রতিটি গাঁথনি সুসংবদ্ধ হয়ে প্রভুতে এক পবিত্র মন্দির হবার জন্য গড়ে উঠছে; তাঁর মধ্যে আত্মা দ্বারা তোমাদেরও ঈশ্বরের আবাস হবার জন্য গেঁথে তোলা হচ্ছে।
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ৩৩
ধুয়ো:
সারা পৃথিবী জুড়ে
ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের স্বরধ্বনি।

আকাশমণ্ডল বর্ণনা করছে ঈশ্বরের গৌরব,
গগনতল ঘোষণা করছে তাঁর হাতের কর্মকীর্তি;
দিন দিনের কাছে সেই কথা ব্যক্ত করে,
রাত রাতের কাছে সেই জ্ঞান জ্ঞাত করে।   [ধুয়ো]

নেই কোন কথা, নেই কোন বাণী,
শোনা যায় না কো তাদের কণ্ঠস্বর,
তবু সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তাদের স্বরধ্বনি,
বিশ্বের প্রান্তসীমায় তাদের বচন।   [ধুয়ো]

৬। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তুমি ঈশ্বর, তোমারই করি প্রশংসাগান,
তুমি প্রভু, তা-ই আমরা করি স্বীকার।
প্রেরিতদূতেরা গৌরবের কণ্ঠে
তোমারই স্তুতি করেন গান।
আল্লেলুইয়া।

৭। সুসমাচার
লুক-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:১২-১৯)

যিশু একদিন প্রার্থনা করার জন্য বেরিয়ে পর্বতে গেলেন, ও ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে করতে সারারাত কাটালেন। সকাল হলে তিনি নিজের শিষ্যদের কাছে ডাকলেন, ও তাঁদের মধ্য থেকে বারোজনকে বেছে নিয়ে তাঁদের ‘প্রেরিতদূত’ নাম দিলেন।
এঁরা হলেন: সিমোন, যাঁকে তিনি পিতর নামও দিলেন, ও তাঁর ভাই আন্দ্রিয়; এবং যাকোব, যোহন, ফিলিপ, বার্থলমেয়, মথি, টমাস, আল্ফেয়ের ছেলে যাকোব, উগ্রধর্মা বলে পরিচিত সিমোন, যাকোবের ছেলে যুদা ও সেই যুদা ইস্কারিয়োৎ, যিনি বিশ্বাসঘাতক হয়েছিলেন।
পরে তিনি তাঁদের সঙ্গে নেমে গিয়ে একটা সমতল জায়গায় দাঁড়ালেন; সেখানে তাঁর অনেক শিষ্য উপস্থিত ছিলেন এবং সমস্ত যুদেয়া ও যেরুসালেম থেকে ও তুরস ও সিদোনের উপকূল-অঞ্চল থেকে আসা বহু লোকও উপস্থিত ছিল; তারা তাঁর বাণী শুনবার জন্য ও নিজেদের রোগ-ব্যাধি থেকে নিরাময় হবার জন্য তাঁর কাছে এসেছিল; যারা অশুচি আত্মা দ্বারা উৎপীড়িত ছিল, তারাও নিরাময় হয়ে উঠছিল। তাছাড়া, সমস্ত লোক তাঁকে স্পর্শ করতে চেষ্টা করছিল, কেননা তাঁর মধ্য থেকে এমন শক্তি বের হত যা সকলকে সুস্থ করত।
প্রভুর বাণী।

৮। উপদেশ
যোহন-রচিত সুসমাচারে বিশপ সাধু আগস্তিনের ব্যাখ্যা

পবিত্র সুসমাচার পাঠ করে বা শুনে, শিষ্যদের প্রশ্ন ও গুরুর উত্তর থেকে আমরাও তাঁদের সঙ্গে সেই সমস্ত বিষয় শিখতে পারি গুরু যা শেখাতেন। এপ্রসঙ্গে, প্রভু যখন বললেন: আর অল্পকাল পরে জগৎ আমাকে দেখতে পাবে না, কিন্তু তোমরা আমাকে দেখতে পাবে (যোহন ১৪:১৯), তখন যুদা—এই যুদা সেই বিশ্বাসঘাতক ইস্কারিয়োৎ নন—জিজ্ঞাসা করলেন: প্রভু, এ কেমনটি হয় যে, আপনি শুধু আমাদেরই কাছে আত্মপ্রকাশ করবেন, জগতের কাছে নয়? (যোহন ১৪:২২)। এসো, আমরাও সেই শিষ্যদের মত হই যাঁরা তাঁর কাছে প্রশ্ন রাখেন, ও তাঁদের সঙ্গে সকলের গুরুর উত্তর শুনি। পুণ্যবান প্রেরিতদূত যুদা—সেই পাপী ও নির্যাতক যুদা নন, কিন্তু প্রভুর অনুগামী যে যুদা—এর কারণ জানতে চান যে, কেনই বা অল্পকাল পরে জগৎ তাঁকে আর দেখতে পাবে না, কিন্তু তাঁরা তাঁকে দেখতে পাবেন। যিশু তাঁকে উত্তর দিলেন, যদি কেউ আমাকে ভালবাসে, তবে সে আমার বাণী মেনে চলবে, আর আমার পিতা তাকে ভালবাসবেন, এবং আমরা তার কাছে আসব ও তার কাছে করব আমাদের নিজেদের বাসস্থান। যে আমাকে ভালবাসে না, সে আমার বাণী মেনে চলে না (যোহন ১৪:২৩-২৪)। দেখ, এখানে আমরা সেই কারণ জানতে পেরেছি যা অনুসারে তিনি আপনজনদের কাছে আত্মপ্রকাশ করবেন কিন্তু সেই অপরদের কাছে নয় যাদের তিনি জগৎ বলে অভিহিত করেন: কারণটা হল এ যে, তাঁর শিষ্যেরা তাঁকে ভালবাসেন, কিন্তু অন্যরা নয়। এ সেই একই কারণ যা সামসঙ্গীতেও ব্যক্ত হয়: পরমেশ্বর, সুবিচার কর; সেই অসৎ মানুষের পক্ষ নয়, আমারই পক্ষ বেছে নাও (সাম ৪৩:১ লাতিন পাঠ)। যারা তাঁকে ভালবাসে, তাদের বেছে নেওয়া হয় ঠিক এ কারণেই যে, তারা তাকে ভালবাসে; কিন্তু যারা তাঁকে ভালবাসে না, তারা যদিও মানুষদের বা স্বর্গদূতদের ভাষায় কথা বলে কিন্তু তবুও তারা ঢংঢঙানো কাঁসর বা ঝনঝনে করতালের মত; তারা যদিও ভাববাণী দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, যদিও সকল নিগূঢ়তত্ত্ব ও সমস্ত জ্ঞানের কথা জানে ও এমন পূর্ণ বিশ্বাসের অধিকারী হয় যাতে পাহাড়পর্বতও সরিয়ে দিতে পারে, তারা যদিও তাদের সমস্ত সম্পদ বিলি করে দেয় ও নিজেদের দেহ আগুনে সঁপে দেয়, তবু তাতেও তাদের কোন লাভ নেই (১ করি ১৩:১-৩ দ্রঃ)।
প্রেম দ্বারাই জগৎ থেকে পুণ্যজনদের চেনা হয়; আর এ প্রেমই সেই আবাসে তাদের একাত্ম করে বাস করায়, যে আবাসে পিতা ও পুত্র এসে বাস করেন: পিতা ও পুত্রই যাদের কাছে একদিন প্রকাশ্যে আত্মপ্রকাশ করবেন, তাদের প্রেমের সহভাগী করে তোলেন।
তেমন আত্মপ্রকাশ বিষয়েই শিষ্য গুরুকে প্রশ্ন রেখেছিলেন, তাই এমনটি ঘটছে যে, যাঁরা প্রভুর বাণী প্রত্যক্ষভাবে শুনছিলেন তাঁরা শুধু নয়, কিন্তু সুসমাচারের মধ্য দিয়ে আমরাও প্রভুর উত্তর জানতে পারি।
যুদা খ্রিষ্টের আত্মপ্রকাশেরই বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছিলেন, কিন্তু এমন উত্তর পেলেন যা ভালবাসা ও আমাদের অন্তরে তাঁর আবাস লক্ষ করে।
সুতরাং ঈশ্বরের এমন আন্তরিক আত্মপ্রকাশ রয়েছে যা দুর্জনেরা জানে না: পিতা ও পুত্র তাদের কাছে কখনও আত্মপ্রকাশ করেন না।
পুত্রের কথা যদি ধরি, তাহলে তিনি আত্মপ্রকাশ করেছেন বটে, কিন্তু কেবল দেহে। তেমন আত্মপ্রকাশ আন্তরিক আত্মপ্রকাশের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন; তাছাড়া তাদের পক্ষে চিরস্থায়ীও নয়, কিন্তু অল্পকালেরই ব্যাপার: তেমন আত্মপ্রকাশের উদ্দেশ্য হবে বিচার, আনন্দ নয়; হবে দণ্ড, পুরস্কার নয়।

৯। অর্থদান

১০। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১১। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১২। ধ্যান-গীতি: সাম ১২৬
ধুয়ো:
যদি কেউ আমাকে ভালবাসে, তবে সে আমার বাণী মেনে চলবে,
আর আমার পিতা তাকে ভালবাসবেন, এবং আমরা তার কাছে আসব
ও তার কাছে করব আমাদের নিজেদের বাসস্থান।
প্রভুর উক্তি।


প্রভু যখন সিয়োনের বন্দিদের ফিরিয়ে আনলেন,
আমরা তখন যেন স্বপ্নই দেখি!
তখন আমাদের মুখ হাসিতে মুখর,
আমাদের জিহ্বা আনন্দচিৎকারে পূর্ণ।

তখন বিজাতিদের মধ্যে একথা চলত,
‘তাদের জন্য কী মহা মহা কাজ না করেছেন প্রভু!’
আমাদের জন্য মহা মহা কাজ সাধন করেছেন প্রভু,
আমরা আনন্দিত।

আমাদের বন্দিদের ফিরিয়ে আন, প্রভু,
তাদের ফিরিয়ে আন নেগেব প্রান্তরে খরস্রোতের মত।
যে অশ্রুর মধ্যে বীজ বোনে,
সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফসল সংগ্রহ করবে।

সে যায়, কাঁদতে কাঁদতে সে চলে যায়,
সঙ্গে নিয়ে যায় বপনের বীজ;
সে আসে, সানন্দে চিৎকার করতে করতেই সে ফিরে আসে,
সঙ্গে নিয়ে আসে ফসলের আঁটি।   [ধুয়ো]

১৩। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, এই সাক্রামেন্ত গ্রহণ ক’রে
আমরা বিনীত কণ্ঠে পবিত্র আত্মায় অনুনয় করি:
প্রেরিতদূত সিমোন ও যুদার গৌরবময় মরণযন্ত্রণা শ্রদ্ধা করার জন্য
আমরা যা সম্পাদন করি,
তা যেন তোমার ভালবাসার আশ্রয়ে আমাদের সুরক্ষিত রাখে।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৪। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


১ নভেম্বর - নিখিল সাধুসাধ্বী
প্রভু যিশু নিখিল সাধুসাধ্বীর মধ্যে আসীন।
সাধুসাধ্বীদের মধ্যে রয়েছেন
মহাদূত মিখায়েল ও অন্যান্য স্বর্গদূত,
ঈশ্বরজননী ধন্যা মারীয়া, বাপ্তিস্মদাতা সাধু যোহন,
প্রেরিতদূতগণ, সাক্ষ্যমরবৃন্দ ও সন্ন্যাসী-সন্নাসিনী সকল।
সিংহাসনের দুই পাশে আদম ও হবা মাথা নত ক'রে
প্রভুকে প্রণাম করেন।
অন্যান্য সাধুসাধ্বী প্রভুর উদ্দেশে প্রশংসাগান করেন।
বামে, নিচে, লাজারের উপমাকাহিনী অনুসারে
আব্রাহামের কোলে রয়েছে ধার্মিকদের আত্মা।
নিচে, মাঝখানে, রয়েছেন সেই অনুতপ্ত দস্যু
যাঁকে যিশুর সঙ্গে ক্রুশে দেওয়া হয়েছিল।
নিচে, ডানে, নিজ সন্তানদের নিয়ে
কুলপতি যাকোব আসীন।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে সর্বশক্তিমান সনাতন ঈশ্বর, তুমি এক-ই ধর্মানুষ্ঠানে
তোমার নিখিল সাধুসাধ্বীর গুণকীর্তন করার সুযোগ আমাদের দিয়েছ।
অনুনয় করি: যখন শত শত স্বর্গীয় ভাইবোন তোমার কাছে
আমাদের হয়ে প্রার্থনা নিবেদন করেন, তখন তুমি আমাদের উপর
তোমার প্রসন্নতা শত ধারায় বর্ষণ করায় আমাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ কর।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
ঐশপ্রকাশ পুস্তক থেকে পাঠ (৭:২-৪,৯-১৪)

আমি, যোহন, দেখতে পেলাম, আর এক স্বর্গদূত সূর্যের উদয়-স্থান থেকে উঠে আসছেন, তাঁর হাতে রয়েছে জীবনময় ঈশ্বরের সীলমোহর।
যে চার স্বর্গদূতকে পৃথিবী ও সমুদ্রকে আঘাত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনি উদাত্ত কণ্ঠে তাঁদের ডেকে বললেন, ‘তোমরা পৃথিবী বা সমুদ্র বা গাছপালা কিছুই আঘাত করো না, যতক্ষণ না আমরা আমাদের ঈশ্বরের দাসদের কপাল সীলমোহরে চিহ্নিত করি।’ আর আমি সীলমোহরে চিহ্নিত মানুষের সংখ্যা শুনতে পেলাম: ইস্রায়েল সন্তানদের প্রতিটি গোষ্ঠী থেকে মোট এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার মানুষ চিহ্নিত।
তারপর আমি লক্ষ করলাম, আর দেখ, প্রতিটি জাতি, গোষ্ঠী, দেশ ও ভাষার বিরাট এক জনতা যা গণনা করা কারও পক্ষে সম্ভব ছিল না। শুভ্র পোশাকে পরিবৃত হয়ে ও খেজুরপাতা হাতে করে তারা সকলে সিংহাসনের সাক্ষাতে ও মেষশাবকের সাক্ষাতে দাঁড়িয়ে আছে। তারা উদাত্ত কণ্ঠে চিৎকার করে বলছে: ‘সিংহাসনে সমাসীন আমাদের ঈশ্বর এবং মেষশাবকেরই তো পরিত্রাণ।’
তখন যে সকল স্বর্গদূত সিংহাসন ঘিরে প্রবীণদের ও চার প্রাণীর চারপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁরা সিংহাসনের সামনে উপুড় হয়ে প্রণিপাত করে এই বলে ঈশ্বরের আরাধনা করতে লাগলেন: ‘আমেন! প্রশংসা, গৌরব, প্রজ্ঞা ও ধন্যবাদ-স্তুতি, সম্মান, পরাক্রম ও শক্তি আমাদের ঈশ্বরের উদ্দেশে নিবেদিত হোক চিরদিন চিরকাল। আমেন!’
তখন প্রবীণদের একজন আমাকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘শুভ্র পোশাক-পরা এই মানুষেরা কারা, এবং তারা কোথা থেকে এল?’ আমি তাঁকে বললাম: ‘প্রভু আমার, আপনিই তা জানেন।’ তখন তিনি আমাকে বললেন: ‘এরা তারাই, যারা মহাক্লেশ পার হয়ে এসেছে ও মেষশাবকের রক্তে নিজেদের পোশাক ধৌত করে শুভ্র করে তুলেছে।’
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ২৪
ধুয়ো:
এই তো সেই বংশের মানুষ,
যারা তোমার শ্রীমুখ অন্বেষী, প্রভু।

প্রভুরই তো পৃথিবী ও তার যত বস্তু,
জগৎ ও জগদ্বাসী সকল;
তিনি সাগরের জলরাশির উপরে তা স্থাপন করলেন,
নদনদীর উপরে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত করলেন।   [ধুয়ো]

প্রভুর পর্বতে কে গিয়ে উঠবে,
তাঁর পবিত্রধামে কে থাকতে পারবে?
সেই তো, যার হাত নির্দোষ, শুদ্ধ যার হৃদয়,
অলীকতার প্রতি যে তোলে না প্রাণ, নেয় না ছলনার শপথ।   [ধুয়ো]

সেই তো পাবে প্রভুর কাছ থেকে আশিসধারা,
তার ত্রাণেশ্বরের কাছ থেকে ধর্মময়তা পাবে।
এই তো তাঁর সেই অনুসন্ধানী বংশের মানুষ,
তোমার শ্রীমুখ অন্বেষী, যাকোবের ঈশ্বর।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
প্রেরিতদূত সাধু যোহনের প্রথম পত্র থেকে পাঠ (৩:১-৩)

প্রিয়জনেরা, দেখ, পিতা কি অগাধ ভালবাসা আমাদের দান করেছেন,
যার জন্য আমরা ঈশ্বরসন্তান বলে অভিহিত,
আর আমরা তো তাই!
এজন্যই জগৎ আমাদের জানে না,
কারণ তাঁকেই সে জানেনি।
প্রিয়জনেরা, এখন তো আমরা ঈশ্বরের সন্তান;
আর কী হয়ে উঠব, এখনও তা প্রকাশিত হয়নি।
আমরা জানি, প্রকাশিত হলে আমরা তাঁর সদৃশ হব,
কারণ তাঁকে দেখতে পাব যেইরূপে তিনি আছেন।
তাঁর প্রতি যার এই প্রত্যাশা আছে,
সে নিজেকে পুণ্যবান করে তোলে, তিনি নিজেই যেমন পুণ্যবান।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
তোমরা, পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত যারা, সকলে আমার কাছে এসো,
আমি তোমাদের বিশ্রাম দেব।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
মথি-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৫:১-১২ক)

একদিন যিশু লোকের ভিড় দেখে পর্বতে গিয়ে উঠলেন, এবং তিনি আসন নেবার পর তাঁর শিষ্যেরা তাঁর কাছে এগিয়ে এলেন। তখন তিনি কথা বলতে শুরু করে তাঁদের এই উপদেশ দিতে লাগলেন:
‘আত্মায় দীনহীন যারা, তারাই সুখী, কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই।
শোকার্ত যারা, তারাই সুখী, কারণ তারাই সান্ত্বনা পাবে।
কোমলপ্রাণ যারা, তারাই সুখী, কারণ তারাই পাবে দেশের উত্তরাধিকার।
ধর্মময়তার জন্য ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত যারা, তারাই সুখী, কারণ তারাই পরিতৃপ্ত হবে।
দয়াবান যারা, তারাই সুখী, কারণ তারাই দয়া পাবে।
শুদ্ধহৃদয় যারা, তারাই সুখী, কারণ তারাই ঈশ্বরকে দেখতে পাবে।
শান্তির সাধক যারা, তারাই সুখী, কারণ তারাই ঈশ্বরের সন্তান বলে অভিহিত হবে।
ধর্মময়তার জন্য নির্যাতিত যারা, তারাই সুখী, কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই।
তোমরাই সুখী, লোকে যখন আমার জন্য তোমাদের নিন্দা ও নির্যাতন করে, এবং তোমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যামিথ্যি সব ধরনের জঘন্য কথা বলে। আনন্দ কর, উল্লাস কর, কেননা স্বর্গে তোমাদের মজুরি প্রচুর।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
সিনাইয়ের বিশপ সাধু আনাস্তাসিওসের উপদেশ

প্রিয়জনেরা, আজকের উৎসবমুখর এ জনসমাগম সত্যিই আমাদের আগ্রহের উজ্জ্বল প্রকাশ; কিন্তু আমাদের এত আগ্রহ, এত আনন্দ কেন? তার কারণ, আমাদের যে ভাইবোন আমাদের কাছ থেকে খ্রিষ্টের কাছে আহূত হয়েছেন, তাঁরা নিজেরাই আমাদের এখানে আহ্বান করেছেন! সুতরাং এসো, স্তুতিগান গেয়ে সানন্দে খ্রিষ্টের কাছে এগিয়ে আসি, কেননা আমাদের পরলোকগত ভাইবোনেরা এমন উদ্দীপনা আমাদের হৃদয়ে জাগিয়েছেন, তাঁরা স্বর্গে দূতদের প্রশংসাগানে যোগ দিতে দিতে ও আমাদের জন্য আত্মিক এক ভোজের আয়োজন করতে করতে আমরা যেন এ পৃথিবীতে তাঁদের হয়েই ঈশ্বরের গৌরবকীর্তন করি। পরমদেশের আমোদপ্রমোদে প্রমত্ত হয়ে তাঁরা আমাদের হাতে অনুতাপের আঙুররস তুলে দিচ্ছেন; তাঁরা এখন স্বর্গের সান্ত্বনা ভোগ করছেন ও এমন প্রদীপ জ্বালাচ্ছেন যাতে অগম্য আলোর দিকে অগ্রসর হতে হতে নিজেদের হৃদয় আলোময় করে তুলতে পারেন।
যে পবিত্রজনেরা আগে থেকে খ্রিষ্টের সঙ্গে ছিলেন, তাঁরা আমাদের মধ্য থেকেই পবিত্রজনদের স্বর্গে আকর্ষণ করলেন। যাঁরা একসময়ে আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তাঁরা আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে প্রকৃত মাতৃভূমিতে ফিরে গিয়ে আমাদের অনাথ করে ফেলে রেখেছেন। তাঁরা অবক্ষয়ের পর্যায় থেকে অক্ষয়ের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন; তাঁরা এজগৎ ছেড়ে খ্রিষ্টে পুনরুত্থান করেছেন, এ অস্থায়ী তাঁবু ত্যাগ করে স্বর্গীয় যেরুসালেমে আবাস নিয়েছেন। এজীবনের শূন্যতায় আমাদের ফেলে রেখে তাঁরা স্বর্গের সুখ লাভ করেছেন; এ পার্থিব চিন্তার মধ্যে আমাদের ছেড়ে নিশ্চিন্তার দেশে উত্তরণ করেছেন। তাঁরা এসংসারের ঝড় ও তরঙ্গ পেরিয়ে গিয়ে প্রশান্ত বন্দরে নঙ্গর ফেলেছেন।
অথচ আমাদের মাঝে থাকাকালে তাঁরা আমাদের সঙ্গে ছিলেন ব’লে প্রতীয়মান হয়েও প্রকৃতপক্ষে আমাদের সঙ্গে ছিলেন না, কেননা তাঁদের মন ঈশ্বরের দিকেই ধাবিত ছিল। হ্যাঁ, তাঁরা স্বর্গের নাগরিকের মতই পৃথিবীতে বাস করছিলেন। এখানে স্থায়ী কোন নগর স্থাপন না করে তাঁরা স্বর্গীয় নগরীর সন্ধান করছিলেন; পার্থিব কোন ধন গচ্ছিত না করে তাঁরা স্বর্গের ধনের অন্বেষণ করছিলেন। ঠিক তাঁদের পূর্বপুরুষদের মত তাঁরাও এখানে বিদেশী ও প্রবাসী ছিলেন। সংসারের প্রতি, সংসারের যত বিষয়ের প্রতি ও সংসারের যত পথের প্রতি বিদেশী হয়ে তাঁদের গোটা হৃদয় স্বর্গীয় বিষয়েই মগ্ন ছিল: হ্যাঁ, স্বর্গীয় বিষয়ই ছিল তাঁদের একমাত্র চিন্তা, তাঁদের একমাত্র বাসনা। তাঁরা স্বর্গের কান্তির জন্য, তার আবাস ও গৃহের জন্য, তার দূতবাহিনী ও প্রশংসাগানের জন্য, তার উৎসব ও চিরন্তন সুখের জন্যই আকাঙ্ক্ষী ছিলেন।
পবিত্রজনেরা তেমন স্বর্গীয় বিষয়গুলো দর্শন করে, ধ্যান করে ও অন্বেষণ করে সেগুলোর দিকেই দ্রুতপদে অগ্রসর হলেন, আর শেষে তা লাভও করলেন, ও তাঁদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে দিব্য বাসরে প্রবেশাধিকার পেলেন। একসময়ে পরিশ্রম করেছিলেন বিধায় এবার তাঁরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। শিথিল ছিলেন না বিধায় তাঁরা এখন আনন্দ ভোগ করেন। হ্যাঁ, প্রভুর দৃষ্টিতে মূল্যবান তাঁর পবিত্রজনদের মৃত্যু (সাম ১১৬:১৫)।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ১১৬
ধুয়ো:
শুদ্ধহৃদয় যারা, তারাই সুখী, কারণ তারাই ঈশ্বরকে দেখতে পাবে।
শান্তির সাধক যারা, তারাই সুখী, কারণ তারাই ঈশ্বরের সন্তান বলে অভিহিত হবে।
ধর্মময়তার জন্য নির্যাতিত যারা, তারাই সুখী,
কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই।

আমার প্রতি প্রভুর সমস্ত উপকারের জন্য
প্রতিদানে আমি তাঁকে কী দিতে পারব?
পরিত্রাণের পানপাত্র তুলে ধরে
আমি করব প্রভুর নাম।   [ধুয়ো]

প্রভুর উদ্দেশে আমার ব্রতসকল উদ্‌যাপন করব
তাঁর সমস্ত জনগণের সামনে।
প্রভুর দৃষ্টিতে মূল্যবান
তাঁর ভক্তদের মৃত্যু।   [ধুয়ো]

দোহাই প্রভু! আমি তো তোমার দাস, আমি তোমারই দাস, তোমার দাসীর পুত্র,
তুমি খুলে দিয়েছ আমার শৃঙ্খল।
তোমার উদ্দেশে ধন্যবাদ-বলি উৎসর্গ ক’রে
আমি করব প্রভুর নাম।   [ধুয়ো]

প্রভুর উদ্দেশে আমার ব্রতসকল উদ্‌যাপন করব
তাঁর সমস্ত জনগণের সামনে,
প্রভুর গৃহের প্রাঙ্গণে,
হে যেরুসালেম, তোমারই অন্তঃস্থলে।   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, নিখিল সাধুসাধ্বীর মধ্যে
তুমিই একমাত্র পবিত্র অপরূপ পূজনীয় পরমেশ্বর!
তোমাকে আরাধনা করে আমরা তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করি:
তোমার প্রেমের আশ্রয়ে পূর্ণ পবিত্রতার পথে চলতে চলতে প্রবাসী এই আমরা
যেন এ ভোজ থেকে স্বর্গীয় মাতৃভূমির ভোজসভায় উপনীত হতে পারি।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]    


২ নভেম্বর - পরলোকগত ভক্তবৃন্দের স্মরণ
ক্রুশ জয়ধ্বজা হিসাবে ধ'রে
মৃত্যুঞ্জয়ী যিশু
পাতাল-বন্দিদের উদ্ধার করেন।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন
আদম, হবা, দাউদ রাজা ইত্যাদি ব্যক্তিত্ব।
১। সূচনা [অনুষ্ঠাতা ও ভক্তগণ]
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে।
    - আমেন।

আমাদের প্রভু যিশুখ্রিষ্টের অনুগ্রহ,
পিতা ঈশ্বরের প্রেম,
এবং পবিত্র আত্মার প্রেরণা
তোমাদের মধ্যে বিরাজ করুক।
    - আপনার মধ্যেও বিরাজ করুক।

এসো, এ পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ্যরূপে অংশ নেবার জন্য আমাদের পাপ স্বীকার করি।
হে প্রভু, আমাদের প্রতি দয়া কর।
    - তোমার বিরুদ্ধে যে করেছি পাপ।
আমাদের দেখাও, প্রভু, তোমার কৃপা।
    - আমাদের দাও গো তোমার পরিত্রাণ।
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমাদের প্রতি দয়া করুন, এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে অনন্ত জীবনে নিয়ে যান।
    - আমেন।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।
খ্রিষ্ট, দয়া কর
    - খ্রিষ্ট, দয়া কর।
প্রভু, দয়া কর।
    - প্রভু, দয়া কর।

২। জয় পরমেশ্বর।

৩। সমাবেশ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে ঈশ্বর, প্রসন্ন হয়ে আমাদের মিনতি কান পেতে শোন:
মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত তোমার পুত্রের প্রতি
আমাদের বিশ্বাস যেমন আজ গভীরতর হয়,
তেমনি তোমার পরলোকগত সন্তানদের পুনরুত্থান লাভের আশাও
যেন আমাদের অন্তরে দৃঢ়তর হয়ে ওঠে।
পবিত্র আত্মার ঐক্যে, তোমার সঙ্গে, বিশ্বরাজ ও জীবনেশ্বর রূপে
যুগে যুগে বিরাজমান তোমার পুত্র আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

৪। প্রথম পাঠ
যোব পুস্তক থেকে পাঠ (১৯:১,২৩-২৭)

যোব তখন উত্তরে একথা বললেন:
আহা, কেউ যদি আমার এই সমস্ত কথা লিখে রাখত,
সেই কথা যদি কোন পুস্তকে লিপিবদ্ধ হত,
তা যদি লোহার বাটালি ও সীসা দিয়ে
চিরকালের মত পাথরে খোদাই করা হত!
আমি জানি, আমার মুক্তিসাধক জীবিতই আছেন!
আমি জানি, সেই চরমদিনে তিনি ধুলার উপরে উঠে দাঁড়াবেন!
আমার এই চর্ম বিনষ্ট হওয়ার পর
আমার এই মাংসেই আমি ঈশ্বরকে দেখতে পাব।
আমি, আমি নিজেই তাঁকে দেখতে পাব;
আমারই চোখ তাঁর দর্শন পাবে,—এই আমি, অন্যে নয়!
ঈশ্বরের বাণী।

৫। সামসঙ্গীত ২৭
ধুয়ো:
প্রভুর মঙ্গলময়তা দেখবই আমি
জীবিতের দেশে।

বিকল্প: প্রভুই আমার আলো,
আমার পরিত্রাণ।
প্রভুই আমার আলো, আমার পরিত্রাণ,
কাকে ভয় করব আমি?
প্রভুই আমার জীবনের আশ্রয়দুর্গ,
কার্‌ ভয়ে কম্পিত হব আমি?   [ধুয়ো]

প্রভুর কাছে আমার শুধু এই যাচনা—এইটুকু মাত্র অন্বেষণ করি—
আমি প্রভুর গৃহে বাস করতে চাই আমার জীবনের সমস্ত দিন,
প্রভুর কান্তির উপর যেন দৃষ্টি রাখতে পারি,
তাঁর মন্দির দর্শনে যেন মুগ্ধ হতে পারি।   [ধুয়ো]

শোন, প্রভু, আমার কণ্ঠ—ডাকছি তো আমি:
আমাকে দয়া কর, আমাকে সাড়া দাও।
আমি তোমার শ্রীমুখ অন্বেষণ করি, প্রভু।
আমা থেকে লুকিয়ে রেখো না তোমার শ্রীমুখ।   [ধুয়ো]

আমার দৃঢ় বিশ্বাস আছে—
প্রভুর মঙ্গলময়তা দেখবই আমি জীবিতের দেশে।
প্রভুর প্রতীক্ষায় থাক, শক্ত হও,
তোমার অন্তর দৃঢ় হোক, প্রভুর প্রতীক্ষায় থাক।   [ধুয়ো]

৬। দ্বিতীয় পাঠ
রোমীয়দের কাছে প্রেরিতদূত সাধু পলের পত্র থেকে পাঠ (৫:৫-১১)

প্রিয়জনেরা, আমাদের প্রত্যাশা তো ছলনা করে না, কেননা ঈশ্বরের ভালবাসা আমাদের হৃদয়ে সঞ্চারিত হয়েছে সেই পবিত্র আত্মা দ্বারা যাঁকে আমাদের দেওয়া হয়েছে। কেননা আমরা যখন শক্তিহীন ছিলাম, তখনই খ্রিষ্ট উপযুক্ত সময়ে ভক্তিহীনদের জন্য মরলেন। বস্তুত ধার্মিকের জন্য প্রায় কেউই মরতে সম্মত নয়, হয় তো এমন কেউ থাকতে পারে, যে সৎমানুষের জন্যই মরতে সাহস করে।
কিন্তু ঈশ্বর আমাদের প্রতি তাঁর ভালবাসা প্রমাণ করছেন, কেননা আমরা যখন পাপী ছিলাম, তখনই খ্রিষ্ট আমাদের জন্য মরলেন। সুতরাং এখন তাঁর রক্তে আমরা যখন ধর্মময় হয়ে উঠেছি, তখন ঐশক্রোধ থেকে যে তাঁরই দ্বারা পরিত্রাণ পাব, তা আরও কতই না সুনিশ্চিত। কেননা আমরা যখন শত্রু ছিলাম, তখন যদি তাঁর পুত্রের মৃত্যু দ্বারা ঈশ্বরের সঙ্গে পুনর্মিলিত হলাম, তবে পুনর্মিলিত হয়ে আমরা যে তাঁর জীবনের মধ্য দিয়ে পরিত্রাণ পাব, তা আরও কতই না সুনিশ্চিত!
শুধু তাই নয়: যাঁর দ্বারা পুনর্মিলন পেয়ে গেছি, আমাদের প্রভু সেই যিশুখ্রিষ্টের মাধ্যমে আমরা এখন ঈশ্বরে গর্ববোধও করে থাকি।
ঈশ্বরের বাণী।

৭। সুসমাচার বরণ-গীতি
আল্লেলুইয়া, আল্লেলুইয়া।
এটিই আমার পিতার ইচ্ছা:
যে কেউ পুত্রকে দেখে ও তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখে,
সে যেন অনন্ত জীবন পায়,
এবং আমি যেন শেষ দিনে তাকে পুনরুত্থিত করি।
আল্লেলুইয়া।

৮। সুসমাচার
যোহন-রচিত পবিত্র সুসমাচার থেকে পাঠ (৬:৩৭-৪০)

একদিন যিশু সমবেত জনতাকে বললেন, ‘পিতা আমাকে যা কিছু দান করেন, তা আমার কাছে আসবে, এবং যে কেউ আমার কাছে আসে, তাকে আমি কখনও ফিরিয়ে দেব না, কারণ আমার নিজের ইচ্ছা পালন করতে নয়, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁরই ইচ্ছা পালন করতে আমি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছি।
আর যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা এ: তিনি যা কিছু আমাকে দিয়েছেন, আমি তার কিছুই না হারিয়ে বরং সমস্তই যেন শেষ দিনে পুনরুত্থিত করি। এটিই আমার পিতার ইচ্ছা: যে কেউ পুত্রকে দেখে ও তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন অনন্ত জীবন পায়, এবং আমি যেন শেষ দিনে তাকে পুনরুত্থিত করি।’
প্রভুর বাণী।

৯। উপদেশ
বিশপ সাধু আগস্তিনের উপদেশ

আমাদের প্রিয়জনেরা মৃত্যুবরণ করে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিলে আমরা যে শোক করব তা তো অনিবার্যই বটে। যদিও আমরা জানি, তাঁরা সবসময়ের মত আমাদের ত্যাগ করেছেন এমন নয়, কিন্তু অল্পকালের মত আমাদের আগে আগে অগ্রসর হয়েছেন আর আমরা যারা এখানে রয়েছি কিছুদিন পরে তাঁদের পিছনে যাব, এ সমস্ত কথা জানা সত্ত্বেও আমাদের প্রকৃতি মৃত্যুকে এড়াতে চায়, আর মৃত্যু আমাদের প্রিয়জনদের একজন কেড়ে নিয়ে গেলে আমরা সেই পরলোকগত ব্যক্তির প্রতি ভালবাসার খাতিরে শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ি। এজন্যই প্রেরিতদূত এমনটি বলেন না যে, আমাদের শোক করা উচিত নয়, কিন্তু একথা বলেন যে, তাদেরই মত শোকার্ত হতে নেই, কোন প্রত্যাশা যাদের নেই। আমাদের আপনজনদের মৃত্যুতে আমরা শোক অনুভব করি কারণ তাঁদের ছাড়তে বাধ্য; আবার প্রত্যাশাও অনুভব করি কারণ একদিন তাঁদের ফিরে পাব। শোক দ্বারা আমরা দুঃখে জর্জরিত, প্রত্যাশা দ্বারা সান্ত্বনাই পাই; শোকে আমরা আমাদের নিজেদের দুর্বলতার অভিজ্ঞতা করি, প্রত্যাশায় আমরা বিশ্বাস দ্বারা নবীকৃত হয়ে উঠি। মৃতদের নিদ্রাগমনে মানবদশা শোক করে, কিন্তু প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে ঐশপ্রতিশ্রুতি হৃদয়কে নিরাময় করে।
একই প্রকারে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার গাম্ভীর্যপূর্ণ সজ্জা, কবরস্থানে বহুলোকের শোভাযাত্রা, দামী দামী সমাধিমন্দির নির্মাণ—এ সমস্ত কিছু জীবিতদেরই কাছে একপ্রকার আরাম দিতেও পারে, কিন্তু মৃতদের পক্ষে এতে কোন উপকার নেই। তথাপি একথা সুনিশ্চিত যে, পবিত্র মণ্ডলীর প্রার্থনা দ্বারা, খ্রিষ্টযাগ দ্বারা, ও তাঁদের আত্মার কল্যাণার্থে অর্থদান দ্বারা মৃতেরা যথেষ্টই উপকৃত; এ সমস্ত কিছু করার অর্থই যেন তাঁদের প্রতি সদয় দৃষ্টিপাত করে প্রভু তাঁদের রেহাই দেন। পিতৃগণ যে প্রথা হস্তান্তর করেছেন, গোটা মণ্ডলী তা পালন করে থাকে, তথা: যাঁরা খ্রিষ্টের দেহরক্তের সঙ্গে সহভাগিতা বজায় রেখে মৃত্যু বরণ করেছেন, তাঁদের কথা যখন মিসার উপযুক্ত সময়ে স্মরণ করা হয় তখন তাঁদের জন্য প্রার্থনা নিবেদন করা উচিত; আর শুধু তা নয়, আমাদের স্মরণে রাখা উচিত যে তেমন মিসা তাঁদেরও জন্য উৎসর্গীকৃত। তেমন দয়াকর্ম যখন যথোচিত গাম্ভীর্যের সঙ্গে তাঁদের কল্যাণার্থে সম্পাদন করা হয়, তখন আমরা যে সত্যিই তাঁদের সহায়তা দান করি, একথা কেউ কি সন্দেহ করতে পারে? তাঁদের কল্যাণার্থে যে প্রার্থনা আমরা ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করি, তা অকৃতকার্য নয়। আমাদের প্রার্থনা দ্বারা তাঁরা উপকৃত হবেন কিনা এমন সন্দেহ যেন আমাদের অন্তরে স্থান না পায়—বলা বাহুল্য আমরা তেমন মৃত ব্যক্তিদেরই কথা বলছি যাঁরা মৃত্যুর আগে এমন পবিত্র জীবন যাপন করেছেন যার ফলে আমাদের প্রার্থনা তাঁদের পক্ষে উপযোগী হতে পারে।
সুতরাং বিশ্বাসী ভক্তজনদের পক্ষে তাঁদের নিজেদের পরলোকগতদের জন্য শোক করা বিধেয় বলে গণ্য হওয়া উচিত, কিন্তু তবু তাঁদের শোক যেন এমনটি হয় যা নিরাময় করা যেতে পারে। আমাদের মরণশীল দশার উপর চোখের জল পড়ুক, কিন্তু এমন চোখের জল যা বিশ্বাসজনিত আনন্দেই শীঘ্রই শুকিয়ে যায়; কেননা বিশ্বাস এবিষয়ে আমাদের নিশ্চিত করে যে, মৃত্যুর পরে খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা আমাদের কাছ থেকে সামান্যই দূরে যান যাতে শ্রেয়তর অবস্থায় উত্তীর্ণ হতে পারেন। সুতরাং মৃত আপনজনদের প্রতি আমাদের আধ্যাত্মিক ভালবাসা এ তিনটে বিষয়েই উত্তম প্রকাশ পায়, তথা: খ্রিষ্টযাগ, প্রার্থনা ও অর্থদান। এগুলিই তাঁদের সহায়তা করবে যাঁরা দেহে মৃত হয়েও আত্মায় জীবিত।

১০। স্বর্গমর্তের স্রষ্টা…।

১১। অর্থদান

১২। প্রভুর প্রার্থনা
অনুষ্ঠাতা:
ঐশশিক্ষায় উদ্দীপিত হয়ে, এসো,
ত্রাণকর্তার নির্দেশবাণী-মতো সাহসভরে বলি: হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতঃ (ইত্যাদি)

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রেমময় পিতা, সকল অমঙ্গল হতে আমাদের রক্ষা কর,
পৃথিবীতে শান্তি প্রদান কর,
পাপ থেকে মুক্ত হয়ে
আমরা যেন তোমার শান্তির পথে চালিত হই।
এই ভরসায় আমরা মুক্তিদাতা খ্রিষ্টের আগমনের প্রতীক্ষায় আছি।
সকলে:
যুগ যুগ ধরে তুমিই প্রভু, তুমিই শক্তিমান, তুমিই মহান।

অনুষ্ঠাতা:
হে প্রভু যিশুখ্রিষ্ট,
তুমি তোমার শিষ্যদের বলেছ,
আমি তোমাদের কাছে শান্তি রেখে যাচ্ছি,
আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।
মিনতি করি, হে প্রভু,
আমাদের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত না করে
তোমার মণ্ডলীর বিশ্বাসের প্রতি দৃষ্টিপাত কর।
তোমার মণ্ডলীেক শান্তি ও একতা দান কর।
হে খ্রিষ্ট, যুগ যুগ ধরে তুমিই বিরাজমান, তুমিই প্রভু।
সকলে:
আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
এসো, একে অপরকে শান্তির চিহ্ন প্রদান করি।

হে বিশ্বপাপহর (ইত্যাদি)

১৩। প্রভুকে গ্রহণ
পুরোহিত না থাকায় ভক্তগণ পবিত্র রুটি-ছাড়া অর্থাৎ আধ্যাত্মিক ভাবে প্রভুকে গ্রহণ করতে পারেন।
হে প্রভু, তোমাকে গ্রহণ করতে আমি অযোগ্য;
কিন্তু বিশ্বাস করি, তোমার বাক্যেই আমি মুক্তি পাব।

১৪। ধ্যান-গীতি: সাম ২৩
ধুয়ো:
আমিই পুনরুত্থান ও জীবন—একথা বলছেন প্রভু;
আমার প্রতি যে বিশ্বাস রাখে, সে মারা গেলেও জীবিত থাকবে।
আর জীবিত যে কেউ আমার প্রতি বিশ্বাস রাখে,
সে কখনও মরবে না।

প্রভু আমার পালক;
অভাব নেই তো আমার;
আমায় তিনি শুইয়ে রাখেন নবীন ঘাসের চারণমাঠে,
আমায় নিয়ে যান শান্ত জলের কূলে;

তিনি সঞ্জীবিত করেন আমার প্রাণ,
তাঁর নামের খাতিরে আমায় চালনা করেন ধর্মপথে।
মৃত্যু-ছায়ার উপত্যকাও যদি পেরিয়ে যাই,
আমি কোন অনিষ্টের ভয় করি না, তুমি যে আমার সঙ্গে আছ।

তোমার যষ্টি, তোমার পাচনি আমাকে সান্ত্বনা দেয়।
আমার সম্মুখে তুমি সাজাও ভোজনপাট আমার শত্রুদের সামনে;
আমার মাথা তুমি তৈলসিক্ত কর;
আমার পানপাত্র উচ্ছলিত।

মঙ্গল ও কৃপাই হবে আমার সহচর
আমার জীবনের সমস্ত দিন ধরে,
আমি প্রভুর গৃহে ফিরব, চিরদিনের মত!   [ধুয়ো]

১৫। শেষ প্রার্থনা: এসো, প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আশীর্বাদ কর: যাঁদের চিরশান্তি কামনায়
আমরা এ পাস্কা-সাক্রামেন্ত উদ্‌যাপন করেছি,
তোমার কৃপায় তোমার সেই মৃত সন্তানেরা
যেন আলো ও শান্তির আবাসে নির্বিঘ্নে উপনীত হতে পারেন।
আমাদের প্রভু সেই খ্রিষ্টের দ্বারা।
সকলে: আমেন।

১৬। বিদায়
অনুষ্ঠাতা:
পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মা আমাদের সকলকে আশীর্বাদ করুন।
সকলে: আমেন।

অনুষ্ঠাতা:
শান্তিতে যাও; নিজেদের জীবনাচরণে প্রভুকে গৌরবান্বিত কর।
সকলে: ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

[সূচী]